ময়না পাখি – মুহম্মদ জাফর ইকবাল
ময়না পাখি
ছোটাচ্চু ঘরে ঢুকল পাখির একটা খাঁচা হাতে নিয়ে। ছোটাচ্চু এই ঘরে আগে নানা কিছু নিয়ে ঢুকেছে কিন্তু পাখির খাঁচা নিয়ে কখনো ঢোকেনি। বাচ্চারা একটা ওরিগামির বই দেখে কাগজ ভাঁজ করে নানা রকম জন্তু-জানোয়ার তৈরি করার চেষ্টা করছে, কিন্তু ওরিগামি করার জন্য যতটুকু ধৈর্য থাকা দরকার কারো ভেতর সেটা আছে বলে মনে হয় না। তাই বই নিয়ে এবং কাগজ নিয়ে টানাটানি হচ্ছে। বই এখনও ছিঁড়ে আলাদা হয় নাই কিন্তু কাগজ অনেকবার ছিঁড়ে আলাদা হয়েছে কিংবা কাগজের ভাঁজ খুলে গেছে, তাই যে জন্তু তৈরি হওয়ার কথা সেটা তৈরি না হয়ে বিচিত্র বিচিত্র জন্তু তৈরি হচ্ছে। সে কারণে আসল জন্তু তৈরি হলে যেটুকু আনন্দ হতো তার থেকে অনেক বেশি আনন্দ হচ্ছে। বাচ্চাদের চিৎকারের কারণে বহুদূর থেকে সেটা টের পাওয়া যাচ্ছে।
কাজেই ছোটাচ্চু যখন একটা পাখির খাঁচা হাতে নিয়ে ঢুকেছে সেটা বাচ্চাদের লক্ষ করতে একটু সময় লাগল। তারা যখন বুঝতে পারল ছোটাচ্চু শুধু যে একটা পাখির খাঁচা নিয়ে ঢুকছে তা নয়, সেখানে একটা জলজ্যান্ত আস্ত পাখি বসে আছে, তখন সবাই মিলে একটা গগনবিদারী চিৎকার দিয়ে ওরিগামি বই, কাগজ এবং কাগজের তৈরি নানা রকম বিদঘুটে জন্তু-জানোয়ার ছুড়ে ফেলে ছোটাচ্চুকে ঘিরে ফেলল! বাচ্চাদের চিৎকারে ভয় পেয়ে খাঁচার ভেতরের পাখিটা ডানা ঝাপটে ছোটাছুটি করে ডাকতে শুরু করে।
ছোটাচ্চু খাঁচাটা উপরে ধরে রেখে চিৎকার করতে লাগল, “চুপ। চুপ সবাই চুপ। পাখিটাকে ভয় দেখাবি না।”
সবার আগে শান্ত কথা বলল, গলা উঁচিয়ে জিজ্ঞেস করল, “ছোটাচ্চু, তুমি একটা কাউয়ার বাচ্চা কেন ধরে এনেছো?”
ছোটাচ্চু ধমক দিয়ে বলল, “এটা কাউয়ার বাচ্চা না।”
টুম্পা বলল, “কালা শালিক! কালা শালিক!”
প্রমি বলল, “না, এটা কালা শালিক না। ময়না পাখি।”
ছোটাচ্চু বলল, “হ্যাঁ এটা ময়না পাখি।” তারপর খুব সাবধানে খাঁচাটা মেঝেতে রেখে বলল, “এটা অনেক দামি একটা ময়না।”
বাচ্চারা জানতে চাইল, “কেন এটা দামি?”
প্রমি বলল, “ময়না পাখি দামি, কারণ ময়না পাখি কথা বলতে পারে!” “সত্যি? সত্যি কথা বলতে পারে?”
ছোটাচ্চু মাথা নাড়ল, বলল, “হ্যাঁ ময়না পাখি মানুষের মতো কথা বলতে পারে।”
ছোটাচ্চুর কথা শেষ হওয়ার আগেই সবাই পাখির খাঁচাটা ঘিরে বসে। মাথা নিচু করে ময়না পাখির সাথে কথা বলতে শুরু করল।
“এই পাখি তোমার নাম কী?”
“তুমি কথা বলতে পারো?”
“তোমার ঠ্যাং কয়টা বলো দেখি?”
“বলো কাঁচা গাব পাকা গাব কাঁচা গাব পাকা গাব…”
“বলো দেখি, পাখি পাকা পেঁপে খায় পাখি পাকা পেঁপে…”
“এ প্লাস বি হোল স্কয়ার সমান কত বলো দেখি?”
“বলো, ই ইকুয়েলস টু এম সি স্কয়ার।”
ময়না পাখি অবশ্য কিছুই বলল না এবং বাচ্চারা তখন হাল ছেড়ে দিয়ে ছোটাচ্চুর দিকে তাকাল। একজন বলল, “ছোটাচ্চু, কিছুই তো বলে না তোমার ময়না পাখি।”
ছোটাচ্চু বলল, “তোরা তো আমাকে কিছুই বলতে দিচ্ছিস না। আগেই ভেদরভেদর করে কানের পোকা নাড়িয়ে দিচ্ছিস।”
টুম্পা বলল, “ঠিক আছে বলো ছোটাচ্চু কী বলতে চাও।”
মুনিয়া বলল, “তাড়াতাড়ি বলে ফেলো।”
শান্ত জিজ্ঞেস করল, “আগে বলো কত টাকা দিয়ে কিনেছো? খামোখা টাকাটা নষ্ট করেছো কি না জানা দরকার।”
ছোটাচ্চু বলল, “আমি এই ময়না পাখি কিনি নাই। আমার মাথা খারাপ হয় নাই যে আমি এই বাসার জন্য কোনো পোষা পশুপাখি কিনে আনব। এই বাসায় পাখি দূরে থাকুক, একটা গোল্ড ফিশ পর্যন্ত পোষার পরিবেশ নাই। তোদের মতো দায়িত্বহীন বাচ্চাকাচ্চা আর কোথাও নাই—দুই দিনে পোষা পশুপাখির বারোটা বেজে যাবে।”
শান্ত গম্ভীর মুখে বলল, “ছোটাচ্চু তুমি ঠিক বলো নাই। তুমি ঠিক পোষা পশুপাখি আনো, আমরা সবাই সেটা দেখেশুনে রাখব।” শান্ত অন্য সবার দিকে তাকিয়ে বলল, “তাই না রে?”
বাচ্চারা মাথা নেড়ে জানাল ঠিক পোষা পশুপাখি আনা হলে তারা সেটা দেখেশুনে রাখবে। শান্তর নানা ধরনের আইডিয়ার সাথে বাচ্চাকাচ্চাদের আইডিয়া সাধারণত মিলে না, কিন্তু দেখা গেল এইটাতে সবাই রাজি।
ছোটাচ্চু মুখ শক্ত করে বলল, “আমাকে বলবি ঠিক পোষা পশুপাখি কোনটা?”
শান্ত বলল, “আমার ফেভারিট হচ্ছে সাপ।”
ছোটাচ্চু চিৎকার করে বলল, “সাপ?”
“হ্যাঁ।” শান্ত মুখ হাসি হাসি করে বলল, “তুমি চিন্তা করতে পারো বাসায় মোটা একটা অজগর সাপ ঘুরে বেড়াচ্ছে—কী অসাধারণ ব্যাপার!”
এবারে অনেক বাচ্চা মাথা নেড়ে আপত্তি জানাল, বলল, “মোটেই না। মোটেই আমরা সাপ পালতে চাই না। খরগোশ হতে পারে, সাদা তুলতুলে খরগোশ। না হলে কিউট বিড়ালের বাচ্চা!”
ছোটাচ্চু মুখ শক্ত করে বলল, “বড়ো বড়ো কথা বলে লাভ নাই। খরগোশ কিংবা বিড়ালের বাচ্চা পালা এত সোজা না। এটাকে খাওয়াতে হয়, পরিষ্কার করতে হয়। যখন বাথরুম করে তখন বাথরুম পরিষ্কার করতে হয়। তোদের কারো এত ধৈর্য নাই। তাই আমি অনেক চিন্তা করে দেখেছি, তোদের জন্য পৃথিবীতে একটা মাত্র প্রাণী আছে, যেটা তোরা নিশ্চিন্তে পুষতে পারবি।”
বাচ্চারা জানতে চাইলে, “সেটা কোন প্রাণী?”
ছোটাচ্চু বলল, “উকুন। মাথায় ছেড়ে দিবি, তোদের আর কিছু করতে হবে না।”
বাচ্চারা চিৎকার-চেঁচামেচি করতে লাগল, তখন টুনি সবাইকে থামাল, বলল, “সবাই চুপ কর।”
সবাই চুপ করল, তখন টুনি ছোটাচ্চুকে বলল, “এবারে তুমি বলো এটা কার ময়না পাখি আর এটা এখন তোমার কাছে কেন?”
ছোটাচ্চু মুখ গম্ভীর করে বলল, “প্রাইভেট ডিটেকটিভ হওয়া এত সোজা না। তাদের নানা রকম বিচিত্র কেস সলভ করতে হয়। ভৌতিক থেকে শুরু করে অলৌকিক কিছুই বাকি থাকে না। যাই হোক, আজকে একজন মহিলা এসেছে এই ময়না পাখি নিয়ে। ভদ্রমহিলা খুবই শৌখিন। শৌখিন হতে হলে রুচি থাকতে হয়।”
শান্ত বলল, “আসলে টাকা থাকতে হয়!”
ছোটাচ্চু বলল, “শুধু টাকা থাকলেই হয় না—”
শান্ত বলল, “শুধু টাকা থাকলেই হয়। সেই টাকা দিয়ে রুচিওয়ালা কর্মচারী কিনে ফেলা যায়।”
ছোটাচ্চু মুখ শক্ত করে বলল, “তুই চুপ করবি?”
শান্ত বলল, “চুপই তো করে আছি।”
টুনি বলল, “না শান্ত ভাইয়া, তুমি চুপ করে নাই। সত্যি সত্যি কিছুক্ষণ চুপ করে থাকো। ছোটাচ্চুর কথা শেষ হওয়ার পর যত ইচ্ছা কথা বলতে পারবে।”
ছোটাচ্চু আবার শুরু করল। যেটা বলল সেটা এ রকম:
ছোটাচ্চুর অফিসে একজন খুবই টিসটাস মহিলা দেখা করতে এসেছে। তার সাথে আর একজন মানুষ এই খাঁচাটা নিয়ে এসেছে। ভদ্রমহিলা ছোটাচ্চুর টেবিলে এই খাঁচাটা রেখে ছোটাচ্চুর সাথে কথা বলতে চাইলেন। বললেন, “আমার নাম নাজনীন হাসান, আমি হ্যান্ডিক্রাফটের জুয়েলারি বিজনেস করি। কিন্তু আমার শখ পশুপাখি নিয়ে। তাই আমার বাসায় নানা রকম পশুপাখি আছে। পশুপাখির ব্যবহার নিয়ে আমার খুবই কৌতূহল, তাই এইসব পশুপাখি আমি স্টাডি করি।”
ছোটাচ্চু বলল, “ইন্টারেস্টিং হবি। ভেরি গুড।”
মিসেস নাজনীন হাসান বললেন, “পশুপাখিকে আমরা যেটুকু বুদ্ধিমান মনে করি, পশুপাখি তার চাইতে অনেক বেশি বুদ্ধিমান।”
ছোটাচ্চু বলল, “পশুপাখি বুদ্ধিমান কি না আমি সিওর না। কিন্তু মানুষ যে বোকা সেটা আমি টের পেয়েছি।”
মিসেস নাজনীন হাসলেন, বললেন, “অন্য মানুষ বোকা কি না আমি জানি না কিন্তু আমি যে বোকা সেটা আমি আবিষ্কার করেছি।”
“কীভাবে আবিষ্কার করলেন?”
“এই ময়না পাখিটা দিয়ে।”
ছোটাচ্চু একটু অবাক হয়ে বলল, “কীভাবে এই ময়না পাখিটা দিয়ে?”
মিসেস নাজনীন একটা নিঃশ্বাস ফেলে বললেন, “যেসব পাখি মানুষের মতো কথা বলতে পারে আমার সেইসব পাখি নিয়ে একধরনের কৌতূহল আছে। আমি জানতে চাই এরা শুধু মানুষের কথাগুলো একটা রেকর্ডারের মতো উচ্চারণ করে নাকি এরা কথাগুলো ভাষার মতো ব্যবহার করে।”
ছোটাচ্চু জিজ্ঞেস করল, “সায়েনটিস্টরা কী বলে?”
“সায়েন্টিস্টদের কথা ছেড়ে দেন। তারা কোনো কিছু নিয়ে কখনো সিওর না! একদল বলে এরা সাউন্ড রেকর্ডারের মতো কোনো কিছু না বুঝে শুধু উচ্চারণ করে। আরেক দল বলে, না এরা অল্পবিস্তর কমিউনিকেশনের জন্য ব্যবহার করে।”
মিসেস নাজনীন একটা নিঃশ্বাস ফেলে বললেন, “তখন একজন আমাকে খবর দিলো গুলশানের একটা পেট শপে একটা ময়না পাখি বিক্রি হবে, যেটি মানুষের মতো কথা বলতে পারে। শুধু মানুষের মতো শব্দ উচ্চারণ করে তা নয়, তাকে কোনো প্রশ্ন করলে সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে। মানুষের মতো নিখুঁতভাবে না, কিন্তু একটা পাখির জন্য যথেষ্ট ভালোভাবে। শুনে আমি ঠিক বিশ্বাস করলাম না, তারপরেও দেখতে গেলাম।”
ছোটাচ্চু একটু সামনে ঝুঁকে পড়ে জিজ্ঞেস করল, “গিয়ে কী দেখলেন?”
“আমি হতবাক হয়ে গেলাম। পাখিটা রীতিমতো কথা বলতে পারে। প্রশ্ন করলে প্রশ্নের উত্তর দেয়। আমি আগেও ময়না পাখিকে কথা বলতে দেখেছি, কিন্তু সেগুলো একটা-দুইটা কথা বলে। সকালে বলে গুড মর্নিং, রাতে বলে গুড নাইট। কেউ বাসায় আসলে বলে, বসেন। চা খান। তা ছাড়া দিনরাত অন্য যেসব শব্দ শুনে—যে রকম গাড়ির হর্ন, কুকুরের ডাক সেগুলো করতে পারে। কিন্তু এটা একেবারে অন্য রকম। শুধু যে কথা বলে তা নয়—কথোপকথন করে। আমি হতবাক হয়ে গেলাম।”
ছোটাচ্চু জিজ্ঞেস করল, “কী রকম কথা বলে?”
“আমি আপনাকে দেখাই।” বলে মিসেস নাজনীন তার ব্যাগ খুলে স্মার্ট ফোনটা বের করে সেখান থেকে একটা ভিডিও বের করে ছোটাচ্চুকে দেখতে দিলেন।
গল্পের এই জায়গায় টুনি ছোটাচ্চুকে থামিয়ে জিজ্ঞেস করল, “ছোটাচ্চু, তোমার কাছে কি সেই ভিডিওটা আছে?”
ছোটাচ্চু ভুরু কুঁচকে বলল, “আছে। কেন?”
“আমাদেরকে দেখাবে, প্লিজ!”
অন্য সবাইও তখন ঘ্যানঘ্যান করতে লাগল, “প্লিজ! প্লিজ! প্লিজ!”
ছোটাচ্চু তখন একটু বিরক্তির ভান করে তার ফোনটা বের করে সবাইকে ভিডিওটা দেখাল। সবাই ভিডিওটা দেখল।
ভিডিওটাতে দেখা যাচ্ছে, একটা পেট শপ, চারপাশে নানা রকম ছোটো- বড়ো খাঁচা, তাদের মাঝে নানা রকম পাখি, খরগোশ, বিড়াল এবং কুকুর। ছোটো-বড়ো অ্যাকুয়ারিয়ামে নানা রকম মাছ। দেখা গেল টেবিলের উপর একটা খাঁচা—ছোটাচ্চু যে খাঁচাটা এনেছে সেটা এবং তার ভেতর একটা ময়না পাখি। নিশ্চয়ই ছোটাচ্চু খাঁচার ভেতরে করে এই ময়নাটাকেই এনেছে।
ভিডিওতে দেখা গেল একটা মানুষ খাঁচার কাছে বসে জিজ্ঞেস করছে, “এই ময়না পাখি তোমার নাম কী?”
ময়না পাখি কোনো উত্তর দিলো না। মানুষটা আবার জিজ্ঞেস করল, বলল, “ময়না পাখি কথা বলো। তোমার নাম কী?”
এবার পাখিটা বেশ স্পষ্ট গলায় টেনে টেনে একটু নাকি স্বরে বলল, “টুশকি। আমার নাম টুশকি।”
মানুষটা বলল, “গুড বয় টুশকি।”
“না। না। গুড বয় না।”
“গুড বয় না?”
“না। গুড গার্ল। টুশকি গুড গার্ল।”
ভিডিওতে ময়না পাখির কথা শুনে বাচ্চারা আনন্দে চিৎকার করে উঠল আর সামনে খাঁচায় বসে থাকা আসল ময়না পাখি ভয় পেয়ে ডানা ঝাপটে খাঁচার ভেতরে এক মাথা থেকে অন্য মাথায় ছুটে গেল।
ছোটাচ্চু বলল, “চুপ চুপ! চিৎকার করে পাখিটাকে ভয় দেখাবি না।”
বাচ্চারা কথা বন্ধ করে আবার ভিডিও দেখতে লাগল। মানুষটা জিজ্ঞেস করল, “টুশকি, তুমি কী খাও?”
ময়না পাখিটা কোনো উত্তর দিলো না। কয়েকবার জিজ্ঞেস করার পর বলল, “আমি সব খাই। সব।”
“সবকিছু খাও?”
“সব খাই।”
“পিৎজা খাও?”
“না।”
“পিৎজা খাও না?”
“না।”
“কেন পিৎজা খাও না?”
“না। খাই না।”
“কেন খাও না?”
পাখি উত্তর না দিয়ে চুপ করে রইল। কয়েকবার জিজ্ঞেস করার পর হঠাৎ করে বলল, “ফাস্টফুড খাই না।”
“ফাস্টফুড খাও না?”
“না খাই না।”
“কেন খাও না?”
“ফাস্টফুড খারাপ।
“খারাপ?”
“হ্যাঁ খারাপ?”
“কেন খারাপ?”
“খারাপ।”
কয়েকবার জিজ্ঞেস করা হলো কেন খারাপ কিন্তু পাখিটা সেটা ব্যাখ্যা করল না। শুধু বলে গেল “খারাপ!”
তখন মানুষটা জিজ্ঞেস করল, “তাহলে তুমি কী খাও?”
“ফল।”
“তুমি ফল খাও?”
“হ্যাঁ ফল। ফল খাই।”
“তুমি কী ফল খাও?”
“ফল খাই। ফল।”
“কী ফল খাও?”
“ফল খাই। ফল।”
মানুষটা কয়েকবার জিজ্ঞেস করার পর পাখিটা বলল, “পেঁপে খাই। পেঁপে।”
“আর কী ফল খাও?”
“আম খাই। আম।”
“আর কী ফল খাও?” “কলা খাই। কলা।”
“আর কী ফল খাও?”
“লিচু খাই। লিচু।”
ভিডিওটা বেশ লম্বা। পুরো ভিডিওটাতে এভাবে মানুষটা অনেক রকম প্রশ্ন করে গেল এবং পাখিটা তার মতো করে একটু নাকি স্বরে উত্তর দিয়ে গেল। সবসময় যে ঠিকভাবে উত্তর দিয়েছে তা না, অনেক সময় ভুল উত্তর দিয়েছে, অনেক সময়ই অস্পষ্ট এবং দুর্বোধ্য উত্তর দিয়েছে, অনেক সময়ই কোনো উত্তর না দিয়ে তার খাবার বাটি থেকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে খেয়েছে কিংবা ঠোঁট দিয়ে নিজের পাখা পরিষ্কার করছে।
ভিডিওর শেষের দিকে মিসেস নাজনীন প্রশ্ন করেছেন। প্রথম দিকে ময়না পাখিটা মিসেস নাজনীনের কথা বুঝতে পারছিল না, যেটাই প্রশ্ন করা হয় পাখিটা বলে “বুঝি না”। একটু পর যখন সময় নিয়ে ধীরে ধীরে প্রশ্ন করা হলো তখন পাখিটা আস্তে আস্তে তার গলার স্বরে অভ্যস্ত হলো এবং প্রশ্নের উত্তর দিতে শুরু করল। ভিডিও দেখে শেষ করে বাচ্চারা অবাক হয়ে চেঁচামেচি করতে থাকে। শান্ত মাথায় থাবা দিয়ে বলল, “এই পাখিটা দেখি মানুষের মতো! এটাকে আমাদের ক্লাসে ভর্তি করে দিতে হবে!”
সবাই অবাক হয়ে ময়না পাখিটার দিকে তাকিয়ে রইল, টুম্পা বলল, “কিন্তু এখন পাখিটা চুপচাপ বসে আছে কেন? এখন কোনো কথা বলে না কেন?”
ছোটাচ্চু বলল, “সেটাই হচ্ছে রহস্য।”
টুনি বলল, “ছোটাচ্চু, তুমি সেই রহস্যের কথা বলো। তোমার অফিসে মিসেস নাজনীন তখন কী বলেছেন?”
ছোটাচ্চু আবার তার কাহিনি শুরু করল।
বাসায় পাখিটার ভিডিও দেখে সবাই যে রকম অবাক হয়েছে, ছোটাচ্চুও তার অফিসে মিসেস নাজনীনের ভিডিও দেখে সে রকম অবাক হয়েছিল। অবিশ্বাসের ভঙ্গিতে মাথা নেড়ে বলল, “কী আশ্চর্য! আমি কখনো জানতাম না পাখি এত সুন্দর করে কথা বলে। প্রশ্নের উত্তর দেয়।”
মিসেস নাজনীন বললেন, “আমিও জানতাম না। আমি পাখির কথা বলা নিয়ে একটুখানি জানি কিন্তু এ রকম আগে শুনিনি। কাজেই স্বাভাবিকভাবেই আমি এই ময়না পাখিটাকে কিনতে চাইলাম কিন্তু পেট শপের মানুষটা বিক্রি করতে রাজি না।”
ছোটাচ্চু জিজ্ঞেস করল, “কেন রাজি না?”
“সে বলল, কম বয়সি ময়না পাখিকে চেষ্টা করালে সে মানুষের মতো কিছু কথা বলতে পারে, কিন্তু এই পাখিটা অন্য রকম। পাখিটা অনেক কথা বলে যখন সে তার চারপাশের পরিবেশ নিয়ে খুব কমফোর্টেবল। যখন তার ভেতর টেনশন নাই। যখন নিজেকে সে নিরাপদ মনে করে। কিন্তু নিজের জায়গা থেকে সরিয়ে নিলে পাখিটা হঠাৎ করে কথা বন্ধ করে দিতে পারে, খাওয়া বন্ধ করে দিতে পারে। একেবারে কোনো কারণ ছাড়াই অসুস্থ হয়ে যেতে পারে। মরেও যেতে পারে। সে জন্য মানুষটা এই ময়না পাখিকে বিক্রি করবে না।
মিসেস নাজনীন একটা লম্বা নিঃশ্বাস ফেলে টেবিলের উপর রাখা খাঁচার দিকে তাকিয়ে বললেন, “আমি তখন অনেক বলেকয়ে মানুষটাকে রাজি করালাম। বুঝতেই পারছেন একটা সাধারণ ময়নার যত দাম হওয়া উচিত তার থেকে প্রায় চার গুণ বেশি দাম দিয়ে এটাকে কিনতে হলো। ময়না পাখিটার যেভাবে যত্ন করতে হবে সেটা শিখিয়ে দিলো। তার খাবারের প্যাকেট দিয়ে দিলো। খাওয়ানোর জন্য আলাদা ভিটামিন ট্যাবলেট দিলো। পাখিটা যদি হঠাৎ করে কথা বন্ধ করে দেয় সাথে সাথে তাকে খবর দিতে বলল। তখন আমি পাখিটা কিনে বাসায় নিয়ে এলাম।”
এই পর্যন্ত বলে মিসেস নাজনীন থেমে গিয়ে একটা বিশাল নিঃশ্বাস ফেললেন।
ছোটাচ্চু জিজ্ঞেস করল, “তারপর কী হলো?
“পাখিটাকে বাসায় নিয়ে আসা মাত্র পাখিটা কথা বলা বন্ধ করে দিলো।”
“সত্যি?”
“হ্যাঁ সত্যি।”
“তখন আপনি কী করলেন?”
“আমি মানুষটাকে খবর দিলাম। মানুষটা আসলো। পাখির সাথে কথা বলার চেষ্টা করল। অনেকবার চেষ্টা করার পর দুই-একটা কথা বলল। ব্যস এই পর্যন্তই।”
“তারপর?”
“আমি অনেকভাবে চেষ্টা করলাম। কোনো লাভ হলো না। পেট শপের মানুষটাকে আবার ডাকলাম, সেও এসে চেষ্টা করল। কোনো লাভ হলো না।” ছোটাচ্চু বলল, “মানুষটা আগেই বলেছিল এ রকম কিছু হতে পারে।” “হ্যাঁ বলেছিল। কিন্তু — “
“কিন্তু কী?”
“আমার কেন জানি সন্দেহ হয়, এর মাঝে কোনো একটা দুই নম্বুরি ব্যাপার আছে।”
ছোটাচ্চু অবাক হয়ে বলল, “কেন এ রকম সন্দেহ হয়?”
“দুইটা কারণে। প্রথম কারণটা হচ্ছে—যখন আমি দেখলাম পাখিটা একেবারেই কোনো কথা বলছে না, তখন আমার মনে হলো খামোখা এই পাখিটাকে খাঁচার ভেতর আটকে রেখে কষ্ট দিয়ে কী লাভ? তাই আমি খাঁচা খুলে পাখিটাকে ছেড়ে দিলাম।”
ছোটাচ্চু চমকে উঠল, বলল, “এত টাকা দিয়ে কেনা পাখিটাকে ছেড়ে দিলেন?”
“হ্যাঁ, আমি ছেড়ে দিলাম। তারপর কি হলো জানেন?”
“কী হলো?”
“পাখিটা একবার মাথার উপর দিয়ে উড়ে আবার ফিরে এসে খাঁচার ভেতর ঢুকে গেল। তার মানে বুঝেছেন?”
“কী?”
“পাখিটা তার খাঁচার ভেতর যথেষ্ট কমফোর্টেবল। তার মোটেও কালচারাল শকে কথা বন্ধ করার কোনো কারণ নেই।”
ছোটাচ্চু মাথা নাড়ল, হেসে বলল, “ভুল বলেন নাই। আর দুই নম্বর কারণটা কী?”
মিসেস নাজনীন একটু ইতস্তত করে বললেন, “দুই নম্বর কারণটা একটুখানি হাস্যকর।”
“তবু শুনি।”
“দুই নম্বর কারণ হচ্ছে, মানুষটার চেহারা। শুধু চেহারা না, মানুষটার মুখের একটা ফিচলে হাসি! দেখে মনে হয়—”
“কী মনে হয়?”
“মনে হয় আমাকে বোকা বানিয়ে সারাক্ষণ মনে মনে মিচকি মিচকি হাসছে।”
ছোটাচ্চু তখন আবার মিসেস নাজনীনের ফোনটা নিয়ে ভিডিওটাতে যেখানে মানুষটাকে দেখা গেছে সেখানে মানুষটাকে ভালো করে লক্ষ করল। তার কাছে অবশ্য এমন কিছু দুই নম্বুরি ধুরন্ধর মনে হলো না। হাসিটাও খুব ফিচলে হাসি মনে হলো না। ছোটাচ্চু ফোনটা ফিরিয়ে দিয়ে বলল, “এবারে বলেন আপনি আমাদের এজেন্সিতে কেন এসেছেন?”
“আমি নিশ্চিত হতে চাই, এর মাঝে কোনো স্ক্যাম নেই। কোনো দুই নম্বুরি কিছু নেই।”
ছোটাচ্চু মাথা চুলকে বলল, “হুম।”
“আপনাকে আমি এই ময়না পাখিটাকে তার খাঁচাসহ দিয়ে যেতে চাই— এক সপ্তাহ কিংবা যতদিন লাগে। আপনি এটা স্টাডি করেন, তারপর আমাকে বলেন রহস্যটা কী। কিংবা আসলেই এর মাঝে কোনো রহস্য আছে নাকি নেই।”
ছোটাচ্চু মাথা চুলকে বলল, “কিন্তু মানে—”
মিসেস নাজনীন ছোটাচ্চুকে থামিয়ে দিয়ে বললেন, “আপনাকে আমি পেট শপের নাম-ঠিকানা আর এই ভিডিওটার একটা কপি পাঠিয়ে দিচ্ছি।”
ছোটাচ্চু বলল, “না মানে আমি বলছিলাম যে, আমি কিংবা আমার এজেন্সির কেউ তো আগে কখনো পাখি পুষে নাই। তাই পাখিটাকে রাখতে গিয়ে যদি কিছু হয়, মানে পাখিটা যদি অসুস্থ হয়, মরে যায়—”
“মরে গেলে যাবে। যদি এটা কথা না বলে তাহলে এটা সাধারণ একটা ময়না পাখি, এর আলাদা কোনো মূল্য নেই—আর দশটা পাখি যেভাবে বেঁচে থাকে কিংবা মরে যায় এটাও সেভাবে বেঁচে থাকবে না হলে মরে যাবে। কোনো সমস্যা নেই।”
ছোটাচ্চু বলল, “ঠিক আছে। আপনি যদি আমাদের সে রকম ফ্রিডম দেন তাহলে চেষ্টা করে দেখতে পারি।”
মিসেস নাজনীন বললেন, “আপনাদের এজেন্সির নিয়মকানুন কী, ফি কত, কীভাবে পেমেন্ট করতে হয় সেটা যদি বলে দেন আমি সেটা করে নেব।”
ছোটাচ্চু তখন নীলিমাকে ডেকে মিসেস নাজনীনের সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়ে পাখির খাঁচাটা নিয়ে বাসায় চলে এসেছে।
ছোটাচ্চু তার কাহিনি বলা শেষ করার পর সবার আগে কথা বলল টুনি। জিজ্ঞেস করল, “এখন তুমি কী করবে ছোটাচ্চু?”
ছোটাচ্চু মাথা চুলকে বলল, “অ্যাঁ—মানে—ইয়ে—”
সবাই বুঝতে পারল ছোটাচ্চু কী করবে সেটা নিজেই জানে না। তখন শান্ত বলল, “ছোটাচ্চু তুমি এটা আমাদের ওপর ছেড়ে দাও। আমরা তোমার নন- টকিং ময়না পাখির কেস সলভ করে দিব।”
ছোটাচ্চু ভুরু কুঁচকে বলল, “তুই কীভাবে সলভ করবি?”
“আমি একা না। আমরা সবাই মিলে।”
“তোরা সবাই মিলে কীভাবে সলভ করবি?”
শান্ত খুবই সহজ ভঙ্গিতে আঙুলে একটা চুটকি দিয়ে বলল, “খুবই সোজা। বোঝাই যাচ্ছে পাখিটা কথা বলা বন্ধ করেছে, কারণ এটা মনে করেছে যে সে ভেজালের মাঝে আছে, ঝামেলার মাঝে আছে, বিপদের মাঝে আছে। নতুন জায়গায় গেলে সবার এ রকম মনে হয়। আমরা সবাই মিলে পাখিটাকে আনন্দ দিব, খুশি রাখব।”
“কীভাবে?”
শান্ত মাথা চুলকে বলল, “প্রথমে খাওয়া-দাওয়া দিয়ে। ময়না পাখি যেসব খেতে পছন্দ করে সেগুলো এনে দেবো। তারপর মনে করো তার জন্য গান- ভিডিও, ন্যাশনাল জিওগ্রাফিতে পাখিদের যে ভিডিও আছে—”
টুনি শান্তকে থামিয়ে দিয়ে বলল, “ছোটাচ্চু, তুমি তো আর এই ময়না পাখিকে দেখেশুনে রাখতে পারবে না–ঝুমু খালাকে নিয়ে আমাদেরকেই দেখেশুনে রাখতে হবে। কাজেই তুমি আমাদের ওপর ছেড়ে দাও। দেখি এটা নিজ থেকে কথা বলতে শুরু করে কি না—এক-দুই দিন আমাদেরকে দেখুক, তারপর চিন্তাভাবনা করা যাবে। পাখি নিয়ে একটু পড়াশুনা করতে হবে।”
শান্ত বলল, “নো, নো, নো, নো—আমি পড়াশুনার মাঝে নাই। আমি যেটা করব সেটা হচ্ছে অ্যাকশান, অ্যাকশান, ডাইরেক্ট অ্যাকশান।”
ছোটাচ্চু একটু ভয় পেয়ে বলল, “মানে?”
টুনি বলল, “তুমি শান্ত ভাইয়ার কথা ছেড়ে দাও। আমি ঝুমু খালাকে ডেকে আনি। তুমি ঝুমু খালাকে বলে দাও তাহলে এই ময়না পাখি না খেতে পেরে মারা যাবে না।”
ছোটাচ্চু বলল, “এইটা খারাপ আইডিয়া না।”
কাজেই ঝুমু খালাকে ডেকে আনা হলো। সবকিছু শুনে ঝুমু খালা পাখি পোষার ওপর একটা ছোটো বক্তৃতা দিয়ে খাঁচাটা বারান্দার যেখানে অনেকগুলো টবে নানা ধরনের গাছ রয়েছে সেখান থেকে ঝুলিয়ে দিলো এবং বাচ্চারা সেই খাঁচাটা ঘিরে দাঁড়িয়ে পাখিটাকে আবার কথা বলতে শুরু করানোর চেষ্টা করতে লাগল।
শাহানা তার ঘরে টেবিলের ওপর দুই পা তুলে তার পেটের উপর একটা খাতা রেখে সেই খাতাটার দিকে বিষ দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল। টুনি ঘরে ঢুকে শাহানার পাশে দাঁড়িয়ে খাতাটার দিকে তাকাল, সেখানে একটা জটিল সমীকরণ লেখা। শাহানা এই সমীকরণটার দিকে বিষ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে, টুনিকে ঘরে ঢুকতে দেখে জিজ্ঞেস করল, “কী খবর টুনি?”
“শাহানাপু, তোমার সাত মিনিট সময় আছে?”
“ঠিক সাত মিনিট? এর বেশি কিংবা কম না?”
“একটু বেশি হলে আরও ভালো।”
শাহানাপু খাতাটাকে তার পেটের উপর শুয়েই রেখে বলল, “কেন?”
“তোমাকে একটা ভিডিও দেখাব।”
“দেখা।”
টুনি শাহানাপুর হাতে ছোটাচ্চুর ফোনটা দিয়ে বলল, “এইটা ছোটাচ্চুর ফোন। ছোটাচ্চুকে অনেক তেল মালিশ করে তোমাকে দেখানোর জন্য এনেছি। তুমি তাড়াতাড়ি দেখে নাও, ছোটাচ্চুকে সময়মতো ফেরত না দিলে ছোটাচ্চু আমার জান খেয়ে ফেলবে।”
শাহানা ভিডিওটা না দেখে ফোনটার কোথায় জানি কিছুক্ষণ টিপাটিপি করে ফোনটা টুনিকে ফেরত দিয়ে বলল, “নে। তোর জান খেয়ে ফেলার আগে ছোটাচ্চুর ফোন ছোটাচ্চুকে ফেরত দিয়ে আয়।”
টুনি বলল, “তুমি ভিডিওটা দেখবে না?”
“দেখব। আমার কম্পিউটারে দেখব। আমি ডাউনলোড করে নিয়েছি।”
টুনি ছোটাচ্চুকে ফোন ফেরত দিয়ে এসে দেখল শাহানা তার কম্পিউটারের মনিটরের কাছে চোখ লাগিয়ে ভিডিওটা খুব মনোযোগ দিয়ে দেখছে। শাহানা দুইবার ভিডিওটা দেখল। তৃতীয়বার ভিডিওটার কোনো কোনো জায়গা খুবই স্লো মোশনে দেখে টুনির দিকে তাকাল। বলল, “দেখলাম তোর ভিডিও।”
“তোমার কী মনে হয় শাহানাপু?”
“এই ময়না পাখিটাকে সামনাসামনি দেখতে পারলে বোঝা যেত।”
“তুমি দেখতে চাও? নিচের বারান্দায় ঝুমু খালা খাঁচাটা ঝুলিয়ে রেখেছে— নিচে গেলেই দেখবে।”
শাহানা তার চেয়ারে সোজা হয়ে বসে বলল, “কথা বলছে পাখিটা?”
“না। সবাই চেষ্টা করছে কিন্তু কথা বলছে না।”
শাহানা একটা নিঃশ্বাস ফেলে বলল, “বাঁচলাম।”
“কেন শাহানাপু? কেন বাঁচলে?”
“তার কারণ পাখির এভাবে কথা বলার কথা না। পাখি যথেষ্ট বুদ্ধিমান। এমনকি চার-পাঁচ পর্যন্ত গুনতেও পারে—তাই বলে পাখির এত বুদ্ধি নাই যে মানুষের সাথে এইভাবে কথাবার্তা বলে যাবে। বুঝেছিস?”
টুনি মাথা নাড়ল। শাহানা বলল, “ভিডিওর শেষের দিকে ময়না পাখিটা একসময় বলেছে, ‘বুঝি নাই’। খেয়াল করেছিস?”
“হ্যাঁ।”
“তার মানে বোঝা ব্যাপারটা পর্যন্ত এই পাখিটা জানে। আমার মাঝে মাঝে সন্দেহ হয় শান্ত পর্যন্ত বোঝা বিষয়টা জানে কি না।”
টুনি মাথা নাড়ল, বলল, “হ্যাঁ, শান্ত ভাইয়া বোঝার থেকে মুখস্থ করতে বেশি ভালোবাসে। সবসময় বলে কষ্ট করে বুঝে কী হবে, মুখস্থ করে ফেলি।”
“কাজেই এই ভিডিওটা সত্যি হলে এই পাখিটার বুদ্ধি শান্তর থেকে বেশি না হলেও কাছাকাছি।”
“তার মানে ভিডিওটা ভুয়া?”
“ভিডিওটা হয়তো সত্যি—কেউ একজন সত্যি সত্যি এটা ভিডিও করেছে। কিন্তু ভিডিওতে যেটা দেখানো হয়েছে যে একটা পাখি কথা বলছে, সেটা হয়তো সত্যি না। যে কথাটা শোনা যাচ্ছে সেটা পাখির গলা থেকে আসে নাই। সেটা অন্য কোনোখান থেকে এসেছে।”
“কোথা থেকে এসেছে মনে হয় শাহানাপু? কোনো ছোটো স্পিকার? খাঁচার
মাঝে লাগানো?”
“সেটা জানি না, নিজের চোখে দেখলে বুঝতে পারতাম।”
“নিচে গিয়ে দেখো।”
“কিন্তু এখন তো কথা বলছে না, কথা বললে বোঝা যেত।”
টুনি বলল, “শাহানাপু, তুমি একটু চিন্তা করো। যে ভদ্রমহিলা ছোটাচ্চুকে এই ভিডিওটা দিয়েছে সে এই মানুষটাকে সন্দেহ করে।”
“মানুষটাকে সন্দেহ করে? কেন?”
“মানুষটার হাসি নাকি ভালো না।”
শাহানা অবাক হয়ে বলল, “হাসি আবার ভালো-খারাপ কেমন করে হয়?” “সেটা জানি না। মানুষটার হাসি নাকি ফিচলে ধরনের হাসি।”
শাহানা আবার তার কম্পিউটার মনিটরের দিকে তাকিয়ে ভিডিওটা চালিয়ে দিয়ে মানুষটার ফিচলে হাসি লক্ষ করতে লাগল।
.
রাত্রিবেলা সবাই মিলে ময়না পাখিটাকে কথা বলানোর চেষ্টা করিয়েছে, কোনো লাভ হয় নাই। ঝুমু খালা পাখির প্যাকেট করা খাবার ছাড়াও আরও নানা ধরনের খাবারের ব্যবস্থা করেছে। যেমন পাকা পেঁপে ছোটো ছোটো টুকরা করে দিয়েছে, ময়না পাখিটা সেগুলো খুবই তৃপ্তি করে খাচ্ছে। তবে যেটা ময়না পাখি সবচেয়ে তৃপ্ত করে খেয়েছে সেটা হচ্ছে একটা পুরুষ্ট জ্যান্ত তেলাপোকা। বাচ্চারা চিৎকার করে বলেছে, “কী করছো ঝুমু খালা? ছিঃ ছিঃ ছিঃ! তুমি এই তেলাপোকাটা খেতে দিচ্ছ? ইয়াক থু! হায় হায় হায়!”
ঝুমু খালা বাচ্চাদের চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে এতটুকুও বিচলিত হয় নাই। জ্যান্ত তেলাপোকার শুঁড় ধরে খাঁচার ভেতরে ঝুলিয়ে ধরেছে আর ময়না পাখিটা তেলাপোকাটাকে দেখে মনে হলো দিগ্বিদিক জ্ঞান হারিয়ে ছুটে এসে সেটাকে রীতিমতো খাবলে ধরে নিয়ে কপাৎ কপাৎ করে খেয়েছে। দেখে মনে হলো, যদি কথা বলতে পারত তাহলে নির্ঘাত বলত, “ইয়াম! ইয়াম! আরেকটা প্লিজ!”
টুম্পা দেখে ঘৃণায় প্রায় বমি করে দিচ্ছিল, কোনোমতে বলল, “এটা তুমি কী করলে ঝুমু খালা! এই তেলাপোকা খেয়ে যদি পাখিটার ডায়রিয়া হয়? কলেরা হয়?”
“হবে না। পাখিদের পুটিন খেতে হয়। পোকা হচ্ছে পাখিদের পুটিন।”
সবাই বুঝে নিলো পুটিন শব্দটা আসলে প্রোটিন এবং গুগল ঘেঁটে তারা আবিষ্কার করল, আসলেই ময়না পাখির প্রধান এবং প্রিয় খাদ্য হচ্ছে পোকা। পৃথিবীর যেকোনো বিষয়ে ঝুমু খালার মতো আর কেউ জানে না।
.
রাত্রিবেলা লেখাপড়া (কিংবা লেখাপড়ার ভান) শেষ করে সবাই অন্যদিনের মতো দাদির (কিংবা নানির) ঘরে হাজির না হয়ে প্রথমে বারান্দায় ঝুলিয়ে রাখা ময়না পাখির কাছে গেল। সবাই বেশ কিছুক্ষণ ময়না পাখিটাকে কথা বলানোর চেষ্টা করল। প্রথমে কিছুক্ষণ স্বাভাবিকভাবে চেষ্টা করল (ময়না পাখি, তোমার নাম কী বলো), কাজ না হওয়ার পর একটু লোভ দেখানো হলো (ময়না পাখি, তুমি যদি তোমার নামটা আমাদেরকে বলো তাহলে তোমাকে এই মোটা একটা তেলাপোকা এনে দিব), তাতে কাজ না হওয়ায় খানিকক্ষণ অনুনয়-বিনয় করা হলো (প্লিজ প্লিজ প্লিজ ময়না পাখি, তোমার নামটা একবার শুধু বলো), তাতেও কাজ না হওয়ায় রাগারাগি করা হলো (ভালো হবে না কিন্তু, নাম না বললে কল্লা ছিঁড়ে ফেলব)।
যখন কিছুতেই কাজ হলো না তখন সবাই হাল ছেড়ে দিয়ে চাল যাচ্ছিল। শান্ত যাওয়ার আগে পাখিটাকে একটা গালি দিয়ে গেল, “শালার ব্যাটা শালা!”
তারপর দুই পা-ও যায়নি, সবাই পরিষ্কার শুনল পাখিটা পেছন থেকে বলল, “শালার ব্যাটা শালা!”
“কথা বলেছে—কথা বলেছে” বলে সবাই তখন ফিরে এসে পাখিটাকে ঘিরে দাঁড়াল। একজন বলল, “বলো পাখি কথা বলো। আবার কথা বলো।”
পাখিটা আবার বলল, “শালার ব্যাটা শালা।” অবিকল শান্তর গলার স্বর।
শান্ত বলল, “অন্য কিছু বলো। ময়না পাখি।”
ময়না পাখি আবার বলল, “শালার ব্যাটা শালা।”
কিছুক্ষণের মাঝেই সবাই বুঝে গেল ময়না পাখিটি এই গালিটা ছাড়া অন্য কিছু বলবে না। পাখিটি একটু পরে পরেই সবার দিকে তাকিয়ে বলতে লাগল, ‘শালার ব্যাটা শালা’। কী কারণ কে জানে, কথাটা তার খুব পছন্দ হয়েছে।
বাচ্চারা একজন আরেকজনের মুখের দিকে তাকাল। এই বাসায় এই রকম ভাষায় কেউ কথা বলে না, কিন্তু ময়না পাখি যদি একটু পরে পরে এটি বলতে থাকে, তাহলে আগে হোক পরে হোক, কথাটা বড়োদের কানে যাবে, তখন বিপদ হতে পারে।
শান্ত মাথা চুলকে বলল, “এই পাজি পাখিটার মুখ বন্ধ করি কীভাবে?” টুনি বলল, “মনে হয় বন্ধ করা যাবে না।”
“তাহলে?”
টুম্পা বলল, “মিসেস নাজনীনকে যখন ছোটাচ্চু এটা ফেরত দিবে তখন সেটা এইভাবে গালি দিতে থাকবে?”
“মনে হয়।”
“ছোটাচ্চুর অনেক বেইজ্জতি হবে।”
প্রমি বলল, “আয় যাই। সকাল হতে হতে হয়তো ভুলে যাবে।”
সবাই বারান্দায় ঝুলন্ত খাঁচার মাঝে পাখিটা রেখে যখন ফিরে যাচ্ছিল তখন সবাই শুনল ময়না পাখিটি গলা উঁচিয়ে ডাকছে, “শালার ব্যাটা শালা।”
.
সমস্যাটা সকাল হওয়ার আগেই মিটে গেল কিন্তু সম্পূর্ণ অন্যভাবে। সেটি ঘটল শাহানার কারণে। সবাই যখন দাদি (কিংবা নানির) ঘরে বসে একটু মনমরাভাবে নিজেদের সাথে কথা বলছে তখন হঠাৎ শাহানা সেখানে এসে হাজির। প্রায় চিৎকার করে বলল, “টুনি! ময়না পাখি রহস্যের সমাধান পেয়ে গেছি!”
টুনি উঠে দাঁড়াল, জিজ্ঞেস করল, “কী সমাধান?
“ভেন্ট্রিলকুইস্ট।”
কেউ কিছু বুঝল না। সবাই হাঁ করে শাহানার দিকে তাকিয়ে রইল। শুধু মুনিয়া শব্দটা উচ্চারণ করার চেষ্টা করল, বলল, “কী বললে শাহানাপু? ভে-ভে-ভে—”
“ভেন্ট্রিলকুইস্ট।”
“সেটা আবার কী?”
“একধরনের স্কিল কিংবা আর্ট। মানুষ যখন তার মুখ-ঠোঁট কিছু না নাড়িয়ে কথা বলে, সেটাকে বলে ভেন্ট্রিলকুইজম। যারা এটা করে তাদেরকে বলে ভেন্ট্রিলকুইস্ট।”
টুম্পা বলল, “মুখ না খুলে কীভাবে কথা বলে?
শাহানা বলল, “কেন সমস্যা কী? এই দেখ আমি বলছি।” বলে তার ঠোঁট-
মুখ কিছু না নড়িয়ে উচ্চারণ করল, “শা-হা-না…শা-হা-না…।”
মুনিয়া আনন্দে হি হি করে হেসে নিজের নাম বলার চেষ্টা করল, “মু-নি- য়া… মু-নি-য়া…” কিন্তু তার ঠোঁট নাড়াতে হলো, মুখ বন্ধ করতে হলো, খুলতে হলো।
শাহানাপু বলল, “না, না—তোর নামটা সহজ না। তুই এখন পারবি না। প ফ ব ভ আর ম বলতে হলে ঠোঁট নাড়াতে হয়। অন্য কিছু চেষ্টা কর।
তখন একসাথে সব বাচ্চাকাচ্চা ঠোঁট-মুখ না নাড়িয়ে কথা বলা শুরু করল, ঘরভরতি ভেন্ট্রিলকুইস্ট!
শান্ত বলল, “আমি শান্ত। দুনিয়ার সবচেয়ে ডেঞ্জারাস ফাইটার!” ঠোঁট না নাড়ানোর জন্য সেটা শোনাল, “আ-ইঁ শান্ত। দুনিয়ার স…চেয়ে ডেঞ্জায়াস হাইটার!”
টুনি ঠোঁট-মুখ না নাড়িয়ে স্পষ্ট বলল, “কার কথা শুনি টুনি টুনি টুনি!” টুম্পা প্রায় নিখুঁতভাবে স্লোগান দিলো, “জ্বালো জ্বালো আগুন জ্বালো— মুনিয়া বলল, “ধ্বংস হোক ধ্বংস হোক!”
প্রমি শঙ্খ ঘোষের কবিতার একটা লাইন বলে ফেলল, “হাত খুলে দেখা গেল হাতে কিছু নেই!”
এভাবেই চলতেই থাকল, ঘরে রীতিমতো হইচই-গোলমাল শুরু হয়ে গেল। শাহানা হাত তুলে সবাইকে থামিয়ে বলল, “এখন বুঝেছিস তো এই ময়না পাখি কীভাবে কথা বলে?”
সবাই মাথা নাড়ল। টুনি বলল, “বুঝেছি। মানুষটা কাছে বসে ঠোঁট না নাড়িয়ে, মুখ না খুলে কথা বলে। মনে হয় ময়না পাখি কথা বলছে।”
শাহানা মাথা নাড়ল, বলল, “হ্যাঁ। মানুষটা আসলে ভেন্ট্রিলকুইস্ট, সে জন্য সব কথা বলতে পারে। বলে খুব কায়দা করে—একটা প্রশ্ন করে তারপর নিজেই প্রশ্নের উত্তর দেয়। মহা চালু। তবে—”
“তবে কী?”
“ভিডিওটা খুব ভালো করে লক্ষ করলে বোঝা যায় যে মানুষটা ভেন্ট্রিলকুইজম করছে। মুখ না খুলেও শব্দ করার জন্য ভোকাল কর্ড ব্যবহার করতে হয়। ভিডিওতে মাঝে মাঝে দেখা যায় তার ভোকাল কর্ড কাঁপছে।” টুনি হাতে কিল দিয়ে বলল, “তার মানে এটা প্রমাণ করা যাবে?”
“হ্যাঁ। মনে হয় প্রমাণ করা যাবে।”
শান্ত মুখ শক্ত করে বলল, “ব্যাটাকে জেলের ভাত খাওয়াতেই হবে।”
শাহানা বলল, “ভেন্ট্রিলকুইজম হচ্ছে একটা আর্ট। এটা শিখে চোট্টামি করার দরকার কী? পুতুল নাচের একটা দল খুলতে পারে। একটা পাপেট তার সাথে কথা বলবে। সে টেলিভিশনে অনুষ্ঠান করতে পারে!”
শান্ত বলল, “আর চোট্টামি যদি করতেই হয়, তাহলে ভালোভাবে চোট্টামি কর!”
শাহানা ভুরু কুঁচকে বলল, “ভালোভাবে চোট্টামি কীভাবে করে?”
“মানে ময়না পাখি তো এমনিতেই কথা বলে। তাকে ভেন্টিকুন্টি করে—”
শাহানা শান্তকে থামাল, বলল, “শব্দটা ভেন্টিকুন্টি না, শব্দটা ভেন্ট্রিলকুইজম, যে ভেন্ট্রিলকুইজম করে সে ভেন্ট্রিলকুইস্ট।”
“একই কথা!”
“না, এক কথা না।”
শান্ত বলল, “যাই হোক। যে এই কাজটা পারে তার ময়না পাখি দিয়ে কথা বলানোর দরকার কী? তার ভান করার দরকার একটা কুকুর কথা বলছে! কথা বলা কুকুর অনেক বেশি টাকায় বিক্রি হবে!”
টুনি বলল, “শুধু কুকুর কিনলে হবে না। সাথে এই ভেন্ট্রিলকুইস্ট মানুষটাকেও কিনতে হবে।”
শাহানা বলল, “থাক, চোট্টামি বিজনেস নিয়ে কথা বলে লাভ নেই। ছোটাচ্চু আসার পর তাকে বলিস আসলে কী হয়েছে। এই ময়না পাখি ফেরত দিয়ে ভদ্রমহিলা রিফান্ড নিয়ে আসতে পারে।”
শান্ত বলল, “তার আগে কেস সলভ করার জন্য ছোটাচ্চুর কাছে আমাদের একটা বিল পাঠাতে হবে।”
বাচ্চারা জোরে জোরে মাথা নাড়ল, চিৎকার করে বলল, “বিল! বিল! লাখ টাকার বিল!”
হঠাৎ শান্তর চোখ ঝিলিক দিয়ে ওঠে। সে তার মুখে একটা ভয়ংকর হাসি ফুটিয়ে বলল, “আমার মাথায় একটা ফ্যান্টাস্টিক আইডিয়া এসেছে!”
শান্তর ফ্যান্টাস্টিক আইডিয়া একটু বিপজ্জনক। সবাই ভয়ে ভয়ে শান্তর মুখের দিকে তাকাল, জিজ্ঞেস করল, “কী আইডিয়া?”
“মিসেস নাজনীন যখন ময়না পাখিটাকে সেই দোকানে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে তখন এই মানুষটাকে গালি দেওয়ার জন্য ময়না পাখিটাকে একটা গালি শিখিয়ে দেবো!”
শাহানা জিজ্ঞেস করল, “কী বললি? গালি শিখিয়ে দিবি?”
“হ্যাঁ। মিসেস নাজনীন তো একজন টিসটাস ভদ্রমহিলা। মানুষটাকে গালি দিতে পারবে না। তখন এই ময়না পাখিটা মিসেস নাজনীনের হয়ে ভেন্টিকুন্টি মানুষটাকে গালি দিবে।”
শাহানা অবাক হয়ে বলল, “শান্ত, তোর মাথায় নিশ্চয়ই গোলমাল আছে। তুই একটা পাখিকে গালি শিখাবি?”
বাচ্চারা মুখ টিপে হাসল। তারপর হাসি গোপন করে বলল, “আইডিয়াটা মনে হয় খারাপ না। ভেন্টিকুন্টি মানুষটার একটা শিক্ষা হবে! যাও শান্ত ভাইয়া—দেখো শিখাতে পারো কি না।”
শাহানা কী একটা বলতে যাচ্ছিল তার আগেই শান্ত বের হয়ে গেল। শাহানা মাথা নেড়ে বলল, “শান্তর ব্রেন কীভাবে কাজ করে আমি কখনোই বুঝতে পারি না।”
টুনি গলা নামিয়ে বলল, “শাহানাপু, আমি তোমাকে বলি। শান্ত ভাইয়ার ব্রেন আসলে খুবই ভালো কাজ করে। তবে উল্টোদিকে—এটাই সমস্যা।”
.
দুই দিন পর ছোটাচ্চু এসে সবাইকে জানাল মিসেস নাজনীন ময়না পাখিটাকে ফেরত দিয়ে পুরো রিফান্ড নিয়ে এসেছেন। শুধু তাই না, ভবিষ্যতে আর কখনো কাউকে ঠকাবে না মানুষটার কাছ থেকে এভাবে মুচলেকা লিখিয়ে এনেছে।
প্রথমে নাকি মানুষটা একটু গাঁইগুঁই করছিল। কিন্তু ময়না পাখি যখন মানুষটাকে ‘শালার ব্যাটা শালার ব্যাটা’ বলে গালি দিতে শুরু করেছে তখন ম্যাজিকের মতো কাজ হয়েছে! মানুষটা সুড়সুড় করে সবকিছুতে রাজি হয়ে গেছে।
বাচ্চারা ছোটাচ্চুকে একটা বিল দেবে। টাকার পরিমাণ কত হবে সেটা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে!
