Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    গ্রীকদের চোখে ভারতবর্ষ – নির্বেদ রায়

    নির্বেদ রায় এক পাতা গল্প291 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ইরিথ্রিয় সাগরে অভিযাত্রা – নির্বেদ রায়

    ইরিথ্রিয় সাগরে অভিযাত্রা

    ইরিথ্রিয় সাগরে অভিযাত্রা

    ‘পেরিপ্লাস অফ দি ইরিথ্রিয়ান সী’ বা ল্যাটিন ভাষায় ‘পেরিপ্লাস মারিস ইরিথ্রিয়াই’ (Periplus Maris Erythraei) লেখা হয়েছিল প্রথম শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে, ৫৯ থেকে ৬২ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ।

    ‘পেরিপ্লাস’ খুবই গুরুত্বপূর্ণ লেখা। পাণ্ডুলিপিটি প্রথমে ‘আরিয়ান’-এর লেখা বলে মনে করা হয়, কিন্তু পরে গবেষণায় প্রমাণ হয় যে, প্রথম শতকের মাঝামাঝি কোনো সময়ে এই অসাধারণ পুঁথিটি লেখা হয়েছিল। লেখকের নাম জানা যায়নি, তবে বোঝা যায় যে, তাঁর ভাষা গ্রীক, আরও নির্দিষ্ট করে বললে ‘কোয়েনে গ্রীক’; লেখক সম্ভবত নাবিক অথবা জাহাজের ক্যাপ্টেন ছিলেন; তিনি রোম সাম্রাজ্যের প্রজা হলেও জাতে গ্রীক আর মিশরের বাসিন্দা ছিলেন।

    ‘পেরিপ্লাস’ শব্দের অর্থ ‘সমুদ্রযাত্রা’ ধরে নিয়ে এগোলে, আর ‘ইরিথ্রিয়ান সী’ অর্থে লোহিত সাগর থেকে ভারত মহাসাগর পর্যন্ত যদি আমরা বুঝি, তাহলে মাঝখানে পারস্য উপসাগর বাদ দিলে চলে না। ফলে ‘পেরিপ্লাস’ অফ দি ইরিথ্রিয়ান সী’ বলতে ওই বিপুল সমুদ্রযাত্রাকেই বুঝি, যে সমুদ্রপথ লোহিত সাগর, পারস্য উপসাগর হয়ে ভারত মহাসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। এছাড়াও আরও কিছু ‘আধুনিক’ সাগরের জল এখানে মিশেছে। ওই পথে যে বাণিজ্যের পসরা নিয়ে জাহাজ চলাচল করে, সেই অসংখ্য ছোট বড় মাঝারি জাহাজের রাস্তা বা চলাফেরার সুবিধা-অসুবিধার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ আছে এই লেখায়। এটা প্রথম শতাব্দীর ভূগোল।

    আছে প্রায় দেড়শ’র কাছাকাছি জিনিসপত্র, তাদের বর্ণনা আর আমদানি-রপ্তানির কথা, কোথা থেকে কতটা আমদানি হচ্ছে, কতটাই বা রপ্তানি হচ্ছে, কোন বন্দর কত গুরুত্বপূর্ণ—তার নির্ধারিত বিষয়গুলি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা— কোনোটাই বাদ যায়নি এই বিবরণ থেকে। মনোযোগ দিয়ে দেখতে হবে যে পূর্ব আর পশ্চিম পৃথিবীর এই মেলামেশার ইতিহাস— পশ্চিম থেকে বণিকের দল আসছে, পশ্চিমের তৈরি জাহাজে চড়ে পুবের জিনিসপত্র নিয়ে ব্যবসা করতে। জাহাজ আসছে পশ্চিম থেকে পূর্বে, আবার ফিরে যাচ্ছে পশ্চিমে…

    এই গবেষণার কথা জানতে পারি পণ্ডিতদের দক্ষতায়, যাঁদের মধ্যে ‘শফ’ অন্যতম— ‘শফ’ অর্থাৎ উইলফ্রেড হারভে শফ, আমেরিকার মানুষ, জন্ম উনিশ শতকে (১৮৭৪—১৯৩২), পেরিপ্লাস নিয়ে তাঁর কাজ বেরোয় ১৯১২ সালে।

    শফ আর অন্যান্য ইতিহাসবিদদের কথায় এই লেখা কার্যত বণিকের হ্যান্ডবুক বা নিখুঁত পথনির্দেশিকা। সংক্ষিপ্ত আর আধুনিক।

    ইরিথ্রিয় সাগর বলতে লোহিত সাগর বা ‘রেড সী’ বোঝায় বেশ কিছু উল্লেখে, কিন্তু এক্ষেত্রে ইরিথ্রিয় সাগর আসলে লোহিত সাগর, পারস্য উপসাগর আর ভারত মহাসাগরকে যুক্ত করে তৈরি হয়েছে।

    এখানে খেয়াল করতে হবে যে, সেই সময়ের চারটি সাম্রাজ্য— রোম, পার্থিয়, ভারতীয় আর চীন, এদের মধ্যে প্রথম আর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কাজ বাণিজ্য নিয়ে, এই ‘মহাসমুদ্রের অভিযাত্রা’র কাহিনি—যার ল্যাটিন অনুবাদ Periplus Maris Erythraei, ইংরেজিতে Periplus of the Erythrean Sea. উইলফ্রেড শফ এই ‘অভিযাত্রা’র রচনাকাল নির্ধারণ করেন ৫৯ থেকে ৬২ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে, পরবর্তী পণ্ডিতরাও শফের এই তারিখের সঙ্গে বড় বিবাদে জড়াননি, তাঁদের হিসাবও প্রায় কাছাকাছি।

    এরপর, আমরা তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের উল্লেখ করব।

    প্রথম বিষয়, পেরিপ্লাস-এর মানচিত্র, দ্বিতীয় বিষয় পেরিপ্লাসের সমসময়ের রাজন্যবর্গ আর তৃতীয় বিষয় হল দু’হাজার বছর আগে এই পূর্বের পৃথিবীতে কোন কোন বস্তুর বাণিজ্য হতো। যার টানে পশ্চিম থেকে জাহাজ আর বণিকের দল ছুটে আসত এখানে; যার মধ্যে একটি বস্তুর নাম—’ক্রীতদাস’।

    ইরিথ্রিয় সাগরে বাণিজ্যের পথনির্দেশ করা মানচিত্র আমরা এখানে দিয়েছি। আর প্রতি বন্দর বা শহর থেকে কি কি বস্তু আমদানি আর রপ্তানি হতো তারও বিস্তারিত তালিকা দিয়েছি। আর দিয়েছি সেই সময়ের রাজাদের নাম।

    ইরিথ্রিয় সাগরে অভিযাত্রা

    ১. ইরিথ্রিয় সাগরের বুকে যে সমস্ত নির্ধারিত বন্দর১ আর যত গঞ্জ-শহর২ আছে ওই সাগরকে ঘিরে তার মধ্যে প্রথম হল মিশরীয় বন্দর মুসেল (মাসলস) হারবার বা ঝিনুক বন্দর।৩ এই সমুদ্রপথে খানিকটা নিচের দিকে এগোলে, প্রায় আঠারোশো স্ট্যাডিয়া এগিয়ে জাহাজের ডানদিকে পড়বে বেরনিস বন্দর।৪ এই দুটো বন্দর মিশরের সীমান্তে, দুটো খাড়ির মুখে, যে খাড়িগুলো ইরিথ্রিয় সাগর থেকে বেরিয়েছে।

    ২. বেরনিসের পরেই, ডানদিকের তীরভূমি। তটভূমি ধরে এগিয়ে গেলে বর্বর জাতির দেশ। তটভূমি ধরে বাস করে মৎস্যভুক৫ মানুষের দল, উপত্যকার বুকে ছড়ানো বিভিন্ন গুহাকন্দর। আর একটু ভিতরে বর্বর-রা (Berber) বাস করে। তারপরে বন্য-মাংসভোজী মানুষ এবং গোবৎসভক্ষণকারী (Calf-eater) মানুষরা থাকে। এই জনজাতিরা তাদের প্রত্যেকের সর্দার বা শাসকদের দ্বারা শাসিত হয়। এদের পরে, আরও ভিতরে পশ্চিমদিকে যে দেশ আছে সেখানে মেরো (Meroe) বলে একটি শহর আছে।৬

    ৩. বাছুর বা গোবৎসভক্ষণকারীদের অঞ্চল পেরিয়ে নিচের দিকে তীরের উপরে একটি ছোট শহর আছে—বেরনিসের থেকে তার দূরত্ব হবে চার হাজার স্ট্যাডিয়া (185 to 192 metres=1 stadia)। নাম ‘টলেমাইস অব দি হান্টস’, সেখান থেকে টলেমির রাজ্যে আরও ভিতরের দিকে শিকারীরা যাত্রা শুরু করে। যে ছোট শহরের কথা বলছি সেখানে সাদা রঙের ও ছোট আকারের কচ্ছপ পাওয়া যায়। খুব বেশি সংখ্যায় নয়। এই কচ্ছপগুলো স্থলে বাস করে (land-tortoise)। এছাড়া এখানে অল্প হাতির দাঁত পাওয়া যায়। আদুলিস-এর মতো। কিন্তু জায়গাটিতে পৌঁছতে হলে ছোট নৌকাতে করে যেতে হয়, কারণ এখানে কোনো বন্দর নেই।৭

    ৪. ‘টলেমাইস অব দ্য হান্টস’-এর নিচের দিকে, তিন হাজার স্ট্যাডিয়া দূরে আদুলিস। আদুলিস সরকারি নিয়ম-কানুন মেনে আইন মোতাবেক তৈরি বন্দর। খাড়ির একেবারে ভেতরের মুখে তার অবস্থান, খাড়িটা দক্ষিণমুখী। বন্দরের ঠিক আগে মাউন্টেন আইল্যান্ড বা পাহাড়ি দ্বীপ। সমুদ্রের উপর দু’শো স্ট্যাডিয়া দূরত্বে অবস্থিত, মূল খাড়ির মুখ ধরলে দু’শো স্ট্যাডিয়া। তবে মূল ভূখণ্ডের দুটো দিক চাঁদের মতো বাঁক দিয়ে দ্বীপের কাছাকাছি এসে পড়েছে। যে সব জাহাজ বন্দরে নোঙর করতে চায়, তারা এই দ্বীপে এসে নোঙর করে, কারণ স্থলভূমি থেকে আক্রমণ এড়াতে। আগে তারা নোঙর করত একেবারে বন্দরে এসে, সেখানে ডাইয়োডরাস নামের একটা দ্বীপে এসে, বন্দর থেকে পায়ে হেঁটে সেখানে পৌঁছানো যায়; বর্বর স্থানীয় মানুষরা সেখানে গিয়ে আক্রমণ করতো।৮

    পার্বত্য দ্বীপের বিপরীত দিকে, মূল ভূখণ্ডের কুড়ি স্ট্যাডিয়া ভিতরে আদুলিস গ্রাম, বেশ ভালো আকার-আকৃতির গ্রাম; সেখান থেকে যাত্রা করলে তিনদিনে কোলো (Coloe)-তে পৌঁছনো যায়। কোলো একটু ভিতরের দিকে আর এখানে হাতির দাঁত বিক্রি হয়। হাতির দাঁতের প্রথম সে বাজার এই অঞ্চলে আছে, এটা সেই বাজার। এখান থেকে পাঁচদিনের যাত্রা, তারপর অক্সামাইট বা মানুষের নগর, যেখানে সমস্ত গজদন্ত নীলনদের ওপার থেকে আসে। সাইনিয়াম জেলায় এসে প্রথমে সমস্ত গজদন্ত জড়ো হয়, তারপর নীলনদ পেরিয়ে আসে। তারও পরে আদুলিসে এসে পৌঁছয়। সত্যি কথা বলতে এইসব হাতি আর গণ্ডারদের যে শিকার করা হয় তার সবই প্রায় দেশের ভিতর থেকে আর মাঝেমধ্যে, তাও খুবই অল্পসল্প সমুদ্র তীরবর্তী অঞ্চল থেকে শিকার করা হয়, এমনকি আদুলিস-এর কাছাকাছি অঞ্চল থেকেও শিকার চলে। এই নগর থেকে একটু আগে, বন্দরের আগে যে সাগরের বিস্তার আছে, তার ডানদিকে অনেক ছোট ছোট বালুকাময় দ্বীপ আছে। এই দ্বীপমালার নাম আলালেই (Alalaei), এখানে কচ্ছপের খোলা পাওয়া যায়, এই খোলাগুলো বাজারে বিক্রির জন্য মৎস্যভুক মানুষরা নিয়ে আসে।

    ৫. আরও প্রায় আটশো স্ট্যাডিয়া দূরে একটি অত্যন্ত গভীর খাড়ি বা উপসাগর আছে। সেখানে ঢোকার মুখে ডানদিকে বালির পাহাড়; সেখানে ওপসিয়াম পাথর পাওয়া যায়। আর কোথাও এই পাথর মেলে না। এই সমস্ত অঞ্চল, মৎস্যভুকদের থেকে বর্বরদের জায়গা পর্যন্ত জোস্কেলস-এর শাসনাধীন। জোস্কেলস মানুষ হিসাবে সোজা ও সবল মেরুদণ্ডের লোক, গ্রীক সাহিত্য সম্পর্কেও ওয়াকিবহাল, কিন্তু তার মতো কৃপণ স্বভাবের মানুষ আর হয় না, আর তার চাহিদার কোনো শেষ নেই।

    ৬. এই সব অঞ্চলে চারদিকের বিভিন্ন জায়গা থেকে সব জিনিসপত্র আমদানি করা হয়— মিশর থেকে বর্বর-দের জন্য মোটা কাপড় (undressed cloth) আসে; আঙরাখা গোছের পোশাক (Robes) আসে আরসিনো (Arsinoe) থেকে; আসে ক্লোক বা হাতকাটা ঝোলা পোশাক, তবে সেগুলো বিভিন্ন রঙে ছোপানো আর বিশেষ ভালোমানের নয় (poor quality); দু’ধারে ডবল করে বোনা ডিজাইনের,পাট বা শনের বস্ত্র, স্বচ্ছ এবং আতস কাচের তৈরি বিভিন্ন বস্তু (flint glass) ও ডাইয়সপলিসে মহার্ঘ পাথরের তৈরি জিনিসপত্র (murrhine) আর অনেক রকমের পিতলের তৈরি অলঙ্কার যা পয়সার পরিবর্তে পাওয়া যায়। নরম তামার পাত পাওয়া যায়, যা থেকে বাসনপত্র তৈরি হয়, মেয়েদের পায়ের মল আর হাতের কাঁকন তৈরি হয়। আসে লোহা, যা দিয়ে হাতি বা অন্য জন্তুর বিরুদ্ধে বর্শা অথবা যুদ্ধের অস্ত্র তৈরি হয়।

    এছাড়া ছোট মাপের কুঠার, বাটালি (adzes) আর তরোয়াল, তামার তৈরি গোলাকার ও বড় মাপের পানপাত্র, কিছু পয়সাকড়িও আসে বাজারে, লাওডিসিয়া আর ইটালি থেকে অল্প কিছু সুরা (wine), আসে সামান্য অলিভ অয়েল, অল্প পয়সাকড়ি আসতো যারা বাজারে আসতো তাদের প্রয়োজনে, রাজার জন্য সোনা আর রুপোর পাত আসতো তখনকার দেশকালের ধরন অনুযায়ী। জামাকাপড় বলতে সেনাবাহিনীর জন্য লম্বা আঙরাখা, চামড়ার তৈরি হালকা আর পাতলা কোট, বিশেষ দাম নেই এই জামাকাপড়গুলোর। সমুদ্র পেরিয়ে আরিয়েকা জেলা থেকে আমদানি করা মালপত্র এসে পৌঁছয়— আসে ভারত থেকে লোহা আর ইস্পাত, তার সঙ্গে ভারতীয় সুতির কাপড়, ঘন সন্নিবদ্ধ পশমের বস্ত্র, যার নাম মোনাসে (monache), সাগমাটোজিন (sagmatogene), কোমরবন্ধ, চামড়ার তৈরি কোট আর হলদে কাপড়। আর অল্প কিছু মসলিন আর রঙিন লাক্ষা। এখান থেকে যায় হাতির দাঁত, কচ্ছপের খোলা আর গণ্ডারের খড়গ। বেশির ভাগ বস্তু মিশর থেকে এখানে আসে জানুয়ারি (Tybi) থেকে সেপ্টেম্বর (Thoth) মাসের মধ্যে; তবে সমুদ্রপথে এইসব বস্তু পাঠাবার জন্য সেপ্টেম্বর (Thoth) মাসকেই বেছে নেওয়া হয়।

    ৭. আরব উপসাগর এখান থেকে পূর্বদিকে ঘুরে গিয়ে এগিয়েছে, আর সবচেয়ে সংকীর্ণ হয়ে এসেছে আভেলাইটস উপসাগরের ঠিক আগে। সেখান থেকে প্রায় চার হাজার স্ট্যাডিয়া হবে, যারা পুবদিকে পাল তুলে যায় ওই পাড় ধরে, তাদের চোখে পড়ে বর্বরদের আরও মার্কেট-টাউন, যেগুলো দূরবর্তী পোতাশ্রয় বলতে যা বোঝায়, একরকম তাই; পরপর এগুলো দেখা যায়; যদিও ঠিক বন্দর বলতে যা বোঝায় তা নয়, কিন্তু কাজ চালানোর মতো জায়গা—নৌকা বা অন্য জলযান বেশ ভালোভাবে এখানে নোঙর করে, যাতায়াত করে। সুন্দর আবহাওয়া।

    প্রথম জাহাজঘাটার নাম অ্যাভালাইটস। আরব দেশের দূরত্ব এখান থেকে সবচেয়ে কাছাকাছি। এখানে যে মার্কেট টাউনটি আছে তার নামও অ্যাভেলাইটস, পৌঁছতে হয় নৌকা বা ভেলায় করে।

    এখানে আমদানি হয় বিভিন্ন ধরনের স্বচ্ছ কাচ, ডায়োসপোলিসের টক আঙুরের রস, বিচিত্র ধরনের পরনের কাপড়— বর্বরদের জন্য প্রস্তুত হয় যে কাপড়গুলো, আসে গম, সুরা আর অল্পসল্প টিন। এই জায়গা থেকেই রপ্তানি হয়, কখনো বর্বররা নিজেরা ভেলায় করে ওসিলিস (Ocelis) বা মুজা (Muza)-তে নিয়ে যায় মশলা, অল্প গজদন্ত, কচ্ছপের খোলা আর গন্ধদ্রব্য। মরিচ খুব অল্পই আসে, কিন্তু অল্প হলেও উৎকৃষ্ট, অন্যদের তুলনায়। এই দুটো জায়গা নদীর অপর পাড়ে। এই বর্বরজাতি যারা এখানে বসবাস করে, খুবই অসংযমী, নিয়মকানুনের ধার ধারে না।

    ৮. অ্যাভেলাইটস-এর পরে প্রায় আটশো স্ট্যাডিয়া জলপথে গেলে মালাও নামের আরেকটি বাজার শহর পড়বে, যেটি এর তুলনায় ভালো। এখানে জাহাজ নোঙর করায় জায়গাটি উপকূলের কাছে খোলামেলা জায়গায়, যেখানে লম্বা আর সংকীর্ণ স্থলভূমি সমুদ্রে গিয়ে মিশেছে, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া হলে তা থেকে বাঁচবার জন্য; পূর্বদিক থেকে এগিয়ে গেছে। এখানকার বাসিন্দারা কিন্তু তুলনায় অনেক বেশি শান্তিপ্রিয়— এখানে আমদানি হয় সমস্ত জিনিসপত্র, যার বিবরণ আমরা একটু আগে দিয়েছি, এছাড়া রোম্যানদের ব্যবহৃত পোষাক, আরসিনো থেকে আঙ্গরাখা, রঙিন কাপড়; এছাড়া পানপাত্র পাওয়া যায়, নরম তামা পাওয়া যায় অল্প পরিমাণ, লোহা এবং সোনা আর রুপোর মুদ্রাও পাওয়া যায়, তবে ওই অল্প পরিমাণে।

    এখান থেকে রপ্তানি হয় সুগন্ধী দ্রব্য, বিভিন্ন ধরনের দারচিনি, ভারতীয় ধূপ বা ধুনো—যা আরবে আমদানি হয়। আর পাওয়া যায় ক্রীতদাস, সংখ্যায় কম, খুবই কম ও কদাচিৎ।

    ৯. মালাও থেকে দু-তিনদিনের জলপথে এগোলে মুনডাস-র বাজার পাওয়া যাবে। বাজার ঘিরে শহর, এখানে একটি দ্বীপ সমুদ্রের মধ্যে প্রসারিত ছিল, দ্বীপটা মূল ভূখণ্ডের একেবারে কাছে। এই দ্বীপের আড়ালে জাহাজ নোঙর করত—এটা ঝড়ঝঞ্ঝা থেকে জাহাজকে বাঁচাতেও সাহায্য করতো।

    এখানেও আগে যে দ্রব্যগুলোর কথা বলেছি সেগুলো চালান দেওয়া হতো, আর রপ্তানির মালপত্রগুলোও প্রায় একইরকম। শুধু মক্রটু বলে সুগন্ধী ধূপও এখানে পাওয়া যায়।

    ১০. মুনডাস পেরিয়ে গেলে আরও পূর্বদিকে দুই থেকে তিন দিনের জলপথে এগোলে পৌঁছবে মোসিল্লাম। মোসিল্লাম একটা সৈকত, কিন্তু জাহাজ নোঙর করার জায়গাটা ভালো নয়। যদিও এখানে যে সমস্ত জিনিসপত্র আসে, তার সম্পর্কে আগেই বলা হয়েছে, রুপোর থালার মতো ফলক, খুব অল্প লোহা আর কাচ। কিন্তু অনেকটা পরিমাণে দারচিনি এখান থেকে চালান হয় (তার জন্য জাহাজের আকৃতি বা আকার বড় দরকার হয়, সেইরকম বড় জাহাজ এখানে লাগে), সুগন্ধী বৃক্ষনির্যাস, মশলা বিভিন্ন ধরনের, কচ্ছপের খোলা, মোক্রতু (তবে মুন্ডাসের তুলনায় নিরেশ), ধুনো-গুগগুল (এ প্রান্ত পর্যন্ত) হাতির দাঁত আর গন্ধদ্রব্য, অল্প পরিমাণ।

    ১১. মোসিল্লাম থেকে ওই একই দিকের তীরভূমি ধরে দু’দিন জাহাজ চালালে তুমি এসে পৌঁছবে ছোট নীল নদ বলে যে নদীকে ডাকা হয়ে থাকে তার কাছে, আর চমৎকার বসন্তের ছোঁয়া, জলপাই-এর কুঞ্জবন আর ‘হস্তী অন্তরীপে’ পৌঁছবে।

    এরপর তীরভূমি একটা উপসাগরে গিয়ে মিশেছে, একটা নদী এখানে আছে, নাম তার ‘হস্তী নদ’ আর আছে একটা বিশাল জলপাইবন—আকানাই, এই অঞ্চল থেকে সেরা মানের সুগন্ধি প্রচুর পরিমাণে তৈরি হয়।

    ১২. এরপরে, উপকূল দক্ষিণ দিকে এগিয়েছে, যেখানে মশলার বাজার আর অঞ্চলটাতেও মশলার প্রাধান্য (Cape of Spice)। শৈল অন্তরীপ—যেখানে হঠাৎ যেন একটা শিলা সমুদ্রের উপরে এগিয়ে গেছে, বর্বর উপকূলের শেষভাগে, পূর্বদিকে। কিন্তু জাহাজ নোঙর করা মাঝেমধ্যে বেশ কঠিন হয়ে পড়ে, ঝড় বা ভূমিকম্পের কারণে সমুদ্রের তরঙ্গ যখন ওঠানামা করে— কারণ উত্তরদিক খোলা।

    এখানে ঝড় যখন আসে, তখন খুব অদ্ভুত সংকেত দেয়, জল গভীরে ঘোলা হয়ে ওঠে আর রঙ পাল্টে যায়। তখন মানুষজন তাবেই (Tabae) শৈল অন্তরীপে ছুটে গিয়ে আশ্রয় নেয়। অন্তরীপটা তাদের পক্ষে সুরক্ষিত।

    এই অঞ্চলের বাজার ও গ্রামে যা পাওয়া যায় সেগুলো সব এখানে বিবরণ দেওয়া হয়েছে, এখানে বিভিন্ন ধরনের দারচিনি মেলে (যেমন জিজির, অ্যাসাইফা, আরেবো, মাগলা আর মোতো) আর পাওয়া যায় সুগন্ধী।

    ১৩. তাবেই পেরিয়ে গিয়ে, চারশো স্ট্যাডিয়া গেলে পানো নামে গ্রাম পড়ে। তারপর একটি পাথুরে অন্তরীপ চারশো স্ট্যাডিয়া আরও যেতে হবে, স্রোতের টানেই সেদিকে চলে যাবে, তাহলে ওপোন (Opone) বলে আরেকটি বাজার পাওয়া যাবে। আগে যেসব জিনিসপত্রের কথা বলা হয়েছে সেগুলো এখানে পাওয়া যায়, তবে বিশেষ করে (আরেবো আর মোতো-তে) প্রচুর পরিমাণে দারচিনি পাওয়া যায়। পাওয়া যায় ভালো ক্রীতদাস, তাদের মিশরে নিয়ে যাওয়া হয়, ভালো সংখ্যায়। কচ্ছপের খোলা পাওয়া যায় প্রচুর পরিমাণে, অন্যত্র যা পাওয়া যায় তার থেকে ভালো।

    ১৪. জুলাই মাসে, অর্থাৎ এপিফিতে, মিশর থেকে দূরবর্তী এই সব বাজারে যাতায়াত শুরু হয়। জাহাজগুলোও এই যাত্রার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবসার মালপত্র নিয়ে তৈরি হয়— সমুদ্রপথ ধরে যে সমস্ত জায়গা আছে ব্যবসার মালপত্র সেখানে পাওয়া যায়। আরিয়াকা থেকে বারিগাজা পর্যন্ত এই পথ ধরে তারা সংগ্রহ করে যে সব বস্তু, যা তারা ওই গ্রাম-শহরের বাজারে বিক্রি করতে পারে—যেসব জিনিসের চাহিদা আছে গম, চাল, ঘি, তিল তেল, সুতির কাপড় (মোনাচে এবং সাগমাতোজেনে), আর পেটি বা কটিবন্ধ এবং সাচ্চারি বলে যে মধু খাগড়া জাতীয় গাছ থেকে তৈরি হয়।

    কোনো জাহাজ একেবারে নির্দিষ্ট শহর-বাজারে বা গ্রাম-বাজারে আসে জিনিসপত্র নিয়ে, বিনিময়ে তাদের প্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে ফেরে। অন্যরা আবার তীর ধরে তাদের মাল বিনিময় করতে করতে এগোয়। এই দেশে কোনো একজন রাজা নেই, কিন্তু প্রত্যেক শহরে বা গ্রাম-বাজারে একজন করে প্রধান আছে, যার কথা সবাই মেনে চলে।

    ১৫. ওপোন পেরিয়ে, তটরেখা ধরে ক্রমশ দক্ষিণে এগোলে প্রথমেই চোখে পড়ে আজানিয়ার খাড়া আর দুরারোহ কূল, এই তীর বা তীরবর্তী অঞ্চলে বন্দর নেই, যদিও নোঙর করার জন্য জাহাজ দাঁড়াতে পারে; তার জায়গা ব্যবস্থা করে নিতে হয়। কূল খাড়া আর সোজা চলে গেছে; এটা ছ’দিনের যাত্রা, দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে। এর পর আসে ছোট বড় সমস্ত সমুদ্রতট; ছ’দিন এ পথে জাহাজ চলার পর জাহাজ আজানিয়ার পথে এসে পড়ে, যার প্রথম অংশ সারাপিয়ন, আর দ্বিতীয় ভাগ নিকন (Nicon); এর পর নানা নদী আর অন্যান্য ছোটখাট বন্দর, একের পর এক পাওয়া যাবে— প্রত্যহ কোনোটাতে থেমে, কোনোটা পেরিয়ে, সব মিলিয়ে সাত দিনের মতো রাস্তা পার করে পাইরালি (Pyralae) দ্বীপপুঞ্জে পৌঁছনো গেল— তারপর এই প্রণালী দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে অসানিটিক (Ausanitic)—একটু দক্ষিণ এর তীরবর্তী রেখা ধরে দিন আর রাতের মধ্যে দু-দুটো জলপথ পার হয়ে এসে পড়বে মেনুথিয়াস দ্বীপে। এটি প্রায় মূল ভূখণ্ড থেকে তিনশো স্ট্যাডিয়া দূরে, নিচু জায়গা আর বনজঙ্গলে পরিপূর্ণ, নদী এবং শাখানদী বয়ে যাচ্ছে, রয়েছে বিভিন্ন ধরনের পাখি আর পাহাড়ী কচ্ছপ।

    এখানে কুমীর ছাড়া অন্য বন্য জন্তু বাস করে না। কিন্তু কুমীররা মানুষকে আক্রমণ করে না। এখানে লোকজন দড়ি দিয়ে বাঁধা গাছের গুঁড়িতে করে অথবা মোটা গাছের কাণ্ড মাঝখানে ফাঁপা গর্ত করা ক্যানো-তে চেপে মাছ ধরে, কচ্ছপ ধরে। এই দ্বীপে, এক মজার পদ্ধতিতে তারা এসব ধরে থাকে, কঞ্চির তৈরি চুপড়ি বেঁধে রাখে স্রোতের মুখে— সেখানে এসে মাছ বা কচ্ছপ আটকে যায়।

    ১৬. আরও দু’দিন জলপথে এগোলে, আজানিয়ার মূল ভূখণ্ডের শেষ বাজার-শহরে পৌঁছবে, যার নাম রাপতা (Rhapta)। রাপতা নামটা এসেছে বোনা নৌকা বা দড়ি দিয়ে বাঁধা নৌকা (rhapton ploiarion) থেকে। এই জায়গায় প্রচুর পরিমাণে হাতির দাঁত আর কচ্ছপের খোলা পাওয়া যায়।

    এখানে বিশাল আকৃতির মানুষরা বাস করে, তাদের প্রকৃতি দস্যুসুলভ, এদের আলাদা আলাদা সর্দার আছে প্রতিটি অঞ্চলে। ম্যাফারিটিয় সর্দার এখানে শাসনকার্য চালান, কোনো প্রাচীন ক্ষমতাবলে, যেটি আরবের প্রথম সার্বভৌম রাজ্য হিসাবে চিহ্নিত হয়ে থাকে। এখন মুজা অঞ্চলের লোকজন তাদের কর্তৃত্বে এখানে কাজকর্ম চালায়, বড় জাহাজও লোকে এখানে পাঠায়, সে সব জাহাজে আরব ক্যাপ্টেন বা পোতাধ্যক্ষ আর এজেন্ট বা প্রতিনিধিদের পাঠানো হয়, যারা স্থানীয় মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করতে পারে, পুরো তটরেখা চেনে, স্থানীয় ভাষা বোঝে, এমনকি স্থানীয় মহিলাদের সঙ্গে তাদের বিয়ে-সাদী হয়ে থাকে।

    ১৭. এই বাজারে মুজা-তে তৈরি অস্ত্রশস্ত্র আমদানি করা হয়। বর্শা, ভারি ছোরা, ছুরি আর তুরপুনের মতো চামড়া বা কাঠ ফুটো করার অস্ত্র ছাড়া আসে বিভিন্ন রকমের কাচ; কোনো কোনো জায়গায় অল্পসল্প মদ, গমও পাওয়া যায়, তবে ব্যবসার জন্য নয়; এলাকার রুক্ষ, বর্বর মানুষদের খাইয়ে-দাইয়ে তাদের মন পাওয়ার জন্য। এখান থেকে রপ্তানি হয় অনেকটা পরিমাণ হাতির দাঁত, যদিও আদুলিতে যা পাওয়া যায় তার তুলনায় নিরেস, পাওয়া যায় গণ্ডারের খড়গ আর কচ্ছপের খোলা (এ জিনিসগুলোর চাহিদা খুব, যদিও ভারতবর্ষে এই জিনিস যা পাওয়া যায়, তার তুলনায় কম।) আর পাওয়া যায় অল্প তালজাতীয় গাছের তেল বা পাম অয়েল।

    ১৮. আজানিয়ার এই বাজারগুলো, বেরেনাইস থেকে ডান দিকে যে ভূখণ্ডের অংশ বিস্তৃত হয়েছে তার একদম শেষ প্রান্তে; কারণ এর পরে অজানা দিকচিহ্নহীন সমুদ্র, পশ্চিমের দিকে বেঁকে গেছে। ইথিওপিয়া, লিবিয়া আর আফ্রিকার দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে সমুদ্রের সঙ্গে গিয়ে মিলিত হয়েছে।

    ১৯. এবার বেরেনাইসের বাঁ দিকে, মুসেল হারবার (মুক্তা বন্দর) থেকে দু-তিন দিনের জলপথ অতিক্রম করলে, পূর্বদিকে যেতে হবে বন্দরের সন্নিহিত উপসাগর ধরে— আরেকটি বন্দর পাওয়া যাবে—সেটি সুরক্ষিত নাম শ্বেতগ্রাম (White Village), সেখান থেকে রাস্তা চলে গেছে পেট্রা-র দিকে। পেট্রা মালিচাদের অধীনে নবোটিআনদের রাজা দেখাশোনা করেন— আরব থেকে যে সমস্ত ছোট জাহাজগুলো আসে, এই জায়গা তাদের শহর- বাজার হিসাবে ব্যবহৃত হয়। সেজন্য একশত সৈন্যের একজন দলপতি বা অধিনায়ক এখানে নিযুক্ত থাকে। যে সমস্ত মালপত্র এখান থেকে আমদানি করা হয়, তার চার ভাগের এক ভাগ এরা সংগ্রহ করে—ঐ সশস্ত্র সেনা থাকে তার জন্য।

    ২০. ঠিক এখানকার নিচ দিয়ে গেছে আরব দেশের সংলগ্ন অঞ্চল, ইরিথ্রিয় সাগরের তীরবর্তী সুদীর্ঘ অংশ। বিভিন্ন উপজাতি ঐসব দেশে বসবাস করে, তাদের ভাষা ভিন্ন ভিন্ন, কেউ অল্পসল্প আলাদা আলাদা ভাষা ব্যবহার করে, কেউ আবার পুরো অন্য ভাষায় কথা বলে। ঐরকম সমুদ্রের ধার দিয়ে, যে জায়গা চলে গেছে তার গায়ে ছোট ছোট বিন্দুর মতো মৎস্যাশীদের গুহা এখানে সেখানে দেখতে পাওয়া যায়, কিন্তু দেশের অভ্যন্তরে সব বদমাশ লোকজন থাকে, যারা সাধারণত দুটো ভাষায় কথা বলে, তারা গ্রামে বাস করে, অনেকে যাযাবর জীবনযাপন করে—এই লোকগুলো মাঝদরিয়ায় ডাকাতি করে, আর যে সব নাবিক বা লোকজন জাহাজডুবি হলে পাড়ে এসে ওঠে তাদের ‘দাস’ করে রাখে। তারা আরবের রাজা আর সর্দারদের কারাগারে বন্দী হয়, তাদের বলে কারনাইট।

    আরবের এই তীরবর্তী অঞ্চলে পথ চিনে-বুঝে জাহাজ চালানো খুব বিপজ্জনক কাজ। বন্দর নেই, নোঙর ফেলার উপযুক্ত জায়গা নেই, ঝোড়ো আবহাওয়া, পাথর আর অবিরাম ঢেউ এসে পড়ছে আর ভাঙছে—সব দিক দিয়েই ভয়ঙ্কর। তাই আমরা এই পথটুকু উপসাগরের মাঝখান দিয়ে পার হওয়ার চেষ্টা করি, যতক্ষণ পর্যন্ত বার্নট দ্বীপে এসে না পৌঁছোই। এর ঠিক পরে বাস করে শান্ত প্রকৃতির মানুষ বা যাযাবররা, আর চারণক্ষেত্রে যারা গরু-মোষ-ছাগল-ভেড়া অথবা উট চরিয়ে বেড়ায়।

    ২১. এই সব জায়গা পেরিয়ে এসে উপসাগরের শেষপ্রান্তে যে জলভাগ, তার বামদিকে যে স্থলভাগ আছে সেখানে একটি মার্কেট-টাউন বা শহর-বাজার আছে। নাম মুজা। আইন মোতাবেক তৈরি। বেরেনিস থেকে দক্ষিণে প্রায় বারো হাজার স্ট্যাডিয়া দূরে। এই পুরো অঞ্চল জুড়ে জাহাজের সব আরব মালিকেরা; নাবিক আর সমুদ্রগামী মানুষের দল; তারা শুধু ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়েই ব্যস্ত, কারণ তারা সুদূর তীরভূমি আর বারিগাজাতে এই জাহাজগুলো ব্যবসার প্রয়োজনে পাঠায়।

    ২২. এই বন্দর থেকে তিনদিন ভিতরে ঢুকলে পরে, একটা নগর পড়বে সাউয়া (Saua) এই নগর মেফারিটিস অঞ্চলের মাঝখানে; সেখানে যে সামন্তপ্রভু বাস করেন তার নাম চোলাবাস (cholabus)।

    ২৩. তারপরে আরও ন’দিন যাত্রা করে সেফার বা স্যাপলিয়র (Sapliar) পৌঁছনো যায়। স্যাপলিয়র একটা বড় শহর (Metropolis), এখানে পাশাপাশি যে দুটো উপজাতি বাস করে হোমারাইটস আর স্যাবাইটস তাদের যে অধিপতি বা রাজা চ্যারিবায়েল (Charibael), [আইনসম্মত বা বৈধ রাজা] বিধি-নিয়ম মেনেই তিনি রাজা হয়েছেন। তিনি নিরন্তর দৌত্য করে আর উপহার পাঠিয়ে সম্রাটদের সঙ্গে বন্ধুত্ব স্থাপন করেছেন।

    ২৪. মুজা নামে যে বাজার শহরের কথা বলেছি, সেখানে কোনো বন্দর নেই, কিন্তু ভালো রাস্তা আছে পাড় পর্যন্ত, আর নোঙর ফেলার জায়গাও আছে, কারণ জলের নিচে পাড়ের কাছাকাছি বালি ভর্তি, সেখানে নোঙর ভালোভাবে ফেলা যায়।

    যে মালপত্র এখানে আমদানি করা হয় তার মধ্যে রক্তাভ বর্ণের কাপড়, মিহি ও মোটা দুই-ই; আরবী রীতির বা ধরনের কাপড়—জামায় হাতা দেওয়া আছে, কোনো কাপড় সাদামাটা, কোনোটা সুন্দর সেলাই করে ডিজাইন করা, এমনকি কাপড়ের মধ্যে সোনার কারুকাজ করাও পাওয়া যায়, পাওয়া যায় জাফরানি ম্যাপল গাছের মধুর নির্যাস, মসলিনের কাপড়, ক্লোক গাছের ঢিলে আঙরাখা। কম্বল (বেশি নয় অল্প পরিমাণ), কিছু সাধারণ কিছু স্থানীয় নকসা অনুসারে তৈরি বিভিন্ন রঙের পাগড়ীর কাপড়, উত্তরীয়; সুবাসিত মলম পাওয়া যায় মাঝারি পরিমাণে, আর পাওয়া যায় গম আর সুরা, যদিও খুব বেশি পরিমাণে নয়। এদেশে মোটামুটি ভালো শস্য জন্মায় আর ভালো সুরা পাওয়া যায়। রাজা আর সর্দারকে ঘোড়া আর ভারবহন করার জন্য খচ্চর দেওয়া হয়, সোনার আর রুপোর পাত্র, মিহি করে বুনে তৈরি কাপড় আর তামার পাত্র দেওয়া হয়। রপ্তানি করা হয় এদেশে তৈরি জিনিসপত্র— কিছু বাছাই করা মস্তগি, গ্যাবেনাইট মিনিয়ান সুগন্ধী, শুভ্র আর মসৃণ স্ফটিক অ্যালাবেস্টার, এছাড়া বাকি যা কিছু অ্যাভেলাইটস আর দূরের তীরবর্তী অঞ্চলের বিবরণে বলা হয়েছে সে সমস্ত বস্তু ও উপকরণ। এখানে যাত্রা করার সেরা সময় হল সেপ্টেম্বর মাস, অর্থাৎ থথ; কিন্তু আগে যাত্রা করতে কোনো অসুবিধা নেই। কেউ বাধা দেবে না।

    ২৫. এই পথে আরও তিনশো ষ্ট্যাডিয়া এগোলে, আরব-এর তীরভূমি আর বর্বরদের দেশ, যা অ্যাভেলাইট উপসাগরের কাছে, তারা নিকটে চলে আসে; এখানে একটা প্রণালী বা জলখাত আছে, খুব বড় বিস্তার নেই তার, কিন্তু সাগর এই প্রণালীর জন্য সংকীর্ণ রূপ নিয়েছে, এই জলপ্রণালীর পথ ধরে ষাট ষ্ট্যাডিয়া দৈর্ঘ্যে— ডাইয়োডরাস দ্বীপ ভাগ করেছে।

    সুতরাং যে তীব্র স্রোত আর ঝোড়ো হাওয়া এই জলধারার উপর দিয়ে বয়ে চলেছে সেটা পাশের পর্বতশ্রেণীর ফাঁক দিয়ে যে হাওয়া নিরন্তর বয়ে আসছে তার কারণে হয়।

    এই প্রণালীর ঠিক উপরের দিকে, তীরের কাছে একটি আরব গ্রাম আছে, একই সর্দার— গ্রামের নাম ওসেলিস। এটা বাজার হিসাবে খুব গুরুত্বপূর্ণ নয়। যতটা গুরুত্ব পায় নোঙর ফেলার জন্য, জলের ব্যবস্থা করার জন্যে, অবশ্যই সমুদ্রের জল নয়, মিষ্টি জল। তাছাড়া যারা উপসাগরে যাত্রা করবে তাদের প্রথম জাহাজঘাটা এটা।

    ২৬. ওসেলিস পেরিয়ে এসে সমুদ্র আবার বিস্তৃত ও চওড়া হতে শুরু করেছে, দেখতে দেখতে পুরো সমুদ্রে পরিণত হয়েছে। বারোশো ষ্ট্যাডিয়া দূরে একটা তীরবর্তী গ্রাম—ইউডেমন অ্যারাবিয়া, রাজা চ্যারিবেল-এর রাজত্বের মধ্যে; এখানে ভালো নোঙরের জায়গা আছে আর ওসেলিসের তুলনায় ভালো মিঠে জল এখানে পাওয়া যায়। একটি উপসাগরের মুখে এই জায়গার অবস্থান, আর স্থলভূমি এখান থেকে ভিতরের দিকে সরে গেছে। এটাকে ইউডেমন (Eudeamon) বলা হয়, কারণ প্রাচীনকালে যখন ভারত থেকে মিশর পর্যন্ত জাহাজ এখানে চালু ছিল না এবং যখন জাহাজ মিশর থেকে এই সমুদ্র পার হয়ে বিভিন্ন বন্দরে যেতে সাহস করত না কিন্তু সবাই এখানে আসত, কারণ এখানে উভয় দেশের মালপত্র ও যেমন এখন আলেকজান্দ্রিয়া, মিশর আর বাইরের অন্যান্য দেশ থেকে আসা মালপত্র গ্রহণ করত। যদিও চেরিবেইল কিছুদিনের মধ্যেই এই জায়গা ভেঙে দিয়েছে।

    ২৭. ইউডেমন অ্যারাবিয়ার পরে লম্বা একটা ধারাবাহিক তীর চলে গেছে, আর একটা উপসাগর প্রায় দু’হাজার ষ্ট্যাডিয়ার অধিক জুড়ে, যেখানে যাযাবর আর মৎস্যভক্ষী মানুষ থাকে। তারা গ্রামগুলোয় থাকে। এই উপসাগর থেকে যে অন্তরীপ প্রসারিত হয়েছে, সেটা পেরিয়েই আরেকটা বাজার পড়ে— বাজারটা সমুদ্রের পাড়ে, কানা (Cana) নামের ওই বাজার এলিয়াজাস (Eleazus) রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত, যাকে সুগন্ধী বা ধুনো গুগ্গুলের দেশ বলা হয়।

    তার সামনে দু-দুটো মরুদ্বীপ আছে, কানা (cana) থেকে একশো কুড়ি ষ্ট্যাডিয়া দূরে— একটাকে বলে পাখিদের দ্বীপ, অন্যটা গম্বুজ দ্বীপ বা ডোম আইল্যান্ড।

    এখান থেকে স্থলপথে দেশের মধ্যে গেলে সাব্বাথা মহানগরীতে গিয়ে পড়বে, সেখানে রাজা বাস করেন।

    সারা রাজ্যে যেখানে যত সুগন্ধী, গাছের নির্যাস থেকে বা অন্য উপায়ে তৈরি হয়, সে সব এখানে উটের পিঠে করে এনে জমা করা হয়, নৌকায় অথবা চামড়া দিয়ে তৈরি জলযানে, যা একেবারেই এখানকার ধারা, এই গন্ধদ্রব্য এসে জমা হয়।

    আর এই জায়গাটির ব্যবসা চলে দূরবর্তী বন্দরগুলোর সঙ্গে, বারিগাজা, সিথিয়া আর ওম্মানার সঙ্গে আর প্রতিবেশী পারস্যের তীরভূমিতে।

    ২৮. মিশর থেকে অল্প গম আর সুরা এখানে আসে মুজা-তে, আরব প্রথায় যে কাপড় তৈরি হয় তাও আসে, তবে একেবারেই সাধারণ বস্ত্র, বেশির ভাগই ভেজাল পণ্য; তামা, টিন, প্রবাল আর শিলারস যা মুজা-তে যায়। রাজার জন্য সাধারণত পেটাই সোনা বা রুপোর থালা, তাছাড়া ঘোড়া, প্রতিকৃতি বা সূক্ষ্ম কাপড় দেওয়া হয়।

    এখান থেকে পাঠানো হয় স্থানীয় জিনিস বা যা এখানে তৈরি হয়— গাছের নির্যাস থেকে তৈরি সুগন্ধী, ঘৃতকুমারী, আর বাকি যা কিছু অন্যান্য বন্দরে লেনদেন করা যায়।

    এখানে যাত্রা করার সমসময়ে মুজাতেও ব্যবসার জন্য আসা যায়, অথবা আগেও আসা যায়।

    ২৯. কানা পেরিয়ে, স্থল পিছিয়ে গেছে অনেকটা। সেখানে একটা গভীর উপসাগরের বিশাল বিস্তার চোখে পড়ে, নাম সেচালাইটস। আর সুগন্ধী গাছের দেশ, পাহাড়ী অঞ্চল আর যাওয়ার জন্য অত্যন্ত অসুবিধার জায়গা সেটা, ঘন মেঘ আর কুয়াশায় ঢাকা, আর সেখানে গাছের গা থেকে সুগন্ধী পড়ে ফোঁটা ফোঁটা।

    এই সুগন্ধী গাছ বিশাল উঁচু বা মোটা হয় না, গাছের ছালে ফোঁটা ফোঁটা সুগন্ধী পদার্থ লেগে থাকে, যেমন মিশরে আমাদের গাছের আঠা ঝরে থাকে।

    সুগন্ধী আহরণ করতে রাজা ভৃত্যদের নিয়োগ করে আর যারা বিভিন্ন অপরাধে শাস্তি পেয়েছে, তাদের এ কাজে পাঠানো হয়।

    কারণ যেখানে এ গাছ জন্মায় সেটা অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর আর ঘাতক পরিবেশে। এমনকি যারা সমুদ্রে তীর ধরে জাহাজ নিয়ে ঘোরে তাদের থেকেও মারাত্মক এই পরিবেশ। সবসময় এখানে যারা যায় তাদের পক্ষে চরম বিপদের, আর প্রায়ই তারা খাদ্যের অভাবে মারা যায়।

    ৩০. উপসাগরের উপরে একটা বড় শৈলশিরা সমুদ্র থেকে অনেকটা ঠেলে পুবের দিকে বেরিয়ে আছে, নাম সাইয়াগরাস (Syagrus); এই সাইয়াগরাসের উপরে একটা কেল্লা বা দুর্গ আছে দেশের প্রতিরক্ষার জন্য। একটা বন্দর আর আড়ত আছে—আড়তে সুগন্ধী জমা করে থাকে। এই অন্তরীপের অপর দিকে, সমুদ্রের মাঝখানে একটা দ্বীপ আছে, ‘মশলা অন্তরীপের’ উল্টোদিকে আর দ্বীপের মাঝে, কিন্তু সায়াগ্রাসের কাছাকাছি— ডায়োসকোরিডা বলে ডাকে লোকজন জায়গাটাকে, বেশ বড় জায়গা, মরুভূমি আর জলাতে পূর্ণ, নদীও আছে একাধিক, আর তাতে কুমীর, সাপ আর বড় গিরগিটির দল ঘুরে বেড়ায়। তাদের মেরে অধিবাসীরা মাংস খায় আর চর্বি দিয়ে অলিভ তেলের পরিবর্তে গলিয়ে কাজে লাগায়। দ্বীপে কোনো ফল, আঙুরলতা বা অন্য কোনো লতা অথবা শস্য জন্মায় না। বাস করে অল্প মানুষ, সেটা উত্তরের দিকে তীরবর্তী অঞ্চলে; সেখান থেকে মহাদেশ মুখোমুখি দেখা যায়।

    এখানে বিদেশি মানুষ আসে— আরব, ভারতীয় আর গ্রীকরা মিলেমিশে ব্যবসা করতে আসে এখানে। এই দ্বীপে সত্যিকারের সামুদ্রিক কচ্ছপ পাওয়া যায়, পাওয়া যায় স্থলে ঘুরে বেড়ানো কচ্ছপ আর পাওয়া যায় শ্বেতকচ্ছপ। এদের চাহিদা প্রচুর পরিমাণে আর পছন্দসই তাদের বড় খোলের জন্য। এবং পাহাড়ী কচ্ছপ, এদের মধ্যে সবচেয়ে বড় আর এদের খোলা সবচেয়ে পুরু। এদের মধ্যে সবচেয়ে নিরেশ যেগুলো তাদের খোলা কেটে আলাদা করা যায় না, নিচের অংশও এত শক্ত যে তা করা সম্ভব নয়।

    কিন্তু যেগুলোর খোলা কাটা সম্ভব সেগুলো দিয়ে বাক্স, ছোট প্লেট আর কেক রাখার থালা বা ওই ধরনের জিনিস তৈরি হয়।

    এই দ্বীপে গাছের থেকে বিন্দু বিন্দু করে রক্তবর্ণ হিঙ্গুল বা সিন্দুর পাওয়া যায়, একে ভারতীয় হিঙ্গুল বলা হয়।

    ৩১. আজানিয়া যেমন চ্যারিবেল-এর অধীনে আর মাফারিটিসের প্রধান অঞ্চল, তেমনই এই দ্বীপ হল ‘সুগন্ধী দেশ’-এর রাজার অধীনে। মুজা থেকে কিছু মানুষ এখানে ব্যাবসা করতে আসে আর ডামিরিকা কি বারিগাজা থেকেও যাত্রাপথে কখনো-সখনো কেউ এসে পড়ে। তারা সঙ্গে নিয়ে আসে চাল,গম, আর ভারতীয় কাপড়,আর নিয়ে আসে কিছু মেয়ে, তারা সব দাসী। পরিবর্তে তারা নেয় কচ্ছপের খোলা, অনেকটা পরিমাণ। এখন এই দ্বীপ রাজার আয়ত্তাধীন আর এখানে সৈন্য আছে।

    ৩২. সাইয়াগ্রাসের (Syagrus) ঠিক পরে ওমানা উপসাগর এসে পাড়ের ভিতরে গভীরভাবে ঢুকে পড়েছে, চওড়ায় প্রায় ছ’শো ষ্ট্যাডিয়া জুড়ে। পিছনে পাহাড়ের শ্রেণী, পাহাড়গুলো উঁচু, পাথুরে গাছপালা নেই আর খাড়া; এখানে গুহাবাসী লোকজন বসবাস করে আরও প্রায় পাঁচশো ষ্ট্যাডিয়া জুড়ে। পিছনে পাহাড়ের শ্রেণী, পাহাড়গুলো উঁচু, পাথুরে গাছপালা নেই আর খাড়া; এখানে গুহাবাসী লোকজন বসবাস করে আরও প্রায় পাঁচশো ষ্ট্যাডিয়া জুড়ে। তারপর একটা বন্দর আছে যেখানে স্যাচেলিটিক (Sachalitic) সুগন্ধী আসে, বন্দরের নাম মোসচা (Moscha), এই বন্দরে কানা (Cana) থেকে নিয়মিত জাহাজ আসে। আর ডামিরিকা (Damirica) ও বারিগাজা (Barygaza) থেকে ফেরে, আর যদি দেরি হয়— শীত পড়ে যায়, রাজার লোকজনের সঙ্গে পণ্য আদানপ্রদান চলে— কাপড়, গম আর তিলতেলের বদলে পায় সুগন্ধী ওষধি, এই সুগন্ধী স্যাচালিটিক দেশে স্তূপীকৃত হয়ে পড়ে থাকে। খোলামেলা আর কোনো প্রহরা থাকে না, মনে হয় জায়গাটা ঈশ্বর রক্ষা করছেন—কারণ ঐ স্তূপ থেকে আহরণ করে বা চুরি করে ওই ওষধি জাহাজে তোলা সম্ভব নয়—রাজার অনুমতি ছাড়া একটি শস্যও জাহাজে উঠবে না—তাহলে জাহাজ আর বন্দর ছাড়তে পারবে না, ওখানেই থেকে যাবে।

    ৩৩. মোসচা (Moscha) বন্দর থেকে প্রায় পনেরোশো ষ্ট্যাডিয়া পেরিয়ে আসিচ (Asich) এর কাছে একটি পর্বতশ্রেণী সমুদ্রের তীর ধরে চলে গেছে। পাহাড়ের সারি শেষ হলে পর পর সারিবদ্ধভাবে সাতটা দ্বীপ আছে, যাদের বলে জেনোবিয়ান (Zenobian); এর পরে আছে একটা বর্বরদের অঞ্চল, যেটা এই রাজ্যের মধ্যে নয়, কিন্তু পারস্যের অন্তর্গত।

    এবার সোজা তীর বরাবর জাহাজ প্রায় দু’ হাজার ষ্ট্যাডিয়া জেনোবিয়ান দ্বীপপুঞ্জ ছেড়ে এগোলে, সত্রাপিস (Satrapis) বলে একটা দ্বীপ পড়ে, যা মূল ভূখণ্ড থেকে একশো কুড়ি ষ্ট্যাডিয়া দূরে।

    দ্বীপটা দুশো ষ্ট্যাডিয়া প্রশস্ত, আর লম্বায় ছ’শো ষ্ট্যাডিয়া—এখানে মৎস্যাশী মানুষ তিনটে বসতিতে বাস করে— এরা আরবের ভাষা ব্যবহার করে আর তালপাতার কোমরবন্ধ ব্যবহার করে।

    এই দ্বীপে ভালোজাতের কচ্ছপের খোলা পাওয়া যায়। ছোট ছোট মাল নিয়ে যাওয়ার নৌকা আর পণ্যের জাহাজও কানা থেকে নিয়মিত আসে।

    ৩৪. তীর ধরে এগোলে, উত্তরদিকে পারস্য সাগরে ঢোকার পথে, অনেক দ্বীপ পড়বে। যারা কালাই (Calaei) বলে পরিচিত। প্রায় দু’হাজার ষ্ট্যাডিয়া পেরিয়ে এসে, তীরবর্তী সাগরের মধ্যে ব্যাপ্ত। অধিবাসীরা অল্পই সভ্য, বিশ্বাসঘাতক ও অধার্মিক।

    ৩৫. কালাই দ্বীপপুঞ্জের উপরের প্রান্তে এক পাহাড়ের সারি আছে, নাম কেলোন (Calon), পারস্য উপসাগরের মুখ সেখান থেকে দূরে নয়, ওই মুখের কাছে ঝিনুক তোলার রীতি আছে, যে ঝিনুক থেকে মুক্তো পাওয়া যায়। উপসাগরের বাঁ দিকে আসাবন নামে বড় পাহাড়শ্রেণী আছে আর ডানদিকে সেমিরামিস বলে আরেকটি পাহাড় দেখা যায় চক্রাকৃতি এবং উঁচু। পাহাড়ের মাঝখানে প্রায় ছ’শো ষ্ট্যাডিয়া পথ। তারপরে বিশাল প্রশস্ত সমুদ্র; পারস্য উপসাগর ভিতরের দিকে অনেকটা ঢুকে এসেছে।

    এই উপসাগরের উপরের প্রান্তে একটা বাজার (market town) আছে, নাম ক্র্যাপোলোগাস, এটি আইনের দ্বারা নির্ধারিত বাজার, ইউফ্রেটিস নদ আর চারাক্স স্পেসিনি বন্দরের মাঝে।

    ৩৬. উপসাগরের মুখ থেকে ছ’দিনের পথ জাহাজে পাড়ি দিয়ে এসে পৌঁছনো যায় পারস্যের আর একটা বাজার-শহরে, নাম ওম্মানা। বারিগাজা থেকে এই দুটো বাজারে নিয়মিত বড় জাহাজ এসে থাকে— তামা, চন্দনকাঠ, সেগুন কাঠের গুঁড়ি, কালো কাঠ আর আবলুস কাঠ।

    ওম্মানা-তে সুগন্ধী ওষধি আনা হয় ‘কানা’ থেকে, আর ওম্মানা থেকে আরবে যায়, স্থানীয় নিয়ম অনুযায়ী সেলাই করে জোড় দিয়ে তৈরি নৌকোয়, এগুলোকে ‘মাদারাতা’ বলে। এইসব বাজার থেকে বারিগাজা আর আরবে অনেক মুক্তো চালান করা হয়, যদিও ভারতীয় মুক্তোর তুলনায় নিরেশ। এছাড়া পাওয়া যায় স্থানীয় ফ্যাশন অনুযায়ী রক্তবর্ণের কাপড়, সুরা বা মদ, খেজুর, প্রচুর পরিমাণ সোনা এবং ক্রীতদাস।

    ৩৭. ওম্মানা পেরিয়ে পারসিডাই-দের একটা দেশ আছে, অন্য রাজত্বের অধীনে, আর গেড্রোসিয়া উপসাগরের মাঝখান দিয়ে একটা ভূখণ্ড বা অন্তরীপ বেরিয়ে সমুদ্রের মাঝে এসে পড়েছে।

    এখানে একটা নদী আছে, যেখান দিয়ে জাহাজ চলাচল করতে পারে, মুখ এতটাই প্রশস্ত— সেখানে একটা ছোট নগর-বাজার আছে, নাম ওরিয়া (Oraea)। আর সেখান থেকে পিছিয়ে এসে প্রায় সাতদিন সমুদ্র যাত্রা করলে ভিতরে স্থলভূমিতে একম রাজসভা দেখতে পাওয়া যায়। এর নাম— সম্ভবত রামবেসিয়া। এদেশে গম, মদ, চাল আর খেজুর ভালোই উৎপন্ন হয়; কিন্তু তীরে এসে পৌঁছলে, তীর বরাবর শুধু গুগ্গুলের গাছ চোখে পড়ে।

    ৩৮. এই অঞ্চল অতিক্রম করে, ‘মহাদেশ’ যেখানে এক বড় বাঁক নিয়ে, পুবদিক থেকে উপসাগরের মধ্যে প্রবেশ করেছে, সেখানে আছে তীর-সংলগ্ন জেলা স্কাইথিয়া বা সিথিয়া, জলাজমিতে পূর্ণ অঞ্চল উত্তরদিকের উপরিভাগে অবস্থিত; এখান থেকে সিনথাস নদী নিচে প্রবাহিত হয়েছে— ইরিথ্রিয় সাগরে গিয়ে যে সমস্ত নদী মিশেছে তার মধ্যে সিনথাস সর্ববৃহৎ— এখান থেকে প্রচুর জল গিয়ে সমুদ্রে পড়ে। ফলে অনেকটা লম্বা পথ জুড়ে, এই দেশে পৌঁছবার আগেই, সমুদ্রের জল পরিষ্কার থাকে।

    এখানে দেশে পৌঁছবার আগে সমুদ্রে সরীসৃপ দেখা যায়, এটা সাগর যে স্থলে পৌঁছেচে তার ইঙ্গিত; গভীর সমুদ্র থেকে এই সাপ জাতীয় সরীসৃপ উঠে আসে। আর তাছাড়া আর একটা চিহ্ন হল এখানে বা পারস্যতে— জঙ্গলের বিস্তার ও রুক্ষ জমি।

    এই নদীর সাতটা মুখ—প্রত্যেকটা সংকীর্ণ আর জলাভূমিতে আকীর্ণ, একমাত্র মাঝখানে সে মুখটা আছে সেটা ছাড়া—বাকিগুলোতে জাহাজ ঢোকে না। একমাত্র মাঝের স্রোতমুখের তীরে একটা বাজার শহর আছে—বারবারিকাম। তার আগে একটা দ্বীপ আছে, আর তার পিছনে জমির স্কাইথিয় নগর, মিন্নাগারা; পার্থিয়ান রাজপুত্রদের রাজত্ব, প্রতিনিয়ত তারা একজনকে তাড়িয়ে অন্য একজন রাজত্ব চালায়।

    ৩৯. সমস্ত জাহাজ বারবারিকামে নোঙর করা থাকে, কিন্তু তাদের বাণিজ্যের পসরা সবই নগরে বা রাজধানীতে রাজার কাছে যায়, জলপথ ধরে।

    আমদানি হয় এই বাজারে মিহি সুতোর কাপড়, অনেকটা পরিমাণে কিন্তু অল্প ভেজাল থাকে, পুরোটা খাঁটি বা অকৃত্রিম নয়; লিনেন বা পট্টবস্ত্র, পোখরাজ, প্রবাল, স্টোর্যাক্স বা শিলারস, ওষধি বা ফ্যাঙ্কিনসেন্স, কাঁচের পাত্র, সোনা আর রুপোর থালা, আর অল্প সুরা।

    অন্যদিকে রপ্তানি হয় বাঁশ বা সুগন্ধী রেসিন, কোসটাস বা গাছের শিকড় থেকে নিষ্কাশিত ওষধির তেল, লিসিয়াম উদ্ভিদ ও ফুল, ল্যাপিস লাজুলি, সেরিক স্কিন বা পশু অথবা উদ্ভিদের চামড়া বা আবরণ, সুতির কাপড়, সিল্ক বা রেশমের তন্তু আর নীল।

    নাবিকরা এরপর ফেরার পথ ধরে জুলাই মাসে, যাকে এপিফি বলে। ভারত থেকে বয়ে আসা হাওয়ায় পাল তুলে। ওই পথ এই সময়ে বিপজ্জনক বটে, কিন্তু হাওয়ার টানে সোজাসুজি চলে জাহাজ, আর তাড়াতাড়ি যাত্রা শেষ হয়।

    ৪০. সিনথাস নদ পেরিয়ে আর একটি উপসাগর পাওয়া যায়, তবে সে পথে জাহাজ চলে না, উত্তরের দিকে প্রবাহিত, নাম এইরিনন (Eirinon); এর দুটি ভাগ করে নাম দেওয়া হয়েছে ছোট উপসাগর আর বড় উপসাগর; দুটো ভাগেই জল অগভীর, বালির চর জেগে ওঠে এখানে-ওখানে মাঝেমধ্যে, আর সৈকত অনেকটা দূরে— ফলে যখন সৈকত বা সমুদ্রের পাড় দেখা যায় না, তখনও জাহাজ সমুদ্রের নিচে ঠেকে যায়, এতটাই সমুদ্র অগভীর। আর জাহাজ যদি তারপরও ওই পথেই এগোবার চেষ্টা করে তাহলে জাহাজ ভেঙ্গে ডুবে যায়। এই উপসাগর থেকে একটা পাথুরে অন্তরীপ বা বড় সৈকতাংশ বেরিয়ে এইরিনন থেকে বেঁকে পুবদিকে, তারপর দক্ষিণে, তারপর পশ্চিমে গিয়ে বারাকা (Baraca) উপসাগর ঘিরে রয়েছে, যেখানে সাত সাতটা দ্বীপ আছে। যারা এই উপসাগরে ঢোকার মুখে এসে দাঁড়ায়, তারা সমুদ্রের স্রোত এড়িয়ে বেঁচে যায় বটে, কিন্তু যে সমস্ত জাহাজ বারাকা (Baraca) উপসাগরে ঢুকে পড়ে, তারা ধ্বংস হয়। এখানে ঢেউ প্রচণ্ড, যেমন উঁচু তেমনি তীব্র ও ভয়ঙ্কর। জল এখানে প্রচণ্ড পাক খেয়ে ঘুরছে, ঘূর্ণাবর্ত আর প্রতিকূল স্রোতে জাহাজ পড়লে রক্ষা নেই। সাগরের তলা অসংলগ্ন উঁচু-নীচু, কোনো কোনো জায়গায় পাথুরে আর তীক্ষ্ন, এমনই তার ধরন যে নোঙর করলে ছিঁড়ে যায়, নিচের পাথরে ঘষা খেয়ে খুব দ্রুত এটা হয়। এই অঞ্চলে সমুদ্র থেকে যারা আসে তারা এখানে খুব লম্বা আর কৃষ্ণবর্ণের সাপ দেখতে পায়। অবশ্য অন্য জায়গায় যেমন, এই তটভূমির অন্যত্র আর বারিগাজার চারপাশে বা কাছাকাছি, সাপগুলো ছোট, উজ্জ্বল সবুজ রঙের, আর গায়ে সোনালী ছোপ থাকে।

    ৪১. বারাকা উপসাগরের পরে আছে বারিগাজার গভীর জলখাত আর আরিয়াকা দেশটির সমুদ্রপাড়, যেখান থেকে নাসবানুস-এর রাজত্ব শুরু হচ্ছে, আর শুরু হচ্ছে ভারতবর্ষ। এই অংশ যেটি ভিতরে অবস্থিত আর স্কাইথিয়ার সঙ্গে যুক্ত সেটার নাম অ্যাবিরিয়া, কিন্তু সাগরের পাড় হল সাইরাসট্রিন (Syrastrene), এই নামেই লোকে বলে থাকে। দেশটি উর্বর, এখানে উৎপন্ন হয় গম, চাল, তিল তেল, ঘি, তুলা আর তা থেকে তৈরি ভারতীয় জামাকাপড়, একটু মোটা ধরনের। এখানে তৃণক্ষেত্র আর চারণভূমিতে ঘুরে বেড়ায় প্রচুর গরু-মহিষ ও অন্য গৃহপালিত পশু। মানুষজন এখানে বেশ বড়সড় আকৃতির, রং কালো। এদেশের নগরের নাম মিন্নাগারা (Minnagara), সেখান থেকে বারিগাজায় অনেক সুতিবস্ত্র চালান হয়।

    এখানে আজও আলেকজান্ডারের অভিযান-এর নিদর্শন দেখতে পাওয়া যায়, যেমন প্রাচীন ঘর, মন্দির, দুর্গের দেওয়াল আর সৈন্যদের জলপানের জন্য বিশাল কুয়ো।

    এখানে তীর ধরে যে জলপথ গেছে, বারবারিকাম (Barbaricum) থেকে পাপিকা (Papica) শৈল অন্তরীপ পর্যন্ত যা বিস্তৃত আছে, বারিগাজার উল্টোদিকে আর অষ্টাকামপ্রার আগে, সেটা তিন হাজার ষ্ট্যাডিয়া।

    ৪২. এর পরে আরেকটা উপসাগর আছে যেখানে সমুদ্রের ঢেউ এসে আছড়ে পড়ে, উত্তরের দিকে প্রসারিত, যার মোহনায় বেওনেস (Baeones) বলে একটা দ্বীপ আছে। তার একেবারে ভেতরের দিকে, শেষ প্রান্তে একটা বড় নদী আছে— মাইস (Mais)।

    যারা বারিগাজা যাত্রা করে, তারা এই উপসাগর ধরে যায়, এটা তিন হাজার ষ্ট্যাডিয়া চওড়া পিছনে থেকে যায় যে বেওনেস দ্বীপটা বাঁদিকে, পূর্বদিক থেকে শুধু তার মাথা দেখা যায়, সোজা বারিগাজার এক নদীর মোহনায় গিয়ে পড়েছে। এই নদীর নাম নাম্মাদুস (Nammadus)।

    ৪৩. এই উপসাগর বারিগাজার কাছে খুবই সংকীর্ণ হয়ে এসেছে, সমুদ্র থেকে যারা এখানে আসে তাদের পক্ষে দিকনির্দেশ করে এগোনো খুব কঠিন। এটা ডান অথবা বাম দুটো দিকের পথেই আছে, তবে বাঁদিকের পথটা তুলনায় ভালো। কারণ, ডানদিকে ঠিক উপসাগরের মুখে যে চড়া আছে সেটা দীর্ঘ, সংকীর্ণ আর প্রস্তর সমাকীর্ণ, হেরোন (Herone) নামে এই চড়ার অংশ ক্যামনি গ্রামের দিকে মুখ করে অবস্থিত। আর এর উল্টোদিকে বাঁ-পাশে আছে শৈল অন্তরীপ, অষ্টকাম্পরা (Astacampra)-র ঠিক আগে, ওই শিলান্তরীপের নাম প্যাপিকা (Papica); নোঙর করার জন্য অনুপযুক্ত বা বিশেষ উপযুক্ত নয়, কারণ চারিদিকের প্রবল স্রোতে নোঙর বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, আর সাগরের তলদেশ এবড়ো খেবড়ো ও পাথুরে। যদিও উপসাগরে ঢোকা সম্ভব হয় নিরাপদে, কিন্তু বারিগাজায় যে নদী আছে, সেখানে অসুবিধা আছে, কারণ পাড় খুব নীচু আর যতক্ষণ একেবারে কাছে না যাচ্ছ ততক্ষণ দেখতে পাবে না, খুঁজেই পাবে না; এমনকি যখন পাবে, তখনো পথ বেশ দুরতিক্রম্য, কারণ নদীর মুখে চড়া আছে।

    ৪৪. এই কারণে রাজার তরফে স্থানীয় জেলের দল একদম মোহনার মুখে বড় নৌকায় অনেক লোকজন নিয়ে অপেক্ষা করে, স্থানীয় ভাষায় যে নৌকাকে ‘ট্রাপ্পাগা’ আর ‘কোটিম্বা’ বলে। নৌকা উপকূল ধরে সাইরেসট্রিন (Syrastrene) পর্যন্ত যায়, তারপর থেকে তারা জাহাজদের পথ দেখিয়ে বারিগাজা অবধি নিয়ে আসে। এরা উপসাগরের মুখ থেকে সোজা চড়া পেরিয়ে, লোকজনসুদ্ধ জাহাজ নিয়ে চলে আসে, এনে নৌকা আর জলযানগুলোকে দড়ি দিয়ে বাঁধে এক একটি স্থায়ী জায়গায়। যখন বান আসে তখন উঠে যায়, আর ভাঁটার সময় নোঙর বাঁধার ব্যবস্থা হয়। আর অববাহিকায় সেটা করা দরকার। নদীর অববাহিকা বারিগাজায় গভীর, চড়া নেই, প্রায় তিনশো ষ্ট্যাডিয়া মোহনা থেকে ভিতরে।

    ৪৫. ভারত দেশটি জুড়ে প্রচুর বড় নদ-নদী আছে, আর সেখানে জোয়ার-ভাঁটা প্রবল; অমাবস্যা আর পূর্ণিমায় তিন দিন ধরে জোয়ার আসে, আর মাঝখানের দিনগুলোয় ভাঁটা চলে। কিন্তু বারিগাজায় এটা বেশি করে বোঝা যায়, সাগরের তলদেশ হঠাৎ দেখতে পাওয়া যায় আবার হঠাৎ ডাঙা সমুদ্রের জলে ভরে ওঠে; খানিকক্ষণ আগে যেখান দিয়ে জাহাজ গেছিল, সেটা তখন ডাঙা হয়ে গেছে। আর নদীও যখন জোয়ারের জলে ফুলে ফেঁপে ওঠে, সমুদ্রের প্রবল জলের চাপ এসে সেখানে পড়ে, অনেক ষ্ট্যাডিয়া পর্যন্ত উপরে জল উঠে যায়।

    ৪৬. এই কারণে, যে সব লোকজনের জাহাজ চালানোর অভিজ্ঞতা নেই, অথবা প্রথমবার জাহাজ নিয়ে এই নগর-বাজারে আসে, তাদের যাওয়া আসার ব্যাপারটা খুব বিপজ্জনক। কারণ, যখন জোয়ার আসে তখন নদীতে জলের তোড় সহ্য করা কঠিন; নোঙর তখন বেঁধে রাখা যায় না। সেজন্য বড় জাহাজ এই প্রবল টানে যেভাবে চলে, সেভাবে না গিয়ে, জলের তোড়ে পাশের দিকে ঘুরে যায় আর চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। ছোট নৌকা হলে উল্টে যায়, আর যেগুলো ভাঁটার টানে কোনো খাতের মধ্যে একপাশ হয়ে পড়ে যায়, জোয়ারের জল অকস্মাৎ তার উপর এসে পড়ে আর প্রথম ধাক্কাতেই সেগুলোতে জল ঢুকে যায়।

    কারণ, সমুদ্রের জলে অমাবস্যার সময় যে টান দেখা যায়, বিশেষ করে রাতে জোয়ারের সময়। তখন যদি ওখানে প্রবেশ করো, যখন জল শান্ত থাকে, ঠিক নদীর মুখে প্রবেশ করার সময় একটা শব্দ দূর থেকে ভেসে আসে, যেন একটা সৈন্যদল চিৎকার করে যুদ্ধ করতে আসছে— আর খুব তাড়াতাড়ি সমুদ্র এসে ঝাঁপিয়ে পড়ে চড়ার উপরে প্রচণ্ড গর্জনে।

    ৪৭. বারিগাজা থেকে ভিতরের দিকে দেশের মধ্যে অনেক গোষ্ঠী ও উপজাতি বাস করে। যেমন, আরাত্তি (Arattii) আরাকোসাই (Arachosii), গান্দারাই (Gandaraei) আর পোক্লাইসের জনজাতি, যার মধ্যে বুসেফেলাস আলেকজান্দ্রিয়া আছে। এছাড়া আছে ব্যাকট্রিয়দের যুদ্ধপ্রিয় জাতি, যাদের নিজস্ব রাজা আছে। এবং এখান থেকে শুরু করে গঙ্গানদীতে প্রবেশ করেন, ড্যামিরিকা ভারতের দক্ষিণ অংশ বাদ দিয়ে; আজও যে কারণে প্রাচীন গ্রীক মুদ্রা ড্রাকমার চলন বারিগাজায় আছে। এই দেশ থেকে আসে— যার উপরে গ্রীক ভাষায় মুদ্রালিপি উৎকীর্ণ এবং অ্যাপোলোডটাস আর মেনানডার-এর প্রতীক দেখা যায়, যারা আলেকজান্ডারের পরে রাজত্ব করেছিল।

    ৪৮. এখান থেকে ভিতরে পূর্বদিকে, ওজিন (Ozene) বলে একটা শহর আছে, আগে এই ওজিন ছিল রাজধানী। এখান থেকে সমস্ত জিনিসপত্র বারিগাজার আশপাশে আসে, যেসব বস্তু মানুষের কাজে লাগে, উন্নতি আর সমৃদ্ধির জন্য। আমাদের বাণিজ্যের বস্তুও আসে; যেমন, অ্যাগেট নামের কঠিন ও মূল্যবান পাথর, অর্ধস্বচ্ছ লালচে ও নীলাভ পাথর কারনেলিয়ান, ভারতের মসলিন এবং নিরেশ কাপড়, সাধারণ সুতিবস্ত্র। আসে গাছ থেকে প্রস্তুত সুগন্ধী মলম, আসে পোক্লায়েস থেকে, মানে ক্যাসপাপাইরিন, প্যারোপানিসেন ও ক্যাবোলিটিক থেকে, তারা আসে প্রতিবেশী দেশ স্কাইথিয়া থেকে; আনে পিয়াশাল গাছ যা থেকে মধুমেহ রোগের ওষুধ তৈরি হয়, আর আনে ডেলিয়াম মানে গুগ্গুলের গাছ।

    ৪৯. এই নগর-বাজারে আমদানি হয় মদ, ইটালিয়ান মদ পছন্দ করে ক্রেতারা বা বিক্রেতারাও, এছাড়া লাওডিসিয়ার আর আরবের সুরাও চলে; তামা, টিন আর সীসা; প্রবাল আর পুষ্পরাগমণি বা পোখরাজ, মিহি কাপড় আর নিরেশ মানের অন্য সমস্ত কিছু; উজ্জ্বল রঙের কটিবন্ধ প্রায় একহাত চওড়া; স্টারেক্স বা শিলারস নামে রেসিন, মিঠে পাতা, উন্নত মানের কাঁচ, রিয়েলগর বা নরম লালচে রঙের খনিজ যা রং করতে ব্যবহার করা হয়, এন্টিমনি, সোনা আর রুপোর মুদ্রা, এই মুদ্রা বিক্রি করলে স্থানীয় পয়সায় ভালো লাভ আসে। আর মলম আসে, খুব দামি মলম নয়, পরিমাণও খুব বেশি নয়। আর রাজার জন্য ওখানে আনা হয় বহুমূল্য রুপোর পাত্র, গায়ক ছেলের দল, হারেম-এর জন্য সুন্দরী মেয়েরা, উৎকৃষ্ট সুরা, মিহি তাঁতে বোনা ভালো কাপড় এবং শ্রেষ্ঠ ওষধির মলম। এইসব জায়গা থেকে রপ্তানি হয় স্পাইকনার্ড বা লম্বা গাছের সুগন্ধী নির্যাস, কোসটাস নামে সুগন্ধী গাছের নির্যাস, ডেলিয়াম বা সুগন্ধী, হাতির দাঁত অ্যাগেট আর কার্নেলিয়ন পাথর, লিসিয়াম আর সুতির কাপড় সব ধরনের, সিল্কের কাপড়, ম্যালো কাপড়, সুতোর গুলি আর লঙ্কা।

    মিশর থেকে ফেরার পথে এই বাজার থেকে যাত্রা শুরু হয় জুলাই মাসে, অর্থাৎ এপিফি-তে।

    ৫০. বারিগাজা পেরিয়ে যে সংলগ্ন তীর রয়েছে, উত্তর থেকে দক্ষিণে তা একটি সরলরেখার মতো। এই জায়গাকে বলা হয় ডাকিনাবেডস (Dachinabades) কারণ, ডাকানোস (Dachanos) শব্দের স্থানীয় অর্থ ‘দক্ষিণ’। সমুদ্রের তীর থেকে ভেতরের দিকে পূর্বভাগে মরু অঞ্চল আর পাহাড় আছে— সেখানে সবরকমের বন্যজন্তুর বাস— চিতাবাঘ, বাঘ, হাতি, বিরাট আকৃতির সাপ, হায়না আর বহু ধরনের বেবুন আর বাঁদর এখানে দেখা যায়। আর জনসমাকীর্ণ সমস্ত দেশ আছে গঙ্গা পর্যন্ত।

    ৫১. ডাকিনাবেডসের যত বাজার আছে তার মধ্যে দুটো বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ; পাঠানা (Pathana), বারিগাজা থেকে দক্ষিণে প্রায় কুড়ি দিনের পথ গেলে পাওয়া যাবে; সেখানে পৌঁছে পূর্বদিকে দশ দিন পথ চললে পাওয়া যায় এক বিরাট নগর— তাগারা (Tagara)। এখান থেকে বারিগাজায় যাওয়া হয় মালগাড়ি করে, তবে রাস্তার বন্দোবস্ত নেই, অনেকটা এলাকা জুড়ে এই যাতায়াত চলে, পাঠানা থেকে করনেলিয়ান পাথর আসে প্রচুর পরিমাণে, টাগারা থেকে আসে কাপড়— সাধারণ মানের কাপড়। আবার সব ধরনের মসলিন এবং লিনেন কাপড় ও অন্য বাণিজ্যের সম্ভার যা স্থানীয় অঞ্চলে পাওয়া যায় সাগরতীর বরাবর— পুরো পথটা হল সাত হাজার ষ্ট্যাডিয়া। একেবারে ডমিরিকার (Domirica) শেষ পর্যন্ত। কিন্তু এই দূরত্ব বেশি হয় উপকূলের দেশগুলোর দিকে গেলে।

    ৫২. এই অঞ্চলের যত নগর-বাজার বারিগাজার পরে পাবে, সেগুলো সব পরপর অবস্থিত; সুপ্পারা, আর ক্যালিয়েনা (Calliena City) নগর, যেটা জ্যেষ্ঠ সারানাগাস-এর সময় একটা আইন মোতাবেক নগর-বাজার ছিল, কিন্তু স্যানডারাস-এর অধীনে আসার পর এখন বন্দরে অনেক প্রতিবন্ধকতা চালু হয়েছে, এমনকী গ্রীক জাহাজ যেগুলো ওখানে এসে দাঁড়ায়, তাদের বারিগাজা আনতে পাহারা লাগে এমনও হয়।

    ৫৩. ক্যালিয়েনার পরে অন্য আরও নগর-বাজার এখানে আছে, যেমন সেমিলা (Semyll), মান্ডাগোরা (Mandagora), পালপতমা (Palapatma), মেলিজিগারা (Melizigara) বাইজানটিয়াম (Byzantium), টোগারাম (Togarum) এবং অরাণ্যবোয়াস (Aurannoboas)। এরপরে ওখানে দ্বীপ আছে যাদের নাম সেসোক্রিয়েনে আর এইজিডাই আর আছে কেইনিটা, চেরসোনোসাসের উল্টোদিকে (এইসব জায়গায় জলদস্যুরা বাস করে), এবং এরপরে শ্বেত দ্বীপ বা হোয়াইট আইল্যান্ড। তারপরে আসে নরা আর টিনডাস, ডমিরিকার প্রথম বাজার এগুলো, তারপর মুজিরিস আর নেলসিনডা, এ দুটো জায়গার এখন খুব গুরুত্ব।

    ৫৪. করোবোথরার রাজত্বের মধ্যে পড়ে টাইনডিস। এটা একটা গ্রাম, সমুদ্রের ধারে। মুজিরিস, ওই একই রাজত্বের মধ্যে পড়ে, সেখানে আরব আর গ্রীস থেকে অনেক জাহাজ মালপত্র নিয়ে আসে। এটা একটা নদীর ধারে অবস্থিত। টাইনডিস থেকে নদী আর সমুদ্র মিলে পাঁচশো ষ্ট্যাডিয়া তফাতে, আর কূল থেকে নদী পর্যন্ত কুড়ি ষ্ট্যাডিয়া দূরে। নেলেসিনডা হল মুজিরিস থেকে পাঁচশো ষ্ট্যাডিয়া দূরে, মাঝখানে নদী আর সমুদ্র, অন্য রাজত্বের মধ্যে অবস্থিত— পান্ডিয়ান রাজত্ব। এই জায়গা এক নদীর উপরেই অবস্থিত, সমুদ্র থেকে একশো কুড়ি ষ্ট্যাডিয়া দূরত্বে।

    ৫৫. নদীর মুখে আর একটা জায়গা আছে, বাকারে (Bacare) গ্রাম। এখানে যখন জাহাজ নেলসিনডা থেকে নিচের দিকে ফেরার সময় নামে তখন নোঙর করে অগভীর জলে, মালপত্র নিয়ে, কারণ নদীতে অনেক চড়া আছে, আর প্রণালীগুলোও যাতায়াতের জন্য বাধাহীন নয়।

    দুটি নগর-বাজারের যাঁরা রাজা তারা ভেতরের দিকে বসবাস করে। আর সমুদ্র থেকে যারা এ-পথে আসে, তাদের সঙ্গে সমুদ্রের সরীসৃপরা আসে, কালো রঙের দেখতে কিন্তু আকারে ছোট, সাপের মতো দেখতে মাথা, আর চোখ দুটো রক্তবর্ণ।

    ৫৬. এই বাজারে তারা বড় জাহাজ পাঠায়, কারণ প্রচুর পরিমাণ গোলমরিচ আর তেজপাতা নিয়ে যায়। এখান থেকে আমদানি করা হয়, প্রথমেই বলব ভালো পরিমাণ মতো মুদ্রা, এছাড়া টোপাজ বা পোখরাজ, পাতলা বা মিহি সুতোর কাপড়, খুব বেশি নয়; পট্টবস্ত্র বা ক্ষৌমবস্ত্র, প্রবাল, অ্যান্টিমনি, অপরিশোধিত কাচ (Crude glass), তামা, টিন, সীসা; সুরা তবে বেশি নয়—বারিগাজাতে যে পরিমাণ দেওয়া হয় ততটাই প্রায়; রক্তবর্ণের খনিজ রিয়েলতার এবং সোনার বর্ণের খনিজ ওরপিমেন্ট— দুটি বস্তুই রঞ্জক পদার্থ, নাবিকদের জন্য যথেষ্ট গম বা আটা, বণিকরা ওই গম কেনে না। রপ্তানিযোগ্য গোলমরিচ, যেটা এই বাজারের কাছে এক জায়গাতেই জন্মায়, জেলাটির নাম কোটোনারা। এছাড়া রপ্তানি করা হয় অনেকটা পরিমাণে চমৎকার মুক্তো, হাতির দাঁত, সিল্কের কাপড় আর জটামাংসী গাছ বা তা থেকে প্রস্তুত মলম, যা আসে গঙ্গার তীর থেকে, দারুচিনির মতো সুগন্ধী— যার পাতা থেকে সুগন্ধী তেল তৈরি হয়, আসে আরও অভ্যন্তর থেকে; আসে সব রকমের স্বচ্ছ পাথর— হিরে আর নীলা কি পোখরাজ; আর কচ্ছপের খোলা। এসব আসে ক্রাইস দ্বীপ থেকে আর ড্যামিরিকার তীর ধরে যে সব দ্বীপ আছে, সেখান হয়ে আসে। জাহাজ এখানে যাত্রা করে তাদের সুবিধামতো সময়ে, মিশর থেকে বের হয়ৈ জুলাই মাসে, অর্থাৎ এপিফি-তে।

    ৫৭. উপরের অংশে যে যাত্রার কথা বলা হল বা যার বর্ণনা দেওয়া হল, কানা (Cana) আর ইউডেমন আরবের (Eudaemon Arabia) থেকে, ওরা ছোট জাহাজে করে উপসাগরের পড়ে ধরে এগোতো; হিপ্পালাস (Hippalus) ছিল আসল চালক, যে প্রথমে বন্দরের অবস্থান আর সমুদ্রের চেহারা দেখে, ঠিক করত কিভাবে সোজা সমুদ্রপথ ধরবে।

    কারণ, একই সঙ্গে যখন সমুদ্রে হাওয়া উঠত (Etesian wind) ভারতের তটভূমি ধরে, দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে বয়ে আসা এই হাওয়াকে হিপ্পাসের নামেই চিহ্নিত করা হয়, যিনি প্রথম এই পথ আবিষ্কার করেন। সেই সময় থেকে আজ পর্যন্ত জাহাজ যাত্রা শুরু করে কানা থেকে, কেউ আবার মশলার অন্তরীপ (Cape of Spices) থেকে; আর যারা ডামিরিকা যাবে, তারা জাহাজের মুখ বাতাসের দিক থেকে যতটা পারে সরিয়ে রাখে, আর যারা বারিগাজা আর স্কাইথিয়া বা সিথিয়া যায় তারা পাড় ধরে তিন দিনের মতো এগিয়ে, তারপর ওই রাস্তা ধরে সমুদ্রের পথে এগোয় ওখান থেকে, হাওয়ার পক্ষে, স্থলভাগ থেকে দূরে, পূর্বে উল্লিখিত উপসাগরগুলি পেরিয়ে বাণিজ্য করতে যায়।

    ৫৮. বাকারে-র পরে একটা পাহাড় আছে, পাহাড়ের রঙ গাঢ় লাল, এবং একটা অঞ্চল পাড় ধার দক্ষিণের দিকে এগিয়েছে, নাম পারালিয়া। প্রথম যে জায়গাটা পড়ে, তার নাম বালিতা; এখানে একটা চমৎকার বন্দর আছে, আর একটা গ্রাম আছে পাড়ের পাশে। এছাড়া আরেকটা জায়গা আছে, নাম কোমারি (Comari), সেখানে কোমারি অন্তরীপ আছে, আর একটি বন্দর আছে; এখানে সেইসব মানুষ আসে যারা ঈশ্বরের কাছে নিজেকে উৎসর্গ করে আগামী জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত এবং সেই অনুসারে স্নান করে ও সেখানে আশ্রয় নেয়। মহিলারাও অনুরূপ নিয়ম পালন করে; কারণ, কথিত আছে যে এক দেবী একসময় এখানে থাকাকালীন স্নান করেছিলেন।

    ৫৯. কোমারি থেকে দক্ষিণে এগোলে কোলচি (Colchi) এলাকায় পৌঁছবে, এখানে মুক্তো সংগ্রহের কাজ হয় (এ কাজ দণ্ডপ্রান্ত অপরাধীরা করে থাকে) আর এটি পান্ডিয়ান রাজ্যের মধ্যে পড়ে। কোলচির পরে কোষ্ট কান্ট্রি বা উপকূলের দেশ নামে আর একটা জেলা পড়ে, এটা উপসাগরের উপরে অবস্থিত, আর এখানে ভিতরের দিকে আরগারু (Argaru) বলে একটি স্থান আছে। এখান থেকেই মুক্তো কেনাবেচা, সংগ্রহ করা হয়। তীর থেকে সংগৃহীত হয় মুক্তো, রপ্তানি হয় মসলিন, যাদের আরগারিটিয় (Argaritic) বলে।

    ৬০. এই সমস্ত দেশের যেসব নগর-বাজারের কথা বা বন্দরের কথা বলা হল, যেখানে ড্যামিরিকা থেকে জাহাজ আসে, উত্তর দিক থেকেও আসে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল যেভাবে বন্দরগুলো অবস্থিত সেইরকম ক্রমানুসারে, যেমন প্রথমে কামারা (Camara), তারপর পদুকা (Poduca) তারপর সোপাতমা (Sopatma); জাহাজগুলো দেশ থেকে ছেড়ে এসে তীরে নোঙর করে, ড্যামিরিকা পর্যন্ত; আর বিশাল জলযান যেগুলো লম্বা লম্বা গাছের গুঁড়ি বেঁধে তৈরি করা হয়, যাদের ‘সাংগারা’ বলে, কিন্তু যেগুলো ক্রাইসে (Chriyse) যায় অথবা গঙ্গায় পাড়ি দেয়, প্রকাণ্ড সেইসব জলযানকে কোলানডিয়া (Colandia) বলে। এখানে আমদানি হয় সমস্ত কিছু, যা ড্যামিরিকাতে প্রস্তুত হয়, সবচেয়ে বেশি যা মিশর থেকে আসে সেইসব বস্তু, তার সঙ্গে ড্যামিরিকা থেকে আসা সবরকমের জিনিসপত্র আর পারালিয়া থেকে বহন করে আনা সব পণ্য।

    ৬১. নিম্নে বর্ণিত অঞ্চলগুলির মধ্যে, পূর্বদিকে যে পথ গেছে, সমুদ্রের দিকে আর পশ্চিমে পালেসিমুণ্ডা (Palaesimunda) দ্বীপ, প্রাচীনরা বলেন তাপ্রোবেন (Taprobane)। উত্তরদিকে একদিনের যাত্রা, অনেকটা দূর; আর ভাগ ধীরে ধীরে পশ্চিমের দিকে এগিয়েছে, প্রায় আজানিয়া-র উল্টোদিকের তীর স্পর্শ করেছে। এখানে মুক্তো, স্বচ্ছ বহুমূল্য পাথর, মসলিন আর কচ্ছপের খোলা পাওয়া যায়।

    ৬২. এই অঞ্চলে মাসালিয়া নামে একটি জায়গা আছে যেটা তীর ধরে অনেকটা বিস্তৃত, অন্তর্বর্তী জনপদের আগে পর্যন্ত; এখানে প্রচুর পরিমাণ মসলিন কাপড় প্রস্তুত হয়। এই অঞ্চল পেরিয়ে, পূর্বদিকে জাহাজ চালালে সংলগ্ন যে উপসাগর সেটি পেরিয়ে একটা অঞ্চল পড়ে, যার নাম ডোসারেন (Dosarene) এখানে যে হাতির দাঁত পাওয়া যায়, তাকে ডোসারেনিয় (Dosarenio) বলে। এর পরে যে পথ উত্তরের দিকে গেছে, সেখানে বহু বর্বরজাতি বাস করে, তাদের মধ্যে সিরহাদে (Cirhade) নামের একটি জাতের মানুষ আছে, যাদের নাক চেপ্টা (Flattened), অত্যন্ত বর্বর আর হিংস্র; আর একটা উপজাতি আছে— বারগিসি (Bargysi); এছাড়া ঘোড়ামুখো ও লম্বা মুখের মানুষ আছে, যাদের নরমাংসভোজী বলা হয়ে থাকে।

    ৬৩. এর পরে, রাস্তা আবার পূর্বদিকে ঘুরেছে, জাহাজ সমুদ্রকে ডানদিকে আর তীর বাঁদিকে রেখে এগোলে গঙ্গা দেখা যায়, আর পূর্বদিকে শেষ স্থলের চিহ্ন ক্রাইস (Chryse), এর কাছেই পড়ে। এখান একটা নদী আছে গঙ্গা (Ganges) নামে, এই নদীর ওঠা-নামা বা জোয়ার ভাঁটা নীলনদের মতো। নদীর পাড়ে একটা নগর-বাজার আছে, যার নাম নদীর নামেই দেওয়া— গঙ্গা! এখান থেকে আসে দারচিনির মতো সুগন্ধী গাছ (malabothrum) আর গাঙ্গেয় স্পেকেনার্ড সুগন্ধী, আর মুক্তো, আর সবচেয়ে মিহি ও সুন্দর মসলিন, একেও গাঙ্গেয় মসলিন বলা হয়।

    বলা হয়, এই অঞ্চলের কাছে সোনার খনি আছে, আর সেলটিস (Celtis) বলে একধরনের স্বর্ণমুদ্রা এখানে পাওয়া যায়। এই নদীর ঠিক অপর পাড়ে একটা দ্বীপ আছে সমুদ্রের মধ্যে, পূর্বদিকে পৃথিবীর শেষ অংশ যেখানে মানুষ বসবাস করে, উদিত সূর্যের নিচে। একে বলে ক্রাইস (Chryse) আর এখানে ইরিথ্রিয় সাগরের মধ্যে সবচেয়ে ভালো কচ্ছপের খোলা পাওয়া যায়।

    ৬৪. এই অঞ্চলের পরে, আরও উত্তরে, যেখানে সমুদ্র শেষ হয়, যার নাম থিস (This), এখানে এক বিশাল নগর আছে, ভিতরের দিকে, যার নাম থিনা (Thinae), সেখান থেকে পায়ে হেঁটে ব্যাকট্রিয়া হয়ে বারিগাজায় আনা হয় রেশমের বিভিন্ন ধরনের র-সিল্ক, সিল্কর সুতো আর সিল্কের কাপড়, সেখান থেকে রপ্তানি করা হয় ড্যামিরিকায়, গঙ্গানদী বেয়ে। কিন্তু থিস জায়গাটায় পৌঁছানো খুব সোজা নয়, অল্প মানুষ সেখান থেকে আসে, আর কখনো-সখনো। দেশটা ঠিক শিশুমার (Lesser Bear) নক্ষত্রমণ্ডলীর নিচে অবস্থিত, আর কথিত আছে, পোনটাস আর কাস্পিয়ান সাগরের একদম দূরতম অংশে অবস্থিত, যার পরে আছে মাওটিস (Maeotis) লেক বা হ্রদ। এই সমস্ত নদ-নদী ও হ্রদ সমুদ্রে গিয়ে পড়েছে।

    ৬৫. প্রতি বছর থিস-এর সীমান্তে একটি উপজাতির লোকজন আসে, এরা বেঁটে কিন্তু প্রশস্ত চেহারা, চ্যাপ্টা ও চওড়া সমতল মুখ, আর শান্তিপ্রিয়। এদের বলে বেসাতা (Besata), তবে প্রায় পুরোই অসভ্য। ওরা ওদের স্ত্রী-ছেলেমেয়েদের নিয়েই আসে, বড় বড় বস্তা বেঁধে সঙ্গে করে আনে, বস্তাগুলো কিন্তু পাটে পাটে বাঁধা— দেখে মনে হয় সবুজ আঙুরপাতা। তারা থিস আর নিজেদের দেশের মাঝে জায়গা দেখে সবাই এসে মিলিত হয়। সেখানে তারা বস্তাগুলোকে মাদুরের মতো বিছিয়ে খাওয়া-দাওয়া শুরু করে। বেশ কিছুদিন ধরে এই খাওয়া-দাওয়া করার পর তারা ভিতরে আবার তাদের আস্তানায় ফিরে যায়। এবার স্থানীয় মানুষ যখন দেখে ওরা চলে গেছে, তখন এসে ওই মাদুর বা দরমা সংগ্রহ করে। তারা ওই বুনে বুনে তৈরি করা দরমা বা মাদুরের মতো দেখতে বস্তুগুলো থেকে সুতোর মতো জিনিস সংগ্রহ করে, যাকে ওরা বলে পেত্রি। এবার তারা ওই পাতাগুলোকে পরপর সাজিয়ে এক একটা বলের মতো তৈরি করে, আর ওই তন্তু বা আঁশ দিয়ে পাতার গোলকটাকে বিঁধে রাখে। তিন রকমের গোলক হয়— সবচেয়ে বড় পাতা দিয়ে যে বল তৈরি হয়, তাকে বলে বড়-বল, মালাবাথরামের বা তেজপাতা গোছের পাতার একটু ছোট বলটাকে মাঝারি আকৃতির, আর ছোট পাতা দিয়ে তৈরি বলকে ছোট-বল তৈরি হয়। সুতরাং ভারতে তিন রকমের ‘তেজপাতা’ চালু আছে, যারা এগুলো তৈরি করে তারাই নিয়ে যায়।

    ৬৬. এই স্থানের পরে যে সব অঞ্চল আছে, সেখানে পৌঁছনো খুব কঠিন, কারণ খুবই শীত আর ভয়ংকর ঠান্ডা, ঈশ্বরের ইচ্ছা ছাড়া সেখানে যাওয়া দুষ্কর।

    পেরিপ্লাসে যে সমস্ত বাণিজ্যপণ্যের কথা বলা আছে—

    লোহিত সাগর তীরবর্তী বন্দর

    টলেমাইস (রপ্তানি)

    কচ্ছপের খোলা ও হাতির দাঁত

    আদুলিস (আমদানি)

    মিশর থেকে কাপড়, আলখাল্লা আরসিনো থেকে, নিকৃষ্ট মানের ক্লোক, লিনেসের আঙরাখা, ঘষা কাঁচ আর কাঁচের তৈরি নকল জিনিসপত্র, পিতলের অলংকার আর পয়সা, নরম তামার চাদর, লোহা-বর্শা তৈরির জন্য, কুঠার ও অন্য অস্ত্র, তরোয়াল, তামার তৈরি বড় পানপাত্র, অল্প পয়সা বা মুদ্রা, ইটালির সুরা, অলিভ তেল, রাজার জন্য উপহার, ভারতীয় লোহা আর ইস্পাত, ভারতের সুতির কাপড়, মসলিন, লাক্ষা ইত্যাদি।

    আদুলিস (রপ্তানি)

    হাতির দাঁত, কচ্ছপের খোলা আর গণ্ডারের খড়গ।

    হর্ণ অফ আফ্রিকা (দূরবর্তী তীর)

    অ্যাভেলাইটস (আমদানি)

    স্বচ্ছ কাঁচ, আঙুরের রস, পোশাকের কাপড়, গম, সুরা এবং টিন।

    ওয়েলিস আর মুজা-তে কিছুটা রপ্তানি হয়

    হাতির দাঁত, কচ্ছপের খোলা আর সুগন্ধী নির্যাস।

    মালাও (আমদানি)

    বিভিন্ন বস্তু যা আগে বলা হয়েছে, কিন্তু তার সঙ্গে আমদানি হয় রোমানদের পরিচ্ছদ, আঙরাখা, পানপাত্র, সোনা ও রুপার মুদ্রা।

    মালাও (রপ্তানি)

    সুগন্ধী বিভিন্ন ধরনের ওষধি ও গুণসম্পন্ন, দারচিনি, ভারত থেকে আসা কোপাল ও শক্ত আঠা বার্ণিশে ব্যবহার হয়, মালাবার থেকে আসা ওষধি গাছের ছাল বা মাসির, আর মাঝেমধ্যে ক্রীতদাস।

    মণ্ডুস (আমদানি)

    পূর্বে উল্লিখিত।

    মণ্ডুস (রপ্তানি)

    পূর্বে উল্লিখিত, আর মোক্রোতু বা সুগন্ধী।

    মোসিল্লাম (আমদানি)

    পূর্বে উল্লিখিত পণ্য আর তার সঙ্গে রুপোর থালা, অল্প সামান্য কিছু লোহা আর কাঁচ।

    মোসিল্লাম (রপ্তানি)

    দারচিনি প্রচুর পরিমাণ, সুগন্ধী আঠা আর মশলা, কচ্ছপের খোলা, মক্রটু সুগন্ধী, বেনজয়েন, হাতির দাঁত আর মস্তগী।

    অ্যালিফ্যান্ট রিভার (রপ্তানি)

    সুগন্ধী (দূর-প্রান্ত থেকে) খুব উন্নতমানের হাতির দাঁত আর বৃক্ষজ আঠা বিশেষ (সুগন্ধী)

    মশলার বাজার (কেপ গার্ডাফুই)

    (আমদানি) পূর্ব উল্লিখিত।

    মশলার বাজার (রপ্তানি)

    দারুচিনি (বিভিন্ন প্রকারের) সুগন্ধী মস্তগী।

    ওপোনে (আমদানি)

    আগে উল্লেখ করা হয়েছে।

    ওপোনে (রপ্তানি)

    দারুচিনি (ভালো মানের), কচ্ছপের খোলা আর মিশরের জন্য ক্রীতদাস (ভারত থেকে জাহাজ যেসব মালপত্র নিয়ে আসে আর আগের বন্দরগুলো থেকে) গম, চাল, ঘি, তিল তেল, সুতিবস্ত্র, কোমরবন্ধ; আর আসে বৃক্ষজ মধু।

    পূর্ব আফ্রিকা

    রাফতা, মেনুথিয়স ও অন্যান্য জায়গা থেকে আমদানি।

    আমদানি প্রধানতঃ আরব জাহাজে করে বর্শা বা বল্লম মুজায় তৈরি, ছোট কুঠার, কাঁটা বা সূচ, ছোরা, কাঁচ বিভিন্ন ধরনের মদ অল্প পরিমাণে, গম (আদিম উপজাতির মানুষকে বিনামূল্যে বিতরণের জন্য।)

    (রপ্তানি)

    হাতির দাঁত (বেশি পরিমাণে, কিন্তু আদুলিসের তুলনায় নিকৃষ্ট), গণ্ডারের খড়গ, কচ্ছপের খোলা (ভারতবর্ষের পর সবথেকে ভালো মানের), আর সামান্য পামগাছের থেকে তৈরি তেল।

    আরবদেশ

    মুজা (আমদানি)

    লাল কাপড়, মোটা আর মিহি, আরব দেশের প্রথা অনুযায়ী তৈরি পোশাক, হাতওয়ালা আর বিভিন্ন ধরনের, জাফরান বা কেশর, মসলিন, গাত্রাবরণ, কম্বল বা চাদর, পাগড়ির কাপড় ও উত্তরীয়, সুগন্ধী প্রলেপ বা মলম, সুরা এবং গম (দুটো জিনিসই এখানে প্রস্তুত হয়) রাজাকে উপহার হিসাবে দেওয়া হয় ঘোড়া, বা অশ্বেতর, সোনা, রুপা, তামার পাত্র আর সূক্ষ্ম বা মিহি কাপড়।

    মুজা (রপ্তানি)

    এদেশে উৎপন্ন জিনিসপত্র, মৎ বা গন্ধরস, অ্যালাবেস্টর আর অ্যাভেলাইট ও দূর প্রান্ত থেকে যে সব বস্তু যাতায়াত করে তার সমস্ত।

    কানা

    (এই অঞ্চলের সঙ্গে ব্যবসা চলে মিশর, ভারত আর পারসিক উপসাগর এবং দূরের তীরবর্তী অঞ্চলের সঙ্গে)

    (আমদানি)

    গম আর সুরা, আরবদের মতো পোশাক, তবে সেরা মানের নয়, তামা, টিন, স্টোরৈক্স বা গাছের সুগন্ধী রস বা শিলারস রাজার জন্য উপহারসামগ্রী সোনা ও রুপার থালা, ঘোড়া, বস্ত্রসামগ্রী আর ছবি…

    (রপ্তানি)

    দেশীয় পদার্থ ও জিনিসপত্র, ফ্রাঙ্কিনসেন্স অর্থাৎ সুগন্ধী, ঘৃতকুমারী, অন্য বন্দর থেকে আসা বস্তুসকল।

    ডায়াসকোরিডা দ্বীপ

    (রপ্তানি)

    কচ্ছপের খোলা আর বিভিন্ন ধরনের সিঁদুর রং হিঙ্গুল।

    (আমদানি)

    মুজা থেকে যে জাহাজগুলো জিনিসপত্র নিয়ে আসে, সেগুলো, আর ভারত থেকে যদি কোনো জাহাজ আসে তবে। চাল, গম, ভারতীয় কাপড় আর অল্পসল্প মেয়ে ক্রীতদাসী।

    মোসচা (আমদানি)

    কাপড়, গম আর তিল তেল।

    (রপ্তানি)

    সুগন্ধি ওষধি, ফ্যাঙ্কিনেসেন্স।

    সারাপিস দ্বীপ (রপ্তানি)

    কানা-তে নিয়মিত সময়ের ব্যবধানে পাঠানো হয়— কচ্ছপের খোলা।

    পারস্য উপসাগর

    ওম্মানা এবং অ্যাপোলোগাস (আমদানি)

    তামা আর চন্দনকাঠ, সেগুন কাঠ, ভারত থেকে আসে আবলুস কাঠ আর ব্ল্যাকউড, তামা, চন্দনকাঠ, আর সুগন্ধী ওষধি।

    (রপ্তানি)

    বুনে তৈরি করা নৌকা, মুক্তো ভারতের থেকে নিরেশ, রক্তবর্ণ বা ময়ূরপঙ্খী রঙের কাপড়, সুরা, খেজুর, সোনা আর ক্রীতদাস

    মাকরান তটভূমি

    ওরিয়া (Oraea) রপ্তানি

    গম, মদ, চাল, খেজুর এবং ডেলিয়াস সুগন্ধী।

    ইণ্ডো-স্কাইথিয়া

    বারবারিকাম (সিন্ধু নদের মোহনায়)

    (আমদানি)

    মিহি বোনা কাপড়, লিনেন, টোপাজ, প্রবাল, স্টোর্যাক্স, সুগন্ধী ও ওষধি, কাঁচের পাত্র, সোনা ও রুপার প্লেট আর মদ্য।(রপ্তানি)

    ডেলিয়াম, গুগ্গুল, পাতার মধ্যবর্তী অংশ, নিশুন্দি গাছ, সুগন্ধী, নীল রং-এর পাথর, সুতির কাপড়, সিল্ক আর নীল।

    ভারত (নামবানুসের রাজত্বে)

    বারিগাজা (আমদানি)

    ইটালির সুরা, লাওডিসিও আর আরবের সুরা, তামা, টিন, সীসা, কোরাল, টোপাজ, মিহি কাপড় ও নিরেশ বস্তুসকল, চওড়া কটিবন্ধ, স্টোরেক্স, লবঙ্গ, ঘষা কাঁচ, অ্যান্টিমনি, সোনা আর রুপোর মুদ্রা, মলম আর প্রলেপ আর রিয়েলগর বা আর্সেনিক প্রধান খনিজ, রাজাকে উপহার দেওয়ার উপকরণ— রুপো থেকে শুরু করে গান গাইবার জন্য উপযুক্ত ছেলের দল, হারেমের জন্য মেয়েরা পর্যন্ত।

    (রপ্তানি)

    সুগন্ধী বৃক্ষ, স্পাইকনার্ড, ডেলিয়াম, কোস্টাস, হাতির দাঁত, ওনিক্স আর কার্নেলিয়ান, সুতি আর সিল্কের কাপড়, মুক্তো, লাইসিয়াম, লঙ্কা, অন্যান্য বস্তুসমূহ।

    ভারত (শেরা এবং পান্ডিয়া রাজত্ব)

    মুজিরিস, নেলসিনডা আর বাকার অঞ্চল

    (বড় জাহাজ যেখানে আসে মরিচা আর তেজপাতা নিতে)

    (আমদানি)

    মুদ্রা প্রচুর আসে, পাতলা কাপড়, টোপাজ বা পোখরাজ অথবা পুষ্পরাগমণি, পট্টবস্ত্র, অ্যান্টিমণি, প্রবাল, কাঁচ তামা, টিন, সীসা, মদ (বারিগাজার তুলনায় কম) রিয়েলগর, হরিতাল এবং গম (নাবিকদের জন্য)

    (রপ্তানি)

    গোলমরিচ, চমৎকার জাতের মুক্তো প্রচুর পরিমাণে, সিল্কের কাপড়, জটামাংসী গঙ্গার তীরবর্তী অঞ্চল থেকে স্বচ্ছ মাণিক্য যেমন হিরে, নীলা বা নীলকান্তমণি, কচ্ছপের খোলা আর তেজপাতা।

    ভারত (চোল সাম্রাজ্য)

    আরগারু (অন্তর্দেশ)

    (রপ্তানি)

    মুক্তো, মসলিন

    ভারত (পূর্ব তীর)

    কামারা, পাড়ুসা আর সোপতমা (যেখানে পশ্চিম থেকে জাহাজ আসে, গঙ্গা আর ক্রাইস থেকেও আসে)

    (আমদানি)

    ডোমিনিকায় যা প্রস্তুত হয় সে সব বস্তু আর মিশর থেকে যে সব বাণিজ্য হয়।

    রাজন্যবর্গের নাম—

    ১. জোস্কেলস ৫৯-৭২ খ্রিস্টাব্দ

    (অক্সামাইটদের রাজা)

    ২. মলিচাস ৪০-৭০ খ্রিস্টাব্দ

    (নাবাটিয়ানদের রাজা)

    ৩. চ্যারিবেল ৪০-৭০ খ্রিস্টাব্দ

    (হোমারিও ও সাবাই-দের রাজা)

    ৪. সম্রাটবর্গ (সম্ভবত ক্লডিয়াস) ৪১-৫৪ খ্রিঃ

    (এবং নীরো) ৫৪-৬৮ খ্রিস্টাব্দ

    ৫. ইলেজুস ২৫-৬৫ খ্রিঃ

    (ফ্রাঙ্কিনেসেন্স বা সুগন্ধীর দেশ, বৃক্ষ নির্যাস নির্মিত সুগন্ধী)

    ৬. পার্থিয় রাজপুত্রেরা, যারা ৫১ খ্রিঃ (সম্ভবত)

    পরস্পরের সঙ্গে যুদ্ধবিগ্রহে লিপ্ত (গণ্ডোফারেস-এর মৃত্যুর পরে)

    ৭. নামবানুস ৭৮ খ্রিঃ

    (এরিয়াকার রাজা, সম্ভবত ‘শক’ রাজা)

    ৮. ‘সানডারাস’ ৮৩-৮৪ খ্রিঃ

    (জ্যেষ্ঠ সারগানুসের আমলে যিনি ভাইসরয় বা রাজপ্রতিনিধি ছিলেন, পরে ক্যালিনার আধিপত্য পান, অন্ধ্রের রাজা)

    .

    টীকা

    ১. Designated Port&&&

    ২. Market-town

    ৩. Mussel Harbour

    ৪. Berenice

    ৫. Fish eaters

    ৬. Berbers

    ৭. Tunic

    ৮.  Mocratu

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleসাদা বিড়াল – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    Next Article ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }