Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    দশটি রহস্য উপন্যাস – প্রণব রায়

    প্রণব রায় এক পাতা গল্প1004 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    চৈতি বাঈয়ের মামলা – ৩

    তিন

    বারাবাঁকির এই বাড়িটায় মোগল স্থাপত্যশিল্পের চিহ্ন আগাগোড়াই বর্তমান। এককালে নাকি এটা কোনো এক নবাবজাদার অন্যতম প্রমোদভবন ছিল।

    দো—মহল বাড়ি। বারমহলের মাথাটা গম্বুজাকৃতি, অন্দরমহলের মাথায় ছাদ। রংবেরঙের পাথর—বসানো থাম, সূক্ষ্ম জালিকাটা জাফরি, উঁচু খিলান মুসলমানী রুচির পরিচয় দেয়। বাড়ির চারপাশ ঘিরে অনেকখানি বাগান, ফুল—ফলের গাছ, ফোয়ারা, পরীদের মূর্তি। যত্নের অভাবে বাগান হয়েছে এখন জঙ্গল, ফোয়ারার উচ্ছ্বাস স্তব্ধ, হাত—পা—ভাঙা পাথরের পরীরা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে এখন বোধ হয় নবাব—হারেমের সেই জ্যান্ত পরীদের খোঁজে।

    লাল কাঁকরের রাস্তা দিয়ে হিলম্যান ঢুকে এল। লোহার ফটকের পাশে সাদা পোশাক পুলিশকে জ্যাকসন সাহেবের সই—করা কার্ড দেখাতে হয়েছে।

    বারান্দায় কফির পেয়ালা নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন ডক্টর কেশকার। সুমনকে দেখে বললেন, সুপ্রভাত!

    সুপ্রভাত ডক্টর!

    বারান্দায় উঠে এল সুমন। বেতের চেয়ারে বসল। এই দ্বিতীয় দিন তার এখানে আসা।

    কেশকার বললেন, গত কয়েকদিন ধরে এখানে তোমায় আশা করছি।

    সুমন বললে, অন্য কেস নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। কেমন বুঝছেন রোগীকে?

    বারাবাঁকিতে আসার পর থেকে ওর সেই উগ্র আতঙ্কটা কেটে গেছে। আঘাত—পাওয়া নার্ভগুলোও অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। কিন্তু পূর্বস্মৃতি এখনো অস্পষ্ট। একটা ঠাণ্ডা নীরবতা ওকে ঘিরে আছে সর্বদা।

    কারণটা অনুমান করেছেন কি?

    সাধারণত দেখা যায় যেসব যুবক—যুবতী একটু বেশি রোমান্টিক প্রকৃতির, প্রেমের ব্যাপারে ঘা খেলে তাদের এই অবস্থা হয়। একটা বিষণ্ণ হতাশা তাদের পেয়ে বসে। হয়তো চৈতি বাঈয়ের জীবনেও কোনো রোমান্টিক ফ্রাস্ট্রেশন, যাকে বলে প্রণয়ঘটিত ব্যর্থতা, লুকিয়ে আছে। আর, তারই ফলে ওর মনটা ক্রমশ ঠাণ্ডা কঠিন বরফের স্তূপে পরিণত হয়ে গেছে।

    সুমন চিন্তিত মুখে বললে, কিন্তু ডিফেন্স কাউন্সেল হিসেবে চৈতি বাঈয়ের সব কথা ওর মুখ থেকেই আমাকে জানতে হবে। কেননা, সর্বদাই ওর পাশে ছিল, সেই সোহিনী বাঈ আজ বেঁচে নেই।

    বার দুয়েক মাথা নেড়ে কেশকার বললেন, জানতে হলে কোনো অভিজ্ঞান চাই, যা দেখলে ওর পূর্বস্মৃতি ফিরে আসতে পারে। কিন্তু তাতেও হবে না—ইউ মাস্ট ব্রেক দি আইস! কঠিন বরফ ভাঙতে হবে।

    কেমন করে?

    খোঁজ—খবর নিয়ে আগে জানতে হবে চৈতির জীবনে সত্যিই কোনো প্রেমের ঘটনা ঘটেছিল কিনা। তা যদি থাকে, তবে সেই পথ ধরে এগিয়ে যাওয়াই ভালো।

    আরেকটু স্পষ্ট করে বলুন ডক্টর।

    স্পষ্ট করেই বলছি। তোমাকে চৈতির প্রেমিক সাজতে হবে। ভালোবাসার অভিনয় করে আস্তে আস্তে ওর কাছে এগোতে হবে। তোমার প্রেমের উত্তাপে হয়তো একদিন গলতে শুরু হবে কঠিন বরফ—খুলে যাবে ওর মনের বন্ধ দরজা। কিন্তু—

    ফরাসি ধাঁচের ছোট্ট দাড়িতে হাত বুলোতে বুলোতে কেশকার বলেলেন, কিন্তু এ কাজে ঝুঁকি অনেক। পথটা হচ্ছে রেজার্স এজ—ক্ষুরের ফলার মতো অতি সূক্ষ্ম। একটু এদিক—ওদিক হলেই হয় তোমার পতন হবে, নয় চৈতির পতন। এখন ভেবে দেখো কি করবে। আমি চলি। গুড ডে চৌধুরি!

    সুমন নীরবে দাঁড়িয়ে উঠে ডক্টরকে বিদায় দিলে।

    একটু বাদে কফির পেয়ালা নিতে এল ঝুলনিয়া। জ্যাকসন সাহেব চৈতির পুরোনো আয়াকেই কাজে বহাল করেছেন। মোটাসোটা মধ্যযৌবনা বিহারী মেয়ে। হাতে পায়ে চিবুকে উলকি, নাকে মাকড়ি।

    সুমনের সঙ্গে পরিচয় হয়েছে আগের দিন।

    ঝুলনিয়া বললে, ভকিলসাব এসেছেন! কফি আনব?

    সুমন বললে, না। তোমার মনিবের সঙ্গে দেখা করব।

    খবর দিচ্ছি।

    চলে যাচ্ছিল ঝুলনিয়া। সুমন ডাকলে, শোনো, ভেতরে গিয়ে কি বলবে?

    বলব ভকিলসাব এসেছেন।

    না, বলবে চৌধুরিসাব এসেছেন। আমি ভকিল, বাঈ যেন তা জানতে না পারে।

    জী আচ্ছা।

    মিনিট পাঁচেকের মধ্যেই ফিরে এল ঝুলনিয়া। বললে, আসুন।

    বারমহল পার হয়ে একটা শ্বেতপাথরের চত্বর। তারপর অন্দরমহলের দরজা। একদিন হয়তো খোজা প্রহরী দাঁড়িয়ে খাকত, এখন দরোয়ানের পোশাকে পুলিশ টুলে বসে থাকে। ঝুলনিয়া সুমনকে নিয়ে এল অন্দরমহলের শেষপ্রান্তে, যেখানে জাফরি ঢাকা একটা গোল বারান্দা ঝুঁকে আছে একটা মজা পদ্মদিঘির ওপর।

    জাফরির পাশে পিছন ফিরে দাঁড়িয়েছিল চৈতি। টুকরো টুকরো রোদের সোনা ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়েছে তার গায়ে মুখে। মজে যাওয়া দিঘিটায় এখনো দু—একটা লাল পদ্ম ফোটে; চৈতি বোধ হয় তাই দেখছিল। পিঠে লতিয়ে পড়ে আছে রুক্ষ চুলের বেণী।

    ঝুলনিয়া ডাকলে, ছোটি বাঈ!

    ফিরে তাকাল চৈতি।

    ফিরে তাকাল চৈতি। সকালের আলোয় সুমন আজ ভাল করে দেখতে পেল তাকে। এখানে প্রথম দিন এসেও সে দেখা করেনি। শান্ত উদাসিনী মূর্তি। প্রভাতকালেই যেন গোধূলির ছায়া নেমেছে। ভৈরবী গাইতে বসে কে যেন ধরেছে পুরিয়া—ধানেশ্রী। ধূসর রঙের শাড়িটা করুণ বিষাদের মতো জড়িয়ে আছে দেহটাকে। ভাসা ভাসা দুই কালো চোখে এখানো কিশোরকালের সরলতা। ভালো করেই দেখলে সুমন। না, গোল—দরওয়াজার বাঈজির মুখে ম্লানিমা ছাড়া কালিমার এতটুকু চিহ্ন কোথাও নেই। আশ্চর্য, এ মেয়ে খুন করতে পারে! হয়তো পারে। ক্রিমিনাল বার—এর ব্যারিস্টার সুমন চৌধুরি তার স্বল্প অভিজ্ঞতায় জেনেছে দুনিয়ায় অসম্ভব কিছুই নয়।

    সুমনকে পৌঁছে দিয়ে ঝুলনিয়া চলে গেল।

    ভয় ঘনিয়ে এল চৈতির চোখে। আস্তে আস্তে উর্দুতে জিজ্ঞেস করলে, আপনি পুলিশের লোক?

    অল্প হেসে উর্দুতেই জবাব দিলে সুমন, না, না, আমি পুলিশের লোক নই। আমি সুমন চৌধুরি। তোমার সঙ্গে আলাপ করতে এলাম। চিনতে পারছ না আমাকে? মনে করে দেখো তো কোথায় দেখা হয়েছিল।

    চৈতি ভাবতে চেষ্টা করলে। কিন্তু চোখের দৃষ্টি বদলাল না।

    সুমন বলতে লাগল, চন্দনচৌকিতে সেই ছোট্ট পাহাড়ি বস্তি— তার পাশে উঁচু পাহাড়—তুমি ছুটে গেলে খাদের মুখে—ঝাঁপ দিতে যাচ্ছিলে, আমি তোমায় ধরে ফেললাম! মনে পড়ছে না? বলো তো সে—পাহাড়টার নাম কি?

    ভাসা ভাসা দুই কালো চোখের অন্ধকারে ধীরে ধীরে স্মৃতির আলো ফুটে উঠল। মৃদু স্বরে চৈতি বললে, গোধূলিয়া পাহাড়।

    ঠিক!—খুশি হয়ে উঠল সুমন। পূর্বস্মৃতি একেবারে অস্পষ্ট হয়নি তাহলে! একটা মোড়া দেখিয়ে বললে, বোসো। নিজেও বসলে। তারপর প্রশ্ন করলে, আচ্ছা গোধূলিয়া পাহাড় থেকে খাদে ঝাঁপ দিতে যাচ্ছিলে কেন?

    আমার কেবল ভয় হত পুলিশে ধরবে—ফাঁসি দেবে!

    কেমন এমন ভয় হত?

    শিশুর মতো সরল মুখে জবাব দিলে চৈতি, তা তো মনে নেই।

    তোমার বাড়ি কোথায়?

    এই তো।

    আগে কোথায় ছিলে?

    আগে? এইখানে।

    এইখানে? না, লক্ষ্নৌ শহরে থাকতে? মনে করে দেখো তো, গোল—দরওয়াজা—সোহিনী বাঈ—রংলাল—তুমি গান গাইতে নাচতে—

    চুপ করে চেয়ে রইল চৈতি। স্মৃতির সাদা কাগজে একটি আঁচড়ও পড়ল না।

    বন্ধ দরজায় আর একবার ঘা দিতে চেষ্টা করলে সুমন। বলল, জয়প্রকাশকে মনে আছে? জয়প্রকাশ কাপুর—যাকে তুমি ভালোবাসতে—মনে পড়ছে?

    চৈতি শুধু মাথা নাড়লে বার দুই। উদাসীন মুখে—চোখে কোনো ভাবান্তর হল না। সতর্ক চোখে তাকাল সুমন। ডক্টর কেশকারের কথাই ঠিক, মেয়েটা ভান করছে?

    অন্য কথায় চলে গেল সুমন।

    কেমন লাগছে এ জায়গাটা? বেশ নির্জন, না?

    বড় একা লাগে।

    তোমার আপনজনেরা কোথায়?

    ক্লান্ত উদাস গলায় চৈতি বললে, আপনজন? কেউ নেই।

    আস্তে আস্তে মোড়া থেকে উঠে আবার জাফরির পাশে গিয়ে দাঁড়াল। চেয়ে রইল মজা দিঘির নিঃসঙ্গ লাল পদ্মটার দিকে।

    সুমনও উঠল। নিঃশব্দে গিয়ে দাঁড়াল চৈতির পিছনে। তারপর পরিষ্কার বাংলায় হঠাৎ মৃদু গলায় ডেকে উঠল, শান্তিলতা, শোনো।

    অবাক হয়ে ফিরে তাকাল চৈতি। বললে, আপনি বাঙালি?

    হাসিমুখে ঘাড় নাড়লে সুমন।

    শান্তিলতা কার নাম?—চৈতি প্রশ্ন করলে।

    তোমার নাম।

    আমার!

    হ্যাঁ, তোমারি নাম। এ নাম শোননি কখনো? মনে করে দেখো তো—অনেকদিন আগে—তুমি যখন ছোট্ট ছিলে—সেই ফৈজাবাদ—বাপ মা ছোট বোন—মনে পড়ছে না? তোমার সমস্ত অতীত খুঁজে দেখো, কে তোমায় আদর করে ডাকত শান্তি! শান্তিলতা!

    ভাসা ভাসা দুই কালো চোখের অন্ধকারে একটু আলো ফুটতে না ফুটতে আবার মিলিয়ে গেল। বিচলিত হয়ে উঠল চৈতি। আকাশের মতো অনন্ত শূন্যতায় তার অতীতকে যেন হাতড়ে ফিরছে। কাঁপা কাঁপা ঠোঁট নেড়ে আপন মনে বলতে লাগল, শান্তি! শান্তিলতা! মনে পড়ছে—কে যেন ডাকত আমায়—কিন্তু—না, না, আর মনে পড়ছে না—কিছুতেই মনে পড়ছে না—হারিয়ে গেছে—আমার অতীত হারিয়ে গেছে!

    বলতে বলতে আবার মোড়ায় এসে বসে পড়ল চৈতি। দুই হাঁটুর ওপর মুখ গুঁজে হু হু করে কেঁদে উঠল। অতিপ্রিয় খেলনা হারিয়ে গেলে শিশু যেমন করে কেঁদে ফেলে।

    কয়েক মুহূর্ত তাকে কাঁদতে দিল সুমন। হোক খুনি, হোক অপরাধী, মানুষ কত অসহায়! কেমন একটা মমতায় ভিজে উঠল তার মন। আলগোছে তার মাথায় হাত রেখে ডাকলে, শান্তিলতা, ওঠো।

    কান্না—ভেজা মুখ তুলে তাকাল চৈতি।

    স্নিগ্ধ স্বরে সুমন বললে, মন খারাপ কোরো না, তোমার হারানো অতীতকে আজ না হয় একদিন তুমি খুঁজে পাবেই। খুঁজতে আমি তোমার সাহায্য করব। আবার আসব।

    চলে যাচ্ছিল সুমন; পিছন থেকে ডাক এল, শুনুন!

    সুমন ফিরে দাঁড়াল।

    কাছে গিয়ে চৈতি বললে, এখানে তো কেউ আসে না, আপনি কেন এলেন?

    ডক্টর কেশকারের নির্দেশিত পথে প্রথম পা বাড়ালে সুমন। হাসিমুখে বললে, সেই গোধূলিয়া পাহাড়ে দেখা অবধি তোমাকে আমার ভাল লেগেছে। আমি তোমার বন্ধু হতে চাই।

    দক্ষিণ হাতখানা বাড়িয়ে দিলে সুমন। হাস্যোজ্জল মুখে চেয়ে রইল চৈতির মুখের দিকে। কান্না—ভেজা ফ্যাকাশে মুখে একটু আলো লাগল। নুয়ে পড়ল ভাসা ভাসা চোখের দৃষ্টি। সুমন অনুভব করলে, তার ডান হাতের মুঠোয় ভিজে ভিজে নরম একখানা করতল আশ্রয় নিয়েছে। কাঁপছে ভীরু পাখির মতো। মৃদু চাপ দিয়ে সুমন ছেড়ে দিলে হাতখানি।

    তারপর চলে গেল গোল বারান্দা পার হয়ে। চৈতি তখন নিজের হাতখানির দিকে তাকিয়ে আছে।

    .

    রাজু বললেন, বহুৎ আচ্ছা! নাটকের দোসরা অ্যাক্ট তাহলে শুরু হয়েছে বল!

    সুমন বললে, দুর! ডক্টর কেশকার বলেছেন চৈতির সঙ্গে প্রেমের অভিনয় করতে, যাতে আমাকে বিশ্বাস করে ও সব কথা খুলে বলে। তাই বারাবাঁকিতে রোজ যাই।

    একটা সিগারেট ধরিয়ে রাজু বললে, ডক্টর কেশকার নাটকের প্লটকে জমিয়ে তুলছে দেখছি! কেয়াবাৎ! চাঁদনি রাতে ফুলগাছ—তলায় গানটান গাইছিস নাকি তোরা?

    হেসে ফেলল সুমন। বললে, তামাশা রাখ।

    প্রেম করা তামাশা নয় ইয়ার, আমাসা! এ ব্যাধিতে একবার ধরলে সহজে সারে না। তখনই বলেছিলাম, পয়লা অ্যাক্টে হিরোইন মরতে যাচ্ছিল, দোসরা অ্যাক্টে হিরো মরতে যাবে। হলও তাই। নাট্যকার রাজু রিয়েল নাট্যকার!

    চটে গিয়ে সুমন বললে, দুত্তোর নাট্যকার! আমি মরছি কেস নিয়ে মাথা ঘামিয়ে, আর তুই বানাচ্ছিস নাটক! আসল কথাটা শোন না—

    ধোঁয়া ছেড়ে রাজু বললে, শুনব আর কি বল! মন নিয়ে খেলা আর আগুন নিয়ে খেলা একই। সাবধান ইয়ার, মনের মানিব্যাগটা তোর সামলে রাখিস, মনের পকেট মারতে মেয়েজাতটা ওস্তাদ!

    তোর মনের পকেট মারা গেছে বুঝি?

    ফোঁস করে একটা নিশ্বাস ছেড়ে রাজু বললে, মনের পকেট জামার পকেট দুই—ই!

    সুমন আবার হেসে উঠল। তারপর হাসি থামিয়ে বললে, ঠাট্টা রাখ। ডক্টর কেশকার কি বলেছেন জানিস? কোনো অভিজ্ঞান দেখালে চৈতি বাঈয়ের পূর্বস্মৃতি হয়তো সহজে ফিরে আসতে পারে। কিন্তু কী সেই অভিজ্ঞান? পাবই বা কোথায়?

    রাজু একটু ভেবে বললে, ঠিক হয়েছে চল, বাজারে গিয়ে রুই মাছগুলোর পেট চিরে দেখা যাক। দু—একটা আংটি হয়তো বেরিয়ে পড়তে পারে।

    সুমন ভাবনায় অন্যমনস্ক হয়ে রইল। এক সময় বললে, সন্ধের পর একবার আসিস।

    কেন?

    কিছু ভাল লাগছে না। গান—বাজনা শুনতে ইচ্ছে করছে।

    এ আর বেশি কথা কি! লক্ষ্নৌ শহরে গান—বাজনার অভাব? ওস্তাদ রহিমবক্সের ওখানে চ।

    না। গান যদি শুনতে হয় তো সুন্দর মুখ থেকেই শুনব। কি বলিস? গোল—দরওয়াজায় গেলে কেমন হয়?

    ফুর্তিতে রাজু শিস দিয়ে উঠল।

    .

    প্রবেশপথের মুখে একটা সার্কেল আছে বলেই বোধ করি নাম হয়েছে গোল—দরওয়াজা। কিন্তু নাট্যকার রাজু বলে, এখানে যারা বাস করে, তারা এক একটি জ্যান্ত গণ্ডগোল, তাই পাড়াটার নাম গোলদরওয়াজা।

    দিল্লির চৌড়ি বাজার বলো, আর বেনারসের ডালকামুণ্ডি বলো বা লক্ষ্নৌর গোল—দরওয়াজাই বলো—সব বাঈজীপট্টিরই চেহারা মোটামুটি এক। কিছু পান—জর্দা—আতরের দোকান, কিছু গুণ্ডা—বদমাসদের জটলা, কিছু শখবাজ কাপ্তেনদের আনাগোনা।

    রাত এগারোটা। জমে উঠেছে রাতের বাজার। শুরু হয়েছে রূপের সওদা। বাঈজীপট্টির রাস্তায় একটি চেনা মূর্তি দেখা গেল। ঢ্যাঙা রোগাটে দেহ, চুড়িদার পায়জামা, কল্কাদার পাঞ্জাবি, ঝাঁকড়া মাথায় আদ্দির বাঁকা টুপি। নাট্যকার রাজু! পাশে তার যে বলিষ্ঠ সুদর্শন ছোকরাটি চলেছে, তার মুখে নকল গোঁফ আর চোখে কালো চশমা না থাকলে একনজরেই সুমন চৌধুরি বলে চেনা যেত।

    সোহিনী বাঈয়ের বাড়ির কাছাকাছি এসে দেখা গেল দরজায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। কালো চশমার ভেতর দিয়ে সুমন তাকিয়ে তাকিয়ে দেখতে লাগল সোহিনীর বাড়িটা। একপাশে একটা গলি, অপরপাশে গায়ে—লাগা আরেকটা বাড়ি।

    সুমন বললে, পাশের বাড়িটায় কে থাকে জানিস?

    খবর চাই?

    চাই।

    রাস্তার উল্টো দিকে একটা আতরের দোকান। রাজু সেইদিকে এগোল।

    মির্জা আতরওয়ালা পুরোনো খরিদ্দার দেখে খুশিতে তরমুজের বিচির মতো একসারি কালো দাঁত বের করে ফেললে।

    ম্যয়নে ক্যহা আদাবরজ হ্যায় রাজুসাহাব! কি ভাগ্যি আমার। বহুৎদিন বাদে জনাবের দেখা মিলল। গোল—দরওয়াজা ধন্য হয়ে গেল আজ! আসুন, আসতে আজ্ঞা হয়!

    সুমনকে টেনে রাজু মির্জার ছোট একফালি দোকানের একধারে চেপে বসল।

    দুনিয়ার হালচাল কেমন মির্জা?

    মির্জা বললে, চলে যাচ্ছে কোনোরকমে। তা হুুজুর, ঠেটর তুলে দিলেন, আর খুলবেন না?

    খুলব বৈকি!—রাজু বললে, পরলোকে বাপের কাছে টেলিগ্রাম করেছি, কিছু ক্যাশ পাঠিয়ে দিলেই আবার থিয়েটার খুলব।

    মির্জা কি বুঝল সেই জানে। খাতির করে বললে, হুজুরকে লিয়ে পান মাঙউ?

    মাঙাও।

    পাশের পানের দোকানে মির্জা ফরমাইশ করলে। তারপর বললে, গান—বাজনা শুনবেন নাকি হুজুর?

    মির্জা আতরওয়ালার আরেকটি পেশা আছে। বাঈজীর দালালি।

    সুমনকে দেখিয়ে রাজু বললে, আমার এই দোস্ত পাটনা থেকে গান শুনতেই তো এসেছে। কিন্তু যার গান শুনতে চায়, সে তো এখন খুনের দায়ে ফাটকে!

    মির্জা বললে, চৈতি বাঈয়ের কথা বলছেন? সে থাকলেও তার গান শুনতে পেতেন কিনা সন্দেহ।

    কেন?

    চৈতি বাঈ বড় একটা মুজরো করত না। ভারি খেয়ালি মেয়ে ছিল কিনা। কত আমির লোককে নিয়ে গেছি, চৈতি ফিরিয়ে দিয়েছে। কেবল কাপুর সাহাব গেলে—

    কাপুর সাহাবাটি কে?

    জয়প্রকাশ কাপুর। রহিশ আদমি। চৈতি খুব প্যার করত তাকে।

    বড় তাজ্জব তো! যে যাকে প্যার করে, তাকে সে খুন করতে পারে?

    মির্জা বললে, কি জানেন হুজুর, চৈতির মেজাজটা ভারি রগচটা। আমি ওকে আতর বেচতাম, জিনিসের একটু ফারাক হলেই আতরের শিশি ও ভেঙে চুরমার করে দিত।

    সুমন চুপচাপ শুনছিল; হঠাৎ প্রশ্ন করলে, আচ্ছা মির্জাসাহেব, খুনটা কি রাগের মাথায় চৈতি বাঈ করেছে? না, আর কোনো কারণ ছিল?

    মির্জা চট করে একবার এদিক—ওদিক তাকিয়ে দেখল। ফিসফিস করে বলল, গরিব আতরওয়ালা আমি, আমি কেমন করে জানব হুজুর? বাঈ—পাড়ায় অমন এক—আধটা খুন—খারাবি হয়েই থাকে।

    সুমন প্রসঙ্গ পাল্টাল। বললে যেতে দাও ও—কথা। চৈতি বাঈ ছাড়া ভালো গাওয়াইয়া এ—পাড়ায় আর কে আছে?

    আছে বইকি হুজুর। মোতি বাঈ আছে, আনোয়ারা বাঈ আছে—বহুৎ আচ্ছা গায়!

    চৈতি বাঈয়ের মতো?

    ঝুট বলব না হুজুর। চৈতি বাঈ বুলবুল ছিল, বুলবুল!

    রাজুকে কনুয়ের একটা মৃদু ঠেলা দিলে সুমন। যেন হঠাৎ মনে পড়ে গেল এইভাবে। রাজু বললে, আচ্ছা, শুনেছি, সোহিনীর বাড়ির ঠিক পাশে যে বাঈ থাকে, সে বেশ ভালোই গায়! কি যেন নামটা—

    নুরী বেগম। কিন্তু ও তো তেমন ভালো গাইতে পারে না হুজুর! তবে বয়সটা কম বটে, দেখতেও খুবসুরত।

    সুভানাল্লা! বয়স কম, আবার দেখতেও খুবসুরত। নুরী বেগম জিন্দাবাদ!—সোল্লাসে বলে উঠল রাজু।

    একখানা দশ টাকার নোট মির্জার হাতে গুঁজে দিয়ে সুমন বললে, চলো মিঞা।

    মির্জার পুরু ঠোঁটের ফাঁকে তরমুজের কালো বিচির সারি আরেকবার বেরিয়ে পড়ল। সেলাম ঠুকে বলল, গোলাম তৈয়ার। চলুন।

    সুমন আর রাজু দোকান থেকে বেরোতে গিয়ে থমকে গেল। অদ্ভুত এক চেহারা নিঃশব্দে এসে দাঁড়াল দোকানের সামনে। লোকটার বয়স বোঝা মুশকিল, পরনে শতচ্ছিন্ন কালো আলখাল্লা, একমাথা রুক্ষ চুল, মুখে পাতলা দাড়ি। আর চোখের কটারঙের তারা দুটো স্থির, বাঁ হাতে একটা বাঁকা লাঠি, ডান হাতে একটা টিনের পাত্র

    মির্জা একটা পয়সা টিনের পাত্রে ফেলে দিতেই লাঠি ঠকঠকিয়ে লোকটা চলে গেল।

    সুমন প্রশ্ন করলে, কে?

    মির্জা বললে, ও কালু। চোখ নেই, তাই ভিখ মেগে খায়।

    রাত বারোটায় ভিক্ষে।

    দিনের বেলা শহরে ভিখ মাগে, আর রাতে বাঈ—পাড়ায়।— আসুন হুজুর।

    চলতে চলতে মির্জার অলক্ষে সুমন নিজের মাথার পাটকরা চুল এলোমেলো করে দিলে।

    .

    ‘লট উলঝি সুলঝা যা রে বালম,

    হাঁথমে মেহেদি ল্যগী।”

    নুরী বেগম গান ধরেছে। আর, গাইতে গাইতে মাজাঘষা গোল মুখে আর সুর্মাটানা ঈষৎ ট্যারা চোখে ভাও বাতাচ্ছে মারাত্মক। রাজুর পাশে তাকিয়ায় হেলান দিয়ে, হুইস্কির গেলাস হাতে নিয়ে, শুনতে শুনতে আর দেখতে দেখতে সুমনের হাসি পাচ্ছিল। হোয়াইট লেবেলের বোতল সামনে রেখে রাজুর কিন্তু মাথা নাড়ার বিমার নেই।

    নুরী বেগম গাইছে :

    .

    ‘মাথেকি বিঁদিয়া বিখর গ্যয়ী হ্যায়,

    আপনা হাঁথ ল্যগা যা রে বালম,

    হাঁথমে মেহেদি ল্যগী।’

    কপালের টিপ আমার মুছে গেছে, ও বালম, তুই নিজের হাতে টিপ পরিয়ে দিয়ে যা। কি করব, হাতে আমার মেহেদির রং লেগেছে।

    হাতের হুইস্কির গেলাসটা সুমন সবার অগোচরে পাশের পিকদানে উপুড় করে ঢেলে দিলে। তারপর রাজুর কানে কানে কি যেন বলে মাইফিলের আসর ছেড়ে উঠে টলতে টলতে বারান্দায় বেরিয়ে গেল।

    গান থামিয়ে দিলে নুরী বেগম। বললে, আপনার দোস্ত উঠে গেলেন যে! গান পছন্দ হচ্ছে না?

    জিত কেটে রাজু বলে উঠল তোবা! তোবা! তোমার গান পছন্দ হবে না, এও কি একটা কথা হল বাঈজী! কি হয়েছে জানো? আমার দোস্ত বেশি নেশা করে ফেলেছে কিনা, তাই বারান্দায় গেছে একটু হাওয়া খেতে। এই এলো বলে! নাও, তুমি আরেকখানা ধরো। কী মিঠি আওয়াজ তোমার বাঈজী! শুনলে মরে যেতে ইচ্ছে করে!

    ফিক করে হেসে ফেললে নুরী বেগম। তারপর সুর্মাটানা ট্যারা চোখে দারুণ কটাক্ষ হেনে দ্বিতীয় গান ধরলে :

    .

    ‘না মারো রে সইয়াঁ চিতুওনকে বাণ—’

    রাজু বললে, সুভানাল্লা!

    .

    বারান্দায় বেরিয়ে এল সুমন।

    টিমটিম করে একটা বাতি জ্বলছে। এদিক—ওদিক কেউ কোথাও নেই। বারান্দার কোণে ছাদে ওঠার সিঁড়ি। নিঃশব্দে উঠে গেল সুমন।

    ছাদে উঠে দেখল, একটাই ছাদ, মাঝে নিচু পাঁচিল দিয়ে দু—ভাগ করা। আধখানা নুরী বেগমের, আধখানা সোহিনী বাঈয়ের। অনায়াসে পাঁচিল টপকে সুমন ও—ছাদে চলে গেল। তারপর টর্চের আলোয় সিঁড়ি বেয়ে নেমে গেল দোতলায়।

    জনহীন বাড়িটা কবরের মতো ঠাণ্ডা নিঝুম। অথচ আশপাশের বাড়িগুলো জীবনের স্পন্দনে ভরপুর! সুমন ভাবলে, বাঈজিদের দুনিয়া এই! আজ আলো, কাল অন্ধকার!

    টানা বারান্দার পাশে ঘরগুলো তালাবন্ধ। সিঁড়ির মুখেই মাইফিল—ঘর। সুমন এসে দাঁড়াল সেই ঘরের সামনে। বড় হলঘর, বড় বড় দরজা—জানালা সবই বন্ধ। পকেট থেকে মাস্টার কী বের করে তালা খুলে ফেললে। তারপর ঘরে ঢুকে টর্চের আলোয় সুইচ খুঁজে টিপে দিলে। জ্বলে উঠল বেলোয়ারি ঝাড়ের বাতিগুলো। খোলা দরজার কপাট দুটো ভেজিয়ে দিলে সুমন। ঘরের আলো বাইরে না যায়। তারপর চারপাশে তাকাল।

    বাইরে থেকে বাড়িটাকে দেখতে যেমন পুরোনো হতশ্রী, ভেতরটা তেমন নয়। প্রাচুর্যের সঙ্গে রুচিরও পরিচয় পাওয়া যায়।

    প্রথমেই চোখে পড়ে হলের একধারে মানুষ—প্রমাণ সাইজের একটি মার্বেল পাথরের নর্তকী—মূর্তি। অপরূপ গঠনসৌকর্য দেখে মনে হয় ফরাসি বা ইতালীয় শিল্পীর হাতে তৈরি। সারা ঘরটা ফিকে সবুজ রং করা। বড় বড় আর্শি, দামি নেটের পর্দা, কয়েকখানা গদিওয়ালা কৌচ আর শ্বেতপাথরের টেবিল দিয়ে সাজানো। কৌচগুলোর ওপর ধুলোর আস্তরণ, একটা টেবিলের ওপর কাচের চৌবাচ্চচায় লাল মাছ। মরে গেছে। মেঝের অধিকাংশ জুড়ে পুরু ফরাস, তার ওপর ধুলোয় ধূসর কাশ্মীরি জাজিম। একপাশে রঙিন ছিটের ঢাকার মধ্যে একটা সারেঙ্গি, একটা তম্বুরা আর গোটাকয়েক বাঁয়া—তবলা, ছাউনিগুলো অব্যবহারে ফেটে গেছে।

    ফরাসের একটা জায়গায় সুমনের চোখ পড়ল। জাজিমের ওপর অনেকখানি কালো ছাপ। জয়প্রকাশ কাপুরের শুকনো রক্তের দাও!

    চোখ সরিয়ে নিল সুমন। মাইফিল—ঘরের এক প্রান্তে একটা ছোট ঘর। মাঝখানে দরজা নেই, তার বদলে চওড়া একটা খিলান, দু—পাশে জাফরি—কাটা দেয়াল। বোধ হয় বাঈজিদের বিশ্রামের জন্য। অথবা বিশেষ অতিথিদের আরামের জন্য। ও—ঘরটাও দেখা যাক।

    খিলান পার হয়েই থেমে গেল সুমন। দাঁড়িয়ে রইল নিশ্বাস রোধ করে। মাইফিল—ঘরের ঝাড়বাতির উজ্জল আলো খানিকটা এ—ঘরেও এসে পড়েছে। সেই আলোয় সুমন দেখলে সামনের দেয়ালের ব্যাকেট থেকে ঘন নীল ভেলভেটের পর্দা ঝুলছে, তারই নিচে একজোড়া পা! ট্রাউজার আর জরিদার কাবুলি চপ্পল পরা পুরুষের পা!

    সুমন আসার আগেই আর কেউ এখানে এসেছে তাহলে! আর, আর সুমনের সাড়া পেয়ে লুকিয়েছে পর্দার পেছনে। কিন্তু কে ও? পুলিশ নয় নিশ্চয়। তারা এলে লুকিয়ে আসবে কেন? তবে কি গোয়েন্দা? কে নিযুক্ত করল? না, কোনো চোর—ছ্যাঁচোড়? যেই হোক, মিত্র সে নয়।

    কি করবে এখন সুমন? থাকবে, না যাবে? ধরবে, না ধরা পড়বে? কয়েক মুহূর্তের মধ্যে সে ইতিকর্তব্য স্থির করে নিলে। ট্রাউজারের পকেট থেকে অটোমেটিক অস্ত্রটা চলে এল ডান হাতের মুঠোয়। তারপর বাঁ হাতে ভেলভেটের পর্দাটা ধরে সহসা টান মারলে একপাশে। পেতলের রিং লাগানো পর্দা শব্দ করে সরে গেল। আর সঙ্গে সঙ্গে হাসি ফুটে উঠল সুমনের মুখে।

    কেউ না। প্রকাণ্ড আর্শির গায়ে তার নিজেরই প্রতিবিম্ব। পর্দার নিচে নিজেরই জরিদার কাবুলি চপ্পলের প্রতিচ্ছবি দেখা যাচ্ছিল। এতক্ষণ নিজেই তাহলে কৌতুক করছিল নিজের সঙ্গে!

    চারপাশে তাকিয়ে মনে হল, ছোট ঘরটা কারো নিজস্ব বসবার ঘর। ডিভানের মতো একটা বসবার জায়গা, বেতের একটা আরাম কেদারা, একটা দেরাজওয়ালা লেখবার টেবিল ছাড়া আর আসবাবের বাহুল্য নেই। টেবিলের ওপর কলমদান, একটা রাইটিং প্যাড, একটা নৌকাকৃতি রিডিং ল্যাম্প, খানকতক উর্দু কবিতাগ্রন্থ, তার মধ্যে আবার অতুলপ্রসাদের বাংলা গানের বই! উর্দু কাব্যের বইগুলোর মলাট খুলতেই দেখা গেল হিন্দিতে লেখা :

    প্যারী চৈতিকে

    জয়প্রকাশ

    শুধু অতুলপ্রসাদের গানের বইয়ের প্রথম পৃষ্ঠায় বাংলা মেয়েলি হরফে লেখা ‘শান্তিলতা’।

    টেবিলের ড্রয়ারটা টানলে সুমন। ভেতরে খানদুয়েক ব্যাঙ্কের চেকবই। চেকের কাউন্টার পার্টগুলো সুমন দেখতে লাগল। বেশির ভাগ চেকই রংলালের নামে ইসু করা। কখনো দুশো, কখনো পাঁচশো, একখানা দু’হাজার টাকার। চেকবই ছাড়া ছোটখাটো ফোটো অ্যালবাম একখানা রয়েছে। দ্রুতহাতে ছবিগুলো উল্টে গেল সুমন। তারপর কি ভেবে নিজের কোটের মধ্যে অ্যালবামখানা লুকিয়ে ফেলল।

    ঘর থেকে বেরোতে গিয়ে নজরে পড়ল একটা স্ট্যান্ডের ওপর ডালা খোলা একটা গ্রামোফোন মেশিন। একখানা রেকর্ড চাপানো, তার ওপর সাউন্ডবক্স নামানো, গান শেষ হবার পরেও তোলা হয়নি। রেকর্ডখানা তুলে নিয়ে দেখলে সুমন। হিন্দি ঠুংরি বা গজল নয়, অতুলপ্রসাদের বহুশ্রুত বাংলা গান—

    বঁধুয়া, দিন নাহি আঁখি পাতে।

    আমিও একাকী, তুমিও একাকী

    আজি এ বাদল রাতে।।

    হয়তো একুশে জুলাই—এর সেই বাদলা রাতে চৈতি এই রেকর্ডখানা শুনছিল। জয়প্রকাশ আসার আগে। তারপর রিভলভারের আওয়াজে চাপা পড়ে গিয়েছিল গান।

    রেকর্ডখানাও কোটের ভেতরে লুকিয়ে রাখলে সুমন। তারপর আবার এসে দাঁড়াল মাইফিল—ঘরে। আর কিছু দেখবার নেই এখানে। কিন্তু সত্যিই কি দেখবার নেই কিছু?

    সুমনের সন্ধানী দৃষ্টি আর একবার সারা ঘরটাকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে লক্ষ্য করতে লাগল। এক জায়গায় এসে তার সঞ্চরমান দৃষ্টি থেমে গেল। লাল মোজেইক—করা মেঝের ওপর একটা সাদা বস্তু পড়ে আছে। কুড়িয়ে নিলে সুমন। মার্বেল পাথরের তৈরি নিখুঁত দুটি আঙুল—অনামিকা আর কনিষ্ঠা!

    সুমন একবার নর্তকীমূর্তির দিকে তাকালে, তারপর আঙুল দুটি নর্তকীর লীলায়িত বাঁ হাতের ভাঙা জায়গায় বসিয়ে দিতেই বেমালুম খাপ খেয়ে গেল।

    কিন্তু ভাঙল কেন? কবে ভাঙল? একুশে জুলাই রাতে কি? তা নইলে আঙুল দুটো আজো মেঝেয় পড়ে থাকবে কেন? আগে ভাঙলে নিশ্চয় সযত্নে তুলে রাখা হত, অথবা যথাস্থানে জুড়ে দেওয়া হত।

    একুশে জুলাই রাতে চৈতি বাঈয়ের হাতে গুলি খেয়ে জয়প্রকাশ মরেছে, কিন্তু ফরাসি নর্তকীর হাতের আঙুল ভাঙল কেন?

    কারণটা যাই হোক, এখন ফেরা যাক। হাতঘড়িটা দেখলে সুমন। ফিরতে আরও দেরি হলে নুরি বেগম কি ভাববে কে জানে। বাতি নিভিয়ে অন্ধকার বারান্দায় বেরিয়ে এল সে। দরজা আবার তালাবন্ধ করে দিলে।

    .

    নুরী বেগম তখনো গাইছে :

    ‘না মারো, না মারো রাজা

    চিতুওনকা বাণ—’

    আর, সুর্মাটানা ট্যারা চোখের বাণ খেয়ে খেয়ে নাট্যকার রাজুর হৃদয়টা একেবারে ক্ষতবিক্ষত হয়ে যাচ্ছে। হোয়াইট লেবেলের বোতলটাও প্রায় শেষ হয়ে এসেছে!

    বহুৎ আচ্ছ! বহুৎ আচ্ছা!

    তারিফ করতে করতে সুমন ঘরে ঢুকল।

    নুরী বেগম বললে, কোথায় গিয়েছিলেন?

    বারান্দায় হাওয়া খাচ্ছিলাম, আর তোমার গান শুনছিলাম বেগম।

    কই, আমার চাকর তো আপনাকে দেখতে পেল না!

    সুমন একটু থতিয়ে গিয়ে বললে, অন্ধকারে দাঁড়িয়েছিলাম কিনা, তাই। আচ্ছা বেগম, পাশের বাড়িটায় ভূতটুত আছে নাকি?

    শুনে আঁতকে উঠল নুরী বেগম। বললে, এ কী বলছেন!

    বারান্দায় দাঁড়িয়ে হঠাৎ যেন রিভলভারের আওয়াজ আর চিৎকার শুনতে পেলাম পাশের বাড়ি থেকে।

    জোর করে অবিশ্বাসের হাসি হাসলে বেগম। বললে, না, না, ও তোমার নেশার খেয়াল!

    আরে বা!—সুমন বললে, তামাম লক্ষ্নৌ শহর তো জানে চৈতি বাঈ জয়প্রকাশকে গুলি করেই খুন করেছে। তুমি কোনো আওয়াজ শোনোনি?

    কিসের?

    হল্লা আর গুলির আওয়াজ!

    হল্লা শুনতে পাইনি, তবে দুটো গুলির আওয়াজ শুনেছিলাম বটে।

    দুটো?

    সুমনের নকল ঢুলুঢুলু চোখ দুটো হঠাৎ সজাগ হয়ে উঠল।

    দুটোই তো মনে হল। কি জানি, ঝড়—জলের রাতে ভালো করে শুনতে পাইনি।—ছেড়ে দাও ও—কথা, জিন’কে আমার বড্ড ভয়।

    রাজু বললে, ভয় কি বাঈজি? তোমার ওই সুর্মা—লাগানো চোখের তীর খেলে জিন তো জিন, জিনের চোদ্দপুরুষও আর বাঁচবে না।

    হাতঘড়িটা আবার দেখলে সুমন। ওয়ালেট থেকে খানকয়েক দশ টাকার নোট বের করে সামনের ট্রের ওপর রেখে বললে, চলি বেগম।

    আর গান শুনবে না?

    আজ থাক! রাত হয়েছে।

    .

    রাত সত্যিই হয়েছে।

    গোল—দরওয়াজার মুখে সার্কেলের কাছে দাঁড়িয়েছিল সুমনের হিলম্যান। চকের দোকানপাট বন্ধ হয়ে গেছে। এদিকটা অন্ধকার নির্জন।

    নুরী বেগমের বাড়ি থেকে হেঁটে এল সুমন ও রাজু।

    রাজু বললে, তুই কি ব্যারিস্টারি ছেড়ে গোয়েন্দগিরি ধরলি ইয়ার?

    চাবি দিযে গাড়ির দরজা খুলতে খুলতে সুমন জবাব দিলে, দরকার হলে ব্যারিস্টারকেও গোয়েন্দাগিরি করতে হয়।

    কিন্তু চৈতি বাঈয়ের বাড়ি যদি গেলি তো লুকিয়ে গেলি কেন? পুলিশের পারমিশান নিয়ে সোজা রাস্তায় গেলেই পারতিস।

    সব সময় সোজা রাস্তা দিয়ে গেলেই ঠিক জায়গায় পৌঁছানো যায় না রাজু।—কে?

    একটা ধরা গলার আওয়াজ অন্ধকারের ভেতর থেকে এগিয়ে এল, আল্লার নামে কিছু দান করো!

    সেই অন্ধ ভিখিরিটা! গায়ে সেই কালো আলখাল্লা কটারঙের চোখে স্থির তারা! রাত আড়াইটের সময়ও ভিক্ষে করছে! ভিক্ষে করছে, না পিছু নিয়েছে?

    গাড়িতে উঠতে গিয়ে থেমে গেল সুমন। পকেট থেকে কিছু খুচরো পয়সা বের করে প্রসারিত হাতের টিনের পাত্রে ফেলে দিলে।

    লাঠি ঠকঠকিয়ে চলে গেল লোকটা। ভুরু কুঁচকে তাকিয়ে রইল সুমন। ভারি অদ্ভুত ভিখিরি তো!

    তারপর গাড়িতে স্টার্ট দিলে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleদেরি হয়ে গেছে – প্রচেত গুপ্ত
    Next Article মহাভারতের মহারণ্যে – প্রতিভা বসু
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Our Picks

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }