Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    দশটি রহস্য উপন্যাস – প্রণব রায়

    প্রণব রায় এক পাতা গল্প1004 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    কাগজের ফুল – ১

    ১

    পাঠকদের বলছি। আসুন, একটা গল্প তৈরি করা যাক।

    সামাজিক গল্প আমি লিখি না। কারণ গল্পের নামে অবান্তর এলোমেলো স্বগত চিন্তা দিয়ে পাতার পর পাতা ভরানো আমার ধাতে আসে না। আমি যা লেখার চেষ্টা করি, তা হচ্ছে নেহাত গল্প। তাও অপরাধ নিয়ে। তাই বোধ করি, এ—কালের লেখকদের কাছে অপরাধী হয়ে আছি। গল্পের চরিত্রগুলিকে স্বাধীনভাবে ছেড়ে দিয়ে আমি তাদের পিছনে থাকি, তারা নিজেরাই যা করে, যা বলে, তাই লিপিবদ্ধ করি; তাদের আড়াল করে দাঁড়িয়ে, তাদেরই মুখ দিয়ে আমার নিজের কথা জাহির করি না। দু’—একবার চেষ্টা করে দেখেছি, পারিনি। চুল পাকলেও জীবনের পাঠশালায় আমি এখনো ছাত্র, লেকচারার হতে পারিনি। তাই আমার গল্প নিছক গল্প ছাড়া আর কিছুই হয় না।

    কিন্তু নিছক গল্প আজকাল ব্যাক—ডেটেড। নেহাত সেকেলে। খবরের কাগজের ভাষায় যাকে বলে এ যুগের প্রতিফলন, জীবন—যন্ত্রণা ইত্যাদি, সে—সব না থাকলে নাকি আজকের গল্প হয় না, মানে আজকের পাঠকদের খুশি করা যায় না। অতএব আসুন, একটা আজকের গল্পই তৈরি করা যাক।

    গল্পের একজন নায়ক থাকে, আর নায়কের নামও থাকে একটা। কিন্তু নামের কি দরকার? গল্প যখন আজকের, নায়কও তখন আজকের। আজকের সব গল্পের সব নায়কই এক। বয়সে চরিত্রে স্বভাবে প্রকৃতিতে তারা একই—আদর্শহীন শিক্ষার সঙ্গে যৌবনের অস্থিরতা আর উগ্র জীবন—তৃষ্ণা মিশিয়ে তারা একই ছাঁচে ঢালা। তারা সবাই ‘হাংরি জেনারেশন’। সুতরাং নামে কী আসে যায়? আজকের যে—কোনো যুবক নায়ক হতে পারে আমাদের গল্পের।

    নায়ককে আমরা নায়ক বলেই ডাকব।

    ভদ্র সৎ পরিবারের ছেলে সে। বয়স আটাশ। অবিবাহিত। দেখতে মোটামুটি ভালোই। লম্বায় ছ’ফুটের কাছাকাছি, স্বাস্থ্যবান চেহারা, রংটা কালো হলেও ঝকঝকে। বছর ছয়েক হল কমার্সে ডিগ্রি নিয়ে বেরিয়েছে। বিজনেস অর্গানাইজেশনে উঁচু মার্কস পেয়েছিল, তাই চাকরি পেতে দেরি হয়নি। চাকরিটাও দামি। থাপার ট্রেডিং থেকে সব মিলিয়ে মাসে এখন সাড়ে পাঁচশো পায়, ভবিষ্যতে অঙ্কটা আড়াই হাজারে গিয়ে পৌঁছতে পারে।

    বড় ভাই কানপুরে রেল—অফিসার, বিধবা মা থাকেন তারই সংসারে নাতি—নাতনিদের নিয়ে। সুতরাং নায়কের কোনো দায়দায়িত্ব নেই। ঝাড়া হাত—পা। টাকা যা রোজগার করে, সবটাই সে নিজের জন্যে খরচ করতে পারে। বছরে এক—আধবার শিবরাত্রি বা অম্বুবাচী উপলক্ষে মায়ের জন্যে কিছু হাতখরচ পাঠিয়ে দেয়। কখনো টাকা পাঠায় ভাইপো—ভাইঝির জন্মদিনে।

    নায়ক হিসেবে আমাদের নায়ককে প্রথম শ্রেণীর বললে বাড়িয়ে বলা হবে না। পাত্রের বাজারে তাকে ‘আগ মার্কা’ পাত্র বলা হয়। তবু সে এখনো ব্যাচেলর। তার কারণ এই নয় যে, বিয়েতে তার রুচি নেই। তার কারণ যুগ পালটে গেছে।

    এখন আর বয়সটা বাইশ পেরোলেই টোপর পরার রেওয়াজ নেই। আটাশ বছরটা আজকাল বিয়ের পক্ষে পরিণত বয়স নয়। প্রায় পঁয়ত্রিশ বছর পর্যন্ত দেখে বেড়ানো এবং চেখে বেড়ানোর বয়স। অর্থাৎ জীবনের পার্টনার বাছাই করার পিরিয়ড।

    কিন্তু আমাদের নায়ক বিয়ে করেনি বলে তার আটাশ বছরের জীবনে মেয়েদের আসা—যাওয়া নেই, এমন অবাস্তব ধারণা সঙ্গত নয়। যুদ্ধোত্তর দুনিয়ায় নয়া জমানার ঢেউ লেগেছে এবং সেই ঢেউ বঙ্গোপসাগরের কুলেও আছড়ে পড়েছে। নীতি বদলেছে। পুরোনো আমলের ইউনিভার্সিটি বিল্ডিংয়ের মতো পুরোনো সংস্কার ভেঙে—চুরে নয়া সমাজ—ব্যবস্থার বিশাল আমেরিকান বিল্ডিং উঠেছে। তার সব ক’টা দরজায় কোনো কপাটও নেই, পাহারাও নেই।

    মেয়েরা এখন আর পুরুষের নর্মসঙ্গিনী নয়, কর্মসঙ্গিনী। ট্রামে—বাসে হাটে—বাজারে অফিসে—সিনেমায় একেবারে পার্শ্ববর্তিনী। প্রাচীন শিলালিপির মতো তারা আর রহস্যময়ী নয়, দৈনিক খবরের কাগজের মতো নিতান্ত স্পষ্ট। ছেলেতে—মেয়েতে অবাধ মেলামেশা এ যুগের সবচেয়ে স্বাভাবিক ব্যাপার। আজকের ছেলে—মেয়েদের হাতে হাতে রয়েছে নয়া জমানার একটি ছাড়পত্র। তার নাম কমরেডশিপ—বন্ধুতা।

    এই ছাড়পত্র আমাদের নায়কেরও আছে। তারও যৌবনের দরজায় কয়েকটি বান্ধবীর আনাগোনা ঘটেছে, পায়ের ছাপ পড়েছে, আবার মুছেও গেছে।

    তাই নিয়েই অমাদের গল্প।

    নায়ক যেখানে একজন, সেখানে তার কোনো নাম না দিলেও চলে। কিন্তু নায়িকা যেখানে একাধিক, সেখানে তাদের গায়ে নামের চিহ্ন না দিলে তাদের চিনতে মুশকিল হবে। তারা সবাই একাকার হয়ে যাবে। অতএব নায়িকার নাম রাখা দরকার।

    তিন বছর আগে আমাদের নায়কের যৌবনে প্রথম যে মেয়েটির পদক্ষেপ ঘটে, তার নাম—ধরুন, তার নাম মুক্তা বসু।

    মুক্তা

    বছর খানেক পিছিয়ে যাওয়া যাক।

    আটষট্টি সালের এক এপ্রিল—সন্ধ্যা। নায়ক গিয়েছিল গড়িয়াহাটের মোড়ে শার্টের কাপড় খরিদ করতে। দোকানটা নতুন, সুন্দর করে সাজানো, নাম ‘প্রচ্ছদ’। ঢুকে পড়ল নায়ক। কাউন্টারের পাশ থেকে এগিয়ে এল একটি সেলস গার্ল, অভ্যস্ত গলায় মিষ্টি করে বললে, কি দেব বলুন? টেরিন টেরিকটন ইজিপ্সিয়ান সিল্ক পপলিন—সুটিং শার্টিং শাড়ি—

    কিছু বলতে পারেনি নায়ক। মেয়েটির দিকে তাকিয়ে শুধু শুনছিল।

    দু—সেকেন্ড থেমে মেয়েটি আবার প্রশ্ন করলে, বলুন, কি দেব?

    এবার নায়ক বললে, শার্টের কাপড়—টেরিকটন।

    প্লেন, না চেক?

    প্লেন।

    এক মিনিট—প্লিজ!

    মেয়েটি চলে গেল কাউন্টারের ওপাশে। র্যাক থেকে বেছে বেছে নানান রঙের টেরিকটন থান কাউন্টারের ওপর জড়ো করতে লাগল। আর, এপাশে দাঁড়িয়ে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখতে লাগল নায়ক। ঘষা—মাজা রঙ—ফর্সাই বলা চলে, সাধারণ বাঙালি মেয়ের তুলনায় একটু বেশি লম্বা। মেয়েটির সেই দীর্ঘছন্দ দেহের একটা আবেদন আছে। পুরন্ত সুঠাম দেহ। সেই দেহের দিকে তাকালে তার নাক—মুখ—চোখে খুঁত আছে কিনা সে—প্রশ্ন জাগে না। ছাপা ভয়েলের একখানা শাড়ি পাকে পাকে জড়িয়ে তার দেহের জ্যামিতিক নকশাগুলো আরো স্পষ্ট করে তুলেছে। সেখানে কোনো খুঁত নেই।

    আমরা এই মেয়েটিরই নাম দিয়েছি মুক্তা বসু।

    পাঁচ—সাত রঙের থান নামিয়ে মুক্তা ডাকলে, আসুন। চয়েস করুন।

    কাউন্টারের সামনে এগিয়ে গেল নায়ক। নেড়েচেড়ে দেখতে লাগল থানগুলো। না, যে রঙের শেড সে খুঁজছে, তা নেই। হাত সরিয়ে নিলে সে। অথচ শুধু দেখে—শুনে বিনা সওদায় চলে যেতে কেমন যেন ভদ্রতায় বাধে।

    কি হল? পছন্দ হচ্ছে না?

    নায়ক কাউন্টার থেকে মুখ তুলে দেখলে, হাসি মুখে চেয়ে আছে মেয়েটি। রঙ—মাখা হালকা গোলাপি পুরু ঠোঁট দুখানা অল্প খোলা। হাসিটাও গোলাপি আমেজে ভরা। তবু যেন ওজন—করা, মাপা।

    মুক্তার প্রশ্নের কি অর্থ বুঝল নায়কই জানে, চোখে চোখ রেখে বলে ফেলল, না, না, পছন্দ হয়েছে বইকি—খুবই পছন্দ হয়েছে।

    মুক্তা চোখ সরিয়ে নিল। ঠোঁটে গোলাপি হাসিটা রেখে দোকানদারি গলায় বললে, টেরিকটের মধ্যে বিনিই হল বেস্ট। কোন রঙটা দেব বলুন?

    ঠিক বুঝতে পারছি না কোন রঙের শেডটা মানাবে।

    আপনার নিজের জন্য?

    ঘাড় নাড়লে নায়ক।

    কিছু যদি মনে না করেন, আমি বেছে দিতে পারি। মুক্তা বললে।

    নায়ক বললে, ধন্যবাদ। নিজের জন্য নিজের রুচিটাই ভালো নয় কি?

    খদ্দেরকে সহজে ছাড়ল না মুক্তা। বললে, নিশ্চয়। তবে সেটা খাবার সময়। পোশাকের বেলায় কিন্তু পরের রুচি মেনে চলাই ভালো।

    একটু হেসে নায়ক বললে, বেশ মানছি। বলুন, কোন শেডটা নেব?

    এই অলিভ গ্রিনটা নিতে পারেন—আজকাল এই রঙটা খুব চলছে।

    ঠিক আছে, তাই দিন।

    সবুজ রঙটাই নায়কের দু—চোখের বিষ। তবু সেদিন সে অলিভ গ্রিন শার্টের কাপড় সওদা করে বসল। রঙটা এখন আর তেমন খারপ মনে হচ্ছে না। সেলস গার্ল হিসাবে মেয়েটি চমৎকার! কিন্তু শুধু মেয়ে হিসাবে আরো চমৎকার নয় কি?

    সওদা করে চলে আসার সময় মুক্তা আবার হাসলে। গোলাপি আমেজ ভরা সেই মাপা হাসি। বললে, নমস্কার। দরকার হলে আবার আসবেন।

    .

    দরকার হয়নি, তবু নায়ক আবার গেল। গড়িয়াহাটের সেই দোকান ‘প্রচ্ছদ’—এ।

    ঠোঁটে গোলাপি হাসি এনে মুক্তা এগিয়ে এল: কি দেব?

    দেরাজে গোটা আষ্টেক ট্রাউজার ঠাসা, তবু সে প্যান্টের কাপড় চাইলে। বললে, অলিভ গ্রিনের সঙ্গে কোনো রঙ ম্যাচ করবে বলুন তো?

    ঘরে বলে দেওয়ার লোক নেই বুঝি? হাসি মুখেমুক্তা বললে।

    মানে?

    মানে, মিসেসরাই তো মিস্টারদের জন্য রঙ পছন্দ করেন—

    এবার নায়ক হাসলে। বললে, তেমন কেউ থাকলে আপনার সাহায্য চাইব কেন?

    মুক্তা বললে, নিশ্চয় চাইবেন। কাস্টমারকে হেলপ করা আর খুশি করাই তো আমাদের কাজ।

    মেয়েটা অদ্ভুত! সেলস গার্লের কাজ করে বলে গলায় কি অভ্যস্ত দোকানদারি ছাড়া অন্য সুর থাকতে নেই?

    র্যাক থেকে কাপড়ের থান নামাতে লাগল মুক্তা। আর, ছাপা ভয়েলের শাড়ি জড়ানো দীর্ঘ সুঠাম দেহের প্রতিটি ভঙ্গিমা তাকিয়ে তাকিয়ে দেখতে লাগল নায়ক। তার প্রাচীন ভদ্র মন বললে, কোনো ভদ্র মেয়ের দিকে তাকিয়ে থাকাটা অশালীন আচরণ। তার আঠাশ বছরের যৌবন বললে, যা দেখতে ভালো লাগে, তা দেখতে দোষ নেই।

    পরের সপ্তাহে নায়ক আবার গেল।

    যাবার ঠিক ইচ্ছে ছিল না, রাসবিহারীতে সিগারেট কিনতে এসে ইচ্ছে হল যেতে।

    গোলাপি রঙ—মাখা ঠোঁট এগিয়ে এসে বললে, আসুন, কি দেব?

    টাই।

    সরি, আজ দিতে পারছি না।

    কেন?

    দোকান বন্ধ হয়ে গেছে। আমারও ছুটি।

    নিজের হাতঘড়ি দেখে নায়ক বললে, এখনো তো আটটা বাজেনি!

    আটটা বাজতে দশে সেল বন্ধ হয়ে যায়।

    ও! ভালোই হল, কয়েকটা টাকা বেঁচে গেল। চলুন তাহলে, যাওয়া যাক।

    কাউন্টারের ড্রয়ার থেকে ভ্যানিটি ব্যাগটা টেনে নিলে মুক্তা, তারপর বেরিয়ে পড়ল। রাসবিহারী ধরে হাঁটতে লাগল দুজনে বাস—স্টপেজের দিকে। পঞ্চাশ গজ যেতে না যেতেই চৈত্র—সন্ধ্যার খ্যাপা ঝোড়ো হাওয়া গুন্ডাপার্টির মতো হই হই করে এসে পড়ল তাদের সামনে। ধুলো—বালির ঝাপ্টা মেরে এক লহমায় নাস্তানাবুদ করে দিলে পথের মানুষদের। মুক্তার একখানা হাত ধরে টানতে টানতে নায়ক বললে, শিগগির ঢুকে পড়ুন ওই রেস্তোরাঁয়।

    একটা কেবিন দখল করে নায়ক বললে, কি খাবেন বলুন?

    শব্দ করে হেসে মুক্তা বললে, ধুলো—বালি খেয়েই পেট ভরে গেছে!

    অভ্যস্ত দোকানদারির বদলে নায়ক এই প্রথম অন্য সুর শুনল মুক্তার গলায়। চেয়ে দেখলে, ‘প্রচ্ছদ’—এর বাইরে এসে তার হাসির চেহারাটাও বদলে গেছে। সেই গোলাপি রঙ—করা মাপা হাসি নয়, গোলাপজলের ফোয়ারার মতো আপনি—উছলে—পড়া মিষ্টি হাসি।

    ঝড়ে এলেমেলো চুলগুলো গুছিয়ে নিতে নিতে মুক্তা বললে, এমন বিনা নোটিশে ঝড় আসাটা কিন্তু ভারি অন্যায়!

    সমুখে একটু ঝুঁকে নায়ক বললে, আমার তো ঝড়কে ধন্যবাদ দিতে ইচ্ছে করছে।

    কেন শুনি?

    আপনার সঙ্গে ভালো করে আলাপ করার সুযোগ দিয়েছে বলে।

    হালকা হেসে মুক্তা বললে, কী যে বলেন! একজন সেলস গার্লের সঙ্গে আলাপ করাটা কী আর এমন ব্যাপার?

    নায়ক বললে, আপনার সবটুকুই তো সেলস গার্ল নয়।

    মুক্তার উছলে—ওঠা হাসি হঠাৎ থেমে গেল। কেমন যেন শান্ত হয়ে গেল সে। না, তার সবটাই সেলস গার্ল নয়। শুধু মেয়ে হিসাবেও তার একটা অন্য পরিচয়—অন্য সত্তা আছে। কিন্তু কেউ তো এতদিন তা জানতে চায়নি!

    সেদিন সেই এলোমেলো ঝড়ের সন্ধ্যায় আমাদের নায়ক নিজের নাম—ধাম জানিয়েছিল, আর জেনেছিল মুক্তা বসুর ব্যক্তিগত পরিচয়।

    পূর্ব বাংলার এক মধ্যবিত্ত পরিবারে তার জন্ম। জমিদারি না থাকলেও সংসারকে সচ্ছল রাখার মতো জমিজমা ছিল। বাবা ছিলেন হাইস্কুলের হেড মাস্টার। ছেচল্লিশের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাতেও তাঁরা টিকে ছিলেন কোনোমতে। ভিটের মায়া ছাড়তে রাজি হননি তার বাবা। কিন্তু আরো কয়েক বছর বাদে আর থাকা গেল না। সর্বস্ব খুইয়ে চলে আসতে হল শহর কলকাতায়। সেটা তেরো বছর আগের ঘটনা—মুক্তার বয়স তখন দশ। কলকাতায় এসে উদ্বাস্তু হিসাবে তার বাবা পেলেন একটুকরো জমি আর পেলেন একটা স্কুলে সেকেন্ড টিচারের চাকরি। চাকরি আর টিউশনি মিলিয়ে সংসারের চাকা আবার ঘুরতে শুরু করল। মুক্তা আবার ভর্তি হল স্কুলে। স্কুল থেকে কলেজে। তারপর সংসারের চাকা আবার একদিন অচল হয়ে গেল। বাবা মারা গেলেন স্ট্রোকে। মুক্তা তখন বি. এ পড়ছে। পার্ট টু পরীক্ষাটা আর দেওয়া হল না, জীবনের লড়াইয়ে নেমে পড়তে হল। কপাল ভাল, ‘প্রচ্ছদ’—এ সেলস গার্লের চাকরিটা জুটে গেল। সকাল দশটা থেকে রাত আটটা অবধি ডিউটি। ভালো—মন্দ হাজার খানেক খদ্দেরকে খুশি করে জিনিস বিক্রি করা—হয়তো বা তার সঙ্গে নিজের কিছুটা সম্মানও বেচে দেওয়া! তা হোক, টাকার বড় দরকার। মাস গেলে দুশো পঁচিশ টাকা মন্দ কী? ছোট ভাইটাও লেদ মেশিনের কাজে ঢুকেছে। মুক্তার পড়াটা বন্ধ হল, হোক—সংসারের চাকা তো আবার ঘুরছে।

    চুপ করে শুনল আমাদের নায়ক। অতটা গরিব না হলেও সেও মধ্যবিত্ত ঘরের ছেলে। জীবনের বাস্তব চেহারাটা তারও খানিকটা দেখা আছে। সেলস গার্লের খোলস ছেড়ে যে মেয়েটি এখন তার সামনে বসে কফির কাপে চুমুক দিচ্ছে, তার প্রতি আমাদের নায়কের ভদ্র মন সহজাত প্রবৃত্তির বশে শ্রদ্ধা ও সহানুভূতিশীল হয়ে উঠল। তার ইচ্ছে হল—প্রবল ইচ্ছে হল, জীবনের লড়াইয়ে এই মেয়েটির পাশে থেকে সমস্ত অসম্মান থেকে তাকে বাঁচায়।

    তখন কফি শেষ করে মুক্তা দু’হাত তুলে অগোছালো বেণী খোঁপা করে জড়াচ্ছিল। মুক্তা বসেছে নায়কের দিকে একটু আড় হয়ে। দু’বাহু তোলার দরুণ পাতলা ভয়েলের আড়ালে নীবি—বন্ধনীর ইশারা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আঠাশ বছরের যৌবন নায়কের কানে কানে বললে, ‘পৃথিবীর সমস্ত ফুলের মধু এক—এক ফোঁটা করে নিয়ে বিধাতা—পুরুষ যুবতীর দেহ গড়েছে! তুমি তার স্বাদ জানো কি?’

    বাইরে ঝড় থেমেছে। বৃষ্টিও হয়ে গেছে এক পশলা। তবু কেমন যেন অস্থির হয়ে উঠল নায়ক। যে তাকে অস্থির করেছে, সেই আঠাশ বছরের যৌবনকে ধমক দিয়ে সে উঠে পড়ল। বললে, চলুন, এবার যাওয়া যাক।

    ব্যাগ খুলে মুক্তা কফির দাম মিটিয়ে দিতে যাচ্ছিল, নায়ক বললে, ওকি, আপনি খরচ করবেন কেন? কফি তো আমি খাওয়ালাম!

    মুক্তার মুখে সেই রঙ—করা হাসি দেখা দিল। বললে, ধন্যবাদ। আপনি দয়ালু কাস্টমার, গরিব সেলস গার্লের দেড়টা টাকা বাঁচিয়ে দিলেন।

    অপ্রস্তুত হয়ে পড়ল আমাদের নায়ক। অজান্তে মেয়েটার সম্মানে ঘা দিয়ে বসল নাকি। তাড়াতাড়ি বললে, ছি, ছি, আপনি তা ভাবছেন কেন? কাস্টমার কি বন্ধু হতে পারে না?

    লজ্জিত নায়কের গলায় এমন একটা আন্তরিকতার সুর বেজে উঠল যে, মুক্তা বসু তার মুখের পানে না তাকিয়ে পারল না। সুশ্রী একখানি পরিচ্ছন্ন মুখ উজ্জ্বল চোখে তার দিকে চেয়ে আছে। সে চোখের স্বচ্ছতায় বন্ধুতার আহ্বান ছাড়া কোনো অভিসন্ধি খুঁজে পেল না মুক্তা।

    আবার সহজ হয়ে এল মুক্তা বসু। আস্তে আস্তে শুধু বললে, বেশ, দামটা আপনিই দিন।

    দুজনে যখন রাস্তায় পা দিল, তখন রাত পৌনে ন’টা।

    নায়ক জিজ্ঞেস করলে, যাবেন কোথায়?

    টালিগঞ্জে। মুক্তা বললে।

    টালিগঞ্জের কোন জায়গা?

    বিধান কলোনি।

    ও অঞ্চলে প্রায়ই গোলমাল হয় শুনেছি। আমারই জন্যে আজ আপনার রাত হয়ে গেল, আপনাকে বরং পৌঁছে দিয়ে আসি চলুন।

    প্রস্তাবটা খুব সহজভাবে এড়িয়ে গেল মুক্তা। বললে, কেন কষ্ট করবেন? আমি তো একাই আসি—যাই। আচ্ছা, চলি।

    একখানা বাস এসে স্টপেজে থামল। উঠে পড়ল মুক্তা। বাস ছাড়বার আগে বলে গেল, লেটেস্ট ফ্যাশানের টাই এসেছে। আসবেন দোকানে।

    * * *

    দিন দুই বাদে আবার দেখা হল। তারপর আবার, তারপর বারবার। একনাগাড়ে বেশ কয়েক মাস। দোকানের ছুটির পর কোনোদিন কোনো রেস্তোরাঁয়, কখনো পার্কে, কখনো বা গঙ্গার ধারে। কথা হয়, গল্প হয়, স্পর্শ বিনিময় হয়।

    পুরুষ—প্রকৃতির চিরাচরিত বিধানে এই ক’মাসে দুজনে অনেক কাছাকাছি এসে গেছে। ‘আপনি’ হয়েছে ‘তুমি’। নায়কের জীবনে মুক্তা প্রথম রমণী, মুক্তার জীবনে নায়ক প্রথম পুরুষ। তবু দেওয়া—নেওয়ার সম্পর্কটা এখনো তত গভীরে পৌঁছয়নি।

    যেদিন বেশি রাত হয়ে যায়, নায়ক ট্যাক্সি করে মুক্তাকে পৌঁছে দিয়ে আসে। পাড়ার দাদাদের চোখ টাটাতে পারে, তাই একেবারে বাড়ি অবধি নয়, বিধান কলোনির আগের মোড় অবধি। নায়ক পৌঁছে দিতে চাইলে মুক্তা আর আপত্তি করে না। নায়কের কাঁধে মাথা হেলিয়ে চুপচাপ বসে থাকে ট্যাক্সির মধ্যে। কথা কয় না, চোখ দুটি বোজা, একটা স্বপ্নাচ্ছন্ন তন্দ্রার ঘোরে থাকে। নায়ক একদিন গিয়েছিল মুক্তাদের বাড়িতে। টালি—ছাওয়া ছোট ছোট খানতিনেক ঘর। লাউ—মাচা, গাঁদার চারা। মুক্তার মা তাকে আদর—যত্ন করেছিলেন, আর খাতির করেছিলেন সে পাঁচশো টাকা মাইনে পায় শুনে।

    যে যার পথে যাবার সময় নায়ক জিজ্ঞেস করে, কাল দেখা হচ্ছে তো?

    রোজই এক প্রশ্ন। উত্তরে মুক্তা শুধু ঘাড় নেড়ে জানায়, হবে।

    এক রবিবারে ওরা গিয়েছিল সিনেমায়। ম্যাটিনিতে। সিনেমা থেকে যখন বেরোল, তখনও বেলা আছে। ওরা চৌরঙ্গির একটা দোকানে চা খেল। তারপর হাঁটতে হাঁটতে ময়দানে একটা গাছের ছায়ায় এসে বসল।

    ছবির গল্প নিয়ে, সোফিয়া লোরেনের অভিনয় নিয়ে আলোচনা করতে লাগল নায়ক। মুক্তা শুধু শুনেই গেল, হাঁটুর ওপর চিবুক রেখে বসে রইল চুপচাপ। তারপর ফোর্ট উইলিয়ামের আড়ালে সূর্য ডুবল, পাতলা অন্ধকার নামল, ফাঁকা হয়ে এল ময়দান।

    মুক্তা হঠাৎ বললে, আজ উঠি।

    তার আঙুলে আঙুল জড়িয়ে বসেছিল নায়ক। বললে, এত সকাল সকাল?

    নিজের হাতটা ছাড়িয়ে নিয়ে মুক্তা বললে, একটু সকাল সকালই ফিরব।

    নায়ক সেই একই প্রশ্ন করলে, কাল দেখা হচ্ছে তো?

    ছোট্ট করে জবাব দিলে মুক্তা, না।

    পরশু?

    না। দেখা আর না হওয়াই ভালো।

    কনুইয়ের ওপর ভর দিয়ে বসেছিল নায়ক, সোজা হয়ে উঠে বসল। বললে, কেন? কি হল?

    খুব সহজভাবে মুক্তা বললে, আমাদের মেলামেশা এই পর্যন্তই থাক। আর নাই বা এগোলাম।

    এগোলে দোষ কি?

    কোথায় গিয়ে পৌঁছব, সেটা না জেনে এগনো কি ভালো?

    একটু অসহিষ্ণু গলায় নায়ক বললে, অত হিসেব করে জীবনে চলা যায় না মুক্তা।

    মেয়েদের কিন্তু হিসেব করেই চলতে হয়। কেননা লোকসানের ভয় তাদেরই বেশি।

    এক সেকেন্ড চুপ করে রইল নায়ক। তারপর বললে, আমার সঙ্গে মিশলে তোমার লোকসানের ভয় আছে?

    নরম গলায় মুক্তা বললে, রাগ কোরো না। আমি তা বলিনি।

    তবে কি বলতে চাইছ? তোমাকে আমি কতখানি ভালোবেসেছি, আজও তুমি বুঝতে পারোনি?

    পেরেছি। কিন্তু তুমি কি বোঝো আমার মতো সাধারণ মেয়ে কী চায়, আর কী পেলে সুখী হয়?

    কি?

    অন্ধকারে মুক্তার একখানা হাত নায়কের হাতের মধ্যে এসে পড়ল। মুক্তা বললে, এমন একজন সঙ্গী—যার ওপর নির্ভর করলে জীবনের শেষ দিন অবধি সে আমার হাত ছাড়বে না।

    একটা আবেগের ঢেউ নায়কের যুবক মনকে দুলিয়ে দিলে। তার মনে হল মুক্তার জন্য সব কিছুই সে করতে পারে। আর সেই আবেগ গলায় নিয়ে বললে, তোমাকে ছেড়ে থাকার কথা আমি আজ ভাবতেও পারি না মুক্তা। তোমাকে বাদ দিয়ে আমার জীবনটা—অসম্ভব, অসম্ভব! বিশ্বাস করো, সারাটা জীবন আমি তোমাকে ভালোবাসতে চাই—পাশে থেকে তোমায় সুখী করতে চাই!

    বলতে বলতে মুক্তাকে বুকের কাছে টেনে নিল নায়ক। তারপর উষ্ণ নিশ্বাস, উষ্ণ স্পর্শ।

    মুক্তা কোনো বাধা দিলে না। এমন করে নিঃশব্দে আত্মসমর্পণ সে আগে কখনো করেনি।

    .

    থাপার ট্রেডিংয়ের ছোট থাপার নিজের খাস কামরায় ডেকে পাঠাল নায়ককে।

    কোম্পানির এক নম্বর সাহেব এখন ছোট থাপার। বড় থাপার প্রায় রিটায়ার করেছে। মাঝারি দৈর্ঘের অত্যন্ত বলিষ্ঠ চেহারা ছোট থাপারের, নাক—মুখ—চোখ একটু মঙ্গোলীয় ধাঁচের, টকটকে ফর্সা রঙে বেশ খানিকটা লাল মেশানো। কড়া ‘বস’ হিসাবে অফিসে অখ্যাতি আছে।

    লাঞ্চের পর ঘরে বসে লেমন স্কোয়াশে চুমুক দিচ্ছিল ছোট থাপার। নায়ক এল।

    আমাকে ডেকে পাঠিয়েছেন?

    হ্যাঁ, বোসো।

    একটু অবাক হল নায়ক। অধীনস্থ অফিসারদের বসতে বলা ছোট থাপারের অভ্যাসের বাইরে।

    কোল্ড ড্রিঙ্কে আপত্তি নেই তো?

    বোতাম টিপে বেয়ারাকে আরেক গ্লাস লেমন স্কোয়াশের অর্ডার দিলে। তারপর পাইপ ধরিয়ে বললে, জেরি অ্যান্ড বেরির অর্ডারটার কি হল?

    মাল রেডি হয়েছে, কাল বাই এয়ার চলে যাবে।

    গুড। আর সিন্ধিয়া কর্পোরেশনের অর্ডারটা?

    ওরা পাঁচ পার্সেন্ট ডিসকাউন্টে ‘এ’ গ্রেড মাল চাইছে স্যার।

    বেশ তো, দিয়ে দাও ডিসকাউন্ট।

    কিন্তু স্যার, লোকসান হয়ে যাবে যে!

    অত্যন্ত সহজ ভাবে ছোট থাপার বললে, হোক না। লোকসানটা ওদের, আমাদের লাভ। ‘এ’ গ্রেডের লেবেল দিয়ে ‘বি’ গ্রেডের মাল সাপ্লাই করে দাও।

    থতিয়ে গেল নায়ক। বললে, কিন্তু আমাদের ফার্মের নীতি—

    নীতি!—ছোট থাপারের ঠোঁটের কোনায় আর ছোট ছোট চোখের তারায় একটা কৌতুক চিকচিক করে উঠল। বললে, ওটা পুরানো বইয়ের কথা। আজকের দুনিয়ায় লাভটাই বড়, নীতি—টিতি কিছু নয়। এতবড় অর্ডার তো হাতছাড়া করা যায় না!

    তাই হবে স্যার।

    উঠতে যাচ্ছিল নায়ক; ছোট থাপার বললে, বোসো। আমাদের ফার্মে তোমার ক’ বছর হল?

    তিন বছর।

    আশ্চর্য, তিন বছরেও তোমার প্রমোশন হয়নি! তোমাকে তো বেশ ইন্টেলিজেন্ট বলেই মনে হয়।

    চুপ করে রইল নায়ক। বলতে পারত, আপনার সুনজরে এতদিন পড়তে পারিনি বলে। কিন্তু সে কথা কি বলা যায়?

    ছোট থাপার বললে, অফিস—সুপারভাইজার মিস্টার কাপুরের আরো একজন অ্যাসিস্ট্যান্ট দরকার। ভাবছি তোমাকেই রেকমেন্ড করব।

    কড়া ‘বস’ ছোট থাপারের সদাশয়তায় মুগ্ধ হয়ে গেল নায়ক। এখন সে পাচ্ছে পাঁচশো করে, অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপারভাইজারের মাইনে সাড়ে আটশো।

    ধন্যবাদ স্যার।

    কৃতজ্ঞ স্বরে বলে নায়ক উঠে পড়ল। সুইংডোরের কাছে পৌঁছবার আগেই ছোট থাপার পুনরায় ডাকলে, শোনো।

    ফিরে দাঁড়াল নায়ক।

    ‘বস’ বললে, কাল তোমাকে নিউ এম্পায়ারে দেখলাম। সঙ্গে কে ছিলেন? তোমার ফিয়াঁসে?

    প্রশ্নটার জন্যে তৈরি ছিল না নায়ক। কেমন একটু অস্বস্তি বোধ করে বললে, না—মানে—আমার একজন বান্ধবী।

    আই সি!—নায়ক লক্ষ করলে ছোট থাপারের ঠোঁটের কোনায় আর ছোট ছোট চোখের তারায় সেই কৌতুক চিকচিক করছে। একটু থেমে ছোট থাপার বললে, সামনের রবিবার ‘গুলমার্গে’ আমি একটা ছোট পার্টি দিচ্ছি। জনকয়েক ঘনিষ্ঠ বন্ধু আসবে। তোমরাও দুজনে এলে খুশি হব।—আচ্ছা, এসো।

    খোলা ফাইলের ওপর ঝুঁকে পড়ল ছোট থাপার। আর, কয়েক সেকেন্ড আড়ষ্ট হয়ে দাঁড়িয়ে থেকে নায়ক ফিরে গেল নিজের টেবিলে।

    .

    এতক্ষণে বোঝা গেল। অধস্তন কর্মচারীকে বসতে বলার ভদ্রতা, লেমন স্কোয়াশ অফার করা, আর তার প্রমোশনের জন্য সহসা মনিবের মাথাব্যথার অর্থটা পরিষ্কার হয়ে উঠল।

    ইঙ্গিতটা স্পষ্ট। ছোট থাপার মুক্তার সঙ্গে আলাপ করতে চায়। করুক না আলাপ, দোষ কি? সেলস গার্ল মুক্তার সঙ্গে কত লোকেই তো আলাপ করে। কিন্তু না, মেয়েদের সঙ্গে ছোট থাপারের আলাপ করার মানে নায়ক বোঝে। অফিসের অনেকেরই মতো সেও শুনেছে নারী—শৌখিন ছোট থাপারের প্রাইভেট লাইফ। শুনেছে প্রতি সপ্তাহে ‘গুলমার্গে’ কারা আসে, কি হয়। চল্লিশ পার হলেও অতি মাত্রায় মাংসাশী। তার ভোগের ডিশে নায়ক আর যাকেই হোক, অন্তত মুক্তাকে সাজিয়ে উপহার দিতে পারবে না। অসম্ভব! মুক্তাকে সে ভালোবাসে।

    বেঁকে বসল নায়কের মন। মনে মনে সে স্থির করে নিলে, পরদিন অফিসে গিয়ে ছোট থাপারকে সে বলবে: ‘মাপ করবেন, পার্টিতে মুক্তাকে নিয়ে যাওয়া হবে না।’

    কিন্তু বলতে পারল না। বলি—বলি করেও বলতে পারল না। এমনকি শনিবারে অফিস—ছুটির পর লিফটের কাছে যখন দেখা হল, আর ছোট থাপার হেসে জিজ্ঞেস করলে, ‘কাল তোমার বান্ধবীকে নিয়ে আসছ তো?’ তখনো বলতে পারল না।

    আশ্চর্য, যতবার বলতে গেছে, ততবারই মনে হয়েছে এখন সে পায় মোটে পাঁচশো করে, অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপারভাইজার হলে পাবে সাড়ে আটশো! চাকরিতে প্রমোশনের সুযোগ বারবার আসে না।

    আর, মনে পড়েছে ছোট থাপারেরই কথা: ‘দুনিয়ায় লাভটাই বড়, নীতি—টিতি কিছু নয়!’

    .

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleদেরি হয়ে গেছে – প্রচেত গুপ্ত
    Next Article মহাভারতের মহারণ্যে – প্রতিভা বসু
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }