Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    জেমস হেডলি চেজ রচনা সমগ্র ১ (অনুবাদ : পৃথ্বীরাজ সেন)

    জেমস হেডলি চেজ এক পাতা গল্প2631 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৭. বৈদ্যুতিক সাজ সরঞ্জাম

    ০৭.

    অ্যানসন বৃহস্পতিবার সকালে ল্যামবসভিলের এক বৈদ্যুতিক সাজ সরঞ্জাম বিক্রীর দোকানে গেল। অনেক দেখেশুনে একটা ছোট্ট বৈদ্যুতিক ঘড়ি সে কিনল।

    কাউন্টারের বিক্রেতাটি এরকার্যকারিতা সম্বন্ধে এক ছোটখাটো বক্তৃতাই দিয়ে বসল। ঘড়িটা এক অদ্ভুত ক্ষমতাসম্পন্ন ঘড়ি। যে কোনো বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্র আপনার প্রয়োজনীয় সময়ে চালু করা বা বন্ধ করা এর কাজ। ধরুনরাত দশটায় আপনি রেডিওর কোনো বিশেষ অনুষ্ঠান শুনতে চান। ঘড়ির কাটা দশটার ঘরে রেখে ঘড়িটা রেডিওর প্লাগে আটকে দিন।ব্যস, আপনাকে আর কিছু করতে হবে না। দশটা বাজলে রেডিও আপনা-আপনি চালু হবে। আপনি অনুষ্ঠান শুনতে পাবেন।

    সকালে যদি কফির জল গরম করতে হিটার চালাতে চাই।

    হ্যাঁ হ্যাঁ স্বচ্ছন্দে। ঘাড় নাড়লো বিক্রেতাটি, আমি নিজেও ঐ কাজের জন্যই একটা ঘড়ি বাড়িতে নিয়ে গেছি।

    দুপুরে মার্লবোরো হোটেলে লাঞ্চ সারতে গিয়ে দেখা জেফ ফ্রিসবির সঙ্গে। ফ্রিসবি টাউন গেজেট-এর একজন সাংবাদিক।

    দু-গ্লাস হুইস্কির অর্ডার দিয়ে অ্যানসন তার মুখোমুখি বসল।বলল, তারপর কেমন আছো বলো। কাজকর্ম কেমন চলছে?

    আর বোলোনা। ফ্রিসবি ঘাড় নাড়লল,দু-দুটো খুন নিয়ে চারদিক তোলপাড়।সম্পাদক জোর তাগাদা মারছে, রোজই-এ সম্বন্ধে দুকলম লেখা চাই। দেখো কাণ্ড! একদিন দুদিন না হয় একটা বিষয় নিয়ে দু-চার কলম লেখা যায়। রোজ রোজ লেখার মতো এত মাল-মসলা কোথায় পাবো বলতো?

    ওয়েটার পানীয় দিয়ে যেতে গ্লাসে গ্লাস ঠেকিয়ে অ্যানসন চুমুক দিলো। পুলিস তো এখনও কিছুই করে উঠতে পারলো না। উন্মাদটা বেশ খোশমেজাজেই ঘুরে বেড়াচ্ছে বলো?

    কি জানি পুলিসের খবর পুলিসই জানে। বড়কর্তা জেনসন একটা আস্ত পাকা মাল। ভেতরে– ভেতরে কি করছে কাউকে তা আগে থাকতে জানতে দেবে না। আমার সঙ্গে এ বিষয়ে একদিন তার কথা হচ্ছিলো। আমাকে বললো, পেট্রোল পাম্পের ডাকাত নির্ঘাত বাইরের কোনো লোক, কিন্তু এই উন্মাদটা এখানকারই কেউ। তার ধারণা সেরকমই।

    এরকম অদ্ভুত ধারণার কারণ?

    কারণ এই যে, বাইরের কোনো লোকের পক্ষেই গ্লিন হিল সম্বন্ধে খবরাখবর জানা অসম্ভব।

    তা বেশ তো, খুঁজে খুঁজে শহরের টাকমাথা লোকগুলোকে একদিন ধরে আনলেই হয়।

    তা অবশ্য হয়, তবে জেনসন-এর ধারণা মেয়েটা আততায়ী সম্বন্ধে যে বর্ণনা দিয়েছে, সেটা পুরোপুরি ঠিক নেই। ভয়ে-আতঙ্কে কি দেখেছে। এমনও হতে পারে, আততায়ীর মাথায় হয়তো লালচে কিংবা সাদা ধবধবে চুল ছিলো এবং জ্যোৎস্নার আলোয় তা দেখেই টাক বলে মনে হয়েছে।

    তা বেশ তো, তাহলে তো ল্যাঠা চুকেই গেল। লালচে আর ধবধবে সাদা চুলের লোকগুলোকে ধরে এনে জিজ্ঞাসা করলেই হয়। ঐদিন ঐসময় তাদের মধ্যে কে কি করছিলো। তার কি প্রমাণ আছে ইত্যাদি ইত্যাদি। ব্যস, ঝামেলা মিটে গেলো।

    তা তোমার মাথার চুলও তো লালচে, ফ্রিসবি চোখ টিপে হাসল, তুমি ঐদিন ঐসময় কোথায় ছিলে?

    অ্যানসন হো হো করে হেসে উঠল বলল আমার ওসব করার সময় কোথায়? যা কাজের চাপ আজকাল, দশটা কোন কোন দিন রাত এগারোটা বেজে যায়।

    তাছাড়া তোমার বয়েস পঞ্চাশের কাছাকাছিনয় মুচকি হেসে বলল ফ্রিসবি, অতএব তোমাকে আমি মুক্তি দিলাম।

    অ্যানসন তার বলার ধরন দেখে আবার হেসে উঠলো।

    ফ্রিসবি শেষ চুমুক দিয়ে গ্লাসসরিয়ে রেখে বললো মেয়েটা বেঁচে ফিরেছে এই যা রক্ষে। আচ্ছা আজ উঠি। আমার আবার দুকলমের মসলা জোগাড় করতে হবে। চলি আজ।

    অ্যানসন-ফ্রিসবি চলে যেতে রেস্তোরাঁয় গেল। খাবারের টেবিলে বসে খাবার খেতে খেতে সে ভাবলো যাক বাবা, উন্মাদটা এখনো তাহলে ধরা পড়েনি। তবে হ্যাঁ শুক্রবার রাত আসতে এখনও অনেক বাকি। তার মধ্যে যদি ধরা পড়ে। যাক গে যা হবার হবে, যদির কথা ভেবে এখনই মন খারাপ করার কিছু নেই।

    অ্যানসন রেস্তোরাঁ থেকে বেরিয়ে হোটলের টেলিফোন বুথে ঢুকলো। কয়েকটা জরুরী টেলিফোন সারল। তারপর বেরিয়ে ধীরে-সুস্থে এ রাস্তা ও রাস্তা ঘুরে সময় কাটিয়ে সে গাড়ি ঘোরালো বারলোর বাড়ির দিকে।

    নুড়ি বিছানো পথ বেয়ে গাড়ি এনে সোজা গ্যারেজে তুলল আনন। কড়া নাড়তে না নাড়তেই দরজা খুলে গেলো। মেগ ম্লান হেসে তাকে অভ্যর্থনা জানালো।

    বসবার ঘরে এসে দুজনে সোফায় বসল।

    অ্যানসন ঘরের মৃদু আলোয় লক্ষ্য করলে মেগ-এর মুখটা কেমন যেন ফ্যাকাশে, বিবর্ণ। চোখের কোলে কালির ছাপ। কি ব্যপার!

    মেগ-এর একটা হাত অ্যানসন তার হাতে তুলে নিল বলল মেগ কি হয়েছে। তোমার কি শরীর খারাপ, নাকি কিছু গণ্ডগোল হয়েছে।

    মেগ এক ঝটকায় হাত ছাড়িয়ে নিলো বলল গণ্ডগোল, তার চোখের দৃষ্টিতে আগুন ঝরে পড়লো। এখন আবার আমাকে ভালো মানুষের মতো জিজ্ঞেস করছে গণ্ডগোল হয়েছে নাকি। ন্যাকা, সারাদিন কি দুশ্চিন্তা আমাকে কুরে কুরে খাচ্ছে, তা তুমি কেন বোঝ না। ঘুমুতে পারি না, শান্তি মতো খেতে পারি না একমিনিট একজায়গায় বসতে পৰ্য্যন্ত পারি না। আজ বাদে কাল যাকে খুন করবে তার সঙ্গে এক বাড়িতে এক ছাদের নীচে আছি. ওঃ, এ যে কি যন্ত্রণা এ তুমি বুঝবে না, কোনোদিন বুঝবে না।

    মেগ, সবই আমি বুঝলাম। কিন্তু এখন তো আর ফেরার পথ নেই। সে মেগ-এর পিঠে হাত বোলাল, এখন তোমাকে মন থেকে ওসব চিন্তা ঝেড়ে ফেলতে হবে। মন শক্ত করতে হবে।

    আমি এখনও ভাবতে পারছি না যে কাল রাতে ফিল মরবে।

    ভাবতে না পারার কি আছে মেগ! জেসন গ্লেন অবধি ওকে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব তোমার। একবার যদি ওখানে ওকে নিয়ে যেতে পারো, তাহলে ব্যস, আর দুশ্চিন্তার কোন কারণ নেই। তারপর যা করার আমিই করবো।

    আমি পারবো নিয়ে যেতে পারবো। মেগ টলতে টলতে উঠে জানালার কাছে গেল, ডিনারের পর ওকে নিয়ে জেসন গ্লেনে যাবোই।

    আচ্ছা এবার একটা দরকারী কথা বলি মন দিয়ে শোনো। কাল আমি জেসন গ্লেনে গিয়েছিলাম। ঢোকার মুখে আধ মাইলটাক আগে রাস্তার পাশে এক টেলিফোন বুথ আছে। ঐ বুথে আমি অপেক্ষা করবো। তুমি আমাকে ফোন করে আগেই জানিয়ে দেবে যে তোমরা যাচ্ছো কিনা। যদি কোনো গণ্ডগোল হয়, যদি বারলো ডিনার খেয়ে সোজা বাড়ি চলে আসতে চায়, তাও আমাকে জানিয়ে দেবে। মানিব্যাগ খুলে এক টুকরো কাগজ বের করে সে মেগ-এর দিকে এগিয়ে ধরলো। এটা সেই বুথের টেলিফোন নম্বর। নাও এটা কাছে রেখে দাও।

    কাগজটা ভাজ করে মেগ তার হাত ব্যাগে রাখলো।

    আর হ্যাঁ অ্যানসন বললো, ওখানে গিয়ে গাড়ি থেকে বেরিও না কিন্তু। শুধু দরজার কাঁচ নামিয়ে রেখো। সে একটা সিগারেট ধরালো তারপর বলল ওকে কায়দা করার পরে পড়তে হবে তোমাকে নিয়ে। উপায় নেই। মেগ একটু কষ্ট সহ্য করতে হবে, কাজে কোনরকম ত্রুটি আমি রাখতে চাইনা। দাঁতে দাঁত চেপে সবকিছু মানিয়ে নিতে হবে। আমাকে দোষ দিও না ম্যাডক্সকে স্থির নিশ্চিত করার জন্যই এ কাজ করতে হবে। এটা যে কোনোরকম ভান-ভনিতা নয়, ডাক্তারের রিপোর্টে সেটা পরিস্কার লেখা থাকা দরকার।

    মেগের মেরুদণ্ড বেয়ে একটা শীতল স্রোত বয়ে গেল। সে কোনোক্ৰমে ঘাড় নেড়ে বললো হ্যাঁ বুঝেছি, তারপর?

    তারপর কষ্টেসৃষ্টে খোঁড়াতে খোঁড়াতে তোমাকে আসতে হবে আধমাইল, বড় রাস্তা অবধি। সেখানে অজ্ঞানের মতো চুপচাপ পড়ে থাকবে। কারুর না কারুর নজরে ঠিক পড়ে যাবেই। গাড়ি থামিয়ে তারাই তোমাকে তুলে নিয়ে হাসপাতালে পৌঁছে দেবে। অজ্ঞানের মতো পড়ে থেকো। আমি ফুল পাঠাবো তারপর মুখ খুলবে। যদি দেখো লাল ফুল তাহলে বুঝবেউম্মাদটা ধরা পড়েছে, আর যদি দেখো গোলাপ তাহলে নিশ্চিন্তে কাগজের সেই লোকটার বর্ণনা গড়গড় করে মুখস্থ বলে যাবে। মেগ-এর হাতে একটুকরো কাগজ বের করে সে দিল বলল এতে আমাদের কল্পিত উন্মাদের বর্ণনা আছে। পড়ে আগাগোড়া মুখস্থ করে ফেলল।কাগজের বর্ণনার সঙ্গে সঙ্গে এটাকে যেন গুলিয়ে ফেল না।

    তারপর?

    তারপর আর কি? আপাততঃ তোমাকে এটুকুই করতে হবে। খবরদার, ফুল না দেখে কিন্তু ভুলেও মুখ খুলোনা। ডাক্তার অবশ্য তুমি সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত পুলিসকে তোমার কাছে ঘেঁষতে দেবে না। সুতরাং সেদিক থেকে খানিকটা নিশ্চিন্ত।

    মেগ অ্যানসনের দিকে তাকিয়ে বলল তুমি বলছ যে কোন ভয় নেই। সব ঠিকঠাক হবে আমরা টাকা পাবো।

    অ্যানসন সোফায় চাপড় মেরে বললো আলবাত পাবো। একেবারে ছবির মতো নিখুঁত পরিকল্পনা। কোথাও এতটুকু ভুল নেই।

    কাগজে তোমাদের খবর ছাপা হবে। দেশের সমস্ত লোক তোমার দুঃখে সমবেদনা জানাবে। ম্যাডক্স এরকম অবস্থায় আর বেগড়বাই করতে পারবেনা। করলে ওরই ক্ষতি। ওরই কোম্পানির দুর্নাম রটবে। সংবাদ প্রকাশের দিকটা আমি দেখবো।ও ব্যাপারে আর তোমাকে ভাবতে হবেনা।

    কিন্তু আমি এখনও বিশ্বাস করতে পারছি না।

    আর বিশ্বাস করার দরকার নেই। দিন পনেরো পরে যখন তুমি পঞ্চাশ হাজার ডলারের মালিক হবে, তখন একেবারে বিশ্বাস করে ফেলবে। আঃ ভাবতেও ভাল লাগছে, পনেরো দিন পরে পঞ্চাশ হাজার তুমি আর আমি, আমি আর তুমি, মেগ আকাশের চাঁদ আমি তোমার পায়ে এনে দেবো, নাটকীয় ভঙ্গিতে অ্যানসন বলে উঠল।

    সে তাকে দুহাতে জড়িয়ে ধরল। কয়েক মুহূর্ত নীরবে কাটলো। মেগ ধীরে ধীরে নিজেকে মুক্ত করে অগ্নিকুণ্ডের পাশে গিয়ে দাঁড়াল। অ্যানসন এগিয়ে গেলে আলমারীর কাছে বলল দেখো কাণ্ড, এক্ষুণি ভুলতে বসেছিলাম আর কি। রিভলভারটা নেবার কথা একেবারে ভুলে গেছিলাম। ওটা না নিলে তো কাজই হবেনা। ড্রয়ার খুলে কাঠের বাক্সটা থেকে সে রিভলভার এবং কার্তুজ বের করলো। পকেটে পুরলো। তারপর মেগ-এর দিকে ফিরলো।

    মেগ স্থির দৃষ্টিতে অ্যানসনের-চোখে তাকাল। এবার তুমি যাও, জন। ফিল আজ বাড়িতে থাকবে। বলে গেছে, নটা নাগাদ ফিরবে।

    অ্যানসনের দু-চোখে আগুন ঝরে পড়ল। সে বলল ফিরবে কেন আজ তো বৃহস্পতিবার।

    ফ্লোরিডায় যাবে বলে স্কুল ও ছেড়ে দিয়েছে। দোকান থেকে বেরিয়ে ও যাবে সেই ব্যবসায়ীর কাছে। তারপর বাড়িতে আসবে। তুমি আর দেরী কোরো না জন যাও প্লিজ। আর দেরী করলে হয়তো পথেই তোমাদের দেখা হয়ে যেতে পারে।

    অ্যানসন ছোট ছোট চোখে মেগ-এর দিকে তাকাল বলল টাকা পাওয়ার আগে থেকেই গড়বড় শুরু করলে মেগ। আমাকে বোকা বানাচ্ছে।

    ছিঃ ছিঃ জন এ তুমি কি বলছো। তোমাকে বোকা বানিয়ে আমার কি লাভ? সত্যি বলছি বিশ্বাস করো, ফিল একটু পরেই ফিরে আসবে।

    ফিল…ফিল…ফিল…! এ ছাড়া কি তোমার অন্য কোনও কথা নেই। যে লোকটা আজ বাদে কাল আর…

    প্লিজ জন, তুমি এখন যাও।

    আচ্ছা বেশ, চললাম। ফোনের কথাটা যেন মনে থাকে। আমি বুথে বসে থাকবো। কোন ভয় নেই, মাথা ঠাণ্ডা রেখে যা করার করবে।

    মেগ তাকে ঠেলে সরিয়ে দিলো। কঠিন গলায় বললো জন আর দেরী করো না।

    অ্যানসন স্থির দৃষ্টিতে কয়েকমুহূর্ত তাকিয়ে রইল। তারপর মাথা নীচু করে ধীরে ধীরে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলো। একটু পরে তার গাড়ির ইঞ্জিনের শব্দ শোনা গেল।

    শব্দ মিলিয়ে যেতে গেলার রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে এলো। এতক্ষণ যেসব কথাবার্তা হলো, তার একটিও তার কান এড়ায়নি।

    মেগ গেলারকে দেখে তার বুকে ঝাঁপিয়ে পড়লো। গাল বেয়ে তার জলের ধারা নামলো।

    গেলার থুতনি ধরে নাড়া দিয়ে বলল, মেগ আবার কি রঙ্গ শুরু করলে বলোত, কোথায় অ্যানসনকে একটু ভালোবাসবে, গরম করবে তা না, এখন ফোঁস ফোঁস করে কাঁদছে। কত ভালো ছেলে, এতো ভালোবাসা, আর তাকে তুমি ওভাবে তাড়িয়ে দিলে।

    উত্তরে মেগ আরও শক্ত হাতে তার শরীর জড়িয়ে ধরলো।

    .

    শুক্রবার বিকেল সাড়ে পাঁচটা। অ্যানা গারভিল টেবিলের কাগজপত্র গুছিয়ে ড্রয়ার তুলে টাইপ মেশিনে ঢাকনা পরালো। তারপর চেয়ার ঠেলে উঠে অ্যানসনের দিকে তাকাল। চলি মিঃ অ্যানসন গুডনাইট।

    নাইট। আমার আজ আরো কিছুক্ষণ থাকতে হবে। কটা জরুরী চিঠি লেখার আছে।

    তাহলে তো আমাকেও থাকতে হয় আপনার কখন কি দরকার হয়।

    না না, সেজন্য তোমার থাকার দরকার নেই, আমি নিজেই করে নেবো সব। তেমন কিছু একটা জরুরী কাজ নয়।

    অ্যানসন চোখ টিপে মুচকি হাসল, আসলে বাড়িতে ভাববার তেমন কেউ তো নেই, বাড়ির টানও তাই কম।

    অ্যানা মৃদু হেসে বেরিয়ে গেলো। তার জুতোর শব্দ টানা বারান্দার প্রান্তে মিলিয়ে যেতেই অ্যানসন টেবিলের কাগজপত্র গুছিয়ে ড্রয়ারে তুললো। পকেট থেকে স্বয়ংক্রিয় বৈদ্যুতিক ঘড়ি বের করে চোখ বুজে ঘড়ি চালু করার নিয়মটা একবার মনে মনে পর্যালোচনা করলো তারপর উঠে গিয়ে সে দেয়ালের প্লাগে ঘড়িটা লাগিয়ে দিল।

    ঘড়ির দু-পাশে দুটো লম্বা তার। তারের জন্য একটা করে প্লাগ। একটা প্লাগ টেপ রেকর্ডারে আটকে আর একটা প্লাগ সে টেবিল ল্যাম্পের সুইচ বোর্ডে আটকে দিলো। তারপর ঘড়ির কাঁটা দুটো ঘুরিয়ে পাঁচটা পঞ্চাশ মিনিটে এনে চেয়ারে হেলান দিয়ে একটা সিগারেট ধরালো।

    হাত ঘড়িতে ঠিক পাঁচটা পঞ্চাশ বাজতেই টেবিল ল্যাম্প দপ করে জ্বলে উঠলো। টেবিল ল্যাম্প, টেপ রেকর্ডারটা আপনা আপনি ঘুরতে শুরু করলো। টাইপে খটখট শব্দ শোনা গেল। কালকের সেই শব্দ।

    হঠাৎ শুনলে মনে হয় কেউ যেন খুব মন দিয়ে পাতার পর পাতা টাইপ করে চলেছে। বিরাম বিহীন অত্যন্ত স্বচ্ছন্দ তার গতি। বাঃ চমৎকার! আসল নকলের ফারাক বোঝার জো নেই। একেবারে নিখুঁত, নিপুণ কাজ। সুইচ টিপে অ্যানসন টেপ বন্ধ করলো।

    এবার কাঁটা ঘুরিয়ে সে ঘড়িতে সাড়ে নটা করলো। টেপের রীল উলটো দিকে ঘুরিয়ে আবার শুরুর মুখে আনলো। তারপর উঠে ঘর থেকে বেরিয়ে দরজা বন্ধ করে একতলায় এলো।

    বেরোবার মুখে জাড় জোন্স-এর সঙ্গে দেখা। জোল কাগজ পড়ছিল। অ্যানসনকে দেখে কাগজ ভাঁজ করে জিজ্ঞাসু নেত্রে সে মুখ তুলে তাকাল।

    অ্যানসন বললো, আজ আবার আমার একটু বেশি রাত অবধি কাজ করতে হবে জোন্স। তোমাকে আগে থেকেই জানিয়ে রাখলাম।

    ঠিক আছে মিঃ অ্যানসন। মুচকি হাসলো জোন্স, জানিয়ে ভালোই করলেন। নয়তো দরজায় ধাক্কা দিয়ে আপনাকে শুধু শুধু অনর্থক বিরক্ত করতাম।

    তুমি যা ভাবছে তা নয় হে জোন্স। অ্যানসন হাসলো। আজকাল একেবারে পাকা সন্ন্যাসী হয়ে গেছি। ওসব পাট আজকাল প্রায় তুলেই দিয়েছি। মাইরি বলছি, আজ কাজই করব। যাই চটপট ডিনারটা সেরে আসি।

    ঘরের চাবিটা সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছেন তো। না ভুল করে দরজাতেই আটকে রেখে যাচ্ছেন?

    না, না, ভুল করিনি, চাবি সঙ্গেই আছে।

    অ্যানসন নামমাত্র খাবার খেলো। রেস্তোরাঁ থেকে বেরিয়ে সে সোজা নিজের ফ্ল্যাটে এলো। বারলোর রিভলভাবে ছটা কার্তুজ ভরলো। তারপর প্যান্টের পকেটে রিভলভার নিয়ে সে ফিরে এলো অফিসে।

    অ্যানসন গাড়ি ভেতরে ঢোকাল না। রাস্তার পাশে এক গাছের নীচে দাঁড় করিয়ে রাখল। ঢোকার মুখে জোন্স-এর সঙ্গে দেখা। তার ঘরের বড় দেয়াল ঘড়িটায় তখন আটটা বেজে কুড়ি।

    জোন্সকে সে বললো, এলাম। বড়জোর এগারটা অবধি থাকবে। তারপরই সোজা বাড়ি চলে যাবো।

    জোন্স-এর স্বরে উদ্বেগ ঝরে পড়লো, এই কদিনেই যা শরীরের হাল করেছেন, এতো খাটকেন না মিঃ অ্যানসন, শেষে বড় অসুখ-বিসুখ একটা আবার না হয়ে বসে।

    আরে না না, অসুখ হওয়া অতো সোজা নয়। চলি, সময় নষ্ট করে লাভ নেই। এগিয়ে গিয়ে অ্যানসন লিফটে উঠলো।

    যথারীতি সে চারতলায় নামলো। নিঃশব্দে কিছুক্ষণ বারান্দায় দাঁড়িয়ে রইল। তারপর আস্তে আস্তে পা ফেলে চোরের মতো চুপিচুপি নেমে এল সিঁড়ি পথে একতলায়। জোল-এর অফিস ঘরটা ওদিকে লিফটের মুখোমুখি। সিঁড়িটা বাড়ির একবারে ডানদিক ঘেঁষে। খিড়কি দরজার মতো একটা দরজা আছে সিঁড়ির সোজাসুজি। সেই পথ দিয়ে বেরিয়ে আনসন রাস্তায় উঠে এল।

    গাড়িতে বসে একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে ইঞ্জিন চালু করলো।

    গাড়ি ছুটে চললো ঝড়ের বেগে।

    অ্যানসন জেসন গ্লেন-এর আধ মাইল আগে টেলিফোন বুথের পাশে গাড়ি থামাল।

    ইঞ্জিন বন্ধ করে হেডলাইট নেভালো। তারপর সীটে হেলান দিয়ে সিগারেট ধরালো। হাতে এখনও অনেক সময়।

    পকেটের কাপড় ভেদ করে রিভলভারের স্টীলের চোঙটা শরীরে এক শীতল অনুভূতি জাগাচ্ছে। একটু পরেই এই রিভলভার উষ্ণ ক্রোধে ফেটে পড়বে। আঃ তারপরেই শান্তি। সেই দিনের প্রতীক্ষা টাকা, মেগ, সুখ।

    দশটা বাজতে এখনও কুড়ি মিনিট বাকি। আর একটা সিগারেট ধরালো অ্যানসন। গাড়ি থেকে নামলো। বুথে ঢুকে ছোট্ট পাথরের চেয়ারটিতে বসলো।

    সময় সেকেন্ড মিনিট ধরে এগিয়ে চললো। বসে বসে একের পর এক সিগারেট শেষ করলো। তাইতো এখনো ফোন আসছে না কেন। তাহলে কি বারলোকে এখানে আনা সম্ভব হল না। দশটা প্রায় বাজে।

    ক্রি-রি রিং-ক্রি রি-রিং

    অ্যানসন এক লাফে উঠে গিয়ে রিসিভার তুলল। সজোরে কানের সঙ্গে চেপে বলল হ্যালো।

    .

    বারলো এরকম অনুরোধের জন্য আদৌ প্রস্তুত ছিলেন না। মেগ একেবারেনাছোড়বান্দা, তাকে নিয়ে আজ বেরোতেই হবে। প্রথম বিবাহ বার্ষিকীর এই দিনটা নাকি মেগ চিরস্মরণীয় করে রাখতে চায়।

    বারলো সকালে একা একা বসে ব্রেকফাস্ট খাচ্ছেন এমন সময় মেগ এসে উপস্থিত। তার হাতে ধূমায়িত কফির ট্রে। মুখে মৃদু হাসির ঝিলিক।

    বারলো বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গেলেন। দীর্ঘদিন হলো তিনি একা একাই ব্রেকফাস্ট সারেন। মেগ ভুলেও তাকে সঙ্গ দিতে আসে না। আজ শুধু সঙ্গ নয়। একেবারে দু কাপ ধূমায়িত কফির সঙ্গে মিষ্টি-মধুর হাসি, কি ব্যাপার!

    একটা কাপ বারলোর দিকে এগিয়ে দিয়ে নিজের কাপে ছোট করে চুমুক দিল মেগ। এগিয়ে এসে গা ঘেষে দাঁড়ালো, আদুরে গলায় বললো, কতদিন আমরা একসঙ্গে বেরোইনি। বাড়িতে সারাদিন একা একা থাকি। তুমি একদিনও জানতে চাও না, যে মরে গেছি না বেঁচে আছি। আজ আমি কোনো ওজর শুনবো না আমাকে নিয়ে বেরোতেই হবে।

    আজ হঠাৎ! বারলো একটু সরে বসলেন। মাথা নীচু করে কফির কাপে চুমুক দিলেন।

    বাঃ এর মধ্যেই ভুলে গেলে। আজ যে আমাদের বিয়ের তারিখ। মেগ সোফায় বসে পড়লো, ঘনিষ্ট হয়ে বারলোর পায়ে নিজের পা ঘষলো।

    বেরোলেই তো গাদা গুচ্ছের পয়সা নষ্ট। মুখ না তুলে মাথা নীচু করে বললেন, টাকাকড়ি টানাটানি, মাসের শেষ।

    হোক গে মাসের শেষ। আজ কোন অজুহাতই আমি শুনব না। আজ রাতে আমি তোমার সঙ্গে বেরোবো, ঘুরব। ডিনার খাবো, মদ খেয়ে মাতাল হবে, তারপর শেষ রাতে বাড়িতে ফিরবো। এই আমার আজ রাতের রুটিন। বিকেলে একেবারে সেজেগুজে নামবো। তুমি তৈরী থেকো। মেগ উঠে দাঁড়াল। এখন যাই। অনেক কাজকর্ম পড়ে আছে।

    বারলোর বিস্মিত দৃষ্টির সামনে হিল্লোল তুলে সিঁড়ির দিকে এগোল মেগ, বারলো একই ভাবে বসে রইলেন।

    অনেকক্ষণ পরে তার স্তম্বিৎ ফিরে এলো।

    চেয়ারে পিঠ এলিয়ে দিয়ে তিনি একটা সিগারেট ধরালেন। সিগারেটের ধোঁয়াতে একের পর এক চিন্তার জাল রচনা করে চললেন।

    না মেগ-এর সম্বন্ধে আমার আর কোন মোহই নেই। আমার কাছে ও এখন মৃত একটা অচল মাংসের তাল। ও আর আমাকে কি সুখই বা দেবে। বরং সেই মেয়েটা, তার ভয় চকিত, করুন আর্তনাদ অতুলনীয়, অমন সুখ আমি কোনোদিনও পাইনি।

    তবে হ্যাঁ বেরোতে যখন চাইছে, মুখ ফুটে যখন একবার বলেইছে কথাটা, তখন আপত্তি করা আর ঠিক হবে না। কে জানে বাবা, কি ভাবতে শেষে কি ভেবে বসবে। আচ্ছা খুনটা যে আমিই করেছি সেকথা আবার মেগ জানতে পারেনি তো।

    অবশ্য জানার কোনও উপায়ও নেই। ছদ্মবেশটা দারুণ, কাগজের বর্ণনার সঙ্গে আমার কোন জায়গায় এতটুকু মিল নেই। তাছাড়া, রিভলভার টুপি এবং সেই রবারের পিণ্ড দুটো, বই মোক্ষম জায়গায় লুকিয়ে রেখেছি খাটের নীচে মেঝের কাঠ সরিয়ে সেই গোপন কুঠুরিতে। কারোর বাবার সাধ্য নেই সে জায়গা থেকে পায়। ইচ্ছে করেই ওগুলো নষ্ট করিনি কারণ আবার দরকার হবে, হয়তো কোনোদিন ঐ টুপি, ঐ পোষাক, ঐ রিভলভারের সাহায্য আমাকে নিতে হবে। লুকিয়ে লুকিয়ে যে ভীরু কাপুরুষরা প্রেম প্রেম খেলে তাদের আমি বারোটা বাজাবো।

    নাঃ মেগই আজ সবকিছু গোলমাল করে দিল। কোথায় ভেবে রেখেছিলাম আজ একটু জেসন গ্লেনটা টহল মেরে আসবো, তা না ওকে নিয়ে বেরোতে হবে। বিবাহ বার্ষিকী স্মরণীয় করতে হবে। নিকুচি করেছে বিবাহ বার্ষিকীর।

    বারলো উঠে দাঁড়ালেন। ঘৃণায়-বিরক্তিতে তার মুখের রেখা পাল্টালো। নিঃশব্দে তিনি নিজের ঘরের দিকে এগোলেন।

    প্রায় একরকম জোর করেই মেগ তাকে কোর্ট রোডহাউস রেস্তোরাঁয় নিয়ে এসেছে। এখানে খাবারের দাম এমনিতেই বেশি।

    খাবারও এমন কিছু ভাল নয়। তবু কেন যে মেগ এখানে এল, শুধু শুধু কতগুলো টাকা দণ্ড যাবে, আর কিছুই না।

    খাওয়া দাওয়ার পাট চুকলো। দুজনে এসে বসল রেস্তোরাঁর গায়ে লাগানো ছোট্ট পানশালায়। মেগ একাই প্রায় এক বোতল হুইস্কি খেল।

    সে চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়াল। তার পা টলছে। চোখ আরক্ত, শরীরে একটা আলগা ভাব। এক পা এগিয়ে এসে সে বারলোর হাত ধরল। চলো, এখানে আর না এখন জেসনস্ গ্লেনে যাবো, ওঠো, না বলো না।

    বারলোর মন ঘৃণায় ভরে গেলো। রস একেবারে উথলে উঠেছে। রাগ সামলে বারলো তাকে বলল না এখন আর কোথাও না, বাড়ি চলে আমার ঘুম পাচ্ছে।

    মেগ মায়া-মদির চোখে বারলোর দিকে তাকিয়ে বলল, তুমি যেন একটা কি, আজকের দিনে কোথায় একটু রোমান্টিক হবে, আমাকে আদর করবে তা না কেবল বাড়ি যাবো আর বাড়ি যাবো, না এখন আমি বাড়ি যাবো না।

    বারলো দৃঢ়স্বরে বললো আমি যাবো, তোমার সঙ্গে রোমান্টিক হবার চেয়ে। যাকগে বাড়ি চলো। মদ খেয়ে মাতলামি করার জায়গা এটা নয়।

    মেগ জড়ানো স্বরে বললো মাতলামি করছি নাকি? বেশ তাহলে তাই,আমি মাতাল তোমার মতো সাধু নই, হল তো, এখন চলল আর দেরী কোরো না, আমার আর এখানে ভাল লাগছে না।

    না, বাড়ি ছাড়া আমি আর কোথাও যাবে না। তিনি ইতস্ততঃ করে বললেন যে, এছাড়া ওখানে তো সবাই লুকিয়ে-চুরিয়ে প্রেম করতে যায়। ওখানে আমরা গিয়ে কি করবো?

    আমরাও প্রেম করবো, মজা লুটবো প্লিজ চলো, বেশ তুমি না যাও আমি একলাই যাবো। রাস্তা থেকে যাকে লোক একজনকে গাড়িতে তুলে নেবো, তার সঙ্গে মজা লুটবো। বলতে বলতে মেগ খিলখিল করে হেসে উঠল।

    বারলোর শরীর ঘৃণায় রি রি করে উঠল।

    তার চোয়াল শক্ত হল, বেশ তোমার যা করার করো, আমি চললাম।

    মেগ উঠে দাঁড়ালো, আমিও চললাম। তবে তুমি যাবে হেঁটে, আমি যাবো গাড়িতে।

    বারলো অনিচ্ছায় বসে পড়লেন। মনে মনে ভাবলেন যখন নাছোড়বান্দা, তখন আর আপত্তি করে লাভ নেই। যাওয়া যাক ওর সঙ্গে। বরং জায়গাটা এই তালে দেখে আসা যাবে যে ক-খানা গাড়ি আসে, লোকজন কেমন হয়, মন্দ কি?

    তিনি মেগ-এর চোখ এড়িয়ে অন্য দিকে তাকিয়ে বললেন বেশ চলো তবে বেশিক্ষণ কিন্তু ওখানে থাকা যাবেনা।

    মেগ খুশীতে ঝলমল করে উঠল, বলল একটু বোসো, আমি চট করে বাথরুম থেকে একটু ঘুরে আসি। সে আর দাঁড়ালো না বাথরুমের দিকে ছুটে গেল।

    বাথরুমটা ভেতরে। রেস্তোরাঁ এবং পানশালা দুটোর জন্য এই একটাই বাথরুম। দুদিক থেকেই ঢোকার দরজা আছে।

    পানশালার দিকের দরজা দিয়ে ঢুকে মেগ রেস্তোরাঁর দিকের দরজা খুলে বেরলো। দু-পা এগিয়ে গিয়ে টেলিফোন বুথে ঢুকলো।

    হ্যালো, অ্যানসন-এর স্বরে একরাশ উকণ্ঠা ঝরে পড়লো কে, মেগ?

    হ্যাঁ, শোন, আমরা যাচ্ছি, এক্ষুনি রওনা দিচ্ছি।

    ঠিক আছে। এসো আমি আছি। ফোন নামিয়ে রাখলো অ্যানসন।

    সে বুথ থেকে বেরিয়ে গাড়িতে গিয়ে উঠল। ইঞ্জিন চালু করে পাকা রাস্তা ছেড়ে গ্লেন-এর কঁচা রাস্তায় উঠতে লাগল। তার কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম।মনে নিদারুণ উৎকণ্ঠা। আরো খানিকটা উঠে বিস্তৃত উপত্যকাটিতে পৌঁছল সে। দুটো উঁচু ঝোঁপের আড়ালে গাড়ি থামালো। ইঞ্জিন বন্ধ করে আলো নিভিয়ে গাড়ি থেকে নামলো, তারপর বিক্ষিপ্ত পদক্ষেপে এগোল উপত্যকটা ঘুরে ফিরে জরীপ করতে।

    নীচে, অনেক দূরে শহর। আলোর মালায় যেন তার অন্ধকারের ঘোমটা খসে পড়েছে। সলজ্জ বিনম্র মুখে সে যেন তাকিয়ে আছে চোখ মেলে। গাড়ির হেডলাইটের তীব্র-আলোয় মাঝে মাঝে সেই লাজরক্ত রূপটি চঞ্চল হয়ে উঠছে। পরমুহূর্তেই অন্ধকার এসে তার চোখ ঢাকছে।

    একদিকে যখন এই চাঞ্চল্য, আর একদিকে তখন স্থির নির্জনতা। জেসন গ্লেন আজ অন্ধকার। একটা গাড়ি নেই, একটা মানুষ নেই, নেই এতোটুকু ফিসফিসানি। সব যেন কেমন শান্ত, স্তব্ধ। সাধারণতঃ কোনদিনই এরকম হয় না অন্ততঃ পনের কুড়িখানা গাড়ি প্রত্যেকদিনই আসে। কিন্তু আজ অন্য রকম, পুলিসের ফরমান শোনার পর কেউই আর সাহস করে এদিকে আসেনি। তা, না এসে একপক্ষে ভালই করেছে, অ্যানসন বেঁচে গেছে। যোগাযযাগটা যাকে বলে একেবারে মনিকাঞ্চন যোগ।

    অ্যানসন একচক্কর ঘুরে এসে এক ঝোঁপের আড়ালে উবু হয়ে বসলো। পকেট থেকে রিভলবারটা বের করে প্রস্তুত হয়ে রইল।

    সে হঠাৎ আপন মনেই হেসে উঠলো। আঃ জব্বর একখানা অ্যালিবাই তৈরী করে অফিসে রেখে এসেছি। আমার অনুপস্থিতিতেই সেখানে আমার কাজের শব্দ হচ্ছে। ব্যস্ত অ্যানসন সেখানে পাতার পর পাতা টাইপ করেই চলেছে। দরজার ফাঁকে টেবিল ল্যাম্পের আলো পড়ায় জাড় জোন্সও ধোকা খাবে। ভুলেও ভেবে উঠতে পারবে না, শব্দটা টাইপের না টেপ রেকর্ডারের।

    কোর্ট রোডহাউস রেস্তোরাঁ থেকে এখানে আসতে মিনিট তিরিশেক তো লাগবেই। সাড়ে আটটার আগে কিছুতেই ওদের পক্ষে এখানে আসা সম্ভব নয়। তা ঠিক আছে, আসুক ওরা ধীরে সুস্থে, আমি এখানে একই ভাবে বসে থাকবো। ওরা না এসে পৌঁছান অবধি এক পাও নড়ছি না।

    আঃ, সেই দৃশ্যটা কি দারুণই না হবে। ট্রিগারে একটু চাপ,বুম, একটা আগুনের হলকা, বারলো লুটিয়ে পড়বে গাড়ির মেঝেয়। ওঃ অতুলনীয়, জীন এবং মৃত্যু জীবিত এবং মৃত, এক মুহূর্ত আগেকার জীবিত বারলো এক মুহূর্ত পরে চিরনিদ্রায় ঢলে পড়বে, পৃথিবীর সমস্ত পাখি একসঙ্গে তাদের স্বরে কিচির-মিচির করেও তার ঘুম ভাঙ্গাতে পারবে না। বারলো আর জাগবে না।

    কি অদ্ভুত! এত কথা ভাবছি, বারলোকে খুন করার কথা ভাবছি, তবু আমার এতটুকু ভাববৈষম্য হচ্ছে না। ঠিক সেই পুলিসটার মতো, ওকে মারতেও আমার এতটুকু হাত কাঁপেনি। রিভলভার তুলেছি, ট্রিগার টিপেছি, ব্যস্ অতবড় জোয়ানটা মুখ থুবড়ে পড়লো। অত তেজ, অত হম্বিতম্বি, সব একেবারে গলে জল হয়ে গেল।

    অ্যানসন হঠাৎ চমকে উঠল। কান খাড়া করল। দূরে গাড়ির শব্দ শোনা যাচ্ছে, গাড়িটা এদিকেই আসছে…ওরা আসছে…।

    অ্যানসন শক্ত হাতে রিভলভার চেপে ধরলো। দাঁতে দাঁত ঘষলো। কপালে তার জমে উঠল বিন্দু বিন্দু ঘাম। একটা বাঁক পেরোতেই গাড়ির আলোটা অন্ধকার কেটে এগোল।

    ভাগ্য, একেই বলে ভাগ্য। তার থেকে মাত্র কুড়ি হাত দূরেই গাড়িটা এসে থামলো। পুরনো আমলের রংচটা একখানা বুইক। তার আরোহী মাত্র দুজন, ফিলিপ বারলো এবং মেগ।

    বারলো বলল দ্যাখ চারিদিকে একবার তাকিয়ে দ্যাখ, আমরা ছাড়া এখানে আর জনপ্রাণীর চিহ্ন নেই।

    গাড়ির কাঁচ নামানো। মৃদু বাতাসে ভর করে বারলোর প্রতিটি কথা অ্যানসনের কানে ভেসে এলো।

    চারদিকে দৃষ্টি ঘুরিয়ে বারলো মেগ-এর চোখে তাকাল। দেখো চারদিক কেমন নিরব শুনসান, তার কথা শেষ না করেই তিনি একদৃষ্টে মেগ-এর দিকে তাকিয়ে রইলেন। ভাবলেন কি আশ্চর্য, এতক্ষণে এই সহজ-সরল কথাটাই আমার মাথায় ঢোকেনি। মেগকে তো আমি এখন নিঃশব্দে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিতে পারি। কেউ জানবে না, কাকপক্ষীটিও টের পাবে না। এমন সুবর্ণ সুযোগ কি আর কোনোদিন আসবে।

    কিন্তু আমি ওর সঙ্গে আছি। সেক্ষেত্রে আমার কিছু হবে না অথচ ও মরবে, এটাই বা কেমন দেখায়। সবাই ভাববেন বা কি? মেগের মৃত্যুতেই তারা বুঝে নেবে যে আরেকটা খুন কে করেছে? না, বরং এখন থাক।

    অ্যানসন মাটির সঙ্গে মিশে বুকে হেঁটে এগিয়ে গেলো। গাড়ির কাছে এসে থামল। ঘাড় তুলে উঁকি মেরে দেখলো। হ্যাঁ এখান থেকে বারলোর মাথাটা পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে।

    মেগ-এর গলা শোনা গেল কই আমাকে আদর করো। বারলোর কাঁধে মাথা রেখে সে তাকালো জানালার দিকে, হঠাৎ গলা চিরে এক তীক্ষ্ণ চীৎকার বেরিয়ে এল তার, না মেরো না প্লিজ মেরো না।

    বারলো চকিতে ঘাড় ফিরিয়ে তাকালো, অ্যানসন ট্রিগারে চাপ দিল।

    বারলো হুমড়ি খেয়ে পড়লো, ফিনকি দিয়ে রক্ত ছুটলো। দু-হাতে মুখ ঢেকে মেগ চীৎকার করে উঠল না-না-না–

    অ্যানসন রিভলভার পকেটে রেখে এক পা এগোল, এক টানে গাড়ির দরজা খুলে ফেললো। মেগ দু হাতে বাধা দেবার চেষ্টা করলো।

    অ্যানসন তার চুলের মুঠি ধরে হিড়হিড় করে টানতে টানতে গাড়ি থেকে নামালো। তারপর…

    রাতের নিস্তব্ধতা ভঙ্গ হয়ে ছড়িয়ে পড়লো মেগ-এর আর্তনাদে। কটা নিশাচর প্রাণী ডানা ঝাঁপটালো। একটা শকুন কাঁদতে লাগল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72 73 74 75 76 77 78 79 80 81 82 83 84 85 86 87 88 89 90 91 92 93 94 95 96 97 98 99 100 101 102
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleব্ল্যাক অর্ডার (সিগমা ফোর্স – ৩) – জেমস রোলিন্স
    Next Article জেমস হেডলি চেজ রচনা সমগ্র ২ (অনুবাদ : পৃথ্বীরাজ সেন)

    Related Articles

    জেমস হেডলি চেজ

    জেমস হেডলি চেজ রচনা সমগ্র ২ (অনুবাদ : পৃথ্বীরাজ সেন)

    August 18, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }