Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    জোয়ার ভাটা – সমরেশ বসু

    সমরেশ বসু এক পাতা গল্প142 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    জীবিকা

    যা লিখছি, তাকে ঠিক গল্পই বলা যাবে কি না আমি জানিনে। এবং অতিশয়োক্তি না করেও বলতে পারি, বাংলাদেশের একটি বিশিষ্ট কলেজে, সাহিত্যসভার আমন্ত্রণে, আমি বক্তৃতার কোনও কথাই খুঁজে পাইনি। এই গল্পটিই বলেছিলাম। এক বাঙালি শিল্পীর চরিত্র-চিত্রণও সেটা বলা যায়।

    আজই বিশেষ করে কেন সে কথা মনে পড়ল, সেটাও আমার নিজের কাছে খুব বিচিত্র লাগছে। শুধু বিচিত্র বলছি কেন। বরং বলাই ভাল, এটা আমার স্পর্ধা কি না, সে সংশয়ও আছে। আজ ষোলোই সেপ্টেম্বর। গত পরশুদিন ভারতের উপরাষ্ট্রপতি, আমাদের সর্বজনশ্রদ্ধেয়, পণ্ডিত, দার্শনিক ডাঃ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণণ যে কলেজে গিয়েছিলেন, বছর ছয়েক আগে সে-কলেজেই আমি গিয়েছিলাম। আমার যাওয়াটা এত তুচ্ছ যে, এ রাজকীয় ঘটনার সঙ্গে তার কোনও মিল নেই। শিয়ালদহ থেকে বহরমপুর স্টেশন পর্যন্ত, সমস্ত মানুষই ১৪ই সেপ্টেম্বর তা প্রত্যক্ষ করেছেন। করাই স্বাভাবিক। এবং কৃষ্ণনাথ কলেজে উপরাষ্ট্রপতি যা বলেছেন, তা আমাদের ভিতরের অবচেতন অনুভূতিরই কথা। গোটা ভারতের ভিতরের সত্যকে এমন করে উদঘাটন করা। তেমন যোগ্যতা যে আমার কানাকড়িও নেই, সে কথা বলার অপেক্ষা রাখে না।

    তবু যে কৃষ্ণনাথ কলেজে তাঁর উপস্থিতির সংবাদ পড়ে আমার সে-কাহিনী মনে পড়ে গেল, সেটা আসলে, আমার তুচ্ছ উপস্থিতিতে আজ আমি অনেক গৌরবান্বিত বোধ করছি। আমি পাশের জেলার প্রতিবেশী বন্ধু হিসেবেই গিয়েছিলাম। আমি সেই অগণিত সাধারণেরই একজন, অসাধারণের ছিটেফোঁটা স্পর্শ পেলেও নিজেকে যে যুক্ত করে গৌরব করতে চায়।

    আর এই ভেবেও আফসোস হচ্ছে, সেই গল্প বলার ঝোঁকটা কখনও কাটাতে পারলাম না। আমি তো ধার করেও ছুটি, দেশ কাল এবং সাহিত্যের ওপরে পাণ্ডিত্যপূর্ণ কথা বলতে পারতাম। কিন্তু কথাই আছে, স্বভাব যায় না মলে।

    আজ আবার সেই তুচ্ছ গল্পটিরই পুনরাবৃত্তি করছি। আমার ঝুলিতে এই তুচ্ছতাটুকু ছিল। তাই তুলে, উপরাষ্ট্রপতির পায়ে দিই আমার শ্রদ্ধাঞ্জলি হিসেবে।

    কী মাস সেটা, তাও মনে নেই। তবে ক্ষণে বর্ষা, ক্ষণে রোদ, মুর্শিদাবাদের সবুজে সেদিন আলোছায়ার বিচিত্র খেলা। আর বাংলাদেশ, তার বিচিত্র রূপের কথা বলতে গেলেই গলার কাছে একটি আশ্চর্যজনক আনন্দদায়ক বেদনা যেন সব রুদ্ধ করে দিতে চায়। রানির মতো ধনরত্নের সত্যিই তো কোনও বৈশিষ্ট্য তার নেই। মা বলে ডাকতে গেলে কি এমনি হাসি কান্নায় সব ভরে ওঠে? আর আমরা, আমরা এই কয়েক কোটি ভাইয়েরা আমাদের মায়ের থেকে কি কম বিচিত্র?

    কয়েকজন ছাত্র বন্ধুর সঙ্গে প্রস্তাব হয়ে গেল, দুপুরেই বহরমপুর থেকে মুর্শিদাবাদের ধ্বংসাবশেষ দেখতে যাওয়া হবে। এবং সেটা ঘোড়ার গাড়িতে। যে কখনও অমন করে যায়নি, তাকে কেমন করে বোঝাব, সে-যাওয়াটা কী? পালকি গাড়ি আমাদের ছুটল সেই পথ ধরে, যে পথে বহু ঐতিহাসিক যাত্রার পদচিহ্ন এখনও খুঁজলে পাওয়া যাবে।

    কিন্তু ইতিহাস থাক। মাইলের পর মাইল জুড়ে অমন পদ্মফুলের বিল আর কোথাও দেখিনি। কিন্তু সে পদ্ম থাক, বিল থাক। সেদিন হাজারদুয়ারির প্রাঙ্গণে তার দেখা পেলাম।

    একদিকে গঙ্গা, আর একদিকে প্রান্তর জুড়ে বৃদ্ধ ইতিহাসের অবনত মাথা। ইংরেজদের তৈরি পোষানবাবের প্রাসাদের মধ্যে আছে জাদুঘর। দেখতে যাবার আগে, একটি জংধরা কামানের গায়ে হাত দিলাম। ভাবলাম, এ কামানটি হয়তো একদা বিদেশি শত্রুর বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছিল। ঠিক সেই সময়েই শুনতে পেলাম, ও কামানটা বেইমানের কামান বাবু। ওটা আমাদের নয়।

    সেই ভরাট প্রায় সুরেলা গলা শুনে চোখ তুলে তাকালাম। একটি মাঝারি লোক। হয়তো চাষি। পরনে একটি এক-রং লুঙ্গি। গায়ে বোতামখোলা ময়লা হাফ শার্ট। হাতে একটি বোধহয় হাঁড়ি, মুখে সরা ঢাকা, নতুন একখানি গামছা দিয়ে বাঁধা। বয়স বুঝি পঁয়ত্রিশের মতো। উশকো খুশকো চুল। দুটি ভাসাভাসা সুন্দর চোখ। দৃষ্টিতে কোথাও তীক্ষ্ণতা নেই, তীব্রতা নেই। একটি আশ্চর্য গভীরতা আছে।

    জিজ্ঞেস করলাম, কী বললেন?

    কাছে এল লোকটি। বলল, বলছি কী বাবু, এ কামানটা সিরাজের কামান নয়। এটা কী বাবু, জানেন? এটা হল আপনার সিরাজ-মারা কামান, ইংরাজের দেওয়া তাঁবেদার নবাবের কামান। বুঝলেন কি না বাবু? আপনি হয়তো উলটা ভেবে বসে থাকবেন, তাই বললাম। বাবু। টো বেইমানের কামান।

    লোকটি আমার চোখের দিকে তাকাল। দুটি কথা বলল, আর মুহূর্তে আমার মনোহরণ করল। জিজ্ঞেস করলাম, আপনি জানেন?

    একটি আশ্চর্য সুর তার গলায়। ইতিহাসের ব্যথিত হাসিটি দেখলাম তারই ঠোঁটে। বলল, জানব না বাবু? জন্মে ইস্তক তো এই দেখছি। এই যে মোকাম দেখছেন এখন জাদুঘর, আর এই যে কামান দেখছেন, এ যে বাবু বেইমানির পুরস্কার।

    অবাক লাগল লোকটির কথা শুনে। তার কথার উচ্চারণ ও সুর খাঁটি মুর্শিদাবাদি। অনেকটা বুঝি বাউলের গানের মতো। লিখে তাকে ব্যক্ত করা যায় না। আর তার বলার মধ্যে কেমন একটি করুণ হাসিভরা বিষণ্ণতা।

    তারপরই সে জিজ্ঞেস করল, কোথা থেকে আসছেন আপনারা বাবু? সবচেয়ে যেটা সোজা, সেটাই বললাম, কলকাতা।

    সে বলল, ভাল করেছেন বাবু এসে। একটু দেখেন সব ঘুরে ফিরে। আসছেন তিন চারজন, সব ঘুরে ফিরে দেখে যান। একটা কথা বলব বাবু?

    .

    এই অনুমতি চাওয়ার মধ্যে একটি সুন্দর গ্রামীণ আভিজাত্য ছিল। আর কী মিষ্টি তার বলার ধরন। নাম কী এর? মনোহর?

    বলুন।

    বলছি কী যে, আপনার পকেটে দেখছি কলম রয়েছে। আমার পোস্টকার্ডে একখানি ঠিকানা লিখে দিতে পারবেন ইংরেজিতে?

    নিশ্চয়।

    পকেটে হাত দিয়ে সে পোস্টকার্ডখানি বার করে বললে, না, মানে, আবার বিরক্ত হবেন কি না, তাই ভাবলাম। আপনার বন্ধু জাদুঘরে যাবার টিকিট কাটতে গেলেন তো। যদি দেরি হয়ে যায়। না হয় ফিরে এসেই লিখে দেবেন।

    আমি হাত বাড়িয়ে বললাম, না। দিন লিখে দিচ্ছি।

    পোস্টকার্ডখানি কামানের ওপর রেখে লিখতে গিয়েও কেন যেন পারলাম না। কামানটা বেইমানের। এ কথাটি বার বার মনে হতে লাগল। তাই সামনের দেয়ালের দিকে অগ্রসর হতে গেলাম, লোকটির গা ঘেঁষে।

    লোকটি যেন একটু চমকে উঠেই, হাঁড়িটা সরিয়ে নিল। আমি তাকালাম। সে হাসল। বলল, সাবধানের তো মার নাই বাবু, কার নসিবে কখন কী থাকে, তা কি বলা যায়?

    আমি অবাক হয়ে বললাম, কেন বলুন তো?

    সে বলল, না ভয় কিছু নয়। এই হাঁড়িটার কথা বলছি। মুখ আমি সরা দিয়ে ঢেকে রেখেছি। গামছা দিয়ে বেঁধেছি। তা ছাড়া আসল বস্তুটি আছেন আমার কাছে। কোনও ভয় নাই।

    কী আছে আপনার ওই হাঁড়িতে?

    –একখানা কালী গোখরো বাবু।

    আমার গাটা যেন কেমন করে উঠল। আমি বললাম, কালী গোখরো?

    –হ্যাঁ বাবু। খবর ছিল কিনা কাল রাতে, ওই গঙ্গার ওপারে এক গাঁয়ে। বাইরের থেকে উনি একজনের ঘরে গিয়ে বসেছিলেন। সারারাত এয়াঁর সঙ্গে ঝুটোপুটি লড়াই গেছে বাবু। তবে মা ধরা দিলেন ভোরবেলা। এই ধরে নিয়া আসছি। বিষ ঝাড়াই না হওয়া পর্যন্ত বিশ্বাস নাই। তাই সাবধান হলাম একটু।

    ইতিমধ্যে জাদুঘরে যাবার তাড়া দিল বন্ধুরা। যদিও তারাও লোকটির সঙ্গে আলাপে ভিড়ে পড়েছিল।

    লোকটি বলল, নিন, ঠিকানাটা লিখে দিন বাবু একটু কষ্ট করে। লিখুন জনাব ইদ্রিস শেখ। গ্রাম। পোস্ট অফিস জেলা।

    লিখতে লিখতেও আমার মনটা কালী গোখরোর দিকেই চলে গেছে। ঠিকানা লিখে দিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি সাপ ধরেন বুঝি?

    সে বলল, সব সময় নয় বাবু। এক গুরুর সঙ্গ করেছিলাম, বিদ্যেখানি জানা আছে। তা বাবু। বিদ্যের কথায় না আছে, যত করিবে দান তত যাবে বেড়ে? মানুষের বিপদ-আপদের কথা শুনলে তো চুপ করে থাকা যায় না। থাকা যায় কি বাবু?

    বললাম, না। কিন্তু আমি আপনার কালী গোখরো দেখব।

    –দেখবেন বাবু?

    –হ্যাঁ, দেখান না একটু।

    –হাজারবার দেখাব বাবু আপনাকে।

    বলেই সে যেন কেমন মুগ্ধ স্বপ্নাচ্ছন্ন চোখে তাকাল আমার দিকে। বলল, বাবু, একটা কথা বলব?

    আমার যেমন মন ঠিক সেই ভেবেই পকেটে হাত দিলাম। পয়সা, নিশ্চয় পয়সা। বললাম, বলুন।

    সে বলল, আপনাকে আমার বড় ভাল লেগেছে বাবু।

    আমি মুঠো করে পয়সা তুললাম, যাতে সে দেখতে না পায়। কিন্তু সেও পকেট থেকে একটি সরু গাছের ডাল বার করল। বলল, বাবু, এটা আপনাকে দিলাম, আপনাকে আমার বড় ভাল লেগেছে।

    –এটা কী?

    ইনিই সব বাবু। সংসারে মনসার ভয়টা বাবু ছোট মনে করবেন না। কিন্তু এটি সঙ্গে থাকলে, আপনার কোনও ভয় নাই। এটি রাখেন আপনি বাবু, আপনাকে দিলাম। মনসা আপনার কখনও কিছুটি করতে পারবে না। খালি একটি কথা বাবু, মনে করে রাখবেন, বুঝলেন?

    কী?

    –সেটা হল কি বাবু, সব জীবের একটি জীবধর্ম আছে তো? আছে না বাবু?

    —-আছে।

    মা মনসারও জীবধর্ম আছে। সেইটে মনে রাখবেন, ওয়াঁর জীবধর্মের বেলায় ও ওষুধটি আপনি কাজে লাগাবেন না। তা হলে জীবের দুঃখু হয়। হয় না বাবু?

    –হ্যাঁ, হয়।

    তাই বলছিলাম কী যে, যেখানেই মনসা বিপদ ঘটাবেন, সব জায়গায় আপনি যেতে পারবেন। কিন্তু ধর্ম বজায় রেখে যাবেন বাবু। এ ওষুধ সঙ্গে নিয়ে যাবেন, রুগিকে ছোঁয়াবেন, বেটে খাওয়াতেও পারেন। বিশ্বাস অবিশ্বাস বাবু আপনার হাতে। আর একটা কথা বলি বাবু?

    বলুন।

    –বিপদের কথা শুনলে যাবেন না। ডাকলে যাবেন। আপনার মা আছেন বাবু?

    —আছেন।

    -মায়ের হাতে একটু দুধ খেয়ে যাবেন।

    যদিও মনসা নিয়ে আমার মনে কোনও কুসংস্কার নেই, সাপকে আমি সাপের মতোই হিংস্র দেখি। তবু লোকটির কথার মধ্যে যেন একটি জাদু ছিল। অবিশ্বাস করেও, তাকে আমি বিদ্রূপ করতে পারলাম না। তার কথার মধ্যে যেন কী ছিল।

    দুধ খাওয়ার কথায় আমি বললাম, কেন?

    সে বলল, বাবু, মায়ের বাড়া কে আছেন সংসারে। তাঁর হাতের দুধ খেলে বাবু সব লড়াইয়ে জয় হয়। এটা জানবেন।

    জাদুঘরের টানটা ভুলতে পারছিলাম না। কিন্তু চলেই বা যাই কেমন করে? আমার মন তো মানে না। কারণ লোকটি দু চোখ মেলে যে তাকিয়ে আছে আমার দিকে। বললাম, এই ওষুধের জন্য আপনাকে কী দিতে হবে?

    সে মস্ত বড় জিভ বার করে হাসল। বলল, আরে বাবা! কী বলেন বাবু। অমন পাপ কখনও করতে আছে? ওটা আমাদের সাপুড়ে ধর্মে বারণ। ও বিষহরির দান। ও কি কিছু দিয়ে পাওয়া যায় বাবু? আপনাকে আমি দিলাম। আপনাকে আমার বড় ভাল লেগেছে বাবু।

    কেন? মুর্শিদাবাদের এ ধ্বংসাবশেষ দেখতে আসা অনেক মানুষের মধ্যে, আমাকেই কেন ভাল লাগল? কিন্তু সেকথা জিজ্ঞেস করতে পারলাম না।

    লোকটি নিজেই তাড়াতাড়ি বলল, যান বাবু, জাদুঘর দেখে আসেন। সিরাজের তলোয়ারখানা দেখবেন বাবু। আলিবর্দির চারনলা পিস্তল দেখতে চাইবেন কিন্তু।

    তা তো দেখবই। কিন্তু লোকটি শুধু দান করেই চলে যাবে। বললাম, আপনি কালী গোখরো দেখালেন না তো?

    অমায়িক হেসে বলল, জাদুঘর দেখে আসেন বাবু, কালী-গোখরো আপনাকে না দেখিয়ে বাড়ি যাব না। আমি থাকব আপনার জন্য।

    মনটা আমার খারাপ হয়ে গেল। হয়তো লোকটি এখনও কিছুই খায়নি। তার মুখটি কেমন করুণ দেখাচ্ছিল। আমার দিকে তাকিয়ে হাসা তার চোখের মধ্যে আমি যেন একটি লুকোনো কান্না দেখতে পেলাম। কেন, কে জানে। আমাকে যেন সে কেমন একটি বেদনাদায়ক সম্মোহনে বেঁধে ফেললে।

    বললাম, না না, আপনি কতক্ষণ অপেক্ষা করবেন। আপনি

    সে বলল, বাবু, বাড়ি আমার কাছেই। যখন খুশি যেতে পারব। আপনি ঘুরে আসেন। একটু এদিক ওদিক যেতে পারি। এখানকার কাউকে জিজ্ঞেস করবেন, দুলাল আলি কোথা গেল, বলে দেবে।

    দুলাল আলি?

    –হ্যাঁ বাবু। আমার নাম।

    যেন মিলিত হিন্দু মুসলমানের নাম বলে আমার মনে হল। বললাম, এমন নাম তো কখনও শুনিনি।

    দুলাল আলি হাসল। বলল, আমার বড় ভায়ের নাম কালআলি। আমরা দু’ভাই। বাবার নাম কেষ্টআলি। তবে জাদুঘর থেকে বেরিয়ে যদি কাউকে আমার কথা জিজ্ঞেস করেন, সে যদি বলে, কোন দুলাল আলি যে গান গায়?’ তবে বলবেন, হ্যাঁ।

    দুলালের ভাসা ভাসা চোখ দুটিতে লজ্জা চাপতে দেখলাম। জিজ্ঞেস করলাম, গান জানেন বুঝি আপনি?

    দুলাল বলল, বলতে লজ্জা করে বাবু। কিছু মনে যেন করবেন না। আপনাকে আমার বড় ভাল লেগেছে। আপনাকে যদি সময় থাকে, তবে আপনাকে একখানি গান শোনাব বাবু। শুনবেন তো?

    আমি বললাম, নিশ্চয়; আপনি বসুন তা হলে, আমি ঘুরে আসছি।

    হাঁ বাবু যান, ঘুরে দেখে আসেন। আর মোহনলালের তলোয়ারখানিও দেখে আসবেন বাবু। বললে দেখাবে, না বললে হবে না। মোহনলালের তলোয়ার না দেখলে, জীবন বেরথা বাবু।

    দুলাল আলি সত্যি জাদু করল। তাকে পিছনে রেখে দিয়ে জাদুঘরের টান কমে গেল আমার। যদিও তার কথা অনুযায়ী সব জিনিসই দেখলাম। কিন্তু আলিবর্দি, সিরাজ, মোহনলাল, মিরজাফর, ক্লাইভ আজ থাক। প্রায় দেড়ঘণ্টা পরে, প্রাসাদ ঘুরে যখন বাইরে এলাম, ভাবলাম, দুলাল আলি এতক্ষণ নিশ্চয় চলে গিয়েছে।

    কিন্তু সে একটি বেঞ্চিতে শুয়ে ছিল। যেন আমার পায়ের শব্দ চিনে ফেলছিল। উঠে বসে, সেই মনোহরণ হাসিটি হাসলে। বললে, দেখলেন বাবু?

    –হ্যাঁ।

    এবার কোথায় যাবেন?

    আপনার গান শুনব, আপনার কালীগোখরো দেখব।

    দুলাল আলি হেসে বলল, চলেন তা হলে ওই মাঠের মাঝখানটিতে গিয়ে বসি।

    বন্ধুদের সঙ্গে দুলালকে নিয়ে গঙ্গার ধার ঘেঁষে মাঠে গিয়ে বসলাম।

    দুলাল বলল, আগে গেয়ে নিই বাবু, কেমন? ইচ্ছে বাবু অনেক ছিল। রাত পোহালে পেটের চিন্তা, তাই ওস্তাদের ঘর করেও গানের লাইনে যেতে পারলাম না। যাই হোক, শোনেন।

    ভৈরবী সুরে একটি প্রেমের গান গাইল সে।

    আমি ছাড়িতে পারি না
    এ বড় বেদনা।
    সখি তোমারো যাতনা
    রাখিতে পার না
    হৃদয় বড় অকুলানো হে।

    গানের শেষে না জিজ্ঞেস করে পারলাম না, বিয়ে করেছেন?

    দুলাল সলজ্জ হেসে বলল, বাবু অন্যায় করেছি, মন মানেনি, তাই দু’সন হল ও আকামখানি করেছি।

    –আকাম কেন?

    –আকাম নয় বাবু? কাল রাতে তাঁকে কাঁদিয়ে বেরিয়েছি। এখনও তার চুলোয় কাঠ পড়েনি।

    বলতে বলতেই সে হাঁড়ির নতুন গামছা খুলে, সরা তুলে নিল। মুহূর্তে যেন একটি কালো কুচকুচে আগুনের শিখা ফুঁসে উঠল। কালী গোখরোই বটে। আমরা সবাই প্রায় লাফ দিয়ে সরে গেলাম।

    দুলাল চিৎকার করে বলল, আইরে মা মনসা, অমন করিস কেন লো?

    বলে সরা দিয়ে সাপের মাথাটি নামিয়ে দিল। সাপটি মাথা নামিয়ে নিল হাঁড়ির মধ্যে। তারপরে আমার দিকে ফিরে, প্রায় মধুর স্বরে ডাকল, আসেন বাবু, আপনি আসেন।

    আমার সারা গায়ে যেন কালো কুচকুচে সাপটার স্পর্শ লাগছিল। আমি বললাম, থাক না, এখানেই তো বেশ আছি।

    দুলালের দু চোখে সম্মোহন। তার সেই ভাসাভাসা চোখ দুটিতে জাদু ফুটিয়ে বলল, কোনও ভয় নাই আমার বাবুর। আমি আছি না? আসেন।

    গেলাম পায়ে পায়ে। সে তার পাশটি দেখিয়ে বলল, বসেন আমার কাছে। আমি তার গা ঘেঁষে। বসলাম। দুলাল প্রায় আমার কানে কানে বলল, বাবু, আপনাকে আমার বড় ভাল লেগেছে। আমি আপনাকে আর একটি দ্রব্য দেব। আপনি নেবেন তো?

    -কী দ্রব্য?

    –নেবেন তো?

    নেব।

    তখন দুলাল তার পকেট থেকে ছোট একটি থলি বার করে, তার ভিতর থেকে যেন কী একটি জিনিস খুঁটে বার করল। বলল, হাত পাতেন বাবু।

    হাত পাতলাম। সে আমার হাতে কী একটি জিনিস দিয়ে বলল, একবার দেখে মুঠ করেন।

    দেখলাম। বুঝলাম না কিছুই। অতি ক্ষুদ্র একটি জিনিস। জিজ্ঞেস করলাম, কী এটা?

    দুলাল বলল, দেখতে কেমন জিনিসটি দেখেছেন বাবু? শিবলিঙ্গের মতন নয়?

    দেখলাম, সত্যি তাই। প্রায় হুবহু একটি খুব ছোট, শিবলিঙ্গেরই মতো জিনিসটি। কিন্তু পাথর নয়, কোনও ধাতু নয়, মাটি নয়। এটা কী?

    দুলাল বলল, বাবু এটি শিবফল। এর নাম শিবফল। অর্জুনের ফুলের ভিতরে ইনি থাকেন। এ পাওয়া কঠিন। সব সাপুড়ের কাছে যাবেন না। মনসার অব্যর্থ ওষুধ, এর ওপরে আর কিছু নাই জানবেন। কিন্তু এর একটা নিয়ম আছে বাবু, সেটা দয়া করে, কষ্ট করে মানবেন। মানবেন তো বাবু?

    কী সেটা?

    –মা মনসার একটু পুজো দেবেন বাবু। মনে যা-ই থাক, এক বারটি ডেকে একটু পুজো দেবেন। বলবেন, তুমি আমায় দিয়েছ, আমি তোমাকে দিলাম। তোমার আমার এই রফা।

    বলেই সে হাঁড়িতে একটা খোঁচা দিল। আবার সেই কালো আগুনের শিখা ফুঁসে লকলকিয়ে উঠল আমার বুক পার হয়ে।

    আমি সরে যাচ্ছিলাম। দুলাল বলল, যাবেন না বাবু, একটুখানি পেত্যয় করেন। এই নাগিনীর মাথায় আপনি শিবফলের হাত রাখেন।

    আমার বুকের রক্ত তখন হিম। গলা শুকিয়ে কাঠ। বললাম, পারব না ভাই।

    –পারবেন বাবু। আপনি আমার বাবু, আমি আছি না? আপনাকে যে জিনিস দিয়েছি, আপনার কোনও ভয় নাই। বিষ দাঁত ওর ভাঙা হয় নাই বাবু, ওর জিভে বিষ আছে। তবু বলি, আপনি হাতখানি রাখেন ওঁয়ার মাথায়। একবার দেখেন।

    আমি দুলালের চোখের দিকে তাকালাম। সেই সম্মোহনের হাসি। আমি হাত এগিয়ে নিয়ে গেলাম সেই উদ্যত, সদ্যধরা কালী গোখরোর মাথায়। স্পর্শ করলাম। আর মনে হল আমার শিরদাঁড়ায় যেন কিলবিলিয়ে কিছু নামছে।

    দুলাল বলল, দেখেন বাবু।

    দেখলাম সাপটি ফণা গুটিয়ে হাঁড়িতে নামছে। দুলাল আমার হাতটি ধরে, হাঁড়ির মধ্যে ঢুকিয়ে, চেপে ধরল একেবারে সাপটির মাথায়। প্রায় যেন চুপিচুপি বলল, কোনও ভয় নাই। কোনও ভয় নাই। আপনি বলেন, বলেন, আমার হাতে কী আছে, তুমি দেখ।’ বলেন বাবু।

    আমি বললাম।

    দুলাল আবার বলল, বলেন, মা, আমি তোর পুজো দেব।’

    তখন আমার হাতের তলায় কালী গোখরো কিলবিল করছে। আমি বললাম।

    দুলাল বলল,বাবু, কোনও ভয় নাই। একটা নিয়ম হল পুজোর কথাটি বলতে হয়। কত পুজো দেব, সেটাও মাকে বলে দেন। যা আপনার মন চায়। এক পয়সা, দু পয়সা, যা মন চায়।

    কেন জানি না; তখন আমার মনটা কেন যেন নিঃশঙ্ক হয়ে গেছে অনেকখানি। বললাম টাকা দেড়েক দেব।

    দুলালের ভাসা ভাসা চোখ দুটি হাসিতে ভরে উঠল। বলল, জানি আমি, বাবুর আমার দিল অনেক বড়।

    আমি হাত তুলে নিলাম। আমর বন্ধুরা উৎকণ্ঠিতভাবেই হাসছিল। আমি দুলালের চোখের দিকে তাকালাম। আমি দেখলাম আমার সামনে এক অসামান্য শিল্পী। এক আশ্চর্য কথার জাদুকর। কলেজ স্ট্রিটের প্রকাশকের ঘরে বসে ওই কথাশিল্পী কোনওদিন তার বইয়ের সংস্করণের হিসেব করবে না। কিন্তু চিরদিন মনোহরণ করবে। এমন অধ্যবসায় আমরা কতটুকু দেখেছি। বেইমানের কামান দিয়ে দুলাল শুরু করেছিল, এখন দেখলাম, দুলালের চোখের ওপরে এক অসহায় আর্ত ক্ষুধার্ত শিল্পীকে।

    বললাম, পুজো আর কে দেবে? টাকাটা আপনি নিন, আপনি পুজো দেবেন। দুলালের দুটি ভাসা-চোখে অপার আলো। বলল, আপনি বললে তো আমি না করতে পারব না বাবু।

    টাকা দেড়টি তার হাতে দিয়ে তাড়াতাড়ি বিদায় হলাম। আমি জানি বুদ্ধির দরবারে আমি একটু ইমোশনাল। দুলালের হাসিটি তখন প্রায় কান্নায় রূপান্তরিত হচ্ছে এবার যে তার ঘরের চুলোয় আগুন জ্বলবে, সেই জন্যে।

    আমার বন্ধুরা আমাকে অনুসরণ করল। একটু দূরেই লুঙ্গি পরে খালি গায়ে একটি লোক দাঁড়িয়েছিল। দেখলাম তার মুখে বাঁকা হাসি, চোখে বিদ্রূপ। সে বলল, দুলালের মনসার পুজো দিলেন বাবু?

    -হ্যাঁ।

    –আর বললে বুঝি, সদ্য ধরে নিয়ে আসা বিষদাঁতওয়ালা কালী গোখরো?

    –হ্যাঁ।

    –শালা, সেই বুড়ি সাপটা দেখিয়ে চিরদিন এক খেলাই দেখিয়ে গেল। জমি নেই, জিরেত নেই, এখন ওই হয়েছে পেশা!

    আমরা লোকটার কাছ থেকে সরে গেলাম। জমি নেই, জিরেত নেই, তাই দুলাল এখন কথার জাদুকর। দুলালকে আমি শিল্পী বলেই জানি। আর এই ভূমিহীন কৃষক দুলালকে দিয়ে আমি আজ নতুন করে উপরাষ্ট্রপতির বাণীর সারমর্মটুকু বুঝলাম, আমাদের দেশের সংকট বাইরে নয়, ভিতরেই।

    হ্যাঁ ভিতরেই, এমন কী আমাদের এই বাংলার ভিতরেও; এই দুলালের মতো মানুষেরা যখন আছে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকোথায় পাবো তারে – সমরেশ বসু
    Next Article আমার আয়নার মুখ – সমরেশ বসু

    Related Articles

    সমরেশ বসু

    প্রজাপতি – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    গঙ্গা – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    বিবর – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    অকালবৃষ্টি – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    নয়নপুরের মাটি – সমরেশ বসু

    December 1, 2025
    সমরেশ বসু

    শ্রীমতি কাফে – সমরেশ বসু

    December 1, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }