Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    খোয়াবনামা – আখতারুজ্জামান ইলিয়াস

    লেখক এক পাতা গল্প729 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৫৩. রাতভর ঝড়ের মাতম

    বৈকুণ্ঠ, এই বৈকুণ্ঠ।

    রাতভর ঝড়ের মাতম, তার মধ্যে তমিজের বাপ নিজের ঘরে এসে ডাকে, বৈকুণ্ঠ। এই বৈকুণ্ঠ। এতো ডাকিচ্ছি, কানোত কথা ঢোকে না?-তমিজের বাপের হাঁকডাকের মধ্যেই তমিজের শূন্য ঘরের চালে কাঁঠালগাছের মাথাটা ভেঙে পড়লো মড়মড় করে। এখন তো বোঝাই যাচ্ছে, নিজের এতো সাধের খাজা কাঁঠালের গাছটার মাথা মটকে। দিয়ে তমিজের বাপ বৈকুণ্ঠের মরণের কথা জানান দিয়ে গিয়েছিলো। তা, এই আলামত দেখাতে বুড়াটা কুলসুমের কাছে আসে কেন? মরার পরেও মানুষটার আক্কেল হলো না। পাকুড়তলার চোরাবালি থেকে মুকুন্দ সাহার দোকান কী অনেকটা ঘাটা?

    বাইরে শ্রাবণের মেঘপালানো আকাশ রোদ ঝাড়ে চড় চড় করে, ঘরে তাপ ঢোকে সেদিনকার ঝড়ে নেতিয়েপড়া চাল ফুড়ে; দরজা বন্ধ রেখেও রোদের আঁঝ সামলানো দায়। ভ্যাপসা গরমে কুলসুম না পারে বসতে, না পারে একটু শুয়ে থাকতে। এটার গন্ধ শোকে, ওটার গন্ধ শোকে। একটি গন্ধের অভাবে ঘরে তার খা খা করে : ঘরে চেরাগ। আলির খোয়াবনামা নাই। এই কেতাবের টানেই তো বৈকুণ্ঠ বারবার এসেছে তার। ঘরে। ও ফকির, দেখো তো তোমার বইখান দেখো। কী ব্যাপার?—কাল অনেক রাতে, দশটা হবি, না গো, এগারোটা, না, বারোটার কম লয়। চোখেত হামার নিন্দ আসলো ঝাপা। গাওখান চোকির উপরে ঠেকায় কেবল চোখ মুঞ্জিছি তো দেখি। বাঁশঝাড়ে ফকিরের ছাপরা ঘরে ঢুকতে ঢুকতে বাইরে থেকেই বৈকুণ্ঠ গতরাতে দেখা স্বপ্নের বৃত্তান্ত বলতে শুরু করলে মাটিতে রেখা টানার কাঠি-ধরা উঠিয়ে চেরাগ আলি তাকে থামায়, রাখ বাপু। বোস। পরে শুনিচ্ছি।

    টাউন থেকে আসা এক অসহায় মানুষের জিনে-ধরা বৌয়ের কথা শুনতে চেরাগ আলি তখন ব্যস্ত। ডাক্তার কোবরাজ হাকিম বদ্যি ব্যামাক ব্যাটা খাওয়াছে, ফল হয় নাই। এখন আসিছে হামার কাছে। দেখি হামার মুনসি কী করবার পারে।

    টাউনের খদ্দের পাওয়ার দাপটে, ডাক্তার কবিরাজের ব্যর্থতার সুখে ও বৈকুণ্ঠকে দেখার খুশিতে দাদাজানের গলায় তখন ভাত উথলাবার শব্দ। সেই রোগী না-কি রোগীর স্বামী বিদায় হওয়ার আগেই বৈকুণ্ঠের স্বপ্নের আদ্দেক কাহিনী বয়ান শেষ। ফকির একটা একটা সওয়াল করে আর বৈকুণ্ঠ নিজের স্বপ্ন বাড়াবার সুযোগ নেয় যোলো আনার জায়গায় আঠারো আনা। বলতে বলতে সে ঘোরের মধ্যে পড়ে, মনে হয় স্বপ্নটা যেন সে। তখনি দেখছে। মাটিতে ফকিরের কঞ্চির রেখা একটা একটা বাড়ে, সেই সাথে লম্বা হয় বৈকুণ্ঠের স্বপ্নটা। আসলে তার ছিলো ফকিরের শোলোক শোনার বাই। শোলোক শুনলে তার স্বপ্নের গল্পও পাল্টে যেতো। শোলোক শুনে-শুনেই কি-না কে জানে, চেরাগ আলিকেও সে ঠাঁই দিয়েছে তার স্বপ্নের মধ্যে। চেরাগ আলি নাকি পাকুড়গাছের মগডালে বসে মুনসির পাণ্টিখান নিতে আবদার করছে আর মুনসি রাগ করার বদলে মিটিমিটি হাসছে। যে পাণ্টি উঁচিয়ে মুনসি শাসন করে গোটা কাৎলাহার বিল, বিলের গজার মাছ যার ইশারায় পায় ভেড়ার সুরত, সেই জিনিসে হাত দিলে মুনসি সহ্য করবে?-ফকির কি তা জানে না? আসলে জেনেও সে খুশি।-কেন-না, বৈকুণ্ঠের স্বপ্নে মুনসির হাসি পড়েছে তার এই পাকা দাড়িওয়ালা মুখের ওপর।-এই খুশিতে সে মাতোয়ারা। আর সন্ন্যাসীর ঘরের এই ছোঁড়াটাই বা কেমন? দাঁত-পড়া, পাকা দাড়ি মানুষটাকে পর্যন্ত স্বপ্নে দেখে, অথচ কৈ, কোনো স্বপ্নে তো কুলসুমকে কখনো সে দেখতে পায় নি তো! বৈকুণ্ঠের খোয়াব দেখার মুরোদ কুলসুমের জানা আছে। তার ছিলো জাতের ব্যারাম। এই বাড়িতে এসে আম খেয়েছে, মুড়ি খেয়েছে, গুড় পর্যন্ত খেয়েছে আঙুল চুষে চুষে।। কিন্তু মুখে পানি তোলে নি কোনোদিন। জাতের ব্যারাম থাকলে খোয়াব আর কদুর যাবে? দেখো না, কুলসুম তাকে চেরাগ আলির খোয়াবনামাটা নিতে সাধলো। অতো, বড়ো একটা সম্পত্তি, এর টানেই তো চেরাগ আলির কাছে সে আসতো, অথচ বইটা বৈকুণ্ঠ তাকে ফিরিয়ে দিলো। কেন, ওই বই নিতে তার অসুবিধাটা কী? খোয়াবনামা থাকলে কি ঐ মাকুচোষা হারামখোর মুকুন্দ সাহার দোকানঘর এঁটো হয়ে যায়? আসলে ভুলই হয়েছে। সেদিন জোর করেই ওই বই বৈকুণ্ঠের হাতের ভেতরে একেবারে খুঁজে দিলে ঠিক হতো। বৈকুণ্ঠের বিছানার সিথানে চেরাগ আলির বই থাকলে ডাকাতরা ঘরে ঢুকে তাকে কি এমনি করে জবাই করতে পারে?–ঝড়ের রাতে ঢুকে মানুষটাকে তারা জবাই করলো! জবাই করলো!—কুলসুমের চোখের পানি সরে যায়।

    তমিজের বাপ এলেই মেঝেতে মেলা বালু ফেলে যায়, এই ঘরে তাই কুলসুমের চোখে বালি ঝির ঝির করে। কিন্তু এখন সব বালু গলে গলে যায় বৈকুণ্ঠের রক্তের ঝাপ্টায়। ঘর তার ভরে যায় রক্তের ধোঁয়ায়। কিছু দেখা যায় না। কুলসুম তখন হাতড়ে। হাতড়ে গিয়ে ঘরের দরজা খোলে।

    রোদে তার চোখের লাল লাল ঢেউ মুছে গেলে কুলসুম শোনে, কয়টা শিঙি মাছ আনিছিলাম, রাখো। ফের দরজার আড়ালে গিয়ে কেরামত আলির হাত থেকে কলাগাছের বাকলের খলুইটা নিয়ে মেঝেতে রাখে। কেরামত আলি ফের বলে, ঘরত একলা থাকো। বেওয়া মেয়েছেলের কতো বিপদ হবার পারে।

    কিন্তু কাল থেকে কুলসুম রাত্রে তো আর এখানে থাকে না। কয়েকদিন থেকে কালাম মাঝিও এমনি করেই তাকে বলেছিলো, বিধবা মেয়েমানুষ, বয়সও কম, একলা থাকলে ভালো ঠেকে না, মানুষে নানা কথা কয়। আর গতকাল দুপুরবেলা কালাম একবার কিছুক্ষণ তার সঙ্গে কথা বললো, তার পরপরই কালাম মাঝির বৌ আর বুধার বেটি একরকম জোর করেই নিয়ে গেলো তাকে, ঘর তো আর তার হাতছাড়া হচ্ছে না, দিনের বেলা না হয় এখানেই থাকবে। কিন্তু এই সোমত্ত মেয়েমানুষকে রাতে তারা একা থাকতে দিতে পারে না।

    দুপুরে কালাম মাঝি কিন্তু খুব নরম হয়েই কথা বলেছে, তোমার সাথে হামার বিবাদ নাই। তুমি তমিজের বাপের বেওয়া, তার মাজারেত হামি প্রতি জুম্মার দিন মৌলবিক দিয়া জিয়ারত করাই। হামার সাথে দুষমনি করিছে তমিজ, এখনো করিচ্ছে। তা তমিজ তো তোমার বেটাও লয়। তোমাক দোষ দিমু কিসক? কিন্তু একটা কথা।-কী?–মানুষ কয়, তমিজ লিত্যি তোমার ঘরত আসে। ফেরারি আসামিক তুমি ঘরত আসবার দেও কোন সাহসে? থানা থাকা পুলিস আসলে তখন আমি সামলামু ক্যাংকা কর‍্যা?

    কুলসুম অবাক হয়ে বলে, তমিজ? তমিজ তো আসে না।

    এই মেয়েকে অবিশ্বাস করা মুশকিল। কিন্তু মাঝিপাড়ার মানুষের কাণ্ডকারখানায় কালাম মাঝি অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। টাউন থেকে কতো কষ্ট করে মোহাজেরদের বরাদ্দ রিলিফ নিয়ে এলো কালাম। রিলিফের কাপড় নিতে কারো কিছুমাত্র আপত্তি দেখা গেলো না। অথচ দুধের টিন যেমন এনেছিলো তেমনি পড়ে রইলো। বুধা নিজের কানে শুনেছে, ওই শালা আবিতনের বাপ,-যে-বুড়া শাড়ি নিলো, লুঙি নিলো,-খুব রাষ্ট্র করে বেড়াচ্ছে, কালাম মাঝির ওই টিনের দুধ খেলে মরণ সুনিশ্চিত। যে কি-না নিজের আত্মীয়-স্বজনকে পুলিসের হাতে তুলে দিতে পারে, পুলিসের হাত থেকে ফস্কে যাওয়া মানুষগুলোর মুখে বিষ মেশানো দুধ তুলে দেওয়া তার পক্ষে অসম্ভব কী? তারপর ধরো, মাঝিপাড়ার চ্যাংড়াপ্যাংড়া যখন তখন বিলে জাল ফেলে। কালাম মাঝিকে দেখলেই জাল গুটিয়ে দৌড় দেয়, আবার আজকাল কেউ কেউ তাকে না দেখার ভান করে ধীরে সুস্থে মাছ ধরে। মানুষ মোতায়েন করে কালাম আর কতো সামলায়? আবার ছোটো ছোটো ছেলেমেয়েরা তাকে দেখলেই একটু দূরে গিয়ে চিৎকার করে, আড় মাছে পাড় দেয়, বেলে মাছ এলে দেয়। এই কথা তো কালাম মাঝি শুনে আসছে ছছটো থেকে; পেঁকিশালে মেয়েরা ধান ভানতে ভানতে কতো কী বলতে বলতে এই শোলোকটাও গায়। কিন্তু এখন বিশেষ করে তাকে দেখে এটা একটু বদলে বলার মানে কী? তমিজের বাপের বাঘাড় মাছ কি এখন ভর করেছে মাঝিপাড়ার চ্যাংড়াপ্যাংড়ার জিভের ওপর?

    আর তাদের বাপচাচাদের শয়তানি আর সহ্য করা যায় না। হাটে তার দোকানে মাঝিপাড়ার মানুষ সওদাপাতি তো করেই না, বরং দোকানের সামনে দিয়ে যেতে যেতে বলে, ওই দোকানের মাল ব্যামাক ভেজাল দেওয়া। তার নিজের বেটা টাউনের দারোগা, কিন্তু তাকে এসব কথা বললে গা করে না। তার কথা, কাদের মিয়াকে চটিয়ে সে কিছুই করতে পারবে না। এম এল এ আর মন্ত্রী মিনিস্টারের সঙ্গে তার দহরম মহরম, খুনের আসামীকে আশ্রয় দেওয়ার ক্ষমতাও তার আছে। মুকুন্দ সাহার দোকান দখলের ব্যাপারেও তহসেন তাকে কিছুই সাহায্য করলো না। তবে হ্যাঁ, বলেছিলো, হিন্দু প্রপার্টি তো, একবার কোনোমতে ওদের খেদাতে পারলে দখল কায়েম রাখার বন্দোবস্ত সে করবে। তা সেটুকু অবশ্য করছে। বৈকুণ্ঠ খুন হবার পরদিন বিকালেই আমতলির পুলিস এসে দোকানে তালা ঝুলিয়ে গেলো, তার একদিন পর তহসেনের কথাতেই তালা খুলেও দিলো। দোকান থেকে গণেশের মূর্তি টুর্তি সরিয়ে সাফসুতরো করে কালাম মিলাদ দিলো, তহসেন সেখানে ঠিকই ছিলো, আবার মিলাদের পর কাদেরের দোকানে গিয়ে গল্পও করলো কিছুক্ষণ। মাঝিপাড়ার মানুষ মিলাদে হাজির ছিলো খুব কম। তবে জিলাপি দেওয়ার সময় সব শালা ভিড় করে। কিন্তু জিলাপি খেতে খেতেই যা বলে গেছে বুধার কানে গেছে সবই; বুধা বলে, মামু, তমিজ ছাড়া ইগলান কথা শালাগোরে আর কেউ শিখায় নাই। কেরামত আলিও একদিন, হয়তো মুখ ফস্কেই বলে ফেলে, অনেক রাতে সে কুলসুমের ঘরে মানুষের কথাবার্তা শুনেছে। কালাম মাঝি সঙ্গে সঙ্গে ভুরু কোঁচকায়, তুমি রাত করা ওই ঘরত যাও?

    জে না। ওইদিক দিয়া আসিচ্ছিলাম, তো শুনি তমিজের বাপের ঘরত মানুষ কতাবার্তা কচ্ছে।?

    কেটা? কথা কচ্ছিলো কেটা? কী কথা হচ্ছিলো?

    সরল গদ্যে তমিজের একটা কাহিনী বাধতে কেরামত তৈরী ছিলো, কিন্তু কী বললে আবার কী দোষ হয় ভেবে সে চেপে যায়। শুধু জানায়, না। হামি আর খাড়া হলাম না।

    সেদিন দুপুরবেলা কুলসুমের কথা কালাম মাঝি অবিশ্বাস করে নি, তবে ফের জিগ্যেস করে, তুমি কল্যা তমিজ আসে না। তা হলে রাত কর‍্যা তুমি কথা কও কার সাথে মেলা মানুষ শুনিছে, এটি কথাবার্তা হয়।

    কুলসুম সঙ্গে সঙ্গে জবাব দেয়, তমিজের বাপ আসে।

    কালাম মাঝি কুলসুমের এরকম নির্বিকার জবাবে চমকে উঠে আশেপাশে তাকায়। সেঁক গিলে বলে, মরা মানুষ আসবার পারে? ইগলান কী কও?

    আসে। রাত করা আসে।

    সেদিনই কালাম মাঝি সাব্যস্ত করে রাতে এই মেয়েটিকে এই ঘরে একলা থাকতে দেওয়া যায় না। বৌকে ডেকে বলে, মরা হোক আর জেতা হোক, রাতত বেওয়া মেয়েছেলের ঘরত মানুষ আসে, এটা তো ভালো কথা লয়। তুমি ওর এটি থাকার বন্দোবস্ত করো। কুফা ঘর রাখা যাবি না।

    কালাম মাঝির বৌ কুলসুমকে নিয়ে আসতে রাজি হয়, বরং একটু উৎসাহই দেখায় কিন্তু ওই ঘরের দখল নিতে তার আপত্তি আছে। এমনিতে আত্মীয়স্বজনের মধ্যে তারা একঘরে হয়ে পড়েছে, তমিজের বাপের ঘর কেড়ে নিলে মাঝিপাড়ার মানুষ খেপে যাবে, তমিজের বাপও চোরাবালির ভেতর থেকেই উৎপাত করতে পারে। কালাম মাঝি দেখা যাক, সেটা আমি বুঝমু। বললেও তহসেনের সৎ মা বোঝে, স্বামী তার হুঁশিয়ারিটা অন্তত আপাতত মেনে নিয়েছে।

    তবে যে যাই বলুক, কেরামতের কিন্তু মনে হয়, তমিজই রাত করে কুলসুমের ঘরে আসে। যে রাতে কুলসুমের ঘরে সে কথাবার্তা শুনেছিলো তার পরদিন সকালে কুলসুমের সারা মুখে ছিলো খুশি খুশি আলো। সে হলো কবিমানুষ, যুবতীর চেহারা দেখে তার চাহিদা আর তৃপ্তি যদি বুঝতে না পারে তো এতোকাল শোলোক বাঁধলো কি বাল ছিড়তে? তমিজের বাপের কাছে কুলসুম সারাটা জীবন কী পেয়েছে। এখন সুদে আসলে তাই পুষিয়ে নিচ্ছে বুড়া হাবড়ার জোয়ান ছেলের কাছ থেকে। তারপর, তাকে দেখে। মাঝিপাড়ার ছোঁড়ারা তারই বাধা শোলোক বলে, মাঝি বিনা বিল আর জল বিনা মাছ/ নরস্পর্শ বিনা নারী পুষ্প বিনা গাছ। নিজের বাঁধা এইসব শোলোক শুনলে তার ভয় করে, শালা তমিজ ছাড়া মাঝিদের এভাবে চেতাবে আর কে? কুদুস মৌলবির মতো মানুষ পর্যন্ত কালাম মাঝির সামনেই একদিন বলে, আজ শিমুলতলার ঘাটেত মেলা কয়টা চ্যাংড়া একত্তর হছে। জাল লিয়া গেছে, সোগলি দেখি কেরামতের শোলোক কচ্ছে। শুনে কেরামতের গলা শুকিয়ে আসে। কালাম মাঝিকে চটিয়ে সে এখানে থাকতে পারবে না, মাঝি পাড়ার বাস উঠে গেলে কুলসুমকে পাবার সম্ভাবনা তার একেবারেই শেষ হয়ে যাবে। কুদুস মৌলবির দিকে না তাকিয়ে সে জবাবদিহি করে কালাম মাঝির কাছে, আরে উগলান শোলোক বাদ দিছি কোনদিন।

    কিন্তু মুশকিল এই কালাম মাঝিকে নিয়েই। কুলসুমের সঙ্গে তার নিকার কথা তো না আর তোলেই না, বরং কেরামত প্রসঙ্গটি তুললেই কালাম এক্কেবারে খামোশ মেরে যায়। কুলসুমকে সম্পূর্ণ নিজের কাছে না পাওয়া পর্যন্ত কেরামত না পারে নতুন শোলোক বাঁধতে, না পারে তার পুরনো শোলোকগুলো সুর করে গাইতে। সুতরাং শিঙি মাছগুলো তার হাতে তুলে দিয়ে কেরামত না হয় নিজেই সরাসরি প্রস্তাব করবে। ঘরের চৌকাঠে বসে কেরামত খালি প্যাচাল পাড়ে, কুলসুম একা থাকলে লোকে নানা কথা বলবে আর তার নামে কোনো কুকথা কেরামত সহ্যই করতে পারে না। কুলসুম যদি তার সাথে নিকা বসে তো মানুষের মুখ বন্ধ করা যায়। কালাম মাঝিও তাদের এই বিয়ে সম্পূর্ণ অনুমোদন করে, এমন কি চোরাবালিতে গিয়ে কেরামত তমিজের বাপের দোয়াও নিয়ে এসেছে। কালাম মাঝি তাদের দুজনকে এই ঘরে থাকতেও দেবে, অন্তত কেরামত পরিবার নিয়ে বাস করলে কালাম এই ঘর থেকে তাদের উচ্ছেদ করবে না।

    ঘর কি কালাম মাঝির বাপের? এতোক্ষণ পর মেয়েটির এই একটিমাত্র বাক্যে চমকে উঠলেও তার তেজে কেরামত মুগ্ধ হয়ে যায়। ঘর বন্দুক দিয়া তমিজের বাপ টাকা হাওলাত করিছিলো কালাম মাঝির কাছ থ্যাকা। তমিজ অ্যাসা টাকা ঘুরা দিলেই তো মিট্যা যায়। কুলসুমের জিভের ধার, ঠোঁটের জড়িয়েপড়া ও গুটিয়ে-নেওয়া এবং ভুরুর গেরো লাগানো ও গেরো ভোলা দেখতে দেখতে কেরামতের মুগ্ধতা দানা বেঁধে তাকে ঘোরের মধ্যে ফেলে; এক পলকের জন্যে হলেও তার ভুললা লাগে, সে কি জেগে আছে, না। স্বপ্ন দেখছে? ঘরের চিন্তা হামি কোনোদিন করি নাই। রোজগার করবার পারলে খাওয়া পরার অভাব কী? কালাম মাঝি তো তার দোকানের খাতা লেখার কাম একটা দিয়াই রাখিছে, আবার মুকুন্দ সাহার দোকানটাও তো এখন তারই হলো, সেটার খাতা লেখার কামও হামকই করা লাগবি। রোজগার হামার কম হবি না। তা ছাড়া টাউনের মানুষের মধ্যে তার গানের জনপ্রিয়তার বিষয়টিও সে মনে করিয়ে দেয় কুলসুমকে। কুলসুমকে বিয়ে করলে তার বাউন্ডালা জেবনটা সুস্থির হয়, হামি আবার গান বান্দিবার পারি।

    দোকানের খাতার মধ্যেই তো গান বান্দা যায়, না? কুলসুমের কাছে কেরামতের বাধা গান আর দোকানের খাতা লেখার মধ্যে কোনো ফারাক নাই ভেবে কেরামত একটু আহত হয়। কবির দুঃখটা একটু সামলে নিয়ে সে বলে, কালাম মাঝির এটি না পোয় তো হামি তোমাক লিয়া টাউনেত বাসা লিমু। গানের বই লিখ্যা হামার যা রোজগার হবি, টাউনেত বাসা করা থাকবার পারমু।

    টাউনে যেতে কুলসুমের আপত্তি নাই। কিন্তু সেখানে নাকি রাত্রেও আলো জ্বলে, সব জায়গায় লোকজন গিজগিজ করে, বেহায়া মেয়েরা রিকশায় করে টাউন ঘোরে।

    টাউনেত যাবা? * একটু ভেবে কুলসুম বলে, তমিজের বাপ তো টাউনেত যাবি না। তাই তো টাউনের ঘাটাও চেনে না।

    কেরামত আলি বড়ো দমে যায়। তার সঙ্গে বিয়ের পরেও কুলসুমের এই মরা মানুষ দেখার ব্যারাম যদি না সারে?

    এই নিয়ে সে হয়তো কুলসুমকে কিছু বলতো, কিন্তু এর মধ্যে চলে আসে বুধার মেয়ে, ও চাচী, ঢেকিত দুইটা পাড় দিয়া তুমি ঘরত আসিছে, হামি একলা এখন কী করি, কও তো?

    চল। বলে কেরামতের উপহার সিঙি মাছগুলো মাটির বড়ো মালসায় পানিতে জিইয়ে রেখে তার ওপর মাটির সরা চাপা দিয়ে দরজা আগলে রেখে চলে যায় কালাম মাঝির বাড়ি। আজ ভোর থেকে সেখানে ধান কোটার ধুম। বাড়ির জন্যে চাল তো লাগবেই, তহসেনের টাউনের বাসাবাড়ির জন্যে লাগবে এক মণ।।

    কালাম মাঝির বৌটা মানুষ ভালো, কুলসুমকে খুব একটা খাটায় না। কুলসুমের টেকির পাড় ভালো, আবার সারাদিন পাড় দিয়েও হাপসে যায় না। আবার এই অছিলায় ওই বাড়িতে থাকলে দুপুরের খাওয়াটা পাওয়া যায়, ভাতের সঙ্গে মাছও জোটে। তহসেনের সৎ মা তাকে একটু পছন্দই করে। কিংবা মাঝিপাড়ায় স্বামীর অপরাধের ভারটা একটু কমাতে চায় তাকে খুশি করে। আবার অন্য ব্যাপারও থাকতে পারে। সেদিন সন্ধ্যাবেলা তাকে আড়ালে পেয়ে আস্তে করে বলে, কুলসুম, কেরামতের সাথে তুই লিকা বস। কেরামত মানুষ ভালো। তবু পুরুষমানষের মন, উলটাতে কতোক্ষণ? কিন্তু মনে হয় অন্য কোনো পুরুষমানুষ তার উদ্বেগের কারণ। আজ সকালে বলছিলো, কুলসুম, হামার ঘরের বারান্দাত না শুয়া তুই বুধার ঘরের সাথে থাকিস। ওটি বিছনা। পাতিস। কুলসুম ঠিক বুঝতে পারে না। রাতে হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেলে সে তার বিছানার পাশে লম্বা একটি ছায়া দেখতে পেয়ে বরং খুশিই হয়েছিলো, তমিজের বাপ তবে এখানেও এসে হাজির হয়েছে। তহসেনের মাকে এই ঘটনা বলার কয়েক ঘণ্টা পর সে তার শোবার জায়গা বদলাতে বলে।

    তমিজের বাপ আবার বুধার ঘরের বারান্দা ঠাহর করে যেতে পারবে তো?-কুলসুম একটু দুশ্চিন্তায় পড়ে। তবে চেঁকিশালেই বিকালের দিকে হঠাৎ আস্তে করে গায়ে তার ঠাণ্ডা হাওয়া লাগলে মাথাটা সাফ হয়ে যায়। দুপুরে বুধার মেয়ের সঙ্গে এখানে আসার পরই এক পশলা বৃষ্টি হলো। তারপর শুরু হলো গুমোট, ভ্যাপসা গরম আর কাটে না। চেঁকিশালে সবাই ঘামছে দরদর করে ঘাম নাই খালি কুলসুমের শরীরে। তার গায়ে ফুরফুরে হাওয়া। এর মানে কী? এটা কি ফকিরের কাম? না। এই ভ্যাপসা গরমে হঠাৎ করে ঝিরঝিরে হাওয়া খেলাতে পারে এক মুনসি। কিন্তু তার হাওয়া আসে পাকুড়তলা থেকে, বিলের শিংমাগুর আর পাবদা ট্যাংরা আর খলশে পুঁটি আর রুই কাতলা, সাঁতরানো পানির ওপর ভাসতে ভাসতে সেই হাওয়ায় জমে হালকা মিষ্টি আঁশটে গন্ধ। আর আজ এই ফুরফুরে হাওয়ায় মিশেল রয়েছে জর্দার হালকা গন্ধ। দুটো গন্ধ এক হয়ে যাচ্ছে বলে কুলসুম এগুলোকে আলাদা করে ঠাহর করতে পাচ্ছে না। টেকির পিছাড়ির ওপর তার পা ধীর হয়ে আসে, বুধার মেয়ে বলে, ও চাচী, কী হলো তোমার? মনুয়া তো হামার হাতের উপরে পড়িচ্ছিলো। পেঁকির মুগুর হাতে পড়লে বুধার মেয়ের হাতটা ঘেঁচে যাবে না? বুধার ছোট্ট মেয়েটা ছড়া কাটে, আড় মাছে পাড় দেয়, বেলে মাছে এলে দেয়। শোলোক শুনতে শুনতে কুলসুমের মাথাটা ঘোরে, সেকি জর্দার গন্ধে, না বাঘাড়ের আঁশটে গন্ধে, না-কি শুধুই শিশুকণ্ঠের শোলোকের বোলে তা ধরতে না পেরে কুলসুম বলে, এখন থাক রে। একটু দম লেই।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅন্য ঘরে অন্য স্বর – আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    Next Article চিলেকোঠার সেপাই – আখতারুজ্জামান ইলিয়াস

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }