Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    গোগোল অমনিবাস – সমরেশ বসু

    সমরেশ বসু এক পাতা গল্প18 Mins Read0

    ইঁদুরের খুট খুট

    ইঁদুরের খুট খুট

    অনেককাল ধরে বড়োদে র গল্প শুনিয়ে শুনিয়ে, আমি নিজেও যেন কেমন হাঁপিয়ে পড়েছি। অথচ যাদের সঙ্গে গল্প করতে পেলে আমার মন খুশিতে ভরে ওঠে, তাদের একটা গল্প নিজে থেকে শোনাতে পারি না। শোনাবার খুব সাধ। কিন্তু সাধ থাকলেই তো আর সাধ্যে কুলায় না। বড়োদের গল্প শুনিয়ে শুনিয়ে মনটা কেমন যেন মরচে ধরে গিয়েছে। মনের সেই তাজা টাটকা ভাবটা যেন হারিয়েই ফেলেছি, যা না থাকলে, তোমাদের আসরে এসে বসবার কোনো মানেই হয় না।

    এসব কথা বলতে হলো, কারণ, আজ ঠিক করেছি, তোমাদের আমি একটি গল্প শোনাবো। সম্প্রতি আমি এক বিশিষ্ট বিজ্ঞানীর লেখা, পড়ছিলাম। তিনি একটা অদ্ভুত কথা শুনিয়েছেন। তিনি মানুষের মন, নিয়ে অনেক গবেষণা করে, আবিষ্কার করেছেন, মাত্র ছবছর বয়সের মধ্যে, শিশুদের মনে যে-সব ভাবনা-চিন্তা কল্পনা এবং জ্ঞান বুদ্ধির প্রসার ঘটে, পরবর্তীকালে–অর্থাৎ ভবিষ্যতে মানুষ যত বুড়ো হয়, সেই ছবছরের ভাবনাচিন্তা কল্পনা জ্ঞান বুদ্ধিই নানা রূপে, নানা ভাবে বিকাশলাভ করে। তার মানে হলো, সেই বিজ্ঞানী এ কথাই বলতে চেয়েছেন, ছবছর বয়স পর্যন্তই মানুষের যা কিছু অনুভূতির পূর্ণতা ঘটে, পরে তা নানা রূপে বিকাশ লাভ করে। তা তিনি বিজ্ঞানী হোন, কবি বা সাহিত্যিক হোন, রাজনৈতিক নেতা বা ডাক্তার হোন।

    আমি অবিশ্যি তোমাদের সেই বিজ্ঞানীর কথা শোনাতে বসি নি। তাঁর গবেষণায় যথেষ্ট যুক্তি আছে বটে, অনেক তর্কও আছে। সেসব নিয়ে আমাদের আপাততঃ মাথা ঘামিয়ে লাভ নেই। আমি যার বিষয় নিয়ে, তোমাদের একটি আশ্চর্য অথচ ভয়ঙ্কর গল্প শোনাতে যাচ্ছি, তার বয়স মাত্র ছ। নাম গোগোল। গোগোল নামটা ওর বাবা রেখেছিলেন। রাশিয়ার এক বিখ্যাত সাহিত্যিকের নাম ছিল গোগোল, আর আমাদের গোগোলের বাবা সেই রাশিয়ার সাহিত্যিক গোগোলের ভারি ভক্ত। সেই জন্যই ছেলেব নাম রেখেছেন গোগোল।

    গোগোলের কথা শুনলেই তোমাদের মনে হবে, সে জানে না, এমন বিষয় নেই। আসলে সে হয়তো অনেক কিছুই এখনো জানে না, জানা সম্ভবও না। কিন্তু তার ভাব ভঙ্গি, স্পষ্ট উচ্চারণের কথাবার্তা শুনলে, একটু যেন থমকেই যেতে হয়। এই যেমন ধরো, গোগোলের বাবাকে কোনো ভদ্রলোক ডাকতে এলেন, বাড়ির চাকর এগিয়ে যাবার আগেই, গোগোল তার ঝকঝকে কালো চোখে, ভদ্রলোকের আপাদমস্তক একবার দেখবে। কপালের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়া চুলের নীচেই ওর সরু টানা ভুরু কুঁচকে উঠবে। জিজ্ঞেস করবে, জানতে পারি, আপনি কাকে চান?

    স্বভাবতঃই অচেনা ভদ্রলোক হলে একটু হকচকিয়ে যাবেন, অবাক চোখে গোগোলের ফরসা মুখ আর টুকটুকে লাল ঠোঁটেব দিকে, ওর রঙচঙে জামা আর প্যান্টের দিকে দেখবেন, এবং গোগোলের বাবার নামটা বলবেন। তখন গোগোল গম্ভীর মুখে জিজ্ঞেস করবে, আপনার নামটা জানতে পারি?

    ওর জিজ্ঞেস করবার ভঙ্গিটাই এমন, ভদ্রলোককে তার নামটি বলতেই হবে। সঙ্গে সঙ্গে গোগোলের পরের জিজ্ঞাসা, কোথা থেকে আসছেন, কী দরকার?

    ভদ্রলোকের তখন মনে হতে পারে, গোগোল একটি ডেপো ছেলে। তখন ওর পাশে দাড়িয়ে হয়তো বাড়ির ভৃত্য সেসব কথা শুনছে আর মিটিমিটি হাসছে। সেও একই কথা, অন্যরকম ভাবে জিজ্ঞেস করবে, বাবু আপনি কোথা থেকে আসছেন, বাবুকে কী বলব?

    গোগোল তখন ভৃত্যকে ধমক দিয়ে বলবে, আহ, তোমাকে কে কথা বলতে বলেছে, দেখছে আমি কথা বলছি।

    বলে সেই ভদ্রলোককেই গোগোল বলবে, দেখছেন তোত কী রকম দুষ্টু ছেলে, কিছু মনে করবেন না। আপনি আসুন, বাইরের ঘরে বসুন, আমি বাবাকে ডেকে দিচ্ছি।

    ভদ্রলোককে বাইরের ঘরে বসিয়ে, সে কিন্তু বাবাকে ডাকতে যাবে না। জানে, বাবার কাছে খবর চলে গিয়েছে। বরং ও নিজে বাইরের ঘরে চেয়ারে লাফ দিয়ে উঠে বসবে। জিজ্ঞেস করবে, আপনি সিগারেট খাচ্ছেন কেন?

    ভদ্রলোক অবাক হয়ে বলবেন, আমি তত সিগারেট খাই না?

    গোগোল বলবে: আমার বাবা খায়। বাবাকে ডাক্তারবাবু সিগারেট কম খেতে বলেছেন। আমিও খুব কম খাই।।

    ভদ্রলোক চমকে উঠে জিজ্ঞেস করবেন, তুমি সিগারেট খাও নাকি?

    গোগোল গম্ভীর মুখে বলবে, হ্যাঁ, যখন আমি কাজ করি। পড়ার সময়। আর আমার সিগারেটগুলো আমি নিজেই বানিয়ে নিই। মায়ের চিঠি লেখার কাগজ দিয়ে বানাই। আচ্ছা ও কথা যাক, আপনি কি সেই বাঘের গল্পটা জানেন, যে ছাগলছানার গা চেটে দিয়েছিল?

    ভদ্রলোক বলবেন, না তো।

    গোগোল চোখ বড়ো বড়ো করে বলবে, সে কি, আপনি জিম্ করবেটের নাম শোনেন নি? তিনিই তো লিখেছেন। আচ্ছা, আপনাকে আমিই গল্পটা বলছি। একদিন বিকালবেলা জিম্ করবেট একটা গাছে মাচা—মাচা মানে জানেন তো? মাচা হলে, গাছের ডালে বসবার জায়গা, সেখান থেকে বাঘকে গুলি করে মারা হয়। তা একদিন বিকেলে জিম্ করবেট একটা গাছের ওপরে মাচায় বসে আছেন, তখন কিন্তু আকাশটা লাল ছিল। উনি দেখলেন, কাছেই যে গ্রাম আছে না, সেই গ্রামের একটা ছাগলছানা বাড়ির পথ ভুলে, জঙ্গলের কাছে এসে পড়েছে। উনি ভাবলেন, ছাগলছানাটা বাঘের পেটে যাবে। ঠিক সেই সময়েই দেখা গেল, প্রকাণ্ড বড় একটা বাঘ একটা উঁচু ঢিবিতে এসে দাঁড়ালো। সেই বাঘটা অনেকগুলো মানুষ খেয়ে ফেলেছে, ওকে মারবার জন্যই উনি মাচায় বন্দুক নিয়ে বসেছিলেন। উনি বন্দুক তোলবার আগেই দেখলেন, ছাগলছানাটা ম্যাঁ হ্যাঁ হ্যাঁ ম্যাঁ হ্যাঁ হ্যাঁ করতে করতে একেবারে বাঘটার মুখের কাছে গিয়ে দাঁড়ালো। কেন বলুন তো?

    ভদ্রলোক হয় তো সত্যি জানেন না, তাই বললেন, জানি না তো?

    গোগোল হাত নেড়ে নিজেই খুব অবাক হয়ে বলবে, ছাগলছানাটা তত কোনদিন বাঘ দেখে নি। ও তো শিশু, তাই বাঘ যে কী ভীষণ জানোয়ার, ও তার কিছুই জানে না। ভেবেছিল, ওটাই বুঝি ওর মা, তাই বাঘের মুখের কাছ থেকে, একেবারে তার পেটের নীচে চলে গেল। জিম্ করবেট তখন ভাবলেন, বাঘটা এবার ছাগলছানাটাকে এক গরাসে খেয়ে ফেলবে। কিন্তু বাঘটা কী করলে বলুন তো?

    ভদ্রলোক বললেন, জানি না তো?

    গোগোল বলবে, বাঘটা ওকে খেল না। একটু যেন বিরক্ত হলো, একবার ছাগলছানাটাকে শুকে, আস্তে আস্তে ঠ্যাং তুলে ছাগলছানাটাকে সরিয়ে দিল, তারপরে ঢিবির নীচে জঙ্গলের মধ্যে ঢুকে পড়লো। ব্যাপার দেখে, জিম্ করবেট বাঘটাকে মারবার কথাই ভুলে গেলেন। তার মনে হলো, জীবনে এমন ঘটনা মানুষ আর কখনো হয়তো দেখবে না। এটা নিশ্চয় ভগবানের কোনো লীলা। কিন্তু বাঘটা কেন ছাগলছানাটাকে খেলো না, বলুন তো?

    ভদ্রলোক বললেন, জানি না তো?

    গোগোল ঘাড় বাঁকিয়ে, চোখ ঘুরিয়ে বললে, আসলে বাঘেরা খিদে না পেলে, কারোকে মারে না। আমাদের যেমন দুষ্টু খিদে আছে না, খিদে না পেলেও খাবার জন্য বায়না করি, ওবা সেরকম না।

    ভদ্রলোক তখন জিজ্ঞেস করবেন, তোমার বুঝি দুষ্টু খিদে পায়?

    গোগোলের চোখে হাসি ঝিলিক দিয়ে উঠবে। বলবে, একটু একটু। আচ্ছা আপনি কি সেই বাহাদুরের কথা জানেন?

    ভদ্রলোক অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করবেন, কোন্ বাহাদুর?

    গোগোলও ভদ্রলোকের এত কম জানা আছে দেখে, খুব অবাক হয়ে বলবে, যুথপতি বাহাদুর?

    ভদ্রলোক অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করবেন, যুথপতিটা কী?

    গোগোল এবার ঠোঁট আর জিভ দিয়ে একটা শব্দ করবে, যেন ও ভদ্রলোককে করুণা করছে। বলবে, যুথপতি জানেন না? জঙ্গলে হাতীদের যে দল থাকে, তার যে সদাব থাকে, তাকে বলে যুথপতি।

    ভদ্রলোক অবাক হয়ে বলবেন, ও, তাই নাকি? তা সেসব বই কি তুমি পড়েছ নাকি?

    গোগোল বলবে, আমি এখনো এভোটা ভালো করে পড়তে শিখিনি। মা আমাকে পড়ে শোনায়, আমার সব মনে থাকে। অবিশ্যি আমারও একটা গল্প লেখার খাতা আছে, তাতে অনেক গল্পই লিখি। তবে বানান একটু ভুল হয়, মা ঠিক করে দেয়। তারপরে শুনুন, বাহাদুর নামে একজন যুথপতি ছিল, ছোটনাগপুরের জঙ্গলে–

    এ সময়েই হয়তো গোগোলর বাবা এসে পড়বেন, এবং ভলোকের সঙ্গে কথা আরম্ভ করবেন, ওহহ, আপনি এসেছেন? আমায় একটু দেরি হয়ে গেল।

    গোগোল তাড়াতাড়ি বলবে, বাবা, আমি আগে বাহাদুরের গল্পটা বলে নিই।

    গোগোলের বাবা বললেন, না গোগোল, লক্ষ্মী বাবা, এর সঙ্গে আমার অনেক জরুরী দরকারী কথা আছে। তুমি এখন ভেতরে যাও।

    গোগোল চেয়ার থেকে লাফিয়ে নামবে, হতাশ মুখখানি ভারী করে বলবে, তোমাদের খালি দরকারী আর জরুরী কথা। • বাহাদুরের গল্পটা বুঝি কিছু না?

    ভদ্রলোক তখন বলবেন, দরকারী কথা সেরেই, আমি তোমার বাহাদুরের গল্প না শুনে যাচ্ছি না।

    গোগোল একটু চোখ পাকাবার ভঙ্গি করে বলবে, ঠিক তত? মিথ্যা কথা বলবেন না, পাপ লাগবে।

    গোগোলের বাবা বলবেন, হা হা, কেউ তোমাকে মিথ্যা কথা বলছেন না। তুমি এখন ভেতরে যাও তো।

    গোগোল তখন চলে যাবে।

     

    আসলে ব্যাপারটা হয়েছে কি, বাড়িতে গোগোল ভারী নিঃসঙ্গ। মা রান্নাবান্না আরো দশ রকম কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। চাকরও তা-ই। ও ইস্কুলে যায় বটে। তারপর যে ওর আর সময় কাটতে চায় না। সেই দুপুরে মা কখন একটু গল্প পড়ে শোনাবেন। তারপরেও বিকেল আছে, সন্ধ্যে আছে। রোজ রোজ ওকে বেড়াতে নিয়েও যাওয়া যায় না। বাবা থাকেন বাড়ির বাইরে কাজে। সে জন্যই ও কারোকে পেলে ছাড়তে চায় না। আর সত্যি সত্যি ও চমৎকার গল্প বলতে পারে। লেখে। লেখাগুলো অবিশ্যি মায়ের কাছে শোনা গল্পগুলোরই মধ্যে প্রায়, একটু এদিক ওদিক থাকে। সেটা ওর নিজের বানানো।

    তাছাড়া গোগোল প্লাস্টার দিয়ে নানারকম মূর্তি তৈরি করে। বাড়ির যাবতীয় ফেলে দেওয়া ইলেকট্রিকের তার, নষ্ট হয়ে যাওয়া সুইচ, সেসব দিয়েও সে অনেক কিছু তৈরি করে, জিজ্ঞেস করলে বলে, মাইক তৈরি করা হচ্ছে। আলো জ্বলছে না, সুইচ ঠিক করা হচ্ছে।

    মোটের ওপর, গোগোল একদিকে যেমন নিঃসঙ্গ, অন্যদিকে আবার তেমনিই ব্যস্ত। তখন ওকে দশবার ডেকেও চান করানো খাওয়ানো যাবে না।

    যাই হোক, যে অদ্ভুত আর ভয়ঙ্কর গল্পটা বলতে যাচ্ছি, এবার সেটাই বলি।

    জুন মাসে গোগোল বাবা মায়ের সঙ্গে কাশ্মীরে বেড়াতে গেল। মনে মনে তার যত আনন্দ, তত উত্তেজনা। ও ওর বাবার কাছে আগেই শুনে নিয়েছে, হিমালয়ের অভ্যন্তরে, চল্লিশ মাইল চওড়া, আশি মাইল লম্বা এক অপূর্ব সুন্দর উপত্যকা আছে। সেই উপত্যকা ভূমিই হল কাশ্মীর।

    গোগোলের সকালবেলা যখন পাঠানকোটে এসে পৌঁছুলো, দেখা গেল, সেখানে বেশ একটা উত্তেজনা আর পুলিশ মিলিটারী টহল দিচ্ছে। লোকজনকে ডেকে নানারকম জিজ্ঞাসাবাদ করছে, সে কোথা থেকে এসেছে, কোথায় যাবে। সন্দেহবশত অনেকের ট্রাঙ্ক সুটকেশ খুলেও দেখছে। এমন কি গোগোলের বাবাকেও একজন পুলিশ অফিসার ইংরেজীতে কী সব কথাবার্তা জিজ্ঞেস করলেন। বাবা পকেট থেকে রেলের টিকেট, তার অফিসের কার্ড, সবই দেখালেন। মাকে আর গোগোলকেও দেখিয়ে পরিচয় দিলেন।

    পাঠানকোট স্টেশনের ক্যাটারিং-এর খাবার ঘবে, সকালের খাবার খেতে খেতে গোগোল বাবার মুখে সব ঘটনাটা শুনলো। গতকাল পাঞ্জাবে চণ্ডীগড়ে একটা সাংঘাতিক ব্যাঙ্ক ডাকাতি হয়ে গিয়েছে। ডাকাতেরা তিন জন লোককে গুলি করে মেরে ফেলেছে। এক ধরনের লোহার কে আছে, যার মধ্যে কোটি কোটি টাকা থাকে। এই কেগুলো যে-সে খুলতে পারে না। প্রত্যেকটা কেসের আলাদা আলাদা ধরনের চাবি আছে, আর চাবিগুলো, বাঁ দিকে বা ডান দিকে কতবার কীভাবে পাক দিতে হবে, তা জানা আছে শুধু একজনের। তিনি হলেন ব্যাঙ্কের ম্যানেজার। চাবিও তার কাছেই থাকে।

    যেখানে নোট ছাপানো হয়, তাকে বলে মিন্ট। মিন্ট থেকে রিজার্ভ ব্যাঙ্কে টাকা যায়। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক থেকে, সেই রকম কয়েকটি কেস ভরতি টাকা নিয়ে যখন একটা গাড়ি চণ্ডীগড় স্টেট ব্যাঙ্কের দিকে যাচ্ছিল, তখনই একটা নির্জন জায়গায়, ডাকাতরা সেই গাড়ির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। গাড়িতে। ড্রাইভার নিয়ে সব শুদ্ধ চারজন লোক ছিল। তিন জনের কাছে বন্দুক ছিল। কিন্তু ডাকাতরা এমনই দুর্ধর্ষ, তারা তিনজনকে মেরে ফেলেছে, একজন এখন হাসপাতালে আছে, বাঁচবে কি না সন্দেহ। তার মানে, ডাকাতরা প্রায় পনর কুড়ি কোটি টাকার কে নিয়ে পালিয়েছে। চার দিকেই সেই ডাকাত দলের সন্ধান চলেছে। কেউ কেউ অনুমান করছে, ডাকাতদল হয়তো কাশ্মীরে ঢুকে, ভারতবর্ষের সীমানা পেরিয়ে, পাকিস্তান পালিয়ে যাবে।

    সেই জন্য সমস্ত লরি ট্রাক প্রাইভেট গাড়ি বাস পুলিস আর মিলিটারি খুজে খুজে দেখছে। সব থেকে মুশকিল হয়েছে, ডাকাতদলকে কেউ চেনে না। বা তারা কী গাড়ি নিয়ে পালিয়েছে, তাও কেউ বলতে পারে না। যারা পারতো, তাদের তিনজন তো মারাই গিয়েছে। একজন এখন অচৈতন্য অবস্থায় হাসপাতালে পড়ে আছে।

    গোগোল আবার খেতে খেতে, বাবার মুখে সমস্ত ঘটনাটা শোনার পর, মনে মনে কেবলই কল্পনা করার চেষ্টা করতে লাগলো, ডাকাতগুলোর চেহারা কী রকম হতে পারে। খাবাব খেয়ে, বাইরে বেরিয়ে, ও প্রত্যেকটা লোকের মুখের দিকে ভালো করে দেখতে লাগলো। লম্বাচওড়া চেহারা আর বড় গোঁফ দেখলেই, ওর মনটা যেন ছাৎ ছাৎ করে উঠতে লাগলো। কিন্তু পরমুহূর্তেই তাদের হাসি আর কথাবার্তা শুনে, অন্যরকম মনে হলো। এদিকে ওর মা তাড়া দিলেন, পাঠানকোট থেকেই চান করে নিতে হবে। তাই নিতে হলো। তারপরে বেশ একটা ঝকমকে সুন্দর বাসে উঠে, ওরা কাশ্মীর যাত্রা করলো।

    পাহাড়ের উপর দিয়ে, এঁকে বেঁকে যেতে যেতে, নানারকম দৃশ্য দেখে ডাকাতির কথাটা গোগোল প্রায় ভুলেই গেল। খাতা আর পেন্সিল নিয়ে, হঠাৎ হঠাৎ একটা করে কথা লিখতে লাগলো। গাড়ির মধ্যে ভারতের নানা প্রদেশের মহিলা পুরুষেরা রয়েছেন। তাদের ভাষা গোগোলের জানা না থাকলেও, সকলের সঙ্গেই তার বেশ ভাব হয়ে গেল। সকলেই তাকে গাল টিপে, মাথার চুলে হাত বুলিয়ে আদরও করলো। এক দাড়িগোঁফওয়ালা তলোয়ারধারী শিখ ওকে চুমো খেতেই ওর ভীষণ সুড়সুড়ি লেগে গেল।

    বাত্রিবেলাটা ওদের কাটাতে হলে কুঁদ বলে একটা জায়গায়। পরদিন ভোরবেলা আবার যাত্রা শুরু হলো।

    গোগোল আর বাইরে থেকে দৃষ্টি ফেরাতে পারে না। দুপুরের দিকে ওরা যখন কাশ্মীরে পৌঁছুলো, সমতলের মতো সেই উপত্যকায়, গোগোল একেবারে মুগ্ধ। হিমালয়ের বুকে যে এরকম সুন্দর হ্রদ আছে, ভাসমান বাগান আছে, ও ভাবতেই পারে নি। ঝিলম নদীর দিকে তাকিয়ে ওর চোখ চকচক করে উঠলো। বাবা ওকে চিনিয়ে দিলেন, চিনার গাছ। যেমন বিশাল গাছ, তেমনি ওর পাতা। সব থেকে ওর আনন্দ হলো, যখন বাবা একটা বোট ভাড়া করলেন। কোন হোটেলে ওরা থাকলে না। হাউস বোটটাই একটা বাড়ি। তার মধ্যে বসবার ঘর, খাবার ঘর, শোবার ঘর, বাথরুম, সব আছে। এমন কি ইলেকট্রিকের আলোও আছে।

    কয়েকদিন হাউসবোটে থেকে, গোগোলরা বেড়াতে গেল পহেলগাঁও বলে একটা জায়গায়। কাশ্মীর শহর থেকে, ষাট পঁয়ষট্টি মাইল দূরে পহেলগাঁও। জায়গাটা লিডর নদীর ধারে। পাহাড়ী নদী, পাথরে ধাক্কা খেয়ে, গর্জন করে বহে চলেছে। নদীর ওপারে পাহাড়, পাহাড়ের গায়ে পাইন বন, আর বনের মাথায়, পাহাড়ের চূড়া বরফে সাদা ধবধব করছে। গোগোল এসব ছবিতেই দেখেছে। চোখে এই প্রথম দেখলো। এখানেও ঘোট ঘোট হোটেল আছে। কিন্তু হ্রদে যেমন হাউস বোট থাকে, পহেলগাঁওয়ে তাবু আছে। গোগোলের বাবা তাঁবুতে থাকাই ঠিক করলেন। সবুজ ঘাসওয়ালা উঁচু নীচু এক একটা জায়গা বেছে নিয়ে তাঁবু খাটানো হয়েছে। গোগোগালের বাবা তাঁবুওয়ালাদের সঙ্গে কথা বললেন। তাঁবুওয়ালা একটা বেশ বড় খাটানো তবু দেখালো, যার ভিতরে তিনটে ভাগ আছে। সামনের ভাগে কয়েকটা চেয়ার আর একটা টেবিল। টেবিলে আবার কয়েকটা ইংরেজী ম্যাগাজিনও আছে। তার পরের ভাগটা বেশ বড়। সেখানে দুটো বড় বড় খাটিয়া আছে। গোগোল বুঝে গেল, এটাই তাঁবুর ভেতরে শোবার ঘর। তার পিছনে বাথরুম। সেখানেও কাঠের পাটাতন পাতা আছে। বালতি ঘটি আর গোগোল জানে, বাকী দুটো জিনিসকে বলে কমোড। হাউস বেটেই বাবা শিখিয়ে দিয়েছিলেন। এ সব জায়গায় তো পায়খানা নেই, তাই কমোডের ব্যবস্থা। তাঁবুওয়ালাই জানিয়ে দিল, তারা খাবাবও দেবে, যা গোগোলদের খেতে ইচ্ছা হয়।

    সত্যি, কী মজা! বেড়াবার জন্য যে এত ব্যবস্থা আছে, আগে গোগোল জানত না। ওর সঙ্গে তাঁবুওয়ালার খুব ভাব হয়ে গেল। সে আবার ভাব করিয়ে দিল টাট্টু ঘোড়াওয়ালার সঙ্গে। গোগোলের বাবা টাট্টুওয়ালাকে গোগোলকে ঘোড়ায় চাপিয়ে বেড়িয়ে আনতে বললেন। টাট্টুওয়ালা গোগোলকে টাট্টুতে চাপিয়ে মাঠ আর পাইন বনের দিকে বেড়াতে নিয়ে গেল। পাইন বন আর কাঁকে ফঁাকে মাঠেও তাবু পড়েছে অনেক। আশেপাশে অনেক গাড়ি দাঁড় করান। যাদের গাড়ি আছে, তারা অনেকে গাড়ি নিয়েও বেড়াতে এসেছে। কয়েকটা গাড়ির পিছনে আবার আলাদা করে ভ্যান জুড়ে দেওয়া রয়েছে। ঠিক যেন গাড়ির পিছনে একটা মালগাড়ির ওয়াগন। গোগোল টাট্টুওয়ালাকে ওগুলো দেখিয়ে জিজ্ঞেস করলো, ওগুলো কী?

    টাট্টুওয়ালা বাঙলা কথা না বুঝলেও, গোগোলের প্রশ্নটা বুঝে নিল। জবাব দিল, উমে সাব লোগকো শামান হায়।

    গোগোল জিজ্ঞেস করলো, শামান কী?

    টাট্টুওয়ালা হেসে বললো, শামান নহি জানতা খোকাবাবু? মাল মাল, বাক্‌সা বিস্তারা।

    গোগোল বুঝে নিল, বললো, বাকশো আর বিছানা! তার জন্য এত বড় মালগাড়ি?

    টাট্টুওয়ালা হাসলে, কোনো জবাব দিল না। গোগোল বেশ খানিকক্ষণ টাট্টুতে চেপে বেড়ালো। জায়গাটা ওদের তাঁবুর কাছেই।

    দুপুরবেলা খেয়েই, গোগোল ওর খাতা আর পেন্সিল নিয়ে বেরিয়ে পড়লো। বাবা বললেন, বেশি দূরে কোথাও যেও না, কাছে পিঠেই থেকো।

    গোগোল মাঠ আর পাইনবন দেখিয়ে বললো, আমি ওদিকটায় থাকবে।

    গোগোল মাঠ আর পাইন বনের দিকে গিয়ে খানিকক্ষণ ঘুরলো। ওর মনে হলো, ওর বয়সী ছেলেরা সকলেই বোধহয় পাঞ্জাবী। কয়েকজনের সঙ্গে অল্প দু চারটি ইংরেজিতে কথা হলো। কিন্তু তেমন জমলে না। তখন গোগোল খাতা পেন্সিল নিয়ে বসে গেল। বড় বড় করে লিখলো, পাইন বন অতি সুন্দর। লোকেরাও সুন্দর।

    গোগোল ওর বাবার কাছে, দুপুরবেলা জেনে নিয়েছে, গাড়ির পিছনে জোড়া ওগুলোকে নাকি অটোভ্যান বলে। ও ঘুরে ঘুরে, হঠাৎ একটা অটোভ্যানের কাছে দাড়িয়ে পড়লো। অটোভ্যানের সামনে কোনো গাড়ি নেই, শুধু ভ্যানটা রয়েছে। গোগোলর মনে হলো, ভ্যানটার মধ্যে যেন ঠুং ঠুং করে একটা শব্দ হচ্ছে। ও খুব অবাক হলো। ভ্যানটার পিছনে গিয়ে দেখলো, তার দরজায় মস্ত বড় বড় দুটো তালা ঝুলছে। অথচ শব্দটা কিসের? ভ্যানটা যেখানে রয়েছে, সেখানে পাইন বন একটু ঘন, সামনে কোনো তাঁবু নেই, নিরিবিলি মতো।

    শব্দটা হঠাৎ থেমে গেল। গোগোল ভ্যানটার চারপাশে ঘুরলো। উঁচুতে এক জায়গায় একটা বড়ো ফুটো রয়েছে। সেখানে উঠে দেখবার উপায় নেই।

    গোগোলর মনে হলো, ও বোধহয় ভুল শুনেছে। আসলে ভিতরে বোধহয় ইঁদুর রয়েছে, ইহুর টুক টুক করছে। ও সেখান থেকে আবার অন্যদিকে সরে গেল। যেদিকে লোকজন আছে, সেদিকে বেড়াতে বেড়াতে, বাবা মাকে পেয়ে গেল। তাঁদের সঙ্গে লিডর নদীর ধারে গেল। কিন্তু বেশিক্ষণ থাকা গেল না। আকাশে মেঘ করে এল, বিদ্যুৎ চমকাতে লাগলো। গোগোল বললো, বাবা, আমাদের তাঁবু ভিজে গেলে, থাকবো কেমন করে?

    বাবা হেসে বললেন, দূর বোকা, তাঁবুর ভিতরে আবার জল পড়ে নাকি? ওয়াটার প্রুফ দেখোনি, যেমন কী না রেনকোট বা ছাতা, তার নীচে কি জল পড়ে? তাঁবুর কাপড়ও সেইরকম। ভেতরে জল পড়ে না।

    গোগোল খুব গম্ভীরভাবে মাথা ঝাঁকালো। সত্যি, ব্যাপারটা ও ভাবে নি। ওরা তাঁবুতে ফিরতে না ফিরতেই বৃষ্টি নামলো, আর দারুণ শীত করতে লাগলো। বাবা তাবুর মুখ ভালো করে বেঁধে দিলেন।

     

    পরের দিন সকালবেলা ঝকঝকে রোদ উঠলো। সব যেন নতুন হয়ে উঠেছে। গোগোল সেই মাঠ আর পাইন বনের দিকে গেল। এদিক ওদিক ঘুরতে ঘুরতে, ও সেই ভ্যানটার কাছে গেল। ভ্যানটার সঙ্গে এখন গাড়িটাও রয়েছে। এক ভদ্রলোক গাড়িতে বসে বসে সিগারেট খাচ্ছেন, বাবারই বয়সী হবে। তিনি গোগোলকে দেখতে পেলেন না। কিন্তু ভ্যানের ভিতরে সেই ঠুং ঠুং শব্দ হচ্ছে। গোগোল ভ্যানটার চারপাশে ঘুরে, গাড়ির সামনে এসে দাঁড়ালো। সেই সময়েই ভদ্রলোক ওর দিকে তাকালেন। সামনে থেকে মনে হলো, ভদ্রলোক বাবার থেকে যেন বয়সে ছোট। লম্বা জুলফি, সরু গোঁফ, গালে অল্প দাড়ি গজিয়েছে। গোগোলকে দেখেই, লোকটি হঠাৎ ঝুকে পড়ে; গাড়িব হর্ন বাজিয়ে দিল। অমনি ঠুং ঠুং শব্দটাও থেমে গেল।

    লোকটি গোগোলকে জিজ্ঞেস করলো, কেয়া মাংতা বাচ্চো?

    গোগোল বললো, কিছু না : ইঁদুর-মানে, র‍্যাট-র‍্যাট টুক টুক করছে।

    বলে ভ্যানের দিকে দেখিয়ে দিল। লোকটা হেসে বললো, হাঁ হাঁ, উকে অন্দর মে ইদ্দুর হ্যায়, মার দেগা।

    গোগোলও হেসে সরে গেল। চলে যাবার সময়, হঠাৎ ভ্যানের উঁচু গায়ে, ফুটোর দিকে ওর চোখ পড়লো। পড়তেই দেখলো, একটা চোখ ওকে দেখছে। যেই চোখাচোখি হলো অমনি চোখটা সরে গেল। ওটা যে ইঁদুরের চোখ না, তাতে কোন সন্দেহ নেই। মনে হলো মানুষের চোখ। কিন্তু তা কী করে সম্ভব হবে? ভ্যানের মধ্যে মানুষ থাকবে কেমন করে? গোগোল কি গাড়ির লোকটাকে কিছু বলবে? না, না বলাই ভালো। ও চলে যেতে যেতে ভাবলো, লোকটা তখন হঠাৎ হর্ন বাজালে কেন? আর তখনই ঠুং ঠুং শব্দটাও বন্ধ হয়ে গেল। এর মধ্যে কী ব্যাপার থাকতে পারে?

    গোগোল তাঁবুতে ফিরে বাবাকে ঘটনাটা বললো। বাবা বললেন, তুমি নিশ্চয় ভুল দেখেছ, ওটা কখনো মানুষের চোখ হতে পারে না। ভ্যানের কোনো জানলা দরজা থাকে না, ওর মধ্যে মানুষ থাকলে দম বন্ধ হয়ে মরে যাবে।

    গোগোলের মনে হলো, কথাটা ঠিক। কিন্তু ও কি এততাই ভুল দেখেছে? ও অন্যদিকে বেড়াতে বেড়াতে ভাবতে লাগলো। দেখলো, এখানেও পুলিস আর মিলিটারি টহল দিয়ে বেড়াচ্ছে। নিশ্চয় সেই ব্যাঙ্ক ডাকাতির, ডাকাতদের ধরবার জন্য। তাঁবুওয়ালা ওর বাঙলা কথা বুঝতে পারে। সেও বেশ ভাঙা ভাঙা বাঙলা বলতে পারে? ও গিয়ে তাঁবুওয়ালাকে জিজ্ঞেস করলো, এখানে এত পুলিস আর মিলিটারি টহল দিচ্ছে কেন? সেই ডাকাতদের ধরবার জন্য?

    তাঁবুওয়ালা বললো, হ খোকাবাবু, ডাকাতলোগ, ইধারেও আসতে পারে। পুলিস বাতলাচ্ছে কি, ডাকাতলোগ, নাকি ইধারে কোথায় এসেছে।

    পুলিস খবর পেয়েছে?

    তাঁবুওয়ালা বললো, তা জানি না। তবে উ লোগ ডাকাত খুঁজছে।

    গোগোল বললো, কিন্তু এখানে তো সবাই বেড়াতে আসে। ডাকাতরা কি এখানে আসবে?

    তাঁবুওয়ালা বললো, আসতে ভি পারে, উলোগ হর জায়গা যেতে পারে।

    গোগোল চিন্তিত হয়ে তাঁবুতে ফিরে গেল।

     

    গোগোল দুপুরবেলা খেয়ে দেয়ে, বাবার পাশে একটু শুয়ে রইলো। তারপরে বাবাকে বলে বেরিয়ে পড়লো, খাতা পেন্সিল নিয়ে। এক জায়গায় বসে লিখলো, ভ্যানের মধ্যে ইঁদুরের ঠুক ঠুক। তারপরে পাইন বনের দিকে তাকিয়ে দেখলো, ভ্যানটা রয়েছে, গাড়িটা নেই। গোগোল ভ্যানটার কাছে গেল। কোনো শব্দ হচ্ছে না। ও সেই ফুটোটার দিকে তাকালো। না, কোনো চোখ দেখা যাচ্ছে না। কিন্তু ভিতরে যেন খুট করে একটা শব্দ হলো, একবারই। গোগোল ভ্যানটার গায়ে কান ঠেকিয়ে শোনবার চেষ্টা করলো, কোনো শব্দ হচ্ছে কি না। ও চমকে উঠলো। খুব অস্পষ্ট হলেও, গোগোল মানুষের কথা বলার শব্দ পেল। কী বলছে বোঝা যাচ্ছে না, কিন্তু ঠিক মানুষের গলা।

    গোগোল সরে এসে পিছনে গিয়ে দেখলো, তালা দুটো ঠিক ঝুলছে। ও তাঁবুতে ফিরে গিয়ে, বাবাকে ঘটনাটা বললো। বাবা বললেন, তুমি তো অনেক কিছুই শুনতে পাও। কী শুনতে কী শুনেছ, তার ঠিক নেই। ও ভ্যানটা তোমাকে পেয়ে বসেছে।

    বাবা তেমন আমল দিলেন না। গোগোল তখন তাঁবুওয়ালার কাছে গেল, তাকে সব কথা বললো। তাঁবুওয়ালার চোখে মুখে একটু চিন্তা দেখা দিল। সে গোগোলকে নিয়ে, পাকা রাস্তার ধারে একটা ঘরে নিয়ে গেল। সেখানে বন্দুক পিস্তল নিয়ে অনেক পুলিসের লোকেরা ছিলেন। তাঁবুওয়ালা

    তাঁদের হিন্দীতে গোগোলের বলা ঘটনাটা বললো। সঙ্গে সঙ্গে কয়েকজন উঠে দাঁড়ালেন। একজন লম্বা চওড়া অফিসার, কোমরে পিস্তল গোঁজা, গোগোলের হাত ধরে বললেন, চলো বাচ্চো, মুঝে ও ওয়াগন দেখা দেয়।

    তাঁবুওয়ালা বললো, খোঁখাবাবু, ভ্যানটা ই সাবলোগকো দেখিয়ে দাও।

    গোগোল বললো, চলুন।

    গোগোলর সঙ্গে সেই অফিসার, এবং আরো কয়েকজন বন্দুক নিয়ে চললেন। কাছে গিয়ে দেখা গেল, ভ্যানের গাড়িটা তখন ফিরে এসেছে, আর সেই লোকটিই গাড়িতে বসে আছে। অফিসার এগিয়ে গিয়ে, সেই লোকটিকে কী বললেন। লোকটিও কী সব বললো। তারপরে একটা চাবির গোছ নিয়ে, লোকটি গাড়ি থেকে নেমে এল। নেমে এসে, ভ্যানের পিছন দিকে না গিয়ে, লোকটা হঠাৎ অন্যদিকে দৌড়ুতে লাগলো। অফিসার তৎক্ষণাৎ কোমর থেকে পিস্তল বের করে, লোকটার দিকে ছুড়লেন। কিন্তু লোকটা যেন সাপের মত এঁকেবেঁকে, পাইন বনের মধ্যে অদৃশ্য হয়ে গেল।

    ব্যাপার দেখে ভিড় জমতে লাগলো। অফিলার হুকুম দিলেন, ভ্যানকো তালামে গোলি চালাও।

    দুজন বন্দুকধারী গুলি করে, তালা ভেঙে ফেললো। সঙ্গে সঙ্গে ভ্যানের ভিতর থেকেও গুলি ছুটে এল। তাঁবুওয়ালা গোগোলকে কোলে তুলে নিয়ে সরে গেল। একজন পুলিসের লোক গুলি খেয়ে পড়ে গেল। তখন বন্দুকধারী মিলিটারিও এসে গিয়েছে। ভ্যানের চার পাশ ঘিরে গুলি ছোড়া শুরু হলে।। যেন একটা যুদ্ধ চলছে। ভ্যানের ভিতর থেকে খানিকক্ষণ গুলি ছুটে এল, তারপরে বন্ধ হয়ে গেল। ভিতরে যেন কেউ আর্তনাদ করছে।

    সেই পুলিস অফিসার চেঁচিয়ে বললেন, জিন্দা রহনে মাংতাত জলদি নিকালো।

    একটু পরে, ভ্যান থেকে একটি লোক দু হাত তুলে বেরিয়ে এল। সঙ্গে সঙ্গে তাকে একজন ধরে ফেললো। আর একজনকে নামানো হলো, তার ঘাড়ের কাছে রক্ত। তারপর কয়েকজন ভ্যানের ভিতর ঢুকলো। ভিতর থেকে বের করে নিয়ে এল, ব্যাঙ্কের সেই ভাঙা লোহার কে, আর বাণ্ডিল বাণ্ডিল টাকার নোট।

    তাঁবুওয়ালার চোখ ছানাবড়া। সে গোগোলকে বললো, খোঁখাবাৰু, তুমি বহোত বরিয়া লেড়কা আছে, তোমার জন্যই ডাকাতলোগ ধরা পড়েছে, তামাম রূপেয়া ভি মিলে গেছে।

    সেই লম্বা চওড়া ফরসা পুলিস অফিসার এসে, তাঁবুওয়ালার কোল থেকে, গোগোলকে নিজের কোলে তুলে নিলেন, আদর করে চুমু খেয়ে অনেক কথা বলতে লাগলেন। গোগোল তা বুঝতে পারলো না। শত শত লোক, পুলিস, মিলিটারি, পুরুষ মহিলা সবাই তখন গোগোলকে দেখছে, আর হাসছে, কেউ কেউ হাততালিও দিচ্ছে।

    এ সময়েই গোগোলের বাবা মা ছুটে এলেন। বাবা ইংরেজিতে অফিসারকে ভয়ে ভয়ে কী যেন জিজ্ঞেস করলেন, আর বললেন। অফিসার অমনি বাবাকেও এক হাতে জড়িয়ে ধরে ইংরেজিতে কী যেন বললেন। গোগোল দেখলো, বাবা মা হাসছেন, কিন্তু তাদের চোখে যেন জলও এসে পড়েছে। মা হাত বাড়াতেই, গোগোল মায়ের কোলে ঝাঁপিয়ে পড়লো। মা ওকে চুমো খেয়ে বললেন, আমার সোনা মাণিক।

    গোগোল বললো, কাঁদছো কেন মা?

    মা বললেন, আনন্দে, তুমি যে আমাদের মুখোজ্জ্বল করেছ।

    গোগোল লজ্জা পেয়ে মায়ের কাঁধে মুখ লুকালো।

    এবার এখানেই ইতি। পরে আবার তোমাদের গোগোলের নতুন গল্প শোনাবো।

    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleগোয়েন্দা অশোক ঠাকুর সমগ্র – সমরেশ বসু
    Next Article বি.টি. রোডের ধারে – সমরেশ বসু

    Related Articles

    সমরেশ বসু

    প্রজাপতি – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    গঙ্গা – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    বিবর – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    অকালবৃষ্টি – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    নয়নপুরের মাটি – সমরেশ বসু

    December 1, 2025
    সমরেশ বসু

    শ্রীমতি কাফে – সমরেশ বসু

    December 1, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }