Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    জেমস হেডলি চেজ রচনা সমগ্র ১ (অনুবাদ : পৃথ্বীরাজ সেন)

    জেমস হেডলি চেজ এক পাতা গল্প2631 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৩. সব্যসাচী হয়ে কাজ

    ১১.

    কলেভিনকে সকাল থেকে সব্যসাচী হয়ে কাজ সারতে হচ্ছে। কাজের ভারে নুয়ে পড়বার যোগাড়। তার ওপর কাস্টমারদের কেবল একই জিজ্ঞাসাব্যাঙ্ক ডাকাতি সম্পর্কে। বিজনেস আওয়ার শেষ হতে কলেভিন খানিকটা ফুরসৎ পায়। আপন মুদ্রাদোষ অনুসারে সেইতিমধ্যে অন্তত পঞ্চাশবার ঘোঁৎ ঘোঁৎ শব্দ তুলেছে। এখন নিজের হাতে ব্যাঙ্কের দরজা বন্ধ করে চেম্বারে ঢুকে স্যান্ডউইচেকামড় লাগায়। এভাবেব্রাঞ্চ চালানোসম্ভবনয়। একবার হেড অফিসে ফোন করেছিল। রিজিওন্যাল ম্যানেজার এই মুহূর্তে তার কোন স্থায়ী কর্মীকে পিটসভিলে পাঠাতে পারছেন না। পরিবর্তে নির্দেশ দিলেন, কলেভিন যেন স্থানীয় কোন শিক্ষিত যুবককে অস্থায়ীভাবে নিয়োগ করে। সে যদি উপযুক্ত হয়, ব্যাঙ্ক পরে তাকে ঐ পদে স্থায়ীও করতে পারে। আরো জানা গেল, ঐরকম দুর্ঘটনা ঘটে যাবার পর যে কোন মুহূর্তে ব্যাঙ্কের অডিটর দলবল নিয়ে পিটভিল ব্রাঞ্চে গিয়ে হাজির হতে পারেন–ডেভ কলেভিন যেন এর জন্য প্রস্তুত থাকে।

    কলেভিন অনেক পরিশ্রম সত্ত্বেও তার সাফল্যের ঘোরে যেন ঝুঁদ হয়ে আছে। সব যেন আঙ্কিক। নিয়মে চলছে। ঐ তো একটা পুরনো বাক্সের মধ্যে তিন হাজার ডলার ঘুমিয়ে আছে। কলেভিন ঐ দিকে তাকিয়ে নিজের মধ্যে বিপুল প্রতিরোধ শক্তি অনুভব করে।

    হবে, হবে…সব হবে। সব কিছুই তার হাতের মুঠোয় এসে যাবে। ঈশ্বর এসে তার পকেটে বসবেন। এই উপমহাদেশে যত রকমের মজা ও উত্তেজনা আছে, কলেভিন তা উপভোগ করবে। প্রকাণ্ড গাড়ি নিয়ে যখন এক নাইট ক্লাব থেকে আরেক নাইট ক্লাবে ছুটে যাবে, যখন রাজকীয় ভঙ্গিমায় এক জুয়ার আসর থেকে অন্য জুয়ার আসরে যাবে, যখন সপরিষদ গিয়ে দাঁড়াবে শেয়ার মার্কেটে, চোখে দূরবীন লাগিয়ে রেসের মাঠে বসবে, সেরা সুন্দরীরা, হলিউডের অনন্যা উর্বশীরাও কটাক্ষে তাকে বিদ্ধ করবার চেষ্টা করবে। ডলারে কি না হয়, আঁ? ডলার কেবল সুখ ও আনন্দ দেয় না, প্রৌঢ়কে যুবক করে তোলে। কলেভিন বহুকাল একটি সমর্থ যুবক হয়ে থাকবে। কেবল এই দমবন্ধ মুহূর্তগুলোকে পার করা। ব্যাস।…

    কলেভিন কিছুক্ষণ বাদে ফোন করে ইরিসকে ব্যাঙ্কে ডেকে আনলো। সে ইরিসের দিকে তাকিয়ে পুলক অনুভব করে–মা ও মেয়ের মধ্যে কত পার্থক্য।

    কলেভিন-ইস, সারাটা দিন আমার ওপর দিয়ে যেন ঝড় বয়ে গেল। একার পক্ষে এত সামলানো সম্ভব? আজকালের মধ্যেই আবার অডিটর সাহেব এসে যাবেন। কাজের বহর তো আছেই, আপ্যায়নের ঝামেলাও কি কম।

    ইরিস–সত্যি, কি বিরাট দুর্ঘটনা ঘটে গেল। বিপর্যয়ও বলা যায়। এলিসের মতন মেয়ে–সত্যি ভাবাও যায় না। কেনও বলছিল।

    কলেভিন–কি বলছিল?

    ইরিস-বলছিল মিস ক্ৰেগের পক্ষে টাকা সরানো সম্ভবই নয়। নিশ্চয় কেউ ওকে জোর করে দুষ্কর্মটা করিয়ে ওকে কিডন্যাপ করেছে।

    কলেভিন শক্ত হয়ে ওঠে। প্রকাশ্যে বলে, তা হতে পারে। কেনের কথায় যুক্তি আছে। ইরিস–আমাকে ডেকেছেন কেন?

    কলেভিন–তুমি এই ব্যাঙ্কে চাকরি করবে?

    ইরিস–আমি!

    কলেভিন-হুঁ, তুমি। মাইনে খারাপনয়, সপ্তাহে পঁচাত্তর ডলার। সিনেমা হলের কাজটা ছেড়ে দাও। আমি চাই, আমার ভাবীকন্যা আমার সঙ্গে কাজ করুক। আমি ঠিক তৈরি করে নেবো।

    ইরিস সম্মতি জানিয়ে সানন্দে ফেরে।

    কলেভিন আবার ফোনের বোম টেপে। এবার মিস ক্লের কণ্ঠস্বর ভেসে এলো।.কে, ম্যানেজার সাহেব বলছেন?

    ঠিক। একবার মিসেস লোরিংকে ডেকে দেবে?

    তিনি তো ঘরে খিল তুলে শুয়ে আছেন। বললেন, শরীর খারাপ, কেউ যেন তাকে বিরক্ত না করে।

    ঠিক আছে। ডাকতে হবে না।

    কলেভিন লাইন কেটে দেয়। আবার তার খুনীর মেজাজ চড়ছে। হাত পা ঘামছে, দাঁতে দাঁত ঘষে, কিছুতেই ওকে মদ থেকে সরানো যাচ্ছে না।

    ধক করে ওঠে বুকের মধ্যে পুলিশের কাছে কখন যে কি ফাঁস করে দেবে।

    কিটি লোরিংকে মরতেই হবে।

    কিটিই একমাত্র প্রাণী, যে তার পথের কাঁটা। এমন কাটা, যার প্রয়োজনীয়তা আছে অথচ বিপজ্জনক।

    কিটিকে কিভাবে নিকেশ করা যায়?

    খুনের হরেক ছক কলেভিনের মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। সে দাঁতে দাঁত ঘষে। তার চোখে রক্ত ঠেলে আসে। হাতের পাতা ঘামতে থাকে। দুনিয়ার পেশাদার খুনীরা যেমন অবিচলিত থাকে কলেভিন তা পারছে না। অনেক কষ্টে সে নিজের হিংস্র উত্তেজনাকে বাগে আনে।

    .

    ১২.

    বাহাদুরি খুব রেডিও ও দূরদর্শনের। সাড়া পাওয়া গেল ঠিক উৎস থেকে। যে লোকটা এলিস ক্ৰেগের তথাকথিত বয়ফ্রেন্ডের কাছে সেকেন্ড হ্যান্ড লিংকন গাড়িটা বিক্রি করেছিল, সে-ই টেলিফোনে ইস্টনের সঙ্গে যোগাযোগ করলো। ইস্ট ট্রেভারসকে নিয়ে তার গ্যারেজে হাজির হলো। ক্রেতার বর্ণনা যথারীতি একই রকম-লম্বায় চওড়ায় দশাসই, ঝাকড়া গোঁফ, ডান গালে জডুল। গাড়ি বিক্রেতা আরো একটি তথ্য যোগান দিলো–সেই ক্রেতার নাকি একটি মুদ্রাদোষ আছেনাক দিয়ে ঘোঁৎ ঘোঁৎ আওয়াজ তোলে।ইস্টন তেমননানাকরলেও ট্রেভারর্সের হৃদস্পন্দন কিন্তু বৃদ্ধি পায়। মুদ্রা দোষ, নাক দিয়ে ঘোঁৎ ঘোঁৎ আওয়াজ তোলা। মানুষ ছদ্মবেশের আড়ালে অনেক কিছুই লুকিয়ে রাখতে পারে। পারে না নিজের মুদ্রা দোষ।

    গাড়ির বর্ণনা ও নম্বর মাথায় গেঁথে ইস্টন ও ট্রেভারস বের হলো, যদি কোথাও গাড়িটাকে পরিত্যক্ত অবস্থায় আবিস্কার করা যায়।

    ট্রেভারস বললো, গাড়ি যদি ওরা ফেলে রেখে যায়, তবে তা থাকবে কোন বড় সড় পার্কিং গ্রাউন্ডে।

    তারা পিটসভিল থেকে ডাউন সাইড যাবার পথে প্রতিটি পার্কিং গ্রাউন্ডে খুঁজতে থাকে। তারা যখন স্টেশানের দিক চলেছে ট্রেভারসের নজরে একটা অতিকায় পার্কিং গ্রাউন্ড পড়লো। সেঅধীর গলায় চিৎকার করল, গাড়ি থামান। ঐ দেখুন স্যার, একটা লিংকন গাড়ি পার্ক করা। কয়েকটা গাড়ির মধ্যে সেঁধিয়ে আছে। শরীরটা বাদামী, মাথাটা লাল। দুজনেই গাড়ি থেকে লাফিয়ে নামে এই, সেই বস্তুটাই। কোন সন্দেহ নেই। তখনই স্থানীয় থানায় খবর পাঠানো হলো। দারোগা গাড়ির মিস্ত্রী নিয়ে এলেন। ইস্ট মরীয়া হয়ে পরীক্ষা করতে লাগল, বলা যায় না, হয়তো তিন শ হাজার ডলার সমেত ব্যাগও আবিস্কৃত হতে পারে। ট্রেভারসের কেবল মনে হচ্ছে–একটা অশ্রুসজল বিয়োগান্তনাটকের আধার এই গাড়িটা। তারপর যখন মিস্ত্রীকে দিয়ে পিছনের ডালাটা ভোলা হলো সকলের বুকে দামামা বেজে উঠলো। কুমারী এলিস ক্ৰেগের দুর্গন্ধময় লাশ রয়েছে।

    ট্রেভারর্স প্রস্তরবৎ। সে স্থির দৃষ্টিতে গলিত শবের দিকে চেয়ে আছে। অঙ্কটা মিলে যাচ্ছে। সিঁড়িভাঙ্গা অঙ্ক। কিন্তু অঙ্ক তো কেবল মিলনেই চলবে না, যুক্তি দিয়ে বোঝাতে হবে।

    কী দুর্গন্ধ! এই হল মানুষের দেহ। এরজন্য এতো সাধ্য ও সাধনা। ট্রেভারসের বুক ক্ষণিকের জন্য হু হু করে ওঠে।

    তারপর সে শপথ নেয়, আসল আসামীকে সে নিজের হাতেই শাস্তি দেবে।

    .

    ১৩.

    মদে চুর, এলো চুল, কিন্তু নেতিয়ে নেই, বরং বেশ স্পর্ধিত কোমর ও বুক। কিটি লোরিং আকস্মিক অভাবিত গলায় দপ করে জ্বলে উঠলো কলেভিনের প্রস্তাব শুনে। খবদার। ইরিসকে যদি তোমার ঐ ব্যাঙ্কের খোঁয়াড়ে ঢোকাও আমি কুরুক্ষেত্র করে ছাড়বো।

    কলেভিন নাক দিয়ে ঘোঁৎ ঘোঁৎ শব্দ করে হেসে বলে, তুমি ব্যাপারটা বুঝতে পারছে না ডার্লিং। ইরিসের কাছ থেকে কেন ট্রেভারর্স, মানে পুলিসের কার্যধারা ও অভিমতের প্রাত্যাহিক বিবরণ পাবো।

    কিটির মুখে বিদ্বেষ বিচ্ছুরিত হয়, থাক। ওসব কথায় আমাকে ভেজাতে পারবেনা। তোমার মতন খুনে, লম্পট, মেয়ে পটাতে ওস্তাদ ইরিসকে যে কোন দিকে নিয়ে যেতে পারে, তা আমি ভালোই বুঝি।

    কলেভিন জিভ বের করে, ছিঃ ছিঃ, আমাকে অতটানীচ মনেকরোনা।ইরিস আমার ভাবীকন্যা এবং তুমি আমার মহার্ঘ প্রণয়িনী।

    ঘৃণা ভরে কিটি বললো, ওসব মিষ্টিকথা আমার কাছে এখন মূল্যহীন। ইরিসকে ব্যাঙ্কে ঢোকাবার পরিকল্পনা ত্যাগ করো। ইরিস যেমন আছে তেমনি থাকবে। তোমার মতন শয়তানের সাহায্যে ওর ভাগ্যোদয়ের দরকার নেই।

    কলেভিন ক্রোধে নিজের ঘরে ফিরল। সশব্দে দরজাটা বন্ধ করলো কিটি। কলেভিন আবদ্ধ হিংস্র জানোয়ারের মতন ঘরময় পায়চারী করতে থাকে। আর অপেক্ষা নয়–আজই ঐ সর্বনাশীকে খতম করতে হবে। ও যখন বাথরুমে ঢুকবে, মানে ব্যাপৃত হবে…দরজার নাটবল্ট তো আলগা করাই আছে।…অস্ত্র? পৌণঃপুনিক ব্যবহারেও যে আয়ুধ বিশ্বস্ত, সরল ও নিরাপদ তা তৈরির কায়দাআমার জানা।…একটা বড় মোজার মধ্যে পাঁচটা গলফ বল ঢোকালোকলেভিন। সেটা হাতে নিয়ে কয়েক পাক ঘোরালো। বেশ ভারী এবং মোক্ষম।…কলেভিনের কপাল ঘামছে। আজ অব্দি স্বার্থহীন ভাবে সে কিছু করেনি।…কারুর মুখে উচ্চারিত হবে না, কিটি লোরিং খুন হয়েছে। সবাই জানবে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। দুর্ঘটনাটা এমন সময়ে ঘটেছে যখন ব্যাঙ্ক ম্যানেজার গ্যারেজে তার গাড়ি সারাচ্ছেন। খুনই যখন নয়, তখন তলকুল আর কে খুঁজতে যাবে?…একটা শর্ট ও স্পোর্টস গেঞ্জি গায়ে দিয়ে কলেভিন নীচে নেমে গেল হলঘরে। দূরদর্শন দর্শকের সংখ্যা মাত্র দুই। মেজর হার্ডি ও মিসপীয়ারসন, মারদাঙ্গা থ্রিলার ও সেক্সপ্রধান প্রেমে জমাট বেঁধে আছে। এই মুহূর্তে ভিলেন অর্ধনগ্নিকানায়িকার দিকে তাকিয়ে। নিছক ভদ্রতার খাতিরে হার্ডি কলেভিনকে জিজ্ঞাসা করলো,

    চললেন কোথায়?

    গ্যারেজে গাড়ির পরিচর্যায়।…একদম সময় পাই না।

    অতএব কলেভিন গ্যারেজে ঢুকলো। আর কোন বাধাই দুর্ল মনে হচ্ছে না। শরীরে ধুলো কালি লাগিয়ে গাড়ির কিছু কল কজা সে খুলে রাখলো। কিছুক্ষণ গ্যারেজে কাটিয়ে হোটেলের পিছনে এসে দাঁড়ালো। তারপর সে অনায়াসে একটার পর একটা জানালার সানসেট ধরে ধরে তিনতলায় নিজের ঘরে পৌঁছে গেল।

    সে ঘরে ঢুকে লোরিং কখন বাথরুমে ঢুকবে সেই আশায় বসে থাকে। স্নায়ু খুব টান টান, যে টেনশন একজন যুবককে অকালবৃদ্ধ করতে পারে!নীচতলায় থ্রিলারের রোমাঞ্চে রোমাঞ্চিত দুজন। একটি চোরা সুশৃঙ্খল খুনের পক্ষে আদর্শ পরিবেশ। অথচ কিটি তো এখনো স্নানঘরে ঢুকছেনা। কলেভিন অস্থির হয়ে ওঠে।

    তখনই মৃদু শব্দ, কিটি হাঁটছে। বাথরুমে গিয়ে ঢুকলো। কলেভিন গলফ বলে ঠাসা মোজাটাকে মুঠোতে পাকিয়ে স্নান ঘরের দিকে এগিয়ে যায়। নীচতা-শঠতা উহ্য থাক। আসলে হলো তার সাহস, বুদ্ধি ও শক্তি। বাথটাবে জল পড়বার শব্দ শুনতে পেলো। একসময় শব্দটা বন্ধ হয়ে গেল তার মানে বাথ টাবটা এখন পরিপূর্ণ। জলের মধ্যে কিটির পা নাড়বার শব্দ। সুতরাং সময় উপস্থিত।

    বন্ধ দরজায় জোরে ধাক্কা মারতেই বাথরুমটা খুলে গেল।কলেভিন ভেতরে লাফিয়ে ঢুকলো।

    কিন্তু

    কিন্তু কলেভিন ভেতরে ঢুকেই নুনের মুখে জোকের মতন কুঁকড়ে গেল। তার সামনে উদ্যত পিস্তলেরকালোনল-দেয়ালে পিঠ দিয়ে তার দিকে তাক করে আছে কিটি লোরিং।শরীরে জলের চিহ্নমাত্র নেই, রুখু সুখু মুখাবয়ব, চোখ দুটো জ্বলছে। সে হিস হিস শব্দে বললো, জানতাম, তুমি এখানে আমাকে খুন করতে ঢুকবে। জলে শব্দ তুলে তোমাকে এখানে টেনে এনেছি। খুন,ব্যাপারটা তোমার কাছে জলভাত, তাই না, ডেভ?

    এখন তো অতি বুদ্ধিমানের যেন গলায় দড়ি।

    ততক্ষণে কলেভিন সামলে উঠেছে। মুখে সেই মনোমুগ্ধকর মোলায়েমহাসি, তোমার ধারণা একেবারেই ভুল।

    তোমার ঐ হাসি হাসিবচন আর আমাকে ভোলাতে পারবেনা, ডেভ। ভুল যা করবার আগেই করে ফেলেছি।…শোন, আমাকে মারলে তুমিও মরবে। কারণ, তোমাকে চিনতে পেরেই আমার দীর্ঘ জবানবন্দী খামবন্দী করে এক সলিসিটরের কাছে গচ্ছিত রেখেছি। বলা আছে, কোন কারণে আমার মৃত্যু ঘটলেই ঐ খাম যেন পাঠ করা হয়। বুঝতেই পারছ, খামে কি লেখা আছে।

    কলেভিন পাথরের মতন নিশ্চল। অসহায়ের মতো উৰ্ব্ব লোকের করুণা ভিক্ষা করতে হবে হয়তো।

    কিটি পিস্তলটাকে স্কার্টের পকেটে রেখে কলেভিনকে নিয়ে কলেভিনের ঘরে ঢুকলো। যথেষ্ট ভারিক্কীগলায় বললো, এবার আমি তোমাকে শাদিকরতে রাজী। কেবল শাদিনয় তোমাকে এখন থেকে আমার ইচ্ছানুযায়ী পথে পরিচালিত করবো। এতদিন আমার ওপর অনেক কর্তৃত্ব করেছ। এবার আমার পালা।

    কিটি হি হি করে হেসে ওঠে।

    হঠাৎই ক্যাসেট প্লেয়ারটা চালিয়ে নাচতে শুরু করে। তার নাচে অদ্ভুত অদ্ভুত সব মুদ্রা, প্রবল প্রতিহিংসা ও হতাশা ফুটে উঠছে ঐ নাচে। নিজেকে আংশিক উদোম করে কলেভিনকে সে তার দোদুল্যমান স্তনযুগল দেখায়। নাচতে নাচতে কোমর দিয়ে কলেভিনকে ধাক্কা মারে। কলেভিনের দিকে তার মাংসল বক্তিদেশ একবার এগিয়ে আনে আবার সরিয়ে নেয়। ঠিক যেন এক সার্কাসের রিং মাস্টার তার আফিংখোর দুর্বল জানোয়ারটাকে নিয়ে ইচ্ছেমত খেলা দেখাচ্ছে।

    .

    ১৪.

    হরেক রকমকর্মব্যস্ত হয়ে ফেডারেল গোয়েন্দা দপ্তরের প্রধান মিস্টারমার্থী স্বয়ং পিটসভিলে এসে হাজির,ব্যাঙ্ক ডাকাতি জনিত যেচাঞ্চল্য ওপর তলায়,তারই অনিবার্যতাকে ডেকে এনেছে। এখানে এসেই শেরিফের অফিসে এক আলোচনা সভা ডেকেছে। সেই সভায় মিঃ মাথী, ভারপ্রাপ্ত গোয়েন্দা ইস্ট, শেরিফ, ডেপুটি শেরিফ ট্রেভারস এবং ব্যাঙ্ক ম্যানেজার ডেভ কলেভিন উপস্থিত থাকবে।

    সন্ধ্যা নাগাদ হোটেল থেকে বেরিয়ে শেরিফের অফিসের দিকে যাবার পথে কলেভিন লক্ষ্য করলো, শহরের প্রতিটি পথে বর্ম চর্ম পরা পুলিশের ভীষণ তৎপরতা–প্রতিটি গাড়ি দাঁড় করিয়ে চালক ও যাত্রীদের মুখের ওপর টর্চের আলো ফেলছে। হয়তো এরপর বাড়িতে বাড়িতে হানা দিয়ে সংসর্গরত নারী-পুরুষদের টেনে টেনে আনবে ডাকাত সন্দেহে। কোন লোককেই ওরা পিটসভিল এবং ডাউন সাইডের গণ্ডীর বাইরে যেতে দেবে না। কলেভিন বুঝতে পারে না, ওরা কি করে ধরে নিলো যে এলিসের খুনীটা এখনো এখানেই টাকা আঁকড়ে ঘাপটি মেরে রয়েছে? সমস্যা ক্রমশই জটিলতর কলেভিনের অস্থিরতা বাড়ছে, নানা ভয়ের ছবি মনে এসে যায়। সবচেয়ে অস্বস্তি কিটিকে নিয়ে। আচ্ছা চাল দিয়ে রেখেছে বটে। ওর বাঁচা মরার ওপরই নাকি কলেভিলের নিরাপত্তা নির্ভর করছে। এরকম চরম পরিস্থিতি তার স্বপ্নাতীত, এখন সে সত্যিই সভয়ে কিটিকে মান্য করে চলছে। এমনকি, মাতাল মেয়েমানুষটারকাম উথলে উঠলে অনিচ্ছা সত্ত্বেও কলেভিনকে সক্রিয় হতে হয়। ঐ সময়ে কিটি লোরিং-এর অসভ্য আচরণ এক চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে যায়। বন্য, অভাবনীয় উত্তেজক, ঘৃণ্য,লজ্জাশূন্য আদিতে সমাজ ও পরিবার যে মাতৃতান্ত্রিক ছিল, কিটিকে। দেখে তা অনুভব করা যায় এবং এই পরীক্ষাটা ডেড় কলেভিনের ওপর চালানো হচ্ছে, যে কিনা নিজেকে অন্যতম কঠিন প্রাণ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ পুরুষপ্রধান মনে করে থাকে। এমনও হতে পারে-কলেভিন তার ধৈর্যের সুতো হারিয়ে ফেলেছে…সঙ্গমকালে প্রচণ্ড হিংস্র আক্রমণ চালাল সে কিটির ওপর–পরদিন কিটির রক্তাক্ত প্রাণহীন দেহ আবিস্কৃত হলকলেভিন আরো নিঃস্ব, আরো বিপন্ন এক মানুষ হয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে পুলিশ ও আইনের হাত থেকে রেহাই পাবার জন্যে।..না, এমন হয় না। এমন হতে পারে না…কলেভিন তার মেজাজ হারিয়ে কেবল স্নায়ুর চাপ সহ্য করো। নাক দিয়ে নিজের অজান্তেই ঘোঁৎ ঘোঁৎ আওয়াজ তোলে।

    সকলে শেরিফের চেম্বারে সমবেত। কলেভিন ট্রেভারসের পাশের চেয়ারে বসে। মিঃ মার্থীর সরু মুখে তীক্ষ্ণ বুদ্ধিও তৃপ্তিবোধের ছায়া। তার ইঙ্গিতে বক্তব্য শুরু করলো ইস্ট, উপরওয়ালার সামনে তার স্বর বেশ খরশান, আমি সুনিশ্চিত অপরাধী এক ব্যাঙ্কের মহিলাকর্মী এলিস ক্রেগকে পটিয়ে ব্যাঙ্ক থেকে টাকা হাতায়। তারপর এলিসকে খুন করে পরিত্যক্ত গাড়ির মধ্যে লাশ রেখে এখান থেকে পালাবার চেষ্টা করেও পালাতে পারেনি।

    কলেভিন গালে তর্জনি রেখে যথাসাধ্য চেষ্টা করে স্বাভাবিক নির্বিকার থাকতে।

    মার্থী বললো, এরকম সিদ্ধান্তের কারণ কি?

    উৎসাহের সঙ্গে ইস্ট বলে, কারণ, ঐ দিনই স্থানীয় পুলিশ হাসপাতাল থেকে এক দাগী অপরাধী চম্পট দেয়। সেই আসামীকে পাকড়াও করতে পিটসভিল ও ডাউন সাইড থেকে বের হবার প্রতিটি রাস্তা পুলিশের জোর প্রহরায় একেবারে বন্ধ হয়ে যায়। এমনকি রেলপথেও তাদের ঐ কড়াকড়ি। আবার তার পরদিন থেকে ব্যাঙ্কের ডাকাত ধরতে আমরাও কোন লোককে বিনা তল্লাশীতে এ জায়গা ছেড়ে যেতে দিচ্ছি না। তাই, সেই খুনী এবং এলিসের কপট প্রেমিক এক এখানেই ঘাপটি মেরে আছে।

    মার্থী বললো, হু, তোমার কথা আমি উড়িয়ে দিচ্ছি না। কিন্তু ভল্ট থেকে টাকা সরাতে গেলে দুটো চাবির দরকার। তার একটি ছিল এলিসের কাছে, অন্যটি ছিল ম্যানেজার মিঃ কলেভিনের পকেটে। আমার প্রশ্ন হলো, দুটো চাবি একত্রিত করা কি করে সম্ভব হলো? কিন্তু ডুপ্লিকেট হলেও এলিস তৈরি করার সুযোগ পেল কিভাবে?

    কলেভিন এবার মুখ খুললো, এটা আমার স্বীকৃত দুর্বলতা যে, আমি বরাবরই আমার সহকর্মীকে খুব বিশ্বাস করে ফেলি। আর মিস ক্রেগকে তো সন্দেহ করার প্রশ্নই নেই। শুধু আমি কেন মিস ক্রেগ ছিলেন তার সকল পরিচিতজনের আস্থাভাজন। তাই অনেক সময়ই আমি চাবিসমেত কোটটা চেয়ারের ওপর রেখে বাইরে গেছি। এলিস তখন ব্যাঙ্কের মধ্যেই থেকেছে। তার পক্ষে সাবান বা মোমের ওপর আমার চাবির ছাপ নেওয়াটা সহজ কাজ। তাছাড়া প্রাক্তন ম্যানেজার মিঃ ল্যাম্ব হঠাৎ অসুস্থ হলে দুটো চাবিই এলিসের হাতে ছিল।

    মার্থীর হতাশ মন্তব্য, ব্যাঙ্কের দেখছি, বজ্র আঁটুনি ফস্কা গেরো।

    নিঃশব্দে হাসে কলেভিন।

    ট্রেভারস বললো, স্যার, আমার কিছু বলবার আছে।

    বলো।

    মিঃ ইস্টনের এটা কোন দুঠুক্তি নয় যে, খুনী পিটসভিল বা ডাউন সাইডেই রয়ে গেছে। তবে আমার সংযোজন এই যে, লোকটার বিশেষ গোঁফ ও নকল জডুল ছদ্মবেশ মাত্র। কলেভিনের বুকের মধ্যে যেন বিস্ফোরণ ঘটে।

    মিঃ মার্থীর ভ্রূকুটিল, তোমার অমন সিদ্ধান্তের হেতু?

    হেতু হলো এলিসের ঘরে রেখে যাওয়া টাইপ করা চিঠিখানা। ঐ চিঠিটা একটা বড় স্ট্যান্ডার্ড রেমিংটন টাইপরাইটারের দ্বারা টাইপ করা। যে মেশিনের ভি এবং টি এই অক্ষর দুটি ভাঙা। কোন মানুষ অতবড় মেশিন নিয়ে স্থানান্তরে ঘুরে বেড়াতে পারে না। দ্বিতীয়তঃ, আমরা জেনেছি খুনী তার গাড়িখানা স্থানীয় এক গাড়ি বিক্রেতার কাছ থেকে খরিদ করে। সে যদি বাইরের লোকই হবে, তাহলে নিশ্চয় এখানে গাড়ি কিনত না। তৃতীয়তঃ, মাত্র পাঁচজন লোককে বাদ দিলে তার ঐ গোঁফ ও জডুল মার্কামুখ এই এলাকার আর কেউ দেখেনি। অথচ এই ছোট শহরে মানুষ মানুষের সান্নিধ্য সহজেই উপভোগ করে, আর নতুন কেউ এলেই তার সম্পর্কে কৌতূহলী হয়ে ওঠে। আমার তাই দৃঢ় বিশ্বাস এলিসের প্রতারক প্রেমিক এই শহরেরই কেউ, হয়তো দোর্দণ্ড প্রতাপে বিরাজমান কেউ, লম্বা চওড়া তাগড়াই চেহারা, গোঁফ আর জডুল লাগিয়ে দিব্যি ভঁওতা দিতে পেরেছে মিসেস লোরিং, মেজর হার্ডি, মিস পীয়ারসন, পেট্রল পাম্পের কর্মচারী এবং ব্যাঙ্ক ম্যানেজার মিঃ কলেভিনকে। আমাদের এবার খুঁজে বের করতে হবে এই শহরতলীতে যে কটা স্ট্যান্ডার্ড রেমিংটন টাইপ রাইটার আছে তার মধ্যে কোনটার দুটো নির্দিষ্ট অক্ষর অক্ষত নয়। একটা নিরেট টাইপরাইটারকে খুঁজতে খুঁজতেই আমরা আসল খুনীকে দেখতে পাবো।

    দুচোখ উজ্জ্বল হয়ে উঠে মিঃ মার্থীর, চমৎকার বিশ্লেষণ। এবার আমি একটি দারুণ উদ্দীপক সংবাদ পেশ করছি। ব্যাঙ্কের কর্তৃপক্ষ আমাদের জানিয়েছেন যে, যে তোক এই ব্যাঙ্ক ডাকাত ও এলিসের খুনীর সন্ধান দিতে পারবে ব্যাঙ্ক তাকে নগদ ষাট হাজার ডলার পুরস্কার দেবে।

    ষাট হাজার ডলার।

    চিবুক ঊর্ধ্বে তুলে মিঃ মার্থী ঘোষণা করে।

    ট্রেভারস ও ইস্টনের সবিস্ময় উচ্চারণ ধ্বনিত হয়, ষাট হাজার ডলার! ট্রেভারসের ভাবনার গতি স্তব্ধ থাকে না, এটাই তার জীবনের শ্রেষ্ঠ সুযোগ। ষাট হাজার ডলার পেলে সে পুলিশের চাকুরী ছেড়ে দেবে। ব্যবসা করে, সে দ্রুত ধনী হবে। তখন মিসেস কিটি লোরিং আর তার মেয়ের সঙ্গে বিয়ে দিতে অরাজি হবে না।

    ইস্টনের মস্তিষ্কের রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেহয়তো ঐ ষাট হাজার ডলার পেতে চলেছে। পেলেই চাকুরি থেকে অবসর নেবে আর মুখ বউকে তালাক দেবে এবং একটি ডঙ্কা যুবতাঁকে, রয়ে বসে উপভোগ করবে।

    একটু ডান দিকে হেলে ট্রেভারস দাঁত দিয়ে ঠোঁট কামড়ে খেয়াল করে। সে ডেভ কলেভিনের পাশে বসে আছে এবং পর পর দুবার নাকের ঘোঁৎ ঘোঁৎ শব্দ শুনতে পেল।

    একটা সাধারণ শব্দ যদিও মুদ্রাদোষজনিত এবং স্নায়ুর প্রভাবে যা ধ্বনিত–ট্রেভারসের মনে হল–এ যেন তুষার মগ্ন কোন পর্বতমালার মধ্যে হঠাৎই ইয়েতিকে আবিস্কার করার মতন ঐতিহাসিক ঘটনা। এই শব্দের সঙ্গেই যেন হাজার হাজার ডলারের ঝঙ্কার জড়িয়ে আছে। খুন, গলিত শব, উন্নতি অবনতি, অপ্রতিরোধ্য উচ্চাকাঙ্খ, ইস্ট ও ট্রেভারসের মধ্যে অদৃশ্য প্রতিযোগিতা, ট্রেভারসের ভবিষ্যৎ, অনিবার্য সুখ–পরপর মনের মধ্যে ছায়া ফেলে গেল।

    .

    ১৫.

    এই সান্ধ্য শহরটিকে বিশদভাবে স্নান করিয়ে দিলো শন শন ভোঁ ভোঁ বাতাসের সঙ্গে ঝলক ঝলক বৃষ্টি। রাস্তার আলোগুলো ঝাপসা, কোথাও কালিময়। এ হেন অসময়ে ইরিস সিনেমা হল থেকে বেরিয়ে পথে বিব্রত হয়ে এদিক ওদিক তাকায়, মাথার ওপরকার আকাশ আজ তার আশ্রয় নয় চুল ভিজছে, গাল ভিজছে, উদ্ভিন্ন বুক ভিজছে–তাকে সিক্ত করতেই বুঝি প্রকৃতির এমন উন্মাদনা।

    একটা গাড়ি হঠাৎ তার পাশে এসে থামলো। কপাট খুলে ট্রেভারস মুখ বের করে, বৃষ্টিতে ভিজলে বিছানা নেবে, শিগগীর ভেতরে এসো।

    ইরিস তার ভেজা পোশাক সমেত গাড়িতে ঢুকলো, ট্রেভারসের পাশে।শীতের প্রভাবকমাতে ঠোঁট দিয়ে ইরিসের শিস বেরিয়ে আসে, বৃষ্টির নর্তন এখন কম মনে হয় তার।

    রাস্তা জনহীন, গাড়িটা ডেডস্টপ। ট্রেভারস ইরিসকে জড়িয়ে ধরে, ইরিসও তাকে। ঠোঁটের ওপর ঠোঁট, হাত কখনো ইরিসের পিঠের ওপর, কখনো কোমরে, গাড়ির মধ্যে রেডিওতে নীচু পর্দায় বিলি হলিডে চলছে। কিছুক্ষণ চুম্বনাবদ্ধ থাকার পর ট্রেভারস বললো, আমি তোমাকে ভীষণভাবে খুঁজছিলাম। কোনরকমে অফিস থেকে বেরিয়ে এসেছি।

    দুচোখে ইরিসের কৌতুক–কি ব্যাপার? কিসের জন্য এত ব্যক্ততা?

    ট্রেভারস গাড়িটা চালিয়ে নির্জন স্থানে এনে বললো, আমার মানে আমাদের ভাগ্য এবার খুলে যাচ্ছে ডার্লিং। পয়সার জন্য আমাদের আর কোন লোককে রেয়াৎ করতে হবে না।

    ট্রেভারসের তপ্ত সাহচর্য উপভোগ করতে করতে ইরিস জিজ্ঞেস করে, কি রকম?

    আমি ষাট হাজার ডলার পেতে চলেছি।

    তুমিও একটা ব্যাঙ্ক ডাকাতি করবে নাকি?

    না, একদম বাজে কথা বলছি না। তবে একথা একমাত্র তোমাকেই বলা যায়, তৃতীয় কারুর কানে গেলেই সব ভেস্তে যাবে। ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করেছেন, যে লোক খুনে ডাকাতটার ঠিক হদিশ দিতে পারবে তাকে ষাট হাজার ডলার দেবে। বুঝলে ডার্লিং ষাট হাজার ডলার।

    হুঁ, টাকার অঙ্কটা মাথা ঘুরিয়ে দেবার মতই। কিন্তু তুমি সেই উবে যাওয়া মহামানবটির সন্ধান পাবে কি করে?

    মহামানবটি মোটেই উবে যায় নি। সে এখানে আর পাঁচজনের সঙ্গেই দিব্যি হাঁটছে চলছে খাচ্ছে দাচ্ছে, আমি তাকে চিনে ফেলেছি। ইস্ট বা শেরিফ সাহেব চিনতে পারেননি।

    বটে, সে কি?

    ইরিসের মুখের দিকে চেয়ে তার দৃষ্টি তীক্ষ্ণতর হতে থাকে। চাপা স্বরে বললো, তার নাম : শুনলেতুমি কেবল চমকে উঠবেনাআঘাতও পাবে।কিন্তু যা সত্যি, তা মেনে নিতেই হবে। একমাত্র তোমাকেই আমি বলতে পারি কারণ গোপনকরেরাখবার মতনমানসিক দৃঢ়তা তোমার আছে।

    ইরিসের চোখেমুখে সন্দেহ ও শঙ্কার ছায়া ঘনায়, কে সে?

    ট্রেভারস আরো চাপাস্বরে উচ্চারণ করলে, ব্যাঙ্ক ম্যানেজার মিঃ ডেভ কলেভিন।

    ভূমিকম্পেও ইরিস বোধহয় এতটা চমকে উঠতো না। নিস্তব্ধতার পর তীব্রস্বরে প্রায় চিৎকার করে ওঠে, তুমি কি সুস্থ মস্তিষ্ক? তুমি যা বলছে, তার তাৎপর্য বোঝ?

    দৃঢ়স্বরে ট্রেভারস বলে, বুঝি এবং আমি সম্পূর্ণ সুস্থ মনস্ক, দায়িত্ব নিয়েই নামটা তোমাকে জানালাম।

    তুমি কি জানো, তিনি আমার মাকে বিয়ে করতে চলেছেন?

    ঈশ্বরকে ধন্যবাদ, এখনো সেই দুর্ঘটনাটা ঘটেনি। তোমার উচিত, রুখে দাঁড়ানোন…..শোন, ইরিস, আমার অনুমান যদি সত্যি হয় তাহলে তুমি ঐ ব্যাঙ্কে ঢুকে এমন একটি স্ট্যান্ডার্ড রেমিংটন টাইপ রাইটারের সন্ধান পাবে, যার ভি আর টি অক্ষর দুটো ভাঙা-যার সাহায্যে এলিস ক্রেগকে তার প্রেমিক চিঠি লিখেছিল এবং এলিস ব জিনিস সরিয়ে ফেললেও ঐ চিঠিটাকে রেখে গেছে পুলিশের কাজকে জলবৎ করে দিতে। কী সাংঘাতিক ষড়যন্ত্রী এই ডেভ কলেভিন।

    তুমি যখন অত জোরের সঙ্গে বলছে তখন আমি নিশ্চয় ব্যাঙ্কে ঢুকে পরখ করে আসবো। তৃবে তোমার ঐ সন্দেহ নেহাৎ আলপটকা, ভিত্তিহীন ও মারাত্মক সিদ্ধান্ত।

    ট্রেভারস ভাবে যদি ইরিস সফল হয় তবে ট্রেভারস ও ইরিস এক নতুন যুগে প্রবেশ করবে আর যদি সফল না হয় ব্যর্থতার নিরেট পাথরে ট্রেভারস আছড়ে পড়বে। কিন্তু ইরিস সত্যি যদি টাইপ মেশিনটা পায়, আরো ভয়ঙ্কর কোন সত্য প্রতিভাত হয়ে উঠবে না তো? তার প্রত্যয় জন্মায়–পুলিশের চাকুরীটা মূলতঃ বাম্বলের নয়, বুদ্ধি ও অনুভূতির।

    ইরিস ঝিম্ ঝিম্ মাথা নিয়ে ঘরে এলো। নিজের ঘরে ঢুকবার মুখে থমকে দাঁড়ায়–কিটির ঘরে আলো। ইরিস দরজা খুলে ভেতরে আসে। কিটি মদ গিলছে।ইরিস ক্ষোভের সঙ্গে বললো,

    ছিঃ! মা, তুমি আবার মদ খাচ্ছ?

    কিটি ক্রোধে ফেটে পড়ে, আলবাৎ গিলবো। তুই কেন ব্যাঙ্কে কাজ নিতে রাজি হয়েছিস?

    তাতে ক্ষতিটা কি?

    না, তুই ডেভের অফিসে ঢুকবি না।

    কারণ দেখাও।

    নিজের মঙ্গল যদি চাস, ওখানে যাবি না।

    কারণ দেখাতে না পারলে তোমার কথাই বা আমি মানতে যাবো কেন?…মাতালের প্রলাপ। ইরিস আপন মনে বিড় বিড় করতে করতে নিজের ঘরে ঢুকলেও মনে হলো, এক বিকট প্রহেলিকা তাকে আচ্ছন্ন করে রাখছে।

    মা কিসের ইঙ্গিত দিতে চাইছে?

    কেনই বা ট্রেভারসের মনে হচ্ছে কলেভিনই সম অপরাধের উৎস? আর ইরিসের মনে প্রতিফলিত হচ্ছে, অন্য ধরনের অনুভূতি। অমন বুদ্ধিদীপ্ত, যৌন সমৃদ্ধ, বিশাল দেহী পুরুষ! হাসিটা কী দারুণ। যে কোন নারীকে কজা করে ফেলার পক্ষে ঐ হাসির গভীরতা অপরিমিত।

    ইরিসের নিজেরই তো কেমন যেন একটা দোলা লেগেছিল কলেভিনের মুখোমুখি হবার পর…এমন কি মার সঙ্গে সম্পর্কের কথাটা শুনবার পরও।

    সেকলেভিনের কাছ থেকে ছুটে ট্রেভারসের পাশে না দাঁড়ানো পর্যন্ত নিজের আত্মবল খুঁজে পাচ্ছিল না। ইরিস আত্মসমীক্ষা করতে ভয় পায়।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91 92 93 94 95 96 97 98 99 100 101 102
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleব্ল্যাক অর্ডার (সিগমা ফোর্স – ৩) – জেমস রোলিন্স
    Next Article জেমস হেডলি চেজ রচনা সমগ্র ২ (অনুবাদ : পৃথ্বীরাজ সেন)

    Related Articles

    জেমস হেডলি চেজ

    জেমস হেডলি চেজ রচনা সমগ্র ২ (অনুবাদ : পৃথ্বীরাজ সেন)

    August 18, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }