Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ঠাকুরমার ঝুলি – দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার

    March 20, 2026

    মায়া, আজটেক ও ইনকা সভ্যতা – আবদুল হালিম

    March 20, 2026

    কালীগুণীন ত্রাহিমাম – সৌমিক দে

    March 20, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ঠাকুরমার ঝুলি – দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার

    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার এক পাতা গল্প127 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ডালিম কুমার

    ১

    এক রাজা, রাজার এক রানি, এক রাজপুত্র। রানির আয়ু একজোড়া পাশার মধ্যে,—রাজপুরীর তাল গাছে এক রাক্ষসী এই কথা জানিত। কিন্তু কিছুতেই রাক্ষসী জো পাইয়া উঠে নাই। একদিন রাজা মৃগয়ায় গিয়াছেন, রাজপুত্র সখা সাথি পাঁচজন লইয়া পাশা খেলিতেছিলেন; দেখিয়া, রাক্ষসী, এক ভিখারিণী সাজিয়া রাজপুত্রের কাছে গিয়া পাশা জোড়া চাহিল; রাজপুত্র কি জানেন? হেলায় পাশা জোড়া ভিখারিণীকে দিয়া ফেলিলেন। তিন ফুঁয়ে রাক্ষসী, রানির আয়ু পাশা, কোন রাজ্যে পাঠাইল কে জানে? রানির ঘরে রানি মূর্ছা গেলেন! রাক্ষসী তাড়াতাড়ি গিয়া রানিকে খাইয়া রানির মূর্তি ধরিয়া বসিয়া রহিল।

    রোজ যেমন, আজও রাজা আসিলেন-রোজ যেমন, আজও রানি সেবাযত্ন করিলেন। কেবল রাজপুত্র দেখিলেন, খাবার দিবার সময়, মায়ের জিভের একফোঁটা জল টস করিয়া পড়িল! গা ছমছম! রাজপুত্র আর খাইলেন না; চুপ করিয়া উঠিয়া গেলেন। এ কথা আর কেহই জানিল না।

    ক-বৎসর যায়, রাজার সাত ছেলে হইল। রাজা খুব ধুমধাম করিলেন। কেবল রাজপুত্র দেখিলেন, তাল গাছের আগা দিন দিন শুকায়, তাল গাছে কোনো পক্ষী বসে না। রাজপুত্র চুপ করিয়া রহিলেন।

    সাত ছেলে বড়ো হইল। রাজা সময়মতো তাহাদের অন্নপ্রাশন, চূড়া, উপনয়ন, সব করাইলেন। তখন রাজপুত্রেরা বলিলেন,—’এখন আমরা দেশ ভ্রমণে যাইব।’

    রাজা বলিলেন,—’বড়োকুমার গেল না, তোরা কী করিয়া যাইবি?’ রাজা বড়োকুমারকে খবর দিলেন।

    খবর পাইয়াই এক পক্ষীরাজে চড়িয়া বড়োকুমার ভাইদের কাছে গেলেন, -‘কেন রে ভাই! দাদাকে তোরা ভুলিয়া গিয়াছিলি? চল, এইবার দেশ ভ্রমণে যাইব।’ আট ভাই সাজসজ্জা করিয়া চরকটক সঙ্গে রাজপুরী হইতে বাহির হইলেন।

    ছাদের উপরে রাক্ষসী-রানি দেখে,—বড়ো বিপদ,—কুমার তো গেল! আছাড়ি-বিছাড়ি রাক্ষসী ঘরে গিয়া এক কৌটা খুলিল; কৌটার মধ্যে সুতাশঙ্খ সাপ। রাক্ষসী বলিল,—

    ‘সুতাশঙ্খ, সুতাশঙ্খ শাঁখের আওয়াজ!
    কুমারের আয়ু কীসে বল দেখি আজ?’

    সুতাশঙ্খ সুতার মতো ছোট্ট-সরু; কিন্তু আওয়াজ তার শঙ্খের মতো। সরু ফণা তুলিয়া শঙ্খের আওয়াজে সুতাশঙ্খ বলিল,—

    ‘তোর আয়ু কীসে রানি, মোর আয়ু কীসে?
    ডালিম কুমারের আয়ু ডালিমের বীজে।’

    রাক্ষসী বলিল,—

    ‘যাও ওরে সুতাশঙ্খ, বাতাসে করি ভর,—
    যম-যমুনার রাজ্য-শেষে পাশাবতীর ঘর!
    এই লিখন দিয়ো নিয়া পাশাবতীর ঠাঁই,
    সাত ছেলের তরে আমার সাত কন্যা চাই।
    রিপু অরি যায়, সুতা, চিবিয়ে খাবে তারে,
    সতিনের পুত যেন পাশা আনতে নারে।’

    লিখন নিয়া, সুতাশঙ্খ, বাতাসে ভর দিয়া গাছের উপর দিয়া দিয়া চলিল! রাক্ষসী, এক ডালিম হাতে, আবার মন্ত্র পড়িল-

    ‘পক্ষীরাজ, পক্ষীরাজ, উড়ে চলে যা,
    পাশাবতীর রাজ্যে গিয়া ঘাস জল খা।’

    মন্ত্র পড়িয়া রাক্ষসী তাড়াতাড়ি আসিয়া রাজপুরীর হাজার সিঁড়ির ধাপে উঠিয়া বলিল,—’সিঁড়ি, তুমি কার?’

    সিঁড়ি বলিল,—’যে যখন যায়, তার!’

    রাক্ষসী বলিল,—’তবে সিঁড়ি দু-ফাঁক হও, এই ডালিমের বীজ তোমার ফাটলে থাক।’ ডালিমের বীজ হাজার সিঁড়ির ধাপের নীচে জন্মের মতো বন্ধ হইয়া রহিল;-রাক্ষসী গিয়া নিশ্চিন্তে দুধ-ধবধব শয্যায় শুইয়া ঘুমাইয়া পড়িল।

    অমনি,—আট রাজপুত্র কোন বনের মধ্যে পড়িয়া ছিলেন, সেইখানে খটাস করিয়া বড়োকুমারের চোখ অন্ধ হইয়া গেল,—বড়োকুমার চিৎকার করিয়া উঠিলেন,—’ভাই রে! বিছার কামড়,—গেলাম গেলাম!’

    সূর্য ডুবিয়া গেল, চারিদিকে ঝড়বৃষ্টি, অন্ধকার-বনের মধ্যে কিছু দেখা যায় না, শোনা যায় না। বড়ো রাজকুমার কোথায় পড়িয়া রহিলেন, চরকটক কোথায় গেল-সাত রাজপুত্রের ঘোড়া ঝড়ের আগে ছুটিয়া চলিল।

    ২

    রাক্ষসী তো স্বপ্ন দেখে,—সুতাশঙ্খ এতক্ষণে যম-যমুনা দেশের ‘সে পার’! ওদিকে সুতাশঙ্খ সারাদিন গাছে গাছে চলিয়া, হয়রান; একখানে রাত্রি হইল, কে আর যায়? পরিপাটি রাজার বাগান,—বাগানের এক গাছের ফলের মধ্যে ঢুকিয়া, বেশ করিয়া কুণ্ডলী-মণ্ডলী পাকাইয়া, সুতা ঘুমাইয়া রহিল।

    রাজকন্যা রোজ সেই গাছের ফল খান। মালী নিত্যকার মতো ফল আনিয়া দিল; রাজকন্যা নিত্যকার মতো ফলটি খাইলেন।-ফলের সঙ্গে সুতাশঙ্খ, রাক্ষসীর লিখন, রাজকন্যার পেটে গেল।

    লিখন-টিখন ওসব কথা রাজপুত্রেরা কি জানে? উড়িয়া, ছুটিয়া, পক্ষীরাজেরা যে কোথা দিয়া কী করিয়া গেল, কেহই জানে না। একখানে গিয়া ভোর হইল; সকলে দেখেন,—দাদা নাই! ভাবিলেন, পাছে পড়িয়া গিয়াছেন! রাশ আলগা দিয়া সাত ভাই দাদার জন্য পক্ষীরাজ থামাইলেন।

    নাঃ,—দিন যায়, রাত যায়, দাদার দেখা নাই! তখন, এক ভাই বলিলেন,—’ঘোড়া যদি আগে গিয়া থাকে!’

    ‘ঠিক ঠিক!’ সকলে পক্ষীরাজ সামনে ছুটাইয়া দিলেন।

    মন্ত্রপড়া পক্ষীরাজ একেবারে পাশাবতীর পুরে গিয়া উপস্থিত!

    পাশাবতীর পুরে পাশাবতী দুয়ারে নিশান উড়াইয়া ঘর-কুঠরি সাজাইয়া, সাজিয়া, বসিয়া আছে। যে আসিয়া পাশা খেলিয়া হারাইতে পারিবে, আপনি, আপনার ছয় বোন নিয়া তাহাকে বরণ করিবে। রাজপুত্রদিগকে দেখিয়া পাশাবতী বলিল,—’কে তোমরা?’

    রাজপুত্রেরা বলিলেন,—’অমুক দেশের রাজপুত্র, দেশ ভ্রমণে আসিয়াছি।’

    পাশাবতী বলিল,—’না! দেখিয়া বোধ হয় যক্ষ রক্ষ।-তোমরা আমার পণ জানো?’

    ‘জানি না।’

    ‘আমার পাশার পণ।-দানব যক্ষ রক্ষ হইলে পরখ দেখিয়া নিব; মানুষ হইলে খেলিতে হইবে।

    যে দিনে সে মালা পায়,
    হারিলে মোদের পেটে যায়!’

    রাজপুত্রেরা বলিলেন,—’পরখ করো!’

    পাশাবতী লিখন দেখিতে চাহিল,—’দানব যক্ষ রক্ষ হইলে লিখন থাকিবে।’

    রাজপুত্রেরা বলিলেন,—’লিখন কীসের? লিখন নাই।’

    ‘তবে খেলো।’

    খেলিয়া রাজপুত্রেরা হারিয়ে গেলেন। পাশাবতীরা সাত বোনে সাত রাজপুত্র, পক্ষীরাজ সব কুচিকুচি করিয়া কাটিয়া হালুম হালুম করিয়া খাইয়ে ফেলিল। ফেলিয়া, আবার রূপসী মূর্তি ধরিয়া বসিয়া রহিল। রাক্ষসী-রানি স্বপ্ন দেখে কী, আর তার কপালে হইল কী! রাক্ষসীর মাথায় তখন টনক পড়িয়াছে কি না, কে জানে? যাক!

    ৩

    অন্ধ রাজকুমারকে পিঠে করিয়া পক্ষীরাজ ঝড়বৃষ্টি অন্ধকারে শূন্যের উপর দিয়া ছুটিতে ছুটিতে,—হাতের রাশ হারাইয়া রাজকুমার কখন কোথায় পড়িয়া গেলেন। পক্ষীরাজ এক পাহাড়ের উপরে পড়িয়া পাথর হইয়া রহিল।

    রাজকুমার যেখানে পড়িলেন, সে এক নগর! সেই নগরে রাজপুরীতে সন্ধ্যার পর লক্ষ কাড়া, লক্ষ সানাই, ঢাক-ঢোল সব বাজিয়া উঠে, ঘরে ঘরে চূড়ায় চূড়ায় পথে পথে মশাল জ্বলে, নিশান উড়ে, হইহই আনন্দের সাড়া পড়িয়া যায়।

    ভোরে সব চুপ! তারপর কেবল কান্নাকাটি, চিৎকার, হাহাকার, বুকে চাপড়, ছুটাছুটি-চোখের জলে দেশ ভাসে, শোকে রাজ্য আচ্ছন্ন হইয়া যায়।

    আবার, দুপুর বহিয়া গেলে, যখন রাজার হাতি সাজিয়া-গুজিয়া বাহির হয়, তখন রাজ্যের লোক নিশ্বাস ছাড়িয়া গিয়া খাওয়া-দাওয়া করে,—তাহার পর সমস্ত নগরের লোক পথে পথে সারি দিয়া দাঁড়ায়।

    পাট হাতি ছোটে, ছোটে,—একজনকে ধরিয়া, সিংহাসনে তুলিয়া নেয়-অমনি ঢাক-ঢোল বাজাইয়া শাঁকে ফুঁ দিয়া সিপাই, সান্ত্রি, মন্ত্রী, অমাত্য সকলে তুলিয়া-নেওয়া মানুষকে লইয়া গিয়া রাজ্যের রাজা করে। রাজকন্যার সঙ্গে তাঁহার বিবাহ হয়।-আবার আনন্দের হাট বসে।

    পরদিন দেখা যায় রাজকন্যার ঘরে কেবল হাড়গোড়; রাজার চিহ্নও নাই! এইরকমে কত রাজা হইল, কত রাজা গেল। কিন্তু রাজা না থাকিলে রাজ্য থাকে না; তাই নিত্য নূতন রাজা চাই! রাজকন্যা জানেন না, কেহই বুঝিতে পারে না, রাজাকে কীসে খায়!

    পাটহাতি ছুটিয়াছে। নগরে ‘সার সার’ সোর পড়িয়া গিয়াছে; সকলে চিৎকার করিতেছে, ‘পথ ছাড়ো, পথ ছাড়ো, কাতার দাও।’

    রাজকুমারের জ্ঞান হইয়াছে, শব্দ শুনিয়া রাজকুমার উঠিয়া বসিলেন,—কীসের পথ, কোথায় আসিয়াছেন, রাজপুত্র কিছুই জানেন না, কিছুই বুঝিতে পারিলেন না; রাজপুত্র থতমত খাইয়া রহিলেন।

    হাতি কাতারের কাহাকেও ছুঁইল না;-হু-হু করিয়া সকল পথ ছাড়াইয়া আসিয়া রাজপুত্রকে তুলিয়া সিংহাসনে বসাইল। রাজ্যের লোক ‘রাজা! রাজা!’ বলিয়া জয়-জয়কার দিয়া অন্ধ রাজকুমারকে নিয়া রাজা করিল।

    ধুমধাম, অভিষেক, জাঁকজমক, বিচার আচার, সভা, দরবার-সবশেষে রাত্রি-রাজার দেশে সব ঘুমাইয়াছে। নগরে শহরে সাড়াটি নাই, দুয়ার দরজায় পাহারা নাই-থাকিয়া কী হইবে? কাল যা হইবে সকলেই তো তা জানে, পাহারারা আর পাহারা দেয় না! রাজকন্যা ঘুমে বিভোর।

    সেই কালরাত্রে কেবল রাজকুমার জাগিয়া আছেন। ঘর বার নিঝুম, পৃথিবী সংসারে টুঁ শব্দ নাই,—পোকামাকড় পক্ষীটিও ডাকে না;-কাল নিশির কালঘুমে সব যেন ছাইয়া আছে।

    ঘরে প্রদীপ দপ দপ, রাজপুত্রের মন-ছব ছব; কোনোই সাড়া নাই-কোনোই শব্দ নাই।

    হঠাৎ ঘুমের মধ্যে রাজকন্যা চিৎকার করিয়া অজ্ঞান হইলেন; চিড়িক দিয়া ঘরে বিজলি জ্বলিয়া উঠিল, চড়চড় করিয়া দেওয়ালের গা ফাটিয়া গেল; চুরচুর ঝুরঝুর চারিদিকে ঝালর-পাত খসিয়া পড়িতে লাগিল।-রাজপুত্রের সকল গা কাঁটা-শক্ত করিয়া তরোয়ালের মুঠি ধরিয়া হাঁটু গাড়িয়া রাজকুমার বলিলেন, ‘কে?’ রাজপুত্র কিছুই দেখিতে পান না; ঘরের আলো, বিদ্যুতের চমক,—রাজকন্যার শরীর কাঠের মতো শক্ত,—রাজকন্যার নাকের ভিতর হইতে সরু-মিহি-চুলের মতো সাপ বাহির হইল! সেই চুল দেখিতে দেখিতে সুতা-দড়া,—কাছি, তারপর প্রকাণ্ড অজগর! শঙ্খের মতো আওয়াজে সেই অজগর গর্জিয়া উঠিল।

    পুরী থরথর কাঁপে! হাতের তরোয়াল ঝনঝন-রাজপুত্র হাঁকিলেন-‘জানি না,—যে হও তুমি, রক্ষ যক্ষ দানব!-যদি রাজপুত্র হই, যদি নিষ্পাপ শরীর হয়, দৃষ্টির আড়ালে তরোয়াল ঘুরাইলাম, এই তরোয়াল তোমাকে ছুঁইবে!’

    বলা আর কহা,—সুতাশঙ্খ বত্রিশ ফণা ছড়াইয়া বিষদাঁতে আগুন ছুটাইয়া লকলক করিয়া উঠিয়াছে,—রাজপুত্রের তরোয়াল ঝ-ঝনঝন শব্দে ঘরের ঝাড়বাতি চূর্ণ করিয়া সুতাশঙ্খের বত্রিশ ফণায় গিয়া লাগিল! অমনি রাজপুত্র দেখেন,—সাপ! ঘরময় বিদ্যুতের ধাঁধাঁ, চারিদিকে ধোঁয়া!-রাজপুত্র শনশন তরোয়াল ঘুরাইয়া বলিলেন,—’চক্ষু পাইলাম!’ তরোয়ালে অজগর সাত খণ্ড হইয়া কাটিয়া গেল; সেই নিশিতে রাক্ষসী-রানির পুরীতে ধ-ধ্বড় ধ্বড় শব্দে হাজার সিঁড়ির ধাপ ধ্বসিয়া গেল, রাজকুমারের আয়ু সহস্রডাল সোনার ডালিম গাছ হইয়া গজাইয়া উঠিল। রাজপুরীতে ভূমিকম্প-গুড়গুড় দুড়দুড় শব্দ! ভয়ে রাক্ষসী ইঁদুর হইয়া ‘চিঁচিঁ’ করিতে করিতে ছুটিয়া পলাইয়া গেল। রানির শরীর আবার মূর্ছা গিয়া পড়িয়া রহিল। রাজ্যে রাজপুরীতে হাহাকার,—’এ সব কী!’

    রাত-রাজার রাজ্যে লোক নিত্যকার মতো কাঁদিতে কাঁদিতে আসিয়াছে- দেখে-ধন্য! ধন্য!-রাজা! রাজা আজ জীয়ন্ত! লোকের আনন্দ ধরে না! দেখে হাজারো ফণা সাত কুচি সাপ-মেজেতে পড়িয়া! ‘কী সর্বনাশ!’-সকলে বুঝিল, এই সাপে এতদিন এত রাজা খাইয়াছে!-‘সাপকে পোড়াও।’

    পোড়াইতে গিয়া, সাপের পেটে লিখন! লিখন রাজার কাছে আসিল। পড়িয়া রাজপুত্র বলিলেন,—’রাজকন্যা! আর তো আমি থাকিতে পারি না-আমার সাত ভাই বুঝি রাক্ষসের পেটে গিয়াছে!-আমি চলিলাম!’ রাজ্যের লোক মঃনক্ষুণ্ণ- ‘শেষে এক রাজা পাইলাম, তিনিও কোথায় চলিলেন।’ রাজা কবে ফিরিবেন,—সকলে পথ চাহিয়া রহিল।

    ডালিমকুমার যাইতেছেন, যাইতেছেন, এক পাহাড়ে উঠিয়া দেখেন পক্ষীরাজ। ছুঁইতেই আবার প্রাণ পাইয়া পক্ষীরাজ, ‘চিঁহি হিঁ!’ করিয়া উঠিল। রাজপুত্র বলিলেন,—’পক্ষীরাজ, এইবার চলো।’

    যম-যমুনার দেশ-অন্ধকার গায়ে ঠেকে, বাতাসে পাথর উড়ে, রাজপুত্র কিছুই মানিলেন না-‘ঝড়ের গতি কোন ছার, পক্ষীরাজে আসন যার।’ তির-বজ্রের মতো পক্ষীরাজ ছুটিয়া চলিল।

    কতক দূরে গিয়া কড়ির পাহাড়। কড়ির পাহাড়ে পক্ষীরাজের পা চলে না; ছটছট রটারট শব্দ। রাজপুত্র বলিলেন,—’পক্ষী! থামিয়ো না; ছুটে চলো।’ পক্ষীরাজ তির-বজ্রের গতি-সারারাত্রি পায়ের নীচে কড়ির পাহাড় চূর হইয়া গেল।

    তার পরেই হাড়ের পাহাড়। হাড়ের পাহাড়ের নীচে কলকল শব্দে রক্ত-নদীর জল তোড়ে ছুটিয়াছে; রক্তের তরঙ্গ, রক্তের ঢেউ! দাঁত বাহির করিয়া মড়ার মুণ্ড ‘হি! হি!’ করিয়া উঠে, হাড়ে হাড়ে কটাকট খটাখট শব্দ,—কান পাতা যায় না। রাজপুত্র বলিলেন,—’পক্ষী! ভয় নাই, চোখ বুজিয়া চলো।’ পায়ের নীচে হাড়ের পাহাড় খট খট খটাং, ছর-র-র-র-ছট ছট শব্দে তুষ হইয়া গেল। তখন রাত্রি পোহাইল, রাজপুত্র দেখেন, দূরে পাশাবতীর পুর।

    পাশাবতীর পুরে ফটকে নিশান; নিশানে লেখা আছে,—

    ‘পাশা খেলিয়া যে হারাইবে, সাত বোনে মালা দিব!’

    রাজপুত্র হাঁকিলেন,—’পাশা খেলিব!’

    খেলিতে বসিয়া রাজপুত্র চমকিয়া গেলেন,—এ পাশা তো তাঁরই! খেলিতে গিয়া রাজপুত্র হারিয়া গেলেন,—দেখেন, এক ইঁদুর পাশা উলটাইয়া দেয়। আনমন রাজপুত্র বসিয়া ভাবিতে লাগিলেন। পাশাবতী বলিল,—’রাজপুত্র! পণ ফেলো।’

    -‘পক্ষীরাজ নাও; কাল আবার খেলিব।’ বলিয়া রাজপুত্র উঠিয়া গেলেন। পাশাবতীরা তখনি পক্ষীরাজকে গরাসে গরাসে খাইয়া ফেলিল।

    পরদিন এক গ্রামের মধ্যে গিয়া রাজপুত্র এক বিড়ালের ছানা নিয়া আসিলেন। বলিলেন,—’এসো, আজ খেলিব।’

    খেলিতে বসিয়াছেন-আজ ইঁদুর আসে আসে করে, আসে না-কী যেন দেখিয়া পলায়।

    রাজপুত্র দান ফেলিলেন-

    ‘এই হাতে ছিলে পাশা, পুনু এলে হাতে,—

    এত দিন ছিলে পাশা-কার দুধ-ভাতে?’

    আর দান পড়ে। পলক ফেলিতে-না-ফেলিতে পাশাবতী হারিয়া গেল। রাজপুত্র বলিলেন,—’আমার পক্ষীরাজ দাও।’

    রাক্ষসী পক্ষীরাজ দিল।

    আবার খেলা। রাক্ষসী আবার হারিল; রাজপুত্র বলিলেন,—’আমার ঘোড়ার মতো ঘোড়া, আমার মতো রাজপুত্র দাও।’ পাশাবতী এক রাজপুত্র এক ঘোড়া আনিয়া দিল; রাজপুত্র দেখেন, ভাই; ভাইয়ের ঘোড়া! রাজপুত্র আবার খেলিলেন। খেলিতে খেলিতে রাজপুত্র-সাত ভাই, সাত ভাইয়ের ঘোড়া, পাশাবতীর রাজ-রাজত্ব ঘর পুরী সব জিতিলেন। শেষে বলিলেন,—’এখন কী দিবে? এই পাশা আর ইঁদুর দাও।’ পাশাবতী কি পাশা অমনি দেয়?-তখন রাজপুত্র বিড়ালের ছানা ছাড়িয়া দিলেন,—বিড়াল গড়গড় করিয়া ইঁদুরকে ধরিয়া ছিঁড়িয়া খাইয়া ফেলিল। ঘরের প্রদীপ নিবিয়া গেল, রাজ-রাজত্ব কোথায় সব? হাতের পাশা হাতে, রাজপুত্র দেখেন-সাত পাশাবতী সাত কেঁচো হইয়া মরিয়া রহিয়াছে!

    পাশা বলিল,—’কুমার, কুমার ঘরে চলো।’

    আট রাজপুত্র আট পক্ষীরাজ হু-হু করিয়া ছুটাইয়া দিলেন।

    রাজপুরীতে রানি উঠিয়া বসিয়াছেন,—’কতকাল ঘুমাইয়াছি!-আমার কুমার কই?’

    ‘কুমার কই!’-চারিদিকে জয়ঢাক বাজে, পথের ধুলায় অন্ধকার-আট রাজপুত্র আট পক্ষীরাজের সারি দিয়া রাজ্যে ফিরিয়াছেন। কুমার আসিয়া বলিলেন,—’মা কই, মা কই?’-আট রাজপুত্র রানিকে ঘিরিয়া প্রণাম করিলেন। শূন্য পুরীতে আবার সোনার হাট মিলিল।

    ‘ভাইদের খোঁজে কবে গিয়াছেন, সবে-জীয়ন্ত এক রাজা আমাদের, আজও ফিরেন না।’ খুঁজিয়া খুঁজিয়া রাত-রাজার দেশের যত লোক আসিয়া দেখিল,—’আমাদের রাজা এইখানে!’ তখন রাজকন্যা রাজপাট তুলিয়া সেইখানে নিয়া আসিলেন।

    সকল দেখিয়া রাজা অবাক!

    পরদিন ভোর বেলা সোনার ডালিম গাছে হাজার ফুল ফুটিয়া উঠিয়াছে;- আর দুপুর বেলা রাজপুরীর তাল গাছটা, কিছুর মধ্যে কিছু না, শিকড় ছিড়িঁয়া দুম করিয়া পড়িয়া, ফাটিয়া চৌচির হইয়া গেল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমায়া, আজটেক ও ইনকা সভ্যতা – আবদুল হালিম

    Related Articles

    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার

    ঠাকুরমার ঝুলি – দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার

    August 25, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ঠাকুরমার ঝুলি – দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার

    March 20, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ঠাকুরমার ঝুলি – দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার

    March 20, 2026
    Our Picks

    ঠাকুরমার ঝুলি – দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার

    March 20, 2026

    মায়া, আজটেক ও ইনকা সভ্যতা – আবদুল হালিম

    March 20, 2026

    কালীগুণীন ত্রাহিমাম – সৌমিক দে

    March 20, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }