Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    জোয়ার ভাটা – সমরেশ বসু

    সমরেশ বসু এক পাতা গল্প142 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    জোয়ার ভাটা

    জোয়ার ভাটা 

    ক’টা লাও আসবে বাবু? চেঁচিয়ে জিজ্ঞেস করল কৈলাস?

    দশটা।’ জবাব এল আড়তের চালাঘর থেকে।

    সবুজ শাড়ি-পরা কামিনটি চেঁচিয়ে জিজ্ঞেস করল, কী কী?

    আবার জবাব এল বিরক্তিভরে, বললাম তো, সাত নৌকো বালি আর তিন নৌকো টালি।

    অমনি সবুজ আর লাল শাড়ি-পা দুটি কামিন একসঙ্গে গলায় গলা মিলিয়ে সরু গলায় গেয়ে উঠল,

    ওই আসে গো ওই আসে লা’য়ে ভরা টালি
    ঘরে আমার ছা ঘুমোয়
    মিনসে পড়ে শুড়িখানায়।
    বেলা না যেতে আমি লাও করব খালি।

    মেয়ে ছিল জনা পাঁচেক, পুরুষ ছিল পনেরো জন। পুরুষদের ভেতর থেকে কয়েকজন হাততালি দিয়ে উঠল বাহবা বাহবা বলে। মেয়েরা হেসে উঠল সব খিলখিল করে।

    হঠাৎ প্রৌঢ় ভোলা দাঁড়িয়ে উঠে, এক হাত কোমরে আর এক হাত কানে দিয়ে জোর গলায় উঠল গেয়ে,

    মিছে কথা কসনি লো বউ, মিছে কথা ক’সনি।
    কাল সঝেয় এ পোড়া চোখে শুড়িখানা দেখিনি ॥
    দিনে খেটে, ছা’ লিয়ে তুই মোর পাশে রাত কাটালি!
    কুড়ে বউ ও কুড়ে বউ, তুই মিছে দোষে দুষলি ॥

    মেয়ে পুরুষের মিলিত গলায় একটা হাসি ও হুল্লোড়ের ঢেউ বয়ে যায়। মুহূর্তে যেন জমকে ওঠে সকালবেলার গঙ্গার ধার।

    সূর্য উঠেছে খানিকক্ষণ আগে। ভাটা-পড়া গঙ্গার লাল জলে লেগেছে বৈশাখী রোদের ধার। ছোট ছোট ঢেউয়ের মাথা চকচক করে রোদে। ভাটায় জল নেমে পলি পড়েছে ধারে ধারে। কাঁকড়ার বাচ্চা কুড়োচ্ছে খাবার জন্য কতকগুলো হা-ভাতে ছেলে।

    ওপারে চটকল দেখা যায় একটা। এপারেও চটকল উত্তরে দক্ষিণে। মাঝখানে আড়ত অনেকখানি জায়গা জুড়ে রয়েছে। বালি ও টালির ভাঙা টুকরো ছড়ানো উঁচু পাড়। দু-তিনটে ছোট বড় ন্যাড়া ন্যাড়া গাছ। গাছের গা ও অবশিষ্ট পাতাগুলো ধুলোয় ভরা। জায়গাটা উঁচু-নিচু, তাই লরি দুটো খানিকটা দূরে পেছনের মাঠের উপর দাঁড়িয়ে আছে। লরি দুটো এসেছে মাল তুলে নিয়ে যেতে।

    আর নৌকো থেকে মাল খালাস করার জন্য এসেছে এই মানুষগুলো। এরা দিনমজুর কিন্তু অনিশ্চিত এদের দিনের দিন মজুরি পাওয়া। কেননা, এ সব আড়তে কখনও একসঙ্গে দু-তিন দিনের কাজ থাকে না। মাল আনা আর দেওয়ার একটি কেন্দ্র মাত্র। তাই এরা ফেরে রোজ কাজের সন্ধানে, আড়তে, ইট পোড়ানো কলে, বাড়ি-ঘর তৈরি কন্ট্রাক্টরের ফার্মে, কাঠ সুরকির গোলায়। কাছে কখনও, কখনও দূরে। ওদের রোজ মজুরের নির্দিষ্ট মহল্লায় কোনও কোনও সময় আপনা থেকে ডাক আসে।

    কিন্তু যেদিনটা ওরা কাজ পায় না, সেদিনটা ওদের অভিশপ্ত। এ ছন্নছাড়া আয়ের মতো জীবনও ছন্নছাড়া। কম হোক, বেশি হোক, কোনও বাঁধা আয় নেই অথচ বাঁধা আছে পেট। তবে এ জীবনে পেটটাকেও গোঁজামিল দিতে শিখেছে ওরা। ঘরও নেই, বারও নেই, জীবনের রঙ্গ অঙ্গ সবটাই এখানে। এখানটায় ফাঁক গেলে সব আঁধার। আঁধারের সব কুরূপ না ওত পেতে আছে ওদের চারধারে। তাই হাতে যেদিন কাজ থাকে, সেদিনে ওরা মূর্তিমান আনন্দ। বন্ধনহীন মন, তোলপাড় হৃদয়। যতক্ষণ শ্বাস, ততক্ষণ আশ নয়, যতক্ষণ কাজ, ততক্ষণ আশ।

    হৈ হৈ হৈ, ঐ আসে গো ঐ।
    কি কি কি? গোরা সায়েবের ঝি।

    আগের গানের প্রসঙ্গ পালটে জোয়ান মদন গেয়ে উঠল চেঁচিয়ে কানে আঙুল দিয়ে,

    গোরার বেটির মেজাজ চড়া, কাজের হদিস বড় কড়া
    বউ লো বউ, কাজে হাত লাগা

    সুরের শেষ টান দিয়ে সে একটু বিরক্তিভরে জিজ্ঞাসু চোখে তাকাল মেয়েদের দিকে। এর পরে মেয়েদের সুর ধরার কথা।

    কিন্তু দেখা গেল মেয়েরা নারাজ। টিপে টিপে হেসে তারা মাথা নাড়ল। মুখ ফিরিয়ে বসল কেউ নিরুৎসাহে গা এলিয়ে। পথে আসতে কুড়িয়ে পাওয়া, খোঁপায় গোঁজা কৃষ্ণচূড়া ঢেকে দিল ঘোমটা তুলে। যেন গানের তালে ফাঁক দিতে গিয়ে সুর থেমে গেছে। সেই ফাঁকে ভাটা ঠেলে জোয়ার এসে পড়ল গঙ্গার বুকে। এল নিঃশব্দে চোরাবাগানের তলে তলে। শুধু হাওয়া আসে যেন কোত্থেকে ধেয়ে। আসে চটকলের জেটির গায়ে ধাক্কা খেয়ে, ক্রেইনের মাথায় লাল ন্যাকড়ার ফালি উড়িয়ে, এপারে ওপারে আগুনের মতো কৃষ্ণচূড়ার মাথা দুলিয়ে।

    হা-ভাতে ছেলেগুলো মহাউল্লাসে ঝাঁপিয়ে পড়ল জোয়ারের জলে! স্টিম লঞ্চ একটা টেনে নিয়ে চলেছে বিরাট গাধাবোট দক্ষিণ থেকে উত্তরে।

    লরির ড্রাইভার কানাই এসে দাঁড়াল দলটার সামনে। সে এদের পরিচিত গুণী বন্ধু। অতবড় একটা গাড়িকে সে খুটখাট মেশিন নেড়ে বোঁ বোঁ করে চালিয়ে নিয়ে যায়, গায়ে পরে সাহেবি কুর্তা, ফোঁকে সিগারেট, তাকে নিজেদের মধ্যে পেয়ে তারা গৌরবান্বিত।

    বুড়ো গোবর তার ঝুলে-পড়া গোঁফের ফাঁকে হেসে বলল, বোসে পড় ওস্তাদ।

    মেয়েদের দিকে এক বার চোরাচোখে কটাক্ষ করে কানাই বলল, গানই থেমে গেল তো, আর বসব কী সর্দার!

    গোবর সর্দার নয়, কিন্তু সম্মানে প্রায় তাই। অনেক বয়স ও বহু ঝড়ে-ঝাঁপটায় তার ভাঙাচোরা মুখটায় মোটা গোঁফের মধ্যে লুকোনো তিক্ত অথচ উদার হাসির ধারে একটা অদ্ভুত ব্যক্তিত্বের ছাপ ফুটে আছে। বয়সের চেয়েও শক্ত মোটা গলায় বলল সে, ওস্তাদ, দুনিয়াতে কিছুর থেমে থাকবার যো নেই।

    যো নেই তো থামলে কেন?’ কানাই আবার কটাক্ষ করল মেয়েদের দিকে।

    মুখে থেমেছে, মনে থামেনি। শুধোও ওদের।বলে সে নিজেই জিজ্ঞেস করল, কীরে শ্যামা, গান থেমে গেছে?

    সবুজ শাড়ি পরা শ্যামা তেমনি মুখ টিপে ঘাড় নাড়ল। অর্থাৎ, না।

    কিন্তু মদন তা মানবে কেন। সে নিজের পাছায় চাপড় মেরে বলল, আমি বলছি থেমে গেছে। নইলে গলা কেন দিচ্ছে না।

    আরে জানলে তো৷ ভোলা বলল মুখ বাঁকিয়ে, মাগিরা, আবার গাইতে জানে কবে?

    আর একজন বলল, আয় শালা আমরাই গাই, ওদের বাদ দে।

    গাইয়ে মরদের দলটা বসল একজোট হয়ে।

    অমনি কামিনী বুড়ি দাঁড়িয়ে উঠে খেঁকিয়ে উঠল, মাগিরা গাইতে জানে না, জানিস তোরা মরদরা। য্যাতো মদগাঁজাখেকো হেঁড়ে গলায়, আহা কী বাহার!

    বলে কোমরে হাত দিয়ে মাজা দুলিয়ে ভেংচে উঠল,

    হৈ হৈ হৈ তোদের মরণ আসে ঐ।

    একটা রোল পড়ে গেল দমফাটা হাসির। মেয়েদের ঢলে পড়া হাসি যেন বুকে জ্বালিয়ে দিল গাইয়েদের। মনে হয়, আধা ল্যাংটো খালি-গা মানুষগুলো যেন এক মহাখুশির মজলিশ বসিয়েছে গঙ্গার ধারে।

    আড়তের বাবু গঙ্গামুখো হয়ে গদিতে বসে হরিনামের মালা জপছিলেন। জপের মাঝে গণ্ডগোল হওয়ায়, দাঁতহীন মাড়ি খিঁচিয়ে উঠলেন, জানোয়ারের দল।

    আড়তের বাঁধা কুলিটা বসেছিল দরজার কাছে, বেগড়ানো মুখে। সে কুলি বটে, কিন্তু বাঁধা কাজের মানুষ। সেই আভিজাত্য বোধেই দিনমজুরগুলোর কাছ থেকে গা বাঁচিয়ে বসেছে। বাবুর গালাগালটা শুনে সেও ঠোঁট উলটে বলল, শালা লুচ্চা লাফাঙ্গার দল।

    কামিনী তখনও বসেনি। সে গাইয়ের দিকে ঝুঁকে বলল, এত জানিস তো, আগের গীতটা ছেড়ে কেন দিলিরে?

    ও! তাও তো বটে। আগের গানটা যে থেমে গেছে মেয়েদের জবাবের মুখে এসে! আসলে ভোলা বা মদন আগের গানটার সব জানে না।

    গোবর চেঁচিয়ে উঠল, তবে সেইটেই সুর করে দেও, আসর নেতিয়ে গেল।

    মুহূর্তে শ্যামার গলার সঙ্গে লালশাড়ির গলা মিশে সুরের ঢেউ তুলল,

    মিছে কথা কয়োনি, মিছে ভয় করিনি,
    তেমন বাপের ঝি আমি লই হে
    চোখে বালি, মাথায় টালি, সারাদিনে হাড় কালি
    তুমি যে নেশায় ভোম, গাছতলায় শুয়ে হে।

    হঠাৎ এক মুহূর্তের বিরতিতে সবাই স্থির হয়ে গেল, থেমে গেল তালে তালে মাথা ঝাঁকানো ও হাততালি।

    শ্যামা একটা বিলম্বিত লয়ে দীর্ঘশ্বাসের ভঙ্গিতে বলতে লাগল, হায়!…হায়!..আর লালশাড়ি সরু গলায় টেনে টেনে যেন বহু দূর থেকে গেয়ে উঠল,

    খেটে খুটে শরীল অবশ, তবু তোমায় তুলি ঘাড়ে,
    বলগো সব জনে জনে, একলা মেয়ে, কেমনে যাই ঘরে।

    বিবাদ ভুলে গেছে গাইয়ে দল। মনে হয় এখানে সকলের বুকই বুঝি দীর্ঘশ্বাসে ভরে উঠেছে অভাগী কামিন বউয়ের বিলাপে।

    কার গোঙানো গলার স্বর ভেসে এল, আমরা বেইমান!

    এবার উঠল সেরা গাইয়ে কৈলাস। তাকে সবাই বলে সাধু। আসলে সে বাউল-বৈরাগী। তার নেই ঘরে বউ ছেলে, তার ডেরা ঘরে ঘরে। দিন-মজুরের জীবনের আড়ালে তার মনের অনেকখানিই গেরুয়া রং-এ ছোপানো।

    আর এ গেরুয়া রং-এরই ছোপ খানিক খানিক দাগ ধরিয়ে দিয়েছে এই চোখধাঁধানো লাল শাড়িতে। ঢাকা মনের মধ্যে। লালশাড়ির ঘর খালি। ভরা বয়সে এ জীবনের ভারের ভয়ে পলাতক তার সোয়ামি। আছে শুধু শাশুড়ি ওই কামিনী বুড়ি। কিন্তু তার শাশুড়ি, সবার বেলায় সরো গড়ো, বউয়ের বেলায় বড় দড়ো।তাই বজ্র আঁটুনির ফকা গেরোর মতো গেরুয়ার ছোপ তার মনের অতলে। কী যেন খোঁজে তার বিবাগী মন।…কৈলাসকে দাঁড়াতে দেখে হাসির ঝিলিক ফোটে তার কাজল চোখে, হাজার কথা। ঠোঁটের কোণে। এইটুকু কামিনী বুড়ি টের পেলে আর রক্ষে নেই। তবু কৈলাস এক অপূর্ব ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে নিজেকে দেখিয়ে গেয়ে উঠল,

    মোরে ধিক ধিক ধিক, মন যে আমার বশ মানে না,
    আমার ভাঙ্গা ঘর, খালি পট, তবু যে যাই শুড়িখানা।
    আমার মায়ের শুকনো মুখ, বউয়ের আমার শুকনো বুক,
    আমি দেশ হতে দেশান্তরে, আড়ত গোলায় খুঁজি সুখ,
    আর যাবনি আর যাবনি, মোরে দে বাঁধা কাজের ঠিকেনা।

    কৈলাসের গানের রেশ শেষ হবার আগেই, ফুঁপিয়ে কান্নার ভঙ্গিতে দ্রুত তালে আবার গেয়ে উঠল, শ্যামা ও লালশাড়ি,

    বাবু সাহেব, সাহেব গো, পেট ভরেনি,
    কাজ করিয়ে পসা দেও, ক্ষুধা মরেনি।
    দেখ আমার শুকনো বুক, ছায়ের তেষ মেটেনি,
    বয়স কালের শরীলে মোর রং লাগেনি।

    বৈশাখের খর হাওয়ায় সে গানের সুর ভেসে যায় মাঠ ভেঙে শহরে গাঁয়ে, গঙ্গার ছল ছল তালে ঢেউয়ে ঢেউয়ে এপারে ওপারে। এ গানেরই সুরে তালে দোলে আড়তের ন্যাড়া আর দূরের কৃষ্ণচূড়া গাছ, দোলে মাথা আকাশের।

    গাইয়ে দলের আর আফসোস নেই। নেংটি-পরা খালি গা রং বেরং-এর মানুষগুলো শূন্যদৃষ্টিতে বসে থাকে চুপচাপ। দূর থেকে দেখে মনে হয় যেন পাকার করা রয়েছে কতগুলো বেটপ মাল। গানের গুঞ্জন এখন তাদের হৃদয়ের ধিকি ধিকি তালে। এ তো শুধু গান নয়, ঘরে বাইরে তাদের মাথা কোটার কাহিনী।

    কামিনী বুড়ি কী যেন বিড় বিড় করে গঙ্গার দূর বুকে তাকিয়ে। বুড়ি দীর্ঘদিনের ফেলে-আসা জীবনের স্মৃতি তোলপাড় করে মনে। তার সদাসতর্ক চোখ দেখতে ভুলে যায়, কেমন করে তার বউ ঘাম মোছার আড়ে এক নজরে তাকিয়ে থাকে কৈলাসের দিকে।

    কৈলাসও তাকিয়ে থাকে, কিন্তু সে চোখে নেই প্রেমের বিহ্বলতা, আছে কীসের অনুসন্ধিৎসা। কেননা, সে যে বলে, ভিত নেই, তার ঘর, নোনা ইটে আবার পলেস্তারা। ধূর শালা! অমন ঘর চায় না কৈলেস, যত ছ্যাঁচড়া জীবনের পাপ। ওটা ভেঙে ফেল।

    বুঝি সেই ভেঙে ফেলারই হদিস খোঁজে সে লালশাড়ির চোখে। খেদ কেমন করে কাটবে শরীলে। রং না লাগার।

    গোবরের ভাঙাচোরা মুখটা কালো, মাটির ড্যালার মতো থসথসে হয়ে ওঠে। বলে কানাই ড্রাইভারকে, ওস্তাদ, এখন যেন জীবনটা হয়েছে পোকাখেগো ছিটেবেড়া। জীবনভর পরের হাতের চাকার মতো আমরা গড়িয়ে চলি, যেন তোমার হাতের মেশিন। চালালে চলি, তেল না দিলে ক্যাঁচ ক্যাঁচ করি।

    কানাই তার নিজের অভিজ্ঞতায় চ্যাপ্টা মুখে হেসে বলে, বিগড়ে যাও।

    বিগড়ে যাব?

    হ্যাঁ। দেখ না, মেশিন বেগড়ালে তার পায়ের তলায় শুয়ে তেল মাখি। তেমনি বিগড়ে যাও।

    এক মুহূর্ত কানাইয়ের চোখের দিকে তাকিয়ে হেসে হঠাৎ ফিসফিস্ করে ওঠে গোবর, ঠিক শালা, বিগড়ে যাব, আমরা বিগড়ে যাব।…’।

    আড়তের বাবু জপের মালাটি কপালে চুঁইয়ে ভরে রাখেন ক্যাশ বাক্সে। বলেন, হারামজাদাদের চেঁচানিতে একটু ঠাকুরের নাম করার জো নেই।’

    বাঁধা কুলিটা বলে আত্মসন্তুষ্ট গলায়, শালারা ঈশ্বরের জঞ্জাল।’

    ইতিমধ্যে আবার কে গান শুরু করতে যাচ্ছিল, কিন্তু করল না। তালে যেন ভাঙন ধরে গেছে। এর মধ্যেই সূর্য কখন লাটিমের মতো পাক খেয়ে উঠে এসেছে মাথার উপর। তেতে উঠেছে ছড়ানো বালি আর টালিভাঙা টুকরো।

    সকলেই তারা ভ্রু কুঁচকে তাকায় গঙ্গার উত্তর বাঁকে। না এখনও দেখা দেয়নি দশ মাল্লাই নৌকোর চ্যাটালো গলুই, কানে আসেনি দশ বৈঠার ছপছপ শব্দ, দেহাতি মাঝির দাঁড় টানার গান।

    সকলেই তারা পরস্পরের মুখের দিকে তাকায়। কখন আসবে, কখন? এখানে তারা কেউই একক নয়। সকলের একই ভাবনা, একই দুশ্চিন্তা, একই কথা।

    সে যেন তাদের মন-পবনের নাও। না এলে যে সব ফাঁকি। পেট ফাঁকি, গান ফাঁকি, ফাঁকি এ দিনটাই। তাদের জীবনের গুনতিতে।

    কখন বেজে গেছে চটকলগুলোর দুপুরের ভোঁ। এখন আর কোথাও পাওয়া যাবে না রোজের সন্ধান। আর আড়তের নৌকো না এলে, মাল খালাসনা করলে কেউ তাদের হাতে তুলে দেবেনা একটি পয়সা।

    কৈলাস হাঁকে, হেই বাবু, মাল আসবে কখন?

    জবাব আসে খিচনো সুরে, আমি কি মালের সঙ্গে আছি?

    বাঁধা কুলিটা বলে গম্ভীর গলায়, যখন আসবে, তখন দেখতেই পাবে।

    শ্যামা বলে তিক্ত হেসে, মাইরি?

    বাঁধা কুলিটা খ্যাঁক করে উঠতে গিয়ে চুপ মেরে যায়। আর সবাই হেসে ওঠে, কিন্তু খাপছাড়া হাসি। আর হাসি আসে না। কাজ নেই, হাত খালি, শুধু মাথা গুঁজে বসে থাকা। এ জীবনেরই একটা মস্ত বিরোধ, যেন আগুনকে চাপা দিয়ে রাখা।

    কিন্তু দিন মজুরির এই দস্তুর। কাজ নেই তো, নেই পয়সা। না মুখ চেয়ে বসে থাক তো, ভাগো। কোথায় যাবে? সবখানেই তো কেবলি ভাগো ভাগো ভাগো!

    আড়তের বাবু মুড়ির বস্তা খুলে কিছু মুড়ি ঢেলে দেন বাঁধা কুলিটার কোঁচড়ে। এ সময়ে বসে-থাকা মানুষগুলোরও মুড়ি খাওয়ার কথা, দেওয়ার কথা দু’আনা হিসেবে। পয়সাটা কাটান যাবে ওদের মজুরি থেকে। কিন্তু কাজ নেই, মজুরিও নেই, উশুল হবে কোত্থেকে?

    মুড়ির বস্তা বন্ধ করে, চালাঘরে তালা মেরে আড়তদার পথ ধরেন ঘরের।

    কুলিটা আড়চোখে এদের দিকে দেখে আর মুড়ি চিবোয়।

    এ মানুষগুলো চুপচাপ দেখে, আর ঢোক গেলে। সকলেই পরস্পরকে ফাঁকি দিয়ে ওই মুড়ি খাওয়ার দিকেই দেখতে চায়।

    কৈলাসের চোখ পড়ে লালশাড়ির চোখে। চট করে মুখ ফিরিয়ে নেয় উভয়ে। কামিনী বক বক করে শ্যামার সঙ্গে, তিন বছর আগে এট্টা বাঁধা কাজ পেয়েছেলম জানলি। মিনসে ত্যাখন বেঁচে। সোহাগ করে বললে, যাসনি। পুরুষ মানুষের সোহাগ।

    হারিয়ে যায় কামিনীর গলা জোয়ারের কলকল শব্দে।

    হঠাৎ দেখা যায়, তারা সকলেই এ জীবনটার উপর বিরাগে নিজেদের মধ্যে গুলতানি শুরু করে দিয়েছে।

    কেউ বলে, একবার আমি এট্টা কাজ পেয়েছেলম, একনাগাড়ি তিন মাসের।

    কেউ বলে, আমার এক বছরও হয়েছে। কলকেতায় এট্টা বিডলি বানিয়েছেলম।

    আর একজন বলে, আরে আমাকে তো শালা এখনও ওপরেশবাবু এট্টা বাঁধা কাজের জন্য ডাকে।

    আর তুই খালি যাস না।অদ্ভুত ঠাণ্ডা গলায় বলে কৈলাস।

    কেউ কেউ নীরবে হাসে।

    কিন্তু ভেঙে যাচ্ছে সুর, কেটে যাচ্ছে তাল। কথাও আর ভাল লাগে না।

    বুড়ো গোবর তার মোটা গলায় বলে আফসোসের সুরে, ওস্তাদ, তোমার মতো কাজ জানলে…’

    বলতে বলতে হঠাৎ তার গলা হারিয়ে যায়। গোঁফ ধরে টানে আর ভাবে! আবার বলে, অনেক চেষ্টা করেছি, কিন্তু ফুরসুত পেলম না এখনও না।

    ড্রাইভার কানাই বলে, জানলেই বা কী হত? লাইসেনটা পকেটে ফেলে মোটরওয়ালাদের দোরে দোরে ঘুরতে। কাজ কোথায়? কাজ নেই।

    কাজ নেই! যেন বাঘাকুত্তার মতো গরগর করে ওঠে গোবর, অস্থির হয়ে ওঠে হঠাৎ। ওস্তাদ, এ পেটে উপোসের মেলা দাগ আছে, কিন্তু হাতে এক দিনেরও একটা আরামের দাগ পাবে না। কাজ না থাকলেই মানুষ পাগল হয়ে যায়।…’

    কাজ নেই।…বাতাস তার পালে ঢিলে দেয়। বৈশাখী সূর্য জ্বলে গল্প করে মাথার ওপর। আগুন গলে গলে পড়ে গায়ে, মুখে। গা জ্বলে, ঘাম ঝরে ঝলসে যাওয়া সানির মতো।

    আশেপাশে ছায়া নেই কোথাও। মানুষগুলো গণ্ডুষভরে পান করে জোয়ারের ঘোলা জল, ছিটা দেয় চোখে মুখে। কিন্তু প্রাণ ঠাণ্ডা হয় না। কেউ কেউ মাথার গামছা মুখে চাপা দিয়ে শুয়ে পড়ে।

    ন্যাড়া গাছগুলো যেন মরাকাঠের খুঁটির মতো দাঁড়িয়ে আছে। দূরের কৃষ্ণচূড়া গাছের দিকে চাওয়া। যায় না। যেন ঝলসানো আগুন। ঘোমটা-খসা খোঁপায় কৃষ্ণচূড়া শুকিয়ে বিবর্ণ। যেন কামিনদের মুখ।

    টাবুটুবু গঙ্গার তীব্র জোয়ারের স্রোত নিঃশব্দ ভরাট। উত্তরের বাঁকে যেন ঝিলিমিলি করে মরীচিকা। বাঁকের পাক খাওয়া জলে উজান ঠেলে আসে না কোনও নৌকো।

    লালশাড়ি রোদে জ্বলে দপদপ, জ্বলে পেট। বুঝি প্রাণটাও।

    মনে মনে বলে কৈলাস, চাসনি…এদিকে চাসনি।…তারপর হঠাৎ হেসে ওঠে ঠোঁট বেঁকিয়ে।–ভিত নেই..ভিত নেই।…’

    মদন বলে, কী বকছ?

    বলছি, সারাদিন বসে গেলাম, তো, পসা কেন দেবে না?

    তাই দস্তুর।

    কেন দস্তুর?

    মদন আবার বলে, ওটা আইন।

    হঠাৎ কেমন ক্ষেপে উঠতে থাকে কৈলাস।শালার আইনের আমি ইয়ে করি।

    যতই কর, হবে না কিছু।’

    করালেই হয়।

    মদনও কেমন খচে যায়। বলে, আইনটা তোর বাপের কিনা?

    বাপ তুললি তো বলি, তবে বাপেরই আইন হবে। তোরাই তো

    ফের? মেলা ফ্যাচ ফ্যাচ করবি তো প্রায় ঘুষি পাকায় মদন।

    ঠিক এসময়েই আড়তদারের ছোট ভাই অর্থাৎ ছোটবাবু আসেন রিকশা থেকে নেমে ছাতা মাথায় দিয়ে। এসে বলেন, তিন মাইল দূরে বাঁকাতলায় মালের নৌকো আটকে রয়েছে, জোয়ার কিনা, তাই ঠেলে আসতে পারছে না।

    যাক, তা হলে আসছে!…সবাই অমনি আবার উঠে বসে।

    কয়েকজন বলে, তবে আমরাই কেন না গুন টেনে লাও লিয়ে আসি।

    ছোটবাবু বলেন, সে তোদের ইচ্ছে। অর্থাৎ বিনা মজুরিতে আপত্তি কী।

    অমনি তারা সবাই ছোটে মেয়েরা বাদে।

    মাইল খানেক গিয়ে দেখা গেল আড়তদারবাবু আসছেন রিকশায় করে। জিজ্ঞেস করেন, যাচ্ছিস কোথা সব?’

    বাঁকাতলায় নাকি মাল লিয়ে লাও ভেঁড়িয়ে আছে? বললে ছোটবাবু?

    বাবু মাড়ি বের করে ফোঁস করে হেসে উঠলেন।-আরে ধু–স, ভায়া বুঝি তাই বলল? আমি ওকে বললুম যে, বাঁকাতলার আড়তে কোনও খবর আসেনি…সে কখন আসবে তার ঠিক কী…’।

    মুহূর্তে মুখগুলি যেন পুড়ে ছাই হয়ে গেল। আবার তারা রোদ মাথায় করে ফিরে আসে গঙ্গার ধারে।

    এসে বসে পড়ে তপ্ত বালুর ওপর। হাঁপায়। এখন আর মানুষগুলো রং বেরং নয়, গঙ্গার পাড়ে যেন কতকগুলো কালো কালো শকুন বসে আছে।

    কাজ নেই!…গরমজলের কেটলির ঢাকার মতো যেন ফুটতে থাকে কথাটা সবার মাথার মধ্যে। কাজ নেই!…তাদের জীবনের দিন গুনতিতে একটা বিরাট শূন্য, ফাঁকা।

    সূর্য চলে গেছে, ছুটির ভোঁ বেজে গেছে চটকলগুলোতে। কলরব করে ফিরে চলেছে খেয়া নৌকোয়, ছুটি-পাওয়া মানুষেরা। ফিরে চলেছে স্টিম লঞ্চ গাধাবোটকে খালাস দিয়ে। লঞ্চের ছাদে, পশ্চিম মুখে বসে নামাজ পড়ে সারেং সাহেব।

    ভাটা পড়েছে, জল নেমেছে, আবার পড়েছে পলি।

    হেই বাবু, লাও আসবেনি?’ বারবার জিজ্ঞেস করে সবাই।

    জানিনে। একই জবাব।

    সন্ধ্যা নামে প্রায়।

    হঠাৎ মদন খেঁকিয়ে ওঠে, এই কৈলেস শালার জন্যেই তো এতখানি ছোটা?

    কৈলাসও চেঁচিয়ে ওঠে, আমার বাবার জন্যে।

    ওদিকে চেঁচিয়ে ওঠে কামিনী বুড়ি, হঠাৎ গালাগাল পাড়তে আরম্ভ করে বউকে। গলা শোনা যায় লালশাড়িরও। শ্যামার ঝগড়া লেগেছে তার মরদ গণেশের সঙ্গে।

    আস্তে আস্তে দেখা গেল, মানুষগুলো পরস্পর বিবাদে জড়িয়ে পড়েছে। তাদের মহল্লার দৈনন্দিন জীবনের খুঁটিনাটি ব্যাপারকে কেন্দ্র করেই তা বেড়ে উঠতে থাকে।

    কোথায় তাদের সেই সকাল, সেই গান ও গল্প।

    বুড়ো গোবর অ্যাসিডের গন্ধ পাওয়া সাপের মতো সন্ত্রস্ত হয়ে ওঠে। সে চিৎকার করে ওঠে, এই গোঁয়ারগুলা, চুপো চুলো তাড়াতাড়ি।

    কে চুপ করে। চকিতে দেখা গেল, মানুষগুলো পরস্পর মারামারি শুরু করে দিয়েছে। কে কাকে মারছে, তার ঠিক নেই। সবগুলোতে মিলে একটা দলা পাকিয়ে গিয়েছে মানুষের। শোনা যাচ্ছে একটা ক্রুদ্ধ গর্জন, চিৎকার কান্না।

    একটা প্রচণ্ড শক্তি যেন আচমকা মাটি খুঁড়ে ধসিয়ে ফেলছে দুনিয়াটাকে। মাটি কাঁপছে থরথর করে। ক্রুদ্ধ হুংকারে ফেঁড়ে ফেলবে আকাশটাকে। কেউ উলঙ্গ হয়ে গেছে, কয়েকজনের পায়ের তলায় পড়ে গেছে কেউ।…কেন এই মারামারি, তারা নিজেরাই যেন জানে না।

    আড়তদার বাবুরা দুই ভাই কাঁপতে কাঁপতে তাড়াতাড়ি ক্যাশবাক্সে চাবি বন্ধ করে প্রায় কান্নাভরা গলায় চেঁচিয়ে উঠল, রামদাস, লাঠি পাকড়ো৷

    রামদাস অর্থাৎ সেই বাঁধা কুলি। সে তখন ঘরের পেছন দিয়ে নেমে গেছে গঙ্গার নাবিতে, কালো আঁধারে, আর মনে মনে বলছে, আরে বাপরে, শালারা আমার জান নিকেশ করে দিতে পারে।

    হঠাৎ সমস্ত গোলমালকে ছাপিয়ে তীব্র মোটা গলায় গোবর হাঁক দিল, লাও আসছে, লাও। জোয়ান, তৈয়ার হো!…’

    মুহূর্তে যেন জাদুমন্ত্রে থেমে গেল সমস্ত গোলমাল, মারামারি, হাতাহাতি। সকলে ফিরে তাকাল উত্তরের বাঁকের দিকে, নিঃশব্দে।

    পুবে উঠেছে আধখানা চাঁদ, ভাটার জলে তার ঝিলিমিলিতে দেখা যায় অদূরেই কতকগুলো বিরাট বড় বড় নৌকো গঙ্গার বুকে ছায়া ফেলে এগিয়ে আসছে। মোটা মাস্তুল উঠেছে আকাশে।…

    সেই নৌকো থেকে ভেসে এল একটা স্বর, হো-ই-ই…

    আসছে আসছে তাদের মন-পবনের নাও। সাঁঝ বেলায় এসেছে সকাল। কারুর দাঁত ভাঙা, ঠোঁট কাটা, চোখ ফোলা, নখে ক্ষত। কারুর হাতে কার ছিঁড়ে নেওয়া এক মুঠো চুল কিংবা পরিধেয় কাপড়ের টুকরো।

    অকস্মাৎ ভাটার ছল ছল তালে তাল দিয়ে কে গেয়ে উঠল সরু গলায়,

    ওই আসে গো, ওই আসে লা’য়ে ভরা টালি,
    মাঝি এস তাড়াতাড়ি,
    আর যে ভাই রইতে নারি
    আঁধার নামে গাঁয়ে ঘরে, লাও করব খালি।

    গান গাইছে লালশাড়ি। সুর তুলেছে আবার, তাল লেগেছে আবার, শরীরের পেশিতে পেশিতে।

    এগিয়ে আসে গোবর, কামিনী বুড়ি, তুই এখন চোখে দেখতে পাবিনে, ঘরে যা। শ্যামা তুই পালা, ঘরে তোর ছেলে রয়েছে। ভোলা তুইও যা, তোর চোট বেশি।

    তারা বলল, আমরা খাব কী?

    তোদের মজুরিটা আমরা গায়ে খেটে তুলে দেব।

    সবাই বলে উঠল, রাজি আছি।

    যেন এ মানুষগুলো কিছুক্ষণ আগের সেই হিংস্র প্রাণীগুলো নয়।

    কামিনী বুড়ি বলে গেল, বউ, হুশিয়ার!…’

    তারপর এক অদ্ভুত সাড়া পড়ে যায় কাজের। নৌকো লাগে পাড়ে। শুরু হয় মাল তোলা। গানে, কাজের উন্মাদনায়, হাঁকে ডাকে মুখরিত গঙ্গার ধার। পাঁচ নৌকো খালাস হলেই এক দিনের রোজ পাবে কুড়িজন।

    কোনখান দিয়ে সময় কেটে যায়, কেউ টেরও পায় না। জুড়ি বেছে নিয়ে সব মাল তুলে দেয় লরিতে। একটা যায়, আর একটা আসে।

    ঝুড়ি কোদাল জমা দিয়ে, রোজের পয়সা নেওয়া হলে লালশাড়ি সকলের চোখের আড়ালে আড়ালে কৈলাসের হাত ধরে টেনে নেমে গেল গঙ্গার ঢালু পাড়ের নীচে। বলে রুদ্ধ গলায়, সারা মুখ রক্তারক্তি। এসো, ধুয়ে দি।

    কৈলাস বলে অদ্ভুত হেসে, রক্ত তো তোর মুখেও, ধুয়ে আর তা কত তুলবি।…’

    কিন্তু, কেন… কেন?’ ফুঁপিয়ে উঠল লালশাড়ি।

    আবার জোয়ার আসায় দক্ষিণ হাওয়ার ঝাপটায় ভেসে গেল তার গলা।

    তখন অনেকেই নেমে এসেছে গঙ্গার কিনারে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকোথায় পাবো তারে – সমরেশ বসু
    Next Article আমার আয়নার মুখ – সমরেশ বসু

    Related Articles

    সমরেশ বসু

    প্রজাপতি – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    গঙ্গা – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    বিবর – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    অকালবৃষ্টি – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    নয়নপুরের মাটি – সমরেশ বসু

    December 1, 2025
    সমরেশ বসু

    শ্রীমতি কাফে – সমরেশ বসু

    December 1, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }