Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    খোয়াবনামা – আখতারুজ্জামান ইলিয়াস

    লেখক এক পাতা গল্প729 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৩৯. টাউনের বড়ো রাস্তা জুড়ে

    টাউনের বড়ো রাস্তা জুড়ে লাল নীল সবুজ বেগুনি হলুদ রঙের কাগজের তেকোণা নিশান টাঙানো মাথার ওপরে; বাড়িঘরের ছাদে কাপড়ের নিশান, সাদা চাঁদ তারা হাসছে সবুজ রঙের জমিতে। মানুষ খুশিতে টইটম্বুর। খুশি তো তমিজও, তার ট্র্যাকে দুই টাকা বারো আনা পয়সা। জেল থেকে খালাস দেওয়ার সময় জেলের ছোটোবাবু একটা কাগজে তার টিপসই নিয়ে বললো, সরকার থেকে রাহাখরচ বাবদ তোমাকে দেওয়া হলো। তা সেই বাবুটিও খুশি, কাল স্বাধীনতা ঘোষণা করা হবে। এই উপলক্ষে কিছু কয়েদিকে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই খালাস করার হুকুম পাওয়া গেছে। ইসমাইল হোসেন সাহেব ডি এমকে বলে তোমার নাম পাঠিয়েছিলেন। তাঁর সঙ্গে দেখা করে যেও।

    কিন্তু ইসমাইল সাহেবের বাড়িতে যা ভিড়! ভালো ভালো কাপড়পরা মানুষের মধ্যে অবশ্য গ্রামের মাতব্বর মানুষও কিছু কিছু আছে। কিন্তু তমিজের চেনা কাউকে পাওয়া গেলো না। ঐ বাড়িতে তমিজ ঢোকে কোন সাহসে?

    রেল স্টেশনের কাছে পুরো তিন আনা পয়সা খরচ করে ভাত আর গোরুর গোশত খেয়ে স্টেশনের পাকা মেঝেতে শুয়েই ঘুমে তমিজের চোখ জড়িয়ে আসে। কিন্তু ভোর হবার অনেক আগে অনেকগুলো ট্রেনের হুইসেল বেজে উঠলে সে জেগে ওঠে। লোকজন সব ছুটছে বড়ো রাস্তার দিকে। সকাল হলে দোকানপাট খুললে বাজানের জন্যে একটা লুঙি আর কুলসুমের জন্যে রুটি বেলার চাকি বেলুন কিনতে তমিজ। কুলসুম রুটি খেতে না চায় খুব, রুটি নাকি বানাতেও শিখেছে মণ্ডলবাড়িতে। কিন্তু দোকানপাট তো আর খোলে না। রাস্তায় মানুষ গিজগিজ করে। থানার কাছে আকবরিয়া হোটেলের সামনে সে কয়েকবার ঘুরঘুর করে, পোলাও, গোশত, পরোটার কী সুন্দর ঘেরান। কিন্তু ভেতরে ঢোকার সাহস তার হয় না। কল্পনা সিনেমার পাশের গলিতে উড়ে ঠাকুরের দোকানেও পাজামা পাঞ্জাবি, ধুতি শার্ট, ধুতি পাঞ্জাবিপরা লোকদের ভিড় দেখে সেখানেও তার ঢোকা হলো না। সিনেমা হলের সামনে দুই পয়সার বাদাম ভাজা কিনতে কিনতে জিগ্যেস করলে জানতে পায়, আজ তো সব বন্ধু। এখুনি মিছিল বেরুবে।

    তা বাপু মিছিলও বেরোলো একখান! মানুষে মানুষে সয়লাব। মিছিলের মধ্যে নাই কী? হুড-খোলা মোটরগাড়িই তো গোটা দুয়েক। একটা গাড়িতে সায়েবদের পোশাকপরা কয়েকটা ছেলে সায়েব সেজে ভারতবাসীর কাছে বিদায় চাইছে, হামরা দুইশো বছর টোমাডের শাসন করিয়াছে। এখন আবার নিজেডের ডেশে ফিরিয়া যাইটেছি। লোকজন তাদের অঙ্গভঙ্গি দেখে হেসেই অস্থির। মিছিলের মাঝখানে অনেকটা জায়গা জুড়ে পুলিসের মতো ঢাকনি-দেওয়া পকেটওয়ালা শার্ট পরে পুলিসের মতো সমান তালে পা ফেলতে ফেলতে চলছে কয়েকজন জোয়ান ছেলে। তমিজের পাশের লোকটি বলে, পাকিস্তান ন্যাশনাল গার্ড। আরে এদের সঙ্গে তো আবদুল কাদেরকেও দেখা যাচ্ছে। কাদের ভাই কি পুলিসে নাম লেখালো? কাদের পুলিসে যদি বছরখানেক আগে ঢোকে তো তমিজের এই হেনস্থাটা হতো না। কয়েকটা টমটমে পাকিস্তানের নিশান হাতে নিয়ে কয়েকজন খুব জোরে জোরে স্লোগান দেয়, পাকিস্তান জিন্দাবাদ। খোলা গোরুর গাড়িতে কয়েকটা ছেলে হেলেদুলে নাচে আর রাস্তার দুই পাশের মানুষকে সালাম দেয়। মিছিল এগিয়ে চলে। এরপর আসে মস্ত উঁচু একটা হাতি। হাতির ওপর উল্টো করে রাখা তক্তপোষ, তার চার পায়ায় পাকিস্তানের চারটে নিশান। মাঝখানে গদির ওপরে বসে রয়েছে কয়েকজন। আরে ঐ তো ইসমাইল হোসেন। কিন্তু এই ভিড় ঠেলে তমিজ কি আর ইসমাইলের হাতির কাছাকাছিও যেতে পারবে? তবু না হয় একটু চেষ্টা করা যেতো। কিন্তু এই সময় থানার মোড়ে হঠাৎ সোরগোল ওঠে।-কী গো?-আঠারো বিশ বছরের একটা ছেলে, লুঙি আর গেঞ্জিপরা, আটকা পড়েছে উঁচু লাইট পোস্টে। লোকটা আঁ আঁ করে চিৎকার করছে আর হাতের মুঠিতে ধরা পাকিস্তানের নিশান, নিশানটা সবচেয়ে উঁচুতে টাঙাবে বলে সে উঠে পড়েছে বিজলি বাতির পোলে। নিচে থেকে সবাই চায়, আরে পিছনের দোতলায় লাফায়া পড়ো, নিচে লাফ দাও। সবার পরামর্শ ও অনুরোধ অগ্রাহ্য করে ছেলেটা পড়ে যায় রাস্তায়। তবে তাকে জায়গা দিতে ঐ জায়গাটুকুর লোকজন ভিড়ের চাপ সহ্য করেও সরে গিয়েছিলো। খোয়া বিছানো রাস্তায় পড়ে ছেলেটা মাথা ফাটিয়ে ফেলেছে। নিশানটা সে ছাড়ে নি, তার গায়ের রক্তে নিশানের সবুজ ও সাদা জায়গার অনেকটা ফুটে ওঠে লাল টকটকে রঙে।

    ছেলেটির লাশ নিয়ে কয়েকজন লোক থানার ভেতর চলে গেলে মিছিল এগিয়ে চললো সামনের দিকে। রেল লাইন পার হয়ে ঝাউতলা না বাদুড়তলা কি বলে,-টাউনের জায়গাগুলোর নাম তমিজের মনে থাকে না,—মিছিল চলে যায় সেই দিকে। তমিজের আর এগুনো হয় না। নিশান অনেক উঁচুতে ওঠাতে গিয়ে ছেলেটি মরলো, নিশানটিকেও ছাপিয়ে দিলো লালরঙে। এটা কেমন হলো গো?-জেলখানায় তার সঙ্গে খাতির হয়েছিলো লাল নিশানের কয়েকটা মানুষের সঙ্গে। বড়ো ভালো ভালো মানুষ গো। বলতো, জোতদারি জমিদারি আর মহাজনি যদি থেকেই যায় তো পাকিস্তান। বলো আর স্বাধীনতা বলো, এসবের মানে হয় না। এই মিছিলে এসে তমিজ বুঝতে পারে পাকিস্তানে তেভাগা তো হবেই। এতোগুলো মানুষ কি আর বেকুব নাকি? পাকিস্তানের নিশান ওড়াতে বিজলির ধাক্কায় মানুষটা মরলো, সে তো তমিজের মতোই গরিব গরবা মানুষ। সে কি এমনি এমনি নিশান ওড়াতে উঠেছিলো? তমিজ ভরা গলায় স্লোগানের জবাব দেয়, পাকিস্তান জিন্দাবাদ, কায়েদ আজম জিন্দাবাদ।

    আকাশে মেঘ দেখে কুলসুম উঠানের ডালপাতা সব উঠিয়ে রাখছিলো তমিজের ঘরে। তমিজকে দেখে হাঁ করে তাকিয়ে থাকে। তমিজ সামনে গিয়ে বলে, ভালো আছে? কুলসুম কিছু না বললে সে ফের বলে, কাল খালাস পালাম।

    কুলসুম শাড়ির আঁচলে নিজের মুখ ঢাকে। তমিজ অবাক হয়ে দেখে। কুলসুমকে তো সে এভাবে কখনো কাঁদতে দেখেনি। এটা দেখে তার নিজের চোখও ভারি হয়ে ওঠে। হয়তো সেটা সামলাতেই তমিজ জিগ্যেস করে, বাপজান কোটে?

    তমিজের গলার স্বর ভারী, কথাবার্তা ধীরস্থির। চোখ মুছে তার দিকে তাকিয়ে কুলসুম জোরে জোরে নিশ্বাস নেয়। ছোঁড়াটার গায়ের গন্ধও পাল্টে গেছে। অনেকক্ষণ পর কুলসুম বলে, শুক্যা গেছে। গাওত গোশত নাই।

    জেলখানায় নিয়মিত খেয়ে তমিজ বরং একটু মোটাই হয়েছে। কুলসুমের কথা মেনে নেওয়ার ভঙ্গি করে সে হাসে, খিদা নাগিছে। ভাত চড়াও।

    তমিজ খেতে বসলে শুরু হয় কুলসুমের অবিরাম কথা। তমিজের বাপ আজকাল ঘরেই থাকে না, দিনরাত ঘুরে বেড়ায় বিলের উত্তর সিথানে। কয়েক দিন পর পর কালাম মাঝির কাছ থেকে সে টাকা নিয়ে আসে, এই বাড়িঘর তার কাছে বেচেই দিলো কি-না কে জানে? কালাম মাঝি আজকাল খুব বড়ো মানুষ, বিলে মাঝিদের হক নাকি সে আদায় করে ছাড়বে।-তা কথা তো ঠিকই, তমিজও জানে পাকিস্তানে সবার হক ঠিকই আদায় হবে। অনেক রাত পর্যন্ত কুলসুম কথা বলে এবং এক বছরের বৃত্তান্ত সবই বয়ান করে।

    ঘুমাতে নিজের ঘরে ঢুকে তমিজ দেখে ঘরের চাল একেবারে পাতলা। মেঝে ভর্তি পাতা আর গাছের ডাল। একটু আগে বৃষ্টি হয়ে গেছে, ঘরের মেঝে কাদাকাদা। একটা বছর জেলখানায় পাকা ঘরে থেকে অভ্যাস অন্যরকম হয়ে গেছে তার। তবে নিজের মাচায় পিঠ ঠেকাতেই কিন্তু ঘুমিয়ে পড়ে। * ভোরবেলা দুই পা ভরা কাদা নিয়ে ঘরে ফেরে তমিজের বাপ। আর একটু বেলা হলে তমিজ তার ঘরে এসে দুটো টাকা তুলে দেয় বাপের হাতে, জেলখানা থ্যাকা বারাবার সময় দিলো।

    তমিজের বাপের চোখ থেকে ঘুম ঝরে পরে,সোম্বাদ শুনিছিস?

    কালাম ভায়ের কাছ থ্যাকা ট্যাকা লিয়া ঘরখান বেচিছো।

    বেচমু কিসক? বন্দুক দিছি। কী করমু, তোর মামলার খরচ দেওয়া লাগে। তো সোম্বাদ সিটা লয়।

    আফসার চাচার খবর? শুনিছি। যুধিষ্ঠিরের বাপের খবর শুনিছি আগেই।

    আরে না। খবর সিটা লয়। সব্বোনাশ হয় গেছে।

    বৈকুণ্ঠদার হাতের আঙুল–।

    আরে দূর। সব্বোনাশ হছে। বিলের উত্তর সিথানত পাকুড়গাছ খুঁজ্যা পাই না। পাকুড়গাছ নাই।

    নাই। গাছ কাটিছে। তমিজের কাছে এ তো সোজা হিসাব, মণ্ডলরা ইটখোলা করলো না?

    মুনসির গাছ কাটা অতোই সোজা কার হাতে এংকা জোর আছে রে?

    মুনসি গাছেত চড়া উড়াল দিছে। বেপরোয়া হয়ে বললেও তমিজের একটু ভাবনা হয়, গাছ মনে হয় ক্যাটাই ফালাছে, দিশা পায় নাই। তবে এই নিয়ে কথা বলার মতো সময় কোথায় তার? দেখি, কামকাজ তো কিছু দেখা লাগে।

    তমিজকে দেখেই ফুলজান হাউমাউ করে এক পশলা কাঁদে, তুমি আসিছছা গো মাঝির বেটা? হামার বেটাক তুমি ডাক্তোরের কাছে লিয়া গেলা না গো? এখন হামার বেটা নাই, তুমি অ্যাসা আর কী করবা?

    ফুলজানের বেটার মরার খবর তমিজ পেয়েছে কুলসুমের কাছে। ফুলজানের পুত্রশোক অবশ্য কুলসুমের প্রধান বিবেচনা নয়। সে বলছিলো, বেটাটাক তো মাগী খালো। ভাতারও আসে না। ঘেগি মাগী এখন লিকা বসবি কার সাথে? কুলসুমের এইসব দুশ্চিন্তা শোনার পর থেকেই তমিজের খুব ইচ্ছা হয়, ফুলজানের সঙ্গে একবার দেখা করে আসি।

    ফুলজানের মা মেয়েকে ধমক দেয়, লে বাপু হছে। জাত নাই বিচার নাই, মানুষ দেখলেই কান্দন আরম্ভ হলো! তারপর সে নিজেই শুরু করে তার স্বামী হুরমতুল্লার গপ্পো। বুড়া তো জমি ছাড়া কিছু বোঝে না কিন্তু সারাটা জীবন তার কাটলো বর্গাচাষ করে। এবার মণ্ডলের আরো জমি বর্গা পেয়েছে, এখন আউশ কাটার মানুষ পাওয়া মুশকিল। মজুরি বেড়ে গেছে, খিয়ারে আরো বেশি মজুরির লোভে লোকজন অনেকেই গ্রামছাড়া। কিছু কিছু জমিতে আউশ কাটা হয়েছে, সেখানে আমন বোনার পাঁয়তারা কষছে বুড়া। এদিকে নিজের জমিতে কি বুনবে না বুনবে এখনো ঠিক করতে পারছে না। মণ্ডলের জমিতেই দিনরাত খাটে, নিজের জমির যত্ন নেয় কম।

    যে জমিতেই হোক, হুরমতুল্লার ফসল কাটা আর ফসল বোনার গুঞ্জনে তমিজের সারা শরীরেই কোলাহল ওঠে; সেই কুয়াশায় পাকা আমনের জমির পাশে ফুলজানের সঙ্গে কাটানো। ফুলজানকে জড়িয়ে ধরতে না লাঙল ধরতে, না-কি দুটোর তাগিদেই তার হাত নিশপিশ করে বোঝা মুশকিল।

    মোষের দিঘির পূর্ব ঢালের নিচে থেকে সন্ন্যাসীর ভিটার উত্তর সীমা প্রায় চার বিঘা জমি মণ্ডল নতুন পত্তন নিয়েছে। ক্যা গো বুড়ার বেটা, চিনবার পারো? দিঘির ঢালে জমিতে মই দিতে দিতে হুরমতুল্লা জবাব দেয় তমিজের দিকে না তাকিয়েই, না চেনার কি হলো? জেল খাটা কয়েদি, চিনা তো রাখাই লাগে।

    তমিজের চোখমুখ গরম হলেও নিজেকে সামলে নিয়ে সে বলে, জেলে পাঠালা তো তোমরাই। মণ্ডলের চাকর। মণ্ডল হুকুম দিছে, তোমরা নাঠি লিয়া গেলা। উগলান দিন শ্যাষ। কাৎলাহার তো আর রাখবার পারিচ্ছে না। মাঝিগোরে বিল, মাঝিরাই পাবি।

    এবার হুরমতুল্লা একটু ঘাবড়ায়, ছোঁড়ার তেজ তো আরো বেড়েছে! একবার জেলের ভাত খেয়ে এসেছে, এদের কোনো বিশ্বাস আছে? হুরমতুল্লার ভয়-পাওয়া বুঝতে পেরে তমিজ প্রস্তাব করে, জমি তো শুনলাম মেলা বর্গা লিছো।কামলা লাগলে কয়ে।

    মইয়ের ওপর শমশের পরামণিকের ভাগ্নেকে উঠিয়ে দিয়ে হুরমতুল্লা বলে, মণ্ডল তো তোক জমি বর্গা দিবি না। এখন তারই জমিত যদি তোক কামলা লেই তো তাই কোদ্দ করে যদি?

    উগলান ভয় এখন মাচাত তুল্যা রাখে। শোনো, মণ্ডলের বেটা ঘোরে ইসমাইল সাহেবের পাছে পাছে। ইসমাইল হোসেনের নাম শুনিছো?

    ভোট দিলাম না?

    হুঁ, ভোট দিয়া তাক কাউন্সিলে পাঠাছো না? ঐ মানুষ নিজে মটোর লিয়া জেলখানাত যায়া হামাক খালাস করা আনিছে। এখন বোঝো! তুমি জমি বর্গা লিছো, হামি জমিত খাটমু, পয়সা দিবা। মণ্ডলের কী?

     

    হুরমতুল্লার আউশ কাটলো সে মজুরি নিয়ে। কিন্তু প্রায় পাশাপাশি আমনের জমি তৈরি করতে কামলা দেওয়ার শর্তে তমিজ একটু অন্যরকম করতে চায়। মজুরি দিলে চলতি হারেই দেবে। কিন্তু হুরমতুল্লা ইচ্ছা করলে অন্যভাবেও দিতে পারে। ধান উঠলে মণ্ডলের গোলায় তুলে হুরমতুল্লা বর্গাচাষী হিসাবে যা পাবে তার একটা ভাগ দেবে তমিজকে।-এটা কেমন কথা?–তমিজ জোর দিয়ে বলে, ততোদিনে তেভাগা হয়া যাচ্ছে। জোতদার পাবি এক ভাগ, তোমার ভাগ দুইটা। তার দুই আনিও যদি হামাক দাও তো তোমার কতো ধান থাকে হিসাব করিছো?

    হুরমতুল্লা ব্যাপারটা ঠিক বোঝে না। আবার নিজে দুই ভাগ পাবে—এই ভরসায় তমিজের প্রস্তাব মেনে নিতেও তার আপত্তি নাই। হ্যা না কিছুই না করে বলে, দেখা যাক। কাম কর তো।

    ছোঁড়াটার কাম তার খুব পছন্দ। দেখো না, একে মাঝির বেটা, তাতে আবার এক বছর ছিলো জেলে, ধানের জমি চোখেও দেখেনি তখন। অথচ তার আমন বোনার হাতটা দেখে। চারা লাগায় এমন সোজা সারিতে যে তাই দেখতে দেখতে হুরমতুল্লার সারিগুলো আরো এলোমেলো হয়ে যায়। আবার ছোঁড়াটা আসার পর ফুলজানও জমিতে আসতে শুরু করেছে। মাঝখানে কেরামতের ধমকে এদিকে ভিড়তে সাহস করে নি। শালা জামাই একটা!-মাসের পর মাস উধাও হয়ে হাটেবাজারে ঘুরে বেড়ায়, এর বাড়িতে ওর ঘরে গিয়ে থাকে, আবার একেক দিন হুমকি ছেড়ে যায়, মেয়েমানুষ আবার জমিতে যাবে কেন?-ঐ জামাইকে পরোয়া করার দরকারটা কী?

    আমনের শীষে দুধ আসতে শুরু করেছে, তমিজ এখন রাত্রিবেলায় এসেও জমি দেখে যায়। ফুলজান অকারণে খবরদারি করে। হুরমতুল্লা মেয়ের ওপর বিরক্ত হয়; তমিজকে কাজ অতোটা না দেখালেও তো তার চলে। সে পারে না কোন কাজটা? তবে হাজার বাকাচোরা কথা বললেও জমিতে তমিজ থাকলে ফুলজানের মেজাজটা থাকে ভালো।

    হাটে তমিজের সঙ্গে দেখা হলে কেরামত তার সঙ্গে খুব গল্প করে। জেলখানায় তেভাগার যেসব নেতার সঙ্গে তমিজের আলাপ হয়েছে, আরে তারা সবাই তো কেরামতের বন্ধুমানুষ। তার বাঁধা গান শুনেই তো চাষারা রুখে দাঁড়িয়েছিলো। তেভাগা তো হয়েই যাচ্ছে, কেরামতের তখন কদর আরো বাড়বে। কেরামতের বেশির ভাগ কথা তমিজ যে বিশ্বাস করে তা নয়, আবার সেসবকে মিছে কথা বলেও মনে হয় না। গানও বাঁধে সে ভালো। পাকিস্তান হয়ে পড়ায় তার লীগ কংগ্রেসের হিংসা কেন গেলো না, বইটার বিক্রি পড়ে গেছে। ইসমাইলের কথায় সে এখন নয়া ওয়াতন পাকিস্তান নামে একটা গান বাঁধার কথা খুব ভাবছে। ঠিক জুত হচ্ছে না।

    মানুষটা এমনিতে তো ভালোই। কিন্তু ফুলজানের সঙ্গে সে এমন করে কেন? ফুলজানকে কেরামতের কথা একদিন জিগ্যেস করতেও চেয়েছিলো তমিজ। আজ বলি কাল বলি করতে করতে মেলা দিন হয়ে গেলো। ধানের শীষ ততোদিনে বেশ জমে এসেছে। এবার শীত পড়ছে একটু তাড়াতাড়ি, ধানের কি হয় কে জানে—এই ভাবতে ভাবতে মোষের দিঘির পুবের জমিতে নিড়ানি দিচ্ছে, এমন সময় হুরমতুল্লার বাড়ি থেকে মেয়েলি গলায় সমবেত কান্না শুনতে পেয়ে তমিজ সেদিকে ছোটে।

    গফুর কলু এসেছে তার বৌকে নিয়ে। আবিতনের হাতের কাগজটা নিয়েই এতো কান্নাকাটি। পড়তে না পারলেও গম্ভীর মুখে হুরমতুল্লা কাগজটা উল্টেপাল্টে দেখে। তার হাত থেকে প্রায় কেড়ে নিয়ে তমিজও দেখলো। তবে কাগজে লেখা বিষয়টি বলেছে। আবিতন নিজেই। হুরমতুল্লা মেয়েকে ধমক দেয়, কুত্তার বাচ্চাটা থাকার চায় না থাকাই তো ভালো। তালাক দিছে, হামাগোরে শনি বিদায় হলো। আপদ গেলো।

    মাচায় শুয়ে ফুলজানকে ইনিয়ে বিনিয়ে কাঁদতে দেখে তমিজের কষ্ট হয়। কেরামত আলি তালাক দিলে ফুলজানের এতে ভেঙে পড়ার কী হলো? তো ফুলজানের দুঃখ দেখেই সে কষ্ট পায় কি-না তাই বা কে জানে? জমিতে ফিরে গিয়ে তমিজের নিড়ানি দেওয়া সেদিন ভালো হয় না। এই ফুলজানই তো তমিজকে কয়েকবার বলেছে, কেরামত বাইরে এতো ভালো সাজলে কী হয়, ওটা কোনো মানুষের পয়দা নয়। শালা একটা শয়তানের বাচ্চা। ফুলজান বলেছে, শয়তানটা তাকে ইচ্ছা করেই তালাক দেয় না। হুরমতুল্লার তিন মেয়ে ছাড়া আর কে আছে? তার জমি যা আছে সব পাবে তো তার মেয়েরাই। শয়তানটা জমির লোভেই ফুলজানকে তালাক দিচ্ছে না। শরিয়তে নিয়ম থাকলে তালাকনামা পাঠাতে ফুলজানই।—তা এখন বাপু তালাক পেয়ে অমন কাঁদো কেন? কেরামতেরও কি জমির মায়া ছিলো? এখন ফুলজানের ভাগের জমিটা পাবে যে তাকে বিয়ে করবে সে-ই তো? তমিজকে বিয়ে করতে ফুলজানের এখন আর আপত্তি কি থাকতে পারে। তুমি বরং ফুলজানের জমি আরো কতো বাড়িয়ে দিতে পারে। ফুলজানকে বিয়ে করলে, বেশি না, কেবল তার জমিটুকুও যদি হুরমতুল্লা তাকে দেয় তো তিন বছরের ফসল বেচে তমিজ নিজের বাড়ির পালানটা কিনে ফেলতে পারে শরাফতের কাছ থেকে। তার আগে কালাম মাঝিকে টাকা শোধ করে উদ্ধার করতে হবে তার ঘর আর ভিটা। মোষের দিঘির পুবের জমিটা তো পত্তন নিলো হুরমতুল্লা, পশ্চিমের জমি নেবে তমিজ। জমিদারি তো উঠেই যাচ্ছে, তখন জমিদারদের এইসব খাস জমি : পাবে তো তারাই। তখন জমিতে নামো, লাঙল বাও আর ফসল তোলো। ফুলজানকে জমিতে অতোটা না খাটলেও চলবে। চাষবাস নিয়ে সে যদি তমিজকে একটা মুখ ঝামটা দেয় তো তাতেই ফসল যা হবে তাই খাবে কে? এক দাগে ছয় বিঘা জমির মালিক হতে তার তিন বছরও লাগবে না।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅন্য ঘরে অন্য স্বর – আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    Next Article চিলেকোঠার সেপাই – আখতারুজ্জামান ইলিয়াস

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }