Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    বিষ্ণুলোকে সন্ধ্যা নামে – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    March 20, 2026

    ঠাকুরমার ঝুলি – দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার

    March 20, 2026

    মায়া, আজটেক ও ইনকা সভ্যতা – আবদুল হালিম

    March 20, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ঠাকুরমার ঝুলি – দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার

    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার এক পাতা গল্প127 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    দেড় আঙুলে

    ১

    এক কাঠুরিয়া। ছেলে হয় না পিলে হয় না, সকলে ‘আঁটকুড়ে আঁটকুড়ে’ বলিয়া গালি দেয়, কাঠুরিয়া মনের দুঃখে থাকে।

    কাঠুরিয়া বউ আচারনিয়ম ব্রত উপোস করে, মা-ষষ্ঠীর তলায় হত্যা দেয়-‘জন্মে জন্মে, কত পাপই অর্জে ছিলাম মা, কাচ্চা হোক বাচ্চা হোক অভাগির কোলে একটা কিছু দে মা, ভিটে বাতির নিদর্শন থাক।’

    কাঁদিতে কাঁদিতে-মা ষষ্ঠী এক রাতে স্বপন দিলেন,—’উঠ লো উঠ,
    তেল সিঁদুরে নাবি ধুবি, শশা পাবি শশা খাবি
    কোলে পাবি সোনার পুত বুকজুড়ানো মানিকটুক।’

    কাঁচা পোয়াতির ঘুম ভাঙে নাই, কাকপক্ষী মাটি ছোঁয় নাই, ভোর জ্যোছনায়, এক কপাল সিঁদূর আঁজলপূরা তেল মাথায় দিয়া কাঠুরেবউ ষষ্ঠীমার ঘাটে নাইয়া ধুইয়া ডুব দিয়া আসিল।

    আদেশ হইয়াছে, আর কি! ‘শশা যদি পাস শশা খাস’ বলিয়া, মনের আনন্দে কাঠুরিয়া কাঠ কাটিতে বনে গেল।

    বনে ঝরনার পাড়ে এক-শো বচ্ছুরে খুনখুনে এক একরত্তি বুড়ি! ‘কে বাছা আঁটকুড়ে কাঠুরিয়া? চক্ষেও দেখিনি মক্ষেও দেখিনি ছাই,—এই নে বাছা, এইটে নিয়ে বউকে দিস, কিছু যেন ফেলে না, সাত দিন পরে যেন খায়, চাঁদপানা টলটল হাতি হেন ছেলেটা-কোলজোড়া-ঘর আলো করবে।’ এতটুকু এক থলে খুলিয়া ছোট্ট এক শশা কাঠুরের হাত দিয়া গুটিগুটি বনের মধ্যে চলিয়া গেল।

    আর কাঠ কাটা!-এক দৌড়ে কাঠুরিয়া বাড়ি,—’ও অভাগি আঁটকুড়ি!-এই দেখ, এই নে হাতে-পাতে মা ষষ্ঠীর বর! আজ যেন খাসনি, সিকায় তুলে রাখ, সাত দিন পরে খাবি।’ মনের আহ্লাদে তিন খাবল তেল মাথায় দিয়া কাঠুরিয়া নাইতে গেল। কিছু যে ফেলিতে মানা, মনের ভুলে কাঠুরিয়া তা বলিয়া গেল না।

    ‘সাত দিন না সাত দিন!’ মা ষষ্ঠী বলেছেন,—’শশা পাবি শশা খাবি। হাতে পায়ে জল দিয়া ‘মা ষষ্ঠী, মা ষষ্ঠী’ নাম নিয়া, কাঠুরেবউ বোঁটা-সোটা ফেলিয়া কপালে কন্ঠায় ছোঁয়াইয়া কুচমুচ শশাটি খাইয়া ফেলিল।

    নাইয়া দাইয়া আসিয়া কাঠুরিয়া দাওয়ায় বসিবে, দেখে শশার বোঁটাটা!-‘ও সর্বনাশি!’-শশা তো খাইয়াছে!-‘আ অভাগী কুলোকানি!-করেছিস কী রাক্ষসী!-খেলি তো খেলি, বোঁটা কেন ফেললি! শিগগির তুলে খা!’

    ‘ওমা-কী হয়েছে?’ থতমত কাঠুরেবউ বোঁটা তুলিয়া খাইল। গালে মাথায় চাপড় দিয়া কাঠুরিয়া ভাতের থাল ছুড়িয়া ফেলিল।

    ২

    আর কীসে কী!-এত ধরনা, এত করনা, কাঠুরেবউয়ের যে ছেলে হইল-ও মা!-‘জন্মিতে জন্মিতে বুড়ির চুল দাড়ি আঠারো কুড়ি। এক দেড় আঙুলে ছেলে, তার তিন আঙুলে টিকি!

    ‘না বলতে শশা খেলি, বুড়ির শাপে পাতাল গেলি!’ দুই চক্ষু কপালে তুলিয়া রাগিয়া-মাগিয়া দড়িকুড়াল নিয়া কাঠুরিয়া একদিকে চলিয়া যায়!-‘সাত দিন পরে খেলে হাতির মতন ছেলে হইত, বোঁটাটা হাতির শুঁড় হইত!-তা নয়,—হয়েছেন এক টিকটিকি, -বোঁটা হয়েছেন তিন আঙুলে এক টিকি-এক বিঘত ধানের চৌদ্দ বিঘত চাল।’

    কাঠুরেবউ তো ডুকরিয়া কাঁদিয়া উঠিল।

    ‘ওঙা, ওঙা!’ ছেলে কাঁদে, কে নেয় কোলে, কে করে যতন, কাঠুরে তো গেলই, কাঠুরেবউ নদীর জলে ঝাঁপ দিয়া মরিতে চলিল-‘দিলি দিলি এমন দিলি! মা ষষ্ঠী, তোর মনে এই ছিল!’

    আঙুল চুষিয়া দেড় আঙুলে ছেলে খাড়া হইল! দৌড়িয়া গিয়া তিন আঙুলে টিকি দিয়া মায়ের পা জড়াইয়া ধরিয়া বলিল,—’মা, মা! যাসনি, আমায় একটু দুধ দে।’

    ‘মা!-জন্মিয়াই ছেলে কথা কয়! সামান্যি তো নয় মা, সামান্যি তো নয়!’ চোখের জল মুছিয়া ‘ষাঠ ষাঠ’ ধুলা ঝাড়িয়া কাঠুরেবউ ছেলে তুলিয়া কোলে নিল।

    পেট ভরিয়া দুধ খাইয়া দেড় আঙুলে বলিল,—’মা, এখন নামিয়ে দে, বাবাকে নিয়ে আসি!’

    ৩

    বাবা কোন রাজ্যে কোথায় গেছে, তুরতুর করিয়া দেড় আঙুলে পথ-ঘাট ছাড়ায়। পিঁপড়ে আসে, গুবরে আসে, ফড়িং যায়-দেড় আঙুলের সঙ্গে কেউ পারে না; দেড় আঙুলে হটিং হটিং করিয়া হাঁটে, ফটিং ফটিং করিয়া নাচে। হাঁটিতে হাঁটিতে, নাচিতে নাচিতে এক রাজার বাড়ির কাছে গিয়া দেড় আঙুলে দেখে, ঠা ঠা রৌদ্রে মাথার ঘাম পায়ে, তার বাবা, কাঠ কাটিতেছে।

    দেড় আঙুলে বলিল,—’বাবা, আমায় ফেলে এলি কেন?-বাড়ি চল। মা কত কাঁদছে।’

    কাঠুরে অবাক!-ছেলে তো সামান্য নয়!-বুকে তুলিয়া চুমা খাইয়া বলিল,— ‘বাপ আমার সোনা, কী করে যাই, রাজার কাছে আপনা বেচেছি।’

    দেড় আঙুলে রাজার কাছে গেল।

    ‘রাজামশাই, রাজামশাই, রাজ-রাজ্যের কাঠ কাটে কে?’

    রাজা-‘কে রে তুই?-কাঠ কাটে অচিন দেশের নচিন কাঠুরে।’

    দেড় আঙুলে,—’কাঠুরেটি কোথায় থাকে?

    কাঠুরেটি দাও না মোকে।’

    রাজা,—’নিয়ে এল হাটুরে, কড়ি দিয়ে কিনলাম কাঠুরে-

    ব্যাটা বড়ো মস্তকী, সেই কাঠুরে তোরে দি।’

    দেড় আঙুলে বলিল,—’তবে কী?’

    রাজা,—’নিয়ে এসে কড়ি,

    তবে আসিস রাজ-রাজড়ার পুরী।’

    শুনিয়া, দেড় আঙুলে গিয়া বলিল,—’বাবা, তুমি কিছু ভেবো না, আমি দেখি, কড়ি আনতে চললাম।’

    ৪

    ভাঁটার মতন ছোটে, কুতুর কুতুর হাঁটে-একখানে আসিয়া দেড় আঙুলে দেখিল, এক খাল। কেমন করিয়া পার হইবে? বসিয়া বসিয়া দেড় আঙুলে ভাবিতে লাগিল।

    পিছনে, টিকিতে ইয়া এক টান!-‘হেই দেড় আঙুলে মানুষ তিন আঙুলে টিকি! তুই কে রে?’ টিকির টানে চিৎপটাং, তিন গড়াগড়ি দিয়া উঠিয়া চটিয়া-মটিয়া দেড় আঙুলে বলিল,—’আমি যে হই সে হই, তুই ব্যাটা কে রে?’

    ব্যাং বলিল,—’ব্যাং রাজার রাজপুত্তুর রংসুন্দর ব্যাং।’

    দেড় আঙুলে বলিল,—’তোর নাক কাটব কান কাটব,
    কাটব দুটো ঠ্যাং।’

    ব্যাং ‘হো হা’ করিয়া হাসিয়া ফেলিল,—

    ‘টিং টিঙা টিং টিঙা! কাটবি কি তুই ঝিঙা।
    নাকও নাই, কানও নাই, ঘ্যাঙর ঘ্যাং ঘিঙা।’

    বলিয়া ব্যাং নাচিতে লাগিল। দেড় আঙুলে বড়োই ঠকিয়া গেল।

    নাচিয়া-নুচিয়া ব্যাং বলিল-‘ভাই, তুই কী রে?’

    ‘কাঠুরে।’

    ‘তবে তোর কুড়ুল কই রে?’

    ‘নাই রে!’

    ‘দুয়ো!-উতুরে এক কামার আছে, এক কড়া কড়ি দিয়া কুড়ুল নিয়া আয়।’

    দেড় আঙুলে বলিল,—’না ভাই, আমি কড়ি কোথায় পাব? কড়ি নাই বলেই তো বাবাকে আনতে পারলেম না। আমি ছোটো ছেলেমানুষ, আমার কিছু আছে কিনা! তোর থাকে তো ধার দে না ভাই?’

    ‘ও বাবা!’-ব্যাং চমকিয়া উঠিল-‘আমার মোটে কানা এক কড়ি, তাই তোমাকে দি!-ঘ্যাংঙ ঘ্যাংঙর ঘ্যাং।’-লাফে লাফে ব্যাং চলিয়া যায়।-‘তা যদি কুড়ুল আনিস তো-‘

    দেড় আঙুলে বলিল,—’আচ্ছা,—কুড়ুল-কোন পথে বলিয়া দে।’

    ‘তবে যা!’

    পথের কথা বলিয়া দিয়া ব্যাং কচুর পাতার নীচে বসিয়া রহিল।

    একখানে এক ছোট্ট ঘর, তারই মধ্যে এক আড়াই আঙুলে কামার তিন আঙুল দাড়ি নাড়িয়া এক পৌনে আঙুল কুড়াল আর এক কাস্তে গড়িতেছে। কড়ি নাই ফড়ি নাই, কী দিয়া কী করে!-তা কুড়ুল না নিলেও তো নয়! চুপটি চুপটি, আড়াই আঙুলে কামারের পিছনে গিয়া, দাড়ির সঙ্গে টিকিটি বাঁধিয়া দিয়া দেড় আঙুলে ‘চ্যাঁ ম্যাঁ’ করিয়া চেঁচাইয়া একলাফে একেবারে আড়াই আঙুলের ঘাড়ে।

    ‘আ-আ আঃম! রাম রাম-দুগগা!-দুগগা! দুগগা!’ বুড়া ছিটকাইয়া উঠিয়া ডরে ঠি ঠি করিয়া কাঁপে। কী না কী,—ভূত না প্রেত!

    হাসিতে হাসিতে পেট ফাটে, হাসিতে হাসিতে গলিয়া পড়ে, নামিয়া আসিয়া দেড় আঙুলে বলিল,—’কামার ভাই, কামার ভাই; ডরিয়ো না, তোমার সঙ্গে মিতালি!’

    মিতালি আর ফিতালি-আড়াই আঙুলে খুব রাগিয়া গিয়াছে, বলিল,—’কে রে তুই, ঘরে যে উঠিয়াছিস, কড়ি এনেছিস?’

    ও বাবা! সকলেই কড়ি!-‘সে কী ভাই, কড়া কড়ি আবার কীসের?’

    ‘আমার ঘরে উঠলেই কড়ি!’

    ‘তবে ভাই টিকি খুলিয়া দাও, আমি যাই!’

    আড়াই আঙুলে টিকি খুলিতে খুলিতে টিকির এক চুল ছিঁড়িয়া গেল। চোখ রক্ত করিয়া তখন দেড় আঙুলে বলিল,—’এইও বড়ো! আমার টিকি ছিঁড়লি যে!-এইবার কড়ি ফেল।’

    কামার বুড়ো ভ্যাবাচাকা; বলিল,—’অ্যাঁ-অ্যাঁ-তা ভাই, কড়ির বদল কী নিবে নাও।’

    তখন দেড় আঙুলে কড়ির বদলে কুড়ুলটি চাহিয়া, বলিল,—’আজ থেকে তোমায় আমায় মিতালি।’

    কুড়ুল আনিলে ব্যাং বলিল,—’ভাই দেড় আঙুলে, আমি ব্যাং-রাজার ব্যাং রাজপুত্র, এক কুনোব্যাঙি বিয়ে করেছিলাম, তাই বাবা আমাকে বনবাস দিলেন। আমার কুনোরানি ওই ভেরেণ্ডা গাছে লাউয়ের খোলসের মধ্যে,—তার সঙ্গে আর কিছুই নাই, কেবল এক ঘাসের চাপাটি আর এক সাতনলা আছে। তুমি ভাই গাছটা কাটিয়া আমার কুনোরানিকে পাড়িয়া দাও।’

    বলতে-না-বলতে পৌনে আঙুল কুড়ুল ঠকাঠক! দেখিতে দেখিতে হড়মড় করিয়া গাছ পড়িল।

    খোলসটি কিনা মস্ত বড়ো উঁচু? হাঁ করিয়া খাড়া হইয়া রহিল! টানিয়া-টুনিয়া ব্যাং বলিল,—’ভাই, এত করিলে অত করিলে, সব মিছা!’ চক্ষের জলে ব্যাঙের বুক ভাসে।

    দেড় আঙুলে বলিল,—’রও! চটপট ডালের উপর উঠিয়া চিৎ হইয়া, টিকিটি খোলসের মুখে ঝুলাইয়া দিয়া বলিল,—

    ‘কুনোরানি, কুনোরানি জেগে আছ কি?
    শক্ত করে ধরে উঠো, সিঁড়ি দিয়েছি।’

    টিকি ধরিয়া কুনোরানি উঠিয়া আসিল!

    ব্যাং বলিল,—’ভাই, ভাই, আমার কানা কড়িটি নাও। এইটি দিয়ে তোমার বাপকে কিনিয়া নিয়ো।’

    কুনোরানি বলিল,—’রাজার জামাই দেড় আঙুলে, আমার এই থুথুটুকু নাও, রাজার কানা রাজকন্যা-ইহাই নিয়া রাজকন্যার কানা চোখ ফুটাইয়ো!’

    সাতনলা আর খোলসটি বলিল,—

    ‘রাজার জামাই দেড় আঙুলে সাবাস সিপাহি
    মোদের নাও সাথে করে পাবে রাজার ঝি।’

    সব নিয়া দেড় আঙুলে বলিল,—’এখন ভাই আসি?’

    ৫

    আবার হটিং হটিং, আবার ফটিং ফটিং; রাজার কাছে গিয়া দেড় আঙুলে হাঁক ছাড়িল,—

    ‘রাজামশাই, রাজামশাই কড়ি গুণে নাও,
    আপন কড়ি বুঝো পড়ো; কাঠুরেটি দাও।’

    রাজা কড়ি গুণে, বুঝে নিয়ে,—টিকিতে তিন টান, দুই গালে দুই চাপড়, দেড় আঙুলকে খেদাইয়া দিলেন,—

    ‘তেরো নদীর পারে আছে সাত চোরের থানা,
    তারি কাছে দিব বিয়ে রাজকন্যা কানা।
    সেই চোরদিগে আগে নিয়ে এসে, কথা ক।’

    দেড় আঙুলে আবার ব্যাঙের কাছে গেল,—

    ‘রংসুন্দর রাজপুত্তুর কোথায় আছ ভাই!
    তেরো নদী পার হব, দুটো কড়ি চাই।’

    ব্যাঙের তখন মেলাই কড়ি; বলিতে-না-বলিতে ব্যাং কড়ি আনিয়া দিল। দুই কড়ির এক কড়ি দিয়া দেড় আঙুলে তেরো নদী পার হইয়া, কোথায় সাত চোর, তাদের খোঁজে চলিতে লাগিল!

    সারাদিন খুঁজিয়া পাইল না,—অনেক দূরে এক উইয়ের ঢিপির কাছে গিয়া সন্ধ্যা। সারাটি দিন খায় নাই, আজও বাবাকে পায় নাই; গা অলস, মন অবশ, উইয়ের ঢিপির তলে কুড়ুল শিয়রে দিয়া দেড় আঙুলে শুইতে শুইতেই ঘুমাইয়া পড়িল।

    অনেক রাত্রে, সাত চোর তো নয়,—সাড়ে সাত চোর সেইখান দিয়া চুরি করিতে যায়। অন্ধকারে কিছু দেখে না, সাড়ে সাত চোরের আধখানা চোর ছোটো চোরের পা দেড় আঙুলের ঘাড়ে পড়িল; ধড়মড় উঠিয়া দেড় আঙুলে চোরের পায়ে কুড়ুলের এক কোপ।-‘কে রে ব্যাটা নিমকানা, চলেন তিনি পথ দেখেন না।’

    ছোটো চোর হাঁউ হাঁউ করিয়া চেঁচাইয়া তিন লাফে সরিয়া গেল; সকল চোর অবাক,—জন নাই প্রাণী নাই, মাটির নীচে কথা! ‘দোহাই বাবা দৈত্য দানা, ঘাট হয়েছে, আর হবে না।’

    শুনিয়া দেড় আঙুলে বড়ো খুশি হইল, বলিল,—’যাক ভাই, যাক ভাই-তা ভাই, তোরা কে রে?’

    সাড়ে সাত চোর বলে,—’আমরা সাড়ে সাত চোর,—
    মাটি ফুঁড়ে কথা কও, তুমি তো ভাই কম নও,
    তুমি ভাই কে?’

    ‘আমি ভাই, মানুষ,—এই যে আমি, এই যে!-তোমরা ভাই, কোথা যাচ্ছ ভাই?’

    উঁকি ঝুঁকি, হাতাড়ি পিতাড়ি-শেষে ছোট্ট চোর দেখে-ও বাব্বা-এক একটুখানি দেড় আঙুলে, তার আবার কুড়ুল হাতে! হাত তুলিয়া চোখের কাছে নিয়া দেখে,—ওঁম্মা!-

    তিনি আবার টিকি ফরফর তিন ভঙ্গি রাগে গরগর-
    টিকির আগে ভোমরা, ইনি আবার কোন দেশি চ্যাংড়া?

    হো-হো! হি-হি! হু-হু! হা-হা! হে-হে! হইহই! হউহউ!-ঃহ ঃহ। সাড়ে সাত চোরে যে হাসি। গলিয়া ঢলিয়া গড়া-গড়ি!

    শেষে কোনোমতে তো হাসি থামুক; চোরেরা বলিল,—’চল রে চল আড়াইয়ের বাড়িতে যাই।’

    দেড় আঙুলে জিজ্ঞাসা করিল,—’আড়াইয়ে কে ভাই?’

    ‘তুই হলি দেড়কো, তুই জানিস নে? ওপারে আড়াইয়ে এক কামার আছে, সাড়ে সাতটা সিঁধকাটি দিবে, ব্যাটা রোজ ফাঁকি দেয়, আজ সেই বুড়োকে দেখাব।’

    দেড় আঙুলে দেখিল,—ওরে! তাঁর সঙ্গে আমার মিতালি, তারি ঘরে সিঁদ দেবে? বলিল,—

    ‘ও ভাই! সে বাড়ি যাসনি,
    সে বাড়িতে আছে শাকচুন্নি;
    ঘাড়টি ভেঙে রক্ত খাবে,
    সাড়ে সাত গুষ্টি এক্কেবারে যাবে।

    তা তো নয়, রাজকন্যা বিয়ে করিস তো, রাজার বাড়ি চল।’

    চোরেরা ‘হি হি হি! হে হে হে! হৈ হৈ হৈ! সে তা ভালোই, সে তো ভালোই!’ তা রাজার জামাই হবে, তারা কি যে-সে! গোঁফে তা, গায়ে মোড়ান-চোড়ান, বলিল,—’তা

    যেখানে যেতে উথাল পাতাল তেরো নদীর জল।’

    দেড় আঙুলে বলিল,—’কেন, এই যে ওপার যাচ্ছিলি!’

    ‘যাচ্ছিলুম তো যাচ্ছিলুম, করতে যেতুম চুরি,—
    রাজার জামাই হব, তাও দিয়ে আপন কড়ি?’

    দেড় আঙুলে বলিল,—’আচ্ছা, একটা কড়ি আছে, নিয়ে চল!’

    কড়ি নিয়া ভারি খুশি সাড়ে সাত চোর নদীর পাড়ে গিয়া ডাকিল,—

    ‘হেই হেই পাটনি! রাত জাগা খাটুনি,—
    করবি পার পাবি কড়ি তাতে কেন গড়িমড়ি?-
    পাটনি না পাটুড়ি বজ্জর বাঁধের আঁটুনি।
    কানা কড়ির আশটা কানা কড়ির বাসটা
    রাজবাড়ির মাছটা বিড়ালে খায়,
    হেদে হেদে পাটনি, ঝটপট পার করে নে ভাঙা নায়!’

    কড়ি নিয়া, পাটনি ভাঙা নায়ে করিয়া পার করিয়া দিল।

    নামিবার সময় চোরেরা আবার কড়িটি চুরি করিয়া নিল।

    দেড় আঙুলে বলিল,—’না ভাই, কড়ি ফিরিয়ে দিয়ে এসো।’

    ‘হুঁ! দিব না তো কি, সাত হাঁড়ি ঘি!’ চোরেরা মুখটা নাড়া দিয়া উঠিল।

    দেড় আঙুলে আর কিছুই বলিল না।

    যাইতে যাইতে রাজার বাড়ি। দেড় আঙুলে গিয়া রাজার দুয়ারে ঘা দিল,—

    ‘রাজামশাই, রাজামশাই, খাট পালঙ্ক ছাড়,
    পার হয়ে না দেয় পারের কড়ি, কেমনে ঘুম পাড়?’

    চোরেরা থরথর কাঁপে। রাজা বলিলেন,—’কে! পারের কড়ি না দেয়, তারে শূলে চড়িয়ে দে।’ সাড়ে সাত চোর শূলে গেল।

    ‘শূলে গেল কি সাত চোরেরা? হায়! হায়! হায়!’ রাজা কাঁদেন, রানি কাঁদেন, কানা কন্যা কাঁদেন, দেড় আঙুলে বলিল,—’চোর তো আমি এনে দিয়েইছিলাম, তা রাজকন্যার বর হবে, না, আপন দোষে শূলে গেল,—তার আমি জানি কী? রাজামশাই, কাঠুরে দাও!’

    ‘কীরে!-বারে বারে ভ্যানভ্যান বারে বারে ঘ্যানঘ্যান!
    দে তো নিয়ে খুদেটাকে চোরেদের সঙ্গে!’

    ফুট!-দেড় আঙুলকে কেউ খুঁজিয়াই পাইল না।

    চোরের রাজ্যে, চোরের রাজা, সাড়ে সাত চোরের শূলের কথা শুনিল। নায়ে নায়ে ভরা দিয়ে যত রাজ্যের চোর আসিয়া রাজার রাজপুরীময় চুরি আরম্ভ করিল। সিপাহি সান্ত্রি ধোঁকা, রাজা হলেন বোকা!-নিতে নিতে-

    চাটি নিল বাটি নিল, সব নিল চোরে,
    মাটি পেতে পান্তা খান, রাজা মনে মনে পুড়ে।

    তখন,—’চোরের বাদী সেই খুদে, তারে এখন এনে দে!’

    কোথায় বা খুদে, কোথা খুঁজিয়া পায়! দেড় আঙুলে ঘাসবন থেকে হাসিতে হাসিতে আসিয়া বলিল,—’রাজামশাই, রাজামশাই,
    এত এত সিপাই চোরের কাছে টিপাই;
    আমার কাছে ঘুরসুড়নি এমন সিপাই জন্মেওনি।
    তা যদি বল তো সব চোর তাড়িয়ে দি!’

    ‘আচ্ছা, কী চাও?’

    ‘রাজকন্যা চাই।’

    ‘ইস কথা দেখ!-আর কী?’

    ‘পুরীর রাজা হুলো বেড়ালটি।’

    ‘আর কী?’

    ‘পোশাক-আশাক, হিরের পাগড়ি।’

    রাজা সব দিলেন, কেবল বলিলেন,—’চোর যদি ছাড়ে পুরী, তবে কন্যা দিতে পারি।’ কানা কন্যা গেলেই কি, থাকলেই কি।

    তখন কেশ-বেশ পোশাক করিয়া, হুলোবেড়াল ঘোড়া, সাতনলা হাতে, টিকির নিশান মাথে, টিকিতে খোলস বেঁধে, দেড় আঙুলে চোরের রাজ্যে গিয়া হানা দিল।

    কোথা দিয়া কোথা দিয়া যায়, বিড়ালে হাঁড়ি খায়,—যত চোরনি পরেশান! খোনা, খুন্তি, পোলো, থোলো, রায়বাঁশ, গলফাঁস, সকল নিয়া রাজ্যের যত চোর অলিতে গলিতে খাড়া হইল, খানা খুঞ্জি ঘিরিয়া দাঁড়াইল।

    দেড় আঙুলে বলিল,—’আচ্ছা রও!’

    সাতনলা, সাতনলা, করছ এখন কী?

    চুপটি করে আছ কেন লাউয়ের খোলসটি?

    সাতনলা বলিল,—’কী?’

    খোলস বলিল,—’কী?’

    নল চিরিয়া হাজার চুল, খোলস ফেটে ভীমরুল। চেরা চেরা নল সুচ হেন ছোটে, ভীমরুলের হুল পুটপুট ফোটে।-

    ‘আঁই মাঁই কাঁই; বাবা রে! মা রে! তালুই রে! শ্বশুর রে।’-চোরের রাজ্যে হুড়াহুড়ি গড়াগড়ি, লটাপটি ছুটাছুটি!-তিন রাত্তিতে ঘরদোর ফেলে যত চোর-চোরনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে-পুলিয়ে দূর!-চোরের রাজা ‘চ্যাং পিছলে’; চ্যাং পিছলেকে বাঁধিয়া নিয়া দেড় আঙুলে টিকি ফরর ফরর পাগড়ি ফুলাইয়া নল ঘুরাইয়া রাজার কাছে গেল,—

    ‘রাজামশাই, রাজামশাই, রাজকন্যা আর কাঠুরে দাও।’

    তখন রাজা বলেন,—’তাই তো! তাই তো!-
    বীরের চূড়া পিপ্পল কুমার, এসো রে বাপ, এসো,
    তোমার তরে রাজ্য ধন, সিংহাসনে বসো।
    কন্যা আছে চোখ-বিঁধুলি, দিলাম তোমায় দান-
    কাঠুরেরে আনো দিয়ে পুষ্পরথ খান।’

    পুষ্পরথে চড়িয়া কাঠুরিয়া আসিল।

    তখন, কুনোরানির থুথু দিয়া দেড় আঙুলে পিপ্পল কুমার রাজকন্যার চোখ ফুটাইল;-ব্যাং এল, কুনোরানি এল; দেড় আঙুলে গিয়া কামার মিতাকে আনিল। ধুমধাম বিয়ে-সিয়েয় রাজ-রাজ্য তোলপাড়।

    লাফে লাফে ব্যাং নাচে,
    দাড়ি নাড়িয়া কামার হাসে।

    মায়ের দুঃখ গেল, বাপকে সোনার কুড়ুল গড়ে দিল; তখন রাজা শ্বশুর, রানি শাশুড়ি, জামাই বেয়াইকে রাজ্য দিয়া, তপস্যায় গেলেন;-দেড় আঙুলে পিপ্পল কুমার এক বেলা রাজ্য করে, এক বেলা বাপের সাথে কাঠ কাটে-

    খুট-খুট-খুট!

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমায়া, আজটেক ও ইনকা সভ্যতা – আবদুল হালিম
    Next Article বিষ্ণুলোকে সন্ধ্যা নামে – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    Related Articles

    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার

    ঠাকুরমার ঝুলি – দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার

    August 25, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    বিষ্ণুলোকে সন্ধ্যা নামে – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    March 20, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    বিষ্ণুলোকে সন্ধ্যা নামে – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    March 20, 2026
    Our Picks

    বিষ্ণুলোকে সন্ধ্যা নামে – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    March 20, 2026

    ঠাকুরমার ঝুলি – দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার

    March 20, 2026

    মায়া, আজটেক ও ইনকা সভ্যতা – আবদুল হালিম

    March 20, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }