Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    জেমস হেডলি চেজ রচনা সমগ্র ১ (অনুবাদ : পৃথ্বীরাজ সেন)

    জেমস হেডলি চেজ এক পাতা গল্প2631 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৫. ম্যাডক্স-এর অফিস-ঘরে

    ০৫.

    ম্যাডক্স-এর অফিস-ঘরের বাইরেই একটি ছোট কামরায় বসে তার সেক্রেটারী মিস প্যাটি একমনে টাইপ করছিল। অ্যানসন-এর পায়ের শব্দে সে চোখ তুলে তাকালো, আরে মিঃ অ্যানসন! ওঃ কত দিন পর আপনার সঙ্গে দেখা। ভুলেও কি এপথ একবার মাড়াতে নেই। তারপর খবর টবর কি? কেমন আছেন, কাজকর্ম কেমন চলছে?

    প্যাটিকে ন্যাশানাল ফাইডেলিটির সব সেলস্ম্যানই পছন্দ করে। রূপও যেমন, গুণও তেমনি, আচার-ব্যবহার ভদ্র বিনয়ী। হেসে ছাড়া কারো সঙ্গে কথা বলে না। কার কি অসুবিধা, কিভাবে তা মেটাতে হবে, ম্যাডক্স কিরকম কি করতে পারেন। কিরকম ভাবে কথা বললে তিনি চটবেন না, এ সব ব্যাপারে প্যাটির পরামর্শ এর সাহায্যে অপরিহার্য? সত্যিই মেয়েটা ভালো।

    খবর সবই ভালো। অ্যানসন প্যাটির দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসল। কিন্তু ব্যাপারটা কি? এত জরুরী তলব কেন?

    ওই যে সেই ভোদেক্স-এর গাড়ির অ্যাকসিডেন্ট। ওর ইচ্ছে দাবীটা এড়ান। এ ব্যাপারে আপনার পরামর্শের জন্যই আপনাকে ডাকা।

    এই তা হলে ব্যাপার? অ্যানসন বুক ভরে নিশ্বাস নিল, এতক্ষণে হাফ ছেড়ে গেল বাবা। এদিকে যে সাত-পাঁচ কত কি ভেবে কাল থেকে মাথা খারাপ করে মরছি।

    দাবী মেটাবে না মানে কি, না মিটিয়ে কোথায় যাবে? ভোল্পে মাতাল হতে পারে, তা বলে তার স্বভাব-চরিত্র সম্বন্ধে বলার কিছু নেই। টাকা আমাদের দিতেই হবে।

    আপনি তো সবই জানেন, আপনাকে আর নতুন করে কি বলবো। টাকা না দিতে পারলেই উনি খুশী। টাকা ওর গায়ের মাংস। প্যাটি স্বয়ংক্রিয় টেলিফোনের বোতামে চাপ দিল, স্যার, মিঃ অ্যানসন এসেছে।

    ভারী গলায় আদেশ এল–এখনি পাঠিয়ে দাও।

    প্যাটি মিষ্টি করে হেসে বলল, যান ঢুকে পড়ুন। সিংহের খাঁচায় ড্যানিয়েলের গল্পটা সব সময় মনে রাখবেন। ড্যানিয়েল সিংহ দেখে কিন্তু এতোটুকু ঘাবড়ে যায়নি। সিংহ ও তাই তার গায়ে আঁচড়টি পর্যন্ত কাটেনি। ঘাবড়াবেন না। মিঃ ম্যাডক্স মানুষ, বাঘ ভাল্লুক না।

    নিজে যা বোঝেন, ভাল ভাবেন, তাই নিয়ে নিঃসঙ্কোচে একচোট লড়ে যাবেন ব্যস্ আর কি?

    অ্যানসন চেষ্টা করে একটু হাসল, তারপর এগিয়ে গিয়ে দরজা ঠেলে ঢুকলো ম্যাডক্স-এর ঘরে।

    ম্যাডক্স বিরাট ডেস্কের ওপাশে বসে আছেন। চারপাশে তার স্তূপীকৃত ফাইলের রাশি। মেঝেয় চেয়ারের ওপর সব জায়গায় শুধু ফাইলের ছড়াছড়ি। দেখে মনে হয় পৃথিবীতে ফাইল ছাড়া এ লোকটা আর কিছুই জানে না।

    মিঃ ম্যাডক্স একখানা পলিসি বেশ খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়ছিলেন। ডান হাতের মোটা দু আঙ্গুলের ফাঁকে ধরা জলন্ত সিগারেট। মাথার কাছাকাছি ধূসর চুল, লাল মুখে প্রছন্ন ভ্রূকুটি, মোটা সোটা চেহারা চওড়া কাধ, মর্মভেদী সজাগ দৃষ্টি, পরণে দামী পোশাক। লোকটা সব মিলিয়ে কিন্তু তেমন লম্বা চওড়া নয়। বরং কাঁধ বা চেহারার তুলনায় ছোট-খাট। একটু ঢিলেঢালা, অগোছালো স্বভাবের মানুষ,কথা বলতে বলতে মাথার অবশিষ্ট চুলকগাছিতে আঙুল চালানোতার বরাবরকার অভ্যাস।

    অ্যানসনকে ঢুকতে দেখে মুখ তুলে চেয়ারে পিঠ এলিয়ে দিলেন ম্যাডক্স। বসুন, এই বদমাইস ভোদেল্পকে নিয়ে তো মহা মুশকিল হল দেখছি।ব্যাপারটা হলো,ব্যস্ শুরু হলো গাল-মন্দ, দেশের তাবৎ বীমাকারী ব্যক্তির আদ্যশ্রাদ্ধ শুরু করলেন তিনি। আনসন বসে বসে নীরবে সব শুনলো।

    মিনিট কুড়ি ধরে একনাগাড়ে তার এই বকবকানি চলল। তারপর বক্তৃতা শেষ করে সিগারেটের প্যাকেট থেকে আর একটা সিগারেট তুলে নিয়ে অগ্নিসংযোগ করে একমুখ ধোঁয়া ছাড়লেন। বললেন অবশ্য একটা ব্যাপার বুঝতে আমার কষ্ট হচ্ছে না যে টাকা আমাদের দিতেই হবে।

    ওঃ চল্লিশ হাজার ডলার। আমার মাথার চুল ছিঁড়ে ফেলতে ইচ্ছে করছে। আপনারা সেলসম্যানরাই তো আমার সর্বনাশ করবেন দেখছি। ইনসিওর করার আগে একবারও ভেবে দেখলেন না যে লোকটা নেশারু, পাঁড়- মাতাল। মদে সবসময় চুর হয়ে থাকে। তা সেসব দেখবেনই বা কেন?

    আপনাদের নজর কেবল কমিশনের দিকে।কমিশন পেলেই সবচুকেবুকে গেল। ছিছি সামান্য একটু ভুলের জন্য কোম্পানির নগদ চল্লিশটা হাজার ডলার একেবারে জলে গেল।

    এতক্ষণে অ্যানসন মুখ খুলল। আমার দোষটা কোথায়। আমার কাজ ইনাসওর করানো। ভুল যদি কিছু হয়েই থাকে তাহলে ডাক্তার সিভেল গিয়ে ধরুণ। ভোদেক্সকে পরীক্ষা করে তিনি সার্টিফিকেট দেওয়ার পর আমি তাকে দিয়ে সই-সাবুদ করিয়েছি। এক পাও নিয়ম না মেনে এগোইনি। অবশ্য কোম্পানির প্রচলিত নিয়মকানুন সম্বন্ধে যদি কিছু বলার থাকে তাহলে–অ্যানসন আড়চোখে তাকাল তবে আমাকে নয়, আপনি বরং মিঃ বারোজকে গিয়ে বলুন নিয়ম-টিয়ম সব পাল্টে ফেলতে।

    সে ইচ্ছে করেই মিঃ বারোজের নামটা বলল। ম্যাডক্স-এর মতো লোককে কাবু করতে হলে এরকম দু-চারটে নাম সব সময় ঠোঁটের গোড়ায় রাখতে হয়।

    মিঃ বারোজ–ন্যাশনাল ফাইডেলিটির প্রেসিডেন্ট। এই বিরাট প্রতিষ্ঠানের ওই একটি মাত্র লোককে ম্যাডক্স সমীহ করে কথা বলেন।

    ম্যাডক্স হাত তুলে বললেন, ব্যস্ ব্যস্ আমাকে জ্ঞান দিতে হবে না। কাকে কি বলা দরকার সেটা আপনার চেয়ে আমি কিছু মাত্র কম বুঝি না। আর স্টিভেলকেও বলিহারি যাই, এত বয়েস হল, এত রোগী ঘাটলো অথচ লোকটা যে একটা পাঁড় নেশারু সেটা একবারও তার মাথায় ঢুকল না।

    অ্যানসন দৃঢ়তা সহকারে বলল যে ভোদেক্স মোটেই নেশারু নয়। অ্যাকসিডেন্টের দিন সে মদ খেয়েছিল ঠিকই, হয়তো একটু বেশী খেয়েছিল। তাই বলে আপনি তাকে নেশারু বলতে পারবেন না।

    যাকগে ওসব বাদ দিন, এখন বলুন কাজ-কর্ম কেমন চলছে।

    চলছে মোটামুটি। এ মাসটা তেমন সুবিধার নয়। টাকা অনেকেই দিয়ে রেখেছিল কিন্তু মুঠো খুলছে না কেউ।

    খুলছে না বললে শুনবো না, হাত বাড়িয়ে টেবিলের স্তূপীকৃত পলিসির মধ্যে থেকে একখানা পলিসি তিনি তুলে নিলেন। কিসে যে আপনাদের আশ মিটবে স্বয়ং ভগবানও বোধহয় তা–ঠিক করে বলতে পারবেন না। এইতো ফিলিপ বারলোর এই পলিসিটা এটা তো আপনিই করিয়েছেন। জপিয়েছেন তো ভালই দেখছি, পাঁচ নয় দশ নয় একেবারে পঞ্চাশ হাজার ডলার।

    ওঃ সেই বারলোর পলিসিটা, অ্যানসনের মুখের রেখা এতটুকু বদলালো না। যেহেতু ভাগ্যটা নেহাৎ ভালো তাই হয়েছে। একদিন চিঠি পাঠাল, দেখা করতে গেলাম; ব্যস্ মাছ চারে এলো।

    চার মানে বেশ বড়সড় চার বলুন। একেবারে পঞ্চাশ হাজার। পলিসিটা টেবিলে রেখে তিনি অ্যানসনের দিকে তাকালেন তা আপনার এই বারলো মহাশয়টা কি করেন?

    গেদো বাংলায় মালী, শুদ্ধ বাংলায় উদ্যানশিল্পী, সহজ-সরল ভঙ্গিতে অ্যানসন তার দিকে তাকান, সত্যি কথা বলতে কি, ওর মতো বাগানের কাজ জানা লোক আমি জীবনে দুটো দেখিনি মিঃ ম্যাডক্স। ফ্রামলের দোকানের পুষ্পবিভাগের উনিই সর্বেসর্বা, ওর বাড়ীতে যা একখানা বাগান আছে, দেখলে চোখ একেবারে জুড়িয়ে যায়। আহা কি একখানা নিপুণ হাতের কাজ–অনেক বাগান দেখেছি কিন্তু এত সুন্দর না।

    ঠিক আছে, ঠিক আছে বাগানের আমি কিছু বুঝিও না, বুঝতে চাইও না। আমি শুধু বুঝি কাজকাজের পর কাজ ব্য। তা, যে লোকটা সামান্য একটা চাকরী করে সে হুট করে এত দামের বীমা করতে গেল কেন?

    কেন আবার, টাকার জন্য। স্বাধীন ব্যবসা করবে, টাকা পয়সা তেমন নেই। পলিসি বন্ধক রেখে ব্যাঙ্ক থেকে ধার নেবে এই হচ্ছে উদ্দেশ্য। তা লোকটার মাথা আছে। বছর দুয়েকের মধ্যে ঠিক দাঁড়িয়ে যাবে।

    দাঁড়ালে তো ভালই, না দাঁড়িয়ে যদি শুয়ে পড়ে, হঠাৎ পটল তোলে, তাহলেই গেছি। আবার পঞ্চাশ হাজারের ধাক্কা।

    ওর হঠাৎ পটল তোলার কোনও সম্ভাবনা নেই। স্টিভেল পরীক্ষা করে ওর স্বাস্থ্য সম্বন্ধে ভাল রিপোর্ট দিয়েছেন।

    স্টিভেন্সের কথা আর আমাকে বলবেননা। ও একটা আস্ত হাতুড়ে না হলে একটা লোক মাতাল ও কেন পরীক্ষা করে বুঝতে পারে না।

    অ্যানসন কোনও জবাব না দিয়ে অন্যদিকে মুখ ফিরালে। ম্যাডক্স আর একটা নতুন সিগারেট ধরিয়ে জিজ্ঞেস করলো, তা মরলে টাকা পাবে মিসেস বারলো, জানতে পারি ইনি কে? ওঁর স্ত্রী নাকি?

    হ্যাঁ। অ্যানসনের বুকের স্পন্দন বাড়লো।

    তা ইনি কেমন?

    কেমন মানে দেখতে কেমন?

    হ্যাঁ সবাইকেই চিনে রাখা দরকার। এক দোকানের সামান্য মাইনের চাকুরে এত বড় টাকার বীমা করল দুম করে স্বভাবতই মনে নানারকম প্রশ্ন জাগে। কেমন তিনি?

    ভালোই মানে মোটামুটি চলনসই।বছর সাতাশেক বয়েস।ওনার সঙ্গে বেশীকথাবার্তা বলার সুযোগ হয়নি। যতটুকু দেখেছি মনে হয় ওরা দুজনে সুখী।

    পলিসিটা ম্যাডক্স আবার হাতে তুলে নিলেন। একদৃষ্টে অনেকক্ষণ তাকিয়ে থেকে ঘাড় তুলে বললেন প্রিমিয়ামের এতগুলো টাকা উনি নগদে দিলেন?

    হ্যাঁ দিলেন। ব্যাঙ্কে টাকা পয়সা রাখা উনি একেবারেই পছন্দ করেন না। বাড়িতেই রাখেন। কোন কিছু গণ্ডগোল হয়েছে নাকি?

    না গণ্ডগোল নয়। তবে নগদে অতগুলো টাকা। মনটা একটু খুঁতখুঁত করছে।

    অ্যানসন মাথা নীচু করে টাইটা ঠিক করল। ম্যাডক্স গলগল করে একমুখ ধোয়া ছাড়লেন। তাহলে ব্যবসার জন্য পলিসি বন্ধক রেখে উনি টাকা পেতে চান, এই তো?

    আমাকে তো সেইরকমই বললেন?

    কি যেন করবেন? বাগানের ব্যবসা। হ্যাঁ, বাগানের ব্যবসা মানে কিন্তু দু-চার পয়সার ব্যাপার নয়। দস্তুরমতো অনেক টাকার দরকার, জমি কেননা, চারা বড় করার জন্য বাড়ি বানাও, মেসিন কেননা, এটা কেননা ওটা কেননা সে একেবারে হাজারো বায়নাক্কা, আমার সব মনেও নেই।

    তা–ওর মোট কত মূলধন দরকার?

    কি জানি আমাকে যেচে কিছু বলেনি, আমিও জানতে চাইনি। আমাকে বললেন বীমা করাতে চাই আমিও কথা বাড়ালাম না। করিয়ে দিলাম, চুকে গেল ঝামেলা।

    হ্যাঁ তা তো ঠিকই। আপনার আর কি? আপনার কাজ যেহেতু বীমা করানো সেহেতু বীমা করিয়ে দিয়েই আপনি খালাস।

    অ্যানসন বলল, এটুকুর বেশী আমি করতে যাবোই বা কেন? যা মাইনে আপনারা দেন তাতে এর বেশি কিছু করা সম্ভব নয়। যাই হোক এখন যেতে হবে আর কোন কথা আছে?

    ম্যাডক্স অন্য দিকে তাকিয়ে বললেন না আর কোন কথা নেই। তাহলে আজ চলি। পরে আবার দেখা হবে।

    ম্যাডক্স যন্ত্র চালিতের মতো ঘাড় নাড়ল। অ্যানসন গটগট করে বেরিয়ে গেল। তিনি চোখ ফেরালেন। চোখ গিয়ে পড়ল বারলোর পলিসিটার ওপর। তিনি সেদিকে একদৃষ্টে খানিকক্ষণ তাকিয়ে রইলেন। তার কপালে একের পর এক চিন্তার রেখা ফুটে উঠল, হঠাৎ কি মনে হতে স্বয়ংক্রিয় টেলিফোনের বোতামে চাপ দিলেন, হারমাস কোথায়?

    প্যাটি বললো, এখানেই আছেন। পাঠিয়ে দেব।

    হ্যাঁ তাড়াতাড়ি পাঠিয়ে দাও।

    ঠিক তিন মিনিট পর দরজা ঠেলে ঘরে ঢুকলেন, স্টিভ হারমাস, ম্যাডক্স-এর দাবী পূরণ দপ্তরের প্রধান তদন্তকারী। লম্বাশক্ত সমর্থ চেহারা। চওড়াকাধ।বছর তেত্রিশেক বয়েস। গায়ের রং উজ্জ্বল শ্যামবর্ণ। মুখখানা লম্বা ঘোড়ার মতো। দেখলেই বোঝা যায় হারমাস একটি পাকা ধুরন্ধর।

    সবদিক থেকেই হারমাস ম্যাডক্স-এর ভারী প্রিয়, শুধুতাকে একটি মাত্র কারণে তিনি কিছুতেই বরদাস্ত করতে পারেন নি। হারমাস ম্যাডক্স-এর এক প্রিয় সেক্রেটারীকে ভালবেসে বিয়ে করেছিলেন। এটা যে কতবড় অপরাধ তবুও তিনি হারমাসকে ভালবাসেন, নোকটার তদন্ত করার কায়দা আছে বটে।

    হারমাস একটা চেয়ারে বসে ম্যাডক্স-এর দিকে তাকিয়ে বললেন, কি ব্যাপার জরুরী তলব কেন?

    বারলোর পলিসিটা তার দিকে ছুঁড়ে দিয়ে মিঃ ম্যাডক্স বললেন, এই নাও এটা দেখো।

    হারমাস ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে পলিসিটা দেখলেন। তারপর চোখ তুলে বললেন, হুম্ একেবারে ছবির মতো, অ্যানসন জপিয়েছে বেশ।

    ম্যাডক্স চেয়ারেশরীর এলিয়ে দিয়ে হাসলেন।ঠিক পুরোপুরি ছবির মতো নয় হারমাস। বারলো প্রু টাউনে ফ্রামলের দোকানের সামান্য মাইনের একজন চাকুরে। হঠাৎ দুম করে পঞ্চাশ হাজারী বীমা সে করতে যাবে কেন? পলিসিটা তুমি নিয়ে যাও। একবার এ বিষয়ে খোঁজখবর করো।

    হু, ব্যাপারটা যেন একটু গোলমেলে ঠেকছে।

    গোলমেলে তো বটেই তিনি যদি দয়া করে হঠাৎ একদিন পটল তোলেন। ব্যস সোজা পঞ্চাশ হাজারের ধাক্কা। অ্যানসনকে বেশ সুন্দর বুঝিয়েছে বাগানের ব্যবসা করার জন্য নাকি পলিসি বন্ধক রেখে ব্যাঙ্কের কাছ থেকে টাকা নেবে। বেশ সে না হয় মানলুম, যে, সে ব্যবসাই করবে কিন্তু বাগানের ব্যবসার জন্য পঞ্চাশ হাজার কিসে লাগবে?

    টাইটা ঠিক করে হারমাস মাথা চুলকোলেন। কোন জবাব দিলেন না। ম্যাডক্সকে তিনি ভালভাবেই জানেন, তিনি এখন নিজের মনেই কথা বলছেন প্রশ্নের জবাব তিনি শুনতে চান না।

    সুতরাং বুঝতেই পারছে যে সন্দেহের পোকা আমার মাথায় ঢুকেছে। কেমন যেন একটা জাল জোচ্চুরির গন্ধ পাচ্ছি। তুমি দেখো, যা করবার করো। সন্দেহ মোচনের ভার আমি তোমার হাতেই ছেড়ে দিলাম।

    হারমাস মৃদু হেসে বললেন, আচ্ছা মিঃ মসডক্স আপনার সন্দেহের ছোঁয়া লাগেনি, এমন কোনো পলিসি আপনি কোনোদিনও চোখে দেখেছেন কি?

    দেখেছি, নামমাত্র কয়েকটা, আঙুলে গুণে তার সংখ্যা বলে দেওয়া যায়। এখন শোনো এই পলিসিটার ব্যাপারে তোমাকে কি কি করতে হবে। প্রথমেই জানতে হবে বারলো কে, সে কিরকম লোক। টাকা পয়সা কেমন আছে ইত্যাদি।

    এরপরেই আসছে তার স্ত্রী। এর সম্বন্ধে আমার আগাপালা রিপোর্ট চাই। তুমি বরং এক কাজ করো, তোমার সেই জানাশোনা ডিটেকটিভ এজেন্সিকে এদের পিছনে ভিড়িয়ে দাও। তুমি তোমার মতো করে অনুসন্ধান করো, তারা তাদের মতো করুক। যেমন যেমন করে আসবে সোজা আমার কাছে পাঠিয়ে দেবে। হারমাস উঠে দাঁড়ালেন বললেন ঠিক আছে দেখি কতদূর কি করা যায়।

    ম্যাডক্স আপন মনে বিড়বিড় করে বললেন–পঞ্চাশ হাজার। যার পাঁচ হাজার করার কথা সে করে পঞ্চাশ হাজার। প্রিমিয়ামের অতগুলো টাকাও নগদে দেয় কেন?

    কেন তা এখনই কিভাবে বলবো। কটা দিন যাক খোঁজ খবর করি। তারপর আপনি আপনার কেনর জবাব পাবেন। চলি?

    বড় বড় পা ফেলে হারমাস চলে গেল। তার চলে যাওয়ার দিকে ম্যাডক্স কিছুক্ষণ অন্যদৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে হাত বাড়িয়ে আর একখানা পলিসি তুলে নিলেন।

    .

    হেড-অফিস থেকে নিজের ফ্লাটে ফিরতে ফিরতে দশটা বেজে গেল। খাওয়াদাওয়ার কাজ ওখানেই চুকিয়ে এসেছে। শরীর ভীষণ ক্লান্ত। এখন শুয়ে স্রেফ টেনে ঘুম। সুতরাং পোষাক ছেড়ে শোবার তোড়জোড় করছে অ্যানন এমন সময় দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ হল।

    অ্যানসন একটু অবাক হল এত রাত্তিরে কে এল? সে গিয়ে দরজা খুলল। দরজার ওপাশে–এক মহিলা দাঁড়িয়ে। তাঁর পরনে কালো কোট সবুজের ওপর হলদে ডোরাকাটা একখানা ওড়নায় মুখ ঢাকা, অ্যানসন দরজা খুলতেই সে পাশ কাটিয়ে তাড়াতাড়ি ঢুকে পড়লো ঘরে।

    চাপা গলায় সে বলল, দরজা বন্ধ করে দাও।

    মেগ তুমি! তাড়াতাড়ি দরজা বন্ধ করে দিলো অ্যানসন। মুখের ওড়না খুলে ফেলল মেগ। অ্যানসনের বিস্ময় তখনো কাটেনি। সে মেগ-এর দিকে অবাক চোখে তাকাল, তুমি এখন এখানে?

    না এসে পারলাম না। সারাদিনে তোমাকে অনেকবার ফোন করেছি। একবারও পাইনি। তাই বাধ্য হয়ে চলে এলাম।

    কেউ এখানে তোমাকে ঢুকতে দেখেনিতো? মেগ-এর হাত থেকে কোটটা নিয়ে সে হ্যাঙ্গারে ঝুলিয়ে রাখলো। দেখো মেগ, আমাদেরদুজনকে এখন একসঙ্গে দেখার কিন্তুঅনেক বিপদ।

    হাত তুলে তাকে থামিয়ে মেগবলল, আমি জানি তোমার কোন ভয় নেই কেউ আমাকে ঢুকতে দেখেনি। তাছাড়া দেখলেই চিনতে পারবে না। একপা এগিয়ে এসে অ্যানসনের একটা হাত ধরে মেগ বলল, জন তুমি কি আমাকে দেখে খুশী হওনি?

    অ্যানসন নিবিড়ভাবে মেগকে বুকে টেনে নিলো। তার কপালে তপ্ত-চুম্বন এঁকে দিলো।

    মেগ আস্তে আস্তে নিজেকে সরিয়ে নিল। তুমি সারাদিন কোথায় ছিলে অ্যানসন। অফিসে ফোন করে আমি একেবারে হয়রান।

    অফিসে! তুমি করছো কি, অফিসে ফোন করতে তোমাকে আমি বার বার বারণ করেছি। আমাদের এখন সবদিক থেকে সতর্ক হতে হবে টাকা পাই না পাই আমরা যে পরিচিত একে অপরকে ভালবাসি, এখন কাউকেই বুঝতে দেওয়া চলবেনা। আর তুমি এদিকে এই কাণ্ড করেছে।

    ওকথা বাদ দাও। এখন বলল কতদূর কি এগিয়েছে?

    অ্যানসন সেদিনের ম্যাডক্স-এর সঙ্গে তার সাক্ষাৎকারের আগাগোড়া ঘটনাই বিবৃত করল, মেগ মন দিয়ে সব শুনল।

    অ্যানসন কাহিনীর যবনিকা টানলো তবে হ্যাঁ, ভয়ের কোন কারণ নেই, আমি ম্যাডক্সকে মোটামুটি সন্তুষ্টি দিতে পেরেছি। ও আর এ নিয়ে জল ঘোলা করবে না।

    মাথা নীচু করে দুহাতের দিকে তাকাল মেগ জন তুমি ফিলকে কবে—

    এখন নয় মেগ। এত তাড়াতাড়ি নয়। এখনও চার-পাঁচ মাস আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। চার পাঁচ মাস। মেগ টেনে টেনে বলল।

    তাতো বটেই একমাস ধৈর্য্য ধরে না থাকলে অসুবিধা আছে। বুঝতে পারছে না বীমা করার কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বীমাকারীকে মরতে দেখলে স্বভাবতই সবার মনে সন্দেহ হবে। ম্যাডক্স এরও হবে। অবশ্য চার-পাঁচ মাসও অনেক কম সময়। তবু, কয়েক সপ্তাহের চেয়ে কয়েকটা মাস মন্দের ভালো তো বটেই।

    তুমি ওকে কি ভাবে মাররে? স্থির দৃষ্টিতে মেগ যেন অ্যানসনের মনের কথাটা বুঝতে চাইল।

    এখনও কিছু ভাবিনি। সেই পুকুরে ডুবিয়ে মারার মতলবটা তেমন কাজের হবেনা। ধরো আমি ওকে মেরে পুকুরের দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছি। এমন সময় বাড়ীর সামনের রাস্তায় কেউ না কেউ এসে পড়লো। ব্যস্ফাঁসির দড়ি বা গ্যাস চেম্বারের ব্যবস্থা একেবারে পাকাপাকি করে ফেলা। তাই যা করতে হবে বাড়ির মধ্যে, ভেতরে।

    মেগ ভয়ে কেঁপে উঠল, বাড়ির মধ্যে!

    হা। তবে কিভাবে কি করবো, এখনও ভাবিনি। ভেবে-চিন্তে একটা কিছু খাড়া করে নিই, তারপর তোমাকে জানাবো।

    কিন্তু সত্যিই কি আমাদের অতদিন অপেক্ষা করতে হবে?

    মেগ দেখো এটা তাড়াহুড়োর কাজ না। তড়িঘড়ি করতে গেলেই সব মাটি। অপেক্ষা আমাদের করতেই হবে পঞ্চাশ হাজার ডলারের জন্য, না হয় কিছুদিন অপেক্ষা করলাম।

    হ্যাঁ তা ঠিক, কিন্তু কিভাবে কি করবো সে সম্বন্ধে সত্যিই কিছু ভাবোনি?

    তোমার আজ কি হয়েছে বলো তো? বিরক্ত হয়ে অ্যানসনবলল, বারবার একথা বলছে।বলছি তো এখনও কিছু ভাবিনি। এত অধৈর্য হওয়ার কোন কারণ আছে কি? তুমি তো বলেছিলে যে ওকে দিয়ে ইনসিওর করাতে পারবো না। দেখলে তো বাজে কথা বলার লোক অ্যানসন নয়, সে নিজের ওজন বুঝে কথা বলে। সে ইনসিওর করল কিনা?

    না না আমি সে কথা বলছিনা। সেদিক দিয়ে তো তোমার কেরামতি আছেই। যা হোক এবার আমাকে যেতে হবে।

    অ্যানসন যেন আকাশ থেকে পড়লো, তার মানে চলে যাবে কেন? আজ তোমার স্বামীবাড়ীতে থাকবে না তাহলে এত তাড়াহুড়ো কেন, আজ রাতটুকু এখানে থেকে যাও। কোট খোল।

    না জন প্লিজ আমাকে তুমি থাকতে অনুরোধ কোরনা। মেগ গলার স্বর জড়িয়ে বলল।ফিলকে আগে থেকেই কথা দিয়েছি আজ ওর স্কুল দেখতে যাবো। সকালবেলা ওর সঙ্গে এখানে এসেছি। তোমাকে ধরার জন্য সারাটা দিন ফোন করে করে মিথ্যে হয়রান হলাম। তুমি থাকলে কত ভাল হত। সারাদিন দুজনে একসঙ্গে থাকা যেত।

    অ্যানসন উঠে এক পা এগোল। মেগ-এর হাত ধরে টানলো। মেগ হাত ছাড়িয়ে বলল না জন আজ আমাকে যেতেই হবে।

    যেয়োনা মেগ, যেয়োনা। অ্যানসন অনুনয়ের সুরে বললো যে,হয়তো আর কোনদিন এইভাবে তোমাকে কাছে পাব না। এসো কাছে এসো।

    জন অবুঝ হয়োনা। মেগ দরজার দিকে এগোল। এখানে আমার আসার কথা নয়। তবু এসেছি তোমাকে দেখতে, হচ্ছে হলো তাই। কিন্তু এখন না গিয়ে উপায় নেই।

    এরপর মেগ আর দাঁড়াল না। এগিয়ে গিয়ে দরজা খুলল। উঁকি মেরে একবার চারিদিকে দেখলো। তারপর নিঃশব্দে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলো।

    বন্ধ দরজায় ওপাশ থেকে ভেসে এলো জুতোর শব্দ। অ্যানসন বিমূঢ়ের মতো একই ভাবে দাঁড়িয়ে রইলো।

    অ্যানসন-এর বাড়ির সামনে রাস্তার অন্ধকারে একপাশে একখানা কালো বুইক দাঁড়িয়ে আছে।

    চালকের আসনে গেলার হেগান। ঠোঁটের কোণে তার জ্বলন্ত সিগারেট। হাঁটুর ওপর দুহাত রেখে সে তির্যক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে বাড়িটার দিকে।

    মেগকে বেরিয়ে আসতে দেখে চাবি ঘুরিয়ে সে ইঞ্জিন চালু করলো। বাঁদিকের দরজা খুলে গেল। মেগ এসে গাড়িতে উঠলো। দরজা বন্ধ করে গেলার গাড়ি ছাড়লো।

    গেলার গিয়ার বদল করে বলল–তারপর অ্যানসন কি বললো?

    বললো এখনও চার পাঁচ মাস অপেক্ষা করতে হবে।

    চার পাঁচ মাস-তোমার মাথাটা একেবারেই গেছে। বলেছে সপ্তাহ, শুনেছ মাস।

    জেরী, মাথা আমার ঠিকই আছে। সপ্তাহ বললে সপ্তাহই শুনতাম। বললো চার পাঁচ মাসের আগে কিছু করা সম্ভব নয়। করলে নাকি বীমা কোম্পানির সন্দেহ বদ্ধমূল হবে।

    ওর মুণ্ডু। গেলার গর্জন করে উঠল। ওসবসন্দেহ-ফন্দেহ ছাড়ো। যা করবার তাড়াতাড়ি করতে হবে। অতোদিন বসে থাকা আমার চলবে না। এ মাসের মধ্যেই আমার টাকা চাই।

    আড়চোখে মেগ গেলার-এর দিকে তাকালো, বেশ তো তুমি নিজেই বরং একদিন ওর সঙ্গে দেখা করে বলে এসো গিয়ে তোমার কথা।

    গেলার তার দিকে কটমট করে তাকাল। মেগ মুখ ফিরিয়ে নিল। রাগে আর কিছু করতে না পেরে গেলার অ্যাকসিলেটরে চাপ দিল। স্পীডোমিটারের কাঁটাটা এক লাফে উঠে এলো একশোয়। গাড়ি তীরের বেগে ছুটে চললো।

    রাস্তা ফাঁকা। চারপাশে চাপ চাপ অন্ধকার রাস্তার দুপাশের গাছগুলো যেন বাতাসে সাঁতার কাটতে কাটতে বিপরীত দিকে ছুটে চলেছে। কেউ কোন কথা বললোনা। বাকী পথটুকু নিঃশব্দেই কাটলো।

    বারলো বাড়ির ফটকের সামনে গাড়ি এসে থামলো। গেলার সোজা গাড়ি নিয়ে গিয়ে গ্যারেজে তুললো।

    মেগ চাবি ঘুরিয়ে দরজা খুলল। ঘরে ঢুকে আলো জ্বাললো। জানলার খড়খড়ি নামিয়ে দিলো। গেলার এলো একটু পরে।

    দুজনে গেলো বসবার ঘরে। অগ্নিকুণ্ডে দু-খানা কাঠখুঁজে দিয়ে মেগ ভেতরে এলো। পোশাক পাল্টে একটু পরে এক বোতল হুইস্কি আর দুটো গ্লাস নিয়ে ফিরে এলো। গেলার একটা সিগারেট ধরালো। মেগ বোতল খুলে গ্লাস দুটো পূর্ণ করে একটা গেলারকে দিল আর একটা নিজে নিয়ে বসলো গিয়ে সোফায়।

    গ্লাসে এক দীর্ঘ চুমুক দিয়ে গেলার মেগ-এর দিকে তাকাল। শোনো মেগ তোমাকে কায়দা, বদলাতে হবে। ওরকম পুতুপুতু করলে চলবে না। যেমন করেই হোক এক মাসের মধ্যেই আমার টাকা চাই। অ্যানসনকে এর মধ্যেই যা কিছু করার করতে বাধ্য করাই হবে তোমার কাজ। যদি তা করতে পারো তাহলে তোমার আমার সম্পর্ক থাকবে আর না হলে পায়ে মাথা খুঁড়ে মরলেও আর তুমি আমাকে পাবে না।

    মেগ-এর মুখ বিবর্ণ হল। মুখ কালো হয়ে গেল। সে কাঁদো কাঁদো স্বরে বলল কোনো উপায় নেই জেরী। বিশ্বাস কর আমার অ্যানসনকে ভয় করে, ওকে সামলানো আমার পক্ষে মাঝে-মধ্যে অসম্ভব হয়ে ওঠে।

    থামো থামো গেলার ধমকে উঠল। ওসব নাকী কান্না আমি শুনতে আসিনি, যা বললাম তাই করবে কোন ওজর-আপত্তি আমি শুনবো না।

    মেগ চোখে-মুখে ভয়ার্ত দৃষ্টিতে তাকালে গেলার-এর দিকে। বলল, তুমি জানো, সেই পেট্রোল-পাম্পের-পুলিস সেই যে গুলি খেয়ে মরলো, ওকে অ্যানসনই মেরেছে।

    অ্যানসন মেরেছে! কে বললো তোমাকে? ওসব গল্প আমাকে বলতে এসো না।

    মেগ প্রবল ভাবে মাথা নেড়ে বলল,নানা গল্প নয়। আমি একটুও বাড়িয়ে বলছিনা। পুলিসটাকে ও ফিলের রিভলবার দিয়ে গুলি করেছে।

    গেলার অবাক চোখে ওর দিকে তাকাল। তারপর ধীরে ধীরে মাথা নাড়লো। তাহলে এতক্ষণে বুঝলাম এই ব্যাপার। দুয়ে দুয়ে চার, ওখান থেকে টাকা হাতিয়ে ওদের টাকা শোধ করেছে তাই তো ভাবি যে ও এত টাকা পেলো কোত্থেকে। আচ্ছা তাহলে হারামীটা এর মধ্যেই হাত পাকিয়ে ফেলেছে। পুলিস খুন করে ডাকাতি করেছে।

    সেই জন্যই তো আমি বলছি মেগ গেলার-এর পাশে সরে এলো, ঘনিষ্ঠ হয়ে বসে বললো, অ্যানসন খুনী। ওকে দেখলেই আমার ভয় করে। উঃ ওর চোখের দৃষ্টি কি ভয়ঙ্কর। সবসময় যেন ঘুরছে। তুমি এখন থেকেই সাবধান হও জেরী। ওকে বিশ্বাস নেই কি করতে কি করে বসে। ওকে আমাদের কাজে লাগানোই ভুল হয়েছে।

    কিছু ভুল হয়নি। হাতের পানীয় এক নিঃশ্বাসে গলাধঃকরণ করে গেলার বললো। ওকে দিয়েই আমাদের কাজ হবে। ও বারলোকে দিয়ে ইনসিওর করিয়ে তারপর ছাড়লো। ও কাজের লোক।

    অবশ্য এছাড়া ওর উপায়ই বা কি? শ্যাম বার্নস্টেন এর অর্থ হাজার ডলার এদিক ওদিক খুচ খাচ আরো কতো ধার, টোপ না গিলে ও কোথায় যাবে। দাও বোতলটা এদিকে দাও।

    মেগ বোতল এগিয়ে দিলো। গেলার গলায় উপুড় করে ঢাললো। বললেন, ওর কাছে এখনো রিভলবারটা আছে নাকি।

    না, পরদিনই ফেরত দিয়ে গেছে। কতদিনে চেষ্টা করলাম তোমাকে ফোন করতে। রোজই শুনি তুমি নাকি কোথায় গেছ।

    খুনে, পুলিস খুন করেছে। না, আগে জানলে ওর সঙ্গে সেদিন ওরকম ব্যবহার করতাম না।

    খুনে, বলা যায় না, যাকগে ওসব কথা ছাড়ো এখন বলল টাকাটার ব্যাপারে কি ঠিক করলে। এ মাসের শেষেই আমার দরকার। জীবনে এই একটা সুযোগই এসেছে। সুযোগ বারবার আসে না। একটা এলে একবারেই কাজে লাগাতে হয়।

    আজ সকালে জো আমাকে বলেছে যা করবার যেন তাড়াতাড়ি করি। আর এক হারামির বাচ্চা জোকে টাকা নিয়ে সাধাসাধি করছে। জো তাকে এ মাসটা অপেক্ষা করতে বলেছে। ওর একান্ত ইচ্ছে আমাকে পার্টনার করেই ব্যবসায় নামে। পঁচিশ হাজার ডলার আমার লাগবে। এ মাসের মধ্যে না দিতে পারলে ও সেই লোকটার সঙ্গেই ব্যবসা ফাঁদবে।

    কিন্তু অপেক্ষা না করে আমাদের উপায় কি জেরী। তুমি একটু ভেবে দেখো প্লিজ।

    গেলার কোন কথা বললো না। একদৃষ্টে সে আগুনের দিকে তাকিয়ে রইল।

    হঠাৎ গেলার মুখ ফেরাল। তার চোখ যেন দ দ করে জ্বলে উঠল, হাঁ আমিই ফিলকে খুন করবো। এখন আর অসুবিধে কি। ইনসিওর হয়ে গেছে। সব চেয়ে ঝামেলার কাজটাই খতম। অ্যানসন-এর অপেক্ষায় হাঁ করে বসে না থেকে আমি নিজেই যা করার করবো। তারপর পরের কথা পরে।

    মেগ–চিৎকার করে উঠলোনা, সে দুহাতে গেলারের হাত চেপে ধরলোনা, আমি তোমাকে কিছুতেই এ কাজ করতে দেবো না। তোমাকে হারিয়ে আমি বাঁচবো না জেরী। বিশ্বাস করো, তার চোখের কোণ বেয়ে ফোঁটায় ফোঁটায় অশ্রু গড়িয়ে পড়লো।

    গেলার তাকে এক ঝটকায় সরিয়ে দিল। যাও যাও। ওসব মেকী কান্নায় কোনো ফল হবে না। হয় ঝেড়ে কাশো, নাহয় আমি যা বললাম মেনে নাও। পাঁচ মাস অপেক্ষা করা আমার পোষাবে না।

    মেগ বলল, আচ্ছা বেশ, আমাকে কটা দিন ভাবতে সময় দাও। আমি…।

    ভাবো আর না ভাবোবা, আমার কথা আমি বললাম। গেলার উঠে দাঁড়াল, অ্যানসন না করলে কাজটা আমাকেই করতে হবে, যদি তাও না পারি, তাহলে আমাকে অন্য কোথাও টাকার খোঁজ করতে হবে। তাহলে আমি আর নেই।

    ওঃ তখন কত মেজাজ!কি একখানা কায়দা আমি আবিষ্কার করেছি। কত মুরোদ তাতো আমার বোঝা হল। তোমাকে চিনতে আমার আর বাকী নেই। একটা দেহ সর্বস্ব রাস্তার মেয়ে। তোমার চেয়ে হাজার গুণ সুন্দরী মেয়ে আমাকে পাবার জন্য ঘুরঘুর করে বেড়াচ্ছে। শোন যা করবার তাড়াতাড়ি করো। এবার কিন্তু আর হাজার কান্নাকাটি করলেও আমাকে আর পাবে না। কথাটা মনে রেখো।

    মেগ ডুকরে কেঁদে উঠল,নানা অমন বোলনা জেরী। আমি করবো করবোই। যেভাবে পারি, এ মাসের মধ্যেই করবো। তোমাকে ছাড়া আমার আর কিছু নেই তো।

    আগে দেখা যাক কতদূর কি করতে পারো তারপর নয় আবার নতুন করে ভাবা যাবে, এই বলে গেলার দরজার দিকে এগোল চলে যাওয়ার জন্য।

    মেগ অবাক হয়ে চোখ তুলে তাকাল, তুমি চলে যাবে, কতদিন তোমাকে দেখিনি, এছাড়া ফিল আজ রাতে বাড়ী ফিরবে না।

    না ফিরবে তো আমার কি। ভাবো কি তুমি। তোমার রূপ–এখনও ঝরে পড়ছে? তোমার জন্য গেলার হেগান হাঁ করে বসে আছে? ফুঃ আমার অন্য কাজ আছে। আমি চললাম। তুমি আগে অ্যানসনকে সামলাও। তারপর আমার দিকে নজর দিয়ো।

    গেলার-এর বুকে মেগ হঠাৎ ঝাঁপিয়ে পড়লো। তাকে শক্ত হাতে জড়িয়ে ধরলো। কিন্তু গেলার তাকে এক ধাক্কায় সরিয়ে দিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল।

    মেগ সোফার ধার ধরে কোনরকমে নিজেকে সামলে নিল। গেলার-এর গাড়ির ইঞ্জিনের শব্দ ধীরে ধীরে মিলিয়ে গেল। সে পাথরের মতো দাঁড়িয়ে রইল। তারপর হঠাৎ সোফায় বসে মুখ ঢেকে ডুকরে কেঁদে উঠল। গেলার, গেলার আবার চলে যাবে।না না গেলার ছাড়া আমার জীবন বৃথা।

    মেগ হুইস্কির বোতলটা তুলে উপুড় করে গলায় ঢাললো। প্রচণ্ড প্রদাহ তার কণ্ঠনালী ঘুরে ঘুরে নামতে লাগল। তারপর সে আক্রোশে খালি বোতলটা দেয়ালে ছুঁড়ে মারল।

    গেলার হেগান-এর সঙ্গে যেদিন প্রথম সাক্ষাৎ, অনেক অনেক দিন আগে, হ্যাঁ মেগ স্মৃতির পাতা উল্টে চললো, হাঁ তিন বছরই তো কিন্তু ভাবলে মনে হয়, কত যুগ পার হয়ে গেল।

    হলিউডের সেই ছোট্ট রেস্তোরাঁয় হেগানকে দেখে প্রথম দিনই তার রক্তে ঝড় বয়ে গেছিল। সেখানে তার সামান্য চাকরি। মালিক ইচ্ছে করেই ছেলে ওয়েটার রাখেনি। মেয়ে রাখলে দু-পয়সা বেশী রোজগার হয়-নেহাৎ কৌতূহলের বসেও দু-চারজন খদ্দের ঢুকে পড়ে। মেগ সেই রেস্তোরাঁর.মেয়ে ওয়েটার। সেখানে তার ম্যানেজার বেনি হার্তজ-এর সঙ্গে গেলার এসে ঢুকলো।

    মেগ অবাক হল, লোকটা কে! এমন সুঠাম চেহারা এমন সবল পৌরুষ, এমন সুন্দর বন্যতা, লোকটা কে? মেগ চঞ্চল হল। মেনুকার্ড নিয়ে তাড়াতাড়ি এগিয়ে গেলো ওদের টেবিলের দিকে।

    লোকটা খাবারের অর্ডার দেওয়ার ফাঁকে ফাঁকে অকারণে আবার তার দিকে চোখ তুলে দেখছিল। যে কবার চোখে চোখ পড়েছে মেগ-এর শরীরে বেশ শিহরণ ফেলে গেলো। পানীয়ের তালিকা সে সবে উল্টেছে, সঙ্গের লোকটা বলে উঠল, শুধু কফি আর কিছু না।

    সে তার দিকে তির্যক দৃষ্টিতে তাকাল। কফিতে আমার চলবে না। আমার হুইস্কি চাই।

    লোকটি বিদ্রুপের সুরে বলল, তা চলবে কেন, মেয়েমানুষ আর মদ তোমার এতবড় সর্বনাশ করলো, পাওনা খেতাব আর একজন ছিনিয়ে নিয়ে গেল, আর তুমি বসে এখানে হুইস্কির অর্ডার দিচ্ছো। কি আমার মুষ্টিযোদ্ধা রে!দাও ওকে, বোতল বোতল হুইস্কি দাও।ও এখন থেকে মানুষের বদলে বিছানায় শুয়ে শুয়ে বোতলের সঙ্গে যুদ্ধ করবে। আহা আমার ক্যালিফোর্নিয়ার লাইট হেভিওয়েট চ্যাম্পিয়ন, গেলার হেগান। সে উঠে দাঁড়াল, তার চোখের দৃষ্টিতে ঝরে পড়লো একরাশ ঘৃণা। শোনো গেলার, তোমাকে আমার আর দরকার নেই, ভেবেছিলাম যে সারা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠত্বের আসনে তোমাকে একদিন বসাবো। কিন্তু কাজ কিছু হল না। ভাবনাই সার। আজ থেকে তোমার পথ তুমি দেখো, আমার পথ আমি। তোমার মতন অমন বাহাদুর রাস্তা-ঘাটে গণ্ডায় গণ্ডায় মিলবে, তাদেরই একটাকে আবার শিখিয়ে পড়িয়ে নেবো। তোমার পেছনে অনর্থক ঘোরাঘুরি করে সময় কাটালে আমার চলবে না। আমাকে যে টাকা দেবে, আমি তার পোয্য কুকুর। আমি ব্যবসা করতে নেমেছি। চলি বলে সে গেলারকে রেখে চলে গেল। চোখ নামিয়ে গেলার মেগ এর দিকে তাকাল। তার কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম, চোখে প্রজ্বলিত ক্রোধ, সব মিলিয়ে কেমন যেন একটা অসহায় অবস্থা। আহা এত শক্তসামর্থ্য লোকটাকে একটা রোগা টিঙটিঙে লোক যা নয় তাই অপমান করে গেল। এখন না হয় পারেই না, সব মানুষের শক্তি বা সামর্থ্য কি সবসময় একরকম থাকে, যখন পারতো তখন ক্যালিফোর্নিয়ার ভোজবাজি দেখিয়েছে। এখন পারে না কোত্থেকে আর দেখাবে।

    মেগ-এর লোকটার ওপর কেমন যেন মায়া হলো। সে এগিয়ে গিয়ে গেলারের হাত ধরল, একটু বসতে বলে দৌড়ে নিজের ঘর থেকে এক বোতল হুইস্কি এনে দিল। ব্যস সেই থেকেই গেলার তার হল। রাতে নিজের ছোট্ট ফ্ল্যাটে গেলার-এর নির্দয় বন্য লালসার হাতে নিজেকে সমর্পণ করে সে সুখী হল।

    পরদিন সকালে ঘুম ভেঙ্গে পাশে মেগকে দেখে গেলার যার পর নাই অবাক হল। আস্তে আস্তে তার সব ঘটনা মনে পড়ল। সে খানিকটা নিশ্চিন্ত হল, যাক খাওয়া থাকার চিন্তাটা তো ঘুচলল। ঘুষোঘুষি করে প্রতিপক্ষকে হারাবার ক্ষমতা যে তার নেই একথা গেলার ভালমতোই জানতো। মেনি হাউজ কাল ওভাবে অপমান করাতে গেলার মনে মনে খুবই রেগে গেছিল। কিন্তু, মুখে কিছু বলতে পারেনি কারণ সে জানতো যে মেনি একটা কথাও মিথ্যে বলছে না। ক্যালিফোর্নিয়ার সেই মুষ্ঠিযোদ্ধা গেলার হেগান সরে গেছে, তার জায়গায় নতুন হেগান জন্ম নিয়েছে, যে জানে শুধু দুটো জিনিষ, মদ আর মেয়েমানুষ।

    আপাততঃ দুটো চিন্তাই মিটলো। মদের খরচ জোগানোর জন্য আর চিন্তা করতে হবে না। অপরপক্ষে মেয়েটাও বেশ লড়িয়ে। দেখা যাক কটা দিন, অবস্থা কি দাঁড়ায়। মনে তো হচ্ছে মেয়েটা মজেছে। যার কাছে যার যার মজে, মন যে কদিন মজিয়ে রাখা যায় সে কদিনই লাভ।

    এমনভাবে দু-সপ্তাহ কাটল। বাড়িতে যতটুকু সময় মেগ থাকে একেবারে আঠার মতো গেলার-এর দেহের সঙ্গে আটকে থাকে, গেলারও কোনো আপত্তি করে না। নিত্যনতুন কায়দায় একের পর এক স্বপ্নের জাল বুনে চলে সে। মেগ যেন সুখের সাগরে ভেসে যেতে লাগল।

    দুসপ্তাহ পরে গেলার মুখ খুললো। সে মেগকে বোঝাল যে রেস্তোরাঁয় সামান্য চাকরীতে ক-পয়সাই বা আসে, তার চেয়ে স্বাধীনভাবে দুপয়সা বেশি রোজগারের ধান্দা দেখা ভালো।

    স্বাধীনভাবে মানে হল মেগ-এর একান্ত নিজস্ব সম্পত্তি দেহের বিনিময়ে অর্থোপার্জন। দেহ বিক্রীর প্রয়োজন নেই। শুধু মাছ জালে তোলা, তার কাছ থেকে তারপর যতদূর সম্ভব নিংড়ে নেওয়া। তারপর সে যখন মেগ-এর দিকে হাত বাড়াতে আসবে, তার শ্লীলতাহানির চেষ্টা করবে তখন হেগান এগিয়ে আসবে। মারের ভয় দেখিয়ে, দরকার পড়লে দু-ঘা মেরে তাকে বিদেয় করবে। টাকায় টাকা আয় হবে, অথচ আসলে কিছুই যাবে না। এমন ব্যবসা কি দুনিয়ায় দুটো আছে?

    মেগ-এর সঙ্গে সরল বিশ্বাসে কারচুপি খেললল। রেস্তোরাঁর চাকরি ছেড়ে সে পথে নামলো। খদ্দের ভালই পেলো। টাকাও আসতে লাগলো অনেক। সে যাবতীয় রোজগার গেলার-এর হাতে তুলে দিল। গেলার রোজই টাকা পয়সা নিয়ে জুয়োর আড্ডায় যেতো। মেগ প্রতিবাদ করতো না। গেলার বলতে যে টাকা দু-গুণ চারগুণ করার এমন উপায় নাকি দুনিয়ায় আর দুটো নেই।

    কিন্তু দ্বিগুণ তো দূরের কথা সে যে টাকা সঙ্গে নিয়ে যেতো তা কোনদিনই ফিরতো না। একদিন, দু-দিন, পনেরোদিন, এবারে মেগ একটু চঞ্চল হলো।

    তাইতো টাকার নামে টাকা যায়, খাটুনিও যায় প্রচুর, কিন্তু লাভ তো কিছুই হচ্ছে না। মেগ কোথায় নেমে এসেছে। গেলারের জন্য সে রক্তজল করে পয়সা রোজগার করছে কিন্তু গেলার তাকে কি দিলো, কতগুলো মিথ্যে আশা। নাঃ ব্যাপারটা একটু খতিয়ে দেখতে হচ্ছে।

    রাতে গেলার জুয়োর আড্ডায় বেরিয়ে যাবার পরে মেগ শুয়ে পড়তো। পরে গেলার কখন কি অবস্থায় ফিরতে সে জানতে পারতো না।

    সেদিন সে আর ঘুমালো না। গেলার বেরিয়ে যাবার পর সে জেগে রইল। দেখা যাক আজ গেলার কি অবস্থায় ফেরে।

    রাত তখন ভোর হয়ে এসেছে। জানলার কাছে বসে বসে একটু ঝিমুনির মতো এসেছে। হঠাৎ একটা গাড়ির শব্দে ঘুমটা ভেঙ্গে গেল। সে ধড়মড় করে উঠে বসলো।

    একখানা গাড়ি এসে তার বাড়ির উল্টো দিকে থামলো। গেলার টলতে টলতে গাড়ি থেকে। নামলো। নেমে ফের গাড়ির জানলা পথে মাথা গলিয়ে অনেকক্ষণকার সঙ্গে কথা বললো। তারপর হাত নাড়তে নাড়তে হাঁটতে লাগলো। গাড়ি ছাড়লো।

    ল্যাম্পপোস্টের ম্লান আলোয় মেগ দেখলো, গাড়ির পেছনের আসনে বসে একটা মেয়ে। ঘাড় ফিরিয়ে গেলার-এর দিকে তাকিয়ে সে হাত নাড়ছে।

    মেগ স্থির হয়ে একইভাবে বসে রইল। দুফোঁটা জল মুক্তোবিন্দুর মতো তার চোখে চিকচিক করতে লাগল। সিঁড়িতে গেলার-এর পায়ের শব্দ শোনা গেল। মেগ হাতের উল্টো পিঠে চোখ মুছলো।

    গেলার ঘরে এসে ঢুকলো। মেগকে জেগে থাকতে দেখে একটু অবাক হল। উঠে ঘরেব আলোটা জ্বেলে দিলো মেগ। দেখলো গেলার-এর জামার কলারের কাছে লিপস্টিকের দাগ, বুকের কাছে দুচারটে লম্বা চুল লেগে আছে।

    এই তাহলে তোমার জুয়ো খেলা, মেগ স্থির দৃষ্টিতে তাকালো গেলার-এর দিকে। আমার সম্মান ধুলোয় মিশিয়ে দিয়ে আমারই রোজগারের টাকায় তুমি ফুর্তি করছে। মদ, মেয়েমানুষ নিয়ে আনন্দ করছে। বাঃ এই না হলে পুরুষ মানুষ!

    গেলার-এর নেশা ছুটে গেল। সে ধরা পড়ে গেছে দেখে প্রতিবাদ করলো না। বরং রাগে চীৎকার করে উঠল। বলল বেশ করেছি। আরো করবো। ডুবে ডুবে জল খাও, ভাবো তোমার মত কেউ টের পায় না। দ্যাখা কথাটা অনেকদিন ধরেই ভাবছিলাম তোমার মত মেয়েছেলের আমার আর দরকার নেই। জেগে যখন ছিলে, নিশ্চয়ই দেখেছো, ওই মেয়েটার গাড়ি আছে, বাড়ি আছে, অনেক টাকাও আছে। এরকম একটা দুটো নয় গণ্ডায় গণ্ডায় মেয়ে আমাকে পারার জন্য হাত বাড়িয়ে আছে। আমি চললাম। আমাকে আর পাবে না।

    গেলার বেরিয়ে গেল। স্থির ভাবে মেগ দাঁড়িয়ে রইল। এরকম পরিণতির কথা সে ভাবেনি। এর জন্য সে তৈরীও ছিল না। দুঃখে-অভিমানে তার চোখ দিয়ে অঝোরে জল পড়তে লাগল। গেলার-এর প্রতি অভিমানে তার বুকটা ফেটে গেল।

    মেগ আর কদিন বেরোল না। সে ভেবেছিল গেলার হয়তো ফিরে আসবে। মুহূর্তের উত্তেজনায় সে যা বলেছে, তার জন্য ক্ষমা চেয়ে আবার মেগ-এর সঙ্গে থাকবে, তার হৃদয় ভালবাসার রঙে পূর্ণ করে রাখবে।

    কিন্তু না গেলার ফিরলো না, হতাশায় বেদনায় অপমানে অভিমানে মেগ মরমে মরে গেল। মনে মনে প্রতিজ্ঞা করল, সে আর জীবনে গেলার-এর কাছে ফিরে যাবে না। সে নিজেকে তিলে তিলে শেষ করবে।

    সাতদিন পরে চোখের জল মুছে মেগ উঠল। সস্তা পাউডারে চোখের কালিটালি ঢাকলো। সস্তা ফিনফিনে পোষাক পরলো। তারপর হাত ব্যাগ নিয়ে সে পথে বেরোল।

    এক টেলিফোন বুথে ঢুকে সে এক মক্কেলকে ফোন করল। সেই মক্কেলটা এক মধ্যবয়স্ক বিগতদার ব্যবসায়ী। সে এর আগে দুবার মেগ-এর সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। দুবারই গেলার এর তাড়নায় প্রচুর অর্থ খেসারত দিয়ে সে হতোদ্যম হয়ে ফিরে এসেছে। এবার মেগ নিজেই ফোন করে গেলার যে নেই একথা জানাতে সে নিশ্চিন্ত হল। বললো মেগ যেন অবিলম্বে তার হোটেলের নির্দিষ্ট কামরাটিতে চলে আসে।

    হোটেলে পৌঁছে তার কামরায় যাবার আগে মেগ ঢুকলো মেয়েদের জন্য নির্দিষ্ট বাথরুমে। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে মুখে পাউডারের তুলিটা বোলাতে বোলাতে হঠাৎ তার দৃষ্টি স্থির হল। সামনের টেবিলে একটা সুন্দর চামড়ার ব্যাগ। কে যেন ভুল করে ওখানে ফেলে রেখে গেছে।

    মেগ ব্যাগটা তুলে নিলো। বোম টিপে খুললল। মুহূর্তে রুদ্ধ-বিস্ময়ে সে থরথর করে কাঁপতে লাগল। ব্যাগের মধ্যে এক তাড়া পঞ্চাশ ডলারের নোট। সব মিলিয়ে কম করে হাজার পাঁচেক তো হবেই।

    ব্যাগটা বন্ধ করে সে ব্যাগটা নিজের হাতেই রাখলো। নিজের ব্যাগ রাখলো আয়নার সামনে। একটা শিহরণ তার শরীরে খেলে গেল। এবার এত টাকা দেখলে নিশ্চয়ই গেলার আর তাকে অপমান করতে পারবে না। সে তার সঙ্গে আবার এসে থাকবে।

    সে দ্রুত পদক্ষেপে তাড়াতাড়ি দরজার দিকে এগোল। হঠাৎ দরজাটা খুলে গেল। এক সুবেশ মহিলা ও পাশে দাঁড়িয়ে। মেগ-এর হাতে ব্যাগটি দেখেই তিনি হাউমাউ করে চেঁচামেচি শুরু করলেন।

    ব্যস তারপর যা হবার তাই হলো। লোকজন, হোটেলের ম্যানেজার, থানা পুলিস, বিচারে তিনশো ডলার জরিমানা অনাদায়ে তিন মাসের জেল হল মেগ-এর। আদালতের ভিড়ের মধ্যে সে বারবার একটা চেনা মুখ খুঁজলো। তার গেলার, কিন্তু না গেলার এল না। এ সময় তিনশো ডলার হাতে থাকলেও জেলটা এড়ানো যেত। কিন্তু সঞ্চয় হিসাবে গেলার তাকে একটা টাকাও রাখতে দেয়নি। সব কিছু উড়িয়ে দিয়ে গেছে দু-হাতে।

    তিনমাস পর জেল থেকে বেরিয়ে সামান্য কিছু সম্বল করে সে লস এঞ্জেলস ছাড়লো। সোজা এল স্যান ফ্রান্সসিসকোর প্রু টাউনে। লস এঞ্জেলস-এ থাকতে সে শুনেছিল প্রু টাউন শহরটি বেশ বর্ধিষ্ণু। এখানে পয়সা নাকি উড়ে বেড়ায়।

    মেগ অফিস পাড়ায় তিনতলার ওপর ছোট একখানা ঘর ভাড়া নিল। কিন্তু পর দিন থেকেই তার ভাগ্য খারাপ। শীত পড়লো সে বছর সবচেয়ে বেশি। খবরের কাগজে লিখলো, এমন শীত নাকি গত পঞ্চাশ বছরেও পড়েনি।

    সুতরাং কাজকর্ম যথারীতি প্রায় বন্ধই রাখতে হলো। শীতে রাস্তার লোক পর্যন্ত বেরোয় না, খদ্দের জুটবে কোত্থেকে। সঞ্চয় প্রায় নিঃশেষ হয়ে এলো।

    কিন্তু না, এভাবে তো পারা যায় না। শীত আছে, বরফ আছে, সব সত্যি। কিন্তু ক্ষিধেও তো আছে। আধপেটা খেয়ে কাহাতক আর থাকা যায়। একদিন তো তাই মরীয়া হয়ে সবকিছু অগ্রাহ্য করে মেগ বেরিয়ে পড়লো।

    পথ জনমানবহীন। গুড়ো গুড়ো বরফ পড়ছে একটানা, উত্তরে বাতাস যেন মেরুদণ্ড অবধি হিম করে দিচ্ছে, রাস্তার বাতিগুলো ম্লান, নিষ্প্রভ, তেমন কিছু শীতের পোষাক মেগ পরেনি। সব শরীরটা তার মুহুর্মুহু কাঁপছে। এগোতে কষ্ট হচ্ছে।

    সে হঠাৎ থমকে দাঁড়াল। একজন লোক এদিকে আসছে। মাথায় কান অবধি ঢাকা কালো টুপি, পরনে কালো ওভারকোট। পকেটে দু-হাত ঢুকিয়ে সে বড় বড় পা ফেলে এদিকে হেঁটে আসছে।

    মেগ দাঁড়িয়ে পড়লো। বাতি স্তম্ভে হেলান দিয়ে দেহের প্রতিটা প্রত্যঙ্গে কামনার জোয়ার তুলে মনোহারী ভঙ্গিতে দাঁড়ালো। শীত, তুষার উত্তুরে হাওয়া সব সে মুহূর্তের জন্য ভুলে গেল।

    লোকটা তার মুখোমুখি এসে দাঁড়াল। চোখ তুলে তাকাল। মেগ মৃদু হেসে ফিসফিস করে বললো কি চাই নাকি?

    একমুহূর্ত নীরব। লোকটা ভ্রু কোঁচকালো। তারপর দাঁতে দাঁত চেপে বলে উঠল চাই, চলো।

    মেগ শিউরে উঠল। লোকটার চোখ দুটো যেন কেমন। কি অন্তর্ভেদী দৃষ্টি ঐ ছোট দুটো চোখে। পাগল-টাগল নয়তো।

    কিন্তু না এখন ওসব চিন্তা করার সময় নেই। একজন খদ্দের পাওয়া গেল। এই যথেষ্ঠ। দুজনে পাশাপাশি এগোতে লাগলো। নিজের ঘরে গিয়ে বিছানায় শুয়ে পড়লো মেগ। মনোহারী ভঙ্গিতে আহ্বান জানাল এসো।

    লোকটা নড়ল না। একইভাবে দাঁড়িয়ে রইল একপাশে। গায়ের কোটটাও খুললো না। স্থির দৃষ্টিতে সে তাকিয়ে রইল মেগ-এর চোখে।

    কই, এসো। মেগ চঞ্চল হলো, দাঁড়িয়ে কেন? দাঁড়িয়েই ভালো। আমি চলে যাব। তবে যাবার আগে তোমার সঙ্গে কটা কথা বলে যেতে চাই।

    কথা!

    হা। কথা বলার মতো আমার কেউ নেই।

    কিন্তু কথাই বলো আর যাই করো, টাকা না দিয়ে কিন্তু যেতে পারবে না।

    সে কোটের পকেট থেকে মানিব্যাগ বার করলো। তিনখানা করকরে দশ ডলারের নোট বিছানার উপর ছুঁড়ে দিল এই নাও তোমার টাকা আগামই দিলাম।

    মেগ যেন নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারলো না। তিরিশ ডলার! নোট কখানা কুড়িয়ে সে পকেটে রাখলো। বললো বলো। কি বলবে?

    কাঠের অভাবে ঘরের কোণে একটা তেলের স্টোভ জ্বলছে। দরজা-জানালা বন্ধ থাকা সত্ত্বেও ঘর বেশ ঠাণ্ডা। বিবর্ণ ময়লা কম্বলটা গায়ে জড়িয়ে নিলো মেগ। তারপর বালিশে কনুই রেখে অর্ধেক শুয়ে তার কথা শুনতে লাগল।

    সে অনেক কথাই বললো। তার নাম নাকি ফিলিপ বারলো। এই পৃথিবীতে আপনার বলতে কেউ নেই। মা কদিন আগে মারা গেছে। সে নিঃসঙ্গ একলা। তার বাড়ি আছে। বাগান আছে। ছোট পুকুর আছে। সে ফ্রামলের দোকানে চাকরি করে, ইত্যাদি অজস্র কথা।

    শুনতে শুনতে মেগ-এর চোখে তার ঘোর এল। বারলো আরো কি বললো, সে কিছু শুনলো, কিছু শুনলো না। কম্বলের গরমে আরামে আয়েশে একসময় সে ঘুমিয়ে পড়ল।

    পরদিন সকালে ঘুম ভাঙলল। মেগ ধড়মড় করে উঠে বসলো। স্টোভটা কখন যেন নিভে গেছে। ঘরে কুয়াশার মতো মান নিষ্প্রভ ভোরের আলো। বারলোকে সে দেখতে পেল না। তবে কি সেনা, পকেটে হাত দিয়ে মেগ নিশ্চিন্ত হল। তিরিশ ডলার পকেটে ঠিকই আছে। বারলো নিয়ে যায়নি।

    মাথায় অসহ্য যন্ত্রণা। কপালের শিরা দুটো দপদপ করছে। গরম নিঃশাস পড়ছে নাক দিয়ে। জ্বর হল নাকি।কনকনে অমন ঠাণ্ডায় বাইরে বেরোনোটা ঠিক হয়নি। সমস্ত শরীর যেন জ্বলে পুড়ে যাচ্ছে। উঃ কি যন্ত্রণা। মেগ চোখ বুঝল।

    সে একই ভাবে বিছানায় শুয়ে রইল। বেলা গড়িয়ে বিকেল হলো। সন্ধ্যা নামলো। উঠে আলো জ্বালবে, এমন ক্ষমতাও তার নেই। সে বেহঁশের মতো বিছানায় পড়ে রইল।

    এমন সময় দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ হল।

    ঘাড় ঘুরিয়ে দেখার চেষ্টা করলো মেগ, পারলোনা। কেমন যেন একটা আচ্ছন্ন ভাবতার শরীরে। সামান্য শক্তিও অবশিষ্ট নেই।

    কে যেন তার মুখের ওপর ধুকে পড়ল। তার চেহারা ধোঁয়ার মত। এ তো বারলো। সে কি যেন বললো। মেগও কিছু বলতে গেল। তার ঠোঁট নড়ল কিন্তু গলা দিয়ে আওয়াজ বেরোল না। বারলোর শীতল একখানা হাত তার শরীরের ওপর এসে পড়ল। সে অবসাদে চোখ বুজল।

    স্ট্রেচারে করে কে বা কারা যেন তাকে নিয়ে যাচ্ছে। সিঁড়ি বেয়ে নামছে, কোথায় নিয়ে যাচ্ছে, মেগ জ্ঞান হারাল।

    দুদিন পর জ্ঞান ফিরল। সে শুয়ে আছে হাসপাতালের এক বিছানায়। নার্সকে জিজ্ঞেস করে জানলোবারলো তাকে হাসপাতালে পৌঁছে দিয়ে গেছেন। তিনি রোজ একবার করে এসে নিয়মিত খবর নিয়ে যান।

    হাসপাতালে তার দশদিনকাটল।নানারকম ওষুধ, ইনজেকশন কত কি।বারলো রোজ নিয়মিত আসতেন। কোন কথা বলতেন না। বিছানার পাশের টুলটাতে বসে স্থির-অপলক চোখে তার দিকে তাকিয়ে থাকনে। তারপরে একসময় উঠে চলে যেতেন।

    মেগ ভাবতো লোকটা যেন কেমন। আসলে যেচে দয়া দেখানো অনেকের স্বভাব থাকে, এরও বোধহয় তাই। তবে এটা ঠিক হাসপাতালে এনে সে মেগ-এর খুবই উপকার করেছে। এজন্য মেগ তার প্রতি কৃতজ্ঞ। কিন্তু ওটুকুই। তার পক্ষে ওকে ভালবাসা আদৌ সম্ভব নয়। একবার যে হৃদয়ের অর্ঘ্য সে গেলার-এর পদমূলে সমর্পণ করেছে, সে হৃদয়ে আর অন্য পুরুষের স্থান নেই। আচ্ছা গেলার এখন কোথায় আছে। কেমন আছে। যেখানেই সে থাকুক ভাল থাকুক। তাহলেই মেগ খুশি।

    দশ দিনের দিন ঘুম ভেঙে উঠেই মেগ বুঝলো, তার রোগ মুক্তি হয়েছে, সে সুস্থ। খুশিতে উঠে বসলো সে বিছানার ওপর। সে সুস্থ সবল, আবার বাড়িতে ফিরে যাবে। কিন্তু বাড়ি বাড়ি মানে তো সেই অন্ধকুপ, আলো বাতাসহীন দমবন্ধ পরিবেশ, না, না এর চেয়ে সারাজীবন রোগী হয়ে এখানে পড়ে থাকা অনেক ভালো। সে বিষণ্ণমনে আবার বিছানায় শুয়ে পড়লো।

    দিনের আলো নিভে এলো, সন্ধ্যে হয় হয়, এমন সময় বারলো এলো। মেগ-এর আরোগ্যের খবর তিনি আগেই ডাক্তারের মুখে শুনে এসেছেন। মুখে তার আত্মপ্রসাদের হাসি, হাতে একগুচ্ছ জিনিয়া ফুল।

    তিনি বিছানার পাশের টুলটাতে এসে বসলেন। মেগ-এর হাতে ফুলের তোড়া তুলে দিলেন।

    মেগ মাথা নীচু করল, ফুলের একটা পাপড়ি দু-আঙ্গুলে ছিঁড়তে ছিঁড়তে বললো আপনি যা করলেন আমার জন্য, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। আপনার ঋণ আমি…।

    হাত তুলে তাকে থামালেন বারলো। দাঁড়াও দাঁড়াও ওসব ঋণ টিনের কথা তুলছো কেন। তুমি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলে, দেখার কেউ নেই। এনে তুললাম হাসপাতালে। কৃতজ্ঞতা দেখাতে হলে ডাক্তারকে দেখাও কারণ আমি তোমাকে সারিয়ে তুলিনি, যা করেছেন ডাক্তার করেছেন। একটু ইতস্ততঃ করে বললেন দেখো মেগ এই বিরাট পৃথিবীতে আমি একলা, তোমারও কেউ নেই, আমারও কেউ নেই, আমরা দুজন নিঃসঙ্গ মানুষ এবার থেকে একসঙ্গেও তো থাকতে পারি, বিয়ে করে সংসার পাততে পারি। কথাটা একটু ভেবে দেখো।

    মনের এই অবস্থায় বারলোর এই অদ্ভুত প্রস্তাবটি মেগকে বড় বিচলিত করলো। একমুহূর্ত, সে ভাবলো, তারপর মুখ তুলে বলল আমি রাজি, চলো আমাকে নিয়ে চলল।

    ফেরার পথে সেদিন আরও অনেক কথাই মেগ ভাবলো যে মুহূর্তের বিবেচনায় সে রাজি হয়েছে ঠিকই, তবু একেবারে অন্যায় কিছু একটা করেনি। কারণ সুস্থ স্বাভাবিক জীবন-যাপনের জন্য বিয়ে অতি আবশ্যক। বিয়ের পর যদি মতের মিল না হয় তাহলে দরজা তো ভোলাই আছে। ভাবনা কিসের। বিবাহ-বিচ্ছেদ করাটা আজকালকার দিনে এমন কিছু একটা কঠিন ব্যাপার নয়।

    বারলো মাত্র সাতদিনের বিজ্ঞপ্তিতে বিয়ের এক বিশেষ অনুমতি পত্র জোগাড় করল। বিয়ে হয়ে গেলো, আড়ম্বর বা অনুষ্ঠান কিছুই হল না। মেগ খানিকটা নিশ্চিন্ত হল, সুখী হল।

    বারলোর বাড়িটা প্রথম কদিন খুবই ভালো লাগলো মেগ-এর। অমন সুন্দর বাগান, শহরের এক প্রান্তে নির্জন-নিরালা পরিবেশে ছোট্ট দোতলা বাড়ি। সব মিলিয়ে তার বেশ ভালোই লাগল।

    কিন্তু স্বপ্ন ভেঙে যেতে খুব একটা দেরী হল না। তার স্বপ্নের প্রাসাদ যেন একটা দমকা বাতাস এসে ভেঙে দিয়ে গেলো। বিয়ের পঞ্চম রাতেই ঘটনাটা ঘটলো। মেগ বিস্ময়ে বাকরুদ্ধ হয়ে গেলো।

    পঞ্চম রাতটি তাদের প্রথম মিলনের রাত। স্বপ্ন..না, স্বপ্ন তেমন কিছু নেই। মিলনের সব রকম আনন্দের সঙ্গেই মেগ পরিচিত। তাও বারলোকে নিবিড় করে জানার, পাবার কৌতূহল তো একটা আছেই।

    মেগ সেকথা ভাবলে আজও শিউরে ওঠে। উঃ সে কি বীভৎস, কি ভয়াল-ভয়ঙ্কর। বারলো যেন একটা পশু, একটা দানব,….

    মিলনের প্রথম রাত সেই পশুর হাতে সপে দিয়েই কাটলো। প্রথম দিকে যন্ত্রণায় দাঁতে দাঁত চেপে রইল মেগ। তারপর একসময় বারলোর অত্যাচার আর সহ্য করতে না পেরে তার কবল থেকে কোনোক্রমে নিজেকে মুক্ত করে পাশের ঘরে গেল। ভয়ে সে সারা রাত ঘুমাতে পারলো না।

    শুরুতেই শেষ, সেই থেকেই এই ব্যবস্থা, দুজনের ঘর আলাদা, আলাদা। কেউ কারোর ব্যাপার নিয়ে মাথা ঘামায় না। কেউ কারোর দিকে চোখ তুলে তাকায় না অবধি। দু-একটা কথাবার্তা বলার দরকার হলে আকারে ইঙ্গিতেই সারে।

    কয়েকমাস এমনভাবেই কেটে গেলো। মেগ মনে মনে অধৈৰ্য্য হয়ে উঠল। একলা বাড়িতে বন্দী না থেকে মাঝে মাঝে বেরোতে শুরু করল।

    এমনই একদিন সে কয়েকটা টুকিটাকি জিনিস কিনতে ব্রেন্ট-এ গেছে। কেনাকাটা শেষে দোকান থেকে বেরিয়ে সে বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে। তার সামনে এসে দাঁড়াল গেলার হেগান।

    গেলারকে দেখেই মেগ-এর বুকের মধ্যে মোচড় দিয়ে উঠল। একরাশ কান্না এসে গলার কাছে দলা পাকিয়ে রইল। মেগ-এর চোখ ফেটে জল এল। সে চোখ তুলে তাকাল।

    এই তো পুরুষ। অটুট স্বাস্থ্য। দেহের আনাচে-কানাচে যৌবন টগবগ করে ফুটছে। এই গেলার-এর কাছে নিজেকে সমর্পণ করে দিয়ে কত না শান্তি পেয়েছে মেগ। গেলার তার প্রেমের পুরুষ।

    একঘণ্টা পরে। দুজনে গেলার-এর খাটে পাশাপাশি শুয়ে আছে। গেলার তাকে এক হাতে জড়িয়ে আছে। সে গেলার-এর প্রশস্ত বুকে নিশ্চিন্ত আশ্রয়ে পরম শান্তিতে চোখ বুজে রয়েছে।

    মেগ জেলে যাবার অভিজ্ঞতা থেকে বারলোর সঙ্গে প্রথম রাতের অভিজ্ঞতা সব কথাই গেলারকে বলেছে। কিছু গোপন করেনি, একটুও বাড়িয়ে বলেনি। এখন সে আর বারলো কিভাবে থাকে তাও বলেছে।

    সেদিন আরো অনেকক্ষণ পর আবার দেখা করার প্রতিশ্রুতি আদায় করে নিতান্ত অনিচ্ছা সত্বে মেগ বিদায় নিল।

    সেই শুরু। দুজনে আবার ঘনিষ্ঠ হলো। মনের কাছাকাছি এলো। মেগ গেলারকে পেয়ে নিশ্চিন্ত নির্ভয়। প্রায় রোজ দুজনের দেখা হতে লাগলো।

    একদিন দুজনে পাশাপাশি শুয়ে আছে। মেগ আরামে-আয়েসে চোখ বুজে শুয়ে আছে। এমন সময় গেলারই কথাটা তুললো।

    বারলোর জীবনের বিনিময়ে এক বীমা কোম্পানির সেলসম্যানকে দাবার খুঁটির মতো চালিয়ে কিভাবে অনেক টাকা রোজগার করা যেতে পারে, সে কথা সে সবিস্তারে ব্যাখ্যা করলো। মেগ মনোযোগ দিয়ে তার কথা শুনলো। বারলোর প্রতি এখন তার দয়া মায়া চিহ্নমাত্র অবশিষ্ট নেই। সুতরাং, রাজি হতে অসুবিধে কি? সে রাজি হল।

    হুইস্কিটা এখনও জলন্ত আগুনের মতো শরীরের আনাচে-কানাচে ঘুরে বেড়াচ্ছে। হাতের ওপর থুতনি রেখে মেগ ভাবলো, একটা কিছু এখন অবশ্যই করা দরকার। আবার যদি গেলারকে হারাই তাহলে আমি বাঁচবোনা। গেলার ছাড়া আমার জীবনের কোনো মানেই হয়না। অমন উদ্দাম প্রেম, না না একটা কিছু ফন্দী বের করতেই হবে। আমি গেলার-এর জন্য সব করতে পারি। হ্যাঁ দরকার হলে মরতেও পারি।

    বারলো ঝোঁপের আড়ালে আড়ালে হেঁটে এগোলেন। সতর্ক দৃষ্টিতে চারপাশ জরীপ করতে করতে এগোচ্ছেন। হঠাৎ তার চোখ উজ্জ্বল হল। তিনি চমকে দাঁড়ালেন ঐ তো গাছের নীচে একটা গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে। দ্বিতীয় কোনো গাড়ি বা জনমানসের চিহ্নমাত্র নেই।

    রাত সোয়া দশটা। ভিড়টা এখনো তেমন জমেনি। আর ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই গাড়ির পর গাড়ি আসতে শুরু করবে। প্রতিটা ঝোঁপের আড়ালে থাকবে একটা করে গাড়ি। আর একজোড়া তরুণ তরুণী। আর তারা চমকে উঠবে উল্লাসে। আমি তাদের উল্লাসের বারোটা বাজাবো।

    গাড়িটা থেকে রেডিওর গান ভেসে আসছে। বারলো চারপাশে আর একবার সতর্ক দৃষ্টি ফেরালেন। নিঃশব্দে স্নানের টুপি মাথায় পরলেন, গালে রবারের গোলক দুটো চালান করে দিলেন, তারপর রিভলভারের ট্রিগারে হাত রেখে নিঃশব্দে এগোলেন।কাকড়ার মতো সতর্ক অথচ ভয়াল ভঙ্গিতে।

    হাপরের মত বুকটা উঠানামা করছে। বারলো পায়ে পায়ে এগিয়ে চললেন। আজ একটা ফয়সালা অর্থাৎ হেস্তনেস্ত করতেই হবে।

    ০৬. শোবার ঘরের দরজায়

    ০৬.

    শোবার ঘরের দরজায় কান পেতে দাঁড়িয়ে রইলো বারলো। ঘড়ির দিকে তাকালেন। রাত সাড়ে নটা। রবিবার। মেগ নীচের তলায় বসে টেলিভিশন দেখছে। এতক্ষণ ছিলেন নীচে। শরীর খারাপের অজুহাত দিয়ে চলে এসেছেন। মেগ নিস্পৃহভাবে একবার ঘাড় তুলে তাকিয়ে আবার টেলিভিশনের দিকে মন দিয়েছে।

    যাক ভালোই হল। টেলিভিশন দেখুক না দেখুক ভারি বয়ে গেলো। আসলে ও নীচের তলায় রয়েছে এটাই শান্তি । এখন বেশ নিশ্চিন্ত মনে কাজ করা যাবে।

    বারলো দেয়াল আলমারী খুললেন। স্নানের সাদা টুপি,রবারের দুটো গোলক, এবং রিভলভারটি নিয়ে পকেটে পুরলেন। ঠোঁটের কোণে তার ক্রুর হাসি ফুটে উঠল। আলমারির ডালা বন্ধ করে তিনি চাবি আটকালেন।

    বারলো চোরের মতো চুপিচুপি ঘরের বাইরে এলেন। দরজার গায়ে তালা আটকালেন। তারপর নিঃশব্দে মৃদু পদ-সঞ্চারে ধাপে ধাপে চোরের মত চুপিচুপি ঘরের বাইরে এলেন নিঃশব্দে মৃদু পদ-সঞ্চারে ধাপে ধাপে সিঁড়ি বেয়ে নামলেন। বসবার ঘরের দরজায় কান পাতলেন। সেই পপ গায়কটা এখনও সরু গলায় ইনিয়ে-বিনিয়ে চলেছে। তিনি ধীরে ধীরে নিশ্চিন্ত মনে বাড়ির বাইরে এলেন।

    বাইরে নিকষ কালো অন্ধকার। বারলো গাড়ি নিলেন না। গাড়ির শব্দ শুনলে মেগ হয়তো বুঝতে পারবে। বরং এই ভালো, ঠাণ্ডায় ঠাণ্ডায় হেঁটে গ্লিন হিলে পৌঁছতে তার কতটুকু সময়ই বা লাগবে। আজ আর জেসনস্ গ্লেন নয়, আজ গ্লিন হিল…পাহাড়ের আড়ালে ছোট্ট এক ফালি উপত্যকা। তরুণ-তরুণীদের আর এক রমণীয় লীলাক্ষেত্র, আঃ দারুণ হবে।

    বারলো অন্ধকারে গা মিশিয়ে এগিয়ে চললেন। প্রায় চল্লিশ মিনিট একনাগাড়ে হেঁটে পাহাড়ের পাদদেশে এসে পৌঁছলো। তারপর সামনের চড়াইটা পেরিয়ে এসে দাঁড়ালেন ঘন গাছপালা ঝোঁপঝাড় ঘেরা সুন্দর উপত্যকাটিতে।

    .

    আজ সোমবার। অ্যানসন সকাল থেকেই প্রু টাউনে যাবার তোড়জোড় করছে। দুপুর নাগাদ ফোন এলো।

    অ্যানা ফোন তুলল, কাকে চাই? হ্যাঁ উনি এখানেই আছেন ওনাকে দিচ্ছি। অ্যানসনের দিকে তাকালো আনা, আপনার ফোম, মিসেস টমসন না কি যেন একটা নাম বললেন।

    অ্যানসন এগিয়ে এসে রিসিভার তুললো বলুন।

    জন আমি মেগ বলছি।

    আনসন চমকে উঠল, মেগ! ভয়ার্ত চোখে অ্যানার দিকে তাকাল, অ্যানা মাথা নীচু করে মেসিনে কাগজ পরাচ্ছে। দেখো কাণ্ড। সেদিন বারণ করা সত্বেও আফিসেই আবার ফোন। রিসিভারটা শক্ত হাতে চের্গে ধরলো অ্যানসন কানের সঙ্গে, হ্যাঁ বলুন বুঝেছি, আপনার জন্য কি করতে পারি মিসেস টমসন।

    আজ রাতে অতি অবশ্য একবার বাড়িতে এসো ভীষণ দরকার।

    আচ্ছা যাবো খন, আচ্ছা ছাড়ছিধন্যবাদ, অ্যানসন ফোন নামিয়ে রাখলেন।

    টেবিলে ফিরে কাগজপত্র গুছিয়ে তৈরী হল সে। আনাকে বলল যে রাতে ফেরা আর সম্ভব হবে না। সে পরদিন সকালে ফিরবে।

    অ্যানসন অ্যাটাচিটা নিয়ে অফিস থেকে বেরোল। গাড়িতে বসে ইঞ্জিন চালু করলো। গাড়ি ছুটে চললো চওড়া রাস্তা ধরে।

    মার্লবোরো হোটেলে খেতে ঢোকার আগে কয়েকটা টুকিটাকি জিনিষ কেনার জন্য রাস্তার পাশের এক দোকানের সামনে অ্যানসন গাড়ি থামাল। কেনাকাটা হয়ে গেলে দাম মেটানোর সময় কে যেন পেছন থেকে তার নাম ধরে ডাকল।

    অ্যানসন ফিরে তাকাল। ললির সঙ্গে চোখাচুখি হল। তার চোয়াল শক্ত হল। মুখে বিরক্তির ছাপ স্পষ্ট হল।

    এই সেই ললি। আমি একদিন এর প্রেমেই হাবুডুবু খেতাম। ওঃ দিনের আলোয় কি বিশ্রীই না দেখাচ্ছে।

    ও অসহ্য। কাউন্টারে দাম মিটিয়ে জিনিষের ছোট প্যাকেট সে পকেটে পুরলো। তারপর পেছন ফিরে বলল ললি কি খবর কেমন আছো?

    ভালো, তুমি কেমন?

    ঐ একরকম। আচ্ছা চলি, আমার একটু তাড়া আছে বলে আনসন পা বাড়ালো।

    বাড়িতে থাকবে তো? আজ রাতে যাবো নাকি?

    না আজ থাকছি না। কদিনের জন্য বাইরে যাচ্ছি। ফিরে এসে তোমাকে ফোন করব। চলি।

    ললি এগিয়ে এসেঅ্যামের হাত চেপে ধরলো, তোমার কি হয়েছে জন আমাকে দেখলেই এড়িয়ে যাও কি ব্যাপার? অথচ আগে সপ্তাহে একবার আমাকে না পেলে…

    হা পাগল হয়ে যেতাম এই তো? অ্যানসন হাত ছাড়িয়ে বলল, আজকাল কাজের চাপ বড় ললি। তাই দেখা সাক্ষাৎ করার আর সময় হয় না।

    সে আর দাঁড়ালো না। ললির ছোঁয়া বাঁচিয়ে পাশ কাটিয়ে দোকান থেকে বেরিয়ে গাড়িতে উঠল। তারপর ইঞ্জিন চালু করে গাড়ি ছাড়লো।

    মার্লবোরা হোটেলের সামনে গাড়ি…।

    সে সোজা গিয়ে ঢুকলো রেস্তোরাঁয়। হ্যারী ডেভিস তাকে দেখে হাত তুললো। সে এগিয়ে গিয়ে হ্যারীর টেবিলে ওয়েটারকে খাবারের অর্ডার দিলো।

    ছোটখাটো চেহারার মধ্যবয়সী এই হ্যারী ডেভিস বেশ আমুদে প্রকৃতির লোক। কোন এক তেল কোম্পানীর সে সেলম্যান। পথেঘাটে তার সঙ্গে অ্যানসনের প্রায়ই দেখা হয়ে যায়। দেখা হলেই এটা-ওটা নিয়ে বেশ জমজমাট গল্প ফেঁদে বসে। সময় যে কোথা দিয়ে চলে যায় কেউ বুঝতেও পারে না।

    হ্যারী আজও যথারীতি গল্প করতে থাকলো। উত্তরে অ্যানসন শুধু হু হু করলো। তার এখন গল্পে মন নেই। মেগ-এর ফোনের কথাগুলো এখনও তার মাথায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। হ্যারীর সঙ্গে আজ দেখা না হলেই মনে হয় ভাল হত।

    খাবার এল। অ্যানসন মাথা নীচু করে খেতে লাগল। মুরগীর মাংসের একটা বড় টুকরো মুখে পুরে বলল দিনকাল বড় খারাপ হে অ্যানসন। এতদিন-এ শহরটা নির্ঞ্ঝার্ট ছিল এখন দেখছি এখানেও নিশ্চিন্তে থাকা যাবে না।

    অ্যানসন মুখ তুলে বললো কেন কি হলো?

    কি হলো মানে? কি হলোনা তাই বল। দশ দিনের মধ্যে দু-দুটো খুন। পুলিস বিভাগের একটা বড়রকম রদবদল হওয়া দরকার। দিনের পর দিন খুন খারাপ বেড়ে যাবেঅথচ পুলিসনাকে তেল দিয়ে ঘুমাবে, এটা তো আর বরদাস্ত করা যায় না।

    কে আবার খুন হল?

    দেখো কাণ্ড! তুমি কি কাগজ-টাগজ পড়াও আজকাল ছেড়ে দিলে নাকি? আজ সকালের কাগজ পড়নি?

    তাহলে আর কোথা থেকে জানবে। কাল রাতে গিন হিলে এক ছোকরা গুলি খেয়ে মরেছে। বান্ধবীকে নিয়ে সে বেড়াতে গিয়েছিল সেখানে। গাড়িতেই বসেছিল। এমন সময় গাড়ির খোলা দরজা পথে হঠাৎ করে আততায়ী এসে ঝাঁপিয়ে পড়ে গুলি করে ছেলেটিকে মেরে ফেলে। তারপর মেয়েটাকে টেনে নামিয়ে ধর্ষণ করে। ওঃ মেয়েটাকে যা অত্যাচার করেছেনা, বেচারীকে হাসপাতালে দিতে হয়েছে। ছেলেটাকে আমি চিনতাম জানো।

    ওদের তিন বছরের প্রেম, আর কদিন বাদেই ওরা বিয়ে করতো। পুলিস যথারীতি একটা সূত্রও আবিস্কার করতে পারেনি। আততায়ীর চেহারার একটা বর্ণনা অবশ্য তারা মেয়েটির কাছ থেকে পেয়েছে। আমার মনে হয় পেট্রোল পাম্পের সেই খুন এবং এই খুন এ দুটো একই লোকের কাজ। পুলিসের বড়কর্তা জেনসন তো একেবারে আদা জল খেয়ে লেগেছেন এ দুটো রহস্যের কিনারা করার জন্য।

    অ্যানসন আড়চোখে হ্যারীর দিকে তাকিয়ে বলল পেট্রল পাম্পের সেই খুনেটার তো কোন পাত্তা পাওয়া যায়নি এখনো তাই না?

    হ্যারী বলল না এখনও কিছু করা যায়নি। কেউ কেউ বলছে দুজন খুনী আলাদা লোক। আবার কেউ কেউ বলছে ওরা একই লোক। আমি নিজেও বড় ভাবনায় পড়েছি ভাই। ব্যাপারটা কি জানো, হ্যারীশূন্য চোখে কড়িকাঠের দিকে তাকাল, আসল ব্যাপার হল আমারও বাড়িতে উঠতি বয়েসের মেয়ে, কপালে তার কি আছে ভগবান জানেন। এই বিকৃত কাম পুরুষ গুলোর এক অদ্ভুত মনস্তত্ব। একজনকে ধর্ষণ করে এদের চাহিদা মেটে না। এদের দরকার হয় নিত্য নিত্য নতুন খোরাক।

    — হু, তা তো ঠিকই বলে অ্যানসন উঠে দাঁড়াল তারপর বিল মিটিয়ে রেস্তোরাঁ থেকে বেরিয়ে এলো। হ্যারীর দুশ্চিন্তার কারণ থাকতে পারে, বাড়িতে তার উঠতি বয়েসের মেয়ে কিন্তু অ্যানসনের ওসব নিয়ে মাথাব্যথা নেই, তার মনে এখন অন্য চিন্তা, এক মাত্র চিন্তা মেগের সেই টেলিফোন বার্তা আজ রাতে অবশ্য একবার এসো, ভীষণ দরকার। তা সেই ভীষণ দরকারটা কি?

    ওঃ আমায় কি ভীষণ ভাবনায় না ফেলেছিলে মেগ দরজা খুলতে অ্যানসন বলল, আমি তো ভেবে ভেবে অস্থির। তা সেই ভীষণ দরকারটা কি?

    বলছি, আগে ভেতরে এসো।

    দুজনে বসবার ঘরে এলো! সোফায় বসলো পাশাপাশি।

    এবার বলো কি সংবাদ?

    জন, মেগ অসহিষ্ণু চোখে অ্যানসনের দিকে তাকাল, আমাদের এতো ভাবনা চিন্তা পরিশ্রম সব বোধহয় নিরর্থক হতে চললো। আমরা শিগগিরই এখান থেকে চলে যাচ্ছি।

    সেকি চলে যাবে কেন?

    যেতে হবে তাই যাবো। কাল রাতেই ফিল আমাকে কথাটা বললো। আমরা এ বাড়ি ছেড়ে ফ্লোরিডায় গিয়ে উঠব।

    অ্যানসন অধৈর্য হয়ে বললো ফ্লোরিডা, তুমি একি বলছো মেগ?

    যা সত্যি তাই বলছি। মেগ কাঁধ ঝাঁকিয়ে বললো হাডসন না কে যেন একজন তার নাকি ফ্লোরিডায় বিরাট ফুলের বাগান পরশু না কবে সে ফ্রামলের দোকানে এসেছিল। সেখানেই তার ফিল-এর সঙ্গে আলাপ ফিলকে পার্টনার করে বিরাট এক ব্যবসা কাঁদতে সে নাকি খুব ইচ্ছুক। ফিলের টাকা পয়সা কিছুই লাগবেনা। ওতো উত্তেজনায় একেবারে ছটপট করতে শুরু করেছে। এমন সুযোগ নাকি লাখে একটা মেলে না। ব্যবসায় ব্যবসা হবে, অথচ ঝুঁকি কিছু নেই। তাই আমরা চলে যাবো।

    কবে?

    এ মাসের শেষাশেষি। ফ্রামলের দোকানেও ইতিমধ্যেই চাকরি ছাড়ার নোটিশ দিয়ে দিয়েছে। হ্যাঁ আর একটা কথা আমাকে ফিল বলছিল যে ইনসিওরটা নাকি ও বাতিল করে দেবে। যখন ব্যবসার জন্য আর টাকাই লাগছে না তখন অনর্থক আর বোঝা টেনে লাভ কি?

    ওর সঙ্গে তুমিও যাবে তাই না?

    মেগ ম্লান হেসে বললো, যাবো নাতে কি করবো, তোমাকে পেয়ে আমার সব চিন্তা ঘুচে গিয়েছিলো জন, কিন্তু না, দেখছি আমার কপালটাই খারাপ, যাহা চাই তা ভুল করে চাই।

    অ্যানসন দু-হাতে তাকে বুকে টেনে নিলো। তপ্ত চুম্বন এঁকে দিলো তার ভেজা দুই চোখের পাতায়। না না মেগ তাকে ছেড়ে ফ্লোরিডায় চলে যাবে এ অসম্ভব, ভাবাই যায় না। যে কোন উপায়ে তাকে রাখতেই হবে। তাছাড়া তারা চলে যাবার সাথে সাথে পঞ্চাশ হাজার ডলারের আশাও নিশ্চিহ্ন হবে। না ওদের যাওয়া বন্ধ করতেই হবে। যে কোনও মূল্যে।

    মেগ ধীরে ধীরে আলিঙ্গনমুক্ত হয়ে উঠে দাঁড়াল। অস্থির ভাবে পায়চারি করে বেড়াতে লাগলো ঘরের এদিক থেকে ওদিক। তার চোখের দৃষ্টিতে চাঞ্চল্য, মুখে দৃঢ় সঙ্কল্পের ছাপ।

    হঠাৎ থমকে দাঁড়াল মেগ, তাহলেই দেখো বিনা কারণে আমি তোমাকে ফোন করিনি।

    কি করবো কিছুই ভেবে ঠিক করতে পারছিলামনা। আচ্ছা জন এখানে থাকতে থাকতেই ওকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়া যায় না। দেখো না। একটু ভেবে চিন্তে এ মাসের শেষাশেষি যদি কিছু একটা করা যায়।

    দাঁড়াও দাঁড়াও। আমাকে ভাবতে দাও। আচ্ছা-এ মাস শেষ হতে এখনও কতদিন বাকি আছে?

    আঠারো দিন।

    অ্যানসন ঘাড় নাড়লো তাহলে অসম্ভব, একেবারেই অসম্ভব। মাত্র এই কটা দিনে কিছু করার উপায় নেই। ম্যাডক্স।

    সবসময় শুধু ম্যাডক্স ম্যাডক্স! আচ্ছা ম্যাডক্স ছাড়া তোমার কি আর কোন কথা নেই।

    মেগ উপায় নেই কারণ যা কিছু করি না কেন, ম্যাডক্স সব কিছুর মধ্যেই থাকছে।

    কিন্তু, কিন্তু এ ছাড়া যে আর কোন উপায় নেই জন। এ মাসের মধ্যে যদি কিছু করতে পারা যায় তাহলে ভালো না হলে তো আশা আমাদের ছাড়তে হবে। তুমি বিশ্বাস করো জন, পঞ্চাশ হাজার ডলারের জন্য যে কোনও ঝুঁকি নিতে আমি তৈরী।

    কিন্তু ঝুঁকি নিয়ে কি হবে? কোথায় পাঁচ মাস আর কোথায় আঠারো দিন,নানা-এ একেবারেই অসম্ভব। আমি তো কোন কিনারাই পাচ্ছি না।

    মেগ বুক ভরে শ্বাস নিলো। যাক এতক্ষণে নিশ্চিন্ত হওয়া গেল,চলে যাবার গল্পটা সত্যি সত্যিই অ্যানসন বিশ্বাস করেছে। ওঃ এতদিন ধরে তাকে কম ভাবতে হয়েছে। ভেবে ভেবে তবে না এরকম একটা গল্প খাড়া করা গেছে। মেগ গেলারকে বেঁধে রাখার জন্য সবকিছু করতে পারে। গেলার তার জীবন, তার স্বপ্ন, আশা, ভবিষ্যত।

    মেগ ব্যাপারটা নিয়ে আমাকে ধীরে সুস্থে ভাবতে হবে। আজ রাতটা যদি এখানে থাকি তাহলে তোমারকি কোনও অসুবিধে হবে?

    না না অসুবিধে আর কি? তুমি থাকবে এতে আর বলার কি আছে। মেগ বিলোল কটাক্ষে অ্যানমনের দিকে তাকিয়ে বলল, এগিয়ে এসে দুহাতে অ্যানসনের গলা জড়িয়ে ধরল। অ্যানসনের হাত তার শরীরের আনাচে-কানাচে ঘুরে বেড়াতে লাগল। ঘৃণায় বিরক্তিতে মেগ বারবার শিউরে শিউরে উঠল।

    আকাশে চাঁদ উঠেছে। খোলা জানলা দিয়ে ঘরের সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছেন জ্যোৎস্নার আলো। মেগ নিঃসাড়ে উপুড় হয়ে শুয়ে ঘুমুচ্ছে। রাত প্রায় শেষ হয়ে গেল। তিনটে বাজে। অ্যানসন-এর চোখে ঘুম নেই। একের পর এক চিন্তা তার মনে এসে ভিড় করছে।– হঠাৎ তার মাথায় বিদ্যুৎচমকের মতো কথাটা খেলে গেলো। তাইতো হ্যারী ডেভিস যে কি বলেছিল, হ্যাঁ মনে পড়েছে হ্যারী বলেছিল ব্যাপারটা কি আমার বাড়িতেও উঠতি বয়েসের মেয়ে আছে। তার কপালে কি আছে ভগবান জানেন। এই বিকৃত কাম মানুষগুলোর এক অদ্ভুত মনস্তত্ব, একজনকে ধর্ষণ করে এদের আশা মেটে না। এদের দরকার এখন আরো খোরাক নিত্যনতুন নতুন মেয়ে।

    তা এ মতলবটা ত খারাপ না।

    অ্যানসন ধড়মড় করে উঠে বসল, মেগকে ঠেলা দিলো, এই মেগ ওঠো ওঠো।

    মেগ চোখ মেলে আড়মোড়া ভেঙে অ্যানসন-এর দিকে তাকাল। ওঠো ওঠো, হয়ে গেছে সব ঠিক হয়ে গেছে তাড়াতাড়ি ওঠো।

    মেগ উঠে বসল, বলল কি, কি হয়ে গেছে। অ্যানসন-এর চোখে অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে রইল।

    কালকের খবরের কাগজটা কোথায়?

    আছে নীচের তলায়, কেন, কি দরকার?

    সেটা ঝটপট নিয়ে এসো, আর একটু কড়া করে কফি করো। হয়ে গেছে আর চিন্তার কোন কারণ নেই।

    মেগ-এর বিস্ময়ের ঘোর তখনো কাটেনি। সে উঠে গায়ে একটা চাদর জড়িয়ে দরজার দিকে এগোল।

    তাড়াতাড়ি যাও। অতো ভেবে চিন্তে হাঁটার সময় এটা না। যাও পরে অনেক ভাবনা চিন্তার সময় পাবে, অ্যানসন বিছানায় উঠে বসল। তারপর একটা সিগারেট ধরিয়ে ঘন ঘন টান দিতে লাগল।

    মেগকয়েক মিনিট পরে এলো। তার হাতে কফির ট্রে। ট্রের ওপরে খবরের কাগজখানা ভজ করা। হে মেরে অ্যানসন কাগজটা তুলে নিল। চোখের সামনে মেলে ধরে জোরে জোরে প্রথম পৃষ্ঠার বিশেষ খবরটা পড়তে লাগল।

    কাপে পট থেকে কফি ঢালতে ঢালতে মেগ চোখ তুলে বলল কি ব্যাপার কি পড়ছে?

    আনসন হাত তুলে তাকেকথা বলতে বারণ করল। তারপর আগাগোড়া সংবাদটি পড়ে কাগজ ভাঁজ করে রেখে সে মুখ তুললল। ব্যস আর কোনো চিন্তা নেই। সব ঝামেলা চুকে গেল। এই দেখো। কাগজটা সে মেগ-এর দিকে বাড়িয়ে দিলো। মেগ হাতে নিয়ে কাগজ মেলে ধরলো তার চোখের সামনে। বললো, আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না।

    কি আশ্চৰ্য্য বুঝতে না পারার কি আছে। অ্যানসন কফির কাপ তুলে নিল। ওই যে, সেই বিকৃতকাম আততায়ী কর্তৃক যুবক নিহত, যুবতী ধর্ষিত, ওইটা আগাগোড়া পড়।

    সংবাদটা মেগ আগাগোড়া পড়লো। শেষ চুমুক দিয়ে কাপ নামিয়ে রেখে অ্যানসন একটা সিগারেট ধরালো। মুখে ফুটে উঠলো আত্মপ্রসাদের হাসি।

    মেগ পড়া শেষ করে চোখ তুলতে অ্যানসন বলল, একে বলে মাথা, বুঝলে?

    ভেবে ভেবে কেমন একখানা বের করেছি। বিকৃতকাম ধর্ষণকারী পুরুষ, সহজে ওদের আশ মেটেনা। দিনের পর দিন লোভ ওদের বেড়েই চলে। এই আততায়ীটিই হবে আমাদের দাবার বোড়ে। বারলোকে খুন করে সে তোমাকে ধর্ষণ করবে। ম্যাডক্স তো কোন ছার। স্বয়ং ভগবান। এলেও এবার আর অবিশ্বাস করতে পারবে না।

    আমাকে ধর্ষণ করবে, আমি তো ছাই কিছু বুঝতেই পারছি না। প্লিজ জন, একটু ভেঙে বলল।

    ভেঙে বলার আর আছেটা কি। সবই তো খবরে পরিস্কার বলে দেওয়া হয়েছে। অ্যানসন সিগারটে এক দীর্ঘ টান দিলো একমুখ ধোয়া ছাড়লো, পলিস গুলো সব তরুণ-তরুণীদের এখন থেকে সাবধানে থাকতে বলেছে। তাদের ধারণা এই যৌন বিকারগ্রস্ত আততায়ী হয়তো আবার কাউকে আক্রমণ করতে পারে। এর মানে হল এই, পুলিস আর একটা আক্রমণের আশায় আছে। আমাদের পক্ষেও এটুকুই যথেষ্ট। উত্তেজনায় বিছানার উপর পা মুড়ে বসলো অ্যানসন, মেয়েটা পুলিসের কাছে আততায়ীর যে বর্ণনা দিয়েছে তার থেকে আমরা জানতে পারি আততায়ী বেঁটে, মুখ চ্যাপ্টা, চোখের দৃষ্টি জ্বর। পরনে ছিল তার কালো ওভারকোট কান অবধি নামানো কালো টুপি। মেয়েটির সঙ্গে হাতাহাতি করতে গিয়ে মাথার টুপি খসে পড়ে এবং তার মাথাজোড়া টাক প্রকাশ হয়ে পড়ে। একেবারে ছবির মতো বর্ণনা। তোমাকে-এর প্রতিটা শব্দ বহু মুখস্থ করে ফেলতে হবে। এই লোকই তোমার স্বামীকে গুলি করবে এবং তোমাকে ধর্ষণ করবে। পুলিস যখন আততায়ীর চেহারা জানতে চাইবে তুমি তাদের দ্বই এই বর্ণনা দিয়ে দেবে। ব্যস ঝামেলা চুকে গেল। পুলিসের মনে আর সন্দেহের চিহ্নমাত্র থাকবে না। আমরা বিনা ঝামেলায় পঞ্চাশ হাজার ডলারের মালিক হয়ে যাবো।

    মেগ অবাক চোখে অ্যানসনের দিকে তাকিয়ে থাকলো। তার মুখে কথা বেরোল না।

    অ্যানসন আর একটা সিগারেট ধরিয়ে বলল, সেদিন তুমি না বলেছিলে, এ মাসের শেষাশেষি তোমাদের প্রথম বিবাহবার্ষিকী। তারিখটা কতো? কি বার?

    আর তিনদিন পর শুক্রবার। মেগ বিমুখের মতো বললো কেন এটা জেনে কি হবে?

    অ্যানসন বিড়বিড় করে বলল মোটে চারদিন। চারদিন মাত্র সময়, ঠিক আছে ওতেই হবে।

    ওইদিন তোমাকে নিয়ে বাইরে ডিনার খেতে যেতে তুমি বারলোকে বাধ্য করবে। ডিনারের পর বায়না ধরবে। দিনটি স্মরণীয় করে রাখার জন্য কোন নির্জন স্থানে তোমাকে নিয়ে যেতে। হ্যাঁ ঠিক। গ্রিন হিল নয় তুমি ওকে জেসনস্ প্লেনে যাবার কথা বলবে। আমি ওখানে থাকবো। তোমাদের জন্য অপেক্ষা করবো।

    তারপর, মেগ জানতে চাইল। যেন বহুদূর থেকে তার গলার স্বর ভেসে এলো।

    তারপর আর কি। অ্যানসন আঙুল দিয়ে খবরের কাগজ দেখালো এই ঘটনাই ঘটবে।

    তার মানে ফিলকে তুমিই গুলি করবে?

    আলবাত। আমি ছাড়া আর কে করবে, শুধু তাই নয় গুলি করার পর তোমাকে আমি আক্রমণ করবো, ধর্ষণ করবে। মেগ দ্যাখো, সত্যি কথা বলতে পঞ্চাশ হাজার ডলার–তা অমনি অমনি আকাশ থেকে টুপকরে তোমার কোলের ওপর পড়বেনা।এরজন্য তোমাকেকসরত করতে হবে। তোমার অবস্থা এমন হওয়া দরকার, যাতে পুলিশবা ম্যাডকারুর মনেই তিলমাত্র সন্দেহের উদ্রেক হয়। তাদের যেন বুঝতে অসুবিধা না হয় যে সেই বিকৃতকাম কোন বিকারগ্রস্ত আততায়ীই তোমাকে আক্রমণ করেছে। তারপর আততায়ীর চেহারা সম্পর্কে তোমার নিখুঁত বর্ণনা, ব্যস, কেল্লাফতে সুড়সুড় করে পঞ্চাশ হাজার ডলার গড়িয়ে আসবে।

    কিন্তু আমি বলছিলাম।

    এর মধ্যে আর কোন কিন্তুর স্থান নেই মেগ। অ্যানসন ঘাড় নাড়লো, ফ্লোরিডায় চলে যাবার আগে একমাত্র এভাবেই আমাদের কাজ হাসিল করা সম্ভব। এছাড়া অন্য কোন রাস্তা নেই। অন্ততঃ ম্যাডক্সকে এই একটা মাত্র উপায়েই বোকা বানানো যেতে পারে। অন্য যেভাবেই করিনা কেন, তাকে ফাঁকি দেওয়া যাবেনা। আমাদের এই পরিকল্পনার একটা চালাকি আছে। পুলিস যা আশা করে আমরা তেমনই করছি নতুন কিছু না।

    মেগ অধৈর্য হয়ে,.বলল জন তোমার পরিকল্পনা সম্পর্কে আমার কিছুই বলার নেই। কিন্তু অন্য কয়েকটা খুঁটিনাটি বিষয়ে আমাদের ভাবতে হবে। ধরো যদি সেদিন বৃষ্টি হয়, বৃষ্টির মধ্যে ফিল মোটেই জেসনস্ প্লেনে যেতে রাজি হবে না।

    কথাটা অবশ্য মিথ্যে বলোনি।তবে আমরা আশা করবো, বৃষ্টি হবেনা।হলে তখন আর উপায় নেই। এখানে এই বাড়িতেই তখন যা করার করতে হবে।

    তখন তোমাকে অন্য গল্প করতে হবে। বলবে, কে যেন দরজায় কড়া নাড়লো। তোমার স্বামী দেখতে গেল, তুমি ওপর থেকে একটা গুলির শব্দ শুনতে পেলে। তারপর সেই উন্মাদ তোমার ঘরে এসে ঢুকলল, তোমাকে আক্রমণ করলে, এই হবে তখনকার গল্প। অবশ্য জেসনস্ প্লেনে হলেই সুবিধে হয়, এখানে হলে একটু বেশি ঝুঁকি নেওয়া হবে।

    আর একটা কথা ধরো সেই লোক শুক্রবার রাতের আগেই ধরা পড়লো। এদিকে আমরা কিছু জানতেও পারলাম না। সেরকম অবস্থায় পুলিসের কাছে কাগজের মতো বর্ণনা দিতে গিয়ে তো বোকা বনতে হবে।

    ঠিক, এটা মাথায় আসেনি। বেশ ভালকথা মনে করিয়ে দিয়েছে। এসব খুটিনাটি বিষয় নিয়ে আমাকে আরো ভাবতে হবে। মোটামুটি খসড়া পরিকল্পনা তোমাকে আমি জানিয়ে রাখলাম। যেটুকু পাল্টাবো, তোমাকে পরে জানাবো। আহা বেশ তোমাকে হাসপাতালে নিয়ে যাবার পর পুলিসের প্রশ্নের জবাব দেওয়ার ক্ষমতাও তোমার থাকবে না। এর মধ্যে আমি খোঁজখবর নিয়ে জানবো সেই লোক ধরা পড়েছে কিনা। যদি ধরা পড়ে, আমি তোমাকে লাল ফুলের গুচ্ছ পাঠাবে। যদি ধরা না পড়ে থাকে, তবে পাঠাবো গোলাপের তোড়া।

    যদি লাল ফুল পাঠাও, অর্থাৎ সে যদি ধরা পড়ে, তাহলে কি বলবো?

    কি আর বলবে, যে কোন একটা লোকের বর্ণনা দিয়ে দেবে। এরকম তো প্রায়ই দেখা যায় একজন দুবৃত্ত একটা কাজ করার পর অন্য দুবৃত্তিরাও সেই কাজ করতে উৎসাহিত হয়। সুতরাং অন্য লোকের বর্ণনা দিলে পুলিসের মনে করার কিছু নেই।তবে ধরা না পড়লে ভালো। তাহলে সব একেবারে নিঝঞ্ঝাট হয়ে যায়।

    মেগ অন্যদিকে তাকিয়ে রইল। আনসন বলল কি ভাবছো তুমি?

    না তেমন কিছু নয়। মেগ অ্যানসনের চোখে চোখ রাখলো। ঐ যে তুমি বললে হাসপাতালে নিয়ে যাবার পর আমার কথা বলার মতো শক্তি থাকবে না। ওকথা কেন বললে?

    বাঃ সাতকাণ্ড রামায়ণ পড়ে সীতা কার বাপ, আরে বাবা এতক্ষণ ধরে তাহলে কি বললাম। কাগজেই বা কি পড়লে তুমি। বদমাইশটা মেয়েটাকে তাড়া করতে করতে অনেক দূর নিয়ে গেছে, তাকে পিটিয়ে প্রায় আধমরা করেছে, তারপর তাকে ধর্ষণ করেছে।

    মেয়েটির অবস্থা এখন সাংঘাতিক, এসব তো কাগজেরই খবর। তোমারও তো এরকমই হবে। অভিনয় বা ভান করার আর দরকার হবেনা। আর তাছাড়া অভিনয় করলেই তো আর পার পাওয়া যাবেনা, ম্যাডক্স তো ডাক্তারের রিপোর্ট দেখতে চাইবে। যখন দেখবে, সত্যিই তুমি ধর্ষিত হয়েছ তখনই সে স্থির নিশ্চিত হবে। সুতরাং বুঝতেই পারছে আগাগোড়া ব্যাপারটা তোমারই হাতে। তুমি যদি রাজি হও সবকিছু সামলাতে পারবে বলে ভরসা দাও তবেই হবে। তা না হলে সব মাটি।

    মেগ উঠে জানলার কাছে গেল। মাঠের দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। মনের গোপনে একটা ভয়, একটা আতঙ্ক এসে তিলে তিলে দানা বাঁধতে লাগলো। দূর থেকে যেন ভেসে এলো গেলার এর কণ্ঠস্বর… ।

    এ মাসের মধ্যেই আমার টাকা চাই। তোমার কাজ হবে, অ্যানসনকে এর মধ্যেই যা কিছু করার করতে বাধ্য করা। যদি তা করতে পার তাহলে তোমার আমার সম্পর্ক বজায় থাকবে। নাহলে ব্যস, পায়ে মাথা খুড়ে মরলেও আমাকে আর তুমি পাবে না।

    তার চোখের কোল বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়লো। গেলার জেরী প্রিয়তমা আমার, তোমাকে আমি হারাতে পারবো না, কিছুতেই পারবো না। তোমার জন্য আমি যে কোন দুঃখ কষ্ট মাথা পেতে নেবো। তুমি আমার, আমারই।

    হাতের পিঠে চোখের জল মুছে ঘুরে দাঁড়াল মেগ। ম্লান হাসি ফুটে উঠলো তার মুখে, ঠিক আছে জন, ঠিক আছে, তোমার জন্য আমি সব করবো। সব…

    বুক থেকে যেন একটা বিরাট বোঝা নেমে গেলো অ্যানসন-এর। সে আরামে বালিশে মাথা রাখলো। কড়িকাঠের দিকে তাকিয়ে বললো পরশু অর্থাৎ বৃহস্পতিবার আমি এখানে আসবো। খুঁটিনাটি সবকিছু নিয়ে সেদিন বিশদ আলোচনা হবে, তাহলে তুমি কথা দিচ্ছ। তোমার স্বামীকে নিয়ে তুমি শুক্রবার বেরোচ্ছো, জেসনস্ প্লেনে যাচ্ছে।

    হ্যাঁ যাবো, ওকে রাজি করানোর ভার আমার।

    অ্যানসন নাটকীয় ভঙ্গিতে দুহাত বাড়িয়ে দিলো, তাহলে এসো দেবী আমার, পঞ্চাশ হাজারী দেবী, আমার হৃদয়ে এসো অধিষ্ঠিত হও।

    মেগ অনিচ্ছা সত্বেও এগোলো। অ্যানসনের আলিঙ্গনে ধরা দিলো।

    .

    অ্যানসনকে লিফট থেকে বেরোতে দেখে জাড় জোন্স উঠে দাঁড়িয়ে মাথা নীচু করে অভিবাদন। করলো। জোন্স অ্যানসনের অফিস বাড়ির নৈশ প্রহরী। গাট্টাগোট্টা শক্ত সবল চেহারার পুরুষ।

    জাড মাথা তুলে বললল গুড ইভনিং মিঃ অ্যানসন। আপনার কি আজ বেশি রাত হবে কাজ সারতে?

    কাজের চাপ কদিন হল বেড়েছে। দেরী হতে পারে। চট করে যা হোক দুটো খেয়ে আসি। ফিরে এসে আবার কাগজপত্র নিয়ে বসবো। বড়জোর এগারোটা অবধি থাকবো। আলো জ্বলতে

    দেখে তুমি আবার ভেবো না যে আমার ঘরে চোরটোর ঢুকে পড়েছে।

    না, না, মিঃ অ্যানসন কি যে বলেন, তা কেন ভাবতে যাবো। জোন্স-এর মুখে বিগলিত হাসি ফুটে উঠল। আপনি বললেন ব্যস, আপনাকে আর বিরক্ত করতে যাবো না।

    জোন্সকে অ্যানসনের হাতে রাখতে হয়েছে। সে এখন না হয় নিপাট ভালোমানুষ, আগে কোনো কোনো দিন টাকা পয়সার ঘাটতি পড়লে রাস্তা থেকে সস্তা মেয়েদের অফিসেই নিয়ে আসতো অ্যানসন। জোন্স দেখেও দেখত না। বড়দিনে বা অন্যান্য বিশেষ উৎসবের দিনে সে জোন্সকে দুহাত ভরে বকশিস দিতো। ওতেই জোন্স সন্তুষ্ট।

    অ্যানসন চোখ তুলে তাকাল, পকেট থেকে মানিব্যাগ বের করে পাঁচ ডলারের একখানানোট তুলে বললো নাও এটা ধরো জোন্স, কদিন ধরেই দেখছি রোজ তুমি একই শার্ট পরে অফিসে আসছ। একটা নতুন শার্ট কিনে নিও।

    জোন্স নোটটা নিয়ে হেসে একটা বিরাট সেলাম ঠুকলো। অ্যানসন বেরিয়ে এসে গাড়িতে বসে গাড়ি ছাড়লো।

    লুইসির ছোট রেস্তোরাঁর এক কোণে বসে খাবার খেতে খেতে আগাগোড়া পরিকল্পনাটা মনে মনে অ্যানসন পর্যালোচনা করলো। বারবার নিজের বুদ্ধিকে তারিফ করলো। মেগ-এর ঝাটের কিছু নেই। তাকে কেউ সন্দেহ করবে না। তবে হ্যাঁ, আমারও যথেষ্ট সাবধানে থাকতে হবে। সন্দেহের ছোঁয়াচ যেন আমার গায়েও না লাগে।

    অ্যানসন খাওয়া শেষ করে তাড়াতাড়ি অফিসে ফিরে এলো। নিজের ঘরে ঢুকে একটা সিগারেট ধরালো। চেয়ারে শরীর এলিয়ে একমুহূর্ত চিন্তা করে স্থির করলো তার পরের কার্যপদ্ধতি।

    জোন্স-এর রুটিন তার মুখস্থ। রাত দশটার প্রথম চক্করে বেরোয় সে। লিফটে উঠে একেক তলা ঘুরে ঘুরে দেখে। তারপর সাড়ে এগারোটা নাগাদ নিজের ঘরে ফিরে আসে। দ্বিতীয়বার  বেরোয় সোয়া একটার।

    অ্যানসন অ্যাসট্রেতে সিগারেট নিভিয়ে সোজা হয়ে বসলো। টেপ রেকর্ডারে নতুন এক রীল ফিতে লাগাল। মাইক্রোফোন এনে রাখলো টাইপ মেসিনের সামনে। তারপর সুইচ টিপে চালু করে টাইপ করা শুরু করল। প্রায় একঘণ্টা ধরে অ্যানসন এলোপাথাড়ি হাত চালাল। কতগুলো। অর্থহীন খটখট শব্দ ধরা পড়লো টেপ রেকর্ডারের ফিতেয়।

    দশটা বাজার কিছুক্ষণ পর লিফটের শব্দ শোনা গেলো। জোন্স বেরিয়েছে তার পরিক্রমায়। এবার আরো তাড়াতাড়ি হাত চালান অ্যানসন। কিছু সময় পর আবার লিফটের শব্দ হতে সে বুঝলো, জোন্স ওপর তলায় গেলো। টাইপ করা বন্ধ করে সে টেপ বন্ধ করলো। সযত্নে রীলটা খুলে রেখে দিলো ড্রয়ারে। তারপর ঘরের আলো নিভিয়ে দরজা বন্ধ করলো। সোজা সিঁড়ি বেয়ে রাস্তায় নেমে এসে গাড়িতে উঠে গাড়ি ছাড়ল।

    .

    ললি চা চা ক্লাবের বারে এক গ্লাস হুইস্কি নিয়ে কোণের এক টেবিলে একলা বসে আছে। বসে বসে পায়ে খিল ধরে গেছে। ওঃ একটা ঘন্টা পার হয়ে গেল, খদের এখনো জুটলো না। হঠাৎ ঘৃণায় চোখ ঘোট ঘোট করে সে দরজার দিকে তাকাল। বেরিল হরসি এসে গটমট করে ঢুকলো। বেরিল কি জোই না দিয়েছে। লাল রঙের কোট, কানে বড় বড় কানপাশা, জো ডানকানকে একেবারে হাতের পুতুল করে রেখেছে। তার দু-চক্ষের বিষ এই বেরিল হরসি। খদ্দের ভাগানো এই হতচ্ছাড়িটাকে দেখলেই ঈর্ষায় তার শরীর রি রি করে ওঠে।

    বেরিল কিন্তু এসব দেখেও দেখে না। সে একটু বেপরোয়া ধরনের, এই মেয়েটার সঙ্গে কারোর অসদ্ভাব নেই। সে ললিকে দেখে যথারীতি হাত তুলল। এগিয়ে এসে বসলো তার মুখোমুখি চেয়ারে।

    তারপর? সে বললো একেবারে একলা কি ব্যাপার?

    একজনের আসার কথা বসে আছি। ও হ্যাঁ, তারপর তোমার কেমন চলছে বলো।

    ভালো, এখন জোর সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছি। ও হ্যাঁ ভালোকথা, তোমাকে আজকাল অ্যানসনের সঙ্গে দেখি না। ঝগড়া ঝাটি হয়েছে নাকি? না, ঝগড়া ঝাটির কি? আমিই আর যাই না। যার পকেটে দু-পয়সা নেই যে এক গ্লাস হুইস্কি অবধি কিনে খাওয়াতে পারে না, তার সঙ্গে আবার সম্পর্ক কিসের? ওকে আমিই ভাগিয়ে দিয়েছি।

    আবোল-তাবোল কি বকছু, বাঁকা তুলে বেরিল বলল অ্যানসনের টাকা নেই, টাকা না থাকলে জোর হাজার ডলার সে সুদ সমেত ফেরৎ দেয় কিভাবে? তুমি জানো না অ্যানসন গুপ্তধনের সন্ধান পেয়েছে। পেয়ে তোমাকে ভাগিয়ে আর কাউকে নিয়ে আটকে পড়েছে। পতঙ্গে র পাখা গজিয়েছে।

    বেরিল নিজের রসিকতায় নিজেই হাসতে হাসতে গড়িয়ে পড়ল।

    বেরিল-এর হাসির শব্দটা যেন ললির মস্তিষ্কের কোষে কোষে আগুন ছড়ালো। তাইতো, অ্যানসন হাজার ডলার শোধ করলো কোত্থেকে। টাকানা থাকলে কেউ হাজার ডলার বের করতে পারে। ও টাকা পেল কোত্থেকে, কত পেলো।

    ললি গ্লাসে শেষ চুমুক দিয়ে উঠল। হ্যালো কে কথা বলছেন?

    জেরী…আমি মেগ।

    বলল, কাঁচা ঘুমটা ভাঙিয়ে দিলে তো।

    অ্যানসন রাজি হয়েছে, সব ঠিকঠাক। এই সময় তোমার সঙ্গে একবার দেখা হলে ভাল হত।

    গেলার নড়েচড়ে বসল। সব ঠিকঠাক? কাজটা কবে হচ্ছে?

    শুক্রবার, ও বৃহস্পতিবার এখানে আসছে। তার আগেই তোমার সঙ্গে দেখা করতে চাই।

    ঠিক আছে কাল আমি যাবো। ছাড়ছি। গেলার ফোন নামিয়ে রাখল।

    পাশের মেয়েটা পাশ ফিরে বলল, মনে হল যেন মেয়েছেলের গলা, কে কথা বলছিল?

    গেলার বিছানায় শুয়ে তাকে দুহাতে বুকের কাছে টেনে নিল। তার কানের কাছে মুখ এনে ফিসফিস করে বলল আমার মাগো মা, মার সঙ্গে কাল একবার দেখা করতে যাবো। কতদিন মাকে দেখিনি।

    মা? তোমার আবার মা আছে নাকি? বাঃ আছে না। সে তাকে আরো নিবিড় করে জড়িয়ে ধরলল, মা না থাকলে আমি হলাম কোত্থেকে। দুষ্টু কোথাকার তুমি কিছু জানো না, গেলার তার থুতনি ধরে নেড়ে দিল। বুকের ওপর উঠে বসল।

    .

    দরজা খুলে ম্যাডক্স-এর কামরায় ঢুকে প্যাটি দেখলো ম্যাডক্স অভিনিবেশ সহকারে একখানা পলিসির ওপর ঝুঁকে রয়েছেন।

    সে একটু ইতস্ততঃ করলো, বললো ঠিক আছে, আপনি এখন ব্যস্ত আমি বরং পরে আসবো।

    ম্যাডক্স মুখ তুলে বললো কেন? কি দরকার বলে।

    বারলোর ব্যাপারে সেই ডিটেকটিভ এজেন্সি রিপোর্ট পাঠিয়েছে। আপনি কি রিপোর্টটা এখন দেখবেন?

    বারলো…তিনি কড়িকাঠের দিকে তাকিয়ে একমুহূর্ত কি যেন ভাবলেন, ও হ্যাঁ মনে পড়েছে, সেঁই মালী থুড়ি বাগান ব্যবসায়ী, হ্যাঁ নিশ্চয়, এখনই দেখবোর তুমি দেখেছ নাকি।

    দেখেছি। সংবাদগুলো বেশ চমকপ্রদ। আপনার ভাল লাগবে। সে হাতের ফাইলটা তার দিকে এগিয়ে দিলো। স্বামীটির বিষয়ে তেমন কিছু নেই। যা কিছু খবর সব ওর স্ত্রীর সম্বন্ধে, আহা কি একখানা জিনিস!

    জিনিস! সে আবার কি?

    দেখুন পড়লেই সব বুঝতে পারবেন। মৃদু হেসে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলে প্যাটি।

    ম্যাডক্স একটা সিগারেট ধরালেন। পর পর কয়েকটা টান দিয়ে একমুখ ধোয়া ছাড়লেন।তারপর ফাইল খুলে চেয়ারে হেলান দিয়ে সেই আশ্চর্য রিপোর্ট পড়তে লাগলেন।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91 92 93 94 95 96 97 98 99 100 101 102
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleব্ল্যাক অর্ডার (সিগমা ফোর্স – ৩) – জেমস রোলিন্স
    Next Article জেমস হেডলি চেজ রচনা সমগ্র ২ (অনুবাদ : পৃথ্বীরাজ সেন)

    Related Articles

    জেমস হেডলি চেজ

    জেমস হেডলি চেজ রচনা সমগ্র ২ (অনুবাদ : পৃথ্বীরাজ সেন)

    August 18, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }