Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    জেমস হেডলি চেজ রচনা সমগ্র ১ (অনুবাদ : পৃথ্বীরাজ সেন)

    জেমস হেডলি চেজ এক পাতা গল্প2631 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ২. পুরো এক সপ্তাহ

    ০২.

    পুরো এক সপ্তাহ দেখতে দেখতে কেটে গেল। এই এক সপ্তাহ ধরে খামারবাড়ির সব কাজকর্ম রান্নাবান্না এবং ক্যারলের সুশ্রুষা স্টিঙকে একাই করতে হল। রয় ওকে সামান্যতম সাহায্যও করল না। শুধু সে যেন কার অপেক্ষায় চঞ্চল হয়ে উঠল। কিন্তু সপ্তাহের শেষাশেষি সে একটু স্বাভাবিক হয়ে উঠল। তার শুধু একটাই জেদ যে স্টিঙ কোথাও যেতে পারবে না। পরিস্থিতি বিচার করে স্টিঙ তার কথা মেনে চলাই যুক্তিযুক্ত বলে মেনে নিল।

    ক্যারল যেহেতু স্টিঙের ঘরে থাকে তাই স্টিঙও রয় একঘরে ঘুমোয় তাতে স্টিঙ দেখল যে ওর ঘুম খুব পাতলা। একটু শব্দ হলেই রয় আতঙ্কে উঠে বসে।

    এদিকে ক্যারলের দ্রুত উন্নতি হচ্ছিল। তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি ঘটলেও একটা ব্যাপার ঘটল তা হল সে তার আগের নাম ঠিকানা প্লেনভিউ কিছুই মনে করতে পারছিল না। আর ধীরে ধীরে সে স্টিঙের নিকটে আসতে লাগল। অসহায়ের মতো সে স্টিঙকে আঁকড়ে ধরলো। স্টিঙও ক্যারলের প্রতি গভীর মমতাবোধ টের পেল।

    মেয়েদের ব্যাপারে স্টিঙ চিরদিনই খুব লাজুক। সে ভেবে পাচ্ছিল না যে কি করে এই পরিস্থিতি সামাল দেবে। ক্যারল সুস্থ হবার পরেই সারাক্ষণ স্টিঙের পিছন পিছন ঘুরে বেড়াতে লাগল।

    ক্যারলের মানসিক ইতিহাস সম্পর্কে অজ্ঞ থাকায় স্টিঙের ধারণা হলো মাথার আঘাত শুধু ওর স্মৃতিশক্তি লুপ্ত করে দিয়েছে তা নয়। ওকে শিশুসুলভও করে তুলেছে। স্টিঙ ভাবল ওর সঙ্গে প্রেম করে লাভ হবে না। কারণ স্মৃতি ফিরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই ও সব ভুলে যাবে।

    এদিকে রয় ভাবলো মেয়েটা এখন ভাল হয়ে গেছে। ওকে নিয়ে এখন ফুর্তি করা যাবে। যদিও ক্যারলের সমস্ত আগ্রহ এখন শুধু স্টিঙের দিকে রয়ের দিকে ওর কোন ভ্রূক্ষেপও নেই।

    একদিন সকাল বেলায় ক্যারলকে একটা জলাধারের দিকে ঘুরতে দেখে রয় তার হাত ধরলো। সে তার পথ আটকাতে ক্যারল বলল, আমি স্টিঙকে খুঁজছি যে।

    স্টিঙের কথা বাদ দাও, এই বলে ও ক্যারলকে জড়িয়ে ধরলো।

    ছেড়ে দাও আমি স্টিঙকে খুঁজবো।

    ঠিক এমনি সময় স্টিঙ দুজনকে ছাড়িয়ে দিয়ে রয়কে প্রচণ্ড ঘুষিতে ধরাশায়ী করে ফেললো।

    ক্যারল বলল ওকে তুমি মারলে কেন? আমি চাই না ও তোমাকে ভয় দেখাক।

    ঠিক আছে তোমার ভাল না লাগলে আমি তোমাকে চুমু খেতে দেবো না।

    রয় বলল, তোমার ঘুসিটুসিগুলো সামলে রাখো স্টিঙ তুমি যদি ওরদিকে হাত বাড়াও তাহলে ফাটাফাটি হয়ে যাবে তোমার সঙ্গে সে তোমার কাছে যতই পিস্তল থাকুক।

    তোমাকে আমি যদি খুন করি কে আমাকে আটকাবে।

    দ্যাখো রয় মেয়েটার দিক থেকে হাত না সরালে আমি তোমাকে দেখে নেব।

    রয় আর স্টিঙ এরপর ঘরে গিয়ে শুয়ে পড়ল। স্টিঙ বলল তুমি কার ভয়ে পালিয়ে পালিয়ে। বেরাচ্ছ। কি বাজে কথা বলছ, আমি মোটেই ভয় পাইনি। আর বাজে কথা বন্ধ কর, না হলে তোমাকে খতম করে দেব। কেন যে আগেই খতম করে দেইনি।

    দাওনি, তার কারণ, তুমি একা থাকতে ভয় পাও। তুমি চাও তোমার কিছু হলে আমি তোমার পেছনে থাকি।

    রয় বলল, তুমি একটা পাগল যাই হোক আমি এখন ঘুম লাগাতে চাই। কিন্তু রয়ের কিছুতেই ঘুম এল না। সে ক্যারলের কথা ভাবছিল। মেয়েটা তাকে যে বাধা দেবে না সে জানে। এক স্টিঙ তার ঘুম না ভাঙ্গিয়ে যদি ওর ঘরে যাওয়া যায়! কিন্তু হঠাৎ বাইরের দিকে চোখ পড়তে ও দেখল বাইরে একটা নিঃশব্দ ছায়ামূর্তি ভোলা জানালার পাশ দিয়ে পলকের মধ্যে অন্য ধারে চলে গেল।

    ভীত দৃষ্টিতে ও তাকিয়ে থাকল কিছুক্ষণ। তার পর মনে হল একটা শব্দ ক্রমশ এগিয়ে আসছে। তখন সে স্টিঙকে ধরে প্রাণপণে ঝকানি দিতে লাগল। সঙ্গে সঙ্গে স্টিঙের ঘুম ভেঙ্গে গেল। রয়ের পাণ্ডুর মুখ দেখে স্টিঙ বুঝল যে একটা কিছু ঘটেছে।

    রয় বলল, বাইরে কে যেন হাঁটছে।

    আরে ও তো ক্যারল।

    তারপর উঠে দাঁড়িয়ে দেখল ক্যারলই হাঁটছে। ও দম ফেলে বললো। যাঃ বাব্বা কি করছে! আমার তো দম বন্ধ হবার উপক্রম হয়েছে।

    স্টিঙ বলল, আস্তে কথা বল। ও হয়তো ঘুমের ঘোরে হাঁটছে।

    রয়ের ভয় ভাব কেটে গিয়েছিলো। এখন চোখের সামনে সাদা পাজামার আড়ালে ক্যারলের কামনামদির শরীর, ওর নিরাবরণ পা এসব দেখে রয় অস্থির হয়ে উঠল।

    ও বলল, সত্যি তাকিয়ে থাকার মতো জিনিষ, তাই না স্টিঙ।

    স্টিঙ বিরক্ত হয়ে ওকে চুপ করতে বললো। আসলে ক্যারল কেন এমন পায়চারী করছে তাই নিয়ে স্টিঙ চিন্তা করছিল।

    সহসা ক্যারল থমকে দাঁড়িয়ে পড়ল ও যেন বুঝতে পেরেছে যে কেউ ওকে লক্ষ্য করছে।

    ক্যারলের মুখে জ্যোৎস্না এসে ঢলে পড়েছে। সেই আলোয় ক্যারলের মুখের এক বিচিত্র পরিবর্তন ওরা লক্ষ্য করল।

    স্নায়বিক বিকলতার জন্য ওর ঠোঁটের প্রান্ত কেঁপে কেঁপে উঠছিল। এরপর সে জানালা থেকে অদৃশ্য হয়ে যায়।

    রয় বলল–মেয়েটা কেমনভাবে তাকাচ্ছিল দেখেছো? স্টিঙ বললো, দেখেছি কিন্তু এখন দেখতে হবে যে ও কি করছে।

    দেখতে যাচ্ছো যাও, কিন্তু সাবধানে থেকো। ও তোমার চোখদুটো না আবার খুবলে নেয়।

    স্টিঙ কথা না বলে এগিয়ে গেলো ক্যারলের ঘরের দিকে। দেখলোক্যারল বিছানায় শুয়ে আছে। চোখ বোজা। তার মুখেচাঁদের আলো এসে ছড়িয়ে পড়েছে। যেন এক বিষাদময়ী সৌন্দর্যের প্রতিমা বিছানায় গা এলিয়ে রয়েছে।

    সে রাতে রয়ের মতো স্টিঙেরও ভাল ঘুম হল না।

    .

    জো আর গারল্যান্ড গ্লেনভিউ মেন্টাল স্যানাটোরিয়ামের পেছন দিকের বিশাল গ্যারেজে একটা অ্যাম্বুলেন্সকে ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার করছিল।

    জো কে স্যাম বলল, ওই দেখো খবরের কাগজের লোকটা আবার এদিকেই আসছে।

    জো বলল–লোকটা আচ্ছা নাছোড়বান্দা, এই লোকটাকে বাজিয়ে দেখলে কেমন হয় বল

    স্যাম বলল–ভালই। লম্বা-রোগা ফিল ম্যাগার্থ তখন অলস গতিতে ওদের দিকে এগিয়ে আসছিল। এখানে সে গত সপ্তাহ থেকে ঘুরঘুর করছে যাতে করে স্যানিটোরিয়াম থেকে পালিয়ে যাওয়া মেয়েটার সম্পর্কে জুতসই কোন খবর সংগ্রহ করতে পারে এই আশায়। কিন্তু ডাক্তার ট্রেভার্সের ছোট একটা অপ্রয়োজনীয় জবানবন্দি আর ক্যাম্পের মুখ থেকে দুটো শব্দ–বেরিয়ে যাও। শোনা ছাড়া তার আর কিছুই লাভ হয়নি। ম্যাগার্থ এ জেলায় স্থানীয় সংবাদ সংগ্রাহক। সংবাদ সংগ্রহে সে বেশ পটু। তার ধারণা মেয়েটি যে এখান থেকে পালিয়ে গেল এর পেছনে নিশ্চয়ই ছোটবড় ঘটনা আছে। তাই সে আজ গ্যারল্যান্ড আর জোকে একটু তলিয়ে দেখার জন্য এসেছে।

    অ্যাম্বুলেন্সের গায়ে হেলান দিয়ে ম্যাগার্থ বলল, কিহে পাগলীটার কোন খোঁজ খবর পেলে।

    জো আর গ্যারল্যান্ড দুজনেই বলল যে তাদের কাছে জানতে চেয়ে কি লাভ, তারা তো মাইনে করা চাকর।

    ম্যাগার্থ বলল, আমি ভেবেছিলাম তোমরা কিছু জেনে থাকবে। আসলে আমার টাকার থলেটা দিন দিন ভারী হয়ে উঠছে একটু হালকা করতে চাই।

    তারা বলল, কেমন ভারী?

    খুব ভারী আর মোটা। তাই বলছিলাম তোমরা যদি কোন খবর জেনে থাকো তাহলে স্বচ্ছন্দে মুখ খুলতে পারো।

    ভয় আবার কি দুজন যদি একশো ডলার পাই তাহলে খবরাখবর দিতে পারি।

    খবরটা কিন্তু টাকার উপযুক্ত হওয়া চাই। অবশ্যই উপযুক্ত, কি বলছেন, এ একেবারে সারা জাগানোর মতো খবর। অ্যাটম বোমার চাইতেও মারাত্মক।

    শোনা যাক কি রকম মারাত্মক।

    স্যাম ম্যাগার্থের দেওয়া নোটগুলো গুছিয়ে নিতে নিতে বলল মেয়েটা হচ্ছে জন ব্লানডিশের উত্তরাধিকারিণী। কি খবরটা কেমন।

    এ আবার কি গুল খোকন।

    গুল মোটেই নয়। জন ব্লানডিশের একটা মেয়ে ছিল তাকে বহুবছর আগে গুম করা হয়।

    .

    পরদিন সকালে স্টিঙ আর ক্যারল প্রাতঃরাশ খাচ্ছিল। রয় অনেক আগে উঠে ট্রাউট মাছ শিকার করতে গেছে।

    স্টিঙ একসময় ক্যারলকে বলল, কাল রাতে ভাল ঘুম হয়েছিল।

    ক্যারল বলল, কি একটা স্বপ্ন দেখছিলাম। স্টিঙ বলল, কাল রাতে তুমি উঠেছিলেনাকি আমিও স্বপ্ন দেখছিলাম।

    ক্যারল দুহাতে মাথা টিপে বলল–কি জানি কিছুই মনে করতে পারছি না। অন্ধকার দেখেও ভয় লাগে।

    কি স্বপ্ন দেখো বল তো।

    ঠিক মনে পড়ছে না। একটা নার্সকেই বারবার স্বপ্ন দেখি।

    স্টিঙ সমস্ত দিন চিন্তায় উদ্বিগ্ন হয়ে থাকলো। যখন সন্ধ্যের পর রয় ফিরে এলো তখনো তার উদ্বিগ্নতা কাটেনি।

    এদিকে স্টিঙ আর রয় যখন ঘরে ঘুমুতে গেল, রয় ঘুমের ভান করে পড়ে থাকলো। যখন সে বুঝলো যে স্টিঙ ঘুমিয়ে পড়েছে তখন সে বিছানা থেকে উঠে পড়ল। সে ভাবল ক্যারল তাকে চুমু খেতে দিয়েছে কোন বাধা দেয় নি। অতএব স্টিঙকে না জানিয়ে ক্যারলের কাছে পৌঁছতে পারলে সে ক্যারলকে নিয়ে মজা লুটতে পারবে।

    রয় নিঃশব্দে বিছানা ছেড়ে উঠে দাঁড়াল। বারান্দার শেষপ্রান্তে ক্যারলের ঘর। রয় ঘরে ঢুকে দেখলো ক্যারল চোখ মেলে শুয়ে আছে। সে চোখে বিন্দুমাত্র.ভয় বা আশঙ্কার ছায়া নেই।

    রয় ক্যারলকে বলল, এই যে আমি তোমাকে একটু সঙ্গ দিতে এলাম। আমাকে দেখে তুমি ভয় পাওনি তো? মনে মনে ক্যারলের অপার্থিব সৌন্দর্য দেখে রয় শরীরে জ্বরের উষ্ণতা অনুভব করছিল।

    ক্যারল শান্ত গলায় বলল–আমি জানতাম আজ রাতে তুমি আমার ঘরে আসবে। রয় অবাক হয়ে বলল, তার মানে তুমি চাইছিলে আমি এখানে আসি।

    ক্যারল তার দিকে শীতল চোখে তাকিয়ে বলল, আমি বুঝতে পারছিলাম কারণ আজ সমস্ত সন্ধ্যে তুমি আমাকে লক্ষ্য করছিলে। তাই আমার মনে হচ্ছিল যে তুমি আসবে।

    রয় মুচকি হেসে ওর গায়ে হাত রাখল ও বলল, আমি তোমাকে আদর করতে চাই।

    ক্যারল বলল, কিন্তু স্টিঙ তা চায় না।

    ও জানতে পারবে না। এই বলে রয় ক্যারলকে নিবিড় করে জড়িয়ে ধরল। হঠাৎ কানে ক্যারলের মৃদু ধাতব হাসির শব্দ যাওয়াতে সে চমকে উঠলো।

    রেগে বলল, অত হাসির কি আছে! এই বলে সে ক্যারলকে আরো জোরে জড়িয়ে ধরলো। কিন্তু এর মধ্যে ক্যারল তার কঠিন হাত দিয়ে রয়ের ঘাড় খিমচে ধরে রয়ের চোখের ওপর নিজের তীক্ষ্ণ দাঁত বসিয়ে দিলো।

    অন্য ঘরে স্টিঙের ঘুম আচমকা ভেঙ্গে গেলো। বিছানা ছেড়ে জানলার কাছে এগিয়ে গেল স্টিঙ, দেখলো সেখানে কেউ নেই। তারপর সেরয়ের বিছানায় হাত রাখল দেখলো কেউ নেই। সঙ্গে সঙ্গে তার মনে হলো ক্যারলের কথা। সে দরজার দিকে ছুটলো। এর মধ্যেই সে শুনতে পেলো, স্টিঙ স্টিঙ তাড়াতাড়ি এসো। আমাকে বাঁচাও বলে রয় চীৎকার করছে।

    কি হয়েছে, ঘরে ঢুকে বলল স্টিঙ।

    দেখলো রয়ের মুখ রয় দুহাত দিয়ে ঢেকে রেখেছে। আঙ্গুলের ফাঁক দিয়ে টসটস করে রক্ত পড়ছে।

    রয় বলল, স্টিঙ মেয়েটা আমার চোখ দুটো খুবলে দিয়েছে আমি অন্ধ হয়ে গেছি! ভগবানের দোহাই, আমকে বাঁচাও।

    স্টিঙ রয়কে বলল, তুমি ওকে কি করেছিলে? তার পরেই সে দেখলো বারান্দার ওপরের সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে ক্যারল তার দিকেই তাকিয়ে আছে ওর উদ্ধাঙ্গ অনাবৃত। একটু পড়েই ক্যারল সিঁড়ি ভেঙ্গে উঠে তা দিয়ে ছুটতে শুরু করল।

    ক্যারল ফিরে এসো স্টিঙ চীৎকার করে উঠল।

    কিন্তু ক্যারল উধাও হয়ে গেল। স্টিঙ বুঝতে পারছিল না সে কি করবে। সে রয়ের হাত ধরে। বলল,উঠে পড়ো। তোমার এমন কিছু হয়নি। তারপর বহু কষ্টে তাকে শোবার ঘরে ঢুকিয়ে বিছানার উপর তুলে দিল।

    বললো একটু স্থির হও। আমি সব ঠিক করে দিচ্ছি, এই বলে ওষুধের বাক্স আনতে গেল।

    রয় চীৎকার করে বললো, আমাকে ছেড়ে যেও না ও আবার ফিরে আসবে।

    ঠিক আছে দাঁড়াও, আমি তোমার চোখদুটো ধুয়ে দিচ্ছি। তোমার খুব রক্ত বেরোচ্ছে তাই

    তুমি কিছু দেখতে পাচ্ছে না।

    না না আমি অন্ধ হয়ে গেছি, তুমি আমার সঙ্গে থাকো। ওরা আমাকে পেলেই খুন করে ফেলবে। এখন আমি অসহায় আমি আর নিজেকে রক্ষা করতে পারবো না।

    -কারা তোমার পিছনে লেগেছে।

    সুলিভ্যানরা। অবশ্য তুমি জানো যে ওরা কি মারাত্মক। ওরা পেশাদার খুনে ওদের কেউ চেনে না। আমাকে খুন করার জন্য লিটিল বার্নি ওদের ভাড়া করেছে।

    এখানে ওরা তোমাকে খুঁজে পাবে না। তুমি নিরাপদ।

    আচ্ছা এখন বলতো মেয়েটাকে তুমি কি করেছিলে।

    কিছু না। ও বলেছিল ও জানতো আমি আসবো। ও আমাকে চুমু খেতে দিল। কিন্তু তারপর ওই আমার গলা পেচিয়ে ধরে আমার চোখ ওর সুতীক্ষ্ণ আঙ্গুল দিয়ে খুবলে দেয়। ওর গায়ে ভীষণ জোর। মেয়েটা পাগল স্টিঙ।

    ও নিশ্চয়ই ভয় পেয়ে গিয়েছিল। আমি তোমাকে সাবধান করে দিয়েছিলাম।

    কিন্তু এখন যদি সুলিভ্যানরা চলে আসে আমি কি করবো! তুমি আমাকে বাঁচাবে তো? এই বলে সে তার পিস্তলটা স্টিঙের হাতে তুলে দিল।

    স্টিঙ বলল, তুমি একটু শান্ত হও। ওরা তোমাকে খুন করবে কেন?

    কারণ আমি লিটল বার্নিকে ধোকা দিয়েছি। ও আমাকে অনেক দিন ধরে ঠকাচ্ছিল। তাই এবার যখন দুজনে মিলে একটা ব্যাঙ্ক ডাকাতি করি পুরো টাকাটাই আমি হাতিয়েনি। কিন্তু বার্নি আমার পেছনে সুলিভ্যানদের লাগিয়ে দিলো।

    ওরা তোমাকে খুঁজে পাবে না।

    ঠিকই পাবে। তুমি ওদের চেনো না।

    .

    দুটো কালো কাক। এই বর্ণনাটা সুলিভ্যানদের পক্ষে ষোলআনা খেটে যায়। ওদের দুজনের গায়ে কালো আটোসাটো ওভার কোট, কালো স্লাউচ টুপি মাথায়।কালো প্যান্ট আর কালো ছুঁচোল জুতোয় ওদের দেখলেই মনে হয় মূর্তিমান অমঙ্গল। তাছাড়া দুজনের গলাতেই রেশমী রুমাল বাঁধা থাকে।

    ওরা কয়েক বছর আগে অবধি একটি ভ্রাম্যমান সার্কাসের দলে কাজ করত। ওরা ছিল দলের মুখ্য আকর্ষণ। প্রচারপত্রে ওদের সুলিভ্যান ব্রাদার্স নাম দেওয়া হত। আসলে ওরা মোটেই দুভাই নয়। ওদের আসল নাম ম্যাক্স গির্জা এবং ফ্রাঙ্ক ফুর্ট। কালো মখমলে মোড়া পাটাতনের সামনে দাঁড়ানো একটি মেয়েকে নিয়ে ফসফরাস মাখা ছুড়ির খেলা দেখাতো দুজনে।

    এ খেলা সাড়া জাগানো হলেও শীগগিরই সার্কাস আর মেয়েটা দুটোই সুলিভ্যানদের কাছে একঘেয়ে হয়ে দাঁড়ালো।

    আসলে মেয়েটার জন্যই তারা এ খেলা শেষ করে দেবে বলে ঠিক করল। মেয়েটি দেখতে ভালো। কিন্তু কাজের পরে সুলিভ্যানদের রীতি সে ঠিক বুঝতে পারছিল না। তাছাড়া সে একটা ভাড়ের সঙ্গে প্রেম করা শুরু করল। অবশেষে একদিন রাতে ইচ্ছাকরেই ম্যাক্স তার নিক্ষিপ্ত ছোরায় মেয়েটার গলা পাটাতনের সঙ্গে গেথে দিয়ে সমস্যার সমাধান করে ফেললো। আর তখনই তার মাথায় পেশাদার ঘাতক হবার পরিকল্পনা আসে। তাছাড়া সে ভাবল এই পথে অনেক পয়সা রোজগার করা যাবে।

    সে ভাবলো এই পৃথিবীতে এমন অনেক নরনারী আছে যারা মোটা টাকার বিনিময়ে কোন একজনকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিতে চায়। এখন ম্যাক্স যদি একাজটা করে তাহলে মোটা টাকাটা সেই পাবে। আর এতে কোন ঝুঁকিও নেই। কারণ হত্যার কোন উদ্দেশ্য প্রমাণিত হবে না। আর যথেষ্ট সতর্কতা নিয়ে কাজ করলে ধরা পড়ার কোন কারণই থাকবেনা। তার বন্ধু ফ্র্যাঙ্কের কথাটা মনঃপূত হল। ম্যাক্স জানতো ফ্র্যাঙ্কের চাইতে ভাল অংশীদার পাওয়া তার পক্ষে সম্ভব হবে না। তারা চারিদিকে রটিয়ে দিলো যে তিন হাজার ডলার পারিশ্রমিক আর অন্য খরচ বাবদ সপ্তাহে একশো ডলারের বিনিময়ে তারা যে কোন মানুষকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেবে। এত কাজ হাতে এসে গেলো যে তাতে সুলিভ্যানরা রীতিমতো অবাক হয়ে গেলো।

    একটা কালো ঢাউস প্যাকার্ড ক্লিপারে চড়ে তারা সমস্ত দেশ ঘুরে বেড়ায়। নিঃশব্দে ওরা মৃত্যু বয়ে আনে। পুলিস ওদের সম্পর্কে কিছুই জানতে পারতো না। কারণ যাকে এরা মারত সেও পুলিশের ভয়ে ভীত থাকতো এবং এজন্য পুলিশের আশ্রয় নিতে পারতো না। যাকে খুন করতো তার একটা ফটো, নাম এবং শেষ ঠিকানা তাদের একমাত্র প্রয়োজন ছিল।ওরা তারপর ওকে ঠিকই খুঁজে বার করতো। তিন হাজার ডলার ওরা ছুঁয়েও দেখত না। সাপ্তাহিক খরচের টাকাতেই তাদের মাস কেটে যেতো। ওরা ঠিক করেছিল বেশ ভালমত টাকা জমলে এই ব্যবসা ছেড়ে দিয়ে তারা পাখির ব্যবসা করবে। কারণ ওরা দুজনেই পাখি ভালবাসতো।

    রয় যেদিন ব্যাঙ্ক ডাকাতির টাকা পয়সা নিয়ে কেটে পড়লো, তারপরে লিটল বার্নি ওদের, ভাড়া করলো, পাঁচ হাজার ডলারের বিনিময়ে ওরা রয়কে খুন করার কাজটা হাতে নেয়। রয়কে খুঁজে বার করাই ছিল সবচাইতে মুশকিলের কাজ। কারণ সুলিভ্যানরা ওর পিছনে লেগেছে খবর পেয়েই ও ওর চিরাচরিত আঙ্গুলো থেকে অদৃশ্য হয়ে যায়। শেষ খ ওরা যা পেল তাতে রয় নিউইয়র্ক ছাড়িয়ে পেনসিলভ্যানিয়া স্টেশন অবধি গিয়েছিল। তার পরে সমস্ত সূত্র ছিন্ন হয়ে গেছে। মনে হতে পারে যে রয়ের পাত্তা মেলা অসম্ভব। কিন্তু না। তারা অভিজ্ঞ মানুষ শিকারী, তাদের মতে কোন মানুষকে খুঁজে বের করতে হলে তার প্রকৃতি কেমন, তার আত্মীয় স্বজন কোথায় থাকে তার বান্ধবী কোথায় থাকে এগুলো জানা দরকার। এগুলো জেনে সামান্য ধৈর্য ধরে থাকলে অভীষ্ট শিকারের সন্ধান পাওয়ার কোন অসুবিধেই থাকে না।

    এমনি উপায়ে তারা খুব সহজেই স্টিঙের সন্ধান পেয়ে গেল। তারা জানতে পারল যে স্টিঙ হচ্ছে রয়ের ভাই। সে আগে কানসাস সিটিতে থাকতো এবং এক বীমা কোম্পানির সেলসম্যান ছিল এখন কোন একটা জায়গায় শিয়াল প্রতিপালনের খামার করে সেইখানে বসবাস করছে। তখন তারা এক সপ্তাহ ধরে স্টিঙের বর্তমান সঠিক ঠিকানা জানার জন্য শহরের মধ্যে ও বাইরে প্রতিটি শৃগাল প্রতিপালনের খামারে প্রয়োজনীয় জিনিষপত্রের সরবরাহকারীদের টেলিফোন করতে লাগল। এবং বোনার স্প্রিংগের একটি প্রতিষ্ঠান স্টিঙ লারসনকে মালপত্র সরবরাহ করত, তারাই খুশি হয়ে স্টিঙের ঠিকানা সুলিভ্যানদের জানিয়ে দিলো।

    এর ঠিক তিন দিন পরে ব্লু মাউন্টেন সামিট থেকে মাইল কুড়ি দূরের ছোট্ট উপত্যকা শহর পয়েন্ট ব্রিজে একখানা কালো রঙের ঢাউস প্যাকার্ড ক্লিপার থামল। গাড়ি থেকে সুলিভ্যানরা নেমে সামনে একটা জনহীন পানশালায় ঢুকলো।

    সুলিভ্যানরা পানশালায় ঢুকে দুটো উঁচু টুলের উপর বসল। দোকানের লোকটার মনে হল এরা সুবিধার লোক নয়। সে বলল, কি দেবো বুলুন।

    দুটো লেমনেড। লোকটা লেমনেড নিয়ে এসে তাদের দিলে ম্যাক্স বলল, আমরা এখানে নতুন লোক। শহরের খবর টবর কি আছে একটু শোনাও তত ভাই।

    এখন তো খুব গরম খবর আছে। এইমাত্র আমি একটা সংবাদপত্রের সাংবাদিকের কাছ থেকে জানলাম।

    কি রকম?

    গ্লেনভিউ মেন্টাল স্যানাটোরিয়াম থেকে এক পাগলী পালিয়ে গিয়েছিলো। তা এইমাত্র জানা গেল সে নাকি ষাট লাখ ডলারের মালিক।

    কিন্তু একটা পাগল মেয়েছেলের অত টাকা হল কি করে।

    সবকিছুই ও জন ব্লানডিশের কাছ থেকে পেয়েছে। ও হচ্ছে জন ব্লানডিশের নাতনী।

    তা মেয়েটাকে কি খুঁজে পাওয়া গেছে?

    না–আর তাই নিয়েই তো যত গোলমাল। মেয়েটার বাবার মাথায় গোলমাল ছিল। মেয়েটারও তাই। এখন চোদ্দ দিনের মধ্যে মেয়েটাকে খুঁজে বের করতে না পারলে, ওরা ওকে আর পাগলা গারদে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পারবে না। এই হচ্ছে এ দেশের আইন আর তাহলেই মেয়েটা ওর সব সম্পত্তি পেয়ে যাচ্ছে।

    ম্যাক্স জানতে চাইল যে মেয়েটা কেমন পাগল। দোকানী বলল মেয়েটা একটা ভয়ঙ্কর খুনী।

    আচ্ছা ধরো মেয়েটার সঙ্গে আমাদের দেখা হল আমরা ওকে কিভাবে চিনব।

    মেয়েটা দেখতে পীচ ফলের মতো সুন্দর। আর ওর কবজিতে একটা কাটা দাগ আছে।

    আচ্ছা বুঝলাম, এবার দেখলেই চিনতে পারবো।

    এরপর লেমনেডের পয়সা দিয়ে ফ্রাঙ্ক দোকানীকে জিজ্ঞেস করল আচ্ছা এখানে কাছেপিঠে কোথাও শেয়ালের খোয়ার আছে বলে জানো?

    নিশ্চয়ই জানি ওই যে ব্লু মাউন্টেন সামিটেই তো লারসনের সিলভার ফক্স ফার্ম।

    আসলে আমাদের আবার শিয়ালের ব্যাপারে খুব উৎসাহ। বলল ম্যাক্স।

    দোকানির মনে হল লোক দুটো মিথ্যে কথা বলছে ওদের দেখে মোটেই পশমের ব্যাপার বলে মনে হচ্ছে না।

    আচ্ছা লোকটা কি এখানে একাই থাকে নাকি?

    হ্যাঁ ব্যবসাটা ও একাই চালায়। তবে ইদানিং ওর সঙ্গে আরো একজন লোক জুটেছে।

    এই কথা শুনেই সুলিভ্যানদের মুখ শক্ত হয়ে উঠল। ওরা ওদের গাড়িতে চেপে বসল।

    এদিকে গাছের গায়ে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ফিল ম্যাগার্থ ওদের লক্ষ্য করে চিন্তান্বিত মুখে একবার নাকটা চুলকে নিলো।

    তারপর পানশালায় ঢুকে দোকানিকে বলল, একটা হুইস্কি দাও।

    দোকানি ওকে হুইস্কি দিয়ে বলল, ওই লোক দুটোকে আমি আপনার গল্পটা শোনাচ্ছিলাম। ওরা নাকি পশমের ব্যাপারী।

    ম্যাগার্থ বলল–তাই নাকি ওদের দেখে কিন্তু মনে হয় না। ওদের আমি আগেও দেখেছি। যখনই ওদের কোথাও দেখেছি সেখানেই কেউ না কেউ নিষ্ঠুরভাবে খুন হয়েছে।

    ঠিক বুঝতে পারছি না।

    সুলিভ্যান ব্রাদার্সের নাম শুনেছো?

    না।

    ওরা নাকি পেশাদার খুনে সেরকম কথা শোনা যায়।

    ওরা স্টিঙ লারসনের কথা জিজ্ঞেস করছিলো, জানতে চাইছিলো সে একা থাকে কিনা।

    স্টিঙ লারসন, মানে ব্লু মাউন্টেন সামিটের সেই শৃগাল পালক?

    হ্যাঁ লোকটা কিন্তু খুব ভাল। এক হপ্তা আগে ওর সঙ্গে একটা লোককে দেখছিলাম এদিক দিয়ে যাচ্ছে।

    অন্য একটা লোকের সঙ্গে?

    হ্যাঁ, আপনার কি মনে হয়?

    দেখা যাক কি খবর জোগাড় করতে পারি। শোনো এই খবরটা যেন ফাস না হয়।

    .

    স্টিঙ রয়ের চোখের রক্তপাত বন্ধ করে তাকে বলল আমি ক্যারলকে খুঁজতে যাচ্ছি, এইভাবে ওকে একা

    না–আমাকে ছেড়ে যেও না। তুমি বেরোলেই ও আমাকে শেষ করে ফেলবে। তুমি বাইরে যেও না ও তোমাকেও আক্রমণ করতে পারে।

    স্টিঙ বাইরে তাকাল। তার বাইরে বেরোনোর ইচ্ছে নেই কিন্তু ক্যারলকে এভাবে একা ছেড়ে দেওয়া যায় না। হঠাৎ তার মনে হল মাথায় আঘাত লেগে ক্যারলের মধ্যে খুনীর স্বভাব দেখা দিল কেন? এইসব ভেবে সে রয়ের হাতে পিস্তুলটা দিয়ে বলল, আমি কাছে পিঠে একটু খুঁজে আসি।

    না না তুমি যেয়ো না। আমি অন্ধ হয়ে গেছি। ও আমাকে খুন করে ফেলবে।

    স্টিঙ বলল, বাজে কথা বন্ধ করো। তোমার পাপের শাস্তি তুমি পেয়েছে।

    স্টিঙ টর্চটা তুলে নিয়ে বাইরের অঙ্গনে বেরিয়ে এলো। তারপর বাইরে ঘন অন্ধকারের দিকে তাকিয়ে রইল। মেয়েটার কোন চিহ্নও দেখতে পেল না।

    হঠাৎ আচমকা হ্রদের পাশে আলোড়ন শুনতে পেল। তার হৃৎপিণ্ডের কম্পন বেড়ে গেল। সে ভাবল বোধহয় ক্যারল।

    স্টিঙ চীৎকার করে বলল, ক্যারল তুমি কোথায়?

    আর একটু এগিয়ে যেতেই কালো অন্ধকার তাকে ছেয়ে ধরল। ইলেকট্রিক টর্চটা জ্বালতেই সরু পথটা আলোকিত হয়ে উঠেছে। এগুতে এগুতে মনে হল সে একা নেই কেউ তাকে লক্ষ্য করছে।

    সে আবার ডাকল, ক্যারল তুমি কি এখানে আছো? আমি স্টিঙ, তোমাকে খুঁজছি।

    সামনের একটা মরা ডাল নড়ে উঠল। সেদিকে টর্চের আলো ফেলতেই স্টিঙের নিঃশ্বাস বন্ধ হবার উপক্রম হল। সে দেখল কালো পোষাক পড়া একটা লোক হাতে ৪৫ রিভলবার নিয়ে তার দিকে তাকিয়ে আছে।

    ম্যাক্স মৃদুস্বরে বলল, লারসন এগিয়ে এসো। এর মধ্যে সে দেখতে পেল তার পেছনে আরও একটা কালো পোষাক পড়া লোক। তার মানে আরও একজোড়া কালো পোষাক পড়া কাক। তার মানে রয় যাদের কথা বলেছিল সেই সুলিভ্যানরা।

    স্টিঙ কোনরকমে বলল–কে তোমরা

    ম্যাক্স বলল–আমরা প্রশ্ন করব, তুমি না। ক্যারল কে?

    আমার বান্ধবী আমার সঙ্গেই থাকে।

    রয় কি ঘরেই আছে নাকি?

    স্টিঙ বুঝতে পারলো যে এক্ষেত্রে মিথ্যে বলে লাভ নেই। সে বলল, হ্যাঁ আছে।

    শুনে ম্যাক্স বলল ফ্রাঙ্ক তুমি এর দিকে নজর রাখো। আমি রয়ের ব্যাপারটা দেখছি।

    কিন্তু মেয়েটার কি করব?

    মেয়েটা যদি এখানে না আসে তাহলে কিছুই যাবে আসবে না। নেহাতই যদি এসে পড়ে তবে ওর বন্দোবস্তটাও করে ফেলতে হবে। বরঞ্চ তুমিও আমার সঙ্গে এসো।

    ম্যাক্স সামনের দিকে এগুতেই ফ্র্যাঙ্ক পিস্তলের নল দিয়ে স্টিঙকে খোঁচা মেরে বলল, এগিয়ে চল, আর বেশি চালাকির চেষ্টা করলে শুধু শুধু জানাই খোয়াবে।

    স্টিঙ এগিয়ে চলল। সে বুঝতে পেরেছিল যে রয়কে শেষ করে ওরা তাকেও শেষ করে দেবে। কিন্তু নিজের থেকেও সে ক্যারলের জন্য বেশি চিন্তান্বিত হয়ে উঠল। সে বলল যে, আমরা তোমাদের কোন ক্ষতি করছি না। আমাদের ছেড়ে দাও।

    ম্যাক্স বলল, তোমাদের নিয়ে আমার মোটেই কোন চিন্তা নেই। আমরা রয়কে খুঁজছি।

    ম্যাক্স ইতিমধ্যে জানলা দিয়ে দেখেছিল যে রয় পিস্তল আঁকড়ে ধরে বিছানায় শুয়ে আছে।

    রয় চরম উৎকর্ণ হয়ে শুয়েছিল। তার মনে সুলিভ্যানদের কথা একবারও আসে নি। সে শুধু ভাবছিল ক্যারল ফিরে এসে তাকে ধরে ফেলবে।

    ম্যাক্স নিঃশব্দে ঘরে ঢুকে রয়ের হাতের পিস্তলের দিকে তাকিয়ে তিক্ত হাসি হাসল। তারপর রয় যখন বিছানাতে রিভলভারটা রেখে নিজের মাথা টিপতে লাগল ম্যাক্স রিভলভারটা তুলে নিয়ে নিজের পকেটে গুঁজে রাখল।

    একটু পরেই রয় পিস্তলটা নেওয়ার জন্য খাটের মধ্যে হাতড়াতে শুরু করল। সেখানেনা পেয়ে তার মুখে অস্বস্তি ও আতঙ্ক ফুটে উঠল। সে বিড়বিড় করে বলল নিশ্চয়ই নীচে পড়ে গেছে। এই ভেবে সে বিছানায় উবু হয়ে বসে কার্পেটে হাতরাতে লাগল। একটু পরেই একটা ছুঁচোলো জুতোর প্রান্ত তার হাতে লাগল। তারপর প্যান্ট ছুঁয়ে উপরে উঠল সে বুঝল যে তার সামনে কেউ বসে আছে। সে চীৎকার করে বলল, কে কে ওখানে।

    ম্যাক্স মৃদুভাবে বলল–সুলিভ্যানরা।

    রয় চীৎকার করে উঠল, স্টিঙ তাড়াতাড়ি এসে আমাকে বাঁচাও।

    ম্যাক্স বলল–কোন লাভ নেই, ফ্রাঙ্ক ওর দিকেনজর রাখছে। ও কিছু সাহায্য করতে পারবেনা।

    রয় বলল, আমি অন্ধ। একটা অন্ধ মানুষকে নিশ্চই তোমরা খুন করবে না।

    ম্যাক্স বলল, বিশ্বাস করি না। এই বলে রয়ের ব্যান্ডেজ টান মেরে খুলে ফেললো।

    রয় আর্তনাদ করে উঠল। রয়ের বিধ্বস্ত চোখের দিকে তাকিয়ে ম্যাক্স বুঝল রয়ের কথা সত্যি সে ফ্র্যাঙ্ককে ডেকে বলল, এদিকে এসে বদমাইশটার থোবরা দেখে যাও। কে ওর চোখ দুটো একদম খুবলে নিয়েছে।

    ম্যাক্স বলল, তোমার এমন হল কিভাবে?

    ওই খ্যাপা মেয়েটা এরকম করেছে। ওর নাম ক্যারল আমরা ওকে পাহাড়ের গায়ে পেয়েছিলাম।

    মেয়েটা কেমন দেখতে।

    ওর মাথায় লাল চুল।

    ও বুঝতে পেরেছি। তারপর ফ্র্যাঙ্ককে বলল ফ্র্যাঙ্ক আমাদের কপালটা খুব ভাল। ষাট লাখ ডলারের মালকিন লাল চুলের পাগলীটাও এখানেই আছে।

    তখন ফ্র্যাঙ্ক স্টিঙকে বলল–কি দোস্ত, বলতো মেয়েটাকে কোথায় লুকিয়ে রেখেছে।

    ও পালিয়ে গেছে। তখন আমি ওকেই খুঁজছিলাম।

    ওকে তো আমাদের খুঁজে বের করতে হবে। তাহলে ষাট লাখ ডলার পাবো।

    কিন্তু ম্যাক্স রয়ের কি করবে?

    হা ওকে ধীরে সুস্থে খতম করতে হবে। লিটল বার্নিরও সেরকম ইচ্ছে ছিল।

    ওকে জলে চুবিয়ে দিলেই তো হয়।

    না ওকে জলে চুবিয়ে মারতে গেলে আমার সর্দি লেগে যাবে। মনে নেই একবার একটা লোককে জলে চুবিয়ে মারতে গিয়ে আমার ঠাণ্ডা লেগে জ্বর হয়ে গেল।

    এ ব্যাটাদের খতম করে আমরা কয়েকটা দিন এখানে থাকবো বুঝলে ফ্যাঙ্ক। জায়গাটা আমার বেশ ভাল লেগেছে।

    তাই ভাবছি ওকে নিয়ে একটু অগ্ন্যুৎসব করব।

    তাই ভাল তাহলে ওকে মেরে লাসটা গুম করার জন্য আর আমাদের কবরও খুঁড়তে হবে না।

    ঠিক সেই মুহূর্তে রয় রেলিং টপকে পাগলের মতো ছুটতে লাগল।

    ও ভাবছে ও পালাবে? এই বলে ফ্র্যাঙ্ক মুচকি হাসলো। তারপর রয়কে লক্ষ্য করে একটা গুলি ছুড়ল। গুলিটা রয়ের পায়ে লাগল ও ছিটকে পড়ে গেল।

    এরপর ম্যাক্স প্যাকার্ড গাড়ি থেকে একটা পেট্রোলের টিন বার করে এনে রয়ের গায়ে উজার করে পেট্রল দিয়ে আগুন লাগিয়ে দিল।রয় পুড়তে থাকলে তার দিকে তাকিয়ে বলল লিটল বার্নি বলেছিল তুমি নরকে গিয়ে পচো। এই তার ইচ্ছা।

    .

    আচমকা এক তীব্র আওয়াজে ক্যারল যেন স্বপ্নের পৃথিবী থেকে বাস্তবে ফিরে এলো। প্রথমে তার মনে হল সে যেন স্বপ্নে পাইন বনে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তার অনেক স্বপ্নের কথা মনে পড়ছিল, অসংখ্য মানুষের মুখ কিন্তু কোনও কিছুই স্পষ্ট নয়। সবই আবছা।

    ক্যারল ভেবে পাচ্ছিল না কেন ও পাইনের জঙ্গলে বেড়াতে এসেছিল। তার মনে হল হয়তো স্টিও তার জন্য চিন্তিত হয়ে তাকে খুঁজছে। এরপরেই সে দেখলো যে সে অর্ধনগ্ন। সে তার জামাটা খুঁজতে চেষ্টা করল। স্টিঙের কথা মনে উঠতেই তার মনে একটা কোমল অনুভূতির জন্ম নিল।

    ক্যারল একটু এগোতেই সুলিভ্যানদের দেখতে পেল। চাঁদের আলোয় তাদের তীক্ষ্ণ দেহরেখাগুলো দেখে সে চমকে উঠল। সে তার নগ্ন বুক আড়াল করে তাদের পেছনে দাঁড়িয়ে ওদের লক্ষ্য করতে লাগল। ওরা যদি স্টিঙের কোন ক্ষতি করে থাকে সেই ভয়ে ও বিচলিত হয়ে উঠল।

    একছুটে ক্যারল ঘরে ঢুকে গেল। দেখলোরয়ের অর্ধদগ্ধ দেহাবশেষ পড়ে রয়েছে। কিন্তু ক্যারল স্টিঙের চিন্তায়-মগ্ন। অবশেষে দেখল মেঝের উপর স্টিঙ হাত পা বাঁধা অবস্থায় পড়ে আছে। স্টিঙ ক্যারলের অপূর্ব দেহ সৌন্দর্য দেখল আর ওর মনে অনুভূতি হল যে ও ক্যারলকে ভালবাসে। আর কোনও মেয়েকে ওর পক্ষে ভালবাসা সম্ভব নয়। সে বলল, ক্যারল সোনা শীগগির আমার বাঁধন খুলে দাও। ক্যারল তার সামনে হাঁটু গেড়ে বসে তার বাঁধন খুলে দিল।

    এরপর ক্যারল ঘরে গিয়ে স্টিঙের একটা জামা পড়ে নিল। তারপর স্টিঙকে জড়িয়ে ধরে বলল স্টিঙ আমি তোমাকে ভালবাসি। তোমাকে ছাড়া আমি বাঁচব না।

    আমিও তোমায় প্রথম থেকেই ভালবেসেছি। কিন্তু? এখন আর আমাদের দেরী করা চলবে না। আমাদের পালাতে হবে।ওদের গাড়িটায় আমাদের উঠতে হবে। অন্ধকার দিয়ে দৌড়ে চলল।

    ওরা সিঁড়ি টপকে এক ছুটে সামনের উঠোনটুকু পেরিয়ে ঢাউস প্যাকার্ড গাড়িটার দিকে এগিয়ে চলল।

    ঠিক তখনই জঙ্গল থেকে বেরিয়ে সুলিভ্যানরা ওদের দেখতে পেল। স্টিঙ বলল, ক্যারল তুমি গিয়ে আগে গাড়ির ইঞ্জিনটা চালু করো। আমি ওদের ঠেকাচ্ছি।

    এর মধ্যে ক্যারল গাড়ির ইঞ্জিন চালু করে দিয়েছে। স্টিঙ দৌড়ে–গাড়িতে উঠতে গেল। কিন্তু ম্যাক্স গুলি করল। স্টিঙ গাড়ির দরজার সামনে টলতে টলতে গিয়ে বলল, ক্যারল আমার গায়ে গুলি লেগেছে। ক্যারল কোনও মতে স্টিঙের শরীরটা গাড়িতে তুলে গাড়ি স্টার্ট করে দিল।

    ম্যাক্স আবার রিভলবার ছুঁড়তে গেলে ফ্র্যাঙ্ক তাকে থামিয়ে বলল, গুলি ছুঁড়ো না। যদি মেয়েটার গায়ে লাগে ওর দাম ষাট লাখ ডলার।

    কিন্তু পালিয়ে যাচ্ছে যে।

    ফ্র্যাঙ্ক বলল তাতে কি আছে আমরা আবার ওকে খুঁজে বের করব। মেয়েটা আর মেয়েটার টাকার জন্য সেটুকু ঝামেলা মানতেই হবে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91 92 93 94 95 96 97 98 99 100 101 102
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleব্ল্যাক অর্ডার (সিগমা ফোর্স – ৩) – জেমস রোলিন্স
    Next Article জেমস হেডলি চেজ রচনা সমগ্র ২ (অনুবাদ : পৃথ্বীরাজ সেন)

    Related Articles

    জেমস হেডলি চেজ

    জেমস হেডলি চেজ রচনা সমগ্র ২ (অনুবাদ : পৃথ্বীরাজ সেন)

    August 18, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }