Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ছায়াপথিক – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় এক পাতা গল্প164 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৫. ললিত-লতা

    ললিত-লতা
    পঞ্চম পরিচ্ছেদ

    এক

    ইন্দুবাবুর সঙ্গে সোমনাথের আন্তরিক ঘনিষ্ঠতা জন্মিয়াছিল। তিনি মাঝে মাঝে তাহাকে নিজের বাসায় নৈশ ভোজনের নিমন্ত্রণ করিতেন। ইন্দুবাবুর স্ত্রী রন্ধনে সুনিপুণা, তাঁহার হাতের চিংড়িমাছের মালাইকারি ও কাঁকড়ার ঝাল খাইয়া সোমনাথ পরম তৃপ্তিলাভ করিত।

    আহারের পর ইন্দুবাবু গড়গড়ার মাথায় খাম্বিরা তামাকুর তাবা চড়াইয়া নল হাতে লইয়া বসিতেন; তখন তাঁহার মুখ দিয়া নানা প্রকার মজার গল্প বাহির হইত। নিম্নোক্ত কাহিনীটি তিনি একদিন সোমনাথকে শুনাইয়াছিলেন। কাহিনীর মধ্যে কোনও প্রচ্ছন্ন হিত-উপদেশ ছিল কিনা তাহা বলা যায় না; সম্ভবত অভিজ্ঞতার বিবৃতি ছাড়া আর কিছুই ছিল না। আমরা গল্পটি ইন্দুবাবুর জবানিতে প্রকাশ করিলাম।

    ছয় বছর আগে এ গল্পের আরম্ভ হয়েছিল। তখন আমি কলকাতায় থাকি। সাহিত্যচর্চার ফাঁকে ফাঁকে গান গাইতাম। গলাটা তখন ভাল ছিল; রবিবাবুর গান গাইতে পারতাম।

    সাহিত্যিক হিসেবে যত না হোক, রবীন্দ্রসঙ্গীতের অবৈতনিক গায়ক রূপে কলকাতার অভিজাত সমাজে আমার বেশ মেলামেশা ছিল; কোথাও পার্টি বা জলসা হলেই আমার নেমন্তন্ন থাকত। সেই সূত্রেই দিগ্বিজয়ী ব্যারিস্টারের মেয়ে লতার সঙ্গে পরিচয় হয়। লতা কিছুদিন আমার কাছে রবীন্দ্রসঙ্গীত শেখবার জন্যে খুব ঝুঁকেছিল; আমিও শেখাবার চেষ্টা করেছিলাম। লতার প্রাণে দুরন্ত আবেগ ছিল—কিন্তু তার গলায় সুর ছিল না–

    একটা কথা গোড়াতেই বলি রাখি, এটা লতা ও ললিতের গল্প; আমি দর্শক মাত্র। লতাকে তুমি চিবে না; বড়লোকের মেয়ে এবং কলকাতার বিশিষ্ট অতি-আধুনিক সমাজের মুকুটমণি হলেও সাধারণের কাছে সে অপরিচিতা; কিন্তু ললিতের নাম নিশ্চয় শুনেছ; পর্দায় তাহার চেহারাও দেখেছ বোধহয়–বাংলা চিত্রাকাশের উজ্জ্বল পুং তারকা।

    আগে লতার কথাই বলি। এমন আশ্চর্য মেয়ে আমি দেখিনি। তখন তার বয়স সতেরো কি আঠারো; একটু পুরন্ত গড়ন দেখলে মনে হয় রজনীগন্ধার বোঁটায় একটি চন্দ্রমল্লিকা ফুটে আছে; কিন্তু কী তার মনের তেজ, যেন আগুনের ফুলকি। আর তেনি কি সরলতা! মনের কথা লুকোতে জাত না; মাঝে মাঝে হঠাৎ এমন কথা বলে বসতো যে শ্রোতাদের কান লাল হয়ে উঠতো, তার বাবা লজ্জিত হয়ে পড়তেন; কিন্তু লতার সেদিকে ভ্রুক্ষেপ নেই।

    মেয়েটাকে আমার বড় ভাল লাগত; ঠিক যেন শেক্সপীয়ারের মিরান্ডার সঙ্গে ক্লিওপেট্র মিশেছে। সরলতা আর তেজ। মাঝে মাঝে ভাবতাম, এ মেয়ের জীবনের ধারা শেষ পর্যন্ত কোন বিচিত্র খাতে বইবে কে জানে! সাধারণ গতানুগতিক খাতে যে বইবে না তা অনেকটা অনুমান করেছিলাম।

    তাকে দুচার দিন গান শেখাতে গিয়েই বুঝতে পারলাম, গান গাওয়া তার কর্ম নয়। গলায় সু নেই; ভগবান মেরেছেন; কিন্তু কথাটা তাকে বলতে সঙ্কোচ হতে লাগল; হয়তো মনে কষ্ট পাবে।

    একদিন সে নিজেই বলল—মাস্টারমশাই, আমার গলায় সুর নেই—না? আমি গাইতে শিখ না?

    আমিই অপ্রস্তুত হয়ে পড়লাম, বললাম,–তোমার গলা বেশ মিষ্টি—কিন্তু–তুমি বাজনা বাজাতে শেখো না কেন? সেতার কিম্বা এস্রাজ–

    লতার চোখ জলে ভরে উঠল—বাজনা বাজাতে আমার ভাল লাগে না। এত দুঃখু হচ্ছে যে আমি গান গাইতে পারব না।

    বললাম—আমারও দুঃখু হচ্ছে লতা।

    লতা চোখ মুছে হাসবার চেষ্টা করল—যাক গে, উপায় নেই যখন, তখন আর কেঁদে কি হবে, আপনি কিন্তু আসা বন্ধ করতে পারবেন না। অন্তত হপ্তায় একদিন আসতে হবে। গাইতে না পার আপনার গান শুনতে তো পাব। বলুন আসবেন।

    খুশি হয়েই কথা দিলাম। না যাবার কোনও কারণ ছিল না; লতা ভারি যত্ন করে খাওয়াতো। তাছাড়া ব্যারিস্টার সায়েবও খুব খাতির করতেন। ভদ্রলোক কম বয়সে বিলেত থেকে ফিরে কি মাতামাতি করেছিলেন,—শোর-গরু খেয়েছিলেন। তারপর পঞ্চাশোর্ধে আবার ঠাণ্ডা হয়ে জপত সন্ধ্যা আহ্নিক আরম্ভ করেছেন।

    যাহোক, তারপর মাঝে মাঝে যাতায়াত করি। ক্রমে লতা গান শিখতে না পারার শোক ভুলে গেল; তবে আমি গেলে প্রত্যেক বারই দু একটা গান না শুনে ছাড়ত না। সে সময় আমি বন্ধু বান্ধবের পাল্লায় পড়ে মাঝে-মধ্যে সিনেমার গান প্লে-ব্যাক করতাম। বাংলা দেশের পুকু অভিনেতাদের যে গানের গলা নেই একথা অনেকেই জানে না, দর্শকেরা মনে করে অভিনেতাই বুঝি গান গাইছে। সিনেমার এইসব অজানা নতুন গান শুনতে লতা ভারি ভালবাসত।

    একদিন তাকে একটা নতুন গান শুনিয়ে আমি বললাম-শিগগির এই গানটা সিনেমায় শুনতে পাবে, একটি নতুন ছেলের মুখে।

    লতা জিগ্যেস করল,—নতুন ছেলেটি কে?

    বললাম—তার নাম ললিত, এই প্রথম ছবিতে হিয়োর পার্ট পেয়েছে। ভারি ভাল ছেলে, আমি তাকে ছেলেবেলা থেকে চিনি। তার বড় ইচ্ছে শিক্ষিত ভদ্রসমাজে মেলামেশা করে।

    লতা বলল—তবে তাঁকে নিয়ে আসেন না কেন?

    আমি বললাম—সে সিনেমার অভিনেতা—তাকে তোমরা ভদ্রসমাজে মেশবার অযোগ্য মনে করতে পার, তাই সাহস করে আনিনি।

    লতা বললে—কিন্তু তিনি যদি ভদ্রলোক হন তাহলে অযোগ্য মনে করব কেন? বললাম-তুমি না করলেও তোমার বাবা মনে করতে পারেন। বাজারে সিনেমার লোকের সুনাম নেই।

    লতার বাবা ঘরেই ছিলেন, আমি তাঁর পানে তাকালাম; কিন্তু তিনি হাঁ না কিছুই বললেন না, তাঁর নির্বিকার মুখ দেখেও বুঝতে পারলাম না তাঁর মনের ভাবটা কি। কারণ, লতা যাই বলুক, গৃহস্বামীর অমতে একজন আগন্তুককে তাঁর বাড়িতে নিয়ে যেতে পারি না।

    কিন্তু তার চোখ একটু খর হয়ে উঠল। সে বলল—সিনেমার লোক সবাই মন্দ হয়? তবে যে বললেন ইনি ভদ্রলোক?

    আমি বলিলাম—ললিত যে ভদ্রলোক আমি তার জামিন হতে পারি।

    লতা বলল—তবে কেন বাবা আপত্তি করবেন? উনি আপত্তি করলেও আমি শুনব না।

    লতার বাবা একটু হাসলেন, বললেন—শুনলেন তো আধুনিকা মেয়ের কথা! তারপর ঘড়ির দিকে চেয়ে উঠে দাঁড়ালেন। সহজ স্বরে বললেন—আপনি তাকে নিয়ে আসবেন, আমার কোনও আপত্তি নেই।

    ললিতকে ভাল ছেলে বলেছিলাম, এ কথার মধ্যে এতটুকু অত্যুক্তি ছিল না। আমার গাঁয়ের ছেলে, আমি তাকে একরত্তি বেলা থেকে দেখেছি—যেমন শান্তশিষ্ট তেমনি বুদ্ধিমান। তার বাপ ব্রাহ্মণ পণ্ডিত মানুষ ছিলেন, তাই বাড়ির শিক্ষা-দীক্ষা ভালই হয়েছিল। আজকাল বেশীর ভাগ ছেলেরই মনে আদর্শ-বিভ্রাট ঘটেছে দেখা যায়। বিলিতী কালচার আর দেশী সংস্কৃতির ভেজালে এক কিম্ভুতকিমাকার চরিত্র তৈরি হয়; তারা হাত তুলে নমস্কার করবার বিদ্যেটাও ভুলে গেছে, আবার শেকহ্যান্ড করবার কায়দাটাও আয়ত্ত করতে পারেনি। ললিতের চরিত্রে কিন্তু দেশী বিলিতী। সংস্কারের গঙ্গা যমুনা সঙ্গম হয়েছিল। তার মনটা যেমন ছিল খাঁটি দেশী, তেমনি আচার ব্যবহার দেখে তাকে সেকেলে বলে মনে হত না, বরং একটু বেশী মাত্রায় আধুনিক বলে মনে হত। প্রাচ্য এবং প্রতীচ্যের, একাল ও সেকালের সুন্দর সমম্বয় হয়েছিল তার মনে।

    ললিত কলকাতায় বি. এ. পড়ছিল হঠাৎ তার বাবা মারা গেলেন। আর্থিক অবস্থা ভাল ছিল না, ললিতকে লেখাপড়া ছেড়ে দিতে হল। চাকরির সন্ধানে আমার কাছে এল। তখন আমিই চেষ্টা চরিত্র করে তাকে সিনেমায় ঢুকিয়ে দিলাম। তার চেহারা ভাল; একেবারে নব কার্তিক না হলেও পরিপূর্ণ স্বাস্থ্যের সঙ্গে এমন একটি মিষ্টি কমনীয়তা ছিল যে দেখলেই ভাল লাগে। তাকে সিনেমায় ঢোকাতে বেশী বেগ পেতে হয়নি, যদিও সে গান গাইতে জানত না।

    প্রথম বছরখানেক শিক্ষানবিশীতে কেটে গেল, দুএকটা ছোট ভূমিকায় অভিনয় করল। তারপর সে হিরোর পার্ট পেল।

    এই সময় আমাদের গল্পের আরম্ভ। ললিত তখন ওয়েলেসলি অঞ্চলে ছোট্ট একটি ফ্ল্যাট ভাড়া করে থাকে। ভারি ছিমছাম পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ফ্ল্যাট; ললিতের সৌখীন স্বভাবের ছাপ তার প্রত্যেকটি টুকিটাকিতে পরিস্ফুট। একলা মানুষ, তাই মাইনে তখন খুব বেশী না পেলেও বেশ স্টাইলে থাকত।

    কিন্তু তার মনে একটা দুঃখ ছিল, সিনেমার লোকের সঙ্গে সে প্রাণ খুলে মেলামেশা করতে পারত না। কাজের সময় সে সকলের সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করত, কিন্তু একটু ছুটি পেলেই আমার কাছে পালিয়ে আসত। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে আমার সঙ্গে গল্প করত, গিন্নির সঙ্গে ফস্টিনষ্টি করত। ক্রমে আমি তার মনের অবস্থা বুঝতে পারলাম। জল বিনে মীনতার শিক্ষা এবং রুচি যে পরিবেশ কামনা করে, সে পরিবেশ তার কর্মক্ষেত্রে নেই! তাই তার প্রাণ হাঁপিয়ে উঠেছে; তাই আমার কাছে ছুটে ছুটে আসে।

    কিন্তু আমাকেও কাজকর্ম করতে হয়, ঘণ্টার পর ঘণ্টা তার সঙ্গে গল্প করলে আমারই বা চলে কি করে? বুদ্ধিটা প্রথমে আমার মাথায় এসেছিল, ললিত মুখ ফুটে কোনও দিন কিছু বলেনি। আমি ভাবলাম, তাদের সমাজে একবার যদি তাকে জুটিয়ে দিতে পারি তাহলে আর তার কোনও দুঃখ থাকবে না, নিজের মনের মত বন্ধু-বান্ধবী ও নিজেই যোগাড় করে নিতে পারবে। ও যে নিজেকে অভিজাত সমাজে বেশ ভালভাবেই মানিয়ে নিতে পারবে সে বিষয়ে আমার মনে কোনও সন্দেহই ছিল না। ওর মত সুমার্জিত ব্যবহার অতি বড় সভ্য সমাজেও খুব বেশী পাওয়া যায় না।

    কথাটা তুলতেই সে আহ্লাদে লাফিয়ে উঠল। তারপর একদিন বিকেলবেলা তাকে তাদের বাড়ি নিয়ে গেলাম।

    লতা তার গোলাপ বাগানে একটা ঝারি নিয়ে ফুলগাছের গোড়ায় জল দিচ্ছিল; আমরা গিয়ে দাঁড়াতেই সে একদৃষ্টে ললিতের মুখের পানে চেয়ে রইল। ললিত হাত তুলে নমস্কার করল। আমি দেখলাম, লতার হাতের ঝারিটা থেকে জল ঝরে তার পা ভিজিয়ে দিচ্ছে; কিন্তু সেদিকে তার লক্ষ্য নেই। আমি সাহিত্যিক মানুষ, আমার মনে একটা কবিত্বময় প্রশ্ন উদয় হল-লতার পদমূলে অজ্ঞাতে যে-জল ঝরে পড়ছে তার ফলে লতার ফুল ধরবে নাকি?

    সেদিন বেশীক্ষণ রইলাম না, লতা আর ললিতের পরিচয় করিয়ে দিয়ে চলে এলাম। তাড়াতাড়ি চলে আসার কারণ আমার মনের মধ্যে হঠাৎ একটা ব্যাপার ঘটেছিল। কিছুদিন থেকে একটা উপন্যাসের প্লট আবছায়া ভাবে আমার মাথার মধ্যে ঘুরছিল; আজ লতার বাগানে, কি করে জানি না, গল্পটাকে হঠাৎ আগাগোড়া চোখের সামনে দেখতে পেলাম। এমন আমার মাঝে মাঝে হয়; অবচেতন মন থেকে পরিপূর্ণ গল্পটি সমুদ্রোপ্তবা উর্বশীর মত উঠে আসে। তখন রবীন্দ্রনাথের ভাষায়, সহসা এ জগৎ ছায়াবৎ হয়ে যায়। আর কিছু ভাল লাগে না; আমার বাসার ছোট্ট ঘরে কাগজ কলম-সাজানো একটি টেবিল আমাকে টানতে থাকে।

    সেদিন চলে এলাম। তারপর কিছুদিন আর লতাদের ওদিকে যাওয়া ঘটে ওঠেনি। নিজের উপন্যাসে মগ্ন হয়ে আছি। ললিত মাঝে দুএকবার এসেছিল; তার কাছে শুনলাম সে এখন ওদের সমাজে মিশে গেছে। এইভাবে কয়েক মাস কেটে গেল।

    মাসচারেক পরে হঠাৎ একদিন বিকেলবেলা ললিত এসে হাজির; মুখে উত্তেজনাভরা হাসি। বলল—আপনি বোধহয় ভুলে গেছেন, আজ আমাদের ছবির উদ্বোধন। চলুন ইন্দুদা, আপনাকে দেখিয়ে আনি। বৌদি, আপনিও চলুন না।

    গিন্নি যেতে পারলেন না। কোলের ছেলেটা বাসেছে; আমি একাই ললিতের সঙ্গে গেলাম। তার মুখে আমার গানগুলো কেমন ওত্রালো শোনবার ইচ্ছে হল।

    বেরুবার সময় ললিত গিন্নিকে বলে গেল—ইন্দুদা ছবি দেখে আমার বাসাতে খাওয়া-দাওয়া করে ফিরবেন। একটু রাত হবে, আপনি যেন ঘাবড়াবেন না।

    ছবিঘরে খুব ভিড়; উদ্বোধন রজনীতে যেমন হয়ে থাকে। তখনও ছবি আরম্ভ হয়নি; ললিত আমাকে ওপরে নিয়ে গিয়ে একটা বক্সে বসিয়ে দিল। দেখলাম, বক্স আর ব্যালকনি অভিজাত সমাজের স্ত্রীপুরুষে ভরা। ললিত তাদের মধ্যে ঘুরে ঘুরে গল্পগাছা করতে লাগল। সে বেশ জমিয়ে নিয়েছে তাতে সন্দেহ নেই। আশ্চর্য হলাম, না; ললিত যেরকম মিষ্টি স্বভাবের ছেলে তাতে যে-কোনও সমাজে সে জনপ্রিয় হতে পারে।

    ছবি আরম্ভ হল। দেখলাম ছবিটি ভালই হয়েছে, গানগুলি ললিতের মুখে বেশ মানিয়েছে। আর সব চেয়ে ভাল লাগল ললিতের সহজ সাবলীল অভিনয়। তার চেহারায় বোধহয় একটা জিনিস আছে, যাকে ইংরাজিতে বলে sex appeal; সেটা এক্ষেত্রে মেয়েদের কাছেই বেশী ধরা পড়বার কথা, আমার আন্দাজ মাত্র। মোট কথা মেয়েরা যে তাকে খুবই পছন্দ করেছিলেন তার পরিচয় সে রাত্রে পেলাম; কিন্তু সে পরের কথা। ছবি দেখে বুঝতে বাকি রইল না যে ললিতের কপাল খুলেছে, এবার তাকে নিয়ে পরিচালক মহলে কাড়াকাড়ি পড়ে যাবে।

    ছবি শেষ হলে ললিত আমাকে তার বাসায় নিয়ে গেল। ললিতের বাসায় মাত্র একটি চাকর, সে-ই রান্নাবান্না করে। বাসায় পৌঁছে ললিত চাকরকে ছুটি দিয়ে দিলে; চাকর রাত্রির শোতে। মালিকের ছবি দেখতে যাবে।

    টেবিলের ওপর খাবার সাজানো ছিল, আমরা খেতে বসলাম। ললিতের বাসায় তিনটি ঘর—শোবার ঘর–বসবার ঘর আর ডাইনিং রুম। ঘরগুলি ভারি সুরুচির সঙ্গে সাজানো। একটু বিলিতী ঘেঁষা কিন্তু উকট সাহেবিয়ানা নেই; দেশী আরামের সঙ্গে বিলিতী পরিচ্ছন্নতা মিশেছে; ভারি ভাল লাগল।

    খেতে বসে ললিত খুব উৎসাহ আর উত্তেজনার সঙ্গে কথা কইতে লাগল। নবলব্ধ সিদ্ধি আর খ্যাতি মানুষকে আনন্দে অধীর করে তোলে, কিন্তু লক্ষ্য করলাম, সে তার উদ্দীপ্ত আনন্দের মধ্যেই মাঝে মাঝে অন্যমনস্ক হয়ে পড়ছে। থেকে থেকে একটা অস্বস্তির ভাব তার মুখে ফুটে উঠছে। কিছু বুঝতে পারলাম না; ভাবলাম ললিত ভারি বিনয়ী ছেলে, অহঙ্কারের লেশমাত্র তার শরীরে নেই; তাই সে এই হঠাৎ পাওয়া গৌরব হজম করতে পারছে না। রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন, জয় করে তবু ভয় কেন তোর যায় না; ললিতের মনের অবস্থাও বোধহয় অনেকটা সেই রকম।

    খাওয়া শেষ করে উঠতে পৌনে এগারোটা বাজল। ভাবলাম, আর দেরি নয়, এবার উঠে পড়ি; কিন্তু ললিত কোথা থেকে এক গড়গড়া যোগাড় করেছিল; খাম্বিরা তামাক সেজে যখন গড়গড়ার মাথায় বসিয়ে দিলে তখন আর পারলাম না। বসবার ঘরে কৌচের ওপর আড় হয়ে আবার গল্প আরম্ভ হল।

    তারপর কখন এগারোটা বেজে গেছে; আমাদের আগড়ুম বাগড়ম গল্প চলছে। হঠাৎ এক সময় ললিত জিগ্যেস করল—ইনুদা, আজ সিনেমায় লতাকে দেখেছিলেন?

    আমি বললাম-লতাকে? কই না। সে এসেছিল নাকি?

    ললিত বলল—হুঁ। আমার বড় ভয় করছে ইন্দুদা। সে হয়তো একটা কাণ্ড করে বসবে।

    উঠে বসে বললাম—কী কাণ্ড করে বসবে? তোমাদের ব্যাপারে তো আমি কিছুই জানি না। সব খুলে বল।

    ললিত একটা ঢোক গিলে বলল—আপনি তো লতার সঙ্গে আমার পরিচয় করিয়ে দিয়ে চলে এলেন। তারপর—তারপর অনেক ব্যাপার ঘটেছে।

    ললিতকে জেরা করে সব কথা বার করতে হল। প্রথম সাক্ষাতের সঙ্গে সঙ্গেই লতার সমস্ত মন ললিতের ওপর গিয়ে পড়ে; যেন এতদিন ললিতের জন্যই সে পথ চেয়ে ছিল। লতা মনের কথা গোপন করতে পারে না, চেষ্টাও নেই। অল্পদিনের মধ্যেই ললিত বুঝতে পারল লতা তাকে পাবার জন্যে ক্ষেপে উঠেছে। ললিতের অবস্থা শোচনীয়। ললিত লতাকে খুবই পছন্দ করে; কিন্তু লতার দুরন্ত হৃদয়াবেগ দেখে তার ভয় করে—সে লতাকে এড়িয়ে চলে। আজ সিনেমায় ছবি শেষ হবার পর ক্ষণেকের জন্য তাদের দেখা হয়েছিল; লতা এমনভাবে একদৃষ্টে তার মুখের পানে তাকিয়েছিল যে ললিতের ভয় হয়েছিল বুঝি শহরসুদ্ধ লোকের সামনে একটা কেলেঙ্কারী কাণ্ড করে বসে। প্রবল নেশায় মানুষের যেমন হিতাহিত জ্ঞান থাকে না লতার চোখে সেই দৃষ্টি। দুএকটা কথা বলেই ললিত পালিয়ে এসেছে।

    ভালবাসার পাত্রকে নাটকের নায়করূপে দেখলে বোধ হয় অনুরাগ আরও বেড়ে যায়। সব শুনে আমি বললাম-কিন্তু তোমার পালিয়ে বেড়াবার কী দরকার কুঝতে পারছি না। লতা যখন তোমাকে বিয়ে করতে চায় তখন তাকে বিয়ে করলেই তো ল্যাটা চুকে যায়। তাকে তো তোমার অপছন্দ নয়?

    ললিত বলল—আপনি বুঝছেন না ইন্দুদা। লতা খুব ভাল মেয়ে, তার মনে ছলাকলা নেই—তাকে আমার বড় ভাল লাগে; কিন্তু ভাল লাগলেই তো চলে না। লতা বড় ঘরের মেয়ে, বড় মানুষের মেয়ে; আর আমি সিনেমা অ্যাক্টর। আমি কোন মুখে লতার বাবার কাছে বিয়ের প্রস্তাব করব? তিনি বোধহয় তার মনের ভাব বুঝতে পেরেছেন, আজকাল আমাকে দেখলেই সন্ত্রস্ত হয়ে ওঠেন। তা থেকেই বুঝতে পারি আমাকে তিনি লতার উপযুক্ত পাত্র মনে করেন না, হয়তো লতাকে আমার সঙ্গে মিশতে দিয়ে মনে মনে পস্তাচ্ছেন—

    এই সময় ঘড়ির ওপর চোখ পড়ল, দেখি সাড়ে এগারোটা। লতা এবং ললিতের প্রসঙ্গ খুবই জটিল হয়ে উঠেছে বটে, কিন্তু আর দেরি করা চলে না। আমি উঠে পড়লাম, বললাম—দিব্যি জট পাকিয়েছ দেখছি। রাতারাতি এ জট ছাড়ানো যাবে না, একটু ভেবে-চিন্তে দেখতে হবে। আজ উঠি।

    ললিত আমার হাত ধরে মিনতি করে বলল-আজ রাত্তিরটা থেকে যান না ইন্দুদা, কাল সকালে বাড়ি যাবেন। কত কথা যে বলবার আছে, আপনাকে বললে মনে বল পাব—

    বেচারা বড়ই বিব্রত হয়ে পড়েছে; কিন্তু আমাকে মাথা নেড়ে বলতে হল—না ভাই, তোমার বৌদি ভীতু মানুষ আমি না ফিরলে সারারাত্রি ছেলে কোলে করে বসে থাকবে। আজ ফিরতেই হবে।

    কিন্তু এত সহজে ফেরা হল না। চাদরটি গলায় দিয়ে বেরুবার উপক্রম করছি এমন সময় দরজায় খুট খুট করে টোকা পড়ল।

    ললিত চমকে উঠে বলল—কে?

    দরজার ওপার থেকে কিছুক্ষণ জবাব নেই; তারপর চাপা গলায় আওয়াজ এল—দোর খোল—আমি লতা।

    ঘরের মাঝখানে বজ্রপাত হলেও এমন স্তম্ভিত হতাম না। লতা! এই রাত্রে লতা এসেছে ললিতের নির্জন বাসায়? ফ্যালফ্যাল করে তাকালাম ললিতের মুখের পানে; সেও ফ্যালফ্যাল করে আমার পানে তাকাল। তারপর আমার কানের কাছে মুখ নিয়ে এসে বলল-কী করি আমি এখন? তার ভাব দেখে মনে হল যেন সে চোর, কোণঠাসা হয়েছে!

    আমি বললাম—দোর খুলে দাও—আর উপায় নেই। আমি পাশের ঘরে লুকোচ্ছি। আমাকে দেখলে লতা লজ্জা পাবে।

    আমি ললিতের শোবার ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিলাম। ও ঘর থেকে শব্দ পেলাম, ললিত সদর দরজা খুলে দিলে; তারপর দরজা আবার বন্ধ হল। তারপর আর সাড়াশব্দ নেই।

    আমি অন্ধকারে দাঁড়িয়ে বোকার মত এদিক ওদিক তাকাচ্ছি, হঠাৎ নজরে পড়ল দরজার চাবির ফুটো দিয়ে আলো আসছে।

    লোভ সামলাতে পারলাম না।

    ললিত দাঁড়িয়ে আছে ঘরের মাঝখানে, আর তার পানে চেয়ে লতা সদর দরজার কাছে দাঁড়িয়ে আছে; তার মুখের ওপর পড়েছে বিদ্যুৎবাতির লজ্জাবিদারী আলো। লতার সে মুখ আমি জীবনে ভুলব না। আমি সাহিত্যিক, প্রেম নিয়েই আমার কারবার; কিন্তু এমন তীব্র সর্বগ্রাসী প্রেম যে মানুষ অনুভব করতে পারে তা চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না। আমি আড়াল থেকে লুকিয়ে লুকিয়ে দেখছি, তবু আমারই যেন দম বন্ধ হয়ে আসবার উপক্রম হল।

    তারপর লতা ছুটে গিয়ে ললিতের বুকের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। আর তারপর—সে কী চুম্বন! বিলিতী সিনেমাতেও এমন চুম্বন কখনও দেখিনি; যেমন দীর্ঘ তেমনি জ্বালাময়। অভিনয়ে ও জিনিস হয় না; একটি চুম্বনে নিজেকে সর্বস্বান্ত করে বিলিয়ে দেওয়া বাস্তবেও কদাচিৎ হয়।

    ফুটো থেকে চোখ সরিয়ে নিতে হল।

    কিছুক্ষণ কাটবার পর দুজনের গলার আওয়াজ শুনতে পেলাম। খুব স্পষ্ট নয়—ছাড়া-ছাড়া ভাঙা-ভাঙা-লতাই বেশী কথা বলছে…তুমি আমাকে চাও না?…একটুও ভালবাস না? কিন্তু আমি তো তোমাকে…।

    ললিত বলছে…লতা, আমি তোমাকে ভালবাসি…তোমাকে বিয়ে করতে চাই। কিন্তু তোমার বাবা…

    আমি ফুটোতে কখনও চোখ লাগাচ্ছি, কখনও কান। লতা দুহাত দিয়ে ললিতের গলা জড়িয়ে ধরেছে, ললিতও একটা বাহু দিয়ে তার কাঁধ বেষ্টন করে ধরেছে; মুখোমুখি কথা হচ্ছেলতা বলছে…আমি আজ সারা রাত্রি তোমার কাছে থাকব…তাহলে তো বাবা আপত্তি করতে পারবেন না…আমার লজ্জা নেই, কিছু নেই, আমি তোমার কাছে থাকব–

    ললিত একবার চকিতে শোবার ঘরের দোরের দিকে তাকাল। তারপর তার কানে কানে কি বলল। লতাও বিস্ফারিত চোখে দোরের দিকে তাকাল, তারপর ক্ষোভে দাঁত দিয়ে নিজের ঠোঁট। কামড়ে ধরল। বুঝলাম, আমার কথা হচ্ছে–

    ফুটো থেকে সরে গিয়ে ললিতের বিছানার ওপর বসলাম। যুবক যুবতীর দুর্বার হৃদয়াবেগ বেশী বয়সে সহ্য হয় না, স্নায়ু ক্লান্ত হয়ে পড়ে। যাহোক, মিনিট পাঁচেক বসে থাকবার পর সদর দরজা খোলার শব্দ পেলাম। তার কিছুক্ষণ পরে ললিতের ভাঙা গলার আওয়াজ এল-ইন্দুদা, বেরিয়ে আসুন, লতা চলে গেছে।

    তখন বারোটা বেজে গেছে। বেরিয়ে এসে দেখলাম ললিতের মুখখানা ফ্যাকাসে। সে কোচের ওপর বসে পড়ল, কিছুক্ষণ মুখ ঢেকে বসে রইল। তারপর মুখ তুলে বলল—এই ভয়ই আমি করেছিলাম ইন্দুদা; কিন্তু এখন উপায় কি বলুন।

    বললাম-বিয়ে করা ছাড়া উপায় নেই।

    লতার বাবা আমার সঙ্গে বিয়ে দেবেন না।

    চেষ্টা করে দেখতে দোষ কি?

    চেষ্টা করব; কিন্তু আমি জানি তিনি রাজি হবেন না। তারপর কি করব?

    আমি একটু অধীর হয়ে পড়লাম। মনে মনে আদর্শবাদী হলেও আদর্শ নিয়ে মাতামাতি করা আমার সহ্য হয় না। বললাম—লতা তোমাকে যে সুযোগ দিয়েছিল তা যদি তুমি নিতে তাহলে সব সমস্যাই সহজ হয়ে যেত। এখনও সে পথ খোলা আছে—

    ললিতের ফ্যাকাসে মুখ হঠাৎ লাল হয়ে উঠল। সে আমাকে ধিক্কার দিয়ে বলল—ছি ইন্দুদা, আমাকে এমন ছোটলোক মনে করেন আপনি? বাপ-পিতামর রক্ত নেই আমার শরীরে? মরে। গেলেও আমি তা পারব না।

    তবে আর কোনও উপায় নেই। বলে আমি চলে এলাম।

    ললিত সে রাত্রে যে ব্যবহার করেছিল তার জন্যে তাকে নিন্দে করবার কথা বোধ হয় কারুর মনে উদয় হবে না; তার রক্তে বহু পূর্বপুরুষের সঞ্চিত শুচিতা তাকে যে শক্তি দিয়েছিল সে শক্তি সকলের নেই তা আমি জানি; কিন্তু তবু আমার মনটা সন্তুষ্ট হতে পারল না। লতা আর ললিতকে আমিই একত্র করেছিলাম; তাদের মন নিয়ে আজ যে জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে তার জন্যে খানিকটা দায়িত্ব। আমার আছেই। অথচ এই জটিলতার গ্রন্থিচ্ছেদ কি করে করব ভেবে পেলাম না। লতার ব্যবহার আমি সমর্থন করি না, তাকে আদর্শ মেয়ে বলেও মনে করি না; তাকে ঘৃণা করবার মত মনের জোরও আমার নেই। তার ঐকান্তিক আত্ম-বিস্মৃতি একটি সুখময় সৌরভের মত চিরদিন আমার মনে গাঁথা হয়ে থাকবে; কিন্তু ওদের মিলন ঘটাবার জন্যে আমি কি করতে পারি? লতার বাবাকে আমার কোনও কথা বলতে যাওয়া ধৃষ্টতা। মাঝে মাঝে মনে হতে লাগল, যদি আমি ললিতের বাসায় এত রাত্রি পর্যন্ত না থাকতাম তাহলে জৈব নিয়মে সমস্যার সমাধান আপনিই হয়ে যেত—বিধাতার ঘূর্ণি হাওয়া যেমন নিজের প্রচণ্ডতার বলেই পৃথিবীর বন্ধ কলুষভরা আবহাওয়াকে পরিষ্কার করে দেয় না তেমনি ওদের জীবনের গুমও কেটে যেত; কিন্তু বিধাতার বোধ হয় তা ইচ্ছে নয়।

    এদিকে আমার ভাগ্যেও যে বিধাতার ঘূর্ণি হাওয়া ঘনিয়ে এসেছে তা তখনও টের পাইনি। দুচার দিন কেটে গেল; ললিত বা লতার আর দেখা নেই। এদিকে উপন্যাসখানা শেষ করে ফেলেছি, এমন সময় বোম্বাই থেকে ডাক এল। ঘূর্ণি হাওয়ায় গাছের পাতা যেমন বোঁটা থেকে ছিঁড়ে উড়ে যায়, আমি তেমনি উড়ে এসে বোম্বাইয়ে পড়লাম। সেই থেকে বোম্বাইয়ে আছি। ইতিমধ্যে লতা বা ললিতের আর কোনও খবর পাইনি। তাদের জীবনের পরম সমস্যা কি করে সমাধান হল, অথবা সমাধান হল কিনা তার কিছুই জানি না।

    কয়েক মাস আগে একবার কলকাতা যেতে হয়েছিল; গিয়ে দিন দশেক ছিলাম।

    একদিন সকালবেলা ললিতের সঙ্গে দেখা করতে গেলাম। ললিত এখন মস্ত আর্টিস্ট, অনেক টাকা রোজগার করে; কিন্তু সেই পুরানো বাসাতেই আছে।

    আমি গিয়ে দেখি, ললিত সবে ঘুমিয়ে উঠেছে; চুল উস্কখুস্ক, দাড়ি কামায়নি, বসবার ঘরে একলা চা খাচ্ছে। আমাকে দেখে ভূত দেখার মত চমকে উঠল। তারপর সামলে নিয়ে তাড়াতাড়ি আমার পায়ের ধুলো নিলে।

    ললিতের ঘরের আর সে ছিমছাম ভাব নেই। ললিতও এই পাঁচ বছরে অনেক বদলে গেছে। চেহারা যে খুব খারাপ হয়েছে তা নয়, কিন্তু কান্তি নেই। সব চেয়ে বেশী পরিবর্তন হয়েছে তার মনে; আগে যা তালশাঁসের মত কচি ছিল তাই আঁটির মত শক্ত হয়ে উঠেছে। এই পরিবর্তনটাই। আগে চোখে পড়ে।

    ললিত প্রথমে আমার চোখে ধূলো দেবার চেষ্টা করল, অভিনয় করতে লাগল যেন সে আগের মতই আছে; কিন্তু অভিনয় বেশীক্ষণ টিকল না, হঠাৎ এক সময় ভেঙে পড়ল। সে বলল—ইন্দুদা, আপনি বোধহয় বুঝতে পেরেছেন। আমি বয়ে গেছি—মদ ধরেছি। এই বলে ঝরঝর করে কেঁদে ফেলল।

    বুঝতে আমি পেরেছিলাম। শুধু মদ নয়, সব রকম দোষই তার হয়েছে কিন্তু তবু সে বেপরোয়া বেলেল্লা হয়ে যায়নি। আদর্শ ভ্রষ্ট হওয়ার লজ্জা আর ধিক্কার তার মনে রয়েছে।

    কিছুক্ষণ পরে ঠাণ্ডা হয়ে সে আস্তে আস্তে সব কথা বলল। লতার বাবার কাছে সে বিয়ের প্রস্তাব করেছিল কিন্তু তিনি রাজি হননি। তারপর হঠাৎ একদিন তাকে নিয়ে তিনি বিলেত যাত্রা করেছিলেন। মাস ছয়েক আর তাঁদের কোনও খোঁজ খবর ললিত পায়নি। ছমাস পরে একেবারে মেয়ে জামাই নিয়ে তার বাবা দেশে ফিরে এলেন। জামাই একজন নবীন বার-অ্যাট-ল।

    লতার বাবার চরিত্রের কথা ভাবতে লাগলাম। বিপদে পড়লেই মানুষের প্রকৃত স্বরূপ ধরা পড়ে। তিনি কম বয়সে সাহেবিয়ানা করেছিলেন; মাঝে রক্তের জোর কমবার পর দেশের পুরোনো সংস্কৃতি তাঁকে টেনেছিল; কিন্তু যেই তিনি বিপদে পড়লেন অমনি ছুটে গেলেন যৌবনের পরিচিত ক্ষেত্রে। দলের পাখি একটু শঙ্কিত হলেই নিজের দলে ফিরে যেতে চায়।

    লতার সঙ্গে তারপর আর ললিতের দেখা হয়নি। সমাজে মেশা ললিত ছেড়ে দিয়েছে। প্রথম কিছুদিন সে বেশ শক্ত ছিল। তারপর একদিন কখন্ তার মনের মধ্যে একটা সুতো ছিঁড়ে গেল, সংস্কার আর তাকে তার আদর্শের কোলে ধরে রাখতে পারল না; বাপ পিতামহের রক্ত ভেসে গল। মন যতই শক্ত হোক, প্রত্যেক মানুষের জীবনেই এমন সময় আসে যখন মনে হয় বুঝেছি ভাই সুখের মধ্যে সুখ, মাতাল হয়ে পাতাল পানে ধাওয়া।

    যেদিন ললিত লতাকে মুঠোর মধ্যে পেয়ে ছেড়ে দিয়েছিল সেদিন তার বিচার করিনি, আজও তাকে বিচার করবার স্পর্ধা হল না।

    তার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে চলে আসছি, ললিত হঠাৎ বলল—আচ্ছা ইন্দুদা, সে রাত্রে যদি লতার কথা শুনতাম তাহলেই বোধহয় ভাল হত—না? অন্তত বয়ে যেতাম না।

    আমি বললাম-ভাই, এ দুনিয়ায় কিসে যে ভাল হয় আর কিসে মন্দ হয় তা আমি আজ পর্যন্ত বুঝে উঠতে পারিনি। তবে দেখেছি, বেশীর ভাগ সময়েই ভাল করলে মন্দ হয়; কিন্তু তা বলে সবাই মিলে মন্দ করলেই যে মানবজাতি উদ্ধার হয়ে যাবে এ বিশ্বাসও আমার নেই। গীতায় শ্রীভগবানই খাঁটি কথা বলেছেন—মা ফলেষু।

    দোর পর্যন্ত এসে জিগ্যেস করলাম—লতারা কোথায় আছে জানো।

    ললিত বলল—শুনেছি ল্যান্সডাউন রোডের বাড়িতেই আছে। লতার বাবা বিলেত থেকে ফিরে আসবার কিছুদিন পরেই মারা গেছেন। এই বলে সে একটু তিক্ত হাসল।

    .

    সেদিন সন্ধ্যেবেলা ল্যান্সডাউন রোডের বাড়িতে লতাকে দেখতে গেলাম।

    বাড়ি বাগান ঠিক আগের মতই আছে, কিচ্ছু বদলায়নি। লতাও ঠিক তেমনি আছে, তার স্বভাবে কোনও পরিবর্তন হয়নি। শুধু এই কয় বছরে তার দেহ-মন আরও পরিণত হয়েছে, পরিপূর্ণ হয়েছে।

    আমাকে আগের চেয়েও বেশী আদর যত্ন করল। কত কথা জিজ্ঞাসা করল—বোম্বাইয়ে কেমন আছি—কি করছি–কত টাকা রোজগার করি—এই সব। আমাকে অনেকদিন পর পেয়ে তার যেন আনন্দ ধরে না। সরল প্রাণের অকুণ্ঠ আনন্দ।

    কিছুক্ষণ পরে একটি বছর তিনেকের মেয়ে ছুটে এসে তার হাঁটু জড়িয়ে দাঁড়াল। ফুটফুটে সুন্দর মেয়েটি, লতার মত নির্ভীক স্বচ্ছ দুটি চোখ। লতা বলল—আমার মেয়ে। ওর নাম ললিতা।

    আমি চমকে লতার মুখের পানে তাকালাম। লতা আমার চোখের চকিত প্রশ্ন বুঝতে পারল; একটু হেসে মাথা নেড়ে বলল—আপনি যা ভাবছেন তা নয়—ও আমার স্বামীর মেয়ে।

    আমার কান লাল হয়ে উঠল। লতা তখন মেয়েকে বলল—যাও ললি, খেলা করগে।

    ললিতা চলে গেল। কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে আমি সঙ্কুচিতভাবে বললাম—লতা, যা হতে পারত তার জন্যে তোমার মনে কি কোনও দুঃখ নেই?

    লতা সরলভাবে বলল—আগে ছিল, এখন আর নেই। যা পাব না তার জন্যে কেঁদে কি হবে। মাস্টারমশাই? কিন্তু ভুলিনি। ভুলতে চাইও না। তাই মেয়ের নাম রেখেছি ললিতা।

    তবু আবার জিগ্যেস করলাম—তুমি মনের সুখে আছ?

    সে একটু যেন অবাক হয়ে বলল-মনের সুখে থাকব না কেন?

    তারপর লতার স্বামী এলেন। ঢিলা পায়জামা ও ড্রেসিং গাউন পরা সুপুরুষ যুবক। লতা পরিচয় করিয়ে দিল—ইনি আমার মাস্টারমশাই—এঁর কথা তোমাকে বলেছি–বলে এমনভাবে স্বামীর মুখের পানে তাকাল যে বুঝতে পারলাম, সেই রাত্রির কথাও লতা স্বামীর কাছে গোপন রাখেনি।

    লতার স্বামী হাসিমুখে আমায় অভ্যর্থনা করলেন। শেষে স্ত্রীকে বললেন-লতা, ওঁকে সহজে ছেড় না, রাত্রি ডিনার খেয়ে যাবেন। আমার এখন থাকবার উপায় নেই, বাইরের ঘরে মক্কেল বসে আছে; কিন্তু ওঁকে যদি গান গাইতে রাজি করতে পার তাহলে আমি যেন বঞ্চিত না হই। বাইরে খবর পাঠিও।

    সে রাত্রে ডিনার খেয়ে তবে ওদের হাত থেকে ছাড়া পেলাম। লতা রবীন্দ্রসঙ্গীত গাইবার জন্যে ঝুলোঝুলি করেছিল, কিন্তু রবীন্দ্রসঙ্গীত সেদিন আমার গলা দিয়ে বেরুল না। রামপ্রসাদের বল মা তারা দাঁড়াই কোথা গেয়ে ফিরে এলাম।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমনচোরা – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    Next Article রিমঝিম – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    Related Articles

    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    কবিতাসংগ্রহ – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    দাদার কীর্তি – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিষের ধোঁয়া – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    ঝিন্দের বন্দী – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    রিমঝিম – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    মনচোরা – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }