Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ত্রিধারা – সমরেশ বসু

    সমরেশ বসু এক পাতা গল্প488 Mins Read0
    ⤷

    ১. বাড়িটা কেমন হয়ে গেছে

    বাড়িটা কেমন হয়ে গেছে আজ। কেমন একটা বিষণ্ণতা, চাপা অস্বস্তি ঘিরে রয়েছে সারা বাড়ি। শুধু এই বাড়িটি।

    আর সব অস্বস্তিটুকু এসে যেন জমেছে সুমিতার মনে। ওরই পায়ে পায়ে অস্বস্তির ছায়া ঘুরে ঘুরে বেড়াচ্ছে পড়ার ঘর থেকে শোবার ঘরে। বাবার ঘর থেকে বড়দির ঘরে। বড়দির ঘর থেকে ওর আর ওর মেজদির ঘরে। উত্তরের বারান্দা পার হয়ে খাবার এবং পাশে রান্না ঘর। সবখানে কীসের একটা ছায়া ঘুরে বেড়াচ্ছে। যেখানে যায় সুমিতা, সেখানেই। যেন ওরই পায়ে পায়ে ফিরছে।

    শুধু অস্বস্তি নয়, অশান্তিও। তার সঙ্গে কেমন একটু বুক চাপা ব্যথা ভার হয়ে চেপে আছে সর্বত্র।

    রান্নাঘরের পাশ দিয়ে ছোট সিঁড়ি নেমে গেছে বাগানের মধ্যে। ছোট বাগান। সামান্য কিছু ফুলগাছ। একটি কিশোরী স্বর্ণচাঁপা গাছ আছে এক কোণ ঘেঁষে। আর নিতান্ত শখ করে লাগানো কিছু শীতের আনাজ। সযত্ন হাতের ছোঁয়ায় এ সামান্যই কেমন অসামান্য হয়ে উঠেছে সবুজের সমারোহে। আজ সেখানেও সেই বিষণ্ণতা। এই শেষ শীতের দিনেও গুটি কয়েক মাঘের ফুলকপি, হাতে গোনা দুটি বাঁধাকপি। রূপ আছে যদিও, গন্ধহীন কিছু মরশুমি ফুলের গাছ। ফুটনোন্মুখ দুটি ডালিয়া আর কেমন একরকমের গাঢ় লালে হঠাৎ কালোর ছোঁয়ায় চাপা ব্যথার রং লেগেছে কিছু ফোঁটা কারনেশনে। কিছু আছে ক্রিসানথিমাম। স্বর্ণচাঁপার সুদীর্ঘ কাঁচা-সবুজ রং পাতার ঝাড়। পুবে-পশ্চিমে ছড়ানো এ ফালি বাগানের অসংখ্য উন্মুক্ত চোখের মতো পাতাগুলি। সবখানেই তার বিন্দু বিন্দু শিশিরে অশ্রু বিষণ্ণতা, জমাট হয়ে আছে নিঃশব্দ কান্না। ফাঁকে ফাঁকে মাকড়সার জালগুলিতে আলোর ছোঁয়ায় রং লাগেনি এখনও।

    যেখানে যায় সুমিতা সবখানেই সেই অশান্তির ছায়া।

    সামনের পুবদিকের তেতলা বাড়িটার ছাদ ডিঙিয়ে দেখা যাচ্ছে কাঁচা রোদের ইশারা। দক্ষিণের যাত্রা শেষ করে, উত্তরায়ণে বাঁক নিয়েছে সবে সূর্য। উত্তরে বাঁকা রেখা রোদ কাঁপছে তেতলার আলসের কার্নিশে। নতুন উত্তাপ তার কিরণে। সাগরপারের নতুন বাতাস আসবে পাগলা ঘূর্ণনে। সোনার মতো মাঘের রোদে তারই আভাস ছড়িয়ে পড়েছে দিকে দিকে। এখানে দিগন্ত ব্যাপে রোদ ছড়াবার জায়গা নেই। জ্যামিতিক ভঙ্গিতে হঠাৎ সামনের রাস্তাটির কোথাও রোদ পড়েছে ত্রিভুজাকারে। কোনও বাড়ির দক্ষিণ দেয়াল রাঙিয়ে, পেছনের বাড়ির পুবদিকে চকিতে দিয়েছে ছুঁড়ে এক কণা রোদ। দেয়াল থেকে দেয়ালে, আলসেয়, জানালায়, হঠাৎ রোদ ঝলমল করছে ঋজুরেখায়। ফাঁকে তার কোথাও হঠাৎ এক কৃষ্ণচূড়া রাস্তার সীমানায়, কিংবা বাড়ির সীমানায় মাথা তুলেছে নারকেল নয় তো কলমের আমগাছ। শহরের এ দক্ষিণ সীমায় সবুজের দাক্ষিণ্য কিছু বেশি।

    কেমন একটি সচকিত খুশির আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে এই সকালের রোদে। দূর থেকে ভেসে আসছে ট্রামের ঘর্ঘর ধ্বনি। কখনও-সখনও তীব্র হর্নের ক্ষীণ রেশ শোনা যাচ্ছে। কেউ শেষ অবধি ঘুরিয়ে দিয়েছে রেডিয়োটার ভলুম রেগুলেটার। হঠাৎ খুশির মতো ছড়িয়ে পড়ছে গানের সুর। সামনের রাস্তায় স্বল্পজনের রকমারি পদশব্দ। পথ চলতি কিছু কথাবার্তা, হঠাৎ একটি ডাক দিল হয়তো কেউ কাউকে। সব মিলিয়ে একটি কর্মচঞ্চল খুশি খুশি ভাব দিকে দিকে।

    শুধু এখানে, এই বাড়িটি স্তব্ধ ভার। একতলা বাড়িটার হলদে মাথায় পড়েছে রোদ। স্বর্ণচাঁপার আগডালে সোনার ঝিকিমিকি। তবু যেন কী এক থম ধরা।

    যেন কিছু হয়নি, যেন প্রত্যহের মতোই, সকালের রোদের আশায়, ভাললাগা মনটি নিয়ে ঘুরে ফিরে বেড়াচ্ছে সুমিতা। ও বেড়াচ্ছে আর ওঁরা, অর্থাৎ বাবা, বড়দি, মেজদি যেন প্রত্যহের মতোই ঘরে কিংবা বাগানে লাগিয়েছে তর্ক। অদ্ভুত সব কথা। কোনও কোনও কথা শুনতে সত্যি বড় লজ্জা করে সুমিতার। মুখ লাল হয়ে ওঠে। বোঝা-না-বোঝা ভাবে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকায় সকলের মুখের দিকে। ও বোঝে, সব কথা ওর শুনতে নেই, বোধ হয় বুঝতেও নেই। তখন ও সরে পড়ে, ঘুরে ফিরে বেড়ায় এখানে সেখানে।

    যেন তেমনিভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছে সুমিতা। বারবার বোঝাতে চাইছে মনকে, কিছু হয়নি, কিছুই হয়নি। কিছু হয়নি, ও যেন শুধু ঘুরে ফিরে বাগানে নেমে আদরের ভঙ্গিতে হাত বাড়াতে গেল ফুলগাছের দিকে। সতেজ ডালে সবুজ পাতার পাশে শুকনো মরা পাতা ভেঙে দেবে বলে।

    হাত বাড়াল, কিন্তু গাছে গিয়ে স্পর্শ করল না। আবার ফিরে তাকাল ঘরের দিকে। এখানে ওর মন নেই, মন পড়ে আছে অন্যত্র। বুকের মধ্যে খচ খচ করে উঠছে। মুচড়ে মুচড়ে উঠে কান্না পাচ্ছে কেবলি। শুধু তো অশান্তি নয়, অস্বস্তি নয়। একটি অদৃশ্য কাঁটা বিঁধে আছে এ বাড়িটার হৃৎপিণ্ডে। আর সেই কাটাটি যেন আমূল বিঁধেছে ওরই বুকে। সব খোঁচাখুঁচির রক্তক্ষরা যন্ত্রণা যেন সুমিতারই। সারা বাড়িটার সমস্ত দুশ্চিন্তার কালো ছায়া তাকেই ঘিরে আছে।

    বাগান থেকে দেখা যায়, প্রত্যেকটি ঘরের প্রতিটি জানালা বন্ধ। কাঁচের শার্সির আড়ালে পরদাগুলি কোনটা গুটানো, কোনটা স্প্রিংয়ের গায়ে টান টান করে মেলা। কিছু দেখা যায় না ঘরের মধ্যে। সাড়া-শব্দ নেই কারুর। এক অস্বস্তিকর স্তব্ধতা বিরাজ করছে সবখানে। কেবল রান্নাঘরে বিলাসের কাজের সামান্য শব্দ পাওয়া যাচ্ছে। একটু আগেই সসপেনে মাখনের ছ্যাঁৎ ছ্যাঁৎ শব্দ শুনে সুমিতা বুঝতে পেরেছে বাবার জন্য পোচ তৈরি করছে বিলাস। জন্ম থেকে দেখে আসছে সুমিতা, সকালবেলার চায়ের সঙ্গে ওইটি তার বাবার চিরকালের খাবার। আর তাদের তিন বোনের জন্য হয়তো রুটি সেঁকবে এবার কিংবা সেঁকা হয়ে গেছে। তার সঙ্গে আরও কিছু। আরও কিছুর পর চায়ের জল চাপবে। তারপর বাবার ঘরে ডাক পড়বে সকলের।

    তখন কী হবে। একই টেবিলের এপাশে ওপাশে যখন বসবে সবাই, তখন এই নিস্তরঙ্গ স্তব্ধতা হঠাৎ কেমন করে ভাঙবে। কে ভাঙবে! সে কথা ভেবে এখনই সুমিতার বুকের মধ্যে ধক ধক করছে। এটুকু ওর ভয় নয়, আনন্দও নয়, এক অপার বিস্ময়ের আলো আঁধার। কিছুক্ষণ পরের সেই ভবিষ্যতের বুকে উৎকণ্ঠিত কান পেতে আছে ও।

    কিন্তু আজকের স্তব্ধতা ভাঙার পরই আসল কলরব উঠবে যখন, তখনই আসল ভয়টা দেখা দেবে।

    গতকাল পর্যন্তও এবাড়ির আবহাওয়া যেন অনেকখানি স্বচ্ছ ছিল। মানুষগুলির চলায় ফেরায়, কাজে কর্মে, কথায় চাউনিতে বারে বারে এ দিনটির ছায়া উঁকি দিলেও প্রত্যহের জীবনে কোথাও ব্যতিক্রম দেখা দেয়নি। তবু এ দিনটির মুখোমুখি যাতে দাঁড়াতে না হয়, সে চেষ্টা অনেক করা হয়েছে। তলে তলে নানাভাবে চেষ্টা করা হয়েছে এ দিনটিকে প্রতিরোধ করার জন্যে। কিন্তু প্রকৃতির অমোঘ নিয়মের মতো এই দিন এসেছে।

    এসেছে, তবু এখনও একটি ক্ষীণ আশা রয়েছে। তাই সুমিতা উৎকর্ণ হয়ে আছে, কখন বাড়ির সামনের লোহার গেটটা বিলম্বিত সুরে উঠবে ককিয়ে। শব্দটা বেশ জোরে হয়। কোনও কোনও অন্ধকার বাতাস হুতাশন রাত্রে, উত্তরের ডেপুটির বাড়ির সোহাগি বিড়ালীটা যেমন অদ্ভুত স্বরে তাদের বাগানে এসে ডাকে টেনে টেনে, ঠিক তেমনি শব্দ হয় গেটে। প্রতিদিনের শোনা সেই শব্দ, আজকে শোনবার জন্যে কান পেতে আছে সমস্ত হৃদয়। কখন শব্দ হবে, কখন দেখা যাবে রবিদা আসছেন ঠিক তেমনি মাথাটি একটু হেলিয়ে। বুদ্ধিদীপ্ত প্রশান্ত মুখে তার সেই সহৃদয় স্বাভাবিক হাসিটুকু নিশ্চয় আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠবে শেষ মুহূর্তের কৃতকার্যতায়। মুহূর্তে সমস্ত স্তব্ধভার অন্ধকার পালাবে মুখ ঢেকে। রবিদাকে প্রথম ছুটে গিয়ে অভিনন্দিত করবে সুমিতা। যেন তারই জীবনের এক জীবন-মরণ রুদ্ধশ্বাস সমস্যার সমাধান নিয়ে আসবেন রবিদা।

    কিন্তু, সে এ বাড়ির সকলের ছোট। এখনও পর্যন্ত কোনও বিষয়ে তার মতামতের দাম নেই। কোনও গুরুত্ব নেই তার কথার। কোনও গুরুতর বিষয়ে কেউ আলোচনা করে না তার সঙ্গে। বাবা তাকে আদর করে রুমনি বলে ডাকেন। বড়দি মেজদিকে বলেন উমনি আর ঝুমনি। সে ডাকেও আদর আছে। কিন্তু আরও কিছু আছে, যা দিয়ে সুমিতার মনে হয় ওরা বড়দি আর মেজদি, সুজাতা আর সুগতা। সুমিতা শুধুই রুমনি। এ বাড়ির ছোট মেয়েটি! যাকে আদর করা যায়, ধমকানো যায়, কাজে কর্মে ফাঁই ফরমায়েশ করা যায়। বিশেষ কোনও কথার সময়ে বলা যায়, রুমনি তুমি একটু ওঘরে যাও তো এখন। হঠাৎ বাইরের কোনও নতুন নোক এলে কয়েক মুহূর্ত সুমিতা কিছু প্রাধান্য পায়। তারপর যখনই পরিচয় হয়ে যায়, সে হচ্ছে এ বাড়ির রুমনি, সেই মুহূর্তেই সমস্ত প্রাধান্য যেন যায় শেষ হয়ে। আর মানুষ কী বিচিত্র! তবুও সকলের চোখ থেকে থেকে পড়ে ওর দিকে। পড়তে হয় বলেই বোধ হয় পড়ে। রাস্তায়-ঘাটে, ট্রামে বাসে, সবাই এমন তাকায় ওর দিকে। তার কারণ আর কিছুই নয়, ওর চেহারাটার জন্যে সবাই তাকায়। হয়তো আরও কিছু মনে করে, যেমন, প্রথম দর্শনে মনে করে তাদের বাড়িতে আসা নতুন লোকগুলি। যদি জানতে পারত, সে শুধুমাত্র রুমনি, তা হলে সকলের চোখের চাউনি যেত বদলে।

    এ বাড়ির কোনও দুঃখের ব্যাপারে ওর দুঃখিত হতে নেই। পারিবারিক কোনও জটিল বিষয়ে ওর কিছু নেই চিন্তা করার। এমনকী, বড়দের অনেক হাসির কথায় হাসাও উচিত নয়।

    এ সীমারেখাঁটি যত না টেনে দিয়েছে বাড়ির লোকেরা, তার চেয়ে হয়তো কিছু বেশি টেনেছে সুমিতা নিজে। ও যে রুমনি, সে কথাটি নিজে ভুলতে পারে না কখনও।

    কিন্তু জীবনের কোন ফাঁক দিয়ে, কবে কখন ওর মনটি আড়ালে আড়ালে টপকে গেছে সেই সীমারেখা, সে খবর রাখেনি নিজেই। গৃহস্থের বাড়ির পাঁচিল ডিঙিয়ে যেমন করে ঢোকে বনলতা, ঠিক তেমনি। যখন সে ঢোকে, তখন কারুর নজরে পড়ে না। যে ঢুকেছে, সে জীবনের স্বাভাবিক গতিতে বাড়ছে। প্রত্যহের কাজের মাঝে গৃহস্থের নজরে পড়ে না তা। তারপর আরও ঢোকে, আরও আরও। অনেকখানি ছড়িয়ে, লকলকিয়ে এপাশে ওপাশে বাড়তে থাকে। তখন নজরে পড়ে। তখন আর অন্ত থাকে না বিস্ময়ের।

    ওর মনটিও তেমনি অদৃশ্যে টপকে এসেছে সেই সীমারেখা। কিন্তু সেটা নজরে পড়েনি কারুর। তাই বাড়ির আজকের অস্বস্তি ও অশান্তির মধ্যে সুমিতার কথা কারুর মনেও পড়ে না। ভাবেওনি কেউ।

    কিন্তু যে দুর্ভাবনার অধিকার ওকে কেউ দেয়নি, যেটুকু আপনি এসেছে মনে, সেটুকু লুকিয়ে রাখতে হচ্ছে ওকে। যত না ভয়ে, তত লজ্জায়। আজকের ঘটনা ওকেই বিচলিত করেছে সবচেয়ে বেশি। ওর বেদনা, কান্না, অস্বস্তি অশান্তি ছাড়িয়ে গেছে সবাইকে। যে বাতাসের ঘায়ে অকম্পিত অবিচল থাকে বড় শক্ত-পোক্ত গাছগুলি, সবচেয়ে কচি লতাটি সেই বাতাসেই যেন পড়ে ছিঁড়ে ছিঁড়ে।

    সুমিতা সারা হচ্ছে ভেবে। কী হবে! কী হবে এর পরে!

    বড় বড় দুটি ব্যাকুল উৎকণ্ঠিত চোখে তাকাচ্ছে রাস্তার দিকে। এতক্ষণ সময়ের মধ্যে মাত্র তিন বার লোহার গেটটা উঠেছে ককিয়ে। বিলাস এক বার বাইরে গিয়েছিল, আবার ফিরেছে। আর ঝি এসেছে। সেই শেষ বার শব্দ হয়েছে। তারপর যেন বরফের মতো জমে গেছে গেটটা। আর কোনওদিন বুঝি শব্দ হবে না।

    কিন্তু কখন আসবেন রবিদা। আজকের এই মাঘী সকালে, উনিই যে সত্যিকারের উত্তরায়ণের বাঁকে ফেরা সূর্য। ওই লোহার গেটের দিকচক্রবালে কখন উদয় হবেন। ওঁর সেই গম্ভীর কিন্তু অমায়িক হাসি দিয়ে ফুঙ্কারে উড়িয়ে দেবেন সব ভয়।

    কিন্তু সুমিতার নিষ্পলক চোখ জ্বালা করে জল এসে গেল, তবু না, রবিদার চিহ্নও নেই কোথাও। রাস্তায় বাড়ছে লোক চলাচল। এত লোকের আনাগোনা। কিন্তু যাকে চাই, সে আসে না। এমনিটিই হয়। তবু রবিদার আসার সময় তো অনেকক্ষণ হয়ে গেছে।

    রান্নাঘরের পাশের সিঁড়ি দিয়ে আবার বারান্দায় উঠে এল ও। এমনি করে অনেক বার করেছে ঘর বার। আবার মন টানছে ঘরের দিকে। বড়দির ঘরের দিকে। যাকে নিয়ে আজ সারা বাড়ির চেহারা গেছে বদলে। যার জীবনের একটি অধ্যায় হয়তো একেবারে শেষ হয়ে যাবে আজ। যদি না হয়, তবে হয়তো ঝুলে থাকবে ত্রিশঙ্কুর মতো। আজ বিচারক রায় দেবেন ওর জীবনের। সত্যি সত্যি বিচারক, সত্যি সত্যি কোর্ট, কাছারি, মামলা। ভাবতে ভাবতে সুমিতার বুকের মধ্যে কনকনিয়ে উঠল।

    আজকে বড়দির বিয়ের তিন বছর পূর্ণ হবে। পূর্ণ হবে সন্ধ্যারাত্রি আটটার কাঁটায় কাঁটায়। তার আগেই, বেলা এগারোটা থেকে চারটের মধ্যে কোনও এক সময় হয়তো বড়দির সঙ্গে গিরীনদার বিচ্ছেদের রায় হয়ে যাবে। ভীষণ রাশভারী অথচ ভারী অমায়িক মানুষ গিরীনদা। মস্ত বড় প্রেসের মালিক। সুমিতাদের তুলনায় মস্ত বড়লোক। বিয়ের বছরখানেক আগে ওদের পরিচয় প্রেমে পরিণত হয়েছিল। আর বিয়ের এক বছর পর প্রথম শোনা গিয়েছিল ওদের বিবাদের কথা। কত কথা শোনা গেছে তখন, কত ঘটনা ঘটে গেছে এত দিনে। গত বছর এমন দিনেই বড়দি চলে এল গিরীনদার বাড়ি থেকে। স্বভাবতই বাবা নিয়েছিল বড়দির পক্ষ। মেজদিও তাই। বরং কিছু বেশি। চেষ্টা চালাতে লাগল বোঝাপড়ার। সেই ফাঁকেই যেন বিবাদের চেহারাটা হয়ে উঠতে লাগল ভয়াবহ। কথা উঠল, আলাদা হওয়া যাক উভয়পক্ষের সম্মতিক্রমে। সেই প্রথম ভয়ে কুঁকড়ে উঠেছিল সুমিতা। সেই প্রথম নিজেরই অজান্তে রুমনির মন সকালের অলক্ষে টপকাল তার সীমারেখা। সে সীমারেখা হল ওর ব্যথা পাওয়ার অনধিকার চর্চা। আলাদা হওয়ার কথাটা কোনও সুরাহা করল না। যে দুজনকে নিয়ে ঘটনা, তলে তলে বাড়ল তাদের রেষারেষি। আগুন জ্বলল ভাল করে। ব্যাপারটা উঠল গিয়ে কোর্টে। ঘরের কথা বাইরে যেতে না যেতে হাটের আসর উঠল জমে। উভয়পক্ষেই ইন্ধন জোগাবার লোকের অভাব হল না একটুও। উপকারীর দল এলেন ছুটে। একটি কথাই বারবার শুনতে পেয়েছে সুমিতা। জুডিশিয়াল সেপারেশন। হিন্দু বিবাহ না হলে ডাইভোর্স হত।

    জুডিশিয়াল সেপারেশন। আজ তার রায় পাওয়া যাবে। কী রায় পাওয়া যাবে না যাবে, সে কথা এক বারও মনে হয়নি সুমিতার। এবার কী হবে, সেই কথা ভেবে বুকে পাষাণভার।

    মানুষের জীবন মনের জটিল দ্বন্দ্ব বোঝে না সে। বড়দিকে ভালবাসে, শ্রদ্ধা করে। যে কথা মুখ ফুটে কোনওদিন বলার সাহস হবে না, সে কথা হল, ওর হৃদয় মাঝের অনেক মনের একটি অস্পষ্ট মন– গিরীনদাকেও ভালবাসে। সে-ই যে ও কত বেশে কত দিন দেখেছে বড়দি আর গিরীনদাকে, কত বিচিত্র পরিবেশে, সেই ছবিগুলি আঁকা হয়ে গেছে ওর তখনকার কিশোরী বুকে। সে ছবি একটুও ম্লান হয়নি এই সবে বাড়ন্ত যৌবনের মুহূর্তে। সেই ছবিটি যেন একটি ঝকঝকে নীল আকাশ, রসসিক্ত উর্বর মাটি, একটি মসৃণ পাঁচিল, কিছু মৃদু মন্দ বাতাস। যার মাঝখান দিয়ে মনের কচি লতাটি আড়ালে আড়ালে ছড়িয়ে ছাড়িয়ে উঠেছে তর তর করে। ওদের চাউনি, হাসি, ভালবাসাবাসি, সে সবই শেষ হয়ে যাবে।

    জজের বিচার কী হবে কে জানে। কিন্তু তারপরে কী করবে গিরীনদা আর বড়দি। তারপর কী হবে দুজনের, সেই কথা ভেবে ও অস্থির হয়ে উঠেছে ভয়ে ও ব্যথায়। সেই কথা ভেবেই যত বুকের কাঁপন, যত যন্ত্রণা। সে কথা বড়দি কেমন করে ভাবছে সুমিতা জানে না। মেজদির বিক্ষুব্ধ মুখে সে কথার ছায়াও দেখা যায় না। কেবল বাবাকে যখন একলা বসে থাকতে দেখে, তখন ওঁর বিশাল মুখখানিতে যেন কীসের একটি করুণ ছায়া দেখতে পায়। সে ছায়া যে কেন, কীসের জন্যে, ও তা ভেবে কূল পায় না। সব মিলিয়ে দেখতে গেলে, সবাই যেন এক। কেবল একই বাড়িতে, একই পরিবেশে ওর মনটি আলাদা হয়ে গেছে সকলের কাছ থেকে।

    সত্যিই আলাদা। বাবার সঙ্গে দুই দিদির যেমন সম্পর্ক, সুমিতার সঙ্গে তেমন নয়। বাবা ওকেও ভালবাসেন, অনেক কথা বলেন। কিন্তু বড়দি মেজদি আগে জন্মেছে বলে তাদের সঙ্গে বাবার সম্পর্কটা গড়ে উঠেছে অন্যরকম। সুমিতা যখন চোখ মেলে বাবাকে দেখতে শিখেছে, তখন বাবা কিছু ক্লান্ত, সৌম্য, একটু যেন করুণ। সন্তানের প্রতি একটু বেশিমাত্রায় স্নেহপরায়ণ বিপত্নীক এক ভদ্রলোক। চলায় ফেরায় কথায় ফুটে ওঠে একটু অসহায়তার আভাস। সেই মানুষটির সঙ্গেই সুমিতার ভাব, চেনাশোনা।

    কিন্তু বড়দি মেজদি আর বাবা, তিনজনে মিলে আর একরকম। যাদের সবটুকু সে চেনে না, বোঝে না। আর জানে, তা বুঝতেও নেই।

    কিন্তু সময় তো চলে যায়। বাইরের ঘরের পরদায় হাত দিতে গিয়ে ও থমকে দাঁড়াল। আবার তাকাল গেটের দিকে। না, রবিদার ছায়াও দেখা যায় না। শুধুই অচেনা মানুষের যাওয়া আসা।

    শেষ আশা রবিদা। উনি এ বাড়ির যেমন একনিষ্ঠ বন্ধু তেমনি অন্তরঙ্গ বন্ধু গিরীনদার। গিরীনদাদের পরিবারেরও এ ব্যাপারের একমাত্র বাইরের মানুষ, প্রকৃত বন্ধুর মতো এ দুয়ের ভিতরে ছুটোছুটি করছেন শেষরক্ষার জন্যে। গতকাল রাত্রেও বাবার সঙ্গে আড়ালে কথা বলে গেছেন উনি। বলে গেছেন, আজ রাত্রে একবার শেষ চেষ্টা করে দেখব গিরীনের সঙ্গে কথা বলে। ওর পক্ষ থেকে শেষ পর্যন্ত যদি কিছু করা যায়। শুনে সুমিতার ভীরু অস্থির অন্তরে মন্দ্রিত হয়ে উঠেছিল মহারব ভেরি। ইচ্ছে হয়েছিল, ছুটে গিয়ে দু হাতে জড়িয়ে ধরে রবিদাকে।

    সেই ধরার ব্যাকুল-খুশি-আশায় মনে মনে হাত বাড়িয়ে আছে। কখন আসবেন রবিদা! যেন ওঁর হাতেই আছে সেই প্রসন্নময়ের ঘুম ভাঙানো সোনার কাঠি।

    ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅপরিচিত – সমরেশ বসু
    Next Article শালঘেরির সীমানায় – সমরেশ বসু

    Related Articles

    সমরেশ বসু

    প্রজাপতি – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    গঙ্গা – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    বিবর – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    অকালবৃষ্টি – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    নয়নপুরের মাটি – সমরেশ বসু

    December 1, 2025
    সমরেশ বসু

    শ্রীমতি কাফে – সমরেশ বসু

    December 1, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }