Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    জেমস হেডলি চেজ রচনা সমগ্র ১ (অনুবাদ : পৃথ্বীরাজ সেন)

    জেমস হেডলি চেজ এক পাতা গল্প2631 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৪. নোংরা আর অগোছালো

    ০৭.

    গ্রেনভিল চলে যেতে দেখলো আর্চাকে। তারপর নোংরা আর সেই অগোছালো ঘরে ঢুকে বসলো, অন্তত এক ঘন্টা লাগবেইআর্চারের ফিরতে। ওঈর্ষাকরেনা আর্চারকেও বুঝতে পেরেছে। এতো দিনে, যেন পুরোটাই হেলগা ইস্পাত দিয়ে তৈরী। কিন্তু আত্মবিশ্বাসও তো আর্চারের কম নয়। গ্রেনভিলকে যে পাগলের মতো হেলগা ভালোবেসেছে, এ বিষয়ে দ্বিমত থাকতে পারে না, শুধু যেন আর্চার ওর সঙ্গে ভালো ব্যবহার করে, গ্রেনভিল এটুকুই চাইছিলো। আর বুঝতে পেরেছিলো এটাও সে রাখতে পারে আর্চারের ওপর পূর্ণ বিশ্বাস। তবে এটাও ঠিক হাতে টাকা না আসা পর্যন্ত নজর রাখতে হবে আর্চারকে। অতোগুলো টাকার ব্যাপার সাবধান না হওয়াটাই বোকামী।

    ধরালো সিগ্রেট, আর্চার মনে মনে চিন্তা করতে লাগলো। পার হয়েছেক্যাসারেট,এবার এগোচ্ছে কাস্টাগনোলার দিকে। ঘড়ি দেখলো আর দশ মিনিটের মধ্যে হেলগার বাড়ি পৌঁছে যাবে আর্চার। বাজে এরকম বাড়িতে সে কি কষ্টে দিন কাটাবে ভাবাই যায় না, সঙ্গে সঙ্গে সাবধান বানীটা আর্চারের মনে পড়ে গেলো, যেন কেউ তাকে না দেখে। যদি কেউ দেখে ফেলে, তবে ভেস্তে যাবে সব ব্যাপারটাই। খুব কাজের বলে সুনাম আছে সুইজারল্যান্ডের পুলিশের। যে পুলিশটা সেই পার্কিং নিয়ে ঝঞ্ঝাট করেছিলো তার কথা গ্লেনভিলের মনে পড়ে গেলো। খুব রাগ হতে লাগলো নিজের ওপরেই। সেদিন বোকার মতো ব্যবহার করেছিলো, ওর নাম ঠিকানা সব টুকে রেখেছে পুলিশটা, চিনতেও পারবে। যাকগে আর লাভ নেই ভেবে। ও জেনিভা এয়ারপোর্টে যাবে তিনদিন পরে, নিউইয়র্কে পাড়ি দেবার জন্যে। সেখান থেকে মিয়ামি বীচে, কয়েকদিন ওখানে কাটিয়ে চলে যাবে ওয়েষ্ট ইন্ডিজ।

    আচ্ছা আর্চার কি করবে-অতগুলো টাকা নিয়ে! খারাপ নয় লোকটা, তাছাড়া বুদ্ধিও রাখে। ওকে বেশ ভদ্রই দেখাবে ভালো পোষাক পরলে আর চুল ছাটলে। ধন্যবাদ ঈশ্বরকে, গ্রেনভিলকে কখনও দূরবস্থায় পড়তে হয়নি আর্চারের মত। কোনো না কোনো বুদু গোছের মহিলা সব সময়েই ওকে জুগিয়ে গেছেটাকা, তবে দশ লাখ ডলার একসঙ্গে, একেবারে গ্রেনভিল পূর্ণ স্বাধীনতা পেয়ে যাবে।

    গ্রেনভিল চমকে ফিরে তাকালো ছোট একটু শব্দে। সেগেত্তি দরজার চৌকাঠে দাঁড়িয়ে, বেলমন্ট ঠিক তার পিছনে। ভয় পেয়ে লাফিয়ে উঠে গ্রেনভিল দাঁড়ালো, এখানে কেন তোমরা? কি দরকার? আমি তো ভেবেছিলাম জেনিভা চলে গেছে তোমরা।

    সেগেত্তি ঘরের মধ্যে ঢুকে পড়ে বললো, পাল্টালাম আমরা সিদ্ধান্ত, তাই না বেলমন্ট?

    কোনো উত্তর দিলো না বেলমন্ট, ঠেসান দিয়ে দরজায় দাঁড়িয়ে গ্রেনভিলের দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে রইলো।

    তোমাদের কি দরকার? যে ঝাট বাধাতে যাচ্ছে এই ভয়ানক দেখতে লোকদুটো, এটা গ্লেনভিল বুঝতে পারলো? বসেছিলো যে চেয়ারে, সেখান থেকে সরে গেলো একটু দূরে।

    আমাদের কি দরকার? হাসলো সেগেত্তি, দরকার তোমাকে মিঃ গ্রেনভিল, তোমাকে চাই আমরা।

    তোমরা কি বলছো? হাতুড়ির শব্দ গ্রেনভিলের বুকে।

    তুমি তো বুঝতে পারো ইংরাজী ভাষাটা। আমরা চাই আমাদের সঙ্গে তুমি আসবে।

    কিছুতেই না, বন্ধ করো এইসব বাঁদরামি। তোমাদের পুরো দাম দেওয়া হয়ে গেছে। এবার কেটে পড়ো।

    টমেটো সস দিয়ে কিন্তু এবার ব্যাপারটা হবে না মিঃ গ্রেনভিল, ঘটবে সত্যি সত্যিই, সাইলেন্সার লাগানো রিভলবার সেগেত্তি বের করলো।

    গ্রেনভিলের শিরদাঁড়া দিয়ে বয়ে গেলো বরফের স্রোত। কেউ কখনো তাকে জীবনে বন্দুক নিয়ে ভয় দেখায়নি এভাবে। ছোট্ট গর্তটি সাইলেন্সারের একচক্ষু দৈত্যের মতো তাকিয়ে আছে যেন ওর দিকে। সে ভয়ে ঘামতে লাগলো।

    আমার দিক থেকে ওই জিনিষটা সরাও, মেরো না, গুলি চালিয়ো না…

    আমাদের সঙ্গে এসো, এই একটু ঘুরতে যাবো গাড়ি করে। তুমি বসবে সামনের সীটে আর আমি পিছনের সীটে। কোনরকম বোকামী যদি করতে যাও একটা বুলেট নিঃশব্দে তোমার বুকে ঢুকে যাবে।…আর মিথ্যে ভয় আমি কাউকে দেখাই না। সেগেত্তি হাসলো।

    কাঁপতে লাগলো গ্রেনভিল, শুকিয়ে গেছে মুখ, কপালে ঘাম। হাঁটতে হাঁটতে গিয়ে ওদের মাঝখানে ভক্সওয়াগনে উঠলো। বেলমন্ট স্টিয়ারিংয়ে বসলো, তারপর গ্রেনভিলকে সামনের সীটে বসিয়ে ঠিক তার পিছনের সীটে সেগেত্তি বসলো।

    আমাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছো? গ্রেনভিল খসখসে গলায় প্রশ্ন করলো, আমার কাছ থেকে কি চাও?

    মুখ শুধু বন্ধ করে রাখো, তাহলেই থাকবে চমৎকার।

    গাড়ি লেক রোডের ওপর দিয়ে যেতে লাগলো, হাত ধরে একটা পুলিশ বৃদ্ধাকে পার করে দিচ্ছিলো রাস্তা। তার দিকে সতৃষ্ণ দৃষ্টিতে গ্রেনভিল তাকালো। সেগেত্তি পিছন থেকে বললো, পাগলামি করতে যেয়ো না মিঃ গ্রেনভিল।

    গাড়ি একটা রাস্তায় মোড় নিলো পিয়াজ্জা গ্রান্দে ঢুকে। তারপর বেলমন্ট গাড়ি দাঁড় করালো কিছুদূর গিয়ে। সাবধানে নামবে মিঃ গ্রেনভিল, আমার দূরের নিশানাও খুব ভালো।

    গ্রেনডিলের মনে হচ্ছিল মুহূর্তের জন্যে গাড়ি থেকে নেমে এক দৌড়ে পালিয়ে গিয়ে চেঁচালে কেমন হয়? কিন্তু দেখলো তাকিয়ে একেবারে রাস্তা জনশূন্য, ফলে সাহস আর করলো না। পিছন পিছন সেগেত্তি নেমে এলো।

    কাঠের একটা উঁচু গেট খুলে মাথা ঝাঁকিয়ে বেলমন্ট এগোতে বললো গ্রেনভিলকে, উঠোন নোংরা, গ্রেনভিল এগিয়ে চললো। গোলা বাড়ির মতো একটা বড় বাড়ি সামনে, বেলমেন্টকে আধা অন্ধকারের মধ্যে অনুসরণ করলো। চীজ, অলিভ অয়েল ইত্যাদির কড়া গন্ধ চারপাশ থেকে ভেসে আসছে। বেলমন্ট খাড়া সিঁড়ি বেয়ে উঠে গেলো, সেগেত্তি খোঁচা মেরে মেরে গ্রেনভিলকে উঠিয়ে নিয়ে এলো। ছোট একটা খাট ঘরটায়, একটি টেবিল আর চেয়ার। বের্ণি, গ্রেনভিলকে দেখেই চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়াল আহ্, মিঃ গ্রেনভিল, দেখা হয়নি আপনার সঙ্গে, তবে একজন কমন ফ্রেন্ড আছে আমাদের দুজনেরই মিঃ আর্চার।

    গ্রেনভিলের মনে হলো, এই বেঁটে মোটা দাড়িওয়ালা ইতালীয়ানটাকে দেখে যেন লোকটা লোমে ভরা একটা বিরাট মাকড়সা, স্নান করার সময়ে পড়ে গেছে তার বাথটবে। হাসছিলো বের্ণি, কিন্তু সমুদ্রতীরে পড়ে থাকা পাথরের চকচকে টুকরোর মতো চোখ জোড়ার দিকে নজর পড়তেই ভয়ে গ্রেনভিল জমে গেলো।

    চেনন আপনি আর্চারকে? গলার স্বর গ্রেভিলের বেসুরো।

    নিশ্চয়ই। মিঃ গ্রেনভিল ভেতরে আসুন, বসুন। কথা আছে আপনার সঙ্গে।

    ঘরে কাঁপতে কাঁপতে ঢুকে গ্রেনভিল একটা আরাম চেয়ারে বসে পড়লো। সেগেত্তি তার পেছনেই আছে বেশ বুঝতে পারছিলো, আর দেওয়ালে হেলান দিয়ে বেলমন্ট দাঁড়িয়ে।

    ঠিক বুঝতে পারছি না আমি, আপনারা কি করতে চান আমাকে নিয়ে?

    একটা চেয়ারে বের্ণিও বসতে বসতে বললো, বলছি বুঝিয়ে। আমার কাছে এসে মিঃ আর্চার বলেছিলেন, মিথ্যে একটা লোক দেখানো কিডন্যাপিং করার জন্যে চাই দুজন লোক। মিঃ আর্চার বলেছিলেন কাজটা বড় ধরণের একটা রসিকতা হবে, আমি কিন্তু বিশ্বাস করিনি তা। মনে হয়েছিল আমার, লোক যোগাড় করে দেবার জন্যে পাঁচশো, আর কাজের জন্যে দুজন লোককে সে আট হাজার ফ্র দিচ্ছে, এতে অনেক বেশি হতে পারে পুলিশি হাঙ্গামার ঝঞ্জাট। দেখতে পাচ্ছি এখন, দুজনে মিলে আপনারা কুড়ি লাখ ডলার এই মহিলার কাছ থেকে আদায় করার প্ল্যান করেছেন। আর যেহেতু বুঝতে পারছি, এই কিডন্যাপ করার কাজটা আমাদের সাহায্য ছাড়া সম্ভব হতো না, তাই মনে করি আরও বেশি হওয়া উচিত আমাদের প্রাপ্য।

    আর্চারের সঙ্গে এ কথা আলোচনা করলেই ভালো হতো। কেন আমাকে জোর করে ধরে এনেছেন? একটু সাহসী হবার চেষ্টা করলো গ্রেনভিল।

    মন্দ বলেননি কথাটা, কেন ধরে এনেছি জোর করে? কারণ কিডন্যাপ করা হয়েছে আপনাকে আর মিথ্যে নয় এবার লোক দেখানো।

    চমকে উঠলো গ্রেনভিল, বুঝতে পারছি না আপনার কথা।

    মি. গ্রেনভিল, এ ব্যাপারে আপনি আর মিঃ আর্চার পেশাদার নন। তবে এমনি এক পরিস্থিতি আপনাবা সৃষ্টি করেছেন যার সঙ্গে জড়িত এক মহিলা, এবং আট কোটি ডলার আছে এই মহিলার। আপনি তো বলেছেন, আপনি ওকে হারপুনে গেঁথেছেন, সেগেত্তির দিকে বেৰ্ণি তাকালো, তাই তো ইনি বলেছিলেন সেগেত্তি?

    মাথা নাড়লো সেগেত্তি, দেখা যাচ্ছে তাহলে আপনার প্রেমে এই মহিলা হাবুডুবু খাচ্ছে। গ্রহণ করুন আমার অভিনন্দন। কিন্তু যখন এমন একজন মহিলা, যিনি আট কোটি ডলারের মালিক, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছেন তখন একমাত্র কুড়ি লাখ ডলার দাবি করে অপেশাদাররাই মনের মানুষকে ফিরিয়ে দেবার শর্তে। বুঝতে পারছেন আমার কথাটা?

    শুকিয়ে যাওয়া ঠোঁট গ্রেনভিল জিভ দিয়ে ভিজিয়ে নিলো, কিন্তু মহিলা…বড়ো কঠিন। মনে হয় আমার যথেষ্ট বিশ লাখই।

    কিন্তু সে তো গেলো আপনাদের মতো সৌখিনদের ক্ষেত্রে। পুরো আমি নিজের হাতে নেবো। রোমে আমাদের খুব পুরনো বন্ধু, এই তো কয়েকদিন আগে সত্তর লক্ষ ডলার একজনের কাছ থেকে মুক্তিপণ দাবি করেছিলো। তাও তো এই মহিলার মতো সেই লোকটা বডোলোক নয়। আর টাকাটা পেয়েও গিয়েছিল। আপনাকে ফিরিয়ে দেবার বদলে এক কোটি ডলার চাইবো আমি। তার মধ্যে সহযোগিতা করার জন্য আমার সঙ্গে পঞ্চাশ হাজার ডলার আপনাকে দেবো। ঐরকমই দেবো আর্চারকেও।

    বোবার মতো তাকিয়ে রইলো গ্রেনভিল, সহযোগিতা, তার মানে কি?

    হয়তো একটা কান বা আঙুল আপনাকে হারাতে হবে। তবে কিনা কোনো দুঃখ থাকবে না পঞ্চাশ হাজার ডলার পেলে।

    গ্রেনভিলের মুখ ভয়ে ফ্যাকাশে হয়ে গেলো, না পারবেন না ওসব করতে।

    আপনি, কেনবুঝতে পারছেন না মিঃ গ্রেনভিল, যে সত্যি সত্যিই এবার আপনি কিডন্যাপড় হয়েছেন। বিনা দ্বিধায় বেলমন্ট অক্লেশে একটা কান আপনার কেটে নেবে আর কাটা জায়গাটার চিকিৎসাও লোহা গরম করে, করে দেবে। তেমন কষ্ট আপনাকে না দিয়ে একটা আঙুলও কেটে নিতে পারে। কিন্তু বড়ো কথা নয় ওটা, যা শুনেছি তাতে আপনাকে পাগলের মতো ভালবাসে মহিলা, অতএব টাকা দেবে।

    অজ্ঞানের মতো হয়ে গ্রেনভিল চেয়ারে ঢুলে পড়লো, ঘামতে লাগলো দরদর করে।

    বের্ণি উঠলো, আমি মিঃ আর্চারের সঙ্গে কথা বলতে যাচ্ছি। আমার দূত হয়ে উনি কাজ করবেন। এতে কম বিপদ।মিঃ গ্রেনভিল বিশ্রাম করুন, আপনাকে কান বা আঙুল খুব সম্ভব হারাতে হবে না। আপনার দেখাশোনা করবে সেগেত্তি আর বেলমন্ট। তারপর সেগেত্তির দিকে ফিরে বললল, আধ ঘন্টা পরে সেগেত্তি…ঠিক আছে। যেমন হয়ে আছে কথা।

    কাঁপতে শুরু করলো গ্রেনভিল, বেৰ্ণি বেরিয়ে যেতেই।

    হেলগা নিজের শোবার ঘরে পায়চারি করছিলো অস্থির ভাবে।ঝড় বইছে মনের মধ্যে। ক্রিসকে চুরি করে নিয়ে গেছে জোর করে, খপ্পরে পড়েছে মাফিয়া শয়তানের। একটিই চিন্তা ওর, কি করে অক্ষত অবস্থায় গ্রেনভিলকে ফিরিয়ে আনবে। আহা ওর কি কষ্টইনা হচ্ছে। যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব জোগাড় করতে হবে টাকাটা। কোনো দেরি করা চলবে না এ ব্যাপারে। যেন হারামজাদা আর্চারটা এলে টাকাটা সঙ্গে সঙ্গে দিতে পারি।

    ও এখুনি বার্ণে যাবে, ওর সুইস ব্যাঙ্কারের কাছে। দেরি করা চলবে না মাফিয়াদের অ্যাকাউন্টে টাকা জমা দিতে।

    সে আতঙ্কে ক্রমশঃ দিশাহারা হয়ে যাচ্ছে, এটা বুঝতে পেরে মনকে শক্ত করা শুরু করলো হেলগা। খাটে বসে পড়লো, হাঁটু দু হাতে চেপে এলোমেলো চিন্তায় সে ডুবে গেলো।

    হিঙ্কল!!!

    এতো সাহস ওর হয় কি করে? প্রায় পরিষ্কার বলতে চায়, নিজের চুরি হয়ে যাওয়ার ব্যাপারটা নিজেই গ্রেনভিল বন্দোবস্ত করেছে। এতে ঈর্ষা কেন বুড়োটার? যেদিন ও বলেছে যে ও ভালবাসে গ্রেনভিলকে, সেদিন থেকে তার অপছন্দের ভাবটা হিঙ্কল লুকোতে পর্যন্ত চায়নি। এমন কি বিয়ের কথা যেদিন বলা হলো, সেদিন অভিনন্দন ও জানালো ঠিকই, তবে তা বেশ তেতো গলায়। অবশ্য তার কাছে কারণটা অজানা নয়, আসলে মাথার ওপর হিঙ্কল আর কোনো মনিবকে পছন্দ করতে নারাজ, ও দারুণ স্বার্থপর, সুখী হোক হেলগা তা চায় না হিঙ্কল। ও চায় । চিরকাল হেলগা নিঃসঙ্গ জীবন যাপন করুক আর চালিয়ে যাক ও খবরদারী। একঘেয়ে ওই ওমলেট খেয়েই যেন জীবন কাটবে আমার। ওসব চাই না, বিশেষ করে একজন প্রেমিক ক্রিসের মতো পাবার পর।

    মিথ্যে কথা ষোলো আনা। এ ব্যাপারে বেদম পেটানো হয়েছে গ্রেনভিলকে, হেলগা নিঃসন্দেহ। কেন, ওই হারামজাদা আর্চার বললো না, একটু বেশি সাহস দেখাতে গিয়েছিলো গ্রেনভিল? কি নাজেহালটাই না হচ্ছে আমার ক্রিস ঐ বদমাসগুলোর হাতে পড়ে। হায়রে, ক্রিস তার আদরের, শয়তানগুলোর সঙ্গে আপ্রাণ লড়েছে। ফটোগুলো যেগুলো মেঝের ওপর পড়েছিল তার দিকে নজর পড়তেই হেলগার সারা শরীরে রক্ত কেঁপে উঠলো।

    বলে কিনা টমাটো সস?…এ থেকেই প্রমাণ পাওয়া যায় কতোটা ঈর্ষাপরায়ণ হিঙ্কল।

    তালা খোলা সদর দরজার?

    তারও নিশ্চয়ই একটা কারণ আছে। আবার এই কথাটা বলেও ছোটো করতে চেয়েছে আমার চোখে গ্লেনভিলকে।

    এও তো হতে পারে, কয়েক সেকেন্ডের জন্য ক্রিস সদর দরজাটা খুলে দাঁড়িয়েছিলো বাইরে। তারা ভরা আকাশের তলায় দাঁড়িয়ে হ্রদের বুক ছুঁয়ে ভেসে আসা বাতাসে বুক ভরে নিঃশ্বাস নিয়েছিলো, স্বাভাবিক খুবই। তারপর দরজা বন্ধ করার জন্য মাথা কেন বা সে ঘামাবে?

    আবার হেলগার মনের দৃঢ়তা ফিরে আসছে। দাঁড়ালো উঠে, বার্ণে যেতে হবে এখুনি।

    ব্যাগ ছোঁ মেরে তুলে নিলো, মুখে পাউডারের পাটা বুলিয়েই ঢুকলো বসার ঘরে।

    হিঙ্কল ওর সাড়া পেয়ে এসে দাঁড়ালো ভোলা ছাদে, আমি যাচ্ছি বার্ণ-এ। জোগাড় করতেই হবে মুক্তিপণের টাকাটা। ফিরবো সন্ধ্যে নাগাদ।

    মাদাম বলছিলাম কি আমি…। কথা শেষ করতে না দিয়ে হিঙ্কলকে হেলগা কটকটে সুরে বললো, তোমার বলার কিছু দরকার নেই। তুমি যে অপমানজনক কথা বলেছো মিঃ গ্রেনভিলের সম্বন্ধে, তাতে খুবই শক পেয়েছি আমি। তোমার যে এরকম নিচু মন তা ভাবতে পারিনি, যদিও বুঝি তুমি কেন এমন করছো।

    ফিরে এলেই মিঃ গ্রেনভিলকে বিয়ে করবো আমি। তুমি সেবা করবে আমার এবং মিঃ গ্রেনভিলের। যদি না চাও খোলা আছে রাস্তা, বুঝেছো?

    মেরুদণ্ড শক্ত হয়ে উঠলো হিঙ্কলের,দাঁড়ালো সোজা চোখে চোখ রেখে। সেই চোখের দৃষ্টিতে এমন হতাশা যে লজ্জায় মাথা নামালো হেলগা।

    নিশ্চয়ই নিজের ইচ্ছে মতো আপনি চলবেন মাদাম। হিঙ্কল শান্তভাবে বললো।

    হেলগা আরও ক্ষেপে উঠলো লজ্জা পাওয়াতে, তীক্ষ্ণ গলায় বললো, হ্যাঁ, চলবো নিজের ইচ্ছে মতোই। ঘর থেকে দ্রুত পায়ে বেরিয়ে চলে গেলো গ্যারেজে।

    নিশ্চল হয়ে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে দেখলো হিঙ্কল, রোলস্টা বেরিয়ে গেল। তারপর বন্ধ করলো সদর দরজা।

    বসবার ঘরে ফিরে একটু অস্থির হয়ে পায়চারি করার পর নিজের ঘরে ফিরে এলো কালো মুখ করে। তারপর হঠাৎ কি একটা মনে মনে ঠিক করে চামড়া বাঁধানো একটা খাতা বের করলো ড্রয়ার থেকে। ঠিকানার খাতা, ফ-এর পাতা খুলে পেলো যে ঠিকানা, আর যে ফোননম্বর খুঁজছিলো সেটা। জাঁ ফৌকন।

    টেলিফোন তুলে একটা নম্বর ডায়াল করলো প্যারিসের।

    .

    গা ডুবিয়ে আরাম চেয়ারে বসে নোংরা ঘরের চারপাশে শূন্য দৃষ্টিতে আর্চার ফ্যালফ্যাল করে তাকাতে লাগলো। কোথায় গেলো গ্রেনভিল?…নিশ্চয়ই বেপরোয়া হয়ে একেবারে সে রাস্তায় বেরোতে পারে না? না, বিশেষ করে ওকে বারবার সাবধান করে দিয়ে গিয়েছিলো আর্চার। মুক্তিপণ আদায় যতক্ষন পর্যন্ত না হচ্ছে ততক্ষণ গ্রেনভিলের বাইরে বেরোনো বোকামী হবে। কি হলো তাহলে ওর? কেন এভাবে উবে গেলো, গেছে কোথায়? আর্চার মোটা উরুর ওপর রাগে এক ঘুষি মেরে বসলো। যখন ঠিক সব কিছু এগোচ্ছে ভালোর দিকে, কারণ হেলগা যে টাকা দেবে, এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই আর, আর ঠিক তখনই অদৃশ্য গ্রেনভিল!

    আর একটা কথা তার মনে হলো, হতে পারে এও তো আর্চার বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে যাবার পর গ্রেনভিল ভয় পেয়ে বাস ধরে ট্রেনে চেপে সোজা সুইজারল্যান্ড ছেড়ে পালিয়েছে। সম্ভব এটাই। এই কন্দর্পকান্তি, অপদার্থ পুরুষ বেশ্যাটা নার্ভ শেষ পর্যন্ত ঠিক রাখতে পারে নি।

    আর্চারের সারা দেহ মন ভরে গেলো তিক্ততায়। হয়তো গ্রেনভিল ঠিকই করেছে। সুন্দর দেখতে, কম বয়স, সেক্সের টানটাও আছে। ওকে দেখলে আধবুড়ি মেয়ে মানুষগুলো মজে যায়। দশলাখ ডলার ওদের কাছ থেকে না পারে পেতে। কিন্তু বিলাসে জীবন কাটাতে কোনো কষ্ট হবে না।

    নিজের দুর্ভাগ্যের কথা চোখ বন্ধ করে ভাবতে লাগলো আর্চার, ওকে আবার ফিরে যেতে হবে সেই সব দারিদ্রের সঙ্গে সংগ্রাম করা লোকেদের মাঝখানে, যারা জেগে জেগে স্বপ্ন দেখে লাখ ডলার করার, জমি বিক্রি করতে যায় সেইসব যেগুলো তারা দেখে নি চোখে পর্যন্ত, কিংবা নামমাত্র ফী-তে তাদের হয়ে ওকালতির কাজ করতে হবে। তার এই ভাগ্য, আরও খারাপ হবে অবস্থা। টাকার পিছনে ছুটতে হবে চব্বিশ ঘণ্টা। মনে পড়লো জো প্যাটারসনের কথা। না, ফেরার আর মুখ নেই ওর কাছে। খুঁজতে হবে অন্য মর্কেল, তবে সুইজারল্যান্ডে নয়, পালাতে হবে ইংল্যান্ড। এখনও ওর সুইস আকাউন্টে দশ হাজার ফ্ৰা আছে, কিন্তু যদি তা থেকে তুলতে হয়; তবে কদিন চলবে আর?

    ও পুরোপুরি হেলগার ব্যাপারটায় নিশ্চিন্ত ছিলো। এমনকি হলো যেহঠাৎ গ্রেনভিলমত পাল্টে পালালো।

    গ্রেনভিল গোল্লায় যাক, ব্যাটা মরুক গে। এখন আর থাকাটা এখানে ঠিক হবে না। যতো তাড়াতাড়ি লুগানো ছেড়ে পালাবে। ভালোতই। উঠতে যাবে এমন সময় ঘন্টি বাজলোদরজায়।

    সঙ্গে সঙ্গে আর্চারের শরীর শক্ত হয়ে গেলো কাঠের মতো, যেন বুকের স্পন্দন থেমে থেমে চলছে। কে হতে পারে? পুলিশে কি খবর দিয়েছে হেলগা? না সম্ভব নয় সেটা, কিন্তু কি করবে না করবে হেলগা সে ব্যাপারে নিশ্চিন্ত নয়। পুলিশ নয় তো? সে একটু ইতস্ততঃ করলো, আবার সাহস করে বেল বাজতেই এগিয়ে গিয়ে খুললো দরজা।

    দাঁড়িয়ে হাসছে বের্ণি, ওকে দেখেই বুকের স্পন্দনের গণ্ডগোলটা আবার বেড়ে উঠলো।

    আঃ, মিঃ আর্চার, দেখা হলো আবার, কি ভালই না লাগছে, আছেন কেমন?

    ধূর্ত তীক্ষ্ণবুদ্ধি আর্চারের সঙ্গে সঙ্গে সক্রিয় হয়ে উঠলো মন। অদৃশ্য হয়ে যাওয়া গ্রেনভিলের কারণটা নিশ্চয়ই এই বেঁটে মোটা ইতালীয়ানদের সঙ্গে জড়িত, লোকটা যতই আসুক না কেন তেলানো হাসি, চোখে শয়তানি।

    পিছিয়ে এলো এক পা বেৰ্ণি দারুণ চমকে গেছি। কি করতে এসেছে এখানে?

    বেৰ্ণি হাসতে হাসতে এগিয়ে এলো, পিছিয়ে পড়লো আর্চার। বেৰ্ণি ঘরের মধ্যে ঢুকে বললো, মিঃ আর্চার একটা দরকারী কথা আছে।

    এসো ভেতরে। বেৰ্ণিকে বসবার ঘরে নিয়ে গিয়ে বসালো।

    চারপাশে বের্ণি চোখ বুলিয়ে একটা চেয়ার বেছে বসলো, কিডন্যাপ করা হয়েছে মিঃ গ্রেনভিলকে?

    বের্ণিকে দরজার গোড়ায় দেখেই বুঝতে পেরেছিলো আর্চার কিছু একটা গণ্ডগোল হয়েছে। কিন্তু সরাসরি কথাটা শুনে আরও ঘাবড়ালো, কিডন্যাপ? কে করেছে?

    আমি। মিঃ আর্চার আপনি আদৌ পেশাদার নন। ঐ লোক দেখানো আপনার কিডন্যাপিংটা বোকার মতো কাজ হয়েছে। এখন আমি কাজটা নিজের হাতে তুলে নিয়েছি। ঐ রলফ মহিলাকে এক কোটি ডলার দিতে হবে, গ্রেনভিলকে ফিরে পেতে হলে। সহযোগিতা করলে আমার সঙ্গে তোমরা দুজনেই পঞ্চাশ হাজার ডলার করে পাবে। আমার বাকিটা, আমার হয়ে তুমি দালাল হিসাবে যাবে। ঐ মহিলাকে তুমি গিয়ে বলবে এক কোটি হয়েছে মুক্তি পণের টাকাটা বেড়ে।

    এক কোটি? ও দেবে না। গ্রেনভিলের একটা কান তোমার মারফতে হাতে পেলে নিশ্চয়ই দেবে।

    আর্চারের, মনে হলো নরম হয়ে গেছে তার পায়ের হাড়গুলোে। সে চেয়ারে ধপ করে বসে, পড়লো।

    মিঃ আর্চার, এখন আর এটা খেলার পর্যায়ে নেই। আমার কাছে গ্রেনভিল আছে, এবং আমি তৈরি, মহিলাকে ওর কান পাঠিয়ে দেবার জন্যে। ইতস্ততঃ করলে আঙুলও যেতে পারে। কাজ বুঝি আমি, টমাটো সস দিয়ে ছেলেমানুষি করার মতো লোক নই আমি।

    কেঁপে উঠলো আর্চার, সাহস সঞ্চয় করে বললো, তাহলে তুমি নিজেই সব ব্যাপারটা করো। এখুনি চলে যাবো আমি, আমি আর নতুন করে এ ব্যাপারে কিছু করবো না।

    হাসলো বেৰ্ণি, মিঃ আর্চার, বলবো যা করতে হবে তাই।সাইলেন্সর লাগানো রিভলবার বের করে নাচাতে নাচাতে বললো, মিথ্যে বলছিনা আমি, হাত মিলিয়ে আমার সঙ্গে কাজ না করলে আমি খুন করবো তোমায়। শব্দ হয় না এতে, তোমাকে খুঁজে পাওয়া যাবে কিছুদিন পরে, মৃত অবস্থায়, শুরু করেছে পচতে। বুঝতে পারবে না পুলিশ খুন কে করেছে। অতএব আমার সঙ্গে তুমি সহযোগিতা করবে।

    আর্চার রিভলবারের দিকে তাকিয়ে বললো, আচ্ছা ঠিক আছে, যা বলবে তুমি তাই করবো।

    বেৰ্ণি রিভলবার পকেটে পুরে বললো, বুদ্ধিমান লোক। তুমি তো টাকা যোগাড় করার জন্য মহিলাকে তিনদিন সময় দিয়েছ। তৃতীয় দিনে গিয়ে বলবে তোমার চাই এক কোটি, দুদিনের মধ্যে। যদি না করে, গ্রেনভিলের একটা কান দিয়ে আসবে ওকে। ঠিক সেই মুহূর্তে বেজে উঠলো টেলিফোন। ওটা বেৰ্ণি দেখিয়ে বললো, আর্চার তোমার ফোন এসেছে, ধরো।

    আর্চার ফোনের কাছে গেল টলতে টলতে, রিসিভার তুলে হ্যালো বলতেই পাগলের মত অপর প্রান্ত থেকে গ্রেনভিল চেঁচাতে লাগলো, আর্চার, চুরি করে আমাকে ধরে এনেছে। এটা হয়েছে তোমার দোষে। ভীষণ নিষ্ঠুর এই লোকগুলো। তোমাকে কিছু একটা করতেই হবে। আমার উচিত হয়নি তোমার কথা শোনা। আমাকে ছাড়িয়ে নিয়ে যেতেই হবে, ভয় দেখাচ্ছে এরা আমার কান কাটবে। আমি কেটে গেলো কানেকশন।

    আর্চার কাঁপা কাঁপা হাতে নামিয়ে রাখলো টেলিফোন। বেৰ্ণি বললো, কথা বলছিলো মিঃ গ্রেনভিল। এর বন্দোবস্ত করেছিলাম আমার কথা মতোই। যাতে বিশ্বাস হয় তোমার, বাজে কথা। আমি বলছি না। মিঃ আর্চার এবার শোনো, তুমি ঐ মহিলার কাছে গিয়ে কাল বাদে পরশু বলবে, যদি সেতার প্রেমিককে চায় ফিরে পেতে তাহলে যেন সেই পরিমাণ টাকা দেবার বন্দোবস্ত করে। কি করে ওকে বোঝাতে হবে আমি সেভারটা তোমার ওপরেই ছেড়ে দিচ্ছি, আর মিঃ গ্ৰনভিলের । কথা চিন্তা করে নিশ্চয়ই মহিলাকে ভালোভাবে পরিস্থিতিটা বুঝিয়ে দেবে। যদি আমি তোমার জায়গায় হতাম মিঃ আর্চার, তবে নিজের প্ল্যান এই রকম চাপে পড়ে ভেস্তে যেতে দেখে, গ্রেনভিলের কথা ভুলে গিয়ে বেমালুম যতো তাড়াতাড়ি পারতাম পালাতাম এদেশ ছেড়ে। কিন্তু • যদি তুমি চিন্তা করে থাকো সেরকম কিছু তবে ভুলকরবে। আমিনই সৌখিন গুপ্তা। আমার সংগঠন এখানে আছে, সব সময় তারা নজর রাখবে তোমার উপর। পালাবার চেষ্টা করলে শুধু তুমি প্রাণ হারাবে অ্যাকসিডেন্ট করে। আর মারা যাও তুমি, এটা চাই না আমি। অতএব তোমার পাশপোর্ট তুমি জমা রাখো আমার কাছে, বলা তো যায় না চেষ্টা করতেও পারো পালাবার। বেৰ্ণি হেসে হাত বাড়ালো, পাশপোর্টটা দাও।

    আর্চার অনিচ্ছা সত্ত্বেও নিজের পাশপোর্ট বের্ণির হাতে তুলে দিলো।

    এইবার ঠিক হয়ে গেলোস। পরশু দিন তাহলে ঐ মহিলার সঙ্গে তুমি দেখা করছে। বুঝিয়ে বলল ওকে মিঃ আর্চার। ঠিক আছে?

    মাথা নাড়লো আর্চার, বুঝেছে।

    চমৎকার। গুডবাই, আবার পরে দেখা হবে।

    ভক্সওয়াগনে চেপে বের্ণি চলে গেলো। হতাশা, দুঃখ, ভয় সব মিলিয়ে আর্চার বোকার মতো চেয়ে রইলো।

    .

    ধীরে ধীরে লেস রয়েস এগিয়ে চলেছে বার্ণ-এর দিকে। হেলগা স্টিয়ারিং হাতে, চলে আসার সময় হিস্কলের মুখের ঐ হতাশ ভাবটা ওকে কুরে কুরে খাচ্ছিলো। সে মনকে কঠোর করতে চেষ্টা করলো। মনে মনে না বললো, একটা ঐরকম লোক তার ওপর সর্দারী করবে হতে দেবে না হেলগা এটা। যদিও এটা ঠিক যে হিঙ্কল চলে গেলে তার জীবনের একটা বড় দিক ফাঁকা হয়ে যাবে ভীষণ। রুক্ষ কথা ওইভাবে বলার জন্যে ওর এখন নিজেরই বেশ লজ্জা বোধ হচ্ছে। ওর কথা যদি হিঙ্কল সিরিয়াসলি নেয়? যদি চলে যায় চাকরী ছেড়ে? নাঃ, ভাবা যায় না। কিন্তু যখন হেলগার জীবনের সঙ্গে ক্রিস জড়িয়ে গেছে। তখন যদি হিঙ্কল আর ক্রিসের মধ্যে বেছে নিতে হয় একজনকে, তবে বাছবে কাকে সেটা অজানা নয় হেলগার। কিন্তু বাদ দিলেও হিঙ্কলকে কি..

    হেলগার মনের দ্বিধা কাটেনি ব্যাঙ্কে ডাইরেক্টারের ঘরে বসেও।

    কম বয়েসি ছিপছিপে বুদ্ধিমানের মত চেহারা, কথা কম বলা ডাইরেক্টারটিকে বেশ ভালো লাগলো হেলগার, কাজ হবে।

    আমি কালকের মধ্যে নগদ বিশ লাখ ডলার চাই।

    মাদাম রলফ নিশ্চয়ই পাবেন। আপনার ফাইল আমি পড়ে দেখলাম। কিন্তু সময়টা আদৌ ভাল নয় বিক্রি করার পক্ষে। কিছু শেয়ার আপনার বিক্রি করে এখনই টাকা তুলতে হলে ক্ষতি হবে শতকরা পঁচিশ ভাগ। আমরা যদি আপনাকে ধার দিই ঐ টাকাটা, চলবে? মাত্র সাড়ে আট পার্সেন্ট সুদ নেববা আমরা। মনে হয় ভাল হবে এটা করলে।

    আমাকে কি অত টাকা আপনারা ধার দেবেন?

    নিশ্চয়ই।

    একটা নম্বর দেওয়া সুইস অ্যাকাউন্টে টাকাটা জমা দিতে হবে। আপনাকে পরে আমি নম্বর আর ব্যাঙ্কের নামটা দেবো।

    মাদাম রলফ অসুবিধে হবে না।

    হেলগা ফেরার মুখে দশ মিনিট পরে। বিকেল চারটে বাজে।হিঙ্কলের মুখোমুখি গিয়ে দাঁড়াতে ওর দারুন লজ্জা লাগছিল, ঠিক করলো বাইরে কাটিয়ে যাবে সন্ধ্যে পর্যন্ত। ভোদকা মার্তিনি খেলো ইডেল হোটেলের খোলা ছাদে বসে। বেড়াতে বেড়াতে লেকের ধারে একবার গ্রেনভিল, হিঙ্কলের চিন্তা ঘুরপাক খেতে লাগলো তার মাথায়।

    আন্দাজ রাত সাতটা। হঠাৎ ওর খেয়াল হলো কিছুই খায় নি সারারাত। প্রিয় বিয়াঞ্চি রেস্টুরেন্টে ঢুকতেই সাদর অভ্যর্থনা জানিয়ে হেড ওয়েটার একটা টেবিলে নিয়ে গিয়ে বসালো হেলগাকে, মাদাম রলফ, এলেন কতোদিন পরে। কি দেবো বলুন?

    কিছু হালকা ধরণের।

    তাহলে মুচ্চিনি টোস্ট আর মাসরুমের সঙ্গে মাংস দিই ভেজানো।

    মাথা নেড়ে হেলগা হা বললো। হিঙ্কলের সম্বন্ধে খেতে খেতে হেলগা সিদ্ধান্ত নিলো, নাঃ এভাবে ওকে হারানো চলবে না। মন ওর জয় করতেই হবে। বোঝাতে হবে ওকে, গ্রেনভিলকে না হলেও চলবে না আমার।

    বাড়িতে রাত আটটার সময় ফিরলো। গাড়ি গ্যারেজে ঢোকাবার সময় বাড়ির আলো জ্বলছে দেখলো। সিঁড়িতে উঠতে উঠতে দেখলো খুলে গেলো দরজা। হিঙ্কল মাথা ঝুঁকিয়ে দরজার পাশে দাঁড়িয়ে সেলাম করলো। কোনো ভাবান্তর নেই মুখে।

    হেলগা বসার ঘরে ঢুকতে ঢুকতে বললো,  হিঙ্কল সব বন্দোবস্ত করে এলাম।

    হিঙ্কল ফিরে এলো দরজায় তালা লাগিয়ে।

    মাদাম ডিনার খাবেন কি?

    না, ধন্যবাদ, খেয়ে এসেছি হুগানোতে।…হিঙ্কল কয়েকটা কথা আছে তোমার সঙ্গে। হেলগা চেয়ারে বসে বললো।

    মাদাম বলুন, হিঙ্কল একটু দূরে গিয়ে সরে দাঁড়ালো।

    হিঙ্কল একজনকে আমি ভালবেসেছি। কোন মহিলা যখন আমার মতো অবস্থায় প্রেমে পড়ে, তখন তার বুদ্ধি লোপ পায়, ধার ধারে না যুক্তির। হয়ে ওঠে নিষ্ঠুরও। আমার প্রাণ ক্রিস। আমি তোমাকে সেই কথাটাই বোঝাতে চাই। যা বলেছি সকালে সেটা তুমি ভুলে যাও। আমার জীবনের একটা বিশেষ অংশ জুড়ে তুমি আছো। তোমাকে বাদ দিলে আমার মধ্যে আর আমি পারবো না থাকতে, চোখে জল হেলগার, বড্ড অসুখী আমি। ঠিক নেই মাথা। অবশ্য তার জন্যে যে ক্ষমা করা উচিত আমায় তা বলছি না। তোমার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করার ক্ষমা নেই। দয়া করে কি তুমি ক্ষমা করবে আমায়, একটু ভেবে দেখবে আমার দিকটা?

    বেশ দুর্বল হয়ে গেলো হিঙ্কলও সেই মুহূর্তে। নরম সুরে বললো, যতদিন আমাকে দরকার আপনার, সানন্দে আমি সেবা করবো আপনার। যখন খোলাখুলি আপনিও বলছেন, তখন পরিষ্কার বলছি আমিও, আমি দারুণ শ্রদ্ধা করি আপনাকে। মিঃ রলফের সঙ্গে বিয়ের পর অভিজ্ঞতা থেকে আমি দেখেছি আপনি এক অসাধারণ মহিলা। এমন একটা কিছু আছে আপনার মধ্যে যা সব সময়ে আমি প্রশংসা করি মনে মনে…সেটা হলো সাহস। হিঙ্কল এভোগুলো কথা বলে সোজা হেলগার মুখের দিকে তাকিয়ে বললো, এবং মাদাম, সেই সাহসের প্রয়োজন আবার দেখা দিয়েছে। আমাকে ক্ষমা করবেন, বাকি আছে কয়েকটা বাড়ির কাজ, আমি আসি। হিঙ্কল চলে গেলো সেলাম জানিয়ে।

    হেলগাকে ঘিরে ধরলো নিঃসঙ্গতা,দাঁড়ালো ভোলা ছাদে গিয়ে। লেকের জল চাঁদের আলোতে ভরে গেছে। ভেসে উঠলো ক্রিসের মুখটা। গোটা রাত আর কালকের দিনটা পড়ে আছে বিরাট অজগরের মতো সামনে।

    সাহস?…হিঙ্কল কি বলতে চায়! সে রাতে তিনটে ঘুমের বড়ি খেয়ে হেলগা ঘুমিয়ে পড়লো।

    সকাল ৮-৩০ মিঃ, হিঙ্কল কফির সরঞ্জাম নিয়ে দরজায় টোকা দিয়ে ঢুকলো। হেলগার তখন ঘুমের বড়ির নেশা কাটেনি, একটু ঝিমোনো ভাব আছে। মাথা তুলললা বালিশ থেকে।

    টাইম একটুও পাল্টায় না চিরকালের মতো। মনটা ভীষণ কফি চাইছিলো, হেসে বললো হেলগা।

    আশা করি ভালোই হয়েছিলো ঘুম, হিঙ্কল কফি ঢালতে ঢালতে বললো।

    তিনটে ঘুমের পিল খেয়েছিলাম। হাতে কফির পেয়ালা তুলে দিয়ে হিঙ্কল একটু পিছিয়ে এসে দাঁড়ালো।

    মাদাম, দারুণ পরীক্ষার দিন আপনার পক্ষে আজকের দিনটা। মনে হয় আমার, মিঃ আর্চার আসছে না কাল সকালের আগে।

    মাথা নেড়ে সায় দিলো হেলগা।

    আমি বলি কি, একটু অন্যমনস্ক রাখার চেষ্টা করুন মনটাকে। এই রকমের কোন ঘটনার জন্যে প্রতীক্ষা করে থাকতে হলে সময় যেন আর কাটতে চায় না।

    না, না, ঠিক থাকব আমি। সময় কেটে যাবে ভোলা ছাদে বসে। তাছাড়া চিন্তা করার আছে অনেক কিছু।

    সবচেয়ে খারাপ কাজ হবে এটাই। আমার মতে কোমোতে চলে যান আপনি, কেনাকাটা করুন কিছু। কোথাও লাঞ্চ খেয়ে নিন ওখানে। শুধু উত্তেজনাই বাড়বে ছাদে বসলে।

    ঠিক হিঙ্কলের কথাই, পুরো ছত্রিশটা ঘণ্টা এখনো দারুণ অস্বস্তির মধ্যে কাটবে, ক্রিস ছাড়া এই সময়টা অন্য কিছু চিন্তা আসবে না মাথায়।

    হিঙ্কল ঠিক আছে, বেরবো আমি।

    জানতো না হেলগা, হিঙ্কল বিশেষ উদ্বিগ্ন আছে একটা টেলিফোনের জন্য। প্যারিস থেকে ফোনটা আসবে, জাঁ ফৌকনের কাছ থেকে। হেলগা থাকতে ফোন এলে সুবিধে হবেনা হিস্কলের, তাই বাইরে পাঠাতে চাইছে জোর করে।

    চিন্তাক্লিষ্ট হেলগা বিরস মুখে এগারোটার সময় চলে গেলো। হিঙ্কল স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললো। খুব চঞ্চল হয়ে পায়চারি করতে করতে হিঙ্কল খালি ঘড়ি দেখতে লাগলো।

    টেলিফোন কলটা দেড়টা নাগাদ এলো। ঘরের সব কাজ ইতিমধ্যে হিঙ্কল শেষ করেছে। নিজে স্যান্ডউইচ কোন রকমে খেয়ে পেট ভরিয়েছে। পড়ি-কি-মরি করে টেলিফোন বাজতেই ছুটে ঘরে এলো হিঙ্কল।

    দারুণ ভীড় কোমো যাবার পথে। হেলগা গাড়ি চালিয়ে কোনক্রমে এলো। রোলসটাকে সুবিধে মতো জায়গা খুঁজে পার্ক করালো। শহরে ঘুরতে লাগলো উদ্দেশ্যহীন ভাবে, চোখে পড়ছিলো দোকানের শো-কেসের জিনিসপত্রে, কিন্তু ক্রিসের কাছে মন পড়ে আছে। ও এখন কি করছে? ক্রিসকে ঠিক মতো ওই শয়তানগুলো খেতে দিচ্ছে তো? টাকাটা পাওয়া যাবে কাল, হারামজাদা ওই আর্চারটার মুখে ছুঁড়ে মারবো। ও সন্ধ্যের মধ্যে ক্রিসকে ফিরে পাবে। চিন্তা করতেই আগামীকাল রাতের কথা হেলগার সারা শরীরে কামনার, উত্তেজনার ঢেউ খেলে গেলো। ক্রিসের সঙ্গে ওঁ। এক হয়ে দুজনে মিশে গেছে, বিশ লাখ ডলারের দাম তার কাছে কতোটুকু, কিছু না। ভালবাসে ক্রিসকে হেলগা..দারুণ ভালবাসে। ফিরে এলেই প্যারাডাইস সিটিতে চলে যাবে। বিয়ে হয়ে যাবে বিশ্বাস করতে শুরু করেছিলো হেলগা, মিটমাট হয়ে গেছে হিঙ্কলের সঙ্গে। বিক্রি করে দেবে হেলিয়ড ভিলাটা, বড় কষ্টকর এখানকার স্মৃতি। এখানে থাকা আর চলবে না। দুপুরে লাঞ্চ খাওয়ার পর হেলগা লুগানো গেলো, পথে নেমে পড়লো জমি বাড়ির দালালের ঠিকানা দেখে, অফিসে ঢুকলো ওদের। এই সুইস ভদ্রলোক সাদামাটা চেহারার। তিনি জানালেন ঐ বাড়ি বিক্রি করিয়ে দিতে কোন অসুবিধে হবেনা তার। ঐ ধরনের বাড়ি কিনতে চায় এক ধনীমকেল। তাছাড়া যে দাম চাইছে হেলগা সেটা যথেষ্ট ন্যায্য। জানিয়ে দিলো হেলগা, খালি বাড়ির দখলই দেবে সে। তার একটুও কষ্ট হলো না কথাটা বলতে।

    বেশ প্রফুল্ল মন। পেট ভরে ইডেন হোটেলে খেয়ে হেলগা বাড়ি ফিরলো। দেখলো বড়ির গেটের সামনে এসে, কি আশ্চর্য, একজন পুলিশ অফিসার বাদামী রঙের পোশাক পরা ওর বাড়ির সিঁড়ি দিয়ে নেমে এসে চাপলো নিজের মোটর বাইকে। হস করে ওর পাশ দিয়ে বেরিয়েও গেল, কঝকঝক করে উঠলো মাথার সাদা হেলমেট।

    গ্যারেজে গাড়ি ঢুকিয়ে সিঁড়ি বেয়ে উঠতেই দরজা খুলে হিরুল এসে দাঁড়ালো।

    কি করছিলো এখানে পুলিশ? হেলগা প্রশ্ন করলো কড়া গলায়, কোন ভাবান্তর নেই হিঙ্কলের মুখে, নামটা লিখিয়ে রাখতে হয় কমিউনে, আমি ভুলে গিয়েছিলাম করতে, সেটা করিয়ে নিয়ে গেলো পুলিশ। আপনার ভালোই কেটেছে তো দিন?

    ভালই, হেলগা ঘরে ঢুকতে ঢুকতে বললো, বলে এসেছি বাড়িটা বিক্রির জন্যে। আমরা চলে যাবো প্যারাডাইস সিটি, মিঃ গ্রেনভিল ফিরলেই। আমি চাই তুমি বাড়ি বিক্রি পর্যন্ত থেকে যাবে, বিক্রি করে দেবে ফার্নিচারগুলোও, পারবে তো?

    নিশ্চয় মাদাম।

    প্রসন্ন দৃষ্টিতে হিঙ্কলের দিকে হেলগা তাকালো, পুরো ভরসা করা যায় তোমার ওপর।তুমি এতো বিশ্বাসী, বাড়িটা, বিক্রি হয়ে গেলেই তুমি চলে আসবে প্যারাডাইস সিটিতে। বিয়ের আয়োজন করবে আমাদের।

    আপনার সেবা করতে পারলেই ধন্য হব,বিষাদের ছায়া হিঙ্কলের চোখে। দুঃশ্চিন্তা বাড়লো হেলগার।

    ভালই হবে কাজটা, হিরুল তাই না?

    আমরা তাই আশা করবো। কিন্তু আপনার চাই?

    হেলগা তাকালো ঘড়ির দিকে। রাত ৯-৪৫ মিঃ। অপেক্ষা করতে হবে আরও চোদ্দ ঘণ্ট আর্চারের জন্যে।

    না, শুতে যাবো আমি। ধৈর্ষ রেখো আমার ব্যাপারে হিঙ্কল। ওর কথা সব সময়ে মন পড়ছে…কি করছে ও…কেমন ব্যবহার করছে ওর সঙ্গে ওই বদমাসগুলো…।

    বুঝতে পারি আমি, মাদাম।

    হিঙ্কলের হাত ধরলো হেলগা, তুমি না থাকলে আমি যে কি করবো হিঙ্কল জানি না।

    তারপর বেডরুমে গিয়ে হেলগা বন্ধ করলো দরজা। ভালো করে হিঙ্কল দরজা জানালা বহু করে ঘরে গেলো নিজের। বাদামী রঙের একটা পেট মোটা খাম বিছানার ওপর। পুলিশটা এক আগে দিয়ে গেছে।

    হিঙ্কল চশমা পরে খামটা খুললো। যা পাঠিয়েছে জাঁ ফৌকন সেটা পড়তে শুরু করতে মনোযোগ দিয়ে।

    যখন কফির ট্রলি নিয়ে হিঙ্কল ঘরে ঢুকলো তখন জেগে ছিল হেলগা। তার ঘুম ভেঙে গেছে সাড়ে সাতটার একটু আগেই। সারারাত অক্লেশে পাড়ি দিতে সাহায্য করেছে তিনটে ঘুমের পিল। এখন বেশ চাঙ্গা শরীর মন দুই-ই। আসবে আর্চার, টেলিফোন করে ব্যাঙ্ককে আর্চারের অ্যাকাউন্টে টাকা জমা দিয়ে দিতে বলবো। দুপুরের পর খুব সম্ভব ব্যাঙ্কে গিয়ে আর্চার জেনে নেবে সঠিক ভাবে টাকা জমা সত্যি সত্যিই পড়েছে কিনা, তারপর ফিরে পাবে হেলগা তার ক্রিকে। তার দেহকে ক্রিসের হাত স্পর্শ করবে, তারপর প্লেনে করে দুজনে প্যারাডাইস সিটিতে চলে যাবে, মুক্তি পাবে এই বিভীষিকার হাত থেকে।

    হিঙ্কল কফি দিয়ে বললো, রাতে আশা করি ভালই ঘুম হয়েছিলো?

    মৃদু হাসলো হেলগা, পিলের জন্য হিঙ্কল। ও আজ রাতের মধ্যেই ফিরে আসবে তাই না? আমার জিনিসপত্র তুমি গুছিয়ে রাখো। আমরা দুজনে কালকেই চলে যাবো প্যারাডাইস সিটি।

    মিঃ আর্চার না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করাই কি মাদাম ভালো হবে না? জিনিসপত্র, উনি চলে গেলেই গুছিয়ে দেবো। সময় লাগবে না।

    হেলগা তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকালো, গণ্ডগোল হবে না কোনো। রেডি আছে টাকা। আজ রাতেই মিঃ গ্রেনভিল ফিরে আসবেন।

    আপনার স্নানের কি বন্দোবস্ত করে দেবো আমি, না, একটু বিশ্রাম করবেন আরও?

    সেরেই ফেলবো স্নানটা।কালো মেঘের ছায়া হিঙ্কলের মুখে,অস্বস্তি হতে লাগলো হেলগার। জলে যা যা মেশাবার বাথরুমে ঢুকে তা মিশিয়ে বেরিয়ে এলোহিঙ্কল। চলে যাবার উপক্রম করতেই হেলগা বললো, হিঙ্কল, কোনো গণ্ডগোল হয়েছে কি? যে কথা আমাকে তুমি বলোনি?

    এখনও বাকি আছে কয়েকটা কাজ। সেরে ফেলি ওগুলো,আসছি বলে বেরিয়ে গেলো হিঙ্কল।

    রেগে গেলো হেলগা। এমন চটিয়ে দেয় মাঝে মাঝে হিঙ্কল যে বলার নয়। গণ্ডগোল কি হতে পারে? হেলগা বাথরুমে ঢুকলো বিছানা ছেড়ে।

    একটা কথা হিলের মনে পড়ে গেলো, কোনো মহিলা যখন কঠিন সমস্যার মুখে পড়েন তখন তার উচিত সবচেয়ে ভালো অবস্থায় থাকার চেষ্টা করা;তখনই সবচেয়ে সুন্দর তিনি দেখতে লাগেন। হেলগা একটা ট্রাউজার স্যুট গায়ে দিলো নীল রঙের, সম্পূর্ণ চেহারাটা আয়নায় দেখে ভালো লাগলো, দৃঢ় পদক্ষেপে তারপর খোলা ছাদে গিয়ে বসলো।

    পৌনে দশটা, প্রায় দুঘণ্টা এখনও অপেক্ষা করতে হবে।

    মুখে এসে পড়েছে সকালের নরম রোদ, বেশ লাগছে, এলো হিঙ্কল। লম্বা সাদা হাউস কোটটা ওর গায়ে না দেখে হেলগা চমকে উঠলো। হিঙ্কল গাঢ় নীল রঙের স্যুট পরেছে। হেলগার দিকে এগিয়ে এলো, হাতে একটা বড় বাদামী রঙের খাম।

    খুব শান্ত গলায় বললো মাদাম রলফ, কয়েকটা কথা আছে আপনার সঙ্গে। আপনার মঙ্গলাকাঙ্ক্ষী হিসেবে, চাকর হিসেবে নয়, বরং বলা ভালো বন্ধু হিসেবে।

    বোকার মতো হতবাক হেলগা ওর দিকে চেয়ে রইলো, কি কথা? আর এমন পোশাকই বা তুমি পরেছো কেন?

    যা আমি বলতে যাচ্ছি যদি আপনি তা মেনে না নেন, তবে আমি এখুনি চাকরীতে ইস্তফা দিয়ে চলে যাবো। তারপর কোনো অনুমতি না নিয়েই। যা কখনন করে না তাই করলো। হেলগার মুখোমুখি বসলো একটা চেয়ার টেনে।

    চলে যাবে? আমি ভেবেছিলাম আমার মনের কথা তুমি বুঝতে পেরেছে, হিঙ্কল…

    আপনার বোঝার দরকার, আমার নয়। এবার যা বলতে যাচ্ছি আমি শুনুন, আপনি মাঝপথে বাধা দেবেন না। তারপর আমার কথা শোনা না শোনার দায়িত্ব আপনার।

    হঠাৎ সারা শরীরে হেলগায় বয়ে গেলো বরফের স্রোত, সে বরাবরই দুর্ঘটনা ঘটার আগে একটা পূর্বাভাস পায়।

    আমার কাছে পুরো ব্যাপারটাই খটকা লাগছে, বেশ বলল।

    একটা ভাগ্নী আছে আমার, বোনের মেয়ে। একজন ফরাসী ছোকরাকে প্রায় পনেরো বছর আগে ও বিয়ে করেছিলো। জা ফৌকন, প্যারিসেই থাকে ওরা। তখন পুলিশে চাকরী করতে ফৌকন। ওকে ইন্টারপোলে বদলী করা হয় বিয়ের পরেই। ফৌকন এই ক বছরে বেশ উন্নতি করেছে চাকরীতে। এবং ও এখন অ্যাসিস্টেন্ট কমিশনার। দুঃখিত মাদাম, আমি বলতে ভুলে গেছি একটা কথা, মিঃ গ্লেনভিলকে যেদিন প্রথম দেখি, আমার গভীর সন্দেহ দেখা দিয়েছিলো ওঁর ব্যাপারে। আমার ভাগ্নী জামাইকে আমি ফোন করেছিলাম ইন্টারপোলে, কিছু জানে কিনা মিঃ গ্রেনভিল সম্বন্ধে তা জানবার জন্যে।

    হেলগার মুখ সাদা হয়ে গেলো, তোমার এতো সাহস? তুমি পাগল হয়ে গেছে ঈর্ষায়। একটা কথাও তোমার আর শুনবো না।

    হতাশার ছাপ হিঙ্কলের মুখে, যা বলবো আমি তা শুনতেই হবে আপনাকে। যা বলতে যাচ্ছি আমি, তার সব প্রমাণ আছে আমার কাছে। একজন পুলিশ অফিসার কাল রাতে মিঃ গ্রেনভিলের পুলিশ ফাইল দিয়ে দিয়েছে আমাকে। এগুলো ফটোস্টাট কপি, আসল কাগজপত্রের। এক স্ত্রী থাকতে তিনবার পর পর বিয়ে করার জন্যে মিঃ গ্রেনভিলকে জার্মান পুলিশ খুঁজে বেড়াচ্ছে।

    কেঁপে উঠলো হেলগা, মাথা দুহাতে চেপে ধরে তাকিয়ে রইলো বোকার মতো হিঙ্কলের দিকে।

    এক স্ত্রী থাকতে আর একবার বিয়ে, স্বলিত গলায় কথা বললো হেলগা।

    হ্যাঁ, মাদাম। মিঃ গ্রেনভিল বেছে বেছে মাঝ বয়সী ধনী মহিলাদের শিকার হিসেবে পাকড়াও করতেন, বিয়ে করতেন, জীবন কাটাতেন কদিন তাদের পয়সায়, ফুর্তিতে। অরুচি হলেই, তারপর একজনকে ছেড়ে ধরতেন আরেকজনকে।

    বিশ্বাস করি না, কঁকিয়ে উঠলো হেলগা, তোমার কথা বিশ্বাস করবে না। শুনতে চাই না তোমার কথা।

    একটুও বিচলিত না হয়ে হিঙ্কল বলে চললো, পুরোটাই সাজানো এই কিডন্যাপিংয়ের ব্যাপারটা। খোঁজ নিয়ে পুলিশ জেনেছে মাত্র দু দিন আগে মিঃ আর্চার আর মিঃ গ্লেনভিলকে আপনার রোলস গাড়িতে দেখা গিয়েছিলো। তার কার্ড দেখিয়েছিলো মিঃ আর্চার পুলিশকে। আর মিঃ গ্রেনভিল তার পাশপোর্ট। অথচ মিঃ আর্চারের সঙ্গে আপনার যে কথাবার্তা টেপ করে রেখেছি আমি, তা থেকে জানা যাচ্ছে তখনও প্রায় মিঃ আর্চার দেখেন নি মিঃ গ্রেনভিলকে। অথচ একসঙ্গে ছিলেন দুজনে।

    চোখ বন্ধ করলো হেলগা, মুঠি তার রাগে শক্ত হয়ে উঠলো।

    এই ফাইলে আছে সব কিছু খুঁটিনাটি।

    বহুবার বিয়ে, হেলগা পাগলের মতো চিৎকার করে উঠলো, শুয়োরের বাচ্চাটা বিয়ে করতে চায় আবার আমায়?

    খুব মায়া হতে লাগলো হিলের। হঠাৎ দেখা গেলো ক্রমশঃ শক্ত হয়ে উঠছে হেলগার শরীর। খুললো চোখ, যেন মুখ পাথরের তৈরী, গলাননা সীসের মতো জ্বলজ্বল চোখের দৃষ্টি।

    পায়চারি করতে লাগলো অস্থির ভাবে। শান্ত হয়ে হিঙ্কল বসে তার শিরা বের করা হাতটা দেখতে লাগলো একমনে। হেলগা কয়েক মিনিট পরে হিস্কুলের সামনে এসে দাঁড়ালো। এমনি বোকাই হয় মেয়েরা, তাই না হিঙ্কল?হাত রাখলো ওর কাঁধে হেলগা তোমার সাদা কোটটা কি তুমি গায়ে চড়াবে?

    সঙ্গে সঙ্গে হিঙ্কল উঠে দাঁড়ালো, মাদাম পরমানন্দে।

    হেলগা তাকিয়ে বললো, আর্চার আসছে ঘণ্টা খানেকের মধ্যে। এলে আমার কাছে পাঠিয়ে দিও সোজা। যা করার দরকার আমি করবো।

    সেই পুরানো কণ্ঠস্বর ইস্পাতের মতো, আশ্বস্ত হিঙ্কল বলে, মাদাম ঠিক আছে।

    চলে গেলো হিঙ্কল, ক্রোধের আগুনে জ্বলতে জ্বলতে বাদামী খামের কাগজগুলো হেলগা বের করে পড়তে শুরু করলো একমনে।

    .

    ০৮.

    আর্চার ভাড়া বাড়ির নোংরা খাটে শুয়ে ছিলো। ঘুম হয়নি রাতে বললেই চলে। ওর ভীষণ কষ্ট হচ্ছে চিন্তা করতেই যে ও এখন মাফিয়াদের পুরোপুরি কবলে পড়েছে আর গ্রেনভিলের অবস্থা আরও খারাপ। কিডন্যাপিংয়ের এই প্ল্যানটা যেন না করলেই ভাল হতো। হেলগার কাছ থেকে মোচড় দিয়ে বিশ লাখ ডলার আদায় করার আনন্দে মশগুল হয়ে বুদ্ধিটাকেও আর্চার ভোতা করে দিয়েছিলো। মোজেস সেইগালের মতো লোকের সঙ্গে মেলামেশা করাটাও দারুণ ভুল হয়েছিলো, আর বেনির মতো একটা ঠগের কাছে মিথ্যে গল্প নিয়ে যাওয়াটা তো চরম নির্বুদ্ধিতার কাজ হয়েছে।

    এখন কোন মুখ নিয়ে হেলগার কাছেবলবে বিশ লাখ থেকে এক কোটি করা হয়েছেমুক্তিপণের টাকা, আর্চার ভীষণ অপমানিত বোধ করছিলো। হেলগা কি ভাববে? টাকাটা হয়তো, দেবে, কিন্তু গ্রেনভিলের প্রতি আকর্ষণ কতোটা হলে রাজী হবে অভোগুলোটাকা দিতে রাজী হবে কি আদৌ? যদি এই শয়তানগুলো গ্রেনভিলের কান কেটে কাছে পাঠায় আর্চারের হাত দিয়ে?

    নাঃ, ভাবা যাচ্ছে না। টাকা ওকে দিতেই হবে। বোঝাতে হবে হেলগাকে ঠিক ভাবে।

    গ্রেনভিলকে ফেলে সুটকেশ হাতে নিয়ে এখুনি সুইজারল্যান্ড ছেড়ে পালাতে ইচ্ছে করছে আর্চারের। চলে যাবে ইংল্যান্ডে। কিন্তু সম্ভব নয়। সেটা আগেই বেৰ্ণি অনুমান করে পাশপোর্টটা চেয়ে নিয়েছে। কোথায় যাবে বিনা পাশপোর্টে।

    আর্চার পাশ ফিরে শুলো খাটের মধ্যেই, কপালে ঘাম বিন্দু বিন্দু। বেৰ্ণির কথায় বিশ্বাস করলে ও মাত্র পঞ্চাশ হাজার ডলার পাবে। ভালো হতো এক লাখ হলে। ছাঁটতে হবে সব প্ল্যানই। কিন্তু যদি এমন হয় হেলগা টাকা দিলো আর সবটাই নিয়ে চলে গেলো বের্ণি। ওকে দিলো না এক পয়সাও? সম্ভব তো এটাও?

    .

    কোনোরকমে আর্চার ধুকধুকে বুক নিয়ে উঠলো। স্নান করতে গেলো। আয়নায় নিজেকে ভালো করে দেখলো দাড়ি কামাবার সময়। থলথলে চর্বি ভরা মুখে যেন খড়ি উঠছে, কালো দাগ চোখের

    পাশে, অনিদ্রার চিহ্ন। সে যেন হতাশা আর পরাজয়ের প্রতিমূর্তি, কাউকে মুখ দেখাতে লজ্জা পাচ্ছে।

    স্যুটকেশে কাচা সার্ট একটা খুঁজতে খুঁজতে পেলো কিন্তু ফেঁসে গেছে তার কলারটা, বোতাম। নেই একটা। যেন হঠাৎ বুড়ো হয়ে গেছে, নিজেকে জরাজীর্ণ লাগছে, নাঃ সাহস তবে রাখতে হবে। বুঝতে দেওয়া চলবে না হেলগাকে যে নিজেই সে বিপদে পড়েছে। আর্চার তো ওকে খুব ভাল ভাবে চেনে, এই মহিলা বড় নিষ্ঠুর, যদি একবার জানতে পারে তবে পুরো তার ফায়দা লুটবে হেলগা।

    তারপর যা ও করলো কখনও তা করেনি আর্চার। হুইস্কির বোতল সকাল বেলাতেই বের করলো। পর পর দুটো পেগ গলায় ঢেলে বসালো বোতল নিয়ে, যতো হুইস্কি পেটে পড়তে লাগলো তত বাড়তে লাগলো সাহসও।

    ক্রমশঃ আর্চারের দেখা দিলো একটু মত্ততা। কিন্তু সে যাই হোক, ফিরে এসেছে নিজের ওপর আস্থা।

    ফোন বাজলো দশ টা পনেরো মিঃ-এ, বেৰ্ণির ফোন। বেৰ্ণি বললো, আর কয়েক মিনিটের মধ্যে মিঃ আর্চার ঐ রলফ মহিলার কাছে তুমি যাচ্ছো আমার হয়ে কথাবার্তা বলার জন্যে। আমার ভরসা আছে তোমার ওপর। ঝাট হবে বলে মনে করো কি?

    জানি না, তবে সুবিধের নয় মহিলাটি।

    আমার মাথায় একটা কথা এসেছে, যদি মিঃ গ্রেনভিল কথা বলে মহিলার সঙ্গে। বেশ নার্ভাস হয়ে গেছে ও, কানটা হারাবার ভয়ে কাঁপছে, নিশ্চয়ই মহিলাকে ও ঠিক মতো পারবে বোঝতে। তাই বলছিলাম ঠিক এগারোটায় তুমি পৌঁছে যাও ওখানে,তার আধ ঘন্টা পরে ওখানে ফোন করবে গ্রেনভিল। ফলে তোমার পক্ষে কাজটা সহজ হতে পারে।

    একটু ইতস্ততঃ করলো আর্চার, তারপর ভাবলো সব দিক দিয়ে পাওয়া যায় যত সাহায্য ততই ভাল। তাই বললো, তাই করো।

    তাহলে মিঃ গ্রেনভিল সাড়ে এগারোটায় ফোন করবে মহিলাকে। বোর্ণি নামিয়ে রাখলো ফোন।

    আর্চার বসার ঘরে এপাশ থেকে ওপাশ হাঁটতে লাগলো। এমন যদি হয় তার সঙ্গে গ্রেনভিল যে ভাবে কাল রাতে কথা বলেছিলো ঐ ভাবে পাগলের প্রলাপ বকতে শুরু করে হেলগার সঙ্গে তবে তো সব শেষ। তবে আর্চারের এ বিশ্বাস ছিলো যে হেলগা শেষ পর্যন্ত গ্রেনভিলের টানেই রাজী হবে টাকাটা দিতে। কিন্তু তার ভাগটা বের্ণি দেবে কিনা আর্চারের, এ বিশ্বাস ছিলো না।

    বেয়ারা বণ্ড চেয়েছে বেৰ্ণি। হুইস্কির প্রসাদে আর্চারের মেজাজ চড়েছে। না, ও বেয়ারার বণ্ড দিতে বলবে না হেলগাকে। জমা পড়বে টাকাটা তার নম্বর দেওয়া অ্যাকাউন্টে যাতে ওতে হাত না দিতে পারে সহজে বের্ণি। বেৰ্ণির সঙ্গে এই রকম ব্যবহার করতে হবে। আর তার অ্যাকাউন্টে যতদিন থাকবে টাকাটা বের্ণিও ততদিন তেমন বদমাশী করতে পারবে না আর্চারের সঙ্গে। এক কোটি ডলার, নিজে নেবেঅর্ধেক বেৰ্ণিকে দেবেঅর্ধেক। আর দশলাখ পরম উদারতায় গ্রেভিলকে দিয়ে দেবে।

    আর্চার মুখে এক ধরণের শব্দ করলো বেশ খুশি হয়ে। নজর ঘড়ির দিকে পড়তেই বুঝলো সময় হয়ে গেছে। এপাশ ওপাশ একটু দেখে নিয়ে আর্চার বেরিয়ে পড়লো মার্সিডিজ হাঁকিয়ে। ওখানে পৌঁছতে পৌঁছতে হেলগার মাথা খুবঠাণ্ডা হয়ে গেছে। একটু সাহসও কমেছে। গাড়ি রাস্তার মুখে রেখে ও হেঁটে গিয়ে বেল টিপলো দরজার।

    হিঙ্কল বেশ কিছুক্ষণ পরে দরজা খুললো।

    এই যে হিঙ্কল,আর্চার জোর করে হেসে বললো, নিশ্চয়ই মাদাম রলফ অপেক্ষা করছেন আমার জন্যে?

    ঠিক তাই, আমার সঙ্গে আসুন।

    বসার ঘরের মধ্যে দিয়ে হিঙ্কলকে অনুসরণ করে একেবারে খোলা ছাদে এসে আর্চার থামলো। হেলগা একটা কালো চশমা পরে গা এলিয়ে একটা আরাম চেয়ারে শুয়ে ছিলো, পাশে তোদকা মার্তিনির বোতল আর গ্লাস। হিঙ্কল জানালো আর্চার এসেছেন।

    হেলগা হাত নেড়ে মুখ ফিরিয়েই একটা খাড়া চেয়ার দেখালো, সেটা এনেহিঙ্কল এমনভাবে পাতলো যে আর্চারের মুখের ওপর পড়বে সূর্যের আলো, ওতে বসলে।

    এবার হিঙ্কল তুমি যেতে পারো, হেলগা বললো।

    ঠিক আছে, বলে হিরুল চলে গেলো।

    এই যে হেলগা, একটু ঘুরিয়ে নিয়ে চেয়ারটাকে সূর্যের আলো যাতে না পড়ে চোখে এইভাবে আর্চার বসতে বসতে বললো, আগের মতোই তোমাকে অপরূপা লাগছে।

    আর্চার হেলগার চোখ দেখতে পাচ্ছিলোনা গাঢ় কালো কাঁচ থাকাতে। অস্বস্তি হতে লাগলো আর্চার-এর। আর্চার দীর্ঘ দিনের পরিচয়ে জানে হেলগার মনের ভাব তার চোখের তারায় ফুটে ওঠে, কিন্তু তা তো আর এখন দেখা যাচ্ছে না।

    একটা কথাও হেলগা বললো না, নড়লোও না। হাতটা কোলের ওপর রেখে বেশ নিশ্চিন্ত হয়ে বসেই থাকলো।

    আর্চার গলা ঝেড়ে নিয়ে শুরু করলো, হেলগা একটা খারাপ খবর আছে। আমি তোমাকে প্রথমেই বুঝিয়ে দিতে চাই, আমি এসেছি প্রতিনিধি হয়ে আমার মক্কেলের, আর বলতে যাচ্ছি যা, তার সবটাই মক্কেলের কথা, আমার নয়। একটু অপেক্ষা করলো হেলগার উত্তরের জন্য, কিন্তু ও পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পেয়ে আবার বলতে লাগলো.নিজের থেকেই, জেনে গেছেআমার মক্কেল তুমি কতো বড় লোক। ওর একজন মাফিয়া বন্ধু সত্তর লক্ষ ডলার এক জায়গা থেকে মুক্তিপন আদায় করেছে। তাই মুক্তিপণের অংকটা আমার মক্কেলও বাড়িয়ে দিয়েছে। গ্রেনভিলকে ফেরৎ দিতে হলে সে এক কোটি ডলার চায়।

    আগের মতোই হেলগা নিরুত্তর। ঘামতে শুরু করলো আর্চার অনেকক্ষণ অপেক্ষা করে, তোমার কি আমার কথা কানে গেছে?

    কালা নই আমি, ধারালো কণ্ঠস্বর হেলগার, শুনে আর্চার চমকে উঠলো।

    তাই বলছিলাম, মানে আমার কিন্তু এটা কাজ নয়। তুমি দেবে কি এক কোটি ডলার?

    চেয়ারের মধ্যে একটু নড়ে বসলো হেলগা, আলস্য ভাঙতে গায়ের যেমন ভঙ্গী করে বেড়াল তেমনি ভাবে।

    এই টাকার কতটা অংশ পকেটে যাবে তোমার?

    তোমার সেটা মাথা ব্যথা নয়। চটলো আর্চার, শুধু তুমি বলবে হ্যাঁ কি না?

    ফিরে তাকালো হেলগা আর্চারের দিকে। চশমার আড়াল থেকে দৃষ্টি দিয়ে ও যে বিদ্ধ করছে। আর্চারকে এটা বোঝা গেলেও চেনা যাচ্ছিলো না হেলগাকে।

    যদি বলি, না?

    হেলগা মিথ্যে কথা বলছে মজা করার জন্যে, এটা চিন্তা করে অস্বস্তি আরও বেড়ে গেলো আর্চারের। ওটা তোমার ব্যাপার, গ্রেনভিল কিন্তু খপ্পরে পড়েছে দারুণ শয়তান লোকেদের। আমার কাজ করতেও খারাপ লাগছে ওদের হয়ে। যদি না দাও মুক্তিপণ, ওরা গ্রেনভিলের কান কেটে তোমার কাছে পাঠিয়ে দেব। বিশ্রী লাগছে ভীষণ, কিন্তু করার নেই কিছু। আমি আর গ্লেনভিল দুজনেই এই মাফিয়াদের হাতে পড়েছি। হেলগা বিশ্বাস করো, গ্রেনভিলকে ফিরে পেতে হলে দিতেই হবে টাকাটা।

    হেলগা গগলসের আড়াল থেকে ওর দিকে আবার তাকালো। তাহলে ফাঁদে পড়েছো তুমি?

    তোমাকে তো সবই বুঝিয়ে বললাম। প্রথমে আমি বুঝতে পারি নি কারবার করছি মাফিয়াদের সঙ্গে। ভীষণ নিষ্ঠুর ওরা। ওদের কথা মতো আমি কাজ করতে বাধ্য হচ্ছি।

    খুবই দুঃখের ব্যাপার তোমার পক্ষে, নিস্পৃহ কণ্ঠে হেলগা বললো।

    জ্বলে উঠলো আর্চার আমরা অযথা নষ্ট করছি সময়। কি করবে বলো? দেবে কি দেবে না?

    আবার আড়মোড়া ভাঙলো বেড়ালের ভঙ্গীতে হেলগা, গলায় ঢাললো গ্লাসের বাকি মদটুকু, তুমি টিমোথি উইলসন নামের কাউকে চেনো?

    আর্চার হকচকিয়ে উঠলো, টিমোথি উইলসন, আমি অযথা টিমোথি উইলসনদের ব্যাপারে মাথা ঘামাতে চাই না। আমার প্রশ্ন, টাকা দেবে কি দেবে না।

    প্যাকেট থেকে একটি সিগ্রেট নিয়ে হেলগা আরাম করে ধরালো। একটা সময় ছিলো যখন তোমাকে আমি মনে করতাম বুদ্ধিমান। কিন্তু টাকা যবে থেকে তছরূপ করলে, জাল করলে সই, করতে চাইলে ব্ল্যাকমেল আর এখন যেমন চর হয়ে এসেছে মাফিয়াদের, তখন ঘৃণা ছাড়া তোমায় আর কিছুই করতে পারছি না।

    মুঠি শক্ত হয়ে উঠলো আর্চারের, শোনো আমার কথা। সহ্য করেছি যথেষ্ট অপমান,যদি ফিরে পেতে চাও গ্রেনভিলকে তবে এক কোটি ডলার জেনিভার একটা অ্যাকাউন্টে জমা দিয়ে দিও। যদি না তাকে ফেরৎ চাও জানিয়ে দিও পরিষ্কার। ক্রুর হাসি ফুটে উঠলো হেলগার ঠোঁটে, হায় হতভাগ্য আর্চার। তুমি কি হাঁদা। আমি তোমায় বলেছিটিমোথি উইলসনেরকথা। একজন পেশাদার গল প্লেয়ার ছিলেন ওর বাবা, তবে খুবই কম ছিলো উপার্জন। খেলাটা ছেলেকে খুব ভালোভাবে শিখিয়েছিলেন। এই ছেলেটা সুন্দর দেখতে আর দুরন্ত উচ্চাকাঙ্ক্ষা মনের মধ্যে।যদিও বলে বেড়ায় ছেলেটা সেইটনে কেমব্রিজে পড়েছে, আসলে কিন্তু ষোলো বছর বয়স থেকে সে ঘর ছাড়া। কাজ শেখা শুরু করেছিলো প্যারিসের ক্রিলিয়ান হোটেলে। ফরাসী ভাষা ওখানেই শেখে, ঠিক মতো কাজকর্ম শিখলো না। ইতালীতে পালালো, ওয়েটারের চাকরী নিলো মিলানের একটা ছোট হোটেলে। এখানেও ইতালীয়ান ভাষা শেখে। ও কখনোই ঠিক মতো কাজ করতে পারতো না। জীবনের সবচেয়ে বড় শখ ছিলো ওর মেয়ে মানুষ। ইতালী থেকে গেলো জার্মানী, সেখানে ওয়েটার হলে অ্যাডলন হোটেলে। একজন বয়স্কা বিধবা মহিলা এখানে প্রেমে পড়লেন ওর, বিয়ে হয়ে গেলো বিয়ের প্রস্তাব করতেই। ওই মহিলার ঘাড়ে দুবছর ছেলেটা ফুর্তি করলো, ভাল না লাগাতে প্রেমে পড়লো আর একজন ধনী বিধবার, আর বিয়েও করলো। কিন্তু এটা করার আগে নিজের নামটা ঐ টিমোথি উইলসন পাল্টে করে নিলো ক্রিস্টোফার গ্রেনভিল।

    আর্চারের সারা শরীরে বয়ে গেলো একটা আতঙ্কের স্রোত, বলতে গেলে কি একটা, কিন্তু ওদিকে হেলগা হৃক্ষেপ না করে বলে চললো আমার হাতে এসেছে গ্রেনভিল বা ঐ উইলসনের পুলিশ ফাইল, জার্মানি পুলিশ ওকে দুই বিয়ে করার অপরাধে খুঁজে বেড়াচ্ছে।

    আর্চার বসে পড়লো চেয়ারের মধ্যে, বড় বড় ঘামের ফোঁটা মুখে, টেলিফোন বেজে উঠলো এমন সময়।

    আর্চার দেখবে নাকি একবার তোমার তুরুপের তাসগুলো, তুমি ঐ কথাটাই না বলেছিলে, তোমার হাতে তুরুপের তাস?

    ছাদে এলো হিঙ্কল, মাদাম মাফ করবেন, ফোনে মিঃ গ্রেনভিল কথা বলতে চাইছেন আপনার সঙ্গে।

    কথা না বলার ভঙ্গীতে মাথা নাড়তেই শেষ ভরসার আশাও আর্চারের জলাঞ্জলি দিলো।

    না, কথা বলার ইচ্ছে নেই ওর সঙ্গে, হিঙ্কলকে জানিয়ে দিলো হেলগা।

    মাদাম ঠিক আছে,বসবার ঘরে গিয়ে হিঙ্কল টেলিফোনে বলল, মাদাম কথা বলতে চাইছেন না আপনার সঙ্গে।

    এবার কালো চশমা হেলগা খুলে ফেললো, আর্চারের দিকে জ্বলন্ত দৃষ্টিতে তাকালো, বেরিয়ে যাও। একটা কথাও তোমার বিশ্বাস করি না।

    মাফিয়া, বড় সস্তা হয়ে গেছে রসিকতাটা। আমাকে বোকা বানিয়ে তুমি আর তোমার ঐ একাধিক বিয়ে করা ভাড়টা ভেবেছিলে বিশ লাখ হাতিয়ে নেবে। ওকে দেখোনি তুমি বলেছিলে। অথচ তোমরা একসঙ্গে ছিলে দুজনে আমারই গাড়িতে তা জানে পুলিশ। চোখের সামনে থেকে দূর হয়ে যাও আমার। তোমার ধাপ্পা দেওয়ার বুদ্ধিটুকুও নেই, বেরোও।

    মনে হলো আর্চারের, এখুনি বুঝি ও হার্টফেল করবে। টানতে লাগলো জামার কলারটা, বন্ধ হয়ে আসছে দম।

    লক্ষ্য করতে লাগলো ওকে, যেন পাথরের মুখোশ তার মুখটা।

    হাঁফাতে হাঁফাতে শেষ পর্যন্ত আর্চার বললো, হেলগা শোনো আমার কথা, তোমাকে বিশ্বাস করতেই হবে আমার কথা, সব কথা আমি স্বীকার করছি। আমি আর গ্রেনভিল মিলে এই প্ল্যানটা করেছিলাম, যাতে মনে করবে তুমি, চুরি হয়ে গেছে গ্রেনভিল। আমার একজন সন্দেহজনক চরিত্রের লোকের সঙ্গে পরিচয় ছিলো জেনিভাতে, আর আমি বোকার মতো তার কাছে সাহায্য নিয়েছিলাম দুটো নোক দিতে–যারা করবে ঐ সাজানো কিডন্যাপিংটা। ভগবানের নাম করে আমি বলছি, সেই দিন ওরা গ্রেনভিলকে নিয়ে গেলো, অমনি সেটা সাজানোর বদলে হয়ে গেলো সত্যিকারের কিডন্যাপিং। ওরা কেড়ে নিয়েছে আমার পাশপোর্ট। আমাকে জোর করে পাঠিয়েছে তোমার কাছে। কোনো দামই কি নেই তোমার কাছে গ্রেনভিলের?…ওকে তো তুমি ভালবেসেছিলে। টাকা তুমি না দিলে ওরা ওর কান আঙুল সব কাটবে। অন্ততঃ হেলগা বাঁচাবার জন্যেও গ্রেনভিলকে কিছু একটা করো।

    আর একটা সিগ্রেট হেলগা ধরালো, লক্ষ্য করলো আর্চার হাত ওর একটুও কাঁপলো না, হ্যাঁ, আমি ওকে ভালবেসেছিলাম, কিন্তু সে সব এখন চুকেবুকে গেছে। একটা জোচ্চোর, মিথ্যেবাদীকে ভালবাসা যায় কি করে বলল। দারুণ নীচ প্রকৃতির লোকটা, সে আবার কোনো এক মাঝবয়সী বিধবাকে বিয়ে করবে, সুখে বিলাসে থাকবার জন্যে।

    হঠাৎ যেন হেলগা ক্ষেপে গেল, একটু ঝুঁকে পড়ে বললো, মাফিয়া কাহিনীর তোমার একটা কথাও বিশ্বাস করলাম না। বড্ড সস্তাদরের মিথ্যেবাদী তুমি, চলে যাও। ধন্যবাদ দাও ভাগ্যকে যে তোমাকে আর তোমার ঐ দুবার বিয়ে করা লোকটাকে তুলে দিচ্ছি না পুলিশের হাতে। সাবধান করে দিচ্ছি, যদি কখনো ফের এসে দাঁড়াও আমার কাছে, তাহলে পস্তাতে হবে।

    ছাদে এসে হিঙ্কল দাঁড়ালো আর্চারের পেছনে। হাত পিঠে রাখতেই আর্চার প্রায় কেঁদে ফেললো, হেলগা, মিথ্যে কথা বলছি না বিশ্বাস করো। এই লোকগুলো…

    কথা শেষ করার আগেই ওর হাত ধরে হিঙ্কল এমন কায়দায় মোচড় দিলো যে আর্চারের মুখ ঘুরে গেলো, তারপর প্রায় ঠেলতে ঠেলতে বের করে দিলো সদর দরজা দিয়ে হিঙ্কল।

    টলতে টলতে কোন রকমে আর্চার গাড়ির সীটের দিকে চলে গেলে। এটা দেখে সদর দরজা বন্ধ করে ফিরে হিঙ্কল এলো ছাদে।

    ঠোঁট কাঁপছে উত্তেজনায় অথচ সারা শরীর ঘৃণায় পাথরের মত কঠিন করে হেলগা শুধু বললো, হিঙ্কল গুছিয়ে ফেলো জিনিসপত্র, চলে যাবো কালকেই।

    কাজটা হবে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের। উদাস চোখে এক নজর ওর দিকে তাকিয়ে চলে গেলো হিঙ্কল হেলগার শোবার ঘরে, স্যুটকেশ নামালো তাক থেকে।

    চোখ আড়াল করে দুহাত দিয়ে হেলগা ভাবছিলো টিমোথি উইলসন, শুধু জোচ্চোর নয়, একটা বাজে লোক বহু বিয়ে করা…ওকে যে কী করে ভালবেসেছিলাম আমি, কে জানে। লোকটা আধ বুড়ি মহিলাদের শিকার করে। তবে যে মাফিয়াদের কথা আর্চার বলেছে ওটা একটুও আমি বিশ্বাস করিনি। আমায় দুজনে মিলে বুদ্ধ বানাতে চেয়েছিলো। টাকা নেবে ভয় দেখিয়ে, নরকে যাক দুটোই।

    হেলগা দীর্ঘশ্বাস ফেললো জোরে। তার সর্বনাশ করবে এই পুরুষগুলোই।

    হেলগা তার ঐ অদ্ভুদ যৌন প্রবৃত্তির ফলেই তাকে বারবার ফাঁদে পড়তে হয়েছে এইভাবে। কনট্রোল করতেই হবে এটাকে। চিন্তা করতে করতে চোখ বুজে যে কটা রাত কাটিয়েছে ও ক্রিসের সঙ্গে তার কামনাতপ্ত মধুর স্মৃতিতে ডুবে গেলো। চোর বা খুনীও যদি হতো, ক্ষমা করা যেতে পারতো, কিন্তু যে লোকটা হিসেব করে এক স্ত্রী থাকতে অন্য বার তাকে বিয়ে করে…না, না, তাকে বিয়ে করা যায় না।

    সব চিন্তা ঝেড়ে ফেলে শোবার ঘরে গেলো হেলগা, স্যুটকেশ গোছাচ্ছিল হিঙ্কল। এলোমলো হয়ে আছে সব, তাই না। হেলগা হাসার চেষ্টা করলো জোর করে, বাঁচি এখান থেকে বেরোতে পারলে,তারপর হিঙ্কলের হাতটা ছুঁয়ে বললো, উপকারী ও বিশ্বস্ত বন্ধু বন্ধুর মতো ঠিক যে সময় মতো আমায় সাহায্য করেছে হিঙ্কল তা কখনো ভুলব না।

    ওর দিকে নিরানন্দ দৃষ্টিতে হিঙ্কল তাকিয়ে বললো, মাদাম সাহস আছে আপনার, আর হার স্বীকার করতে হয় না সাহস থাকলে।

    .

    গাড়ি চালিয়ে প্যারাডাইসে ফেরার সময় মনে হচ্ছিল আর্চারের ও যেন এক ফাঁদে পড়া ইঁদুর। যেহেতু গ্রেনভিলের সঙ্গে হেলগা কথা বলতে অস্বীকার করেছে অতএব বেৰ্ণি নিশ্চয়ই বুঝে ফেলেছে মুক্তিপণের টাকা হেলগা দেবে না। তাহলে বের্ণি এখন কি করবে? হয় ছেড়ে দেবে গ্রেনভিলকে, নয় হিংস্র হয়ে উঠবে।

    করুক যা খুশি, আর ওর মধ্যে নিজেকে আর্চার জড়াচ্ছে না। সোজা চলে যাবে স্যুটকেশ নিয়ে জেনিভা, ওখানে পাশপোর্ট হারিয়ে গেছে আমেরিকার কনস্যুলেটে বলবে।…বলবে জরুরী কাজ আছে ইংল্যান্ডে, দরকার তেমন পড়লে পুরনো কার্ডটা করতেই হবে।

    বুদ্ধি করে মনে হলো যদি মার্সিডিজের পিছনের বুটে স্যুটকেশটা তুলে রাখতাম আগে থাকতেই ওর মধ্যে সর্বস্ব আছে। ওটা নিয়ে তাড়াতাড়ি পালাই।

    রাস্তায় প্রচণ্ড ভীড় লোকের, বাধ্য হয়ে গাড়ি আস্তে চালাতে হলো। যখন ভাড়াটে বাড়ির কাছে পৌঁছেছে, তখন ঘামে সারা শরীর জবজব করছে। বাড়ির মধ্যে গাড়ি রেখে ছুটলো, ওটা বাইরের বসার ঘরেই ছিলো, যেই তুলতে যাবে, বের্ণি শোবার ঘর থেকে বেরিয়ে এলো। এ সেই হাসিখুশি, চকচকে মুখের বেৰ্ণি নয়, এততদিন যার সঙ্গে পরিচয় ছিলো আর্চারের, এ এক যেন ভয়ানক হিংস্র পশু, ধিকি ধিকি করে চোখে আগুন জ্বলছে।

    এসো ভেতরে, কি হলো, গ্রেনভিলের সঙ্গে মেয়ে, মানুষটা কেন কথা বললো না?

    দুরু দুরু বুক, ঠোঁট শুকনো, ভেতরে ঢুকে গেলো ফ্যাকাশে মুখ নিয়ে…টাকা ও দেবে না।

    কার্পেটে থুতু ফেললো বের্ণি, বাধ্য দিতে। অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল দিলো আর্চারকে লক্ষ্য করে বের্ণি, মোটুক, খচ্চর, হাঁদারাম, দেখিয়ে দেবো আমি মহিলাকে কিভাবে জব্দ করতে হয়। আমার সঙ্গে চলো।

    ভয় পেয়ে আর্চার পিছিয়ে এলো দু পা।

    আমার সঙ্গে চলো, গর্জে উঠলো বের্ণি, তারপর বসলো আর্চারের গাড়িতে। আর্চারও গেলো ভয়ে ভয়ে, এখন ও পরাজিত, বিধ্বস্ত, মান্য করা ছাড়া আর কোনো গত্যন্তর নেই। স্যুটকেশটা নিয়ে গাড়িতে রাখলো।

    সঠিক ভাবটা দাড়িওয়ালা মুখের মধ্য থেকে চিনতে না পারলেও ও যে একটা কিছু ভয়ানক করতে যাচ্ছে আর্চার এটা বুঝতে পেরে বসে রইলো চুপ করে পিছনের সীটে। গাড়ি চালিয়ে বেৰ্ণি নিয়ে এলো লাকির দোকানের কাছে।

    খোল গেটটা।

    আর্চার বেশ কষ্ট করে ঠেলে গেটটা খুললো, কারণ সে রীতিমতো কাঁপছে তখন। গাড়িটা চালিয়ে বেৰ্ণি সোজা নিয়ে এলো উঠোনের মধ্যে।

    এসো, দুজনে সিঁড়ি দিয়ে উঠে সেই ঘরটাতে এলো।

    দাড়ি কামানো হয়নি গ্রেনভিলের, বিশ্রী লাগছিলো, একটা চেয়ারে মনমরা হয়ে বসেছিলো। লাফিয়ে উঠলো আর্চারকে দেখেই।

    কীসের গণ্ডগোলটা হলো? আমার সঙ্গে হেলগা কথা কেন বললো না?

    গ্রেনভিল পাগলের মতো চেঁচিয়ে উঠলো।

    আমার উচিত হয়নি তোমার মুখ দর্শন করা,আর্চার বললো, তারপর পা কাঁপতে হঠাৎ শুরু করতেই শব্দ করে বসে পড়লো একটা চেয়ারে জানতে চাইছো তুমি হেলগা তোমার সঙ্গে কেন কথা বললো না? কারণ একাধিকবার তুমি বিয়ে করেছে, যদি জানতাম আগে ঐ রকম বিয়ে– করার জন্যে তোমায় জার্মানি পুলিশ খুঁজে বেড়াচ্ছে তবে আমি ঘেঁষতাম না তোমার ধারে কাছে। ওসব কথা কেন বলোনি? ছোটোলোক কোথাকার…

    ছাইয়ের মতো সাদা হয়ে গেলো গ্রেনভিলের মুখ, সে কথাও কি জানে?

    জানে, ওর কছে আছে জার্মান পুলিশের ফাইল। কি করে পেলো জানি না, তবে তোমার নাম যে টিমোথি উইলসন একথা ঠিক, জাল পরিচয় দিয়ে তুমি গ্রেনভিল সেজেছো। এও জানে তুমি তিনজন আধবুড়ি বিধবাকে টাকা হাতাবার জন্যে বিয়ে করেছিলে, সবাই তারা বেঁচে আছে।

    হে ভগবান, পাগলের মতো গ্রেনভিল তাকাতে লাগলো, ঘরের চারপাশে, পালাতেই হবে আমাকে, যদি ও পুলিশে খবর দিয়ে দেয়?

    বেৰ্ণি ওদের কথা শুনছিলো এগিয়ে এলো এবার, দুজনেই তোমরা বাজে টাইপের অ্যামেচার। যদি তোমরা মনে করে থাকো হাত থেকে এক কোটি ডলার এমনি এমনি ফসকে যাবে, তা দেবো না হতে। একটা নতুন কিছু করতে হবে। দেখা যাক কতত সাহস ঐ কুত্তিটার।

    শিস্ দিলো দরজার কাছে গিয়ে, গোলাবাড়ি থেকে সঙ্গে সঙ্গে সেগেত্তি আর বেলমন্ট এসে হাজির।

    টাকা ও দেবেনা, ওকে এবার থেকে নরম করবার ভার আমাদের দায়িত্ব।তারপর গ্রেনভিলকে দেখিয়ে আর্চারের দিকে ফিরে বললো, ওর রক্তমাখা কানটা নিয়ে তুমি যাবে।যদি না দেয় তাতেও, আর একটা কান পাঠাবো। না দেয় যতোদিন, একটা একটা করে আঙুল পাঠানো হবে ওকে।

    আর্চার ভয়ে সিটকে উঠে বললো, শোনো একটা কথা আমার, যদি চোর খুনী গ্রেনভিল হতে তাহলেও হেলগা টাকা দিতো, কিন্তু বহুবার বিয়ে করার জন্যে ক্ষেপে গেছে ও। বিয়ে হবার কথা ছিলো ওদের, এখন তো হচ্ছে না আর, একটা আধলাও দেবে না।

    কার্পেটে বেৰ্ণি থুতু ফেললো, আমরা দেখবো চেষ্টা করে। ওর কান কাটো বেলমন্ট।

    একটা চকচকে ছোরা প্যান্টের হিপ পকেট থেকে বের করলো, ওর দেখাদেখি সেগেত্তি পকেট থেকে একটা ক্ষুর বের করলো যা চামড়ার খাপে ঢাকা।

    হাসতে হাসতে বেৰ্ণি বললো, শুধু একটু মাথায় লাগবে, তবু কষ্ট খুব একটা হবে না, এসব ব্যাপারে সেগেত্তি দারুণ কাজের লোক। পরে কাটা দাগ সামান্য থেকে যাবে নিশ্চয়ই, তাই বলে কি চেষ্টা না করে বসে থাকবো হাত গুটিয়ে?

    গ্রেনভিল আঁতকে উঠে পিছিয়ে এলো দুপা, ভয়ে আর্চার মুখ লুকালো দু হাতের আড়ালে।

    গ্রেনভিল ভাঙা ভাঙা গলায় বললো, দাঁড়াও, শোনো আমার কথা, ঐ মেয়ে মানুষটার কাছ থেকে কমসে কম কি করে এক কোটি ডলার আদায় করা যায় আমি তা জানি। আমি ওকে চিনি, চেনো না তোমরা। হ্যাঁ, এক কোটি ডলার, আর নিশ্চয়ই পাবে…

    মুখ তুলে বের্ণি দাঁড়াতে বললো সেগেত্তিকে।

    এইসব খুন জখম পছন্দ করে না হেলগা।ভুল হয়ে গিয়েছিলো আর্চারকে পাঠানোটাই, উচিত ছিলো তোমার যাওয়া, ঠিক মতো ওকে তুমিই পারতে বোঝাতে, আর কেউ নয়। আর এখন টোপ হিসেবে ব্যবহারে আমাকে কোনো লাভ হবে না। তবে লাভ হবে কাকে করলে সেটা পেরেছি বুঝতে। কিন্তু বেৰ্ণি তোমাকে যেতে হবে, গ্রেনভিল ঘামতে ঘামতে বললো।

    ঠিক আছে। কথা না হয় আমিই বললাম,…কিন্তু কি সম্বন্ধে…?

    হাঁ করে আর্চার চেয়েছিলো গ্লেনভিলের দিকে, ছুরিটার ফলার ওপর বেলমন্ট আঙুল বোলাচ্ছিলো আর ক্ষুরটাকে সেগেত্তি হাতের তালুতে ঠুকতে ঠুকতে বিধে ফেলতে চাইছিলো দৃষ্টি দিয়ে গ্রেনভিলকে। আমার আগেই একথা উচিত ছিলো মাথায় আসা, তাহলে এতো বাঁধতে না সব গণ্ডগোল। খুবই সহজ ব্যাপার…

    সোজা বের্ণি গ্রেনভিলের সামনে দাঁড়িয়ে আঙুলের খোঁচা ওর বুকে মেরে বললো, খুবই সহজ তো বলছে…কিন্তু কি সেটা? চাপা হিংস্রতা তার গলায়।

    গ্রেনভিল প্ল্যানটা বললো সংক্ষেপে।

    সকাল আটটা বেজে পনেরো মিনিট। ঘুমের ওষুধের রেশ কাটিয়ে জেগে উঠলো হেলগা। হাত পা টানটান করে আলস্যে ঘরের চারপাশে বোলালো হালকা দৃষ্টি। চিরকালের মতো এই ঘর ছেড়ে চলে যেতে হবে, কিন্তু কোনো কষ্ট হচ্ছে না তার জন্যে। শুধু দুঃখের স্মৃতিতে জড়ানো এই বাড়ি। হেলগার মনে পড়লো গ্রেনভিলের কথা, একটাই সান্ত্বনার কথা যে ওর আর কোনো কষ্ট হচ্ছে না গ্রেনভিলের জন্যে। ওকে যে বেমালুম ভুলে যাবে কয়েক সপ্তাহ পরে এ বিষয়ে সন্দেহ নেই। অতীতে যে সব পুরুষরা হেলগার জীবনে এসেছিলো তাদেরই একজন হয়ে যাবে গ্লেনভিল, সাময়িক কৌতূহলের সামগ্রী হিসেবে অতীতের যাদুঘরের স্মৃতি মাখানো থেকে যাবে তার জীবনে।

    কতোটা সাবধান হতে হয় মানুষকে প্রেমে পড়লে, হেলগা একথা চিন্তা করছিলো। কিন্তু ভালবাসা কাকে বলে?তাকে একথা জানতেই হবে যে ভালবাসার আসল রূপের সঙ্গে তার পরিচয় আজও হয় নি। কোনো দিন তার অর্থ মনে হয় সে বুঝতেই পারবে না। এক স্বপ্ন, কল্পনামাখা যেন ভালবাসা। বিশ্বাস করে কতো মানুষ ভালবেসেছে। একদিন তারপর আবিষ্কার করে অর্থহীন ভালবাসা, যাকে হারাতে চোখে, এখন সে সম্পূর্ণ অজানা জগতের মানুষ। অথচ এমন লোকও আছে, হাজার হাজার, এখনও যারা মনে করে ভালবাসা তাদের কাছে এক দুর্ভেদ্য দুর্গ যেখানে গা এলিয়ে দেওয়া যায় পরম নিশ্চিতায়। ভালবাসার অর্থ ছিলো হেলগার কাছে একটাই–যৌন মিলন। সে ভালবাসা মনে করতো যৌনতার উত্তেজনাকেই। আর তার জীবনে এটাই ছিলো অভিশাপ, ওর দৃঢ় বিশ্বাস হয়েছিলো ও ভালবেসেছে গ্রেনভিলকে, কিন্তু যখন হিরুল বললো ঐ রূপবান পালিশকরা মানুষটা বিয়ে করেছে একাধিকবার, জোচ্চোর এক নম্বরের,হঠাৎ তখন সব ভালোবাসা নিমেষে উবে গেলো।ঠিক যেন আলোটা সুইচ টিপে নিভিয়ে দেওয়া।

    আরকয়েক ঘণ্টা পরে জেনিভা এয়ারপোর্টে হেলগা থাকবে। এই বাড়ি আর জিনিসপত্র সবকিছু বিক্রি করে এখানকার পাট চুকিয়ে ফেলার জন্যে হিস্কুল থেকে যাবে। প্যারাডাইস সিটিতে চলে যাবে হেলগা, আবার জীবন সেই একঘেয়ে, বোর্ড মিটিং নীরস আলোচনা ব্যবসার, সেই বুড়ো লোম্যান আরউইনবর্গ। এবার হয়তো এটাই হয়ে উঠবেতার জীবনের অংশ। হেলগা পঁয়তাল্লিশ এ পা দেবে আগামী জুন মাসে।

    হেলগা সাইড টেবিলে রাখা ঘড়ির দিকে তাকালো, আটটাবেজে চল্লিশ মিনিট। কেন দেরি হিঙ্কলের? ঠিক আছে, হেলগার প্রাণ তো আর কফির অভাবে চলে যাচ্ছে না। কাল সারাদিন ধরে আমার জিনিষপত্র বেচারা প্যাক করেছে। খালি করেছে আলমারীগুলো, হয়তো হিঙ্কল ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে বেশিক্ষণ।

    হেলগা আরো একটু ঘুমিয়ে নেবার চেষ্টা করলো চোখ বন্ধ করে। আর চোখ যে কখন জুড়ে গেছে জানে না, ঘুম ভাঙার পর খেয়াল হলো, সর্বনাশ নটা বেজে দশ মিনিট।

    হিঙ্কল এখনো আসে নি?

    হেলগা লাফিয়ে বিছানা থেকে নামলো, চট করে বাথরুমে ঢুকে স্নান সেরে নিলো, একটা পোশাক কোনো রকমে জড়িয়ে হেলগা বসবার ঘরে এলো। এখনো জানলা খোলা হয়নি, বেশ একটু ঘাবড়ে গিয়ে নিজেই খুললো জানলা, এখনো সদর দরজার তালা খোলা হয়নি। গাড়ি আসার সরু পথটা দরজা খুলে যেখানে মিশেছে বড় রাস্তার সঙ্গে সেটা দেখলো।

    মনে হলো হেলগার, টাটকা দুধ আনার জন্যে হয়তো কাস্টাগনোলাতে হিঙ্কল গেছে। কখনো অবশ্য হিঙ্কল ওভাবে যায় না, দুধ এর আগে কখনোনষ্টহয়নি। রান্নাঘরে গেল হেলগা।তিন বোতল দুধ ফ্রিজের মধ্যে।

    তাহলে? হেলগাকে হঠাৎ একটা অজানা ভীতি গ্রাস করতে শুরু করলো। অসুস্থ কি হিঙ্কল? ঐ অমানুষিক পরিশ্রমের পর কালকে হিঙ্কলের হার্ট অ্যাটাক হয়নি তো। নিজের পোশাক ছাড়ার ঘরে গিয়ে তাড়াতাড়ি লাল রঙের একটা ট্রাউজার স্যুট পরে হেলগা বেরিয়ে এলো। পোশাক পরে তিন মিনিটের মধ্যে ও হিঙ্কলের ঘরে ছুটলো। একটু অপেক্ষা করলো দরজায় টোকা মেরে। আবার একটু পরে জোরে ধাক্কা দিলো, ওকে নৈঃশব্দ অভ্যর্থনা জানালো, হেলগা জোর করে হাতল ঘোরালো একটু দম নিয়ে।

    ঘরের মধ্যে মুখ বাড়িয়ে হেলগা তাকিয়ে দেখলো, সাজানো সুন্দর পরিপাটি বিছানা, কিন্তু হিঙ্কল নেই।

    এবার ধীরে ধীরে এক অজানা আশংকা হেলগাকে ঠুকরোতে শুরু করেছে। ও সদর দরজার দিকে ছুটলো আবার।নাঃ, ওর রোলসের পাশে গ্যারেজে হিঙ্কলের ভক্সওয়াগন দাঁড়িয়ে, তার মানে গ্রামের দিকে হিঙ্কল যায় নি। তাহলে কোথায় গেল?

    বাগানে আছে কি তাহলে, আর হার্ট অ্যাটাক হয়েছে ওখানেই?দু পাশ দেখতে দেখতে হেলগা খাড়া সিঁড়ি দিয়ে নামলো, বাগানেও নেই। তালা লাগানো গেটে, হেলগা রোপওয়ের চেয়ারে বসে ফিরলো।

    তাহলে গেল কোথায় হিঙ্কল?

    হেলগা নতুন করে উপলব্ধি করলো রোপওয়েতে ভেসে আসার সময় তার কাছে দাম কতত হিঙ্কলের। এ পৃথিবীতে একমাত্র ওর বন্ধু হলো হিঙ্কল, ভীষণ ভয় করতে লাগলো ও না থাকাতে। তাহলে কি ওকে ছেড়ে হিঙ্কল চলে গেলো? না, পারে না তা করতে, চলে যেতে পারে না। তাহলে কি হতে পারে? ও কোথায় গেলো?

    রোপওয়ের কেবিনের ছোট্ট দরজাটা খুলে সোজা বসবার ঘরে হেঁটে চলে এলো। খবর দেবে কিনা পুলিশকে একথা চিন্তা করতে করতে দু-পা এগোতেই হঠাৎ হেলগা চমকে উঠলো সাপ দেখার মতো।

    গা এলিয়ে একটা আরাম চেয়ারে বসে আছে একটা মোটাসোটা গাট্টাগোট্টা দাড়িওয়ালা লোক, চাপা চাপা নাক মুখ, তীব্র দৃষ্টি চোখে, সিগ্রেট ঝুলছে ঠোঁটের ফাঁকে। নোংরা হাইনেকের নীল সোয়েটার আর ছাই রঙের প্যান্টে তেলের দাগ নানা জায়গায়, একটা ইলেকট্রিক ড্রিল কোলের ওপর, প্লাগে লাগান।

    এই ভয়ংকর দর্শন লোকটাকে দেখা মাত্রই একটা ঠাণ্ডা শিরশিরে স্রোত হেলগার শিরদাঁড়া দিয়ে বয়ে গেলো। বুঝতে পারলো এ বাড়িতে ও একা। ওকে কোনো রকম সাহায্য করবে যে হিঙ্কল, সেই হিঙ্কেলও নেই। জোর করে হেলগা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করলো মনের দৃঢ়তা। প্রশ্ন করলো কঠিন স্বরে তুমি কি করছে এখানে?

    দাঁত বের করে বের্ণি হাসলো, ড্রিলটা চালিয়ে কোনো কথা না বলে পাশের দামী ছোট্ট কফি টেবিলটায় একটা ফুটো করলো। গর্ত একটা করার পর, ড্রিলটা টেনে নিয়ে আর একটা গর্ত পাশে বানালো। তারপর বন্ধ করে দিলো সুইচটা।

    যন্ত্রটা দারুন, তাই না বেবী?

    কোনোরকমে ভয়ের নিঃশ্বাসটা চেপে নিয়ে প্রশ্ন করলো হেলগা, তুমি কি চাও?

    বেবী কেমন যেন মনে হলো আমার, আপনার সঙ্গে এবার কথা বলার সময় এসেছে। মনে হচ্ছে ঐ হতচ্ছাড়া আর্চারটা আপনাকে বোঝাতে পারেনি ঠিকমতো যে নিছক ব্যবসা করতে এসেছি আমরা আপনার সঙ্গে। জানতে পারলাম ওর কাছ থেকে ঐ প্রেমিক ছোকরাটার ওপর আপনার আর কোনো মোহ নেই। ওর কান আমি কেটে ভেবেছিলাম আপনাকে পাঠাবো, ও তখন একটা নতুন প্ল্যান দিয়েছে। চিবিয়ে চিবিয়ে কথাগুলো বলে ঝুঁকে পড়ে বেৰ্ণি আর একটা ফুটো বানালো।

    তাহলে দেখছি মিথ্যে কথা বলেনি আর্চার, নিঃসন্দেহে এই কুৎসিৎ প্রাণীটা মাফিয়া, ভাবতে লাগলো হেলগা। আর এর সঙ্গে একা এঁটে ওঠা সম্ভব নয় হেলগার পক্ষে।

    তুমি কি চাও? হেলগার কণ্ঠস্বরে দৃঢ়তার অভাব আগেকার।

    বেৰ্ণি ড্রিলটার স্পীড একটু কমিয়ে বললো, এক কোটি ডলার চাই বেবী, বেয়ারার বণ্ডে, একটু ঘাড় উঁচু করে তারপর কর্কশ গলায় বললো, আমার হাতে এখন আপনার চাকর হিঙ্কল। গ্রেভিল বলেছে হিস্কলের মূল্য অপরিসীম আপনার কাছে। তাই কি?

    হেলগার মনে হলো অজ্ঞান হয়ে যাবে, একটা চেয়ারের ওপর কোনো রকমে বসে পড়লো ধ করে।

    ও কোথায়?

    দেখতে পাবেন আপনি, ওর কাছেই যাবো আমি আপনাকে নিয়ে, আরো একটা ফুটো বের্ণি তৈরি করলো, এই যন্ত্রটা কতো কাজের আপনি দেখবেন। টাকা আপনি না দিলে, আপনাকে ছোট্ট একটু নাটক দেখাবো, আর তাহলেই আপনাকে মত পাল্টাতে হবে। উঠুন, চলুন। উঠে দাঁড়ালো বের্ণি।

    আপনার সঙ্গে আমি যাবো না।

    ওর দিকে বের্ণি ভয়ংকর দৃষ্টিতে তাকালো, আপনাকে আমি যেতে বলেছি। আর বেবী শুনুন, ভাবতে পারেন কি আপনি যে, যদি কারুর হাঁটুর মধ্যে চালিয়ে দেওয়া হয় এই ড্রিলটা, তবে তার হাল কি হবে? যা আমি বলছি তাই করুন, তানা হলে ঐ চাকরটা আপনার আর কোনোদিনও হাঁটতে পারবে না।

    মনে হলো হেলগার সব রক্ত ওর শরীর থেকে কে যেন শুষে নিয়েছে। খুন জখম ও আদৌ পছন্দ করে না, এই ধরনের কুৎসিত লোকটা বিশেষ করে যখন জঘন্য ভাষায় ভয় দেখাচ্ছে তাকে, আর তাও হিঙ্কলকে নিয়ে…তখন ঠিক থাকে না মাথার। মরিয়া হয়ে বললো হেলগা, টাকা দেবো আমি, এখনি ফোন করছি ব্যাঙ্কে।

    ওকে ভালো করে বের্ণি দেখলো, তারপর বললো মাথা নেড়ে বেবী বেশ বুদ্ধিমতীর মতো কথা বলেছেন। তবে দেখবেন কোনো রকম প্যাঁচ কষতে যাবেন না। তাহলে ঠিক করে ফেলুন সব। বেয়ারার বন্ডে কাল সকালের মধ্যে টাকাটা হাতে আসা চাই, তা না হলে তার কাজ ড্রিল শুরু করে দেবে।

    হেলগা কাঁপতে কাঁপতে রিসিভারটা তুললো টেলিফোনের কাছে গিয়ে।

    মাদাম, আর কোনো প্রয়োজন নেই ফোন করার, সেই মিষ্টি অথচ ভদ্র নিস্পৃহ গলায় হিঙ্কল বললো।

    বোঁ করে হেলগা ঘুরে দাঁড়ালো। হিঙ্কল দরজার মাঝখানে দাঁড়িয়ে দুপাশে দুজন লম্বা চওড়া লোক, পিস্তল হাতে। হ্যাঁ, হিঙ্কলই তো। দাড়ি কামানো হয়নি, বিপর্যস্ত পোশাক, কিন্তু হিঙ্কল ছাড়া মানুষটা আর কেউ নয়।

    টক করে বের্ণি উঠে দাঁড়াতেই মেঝেতে পড়ে গেলো ড্রিলটা। একজন হিলের পাশ থেকে ছুটে গিয়ে চেপে ধরলো বের্ণিকে, হ্যালো বের্ণি, পালিয়ে বেড়াচ্ছো বহুদিন ধরে এবার কিন্তু পালা আমাদের, চলে এসো।

    এক নজরে পিস্তলটা দেখে নিয়ে বের্ণি হতাশায় কাঁধ ঝাঁকালো।

    কিছুই প্রমাণ করতে পারবেনা আমার বিরুদ্ধে বাজ্জি। আর তুমি সেটা ভালো করেই জানো।

    বেৰ্ণি চেষ্টা করাই তো আমাদের কাজ। চলো দেখা যাক আমরা কি করতে পারি।

    জ্বলন্ত দৃষ্টিতে বের্ণি হিঙ্কলের দিকে তাকালো। তারপর বেরিয়ে গেলো ঐ দুজন পুলিশ অফিসারের সঙ্গে। সদর দরজা বন্ধ হবার শব্দ, তারপরেই গাড়ি ছাড়ার।

    মাদাম মাফ করবেন। ঠিক নেই আমার পোশাক আশাক। যদি কয়েক মিনিট দয়া করে সময় দেন তাহলে আনতে পারি কফিটা করে।

    চোখে জল হেলগার, কাছে গিয়ে কোনোরকমে হিঙ্কলকে জড়িয়ে ধরলো, ওই হিঙ্কল, কী ভয় যে আমি পেয়েছিলাম, কি বলবো। যদি ওরা কোনো ক্ষতি করতে তোমার…।

    মাদাম, আমায় কয়েক মিনিট সময় দিতে হবে, কথাগুলো চাচাছোলা গলায় বলে হিরুল হেলগার আলিঙ্গন থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিলো, তারপর হেলগার পিঠ পিতৃস্নেহে চাপড়ে চলে গেলো।

    হেলগা চেয়ারে বসে পড়ে কাঁদতে লাগলো অঝোরে। একটু পরে নিখুঁত পোশাক পরে হিঙ্কল যখন কফির ট্রলিটা নিয়ে ঢুকলো তখন ধাতস্ত হয়ে নিয়েছে হেলগা কান্না থামিয়ে।

    আমি, বলি কি একটু ব্রান্ডি কফির সঙ্গে মিশিয়ে নিলে ভাল হয়, ফিরে পাবেন মনের জোর।

    ঠোঁট কাঁপছিলো হেলগার, একটু হাসলো জোর করে। হিঙ্কল সব দিকেই নজর আছে তোমার। কিন্তু কিছুই আমি মুখে দেবো না, যদি আমার সঙ্গে তুমি না খাও, বোসো।

    আপত্তির ভঙ্গীতে ভ্রূ কোঁচকাতেই রেগে উঠলো, হেলগা যা বলছি তাই করো।

    মাদাম ঠিক আছে। তাহলে আর একটা কাপ আনি।

    কাপডিশ নিয়ে একটু পরে ফিরে এলো হিঙ্কল। দুই কাপেকফি ঢেলে একটু করে ব্রান্ডিমিশিয়ে হেলগার উল্টো দিকের চেয়ারে বসলো।

    মাদাম ক্ষমা করবেন আমাকে, আপনাকে এই রকম পরিস্থিতির মুখে ঠেলে দিতে বাধ্য হয়েছিলাম। জোর করেছিলো পুলিশই, ফাঁদ এরকমনা পাতলে ধরা যেতোনা ওই শয়তানটাকে।

    হেলগা কফিতে চুমুক দিতে দিতে শান্তি ফিরে পেয়েছে অনেকটা দেহে মনে, বিশেষ করে হিঙ্কল যখন সামনে বসে।

    সব কথা আমাকে বলো হিঙ্কল? শুনতে চাই।

    মাদাম নিশ্চয়ই। আপনি তো জানতেন যে আমার ভাগ্না জামাই জাঁ ফৌকনকে আমি মিঃ গ্রেনভিলের খোঁজ নেবার জন্যে ফোন করেছিলাম। যা বলি নি তা হলো ফৌকনকে সব কথা আমি বলেছিলাম, কিডন্যাপ করা হয়েছে মিঃ গ্রেনভিলকে, বিশ লাখ ডলার মিঃ আর্চার মুক্তিপণ চাইছেন। সব কথা জানিয়ে ফৌকন সুইস পুলিশকে সতর্ক করে দিলো। এই বাড়িতে ইন্সপেক্টর বাজ্জি দিনরাত পাহারা বসিয়ে দিলেন গত দুদিন ধরে। উনি খুঁজতে চাইছিলেন কোথায় মিঃ গ্রেনভিল আর মিঃ আর্চার লুকিয়ে আছেন। মিঃ আর্চার সেদিন চলে যাবার সঙ্গে সঙ্গে ছদ্মবেশে একজন পুলিশ অনুসরণ করে ওঁকে প্যারাডাইসের একটা ভাড়া বাড়িতে গিয়ে পৌঁছয়, এই বের্ণি সেখানে গিয়ে হাজির হলো। এখানকার পুলিশ বাই ওকে চেনে। তবে এতই ধূর্ত বের্ণি যে ওকে ধরার কোনো সাক্ষ্য প্রমাণ রাখে না। মিঃ আর্চার আর বেৰ্ণিকে পুলিশ অনুসরণ করে সন্ধান পায় লুগানোর একটা ছোট দোকানের,নজর রাখা শুরু করে তার ওপর। ধৈর্য অসীম সুইজারল্যান্ডের পুলিশের তারা অপেক্ষা করে। আর বোঝা যায়, বেৰ্ণি শেষ পর্যন্ত বুঝতে পারে আপনি আর আগ্রহী নন মিঃ গ্রেনভিলের ব্যাপারে। আমাকে ধরে নিয়ে আসার প্ল্যানও আঁটে। পুলিশ ভাবতেও পারেনি এই চালটার কথা, কিন্তু আমাদের বাড়ির ওপর যেহেতু কড়া পাহারা ছিলো তাই কোনো ব্যাপার ছিলো না ভয়ের তেমন।

    সদর দরজা আজ সকালে খোলামাত্র যা রোজই করে থাকি, আমাকে জোর করে দুটো গুণ্ডা মতো লোক ধরে একটা গাড়িতে তুলে নিয়ে গেলো ঐ দোকানে, একটা গোলাবাড়ি ছিলো যার পিছন দিকে। ওখানে মিঃ আর্চার আর এই শয়তান বেৰ্ণিকে দেখতে পেলাম, তখনও ধৈর্য ধরে রইলো পুলিশ। তারপর এলো আপনাকে ভয় দেখাতে বের্ণি। ওখান থেকে ও বেরোনো মাত্র মিঃ গ্রেনভিল, মিঃ আর্চার আর ঐ গুণ্ডা দুটোকে ইন্সপেক্টর বাজ্জির নির্দেশে পুলিশ গ্রেপ্তার করলো। তারপর আমি আর ইন্সপেক্টর বাজ্জি সোজা চলে এলাম এখানে ঠিক সেই সময়ে, যখন টাকা দেবার জন্য বেৰ্ণি আপনাকে ভয় দেখাচ্ছে।..বাকিটা তো জনেন আপনি। এইটুকুই দুঃখ যে আপনার মূল্যবান সময় ওই বজ্জাতটা এক বিশ্রী অভিজ্ঞতার মধ্যে আপনাকে টেনে নিয়ে গিয়েছিল। আর নষ্ট করে দিয়েছে এই সুন্দর টেবিলটাকে।

    আমি এক পয়সা কেয়ার করি না টেবিলটার জন্যে। তোমাকে ফিরে পেয়েছি, আমি খুশি।

    শেষ চুমুক কফিতে দিয়ে হিঙ্কল বললো, মাদাম আমি কৃতজ্ঞ।খুব সাবধানে পুরো ব্যাপারটাকে সামলাতে হবে। ইন্সপেক্টর বাজ্জি বলেছেন জার্মানীতে ফেরৎ পাঠানো হবে মিঃ গ্রেনভিলকে একাধিক বিয়ে করার অপরাধে বিচারের জন্য। চোরাই জিনিস রাখার অপরাধের অভিযোগে বের্ণি আর তার সঙ্গীদুটোকে জেলে পোরা হবে। বহু চোরাই মাল পাওয়া গেছে বেৰ্ণির বাড়ি সার্চ করে। কিডন্যাপিং-এর চার্জ আনা ইন্সপেক্টর বাজ্জির মতে ঠিক হবেনা, আপনি ওতে জড়িয়ে পড়বেন।

    কি হবে আর্চারের? প্রশ্ন করলো হেলগা।

    অবশ্য মিঃ আর্চারকে নিয়ে দেখা দিয়েছে সমস্যা। বেশ সমঝদার লোক ইন্সপেক্টর বাজ্জি। যেমন কেস করতে মিঃ রলফও রাজি হননি তেমনি মিঃ আর্চারের বিরুদ্ধে আমার মতে তেমন কোনো মামলা করা ঠিক হবে না। উনি নানা ঝামেলা বাড়াতে পারেন মামলা করলে। ক্রমশঃ গলার স্বর হিস্কলের এতো নীচে নেমে গেলো যে বোঝা যাচ্ছিল সে এটা পছন্দ করছে না, ঠিক করা হয়েছে যে, সুইজারল্যান্ড থেকে মিঃ আর্চারকে তাড়িয়ে দেওয়া হবে। আর ফিরতে পারবে না কোন দিনও। সেটাই ভাল হবে এই পরিস্থিতিতে মনে করি।

    ওর দিকে তাকালো হেলগা। চিন্তা করলো মনে মনে, নিশ্চয়ই হিঙ্কল জানে আর্চারের সঙ্গে এককালে অবৈধ সম্পর্ক ছিলো হেলগার। হেলগার স্বামীই হয়তো হিঙ্কলকে সে কথা বলেছিলো। তবে হিঙ্কল বুদ্ধি রাখে বটে।

    আর্চারের বিরুদ্ধে মামলা করলে ও ফাস করতেই এ সব কেলেঙ্কারীর কথা বেরিয়ে যাবে কাগজে; পৃথিবীর অন্যতম ধনী মহিলা একদা রক্ষিতা ছিলো আর্চারের।

    ভালই করেছে, হেলগা বললো। অন্যদিকে তারপর মুখ ঘুরিয়ে বললো, তাহলে সব শেষ হলো।

    মাদাম হ্যাঁ। অন্য কাজ এবার। আপনি নিউইয়র্ক চলে যাচ্ছেন তিনটের প্লেন ধরে, হিঙ্কল উঠে দাঁড়ালো।সেরে নিতে হবে শেষ প্যাকিংয়ের কাগজগুলো, হিঙ্কল কফির ট্রেটা গুছোতে গুছোতে বললো, মাদাম একটা কথা বলবো, কোনো কিছুর দাম ভবিষ্যতে দিতে গেলে একটু চিন্তা করবেন ভাল ভাবে। এক কোটি ডলার নয় নিশ্চয়ই আমার দাম। হিলের স্নেহ ভরা মুখে আনন্দে চোখ দুটো ঝিকঝাক করে উঠলো, তবে কৃতজ্ঞ রইলাম আপনার কাছে।

    একলা রেখে হেলগাকে হিঙ্কল চলে গেলো রান্নাঘরের দিকে।

    .

    ব্যাপারটা ঠিক বুঝতে পারছিলোনা আর্চার। ইন্সপেক্টরবৃজ্জি হঠাৎদারুণ ভদ্র ব্যবহার করতে কেন শুরু করলো? কেনই বা এত কথা বলছে? চেহারায় পুরো পুলিশ, অথচ বন্ধুর মতো ব্যবহার।

    বাজ্জি আর্চারকে হাসতে হাসতে বললো, চলোতোমায় পৌঁছে দিয়ে আসি জেনিভা এয়ার পোর্টে, লন্ডন যাবার প্লেনে তুলে দিয়ে তবে ছুটি আমার।

    ইন্সপেক্টর বাজ্জি এয়ারপোর্টে যাবার পথে তার স্ত্রী, ছেলে মেয়ের কথা বলতে লাগলো, রোমে কিভাবে বেড়াতে গিয়েছিলো ফলাও করে তার বর্ণনা করলো। এই রুক্ষ্ম মানুষটার ভেতরে যে এমন একটা হৃদয় থাকতে পারে ভাবতে পারেনি আর্চার।

    গ্রেপ্তার না করে আচারকে শুধু নির্বাসিত করা হচ্ছে সুইজারল্যান্ড থেকে এটুকু বুঝতে পেরে খুশি হয়েছেদারুন। তার মনে সাহস আবার ফিরে আসছে। ইন্সপেক্টর নানা উপদেশ দিলে বেড়াতে যাবার ব্যাপারে।

    এয়ারপোর্টের লবিতে গিয়ে দুজনে বসলো, রংচটা আর্চারের স্যুটকেশটা কুলি নিয়ে চলে গেলো, তার হাতে লন্ডনের টিকিট। সবকিছু নিয়মানুযায়ী হয়ে যাবার পর কাস্টমসের গণ্ডীর ভেতরে দুজন লোক এলো। বাজ্জির সঙ্গে তারা হ্যান্ডশেক করে কথা বলতে বলতে দেখে নিলো আর্চারকে।

    যে লাউঞ্জে বসে প্লেন ছাড়ার আগে অপেক্ষাকরতে হয় সেখানে বাজ্জি নিয়ে গেলো আর্চারকে।

    দেরী হবে একটু। একটু দেরীতে লন্ডনের প্লেন ছাড়বে।

    সব কিছুতেই আজকাল দেরী হয় ইংল্যান্ডের ব্যাপারে,উত্তর দিলো আর্চার মুখটা বেঁকিয়ে।

    একটা লম্বা বেঞ্চে দুজনে বসলো, সিমেন্টের এয়ার ফিল্ডটা ওখান থেকে দেখা যাচ্ছে, অনেকগুলো প্লেন দূরে দাঁড়িয়ে। ইন্সপেক্টর বাজ্জি সে দিকে তাকিয়ে বললো, মিঃ আর্চার, আপনাকে শেষ বারের মত সরকারী ভাবে জানিয়ে দিচ্ছি, কখনো চেষ্টা করবেন না সুইজারল্যান্ডে ফেরার। বুঝেছেন আশা করি?

    হ্যাঁ।

    ভালো কথা। খুব ভালো। মিঃ আর্চার আপনার ভাগ্য ভাল। যদি আপনার বিরুদ্ধে মাদাম রলফ অভিযোগ করতেন তবে জেলের ঘানি কয়েক বছর আপনাকে টানতে হতো।

    মাথা নেড়ে আর্চার বললো, হ্যাঁ, অবশ্যই করার কারণ আছে।

    নিজস্ব কারণ অত্যন্ত বড়লোকদের সবসময়েই থাকে। আপনি তো তাহলে লন্ডনে যাচ্ছেন। যদি কিছু মনে না করেন একটা প্রশ্ন করবো, আপনি ওখানে কি করবেন?

    ইন্সপেক্টর বাজ্জি খুব সরলভাবে প্রশ্নটা করলো, তাই ঠিক করলো আর্চারও উত্তর দেবে সরল ভাবে। চিন্তা করতে করতে বললো, ওখানে কি করবো, কি করবো হায়, যদি তা জানতাম?তার জানাশোনা আছে লন্ডনের কিছু লোকজনের সঙ্গে, তবে বেশির ভাগেরই অবস্থা আর্চারের মতো। তারাও ভাগ্যের সঙ্গে জোর লড়ে যাচ্ছে। সেই দারিদ্র, সেই টাকা উপার্জনের উন্মত্ততা। কেউ তাকে, হয়তো সাহায্য করতে পারে, তবে অনুমান সবটাই। কিন্তু ইন্সপেক্টরকে তো একথা বলা যায় বা। তাই বললো, জানো না তুমি ইন্সপেক্টর, নানা সুযোগ লন্ডনে, কাজ কর্ম সর্বত্র ছড়িয়ে আছে। বাজারে নানা রকমের লোন ছাড়া যায়। আরবের টাকা ছড়াছড়ি যাচ্ছে বিনিয়োগের জন্যে, মোটা টাকা পাওয়া যায় সম্পত্তি বিক্রির জন্যে, আর আমার অভিজ্ঞতার দাম আছে এই সব কাজে।

    যেন একটু চিন্তা করে বাজ্জি বললো, অথচ ধারণা ছিলো আমার, এখন বেশ মন্দা যাচ্ছে ইংল্যান্ডে।

    কথাটাকে উড়িয়ে দিয়ে আর্চার বললো, ওসব প্রচার কাগজের। বিশ্বাস না করছভালো। শুনলে তুমি আশ্চর্য হবে ইংল্যান্ডে গোপন সম্পদের পরিমাণ।

    তাই না কি?

    ঠিক তাই। ইংল্যান্ডের ঝঞ্জাট সম্বন্ধে আমি জানি, নানা কল্পিত কাহিনী এখন বাজারে চলছে। বলো দেখি কোন দেশে ঝঞ্জাট নেই? তবে জেনে রাখো তুমি আমার কোন অসুবিধে হবে না।

    দুজনে একটু হট্টগোল হতেই ফিরে তাকালো, দ্রুত পায়ে দুজন প্রেস ফটোগ্রাফার পিছু হটতে হটতে একটি মহিলার ফটো তুলছিল। মহিলাটি দারুণ সাজগোজ করা ওদের সামনে দিয়ে ঢুকে গেলো ভি. আই. পি. লাউঞ্জের মধ্যে।

    মিসেস রলফ। মহিলাটি দারুণ দেখতে, বাজ্জি বললো।

    চুপসে গেলো আর্চার, তাহলে গ্রেনভিলকে বেমালুম ভুলে গেছে হেলগা।

    তার চেহারা দারুণ ঝকঝক করছে, এতো বড় ঝড় যে বয়ে গেছে, চিহ্নমাত্র নেই কোন তার। কুত্তি কোথাকার।

    সফল হলে কিডন্যাপ করার প্ল্যানটা, আজ এই মেজাজ দেখিয়ে ওই রকম ঢুকতে পারতো না ভি. আই. পি. লাউঞ্জে। তার চারপাশে ঘুরঘুর করতো বেয়ারাগুলো। অথচ এমন ভাগ্য যে তার বদলে পাশে বসে, এখান থেকে পুলিশ ওকে তাড়িয়ে দিতে এসেছে। ও যে লন্ডনে পৌঁছে কি করবে তা জানে না। খুঁজতে হবে শিকার, যাতে কামানো যায় দু পয়সা।

    দারুন সুন্দরী, এককালে শুনেছি আপনি ওঁর সঙ্গে কাজ করতেন?আর্চারের কানে এসব কথা ঢুকছিলো না। ও একজনকে একমনে দেখছিল। দারুণ সাজগোজ করা, লম্বা চওড়া,বছর পঞ্চাশের এক পুরুষ প্রাচুর্যের চাকচিক্য সর্বাঙ্গে। দেখে বাজ্জি বললো, ওই তোর্মসিয়ে হেনরী দ্য ভিলিয়ার্স, বিরাট ধনী আর শিল্পপতি ফ্রান্সের। গুজব এবার উনিই রাষ্ট্রদূত হবেন আমেরিকার।

    ছবি তুলছিল ফটোগ্রাফাররা। দ্য ভিলিয়ার্স পোজ দিলেন হাসি হাসি মুখে।

    আর্চার দীর্ঘশ্বাস ফেললো। ওর চেহারাও, দশ লাখ ডলার পেলে, ঐ রকম হতে পারতো।

    ঘোষিত হলো নিউইয়র্কের প্লেন ছাড়ার কথা। বাজ্জি সিঁড়ির দিকে তাকিয়ে বললো, ঐ যে যাচ্ছেন ওঁরা।

    আর্চার দেখলো প্লেনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে হেলগা, দ্য ভিলিয়ার্স ওর পিছনে। আরও কয়েকজন। তারপরে হেলগা হালকা চালে হেঁটে যাচ্ছে, হেলগার হাত থেকে মাঝপথে কি একটা সাদা মতো পড়ে গেলো, হতে পারে রুমাল। আর্চার বুঝতে পারলো না এতোদূর থেকে, ওটা কুড়িয়ে নিয়ে দ্য ভিলিয়ার্স বড় বড় পা ফেলে হেলগার কাছে এগিয়ে গেলো, লক্ষ্য করতে লাগলো আর্চার, হাত পেতে কি ভাবে হেলগা ওটা নিলো, দ্য ভিলিয়ার্সকে অভ্যর্থনা জানালো এক মুখ উজ্জ্বল হাসি দিয়ে। দু একটা কথার পর ভিলিয়ার্স হেলগার ছোট্ট ব্যাগটা হাতে নিয়ে হেলগার পিছু পিছু অদৃশ্য হয়ে গেলো প্লেনের মধ্যে।

    হাসলো বাজ্জি, বাঃ এগিয়ে গেল বেশ দ্রুত।

    সব সময়েই মহিলাটি সব কাজ করে থাকেন দ্রুত ভাবে, আর্চার যেন মুখে বিষ দিয়ে কথাগুলো বললো, ঠিক সেই সময় ঘোষিত হলো লন্ডনে যাবার প্লেনের কথা। মিঃ আর্চার বিদায়, হ্যান্ডশেক করে ইন্সপেক্টর বাজ্জি বললো, শুভ হোক যাত্রা।

    আর্চারের জীবনে কিছু একটা শুভ হোক এটাই সে কামনা করছিলো আকুল মনে, তাই সর্বান্তকরণে বাজ্জির শুভেচ্ছাকে গ্রহণ করে ধীর পায়ে আর্চার প্লেনের দিকে এগিয়ে গেলো।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91 92 93 94 95 96 97 98 99 100 101 102
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleব্ল্যাক অর্ডার (সিগমা ফোর্স – ৩) – জেমস রোলিন্স
    Next Article জেমস হেডলি চেজ রচনা সমগ্র ২ (অনুবাদ : পৃথ্বীরাজ সেন)

    Related Articles

    জেমস হেডলি চেজ

    জেমস হেডলি চেজ রচনা সমগ্র ২ (অনুবাদ : পৃথ্বীরাজ সেন)

    August 18, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }