Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    দশটি রহস্য উপন্যাস – প্রণব রায়

    প্রণব রায় এক পাতা গল্প1004 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    কাগজের ফুল – ৫

    ৫

    আবার হিন্দুস্থান পার্ক। ফিরতে রাত একটা বাজল।

    কলাপী শুয়েই ছিল, কিন্তু জেগে ছিল বোধ হয়। আলো জ্বালতেই বিছানায় উঠে বসল।

    এতক্ষণে ফেরার সময় হল তোমার? থমথমে মুখে কলাপী প্রশ্ন করলে।

    জবাব দিলে না নায়ক। এ প্রশ্নের কী—ই বা জবাব দেবে?

    রাত ক’টা বেজেছে খেয়াল আছে? কোথায় ছিলে এত রাত অবধি?

    নায়ক চুপচাপ পোশাক বদলাতে লাগল।

    কী, ভেবেছ কী তুমি? কলাপীর গলা এক পর্দা চড়ল।

    কিছুই ভাবেনি নায়ক। অতএব চুপচাপ রইল। চোলির বোতাম আঁটতে আঁটতে কলাপী এবার উঠে এল বিছানা ছেড়ে। নায়কের বাহু ধরে নাড়া দিয়ে তীক্ষ্ন গলায় বললে, শুনতে পাচ্ছ?

    তারপরেই যেন একটা শক খেয়ে সরে গেল। গলাটা আরো সরু করে বলে উঠল, তুমি মদ খেয়েছ!

    ব্যাপারটাকে সহজ করে নেওয়ার জন্যে নায়ক বললে, হ্যাঁ, হোটেলে গিয়েছিলাম।

    ও! রাত একটা অবধি হোটেলে কাটিয়ে এলে! চমৎকার!

    নায়ক শান্ত ভাবেই বলার চেষ্টা করলে, হোটেলে কি কোনো ভদ্রলোক যায় না? এ নিয়ে এত রাগ করার কি আছে?

    সঙ্গে কেউ ছিল নিশ্চয়?

    আমি একাই ছিলাম।

    একদিকের আঁকা ভুরু অল্প তুলে কলাপী বললে, এও বিশ্বাস করতে হবে?

    তোমার ইচ্ছে।

    কিন্তু এ বাড়িটা হোটেল নয় যে যখন খুশি আসবে। আমার দাদার অনুগ্রহেই এখানে বাস করছ, সেটা ভুলে যেও না।

    নায়কের সবচেয়ে নরম জায়গায় চাবুক পড়ল। একটা অদ্ভুত হাসিতে তার ঠোঁটের কোণটা বেঁকে গেল। তারপর শুধু বললে, ভোলবার উপায় নেই।

    কলাপী কেটে কেটে বলতে লাগল, আমার বন্ধুদের তুমি খারাপ বলছিলে না? তারা অন্তত হ্যাগার্ড মাতাল নয়।

    ভেতর থেকে জ্বালা—করা একটা উত্তাপ বেরিয়ে আসতে চাইছিল। তাকে চেপে রেখে নায়ক বললে, এটা কিন্তু বাড়িয়ে বলছ রিনি! চেষ্টা করেও মাতাল আমি হতে পারিনি। বিয়ে করেও সবাই যেমন সুখী হতে পারে না, মদ খেয়েও তেমনি সবাই মাতাল হয় না।

    কলাপী ফণা ধরে ফোঁস করে উঠল। বললে, কী বললে, বিয়ে আর মদের নেশা সমান?

    সমান কিনা নিজেই ভেবে দেখো না। মদের নেশা থাকে একটা রাত, বিয়ের নেশা বড়জোর দেড় বছর!

    ঘাড় বেঁকিয়ে কলাপী বললে, মাতলামো কোরো না! তোমার মতো পুরুষকে নিয়ে কোনো মেয়েই সুখী হতে পারে না।

    এক মুহূর্তের জন্য থমকে গেল নায়ক। আবার সেই একই কথার প্রতিধ্বনি! কেউ সুখী হতে পারে না! কেউ সুখী নয়! তবে আর কেন চেষ্টা?

    অসম্ভব শান্ত আর ক্লান্ত গলায় নায়ক বললে, তাই যদি বুঝে থাকো, বাঁধন খোলার আইন তো রয়েছে।

    উদ্যত ফণা থেকে বিষ ছিটিয়ে ছিটিয়ে কলাপী বলতে লাগল, তা তো বলবেই! আমায় ডাইভোর্স করলে তোমার অনেক সুবিধে! এতক্ষণ হোটেলে যাকে নিয়ে কাটিয়ে এলে, তার সঙ্গে পাকা বন্দোবস্ত করতে পারো!

    নায়ক আর পারলে না। হাতজোড় করে বলে উঠল, প্লিজ রিনি, চুপ করো। অনিমেষ না হয় বিদেশে, নিচে বুধন রয়েছে—বাবুর্চি রয়েছে—

    কলাপী থামলে না। সরু গলার ধাতব আওয়াজে বলেই চলল, নিজের স্ত্রীকে খাওয়াবার ক্ষমতা যার নেই, হোটেলে ফুর্তি করার শখ কেন তার? নির্লজ্জ!

    সিগারেটের প্যাকেট আর দেশলাই নিয়ে নায়ক বারান্দায় বেরিয়ে গেল।

    ভয়ঙ্কর ঘটনাটা ঘটল সেই রাতেই। আরো ঘণ্টাখানেক পরে।

    .

    অন্ধকার বারান্দায় বেতের চেয়ারে বসে নায়ক ভাবনার ডুবে গেছে।

    অথচ ভাবনার কী—ই বা আছে? রোজগার নেই, সুতরাং সংসারের দায়দায়িত্ব নেই। স্ত্রীর ভালোবাসা নেই, অতএব ভালোবাসা হারাবার ভয়ও নেই। শুধু একটা ভাবনাই দড়ির আগুনের মতো ধিকিধিকি পোড়াচ্ছে। নায়ক আজ পরিষ্কার বুঝতে পেরেছে, কলাপী আর তার দাম্পত্য সম্পর্কের মধ্যে এখন যা আছে, সেটা কেবল পরস্পরের প্রতি অসহ্য ঘৃণা। ঘৃণা ছাড়া আর কিছুই নেই। বাকি জীবনটা কি তাহলে সেই অসহ্য ঘৃণার সঙ্গে আপস করেই চলতে হবে? সেটা কি সম্ভব? মানুষ কি তা পারে?

    ক্লান্ত—ভীষণ ক্লান্ত লাগছে তার। এখন যদি একটু ঘুমোতে পারত সে।

    ঘুমের কথা ভাবতে ভাবতেই ঘুম এসে গেল। ঘুম ঠিক নয়, গাঢ় ক্লান্তির পাতলা তন্দ্রা।

    ঠিক এই সময় শোনা গেল ভয়ার্ত চিৎকারটা।

    চমকে জেগে উঠল। আবার চিৎকার! সরু ধাতব গলার। সঙ্গে সঙ্গে নায়কের মনে পড়ে গেল ঘরে কলাপী একা! স্প্রিংয়ের মতো লাফিয়ে উঠে নায়ক ছুটল। ঘরের কাছে পৌঁছবার পূর্বেই দুটো বিশ্রী শব্দ। দুটো গুলির আওয়াজ। হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেল চিৎকারটা।

    শোবার ঘরের দরজা খোলা। দরজার সামনে আবছা অন্ধকারে দাঁড়িয়ে এক ছায়া—পুরুষ। মুখ ফেরাতেই রাস্তার বাতির একফালি আলো পড়ল তার মুখে।

    গাল—ভাঙা রোগা তরুণ মুখ, পাতলা দাড়ি! কোথায় যেন দেখা—দেখা। হাতের মুঠোয় কি একটা জিনিস চকচক করছে!

    আধ সেকেন্ডের জন্য থমকে গিয়ে নায়ক আচমকা ঝাঁপিয়ে পড়ল আততায়ীর ওপর। নায়কের দেহভার সইতে পারল না সে, পড়ে গেল মেঝেয়। শুরু হয়ে গেল ধস্তাধস্তি। কিন্তু বড়জোর দু’মিনিট, তারপরেই হাত ছাড়িয়ে নিয়ে লোকটা ছুট দিল। বারান্দার অপর প্রান্তে পৌঁছে অদ্ভুত কায়দায় সে রেলিং টপকে কার্নিশ ধরে ঝুলে পড়ল। দোতলার কার্নিশ থেকে বাগানের পাঁচিলে, পাঁচিল থেকে রাস্তায়। তারপর চোখের নিমেষে অদৃশ্য।

    বারান্দার রেলিংয়ে ভর দিয়ে নায়ক তাকিয়ে রইল। আর, তাকিয়ে থাকতে থাকতে হঠাৎ তার মনে পড়ে গেল ওই গালভাঙা রোগা তরুণ মুখ সে দেখেছে তিন বছর পূর্বে। পেয়ারাবাগান লেনে।

    কিন্তু এতদিন বাদে কেন এল ভুলু? কেন এল কলাপীকে খুন করতে? তাহলে কলাপী কি আর বেঁচে নেই?

    রেলিংয়ের ধার থেকে দ্রুত পায়ে সে আসতে লাগল ঘরের দিকে। পায়ে কি একটা ঠেকল। সেটা কুড়িয়ে নিয়ে নায়ক দেখলে, ছোট একটা অটোমেটিক রিভলভার। ধস্তাধস্তির সময় ভুলুর হাত থেকে ছিটকে পড়েছিল, কুড়িয়ে নেওয়ার সুযোগ হয়নি।

    শোবার ঘরে এসে পা দিল নায়ক। অন্ধকার। সেই অন্ধকারে জোড়া খাটের বিছানায় শরীরটাকে দুমড়ে উপুড় হয়ে পড়ে আছে কলাপী। আলো জ্বালতে গিয়েও হাত সরিয়ে নিলে নায়ক। ভয়ঙ্কর বীভৎস দৃশ্যটা সহ্য করতে পারবে না বলেই বোধহয়। শেষই হল তবে! রাত শেষ হওয়ার আগেই। কলাপী আর ভোর দেখবে না।

    আশ্চর্য, বুধন আর বাবুর্চির কোনো সাড়া নেই এখনো!

    .

    আমাদের গল্প কোথা থেকে কোথায় এসে পড়েছে দেখুন!

    আমাদের কিন্তু কোনো হাত নেই। গল্প বয়ে চলেছে নিজের আঁকাবাঁকা খাতে, নিজের খেয়ালে। একটা ঘটনার পাথরখণ্ডে ধাক্কা খেয়ে আরেকটা ঘটনায় গিয়ে পড়েছে। সেখান থেকে আরেকটায়। সঙ্গতি খোঁজবার চেষ্টা করবেন না। কারণ আজকের জীবনের সঙ্গতি নেই। মিল নেই আজকের সঙ্গে কালকের। আজকের যুগ বিবর্তনের নয়, পরিবর্তনেরও নয়। দিগ্বিদিক জ্ঞানহারানো দৌড়ের যুগ। সত্তর দশক হচ্ছে এমন একটা মোটরকার, যার অতীব শক্তিশালী ইঞ্জিন আর অ্যাকসিলিরেটর আছে; কিন্তু স্টিয়ারিং নেই, ব্রেক নেই। উন্মাদ গতিতে ছুটতে গিয়ে অন্ধের মতো বারবার ধাক্কা খাচ্ছে। পরকে ভাঙছে, নিজেও ভেঙে পড়ছে।

    রাজনীতি বলুন, সমাজ—ব্যবস্থা বলুন, শিক্ষা বা সাহিত্য বলুন, এমনকি ফ্যাশনের ক্ষেত্রেও বলুন, আজকের সঙ্গে কালকের সঙ্গতি কোথায় খুঁজে পাচ্ছেন? অতএব আমাদের গল্পও যদি এলোমেলো হয়ে থাকে, আমাদের নায়ক—চরিত্রেও যদি সঙ্গতি খুঁজে পাওয়া না যায়, সেটা আর এমন কি দোষের? নায়ক—নায়িকার প্রণয়—কাহিনি চলতে চলতে হঠাৎ আজ খুনের ঘটনায় পৌঁছেছে। তাতেই বা অবাক হওয়ার কী আছে? বর্তমান কালে খুন তো সবচেয়ে স্বাভাবিক কাণ্ড, সবচেয়ে নিরুত্তাপ ঘটনা।

    কলাপী যখন খুন হয়েছে, তখন পুলিশ আসবে জানা কথা।

    সকাল হতেই পুলিশ এল হিন্দুস্থান পার্কের মজুমদার বাড়িতে। কলাপীর লাশ দেখল। একটা গুলিই লেগেছে। বুকের ঠিক মাঝখানে নয়, একটু বাঁ দিক ঘেঁষে। গায়ের রঙে মিশিয়ে—থাকা ফিকে—হলুদ চোলি কালচে গাঢ় রক্তে ভিজে চটচটে হয়ে আছে।

    শুধু কলাপীর লাশ নয়, শোবার ঘরটায় খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখল পুলিশ। ফোটো তুলল। নায়কের মুখে ঘটনার বিবরণ শুনল। আততায়ীর নাম, চেহারার বর্ণনা আর পরিচয় জানল। তার অটোমেটিক রিভলভারটা নিল সাবধানে। বাইরে থেকে হুড়কো—দেওয়া একতলার ঘরে আটক বুধন আর বাবুর্চিকে উদ্ধার করল। জেরা করল আলাদা আলাদা ভাবে। তারপর ময়না তদন্তের জন্যে কলাপীর লাশ চালান দিয়ে পুলিশও চলে গেল।

    কিন্তু এসব পুলিশের ছকে—বাঁধা কাজ। এ নিয়ে আমাদের গল্পের প্রয়োজন নেই। আমাদের গল্প এখন ফেরার আততায়ী ভুলুকে খুঁজছে। চাইছে জমাট সাসপেন্স।

    দুঃখের বিষয়, তাও তেমন জমাট বাঁধল না। বেশি খোঁজাখুঁজি করতে হয়নি, তিন দিনের মাথায় গুপ্ত আস্তানা থেকে পুলিশ ভুলুকে ধরে নিয়ে এল থানায়।

    সত্তর দশকের ছেলে ভুলু। ভয়—ডর জানে না। পুলিশের জেরার উত্তরে সোজাসুজি স্বীকার করলে, হ্যাঁ, আমি খুন করতে গিয়েছিলাম। আমিই খুন করেছি। না, টাকা বা গয়নার লোভে নয়, আমার দিদির আত্মহত্যার বদলা নেব বলে। তিন বছর জেলে ছিলাম, তাই দেরি হয়ে গেল। নইলে অনেক আগেই খতম করতাম।

    অফিসার বললেন, তোমার দিদির আত্মহত্যার সঙ্গে কলাপী দেবীর সম্পর্ক কি!

    ভুলু বললে, আমার দিদির জায়গায় তিনিই তো উড়ে এসে জুড়ে বসেছিলেন। কলাপী দেবী বড়লোকের মেয়ে, তাঁকে বিয়ে করার সুযোগ পেয়ে আমার দিদির জীবনটা বরবাদ করে দিল দ্যাট বাগার! ইচ্ছে ছিল, স্বামী—স্ত্রী দুজনের জন্যেই দুটো গুলি খরচ করব। কিন্তু ব্যাড লাক, বিছানায় একজনকে পেলাম, আরেকজনকে পেলাম না। আর কিছু জানতে চান?

    এ রিভলভারটা তোমার?—অটোমেটিকটা দেখালেন অফিসার।

    হ্যাঁ, এটাই।

    পেলে কোত্থেকে?—অফিসার প্রশ্ন করলেন।

    নির্বিকার মুখে ভুলু জবাব দিলে, ওটা ফালতু কোশ্চেন। ফালতু কথার জবাব আমি দিই না। খুন করেছি বললাম—ব্যস!

    পাঠক, এত সহজ স্বীকারোক্তির পর সাসপেন্সের চমক আর কি করে থাকে বলুন? আমাদের গল্প না হল সামাজিক কাহিনি, না হল রহস্য—কাহিনি। এ গল্প কোন জাতের, আপনারাই ঠিক করুন।

    তবে একেবারে হতাশ হবেন না। জীবন চিরকালই গল্প—উপন্যাসের চেয়ে বেশি রোমাঞ্চকর, বেশি রহস্যময়। একটা সাধারণ জীবনের মধ্যে যে সাসপেন্স, যে অদ্ভুত চমক লুকিয়ে থাকে, বানানো গল্পে তা মেলে না।

    এ গল্পে সেইটুকুই শুধু বাকি।

    .

    মানুষ মরে, কিন্তু আশা মরে না।

    আজ যেখানে হতাশ্বাসের অন্ধকার, কাল সেখানে নতুন আশার বাতি জ্বালবার চেষ্টা। হাওয়ার মুখে দেশলায়ের কাঠি যতবার নিভে যায়, ততই মনে হয় পরের কাঠিটা নিশ্চয় জ্বলবে। ভাগ্যের মার যে খেয়েছে, সেই চায় ভাগ্যকে আরেকবার পরীক্ষা করতে।

    জীবনের আরেক নাম আশা।

    আমাদের গল্পের নায়কও তাই ভাবছে, জীবনটাকে নতুন করে গড়লে কেমন হয়? অবশ্য এত বড় বিপর্যয়ের পরে তার বৈরাগ্য আসা উচিত ছিল। উচিত ছিল কোনো আশ্রমে—টাশ্রমে সংযুক্ত হয়ে বাকি দিন ক’টা ‘কা তব কান্তা’ ইত্যাদি পড়ে কাটিয়ে দেওয়া। কিন্তু যা উচিত, সংসারে কি তাই হয়? অন্তত আমাদের গল্পের গোড়া থেকেই তা হচ্ছে না। মানুষের কামনা—বাসনা জীবন—তৃষ্ণা এমনই সত্য ও স্বাভাবিক যে, কোনো সজীব মন তাকে অস্বীকার করতে পারে না।

    দূর্বা মরেছে, কলাপী মরেছে, মুক্তার যা হয়েছে, সেও এক রকম মৃত্যু। নায়কের বত্রিশ বছরের যৌবন এখনো মরেনি। ভাগ্যের মার খেয়েও সে আবার ভাগ্য পরীক্ষা করতে চাইছে। জীবনকে নতুন করে গড়তে চাইছে। সবচেয়ে আশ্চর্য, সুখী হতে চাইছে।

    সুখের আশাই বোধ হয় সুখ।

    কলকাতায় অসহ্য হয়ে উঠেছে। বিষিয়ে উঠেছে নগর—সভ্যতা। এখানে আর নয়, নায়ক চলে যাবে নগর থেকে দূরে—কোনো গণ্ডগ্রামে। অতি—সাধারণ চাষি বা শ্রমিক হয়ে থাকবে। সেই হাজার জনের মধ্যে মিশে—যাওয়া কোনো সঙ্গিনী যদি খুঁজে পায়, দু’হাত বাড়িয়ে তাকে গ্রহণ করবে। তার দায়িত্ব নেবে। তার বিশ্বাসের মান রাখবে। তাকে সুখী করবে।

    নায়ক আর বড় হতে চায় না। চায় না বড়লোক হতে। চায় না চাকরির উন্নতি, সামাজিক পদমর্যাদা, সুন্দরী স্ত্রীর স্বামী হওয়ার মূঢ় গর্ব। সে শুধু চায় সুখী করতে আর সুখী হতে।

    গতকাল বিদেশ থেকে ফিরেছে অনিমেষ। তার কাছ থেকে বিদায় নেওয়ার পর্বও শেষ হয়েছে। আজ সে চলে যাবে। সকালে নিজের সামান্য জিনিসপত্র গোছগাছ করতে করতে নয়া জমানার নায়কের বাস্তববাদী মন স্বপ্ন দেখছে: আম—কাঁঠালের ছায়া—মেটে ঘর—পুকুরঘাটে বাসনের পাঁজা নিয়ে বউ—উঠোনে দামাল উলঙ্গ শিশু—

    ঠিক এই সময় থানা—অফিসার এলেন। সঙ্গে অনিমেষ।

    কি খবর অফিসার?

    অফিসার বললেন, একটু বিরক্ত করতে এলাম। গোটা কয়েক প্রশ্ন আছে।

    বেশ তো, বলুন।—হাতের কাজ বন্ধ করলে নায়ক।

    আচ্ছা, সে—রাতের ঘটনাটা ঘটতে কতক্ষণ সময় লেগেছিল বলতে পারেন? বেশিক্ষণ নয় নিশ্চয়?

    তিন মিনিট বড়জোর। নায়ক জবাব দিলে।

    ভুলু সোম কোথা থেকে গুলি চালিয়েছিল বলুন তো?

    নায়ক বললে, এ তো পুরানো প্রশ্ন। সব কথাই আগে জানিয়েছি।

    একটু কিন্তু হয়ে অফিসার বললেন, আরেকবার ভালো করে জেনে নিতে চাই। ভুলু কি ঘরে ঢুকে এসেছিল?

    না, দরজার চৌকাঠের কাছে দাঁড়িয়ে সে ফায়ার করেছিল।

    ও। আচ্ছা, ক’বার গুলি করেছিল মনে আছে?

    তিনবার।

    পর পর, না থেমে থেমে?

    দুটো গুলি পর পর। তৃতীয়টা কিছু পরে।

    কতক্ষণ পরে?

    অসহিষ্ণু গলায় নায়ক বললে, মিনিট পাঁচ—সাত হবে। কিন্তু আর কেন অফিসার? এসব কথা আমার নার্ভে কতখানি ঘা দেয়, তাও কি বুঝিয়ে বলতে হবে? ভুলু সোম যখন নিজেই কবুল করেছে—

    না। অফিসারের গলার আওয়াজটা এবার বদলে গেল। অত্যন্ত নীরস গলায় বললেন, ভুলু সোম কলাপী দেবীকে খুন করেনি।

    সেকি! চেয়ার ছেড়ে দাঁড়িয়ে পড়ল অনিমেষ।

    হ্যাঁ। ভুলু খুন করতে গিয়েছিল ঠিকই, কিন্তু অন্ধকারে তার গুলি আপনার বোনের গায়ে লাগেনি। ভুলু নিজেও একথা জানে না।

    তাহলে কলাপীকে খুন করল কে? জীবন্ত মমির মতো ঠোঁট নেড়ে প্রশ্ন করলে নায়ক।

    সেটা আপনার চেয়ে ভালো কে জানে?

    কি বলতে চান অফিসার?

    কলাপী দেবীকে খুন করার চার্জে আপনাকে আমি অ্যারেস্ট করলাম।

    অফিসারের গম্ভীর আওয়াজ সারা ঘরে গমগম করতে লাগল।

    রুখে উঠল অনিমেষ: কী বলছেন অফিসার! বুঝে—সুঝে কথা বলুন।

    স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে নায়ক বললে, কিসের ওপর ভিত্তি করে আমার বিরুদ্ধে চার্জ আনলেন? কি প্রমাণ পেয়েছেন?

    অফিসার বললেন, প্রমাণ কোর্টেই দাখিল করা নিয়ম। তবু চ্যালেঞ্জ যখন করলেন, তখন বলছি। প্রথম প্রমাণ: আপনি নিজেই বলেছেন, ভুলু গুলি ছুড়েছিল দরজার চৌকাঠের কাছ থেকে। দরজা থেকে শোবার খাট অন্তত বিশ হাত দূরে। কিন্তু ময়নাতদন্তের রিপোর্টে বলা হয়েছে, মাত্র চার—পাঁচ হাত তফাত থেকে গুলি করা হয়েছে। দ্বিতীয় প্রমাণ: আপনি স্বীকার করেছেন, সমস্ত ঘটনাটা ঘটতে সময় লেগেছিল বড়জোর তিন মিনিট। তাহলে আরো পাঁচ—সাত মিনিট পরে তৃতীয় গুলিটা ভুলু সোম ছোড়ে কি করে? সে তো তিন মিনিট বাদেই পালিয়েছিল! ঘটনাস্থলে তখন আপনি ছাড়া আর কেউ উপস্থিত ছিল না। এবার অঙ্ক মিলিয়ে দেখুন তো খুনি কে?

    নায়ক প্রশ্ন করলে, কিন্তু রিভলভারে কার আঙুলের ছাপ পাওয়া গেছে? আমার, না ভুলুর?

    কারো ছাপই পাওয়া যায়নি। আমার সন্দেহের প্রথম কারণ সেটাই। নিজের আঙুলের ছাপ মুছতে গিয়ে আপনি ভুলু সোমের ফিঙ্গারপ্রিন্টও মুছে ফেলেছেন।

    নিশ্চল পাথর হয়ে দাঁড়িয়ে রইল নায়ক। আর, অনিমেষ আস্তে আস্তে আবার চেয়ারে বসে পড়ল।

    অফিসার বললেন, অনিমেষবাবু, আপনার মনের অবস্থা আমি বুঝতে পারছি। আঘাতের ওপর আঘাত দিতে হল বলে আমি দুঃখিত।

    অনিমেষ যেন হঠাৎ বুড়ো হয়ে গেছে। বিষণ্ণ ভারি গলায় ধীরে ধীরে বললে, কিন্তু আমি এখনো বুঝতে পারছি না কিছু—কলাপীকে ও মেরে ফেলল কেন? কোন স্বার্থে? কি কারণে?

    অফিসার বললেন, কারণটা আপনার জানবার কথা নয়। কেননা, বেশির ভাগ সময় আপনি থাকেন বিদেশে। কখনো কি খোঁজ রেখেছিলেন, স্বামী—স্ত্রীর সম্পর্ক কেমন ছিল? আপনাদের বেয়ারা বুধনকে জিজ্ঞেস করলে জানতে পারতেন, ওঁদের দাম্পত্য সম্পর্কটা কতখানি তিক্ত হয়ে উঠেছিল।

    শোনা গেল কি গেল না এমন আওয়াজে অনিমেষ শুধু বললে, আশ্চর্য!

    অফিসার বললেন, খুন করতে এসে ভুলু সোমের পালিয়ে যাওয়া অবধি আমরা জানতে পেরেছি। তারপর থেকে ঘটনাটা মোটামুটি অনুমান করলে যা দাঁড়ায়—

    আমিই বলছি।

    নিষ্প্রাণ রক্তহীন মুখে নায়ক হঠাৎ বলে উঠল। হাজার ফিট খাদে গড়িয়ে পড়তে পড়তে যেমন জ্ঞান থাকে, অথচ অনুভূতি অসাড় হয়ে যায়, তেমনি নিরাবেগ যান্ত্রিক গলায় নায়ক বলতে লাগল, সবই যখন জেনেছেন, তখন বাকিটুকুও শুনুন। মোটামুটি অনুমান করে লাভ কি? যা সত্যিকার ঘটেছিল, তাই বলছি:

    .

    অদ্ভুত কায়দায় রেলিং টপকে ভুলু ঝুলে পড়ল। বারান্দার কার্নিশ থেকে বাগানের পাঁচিলে। পাঁচিল থেকে সদর রাস্তায়। তারপর চোখের নিমেষে অদৃশ্য। রেলিংয়ের ধারে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে নায়ক আকাশ—পাতাল ভাবতে লাগল। ভুলু সোম কি কলাপীর জুয়েলারি বাক্সের লোভে এসেছিল? কি জন্যে এল খুন করতে? কলাপী তাহলে শেষ হয়েই গেল!

    আর ভাবতে পারলে না নায়ক। দ্রুত পায়ে ঘরের দিকে এগোল। চলতে চলতে পায়ে কি যেন একটা ঠেকল। অন্ধকারেও চকচক করছে। কুড়িয়ে নিয়ে দেখলে, ছোট একটা অটোমেটিক রিভলভার। ধস্তাধস্তির সময় ভুলুর হাত থেকে ছিটকে পড়েছে।

    শোবার ঘরে পা দিয়েই থমকে গেল নায়ক। বেডসুইচ থাকা সত্ত্বেও আলো জ্বালেনি কলাপী, আততায়ীর ভয়ে ঘাবড়ে গিয়েই হয়তো জ্বালেনি। রাস্তার বাতির তেরছা আলোর আভাসে অন্ধকার যেটুকু ফিকে হয়েছে, তাতেই দেখা যাচ্ছে জোড়া খাটের বিছানায় কলাপীর দেহটা দুমড়ে উপুড় হয়ে পড়ে আছে!

    শেষ! একেবারে শেষই হয়ে গেছে তাহলে! আলো জ্বলতে গিয়েও হাত সরিয়ে নিলে নায়ক। ভয়ঙ্কর একটা বীভৎস দৃশ্য সহ্য করতে পারবে না বলে।

    হঠাৎ অন্ধকার কথা কয়ে উঠল, পালিয়ে গেল ডাকাতটা?

    চমকে উঠল নায়ক। নিষ্পলক চোখ মেলে দেখলে, বিছানায় উঠে বসেছে কলাপী।

    অজান্তে নায়কের মুখ দিয়ে বেরিয়ে এল: তুমি বেঁচে আছ!

    সরু গলায় শ্লেষ মিশিয়ে কলাপী বললে, খুব হতাশ হয়েছ, না? ভেবেছিলে জন্মের মতো আপদ গেছে!

    গায়ে কোথাও লাগেনি তো?—নায়কের গলায় উদ্বেগ।

    কলাপী তেমনি বিদ্রুপ করে বললে, লাগলে তুমি খুশি হতে জানি। কিন্তু ভাগ্য তোমার ওপর বিরূপ!

    আঃ, কী যা—তা বলছ রিনি! বাকি রাতটা আর কেন তেতো করছ?

    তোমার মনের কথাগুলো টেনে বলছি বলেই তেতো লাগছে! সত্যি, তোমার এমন চমৎকার প্ল্যানটা ভেস্তে গেল!—ধাতব আওয়াজে হাসল কলাপী।

    হতবুদ্ধি হয়ে নায়ক বললে, আমার প্ল্যান! কি প্ল্যান?

    কলাপীর গলা তীক্ষ্নতর হল। বললে, ন্যাকামি কোরো না! তোমার মতলব আমি বুঝতে পারিনি ভেবেছ? নিজের হাতে আমাকে খুন করলে তুমি বিপদে পড়তে পারো, তাই ভাড়া—করা গুন্ডা লাগিয়েছিলে!

    আমি গুন্ডা লাগিয়েছি তোমাকে খুন করার জন্যে?

    অসহ্য বিস্ময়ে, অসহ্য যন্ত্রণায় নায়কের মাথা ঝিমঝিম করে উঠল।

    কলাপী বললে, ডাইভোর্স যখন আমি দেব না, তখন গুন্ডা লাগানো ছাড়া তোমার রেহাই পাবার উপায় কী?

    রিনি, এ তুমি বিশ্বাস করতে পারলে!

    আরেক পর্দা গলা চড়িয়ে কলাপী বললে, থাক, আর অভিনয়ে কাজ নেই। গুন্ডাটাকে দেখে আমি যখন ভয়ে ‘কে’ বলে চেঁচিয়ে উঠলাম, সে তখন কি বললে জানো? দাঁতে দাঁত চেপে বললে, ‘তোমার সুখের জীবন খতম করে দিতে এসেছি!’ আমার সুখের জীবন খতম করতে তুমি ছাড়া দুনিয়ায় কার এত আগ্রহ? জীবনে আমায় সুখী করেছ কোনোদিন?

    তীব্র রাগে আর চেপে—রাখা কান্নায় কলাপীর গলার স্বর আরো ধারালো হয়ে উঠল।

    ঘরে আলো থাকলে দেখা যেত, অসহ্য যন্ত্রণায় নায়কের মুখ বিকৃত হয়ে গেছে। কলাপীর সরু ধাতব আওয়াজে তার ক্লান্ত স্নায়ুমণ্ডলী ঝনঝন করে উঠছে। অস্থির গলায় সে বলে উঠল, রিনি, রিনি, চুপ করো—দোহাই তোমার, চুপ করো!

    নিষ্ঠুরের মতো কলাপী বললে, না, চুপ করব না! দুনিয়াকে জানিয়ে দেব তোমার এই কীর্তির কথা! বলে দেব, স্বামী হয়ে তুমি স্ত্রীকে—

    শোনো রিনি, শোনো!—মরিয়া হয়ে নায়ক তাকে থামাবার চেষ্টা করলে, তোমাকে খুন করার মতলব করে কী লাভ আমার বলতে পারো? কী স্বার্থ?

    কী স্বার্থ, জানো না, না?—যেন বিষাক্ত ছুরি দিয়ে কেটে কেটে কলাপী বলতে লাগল, দিনের পর দিন আমার দাদার কাঁধে চেপে দিব্যি খাচ্ছ—দাচ্ছ, আর লজ্জায় অপমানে আমার মাথা হেঁট করে দিচ্ছ! এই তো তোমার জীবন! এবার আমায় খুন করতে পারলেই যা কিছু আমার, সর্বস্ব তোমার মুঠোয়! আবার বলছ কী স্বার্থ? তুমি মানুষ? তুমি ইতর, তুমি লোফার! ঘেন্না করি—তোমায় আমি ঘেন্না করি!

    নায়কের বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠল প্রচণ্ড যন্ত্রণায়। কলাপী তাকে ঘৃণা করে! বেকার স্বামীর জন্যে ঘৃণা ছাড়া আর কিছুই নেই তার। সারা জীবন স্ত্রীর ঘৃণার সঙ্গে আপস করে চলা—স্ত্রীর ঘৃণার কাছে মাথা হেঁট করে থাকা কি সম্ভব? কোনো স্বামী কি তা পারে? দুনিয়ার কাছে বেকারের কোনো মূল্য নেই, সম্মান নেই। দুনিয়ায় কোনো মায়া—মমতা—ভালোবাসা নেই বেকারের জন্য। কিন্তু নিজের স্ত্রীর কাছেও নেই? তবে আর কেন এ প্রহসন? সাজা রাজা—রাণির মতো কেন মিথ্যে স্বামী—স্ত্রী সেজে থাকা? হয়ে যাক এই ঠাট্টার ইতি।

    একেবারে শান্ত হয়ে গেল নায়ক। বুকের মধ্যে সেই অসহ্য অস্থির যন্ত্রণাটাও যেন শান্ত হয়ে গেল। শুধু দপদপ করতে লাগল কপালের দু’পাশের রগ দুটো। স্থির গলায় নায়ক বললে, তা হলে আর নয় রিনি। পরস্পরের কাছ থেকে এবার আমাদের রেহাই নেওয়াই দরকার।

    ফুঁসে উঠল রিনি, না, কিছুতেই না। তোমার জন্যে সমাজের মুখ হাসাব, এ—আশা ভুলেও কোরো না।

    কপালের রগ দুটো ভীষণ দপদপ করছে। রক্তের চাপে যেন ফেটে পড়বে। গলার স্বর আরো শান্ত অথচ স্পষ্ট করে নায়ক বললে, রেহাই তোমাকে দিতেই হবে রিনি। দিতেও হবে, নিতেও হবে।

    কক্ষনো না! রেহাই তোমাকে জীবনে দেব না।

    দিতেই হবে রিনি! দাঁতে দাঁত চেপে ফিসফিস করে নায়ক বললে।

    অন্ধকারে কলাপী দেখতে পেল না নায়কের মুঠোয় অটোমেটিকটা তারই বুক লক্ষ্য করে স্থির হয়ে আছে। চিৎকার করে সে বললে, না—না—না! আমাকে মেরে না ফেললে তুমি রেহাই—

    কথাটা আর শেষ হল না। এক ঝলক আগুন চিৎকারকে থামিয়ে দিল। কলাপী রেহাই দিয়েও গেল। রেহাই নিয়েও গেল।

    .

    আমাদের গল্প এইখানেই থেমে গেছে। এই বিশ্রী পরিণতিতে এসে থেমে যাওয়া ছাড়া গল্পের আর উপায় কি বলুন? নায়কের বত্রিশ বছর বয়সের জীবন—মোটর হঠাৎ ব্রেক ফেল করে প্রচণ্ড ধাক্কায় চুরমার হয়ে যাবে, তা কি আমাদের নায়কই জানত? এ যুগের কোনো নায়ক কি জানে?

    চলুন, আমাদের নায়কের সঙ্গে শেষবারের মতো দেখা করে আসি। না, দুঃখ প্রকাশ করতে বা সমব্যথা জানাতে নয়। ও—সবের কোনো প্রয়োজন নেই তার। আত্মগ্লানি বা অনুশোচনার ধার ধারে না সে। জীবনে সে আজ প্রথম হালকা বোধ করছে! সব বোঝা তার হালকা হয়ে গেছে, কেবল কর্তব্য আর দায়িত্বের বোঝা নয়, কত সুখের ভাবনা, কত সুখের কামনা, কত সুখের স্বপ্ন—সব কিছুর বোঝা। জীবনে আজ আর সুখের প্রত্যাশা নেই। সে নিশ্চিন্ত। পরম নিশ্চিন্ত।

    ঝাঁ ঝাঁ করছে রাত। বাইরে শুধু ওয়ার্ডারের ভারি বুটের শব্দ।

    জেলের সেল—এ বসে বসে নিজের কথাই ভাবছে নায়ক। ভাবছে, কেন সে সুখী হতে পারল না? চেষ্টা তো করেছিল সে। সুখের তিনটি উপকরণ টাকা নারী প্রেম—তাও পেয়েছিল জীবনে। তবু কেন সুখী হতে পারল না? যা চাইল, তা পেল না। যা পেল, তাও রইল না।

    নিজের থেকে সরে এসে নিজেরই পানে ফিরে তাকাল নায়ক।

    তার স্বাস্থ্য ছিল, শিক্ষা ছিল, মন ছিল, প্রেম ছিল। আর ছিল জীবনে সুখী হওয়ার প্রবল তৃষ্ণা। মুক্তাকে সে কি ভালোবাসেনি? ভালোবাসেনি দূর্বাকে? সহস্র ভালোবাসা কি দেয়নি তার বিবাহিত স্ত্রী কলাপীকে? তবু কী হল? তার অস্থির যাযাবর যৌবন তাকে তাড়িয়ে নিয়ে বেড়িয়েছে মুক্তার কাছ থেকে দূর্বার পাশে, দূর্বার পাশ থেকে কলাপীর বাহুবন্ধনে। তারপর ছিটকে পড়ল বিশাল শূন্যতায়! একেবারে ফাঁকা হয়ে গেল জীবনটা। শুধু হা হা করছে অসীম তৃষ্ণা!

    লা বোহেমিয়া হোটেলে বসে মাতাল মুক্তা বলেছিল, ‘দুনিয়ায় কেউ বোধ হয় সুখী নয়।’ সেই কথাটা আজ বারবার মনে পড়ছে নায়কের। কে সুখী হল? নায়ক, মুক্তা, দূর্বা, কলাপী, ছোট থাপার, জ্যাঠামশাই, ভুলু সোম, অনিমেষ—কেউ তো সুখী হতে পারল না! কেন? কি দোষে? কার দোষে?

    পাঠক, নায়ক বোধ করি আপনাদের প্রশ্ন শুনতে পেল। মুখ তুলে বললে, দোষ কারো নয়। দোষ এই অন্ধ আত্মঘাতী যুগের। এ যুগে শিক্ষা আছে, আদর্শ নেই। মন আছে, বিবেক নেই। প্রবৃত্তি আছে, সংযম নেই। প্রেম আছে, শ্রদ্ধা নেই। সর্বোপরি কোনো কিছুতেই বিশ্বাস নেই। তাই সুখী হওয়াও যায় না, সুখী করাও যায় না। আমি এ যুগের নায়ক, আমাকে নিয়ে গল্প লিখতে বসে আপনারা ভুল করেছেন। গল্প বিফল হবেই। কেননা, এ যুগটাই বিফলতার যুগ!

    একটু চুপ করে থেকে নায়ক আবার বললে, আচ্ছা, সুখটা কি বলতে পারেন আপনারা? সুখ নামে একটা চমৎকার রঙিন ফুল দেখে আমরা সবাই হাত বাড়িয়ে ছুটছি। কাছে গিয়ে দেখছি, সেটা রঙ—করা একটা কাগজের ফুল!

    সমাপ্ত

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleদেরি হয়ে গেছে – প্রচেত গুপ্ত
    Next Article মহাভারতের মহারণ্যে – প্রতিভা বসু
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }