Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ত্রিধারা – সমরেশ বসু

    সমরেশ বসু এক পাতা গল্প488 Mins Read0
    ⤶

    ৫. মহীতোষ চুপ করে রইলেন

    সারাটি রাস্তা মহীতোষ চুপ করে রইলেন। সুমিতা শূন্যদৃষ্টিতে দেখছিল দুপুরের ভিড়হীন রাস্তা। আর থেকে থেকে, লুকিয়ে দেখছিল মহীতোষকে। যেন এক মহা দুর্দৈবের পর, নতুন করে আবার সবটুকু ঘুরিয়ে ফিরিয়ে পর‍্যালোচনা করার সময় এসেছে।

    ট্রাম মেডিকেল কলেজ ছাড়াতেই দেখা গেল পুলিশ ভ্যান রয়েছে দাঁড়িয়ে মির্জাপুর স্ট্রিটের মধ্যে। কোমরে রিভলবার খুঁজে দুজন অফিসার দাঁড়িয়ে রয়েছে স্কোয়ারের রেলিং-এর কাছে। পুলিশবাহিনী রয়েছে একটি আলাদা গাড়িতে। হেলমেট রাইফেল রীতিমতো যুদ্ধের সাজ তাদের সর্বাঙ্গে। কিন্তু আশ্চর্য রকম অলস চাউনি তাদের চোখে। যেন তন্দ্রালু, অথচ অনুসন্ধিৎসু চোখে তাকিয়ে দেখছে স্কোয়ারের দিকে! মুখগুলি ভাবলেশহীন। কেবল অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান অফিসার দুজনকেই যা একটু বুদ্ধিমান মনে হচ্ছে। সেটাও বুদ্ধি ঠিক নয়, ক্রোধের দীপ্তি। দুজনেই তাকিয়ে আছে স্কোয়ারের ভিড়ের দিকে।

    সবই দেখা হয়ে গেল চোখের পলকে স্কোয়ারের ছাত্রছাত্রীদের জটলা। মিটিং হচ্ছে, কিন্তু বোঝা যাচ্ছে, কোনও উত্তেজনা নেই। উত্তেজনা যেটুকু, সেটুকু রাইফেল হেলমেটেই সীমাবদ্ধ। এখন আর এ সব দেখে ভয় বিস্ময়, কিছুই হয় না। ট্রাক, ট্যাঙ্ক, কামান, কনভয়ের সারি, সৈন্যবাহিনী পুরনো হয়ে গেছে। গতবছর গোড়ার দিকে সারা কলকাতার অলিতে গলিতে গুলিবৃষ্টি হয়েছে। আগে দাঙ্গা উপলক্ষেও পুলিশ মিলিটারি অবরোধ করে রেখেছিল কলকাতা। এখন মুখ না খুলতেই এরা হাজির হয়।

    ভয় নয়, দুর্ভাবনা হচ্ছে। স্কোয়ারের ওই ভিড়ের মধ্যে মেজদি রয়েছে। হয়তো কলেজে এলে, সুমিতাও পায়ে পায়ে চলে যেত ওখানে। কিন্তু এখানে এই চলন্ত ফাঁকা ট্রামে অশেষ বেদনায় নির্বাক দুজনের চোখে দুশ্চিন্তার ছায়া এল ঘনিয়ে। কিছুই বলার নেই। যার জন্যে দুশ্চিন্তা, সেই মেজদিকে ডেকে আনা যাবে না কোনওক্রমেই।

    তারপর বাগবাজারের মোড়ে নেমে দুজন হেঁটে এসে দাঁড়াল সেই বাড়িটির সামনে। আজ আর মহীতোষ কোথাও যাবার জায়গা খুঁজে পাননি, এ বাড়ি ছাড়া। সুমিতা আরও কয়েক বার এসেছে এ বাড়িতে।

    এখানে কলকাতার আর এক রূপ, আর এক রস, আর এক গন্ধ। গত শতাব্দীর নির্জীব ভাঙা জীর্ণ কলকাতা বুড়ো চোখে তাকিয়ে আছে এখানে। দক্ষিণের নতুন কলকাতা এখানে এসে করুণা ও বিতৃষ্ণা বোধ করে। কেমন যেন হতশ্রী, রূঢ় এখানকার পরিবেশ। এখানকার বাড়ি, এখানকার রাস্তা, দোকানপাট, লোজন, রকের আড্ডা, ভ্রাম্যমাণ ষাঁঢ়, সবকিছুর মধ্যে একটি ভিন্ন চরিত্রের ছাপ রয়েছে। অন্তত তার বাইরের বেশ দেখে তাই মনে হয়। এখানে মানুষ বাস করে চেঁচিয়ে হেঁকে ডেকে। পুরনো বাঙালির আস্তানা এখানে। অথচ শহুরে জীবনের বাঁধনটি আছে আষ্টেপৃষ্ঠে।

    এখানেই মানুষ হয়েছে মহীতোষ, এ পাড়াতেই বড় হয়েছে। যে বাড়িতে ঢুকবেন, জন্মেছেনও সেই বাড়িতেই। তবে সে বাড়ি এ বাড়িতে এখন অনেক তফাত হয়ে গেছে। তখন এত নতুন ছোট ছোট ঘর উঠে ঘিঞ্জি হয়ে ওঠেনি, এত লোকের বাস ছিল না। এখন দিনের বেলায় আলো জ্বালিয়ে না রাখলে সিঁড়ি দিয়ে ওপরে ওঠা যায় না। নীচের উঠোনটার দিকে তাকাতেও ভয় করে। প্রচুর ভাড়াটের ভিড়। তাদের ব্যবহৃত সমস্ত জল দিনরাত্রি অন্ধকার উঠোনটিকে ভয়াবহ রকম পিছল করে রেখেছে। তেতলার ঘেরাও থেকে এখানে আলোটুকু এসে পৌঁছুবার আগেই অন্ধকার জাঁকিয়ে বসে মুখ ভেংচায় আকাশটাকে। অনেক লোক, তাই অনেক গণ্ডগোল, চিৎকার। সবসময়েই ভিড়ের মধ্যে বাস।

    বাড়ির মালিক যারা, মহীতোষের ভাইপো, তারা থাকে তেতলায়। তারা এ সব ভিড়ের ছোঁয়াচ বাঁচিয়ে আছে অনেকখানি। সেটুকু সহ্য করতে হয়, সেটুকু আয়ের কথা চিন্তা করে করতেই হয়। সব মিলিয়ে মাসে তিনশো টাকা ভাড়া পায়।

    সুমিতা ভেবে পায় না, মানুষের নিজের এত বড় বাড়ি থাকতে কেন তারা আকাশের টংএ পায়রার খোপের মধ্যে থাকে গাদাগাদি করে।

    দুজনে তেতলায় এসে দাঁড়াতেই একটি বছর দশেকের ছেলে উঠল চিৎকার করে, ঠাকমা, বালিগঞ্জের দাদু এসেছে।

    বলেই, খালি গা ছেলেটি চকিতে একবার বাপ-মেয়েকে দেখে উধাও হল। মহীতোষের মৃত দাদার বড় ছেলে নবগোপাল আর রামগোপালের ছেলেমেয়েদের কাছে বালিগঞ্জের দাদু বলেই তাঁর পরিচয়। আশেপাশে নড়বার জায়গা নেই। রেলিং-এ, বারান্দায়, সর্বত্র কাপড় কাঁথা শুকোচ্ছে।

    ঘর থেকে বেরিয়ে এলেন সুখদা। মহীতোষের বউঠান, সুমিতার জ্যাঠাইমা। বয়স প্রায় মহীতোষের মতোই। দু-এক বছর বেশিও হতে পারে। দেখায় আরও বুড়ি। কিন্তু এখনও বেশ চলাফেরা করতে পারেন। ছ্যাঁচা পানের দলা মুখে পুরে, বলিরেখাবহুল ঠোঁটের কষ রেখেছেন রক্তাক্ত করে। একটু চাপা গলাতেই বললেন, কী ভাগ্যি। ঠাকুরপো যে, একেবারে মেয়ে নিয়ে। এসো ভাই, এসো।

    সুমিতার বড় অদ্ভুত লাগে বাবা আর জ্যাঠাইমার এই সম্পর্ক। বাবার সঙ্গে বড়দি মেজদির যেমন বন্ধুত্ব আছে, এখানে ঠিক তেমনটি নয়। তবু যেন জ্যাঠাইমার সঙ্গে বাবার কেমন এক রকমের একটি বন্ধুত্ব আছে।

    জ্যাঠাইমার চাপা গলা শুনে বাবা একটু বিস্মিত হলেন মনে মনে। বললেন, এসে তোমাদের বিব্রত করলুম না তো বউঠান?

    জ্যাঠাইমা ওঁর কুঞ্চিত গাল কাঁপিয়ে, ঘোলা চোখদুটি কুঁচকে বললেন, ও মা! কী যে সাহেবিপনা কর ঠাকুরপো। ঘরের ছেলে ঘরে আসবে, তার আবার ও সব কী বলছ।

    কিন্তু বাবার মুখের বেদনা-ভার-গাম্ভীর্য জ্যাঠাইমা তাকিয়ে দেখেননি এখনও। সুমিতার দিকে ফিরে তাকিয়ে বললেন, আয়রে, আয়। কী নাম বাপু তোদের, আমার আবার মনেও থাকে না।

    অন্যদিন হলে মহীতোষ জবাব দিতেন, নেহাতই বাংলা নাম বউঠান। সুজাতা, সুগতা, সুমিতা।

    কিন্তু আজ কিছু বললেন না। সুমিতার হঠাৎ মনে পড়ে গেল অনেক দিন আগের একটি ঘটনা। প্রায় দু বছর আগের কথা। কলকাতায় ফিরে বাবা বড়দি মেজদি আর ওকে নিয়ে এসেছিলেন এ বাড়িতে। বড়দি মেজদিকে শিখিয়ে রেখেছিলেন জ্যাঠাইমার পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করতে। তখন সুমিতা অনেক ছোট। ইচ্ছে হয়েছিল, বড়দি মেজদিকে নকল করে প্রণাম করবে জ্যাঠাইমাকে। কিন্তু সেরকম কোনও অনুমতি বা নির্দেশ ছিল না ওর প্রতি।

    এ বাড়িতে ঢুকলে যেমন নিশ্বাস বন্ধ হয়ে আসে, তেমনি মানুষগুলিকেও খুব একটা নিজের বলে ভাবতে পারে না সুমিতা। সবাইকেই কেমন যেন একটু গায়ে পড়া গায়ে পড়া লাগে। পরিচয়ের অপেক্ষা না করেই ছেলেমেয়েগুলি কাছ ঘেঁষে আসে ওর। সুমিতার সামনেই হয়তো সংসারের খুঁটিনাটি বিষয় আলোচনা আরম্ভ করে দেয় বাড়ির লোকেরা। ছেলেমেয়েরা চেঁচিয়ে খেতে চায়, ঝগড়া করে। বাপ মা ছাড়া বাকি সবাইকে করে তুইতোকারি। কেমন যেন অভব্য রুক্ষ বেয়াড়া মনে হয় সবাইকে। তবু কী মনে হল, সুমিতা আজ হঠাৎ ওর জ্যাঠাইমাকে একটি প্রণাম করে বসল।

    জ্যাঠাইমা একটু চমকে উঠে পরমুহূর্তেই বলে উঠলেন, আহা, মা আমার সোনা মানিক! এসো মা, এসো।

    মহীতোষও এক মুহূর্তের জন্যে কেমন বিমূঢ় হয়ে গেলেন। ভাবতেই পারেননি, রুমনি এমন একটি কীর্তি করে বসবে। সেই লজ্জাতেই সুমিতা বাবার দিকে আর তাকাতেই পারলে না। কিন্তু জ্যাঠাইমার আহা, সোনা মানিক শুনে হঠাৎ যেন জল এসে পড়ল ওর চোখ ফেটে। বুকের মধ্যে উঠল টনটনিয়ে। জ্যাঠাইমার এই সুরের মধ্যে কী যেন আছে, যা এ বাড়ির এই পরিবেশ ও জীবনধারণের উর্ধ্বে একটি মায়ার সঞ্চার করে রেখেছে। অন্যদিন হলে এ কথা শুনে হয়তো হেসেই ফেলত সুমিতা। বড়দি মেজদিরও হাসি পেয়েছিল একদিন। কিন্তু আজ ওর নিজের ঘরের অন্ধকার থেকে এসে, এই স্নেহ আপ্যায়নের জন্য লালায়িত হয়ে উঠেছিল যেন। কতকাল ধরে যেন এই অপরিচিত আদরের তৃষ্ণা ছিল বুকে।

    অথচ এ ব্যাপারের জন্যে একটুও তৈরি হয়ে আসেনি। হঠাৎ ওর ছ বছরের একটি নিরুদ্ধ আকাঙ্ক্ষার শোধ নিয়ে নিল এমনি করে। শুধু এইটুকু বুঝল না, ওকে এমনি করে প্রণাম করতে দেখে, অনেক বেদনার মধ্যেও বাবা কতখানি বিচলিত হয়ে উঠলেন। সেটুকু বিরক্ত নয়, রাগও নয়, ছোট মেয়েটির জন্যে হঠাৎ বাবার মন চিন্তা ব্যাকুল হয়ে উঠল। কী হয়েছে রুমনিটার!

    তারপর ঘরের মধ্যে। কী ঘর! তেতলার ঘর, তবু যেন অন্ধপুরী। তিনটি এমনি ছোট ছোট ঘর। ছোট বড় নিয়ে পনেরোটি মানুষ থাকে। তেলচিটে তোশক গুটানো। ছেলেমেয়েগুলি খালি তক্তপোশে মেঝেয় ছুটোছুটি গড়াগড়ি করে। বিছানা-মাদুরগুলি ময়লা শ্রীহীন। দু-তিনখানা চেয়ার ছড়ানো এদিকে ওদিকে। ছেলেপুলেরাই কখন টানাহেঁচড়া করে রেখে দিয়েছে। আয়না আছে, টেবিল আছে। সবকিছুই যেন কী রকম। এ সব দেখে বাড়ির কর্তাব্যক্তিরা যখন বিরক্ত হয়, মেয়েরা বলে, তা কী করা যাবে। ছেলেমেয়ের ঘর কত সাজিয়ে রাখা যায়।

    মহীতোষ এখানে এসে অবশ্য সংকোচ না করারই চেষ্টা করেন। চেষ্টা করেন, যেখানে হোক এক জায়গায় বসে সুখদার সঙ্গে দু-চারটি কথা বলতে।

    সুখদা বললেন তেমনি একটু চাপা গলায়, বসো ভাই ঠাকুরপো, একটু পা ছড়িয়ে তক্তাপোশে বসো।

    সুমিতাকে বললেন, তুই একটা চেয়ার টেয়ার টেনে বোস মা।

    এ ঘরের থেকে পাশের ঘরে যাওয়ার দরজায় একরাশ ছেলেমেয়ে রয়েছে ভিড় করে। সঙ্গে নবগোপালের স্কুলাঙ্গী স্ত্রীও রয়েছেন। অর্থাৎ সুমিতার বউদি। মহীতোষকে দেখেই, একটু ঘোমটা টেনে এসে প্রণাম করল। মহীতোষ এখন এ সব বিষয়ে একটু বিব্রতই বোধ করেন। তাড়াতাড়ি নিজেও কপালে হাতটি ঠেকিয়ে বললেন, আচ্ছা, আচ্ছা—

    এ বেলা আর সুমিতার খেয়াল নেই যে, প্রণাম করলে, গুরুজন সবাইকেই প্রণাম করতে হয়। সেটাই রীতি।

    পাশের ঘরে পুরুষের কণ্ঠস্বর শোনা যাচ্ছে। বড় ছেলে নবগোপালের কণ্ঠই বিশেষ করে। সেদিকে কয়েক মুহূর্ত উৎকর্ণ থেকে সুখদা ওঁর লোলচর্ম গালে একটি অপূর্ব হাসি ফুটিয়ে মহীতোষের দিকে ঝুঁকে পড়লেন। ফিসফিস করে বললেন, আজ আমাদের শিবানীকে দেখতে এসেছে।

    দেখতে এসেছে! কথাটির সঙ্গে একটি অস্পষ্ট পরিচয় আছে সুমিতার। কোনওদিন চাক্ষুষ দেখেনি। শিবানীকে কে দেখতে এসেছে!নবগোপালদার বড় মেয়ে শিবানী। বাবার নাতনি, আর সুমিতাকে ডাকে ছোট পিসি বলে। সুমিতারই সমবয়সি হবে। ক্লাস নাইন অবধি পড়েছিল স্কুলে। ওকে দেখতে এসেছে।

    ভাবতেই বুকের মধ্যে ছটফট করে উঠল সুমিতার, পাশের ঘরে যাবার জন্যে। সে যেন কোনও এক নতুন জীবনের রংমহল। কী এক বিচিত্র ঘটনা-ই না জানি ঘটছে ওখানে।

    কিন্তু কিছু না বলে কয়ে হঠাৎ ও ঘরে যাওয়াটাই বা কেমন দেখায়। কেউ না বললে যায় কেমন করে। হয়তো যাওয়াই রীতিবিরুদ্ধ।

    ছোট ছোট ছেলেমেয়েগুলি পড়েছে মহাফাঁপরে। ওদের মনের যত টান পাশের ঘরে, তত টান এ ঘরের বালিগঞ্জের দাদু আর ছোট পিসির দিকে। ওদের কাছে এ দু তরফের প্রতিই এক অনাস্বাদিত লোকের আকর্ষণ আছে।

    এমন সময় কীকরে নবগোপাল খবর পেল মহীতোষের আসার কথা। অমনি ভারী আপ্যায়িত হয়ে, প্রায় চিৎকার করতে করতে ছুটে এল এ ঘরে। যেন মহীতোষের পায়ে কিছু ছিল, এমনি করে চোখের পলকে হাত দিয়ে পা ছুঁয়ে বলল, কখন এলেন কাকাবাবু।

    বোঝা যাচ্ছে, এসময়ে এসে পড়ে মহীতোষও অস্বস্তি বোধ করছেন। বললেন, এই তো আসছি।

    সুমিতার মনে হল, নবগোপালদাদা যেন প্রায় বাবার বয়সি। জার্ডিন কোম্পানিতে ক্লার্কের চাকরি করে। এর মধ্যেই মাথার চুলে ধরেছে পাক। পান খেয়ে খেয়ে দাঁতগুলি দেখাচ্ছে ক্ষয়াটে লাল। গায়ে একটা গেঞ্জি, পরনে ধুতি, কিন্তু একটি আন্ডারওয়্যারও পরেনি। বাবার সঙ্গে কথার এক ফাঁকেই সুখদাকে কানে কানে বলল, বোধ হয় পছন্দ হয়েছে, জানলে?

    সুখদা বললেন, ভগবান যদি মুখ তুলে চান।

    সুমিতা যতই দেখে, ততই দুর্বোধ্য বিস্ময়ে অবাক হয়ে দেখে সব। আর আড়ষ্ট হয়ে থাকে শরীর ও মনের মধ্যে। এরা কী কথা বলছে, কখন কেন যে হাসছে, সহসা সব ধরে উঠতে পারে না।

    নবগোপাল বলল, চলুন কাকাবাবু, আপনি একটু ও-ঘরে চলুন।

    সুমিতা দেখলে, বাবা একেবারে লাল হয়ে উঠেছেন। বললেন, আর থাক না নবগোপাল। এমনি হঠাৎ এসে পড়েছিলুম, বউঠানের সঙ্গে একটু দেখা করে যাব বলে। আমি আর ওখানে গিয়ে কী করব।

    নবগোপাল পান-খাওয়া দাঁতে, একটি বিচিত্র ধরনের আবদারের হাসি হেসে বলল, তা বললে হবে কাকাবাবু। আজ আমার কী ভাগ্য, আপনি এসে পড়েছেন। আপনি থাকতে শিবানীকে আমি একলা বসে দেখাব, এটা হয় না। বাবা থাকলে আজ নাতনিকে বসে দেখাতেন। বাবার হয়ে আজ আপনি রয়েছেন।

    সুখদা বলছেন, হ্যাঁ, তুমি যাও ভাই এক বার ঠাকুরপো, মনে মনে নাতনিটাকে একটু আশীর্বাদ করো, যেন মেয়েটার একটা গতি হয়ে যায়।

    মহীতোষ চকিতে এক বার সুমিতার দিকে তাকালেন। সুমিতাও তাকিয়েছিল। মেয়েটার গতি আবার কী! ওর মনে হচ্ছিল, বাবা নিশ্চয়ই এক বার এদিকে তাকাবেন। আর কার দিকে এখন তাকাবেন। বড়দি মেজদি তো কাছে নেই, যাদের দিকে তাকান অসহায় হয়ে। বাবার অস্বস্তি দেখে, সুমিতাও বিব্রত বোধ করল। কিন্তু এখানে তো ওর বলার নেই কিছু।

    মহীতোষকে যেতে হল। সুখদা যেটুকু ভাবেননি হয়তো, সুমিতাও ভাবেনি, হয়তো মহীতোষও সম্যক ধারণা করতে পারেননি, সেটুকু হল নবগোপালের এক নিগূঢ় সম্মানবোধেআজকে নিজের বাবা নেই বলেও যেমন সে মহীতোষকে পেয়ে খুশি হয়েছে, তেমনি এত বড় একজন অবসরপ্রাপ্ত চাকুরে আত্মীয়কে পেয়েও বুক ফুলে উঠেছে তার। যেন তার মেয়েকে পছন্দ করার ব্যাপারে ছেলেপক্ষ একটি নতুন আলো পাবে।

    সুমিতা বেচারির কী দুর্দশা! ওকে তো কেউ যেতে বলছে না। একটি আলগা চেয়ারে প্রায় আলগা হয়ে বসে ও ধৈর্যের বাঁধটাকে ঠেকিয়ে রেখেছে। দেখছে, জ্যাঠাইমা কেমন এক স্বপ্নঘোরে কান পেতে আছেন পাশের ঘরে। তারপরে হঠাৎ নজরে পড়ল সুমিতাকে। বললেন, যাবি ও-ঘরে?

    অমনি টুক করে ঘাড় নেড়ে দিল সুমিতা, হ্যাঁ যাবে।

    বলেই কিন্তু জ্যাঠাইমাকে নিমেষের জন্যে চিন্তিত দেখাল। বুঝল না, জ্যাঠাইমা ওর দিকে চেয়ে ভেবে নিচ্ছেন, ছেলে-পক্ষ ওকে দেখে না আবার শিবানীকেই নাকচ করে দেয়। বোধ হয় পরমুহূর্তেই মহীতোষের মেয়ে ভেবে লজ্জায় মরে গেলেন অন্তরে অন্তরে। ও যে সাহেবের ছোট্ট মেয়ে! বললেন, যা না, যা। বড় বউমা, ওকে একটু যেতে দাও তো ও-ঘরে।

    চার জন ভদ্রলোকের সামনে সেজেগুজে জড়সড় হয়ে বসেছে শিবানী। সুমিতাকে দেখেই বেচারির লজ্জারুণ মুখখানি আর এক দফা লাল হয়ে উঠল। মেয়ে দর্শকেরাও সকলে একযোগে এক বার তাকিয়ে দেখল সুমিতাকে। বোধ হয় একটু অবাক হয়েই দেখল। এ বাড়িতে এ মেয়েকে বড় বেমানান লেগেছে। এ আসরে সবচেয়ে বেমানান লাগছে মহীতোষকে। এ সব যেন ওঁর গত জন্মের ব্যাপার।

    সুমিতা দেখছে আর শুনছে। নাম কী মা? কদ্দূর পড়েছ? কী রান্না জান? গান গাইতে পার? নামটি নিজের হাতে লিখে দাও তো। লজ্জাভরা গলায় সবই জবাব দিচ্ছে শিবানী। যা বলছে, তাই করছে।

    হঠাৎ কেমন যেন বড় রাগ হতে লাগল সুমিতার, লোকগুলির ওপর। কী বিশ্রী! ওর কোনও আদর্শ নেই, নীতিও নেই, ওই বিষয়ে কোনও শিক্ষাও নেয়নি নিজেদের সমাজের কাছ থেকে। সমস্ত ঘটনাটির মধ্যে ওর বিরক্তি ও বিস্ময় বাড়ল। আর বড় দুঃখ হতে লাগল শিবানীর জন্য। নিজের অবচেতন মনে যেমন বড়দির সচেতন দীপ্ত বহ্নি ওকে ভয় পাইয়ে দিয়েছে, এখানে শিবানীর এই দীপ্তিহীন নিস্তেজ বাধ্যতা ততখানি রুষ্ট করে তুলেছে।

    লোকগুলি মহীতোষকে হঠাৎ বড় খাতির করতে আরম্ভ করেছে। মহীতোষও যেন সে বিষয়ে সচেতন হয়ে উঠেছেন।

    কিছুক্ষণ পর মেয়ে দেখার পালা চুকল। মিষ্টিমুখ করে বিদায় হল বাইরের লোকেরা। মহীতোষ বললেন সুখদাকে, এবার চলি বউঠান।

    সুখদা বললেন, এখুনি কী? যেয়ো, বসো; তোমার সঙ্গে কথা আছে। বলেই প্রায় চিল-গলায় হাঁকার দিলেন, এই দস্যিগুলো, গেলি এ ঘর থেকে? সঙ্গে সঙ্গে নবগোপাল চেঁচিয়ে উঠল।

    বেচারিরা বালিগঞ্জের দাদুকে দেখার লোভ সংবরণ করে পালাল। গিয়ে জুটল পাশের ঘরে। সেখানে রয়েছে শিবানী আর সুমিতা।

    দুজনের কেউই তখনও কোনও কথা বলেনি। ভিড় দেখে শিবানী বলল সলজ্জ গলায়, চলো ছাদে যাই।

    দুজনে সিঁড়ির দিকে যেতেই, ছোটরা পিছন নিল। ধমকে উঠল শিবানী, দেখবি, ডাকব বাবাকে? যা বলছি।

    আজকে দিদির হুকুম মানতে হবে, এটাই ছিল ওদের বিশ্বাস। অগত্যা থামতে হল। দুজনে ওরা উঠে এল ছাদে। কিছুক্ষণ সময়ের জন্যে। সুমিতার আজকের ভয়-বেদনা আড়াল হয়ে রইল। মাঘের ঢলে পড়া সূর্যের চিকন রোদে ভরা ছাদে এসে দাঁড়াল দুজনে। শিবানীর চোখে মুখে, সাজাগোজা, সব কিছুতেই একটি বিচিত্র লজ্জা যেন রোদের মতোই ঝিকমিক করছে। আলাপ আছে দুজনেরই কিন্তু কেউ-ই কথা বলতে পারছে না। সুমিতার খোলা চুলে পড়েছে রোদ। বড় বড় চোখে অবাক বিস্ময়ে দেখছে শিবানীকে। এ যেন সেই আগের শিবানী নয়। যে শিবানী ওকে সভয়ে সসংকোচে জিজ্ঞেস করে পড়ার কথা, কলেজের কথা, দাদু অর্থাৎ মহীতোষের কথা, সুজাতা আর সুগতা, বড় আর মেজ পিসির কথা। এমনি জিজ্ঞেস করে, আর খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখে সুমিতাকে। যেন ওর এই সচকিত কিশোরী প্রাণের কোথায় একটি দীর্ঘশ্বাস জমা হয়ে ওঠে ছোট পিসিকে দেখে। এই দেখার মধ্যে, শিবানীর প্রতি কেমন একটু মমত্ব বোধ এসে পড়ে সুমিতার। এ সংসারে, ওর নতুন কথা শোনাবার পাত্রী শিবানী। ছোট পিসি ডাকের মধ্যে যেমন একটু অস্বস্তি মেশানো খুশি অনুভব করে, তেমনি নিজেকে শিবানীর সামনে একটু বড় বড় লাগে। অথচ বয়সে ওরা সমান।

    কিন্তু আজ শিবানীকে ঠিক চিনে উঠতে পারছে না। ওর জন্যে যে সুমিতা এত দুঃখ পাচ্ছিল খানিকক্ষণ আগে, তার কোনও চিহ্ন তো এ মুখে নেই। এ তো আলাদা শিবানী। ওর ঠোঁটের এই হাসি, নত চোখের ওই চাউনি, অন্য বেশে, অন্য কোথায় দেখেছে সুমিতা। হ্যাঁ, মনে পড়েছে। সেই প্রথম গিরীনদার আবির্ভাবে বড়দি হেসেছিল এমনি করে। মৃণালের সামনে দু-একবার এরকমভাবে হাসতে দেখেছে মেজদিকে। আজ সমবয়সি শিবানীও হাসছে এমনি করে। একে তো এই আধা-চেনা পরিবেশ, তার ওপরে এ ব্যাপার দেখে একেবারে নির্বাক হয়ে রইল। নিজের মুখ নিজে দেখতে পায় না সুমিতা। জানে না, এমন হাসি কোনওদিন ফুটেছিল কি না ওর মুখে।

    শিবানী বলল অস্ফুট লজ্জায়, এই ছোট পিসি, কিছু বলছ না যে?

    নিজেকে কী রকম অসহায় মনে হল সুমিতার। বলল, কী বলব?

    শিবানী বলল হাসির নিক্কণে, কী আবার। এই…মানে…ওই সব।

    ওই সব? এক বার মনে হল সুমিতার, বুঝি বড়দির কথা বলতে বলছে শিবানী। কিন্তু তারপরেই মনে হল, না, তেমন কোনও দুশ্চিন্তার ছাপ তো নেই মুখে। এত দিন সুমিতা এসেছে অন্য রাজ্যের বিস্ময় নিয়ে। শিবানী দেখেছে এবং শুনেছে। আজ শিবানীর মধ্যে আর এক রাজ্যের বিপুল বিস্ময়, সেখানে থই পাচ্ছে না সুমি। বলল, কোন সব বলল তো?

    শিবানী হেসে উঠে তাকাল সুমিতার মুখের দিকে। কী এক বিচিত্র ছটায় চকমক করছে ওর চোখ দুটি। বলল কেন, এই যে দেখলে এতক্ষণ, এই সব দেখা টাকা, সে কথা।

    সহসা যেন সংবিৎ ফিরে পেল সুমিতা। সত্যি, কিন্তু কী বলবে? চকিত মুহূর্তে এক বার ওর সেই অদৃশ্য লতার অনধিকারের ভয় হল।

    তারপর বলল, এবার তোমার বিয়ে হয়ে যাবে তো?

    শিবানীকে লাল দেখাচ্ছে রোদে। বলল, যদি পছন্দ হয়।

    সুমিতা: কাদের পছন্দ। ওই লোকগুলোর?

    বুঝল না, ওর গলার সামান্য অশ্রদ্ধার সুরটুকুও ব্যথা দিচ্ছে শিবানীকে। বলল, হ্যাঁ।

    সুমিতা: তারপর?

    শিবানী: তারপর? তারপর ওই যা বললে, তা-ই হয়ে যাবে।

    সুমিতা বলল, বিয়ে হয়ে যাবে? তোমার যদি সেই লোকটিকে ভাল না লাগে?

    সেই লোক, অর্থাৎ বর। শিবানী অবাক লজ্জায় বলল, যাঃ!

    শিবানীর এ বিচিত্র অভিব্যক্তিতে আরও বেশি অবাক হল সুমিতা। বলল, ভাল লাগবেই?

    শিবানীর লজ্জার চেয়ে এখন যুক্তিটাই বড় হয়ে উঠল। বলল, নয় কেন?

    আশ্চর্য! একটি লোককে ভাল না লাগার কত কারণ থাকতে পারে। এর মধ্যে আবার কেন কীসের? তারপর কী যে হল সুমিতার, হঠাৎ জিজ্ঞেস করে বসল, ধরো, তার যদি আর কেউ থাকে?

    শিবানী অবাক হয়ে বলল, আর কেউ? মানে–

    বেচারি ঢোঁক গিলছে। বুঝতে পেরেছে ছোট পিসি আর কেউ বলতে কী বোঝাতে চাইছে। সুমিতা বুঝল না, কী তীব্র ব্যথার কষাঘাত করছে শিবানীর নতুন দেখা স্বপ্নে। অভিমানের সুরে বলল, ইস!

    কিন্তু সুমিতা বেচারিরও বুকখানি ফুলে ফুলে উঠছে কান্নায়, কৌতূহলে। ওই কথাটি জানতে চায় ও এখন। বলল, তখন তুমি কী করবে?

    শিবানীর শ্বাসরুদ্ধ হয়ে এল। বলল, কী আবার? তা হবে কেন। তা হবে না।

    শিবানীর দৃঢ়স্বর শুনে একটু থতিয়ে গেল সুমিতা। বলল, কেন?

    শিবানী আবার লজ্জিত হয়ে উঠল। অনেক কষ্টে বলল, আমাকে তো সে ভালবাসবে।

    কথাটি বলে এবং শুনে দুজনেই একেবারে চুপ হয়ে গেল। সুমিতার অন্তস্রোতের একমুখো গতিটিকে হঠাৎ আর এক পথে ভাসিয়ে দিলে শিবানী। যেন ওর বরের ভালবাসার কাছে আর কিছু থাকা না থাকা সব তুচ্ছ হয়ে গেল। বড়দি গিরীনদা, কাউকেই স্পষ্ট খুঁজে পেল না এখানে।

    সোনা-চিকন রোদ রক্তিম হয়ে উঠেছে। ছাদের পরে ছাদ, উঁচুনিচু বন্ধুরতার মধ্যেও কোথায় একটি কংক্রিট ইট কাঠের সামঞ্জস্য রয়েছে। কোথাও জলের ট্যাঙ্ক, রেডিয়ো এরিয়ালের আকাশ খোঁচানো সরু বাঁশ। নীচে ও দূরে কোলাহল শহরের।

    আর এখানে, দুই ভিন্ন মনের দুই কিশোরী দুটি ঝুঁটি পায়রার মতো দাঁড়িয়ে রইল মুখোমুখি। এই বিস্ময়কর রক্তিমাভার মধ্যে ওদের দুজনেরই, মন কোন সুদূরে, কোন অতলে, কোন আলোতে, কোন অন্ধকারে, কোন আনন্দে ও বেদনায় গেল হারিয়ে। সুমিতার অদৃশ্য লতায় কোথায় আজ একটি নতুন কুঁড়ির সন্ধান পেল ও নিজে।

    নীচের ঘরে সুখদা আর মহীতোষ তখন বসে আছেন গম্ভীর মুখে। নবগোপালের সময় নেই, সে গেছে বাজারে। রামগোপাল তো অফিস থেকেই আসেনি। নীচের থেকে ধোঁয়া উঠতে আরম্ভ করেছে। ওপরে।

    সুখদা তখন বলছেন, ঠাকুরপো, তোমার মেয়েকে তুমি মানুষ করেছ। তুমিই তাকে চেন ভাল। কীসে তোমাদের ভাল, কীসে মন্দ, তাও ছাই বুঝিনে আমি। চিরকাল জানি, তুমি সাহেবসুবো মানুষ। তোমাদের দেখে ভেবেছি, আমরা তোমার কাছে কিছু নই। লোকের কাছে বলেছি, আমার দেওর এত বড়।

    মহীতোষ বেদনার মধ্যেও বিব্রত হয়ে বললেন, কী যে বলো বউঠান।

    না ভাই, সত্যি বলছি। তা সে যাক। সে এক কথা, কিন্তু আমার এই সংসার দেখছ তো? তোমাদের সঙ্গে কোনও মিল নেই, বুঝিওনে। কিন্তু মেয়েটার কথা ভেবে যে বড় অশান্তি হচ্ছে।

    মেয়েটা অর্থাৎ সুজাতা। মহীতোষ বললেন, কিন্তু এ ছাড়া আর কী করার ছিল বউঠান?

    সুখদা–তা-ই কি ছাই জানি। তবে তোমার জামাই ছিল মস্ত বড়লোক। টাকা পয়সা ঘর বাড়ি, অটুট লক্ষ্মী ঘরে। মিটমাট করে ফেলতে পারলেই ভাল হত।

    মহীতোষ–তা তো হল না বউঠান। উমনোকে তো তুমি চেন। ওরা লেখাপড়া শিখেছে, বড় হয়েছে, তার ওপরে বড় জেদি মেয়ে। গিরীন হার মানলে না তো, উমনোও মানলে না।

    সুখদার মুখের আঁকাবাঁকা রেখাগুলি যেন জায়গা বদল করে বসল। বলল, না ঠাকুরপো, তোমার মেয়েকে আমি চিনি, তা ঠিক নয়। যত দূর শুনেছি, উমনোকে বিয়ে করার আগে স্বভাব চরিত্র ভাল ছিল না জামায়ের। বিয়ের পরে কেমন ছিল তা জানিনে। জানিনে, কত অপমান উমনো সয়েছে। অপমান আমরা তার চেয়ে ঢের সয়েছি।

    মহীতোষ বললেন, বিয়ের পরেও গিরীনের চরিত্র কেমন ছিল সেটাই তো পরিষ্কার হল না। সেটাই তো সংশয় থেকে গেল। তবে উমনো তার সঙ্গে ঘর করেছে, সে-ই বুঝেছে সবচেয়ে ভাল। পুরুষ যদি অন্যায় করে, তাকেও হার মানতে হয় বউঠান।

    সুখদা হার মানে বইকী! তার একটা সময় আছে ঠাকুরপো। সেই জন্যেই তো বলছি, তোমাদের সমাজের কথা আমি বুঝিনে, কিছু বলতেও পারিনে। কিন্তু একটি কথা বলে যাও ঠাকুরপো, তোমার মেয়ে এখন কী করবে?

    মহীতোষ সহসা চমকে উঠলেন। বললেন, কেন, আমি তো মরিনি এখনও। তা ছাড়া মেয়েদের তো আমি কারুর গলগ্রহ করে তৈরি করিনি বউঠান যে, তাকে বাপের হাতে, স্বামীর হাতে, তারপর ছেলের হাতে ফিরে বেড়াতে হবে।

    সুখদা ওঁর ঘোলাটে চোখে সুদূরে তাকিয়ে রইলেন কয়েক মুহূর্ত। কে জানে, মহীতোষের কথার অন্তর্নিহিত খোঁচাটুকু ওঁর নিজেরই লেগেছে কি না।

    বললেন, তা ঠিক ঠাকুরপো। তবে, তুমি মরোনি, মরবে তো বটেই। তোমার মেয়েও হয়তো চাকরি করে খাবে, লাখ টাকা তো তুমি রেখে যাবে না। তারপর?

    তারপর কী বউঠান?

    ঠাকুরপো, উমনো তোমার সন্তান, তার ওপরে মেয়েমানুষ। সে কী নিয়ে থাকবে? তার কি শরীর নেই, মন নেই, তার কি সাধ নেই, আহ্লাদ নেই।

    আচমকা বৃশ্চিকদংশনে পাংশু হয়ে উঠলেন মহীতোষ। সন্তান, সন্তান। ঠিক ঠিক, বড় ঠিক কথা বলেছেন বউঠান। আজ যদি সুজাতার হিন্দু বিয়ে না হয়ে রেজিষ্ট্রি বিয়েও হত, মেয়ের জন্যে এ কথা তো না ভেবে পারতেন না। সুজাতা যদি আর একটি বিয়েও করবার আইনত অধিকার পেত, তবু মহীতোষের পিতৃমনের উৎকণ্ঠা বেদনা তো দূর হত না। সে যে ওঁর সন্তান, মেয়ে। তাকে তো উনি কোনও অনাচারের মধ্যে ঠেলে ফেলে দিতে পারেন না।

    যে কথা ছিল মনের অন্ধকারে, তাকেই সুখদা সামনে টেনে দিলেন প্রকাশ্যে। সবই হবে, কিন্তু সাধ আহ্লাদ, জীবনে সুষ্ঠু সুশৃঙ্খলভাবে বেঁচে থাকা। সব পিতৃমনই চায় তার সন্তানকে প্রতিষ্ঠিত দেখতে। সেইটিই যে আসল বেদনা ও ভয় মহীতোষের।

    বিদায় নিলেন উনি। যাবার সময় সুখদা বললেন, যদি পার তো এক দিন বড় মেয়েকে নিয়ে এসো ঠাকুরপো।

    সুমিতা শিবানীর কাছে বিদায় নেওয়ার সময় কোনও কথা বলতে পারলে না। ওরা শুধু পরস্পরের হাতে হাত দিয়ে বিদায় নিল। প্রায় সন্ধ্যার মুহূর্তে বাপ-মেয়ে হেঁটে চলল ট্রাম স্টপেজের দিকে।

    ⤶
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅপরিচিত – সমরেশ বসু
    Next Article শালঘেরির সীমানায় – সমরেশ বসু

    Related Articles

    সমরেশ বসু

    প্রজাপতি – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    গঙ্গা – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    বিবর – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    অকালবৃষ্টি – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    নয়নপুরের মাটি – সমরেশ বসু

    December 1, 2025
    সমরেশ বসু

    শ্রীমতি কাফে – সমরেশ বসু

    December 1, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }