Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    খোয়াবনামা – আখতারুজ্জামান ইলিয়াস

    লেখক এক পাতা গল্প729 Mins Read0
    ⤶

    ৫৯. জখম চাঁদের নিচে

    হুরমতুল্লার মতিগতি ফুলজানের ভালো ঠেকে না। ভাগের ধান অনেকটা সে আছে বেচার তালে। মনে হয় মণ্ডলের গোলাতে সব ধান তুলে দিয়ে নগদানগদি টাকা নিয়ে বুড়া সোজা হাঁটা ধরবে সোনামুখির দিকে। নবিতনের শ্বশুরের হাতে দোকান সাজাবার টাকা মিটিয়ে দিয়ে পোড়াদহ মেলার সময় পেয়ারের বেটিকে নাইওর নিয়ে আসার অনুমতিটা আদায় করবে। ছোটো বোন ফালানিটা সেই কবে গেছে নবিতনের শ্বশুরবাড়ি, তাকে বাড়ি আনার ব্যাপারে বুড়া কিন্তু চুপচাপ। সেখানে নাকি সে মহা সুখে থাকে। তা তাদের এতো পয়সা, বৌয়ের বোনকেও রাখে দুধেভাতে, আর বৌয়ের বাপের কাছ থেকে বেটার দোকান সাজাবার খরচ রেয়াদ করে না। ইজ্জতের দামাদের দোকান সাজাবার ব্যবস্থা করলে কয়েকটা মাস যে গুষ্টিশুদ্ধ তাদের কাউনের চালের ভাত খেতে হবে, এমন কি মাসখানেক আধপেটা কাটাতে হবে সেদিকে হুরমতুল্লার কি কোনো খেয়াল আছে?

    তা বাপ চাইলো আর ফুলজান তাই হতে দিলো? আজ তো তার জমিতে আসার কথাই ছিলো না। কিন্তু সারাটা দিন বিছানায় কাঁথামুড়ি দিয়ে শুয়ে হুরমতুল্লা মেলা আসিচ্ছে, বেটিটাক ঘরত আনবার পারমু না বলে বিলাপ করতে থাকলে ফুলজানের আর সহ্য হয় না। তাই এখন সে জমিতে এসেছে খন্দের পরিমাণ আন্দাজ করতে। তারপর দেখা যাবে বুড়া চুপচাপ ধান বেচে কী করে?

    সন্ধ্যার ঠিক আগে ফুলজান এসে দেখে, মোষের দিঘির উঁচুপাড়ে তালগাছতলায়। উইটিবিটা পেছনে রেখে নামাজ পড়ছে হুরমতুল্লা। সেজদা দিয়ে অনেকক্ষণ সে মাথা না তুললে ফুলজানের বুক ঢিপঢিপ করে : বাপজান তার বেহুঁশ হয়ে গেলো না তো? আজ দুপুর থেকে তো কাঁথা মুড়ি দিয়ে শুয়েই ছিলো, পেয়ারের বেটির জন্যে বিলাপ করার ফাঁকে ফাঁকে কয়েকবার পেচ্ছাব করতে ওঠা ছাড়া আসরের ওকত পর্যন্ত তো সে শুয়েই কাটিয়েছে। বাপজানের আবার এদিক ওদিক কিছু হলো না তো?-কিন্তু সেজদা থেকে। উঠে হুরমতুল্লা ফের সেজদা দিলে বাপের শারীরিক সুস্থতা সম্বন্ধে নিশ্চিন্ত হলে ফুলজানের গা জ্বলে : বুড়ার আবার নামাজ বন্দেগি কিসের? সেজদায় উপুড় হয়ে কি দোয়া পড়ে, না নবিতনের শ্বশুরের জন্যে টাকা জোগাড়ের ফন্দি আঁটে?

    মোষের দিঘির উঁচুপাড়ে তালতলায় নামাজ পড়ে হুরমতুল্লা, আর জমির ধারে ধারে ঘোরে ফুলজান। পিছে পিছে হাঁটে তার বেটি। চারদিকে ধানজমি, পাকা আধপাকা আমনের খেত। প্রায় সব জমির ধানে পুরুষ্ট শীষ। দেখে দেখে চোখ ভরে যায়। তবে তাদের জমিতে খন্দের পরিমাণ আন্দাজ করতে হবে হুরমতুল্লার সঙ্গে, তার মুখ দিয়ে ধানের পরিমাণ কতো হতে পারে তা স্পষ্ট শুনে নিতে হবে। তবেই না বুড়া এদিক ওদিক করতে ভয় পাবে।

    মেয়েকে কোলে তুলে আলের ওপর দিয়ে হেঁটে মোষের দিঘির ধারে গিয়ে দেখে, দিঘির পাড়ের ওপর হুরমতুল্লা নাই। নামাজ পড়ে সে এর মধ্যেই কোথায় গেলো? তার পাঁচুন পড়ে আছে দিঘির ঢালে পুবের জমির পাশে। তা হলে? বাপজান বোধহয় জিরাতে গেছে, কিছুক্ষণের মধ্যে ফিরে আসবে।

    জমির পাশে বসে জিরাতে ইচ্ছা করে ফুলজানেরও। শরীরটা বড়ো অস্থির লাগে। একটু ঠাণ্ডা পড়েছে। গায়ে এন্ডির চাদরটা জড়ালে গরম লাগে, আবার খুলে ফেললে ২ শীত শীত করে।

    এর ওপর তার বেটির উৎপাত। মায়ের মাথায় ছোটো হাতের চাপ দিয়ে ভাত খাওয়ার লালচ জানাতে শুরু করেছে বেলা ড়ুতেই। চোখ গরম করে ফুলজান তার দিকে তাকালে সে বলে, ভাত খামো।

    দুপুরে আজ ফুলজান কচুর শাক তুলেছে মেলা, কচুর শাকের ভেতর কাউন দিয়ে ঘাটি করেছে একটা। দুপুরে খেয়েছে, রাতের জন্যেও আছে। তা দুপুরে অনেকদিন পর কচুর শাকের নরম ঘাঁটি পেয়ে সবাই অনেক খেয়েছে, এত তাড়াতাড়ি তো খিদে পাওয়ার কথা নয়। বেটির ওপর ফুলজানের রাগ হয়। সে আর একবার ভাত খামো বলতেই ফুলজান তার পাছায় দুটো ও দুই গালে গোটা তিনেক চড় মারে। আরো চড় মারতে তার হাত উঠেছিলো, কিন্তু মেয়ে কাঁদতে কাঁদতে ছোটে মোষের দিঘির উঁচু পাড়ের দিকে। এই বুঝি তালতলায় উইঢিবির দিকে চললো। ওখান থেকে হুঁড়িটা বুঝি পড়েই গেলো পুকুরের পানিতে। ফুলজানও ছুটলো চড়াই ভেঙে। বেটির তার কয়দিন হলো ঝোঁক হয়েছে ওই উইটিবির ওপর চড়ার। তাই কি কেউ পারে? ওর ওপর উঠতে গেলেই পা পিছলে পড়ে যাবে সামনের ছোটো জায়গাটায়, সেখান থেকে গড়িয়ে একেবারে দিঘির পানিতে। ফুলজান তাকে ধরে ফেললো ঊইটিবির নিচেই। এই একটুখানি সময় তাকে উৎকণ্ঠায় রাখার জন্যে তার রাগ উস্কে ওঠে এবং রাগটা ঝাড়ে বেটির পিঠে কষে কয়েকটা কিল মেরে। আরো মারার জন্যে হাত ওঠাচ্ছিলো, কিন্তু এবার তার হাত নেমে যায় বেটির নালিশ শুনে। কাঁদতে কাঁদতে নোনতা পানি জড়ানো গলায়, মারে! মারে! বলে সোজা উত্তরপশ্চিমে তাকিয়ে মেয়ে তার নালিশ করে কার কাছে?

    কম-কথা-বলা বেটির তার নালিশ করার খাসলত তো একেবারেই নাই। তা হলে?

    দেখো, মা মারে। শুনে বেটির নজর অনুসারে ফুলজান তাকায় সামনের দিকে। দিঘির ঠিক ওপারেই হুরমতুল্লার বর্গা করা ধানের জমি। তারপর বেশ কয়েক বিঘা ফাঁকা জমির পর বাঙালি নদীর রোগা স্রোত, দুই বছরে প্রায় কুঁজেই এসেছে। না, সেখানে তো কেউ নাই। তার একটু পশ্চিমে কালাহার বিলের উত্তর সিথান। সেখানে আসমান থেকে ঝোলে গোল চাঁদ। কালাহারের উত্তর সিথানে কোনো বড়ো গাছের বাধা না পেয়ে চাঁদ নেমে এসেছে একটু নিচে।

    চাঁদের আজ এ কী হাল হয়েছে গো? পরশু না পূর্ণিমা ছিলো? যঁা, পরশুই তো। কি তার আগের দিন? এই কয়েকদিনে চাঁদের গতর একটু রোগা হয়েছে। তা পরশুও তো চাঁদের ঘন করে আওটানো দুধে সয়লাব হয়ে গিয়েছিলো মুলুকের আমন ধানের জমি। ওই দুধ চুমুক দিয়েই তো আমনের শীষে দুধ জমলো ঘন হয়ে। আর এই দুইদিনে চাঁদের এ কী ব্যারাম হলো গো? তার গায়ের রূপার বন্ন হয়ে গেছে কালচে লাল, গতর থেকে হলদেটে আভা মুছেই গেছে। চাঁদের সবটা গতরে কেমন কালচে লাল কালচে লাল দাগ। হায় আল্লা! চাঁদের এই হাল হলো কী করে গো? হরেন ডাক্তার, না হরেন। ডাক্তার নয়, প্রশান্ত কম্পাউনডার হলে মনে হয় ধরতে পারতো। না কি ওই কম্পাউনডারই শয়তানি করে ফুলজানের বেটার গায়ের ছোঁয়া বাঁচাতে তার বিমারি মুখটাকে ছুঁড়ে দিলো এই কৃষ্ণপক্ষের চাঁদের দিকে না, তাই বা কী করে হয়? তার বেটার গালে কি এরকম শুকনা রক্তের ছোপ ছোপ দাগ ছিলো?

    তা হলে কি মণ্ডলের ছোটোবিবির ভয়টাই ঠিক? গা ছমছম করলেও ওই ভয়টাই ভর করে ফুলজানের মাথায়। তমিজ যদি সত্যি সত্যি পুলিসের গুলি খায়, তবে সে নিজে বৌকে ছেড়ে অতো ওপরে চড়ে বসে কোন আক্কেলে? তবে মাঝির বেটার দেমাকটা তো বেশি-শ্বশুরবাড়িতে দিনমান কাম করবে, শ্বশুরের জমির লোভ তার মোনলা আনার জায়গায় আঠারো আনা; কিন্তু শ্বশুরবাড়িতে বাস করতে তার গোয়া কামড়াবে। তাহলে তার থাকার জায়গা আর কোথায়? মাঝিপাড়ায় গিয়ে সে উঠতে পারবে? ওই অপয়া ঘর ভেঙে কালাম মাঝি ওখানে পাকা মসজিদের ভিত দিয়েছে। মাঝিপাড়াতেই আরেকটা মসজিদ করার একটু কথা নাকি উঠেছিলো। তা কুলসুমকে বাঁচাতে গিয়ে কালাম মাঝির ওই যে জখমটা হলো, এরপর সে প্রায় নুলো হয়ে পড়েছে। হাতে ব্যথা নিয়ে হেঁটে হেঁটে মসজিদে যেতে তার ভারী কষ্ট। তার কষ্ট দেখে মাঝিপাড়ার মানুষ মন খারাপ করে। আর ওই কুফা ঘরটা ভেঙে মসজিদ করলে বরং মাঝিদেরই ভালো হবে। কালাম মাঝি বাড়িটিও পাকা করার আয়োজন করছে। কিন্তু আল্লার ঘর পাকা না করে তার নিজের বাড়িতে সে ইট বসায় কী করে?

    কিন্তু তমিজ ওখানে গিয়ে উঠতে তো আর পারে না। তাই কি সে গুলি-খাওয়া মুখে এসে ঢুকে পড়েছে গোলগাল চাঁদের গতরে? তাই কি চাঁদটাকে এমন ভূতুড়ে দেখায়?

    তমিজের ভাবনায় ফুলজানের ভয় একটু কাটে। ওই ডাকাবুকো মানুষটা, জেতা হোক মরা হোক, থাকলে বুকে একটু বল পাওয়া যায়।

    চাঁদের নিচে বড়ো গাছ একটাও নাই। পাকুড়গাছ তো গেছে অনেকদিন আগেই, আর যেগুলো ছিলো সব পড়ে গেছে, বৈকুণ্ঠ মরলো, ওই ঝড়ের রাতে। এখন সেখানে খালি ঝোপ আর ছোটো ছোটো গাছড়া। উত্তর সিথান জুড়ে আর দেখা যায় আলো। মানুষ কয়, সন্ধ্যার পর পাকুড়তলায় এখন খালি আগুন জ্বলে। তবে এখন তো ফুলজানের ভয় খানিকটা কেটেছে, আলোর দিকে কিছুক্ষণ দেখেই বুঝতে পারে আসলে ওই ঝোপে আর গাছড়াগুলোতে জ্বলছে ঝক ঝক জোনাই পোকা। ঝোপের ওপরে, ছেড়ে-যাওয়া ইটখোলার পড়ে-থাকা নষ্ট ইটের সারিতে জোনাকি একবার জ্বলে, ফের নেভে। তারা নিভলে ফের জ্বলে ওঠে একটু নিচেকার জোনাকির ঝাঁক। ওপরের জোনাকি ফের আরো ওপরে উড়ে জুলে ওঠে দ্বিগুণ তেজে। মনে হয় এতো বড়ো জায়গা জুড়ে সমস্ত ঝোপঝাড় তারা নিজেদের আগুনের ডানায় ডানায় উড়িয়ে নিয়ে যাবে অনেক ওপরে।

    এখন ফুলজানের মনে হয় এখানে না থাকাই ভালো। কৃষ্ণপক্ষের এই রাত্রে মেয়েকে সামনে নিয়ে সে দাঁড়িয়ে রয়েছে মোষের দিঘির অনেক উঁচু পাড়ে, আরো অনেক অনেক উঁচু একঠেঙে তালগাছের নিচে উইঢিবির সামনে। এখান থেকে উত্তরে, একটু উত্তর পশ্চিমে এসব কী দেখা যায়! একবার মনে হয় এসব তার চেনা, আবার গা শিরশির করে : আসলে কি সে কিছু ধরতে পারে-ও বাপজান বলে বুক ফাটিয়ে ডাকতে গেলে ফুলজান টের পায় তার সব আওয়াজ আটকে গেছে তার ঘ্যাগের মধ্যে, গলা পর্যন্ত স্বর আর আসে না। এখন তার বেটির কান্নাও থেমে গেছে, এখন ফেঁপানোটা শুধু সামলাতে পাচ্ছে না। নিয়মিত বিরতি দিয়ে তার ফোঁপানির আওয়াজেই ফুলজান এখনো দাঁড়িয়ে থাকার বল পাচ্ছে। বেটির ফোঁপানির শেষদিকের টানে ফুলজানের মনে পড়ে, তার বাপই একদিন বলেছিলো, বড়ো বড়ো গাছ সব না থাকায় ডালহারা, পাতাহারা, গাছহারা এবং বড় গাছের আন্ধার কোণাঘুপচিহারা সব জোনাকি এখন ছড়িয়ে পড়েছে ঘাসের ওপর, ঝোপেঝাড়ে আর ছোটো গাছড়ার নরম সরম ডালে।।

    কিন্তু ফুঁপিয়ে সব কান্না বার করে দিয়ে বেটি তার চুপ হয়ে গেলে সব একেবারে। সুমসাম হয়ে যায়। ফুলজানের মনে হয়, বেটিও তার চুপ, এই সুযোগে জোনাকির ঝকের আলো অতোদূর থেকে তার নাড়ি টিপেটিপে তার ভয়ডর সন্দেহ সব ঠিক সনাক্ত করে ফেলছে। তার ডান হাতের কবজিতে সুড়সড়ি লাগে। . ফুলজানের বেটি হঠাৎ করে বলে, হেঁসেল জুলে। শুকনা অশ্রুর নুনের খারে তার। গলা রুখা শোনায়, মা, হেঁসেল জ্বলিচ্ছে।

    ফুলজান তখন দেখতে পায় জোনাকির ঝাঁক পাখায় পাখায় আগুন নিয়ে গোটা পকুড়তলাটাকে একটু একটু করে তুলতে তুলতে নিয়ে যাচ্ছে ওই ভূতুড়ে চাঁদের দিকে। না-কি চাঁদটাই জোনাকির টানে নেমে এসেছে একটু নিচে? জোনাকির ঝাঁকের কাছাকাছি? জোনাকির তাপে তাপে, আঁচে আঁচে, এমন কি ধোঁয়ার ধোঁয়ায় চাঁদের গতর থেকে লালচে কালো ছোপ উঠে যাচ্ছে, সেখানে এখন খালি ঘন কালচে রক্তের ছোপ ছোপ দাগ। জোনাকির হেঁসেলের তাপে কি ওটা অঙ্গার হয়ে যাবে না তো?

    মা, হেঁসেলেত ভাত চড়াছে। আধো বোল মুছে পরিষ্কার জবানে ফুলজানের বেটি বলে, ভাত রান্দে।

    তাই তো, বেটি তার মিছে কথা কয় নি, চাঁদের নিচেই জোনাই পোকার জ্বালে জ্বালে চাঁদের ওপর সেদ্ধ হচ্ছে আউশের রাঙা চাল। পানসে লাল মাড় উপচে পড়তে না পড়তে আগুনের আলো হয়ে তাই গড়িয়ে পড়ছে কালাহারের উত্তর সিথানে। দেখে আর ফুলজানের বেটি নিশ্বাস নেয় জোরে জোরে। বেটি কি ভাতের বাসনা পায় নাকি গো? আল্লা, তাই যেন পায়! জোনাকির শিখায় চাঁদের ওপর সেদ্ধ আউশের চালের ভাতের গন্ধে সে পেট ভরাক। ভালো করে পেটটা ভরলে ঘরে ফিরে তাকে আর ভাত খেতে দিতে হয় না, আবার রাত না পোয়াতেই জেগে উঠে কিংবা ঘুমের মধ্যেই ভাতের জন্যে মাচার নিচে সে ঘুরঘুর করবে না। কচুপাতা দিয়ে ঘাঁটা কাউনের চালের ভাতটা থাকলে বরং কাল এক সন্ধ্যা চলে যাবে।

    ও মা! কিছুক্ষণের মধ্যে ফুলজানের নাকমুখমাথাগলাঘ্যাগ সব ভরে ওঠে ভাতের গন্ধে। কেটা কয় মিছা কথা? আউশের চালের সেদ্ধ হবার ঘেরান চারদিক ম ম করে। আবার মনটা খুঁতখুঁতও করে, এই আউশের চালের ভাতের গন্ধ বুক ভরে নেওয়ায় কি পেট ভরে? খিদা কি তার দূর হবে? আর এই সুবাস একবার পাবার পর কচুর পাতার সঙ্গে কাউনের ঘাঁটি কি আর মুখে রুচবে? কিন্তু সেই গন্ধ শোঁকার আশ তো ফুলজানের মেটে না।

    ভাত খামো। ভাত রান্দিচ্ছে, মা ভাত খামো।-এর মানে বেটির পেট তার খালিই রয়ে গেছে। কোনো ঘ্যানঘ্যানানি ছাড়াই মেয়ের এই আবদার তার রুখা গলায় শোনায় দাবির মতো। খালি পেটে গলায় এতো তেজ ছুঁড়িটা পায় কোথায় গো? ফুলজানের জানটা কাঁপে। মানষে কয়, পাকুড়তলার চোরাবালির ভেতর তমিজের বাপ নাকি মাঝে মাঝে গা মোচড়ায়। ওই মানুষটাই এসব কারসাজি করছে না তো? বেটার ঘেগি বৌটাকে তার পছন্দ হোক চাই নাই হোক, নিজের বংশের একমাত্র নাতনিকে দেখার আশায়, ভাতের সুবাসে তার জিউটা ঠাণ্ডা করার জন্যে তমিজের বাপই হয়তো ঝক ঝক জোনাই পোকার বুকে ফুঁ দিয়ে হেঁসেল জ্বালিয়ে দিয়েছে। চোরাবালি থেকে নাতনিকে দেখতে দেখতে বেটার বৌকে নিশ্চয়ই সে দেখতে পায়। ফুলজান শরম পায় এবং তাড়াতাড়ি করে শাড়ির আঁচল তুলে দেয় মাথার ওপর, একটু বেশি করেই টানে। কী জানি, তাকে বেপর্দা দেখে শ্বশুর যদি ঘুমঘুম গলায় একটা শোলোক বলে তাকে শাসন করে! মুনসির শোলোক ফুলজান আগে অনেক শুনেছে। পোড়াদহ মেলায় মজনুর শোলোক, ভবানী সন্ন্যাসীর নামে কতো শোলোক শুনেছে। তা এসব তার মনে থাকে না, কোনোদিন নিজে নিজে আওড়ায় নি পর্যন্ত। তমিজ তাকে এতোসব কথা বলতো, কিন্তু শোলোক শোনায় নি কখনো। তার দুই চারটা শোনোক জানা থাকলে না হয় ফুলজান। তাই জপতো মনে মনে, তমিজের বাপ হয়তো তাতে একটু ঠাণ্ডা হতো।

    কিন্তু বেটি তার এরকম শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে কেন? এই ছটফটে মেয়েটা এতোক্ষণ ধরে এরকম স্থির চোখে তাকায় কী করে? নিজের মেয়ে তার দেখতে দেখতে সেয়ানা হয়ে যাচ্ছে নাকি? সত্যি তার বেটি তো? বেটিকে ভয় পেয়ে, তার অচেনা হয়ে যাওয়া ঠেকাতে এবং তাকে খানিকটা বশ করতেও বটে, নিজের হাঁটুজোড়া মাটিতে রেখে ফুলজান দুই হাতে জড়িয়ে ধরে মেয়েকে। মেয়ের ছোটো ঘাড়ে সে ঠেকায় নিজের ঘ্যাগ এবং তার ছোটো মাথায় রাখে নিজের চিবুক। চিবুকে শিরশির করে ওঠে বিজবিজ আওয়াজ। তমিজের বাপ নিশ্চয়ই তার ওপর আসর করে নাতনির মাথার ভেতর ঢুকিয়ে দিচ্ছে তার জানা অজানা মুনসির পাওনা-শোলোক।

    ফুলজান আস্তে করে বলে, বাড়িত চল মা। ভাত খাবু না?

    ভাত খাবার কথাতেও মেয়ে সাড়া দেয় না। তার ছোটো ছোটো কালো কুচকুচে পা দুটো সে শক্ত করে চেপে রাখে মাটির ওপর। বেজায় গোয়ার হুঁড়ি গো! হুরমতুল্লা যে বলে, মিছা কথা নয়, এই মাঝির বংশের মানুষ বড়ো একরোখা। মাছ ধরা হলো এদের কুলপেশা, মাছের মতোই ঝাক ধরে থাকে। নদীর স্রোতের সঙ্গে এদের খাতির, স্রোত যেদিকে চললো তো সবাই ছুটলো সেদিকেই। আবার স্রোতের সঙ্গে বিবাদ করতেও শালাদের বাধে না। কেমন?–না, স্রোতের উল্টাদিকে চলতেও এরা মাতে সমান তালে। উজানে তো উজানে, ভাটায় তো ভাটায়। বিলের ওপারে গিরিরডাঙার মাঝিরা একজোট হয়েছে কি আজ থেকে? এরা ছিলো সব মুনসির সাগরেদ। তারই পেয়ারের মানুষ। কোন সেপায়ের গুলিতে সেই মুনসি মরে ভূত হয়েছে, সে কি আজকের কথা? তখন এই তমিজ তো তমিজ, তমিজের বাপ তো তমিজের বাপ, তার দাদা বাঘাড় মাঝিরও জন্ম হয় নি, বাঘাড় মাঝির দাদা না-কি তারও দাদার জন্ম হয়েছে কি হয় নি, হলেও সে তখন গিরিরডাঙায় নতুন মাটি-ফেলা ভিটায় কেবল হামাগুড়ি দিয়ে বেড়াচ্ছে, তখন গোরা সেপায়ের বন্দুকের গুলিতে খুন হয়ে মুনসি তার গলার শেকল আর হাতের মাছের নকশা-আঁকা পান্টি নিয়ে উঠে পড়ে পাকুড়গাছের মাথায়। সে কি আজকের কথা? মাঝির গুষ্টির কুষ্টি জানতে বয়ে গেছে ফুলজানের! তবে লোকে বলে, সেই পাকুড়গাছ থেকে মুনসি নাকি বিল শাসন করছে সেই থেকে। রাতে তার পোষা গজারের ঝক তারই হুকুমে ভেড়ার পাল হয়ে হাবুড়ুবু খেতে খেতে সাঁতার কেটে বেড়ায় তামাম বিলের ওপর। তা পাকুড়গাছ হারিয়ে গেলে মুনসির আরস এখন কোথায় উধাও হয়েছে কে জানে? মুনসির জায়গা কি এখন দখল করেছে তমিজের বাপ। তবে কি-না, মানুষটা নাকি একটু হাভাতে কিসিমের। তার যেমন খাওয়ার লালচ, গজার মাছগুলোকে কেটেকুটে জোনাকির হেঁসেলে চড়িয়ে দিয়েছে হয়তো ওই মানুষটাই। আর গুলি-খাওয়া গতরটা মেলে দিয়ে গোল চাঁদটা কি রান্নার সুবিধা করে দিলো? ফুলজান নিশ্চিত হয়, তার বেটি এখন গজার মাছের মাখা-মাখা-করে-রাধা ঝাল সালুনের সুবাস পাচ্ছে। নইলে শুধু ভাতের গন্ধে এতোক্ষণ হাঁ করে নিশ্বাস নেওয়ার হুঁড়ি তো সে নয়।

    এখন ভাতের গন্ধ আর মাছের গন্ধের কথা না হয় বোঝা গেলো, কিন্তু ফুলজানের বেটির মাথার ভেতরে বিজবিজ করে কী? তাহলে এর মাথার এই বিজবিজ আওয়াজ থেকে কথার কুশি বেরুবে, সেটাকে শোলোকে গেঁথে তুলবে কি এই সখিনাই? ভাত খাওয়া ছাড়া ছুঁড়ি আর বোঝে কী? এ কি আর শোলোক গাঁথতে পারবে? কে জানে! কী শোলোক গাঁথবে!

    এখন মুনসি নাই, তার পাওনা-শোলকের কোনো টুকরাও কি আর সখিনার মাথায় গুণগুণ করতে পারবে? শোলাক গাথার ক্ষমতাও তো তমিজের বাপের ছিলো না।

    এদিকে মোষের দিঘির ওপার থেকে, মনে হয় পাথারের ওপর দিয়ে শোনা যায় হুরমতুল্লার কাশিধসা গলার ডাক, ফুলজান, ও ফুঁ উ উল জা আ ন। ফুলজান একটু চমকে উঠলে তার নজর কাঁপে। দেখা যায়, বিলের ওপর ধীরে ধীরে ওড়ে মণ্ডলবাড়ির শিমুলগাছের বকের ঝাঁক। হেঁসেলের আগুনের ভয়ে তারা ওদিকে ঘেঁষে না। কিন্তু বিলের ওপর দিয়ে তারা আস্তে আস্তে উড়াল দিতে থাকে এপারের দিকে। একটু ঘুরে : এই বুঝি তারা এসে পড়ে মোষের দিঘির ওপর। ভয়ে ফুলজান উঠে দাঁড়ায়, বেটির ঘাড় ধরে ঝাকায়, সখিনা, ও মা, চল। বাড়িত চল।

    বকের ঝাঁক হুরমতুল্লার ঝাপসা চোখেও আবছা ছায়া ফেললেও ফেলতে পারে। লালচে কালো কুয়াশা ছুঁয়ে আসে তার ব্যাকুল ডাক, ও ফু উ উ লজা আ আ ন। ফুলজান।

    ফুলজান সাড়া দেবে কী করে? মেয়েকে নড়াতে পারে না। মোষের দিঘির উঁচু পাড়ে লম্বা তালগাছের তলায় পুরনো ইটিবির সামনে খটখটে শক্ত মাটিতে পাজোড়া জোরে চেপে রেখে ঘাড়ের রগ টানটান করে মাথা যতোটা পারে উঁচু করে চোখের নজর শানাতে শানাতে সখিনা তাকিয়ে থাকে কাৎলাহার বিলের উত্তর সিথানে জখম চাঁদের নিচে জ্বলতে-থাকা জোনাকির হেঁসেলের দিকে।।

    ⤶
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅন্য ঘরে অন্য স্বর – আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    Next Article চিলেকোঠার সেপাই – আখতারুজ্জামান ইলিয়াস

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }