Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ত্রিধারা – সমরেশ বসু

    সমরেশ বসু এক পাতা গল্প488 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ২. বাবার ঘরের পরদা সরিয়ে

    বাবার ঘরের পরদা সরিয়ে ঘরে ঢুকতে গেল সুমিতা। দাঁড়াল থমকে। ছদ্মবেশ নিতে হবে এবার। মুখের সবটুকু ব্যথা দুশ্চিন্তা উদ্বেগের ছায়া মুছে ফেলে ঢুকতে হবে। ও উৎকণ্ঠিত, ভয় পেয়েছে, সেই অনধিকার চর্চা দেখে আর কেউ অবাক হবে, সে-ই যে সবচেয়ে বড় সমস্যা, বড় লজ্জা।

    যেন কিছু হয়নি, কোথায় কী ঘটছে জানে না কিছুই, ঠিক এমনি অবিকৃত নিঃশব্দে তড়িগতি রুমনিটির মতো ঘরে ঢুকল ও।

    মহীতোষ টেরও পেলেন না। প্রত্যহের মতোই, এ মাঘের সকালে, লংক্লথের পাঞ্জাবিটি পরনে। বুকের বোতামগুলি খোলা তেমনি, পাশ থেকে চওড়া কাঁধে, পাঞ্জাবির গলা সরে যাওয়া পরিসরে দেখা যায় স্যান্ডো গেঞ্জিটি। পায়জামা ঢাকা পা দুটি মাটিতে রেখে দোলাচ্ছেন একটু একটু। চশমা চোখে দিয়ে ঝুঁকে আছেন খবরের কাগজের ওপর।

    আজ এইটি বাবার সবচেয়ে বড় ব্যতিক্রম। কোনওদিন এ সময়ে বাইরের ঘরে বসেন না কাগজ পড়তে। তেমন শান্ত মানুষটি উনি কোনওকালেই নন। এতক্ষণে কত হাঁকডাক করেন। খুরপোটি নিয়ে নেমে যান বাগানে। তাতেও রেহাই নেই। ডাক পড়বে সকলের। অদ্ভুত এবং বিচিত্র সব তত্ত্ব, তথ্য আবিষ্কার করবেন গাছের পাতায়, চারায়, অঙ্কুরে, ফুলে। শুধু আবিষ্কার করলেই তো হবে না, ব্যাখ্যা করতে হবে কাউকে। সুতরাং সুজাতা, সুগতা, অর্থাৎ উমনিঝুমনির ডাক পড়বেই। দিদিরা হাসাহাসি করে। তার মধ্যে মেজদি তর্ক জুড়ে দেবেই। বড়দি শাসনের ভঙ্গিতে খুরপোটি কেড়ে নিয়ে সকালবেলার খাবার টেবিলে নিয়ে যাবে ধরে।

    এ সময়ে রেডিয়োটা বাজে হয়তো নিচু সুরে। বা বিষয় থেকে যান বিষয়ান্তরে। হয়তো রবিদা কিংবা বড়দি-মেজদির বন্ধুরা আসেন কোনও-কোনওদিন। সকালবেলাটি জমজমাট থাকে।

    আজ কিছুদিন থেকেই সেই জমাটি সকালের তলে তলে ধরেছে ভাঙন। পায়ে পায়ে এসেছে এই কালো-মুখ দিনটি।

    বাবাকে এমনি করে বসে থাকতে দেখে সুমিতার বুকের ভয় ও ব্যথা আরও বাড়ছে। ও এই দেখতে না চাওয়ার জন্যেই বাইরে যাচ্ছে ছুটে ছুটে। বাইরে গিয়ে মনে হচ্ছে, না জানি কী ঘটে যাচ্ছে ভিতরে। তাই ছুটে ছুটে আসছে ঘরে।

    ছুটে ছুটে আসছে, আর এ-ই শুধু দেখছে। সমস্ত কিছুর মধ্যে এ বাড়ির মনের অন্ধকার আছে চেপে। বইয়ের ওই আলমারি দুটিতে, নির্বাক রেডিয়োতে, ঢাকনা ঢাকা মুণ্ডহীন গাধার মতো অর্গানটায়, সোফায়, চেয়ারে, টেবিলে আর লাল টকটকে মেঝেয়। তার মাঝে মুখ-ফেরানো বাবার সর্বাঙ্গ ঘিরে যেন দেখছে শুধু ব্যথা আড়ষ্টতা। মনে হল, বাবাও যেন ওর মতো ব্যাকুল উৎকণ্ঠায় কান পেতে আছেন লোহার গেটের ওপর।

    ভিতর দরজার পরদা সরিয়ে, অন্দরের বারান্দা দিয়ে ঢুকল পাশের ঘরে। সেখানে টেবিলে মুখ দিয়ে এখনও তেমনি বসে আছে মেজদি। যেন কী ভাবছিল একদৃষ্টে চেয়ে, একমনে। সুমিতাকে দেখেই চকিতে চোখ ফিরিয়ে নিল বইয়ের উপর। যেন সে কিছুই ভাবছে না এ সব, ব্যস্ত শুধু পরীক্ষার পড়া নিয়ে। এ মুহূর্তে সুমিতা না হয়ে বড়দি কিংবা বাবা হলে মেজদি এ ছলনাটুকু করত না কখনও। কিন্তু সে যে রুমনি। সে শোনে কিছু কিছু জানে, তবু থাকে আপন মনে, কলেজের পড়া পড়ে, বেড়ায় এদিক সেদিকে। তার কাছে তো ধরা দেওয়া যায় না।

    ও ঢুকল তড়িৎ পায়ে, যেমন চলাফেরা করে তেমনি। মেজদির খাটের মাঝখান দিয়ে চলে গেল দেয়াল-ঘেঁষা আলমারিটার কাছে। জানে না। যেন কিছু খুঁজছে, এমনি উঁকিঝুঁকি দিতে লাগল আলমারির কাঁচের ঢাকায়। ভয় হল, এ-ছলনাটুকুও ধরে ফেলবে মেজদি। কিংবা এখনি বলে উঠবে বিরক্ত গলায়, ছোড়দির পরীক্ষা কি পেছিয়ে গেল নাকি? মেজদি যখন রাগ করে, তখন রুমনির বদলে বিদ্রূপ করে বলে ছোড়দি। ওর শাসনের মধ্যে একটি বিদ্রুপের হুল থাকে সব সময়ে। সেই হুলের মধ্যে জ্বালা আছে, মধুও আছে। কিন্তু তিক্ততা নেই। ও মানুষটিই এমনি। যা মনে আসে, মুখে তা-ই বলে। কখনও সে কথা সোজা স্পষ্ট, কখনও বাঁকা ও তীব্র। হঠাৎ অচেনা মানুষের মনে হতে পারে, বিষ আছে সুগতার অন্তরে। সেজন্যে অনেকে মেজদির সঙ্গে কথা বলে ভেবে, একটু বা ভয়ে ভয়েই। কিন্তু ওকে যে চেনে, সে তার অন্ধকার মুখের সামনেও হাসতে পারে নির্ভয়ে। শাসন ও স্নেহের মধ্য দিয়ে মাঝে মাঝে ও মান-অভিমানের যে মেঘটুকু সঞ্চার করে সুমিতার মনে, সে মেঘটুকু শরৎকালের মেঘের মতো এখন আসে, তখন যায়। তার মধ্যে কোনও বিদ্বেষের বিষ নেই, নেই শ্রাবণ মেঘের আবর্তন।

    তবু মেজদিকেই ভয় সবচেয়ে বেশি।

    হয়তো এখুনি রক্তরেখায়িত তীব্র পাতলা ঠোঁট দুটি বাঁকিয়ে বলবে, কী হল হঠাৎ তোর?

    ভাবতেও কাঁপছে বুকের মধ্যে। সে যে ওর কী লজ্জা! কী ভয়! শুধু কি তাই। ওর মনের ছোট বেড়াটিকে পাশ কাটিয়ে যার মধ্যে দেখা দিয়েছে মহা বিস্তৃতির লক্ষণ, সেই প্রাণে যে অপমান হয়ে বাজবে এবার সেটুকু। সেকি তার দোষ! সেই অপমানটুকু হয়তো বুঝবে না কেউ, কিন্তু প্রাণের দিগন্তকে তো টেনে ছোট করে আনতে পারবে না।

    মেজদির কাছ থেকে কোনও সাড়াশব্দ না পেয়ে এবার ভয়ে ভয়ে তাকাল ঘাড় ফিরিয়ে। মেজদি তেমনি রয়েছে বইয়ের মুখোমুখি। এক বেণী এলিয়ে পড়েছে পিঠে, বিনুনির ভাঁজে ভাঁজে বাসি চূর্ণ কুন্তল ছড়িয়ে কাঁধের পাশ থেকে আঁচল গেছে সরে। নীল সার্জের ব্লাউজ ওর গায়ে। ছোট গলা ব্লাউজ কিন্তু পিছন থেকে জামাটি কেউ হ্যাঁচকা টান দিয়ে সরিয়ে দিয়েছে অনেকখানি। নিজেই হয়তো উঠতে বসতে অজান্তে বিস্রস্ত করেছে নিজেকে। মাঘের এই সকালে ঘরের মধ্যেও কম শীত নেই। মেজদির যেন শীত করছে না। পেছন থেকে দেখা যাচ্ছে ওর শক্ত চওড়া কাঁধ। নীল জামার পাশে হঠাৎ ওই খোলা কাঁধ যেন এক ঝলক রোদ। বসেছে সারা চেয়ারখানি ছড়িয়ে। সুদীর্ঘ পুষ্ট ফরসা হাত দুখানি দেখলে এত গম্ভীর আর সুন্দর মনে হয় মেজদিকে, যেন ও এক দৃপ্ত রাজেন্দ্রাণী। তেমনি চলাফেরা। দোহারা গড়ন ওর। এক সময়ে বাংলা দেশের বাইরে থাকতে খেলাধুলা করেছে প্রচুর। হাটুতে পায়ে বুকে সারা শরীর জুড়ে উদ্ধত বলিষ্ঠতা। মেজদির এ দীপ্ত স্বাস্থ্যের জন্যে ওকে যত সুন্দর লাগে, সুমিতার ভয়ও করে তত। আর আশ্চর্য! মেজদির শরীরটিকে, প্রতিটি রেখাকে যখন বড় বেশি তীব্র মনে হয়, তখন কেন যেন সুমিতার লজ্জা করে। মেজদি চলাফেরা করে স্বচ্ছন্দে, কিন্তু সুমিতার মুখ লাল হয়ে ওঠে। ও আশেপাশের লোকের দিকে দেখে তাকিয়ে, কেমন করে দেখছে সবাই মেজদিকে। সেই ফাঁকে নিজেকেও বারেক দেখে নেয় লুকিয়ে। তুলনায় সে অনেক অপুষ্ট আর কাঁচা। তবু মনে হয়, ওরও শরীর যেন মেজদির মতো বাঁধভাঙা দিগন্তের ঢেউ হয়ে দুলছে। এই সেদিনে নিয়মিত কাপড় পরতে শেখা শরীরে, তাড়াতাড়ি নিজেরও শাড়ি টানে, জামা ঠিক করে।

    কিন্তু মেজদি তেমনি। বেচারি রুমনির এই সংকোচ, অদ্ভুত সংকটে ওর কিছুই যায় আসে না। এত সাবলীল, সপ্রতিভ, দৃপ্ত, অথচ উদাসীন যে লজ্জার অবকাশ ওর নেই।

    চওড়া ফরসা মুখখানিতে মেজদির এই স্বাস্থ্যের দীপ্তি একটু যেন রুক্ষতাই দিয়েছে এনে। সৌন্দর্যের বাহন যে কোমলতা, তা থেকে তার মুখখানি কিছু বঞ্চিত। কিন্তু সেইটুকুই মানানসই করেছে ওকে। সর্বাঙ্গে। রূপসী নয়, তবু রূপ দেখলে সবাই যেন অবাক হয়ে চায় ফিরে।

    কেবল চোখ দুটি ওর এ সব কিছুর থেকে আলাদা। সেখানে কেমন এক ভাবের গভীরতা, তন্ময়তা, অতল দৃষ্টি। ওই চোখে যখন রাগ করে তাকায় তখন মনে হয়, সব ফাঁকি ধরা পড়ে যাবে ওর কাছে।

    ও বসে আছে তেমনি, সুমিতার দিক থেকে পিছন ফিরে। মুখোমুখি রয়েছে বই। পাশ থেকে দেখা যাচ্ছে মুখের একটুখানি। চোখ স্থির। পড়ছে না, বোঝাই যাচ্ছে। পাতলা তীক্ষ্ণ রেখায়িত ঠোঁট যেন খুলবে না কিছুতেই, এমনি কঠিনভাবে রয়েছে এঁটে। যত বার এসেছে সুমিতা এ ঘরে, দেখেছে, অমনি করেই বসে রয়েছে ও সারাক্ষণ। সেই যে ছোট্টকালে সিমলায় থাকতে বরফ জমে থাকতে দেখেছে, সেই যে শিশু চোখের বড় ভয়ের দেখা সেই থমথমে নির্বাক কিস্তৃত আকার পাহাড়ের পাথুরে ভূত, সবাই ঠিক তেমনি হয়ে গেছে।

    সুমিতা আরও ঝুঁকে, আরও বেঁকে দেখল মেজদিকে। কে জানে মেজদি কেঁদেছে কিনা। মেজদিকে ও কোনওদিন কাঁদতে দেখেনি। কিন্তু এমন স্তব্ধ হয়ে থাকতেও দেখেনি কোনওদিন। মেজদির সর্বাঙ্গ ঘিরেও সেই আড়ষ্টতা ঠিক বাবার মতো। অথচ আজকের এই ব্যাপারে ওর শৈথিল্য ছিল না। গিরীনদার প্রতি ও বড় নিষ্ঠুর। যেন ওই সবচেয়ে বেশি মর্মাহত গিরীনদার ব্যাপারে। বড়দি যদিও বা গিরীনদাকে কোনওদিন ক্ষমা করতে পারে, মেজদি পারবে না! এইটিই তার চরিত্রের বিশেষত্ব। নিজে যাকে ফাঁকি বলে জেনেছে, জেনেছে পাপ বলে, সেখানে ওর কোনও আপোস নেই। গত বছর এমন দিনেই যখন বড়দি চলে এল এখানে, তখন মেজদির এম এ পরীক্ষা শুরু হওয়ার কয়েক দিন বাকি। কিন্তু কিছুতেই পরীক্ষা দিতে পারলে না। বাবা বলেছিলেন, বড়দিও বলেছিল, শুধু শুধু একটা বছর নষ্ট করবি ঝুমনো?

    ও বলেছিল, তোমরা বলছ শুধু শুধু। কিন্তু আমি যে পারব না কিছুতেই। তাইতেই বোঝা গিয়েছিল, বড়দির জন্যে ওর আঘাত বেজেছে কতখানি।

    বড়দি আর গিরীনদার বোঝাপড়ার ব্যাপারে, এদিকে গিরীনদা যতই জেদ করেছেন, ততই নির্দয় হয়েছে মেজদি। ওর নির্দয়তা দেখে বড় কান্না পেয়েছে সুমিতার। কেবলি ভেবেছে, মেজদি ইচ্ছে করলেই বুঝি সব মিটিয়ে দিতে পারে। ও মেজদির উত্তেজনা দেখেছে, থমথমানি দেখেছে। মেজদির ওই চোখ দুটির মতো হৃদয়ের অতলে আর কিছু আছে কি না, তা তো ও জানে না। তাই কেবলি ভেবেছে, মেজদি যদি ওর সমস্ত ব্যক্তিত্ব দিয়ে সব অন্ধকার দূর করে দিত, তবেই যেন চারদিকের সব বিবাদ-বিসম্বাদ যেত কেটে।

    কিন্তু আজ সব বোঝাপড়ার, সব ভাবাভাবির, সব কথাবার্তার শেষ দিন। আজ কেন ও অমন স্তব্ধ হয়ে আছে বসে। যেন ওরও সমস্ত উত্তেজনার, সমস্ত যুক্তিতর্কের শেষ দিন আজ।

    রাত পোহানো থেকে সুমিতা যেমন করে বার বার এমনি ঘরবার করেছে, গেছে প্রত্যেকের কাছে কাছে, তেমনি এ-ঘর থেকে পা বাড়াল বড়দির ঘরে। যে ঘরে গেলে ওর বুকের ভয় সশব্দে চিৎকার দিয়ে উঠতে চায়। উদ্বেল হয়ে ওঠে কান্না। তবু না গিয়ে পারে না। ওর ছোট বুকে যে আশা বাসা বেঁধেছে, তার মধ্যে তো কোনও ছলনা নেই।

    ছলনা যেটুকু, সেটুকু তো ভাবের বহিরাঙ্গনের ছদ্মবেশ। বড়দির ঘরে পা বাড়াবার আগে, আরেকবার তাই ও ছদ্মবেশ ফিরিয়ে আনল। সেই কিছু না-জানা, কিছু না-বোঝা রুমনির ছদ্মবেশ। ও জানে না, যদি ওকে তেমন করে কেউ লক্ষ করত, দেখতে পেত, যতই ছদ্মবেশ ধারণের চেষ্টা করছে, ততই প্রকাশ করে ফেলছে নিজেকে। আগুন লাগা আঁচলে ঝাপটা দিলে তো সে নেভে না, আরও বাড়ে।

    ঘরের ভেতর দিয়ে ঘরে যাওয়ার দরজা রয়েছে। মাঝখানে রয়েছে পদা। খাটের পাশ দিয়ে ঘরে ঢুকতেই চোখাচোখি হয়ে গেল বড়দির সঙ্গে। মেজদি যেমন চকিতে নিয়েছিল চোখ ফিরিয়ে, বড়দি তা নিতে পারল না। যেমন তাকিয়ে ছিল, তাকিয়ে রইল তেমনি। কেবল এক বার চোখাচোখি হল সুমিতার সঙ্গে। চোখে শূন্য দৃষ্টি। যেন কী এক ভাবের ঘোরে ও মগ্ন রয়েছে। মনের পায়ে পায়ে চলে গেছে অন্য জগতে। সেখানেই নিবদ্ধ রয়েছে চোখ। তার মাঝখান দিয়ে কে চলে গেছে, কার সঙ্গে দৃষ্টি বিনিময় হয়েছে এক মুহূর্তের, তা মনে গিয়ে ছোঁয়নি। তার ওপরে যে গেছে, সে রুমনি। সে অনেক বার গেছে, এসেছে আবার।

    ত্বরিত-পায়ে এসে সুমিতা চলে গেল, বড়দির খাটের পাশতলার দিকে, ড্রেসিং টেবিলের কাছে। এলোমেলো ড্রেসিং টেবিল। আজ কিছুদিন থেকেই এমনটি হয়ে রয়েছে। জায়গা বদলে সব শিশি কৌটোগুলো ছড়িয়ে রয়েছে অজায়গায়। আয়নাটি কেমন যেন বুক চিতিয়ে হয়ে রয়েছে উধ্বমুখ। অর্ধেক বুক জুড়ে তার প্রতিবিম্বিত শুধু ছাদের কড়িবরগা। হঠাৎ নিজের ছায়া দেখলে মনে হয়, মাথাটি গিয়ে ঠেকেছে বুঝি কড়িকাঠে। পুঁতির ঝালর দেওয়া আয়নার জাল পরদাটি অসংবৃত ঘোমটার মতো একপাশে রয়েছে ঝুলে। হয়তো গতরাত্রে বড়দির আর ঢাকনাটিও টেনে দিতে ইচ্ছে হয়নি। বারে বারে, ঘুরতে ফিরতে নিজের ছায়াটি চোখে পড়েছে বলে, হঠাৎ বিরক্ত হয়ে আয়নাটিকে ঠেলে দিয়েছে উঁচু মুখ করে। পাশে একটি ছোট লেখবার টেবিল। এগুলি বড়দির ব্যবহারের। হয়তো কাল রাত্রে কিছু লিখেছে বড়দি। ফাউন্টেনপেনটি পড়ে রয়েছে খোলা অবস্থাতেই। কাগজপত্রও ছড়ানো। ছেঁড়া কাগজের ঝুড়িতে পড়ে রয়েছে অনেক দিনের পুরনো একটি বিলাতি ম্যাগাজিন। ম্যাগাজিনটি এ বাড়ির নয়, গিরীনদা হাতে করে এনেছিলেন। সেই থেকে ঘর আর জায়গা বদলে বদলে পত্রিকাটি ওইখানে গিয়ে ঠেকেছে। হয়তো ইচ্ছে করেই বড়দি ম্যাগাজিনটাকে কখন ফেলে দিয়েছে ওখানে। ছোট টেবিলের পাশে দুটি চেয়ার। ঘরের মাঝখানে টি-পয়। একপাশে পাশাপাশি জামাকাপড় আর অন্যান্য জিনিসের দুটি আলমারি। খাটের শিয়রের কাছে আর একটি ছোট টেবিল, পাশে একটি ছোট বইয়ের শেলফ। সেখানেও এলোমেলো অবস্থা। দেয়ালে আছে দেশি ও বিলাতি ছবি, বাবার ফটো। আর ফটো ছিল বড়দি-গিরীনদার। কিন্তু ওদের সমস্ত ব্যাপার যেদিন চাপা থাকতে থাকতে শেষপর্যন্ত ভেরি বাজিয়ে ছড়িয়ে পড়ল বাইরে, সেদিন সুমিতা দেখল, দেয়ালে ছবিটি নেই। কে সরিয়ে নিয়েছে, কোথায় রেখেছে ও কিছুই জিজ্ঞেস করতে পারেনি।

    ভিতর বাড়িতে এ ঘরটি সবচেয়ে বেশি সাজানো। কেমন একটি মিষ্টি গন্ধ ছড়িয়ে থাকে ঘরটির মধ্যে। আগে অবশ্য এতখানি ছিল না। বড়দির বিয়ের পরেই এ ঘরটিরও যেন বিয়ে হয়েছিল। এ ঘরের ফুলদানি থেকে দেয়ালের ছবি, সবকিছুর মধ্যেই একটা বিয়ে বিয়ে ছাপ পড়েছিল। সেটাকে ঠিক বিলাসিতা বলা চলে না। মেয়েরা বড় হলে যেমন তার ভাবে ও কথার মধ্যে ওঠে ফুটে কেমন একটি নতুন ভাব, বিয়ে হলেও বোধ হয় তাদের মনের মুকুরে কী এক নতুন রূপের আবির্ভাব হয়। যে রূপ সুমিতা সঠিক উপলব্ধি করতে পারে না। কিন্তু ভাবতে গেলে ও একলাই বিচিত্র লজ্জায় লাল হয়ে ওঠে। সেই নতুন রূপেরই ছাপ সারাটি ঘরে।

    তখন গিরীনদা আসতেন প্রায়ই। থাকতেনও এখানে। যখনই বড়দি আসত, তখন। এ ঘরে গিরীনদার ছোটখাটো অনেক চিহ্ন খুঁজলে পাওয়া যাবে এখনও। মলিয়েরের ওই ন্যুড-ইনকুশনটি যেদিন টাঙানো হল দেয়ালে, সেদিন শঙ্কিত লজ্জায় লাল হয়ে উঠেছিল মেজদি। নিজের নামটি শুনে সুমিতা থমকে দাঁড়িয়ে, বাইরে থেকে শুনেছিল ওদের কথা। মেজদি বলেছিল, রুমনিটা এখনও বড়ডো ছোট। না জানি কী মনে করবে। জবাব দিয়েছিলেন গিরীনদা। উনি ঠাট্টা করে মেজদিকে কখনও মিস বিবেকানন্দ, ব্রহ্মচারিণী, কিংবা মেজদির রাজনীতি করার দিকে একটা খোঁচা দিয়ে বলতেন, ছাত্র দলনী, নয়তো সোজাসুজি মেজদিও বলতেন। বলেছিলেন, দেখ মেজদি, এটা তোমরা বড় ভুল কর। দেখতে না দিলে মানুষ দেখতে শেখে না। তখন লুকিয়ে দেখতে হয়! নইলে তো ওদের দেশে এত বড় বড় শিল্পীদের ছবিগুলি যখন ভারতবর্ষে পাঠায়, তখন নীচে লিখে দিতে হয়, ফর অ্যাডালটস্ ওনলি!

    কথা শুনে হেসে উঠেছিল ওরা তিনজনেই। বড়দি মেজদি গিরীনদা।

    ফটোশিল্পী নবীন হালদারের ওই ট্রাইবদের দুটি ফটোও তখুনি টাঙানো হয়েছিল। তখনও প্রশ্ন উঠেছিল, সেই একই। ট্রাইবদের একটি বিবস্ত্র মেয়ে-পুরুষদের নাচের ফটো, অন্যটিতে গাছপালা পাহাড় পর্বত নদনদীর মতোই উন্মুক্ত দেহ একটি যুবতী দু পা ছড়িয়ে রং দিয়ে অলঙ্কৃত করছে তার নাভিমূল।

    এ সবই বড়দির বিয়ের পর। বাবার ঘরে তো শুধু মায়ের ফটোটি আছে। ওর আর মেজদির ঘরে আছে আয়ারল্যান্ডের দুজন বিপ্লবীর ছবি, মহাত্মা গান্ধীর সমুদ্রযাত্রা আর গতবছর যে মহাযুদ্ধ শেষ হয়েছে, সেই যুদ্ধে মুক্ত লেলিনগ্রাডের ওপর একজন বিজয়ী সৈনিকের ছবি। আর শুধু বই। ও ঘরে প্রসাধন সামগ্রীও কিছু নেই। সে সবও বড়দির ঘরেই। এ ঘরেই এক কোণে, ওই ছোট্ট কুঠরি। ওরা তিন বোন ওখানেই কাপড় পরে। এই আয়নার সামনে দাঁড়িয়েই ঠিক করে নেয় বেশবাস।

    এ বাড়িতে প্রসাধন সামগ্রী সাজানো থেকেছে, বড়দির বিয়ের পর সে সবের আমদানিও হয়েছে সুপ্রচুর। কিন্তু এ বাড়িতে প্রসাধনের বাড়াবাড়ি হয়নি কোনওদিনই। একটু স্নো, পাউডার, শীতের ক্রিম, চুলের শ্যাম্পু, এ বাড়ির প্রথানুযায়ী নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস। বড়দির বিয়ের পরেই নতুন নতুন জিনিসে ভরে উঠেছে ড্রেসিং টেবিল। নতুন সাজে সেজেছে এ-ঘর।

    কিন্তু সব সজ্জা-ই আজ এ বাড়ির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মুখ ঢেকেছে অন্ধকারে। কেমন বিবর্ণ, শ্রীহীন, রুদ্ধশ্বাস অস্বস্তিতে ভরে আছে সারাটি ঘর। এ-ঘরের অগোছালো জিনিস প্রতিদিন ঝি অচলা দিয়ে যায় গুছিয়ে। তবু যেন সবই অগোছালো, তবু যেন সবই এলোমেলো, বিশৃঙ্খল, বিষণ্ণ আর একটি অস্পষ্ট অপমানের ক্ষুব্ধ ব্যথায় গুমরোচ্ছে।

    বড়দিকে সকাল থেকে সেই একইভাবে এলিয়ে এলোমেলো শুয়ে থাকতে দেখে আরও বেশি করে মনে হচ্ছে সে কথা। ওরই মুখের ছায়া সারাটি ঘরের মধ্যে ওই ভাঙা সাজের রুদ্ধ যন্ত্রণা মূর্তি ধরছে। স্মৃতি দংশন করছে প্রতি কোণে কোণে, বিছানায়, টেবিল-চেয়ারে, সবকিছুতে, সবখানে। সবখানে, অনেক দুপুর, অনেক সন্ধ্যা, অনেক রাতের অলি-দংশিত-স্মৃতির অলক্ষিত ফোঁটা-ফুলগুলি বাসি আর বিবর্ণ হয়ে পড়ছে ঝরে ঝরে। অনেক মিষ্টি হাসি, আবেশ-দৃষ্টি, এখন বিদ্রূপ আর শ্লেষ কষায়, জ্বালা ছড়াচ্ছে ব্যথা ও অপমানের।

    বিনুনির বাঁধন খুলতে খুলতে, বড়দির দিকে লুকিয়ে দেখতে দেখতে হাত কাঁপছে সুমিতার। ও যত খুলছে, জট পাকাচ্ছে তত।

    বড়দি ঠিক তেমনি এলিয়ে কাত হয়ে শুয়ে আছে ওর লাল আভাসিত রং শাড়িটি দলিত করে। কেমন করে শুয়ে আছে, সে খেয়ালটুকুও নেই এখন। ওর বাঁ পায়ের ওপর থেকে শাড়িটি উঠে গেছে। খানিকটা। আঁচলটি চাপা পড়ে গেছে শরীরের তলায়, একটুখানি টেনে দেওয়া রয়েছে বুকের ওপর দিয়ে। বিলাতি লিনেনের জাম-রং-ছাপা ব্লাউভ্রূ কুঁচকে কোমরের কাছ থেকে সরে উঁচুতে উঠে গেছে। বড়দির জামার কাঁধও বড়। কাঁধ, গলা, সবই যেন দিগন্তকে বাড়িয়ে, পোশাকের বিস্তৃতিটুকু দিয়েছে সংক্ষিপ্ত করে। একমাত্র ওরই জামার ছাঁট কাট একটু এই রকমের। আগেও প্রায় এমনিই ছিল। বিয়ের পরে আরও বদলেছে। বিশেষ, গরমের দিনের জামাগুলি তো কাঁধের প্রান্তে ডানা ছুঁয়ে বিস্তৃত বাঁকে দিশেহারা গতিতে নেমে যায় বুকের দিকে। যেন সেই দুর্জয় গতি থামবে না। তারপরে হঠাৎ একসময়ে থামে, যখন সুমিতা, রুদ্ধশ্বাস হয়ে ওঠে মনে মনে। পরে নিশ্বাস যদিও বা পড়ে, তবু এক সংশয়ে মন বিলুলিত হতে থাকে। যেখানে এসে থেমেছে, সেখানেও কেমন এক বাঁধভাঙা অস্পষ্টতা। সুমিতা-ই লাল হয়ে ওঠে মুগ্ধ-লজ্জায়। মুগ্ধ হয় ও, ওই সময়ে বড়দিকে অদ্ভুত সুন্দর লাগে। কিন্তু ওর এই নতুন বয়সের লজ্জা ছাপিয়ে ওঠে সেই মুগ্ধতাকে। বড়দি যত চলাফেরা ওঠাবসা করে, ততই ধুকধুক করে ওর বুকের মধ্যে। তাকায় সকলের চোখের দিকে, যদি কেউ থাকে আশেপাশে, বিশেষ পুরুষদের। কিন্তু সবাই হাসে, কথা বলে, বড়দিও সমান তালে চলে সকলের সঙ্গে। কোথাও কোনও অস্বাভাবিকতা নেই। ও-ই শুধু মরে ভেবে ভেবে।

    কিন্তু বড়দি এমনি চিরদিনই। ওর বড় হওয়ার সব কালটুকুই কেটেছে বাংলার বাইরে। লেখাপড়া শিখেছে কনভেন্টে। বি এ পাশ করেছিল লাহোরে। বাংলার কোনও সমাজের সঙ্গেই পরিচয় ঘটেনি ওর সে পর্যন্ত। মেজদি কনভেন্টে ছিল কয়েক বছর। কিন্তু পুরোপুরি নয়। ওর কলেজ জীবনের সবটাই কেটেছে প্রায় কলকাতায়। কলকাতার ছাত্রী জীবনের রুচি বোধটাই রপ্ত হয়েছে ওর। তবু ওর সচকিত বলিষ্ঠতা একটু চোখে পড়ে বেশি। সেদিক থেকে সুমিতা একেবারেই কলকাতার মেয়ে। ঘরে বাইরে, মনে, শিক্ষায়-দীক্ষায় চলাফেরায়, সবকিছুতে। কলকাতার এই পাঁচমিশেলি আধুনিক ঝংকার ও শোনে, ভালও লাগে মাঝে মাঝে। কিন্তু বড়দির মতো জামা পরার কথা আজও ভাবতে পারে না।

    মেজদি কখনও সখনও প্রায় ওই রকমের জামা পরে। বড়দির বিয়ের সময় পরেছিল। বড়দি-গিরীনদার সঙ্গে কোনও কোনওদিন বেড়াতে যাওয়ার সময় হয়তো পরেছে। গিরীনদা বলতেন, তুমি তোমার ওই স্বদেশি পোশাকগুলো দয়া করে ছেড়ে নিয়ে মিস ঝুমনো। লোকে ভাববে, আমি দুই বাড়ির দুই মেয়েকে নিয়ে চলেছি।

    মেজদি বলত, যাচ্ছি বেড়াতে। তোমার জন্যে তো যাচ্ছিনে।

    গিরীনদা বলতেন, তা বললে তো হবে না। যতক্ষণ আমার সঙ্গে আছ, ততক্ষণ আমারই।

    মেজদি পাতলা ঠোঁট দুটি বাঁকিয়ে বলত, ইস।

    ঠিক সেই মুহূর্তে মেজদিকে মনে হত, বড়দির মতোই রহস্যপ্রিয় তরল।

    এখন বড়দির ওই বড়-গলা জামা আরও অনেকখানি নেমে এসেছে সব সংশয় পার হয়ে। সেদিকেও ওর খেয়াল নেই। অন্য সময় হলে এতক্ষণে লজ্জায় মরে যেত সুমিতা। কিন্তু নিয়ত ফিটফাট বড়দিকে এমন বিস্রস্ত অবস্থায় দেখে সমস্ত ব্যাপারটি ওকে আরও শঙ্কিত করে তুলেছে।

    গলায় সোনার চেন-হার গলা থেকে পিলপিল করে নেমে এসেছে ডানদিকের বুকে। হাতে মাত্র দুটি সোনার চুড়ি। কানে দুটি বড় বড় লাল পাথর সোনার সরু আংটায় আটকানো।

    কিন্তু সব মিলিয়ে ও যেন কেমন দলিত মথিত হয়ে পড়ে রয়েছে। ওর পাশের লাল টকটকে কম্বল, ওর লাল আভাসিত-রং শাড়ি, জাম রং-ছাপা ব্লাউজ, তার ফাঁকে ফাঁকে ওর উন্মুক্ত ফর্সা ধবধবে নিটোল পায়ের গোছা, কোমরের উপরিভাগ, কাঁধ আর বুকের একটি অংশ যেন রং-বেরং-এর নিষ্পেষিত ফুলের মতো রয়েছে ছড়িয়ে। চুলের খোঁপাটি পড়েছে শিথিল হয়ে। চোখের চারপাশে ভিড় করেছে ছায়া। মাঝখানে অকম্পিত দীপশিখার মতো চোখ জ্বলছে। ফুলে ফুলে উঠছে নাকের পাটা। আর লাল টকটকে ঠোঁট হঠাৎ নড়ে উঠছে। কী যেন ভাবছে ও। যেন সারা রাত ধরেই ভেবেছে। তাকে এই বেশে, প্রায় এমনিভাবেই, গতকাল থেকে দেখছে সুমিতা।

    বড়দি, মেজদির মতো দোহারা নয়, কিন্তু ঠিক একহারা বলতে যেমন ছিপছিপে বোঝায়, ও তাও নয়। ওর হাতে পায়ে, চোখে মুখে এক অপূর্ব রূপের দীপ্তি। কিন্তু সেই রূপ যেন মেজদির মতো গম্ভীর হয়ে ওঠেনি। বরং বড় হয়েও বড়দি সদাসচকিত তরল স্রোতের মতো তরতর করে চলেছে। ঠোঁটের কোণে নিয়তই একটু হাসি আছে লেগে। যখন ও অভিমান করে, দুঃখ পায়, রাগ করে, তখনও লেগে থাকে ওই হাসিটুকু। কেবল মুখখানি লাল হয়ে ওঠে। যখন সেটুকুও থাকে না, বুঝতে হবে, তখন দুঃখ বড় গভীরভাবে বেজেছে। এমনিতে চোখে মুখে চলায় ফেরায় গাম্ভীর্যের লেশমাত্র নেই। হঠাৎ দেখে মনে হয়, ব্যক্তিত্ব বুঝি নেই। কিন্তু যখন রাগ করে, তখন অনর্থ ঘটে যায়। অন্যথায়, ওর এই অপরূপ রূপের মাঝে একটি সহজ মানুষ, কথায় কথায় গুনগুন করে ফেরে অনুক্ষণ। মনের কোথায় যেন একটু শৈথিল্যও আছে। একাজে সে কাজে কেবলি মেজদিকে জিজ্ঞেস করবে, আচ্ছা এটা কী করব বল তো ঝুমনো? কিংবা এটা ঠিক হয়েছে ঝুমনি?

    তখন গম্ভীর চিন্তাশীল মেজদির সামনে বড়দিকে রূপসী আদুরে মেয়েটি মনে হয়। মেজদি যদি বলে এইটি করো, নিশ্চিন্ত খুশিতে ও তাই করে। আবার ঝগড়া হলে কথা বন্ধ হতে দেরি হবে না। ওরা দুজনে যখন পথ চলে, তখন মেজদি চলে সামনের দিকে তাকিয়ে। বড়দি যায় চারদিকে চোখ বুলিয়ে। মেজদি যদি বলে, এটি খারাপ, এ চলবে না। বড়দি বলবে, একটু দেখলে কেমন হয়?

    ওদের মিলের চেয়ে অমিল বেশি। কিন্তু ওদের ভাবও বেশি, যে ভাবের মধ্যে ছোট রুমনির জায়গা নেই।

    বাবা বলেন, রুমনিটাও দেখছি উমনির মতো হয়ে উঠছে। অর্থাৎ বড়দির মতো। কিন্তু কোথায়, কোনখানে, সঠিক বুঝতে পারে না সুমিতা। এমনকী, বড়দি ওর কাছে কেমন যেন অচেনা, দূরে দূরে রয়ে গেছে। শুধু যে বয়সের অনেক তফাত, তা নয়। আরও কোনও কোনও জায়গায় বড়দিকে সবটুকু চিনে উঠতে পারেনি।

    এক জায়গায় বড়দি ওর বড় চেনা। সেখানে এক স্নেহময়ী বড়দি, যে রুমনিকে মাঝে মাঝে সাজায়, আদর করে কিনে দেয় এটা সেটা। খেতে দেরি হলে বাবাকে ধমকায়, রবিদাকে খেপায়, বিলাসকে তাড়া দেয়, রান্নাঘরে গিয়ে নিজে নতুন নতুন খাবার তৈরি করে। মুখ গোমড়া করে ধমকাতে জানে না ও। মেজদি যদি গম্ভীরভাবে বলে, রুমনি চুল বেঁধে নাওগে।বড়দি সেখানে বলবে, এ কী? চুল বাঁধিসনি? বলে নিজেই চিরুনি নিয়ে, ওর ছোটকালে শেখা মেমসাহেবদের মতো অদ্ভুত ভঙ্গিতে চুল বেঁধে দেবে।

    তারপর এমন ভুলে যাবে যে, তিন দিন হয়তো রুমনির সঙ্গে কোনও কথাই হবে না। চোখেই পড়বে না। যেন রুমনি এ বাড়িতে নেই, কিংবা বড়দি এখানে থেকেও ঘোরাফেরা করছে আর এক জগতে।

    তখন বড় কষ্ট হয় সুমিতার মনে। অবাকও হয়, আর দূর থেকে দেখে বড়দিকে। তখন আর বড়দিকে ও কিছুতেই চিনে উঠতে পারে না।

    সেই বড়দি কেমন এক স্বপ্নময়ী। নিজের ভাবেই বিভোর। আড়ালে আঁচল ঠিক করছে, ব্লাউজটি টেনে নিচ্ছে, সারা মুখে একটি রহস্যের ঝিকিমিকি। যেন ও কী এক গোপন রসের হিল্লোলে বিজয়িনীর মতো ফিরছে নিঃশব্দ হাসির রেশ ঠোঁটে নিয়ে। বিয়ের অনেক আগের থেকে, সুমিতার চোখে যখন সবেমাত্র এ সংসারের বৈচিত্র ফুটেছে তখন থেকেই দেখছে এমনি। যেন বড়দি কী একটি বস্তু পেয়েছে, কী নিয়ে কী যেন রচনা করছে মনে মনে।

    ওদের বাড়িতে চিরকালই অনেক ছেলের আনাগোনা। তখন বড়দি সবসময়েই কারণে অকারণে বাইরের ঘরে যেত। ছেলেরা যখন আসত, তখন ওকে আরও বেশিভাবে বিভোর রহস্যময়ী মনে হত। পাশে দাঁড়িয়ে থাকলেও চিনতে পারত না রুমনিকে। বাবা কাছে বসে থেকেও পড়ে থাকতেন বহু দূরে। সবাই ওর সঙ্গে কথা বলতে ব্যস্ত। ও যেন মহারানি, ওকে ঘিরেই সবাই।

    বাবাও রুমনির মতোই কাছে থেকেও দূর থেকে দেখতেন উঁকি মেরে। ওঁরও যেন বুকের মধ্যে রুমনির মতো একটি অস্পষ্ট ব্যথা। বাবার জন্যে কীরকম কষ্ট হত মনে মনে। কিন্তু বাবা ঠিক কথা বলতেন, হাসতেন, তবু ওই রকম মনে হত।

    তারপরে রবিদার সঙ্গে প্রথম এলেন গিরীনদা। তখন থেকে বড়দিকে ওর আরও বিহ্বল আচ্ছন্ন মনে হত। কী এক আবেশে বড়দি হাসছে, কথা বলছে, চলছে, ফিরছে, নিজেই বোধ হয় জানত না। অথচ চোখের তারা তেমনি সচকিত, স্রোতস্বিনীর মতো এদিকে ওদিকে প্রবাহিত।

    তখন প্রায় মাসখানেকের মধ্যে একটি কথাও বড়দি বলেনি সুমিতার সঙ্গে। কিন্তু আশ্চর্য! এত বড় একটি বিচিত্র ঘটনা কারুর যেন চোখেই পড়েনি এ বাড়ির। শুধু সুমিতাই এক অবাক ও অবুঝ ব্যথা নিয়ে সব লক্ষ করেছে।

    তারপরে, বছর ঘুরতেই ও দেখল, বড়দির সঙ্গে গিরীনদার বিয়ে। ওকে কেউ কিছুই বলেনি। যে বলতে পারত, সে মেজদি। কিন্তু মেজদি কোনও প্রয়োজন বোধ করেনি। বাবার তো সময়ই ছিল না। বিয়ের পূর্বমুহূর্তে রহস্যমিশ্রিত দূরাগত বাজনার মতো একটি শব্দ পাচ্ছিল সুমিতা। বিয়ের মুহূর্তেই ওর এত দিনের সব সংশয়, কৌতূহল ব্যথা এক চকিত খুশির কল্লোলে গেল ভেসে। হঠাৎ যেন ও বড়দিকে আবিষ্কার করল নতুন করে। এত ভাল লাগল ওর বড়দিকে। কেন, ও তা নিজেই জানে না। বড়দি যে এত সুন্দরী, এমন রূপসী, তা ওর চোখে এমন করে ধরা পড়েনি।

    হঠাৎ বাড়িতে কী ঘটে গেল। সারা বাড়ির কোণে কোণে কেমন এক নিঃশব্দ উল্লাসের বান ডেকে উঠল। ওর ভাব হয়ে গেল গিরীনদার সঙ্গে। গিরীনদা এমন করে বড়দির দিকে চায়, এমন কাছে কাছে থাকে, দেখেশুনে ওর প্রাণের প্রথম নিঝরের স্বপ্নভঙ্গ হয়ে গেল। সেই প্রথম নিঝর হল ওর সেই সময়ের কৈশোরের অন্তিম মুহূর্তে দুটি আপন জনের মিলন দেখা। সেই সময়টা আর কাউকে দেখেনি, বড়দি আর গিরীনদাকে ছাড়া। দেখে দেখে, কী যে ভালবেসেছিল দুটিকে। যেন ছোট্ট মেয়েটির দুটি প্রাণের পুতুল।

    যে অস্পষ্ট ব্যথা ও কৌতূহল নিয়ে ও আগে বড়দিকে দেখত, তখন ওই অস্পষ্ট ব্যথাটুকু চাপাখুশি-কৌতূহল হয়ে উঠল। দেখল, বড়দির সেই ভাববিহ্বলতা আরও গম্ভীর হয়েছে। লাল ঠোঁট দুটি আরও রাঙা হয়ে থাকে সবসময়। ঠোঁটের কোণে যে হাসিটুকু কী কারণে বন্দি হয়ে ছিল, সেটুকু মুক্তি পেয়ে অনাবিল হয়ে উঠল।

    সুমিতা তখনও তেমনি বড়দির কাছ থেকে দূরে দূরেই। ওই দুজনকে মিলিয়ে ভালবেসেছে ও দূর থেকেই।

    ওর এই খুশির আসরে মেজদির ভূমিকা কম। তবু মেজদিও ওদের কাছে গেলে অন্য রকম হয়ে যায়। বড়দির মতো মেজদিও সশব্দে হেসে ওঠে খিল খিল করে। বাবাকে মনে হত, পুতুল খেলার আসরে এসেছেন বয়স্ক মানুষটি। দেখেশুনে মজা পাচ্ছেন খুবই, তবে কিছুই করার নেই, বড় একলা।

    সুমিতার এই খুশির কথাটুকু জানতেন সবচেয়ে বেশি রবিদা। বারে বারে জিজ্ঞেস করতেন, তা হলে তুমি খুবই খুশি হয়েছ রুমনি?

    –খুউব।

    –কেন বলো তো?

    সুমিতা অবাক হয়ে বলত, বা রে! আপনি যেন কী।

    রবিদাকে সুমিতাই বলত, কেমন করে বড়দির ঘর সাজানো হয়েছে। গিরীনদা কী বলেছেন। বড়দিকে নিয়ে কোথায় গেছেন। রবিদা বলতেন, তাই নাকি? ও, আচ্ছা? কখনও কখনও মনে হত রবিদা যেন বড় বেশি গম্ভীর হয়ে উঠছেন শুনতে শুনতে। কিংবা শুনছেন না, দূর আকাশের দিকে তাকিয়ে ভাবছেন কিছু। বড়দি যখন গিরীনদাদের বাড়ি যেত, তখন রবিদার সঙ্গে সুমিতা বেড়াতে যেত ওবাড়িতে। সেবাড়িও যত বড়, সাজানো-গোছানো ততই সুন্দর।

    তারপরে, বছর ঘুরতেই একদিন দেখল, বড়দি লুকিয়ে কাঁদছে ওর ঘরে। বাবা গম্ভীর মুখে বসে আছেন সামনে। সেদিনটি ছিল আজকের এই দিনের প্রস্তাবনা। তারপরেও বড়দি এক বছর যাতায়াত করেছে গিরীনদাদের বাড়িতে। গিরীনদাও এসেছেন। গত বছর থেকে সবই বন্ধ হয়েছে।

    বাকি আছে শুধু এই দিনটি। সুমিতা চেয়েও দেখল না ওর চুলের দিকে। দুটি বিনুনি যেমন ছিল, তেমনি আছে। ও দেখছে শুধু বড়দিকে। আজও বড়দি নিজের ভাবে বিভোর। কিন্তু এমন বিষণ্ণ ক্ষুব্ধ সেদিন ছিল না। কোথায় গেল সেই সদা-সচকিত হাসিটি। বড়দি সেই তরল স্রোতের সব প্রবাহটুকু যেন রেখে এসেছে গিরীনদাদের বাড়িতে।

    এইখানে গিরীনদা বসতেন, ওইখানে শুতেন, এইটি, ওইটি, সেটি গিরীনদা এনেছিলেন এ ঘরে। তার মাঝে, ওইভাবে শুয়ে আছে বড়দি। সারা ঘরের মধ্যে একটি তীব্র ব্যথা আবর্তিত হয়ে উঠছে। আজ সব শেষ, আজ এই শেষ দিনেই যেন সবচেয়ে বড় ঝড়ের প্রাক্ মুহূর্তের নিস্তব্ধতা এসেছে নেমে। চারদিকে এখন মেঘের সমারোহ। ভয়ে বিলুলিত শুধু এ বাড়ির অলক্ষিত লতাটি।

    মাতৃহীন ছোট্ট মেয়ে রুমনির অনেক সুখ দুঃখ, এ বাড়ির মধ্যে এক নতুন দিগন্তের সন্ধান দিয়েছিল ওকে বড়দি আর গিরীনদা। ওর সেই দিগন্তই আজ নিদারুণ বিদ্রূপ করে ফিরে এসেছে ভয়াল কুটিল বেশে।

    সুজাতা ডাকল, রুমনি!

    ধক করে উঠল সুমিতার বুকের মধ্যে। চোখাচোখি হল বড়দির সঙ্গে। বলল, অ্যাঁ?

    ওর চমকানি দেখে বোধ হয় চকিতে একবার সুজাতার ভ্রূ কেঁপে উঠল। বলল, রবি এসেছে?

    তখনও সুমিতার বুকের মধ্যে হৃৎপিণ্ডটি লাফাচ্ছে। বলল, না তো। বলতে বলতে ও প্রায় টেনে ছিঁড়তে লাগল বিনুনি। কিন্তু বড়দি আর কিছুই বললে না। তবু মুহূর্তের মধ্যে যেন কী ঘটে গেল। সুমিতার হৃৎপিণ্ডের দামামা থামল না। ও যেন কীসের এক আলোকময় ইশারা পেল দেখতে। আজকের ছায়া অন্ধকারে, এক ঝলক বিদ্যুতের মতো বড়দির প্রশ্নটি ওকে দেখিয়ে দিল নতুন পথ।

    বড়দিও তবে রবিদার পথ চেয়ে আছে। জানতে চায়, কী সংবাদ আনবেন রবিদা। যেন স্পষ্টই দেখতে পেল, ব্যথায় বুক চেপে বড়দিও উৎকর্ণ হয়ে আছে ওই লোহার গেটের দিকে। এই শেষ মুহূর্তে তবে বড়দি শেষ কথাটি জানতে চায়! এখনও তবে সব বিবাদ বিসংবাদ মিটতে পারে।

    ও যেমন ত্বরিত পায়ে এসেছিল, তেমনি ত্বরিত পায়ে সামনের দরজা দিয়ে চলে গেল বাইরে। মনটা নিঃশব্দে গুনগুন করছে, যেন বাইরের ঘরে গিয়ে দেখতে পায় রবিদা কথা বলছেন বাবার সঙ্গে। যেন দেখতে পায়, যেন দেখতে পায়…

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅপরিচিত – সমরেশ বসু
    Next Article শালঘেরির সীমানায় – সমরেশ বসু

    Related Articles

    সমরেশ বসু

    প্রজাপতি – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    গঙ্গা – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    বিবর – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    অকালবৃষ্টি – সমরেশ বসু

    December 2, 2025
    সমরেশ বসু

    নয়নপুরের মাটি – সমরেশ বসু

    December 1, 2025
    সমরেশ বসু

    শ্রীমতি কাফে – সমরেশ বসু

    December 1, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }