Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    দশটি রহস্য উপন্যাস – প্রণব রায়

    প্রণব রায় এক পাতা গল্প1004 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    কে তুমি – ৪

    চার

    কিন্তু নরেন সত্যিই এল। আরও মাসখানেক পরে। এলাহাবাদের আকাশে যখন বর্ষা যাই—যাই করছে।

    রান্নাঘরে জলখাবারের তদারক করছিল সুধা। বিকেল তখন পাঁচটা। সুজিত একাই বেরিয়েছে। বৃষ্টির জন্যে সুধা যায়নি। রঘুয়া এসে জানালে, আপনার দাদা এসেছেন বউদি।

    কয়েক মুহূর্ত বোকার মতো চেয়ে রইল সে। তারপরই সমস্ত শরীরের রক্তস্রোত হঠাৎ যেন থমকে থেমে গেল।

    রঘুয়া খবরটা আবার জানালে।

    সুধার রক্ত চলাচল আবার শুরু হল। শুরু হল আগের চেয়ে দ্রুতবেগে। রঘুয়াকে বললে, বসতে বলগে—আসছি।

    নিজেকে সামলাতে সুধার বেশ কিছু সময় লাগল। তারপর আস্তে আস্তে এসে দাঁড়াল একতলার হলঘরে।

    নরেন তখন গা থেকে রেনকোট খুলছিল। সুধাকে দেখে আগের মতোই ঠান্ডা গলায় বললে, এসো। তোমার দেরি দেখে ভাবলাম, বুঝি বা ভেতরেই যেতে হবে।

    আড়ষ্ট হয়ে দাঁড়িয়েছিল সুধা। তেমনি আড়ষ্ট গলায় বললে, এ বাড়ির ভেতরে যাবার অধিকার তোমার নেই।

    সে অধিকার তোমারই কি আছে?

    রেনকোটটা সোফার হাতলে রেখে নরেন বসতে যাচ্ছিল, সুধা বললে, এখানে নয়, ও—ঘরে চলো।

    লাইব্রেরি ঘরের ভারি পর্দাটা সুধা হাত দিয়ে তুলে ধরলে। রেনকোটটা কাঁধে ফেলে নরেন ঢুকল। পিছনে সুধা।

    পকেট থেকে সিগারেটটা বের করতে করতে নরেন বললে, খুব অবাক হয়ে গেছ মনে হচ্ছে!

    চাপা গলায় সুধা প্রশ্ন করলে, এলাহাবাদে কবে এসেছ?

    আজই সকালে।

    উঠেছ কোথায়?

    ভবঘুরেরা যেখানে থাকে! হোটেলে।

    এখানে এলে কেন?

    বড় টেবিলটার এককোণে নরেন বসল কাগজপত্র সরিয়ে। তারপর বললে, আমাকে ভুলে গেছ কিনা দেখতে। সেই যে শ্বশুরবাড়ি এলে, তারপর এই চার মাস একদম চুপচাপ—না একটা চিঠি, না একটা খবর। মন কেমন করতে লাগল, তাই ছুটে এলাম।

    দুই চোখে গভীর বিতৃষ্ণা নিয়ে চুপ করে রইল সুধা।

    নরেন সিগারেটটা ধরাল। এক মুখ ধোঁয়া ছেড়ে বললে, তারপর আছ কেমন? দেখে তো দিব্য মনে হচ্ছে। এলাহাবাদের জলহাওয়ায় ওজন বেড়েছে নিশ্চয়? অথচ এখানে আসতে বলেছিলাম বলে কতই রাগ করেছিলে আমার ওপর!

    চাপা গলাকে একটু তীক্ষ্ন করে সুধা বলে উঠল, বাজে কথা থাক। এখানে কেন এসেছ, বলো!

    নরেন বললে, অনেক আগেই আসতাম। তবে নতুন জায়গায় থিতিয়ে বসতে তোমার সময় লাগবে, তাই দেরি করেই এলাম। তোমার বোধ হয় মনে আছে সুধা, এই সান্যাল বাড়িতে তোমায় যখন আসতে বলেছিলাম, তখন তুমি জিজ্ঞেস করেছিলে, তাতে আমার লাভ? লাভের কথাটা সেদিন হয়নি, সময়ও ছিল না।

    তুমি কি আজ লাভের হিসেব করতেই এসেছ এখানে? সুধা বললে।

    সিগারেটের মুখে খানিকটা ছাই জমেছিল। ঝেড়ে ফেলে নরেন বললে, তাছাড়া আর কি করতে আসব বলো? সত্যিই তো আর এটা আমার কুটুম্ব বাড়ি নয়! তুমি আমি মিলে জালিয়াতির যে কারবার ফেঁদেছি, আজ তার হালখাতা খুলব বলেই আমার আসা।

    চকিতে উঠে গিয়ে সুধা একবার পর্দার বাইরেটা দেখে নিল। তারপর ফিরে এসে চাপা গলায় বললে, কি চাও বলো!

    অত্যন্ত উদাসীনের মতো নরেন বললে, লাভের কড়ির আধাআধি বখরা।

    একটু তিক্ত হাসি দেখা দিল সুধার ঠোঁটে। বললে, লাভ? প্রতি পদে লোকসানের ভয় ছাড়া এ বাড়িতে লাভ আমার কানাকড়িও নেই। তবু বলো, কি পেলে তুমি বিদেয় হবে—শিগগির বলো!

    সিগারেটে শেষ টান দিয়ে নরেন বললে, কিছু টাকা। কিংবা ভারিভুরি একখানা গয়না হলেও চলবে। ক’টা মাস বড় টানাটানি যাচ্ছে। পুলিশও পেছনে লেগেছে যেন আঠার মতো।

    কয়েক সেকেন্ড কি যেন ভাবলে সুধা। তারপর বললে, একটু বসো, আসছি আমি।

    সুধা চলে গেল নিজের ঘরে। ফিরে আসতে পাঁচ মিনিটের বেশি সময় লাগল না। হাতে হাজার টাকার একখানা বেয়ারার চেক। চেকখানা নরেনের হাতে দিতে দিতে সুধার মনে হল, সুজিতের কাছে সে সত্যিই কৃতজ্ঞ। অলোক সান্যালের ইনসিওরেন্সের টাকাটা জয়ন্তী সান্যালের নামে ব্যাঙ্কে জমা করে চেকবইখানা তার হাতে না দিলে সুধা আজ বাঁচত না।

    চেকখানা উলটে—পালটে দেখে নরেন বললে, বাঃ! এরই মধ্যে নিজের নামে অ্যাকাউন্টও খুলেছ দেখছি! ভালো, ভালো, কারবারে তোমার উন্নতি হবে সুধা। কিন্তু মাত্র এক হাজার? যতিশঙ্কর সোমকে আমি অনেক হাজার দিয়েছিলাম যে!

    সুধার দুই চোখ থেকে ঘৃণা উপছে পড়ছে। সেই চোখ নিয়ে নরেনের দিকে তাকিয়ে সে বললে, আমার বাবাকে তুমি কত টাকা দিয়েছিলে, আমার তা জানবার কথা নয়। কিন্তু যে পাপ করতে তুমি আমাকে বাধ্য করেছ, তাতে তোমার সমস্ত পাওনা শোধ হয়ে গেছে। এই হাজার টাকা তোমার উপরি পাওনা। যাও, আর দাঁড়িয়ে থেকো না।

    চেকখানা ভাঁজ করে নরেন পকেটে রাখলে। তারপর বললে, এই কারবারের সবটাই উপরি পাওনা। ন্যায্য পাওনা বলে কিছু নেই। কোথাকার কে সুধা সোম এ বাড়িতে এসে যা পেয়েছে, সেটাও কি তার উপরি পাওনা নয়? আমি তারই ভাগ চেয়েছি মাত্র। যেহেতু তুমি আর আমি একই কারবারের পার্টনার।

    সুধা প্রায় চেঁচিয়ে উঠল, চুপ করো! তারপর চাপা গলায় আবার বললে, টাকা তো পেয়েছ, আর কেন দাঁড়িয়ে এখানে? যাও তুমি!

    রেনকোটটা কাঁধে ফেলে ধীরে—সুস্থে উঠে দাঁড়াল নরেন। বললে, এত তাড়া কিসের? তোমার শ্বাশুড়ি আমাকে নেমন্তন্ন করেছিলেন, একবার দেখা করে যাওয়া উচিত নয় কি?

    দুই হাত জোড় করে সুধা অস্থির হয়ে বলে উঠল, তোমায় মিনতি করছি নরেনদা, আর দেরি করো না। এখুনি কেউ এসে পড়বে। যাও—তুমি যাও!

    দরজার দিকে এগোতে এগোতে নরেন বললে, বেশ যাচ্ছি।

    তেমনি অস্থির হয়ে সুধা বললে, হ্যাঁ, যাও—আর কখনও এসো না—

    পর্দার কাছে গিয়ে ফিরে দাঁড়াল নরেন। অনেকদিন পরে ও মুখে দেখা দিল সেই যান্ত্রিক হাসি। বললে, তা কি বলা যায় সুধা! তোমার জন্যে মন—কেমন করলে আসতেই হবে আবার। তারপর হাত দিয়ে পর্দাটা সরাতেই থমকে থেমে গেল নরেন।

    পর্দার বাইরে সুজিত দাঁড়িয়ে।

    হঠাৎ সুধার ইচ্ছে হল, গলা চিরে চিৎকার করে সুজিতকে বলে, এখানে দাঁড়িয়ে কেন? কি শুনেছ তুমি?

    কিন্তু নিশ্বাস বন্ধ হয়ে এল সুধার।

    চমৎকার মিষ্টি হাসিতে ভরে গেল সুজিতের মুখ। বললে, একি, নরেনবাবু যে! এখানে দেখতে পাব আশাই করিনি।

    নিরুত্তাপ গলায় নরেন বললে, আমিও আশা করিনি, আপনার সঙ্গে দেখা হবে।

    হঠাৎ এলাহাবাদে যে?

    সুধার মরা মুখের দিকে একবার তাকিয়ে নিয়ে নরেন বললে, জয়ন্তীকে দেখতে।

    সুজিত বললে, ও। তা খাওয়া—দাওয়া না করেই যাচ্ছেন কেন? মা’র সঙ্গে দেখা হয়েছে?

    নরেন বললে, আজ থাক সুজিতবাবু। আবার যদি আসি, সেদিন হবে। এলাহাবাদে একটা জরুরি কাজ আছে। সেটা সেরেই আমায় পরের ট্রেনে ফিরতে হবে। নমস্কার। তারপর সুধার দিকে তাকিয়ে বললে, আমায় যেন ভুলে থেকো না জয়ন্তী!

    হলঘর দিয়ে অল্প খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলে গেল নরেন। সুজিত তাকিয়ে রইল সেই দিকে। একটু পরে যখন মুখ ফেরালে, সুধাও সেখানে তখন নেই।

    সুজিতের মুখের হাসি মিলিয়ে গেল। সুধা! এ বাড়িতে সুধার নাম কেন? কে সে?

    * * *

    রাতে সুজিত খাবার টেবিলে বসবার পর সুধা যখন মাংসের স্টু গরম করে নিয়ে এল, একখানা চাদর গায়ে জড়িয়ে স্বর্ণময়ীও এসে দাঁড়ালেন সেখানে। বললেন, হ্যাঁ বউমা, শুনলাম তোমার দাদা এসেছিলেন বিকেলে?

    সুধা ছোট করে জবাব দিলে, হ্যাঁ।

    আমরা কিন্তু অলোকের চিঠি মারফত জেনেছিলুম, তোমার কোনো ভাই নেই।

    নরেনদা আমার আপন ভাই নয়।

    চামচে করে সুধা সুজিতের বাটিতে স্টু তুলে দিতে লাগল।

    স্বর্ণময়ী বললেন, আচ্ছা, তোমার ছোট বোন এখন কোথায়?

    স্টু ঢালা বন্ধ হয়ে গেল। একটু চুপ করে থেকে সুধা বললে, ঠিক জানি না। তার স্বামীর রেলের চাকরি। কখন যে কোথায় থাকে—

    অত্যন্ত অবাক হলেন স্বর্ণময়ী। বিয়ে হয়ে গেছে তার? তোমার বিয়ের সময় তার মোটে ন’ বছর বয়েস ছিল শুনেছিলুম!

    হঠাৎ যেন আগুনের আভা লাগল সুধার মুখে। ঝাঁ ঝাঁ করছে কান দুটো। কিন্তু সামলে নিতে শিখেছে সুধা। অল্প হেসে বললে, মাথায় খাটো বলে তাকে খুব অল্পবয়সী বলে মনে হয়। তাছাড়া হঠাৎ একটি ভালো পাত্র পাওয়ায় বাবা—

    বাবা! এবার সুজিত মুখ তুলে তাকাল।

    স্বর্ণময়ী বলে উঠলেন, সেকি! বিয়ের পর অলোক চিঠিতে জানিয়েছিল, ছোটবেলা থেকেই তোমরা কাকা—জ্যাঠার কাছে মানুষ। মানে তোমার মা আমারই মতো অল্প বয়সেই—

    স্বর্ণময়ী চুপ করে গেলেন। আর সুধার মনে হল খাবার ঘরটা দুলছে। জয়ন্তী সান্যালের আত্মা হাসছে। তার দুর্দাশা দেখে।

    কিন্তু সুধার স্নায়ু আগের চেয়ে অনেকটা শক্ত হয়েছে। এক নিশ্বাসে বলে উঠল, ছোটবেলায় জ্যাঠামশাইকে আমরা বাবা বলেই ডাকতুম কিনা। তারপর সুজিতের পাতের দিকে তাকিয়ে বললে, আর দু’খানা লুচি এনে দি—

    দ্রুত পায়ে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল সুধা। কিন্তু মিনিট কয়েক পরে লুচি যে আনল, সে সুধা নয়—মহাদেও।

    বউদি কোথায়? সুজিত প্রশ্ন করলে।

    মহাদেও বললে, ওপরে গেলেন। মাথায় দরদ হচ্ছে।

    ঠাকুর—চাকর থাকলেও স্বর্ণময়ী আর সুজিতকে সুধা খাওয়ায় নিজের হাতে। চার মাসের মধ্যে একটা দিনও এর ব্যতিক্রম হয়নি। আজ হল।

    স্বর্ণময়ী একবার ছেলের মুখের দিকে তাকালেন। তারপর উঠে পড়লেন আস্তে আস্তে। সুজিতও উঠল হাত ধোয়ার জন্যে।

    সিঁড়ি পার হয়ে স্বর্ণময়ী এসে দাঁড়ালেন সুধার ঘরের দোরগোড়ায়। অন্ধকার ঘর।

    স্বর্ণময়ী মৃদু গলায় ডাকলেন, বউমা!

    অন্ধকার থেকে সাড়া এল না। কিন্তু জ্বলে উঠল বাতিটা।

    চৌকাঠ পার হয়ে স্বর্ণময়ী বললেন, আগুনতাতে মাথাটা ধরেছে বুঝি? তা তো ধরবেই মা! কতবার বলেছি, বিকেলের রান্নাটা মহাদেওয়ের হাতেই ছেড়ে দাও, শুনবে না তো কথা! তোমায় কি শুধু হেঁসেল ঠেলবার জন্যেই ঘরে এনেছি মা!

    স্বর্ণময়ীর গলায় স্নেহসিক্ত সুর। হঠাৎ একটা কান্না সুধার বুক থেকে গলা অবধি উঠে আটকে গেল। স্বর্ণময়ী আবার বললেন, আমার ঘরে মেন্থলের শিশি আছে, পাঠিয়ে দিচ্ছি। তুমি উঠো না মা, চুপ করে শুয়ে থাকো। বুধনি তোমার খাবার দিয়ে যাবে’খন।

    বাতিটা নিভিয়ে দিয়ে স্বর্ণময়ী আস্তে আস্তে চলে গেলেন।

    কিন্তু সুধার শোয়া হল না। সুজিতকে মশলা দিয়ে আসতে হবে। তার ভয় সুজিতকেই বেশি। আর কারো হাতে দিয়ে পাঠালে যদি সে কিছু মনে করে! যদি মনে করে খাবার টেবিলে উলটো—পালটা কথা বলে ফেলে ধরা পড়ার ভয়েই সুধা আসছে না!

    না, সুধা নিজেই যাবে। হয়তো স্বর্ণময়ীর মতো সুজিতও কোনো সন্দেহ করেনি তাকে। এ শুধু তার নিজের মনের সন্দেহ। তবু সাবধান হওয়া ভালো।

    নকশা—কাটা মোরাদাবাদী রেকাবিতে চাট্টি মশলা সাজিয়ে ঘর থেকে বেরোল সুধা। কিন্তু না, সুজিত তার ঘরে নেই, নিশ্চয়ই গেছে লাইব্রেরি ঘরে। রাত জেগে পড়াশুনো করে সে। সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে গেল সুধা। অন্ধকার হলটা পেরিয়ে, পর্দা ঠেলে ঢুকল লাইব্রেরি ঘরে। মোটা মোটা আইনের বইয়ের মধ্যে ডুবে গেছে সুজিত। ভালোই হয়েছে। মশলার রেকাবিটা টেবিলের ওপর রেখে নিঃশব্দে সুধা চলে যাচ্ছিল, সুজিত বললে, পালাচ্ছ কেন? বসো!

    সুধার চলে যাওয়া হল না।

    বইখানা রেখে সুজিত বললে, তোমার সঙ্গে একটা পরামর্শ আছে বউদি। আসছে সপ্তাহে আমার এক বন্ধুর বউভাত, কি দেওয়া যায় বলো তো?

    সুধা বললে, দেওয়ার কত জিনিসই তো আছে—যেটা পছন্দ।

    সুজিত বললে, ভাবছি তোমার গলার হারের মতো একটা হার দিয়ে আসব। প্যাটার্নটা ভারি সুন্দর!

    বেশ তো।—বলে সুধা বাঁ—হাত দিয়ে ডান হাতের রুলিটা ঘোরাতে লাগল।

    হঠাৎ প্রশ্ন করে বসল সুজিত, আচ্ছা, তোমার নাম তো জয়ন্তী। তোমার হারের লকেটে ‘এস’, লেখা কেন?

    সুধার মুখখানা ফ্যাকাশে হয়ে গেল। আজ পাঁচ মাস ধরে কত বড় ভুলই না সে করে এসেছে! সুধা সোমকে শনাক্ত করার মারাত্মক চিহ্ন যে তার বুকের ওপরই দুলছে, এতদিন সে খেয়াল হয়নি তার!

    নিতান্ত ছেলেমানুষের মতো সুজিত আবার প্রশ্ন করলে, তোমার বুঝি দুটো নাম?

    টেবিলের কোণটা শক্ত করে চেপে ধরলে সুধা, কেমন যেন নিস্তেজ গলায় বললে, দুটো নাম থাকতে যাবে কেন?

    সুজিত বললে, অনেকের তো থাকে। একটা পোশাকি নাম, একটা ডাকনাম। ‘এস’ অক্ষর দিয়ে তোমারও বুঝি কোনো ডাকনাম আছে? বলো না, কি নাম?

    বাতির দিকে পিছন ফিরে সুধা হঠাৎ এলোমেলো বইগুলো গুচ্ছোতে শুরু করলে।

    একটু হেসে সুজিত আবার বললে, লজ্জা করছে বুঝি বলতে? আচ্ছা, আমি বলব? হয় শান্তা, নয় সেবা, নয় তো সুধা।

    সুধার মাথাটা হঠাৎ ঝিমঝিম করে উঠল। প্রাণপণে নিজেকে সামলে নিয়ে বললে, না। শুক্তি।

    সুজিত বলে উঠল, বাঃ! ফাইন নাম তো! লুকিয়ে রেখেছিলে কেন এতদিন?

    তেমনি পিছন ফিরে সুধা বললে, লুকিয়ে রাখতে পারলাম কই! তারপর ঘুরে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করলে, কফি আনব?

    সুজিত বললে, না, থাক। আজকের ডাকে চমৎকার একটা জিনিস এসেছে। এই দেখো—

    বইয়ের ভেতর থেকে চৌকো একখানা খাম বার করলে সুজিত। সুধার হাতে দিয়ে বললে, মিস্টার কোলম্যান—সেই পোলিশ ভদ্রলোকটি পাঠিয়েছেন।

    খামের ভেতর থেকে বেরোল একখান পোস্টকার্ড সাইজের ফটো। সুধা আর সুজিত পাশাপাশি বসে। পিছনে যমুনা। মাথার ওপর বর্ষার মেঘের জটা।

    হঠাৎ সুধার চোখ পড়ল ছবির একটা কোণে। ইংরিজিতে দুই লাইন লেখা। প্রথম লাইনটা কিন্তু কলমের আঁকাবাঁকা আঁচড় দিয়ে কাটা, সুধা তবু পড়তে পারল। আর পড়তে পারার সঙ্গে সঙ্গেই তার ফ্যাকাশে মুখে সমস্ত রক্ত এসে জমা হল। ছবির কোণায় লেখা রয়েছে, মিস্টার অ্যান্ড মিসেস সান্যালকে উপহার। আর্থার কোলম্যান।

    সুজিত বললে, ফোটোগ্রাফিতে আর্থার সাহেবের হাত সত্যিই ভালো। কি বলো?

    আঁচল দিয়ে সুধা অকারণেই মুখটা একবার মুছে নিলে। তারপর মনে মনে আর্থার সাহেবের মুণ্ডপাত করে বললে, ফোটোগ্রাফির আমি কি বুঝি?

    সুজিত বললে, ভাবছি এখানা এনলার্জ করে বাঁধিয়ে রেখে দেব।

    সুধা তাড়াতাড়ি বলে উঠল, না, না, ওসব করতে হবে না। তারপর দরজার দিকে এগোল।

    কিন্তু অন্ধকার হলঘর পার হয়ে সিঁড়িতে পা দিতে আশ্চর্য একটা কাণ্ড ঘটে গেল। হলের অন্ধকার আবছা গলায় হঠাৎ ডেকে উঠল, সুধা!

    সঙ্গে সঙ্গে সুধার অন্যমনস্ক চেতনা সাড়া দিয়ে উঠল, কি?

    পরমুহূর্তেই চমকে উঠে সুধা দ্রুতপায়ে সিঁড়ি দিয়ে উঠে গেল। আর অন্ধকার হলঘরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে সুজিত ভাবতে লাগল, সুধা বলে ডাকলে যে সাড়া দিয়ে ওঠে, সে কি সত্যিই জয়ন্তী, না শুক্তি, না সুধা? সান্যাল বাড়িতে এ কোন রহস্যচারিনি বাসা বেঁধেছে?

    .

    ঝড়ের বেগে সুধা ঢুকল নিজের ঘরে। তারপর বিছানার ওপর বসে হাঁফাতে লাগল। আলো জ্বাললে না। সুধা সোম তার সত্যকার পরিচয় নিয়ে যেন অন্ধকারেই লুকিয়ে থাকে। তবু সেই অন্ধকারেই কে যেন তার কানের পাশে ফিসফিস করে বলতে লাগল, পাপ কখনও চাপা থাকে সুধা! তোমার ছদ্ম পরিচয়ের খোলস ছিঁড়ে সত্য পরিচয় একটু একটু করে বেরিয়ে পড়ছে। ধরা পড়তে আর বেশি দেরি নেই। এখনও সময় আছে, দুই জীবনের খেলা তোমার এই বেলা শেষ করে দাও। পালাও—পালাও তুমি সুধা।

    কে বলছে একথা? জয়ন্তী সান্যালের আত্মা, না সুধার অপরাধী মন?

    যে—ই বলুক, সুধা তবু পালাতে পারবে না এ বাড়ি থেকে। মিথ্যা পরিচয়ের আড়াল দিয়ে এ বাড়িতে এসে জীবনে যে মধুরসের সন্ধান পেয়েছে সে, সুধার মিথ্যা জগতে সেই তো একমাত্র সত্য বস্তু। তার মোহ কেমন করে কাটাবে সে? পারবে না, কিছুতেই পারবে না সুধা এ বাড়ি ছাড়তে। এ বাড়ি ছাড়া মানে সুজিতকে ছাড়া।

    মরতেই যদি হয়, এই সান্যাল বাড়িতেই মরবে সুধা।

    আশ্চর্য নারীর ভালোবাসা! বিপদের সঙ্কেত শুনেও অন্ধের মতো অন্ধকারে সে এগিয়ে যেতে চায়।

    চাপা কান্নার আবেগে সুধা ভেঙে পড়ল বালিশের ওপর।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleদেরি হয়ে গেছে – প্রচেত গুপ্ত
    Next Article মহাভারতের মহারণ্যে – প্রতিভা বসু
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }