Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    August 12, 2026

    তালাশ – শাহীন আখতার

    August 12, 2026

    রাধাকৃষ্ণ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 12, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ডারলিং ডোয়ার্কি – রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়

    রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় এক পাতা গল্প98 Mins Read0
    ⤶

    ২০. প্রায় ভোররাতই বলা যায়

    ২০

    প্রায় ভোররাতই বলা যায়। অগোছালো নথিপত্রগুলিকে গুছিয়ে নিয়ে সব খুঁটিয়ে পড়ার সময় পেলেন না রবীন্দ্রনাথ। যতোটা পেরেছেন, পড়েছেন। বাকি পড়া হল না। কেউ পড়বে না কোনওদিন। ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতে দ্বারকানাথের বাণিজ্য, সাফল্য-অসাফল্য, পাপ-পুণ্যের সব বালাই পুড়ে ছাই হবে। বেঁচে থাকবে কিছু পরিচিত সত্য, কিন্তু কল্পিত মিথ আর সত্য-মিথ্যে মেশানো একটি মানুষের অবাস্তব অবয়ব।

    আকাশের অন্ধকার ফিকে হয়ে আসছে। তবু তারারা বিদায় নায়নি। দুর্বল ফ্যাকাশে চাঁদ লেগে আছে এখনও ভোররাতের কোণে। নথিপত্রগুলি যতটুকু পড়তে পেরেছেন রবীন্দ্রনাথ, তাতে তাঁর মনের মধ্যে এক আশ্চর্য কাণ্ড ঘটছে। পিতামহকে তিনি একই সঙ্গে দেখছেন ঘৃণায় ও মমতায়। কামিনী-কাঞ্চনের প্রতি কী প্রবল আকর্ষণ। পার্থিব ধনদৌলতের দিকে কী নিরন্তর দৌড়। যেখানে দৌলতের গন্ধ সেখানেই দ্বারকানাথ! ধনী তাঁকে হতেই হবে। অন্তহীনভাবে ধনী। জীবনের একমাত্র উদ্দেশ্য অর্থের সমারোহ। বিষয়-সম্পত্তির বৃদ্ধির জন্য হেন কাজ নেই তিনি করতে পারেন না। হেন নীচতা, শঠতা, নিষ্ঠুরতা, মতলববাজি নেই, যা তার নাগালের বাইরে।

    কিন্তু তবু রবীন্দ্রনাথ চোখ বুজে এখন অন্য এক দ্বারকানাথকে দেখতে পাচ্ছেন, যিনি বঙ্গদেশের সব জমিদারের থেকে পৃথক। কোনও বাঙালি জমিদারই উদ্যোগী নন। বাণিজ্যের প্রতি, পরিশ্রমের প্রতি কোনও বাঙালি ধনীই উৎসাহী নন। তাঁদের বিলাসবহুল আলস্যের পাশে, তাঁদের অশিক্ষা ও কূপমণ্ডুকতার পাশে দ্বারকানাথ যেন এক অবিশ্বাস্য আলোকবর্তিকা। ক্লান্তিহীন শ্রম ও সমাজচেতনায় তিনি সারা জীবন দীপ্যমান। রবীন্দ্রনাথের ক্রমশ মনে হয়, দ্বারকানাথের মধ্যে আগাগোড়া কাজ করে চলেছে এক করুণ উভয়বলয়তা। তিনি এক ট্র্যাজিক চরিত্র। এবং এই ট্র্যাজেডির মূলে তাঁর পাপ নয়। তাঁর পুণ্য নয়। নয় তাঁর সাফল্য। বা অসাফল্য। তিনি ট্র্যাজিক। কারণ তিনি দ্বিখণ্ডিত। তিনি ট্র্যাজিক। কারণ তাঁকে ছিঁড়ে খাচ্ছে নিয়তিনির্ধারিত স্ববিরোধ। দ্বৈধ। অনিকেত অ্যামবিভ্যালেন্স।

    রবীন্দ্রনাথ চোখ বুজলেন। তিনি পৌঁছে যান ১৭৯৪-তে। এইমাত্র জন্মেছেন জয়রামের প্রপৌত্র, নীলমণির পৌত্র, রামমণির পুত্র, রামলোচনের পোষ্যপুত্র, দেবেন্দ্রনাথের পিতা, রবীন্দ্রনাথের পিতামহ, দ্বারকানাথ ঠাকুর। রবীন্দ্রনাথ মনে করেন, রামমণির দুই বিয়ে। প্রথম বিয়ের দুটি ফসল, রাধানাথ, দ্বারকানাথ। নীলমণির দুই পুত্র। দ্বিতীয় পুত্র রামলোচন সন্তানহীন। তাই তিনি দত্তক নিলেন ছোটোভাই রামমণির ছেলে দ্বারকানাথকে। দ্বারকানাথের মা যদিও মেনকাসুন্দরী। কিন্তু রামলোচনই হয়ে উঠলেন দ্বারকানাথের পিতা আর তাঁর স্ত্রী অলকাসুন্দরীই দ্বারকানাথের মা। নিজের বাবা-মাকে কোনওদিনই পেলেন না দ্বারকানাথ। এটাকে খুব একটা স্বাভাবিক অবস্থা বলা যায় কি? রবীন্দ্রনাথের মনে এই স্বাভাবিক প্রশ্ন। এই অস্বাভাবিক অবস্থার মধ্যে বড়-হয়ে-ওঠা দ্বারকানাথের মনের মধ্যে তৈরি করল সারাক্ষণের এক অস্থিরতা, ভাবলেন রবীন্দ্রনাথ। কেন তিনি সারাক্ষণ এমন তাড়িতভাবে অর্থলিপ্সু? কারণ তিনি চান এই অস্বাভাবিক অবস্থা থেকে, এই সামাজিক ‘অপরিচয়’ থেকে বেরিয়ে আসতে! তাহলে কি, অন্তত প্রথম যৌবনে, পরিচিতির সংকটে ভুগছিলেন দ্বারকানাথ? রবীন্দ্রনাথের মনে জাগে এই প্রশ্ন। পিতামহের প্রতি তিনি কিছুটা আর্দ্র বোধ করেন। আরও গহনভাবে বুঝতে চেষ্টা করেন তিনি দ্বারকানাথকে।

    দ্বারকানাথের নিজের বাবা রামমণি ঠিক কেমন মানুষ ছিলেন, আমরা তেমনভাবে জানি না। তিনি কি রসবেত্তা ছিলেন? গান গাইতে বা বাজনা বাজাতে পারতেন? ছিলেন কি নারীপ্রবণ, অর্থলিপ্সু, বিলাসে ইচ্ছুক ও অতৃপ্ত? কোনও প্রশ্নেরই স্পষ্ট উত্তর নেই রবীন্দ্রনাথের কাছে। কিন্তু যে-মানুষটি দত্তক নিলেন দ্বারকানাথকে, সেই রামলোচন ছিলেন সম্পদ-শিকারি ধনী মানুষ। এবং বাণিজ্যের তাড়না তাঁর মধ্যে নষ্ট করে দেয়নি রসজ্ঞতা। তিনি ছিলেন ভারতীয় ধ্রুপদী সংগীতের রসগ্রাহী। সংস্কৃতিতে উৎসাহী। মার্জিত পুরুষ বলতে যা বোঝায়, রামলোচন তা-ই। আবার বাস্তববোধ ও বিষয়-বুদ্ধিতে তিনি বিন্দুমাত্র কম নন। অর্থের সুরভি পান দূর থেকে। সম্পত্তির জন্যে ওতপেতে থাকেন। ঝাঁপিয়ে পড়েন অব্যর্থ শিকারে। রামলোচন নিজে কতদূর ইংরেজি জানতেন, জানা যায় না। কিন্তু তাঁর প্রখর বৈষয়িক বুদ্ধি তাঁকে দিল এই চেতনা যে বাণিজ্যে দাঁড়াতে ইংরেজের সাহচর্য ক্রমেই আরও-আরও প্রয়োজনীয় হয়ে উঠবে। যে বাঙালি ইংরেজিতে তেমন সাবলীল হবে না, ইংরেজের সঙ্গে প্রাত্যহিক সংলাপে আড়ষ্ট, কুণ্ঠিত হয়ে থাকবে, তার পক্ষে ব্যবসা করে অর্থ উপার্জন ক্রমেই কষ্টকর হয়ে উঠবে। মোদ্দাকথা, ইংরেজি না জানলে ইংরেজের সঙ্গে বা ইংরেজের পাশাপাশি বাণিজ্যের সুযোগ মাঠে মারা যাবে। রামলোচন বুঝতে পেরেছিলেন, সময় বদলে যাচ্ছে। ইংরেজের প্রভাব বাড়ছে। বাণিজ্যের চরিত্র ইংরেজের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের ফলে আমূল পাল্টে যাচ্ছে। এবং এইসব ভেবে চিন্তে তিনি দ্বারকানাথকে ভর্তি করলেন শেরবোর্ন সাহেবের স্কুলে। দ্বারকানাথ ছেলেবেলা থেকেই ‘ডিরেক্ট মেথডে’ ইংরেজি শিখলেন!

    কিন্তু রামলোচন এইখানেই থামলেন না। তিনি জানেন, আইনের ভাষা এখনও আরবি ও ফার্শি। ধনী হতে গেলে মামলাবাজ হতেই হবে। তুখড় হতে হবে আইনে। দ্বারকানাথকে ভর্তি করলেন এক মৌলবির বিদ্যালয়ে আরবি ও ফার্শি ভাষায় পাঠ নেবার জন্য। রামলোচন খুব ভালভাবে জানেন, অধিকাংশ বাঙালি জমিদার গণ্ডমূর্খ। জমিদারি রক্ষার আইনকানুন কিছুই জানে না। তারা বাইজি-সংস্কৃতির বাইরে আর কীই বা জানে? আইনের ফাঁদে পড়ে তারা জমিদারি হারাচ্ছে ইংরেজের কাছে। দ্বারকানাথ যদি জমিদারি আইনে প্রখর হয়ে ওঠে, তাহলে বাঙালি জমিদারদের পক্ষে মামলা লড়েও তো সে প্রচুর অর্থ উপার্জন করতে পারবে!

    রবীন্দ্রনাথ আরও জানতে পেরেছেন তাঁর পিতামহের বিদ্যাবুদ্ধি সম্পর্কে।

    – কেমন ইংরেজি শিখছিস তুই শেরবোর্ন সাহেবের কাছে? জানতে চাইলেন দ্বারকানাথের কাছে রামলোচন।

    তৃপ্ত হলেন না তিনি পুত্রের উত্তরে। ইংরেজি ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতির প্রতি ইংরেজ জাতটির অনন্ত গৌরবের প্রতি যথেষ্ট শ্রদ্ধাশীল নয় কেন তাঁর পুত্র? না, শেরবোর্ন-কে দিয়ে হবে না। চাই আরও শিক্ষিত ইংরেজ। রামলোচনের মনে পড়ল কলকাতার তিন বিখ্যাত ইংরেজ গর্ডন, কল্ডার, অ্যাডম-এর কথা। তিনজনেই অভিজাত। এঁদের কাছে শিক্ষা না পেলে দ্বারকানাথ কেমন করে হয়ে উঠবে অভিজাত বাঙালি? বাঙালি অর্থে অভিজাত নয়। হতে হবে ব্রিটিশ সৌজাত্যের অধিকারী। দ্বারকানাথ যা হয়েছেন এবং যা হতে পারেননি, তার জন্য তাঁর শিক্ষাদীক্ষার দায়দায়িত্ব কম নয়। দ্বারকানাথকে তো ইংরেজের ইংরেজ করে বড় করেছেন রামলোচন। তাহলে তাঁর স্লেচ্ছ প্রবণতা কি স্বাভাবিক নয়? স্বাভাবিক নয় কি তাঁর পক্ষে ব্রিটিশ নটীর প্রেমে পড়া? স্বাভাবিক নয় কি অন্ধ ইংরেজ প্রীতি? এবং ইংল্যান্ডে বসবাস করার সিদ্ধান্ত? ভাবলেন রবীন্দ্রনাথ।

    – মনে রেখো রবি, আমার পিতৃদেব বিনা কারণে আমার মাকে নানাভাবে অপমান করেছিলেন। সমাজের চোখে তাঁকে ছোটো করেছিলেন। এই অপরাধ ক্ষমার্হ নয়।

    রবীন্দ্রনাথের বুকের মধ্যে বেজে ওঠে দেবেন্দ্রনাথের কণ্ঠ।

    রবীন্দ্রনাথ বিচলিত বোধ করেন।

    তাঁর সিদ্ধান্তে সংশয় দেখা যায়। তিনি আরও গভীর চিন্তায়, মূল্যায়নে নিবিষ্ট হন।

    তাঁর চোখের পরদায় ফুটে ওঠে এই ছবি:

    দ্বারকানাথ ষোলো।

    তাঁর হাতে এসে পড়ল পারিবারিক সম্পত্তি দেখাশোনা করার দায়িত্ব। সহজ কাজ নয় একেবারেই। মনে রাখতে হবে, চারধারে ঘোরাফেরা করছে হাঙরের দল। ষোলো বছরের ধনীকে বাগে পেলে কেউ ছাড়বে না। ষোলো বছরের দ্বারকাকে সবচেয়ে কঠিন সমস্যায় ফেলল কর্ণওয়ালিস প্রবর্তিত ‘চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত’। অনেক আইনি চোরাস্রোত আর মারপ্যাঁচ আছে এই ‘পারমানেন্ট সেটলমেন্ট’-এ। এর ফলে মূর্খ জমিদারদের জমিদারি নিলামে হাত বদলাতে লাগল।

    কিশোর দ্বারকানাথ কিন্তু বুঝতে পারলেন, সম্পত্তি ও জমিদারি বাঁচাতে তাঁকে শিখতেই হবে রাজস্ব ও বিচারবিভাগের কাজ! নথিপত্র থেকে এইটুকু বুঝতে অসুবিধে হয়নি রবীন্দ্রনাথের, আলস্যের দুর্বলতা, অসাধুতাকে জীবনে বিন্দুমাত্র স্থান দেননি তাঁর পিতামহ। এবং তাঁর শরীর যে অল্প বয়েসে ধ্বংস হল, তার কারণ মদ্যপান বা সম্ভোগ নয়। তার কারণ অবিশ্বাস্য পরিশ্রম। হতে পারে সেই শ্রম ক্রমাগত অর্থ উপার্জনের।

    কিশোর দ্বারকানাথ যাচ্ছেন বিভিন্ন জমিদারিতে সরেজমিনে খোঁজখবর নিতে। রোদ্দুরে পুড়ছেন। বৃষ্টিতে ভিজছেন। জঙ্গলে রাত কাটাচ্ছেন। প্রতিদিন নিচ্ছেন জীবনের ঝুঁকি। সেই জীবনে কোথাও নেই আলস্যে-আমোদে দিন কাটানোর সুযোগ।

    আর ক্লান্তিহীন পরিশ্রমের সঙ্গে দ্বারকানাথ মিশিয়েছেন ইংরেজ ব্যারিস্টার রবার্ট কাটলার ফার্গুসন-এর কাছে ব্রিটিশ আইনে পাঠ নেওয়া। শুধু ব্রিটিশ নীতিই শিখছেন না। শিখছেন রীতিও।

    সেই সঙ্গে আরও এক প্রভাব এসে পড়ল দ্বারকানাথের যৌবনের দিনগুলিকে ভিন্ন আদর্শে প্রণোদিত করতে। এই দীক্ষার সঙ্গে বাঙালি জীবনের রীতিনীতির কোনও মিল নেই। এই দীক্ষা রামমোহন রায়ের।

    দ্বারকানাথ হয়ে উঠলেন রামমোহনের মন্ত্রশিষ্য। রবীন্দ্রনাথ ক্রমশ বুঝতে পারছেন, তাঁর পিতার সঙ্গে পিতামহের কোথায় পার্থক্য। পিতা দেবেন্দ্রনাথ রামমোহনের আধ্যাত্মিকতা, একেশ্বরবাদ, ঈশ্বর-এষণাকেই তাঁর জীবনব্রত হিসেবে গ্রহণ করলেন। কিন্তু দ্বারকানাথ আধ্যাত্মিক মানুষ নন। তাঁর মনের গঠনটাই ভিন্ন। তিনি ঐহিকবাদী। ইহলোকের সাফল্যই তাঁর কাছে সব। রামমোহনের অর্থ-সম্পদ ভোগবিলাসে প্রভাব পড়ল যুবক দ্বারকানাথের উপর।

    দ্বারকানাথ সবে একুশ। ইতিমধ্যেই তিনি জমিদারি আইনব্যবস্থা সম্পর্কে বেশ অভিজ্ঞ।

    – আমাদের জমিদারি ইংরেজরা আইনের প্যাঁচ মেরে লাটে তুলে দিচ্ছে। তুমি বাঁচাও বাবা।

    বাপের বয়সি জমিদাররা প্রায় দ্বারকানাথের পায়ে এসে পড়তে লাগল। তারা জমিদারি আইনের কিছুই জানে না। গণ্ডমূর্খের দল।

    – বাঁচাতে পারি, কত টাকা দেবেন?

    – বাবা যা চাইবে, তাই দেব।

    – চেষ্টা করে দেখছি।

    বেশ কিছু চেষ্টায় সফল দ্বারকানাথ। ক্রমে ছড়িয়ে পড়ছে জমিদারি আইনে বিশেষজ্ঞ হিসেবে দ্বারকানাথের খ্যাতি।

    সব সময়ে সৎ কথা, সত্যি কথা বলছেন না একুশ বছরের দ্বারকানাথ।

    কত যে চতুরতার, শঠতার আশ্রয় নিচ্ছেন।

    কিন্তু তাঁর উপর জমিদারদের আস্থা বাড়ছে।

    আস্থা বাড়লে কী হবে, তাঁদের অন্যভাবে ঠকাচ্ছেনও দ্বারকানাথ। বেনামে কোনও কোনও মূর্খজমিদারের জমিদারি দখল করেও নিচ্ছেন তিনি।

    আর একটি জিনিস লক্ষ করলেন রবীন্দ্রনাথ।

    দ্বারকানাথ তাঁর উপার্জনের অর্থ তো উড়িয়ে দিচ্ছেন না।

    অন্তত যৌবনে অর্থকে রক্ষা করার বিষয়ে তিনি বিশেষ যত্নবান। কোনও প্রলোভনেই টাকা নষ্ট করেন না।

    বরং নথিপত্র থেকে জানতে পারলেন রবীন্দ্রনাথ, বছরে জমিদারি থেকে অন্তত পঞ্চাশ হাজার টাকা তিনি জমিয়ে রাখেন।

    সেই সময়ে পঞ্চাশ হাজার তো অনেক টাকা! ভাবেন রবীন্দ্র।

    ঠিক, তেজারতি কারবারের নথিপত্রও পাওয়া গেছে।

    রবীন্দ্রনাথ ঝলকে বুঝেছেন, দ্বারকানাথ সুদে টাকা খাটান বেশিরভাগই সাহেব মহলে। তিনিই তাদের ভোগ-বিলাস-খরচের সহজ পথ দেখান।

    তারপর হাসতে-হাসতে চড়া সুদে টাকা ধার দেন।

    সুদে টাকা খাটিয়ে দিন দিন ধনী হচ্ছেন যুবক দ্বারকানাথ, এই প্রমাণও পেয়েছেন রবীন্দ্রনাথ।

    ইংরেজ কখনও কখনও কী বোকা! দ্বারকানাথ সর্বদা কী চতুর! তিনি নির্ভুল ছকে সাজাতে পারেন দাবার চাল। একথা বারবার মনে হয়েছে রবীন্দ্রনাথের। এমন একটি চরিত্র তিনি যদি আনতে পারতেন তাঁর কোনও একটি উপন্যাসে!

    কিন্তু দ্বারকানাথকে উপন্যাসের চরিত্র করে তিনি তাঁকে নিজেই ম্যানেজ করতে পারবেন তো?

    অত চাতুর্যের নাগাল তিনি নিজেও কি পাবেন?

    রবীন্দ্রনাথ নিশ্চিত নন।

    ১৮২২ সাল।

    দ্বারকানাথ ২৮।

    তিনি এত টাকা উপার্জন করেও সন্তুষ্ট নন।

    আশ্চর্য তাঁর অর্থতৃষ্ণা।

    আরও টাকা চাই। আরও। আরও।

    তিনি চব্বিশ পরগনায় আবগারি বিভাগে চাকরি নিলেন।

    কীসের চাকরি?

    রবীন্দ্রনাথ সবিস্ময়ে জানলেন, লবণ দফতরের সেরেস্তাদারের চাকরি।

    মাস মাইনে ১৫০ টাকা।

    দারুণ টাকাই বলা যায়।

    কিন্তু উপরি পাওনা?

    আবগারি বিভাগের চাকরিতে উপরি নেই?

    তা-কি হতে পারে?

    তা-কি হতে পারে যে পিতামহের কোনও মোহ ছিল না উপরির প্রতি?

    তিনি কি একেবারেই উৎকচ-লোলুপ ছিলেন না?

    মৃদু হাসি ফুটে ওঠে রবীন্দ্রনাথের ঠোঁটে।

    ২১

    ১৮২৮।

    দ্বারকানাথ যেমন বাণিজ্যে, তেমনি চাকরিতে। জানেন উন্নতির পথ।

    তিনি দেওয়ান হলেন।

    অর্থাৎ ক্ষমতার অধিকারী।

    ক্ষমতা কাজে লাগানো যাক।

    দ্বারকানাথ রামমোহনের পাশে দাঁড়ালেন সতীদাহ-প্রথার বিরুদ্ধে আন্দোলনে।

    একে ধনী। তায় ক্ষমতাবান। তার উপর আইনজ্ঞ চতুর মানুষ। এবং সবই দ্বারকানাথ পেয়েছেন তিরিশ বছর বয়েসের মধ্যে।

    রামমোহন বিরোধী ও সতীদাহ-সমর্থক হিন্দুরা রে রে করে উঠল দ্বারকানাথের বিরুদ্ধে।

    রবীন্দ্রনাথের মনে প্রশ্ন : পিতা একটিবারও কেন পিতামহের প্রশংসা করে তাঁর এই সমাজচেতনার কথা বললেন না?

    রবীন্দ্রনাথ একটি জিনিস বিশেষভাবে লক্ষ করলেন।

    দ্বারকানাথ অধিকাংশ বাঙালির মতো চাইলেন না চাকরি এবং মাস-মাইনের নিশ্চয়তা!

    তিনি বেতননির্ভর বাঙালিদের একজন নন। তিনি হতে চেয়েছেন প্রবল ধনী।

    প্রবল ধনী হতে গেলে বাণিজ্যের অনিশ্চয়তার মধ্যে যেতেই হবে। তাই করলেন তিনি।

    ১৮৩৪।

    চাকরি ছাড়লেন চল্লিশ বছরের দ্বারকানাথ।

    চল্লিশ বছর বয়েসে চাকরি ছেড়ে পুরোপুরি ব্যবসা?

    এ তো সুইসাইড। আত্মহত্যা।

    এই পথই বেছে নিলেন দ্বারকানাথ।

    কার সাহেবের সঙ্গে কার-টেগোর কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করলেন তিনি।

    কিন্তু ব্যবসা দ্বারকানাথের রক্তে। মনে রাখতে হবে, দ্বারকানাথের পূর্বপুরুষরা ব্যবসা করতেই কলকাতায় এসেছিলেন।

    সাহেবদের সঙ্গে হাতমিলিয়ে উপার্জন।

    অলস জমিদারি নয়। নিরলস বাণিজ্য।

    চাকরির পাশাপাশি তেজারতি কারবার করছেন দ্বারকানাথ, সেই নথিপত্র দেখেছেন রবীন্দ্রনাথ।

    পিতামহ যে চাকরির আড়াল টেনে ইউরোপে রেশম ও নীল পাঠাচ্ছেন, তারও নথি দেখেছেন তিনি।

    ১৮২১ সালেই সাতাশ বছরের দ্বারকানাথ শিলাইদহে ‘রায়তি’ প্রথায় নীলের চাষ শুরু করেন।

    ‘রায়তি’ প্রথা মানেই তো অত্যাচার। চাষীদের মুখে রক্ত তুলে কাজ করানো। এবং কোনও ‘রেয়াত’ নেই।

    রবীন্দ্রনাথের গা ঘিনঘিন করে ওঠে।

    অন্যায়, ভারি অন্যায়! এ তো পাপ! তাঁর অন্তর চিৎকার করে ওঠে দ্বারকানাথের বিরুদ্ধে।

    কিন্তু দ্বারকানাথের যে চাই আরও অর্থ।

    তিনি শুরু করেছেন, নীল চাষের পাশাপাশি, রাম, জায়ফল, মৌরির ব্যবসা।

    কোথায় যায় তাঁর মৌরি?

    তিনি জাহাজ ভাড়া করেছেন। জাহাজের নাম ‘রেজোলিউশন’। সেই জাহাজ গোপন পণ্য নিয়ে ভেসে যায় বুয়েনস আইরেস-এর পথে।

    ১৮২১ সালে। একশো চার বছর পরে সেখানে যাবেন রবীন্দ্রনাথ। তাঁর দেখা হবে ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোর সঙ্গে!

    তখন রবীন্দ্রনাথ ৬৩।

    সেদিন অনেক দূরের। রবীন্দ্রনাথ সেই ভবিষ্যতের কোনও আঁচ পাননি তখন।

    এখন রবীন্দ্রনাথ মনের মধ্যে দেখতে পাচ্ছেন একটি অভূতপূর্ব দৃশ্য- তাঁর পিতামহ একটি জাহাজ কিনেছেন।

    তিনি মালিক হয়েছেন একটি গোটা জাহাজের!

    জাহাজটির কী নাম?

    রবীন্দ্রনাথের মোটেই ভাল লাগেনি এই নাম। ‘ওয়াটার উইচ’ নামটির মধ্যেই সাপের মতো কুণ্ডুলি পাকিয়ে আছে পাপ। সমুদ্রের ডাইনি!

    একটি নয়। তিন-তিনটি আস্ত জাহাজের মালিক হলেন দ্বারকানাথ ধীরে ধীরে।

    অন্য দুটি জাহাজের নাম ‘এরিয়েল’ ও ‘মাভিস।’

    অ্যাতো জাহাজ কিনছেন কেন দ্বারকানাথ? তিনি যে আর পাঁচটা ধনী বাঙালির তুলনায় ঢের বেশি ধনী, তা প্রমাণ করবার জন্য?

    ওটা তো আপাত আড়াল। ওই আড়ালের নীচে কী আছে? পরদা সরান রবীন্দ্রনাথ।

    স্পষ্ট বুঝতে পারেন তিনি। দেবেন্দ্রনাথ ঠিকই বুঝেছেন। আফিমের ব্যবসা করেন দ্বারকানাথ।

    চিন দেশের সঙ্গে আফিমের বাণিজ্যের খাটে তাঁর জাহাজ।

    আফিম-বাণিজ্যের কোনও পাপবোধ, কোনও গ্লানি, কোনও অন্যায় দ্বারকানাথকে স্পর্শ করে না।

    যে-পথেই লক্ষ্মীর আগমন হোক, সেই পথই শুদ্ধ তাঁর কাছে।

    তবে শুধুমাত্র অহিফেনের বাণিজ্যই করেন না তিনি।

    করেন কয়লার বাণিজ্য।

    চিনির বাণিজ্যে তিনি রমরম করছেন। দক্ষিণ চব্বিশ পরগনায় বারুইপুরে সমুদ্রের মতো জমিতে চলছে তাঁর আখের চাষ।

    কী করবেন তিনি এত টাকা নিয়ে?

    – কেন? শুধুই নিজের ভোগবিলাসে খরচ করেছেন! যে টাকা উপার্জন করেছেন, তার চেয়েও অধিক অর্থ উড়িয়ে দিয়েছেন নিজের ভোগ বিলাসে, জানিয়েছেন দেবেন্দ্রনাথ।

    – কিন্তু তা-ই কি? রবীন্দ্রনাথ নথিপত্র ঘেঁটে নিজে জানতে পেরেছেন অন্য সত্য ও তথ্য।

    ১৮১৭ : হিন্দু কলেজ স্থাপনের কাজ শুরু করলেন দ্বারকানাথ।

    ১৮১৮ : ২৪ বছরের দ্বারকানাথ শ্রীরামপুর থেকে প্রকাশিত প্রথম বাংলা কাগজ সমাচার দর্পণের প্রধান পৃষ্ঠপোষক।

    ১৮৩৬ : মেডিকেল কলেজ স্থাপন করলেন।

    এরপরই ভারতের প্রথম দৈনিক সংবাদপত্র ‘বেঙ্গল হরকরা’- প্রধান পার্টনার দ্বারকানাথ।

    ১৮২১ : সাতাশ বছরের দ্বারকানাথ প্রতিষ্ঠা করলেন ‘সংবাদ কৌমুদী’।

    সম্পাদক কে?

    রামমোহন রায়!

    এরপর বেরল বিখ্যাত সংবাদপত্র ‘ইংলিশম্যান’।

    কোনও ইংরেজের অর্থে নয়।

    অর্থ দিলেন দ্বারকানাথ।

    ঈশ্বর গুপ্ত বের করেছেন ‘সংবাদ প্রভাকর’?

    টাকাটা কার?

    কার আবার? দ্বারকানাথের!

    এইসব সামাজিক কাজের জন্য যে আরও অর্থের প্রয়োজন। বাড়াতেই হবে জমিদারি।

    দ্বারকানাথ কিনলেন কালীগ্রাম, সাহাজাদপুর, বিরাহিমপুরের কুমারখালি মৌজায় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির রেশম কুঠি।

    ১৮৩৭।

    দ্বারকানাথ ৪৩।

    তাঁর একটি মূল কাজ এখন গঙ্গার মোহনা থেকে কলকাতার বন্দর পর্যন্ত জাহাজগুলিকে টেনে আনা।

    এই কাজে বিপুল অর্থের উপার্জন।

    এই বিশেষ কাজের একটি কোম্পানিও তৈরি করেছেন তিনি। ‘স্টিম টাগ অ্যাসোসিয়েশন।’

    কেউ একজন দ্বারকানাথের কানে তুলল, স্টিমার মেরামতির একটি আধুনিক কারখানার প্রয়োজন।

    – তা প্রয়োজন যখন, হোক কারখানা। দ্বারকানাথ স্টিমার মেরামতের কারখানা খুললেন খিদিরপুরে।

    – তা এত স্টিমার চালাতে তো জ্বালানি লাগবে?

    – তা তো লাগবে।

    – কে দেবে এত জ্বালানি?

    – ওটাই তো সমস্যা।

    – আমি দেব। বললেন দ্বারকানাথ।

    শুরু হল তাঁর স্টিমারের জ্বালানি সরবরাহের ব্যবসা।

    – ভারত-ইংল্যান্ড জাহাজ-সংযোগের উন্নতির কথা ভেবে দেখেছ কখনও?

    – ওরে বাবা। ওটা আমাদের কম্য নয়। সে তো আন্তর্জাতিক ব্যাপার। নাগালের বাইরে।

    – কেন, নাগালের বাইরে কেন? আমি নামবো এই কাজে, বললেন দ্বারকানাথ।

    আন্তর্জাতিক গৌরবে প্রতিষ্ঠিত পেনিনসুলার অ্যান্ড ওরিয়েন্টাল জাহাজ কোম্পানি।

    দ্বারকানাথ পার্টনার হলেন সেই কোম্পানির।

    কিছুদিনের মধ্যেই ভারত-ইংল্যান্ড জাহাজ-সংযোগের ব্যাপারে শুরু হল সুয়েজ খননের কাজ।

    অর্থই তো সব নয়। বাণিজ্যের জন্যে চাই ব্যাঙ্ক। আধুনিক ব্যাঙ্কিং। নিজের একটা ব্যাঙ্ক হলে কেমন হয়?

    যেমন ভাবনা, তেমনি কাজ।

    ষোল লক্ষ টাকা মূলধন বিনিয়োগ করে পঁয়তিরিশ বছরের দ্বারকানাথ নিজেই প্রতিষ্ঠা করলেন ‘ইউনিয়ন ব্যাঙ্ক’।

    রবীন্দ্রনাথ কিছুটা বিস্মিত।

    বাবামশায় তো পিতামহ সম্পর্কে এইসব কথার কিছুই জানাননি! তবে নথিপত্র থেকে জমিদার হিসেবে দ্বারকানাথের পরিচয় পেয়েছেন রবীন্দ্রনাথ। এককথায় অত্যাচারী জমিদারই ছিলেন তিনি। খাজনা আদায়ের জন্য গরিব প্রজাদের উপর অকথ্য অত্যাচার করতে তাঁর বাধেনি। নিজে না পারলে কুঠিবাড়ির সাহেবদের দিয়ে অত্যাচার করিয়েছেন। কাঙাল হরিনাথের ছোট্ট একটি নোট পেয়েছেন তিনি। হরিনাথ প্রাচীন গ্রামবাংলার নির্ভীক সাংবাদিক। তাঁর কাগজের নাম ‘গ্রামবার্তা’। তিনি শিলাইদহ ঠাকুর-জমিদারদের প্রজা-পীড়ন সম্পর্কে লজ্জাকর সত্যের উদ্ঘাটন করেছেন। তাঁর দিনলিপিতেও ঠাকুর-জমিদারদের প্রজাপীড়নের বর্ণনা আছে। কাঙাল হরিনাথ লিখছেন : দ্বারকানাথ শিলাইদহ-জমিদারির মালিক হওয়ার পর ‘তাঁহারা তের হাজার টাকা রাজকর দান করিয়া এক্ষণে লক্ষ টাকার উপরেও লাভবান হইয়াছেন। অথচ প্রজা-শোষণের ইচ্ছা ক্রমেই বলবর্তী হইতেছে।’

    কাঙাল হরিনাথের এই নোটটির কথা মনে হতেই রবীন্দ্রনাথের সমস্ত মন ঘৃণায় ঘিনঘিন করে ওঠে।

    এখানেই থামেননি কাঙাল। আরও অনেক কিছু লিখেছেন যা দ্বারকানাথ, এমনকী দেবেন্দ্রনাথের পক্ষেও লজ্জাকর, বেদনাদায়ক। হরিনাথ লিখছেন যে কুমারখালির বাজারটি সেখানকার রেশমকুঠির কার্যাধক্ষ উইলিয়ম সাহেব দ্বারকানাথকে বিনামূল্যে হস্তান্তর করেন।

    এই হস্তান্তরের আগে উইলিয়ম সাহেব কুমারখালির অন্ধ, আতুর, অনাথ বালক-বালিকাদের অন্তত কিছু সাহায্য করতেন। কিন্তু হস্তান্তরের পরে দ্বারকানাথ বিলাতের ব্লাইড ফান্ডে অর্থ সাহায্য করে নিজের গৌরব বৃদ্ধি করেন। হরিনাথ যে মনে করেন এই দানের পিছনে দ্বারকানাথের রাজসম্মান পাওয়ার অভিসন্ধি কাজ করে ছিল, তাতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই।

    দ্বারকানাথের পর যখন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর জমিদারির দায়িত্ব গ্রহণ করলেন, তখন কি অত্যাচার, অনাচার কমল? প্রজাদের উপর অত্যাচার কিছুটা নরম হল? রবীন্দ্রনাথ পড়লেন কাঙাল হরিনাথের বার্তা :

    ‘দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর যে পর্যন্ত মহর্ষি নাম গ্রহণ করেন নাই, সে পর্যন্ত প্রজাগণ তাঁহাকে দুঃখ নিবেদন করিয়া কিছু কিছু ফল পাইয়াছে। কিন্তু তিনি মহর্ষি নাম পরিগ্রহ করিলে, তাহার পর প্রজার হাহাকার তাঁহার কর্ণে প্রবেশ করিতে অবসর পায় নাই। দূরবস্থা দেখিতে নির্মীলিত চক্ষু উন্মিলিত হয় নাই।’

    এই নালিশের সব সত্য উড়িয়ে দিতে পারেন না রবীন্দ্রনাথ। তিনি জমিদারিতে গিয়ে এইটুকু উপলব্ধি করেছেন যে, বাবামশায় প্রজাদের জলকষ্ট দূর করবার জন্যে কিছুই করেননি। কোনও রকম উপকার কি তিনি আদৌ করেছেন? একথাও তো ঠিক প্রজাদের মধ্যে ইংরেজি শিক্ষার প্রসার হোক, তাও তো চাননি তিনি। তাঁর ভয়, ইংরেজি শিখলে প্রজাদের শাসনে রাখা সহজ হবে না। তারা দুর্বিনীত হয়ে উঠবে। হরিনাথ তো স্পষ্টই লিখেছেন:

    ‘ধর্মমন্দিরে ধর্মালোচনা আর বাহিরে আসিয়া মনুষ্যশরীরে নিরাপরাধে পাদুকা প্রহার, একথা আর গোপন করতে পারি না।’

    অসম্ভব। মিথ্যা লিখেছেন কাঙাল হরিনাথ। বাবামশায়ের পক্ষে এই মিথ্যাচার, নীচতা সম্ভব নয়, রবীন্দ্রনাথের সমস্ত মন বলে ওঠে। মন্দিরে ধর্মালোচনা করে নিরাপরাধ প্রজাকে জুতো মারবেন বাবামশায়? মিথ্যা। মিথ্যা। মিথ্যা।

    মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথকে বুঝতে পারা কাঙাল হরিনাথের পক্ষে সম্ভব ছিল না। ঝুড়ি ঝুড়ি মিথ্যা বলতে তাঁর আটকায়নি তাই। কিন্তু দেবেন্দ্রনাথের পক্ষে যাঁরা জমিদারির ভার দিলেন, তিনিও তো আছেন তাঁদের মধ্যে, তাঁদের সম্পর্কেই বা কীসব লিখেছেন হরিনাথ!

    ‘মহর্ষি অবসর গ্রহণ করিলে, যাঁহারা জমিদারি শাসনের ভার পাইলেন, তাঁহারা যতোধিক ইংরাজিতে সুশিক্ষিত, ততোধিক কূট কৌশলবুদ্ধির অর্থাৎ ইংরাজ পোলিশির কৃতদাস। সুতরাং ব্রহ্মপরায়ণতা ও ধার্মিকতা দেশহিতৈষিতা চিহ্নস্বরূপ গীতিকবিতা রচনা করিয়া বাহিরে যতই কেন সাধুতা প্রদর্শন না করুন, অন্যায় শোষণ ও তজ্জন্য অত্যাচারে প্রজার শরীরে আর রক্ত থাকিল না, যতই কেন অত্যাচারিত না হউক, এতই দুর্বল যে কাহারও মাথা তুলিবার সাধ্য থাকিল না, তাহারা পূর্বে চিৎকার করিত, এক্ষণে ক্ষীণস্বরে হাহাকার করিয়া বক্ষস্থল কেবল সিক্ত করিতে লাগিল। এদিকে জমিদারের অট্টালিকা কোথায় বিলাসসুখের হাস্যধ্বনিতে ও কোথায় ব্রাহ্মধর্মের শ্রুতি স্তোত্রপাঠে ধ্বনিত হইল।’

    রবীন্দ্রনাথ একটি কথাও বিশ্বাস করতে চান না। মনে মনে বলেন, বাবামশায় ঠিকই বলেছেন। এই মিথ্যার বেঁচে থাকার কোনও অধিকার নেই।

    পুড়িয়ে ফেলাই ভাল।

    ২২

    ১৮৪০।

    দ্বারকানাথ ৪৬।

    তিনি একটি চিঠি লিখেছেন পুত্র দেবেন্দ্রনাথকে। বিলেত থেকে। নথিপত্রের মধ্যে সেই সেই পত্রটি একটু আগে পড়েছেন রবীন্দ্রনাথ। এই মর্মে দেবেন্দ্রনাথকে পত্র লিখেছেন পিতা দ্বারকানাথ যে তাঁর মতো অপদার্থ পুত্রের হাতে জমিদারির ভার দিয়ে তিনি নিশ্চিন্ত হতে পারছেন না। দেবেন্দ্রনাথ অপদার্থ পুত্র কেন? কারণ তিনি জমিদারি না দেখে, খাজনা আদায়ের দিকে মন না দিয়ে, ক্রমাগত ধর্মীয় আলোচনায় সময় নষ্ট করছেন। দ্বারকানাথ যদি পারতেন বিলেত থেকে দেশে ফিরে তিনি নিজেই জমিদারি ও বিষয় সম্পত্তির হাল ধরতেন। কিন্তু সেই কাজটি করার তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। কারণ বাংলার কর্কশ জলবায়ু, প্রকৃতি পরিবেশ তাঁর শরীর সহ্য করতে পারে না। বিলেতের বাতাসে তাঁর শরীর ভাল থাকে।

    দ্বারনাথ বিচক্ষণ।

    তিনি বুঝতে পেরেছেন তাঁর বংশধরদের কেউই অর্থ উপার্জন করতে পারবে না। তাদের ওই জমিদারি ভাঙিয়েই চালাতে হবে। তিনি তাই ছেচল্লিশ বছর বয়েসেই একটি ট্রাস্টডিড করলেন। যার ফলে তাঁর ছেলেরা বাণিজ্য চালাতে না পারলেও সম্পত্তির কিছুটা অন্তত বেঁচে যাবে। তাঁরাও খেয়েপরে বাঁচবেন।

    এই ট্রাস্টডিউটির অন্তর্ভুক্ত হল তাঁর কয়েকটি জমিদারি, জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়ি, এবং দূরদর্শী দ্বারকানাথ এমন ব্যবস্থা করে গেলেন যে ব্যবসা পড়ে গেলেও তাঁর সম্পত্তি বংশধরেরা ভোগ করতে পারবেন।

    যদি দ্বারকানাথ এই ব্যবস্থা না করে যেতেন? রবীন্দ্রনাথ নিজেকে প্রশ্ন করেন।

    উত্তর ভেসে ওঠে তাঁর মনের মধ্যে। বারবার ভাবেন। তবু সেই একই উত্তর।

    পিতামহ ট্রাস্টডিড না করে গেলে, আমরা তিন পুরুষ, বাবামশায় আমি, আমার পুত্র রথীন্দ্র, এই জমিদারি ও সম্পত্তি ভোগ করতে পারতাম না।

    রবীন্দ্রনাথ মনে মনে বলেন, এই যে আমি ঘুরে বেড়াই, সাহাজাদপুর, বিরাহিমপুর, শিলাইদহ, কালীগ্রাম, উড়িষ্যার পাণ্ডুয়া, বালুয়া- সমস্তই তো দ্বারকানাথের উইলভুক্ত সম্পত্তি।

    কোনও কিছুই তৈরি করেননি বাবামশায়। কোনও নতুন সম্পত্তি আমার পক্ষেও করা সম্ভব হয়নি।

    এমনকী যে-বোটে আমি পদ্মার মুকে ভেসে বেড়াই, সেই পদ্মা-বোটও তো পিতামহের তৈরি।

    শুধু ‘পদ্মা’-নামটি আমার অবদান।

    রবীন্দ্রনাথ আরও একবার ভাবেন দ্বারকানাথকে। কী প্রবল পুরুষ। আমরা কেউ নই তাঁর মতো, একথা স্বীকার করতে তাঁর বিন্দুমাত্র দ্বিধা নেই মনে।

    দ্বারকানাথ কি ভালবাসা পেয়েছিলেন?

    তার পক্ষে কি সম্ভব ছিল পিতামহী দিগম্বরী দেবীকে ভালবেসে তাঁর সঙ্গে সারা জীবন কাটানো?

    বছর তেইশের ব্রিটিশ অভিনেত্রী এসথার-এর প্রেমে পড়লেন আমার চল্লিশ বছরের পিতামহ!

    সেটাও কি খুব অন্যায়?

    বিচার করবে কে? আমি?

    না কি মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ?

    ১৮৪৬-এর ৯ মার্চ।

    দ্বারকানাথ প্যারিস থেকে ফিরে এসেছেন লন্ডনে।

    তাঁর হঠাৎ শরীর খারাপ কেন?

    ১৮৪৬-এর ৩০ জুন।

    এক ডাচেস-এর পার্টি। কী সম্পর্ক দ্বারকানাথের সঙ্গে এই ডাচেসের?

    দ্বারকানাথকে সুরা দিলেন স্বয়ং ডিউক।

    সুরাপানের পরেই অসুস্থ কেন দ্বারকানাথ?

    একেবারে ইংরেজ সমাজের শীর্ষে প্রিন্স দ্বারকানাথের মেলামেশা।

    অনেক ইংরেজই তা সহ্য করতে পারেনি।

    বিশেষ করে দ্বারকানাথের সঙ্গে অভিজাত ইংরেজ মহিলাদের সম্পর্ক। এবং স্বয়ং রানি ভিক্টোরিয়ার মধুর আদান-প্রদান, নেপথ্য ঘনিষ্ঠতা- এসব ক’দিন সহ্য করবে ইংরেজ?

    অসুস্থ দ্বারকানাথকে নিয়ে যাওয়া হল ইংল্যান্ডের দক্ষিণ উপকূলে।

    ব্রাইটন থেকেও দূরে।

    কেন এই গোপনীয়তা?

    কারণ ওয়রদিং-সমুদ্র-তীরে আছে এক স্বাস্থ্যনিলয়!

    লন্ডনে কি হাসপাতালের অভাব হল?

    ১৮৪৬-এর ২৭ জুলাই।

    দ্বারকানাথ গভীর কোমায়! সম্পূর্ণ অচৈতন্য!

    তিনি কোনও স্বাস্থ্যনিলয়ে নেই।

    কোনও হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা হচ্ছে না।

    তিনি শুয়ে আছেন সেন্ট জর্জ হোটেলের বিছানায়।

    চারদিন পর। ৩১ জুলাই।

    মারা গেলেন প্রিন্স দ্বারকানাথ। বয়েস ৫২।

    ১৮৪৬-এর ১ অগাস্ট।

    প্রিন্সকে সমাধিস্থ করা হল কেনসিল গ্রিন-এ!

    প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুরের মৃত্যুর পরে ধস নামল ঠাকুরবাড়িতে। এই রকম সেই ধসের চেহারা :

    ১। দেড়বছরের মধ্যে উঠে গেল দ্বারকানাথ প্রতিষ্ঠিত ইউনিয়ন ব্যাঙ্ক। ১৮৪৭-এর ২৭ ডিসেম্বর।

    ২। দ্বারকানাথের মৃত্যুর তিন সপ্তাহের মধ্যে বন্ধ হল কার-টেগোর কোম্পানি। দেবেন্দ্রনাথ এবার একে একে বিক্রি করছেন দ্বারকানাথের সম্পত্তি-

    ৩। বিক্রি হল বেলগাছিয়া-ভিলা- স্বপ্নের মতো সম্পত্তি।

    ৪। বিক্রি হল কলকাতার সাহেব পাড়ায় ও বাঙালি পাড়ায় বহু অট্টালিকা ও সম্পত্তি।

    ৫। বিক্রি হল রানিগঞ্জের কোলিয়ারি ও জমি।

    ৬। বিক্রি করলেন দেবেন্দ্রনাথ বিভিন্ন জায়গার জমিদারি, কুঠিবাড়ি। এবং এই ধ্বংসের জন্য দায়ি করা হল দ্বারকানাথকেই। প্রতিবাদ করলেন অনেক পরে দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাতি ক্ষিতীন্দ্রনাথ ঠাকুর :

    ‘কার-ঠাকুর পতনের মূল কারণ দ্বারকানাথের পুত্রগণের বৃহৎ কারবার চালাইবার অক্ষমতা। একটি বৃহৎ কারবার চালাইতে গেলে যে বুদ্ধি, যে দূরদর্শিতা, এবং সর্বোপরি যে সংযম আবশ্যক, সত্যের অনুরোধে বলিতে বাধ্য যে দেবেন্দ্রনাথ প্রভৃতি তিন ভ্রাতার কেহই তাহা প্রাপ্ত হন নাই।

    পরিশ্রম করিয়া মাথার ঘাম পায়ে ফেলিয়া অর্থোপার্জনের পক্ষে তাঁহারা তিন জনেই অসমর্থ ছিলেন বলিলে অত্যুক্তি হইবে না।’

    ক্ষিতীন্দ্রনাথ ঠাকুর এইখানেই থামেননি। দ্বারকানাথের ঘাড়ে কী মিথ্যা অপবাদ দেবেন্দ্রনাথ চাপালেন, তা-ত তিনি বলে গেছেন:

    ‘দ্বারকানাথ জীবিত থাকিতে ইহার দেনা সম্বন্ধে একটি কথাও উঠে নাই। বাস্তবিক দেবেন্দ্রনাথের লেখা মত যদি ধরা যায় যে কারবারের দেনা এক কোটি ছিল এবং পাওনা সত্তর লক্ষ, অসংস্থান ত্রিশ লক্ষ। একটি বিস্তৃত চলতি কারবারের পক্ষে এই অসংস্থান যে অত্যন্ত ভয়াবহ ছিল তাহা তো বোধ হয় না। আরও দেখিতে হইবে যে দ্বারকানাথের মৃত্যুর পূর্বেই বা কি দেনা ছিল এবং তাঁহার মৃত্যুর পরে এক বৎসরের মধ্যেই বা কি দেনা হইল। দেবেন্দ্রনাথ গিরীন্দ্রনাথের কথায় সায় দিয়া তাঁহার হাতে কার্যভার সমর্পণ করিয়া ধর্মবিষয়ক চিন্তায় মনোনিবেশ করিবার প্রচুর অবসর পাইয়াছিলেন, তাহাতেই আনন্দিত। এই কারবার রক্ষা করা, পৈতৃক বিষয় প্রাণপণে রক্ষা করা যে একটা বিশেষ ধর্ম তাহা তাঁহার বুদ্ধিতে তখন প্রবেশ করে নাই। ঈশ্বরের কৃপায় তাঁহার পৈতৃক বিষয় যেন রক্ষা পাইয়া গেল। তাহা না হইলে, হাউসের দেনার দায়ে বিকিয়ে গেলে তাঁহার কি অবস্থা হইত?’

    এরপর দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্পর্কে একটি মর্মান্তিক প্রশ্ন তুলেছেন নাতি ক্ষিতীন্দ্রনাথ!

    ‘তিনি (দেবেন্দ্রনাথ) যে ধর্মের প্রতিষ্ঠার জন্য সমস্ত জীবন অতিবাহিত করিলেন, তাহার কী যে অবস্থা হইত, তাহা ভাবিতে পারা যায় না। নির্ঝঞ্ঝাটে প্রয়োজন মতো টাকাকড়ি জমিদারি হইতে আসুক, তাহা হইলেই দেবেন্দ্রনাথ সুখী।

    তিনি তাঁহার পিতাকে খুব অল্পই বুঝিতে পারিয়াছিলেন। দেবেন্দ্রনাথ তাঁহার পিতার বিশ্বতোমুখী প্রতিভা যে আয়ত্ত করিতে পারেন নাই, তাহা কিছু আশ্চর্য নহে।’

    ২৩

    ভোরের আলো এবার ফুটতে চলেছে।

    আর দেরি নয়।

    পিতার আদেশ অমান্য করা অন্যায়। পাপ।

    রবীন্দ্রনাথ মনে মনে তৈরি, দ্বারকানাথের সমস্ত নথিপত্র, বাণিজ্যের সকল ইতিহাস ও প্রমাণ পুড়িয়ে ফেলার জন্য।

    আর ভাবনার সময় নেই।

    ভাবনা মানেই দুর্বলতাকে প্রশ্রয় দেয়া।

    পিতামহের নথিপত্রে অগ্নিসংযোগ, এই আমার একমাত্র কর্তব্য।

    জোড়াসাঁকোর বাড়ির ছাদের এক কোণে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটালেন রবীন্দ্রনাথ।

    বেশিক্ষণ লাগল না।

    সমস্ত নথি পুড়ে ছাই হয়েছে।

    সম্পূর্ণ অবলুপ্ত।

    ক্ষীণতম আশা নেই পুনরুদ্ধারের।

    রবীন্দ্রনাথ ছাইগাদার উপর ঢেলে দিলেন গঙ্গাজল।

    সুপ্ত হোক। শান্ত হোক। স্নিগ্ধ হোক অতীত।

    এখন শুধু বর্তমান।

    দ্বারকানাথের লুপ্তি ছাড়া পিতার প্রতিষ্ঠা অসম্ভব।

    আর মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথের প্রতিষ্ঠা ছাড়া নিজেকেও কি কোনও দিন আচার্যের আসনে ভাবতেন পারবেন?

    পুবের আকাশে উঠছে রাঙা সূর্য।

    ঠিক যেন ঈশ্বরের মুখ, মনে হল রবীন্দ্রনাথের।

    সূর্যপ্রণাম করলেন তিনি।

    তারপর প্রতিশ্রুত হলেন নিজের কাছে। সূর্যের কাছেও।

    জোড়াসাঁকোর বাড়ির নাম দেব ‘মহর্ষি ভবন’।

    প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুরের লুপ্তি তাহলেই সম্পূর্ণ হবে।

    পুণ্যের জয়।

    পাপের পরাজয়।

    এ তো চিরকালীন সত্য।

    ভাবলেন প্রভাত সূর্যে স্নাত রবীন্দ্রনাথ।

    তাঁর বুকটা বেশ হালকা লাগছে।

    বেশ সংশয়হীন আর তৃপ্ত তিনি।

    পিতার অমৃতদীক্ষায় শান্তায়িত!

    ⤶
    1 2 3
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleস্বাধীনতা যুদ্ধে অচেনা লালবাজার – সুপ্রতিম সরকার
    Next Article ঠাকুরবাড়ির গোপনকথা : দ্বারকানাথ থেকে রবীন্দ্রনাথ

    Related Articles

    রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়

    ঠাকুরবাড়ির গোপনকথা : দ্বারকানাথ থেকে রবীন্দ্রনাথ

    August 12, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    মোহিত কামাল
    রকিব হাসান
    রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাহীন আখতার
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্তোষকুমার ঘোষ
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সাগরময় ঘোষ
    সাদাত হোসাইন
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুপ্রতিম সরকার
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    August 12, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    August 12, 2026
    Our Picks

    স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    August 12, 2026

    তালাশ – শাহীন আখতার

    August 12, 2026

    রাধাকৃষ্ণ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 12, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }