Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    August 12, 2026

    তালাশ – শাহীন আখতার

    August 12, 2026

    রাধাকৃষ্ণ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 12, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    জেমস হেডলি চেজ রচনা সমগ্র ১ (অনুবাদ : পৃথ্বীরাজ সেন)

    জেমস হেডলি চেজ এক পাতা গল্প2631 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৩. মনের জ্বালা

    ১১.

    মার্টিন আমার কাছ থেকে বেরিয়ে গিয়ে মনের জ্বালা জুড়োতে ওরিয়েন্টাল নামে এক নৈশ ক্লাবে ঢোকে। উন্মাদের মত কয়েক পেগ খেয়ে বিল মিটিয়ে রাস্তায় নেমে আসে। পাশাপাশি আর একটা ক্লাব, ম্যাকসিন। আবার কিছু দুরে চেজ ভিন্টার। একটাতেও আর যায় না মার্টিন। নেশায় সব কিছু যেন তালগোল পাকিয়ে যাচ্ছে। মনটা বিদ্রোহী হয়ে উঠছে। আমস্টারডম ও ডাবলিনের সেই মেয়ে দুটোর কথা মনে পড়ছে। আবার কিছুক্ষণ পর উদাস হয়ে পড়ে মনটা। হ্যারির কথা মনে আসে। রাস্তা সুনসান শুধু বরফ পড়ে যাচ্ছে। তার ইচ্ছে করছেসব ভেঙে ছারখার করে দিতে। তার মনের আগুন আন্নাকে পুড়িয়ে দেবে। এতদিন সে ভাল ছিল কিন্তু কি পেয়েছে? শুধু বঞ্চনা।

    রাত তিনটের সময় মার্টিন আন্নার ফ্ল্যাটে এসে বেল বাজায়। এখানে না এসে সে পারেনি। এক অমোঘ আকর্ষণ তাকে টেনে নিয়ে এসেছে। বেল বাজিয়ে এখন যেন অস্বস্তি হচ্ছে তার।

    এবার আওয়াজ ভেসে আসে–কে?

    –আমি মার্টিন।

    –তুমি এত রাতে?

    –হঠাৎ-ই চলে এলাম।

    আন্না দরজা খুলে বিস্মিত হয়। মার্টিনও নিজেকে সামলে নেয়, ভাবে ওকে সব বলে হাল্কা হবে। কিন্তু উত্তেজিত হয়ে মার্টিন বলে–আন্না আমি সব কিছু জেনেছি।

    আন্না বলে–আগে বস। এত রাতদুপুরে চিৎকার করে বাড়ির লোকদের জাগিও না। শান্ত হয়ে বস।

    দুজনে মুখোমুখি চেয়ারে বসে। আন্না বলে পুলিশ কি তোমায় ধাওয়া করেছে?

    মার্টিন অবাক হয়–পুলিশ!

    -হ্যাঁ।

    –কই না তো!

    –তুমি তো হেচককে গুলি করনি?

    হঠাৎ এ কথা জিজ্ঞাসা করছ?

    করেছ কিনা আগে তাই বল।

    না করিনি।

    –তুমি এত মদ খেয়েছ কেন?

    মার্টিন চিৎকার করে বলে–বেশ করেছি।

    এরপর নিজেকে সংযত করে বলে–ব্রিটিশ পুলিশ বিশ্বাস করেছে যে আমি হেচককে খুন করিনি।

    –আশাব্যঞ্জক কথা শোনালে।

    তবে হ্যারির ব্যাপারে অনেক কিছু জেনেছি।

    তুমি জেনেছ?

    –হ্যাঁ।

    বল কি জেনেছ?

    –ও একটা বিশ্রী ব্যাপারে জড়িয়ে পড়েছিল।

    –বিশ্রী ব্যাপার?

    –ও আমাদের দুজনকেই ঠকিয়েছে। আমি এটা ওর কাছে আশা করিনি। আমার লজ্জায় মরে যেতে ইচ্ছা করছে।

    আন্না উত্তেজিত হয়ে বলে ওঠে–আমায় সব খুলে বল। সব জানতে চাই আমি।

    মার্টিনের কাছ থেকে সব শুনে বলে–আমি তোমার কথা বিশ্বাস করতে পারি? বলে আবার ভাবে মার্টিন মিথ্যা বলছে। হ্যারির কখন এত অধঃপতন হবে? বিশ্বাস-অবিশ্বাসের দোলায় দুলতে থাকে আন্না। নিজের মনেই বিড়বিড় করতে থাকে। আবার বলে–সত্যি বিশ্বাস করতে পারি?

    আমি তোমায় মিথ্যে বলছি এ কথা কি করে ভাবলে?

    না না শুধু জিজ্ঞাসা করছি। আসলে মানতে পারছি না।

    –আমিও পারছি না। ওর কি এমন দরকার পড়ল এই রাস্তা বেছে নেবার।

    –তাই তো ভাবছি, এছাড়া কি অন্য পথ ছিল না?

    –তুমিই ভাল বলতে পারবে। ওর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ভাবে মেশার সুযোগ পেয়েছ।

    –আমার সঙ্গে ও বিশ্বাসঘাতকতা করল। ঠগ প্রতারক কোথাকার। ওর কথা শুনতেও ঘৃণা হচ্ছে। রাগে আন্নার চোখ মুখ অন্যরকম হয়ে যায়।

    –প্রতারণা শুধু তোমার সঙ্গেই করেনি, আমার সঙ্গেও করেছে। ভাবছি কি করে ও এমন পাল্টে গেল।

    –আমি আর ভাবতে পারছি না। ওর কথা আর বল না আমার সামনে, ও মারা গেছে ভালই হয়েছে।

    না না, একথা অন্ততঃ তুমি বোল না।

    বলতে বাধ্য হচ্ছি।

    –তুমি শান্ত হও, বুঝতে পারছি খুব দুঃখ পেয়েছ।

    –ও যদি জেলে পচে মরত তাও আমি সহ্য করতাম না।

    –জানি এখনও তুমি ওকে ভালবাস।

    –আমার একটা কথার জবাব দেবে?

    –কি?

    –যে হ্যারি টাকার জন্য এ কাজ করল সে বোধহয় আমাদের চেনা ছিল না।

    এক এক সময় আমারও তাই মনে হয়।

    আমাদের নিয়ে যেন ও ঠাট্টা করে গেছে।

    করতেও পারে। সে থাকলে জবাবটা তার কাছ থেকেই চাইতাম। এখন এসব আমাদের মেনে নিতে হবে।

    –মেনে নেবে?

    তাছাড়া উপায় কি?

    –আমি পারব না।

    –পারতে যে হবে।

    –তুমি ভাবতে পার সেই বাচ্চাগুলোর কথা, যারা মারা গেছে, উন্মাদ হয়েছে।

    –মার্টিন, ওসব ভুলে যাও।

    –পারছি কোথায়।

    –তবু সব কিছু ভোলার চেষ্টা করতে হবে।

    –আন্না! মার্টিনের গলা চিড়ে যেন নামটা বেরিয়ে আসে।

    –হ্যাঁ, মার্টিন।

    –আমি আর ওকে মনে করতে চাই না।

    চাও না?

    না, আমি…।

    –কি? বল? থামলে কেন?

    –আমি এখন তোমায় ভালবাসি।

    আন্না অবাক হয়ে বলে–আমায়?

    –হ্যাঁ আন্না।

    –আমিও একটা কথা তোমায় জানাতে চাই।

    –কি কথা?

    –আমিও তোমাকে ভালবাসি মার্টিন।

    –ঠিক বলছ? তুমি আমাকে বিশ্বাস করতে পার।

    –কিন্তু আমি তো তোমাকে ভালমত চিনি না।

    আন্না ভাবে একবার সে ঠকেছে, দ্বিতীয়বার আর ভুল করতে চায় না। একথা অস্বীকার করার উপায় নেই মার্টিনকে ভাল লেগেছে। অপরের জন্য ওর মনে দরদ আছে, না হলে মৃত বন্ধুর জন্য এত কে করে!

    মার্টিন বলে–তুমি হ্যারিকে মন থেকে মুছে ফেলতে পার না?

    –কি করে পারব?

    জানি আমি, নইলে ও কথা জিজ্ঞাসা করতে না।

    বল, হ্যারিকে কি করে ভুলি?

    –মার্টিন অভিমান করে বলে–যা হেরচকের মামলা মিটলে ভিয়েনা ছেড়ে চলে যাব।

    চলে যাবে?

    –হ্যাঁ।

    হতাশ গলায় প্রশ্ন করে আন্না–কেন?

    –এখানে থেকে কি করব? তাছাড়া হ্যারিকে কে খুন করল তা জানার বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই। যে ওকে খুন করেছে ঠিকই করেছে।নইলে এই পরিস্থিতিতে আমিই হয়ত ওকে খুন করতাম।

    –তুমি? আন্না চমকে উঠে বলে।

    –হা হা আমি।

    কখনোই পারতে না। ..

    –ঠিক পারতাম।

    তুমি রেগে গিয়ে বলছ। একটু শান্ত হও।

    শান্তই আছি, আর আমার অত তাড়াতাড়ি রাগও হয় না। ছিঃ ছিঃ শেষে হ্যারি কি না…। ওর জন্য গর্ব হত আমার, সবাইকে ওর কথা বলতাম।

    একটু থেমে আবার বলে–আর তুমি এখনও ঐ জঘন্য লোকটাকে ভালবাস।

    হ্যাঁ, ওকে আজও ভালবাসি। ওর ব্যাপারে তুমি এত কিছু জেনেছ বলে আমার ভালবাসায় বিন্দুমাত্র চিড় খাবে না। তবে এটা ঠিক এসব জানার পর আমি স্তম্ভিত।

    –তুমি যে ভাবে কথা বলছ তাতে আমার রাগ হচ্ছে। মাথায় অসহ্য যন্ত্রণা হচ্ছে আর তুমি বকে চলেছ।

    –আমি তোমাকে এখানে আসতে বলিনি, নিজেই এসেছ।

    –তুমি কিন্তু রাগিয়ে দিচ্ছ।

    আন্না হেসে বলে একে রাত তিনটের সময় এলে, তারপর রেগে আছ। এখন কি করলে তুমি খুশী হবে।

    –আমি এভাবে কখনও তোমায় হাসতে দেখিনি আর একবার হাস।

    দুবার হাসার মত কোন ঘটনা ঘটেনি।

    –আমি খুব ক্লান্ত, সারাদিন খুব ধকল গেছে।

    জানালার কাছ থেকে সরে এস।

    –কেন?

    –ওখানে পর্দা নেই।

    –এত রাতে কেউ দেখবে না।

    মার্টিন আস্তে বলে–আন্না এখনও তুমি হ্যারিকে ভালবাস তাই না।

    -হ্যাঁ।

    সম্ভবত আমিও। কিন্তু কেন জানি না…।

    আচ্ছা আজ উঠি।

    মার্টিন উত্তরের অপেক্ষা না করে রাস্তায় চলে আসে। হাঁটতে হাঁটতে মনে হয় কেউ তাকে অনুসরণ করছে। পিছন ফিরে তাকাতেই একটা রোগা লোককে দেওয়ালের দিকে চলে যেতে দেখল।মার্টিন চিৎকার করে–কে ওখানে? জবাবদাও? আওয়াজে একটা ঘরের পর্দা উঠে, আলো এসে পড়ল রাস্তায়। কাউকে দেখতে পেল না মার্টিন। অবাক হয় কোথায় গেল? উবে গেল নাকি? স্বচক্ষে দেখেছে তাকে। হতভম্বের মত সামনে এগিয়ে চলে সে।

    .

    ১২.

    সকালে মার্টিন আমার অফিসে আসতে অবাক হয়ে যাই, এভাবে আসবে ভাবিনি। সুপ্রভাত জানিয়ে বসতে বলি। জিজ্ঞাসা করি–হঠাৎ কি মনে করে?

    –একটা কথা জিজ্ঞাসা করতে চাই কর্নেল।

    –কি? –

    -আপনি ভূত বিশ্বাস করেন?

    ভূত?

    –হ্যাঁ।

    না। আমার মনে হয় মাতালেরা ইঁদুর বা ঐ জাতীয় কিছু দেখলেও ভূতের ভয় পায়। গতকালের আন্না স্মিডের কথা বলার পর বলল একটা লোক তাকে অনুসরণ করছিল, মার্টিন পিছু নিতে কোথায় মিলিয়ে গেল। মনে হয়েছে হ্যারি লাইম যেন এসেছিল।

    আমি বললাম–একটা কথা জিজ্ঞাসা করব?

    করুন।

    –তখন আপনি পান করেছিলেন?

    –কেন বলুন তো?

    –আগে বলুন, তারপর বলছি।

    –হ্যাঁ।

    যা ভেবেছি ঠিক তাই।

    –কি ভেবেছিলেন?

    –ও সব মদের খেয়ালে…

    –কিন্তু তখন আমার এমন অবস্থা নয় যে ভুল করব। আর মদ তো নতুন খাচ্ছি না।

    যাইহোক তারপর কি করলেন?

    –কিছুদূরে একটা রেস্তোরাঁয় গিয়ে এক পেগ মদ খেলাম।

    –তখনই ভূতটা আবার ফিরে এসেছিল।

    –না, আসেনি। ঐ রাতে আবার আন্নার ফ্ল্যাটে চলে গেছিলাম।

    মার্টিনের কথা শুনে মনে হল, যে তোক অনুসরণ করছিল সে হ্যারি নয়। মার্টিনকে আমার সঙ্গে কথা বলতে দেখে দলের লোককে সাবধান করে দিয়েছে সঙ্গে সঙ্গে।

    মার্টিন আবার যখন আন্নার ফ্ল্যাটে যায় তখন চারটে বাজে। সিঁড়ি দিয়ে উঠতে গিয়ে শোনে নীচে তার নাম ধরে কে ডাকছে। নীচে তাকিয়ে বলে আমায় কিছু বলছেন?

    হ্যা।

    বলুন।

    –আন্তর্জাতিক টহলদারী পুলিশ আন্নাকে তুলে নিয়ে গেছে।

    –আমাকে?

    –হ্যাঁ।

    –কি যা তা বলছেন!

    –ঠিকই বলছি উপরে গেলেই দেখতে পাবেন।

    আসলে রাশিয়ার ওপর এখন নিরাপত্তার ভার। রাশিয়ার কাছে খবর ছিল আমা তাদেরই নাগরিক।

    –আন্না রাশিয়ান নাগরিক?

    –হ্যাঁ তাই বলেছে। এখানকার কাগজপত্র জাল।

    –জাল?

    –হ্যাঁ। নাগরিকত্ব ভাঙিয়ে এখানে বসবাস করছে।

    এখানে বলে রাখি ভিয়েনা মিলিটারী পুলিশী ব্যবস্থাগুলো অদ্ভুত ধরণের। এক অঞ্চলের লোকদের পক্ষে অন্য অঞ্চলের লোকদের ধরা মুশকিলের ব্যাপার। প্রত্যেকটা অঞ্চলের খুঁটিনাটি শাসন ব্যবস্থা অন্য অঞ্চলের লোককে মেনে চলতে হয়।

    আন্নার ফ্ল্যাটে প্রবেশ করার আগে আমেরিকান পুলিশ জার্মানী ভাষায় জিজ্ঞাসা করল রাশিয়ানটাকে–কি ব্যাপার। রাশিয়ানটা জার্মান ভাষা বোঝে না, শুধু কতগুলো কাগজ ওর দিকে এগিয়ে দিল। কাগজ দেখে আর কিছু না বলে এগিয়ে যায় তারা। ব্রিটিশ সৈন্যটা ওপরে না উঠে আমায় ফোন করে। কিছুক্ষণ পরই মার্টিন আমায় ফোন করে। তাকে আমি সব জানিয়ে দিই। আমি ফোন পেয়ে আন্নার ফ্ল্যাটের দিকে রওনা হই। রাস্তাতেই ওদের সঙ্গে দেখা হয় আমার। ব্রিটিশ সৈনন্যর কথায় তারা হেড অফিসে যাচ্ছিল কাগজপত্র পরীক্ষা করতে। ওদের সঙ্গেই রয়েছে আন্না। রাশিয়ানটাকে জিজ্ঞাসা করি, কি হয়েছে তারপর কাগজগুলো দেখে নিয়ে বলি–আন্নার বিরুদ্ধে কোন অপরাধমূলক কাজকর্মের প্রমাণ নেই। ওর বিরুদ্ধে তদন্ত করে তারপর রিপোের্ট পাঠাব। আপাততঃ এখন ওকে ছেড়ে দাও।

    .

    ১৩.

    মার্টিন যখন ভূতের গল্প বলছিল আমি বিশ্বাস করিনি। তাছাড়া হ্যারি লাইমের মত লোক মদের ঝোঁকে ভুল দেখেছে তাও মানতে পারছি না। ভিয়েনার ম্যাপটা খুলে বসলাম, ফোন করে জুনিয়ার অফিসারকে হারবিলের কথা জিজ্ঞাসা করলাম। জানা গেল পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে অন্য অঞ্চলে গেছে। এখন মনে হচ্ছে কোথাও যাওয়ার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা জারি করলেই ঠিক ছিল। একটু পরে আবার ফোন পেলাম; জানা গেল হারবিল খুন হয়েছে। হারবিলের ব্যাপারে বিস্তারিত খবর জানতে বলে ফোন রেখে মার্টিনকে বললাম–সেই লোকটা যেখানে অদৃশ্য হয়েছে সে জায়গাটা মনে আছে?

    -হ্যাঁ।

    চলুন যেতে হবে।

    –কিন্তু আন্নার কি হবে? ওকে যদি আবার হয়রান করে?

    –চিন্তার কিছু নেই। ওর বাড়িতে পুলিশ পাহারা রেখেছি। চলুন যাওয়া যাক।

    গাড়ি না নিয়ে সাধারণ পোশাকে ট্রামে করে চলেছি। আজকের আবহাওয়া ভাল। নির্দিষ্ট জায়গায় ট্রাম থেকে নেমে কিছুটা হাঁটার পর মার্টিন বলল কর্নেল এইখানে।

    দেখিসামনে একটা পুরনোপাঁচিল,শ্যাওলা পড়া,আগাছায় ভর্তি।এগিয়ে গিয়ে পাঁচিলটা দেখতে চমকে উঠলাম, পাঁচিলের গায়ে একটা দরজা। কি মনেহতে দরজায় টান মারলাম।দরজাটা যে খুলে যাবে ভাবিনি। ভিতরে তাকিয়ে দেখি সিঁড়ি নেমে গেছে। মার্টিন বলে–এসব ঘটবে কে জানত!

    -সত্যি কারুর জানার কথা নয়, এখানে দরজার কথা কেউ ভাববেই না।

    –আমার মনে হয় নোকটাকে ঠিক দেখেছি।

    এখন আমারও তাই মনে হচ্ছে।

    কর্নেল, এই সিঁড়িগুলো কোথায় গেছে?

    যতদূর মনে হয় যুদ্ধের সময় তৈরী হয়েছিল।

    যুদ্ধের সময়?

    –হ্যাঁ।

    –সে তো অনেক দিনের ব্যাপার। তা কোথায় গিয়ে মিলেছে এগুলো?

    -সুড়ঙ্গের সঙ্গে। ভিয়েনার নীচে এই সুড়ঙ্গগুলো একটার সঙ্গে একটা যুক্ত, শহরের প্রধান ড্রেনের সঙ্গে গিয়ে মিশেছে। এরকম দরজা সারা ভিয়েনাতেই আছে। আসলে এগুলো তৈরী হয়েছিল বোম্বিং-এর হাত থেকে রেহাই পেতে। এইগুলোকে পাহারা দেবার জন্য অস্ট্রিয়ানদের  বিশেষ পুলিশ বাহিনী আছে। এর যে কোন একটা দরজা দিয়ে ঢুকে ভিয়েনার যে কোন অঞ্চলে ওঠা যায়।

    মার্টিন অবাক–বলেন কি?

    –এই হচ্ছে সেই রাস্তা যেখান দিয়ে আপনাদের বন্ধু হ্যারি হাওয়া হয়ে গিয়েছিল।

    –হ্যারি? মার্টিন চমকে ওঠে।

    –হ্যাঁ।

    –কি করে হবে! ওকে তো কবর দেওয়া হয়েছে।

    –আমি ঠিকই বলছি, সমস্ত প্রমাণ তাই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

    –কিন্তু…

    কিন্তু কি?

    –একটা কথা কিছুতেই বুঝতে পারছি না। ওরা কাকে কবর দিল তাহলে?

    এখনও জানি না। তবে একটা কাজ করতে বলে এসেছি।

    –কোন কাজ? অবশ্য যদি আপত্তি না থাকে।

    –না না আপত্তির কিছু নেই। কবরটা তুলে ফেলার নির্দেশ দিয়েছি।

    কবরটা?

    হ্যাঁ।

    –কিন্তু কবরটা যদি সরিয়ে ফেলে?

    এখনও ফেলেনি। সে খবর আমার কাছে আছে। আর এতক্ষণে হয়ত তোলাও হয়ে গেছে। আর একটা কথা শুধু হেরচকই খুন হয়নি আরও একজন খুন হয়েছে।

    –আরও একজন?

    –হ্যাঁ।

    –কে?

    –এখন বলতে পারছি না।

    বলতে পারছেন না, না বলবেন না?

    –জানি না, জানলে বলতাম। আর বাজী ধরে বলতে পারি–হ্যারি এই সুড়ঙ্গের কোথাও লুকিয়ে আছে।

    –হ্যারি এর মধ্যে রয়েছে।

    –আমার তো তাই মনে হচ্ছে। হ্যারির মৃত্যু, অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সব সাজান ছিল।

    মাথায় তো কিছুই ঢুকছে না।

    –খুব স্বাভাবিক।

    দুর্ঘটনার পর হেরচক তো হ্যারির মুখ দেখেছিল, বলেছিল সঙ্গে সঙ্গে মারা গেছে। সত্যি ব্যাপারটার মধ্যে এত রহস্য আছে কে জানত! একবার হ্যারির সঙ্গে কথা বলতে পারলে ভাল হত।

    –তা ঠিক।

    তবে ওকে পাচ্ছি কোথায়?

    পাওয়া যাবে হয়ত। আপনি একমাত্র লোক যার সঙ্গে হ্যারি কথা বলতে আপত্তি করবেনা, যদিও এটা আপনার পক্ষে বিপজ্জনক।

    বিপজ্জনক কেন বলছেন? হ্যারিতো আমার বন্ধু।

    –কিন্তু আপনি ওর সম্বন্ধে অনেক কিছু জেনে ফেলেছেন।

    –তা অবশ্য ঠিক। তবু ও আমার ক্ষতি করবে না।

    না করলেই ভাল।

    করবে না আমার দৃঢ় বিশ্বাস।

    –আপনার বিশ্বাস অটুট থাক।

    –আমি এক পলক ওকে দেখেছিলাম, তাই ভাবছি সত্যি ও কিনা। বলুন কি ভাবে এগোব?

    আমার মনে হয় ও এ অঞ্চল ছেড়ে কোথাও যাবে না।

    –কেন বলুন তো?

    –গেলে অসুবিধে হবে।

    –কি ধরনের অসুবিধে? নিরাপত্তার অভাব?

    –তা হতে পারে; হ্যাঁ যা বলছিলাম। আপনি হ্যারিকে সুড়ঙ্গের বাইরে আনতে পারেন।

    –আমি বললে ও কথা রাখবে?

    –তা ঠিক। রাখলেও রাখতে পারে। যদি এখনও বন্ধু হিসেবে মনে করে।

    করবেনা। সেই ছেটোবেলার বন্ধু আমরা,তবেতার আগেকার্টসের সঙ্গে একবার দেখাকরব।

    কার্টসের সঙ্গে?

    –হ্যাঁ।

    তবে এ ব্যাপারে আপনাকে সাবধান করতে চাই।

    –কেন বলুন তো।

    –আমার অঞ্চল থেকে গেলে আপনার নিরাপত্তার দায়িত্ব আমি নিতে পারব না, আর হ্যারিও চাইবে না যে আপনি আমার অঞ্চল ছেড়ে রাশিয়ান অঞ্চলে যান।

    মার্টিন থমকে গেলেও তারপর দৃঢ় স্বরে বলে–আমি পুরো ব্যাপারটা ভাল ভাবে বুঝে নিতে চাই তাই কার্টসের সঙ্গে দেখা করা দরকার।

    .

    ১৪.

    রবিবারের দুপুরবেলা মেঘলা আকাশ,বরফও পড়ছেনা। রাস্তায় লোক প্রায় নেই বললেই চলে। মার্টিন চলেছে কার্টসের বাড়ির দিকে। রাস্তার একজায়গায় বোর্ডে লেখা রাশিয়ান অঞ্চল।

    কার্টসের বাড়ি পৌঁছে বেল বাজায় মার্টিন।ইচ্ছা করেই আগে জানান দিয়ে আসেনি সে।দরজা খুলে মার্টিনকে দেখে অবাক। বলে–আপনি?

    মার্টিনের মনে হয় সে হয়ত কারও জন্য অপেক্ষা করছিল। মার্টিন এবার লক্ষ্য করে কার্টসের মাথায় পরচুলা নেই।

    কার্টস অসন্তুষ্ট ভাবে বলে ওঠে–এখানে আসার আগে ফোন করে আসা উচিত ছিল।

    মার্টিন–তার জন্য ক্ষমা চাইছি।

    –আমি তো একটু পরেই বেরিয়ে যেতাম।

    একটু পরে বেরতেন এখন তো নয়। আমি কি এবার ভিতরে আসতে পারি?

    অনিচ্ছা সত্ত্বেও আহ্বান জানায়-আসুন।

    ঘরে ঢুকে দেখে ভোলা আলমারি থেকে কার্টসের ওভারকোট, বর্ষাতি, কয়েকটা টুপী আর পরচুলা উঁকি মারছে।

    পরিহাস করে বলে মার্টিন–তাহলে আপনার মাথায় চুল উঠেছে?

    কার্টসের মুখের চেহারা সামনের ড্রেসিং টেবিলের আয়না দিয়ে দেখে মার্টিন। এবার মুখোমুখি হতে বলে কার্টস মাঝে মাঝে চুলটা খুলে রাখি, আর ওটা পরলে মাথা বেশ গরম থাকে।

    কার মাথা? দুর্ঘটনার সময় পরচুলা পরে থাকলে সহজে অন্যের চোখকে ফাঁকি দেওয়া। সম্ভব না।

    কার্টস কোন জবাব দেয় না।

    মার্টিন বলে–যা সে কথা, আমি হ্যারির সঙ্গে দেখা করতে চাই।

    –হ্যারি! চমকে ওঠে কার্টস।

    –হ্যাঁ। ওর সঙ্গে কয়েকটা কথা বলব।

    কথা

    ?–হ্যাঁ।

    –ওর সঙ্গে?

    হু।

    –পাগল হয়ে গেছেন নাকি?

    –কে? আমি?

    তাই তো মনে হচ্ছে।

    –আমার একটু তাড়া আছে, তাই আপনার কথার কোন জবাব দিলাম না।

    –শুনে খুশী হলাম।

    –এবার আমায় খুশী করুন।

    –খুশী করব আপনাকে?

    –হ্যাঁ।

    –কিভাবে?

    দয়া করে এই পাগলের কথা শুনুন তাহলেই হবে।

    বলুন কি বলবেন?

    যদি হ্যারি বা হ্যারির প্রেতাত্মার সঙ্গে আপনার দেখা হয় তাহলে আমার কথাটা জানিয়ে দেবেন। আমি দুঘন্টা প্রাটারের ভাঙা গীর্জার কাছে যে বটগাছটা আছে ওখানে থাকব।

    এখন আসি। ও হ্যাঁ মনে রাখবেন আমি হ্যারির বিশ্বস্ত বন্ধু।

    এমন সময় ভেতরের ঘর থেকে কিসের যেন একটা আওয়াজ আসে। মার্টিন শব্দটা অনুসরণ করে দরজার কাছে এসে দরজাটা খুলে ফেলে। দেখে রান্নাঘরের মধ্যে একটা চেয়ারে ডাঃউইস্কলোর বসে আছে। মার্টিন অবাক, কাছে গিয়ে বলে আপনি এখানে? কি ব্যাপার?

    ডাক্তার ইতস্ততঃ করে–মানে…।

    মানে কি? মার্টিন কোন কথা না বলে কার্টসের কাছে এসে বলে ডাক্তারকে আমার পাগলামোর কথা বলবেন যদি ওষুধ দিতে পারেন। হ্যাঁ, আবার বলছি ঐটারের গীর্জার কাছে ঘণ্টা দুয়েকের জন্য থাকব।

    প্রাটারের গীর্জার সেই বটগাছটার কাছে মার্টিন ঘণ্টা খানেক হল এসেছে। হ্যারির কোন দেখা নেই। আদৌ সে কি আসবে?

    চারদিকে তাকায় মার্টিন। পাহাড়ী এলাকা সামনে ছোটনদী।হাওয়াটা বেশ ঠাণ্ডা। হঠাৎ চমকে ওঠে সে। তার নিজের কানকেই বিশ্বাস করতে পারছে না। পাহাড়ের গায়ে ধাক্কা খেয়ে শব্দটা তার কানে বিধছে। হ্যারির সেই পরিচিত গানের সুর। চারদিকে দেখে কোথাও কেউ নেই। কিন্তু সে তো ভুল শোনেনি। তাহলে নিশ্চয়ই কাছেই হ্যারি আছে। সহসা পিছন থেকে কে ডেকে ওঠে-রোলো মার্টিন। চমকে পিছন ফিরে দেখে হ্যারি। হ্যারি হেসে বলে হ্যালো মার্টিন, কেমন আছ?

    মার্টিন উত্তেজিত–হ্যারি তোমার সঙ্গে অনেক কথা আছে।

    নিশ্চয়ই তা তো থাকবেই। তোমাকে যখন আসতে লিখেছি, সত্যি মার্টিন এতদিন পর তোমায় দেখে কি যে ভাল লাগছে।

    -কেন? আমি তো তোমার অন্ত্যেষ্টির সময় উপস্থিত ছিলাম।

    হ্যারি হেসে বলে-লোককে কেমন ফাঁকি দিয়েছি বল!

    –তোমার প্রেমিকাকে ফাঁকি দিয়ে কিন্তু মোটেই ভাল করনি।

    তুমি আন্নার কথা বলছ?

    –হ্যাঁ। ও ভীষণ কাঁদছিল।

    –সত্যি মেয়েটা ভাল। আমি ভালবাসি ওকে।

    –তোমার সম্বন্ধে পুলিশ যা বলছে আমি বিশ্বাস করিনি। আচ্ছা কি ব্যাপার বলতো?

    কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলে হ্যারি–তোমাকে কোনদিন কিছু লুকোইনি, আজও সব খুলেই বলব।

    – হ্যারির মনে তোলপাড় চলছে। চুপ করে থাকে। মার্টিন নীরবতা ভঙ্গ করে বলে–শিশু হাসপাতালটাকে দেখেছ? দেখলেই বুঝবে কি অবস্থা হয়েছে?

    –জানি। একবার নিচের দিকে তাকিয়ে দেখ।

    –কেন? কি আছে?

    –দেখই না।

    নিচের দিকে তাকিয়ে দেখে লোক যাতায়াত করছে, ওপর থেকে বিন্দুর মত দেখাচ্ছে।

    হ্যারিলে নিচের ঐবিন্দুগুলো যদিদুচারটে থেমে যায় তাহলে সমাজের কি খুবক্ষতি হবে?

    -তুমি কি বলছ? তোমার কি মাথা টাথা খারাপ হয়ে গেছে নাকি?

    না বন্ধু। একটা বিন্দু থেমে গেলে তোমার পকেটে যদি কুড়ি হাজার পাউন্ড আসে তাহলে কেমন হয়?

    –তুমি টায়ারের ব্যবসায় থাকলে না কেন?

    –ওতে লাভ কম হয়।

    –তাতে তো মনে শান্তি পেতে।

    –শান্তি।

    –হ্যাঁ।

    কুলারের মতন। না না এত ছোট কাজে আমি নেই। তুমি দেখ পুলিশ আমায় ধরতে পারবে না। আমি বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াব।

    –কিন্তু সেটা কি বাঁচা?

    মার্টিন দুঃখ পায় ভাবে হ্যারি আজ কোথায় নেমে গেছে। তার মনে হয় তাকে যদি এখান থেকে ধাক্কা দেয় তাহলেই সব শেষ। হ্যারির বাঁচার কোন সম্ভাবনাই থাকবে না।

    আবার বলে মার্টিন–তুমি জান পুলিশ তোমার কবর খুঁড়েছে?

    –শুনেছি।

    –তবু তুমি নির্বিকার। একটা কথার জবাব দেবে?

    –কি?

    বল দেবে কি না?

    –দেবার হলে নিশ্চয়ই দেব।

    –ঐ কবরে কার মৃতদেহ?

    হারবিল।

    –হারবিল?

    হ্যাঁ।

    মার্টিন স্তব্ধ। তার মাথায় যেন কিছুই আসছেনা। মানুষ কত কি করতে পারে। দুনিয়ায় টাকাই সব, আর বিবেক?

    মার্টিন রেগে গিয়ে বলে-তোমায় কি করতে ইচ্ছা করছে জান?

    -কি?

    –বলব? এই পাহাড়ের ওপর থেকে ঠেলে নিচে ফেলে দিতে।

    না তুমি পারবে না। কারণ এর আগে আমার বহু অপরাধ ক্ষমা করেছ। তোমাকে আমি বিশ্বাস করি তাই তোমার ডাকে সাড়া না দিয়ে পারিনি। (একটু থেমে) এখানে আসতে কার্টস মানা করেছিল। আসলে তোমায় যে ভালবাসি।–

    -ভালবাস?

    –হ্যাঁ।

    কার্টস কি বলেছে জান? তোমায় মেরে ফেলতে।

    –মেরে ফেলতে?

    –-হ্যাঁ।

    –কিন্তু হ্যারি গায়ের জোরে তুমি তো আমার সঙ্গে পারবে না।

    সব সময় কি গায়ের জোর দরকার হয়?

    –তা অবশ্য ঠিক।

    তাছাড়া আমার রিভলবার আছে।

    –তা তো থাকবেই।

    –থাকবেই কেন বলছ?

    নইলে তোমায় মানাবে কি করে?

    বুঝলাম না কথাটা।

    খুব সোজা।

    –সোজাটাই শুনি।

    –একদিন যে হাতে ছুরি কাঁচি ধরতে শিখেছিলে আজ সে হাতে পিস্তল, সত্যি ভাগ্যের কি নিষ্ঠুর পরিহাস।

    –ও সব তত্ত্ব কথা ছাড়।

    –তা নয়ত কি?

    –চোরা না শোনে ধর্মের কাহিনী।

    রাখ তোমার ধর্মের কাহিনী।

    –তা তো বলবেই।

    –জান তুমি নিচে পড়ে গেলে তোমার চিহ্ন কেউ খুঁজে পাবে না। ও সব ডাক্তারী কথা তুমি জানবেই বা কি করে।

    এবার হ্যারি নিজেকে স্বাভাবিক করে বলে কি বোকার মত আমরা করছি। বাদ দাও। চলো মার্টিন ফেরা যাক।

    –ফিরবে?

    হ্যাঁ।

    –কোথায়?

    আগে তুমি বল কার্টস আর ডাক্তারের পিছনে পুলিশ লাগিয়ে দেবে না।

    –সেটা পরের কথা।

    –জান কার্টস তোমায় মেরে ফেলতে বলেনি। আমি একটু ঠাট্টা করছিলাম।

    ঠাট্টা।

    –হ্যাঁ, বিশ্বাস কর। বানিয়ে বলছিনা। বলেই হ্যারি যেন কোথায় মিলিয়ে গেল। মার্টিন চিৎকার করে হ্যারি!

    পাহাড়ে ধাক্কা খেয়ে ডাক ফিরে আসে; হ্যারি! হ্যারি! হ্যারি!

    .

    ১৫.

    রবিবার সন্ধ্যায় যোশেফস্টড থিয়েটারে আন্নার অভিনয় ছিল। মার্টিন তার সঙ্গে দেখা করবে বলে থিয়েটার শেষ হতে তার ঘরে গেল।

    আন্না প্রশ্ন করে কি খবর?

    শুনলে তুমি চমকে উঠবে।

    –তাই বুঝি?

    –হ্যাঁ।

    –তা খবরটা কি?

    –আগে বল কথাটা বিশ্বাস করবে?

    বিশ্বাস না করার কি আছে?

    –হ্যারি…।

    –কি, বল, থামলে কেন?

    –হ্যারি বেঁচে আছে।

    –হ্যারি বেঁচে আছে?

    –হ্যাঁ।

    না না, মিথ্যে কথা।

    মিথ্যে?

    –হ্যাঁ।

    –আন্না বিশ্বাস কর। মিথ্যে বলে আমার লাভ!

    –তুমিই জান।

    –আর কিছু বলার নেই তাহলে।

    আন্নাচুপ, মার্টিন ভেবেছিল আন্না কথাটা শুনলে খুশী হবে।তবেসত্মিকথা হ্যারির কোন ব্যাপারে আর আন্না খুশী হোক সে চায় না। আন্নার দিকে তাকিয়ে দেখে তার চোখ দিয়ে জল পড়ছে। আস্তে আস্তে সমস্ত কথা সে আন্নাকে বলে। মার্টিনের মনে হয় সে যেন মন দিয়ে শুনছে না।

    মার্টিনের কথা শেষ হলে, চোখ মুছে আন্না বলে–এর চেয়ে হ্যারি মারা গেলেই ভাল ছিল।

    ঠিকই বলেছ। ও আমাদের ভালবাসার কোন দামই দিল না। সত্যি লজ্জার কথা।

    –ও মারা গেলে অনেক বিপদের হাত থেকে বাঁচত।

    সেই হতভাগ্য বাচ্চাগুলোর ছবি আন্নার টেবিলে রাখল। আন্না সেগুলো দেখার পর। বলল–হ্যারিকে এ অঞ্চলে আনতে না পারলে পুলিশ ওকে ধরতে পারবে না।

    হু।

    –তোমার সাহায্য দরকার।

    –আমার সাহায্য।

    –হ্যাঁ।

    –আমার ধারণা ছিল তুমি তার প্রকৃত বন্ধু।

    বন্ধু ছিলাম।

    –ছিলে?

    হ্যাঁ। এখন নেই।

    —তাহলে তো ধরিয়ে দিতে চাইবেই।

    –হ্যাঁ চাইছি। সে তোমার ভালবাসার কোন মূল্য দিয়েছে? তোমায় ঠকিয়েছে, তোমায় নিঃস্ব করেছে।

    –তবু হ্যারিকে ধরতে তোমায় সাহায্য করব না।

    করবেনা?

    না, তবে…।

    –তবে কি?

    –আমি আর ওকে দেখতেও চাই না। গলার স্বরও শুনতে চাইনা।

    –সত্যি তুমি একজন অভিনেত্রী।

    হঠাৎ এ কথা? বলতে বাধ্য হচ্ছি।

    –কিসের জন্য?

    সার্থক তোমার অভিনয়। এখনো হ্যারির প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছ।

    –আমি অভিনয় করছি?

    –তা নাতো কি?

    কথাটা বুঝিয়ে বলবে?

    জলের মত পরিষ্কার।

    –তবু শুনতে চাই।

    –হ্যারির সঙ্গে দেখা করবেনা, গলার আওয়াজও শুনবেনা তবুও তাকে ধরিয়ে দিতে তোমার বাঁধছে। সত্যি তোমাদের নমস্কার। সার্থক সৃষ্টি ভগবানের। তোমাদের কোনটা হা, কোনটা না, আজও বোঝা গেল না। হাসতেও যেমন সময় লাগে না, কাঁদতেও তাই।

    তুমি আমাকে যতই আঘাত দিয়ে কথা বল আমি ও কাজ করব না।

    বাঃ চমৎকার।

    –এটাও জেনে রাখ এমন কোন কাজ করব না যাতে হ্যারির কোন ক্ষতি হয়।

    –সুন্দর! সুন্দর! হাততালি পাবার মত সংলাপ। তুমি কি এখনও হ্যারিকে চাও।

    –তাকে চাই না ঠিকই কিন্তু…।

    –কিন্তু কি?

    –আমার রক্তের সঙ্গে ও মিশে একাকার হয়ে গেছে, আমার কাছে হারিই এখনও স্বপ্নের পুরুষ, অন্য কেউ নয়।

    মার্টিন আর অপমানিত হতে চায় না, তাই কোন কথা না বলে বেরিয়ে আসে।

    কর্নেলের কাছে এসে বলে–আমায় কি করতে হবে বলুন?

    এবার শেষ দৃশ্যের অভিনয় হবে।

    এত তাড়াতাড়ি সম্ভব?

    –চেষ্টার তো ত্রুটি করিনি।

    –ও হ্যাঁ। কফিন থেকে মৃতদেহ তোলা হয়েছে?

    –হ্যাঁ।

    কার?

    হারবিলের।

    —তাহলে হ্যারি ঠিকই বলেছে।

    –আমরা এবার কুলার ও ডাক্তারকে গ্রেফতার করতে পারি।

    –তাহলে ভাল হয়।

    –তবে কার্টস ও ড্রাইভার হাতের বাইরে।

    –কেন?

    রাশিয়ানদের অনুমতি লাগবে।

    –একটা কাজ করতে পারবেন?

    —কি?

    –আপনি কুলারকে সাবধান করে আসুন।

    –আমি?

    –হ্যাঁ।

    –তাতে কি ভাল হবে?

    হবে।

    –যদি বিপরীত ফল হয়?

    –মানে? কুলারের সন্দেহ হবে? পালিয়ে যাবে তাই?

    –হ্যাঁ।

    –আমি চাই কুলার পালিয়ে যাক। তাতে বড় শিকারটা জালে পড়বে।

    –কেন?

    –আপনার উপর হ্যারির বিশ্বাস জন্মাবে ঘণ্টা তিনেক পর হ্যারিকে খবর পাঠাবেন। পুলিশ আপনাকে খুঁজছে এ সময় লুকিয়ে থাকাই ভাল নইলে বিপদ ঘটবে। কি? এ প্রস্তাবে রাজী?

    সেই অসুস্থ বিকৃত বাচ্চাগুলোর ছবির দিকে তাকিয়ে বলিরাজী।

    ধন্যবাদ।

    –আমি খুনীর সঙ্গে কখনও আঁতাত করব না।

    –এই তো চাই, সাবাস!

    .

    ১৬.

    পরিকল্পনা মত সবই ঠিকঠাক চলছে। কুলারকে সাবধান করার জন্য ডাক্তারের গ্রেফতারী পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে মার্টিন আবার কুলারের সঙ্গে দেখা করে। কুলার মার্টিনকে খুশী হয়েই স্বাগত জানায়। বলে কর্নেলের সঙ্গে নিশ্চয়ই ঝামেলা চুকে গেছে। মার্টিন জানায় একটু তো গণ্ডগোল হয়েছে। এ কথায় কুলার চমকে ওঠে। দমে না গিয়ে বলে–হেরচকের ব্যাপারে কর্নেলকে জানিয়েছি বলে কিছু মনে করেননি তো?

    –এতে মনে করার কি আছে?

    শুনে খুশী হলাম, আর আপনি তো নির্দোষ।

    –কি করে জানলেন?

    -জানি।

    –জেনে থাকলে ভাল।

    –সুতরাং ভয়ের কারণ নেই আপনার, আর একজন নাগরিক হিসেবে কর্নেলকে সব জানান কর্তব্য।

    –আপনি যেমন হ্যারির সময় পুলিশের কাছেমিথ্যে বলে ভদ্রনাগরিকের পরিচয় দিয়েছিলেন!

    –সত্যি। কর্নেলের ব্যাপারে আপনি খুব রেগে আছেন।

    -পুলিশ সেই কবরটা খুঁড়ে ফেলেছে জানেন তো। আর ডাক্তার ও আপনাকে তাড়াতাড়ি গ্রেফতার করবে।

    –গ্রেফতার? ঠিক বুঝলাম না।

    –ঠিকই বুঝেছেন। মার্টিন আর কথা না বাড়িয়ে চলে যায়।

    আমাদের প্রাথমিক কাজ শেষ এবার শুধু জাল পাতা বাকি। ভিয়েনার ম্যাপ দেখে মনে হল হ্যারির বের হবার এটাই ভাল রাস্তা। এই দরজার পঞ্চাশ গজ দূরে একটা রেস্তোরাঁ। আর কোন দরজার কাছে এসব নেই। সুতরাং হ্যারি বন্ধুকে বাঁচাবার জন্য অন্য দরজা দিয়ে বেরিয়ে পঞ্চাশ গজ রাস্তা পার হয়ে ক্লাব থেকে বন্ধুকে নিয়ে আবার ঐ পথেই চলে যাবে।হ্যারিরকাছে এই কায়দাটা নতুন কিন্তু আমাদের নয়। সুড়ঙ্গ পাহারা দেবার জন্য একটা দল রাত বারটায় যায় আর রাত দুটোয়– আর এক দল আসে, হ্যারি এই সময়টাকেই বাছবে বন্ধুকে নিয়ে যাবার জন্য।

    সেই অনুযায়ী মার্টিন ঐ রেস্তোরাঁয় অপেক্ষা করছে। মার্টিনকে একটা রিভলবার দিয়েছি আত্মরক্ষার জন্য। সেই নির্দিষ্ট দরজার অদূরে সাদা পোষাকে পুলিশ লুকিয়ে আছে। সুড়ঙ্গ পাহারা দেবার একটা বিরাট দল আমার নির্দেশের অপেক্ষায় আছে। আমি সংকেত দিলেই সব ম্যানহোল বন্ধ করে দেবে। আর শহরের প্রান্ত ভাগ থেকে টহল দিতে দিতে এদিকে আসবে। কিন্তু আমার ইচ্ছা ছিল হ্যারি সুড়ঙ্গে ঢোকার আগে ধরা পড়ুক। এতে মার্টিনেরও বিপদ কম হবে, ঝামেলাও কম হবে।

    রেস্তোরাঁতে এখন অনেক নোক। বাইরে ভালই ঠাণ্ডা চলছে। মার্টিন যেখানটা বসে আছে সেখানটাও খোলা মেলা। তাই কফি খেয়ে শরীর গরম করছে।

    মার্টিনের কিছু দূরে আমার একটা লোক বসিয়ে রেখেছি আর পাছে কারুর সন্দেহ হয় তাই এক লোককে বেশীক্ষণ রাখছি না। আমি কিছুটা দূরে ফোন নিয়ে বসে আছি। একঘন্টার ওপর হয়ে গেল হ্যারির দেখা নেই। হঠাৎ ফোন বেজে উঠতে ব্যস্তভাবে রিসিভার তুললাম, মার্টিন এর ফোন–আমি ঠাণ্ডায় জমে যাচ্ছি কর্নেল।

    –হ্যাঁ, খুব ঠাণ্ডা।

    –প্রায় শোওয়া একটা বাজে।

    –সত্যি অনেক দেরী হয়ে যাচ্ছে।

    –আর কি অপেক্ষা করব?

    –হ্যাঁ অবশ্যই।

    –হু।

    –আপনাকে আমার টেলিফোন করা উচিত হয়নি। যেমন চুপচাপ বসে আছেন বসে থাকুন।

    অনেক কাপ কফি খেয়ে ফেলেছি।

    আরও খান।

    শরীর খারাপ করছে।

    –দেখুন মিঃ মার্টিন হ্যারি যদি আসে তবে আর বোধহয় দেরী করবে না।

    –আর এসেছে!

    –অন্ততঃ আর মিনিট পনের কুড়ি অপেক্ষা করুন।

    –ঠিক আছে।

    —-আর ভুলেও আমায় ফোন করবেন না।

    –হায় ভগবান! ঐ তো হ্যারি, সঙ্গে সঙ্গে মার্টিনের ফোন বন্ধ। আমি ফোন নামিয়ে রেখে নির্দেশ দিই ম্যানহোলগুলো বন্ধ করতে। টহলদারী পুলিশকে বলি এবার আমরা নীচে নামব।

    এদিকে হ্যারি মার্টিনকে ফোনে কথা বলতে দেখে সাবধান হয়ে পড়েছিল। তাই মার্টিন রিসিভার নামিয়ে রাখার আগেই রেস্তোরাঁ থেকে বেরিয়ে আসে। দুর্ভাগ্যবশতঃ সেই সময় আমারও কোন লোক সেখানে ছিল না। আসলে একজন উঠে গিয়ে আর একজন যে যাচ্ছিল তার পাশ দিয়েই হ্যারি বেরিয়ে গেল। মার্টিন বাইরে বেরিয়ে আমার লোককে দেখতে পেয়েছিল। কিন্তু যখন চিৎকার করে বলল ঐ তো হ্যারি, ততক্ষণে সুড়ঙ্গে প্রবেশ করে গেছে সে।

    আমরাও সুড়ঙ্গে নেমে এসেছি হাতে টর্চ। চারদিক দিয়ে জল পড়ার আওয়াজ আসছে। সব সুড়ঙ্গগুলো কোমর পর্যন্ত জলে ভর্তি। ভেতরটা বেশ অন্ধকার। সুড়ঙ্গের আসল রাস্তাটা টেমসের প্রায় অর্ধেক। জলে স্রোত রয়েছে বলে পা ফেলতে অসুবিধে হচ্ছে। বাঁকের মুখে কাদা জমে আছে। পায়ের ছাপ দেখে বোঝা যাচ্ছে হ্যারি কোন দিকে গেছে। আমার প্রহরীর এক হাতে টর্চ এক হাতে রিভলবার। মার্টিনকে চাপা গলায় সে বলল–আপনি আমার পিছনে আসুন।

    -পিছনে গেলে অসুবিধে হবে না?

    না।

    –ওকে আপনি চিনতে পারবেন?

    –হ্যাঁ। পিছনে যেতে বলছি কেন না ও আপনাকে গুলি করতে পারে।

    –তাহলে আপনিই বা সামনে থাকবেন কেন?

    –এটা আমার চাকরীর অঙ্গ।

    প্রত্যেকটা ম্যানহোলে পাহারা রয়েছে, সমস্ত সুড়ঙ্গটা আমরা ঘিরে ফেলেছি। ছোট ছোট গলি পথ ধরে আসল পথটার দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।

    প্রহরীটা বাঁশী বাজালে পাশ থেকে অনেকগুলো বাঁশীর আওয়াজ ভেসে আসল। প্রহরী বলল–আমার টহলদারী বন্ধুরা সবাই এখানে এসে গেছে, এই জায়গাটা সবার নখদর্পণে। সামনের। দিকে কি আছে দেখার জন্য টর্চ তুলতেই গুলি ছুটে এল। প্রহরীটা যন্ত্রণায় কাতরে উঠল, হাত থেকে টর্চ পড়ে গেল। আমি তাড়াতাড়ি এগিয়ে গিয়ে বললাম–কোথায় লেগেছে?

    – তেমন কিছু না। হাতটা বোধহয় ছড়ে গেছে। আমার সঙ্গে আর একটা টর্চ আছে, এটা ধরুন। ততক্ষণে ক্ষতস্থানটা বেঁধেনি। কিন্তু স্যার টর্চটা জ্বালাবেন না। ও বোধহয় কাছের কোন গলিতে লুকিয়ে আছে। গুলির প্রতিশব্দ মিলিয়ে যেতে বাঁশীর আওয়াজ শোনা গেল। প্রহরীটিও বাঁশী বাজিয়ে উত্তর দিল। মার্টিন এবার প্রহরীটিকে জিজ্ঞাসা করে–আপনার নামটা এখনও জানা হয়নি।

    -বেটস্। আজ এখানে আমার আসার কথা নয়। শুধু স্পেশাল ডিউটি বলেই এসেছি।

    আমি এবার সামনে থাকব। হ্যারি আমায় গুলি করবে বলে মনে হয় না। আর হ্যারির সঙ্গে আমি কথা বলতে চাই।

    –কিন্তু স্যার, আমি দুঃখিত।

    –কেন?

    আপনার যাতে কোন ক্ষতি না হয় সেই নির্দেশই আছে।

    –ঠিক আছে, ঠিক আছে। মার্টিন বেটসকে অতিক্রম করে সামনে এগিয়ে যায়। চিৎকার করে ডাকে–হ্যারি। হ্যারি।

    কথাটা প্রতিধ্বনিত হতে থাকে। আবার বলে–হ্যারি লুকিয়ে থেকে লাভ নেই। তুমি বেরিয়ে এস। হঠাৎ কাছ থেকে হ্যারির গলার আওয়াজে সবাই চমকে যায়। হ্যারি বলেবন্ধু, তুমি আমায় ক করতে বলছ?

    মাথার ওপর হাত তুলে বেরিয়ে এস হ্যারি।

    আমার সাথে টর্চ নেই। কিছু দেখতে পাচ্ছি না।

    পিছন থেকে বেটস বলল-স্যার সাবধান।

    মার্টিন বলে–আপনারা দেওয়াল ঘেঁষে দাঁড়ান। ও আমায় কখনও গুলি করবে না।

    আবার হ্যারিকে বলে–হ্যারি টর্চ জ্বালছি, বেরিয়ে এস। আর কোন উপায় নেই, ধরা তোমায় দিতেই হবে।

    টর্চ জ্বললে কুড়ি গজ দূর থেকে হ্যারি বেরিয়ে এল। মার্টিন বলল–মাথার ওপর হাত রাখ। হ্যারি হাত তোলার ভান করে গুলি চালায়। গুলি মার্টিনের গায়ে না লেগে সুড়ঙ্গের দেওয়ালে লাগে। সঙ্গে সঙ্গে বেটস চিৎকার করে সার্চ লাইট জ্বালতে বলে। আলো জ্বললে দেখা যায় সবাইকে। বেটস জলে উপুড় হয়ে আছে যন্ত্রণায় কাতর। মার্টিন থর থর করে কাঁপছে। হ্যারি কিছুটা দূরে। মার্টিনের গুলি লাগার ভয়ে আমরা হ্যারিকেও গুলি করতে পারছি না। আমরা আস্তে আস্তে এগোতে থাকি। চোখ ধাঁধিয়ে যাওয়ায় হ্যারি কোন উপায় না দেখে বড় সুড়ঙ্গের জলে ঝাঁপিয়ে পড়ল। সার্চ লাইট ঘোরাবার আগেই ডুব দিয়েছিল তার ওপর স্রোত থাকায় কিছুক্ষণের মধ্যেই অন্ধকারে হারিয়ে গেল। মার্টিন সার্চ লাইটের আলো যতদূর যায় তার শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে হাতে রিভলবার। হঠাৎ আমার মনে হল সামনে কি যেন নড়ে উঠল। সঙ্গে সঙ্গে চিৎকার করে বললাম-মিঃ মার্টিন আপনার বাঁ দিকে গুলি করুন। মার্টিন তৎক্ষণাৎ গুলি চালাল। সঙ্গে সঙ্গে যন্ত্রনার শব্দ ভেসে উঠল। সামনে এগোতে গিয়ে দেখি রেটসের প্রাণহীন দেহ। মার্টিনের ছোঁড়া গুলি তার গায়ে লেগেছে। সামনে তাকিয়ে দেখি মার্টিন নেই।নাম ধরে ডাকতে থাকি কিন্তু জলের শব্দে কিছুই যেন শোনা যায় না। পরক্ষণেই একটা গুলির আওয়াজ পেলাম। মার্টিন অন্ধকারে খানিকটা এগিয়ে গেছিল, টর্চ ইচ্ছা করে জ্বালেনি। হ্যারি মার্টিনের গুলিতে আহত হয়ে সিঁড়ির দিকে এগোতে থাকে। ত্রিশ ফুট উঁচু ম্যানহোল-এর মুখ থেকে সিঁড়িটা নেমে এসেছে। হ্যারি সিঁড়ি দিয়ে ওপরে ওঠার চেষ্টা করলেও ওপরে উঠতে পারল না। আর তখনই যেন সেই পরিচিত সুরটা শিস দিয়ে ডাকছিল। শিসের শব্দে এগিয়ে গিয়ে ডাকল মার্টিন হ্যারিকে। ঠিক তখনই আবার শিস থেমে গেল। আর কিছুদূর এগিয়ে যেতে মার্টিনের পায়ে কিছু ঠেকল। আলো জ্বললে দেখি হ্যারি পড়ে আছে হাতে বন্দুক নেই। মনে হল মারা গেছে কিন্তু যন্ত্রণায় কাতরানোর আওয়াজ পাওয়া গেল। মার্টিন কানের কাছে মুখ এনে ডাকে–হ্যারি! হ্যারি!

    হ্যারি চোখ তুলে কিছু বলার চেষ্টা করল। আমি মুখের কাছে কান নিয়ে গিয়ে স্পষ্ট শুনি বলছে–বোকা কোথাকার! মার্টিন বলে–আমি আজও বুঝতে পারিনি হ্যারি কেন ওকথা বলেছিল। আজ আমার মনে পড়ছে, যে আমি জীবনে একটা খরগোস মারিনি সেই আমি প্রাণের বন্ধুকে মেরে ফেললাম, সত্যি ভগবানের কী খেলা! আমি মার্টিনকে সান্ত্বনা দিই–মিঃ মার্টিন এখন আমাদের এসব ভুলতে হবে। মার্টিন সঙ্গে সঙ্গে জবাব দেয়-না কর্নেল আমি অন্তত পারব না।

    .

    ১৭.

    মেঘলাভাব কেটে গেছে। ইলেকট্রিক ড্রিল দিয়ে কবর খোঁড়ার দরকার আজ আর নেই, চারিদিকের আবহাওয়া জানিয়ে দিচ্ছে এখন বসন্তকাল প্রকৃতিও যেন হ্যারীর উপর প্রসন্ন।

    হ্যারীর প্রিয়জনের প্রায় কেউ নেই ডাক্তার ও কার্টস প্রায় অনুপস্থিত। কেবল সেই মেয়েটি দ্রুত রাস্তায় দিকে এগিয়ে গেল। তখন একটা ট্রাম খুঁড়ো বরফ ঠেলে এগিয়ে চলেছে। আমি মার্টিনকে প্রশ্ন করি–আপনার সঙ্গে গাড়ী আছে? নাকি আমি পৌঁছে দেব?

    না, ধন্যবাদ, আমি ট্রামে যাব?

    আমি বলি–শেষ পর্যন্ত আপনিই জিতলেন, আর আমি হেরে গেলাম।

    মার্টিন ব্যথিত কণ্ঠে বলে-না, না, কর্ণেল, আপনি একথা বলবেন না। আমি সব হারিয়ে ফেলেছি।…সব হারিয়ে ফেলেছি।

    তারপর মার্টিন একটাও কথা না বলে বড়-বড় পা ফেলে মেয়েটির দিকে এগিয়ে যায়। আমি কিছু দূরে দাঁড়িয়ে দেখলাম, ওরা পাশাপাশি হাঁটছে। মনে হয় ওরা নীরবে হেঁটে চলেছে। একটা বোবা দুঃখ তাদেরকে ঘিরে রয়েছে।

    সত্যি, বলা যায় না বিপদ কখন আসবে, কার দ্বারা সে শত্রুই হোক আর কোনও প্রিয়জনই হোক।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91 92 93 94 95 96 97 98 99 100 101 102
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleব্ল্যাক অর্ডার (সিগমা ফোর্স – ৩) – জেমস রোলিন্স
    Next Article জেমস হেডলি চেজ রচনা সমগ্র ২ (অনুবাদ : পৃথ্বীরাজ সেন)

    Related Articles

    জেমস হেডলি চেজ

    জেমস হেডলি চেজ রচনা সমগ্র ২ (অনুবাদ : পৃথ্বীরাজ সেন)

    August 18, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    মোহিত কামাল
    রকিব হাসান
    রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাহীন আখতার
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্তোষকুমার ঘোষ
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সাগরময় ঘোষ
    সাদাত হোসাইন
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুপ্রতিম সরকার
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    August 12, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    August 12, 2026
    Our Picks

    স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    August 12, 2026

    তালাশ – শাহীন আখতার

    August 12, 2026

    রাধাকৃষ্ণ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 12, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }