Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    জেমস হেডলি চেজ রচনা সমগ্র ১ (অনুবাদ : পৃথ্বীরাজ সেন)

    জেমস হেডলি চেজ এক পাতা গল্প2631 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ২. ট্রে-তে করে ব্রেকফাস্ট

    ০৩.

    বেয়ারা সকাল সাতটার একটু পরে ট্রে-তে করে ব্রেকফাস্ট এনেছিল হেলগার জন্য। মুখ আঁটা খাম, ট্রের একপাশে। হেলগা সবকিছু ফেলে খুললো খামটা। লেখা আছে? অন্য কোনো খবর তোমার কাছ থেকে না পেলে তোমার ঘরে আমি কি রাত সাড়ে আটটায় যাবো? মন কেমন করছে তোমার সঙ্গ এবং তোমার সৌন্দর্য দুটোর জন্যই। ক্রিস।

    সমগ্র সত্তা যেন হেলগার আনন্দে নেচে উঠলো। কফি খেতে খেতে সে সেই আনন্দ সাগরে ডুব দিল। আজ রাতে, এতদিন পরে।

    তবে পুরো ব্যাপারটা এবারে রাখতে হবে নিজের মুঠোর মধ্যে। ঐসব রাস্তার ধারের ছোটখাটো হোটেলে চলবে না যাওয়া। এই ঘরে বসে ওরা দুজনে খাবে, তারপর…।

    প্রস্তুতি চললো সারাদিন। হোটেলে নিজের ঘরে খাবার বন্দোবস্ত হবে, থাকবে না ওয়েটার, কথাবার্তা নয় আজেবাজে, তারপর ক্রিসকে নিয়ে এক…টেলিফোন এল। ওঁরা আবার ভার্সাই যাচ্ছেন, উইনবর্গ জানালেন। যদি সঙ্গে হেলগা যায় তাহলে ভাল হয়।

    ওসব ভালমন্দে এখন মাথা ঘামাবার সময় নেই হেলগার। এখন বসন্ত এসেছে প্যারিসে। ওদের মাথা ব্যথার অজুহাত দেখিয়ে কাটিয়ে দিল।

    তিনটের সময় হোটেলের হেয়ার ড্রেসারকে আসতে বললো। তারপর হেলগা স্নান সারতে গেল সুগন্ধি জলে। আজ রাতে…বিভোর সুখ চিন্তায়, ক্রিস ওকে জড়িয়ে ধরেছে আলতো ভাবে ও কল্পনা করতে লাগলো নরম ওর ঠোঁট জোড়া…নাঃ, হেলগা আর ভাবতে পারছে না।

    স্নান সেরে হোটেলের ম্যানেজারকে ডেকে পাঠালো। দেখুন দুজনের জন্য রাতে আমি ডিনার চাই। আমার ঘরে। আর বন্দোবস্ত এমনভাবে করতে হবে যাতে আমরা নিজেরাই পরিবেশন করে নিতে পারি। খাবার চাই স্পেশাল। কি বলেন আপনি?

    আপনার রুচির ওপর সবটাই নির্ভর করবে মাদাম। যদি একটু আভাস দেন, মাছ, মাংস, মুরগী?

    হেলগার এসব খাবার ভাল লাগে না, আমি ওসব জানি না। কিছু স্পেশাল করুন। আর সেরা জিনিস একেবারে হওয়া চাই।

    মাদাম নিশ্চয়ই হবে। আমি বলি কি এক ধরণের রোস্ট চিংড়ি মাছের সঙ্গে নয়সেৎ দ্য-ভ অ-মরিলে থাকবে থাকবে চীজও, আর সরবৎ শ্যাম্পেন। আমাদের হোটেলের নিজস্ব বিশেষত্ব নয়সেৎ দ্য-ভ। আমরা ওটা হটপ্লেটের ওপর বসিয়ে রেখে যাবো। দরকার হবে না ওয়েটারের।

    মাথা নেড়ে হেলগা সায় দিল, এটাই সবচেয়ে ভাল হবে আপনার মতে?

    মাদাম নিশ্চিন্ত থাকুন। হতাশ হবেন না আপনি। শুধু শ্যাম্পেন, আর অন্য কোন মদ নয়।

    তাহলে রাত আটটায়…। তাই রইলো ঠিক।

    আর্চার আর গ্রেনভিল ওপশে একটা হোটেলে শলাপরামর্শে ব্যস্ত। গ্রেনভিল বললো, চরম মুহূর্ত কিন্তু আজকেই, শুতে হবে হেলগার সাথে…আরও পাঁচ হাজার খসিয়েছি প্যাটারসনের কাছ থেকে। শেয়ারটা তোমার নিয়ে যাও।

    হাজার ফ্রাঁ পকেটস্থ করলো আর্চার। টাকার ভীষণ দরকার।

    গ্রেনভিল বললো, প্যাটারসনের কাগজপত্র সব পড়েছি। ঘটে যার এতটুকু বুদ্ধি আছে সে দেবে না একটা আধলাও।

    আর্চার বলল, ঠিক তা নয়। মন্দ নয় স্কীমটা। তবে কৃরা বড় মুশকিল। একটা জুয়া খেলা এটা। তবে এ টোপ হেলগা গিলবে বলে মনে হয় না। মেয়েমানুষ দারুণ ধূর্ত। শোন এখন কি করতে হবে….

    আর্চার পাখি পড়ার মত করে আধঘণ্টা ধরে গ্রেনভিলকে কি করতে হবে, কি ভাবে এগোতে হবে, বুঝিয়ে দিল সব।

    গ্রেনভিল বললো, বুঝলাম সবই। ওই মতো এগোলামও। কিন্তু ধরা ও যদি তারপর রাজি না হয়। তুমি কি অন্য কিছু ভেবে রেখেছো?

    ভেবে রেখেছি। তবে এখন হবে না আলোচনা। ওকে নিয়ে শুতে পারাটাই বড় কথা। ও যদি একবার বিছানায় যায় তোমার সঙ্গে, তাহলে ও তোমার, আর্চার বললো একটু হেসে।

    বাবুর্চি এসে রাত আটটার সময় টেবিল সাজিয়ে দিল। একটা ট্রলির ওপর হট্টপ্লেটে সাজানো খাবার। বরফের দুটো ককেট, তাতে শ্যাম্পেনের বোতল। হেলগা সুন্দর একটা পোষাক পরেছে, সোনার গয়না সামান্য, সে অপরূপা হয়ে উঠেছে।

    ম্যানেজার শেষবারের মত এসে সব দেখে শুনে গেল, ঠিক আছে সব।

    হেলগা অস্থির হয়ে ঘরের মধ্যে পায়চারি করছিল। ক্রমশঃকটা এগিয়ে চলেছে সাড়ে আটটার, দিকে। কাঁটায় কাঁটায় সাড়ে আটটা, টোকা পড়লো দরজায়। হেলগা উত্তেজনা চেপে ধীরে ধীরে। গিয়ে দরজা খুললো।

    গ্রেনভিল নিখুঁত ছাঁটের একটা গাঢ় রঙের স্যুট পরেছে। সেই ওল্ড ইটেনের টাই। হেলগার হাত আলতোভাবে ঠোঁটে চুঁইয়ে গ্রেনভিল বললো, তোমাকে কি চমৎকার দেখতে লাগছে। মনে হচ্ছে যেন কত যুগ পরে দেখা হচ্ছে, তারপর ঘরের ভেতরে এসে খাবার টেবিলে নজর পড়তেই বললো, কিন্তু হেলগা, তোমাকে তো নিয়ে আমি…

    আজ রাতে নয়, নিঃশ্বাস চেপে হেলগা বললো, আজ আমার পালা।এসোড্রিঙ্ক করা যাক একটু।..ভোদকা মার্তিনি খাবো আমি।

    ওটা খুব পছন্দ হয় আমার। একটা চেয়ারে হাতের ব্রীফকেসটা রেখে গ্রেনভিল মদ মেশাতে লাগলো। কিছু কেনাকাটা করেছ?

    না, জমিটমি দেখেই দুটো বুড়োর সঙ্গে সময় কেটে গেছে? তোমার?

    হেসে গ্রেনভিল জানালো, তারও বিশ্রী লেগেছেনীরস কাজে। সামনে মদের গ্লাস এনে একটা চেয়ার টেনে গ্রেনভিল বসলো হেলগার পাশে।

    কি খাচ্ছি আজ আমরা?

    হেলগা গ্লাসে চুমুক দিয়ে খুশি হয়ে বললো, দারুণ হয়েছে, ঠিক হিঙ্কল যেমনটি করে।

    হিঙ্কল? কে সে?

    আমার যে বাড়ি আছে ফ্লোরিডাতে, ওখানে থাকে, আমার আর ব্যক্তিগত সব কাজকর্ম দেখাশোনা করে, বলতে গেলে ও আমার এক ধরণের গার্জেনও বটে। ওর মত বিশ্বাসী লোক আর হয় না। আর ওমলেট তৈরী করে অপূর্ব।

    বিশ্বাসী হোক আর যাই হোক গ্রেনভিল চাকর বাকর সম্বন্ধে মাথা ঘামাতে চায় না, কিন্তু আমাকে তো তা বললে না কি খাওয়াচ্ছ?

    মনে হচ্ছে তোমার ক্ষিদে পেয়েছে দারুণ?

    মন মাতানো সেই হাসি হেসে গ্রেনভিল বললো, পেয়েছে। নীস থেকে এইমাত্র ফিরেছি। একেবারে অখাদ্য খাবার দিয়েছিল প্লেনে। ফলে বলতে গেলে সারাদিন খাওয়াই হয়নি।

    আসলে সে মোটামুটি খানিকটা খেয়েই নিয়েছিল, তবে মন জয় করা মেয়েদের এই সস্তা পথটায় হেঁটে নিল একটু। নীস? আমার দারুণ ভাল লাগে দক্ষিণ ফ্রান্স, চলো যাওয়া যাক।

    যখন গ্রেনভিল চিংড়ি মাছের খাবারটা দিচ্ছিল, তাকে মুগ্ধ নয়নে লক্ষ্য করে হেলগা ভাবছিল, মানুষটা এত সুন্দর, শয্যাসঙ্গী হিসেবে কত না আরো সুন্দর হবে। আমার জীবনে এমন পুরুষ দ্বিতীয়বার কখনো আসেনি। মুখে খাবার দিয়ে সে বললো, কিছু বলল নীস সম্বন্ধে।

    হেলগা, সত্যি কথা বলতে কি, তোমার একটু উপদেশ আমি চাই। দু একদিনের ভেতর হয়ত সৌদি আরবে যেতে হবে আমাকে, আর আমার যাবার একটুও ইচ্ছে নেই।

    হেলগা দারুণ শক্ পেল কথাটা শুনে সৌদি আরব? কেন? একটিই চিন্তা ওর মাথায়, ঠিক মতো পাইনি এখনো, চলে যাবে তার আগেই।

    ব্যাপারটা অনেক গোলমেলে, যদি শোনো ধৈর্য ধরে তো বলি।মুখে চিংড়ি মাছটা পুরে বললো, খেতে কিন্তু দারুণ, নেবে আরও একটু।

    মাথা নেড়ে হেলগা বললো, বল সৌদি আরবের ব্যাপারটা।

    বাজে একটা কাজ এটা। বোঝাবার জন্য তোমাকে একটু আগেকার কথা বলে নিচ্ছি। আমার একটা বাড়ি আছে ইংল্যান্ডে, বাবার তৈরী, যেটুকু আয় হয় ওখান থেকে তাতে বেশ চলে যেত আগে, ঠিকমত চলছে না আজকাল। ফলে আমায় করতে হচ্ছে এই সব বাজে কাজ। একটা আমেরিকান আছে, সে সম্পত্তি কিনে ব্যবসা-ট্যাবসা করে। তার মাথায় এখন ঢুকেছে ইউরোপের ভাল ভাল জায়গায় তৈরী করবে হলিডে ক্যাম্প। দরকার টাকার জোগাড় করতে হবে, কিছু এখানকার বড়লোকের কাছে গিয়েছিলা ইন্টারেস্ট নেই ওদের। এখন ধারণা হয়েছে ওর টাকা আনা যাবে সৌদি আরবের হাঁদা বড়লোকগুলোর কাছ থেকে। ওখানে যাবার খরচপত্র আমায় দেবে। বলেছে মোটা ফী দেবে। মনে হচ্ছে যেতেই হবে।

    খাবারটা হটপ্লেটের ওপর থেকে নামিয়ে নিয়ে এল গ্রেনভিল। খুব ভাল লাগছে এই নিজে নিয়ে খাওয়ার আইডিয়াটা।

    এসব কথা হেলগার কানে ঢুকছিল না। আর মাত্র পাঁচ দিন আছে এখানে, ফিরতে হবে তারপরেই প্যারাডাইস সিটিতে। গ্রেনভিল ওকে ফেলে রেখে সৌদি আরবে চলে যাবে, না। হয় না, হতে পারে না।

    হেলগা জোর করে হাসলো, তোমার এই স্কীমটা সম্বন্ধে আমাকে বল ক্রিস।

    ঠুকরোচ্ছে…বুঝে ফেলেছে গ্রেনভিল, তবে এমন ভাব দেখালো বাইরে যেন এ ব্যাপারে কোন আগ্রহই তার নেই। এসব কথা বাদ দাও, তোমার ভাল লাগবে না ওসব..বরঞ্চ মন ভরে দারুণ খাবারটা খাওয়া যাক.. ।

    আমি জানতে চাই এটা কি ব্যাপার? হেলগা হঠাৎ তীব্র হয়ে উঠলো, একটু চমকে উঠে গ্রেনভিল বললো, ঠিক আছে বলবো, তবে পরে। আমার কাছেই আছে সব কাগজপত্র। গ্রেনভিল চেয়ারের ওপর রাখা ব্রীফকেসটা দেখিয়ে বললো।

    খুব সাবধানে হেলগার সঙ্গে বারবার এগোতে বলেছিল আর্চার। কিন্তু একটু মাত্রাতিরিক্ত আগ্রহ দেখানোর ফলে সে বেশি আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠল।

    গ্রেনভিলের ঐ আত্মতৃপ্তির হাসি দেখে বিপদ সংকেতের লাল আলোটা হেলগার মনের অন্তঃস্থলে দপ করে জ্বলে উঠলো। বলে দিয়েছিল আর্চার গ্রেনভিলকে যে দারুণ ধূর্ত হেলগা, বোস একটু কাজ করলেই জুয়াচুরীর ব্যাপারটা ও ধরে ফেলবে। গ্রেনভিল ধনী নির্বোধ মহিলাদের সঙ্গে মিশে মিশে সব মেয়েদের এক শ্রেণীর মনে করে ভুল করলো।

    নিজেকে হেলগা প্রশ্ন করলো, এটা কি প্রাথমিক পদক্ষেপ, লোক ঠকানোর ফাঁদ পাতার? অপন মনে গ্রেনভিলকে খেতে দেখে হেলগা ভাবলো ঠিক নয় এত বেশি সন্দেহপরায়ণ হওয়া। অথচ জ্বলেই রইলো লাল আলোটা। ও চায় এই পুরুষটিকে। ভালবেসেছে মনের মানুষ হিসেবে। কিন্তু যদি জোচ্চোর হয়?

    হেলগা মনে মনে হিসেব করে এমনি বললো, নীসে কী এই জায়গাটা?

    না ভ্যালাউরিসে। জায়গাটা দারুণ সুন্দর, চমৎকার প্রাকৃতিক দৃশ্যও।

    জমি আছে কত হেক্টর? সেটা জানে না গ্রেনভিল, বললো, সব কিছু লেখা আছে কাগজপত্র প্ল্যানে। কিন্তু ও সব কথায় মাথা না ঘামিয়ে এসো আনন্দ করে খাওয়াটা সারি। ভাবতেই পারি নি আমি এখানে রান্না হয় এত ভাল। আর একটা নেবে নাকি?

    না আর নয়, ধন্যবাদ। বুঝতে পারলো গ্রেনভিল তাকে খুঁটিয়ে হেলগা বিচার করছে। ওর নীল চোখ বিদ্ধ করতে চাইছে খুব অস্বস্তিকরভাবে গ্রেনভিলকে।হেলগা এতোটা সিরিয়াস তুমি হয়ো না, আমি তো আগেই বলেছি তোমার ভাল লাগবে না এসব প্ল্যান। আর জানি এও একটা আধলা দেবে না সৌদি আরবের তৈল সম্রাটরাও।

    হেলগা এসব কথার ধারে কাছে গেল না, সরাসরি প্রায় রুক্ষ্ম স্বরে প্রশ্ন করলো, তুমি কাজ করছ কার হয়ে, কে সেই আমেরিকান ভদ্রলোকটি? কি নাম?

    একটু ইতস্ততঃ করলো গ্রেনভিল, ওর নাম?…জো প্যাটারসন, এই হোটেলেই থাকে লোকটা।

    মোটা, বেঁটে, মুখে বসন্তের দাগ।

    গ্রেনভিল হাঁ হয়ে গেল হেলগার এই প্রশ্নটা শুনে, হ্যাঁ, ঠিক বলেছ। বাজে লোক, তাই না?

    ওকে দেখেছি আমি। কত টাকা চায় এই হলিডে ক্যাম্প তৈরি করার জন্যে?

    বুঝতে পারছিল গ্রেনভিল, তার আয়ত্তের বাইরে চলে গেছে পরিস্থিতি ক্রমশঃ। দুঃশ্চিন্তা তার বাড়তে লাগলো হেলগা সম্বন্ধে।

    হেসে বললো গ্লেনভিল, চাইছে বিশ লাখ ডলার। ওই টাকাতে ওর ধারণা জমি কেনা আর তৈরী হয়ে যাবে ক্যাম্প। কিন্তু কোনো সুস্থ মস্তিষ্কের লোকই টাকা খাটাবে না এতে। তবে এতে যে কিছু লাভ হবে, আমার সে বিষয়ে সন্দেহ নেই। কমিশন পাবো দু পারসেন্ট। মন্দ কি।

    আবার দপদপ করে উঠলো সেই লাল আলোটা। হ্যাঁ, তোমার এত আগ্রহ কেন এখন বুঝতে পারছি। হেলগা চুমুক দিল শ্যাম্পেনে।

    আর এটা হবে না জানি। তবে সৌদি আরব মাঝখান থেকে ঘোরা হবে। লাভ এটুকুই। কখনো যাইনি আগে।

    জানাশোনা কেউ আছে ওখানে?আবার অনুসন্ধানী সেই দৃষ্টি আর তীক্ষ্ণ কণ্ঠস্বরে গ্রেনভিল চমকে উঠলো।

    সে সব মিঃ প্যাটারসনই ঠিক করবে বলে মনে হয়।

    আর খাবো না বলে হেলগা হাত গুটালো, কিন্তু গ্রেনভিল ওর খাওয়া খেয়ে চললো। একটা সিগারেট হেলগা ধরিয়ে আয়েস করে বসে বললো, হলিডে ক্যাম্প? মন্দ হয় না টাকা খাটালে। বিশ লাখ? তাই তো বললে, টাকা যদি কেউ দেয় মিঃ প্যাটারসনকে, তবে দেবে কি শর্তে?

    মুখের খাবারটা পেটে চালিয়ে গ্রেনভিল বললো, শতকরা পাঁচিশ ভাগ সুদ দেবে।

    মনে হচ্ছে যথেষ্ট। এর চেয়ে ব্যাঙ্ক অনেক কম দেয়।

    এসব ভাল লাগছিল না গ্রেনভিলের, তার মন খাওয়ার দিকে।

    আমি অতো জানি না।

    একটা কথা, কার কন্ট্রোলে ব্যবসাটা থাকবে?

    ওটা যতদূর জানি মিঃ প্যাটারসনের হাতেই থাকবে। এ নিয়ে তবে এত মাথা কেন তুমি ঘামাচ্ছো? এসব ব্যাপারে তুমি আদৌ থাকবে না।

    হেলগা চুপ করে থাকলে অনেকক্ষণ, আর এই নৈঃশব্দ গ্রেনভিলকে অস্বস্তির মধ্যে ফেললো।

    দেখো হেলগা… হেলগা বিরক্ত হয়ে থামিয়ে দিয়ে ওকে বললো, যা খাচ্ছো, খাও ভাল  করে। একটা কথা আমি চিন্তা করছি, ইস্পাতের কাঠিন্য ওর কণ্ঠস্বরে। গ্রেনভিলের ক্ষিদে উবে গেল। চীজ আর সরবতের কথা হেলগা বললো। আর কফি চাইলে নিজের জন্যে।

    দুজনে দু পেয়ালা কফি নিয়ে বসলো। একটা পরিবর্তন এসেছে হেলগার মধ্যে, সেটা বুঝতে পেরে গ্রেনভিল ক্রমশঃ হতাশ হয়ে উঠেছে। বহুদূরের মানুষ যেন হেলগা, নাগালের বাইরে।

    ক্রিস আমায় কাগজপত্রগুলো দাও তো।

    দেহের আকর্ষণে প্রায় চল্লিশ মিনিট হেলগা জর্জরিত হচ্ছিল। চিন্তা করছিল সারাদিন কিভাবে অন্তরঙ্গ করে দুজনে দুজনকে পাবে। কিন্তু ও বুঝতে পেরেছে এখন ওকে ঠকাবার জন্যে জাল পাতা হচ্ছে। তার আর প্রেম নেই গ্রেনভিলের প্রতি।

    আর আর্চার একথা বলে দিয়েছিল বার বার গ্রেনভিলকে, এসব নিয়ে তুমি সত্যি সত্যি চিন্তা করতে চাও নাকি। মরিয়া হয়ে গ্রেনভিল প্রশ্ন করলো, পরিস্থিতির লাগাম বুঝতে পারছিল, ও এখন হাতের মুঠোয় চলে গেছে হেলগার।

    ক্রিস কাগজপত্রগুলো দিতে বলেছি, আবার তার কণ্ঠস্বরে সেই ইস্পাতের কাঠিন্য।

    যেন বিব্রত হয়েছে একটু এমন ভাব দেখিয়ে ব্রীফকেস খুলে ঠাণ্ডা মাথায় রঙীন ছাপা কাগজপত্র হেলগার হাতে তুলে দিল।

    একটু ব্র্যান্ডি নাও তুমি…কিছু দিতে হবে না আমাকে, হেলগা বললো। গম্ভীরমুখে চেয়ারে হেলান দিয়ে কাগজপত্র, প্ল্যান দেখতে সব শুরু করলো খুঁটিয়ে, বুঝতে পারলো গ্রেনভিল তার আর করার নেই কিছু। কিন্তু সে হাল ছাড়ার লোক নয়।

    শেষ হল পড়া। হেলগা তীক্ষ্ণ বুদ্ধি দিয়ে বুঝে নিয়েছিল প্ল্যানটাই পুরো বাজে। কিন্তু তার চাই এই লোকটাকে এবং চাই সম্পূর্ণ মুঠোর মধ্যে। তাই বললো মুখে, মনে তো হচ্ছে মন্দ হবে না কাজটা। বেশ কিছু টাকা আছে আমার, টাকাটা খাটালে..আচ্ছা মিঃ প্যাটারসন কি সত্যিই দিতে রাজি পঁচিশ পারসেন্ট?…হা খারাপ কি?

    বোকার মত তাকিয়ে রইলো গ্রেনভিল। কি একটা বলতে গিয়ে হেলগার কাছে বাধা পেল।  দেখো বিশ লাখ ডলার আমার কাছে কিছু নয়। আর যদি তুমি দুপারসেন্ট পাও তো, ভাল হয় আরও। এক কাজ করা যাক, ঘুরে আসি ভ্যালাউরিস। বেড়ানোও হবে, দেখাও হবে জায়গাটা। ওখানে উঠবো কার্লটন হোটেলে, আমার চেনা জায়গা। তুমি মিঃ প্যাটারসনকে হ্যাঁ বলে দাও, তবে সবকিছু তার দেখে শুনে নিই। রাত সাড়ে এগারোটা মিনিটের প্লেনে যাবো, আজ নয় কাল রাতে। কি বলো তুমি?

    গ্রেনভিল মাথা নাড়লো সম্মোহিতের মত।

    তবেকথা রইলো তাই। আজ আমি বড় ক্লান্ত, কাল রাত সাতটার সময় দেখা হবে হোটেলের লাউঞ্জে।

    ওকে যে প্রায় হেলগা তাড়িয়ে দিচ্ছে এটা বুঝতে পেরে গ্রেনভিল হতাশ হলো। গ্রেনভিল নিজেকে আরও অসহায় বোধ করতে লাগলোকাগজপত্রগুলো রেখে দেওয়াতে। অথচ কোন কিছু করার নেই। এই তার গিগোলা জীবনে প্রথম পরাজয়, ধরা পড়ে গেছে নিজেই।

    আর্চারকে ঘরে ফিরে সব খুঁটিনাটি কথা জানালো। আর্চার দীর্ঘশ্বাস ফেলে সব শোনার পর বললো, বলেই ছিলাম ওকে বোকা বানানো সহজ নয়। সব ডুবিয়েছ নিজেই।

    কিন্তু ওর সঙ্গে আমি যে কাল যাচ্ছি। জোচ্চোর আমাকে বুঝতে পেরে থাকলে কেন নিয়ে যাবে?

    এখনও তুমি হেলগাকে চেনোনি, ঠেকে শিখবে। এবার শোনো, তোমার শরীরটাকে ও ভালোবেসেছে। যা বলে মেনে চলো শান্ত ভাবে। একটা আইডিয়া দানা বাঁধছে আমার মাথায়।

    আর্চার, বলল না কি আইডিয়া।

    অধৈর্য বেশি হতে মানা করে উপদেশ দিল আর্চার, গ্রেনভিল যেন নিজেকে বেশি চালাক না মনে করে।…ধূর্ত হেলগা, তবে কম আমিও যাই না।

    গ্রেনভিল ক্যান শহরের কার্লটন হোটেলের ব্যালকনীতে দাঁড়িয়ে আত্মবিশ্লেষণ করছিল। মেয়েদের নিয়ে এই প্রথম খেলার বদলে নিজেই সে একৗ য়ের হাতের পুতুল হয়ে উঠেছে। অথচ, প্যাটারসনকে গত রাতে বলতেই লাফিয়ে উঠেছিল, ভ্যালাউরিসে জমি দেখতে যেতে চাইছে হেলগা। গ্রেনভিল চমৎকার কাজ করেছে। হেলগা গিলতে যাচ্ছে টোপ। জানিয়ে দিল এও যে গ্রেনভিলকে ওখানে কিছুই করতে হবে না, শুধু হেনরী লেগারের সঙ্গে ক্যানেতে গিয়ে দেখা করলেই হবে। ওর নাম নম্বর টেলিফোন ডাইরেক্টরীতে পাওয়া যাবে। ওখানে হেনরীই জমির ব্যাপারটা দেখাশোনা করছে। ওদের নিয়ে হেনরী যাবে যেখানে যাবার।

    হেলগার খোঁজ নিতে গেলে ম্যানেজার জানালো বেরিয়ে গেছে, ফিরবে কখন তার ঠিক নেই। গতকাল বিকেলে ঘুরে বেরিয়েছে প্যারিসে। ঘরে সন্ধ্যোবেলা ফিরতেই টেলিফোন এল হেলগারা। ওকে তৈরী হয়ে নিতে বললো সম্রাজ্ঞীর মত এবং গ্রেনভিলও সুবোধ বালকের মত তাই করলো।

    হেলগার খাতির প্লেনে, এয়ার পোর্টের সর্বত্র। কার্লটন হোটেলে পৌঁছে গ্রেনভিলকে একেবারে কাটিয়ে দিল, আমি দারুণ ক্লান্ত বলে।

    হেলগার চিঠি এল সকালে ব্রেকফাস্টের সঙ্গে, ক্লান্ত লাগছে। একটু কাজ আছে আমার। রাত নটার সময় লবিতে দেখা হবে। হেলগা।

    বেশ আতঙ্কিত হয়ে উঠলো গ্রেনভিল এইবার মহিলার জন্য। একসঙ্গে ভ্যালাউরিসে যাবে বলেছে। অথচ ও চেনেই না জায়গাটা। কি যে হবে। হেনরী ফোন করলো লেগারকে। অফিস। থেকে জানালো মঁসিয়ে লেগার বেরিয়ে গেছে। ফিরবেন কখন তা ঠিক নেই। এ হল আর এক বিপদ। তবু যদি জানা যায় কোথায় জায়গাটা, তাহলে নিয়ে যাবে হেলগাকে। প্রশ্ন সেইমত করতেই মাদাম রলফকে নিয়ে হেনরীর সেক্রেটারী জানালো হেনরী লেগার ওই জায়গাতেই গেছেন।

    গ্রেনভিলের মেরুদণ্ড দিয়ে বয়ে গেল বরফের স্রোত। বর্ণে বর্ণে যে আর্চারের কথা সত্য তার প্রমাণ পেল। উপায় না দেখে আর্চারকে ফোন করে সব কথা জানালো, ঘাবড়ালো না,আর্চার। হেলগা এতক্ষণে জেনে গেছে যে আগাগোড়াই ধাপ্পা প্যাটারসনের ব্যাপারটা। তবে ওর এখনও তোমার ব্যাপারে আকর্ষণ আছে। নিরীহ, নির্দোষী সেজে যাবে, আসছি আমি। রাতে ক্ল্যারিস হোটেলে পৌঁছবো। ঠিক হয়ে গেছে আমার প্ল্যান, এতে কাজ হবেই। আর আমি বিশ লাখ ডলার উসুল করবোই। যতো চালাকই ও হোক না কেন, আমি ওকে বুদ্ধির লড়াইয়ে হারাবোই।

    মনে মনে ঈশ্বরের কাছে গ্লেনভিল প্রার্থনা করল। তাই হোক।ক্যানে শহরের পথে পথে ঘুরে, সাঁতার কেটে সমুদ্র পেরিয়ে নানারকম দুঃশ্চিন্তায় রাত নটার সময় হোটেলের লবিতে কথামতো অপেক্ষা করতে লাগল গ্রেনভিল।

    সিল্ক শিফনের হালকা নীল রঙের পোশাক আর সাদা শেয়ালের ফারের কোট গায়ে। হেলগা এসে পৌঁছলো কাটায় কাটায়।

    ক্রিস দারুণ ক্ষিদে পেয়েছে, খেতে যাবো বল দ্যর-এ, চলো। কেমন দিনটা কাটলো,তারপর উত্তরের অপেক্ষা না করে ঝড়ের মত বেরিয়ে গিয়ে গাড়িতে বসলো। গ্রেনভিল অনুগতের মত পেছনে।

    প্রথম দিন প্যাটারসনের সঙ্গে দেখা করার সময় পুরো পরিস্থিতিটাকে যেভাবে গ্রেনভিল মুঠোয় পুরে নিয়েছিল, আজ হেলগা ঠিক সেইভাবেই মেজাজী হয়ে উঠেছে। দামী দামী মদ, খাবার, হোটেলের ম্যানেজার থেকে বাবুর্চির এক পায়ে দাঁড়িয়ে থাকার মত সেবা। গ্রেনভিলের মাথা ঘুরে গেছে। আর্চারের উপদেশ, যা চাইছে হেলগা সেই ভাবেই চলল।

    হেলগা খাওয়ার পর ফিরলো নিজের সুইটে, সঙ্গে সঙ্গে গেনভিলও এলো। নানা কথার পর হেলগা হঠাৎ বললো, এসো তোমার ব্যবসার ব্যাপারে এবার আলোচনা করা যাক। প্যাটারসনের ব্লু স্কাই-এর প্ল্যানটা তোমার কাছে শোনার পরেই তোক লাগিয়ে খবর নিলাম, ঐ প্যাটারসনটা একটা জোচ্চোর। আমেরিকাতে কয়েক বছর আগে ও জেল খেটেছে। তেমন টাকাকড়িও নেই, সুবিধের নয় ভ্যালাউরিসের জমিটাও। ফুটপাতও আছে মধ্যে দিয়ে, জোচ্চোর হেনরী লেগার লোকটাও। না, না, ঘাবড়াবার কিছু নেই। তোমায় একদিন না একদিন হতেই হতো সত্যের মুখোমুখি।

    গ্রেনভিল কপালের ঘাম মুছে বললো, তোমায় তো আমি আগেই বলেছিলাম গোলমেলে ঠেকছে ব্যাপারটা আমার কাছে, হেলগা বলিনি?…

    হেলগা কথার মাঝেই থামিয়ে দিয়ে বললো, প্যাটারসনের ওই কাজটা ছেড়ে দাও। তোমার ঠিকই কিছু লোকসান হলো।

    নিভে যাবার আগে গ্রেনভিল বলতে চাইলো, তাহলে সৌদি আরবে চলেই যাই। যা কিছু পাই।

    হেলগা একটু রাগত ভাবে বলল, ছাড়ো ওসব সৌদি আরব টারব। একটা প্রস্তাব আছে আমার, শুনবে?…তুমি যদি আমাদের করপোেরেশনে একজিকিউটিভ অফিসার হয়ে যোগ দাও কেমন হয়?

    কিন্তু আমি ইলেকট্রনিক্সের কিছুই জানি না।

    দরকার নেই জানার, আসলে ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে আমার কাজ তুমি করবে।

    গ্ৰেনভিল বল পাচ্ছে নিজের কোর্টে, মৃদু স্পর্শ হেলগার মনিবন্ধে করে বলল, ব্যক্তিগত কতোটা?

    ভীষণ, ভীষণ ভাবে ক্রিস ব্যক্তিগত,বলতে বলতে দ্রুত পায়ে শোবার ঘরে হেলগা চলে গেল, গ্রেনভিল পিছনে। গ্রেনভিলের এই রাতে ফেল করা চলবে না, তাহলে শেষ হয়ে যাবে সব। গ্রেনভিল ব্যর্থ হয়নি ঈশ্বরকে ধন্যবাদ, মাঠের ধারে দাঁড়িয়ে ও কল্পনা করছিল আর্চার হাততালি দিচ্ছে।

    সূর্যের আলো ঝিলমিলিয়ে ফাঁক দিয়ে এসে পড়তেই হেলগার ঘুম ভাঙলো। আড়মোড়া ভেঙে খুব আরামে চোখ খুললো সকাল দশটা, এমন ঘুম বহুদিন হয়নি। পাশ ফিরে হাত বোলালো গ্রেনভিলের বালিশটায়। পাছে লোক জানাজানি হয়ে যায় তাই রাত তিনটের সময় চলে গেছে গ্রেনভিল। অথচ হেলগা ওকে কিছুতেই ছাড়তে চাইছিল না। হেলগা আজ পর্যন্ত যত পুরুষের সংস্পর্শে এসেছে তার মধ্যে গ্রেনভিল হল সবার সেরা, অতুলনীয় প্রেমিক হিসেবে। সঙ্গে জড়িয়ে রাখতে হয় প্রতি মুহূর্ত এমন প্রেমিককে। চমৎকার হবে স্বামী হিসেবেও। রূপ, গুণ বুদ্ধি, প্রতিভা ব্যবহার এবং দারুণ প্রেমিক সবার ওপরে।…বঁড়শিতে কি গ্রেনভিলকে গাঁথতে পেরেছি? হেলগা মনে মনে প্রশ্ন করলো, ওর চোখের ভাষায়,…আদর করার ভঙ্গীতে এটা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে ওর জন্যে গ্রেনভিল পাগল। তবে নিজে হেলগা তাড়াহুড়ো করবে না। ইংরেজ গেনভিল, ওরা খুব সচেতন হয় নিজের ব্যাপারে। শুধু বড়লোক বলে আদৌ হেলগাকে বিয়ে করবে না। ওকে নাড়াচাড়া করতে হবে সাবধানে। আর সেই কাজটা সম্ভব নয় এই কার্লটন হোটেলে।

    আলস্যে আরেকবার পাশ ফিরতেই মনে পড়ে গেল হেলগার কাস্টগনোলার বাড়িটার কথা। আদর্শ স্থান প্রেম করার পক্ষে। আজেবাজে লোক নেই, লোক নেই খবরের কাগজের। শুধু ক্রিস আর ও। এর চেয়ে ভাল আর কি হতে পারে।

    সুইজারল্যান্ডে হেরমান রলফ প্রতিবছর কাটাতেন এক মাস। শেষ পর্যন্ত একজন মার্কিন সিনেমা প্রযোজকের এই সুন্দর ভিলাটা কিনে নিলেন। এক উঁচু পাহাড়ের ওপর হ্রদের পাশে বাড়িটা। আর্চার ওকে এখানেই ব্ল্যাকমেল করতে চেয়েছিল। লাভ নেই অতীত ঘেঁটে।

    হেলগার মাথায় নানা চিন্তা আসতে লাগলো। ওখানে ঠিক হবে না স্থানীয় লোকদের কাজে নেওয়া গল্প ছড়াবে। তবে ওকে আগলে রাখবে কে? হঠাৎ প্রায় মনে পড়ে গেলো হিলের কথা। এই হিঙ্কল গোলমেলে মানুষ। পনেরো বছর ধরে হেরমান রলফের কাছে কাজ করে আসছে। এখন হেলগার। ঘিরে রাখতে চায় হেলগাকে প্রায় পিতৃস্নেহে, অতএব হিঙ্কলকে চাই।

    হেলগা কথা বললো ম্যানেজারের সঙ্গে। মিয়ামি থেকে জেনিভা আর নীস থেকে জেনিভার প্লেন কখন কখন তার খবর চাই। তারপর আবার কাস্টগনোলা ভিলার কেয়ারটেকার মিনর ট্রানসেলের কাছে ফোন করলো, পরশু যাচ্ছি, পরিষ্কার করে রাখুন বাড়ি।

    কফি ততক্ষণে এসে গেছে। পাওয়া গেছে প্লেনের খবরও। মিয়ামি থেকে একটা আর নীস থেকে দুটো টিকিট কাটতে বলে দিল হেলগা।..

    হোটেলের অপারেটারকে কফি শেষ করে বললো, প্যারাডাইস সিটিতে ওর বাড়িতে ফোনের কানেকশন দিতে লাইন পাওয়া গেল কয়েক মিনিটের মধ্যে।

    উত্তেজিত হয়ে হেলগা প্রশ্ন করলো, হিঙ্কল?

    হ্যাঁ, মাদাম, নিশ্চয়ই আশাকরি ভাল আছেন। হেলগা কোনো মতে চাপলো হাসিটা, হিঙ্কল সেই চিরকেলে, ভরপুর স্নেহে মমতায়।

    হ্যাঁ, ভাল আছি, খবর আছে একটা।

    তাই নাকি মাদাম, মনে হচ্ছে কোনো ভাল খবর, সেই পুরোহিত সুলভ পরিচিত কণ্ঠস্বর।

    প্রেমে পড়েছি আমি, হিঙ্কল।

    হিঙ্কল একটু বিরতির পর বললো, নিশ্চয়ই ভাল হবে খবরটা মনে হচ্ছে, চমৎকার হবে।

    খুঁজে পেয়েছি একজনকে যাকে বিয়ে করতে চাই আমি।

    আবার সেই অস্বস্তিকর বিরতি, হিঙ্কল বললো, আমি বিশ্বাস করি নিশ্চয়ই ভদ্রলোক যোগ্য হবেন আপনার।

    হেসে ফেললো হেলগা, দেখো হিঙ্কল, এতে অত গুরু গম্ভীর হবার কিছু নেই। তিনি চমৎকার মানুষ। এবার শোনো কাজের কথা। কয়েক সপ্তাহ কাস্টাগনোলা ভিলায় থাকবো ঠিক করেছি, যাতে মিঃ গ্রেনভিলকে আমি একটু ভাল করে চিনতে পাবার সুযোগ পাই। বুঝেছে?

    মাদাম নিশ্চয়ই। আর আপনি চান আমি ওখানে থাকি আপনাদের সঙ্গে?

    ঠিক তাই, এরপর হেলগা ওকে কোন ফ্লাইটের টিকিট কিভাবে বুক করা হয়েছে সব বুঝিয়ে দিল। কখন দেখা হবে জেনিভাতে তার বন্দোবস্ত করে নেওয়া হল।

    গাড়ি চাই এবার, ফোন করে জানিয়ে দিল রোলস রয়েস কোম্পানীকে, গাড়ি পাঠিয়ে দিতে জেনিভাতে। শুধু ক্রিসকে এবার একান্তে করে পাওয়া। ঐ বিরাট ভিলাতে শুধু সে, গ্রেনভিল আর হিঙ্কল।

    .

    আরে অত উত্তেজিত হবার কিছু নেই, গ্রেনভিলকে মিষ্টি কথায় আর্চার বোঝাচ্ছিল সব কিছু চলছে ঠিক মতো।

    দুজনের কথা হচ্ছিল একটা ছোট হোটেলে বসে। কিছুতেই রাজী নয় গ্রেনভিল হেলগার কজায় থাকতে। ও যেন নারীমাকড়সা একটা, যারা খেয়ে ফেলে নিজেদের পুরুষ সঙ্গীকে।

    ছাড়কেনা আর্চারও ক্রিস, এমনি এমনি বিশ লাখ ডলার আসবে না। বেশ চালিয়ে এসেছে এতক্ষণ পর্যন্ত। এমন ব্যবহার করো ওর সঙ্গে যাতে ও বিশ্বাস করে নেয় ওকে তুমি বিয়ে করবে।

    বিয়ে করবো? গ্রেনভিল আঁৎকে উঠলো। সম্ভব নয়।

    ওর কথায় আর্চার কান দিলো না, হ্যাঁ বিয়ে করবে ওর মনে এই ধারণাটা গেঁথে দিতে হবে। বিশেষ করে যখন ও কাস্টাগনোলা ভিলাতে তোমায় নিয়ে যাচ্ছে, তার মানে হল ও গিলে ফেলেছে টোপ। আচ্ছা এই যে নিয়ে যাচ্ছে তোমায়, টাকা নিশ্চয়ই দিয়েছে।

    জোর করে ওকে হেলগা এক লাখ ফ্রা দিয়েছিল জামাকাপড় কেনার জন্যে। আর্চার টাকার পরিমাণটা শুনে ঘাবড়ালো না, হেলগার ধরণই ঐ। ও বরাবরই প্রেমিক সম্বন্ধে মুক্তহস্ত।

    আর্চার পঞ্চাশ হাজার ফ্রাঁ চেয়ে নিল। প্ল্যানটা কার্যকর করতে হলে টাকার দরকার। টাকাটা দেবার পর গ্রেনভিল জানতে চাইলে প্ল্যানটা কি?

    খুবই সরল প্ল্যান এবং সব ভাল প্ল্যানই সাধারণ যেমন হয়ে থাকে। ভিলাতে তোমরা তিনদিন থাকার পর যখন তুমি হেলগাকে পুরোপুরি বিশ্বাস করিয়ে দেবে তখনই কিডন্যাপ করতে হবে তোমায়, বিশ লাখ ডলার দাবী করবো মুক্তিপণ হিসেবে এবং পাবো হাতে হাতে।

    অনেকক্ষণ হাঁ করে অবাক বিস্ময়ে গ্রেনভিল তাকিয়ে রইলো, তারপর বললো, মাথা খারাপ হয়েছে কি তোমার? মানে আমাকে চুরি করা হবে?

    ঠাণ্ডা মাথায় আর্চার বুঝিয়ে দিলো কি করা হবে। এটা হবে তোক দেখানো চুরি করা। যতদূর আমি চিনি হেলগাকে, একবার যদি ও তোমাকে বিয়ে করার চিন্তা করে তবে যা চাইছি আমরা তাই পাবো। একবার ভাবো জিনিসটা, চমৎকার সব কিছুই, প্রেম, বিয়ে আর নিঃসঙ্গতা নয়। একেবারে হেলগা লাটু হয়ে যাবে। তারপর তোমায় হঠাৎ চুরি করা হলো। ওর টাকা আছে প্রচুর, ফিরে পাবার জন্যে তোমাকে কার্পণ্য করবেনা টাকা দিতে। হাতে টাকাটা পেলেই তোমার অর্ধেক, বাকিটা আমার।

    কিন্তু যদি হেলগা খবর দেয় পুলিশে, বেশ হতভম্ব লাগছিলো গ্লেনভিলকে।

    ও যাবে না পুলিশে। ওকে আমি এত ভয় পাইয়ে দেবো যে টাকাটা ও দিয়ে দেবে পুলিশে যাওয়ার বদলে।

    ধরা যাক দিল টাকা, তারপর হবে কি?

    আর্চার বললো হাতে টাকা এলেই আমরা পালাবো সুইজারল্যান্ড ছেড়ে।

    বেশ তাই না হয় হলো, কিন্তু কি ভাবে টাকা দেবে হেলগা?

    আর্চার গ্রেনভিলের এই প্রশ্নে খুশি হয়ে বললো, ঠিক বলেছ, তবে কোনো চিন্তা নেই তার জন্যে। আমার একটা সুইস নম্বর অ্যাকাউন্ট আছে। সেখানে টাকা জমা পড়বে।

    এবারে কাকে দিয়ে কিডন্যাপ করানো হবে বিশদ আলোচনা হলো, কি ভাবে হবে। গ্রেনভিলকে কোথায় রাখা হবে এই সব। হুগানোতে যাবে আর্চার। সুইসি হোটেলে সেখানে উঠবে। কিডন্যাপিং হচ্ছে প্রচুর আজকাল। তবে সত্যি প্রমান করার জন্য জিনিসটাকে গ্রেনভিল যেন বাধা দেয় সামান্য। গ্রেনভিলের এই ধরণের বড় অপরাধ করতে সায় দিচ্ছিল না মন, অথচ জড়িয়ে পড়েছে।

    শেষ পর্যন্ত ঠিক হলো সব কিছু। মনে মনে আর্চার বললো আগে একবার হেরেছি তোমার কাছে, এবার পালা আমার। দেখি বুদ্ধিমান কে বেশি।

    .

    ০৪.

    জ্যাক আর্চার প্রায় দুবছর আগে তখন লাউসানেতে আন্তর্জাতিক অ্যাটর্নী ফার্মের এক বিরাট সিনিয়ার পার্টনার ছিল। হঠাৎ টেলিফোন এলো একটা, একজন মার্কিন হেঁড়ে গলায় বললো, আমি, কথা বলছি মোজেস সেইগাল, চেনেন আমায় আপনি?

    আর্চার সবরকম খবরের কাগজ পড়তে নিয়মিত, ও জানতে মোজেস সেইগাল একজন নামকরা লোক মাফিয়াদের মধ্যে, এফ.পি. আই. আমেরিকার ট্যাক্স ফাঁকি দেবার জন্যে খুঁজে বেড়াচ্ছে ওকে।

    উত্তর দিলো খুব সাবধানে। হ্যাঁ মিঃ সেইগাল, আমি আপনার কথা পড়েছি।

    বেশ শুনুন এবার, পরামর্শ দরকার আপনার, ফি পাবেন তার জন্যে। হেরমান রলফকে যে মানুষ পরামর্শ দেয়, সে নিশ্চয়ই আমার মতে ছোট মাপের মানুষ নয়। জেনিভাতে বের্নির রেস্টুরেন্টে আমি থাকবো আগামীকাল রাত আটটার সময়। ওখানে আসুন আপনি, ফায়দা কিছু ওঠানো যাবে।

    কিছুক্ষণ আর্চার চিন্তা করলো টেলিফোন ছেড়ে, যাবে কি যাবে না। জেনে গেছে ও, এখন সেইগালের পড়তির সময়, তবে এও জানে বড় ভয়ঙ্কর প্রকৃতির লোক মাফিয়ারা। ফলে পার্টনারকে কিছু না বলে শুধু নিজের লাভের লোভে ও রাজী হল যেতে।

    বের্নির রেস্টুরেন্ট বুয়াই গুস্তাভ রোডের গা দিয়ে বেরিয়ে গেছে এমন একটা গলিতে। নোংরা, বাজে টাইপের।

    আর্চারকে ঢুকতেই অভ্যর্থনা জানালো একজন মোটা, হৃষ্টপুষ্ট দাড়িওলা মানুষ, সেইগাল আপনার জন্যে অপেক্ষা করছেন। বেৰ্ণি হল এই লোকটাই।

    পিছন দিকে ভিড়ের মধ্য দিয়ে একটা ছোট্ট ঘরে আর্চারকে নিয়ে গেল। একজন মোটাসোটা, সুন্দর ওলা ইতালিয়ান সেখানে বসে খাচ্ছিল কামপারি সোড়া।

    ঠিক আছে বেৰ্ণি। তোমাদের পচা কিছু খাবার আমাদের দিয়ে যাও তাড়া আছে খুব আমার, লোকটা কথা বলে গাঁক গাঁক করে।

    কথা বেশি না বাড়িয়ে সেইগাল বললো, বেশ কিছু টাকা আছে আমার কাছে। নিরাপদে জমা রাখতে চাই ওগুলো। কি করতে হবে? টাকাটা কিন্তু নগদে আছে।

    কোনো জানাশোনা ব্যাঙ্কে নম্বর দেওয়া অ্যাকাউন্ট খুলে রেখে দিতে পারেন টাকাটা।

    খুব খুশি সেইগাল। রাখতে হবে পঁচিশ লাখ ডলার। আর্চার পঞ্চাশ হাজার সুইস ফ্রাঙ্ক পাবে পারিশ্রমিক হিসেবে। তবে চেষ্টা যেন না করে টাকাটা মেরে দেবার, কারণ নজর রাখা হচ্ছে ওর ওপর। জানিয়ে দিল আর্চারকে, অ্যাকাউন্ট খুলে যেননম্বরটা সেইগালের স্ত্রীর কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সব খাবারটা কথা বলার ফাঁকে ফাঁকে প্রায় গিলে গিলে খেয়ে নিয়েছিল সেইগাল। এবার যাবার পালা। সেইগাল বেৰ্ণিকে দেখিয়ে বলে গেল, এহলো জ্যাক আর্চার, সাহায্য করছে আমাকে, যদি কোন দিন ওর কিছুর দরকার হয় তবে ওকে তুমি সাহায্য করবে।

    বেৰ্ণি বলল, নিশ্চয়ই করবো।

    আজও আর্চার কথাটা ভোলেনি। সোজা বের্ণির রেস্টুরেন্ট থেকে চলে গেলো জেনিভা এয়ারপোর্টে। অনেক কথা মনে পড়ছিল ট্যাক্সিতে যেতে যেতে আর্চারের অসুবিধে হয় নি লাখ ডলার রাখতে। পরিচয় ছিল ম্যানেজারের সঙ্গে। ঠিক জায়গায় নম্বরটা পাঠিয়ে দেবার মাস দুয়েক পরে মোজেস সেইগালকে খবরের কাগজে দেখলো গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।

    বেৰ্ণি এগিয়ে এল রেস্টুেরেন্টে ঢুকতেই, পেরেছেই তো চিনতে, প্রশংসা করলো তার কাজের জন্যে। তারপর আপ্যায়ণের পালা শুরু হল। কথাটা আস্তে আস্তে আর্চার পাড়লো। বিশ্বাসী দুজন লোক চাই। আমি বিশ্বাসী বলতে চাইছি কারণ কাজ করবে টাকার এবং সব কিছু ভুলে যাবে কাজটা হয়ে গেলে।

    মিঃ আর্চার কাজটা কি?

    একটা সাজানো কিডন্যাপিং করবে এই দুজন লোক–শুনে রাখুন ভাল করে সাজানো ব্যাপার এটা। চুরি করা হবে যাকে সেই বলছে কাজটা আমাকে করতে। আপনাকেই বলছি শুধু, লোকটি থাকে যে মহিলাটির সঙ্গে তাকে একটু ভয় পাইয়ে দিতে চায় আর কি। কাজ হবে এই দুজনের একটা বাড়িতে গিয়ে যেন দারুণ হিংস্র লোক এমন ভাব দেখিয়ে চুরি করে আনা ঐ লোকটিকে। আসবে না পুলিশ। আমরা একটু বড় রকমের রসিকতা করতে চাই মহিলাটিকে নিয়ে।

    দাঁত খুঁটতে খুঁটতে পরম যত্নে বেৰ্ণি বললো, এর ফলে হবেটা কি?

    যথেষ্ট ঐ টুকুই। মহিলা তার মনের মানুষকে হারিয়ে হয়ে উঠবে উদভ্রান্ত। ও ফিরে যাবে দিন দুই পরে, ও একেবারে পায়ের তলায় রাখতে চায় মহিলাকে, তাই করা হচ্ছে এটা।

    টাকার প্রশ্ন উঠতেই আর্চার জানলো, দুজনের প্রত্যেককে পাঁচশো ফ্রা করে দেবে। মাথা নেড়ে বের্ণি জানালো হাজারের কম হবে না। গত্যান্তর নেই আর্চারের।

    দুজন লোককে একটু পরে নিয়ে এল বের্ণি।কাজ করে স্টিমার কোম্পানীতে। ইংরেজী জানে, জ্যাকস বেলমন্ট একজনের নাম, অপর জন ম্যাক্স সেগেত্তি। নির্ভরযোগ্য তোক আর বড় কিছু নয় কাজটাও। বয়স কম জ্যাকসের, চেহারা রোগা রোগা, ধারালো দৃষ্টি, প্রায় বছর দশেকের ঘোট ম্যাক্স-এর চেয়ে। কম দামীদুজনেরই পোশাক, আর নোংরাও। কাজের কথা পাড়লো গভীরভাবে আর্চার। কি করতে হবে, সব শেষে জানালো। চুরি করতে হবে যে মানুষটাকে, সে জানে সব, সামান্য বাধা দেবে লোক দেখানো। দারুণ হিংস্র ভাব দেখিয়ে ওরা দুজনে ওকে তুলে আনবে। ব্যাস তারপর পকেটে টাকা গুঁজে ফিরে যাবে ওরা। লু গাসের বাইরে কার্যক্ষেত্রটা।

    সব বোঝার ইশারা করে সেগোত্তি মুখে শুধু বললো, কত দেবেন এর জন্যে?

    দুজনকে দু-হাজার করে। মাথা নাড়লো ওরা, দর কষাকষি করে রফা হল চার হাজার করে। আলাদা যাতায়াতের খরচ। হাজার ফ্ৰা করে দুজনকে অগ্রিম দিয়ে দিল আর্চার। দরকার হবে মুখোশ আর পিস্তল। মাথা নেড়ে ওরা দুজনে বললো, ওদের সে সব দায় দায়িত্ব।

    বিদায় নেবার আগে ওদের শেষবারের মত আর্চার বুঝিয়ে দিলো কাজটা। ঐ লোকটিকে– ঠিক তিনদিন পরে কিড্রন্যাপ করতে হবে। অর্থাৎ আঠারো তারিখের রাতে। অতএব দুজনেই যেন ওরা আঠোরো তারিখ দুপুর দুটোতে সুইমি হোটেলে পৌঁছে যায়, তখন পরের কাজটুকু আর্চার বলে দেবে।

    ওরা দুজনে চলে যেতেই বের্ণি বলল, কি পছন্দ হয়েছে তো?

    মাথা নাড়লো আর্চার। খুঁত খুঁতে একটু ভাব যে ছিলো না তা নয়। তাই মনে করিয়ে দিলো বেৰ্ণিকে সেইগালের কথাটা। আর্চার চলে যেতেই লুকিয়ে থাকা বাথরুম থেকে সেগগত্তি আর বেলমন্ট বেরিয়ে এলো।

    বেৰ্ণি ব্যাপারটা কি?

    বুঝতে পারছি না ঠিক। তবে মজার ব্যাপার, আর মনে হচ্ছে লাভজনক হবে। ঐ মোটা নচ্ছার আর্চারটা হেরমান রলফের ওখানে এক সময়ে কাজ করতো। কাকে ও কিডন্যাপ করতে চাইছে। আমি দেখতে চাই আর মেয়েটাই বা কে? আমার সঙ্গে তোমরা যোগাযোগ রেখে চলবে, যে মুহূর্তে জানতে পারবে বাড়ি আর লোকটা সম্বন্ধে টেলিফোন করে জানাবে।

    মাথা নেড়ে সেগেত্তি বুঝিয়ে দিল সে জানাবে।

    মুখোশ আর বন্দুক চাই যে?

    দাঁত বের করে বের্ণি হাসলো, ও সব জোগাড় করা নাকি খুব কষ্টের ব্যাপার। আমার দুটোই আছে, যা দরকার সেটা হলো খবর।

    জেনিভা এয়ারপোর্টের কাস্টমসের বেড়া পার হয়েই হেলগা দেখলো হিঙ্কল দাঁড়িয়ে আছে গ্রেনভিলকে আন্দাজ করে নিলো হেলগার পিছনে হিঙ্কল।

    বয়স বাহান্ন হলেও, হিঙ্কলকে অনেক বেশী বুড়ো দেখায়। বেঁটে, মোটা, সামনের দিকে টাক পড়তে শুরু করেছে। হেরমান রলফের সেবা করেছে পনেরো বছর ধরে। হিঙ্কল রলফ ছিলেন পোলিওর রোগী। হিঙ্কল অনুগত হয়েছে হেলগার, হেরমান মারা যাবার পর। প্রথম থেকেই বেশ শ্রদ্ধা করতো হেলগাকে সে।

    প্রেমে পড়ার কথাটা হেলগার মুখ থেকে শোনা অবধি হিঙ্কল বেশ অশান্তিতে ভুগছে। অস্বাভাবিক দুর্বলতার কথা পুরুষের প্রতি হেলগার কথা হিঙ্কল জানে, তবে বেশ হাসিখুসি উজ্জ্বল চেহারা দেখে এয়ারপোর্টে মনে হল ওর, বোধ হয় এবার হেলগা তার মনের মানুষ সত্যি সত্যিই পেয়েছে। কিন্তু কাছ থেকে ভালভাবে গ্রেনভিলকে দেখার পরই ভুল ভাঙলো তার। অত্যন্ত লম্বা, সুপুরুষ আর কেতাদুরস্ত মানুষটা বিপদ সংকেতের লাল আলোটা হিলের মনের মধ্যে জ্বেলে দিলো।

    হিঙ্কলের হাত দুটো জড়িয়ে ধরে হেলগা উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠলো। আঃ হিঙ্কল, কত দিন পরে দেখা, তোমার অভাব প্রতি পদে পদে অনুভব করতাম।তারপর গ্লেনভিলের দিকে ফিরে বললো, ক্রিস এই হল হিঙ্কল, তোমায় বলেছি যার কথা।

    চাকরবাকরদের নিয়ে আদিখ্যেতাকরার সময় বা ধৈর্য গ্লেনভিলের নেই।একটু ব্যবধান বজায় রেখে বললো মাথা নাড়িয়ে, হেলগা মালপত্র। নিশ্চয়ই ওগুলো ও সামলাবে। হিলের হাতে লাগেজের কাগজপত্র গুঁজে দিলো।

    হ্যাঁ সামলাব স্যার। নম্র ভাবে হিঙ্কল উত্তর দিলো

    ওরা দুজনে সেই মুহূর্ত থেকে শত্রু হয়ে উঠলো পরস্পরের। হিঙ্কল হেলগার দিকে ফিরে বললো নতুন রোলসটা আপনার জন্য অপেক্ষা করছে বাইরে মাদাম, সময় চাই কয়েক মিনিট, তারপর একটা কুলিকে হাতছানি দিয়ে ডেকে চলে গেল হিঙ্কল।

    ক্রিস, সোনা আমার, বললো হেলগা, প্লিজ…এক বিশেষ সম্মান আছে হিঙ্কলের আমার কাছে। ওর সঙ্গে ব্যবহার ভালো করো।

    ভুল হয়ে গেছেচালটা বুঝতে পেরে গ্রেনভিল বললো, খুব দুঃখিত, হেলগা করব নিশ্চয়ই।

    এয়ার পোর্ট থেকে দুজনে বেরিয়ে দেখল দামী রোলস রয়েস দাঁড়িয়ে পোর্টিকোতে।

    একখানা গাড়ি বটে, গ্রেনভিলের মাথা ঘুরে গেছে।

    গাড়ির চারপাশ ঘুরে এসে হেলগা আনন্দে হাততালি দিয়ে উঠলো, সত্যিই চমৎকার গাড়ি। গ্রেনভিলকে পেছনের সীটে নিয়ে বসে গ্রেনভিলের হাতটা নিজের হাতের মধ্যে নিয়ে বলে উঠলো হেলগা, ক্রিস জানো, আমি এই মুহূর্তগুলোতেই বুঝতে পারি কি অসীম ক্ষমতা টাকার। কতো ভাগ্যবতী আমি ও বিষয়ে। তবে এখন…শুধু আমি আর তুমি…, আমি জানি তোমার পছন্দ হবে আমার ভিলাটাও।

    মালপত্র পিছনের সীটে কয়েক মিনিটের মধ্যে পুরে হিঙ্কল স্টিয়ারিং ধরলো।

    সব ঠিকঠাক আছে তো প্যারাডাইস সিটিতে?

    হ্যাঁ মাদাম, ভারী সুন্দর বাগানটা হয়েছে।

    আমি খবর পাঠিয়েছিলাম ট্রান্সেলকে গুছিয়ে রাখতে ভিলাটা।

    রেখেছে, একটু আগে এয়ারপোর্ট থেকে ওকে ফোন করেছিলাম, ঠিক আছে সব।

    হিঙ্কলের কাঁধে হাত রাখলো আলতোভাবে আদর করে, দেখছো, আমায় কত যত্ন করে হিঙ্কল।

    মাদাম আর একটা কথা, দেরী তো এমনিতেই হয়ে গেছে সেই ভেবে ভেভের ট্রয়েস হোটেলে ঘর বুক করে রেখেছি আপনাদের জন্যে, ওখানে রাতটা কাটিয়ে নিলে ভালো হয়।

    হিঙ্কল অশেষ ধন্যবাদ, তারপর হেলগা বললো গ্রেনভিলের দিকে ফিরে। ভেভে থেকে কাস্টাগনোলা যেতে লাগে পাঁচ ঘণ্টা। কাল লাঞ্চ খাবার সময়ে ঠিক পৌঁছে যাব। আচ্ছা খাবার দাবার কি বন্দোবস্ত করেছ হিঙ্কল?

    ট্রান্সেলকে বলে দিয়েছি সব ভরে রাখতে ডীপ ফ্রিজে।

    গ্রেনভিলের কাঁধে পরম নিশ্চিন্তে মাথা রেখে হেলগা আবেশে চোখ বন্ধ করলো। হ্রদের পাশ দিয়ে রোলস রয়েস ছুটে চললো, গন্তব্য ভেভে।

    ট্রয়েস হোটেলে পৌঁছে গ্রেনভিলের হাতে মৃদু চাপ দিয়ে হেলগা শুভরাত্রি জানালো। চোখ দুটো আমন্ত্রণের প্রতিশ্রুতিতে জ্বলজ্বল করে উঠলো। গ্রেনভিলের প্রথম কাজ হল ঘরে ঢুকেই ফোন করা আর্চারকে। আর্চার ছিলো সুগানোর হোটেল দ্য সুইসে, জানালো, বন্দোবস্ত হয়ে গেছে সব, চিন্তা করার কিছু নেই তোমার। অভিযান শুরু হবে তিনদিনের মধ্যে।

    কিন্তু কিছু কারণ তো দেখতে পাচ্ছিনা, চিন্তা না করার। ওর ওই চাকরটা..ওই হিঙ্কল…চিন্তায় ফেলেছে আমায়।

    হিঙ্কল? আর্চারও চীৎকার করে উঠল, ও এসেছে নাকি ওখানে?

    আসেই নি শুধু, ইনচার্জও বটে সবকিছুর। এক নজরে আমাকে দেখেই শুরু করেছে ঘেন্না করতে। মুখের ভাব দেখে আমার কষ্ট হয় না। এইসব পুরানো বাড়ির চাকর বাকরগুলো ভীষণ মারাত্মক জিনিস।

    আর্চার গম্ভীর হয়ে বললো, ঠিক বলেছ, হিঙ্কলও দারুণ চালাক হেলগার মতো।

    দেখো, তোমার এটা মাথাব্যথা। তুমি যা করার করবে।

    আর্চার জানাল গ্রেনভিলের কথার উত্তরে, নিশ্চয়ই করব। প্রেম চালাও ওর সঙ্গে ক্রিস, তোমার কাজ ওটা, হেলগা যদি একবার বুঝতে পারে ওকে তুমি বিয়ে করবে, তখন তোমার উপরে হিঙ্কলকে আদৌ পাত্তা দেবে না। আমার ওপর বাকিটা ছেড়ে দাও।

    যা ভালো বোঝ কর। গ্রেনভিল বিরস মুখে বললো।

    তবে ক্রিস একটা কথা, ভদ্র ব্যবহার কোরো হিঙ্কলের সঙ্গে, ওর ব্যাপারে সাবধানে এগোবে। বাড়াবাড়ি করবে না। যতোটা পারো তেল দাও ওকে।

    ভোর বেলাতেই গ্লেনভিল হোটেলে ফিরে এলো আর্চারের উপদেশের কথা মনে রেখে। হিঙ্কল রোলস রয়েসের ধুলো ঝাড়ছিল।

    যথা সম্ভব গলার সুর মিষ্টি করে গ্রেনভিল বললো, হ্যালো হিঙ্কল, সত্যিই সুন্দর গাড়িটা। এটা কেমন গাড়ি?

    হিঙ্কল খুব নিস্পৃহ গলায় বললো, আমি তো বলবো, স্যার, এটা পৃথিবীর সব চেয়ে সেরা গাড়ি।

    নতুন ধরণের গাড়ি। দারুণ হয়েছে রূপোলী শেডটাও। তবে সব সময়ে আমি দু দরজার গাড়ি পছন্দ করি। গ্রেনভিল ঘনিষ্ঠ হবার চেষ্টা করলো।

    পিপিন ফারিনা, সবচেয়ে সেরা শিল্পী কারিগর গাড়ির বডিটা তৈরী করেছে। প্রথম ইলেকট্রনিক সিস্টেমে এই মডেলের গাড়িই স্টার্ট করা যায়।

    সঠিক বুঝতে না পেরে হিঙ্কলের কথার মানে গ্রেনভিল ঘুরতে ঘুরতে গাড়ির চারপাশে বলল, মনে হচ্ছে দারুণ পেট্রোল খরচ হয়?

    স্যার যাদের এই ধরণের গাড়ি কেনার ক্ষমতা আছে, তাদের ভাবনা করতে হয় না পেট্রোলের জন্যে, হিলের কণ্ঠস্বর আরও শীতল হয়ে উঠেছে।

    যতগুলো উপায় জানা আছে মানুষকে ভোলাবার জন্যে গ্রেনভিলের, সবচেয়ে সেরা উপায়টা তার মধ্যে কাজে লাগিয়ে মিষ্টি সুরে সে বললো, তা তোবটেই,…ওকে তুমি খুব যত্ন রলফ বলেছিলেন। আমিও চাই তাই।

    ওর দিকে তাকালো হিঙ্কল, খুব ভাবলেশহীন চ্যাপ্টা মুখ।বেশ তো মিঃ গ্রেনভিল।

    গ্রেনভিল শেষ বারের মত চেষ্টা চালালো, ওকে আমি সুখী করতে চাই যেমন চাও তুমিও।

    দুজনেরই এই সব নিরর্থক কথাবার্তায় কোনো লাভ হলো না। পিছনের ঢাকাটা খুলে হিঙ্কল পালকের ডাস্টারটা রেখে দিলো।

    সমস্যা বাড়ছে গ্লেনভিল বুঝলল। ওর পরমশত্রু হিঙ্কল। হেলগা এলো এমন সময়।

    এগিয়ে গিয়ে গ্রেনভিলের গালে আলতোভাবে চুমো খেয়ে বললোবেড়িয়ে পড়া যাক এবার। হিঙ্কল, সব ঠিক তত?

    ভরা হয়ে গেছে মালপত্র, যখন বলবেন আপনি যাওয়া যাবে তখনই।

    ক্রিস তাহলে চলো, আমার ভিলাটা তোমাকে না দেখানো পর্যন্ত শান্তি পাচ্ছি না।

    হেরমান রলফ প্রায় দশ বছর আগে একজন মার্কিন ফিল্ম প্রোডিউসারের কাছ থেকে লুগানোনা থেকে কাস্টাগনোলার এই ভিলাটা কিছু দূরে কিনেছিলেন।

    অঢেল টাকা ছিল সিনেমা প্রোডিউসারের, আর ছিল সত্যিকারের সৌখিনতা, অতএব মনের মতোকরে যেভাবে খুশি ভিলাটা তৈরী করিয়েছিল। জল গরম করার ব্যবস্থা সমেত বাড়ির ভেতরে সুইমিং পুল, বাইরে বিশাল আর একটা সুইমিং পুল, দোতলায় বিরাট গাড়ি বারান্দায় ছাদ, হ্রদ আর লুগানো শহরটাকে সেখান থেকে ছবির মত দেখা যায়। শোবার ঘর চারটের প্রত্যেকটিতে ডিজ বাথরুম। চার্ম কমাবার আবশ্যক বন্দোবস্ত ইলেকট্রিক যন্ত্রের সাহায্যে। আলাদা কোয়ার্টার চাকরদের। ছোট একটা লিফট, মাটির তলার গুদাম ঘর থেকে কাঠ বয়ে নিয়ে আসার জন্যে চমৎকার ভাবে ফায়ার প্লেসগুলো সাজানো। নীচে নামতে হয় দেড়শোটা সিঁড়ি ভেঙে, তবে পৌঁছনো সম্ভব বড় রাস্তায়, যদি কষ্ট করতে কেউ না চায় তার জন্যে রোপওয়ে আছে দুটো চেয়ারের। শুধু সুইচ টেপার ব্যাপার, রান্না ঘরে যখন তখন কুড়ি জন লোকের খাবার করা যায়। সব ঘরে স্টিরিও আর রেডিওর বন্দোবস্ত। রঙীন টিভিও। ডীপ ফ্রিজ গুদাম ঘরে তা চলে নিজের জেনারেটারে। টেলিফোনের সঙ্গে প্রত্যেক ঘরে লাগানো আছে স্পীকার বক্স, তার মানে যেখানে খুশি বসে যে কোন লোকের সঙ্গে পৃথিবীর কথা বলা চলে টেলিফোনে। মিনি প্রোজেক্টার বসানো একটা ঘরে। অনায়াসে কুড়ি জন বসে সিনেমা দেখতে পারে।

    হেলগা আনন্দে ভাসতে ভাসতে সব দেখছিল, আর কথা নেই গ্রেনভিলের মুখে।

    ওরা লাঞ্চ খেয়ে এসেছিল পথেই। রান্নাঘরে ঢুকেছে হিঙ্কল, সব সাজানো ঘরদোর। গ্রেনভিলকে নিজের বেডরুমে নিয়ে গেলো হেলগা।

    অপূর্ব সুন্দর ঘর। দেওয়াল মাঝ বরাবর মোড়া ঘি রঙের চামড়া দিয়ে, দুটো বড় বড় আয়না, সাদা উলের কার্পেট, বাকি অংশটা খোদাই করা ওক কাঠ দিয়ে ঢাকা। বড় খাট কিং সাইজের।

    হিঙ্কল সব বোঝে, ক্রিস, এই ঘরে আমরা শোবো।

    ভোগ বিলাসে অভ্যস্ত হলেও, এতো ঐশ্বর্য আর সুখের প্রলোভন কখনো গ্রেনভিল পায় নি। ওর মাথা ঘুরে গেছে। বললো কোনো রকমে, কি সুন্দর সুইমিং পুলটা হেলগা। একটু স্নান করে নিতে পারি কি?,

    যা খুশি করো, তোমারই এই বাড়িটা।

    হেলগা বুকের মৃদু গুঞ্জনটাকে চেপে গেলো রান্না ঘরে, হিঙ্কল সেখানে সাদা লম্বা কোট পরে মহাব্যস্ত।

    হিঙ্কল, আমি এতত খুশি আর কখনও হইনি হিঙ্কল,..চমৎকার মানুষ না ও? হেলগা যেন উত্তেজনায় ফেটে পড়তে চাইছে।

    হিঙ্কল স্বভাবসিদ্ধ শান্ত গলায় উত্তর দিলো, মনে তো হচ্ছে মানুষটি চমৎকার।

    হাসি আর থামে না হেলগার, ওকে বিয়ে করতে চাই আমি হিঙ্কল। কিন্তু আমাদের ছেড়ে তুমি কখনো যাবে না।

    মনে তো হয় তাই। হঠাৎ হিঙ্কলকে ধরে হেলগা ওয়ালজ নাচের ভঙ্গীতে ঘুরপাক খেতে লাগলো সারা রান্নাঘরে। সযত্নে যাতে গা ঠেকাঠেকি না হয়, হিঙ্কলও তালে তালে এইভাবে পা ফেলতে লাগলো। তারপর হেলগা চলে গেলো হিস্কলের গালে চুমু খেয়ে। হিঙ্কল বিষাদে চিন্তায় আচ্ছন্ন, মন দিলো মুরগী কাটায়।

    হেলগা শোবার ঘরে সব পোশাক খুলে মাথায় স্নান করার টুপি পরে নিলো। তারপর দেহের নগ্নতা ঢাকবার জন্য একটা ড্রেসিং গাউন জড়িয়ে সুইমিং পুলে ছুটে চলে গেলো।

    জলে অলসভাবে গা ভাসিয়ে, গ্রেনভিল চোখ বন্ধ করে শুয়েছিল। জলে আস্তে নেমে ডুব সাঁতারে গ্রেনভিলের একেবারে পাশে গিয়ে উঠলো, তারপর গ্রেনভিলকে কিছু বোঝবার আগেই টেনে নিয়ে গেল জলের তলায়। প্রথম চমক ভাঙার পর হেলগার সম্পূর্ণ বিবসনা দেহ দেখে দ্বিতীয়বার চমকে উঠলো। হেলগা সাঁতার কেটে চলছিলো ডলফিনের মত। ওর ধারে কাছে আসতে পারবে না সাঁতারে বুঝে গ্রেনভিল হেলগাকে দেখতে লাগলো সুইমিং পুলের সিঁড়িতে বসে।

    হেলগা অপূর্ব সাঁতারু, একদমে করেও চারবার এপার ওপার হাঁফালোনা একটুও। জল থেকে উঠে এসে গ্লেনভিলকে জড়িয়ে ধরলো। আচ্ছন্ন করে দিলো গভীর চুমুতে, শক্ত করে গ্রেনভিল জড়িয়ে ধরলো হেলগার নরম শরীর।

    পরে দুজনে খোলা ছাদে বসে সূর্যাস্ত দেখছিলো চা খেতে খেতে। গ্লেনভিলের হাতটা হেলগা নিজের হাতের মধ্যে নিয়ে বললো, বারবার আমি স্বপ্ন দেখে এসেছি তোমার মত একজন পুরুষকে নিজের করে পাবো ক্রিস।

    কিন্তু লক্ষ্মীটি এতে লাভ নেই কোন, গ্রেনভিল প্রস্তুত হয়ে নিলোঁ অভিনয়ের জন্যে, অপূর্ব লাগছে এই মুহূর্তও, কিন্তু সেই ভালোলাগা কতক্ষণ থাকবে।

    ওর মুখের দিকে অনুসন্ধানী দৃষ্টিতে তাকিয়ে প্রশ্ন করলো হেলগা, তুমি কি বলতে চাইছো?

    গ্রেনভিল হাসলো মনে মনে, তুমি আর আমি; কতবার এই কথাগুলো বলে বলে মহড়া দিয়ে সে রেখেছে, সম্ভব নয় হেলগা এটা। এই সুখ, আনন্দ…শুধু যদি তুমি না হতে এতো বড়লোক…

    হাত টেনে সরিয়ে দিয়ে ওর চোখের দিকে তাকিয়ে মুখোমুখি বসে প্রশ্ন করলো হেলগা, ক্রিস একটু বুঝিয়ে বলো তোমার কথাটা। হেলগার কণ্ঠস্বরের তীক্ষ্ণতা সাবধান করে দিলো .. গ্রেনভিলকে, সাধারণ মেয়ে মানুষ নয় হেলগা।

    হেলগা নিশ্চয়ই, খুবই স্পষ্ট ভাবে একথা বোঝানো যায়। তুমি যদি এতবড়লোকনা হতে, আমি বিয়ের কথা বলতাম। আর পৃথিবীতে এতো সুখী আর কিছুতেই আমি হতে পারি না, কিন্তু… জানো তো তুমি স্ত্রীর পয়সায় ইংরেজরা খায় না।

    বাজে কথা এসব শুনতে চাই না, কে তোমাকে খেতে বলেছে আমার পয়সায়, অনেক গুণ আছে তোমার। যদি একসঙ্গে তুমি আর আমি কাজ করি, দারুণ আমাদের জুটি হবে।

    গ্রেনভিল অস্বস্তিতে নড়ে চড়ে বসলো, হয়তো গুণ আছে আমার, কিন্তু সেসব কাজে লাগেনি টাকা পয়সা উপার্জনের দুজনেই অখুশি হবো ও ভাবে চললে। শুধু আনন্দে এই মুহূর্তগুলোই ভোগ করা যাক। আমি তারপর চলে যাবো। হেলগা বিশ্বাস করো–

    ক্রিস আজেবাজে বোকো না। কথা বোলো না বাজে অভিনেতার মতো। বিচ্ছিরি শোনাচ্ছে তোমার কথাবার্তা, বড় জোলো। আমরা বলছিলাম ভালোবাসার কথা, টাকার নয়। গভীর দৃষ্টিতে তারপর তাকিয়ে বললে, ক্রিস তোমায় আমি ভালবাসি, শুধু বললো আমায় ভালোবাসো কিনা তুমি?

    মনের আকাশে গ্লেনভিলের চিন্তার বিদ্যুৎ ঝিলিক খেলে গেলো, হায় ভগবান। একটা বিপজ্জনক মেয়েমানুষ। যে সবকথা এর আগে মন ভরিয়েছে কুত্তিগুলোর তারা তো গলে যেতে এসব কথা শুনে, আর এ বলে কিনা আমার কথা বিচ্ছিরি শোনাচ্ছে।

    ভালবাসি কিনা তোমাকে, তুমি এ প্রশ্ন করতে পারলে?উর্বর মস্তিষ্ক গ্রেনভিলের দ্রুত কাজ করে চলেছে, এত চমৎকার তোমার…

    ছাড়ো ওসব কথা, মাঝপথে ওকে হেলগা থামিয়ে দিলো, জানতে চাই আমি, আমায় তুমি ভালবাসো কিনা?

    গ্রেনভিল উদগত নিঃশ্বাসটা চেপে ভাবলো, এই ফাঁদ থেকে বেরোনো মুশকিল তার পক্ষে।

    সোনামণি হেলগা, তোমায় ভালবাসি আমি।

    একদৃষ্টিতে কয়েক সেকেন্ড ওর দিকে হেলগা তাকিয়ে রইলো, আর তার মুখের ভাবটা গ্রেনভিলও যথাসম্ভব চেষ্টা করলো সরল করার, যা বোঝার হেলগা বুঝে নিয়ে গা এলিয়ে দিলো চেয়ারে। ওর মনের পাষাণ ভার মনে হলো নেমে গেছে, হেলগা মৃদু হাসলো। পরিতৃপ্তির হাসি।

    তাহলে কোন সমস্যাই নেই আর। এসো ড্রিঙ্ক করা যাক একটু।

    টেবিলের ওপর রাখা কলিংবেলের বোম ঝুঁকে পড়ে টিপলো।

    হিঙ্কল ছাদে এলো রূপোর ট্রে হাতে নিয়ে। হিঙ্কল গ্লাস দুটো আর মদ মেশাবার শেকার ট্রে টা রাখতে রাখতে বললো, হয়তো মিঃ গ্রেনভিল পছন্দ করবেন অন্য কিছু। এতে তোদকা মার্তিনি শুধু আছে মাদাম।

    আমারও খুব ভাল লাগে এটা। গ্রেনভিল কথাটা বলেই বুঝতে পারলো তার গলা মদের জন্যে শুকিয়ে গেছে।

    হিঙ্কল মদ ঢালতে ঢালতে বললো, ডিনার তৈরি হয়ে যাবে আধ ঘণ্টার মধ্যে, মাদাম।

    হিঙ্কল আজ কি খাওয়াচ্ছ?

    এবেলা একটু তাড়াহুড়োয় করতে হয়েছে, রাতের খাবার জন্য আছে পায়েতে দ্য ফই, গ্রাস । আর চিকেন আলাকিং।

    হেলগা গ্রেনভিলের দিকে তাকালোইচ্ছে করলে তুমি খেতে পারো মাংসের স্টিক।

    না, না হিঙ্কল দারুণ হবে এই মেনু।

    মাথা নোয়ালো হিঙ্কল, তাহলে মাদাম আধঘণ্টা পরে। দারুণ সুন্দর সন্ধ্যেটা, এই ছাদেই আশাকরি ভাল লাগবে খাবার দিলে।

    চমৎকার।

    যতক্ষণ হিঙ্কল টেবিল সাজাচ্ছিলো চুপ করে থাকলো হেলগা আর গ্রেনভিল। সূর্য ধীরে ধীরে অঙ গেলো।

    রান্নাঘরে হিঙ্কল যাবার পর হেলগা বললো, তোমার সঙ্গে খাবার পর ক্রিস একটা সিরিয়াস আলোচনা আছে। ও সব কথা এখন হবে না। হেলগা তারপর কথা পাড়লো কি কি করা যাবে আগামীকাল, অনেক দূরে গিয়ে পাহাড়ের রাস্তা ধরে লাঞ্চ খাবো একটা ছোট্ট হোটেলে। খানিকটা বিশ্রাম পাবে হিঙ্কলও। ও নিশ্চয়ই রাতে ওর তৈরি আসাধারণ ওমলেট খাওয়াবে।

    খুশির ভাব দেখালেও বেশ দমে গেছে মনে মনে গ্রেনভিল। বেশ বুঝতে পারছিলো ও, ক্ৰমশঃ হেলগা ওকে পুরে নিচ্ছে মুঠোর মধ্যে। যাই হোক বিয়ের কথাতে শেষ পর্যন্ত আসা গেছে, আর তাকে আর্চার বলেছিলো তাই করতেই।

    হিঙ্কল সব সময়ে তাদের ডিনার খাবার সময়, ঘিরে রাখলো তাদের। ওরা দুজনে খাওয়ার পর অন্য টেবিলে গিয়ে বসলো, চেয়ারগুলো শোবার মত করে সাজিয়ে তাতে গা এলিয়ে সামনেই হ্রদের জলে রূপোলী চাঁদের ছায়া দেখতে লাগল।

    হিঙ্কল দিয়ে গেলো কফি আর ব্র্যান্ডি। টেবিল পরিষ্কার করে উঠতেই হেলগা বললো, তুমি এবার শুতে যাও হিঙ্কল। যা যা দরকার আমাদের সবই তো দিয়ে গেছে। সদরে তালা দিয়ে দেবেন  মিঃ গ্রেনভিল। নিশ্চয়ই তুমি ক্লান্ত।

    মাদাম ধন্যবাদ, যদি মনে করেন দরকার নেই আর কিছু, তবেই চলে যাবো আমি।

    দরকার নেই কিছুই। খাইয়েছে দারুণ ভাল, ভাল করে রাতে বিশ্রাম করো।

    আশা করি বিশ্রাম নেবেন আপনিও, ট্রে নিয়ে কথাগুলো বলে হিঙ্কল চলে গেলো।

    ভাবতেই পারি না আমি, আমার চলবে কি করে ওকেনা হলে। ও অঙ্গ হয়ে উঠেছে আমার জীবনের।

    গ্রেনভিল সিগ্রেট ধরিয়ে বললো, হ্যাঁ, বুঝতে পারছি আমিও।

    হেলগা কিছুক্ষণ চুপ করে থাকার পর বলতে শুরু করলো, নিজেদের সম্বন্ধে এবার ক্রিস একটু সিরিয়াসলি আলোচনা করা যাক। আর বেশ ভোলাখুলি ভাবেই। প্রথমে শুরু করছি আমি, হেরমানকে আমি শুধু পাবার আশাতেই বিয়ে করেছিলাম। পঙ্গু আর পুরুষত্বহীন ছিল ও, আর নিষ্ঠুর অসম্ভব। সুন্দরী আর বুদ্ধিমতী একজন গৃহিনীর ওর প্রয়োজন ছিলো নানা ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যে, আমি সেদিক দিয়ে ছিলাম আদর্শ। কোনো প্রশ্নই ছিলো না ঠকাবার অথচ ওকে ঠকিয়েছিলাম আমি। এমন একটা জিনিস আমি চাই যা অভিশাপ ছাড়া বলা যায় না আর কিছু, আমার একটা পুরুষের প্রয়োজন গ্রেনভিলের হাতে হাত রেখে হেলগা হেসে বলে চললো, আমি ক্লান্ত হয়ে উঠছিলাম আজে বাজে ব্যাপারে। একজন কাউকে আমার চিরকালের মত চাই। আমি এর আগে কাউকে ভালবাসিনি। এখন বেসেছি একজনকে–তোমাকে।

    গ্রেনভিল চমকে উঠলো হেলগার নিলাজ স্বীকারোক্তিতে, হেলগা তোমাকে আমিও ভালোবাসি। কিন্তু বলার আছে একটা ব্যাপার, কিছুতেই আমি একজন মহিলার ঘাড়ে বসে খেতে পারবো না। অত্যন্ত ধনী তুমি।

    ঠিক আছে। আমি তোমাকে চাই না অপমান করতে। একটা কথা বলো এবার, যদি আমি বিলিয়ে দিই সব টাকা পয়সা, তবে কি আমায় তুমি বিয়ে করবে?

    হাঁ করে গ্রেনভিল চেয়ে থাকলে তার দিকে, কিন্তু তা তুমি করতে পারবে বলে মনে হয় না।

    ওসব কথা ছাড়ো, কি পারবো আর পারবো না তোমায় ও নিয়ে মাথা ঘামাতে হবে না। শুধু বলো তোমার সমান টাকা যদি আমার থাকে তবে কি আমায় তুমি বিয়ে করবে?

    গ্রেনভিল আবার ফাঁদে পা দিচ্ছে, নিশ্চয়ই পিরবো।

    হেলগা মিষ্টি করে হাসলো, কিছু নেই অত দুঃশ্চিন্তা করার, ঐ ধরণের কোনো বোকামী নিশ্চয়ই আমি করতে যাচ্ছি না, এই যাদুকাঠিটি স্বামীর দেওয়া অবহেলায় ফেলে দেবার লোক আমি নই। এ দিয়ে অনেক অসাধ্য সাধন করা যায় পৃথিবীতে। অতএব…তোমার পর্যায়ে আমি নিশ্চয়ই নেমে আসছিনা, বরং আমার স্ট্যান্ডার্ডে তোমাকেই উঠে আসতে হবে। তুমি যদি পঞ্চাশ লাখ ডলার নিজে উপার্জন করতে পারো তবে কি তুমি বিয়ে করবে আমায়?

    মনের অস্থিরতা গোপন করার জন্যে গ্রেনভিল অকারণে চুলের মধ্যে আঙুল চালাতে চালাতে বললো, হেলগা, এসব কথা প্লিজ বন্ধ করো। কোনোদিনও আমি পঞ্চাশ লাখ ডলার পারবো না, উপার্জন করতে।

    তোমায় আমিই দেখিয়ে দেবো কি ভাবে করা যায়।

    হেলগার দিকে অবিশ্বাসের ভঙ্গীতে গ্রেনভিল তাকিয়ে রইলো।

    কি ভাবে?

    তোমার প্রতিভাকে কাজে লাগিয়ে। তোমাকে সিনিয়ার পার্টনার করে নেবো আমার ব্যবসায়ে। একটা কারখানা খুলছি আমরা ফ্রান্সে, এরপর খুলবো জার্মানীতেও। তোমার আচার-আচরণ, তোমার চেহারা, বিভিন্ন ভাষার জ্ঞান এসব নিয়ে তোমার পক্ষে কাজ করা খুবই সহজ হবে। তুমি থাকলেই কোনো না কোনো ভাবে টাকা উপার্জন হয়ে যাবে। তিন চার বছর এইভাবে কাজ করলেই জমে যাবে পঞ্চাশ লাখ ডলার। আর তাও যদি না চাও তোমাকে ছয় পারসেন্ট সুদে ধার দিচ্ছি পঞ্চাশ লাখটাও যে কোন না ভাবেই হুহু করে আসবে টাকা। তাহলে আমাদের কালকেই বিয়ে হতে পারে?

    হেলগার সঙ্গে কাজ করা অফিসে, দুজনে বিকেলে গাড়ি চালিয়ে একসঙ্গে বাড়ি ফেরা, অ্যাকাউনটেন্ট এক্সপার্টদের চারপাশে ভীড়না, না, গ্রেনভিল ভয়ে শিউরে উঠলো।

    অসাধারণ তুমি হেলগা, অফারও তোমার অসাধারণ, তবে বলছি খোলাখুলি, এসবে যোগ্য আমি নই। এসব কাজ, বিশ্বাস করা কখনো করিনি, করতে পারবো না।

    পারবে নিশ্চয়ই, ইস্পাতের কাঠিণ্য হেলগার কণ্ঠস্বরে, আমি আছি তোমার পিছনে, সারা কোম্পানী আছে আমার, মজা হবে দারুণ।

    আর্চারের উপদেশটা হঠাৎ মনে পড়ে গেলো– প্রেম করোনা ওর সঙ্গে। দারুণ উত্তেজনা বোধ করছি তোমার কথা শুনে হেলগা, একটু চিন্তা করার সময় দেবে আমাকে, ভেবে দেখি একটু। তবে আমার মনে হচ্ছে, একটা কথা যদি তুমি আমার পাশে থেকে সাহায্য করো, পিরবো নিশ্চয়ই। কিন্তু এই মুহূর্তে এখন তোমাকে চাঁদের আলোতে দেখে, ভীষণ ভালবাসতে আর আদর করতে ইচ্ছে করছে আমার।

    শক্ত মুঠিতে গ্রেনভিলের হাত ধরে, আবেগে বলে উঠলো হেলগা, হ্যাঁ, ক্রিস এসো, কাছে এসো আরোও, ভালোবাসো।

    তারপর জড়াজড়ি করে দুজনে হাঁটলো অনেকক্ষণ ছাদের ওপর। হেলগা ওকে ঘরের ভিতরে নিয়ে এসে বললো জানলাগুলোর সাটার নামিয়ে দিতে, হেলগা শোবার ঘরে ঢুকলো, বুকে আনন্দের আতিশয্য নিয়ে।

    জলখাবারের ট্রলিটা নিয়ে পরদিন ঠিক সকাল সাড়ে আটটায় হেলগার ঘরে হিঙ্কল ঢুকলো। জানলার পর্দা সরাতেই ঘর ভরে গেলো আলোর বন্যায়। আর ঠিক তখনই ধড়াস করে উঠলো বুকটা হেলগার, পাশে কেন নেই গ্লেনভিল?

    কোথায় মিঃ গ্রেনভিল? হেলগা তীক্ষ্ণ গলায় প্রশ্ন করলো।

    মাদাম, সাঁতার কাটছেন।

    হেলগার বুক থেকে পাষাণ নেমে গেলো। চুলটা এলিয়ে নিয়ে হাতে তুলে নিলো কফি কাপ–কখনও তোমার এক মিনিট দেরী হয় না, হিঙ্কল তাই না?

    হিঙ্কল প্রশংসায় কান না দিয়ে বললো, দারুণ সুন্দর সকালটা। আশা করি নিশ্চয়ই ঘুম হয়েছিল ভাল।

    হাসলো হেলগা, ঘুমিয়েছি দারুণ। খাটের পাশে ট্রলিটাকে সরিয়ে দিয়ে জানতে চাইলে হিঙ্কল কোথায় খাবেন লাঞ্চ হেলগা।

    পাহাড়ের দিকে বেড়াতে যাচ্ছি আমরা, তবেচারটে হবে ফিরতে, তোমার ঐ বিখ্যাত ওমলেট ডিনারে খাইয়ো, নিশ্চয়ই মাদাম, চলে গেলো হিঙ্কল, গ্লেনভিলের কথা শেষ কফিটুকু খেতে খেতে চিন্তা করছিলো হেলগা। গ্রেনভিলের তুলনা হয় না শয্যাসঙ্গী হিসেবে। এবার নিশ্চয়ই আর অস্বীকার করবে না গ্রেনভিল তার কোম্পানীতে যোগ দিতে, তবে লুগানোতে কিন্তু বিয়ে হবে না, হবে প্যারাডাইস সিটিতে। গ্রেনভিলকে পাঁচজনের সামনে তুলে ধরার ব্যাপারটা বেশ জাঁকজমক করেই করতে হবে। হেলগার বুক উত্তেজনায় কাঁপতে লাগলো।

    ওরা প্লেনে করে এই সপ্তাহের শেষে প্যারাডাইস সিটিতে চলে যাবে। তখন বিয়ের কথাটাও ঘোষণা করা হবে। আয়োজনের তো শেষ থাকবে না। খবরটা লোমান আর উইনবর্গ শুনে কি করবে সেটা মনে মনে ভেবে হেলগা হেসে নিলো, ওদের নামটা মনে পড়তেই হেলগার ভ্রু কুঁচকে উঠলো। কোনো কিছু উইনবর্গ বা লোমানকে না জানিয়েই ও গ্রেনভিলকে এখানে নিয়ে চলে এসেছে। এবং নিজের বেশির ভাগ পোশাকও ফেলে এসেছে প্লাজা এথিনী হোটলে।

    এও তো উইনবর্গ মনে করতে পারে ওকে কেউ নিয়ে গেছে চুরি করে, হেলগা লাফিয়ে নেমে পড়লো খাট থেকে। তারপর দ্রুতগতিতে স্নান সেরে বেরিয়ে এলো পোশাক পরে। গ্রেনভিলের সঙ্গে দেখা হলো বাইরেই। ও নিজের ঘরে তোয়ালে জড়িয়ে ফিরছিলো, ওর কাছে গিয়ে দৌড়ে চুমু খেয়ে প্রশ্ন করলে হেলগা, ভাল লাগলে সাঁতার কাটতে?

    অপূর্ব।

    মনে পড়ে গেলো এইমাত্র…. আমি কোনো খবরই দিয়ে আসিনি অফিসের লোকদের। কফি দিতে বলো হিঙ্কলকে, এখুনি আসছি আমি।

    হেলগা বসবার ঘরে গিয়ে টেলিফোন করল, একটা প্যান্ট আর হাইনেক সোয়েটার পরে গ্রেনভিল ছাদে এসে বসলো।

    স্যার চা না কফি, হিঙ্কল যেন উদয় হলো শূন্য থেকে।

    কফি…. আর কিছু না ওখানে বসে গ্রেনভিল অস্পষ্ট শুনতে পাচ্ছিল হেলগার কথাবার্তা, একটু সময় দরকার এবার, দেখা না করলেই নয় আর্চারের সঙ্গে, কিন্তু কি ভাবে?

    হেলগার প্রস্তাবটা নিয়ে সাঁতার কাটার সময় গ্রেনভিল অনেক চিন্তা করেছে। ওর পক্ষে পঞ্চাশ লাখ ডলার চার বছরের মধ্যে অসম্ভব উপার্জন করা,না, প্রথমে দশ লাখ ডলার এসে যায় আর্চারের ফন্দীতে, তার চেষ্টা করতে হবে যদি না হয় নতুন করে তখন ভেবে দেখবে হেলগার কথা। সবার আগে এখন আর্চারের সঙ্গে দরকার দেখা করা।

    কফি আনলো হিঙ্কল, গলফ খেলার মাঠ আছে কাছাকাছি কোথাও, প্রশ্ন করলো গ্রেনভিল।

    হ্যাঁ, আছে স্যার, পন্টিটেরেসাতে। মোটমুটি ভালই মনে হয়।পন্টিটেরেসাতে। একটা ম্যাপ আছে আমার কাছে, যদি চান দিয়ে যেতে পারি।

    ধন্যবাদ, একবারটি ওটা দিও।

    কফি শেষ করে গ্রেনভিল ম্যাপটা দেখে নিলো, বেশ বিরক্ত মুখে হেলগা তখন এলো, বোধহয় আবার আমাকে আটকে পড়তে হবে। কোনো কর্মের নয় আমার বুদু লোকগুলো, কি একটা গণ্ডগোল বাঁধিয়ে বসছে ভার্মাইয়ের জায়গাটা কেনার ব্যাপারে।

    পাশে বসে গ্লেনভিলের হাতটা কোলে তুলে নিয়ে হেলগা বললো, আর এই জন্যেই আমার ভীষণ দরকার তোমাকে। একসঙ্গে তুমি আর আমি কাজ করলে কোনো গণ্ডগোেল হবে না। আমি ঠিক করেছিলাম, পাহাড়ের দিকে দুজনে মিলে বেড়াতে যাবো। কিন্তু তা আর এখন হচ্ছে না, ফোন আসবে কতকগুলো এবং আমাকে তার জন্যে অপেক্ষা করতে হবে।

    আর গ্রেনভিলের কাছে অযাচিত সুযোগ এনে দিলো এটাই, হেলগা বুঝতে পেরেছি, যে কথাগুলো গতরাতে আমায় তুমি বলেছিলে সে সম্বন্ধে আমাকে একটু ভাববার সময় দিতে হবে। যদি গলফ খেলতে যাই আমি, তোমার কি খুব অসুবিধে হবে? আমার মাথা খুলে যায় গলফ খেলার সময়ে, অরাধ সুযোগ পাই চিন্তা করার। তোমার প্রশ্নের উত্তরটাও ফেরার সময় আনবো।

    তখন হেলগার মাথায় ব্যবসার চিন্তা, সম্মত্তি দিলো মাথা হেলিয়ে, যাও না, ভালই তো, নিয়ে যাও রোলসটা। তা কখন ফিরবে?

    ফিরবো, তিনটের মধ্যে, চলবে তো?

    নিশ্চয়ই, কিন্তু গলফ খেলার ষ্টিক…. দরকার নেই ষ্টিকের?

    চেয়ে নেবো ক্লাবের কারুর কাছ থেকে, তাহলে চলি, গ্লেনভিল বেরিয়ে পড়লো হেলগাকে চুমু খেয়ে।

    ওকে চলে যেতে দেখে হেলগা হতাশ হলো খুব, ওর খুব ইচ্ছে করছিল গ্রেনভিল এই সময় ওর পাশে থাকুক, করা যাবে নানা আলোচনা, নেওয়া যাবে ওর মতামত। এবং বুদ্ধিও ওর খানিকটা পরীক্ষা হয়ে যাবে। আচ্ছা পালিয়ে তো যাচ্ছে না সময়, হেলগা ভাবলো।

    গ্রেনভিলকে গাড়ি হাঁকিয়ে চলে যেতে দেখলো ছাদে দাঁড়িয়ে, তারপর এলো শোবার ঘরে। বিছানা সবে মাত্র ঝেড়ে মুছে হিঙ্কল পরিষ্কার করেছে।

    কিছু খাবার, হালকা লাঞ্চের মত দিতে পারবে হিঙ্কল, কয়েকটা ফোন করার আছে আমার। আর গলফ খেলতে গেছে মিঃ গ্রেনভিলও, মনে হয় না লাঞ্চের আগে ফিরতে পারবেন বলে।

    মাদাম নিশ্চয়ই পিরবো! অস্থিরভাবে ঘরের মধ্যে পায়চারি করতে করতে হেলগা বললো হিঙ্কল ওকে সত্যিই কিন্তু আমি ভালবেসে ফেলেছি, আমাদের কারবারে ওকে একটা পোষ্ট নেওয়াবার চেষ্টা করছি, ও বলেছে ঠিক কথাই, ওকে যদি রাজী করাতে পারি তবে বিয়ে হবে আমাদের।

    তাতে যদি, মাদাম সুখী হন আপনি, হিঙ্কল কথাগুলো বলে চলে গেলো, ও যে প্রস্তাবটা পছন্দ করেনি সেটা বোঝা গেলো।

    শুরু করলো টেলিফোন বাজতে, হেলগা পরের তিন ঘণ্টা ব্যস্ত রইলো, হেরমান রলফ ইলেকট্রনিক করপোরেশনের ব্যাপারে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91 92 93 94 95 96 97 98 99 100 101 102
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleব্ল্যাক অর্ডার (সিগমা ফোর্স – ৩) – জেমস রোলিন্স
    Next Article জেমস হেডলি চেজ রচনা সমগ্র ২ (অনুবাদ : পৃথ্বীরাজ সেন)

    Related Articles

    জেমস হেডলি চেজ

    জেমস হেডলি চেজ রচনা সমগ্র ২ (অনুবাদ : পৃথ্বীরাজ সেন)

    August 18, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }