Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    দশটি রহস্য উপন্যাস – প্রণব রায়

    প্রণব রায় এক পাতা গল্প1004 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    নিশীথ নগরী – ৫

    পাঁচ

    এখানকার আস্তানা আমার উঠল, এবার আমায় যেতে হবে, শুনছ অ্যাডলফ? রেনো আর ভালো লাগছে না!

    পায়চারি করতে করতে কবি আমার সামনে এসে থেমে গেল। ওর ঠোঁটের কিনারে সেই তরল হাসিটি ছড়িয়ে পড়েছে। ট্রাউজারের দুই পকেটে দুই হাত পুরে বললে, কেন? কাল রাতে ন্যান্সি তোমায় প্রেম নিবেদন করেনি বলে?

    তারপর আবার পায়চারি করতে করতে গেয়ে উঠল:

    ‘Love them and love them…’

    বললুম, না, ভবিষ্যতে তার সঙ্গে দেখা হতে পারে, তাই—।

    অর্থাৎ ভবিষ্যতে দেখা হলে পাছে সে আবার প্রেম নিবেদন করতে আসে, সেই ভরেয়? কিন্তু এবার থেকে নোটগুলো বুক পকেটে না রেখে মোজার ভেতরে রাখতে পারো। অত্যন্ত নিরাপদ জায়গা!

    তোমার এই পরিহাসপটুতাই তোমার আকর্ষণ, তা জানি কবি, কিন্তু নোটগুলো বাঁচানো আমার উদ্দেশ্য ছিল না। অতগুলো লোকের অপমান থেকে ন্যান্সিকেই আমি বাঁচাতে চেয়েছিলুম শুধু।

    তার মানে, অতগুলো লোকের অপমান থেকে তাকে বাঁচিয়েছিলে নিজে অপমান করতে! তোমার দান—করা নোট সে নিতে যাবে কেন? পকেটমারা তার পেশা বটে, ভিক্ষে করা তো নয়!…ন্যান্সির কাছে তোমার কৃতজ্ঞ থাকা উচিত জয়, নোটগুলো ফেরত দিয়ে গিয়েছিল বলে নয়—দাতা বলে অহঙ্কার করবার সুযোগ তোমায় দেয়নি বলে!

    বললুম, শেষের কথাগুলি বোধ করি ‘মথি—লিখিত সুসমাচার’ থেকে উদ্ধৃত। কিন্তু সোজাকে বাঁকাভাবে দেখলে বুঝতে হবে, দৃষ্টিই গেছে বাঁকা হয়ে।…জীবনের এক—একটি মুহূর্ত নিয়ে মানুষ নিজস্ব এক—একটি ধারণা গড়ে তোলে, সেই ধারণাই তো তার জীবনের সঞ্চয়! সেই ধারণা ভেঙে গেলে তার আর রইল কি? আদিম বর্বরতা বরং সহ্য করা চলে, কিন্তু গিলটি—করা সভ্যতা বারবণিতার মতোই অসহ্য।

    কবি হঠাৎ হাততালি দিয়ে বলে উঠল ব্রাভো! তোমার বাকপটুতা, আমার পরিহাস—পটুতার চেয়ে কম আকর্ষণীয় নয় দেখছি!…কালকের উত্তেজনা তোমার এখনও কাটেনি বোধ হয়, ভারমুথের গুণ একবার পরীক্ষা করে দেখলে পারতে! কিন্তু জয়…, কবি এবার বিছানার ওপর আমার মুখোমুখি হয়ে বসল: ইয়াঙ্কি সভ্যতার তুমি যত খুশি নিন্দা কর ক্ষতি নেই;—আজকের মানুষের এই সভ্যতা যে গিল্টি—করা, তা আমিও জানি বইকি! তা বলে মানুষকে ছোট করে দেখো না, এই নকল সভ্যতার চেয়ে মানুষ ঢের বড়—ঢের ভালো। কাল রাতে যে—ন্যান্সি তোমার পানে ফিরে তাকায়নি, যে—ন্যান্সি তোমার পকেট থেকে নোট চুরি করতে গিয়েছিল, তাকেই তুমি আজ সত্যি বলে ভাবছ! আর, সেই চাঁদের রাতে—যে রাতে সেই হোটেলের নাচের আসরে তোমাদের প্রথম আলাপ—সে রাতে ন্যান্সি তোমায় তার যৌবনের কয়েকটি যে মুহূর্ত উপহার দিয়েছিল, সেই মুহূর্তগুলি হয়ে গেল মিথ্যে! কালকের ন্যান্সির পানে তাকিয়ে তুমি সে রাতের ন্যান্সিকে নাই বা অবিশ্বাস করলে, জয়? কে সত্যি আর কে মিথ্যে, সে ধারণায় তোমার ভুল থেকে যেতে পারে।

    বললুম, তর্ক আজ আর আমি করব না অ্যাডলফ। আমি কেবল বলছিলুম যে, আমার যাবার সময় হয়েছে। আমার কাছে রেনোর আর কোনো মোহ নেই।

    আমার কাঁধে একখানি হাত রেখে কবি বললে, যাবে কোথায়?

    কিছুই ঠিক করিনি। যেদিন এখানে এসেছিলুম, সেদিনও কিছু ঠিক ছিল না। পথই আমার পথ চিনিয়ে দেবে।

    তবে তোমায় আটকাব না। —আমি আছি তোমার পাশে। কিন্তু কোথায় যাওয়া যায় বল দিকি?—মিনিটখানেক ভেবে কবি আবার বললে, পরশু খবরের কাগজে দেখেছিলুম, ‘গ্রিনউইচ ভিলেজ’—এ একটা কার্নিভ্যাল পার্টি এসেছে, তারা লোক খুঁজছে। চলো না, তাদেরই দলে ভিড়ে যাওয়া যাক।

    বললুম, বেশ, সেখানেই চলো। কবে যাবে, কখন?

    ওভারকোটটা গায়ে দিতে দিতে কবি জবাব দিলে, আজই—এখুনি। ছেড়ে যেতেই যদি হয়, তবে আর দেরি কেন?

    ন্যান্সির ফেরত দেওয়া নোটগুলো কাল কুড়িয়ে আনিনি। ককটেল—এর বিল চুকিয়ে কবির পকেটে যা আছে, তাও যৎসামান্য। তবু, দুজনের পকেট হাতড়ে যা মিলেছে, গ্রিনউইচের ভাড়া তাতেই কুলোবে।

    দুজনে রাস্তায় বেরিয়ে পড়লুম। তুষার—ঝরা থেমে গেছে, তার বদলে সকাল থেকেই নেমেছে ঘন কুয়াশা। কুয়াশা—ধূসর বিষণ্ণ রেনোকে আজ বৃদ্ধা গণিকার মতোই কুৎসিত লাগছে। বিদেশে রেনোই আমায় প্রথম আতিথ্য দিয়েছিল, রেনোই আমায় ফের পথে বের করেছে। তবু, দীপ নেভা কয়েকটি উৎসব—রাত্রির কথা স্মরণ করে টুপি খুলে, মনে মনে বললুম, গুড বাই!

    কবি কিন্তু একটিবারও পেছন ফিরে তাকায়নি। যাকে ও ছেড়ে যায়, তাকে এমনি করেই ছাড়ে। রেনোকে ও ভুলে গেছে, ভুলে গেছে বার্থাকে, হয়তো ক্লডেটকে পর্যন্ত! এগিয়ে চলতে চলতে গুনগুনিয়ে গান ধরেছে:

    দূর থেকে ফের হাতছানি দিল

    নতুন তীর,

    বনহংসী গো, কোথায় আবার

    বাঁধবে নীড়?

    ছয়

    গ্রিনউইচ ভিলেজ।

    গ্রিনউইচ ভিলেজ—এ যখন পৌঁছলুম, তখন সন্ধ্যা হয়ে গেছে। ছোট মফঃস্বল শহর। স্টেশনের ধার ঘেঁষে কার্নিভ্যালের তাঁবু পড়েছে। প্ল্যাটফর্ম থেকেই দেখা যাচ্ছে আলোর জৌলুস। কানে আসছে বিচিত্র কলরব। কার্নিভ্যালের দর্শনী কিন্তু সস্তা—দু’ সেন্ট মাত্র। দুজনে ঢুকে পড়লুম। ভেতরে রং—বেরঙের বেলুন, টিনের ভেঁপুর আওয়াজ, ‘মেরি গো রাউন্ড’—এর কনসার্ট, গ্রাম্য নরনারীর ভিড়। প্রকাণ্ড এই গোলঘরের মধ্যে সারা শহরের জনতা যেন আবর্তিত হচ্ছে।

    ফটকের ভেতরে পা দিয়ে কবি বললে, তুমি যাও ডান দিকে, আমি বাঁয়ে। দেখা যাক, কার সঙ্গে ভাগ্যের দেখা হয়!

    ফেরবার সময় আবার এই ফটকের কাছেই দুজনের দেখা হয় যেন।—বলে ভিড়ে গা ভাসিয়ে দিলুম।

    দু’ধার থেকে শুরু হয়েছে খাবারের দোকান, কফিখানা, শৌখিন খেলনার স্টল, তারপর সারি সারি খাকি রঙের মোটা চটের পর্দা ঘেরা ছোট ছোট ঘর। তারই মধ্যে বিচিত্র অনুষ্ঠান: ম্যাজিক, নাচ, আরো অনেক কিছু। জনসাধারণের জন্য নয়, বিশেষ দর্শনী যারা দিতে পারে, কেবল তাদেরই জন্য। দেখে, আমাদের গাঁয়ে চণ্ডীতলায় মেলার কথা মনে পড়ল।

    ভেসে ভেসে চলেছি। মাঠের মাঝখানে ঘুরছে, ‘মেরি গো রাউন্ড’—এর রং করা কাঠের ঘোড়া আর দুলছে নাগরদোলা। এপাশে চলেছে ‘হেল্টার—স্কেল্টারে’র খেলা, অনেকে বলে, Joy Ride। উঁচু ঢালু একটা মসৃণ কাঠের তক্তা বেয়ে লোকেরা পিছলে এসে পড়ছে নিচেকার নরম খড়ের গদির ওপর—একসঙ্গে অনেকে ঠাসাঠাসি করে। ভঙ্গিটা নীতিবাগীশদের দৃষ্টিপীড়ার কারণ হতে পারে। অল্পবয়স্কা যুবতীদের ভিড়, দেখলুম, এইখানেই বেশি, সঙ্গে অবশ্য দু’একটি করে ‘বয়—ফ্রেন্ড’ আছেই।

    আরো খানিকটা এগোতেই খানিকটা ফাঁকা জায়গায় এসে পড়লুম। পর্দা—ঘেরা একটা ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে জিপসি পোশাক পরা একটি বুড়ি মোটা ভাঙা গলায় বলছিল: অন্ধকারে কোথায় ছুটে চলেছ একলা? পাশে তোমার বন্ধু রয়েছে, তাকে চেন? চেন না? জীবনে তুমি সুখ খুঁজে পাওনি, অথচ সে তোমায় কালই সোনার খনির সন্ধান দিতে পারে, এনে দিতে পারে তোমার হারানো প্রেমিকাকে। …এসো, এসো, আমার কাছে এসো, সেই বন্ধুর সঙ্গে আলাপ করিয়ে দিই…

    দাঁড়িয়ে পড়লুম, কথাগুলো অদ্ভুত শোনাল। বুড়ি হঠাৎ আমার সুমুখে এগিয়ে এসে বললে, পাবে, যাকে খুঁজছ, তাকে পাবে তুমি।

    অবাক হয়ে শুধোলুম, কাকে খুঁজছি বলো তো?

    হেসে বুড়ি বললে, কাকে আবার! তোমার সেই বন্ধুকে—ভাগ্যকে।

    পাব! কোথায়?

    পাবে বইকি। সন্ধান বলে দেব, এসো, এসো।—বলে, বুড়ি আমায় টেনে নিয়ে গেল তার পর্দা—ঘেরা ঘরের ভেতর। বিশেষ কিছু নেই, একটা টেবিলের ওপর শুধু একটা মড়ার খুলি, আর মুখোমুখি দু’খানা চেয়ার। আমায় বসতে বলে বুড়ি মড়ার মাথাটা দেখিয়ে বললে, জীবনের স্পষ্ট সত্য এই! ..ভারি অদ্ভুত লাগছে, না? এইমাত্র বাইরে দেখে এলে হাসি, আমোদ, রূপ, যৌবন—দেখে এলে কত নতুন মুখ, অথচ সবারই তলায় রয়েছে এই কঙ্কাল!

    বহু পুরাতন সেই মড়ার খুলিটার শূন্য অক্ষিকোটরের পানে চেয়ে চেয়ে অসহিষ্ণু হয়ে উঠেছিলুম। বললুম, ভাগ্যের দেখা পাব কেমন করে, তা তো বললে না!

    বুড়ি আমার সামনে বসে বললে, তিনটি প্রশ্ন আমার করতে পার—যে কোনো প্রশ্ন। তবে, আমার ফী দিতে হবে বারো সেন্ট।

    পকেট হাতড়ে দেখি, সামান্য কিছু খুচরো পড়ে রয়েছে। বললুম, অত নেই, মাত্র পাঁচ সেন্ট আছে। আমি তাহলে যাই—

    উঠতে যাচ্ছিলুম, বুড়ি আমার হাত ধরে বসিয়ে বললে, আচ্ছা, পয়সা না হয় নাই দিলে, খানিকক্ষণ গল্প করে যাও না। দেখো, আজ তিনদিন কার্নিভ্যাল খেলা হয়েছে, কিন্তু এদিকে কেউ আসে না। সবাই ভিড় করে ওদিকে, যেখানে নাচ, গান, হাসি হুল্লোড়! আমি এখানে শুধু মড়ার খুলি আগলে বসে থাকি—একা, একা। হ্যাঁ, কি জানতে চাও বলো?

    আমার ভবিষ্যতের কথা জানতে চাই—বললুম।

    বুড়ি আমার ডান হাতখানা তার চোখের সামনে টেনে নিয়ে রেখাগুলো খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে লাগল। তারপর বললে, তোমার হাতে দুটো রেখা দেখতে পাচ্ছি, একটা উজ্জ্বল, আরেকটা অন্ধকার। উজ্জ্বল রেখাটি তোমার সুখ, আনন্দ—আর অন্ধকার রেখাটি তোমার দুঃখ, ব্যর্থতা!

    হাসি পেল, এ আর এমন নতুন কথা কি? আনন্দ আর দুঃখ তো সবারই জীবনে আছে। আবার, প্রশ্ন করলুম, জীবনে আমি কি চাই বলো তো?

    ঠিক এই প্রশ্নই তুমি করবে ভেবেছিলুম।—বুড়ি বলতে লাগল: তোমার বয়সী অনেক ছেলেই জানতে চেয়েছে, তারা কি চায়? আমি তাদের কাউকে বলেছি, টাকা, কাউকে বলেছি খ্যাতি, কাউকে বা সুন্দরী মেয়ে। তুমি?…তুমি চাও প্রেম। কেমন ঠিক নয়?

    বুড়ির কথা শুনে যে কোনো যুবকের খুশি হওয়া উচিত। কিন্তু আপাতত একটা চাকরি জুটলেই খুশি হই। তবু বুড়ির কথায় সায় দিয়ে বললুম, ঠিক বইকি!

    বুড়ি উৎফুল্ল হয়ে উঠল। বললে, আমার গণনা মিথ্যে হয় না। দেখ, সবাই চায় সুন্দরী মেয়ে, প্রেম চায় না কেউ। তুমি অবিশ্যি তাদের দলে নও। …আমি জানি, কিসের খোঁজে তুমি ঘুরে বেড়াচ্ছ। কিন্তু পাবে তুমি, পাবে। তোমার হাতে এই যে কালো রেখা দেখছ—এই রেখাটি যখন একেবারে মুছে যাবে, তখন হবে তোমার জীবনে সূর্যোদয়। সেদিন আসবে মেয়ে অনেক ভালোবাসা নিয়ে, ভারি ভাগ্যবান ছেলে তুমি!

    এবার বুড়িকে আমার পাঁচ সেন্টই পুরস্কার দেওয়া উচিত ছিল। জীবনে বহু নারীর ভালোবাসা পেতে পারি বলে নয়—আমরা—বিংশ শতাব্দীর ছেলেমেয়েরা—বস্তু—তন্ত্রবাদের যুগে বাস করেও মনে মনে যে আজও স্বপ্নবিলাসী, বুড়ি তা ধরে ফেলেছে বলে। কিন্তু এই পাঁচ সেন্টে রাতের খাওয়াটা আজকে চালাতে হবে। মনোবিলাসের চেয়ে শরীর—ধর্ম যে বড়, আধুনিক সাহিত্যের এই সত্য মাঝে মাঝে স্বীকার না করে উপায় নেই!

    বুড়ি বলছিল, যেদিন ভাগ্যকে খুঁজে পাবে, সেদিন আমার স্মরণ কোরো। আমার নাম মারিয়া—মারিয়া পত্রোভিচ।

    বললুম, নিশ্চয় মারিয়া, সেদিন তোমায় নিশ্চয় স্মরণ করব। এখন উঠি।—আচ্ছা, এই কার্নিভ্যালের মালিক কে বলতে পার?

    মারিয়া বললে, চেনো না? বুড়ো পপ। সেই মালিক।

    ও! ধন্যবাদ।

    বাইরে বেরিয়ে এলুম। রাতের সঙ্গে সঙ্গে কার্নিভ্যাল জমে উঠেছে। ওদিকে ভিড়, হাসি, কলরব। এদিকটা তেমনি ফাঁকা। কয়েক পা এগোতেই শুনতে পেলুম, একা—একা দাঁড়িয়ে মোটা ভাঙা গলায় বুড়ি মারিয়া আবার ডাকছে: অন্ধকারে কোথায় ছুটে চলেছ?…

    ফাঁকা জায়গাটুকু পার হতেই দেখি, একটা ঘরের কাছে লোক জমে উঠেছে অনেক। পর্দার গায়ে বড় বড় লাল হরফে লেখ:

    HAWAIIAN ENTERTAIN-MENT

    ঘরের সুমুখে একটা উঁচু মঞ্চের ওপর দাঁড়িয়ে একটি অল্পবয়সী মেয়ে। নিরাবরণ বললে ভুল হয় না। পরনে রূপালি সার্টিনের ফুলে—ওঠা খাটো ঘাঘরা, আর বুকে শুধু জরির নকশা কাটা সার্টিনের একটা টুকরো বাঁধা, সংস্কৃত কাব্যের নায়িকার মতো। মেয়েটির গলায় পলার মালা, কানে রঙিন কড়ির দুল। ফর্সা মুখের চারপাশে ঘনকালো রুখু চুলের গুচ্ছ অন্ধকারের মতো ছড়ানো। আমরা যে সত্যিই আদমের বংশধর, নগ্নপ্রায় নারীদেহের সামনে দাঁড়িয়ে তা উপলব্ধি করতে দেরি হল না। খুঁজলে হয়তো এই ভিড়ের মধ্যে দু’চারজন পাদ্রিসাহেবকে পর্যন্ত পাওয়া যেতে পারে!

    মেয়েটির পেছনে ম্যান্ডোলা হাতে নিয়ে সাদা পালক লাগানো পোশাকে তিনটি লোক দাঁড়িয়ে। আর দর্শকের সুমুখে এগিয়ে এসে আধাবয়সী একজন জোয়ান পুরুষ মাথার স্ট্র—হ্যাটটা খুলে বিনীত ভঙ্গিতে বলছিল: ভদ্রমহিলা এবং ভদ্রব্যক্তিগণ! মিস লু—নিসেন’—এর সঙ্গে আপনাদের আলাপ করিয়ে দেওয়ার সুযোগ পেয়ে আমি নিজেকে গৌরবান্বিত বোধ করছি। মিস লু এসেছে সুদূর হাওয়াই দ্বীপ থেকে—যে হাওয়াই দ্বীপের মেয়েদের গানে বুনো পশুরা ঘুমিয়ে পড়ে, যে হাওয়াই দ্বীপের মেয়েদের নাচে পরীদের ঘুম ভেঙে যায়! ইউরোপের শহরে শহরে মিস লু—র খ্যাতির সীমা নেই, ইন্ডিয়া তার নামে পাগল, এবার আমরা তাকে ডেকে এনেছি আমেরিকার। হাওয়াই দ্বীপের অপূর্ব নাচ দেখবার সুযোগ পেয়েছে এই গ্রিনউইচ ভিলেজ—মাত্র কুড়ি সেন্টের বিনিময়ে এই সুযোগ কি আপনারা হারাবেন?

    কুড়ি সেন্ট! লোকেরা একবার পরস্পরের মুখের পানে তাকালে। টিকিটের দাম শুনে তারা বিশেষ খুশি হয়েছে বলে মনে হল না। দরজার পাশে বসে টিকিট বিক্রেতা বৃথাই চিৎকার করছিল: Come on gentlemen! Hurry up!…

    আধাবয়সী সেই লোকটি এবার স্ট্র—হ্যাট দোলাতে দোলাতে সুর করে শুরু করলে:

    যেথা বনভূমি ছেয়ে যায় এলাচি ফুলে,

    আর সাগরের গানে হাওয়া পড়ে গো ঢুলে,

    সেথা গেয়েছিলে গান তুমি প্রথম প্রেমের—

    সেই হাওয়াই দ্বীপের বনে সাগর—কূলে!

    অমনি ম্যান্ডোলায় জাগল সুর আর মেয়েটির দেহে ঢেউ। ভিড়ে এবার চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। সুন্দরী মেয়ের নাচের কাছে কুড়ি সেন্ট যে নিতান্তই তুচ্ছ, এতক্ষণে ওরা বুঝতে পেরেছে! হঠাৎ দেখি, নাচের ফাঁকে মেয়েটি ঘরের ভেতর কখন সরে পড়েছে—ম্যান্ডোলা বাদকের দলও! টিকিট—বিক্রেতা চিৎকার করছে: Hurry up gentlemen, the show beging Jas’ Now !

    সঙ্গে সঙ্গে টিকিট কেনবার জন্য দর্শকদের সে কী প্রাণান্তকর আগ্রহ। দেখতে দেখতে সবাই গেল ভেতরে চলে। আধাবয়সী লোকটি তখন মৃদু হেসে চুরুট ধরাচ্ছে।

    সাত

    খানিকটা তফাতে দাঁড়িয়ে ব্যাপারটা দেখছিলুম।—আধাবয়সী লোকটা কাঠের প্ল্যাটফর্ম থেকে নেমে এসে সেই টিকিট—বিক্রেতাকে প্রশ্ন করলে, কত বিক্রি হল?

    টিকিট—বিক্রেতা খুচরো পয়সাকড়ির হিসেব করছিল, টিকিটের শূন্য রিলটা দেখালে শুধু। আধাবয়সী লোকটা খুশি হয়ে একবার শিস দিয়ে উঠল, তারপর বললে, ব্যস, আজকের মতো এই শেষ শো।

    স্ট্র—হ্যাটখানা মাথায় দিয়ে লোকটা চলে যাচ্ছিল, হঠাৎ ফিরে এসে টিকিট—বিক্রেতার গা ঘেঁষে শুধোলে, Hello old donkey! Go tha any tips?

    টিপস মানে উপরি রোজগার জানতুম। টিকিট—বিক্রেতা বারকয়েক ঘাড় নেড়ে বললে, নাঃ, আজ কিছু সুবিধে হয়নি।

    কাঁধ দুটো একবার নেড়ে লোকটা আবার পা বাড়াল।

    .

    এমনি সময় অদ্ভুত একটি মূর্তি নাচ—ঘরের দরজার পর্দা ঠেলে প্রায় গড়াতে গড়াতে বেরিয়ে এল। তারপর হাঁপাতে হাঁপাতে চেচিয়ে উঠল, সর্বনাশ! সর্বনাশ!

    আধাবয়সী লোকটা চকিতে ফিরে দাঁড়িয়ে শুধোলে, What’s up?

    হায়, হায়, আমি মারা গেছি—একেবারে মারা গেছি—

    ঘনঘন শ্বাসপ্রশ্বাসে বাকি কথাগুলো গেল আটকে। এখনো পাঁচ মিনিট কাটেনি। ভেতরে হাওয়াই দ্বীপের নাচ শুরু হয়েছে—ম্যান্ডোলার সুরের ছন্দে শুরু হয়েছে নগ্ন নারীদেহের লীলা—ভঙ্গী, এরই মধ্যে এমন কি সর্বনাশ ঘটল! ব্যাপারটা কিন্তু সুন্দরী যুবতীর নাচের চেয়েও মারাত্মক বলে মনে হচ্ছে। এগিয়ে গেলুম। সেই অদ্ভুত মূর্তিটি দৈর্ঘ্যে বোধ করি, পৌনে চার ফিটের বেশি হবে না। প্রস্থেও ঠিক সমান সমান। লোকটার ঘাড় বলে কিছু নেই, কাঁধের ওপরেই মাথাটা বসানো। গায়ে সেকেলে ধরনের লম্বা ঝুলের কোট, মাথায় গোল টুপি, আর প্রকাণ্ড গ্লোবের মতো প্রকাণ্ড ভুঁড়ির সঙ্কোচন—প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে দুলছে মীনে করা ছোট একটি ক্রশ।

    ক্ষুদে ক্ষুদে হাত দু’খানা টিকিট বিক্রেতার সামনে নেড়ে লোকটা বলছিল, ঈশ্বরের দোহাই, আমায় ঠকিও না! আমার নোটখানা ফেরত দাও—পাঁচ ডলারের সেই নোট—

    এই অবধি বলেই সে হাঁপিয়ে পড়ল। উত্তেজনায় আর ঘন ঘন নিশ্বাসে তার ভুঁড়িতে যেন ভূমিকম্প হচ্ছে!

    আধাবয়সী লোকটা কাছে এসে ফের শুধোলে, অত গোলমাল কিসের? নাচ দেখলে না?

    চুলোয় যাক, তোমার নাচ! আমার এদিকে সর্বনাশ হয়ে গেল!…ওঃ, আমি মারা গেছি!—লোকটা প্রায় কাঁদো কাঁদো হয়ে উঠেছে। ক্ষুদে ক্ষুদে হাত দু’খানা এবার ঊর্ধ্বে তুলে সে বললে, আমায় ঠকালে তোমার ভালো হবে না, ঈশ্বরের কাছে তোমায় পাপী হতে হবে!

    আধাবয়সী লোকটা প্রশ্ন করলে, কি হয়েছে, বলো না শুনি।

    অতি কষ্টে দম নিয়ে গ্লোবসদৃশ, খর্বাকৃতি লোকটা বললে, নাচ আমার ভারি প্রিয়, বুঝলে? আমি আড়াই সপ্তাহ ‘ট্যাঙ্গো’ নাচ অভ্যেস করেছিলুম।…মিস ব্লু যখন নাচতে শুরু করেছিল…

    ব্লু নয়, মিস লু!—আধাবয়সী লোকটা বললে।

    হ্যাঁ, হ্যাঁ, মিস লু!—খর্বাকৃতি লোকটা বলতে লাগল: মিস লু’র নাচ যখন শুরু হয়েছিল, তখন আমি কেমন আত্মহারা হয়ে পড়েছিলুম, বুঝলে? তারপর পকেট থেকে একখানা পাঁচ ডলারের নোট বের করে টিকিট কিনে ঢুকে পড়লুম—তাড়াতাড়িতে নোটের ভাঙানি নেওয়ার কথা মনেই ছিল না! তা আমার না হয় খেয়াল ছিল না, তাই বলে তোমার এই টিকেট বিক্রেতা নোটখানা গাপ করবে!…কী অন্যায়, কী অন্যায়!

    টিকিট—বিক্রেতা আকাশ থেকে পড়ল। চোখ দুটো বিস্ফারিত করে বললে, পাঁচ ডলারের নোট দিয়েছিলেন! কই, না! আপনার ভুল হয়েছে মশায়।

    ভুল!—শিবের তাণ্ডব—নৃত্যে পৃথিবীর মতোই ভুঁড়ি এবার ভয়ানক কাঁপছে। বলল, পয়সা—কড়ির বিষয় হল মার্ক—এর কখনো ভুল হয় না। নতুন কড়কড়ে নোটখানা বের করে দিলুম, আর তুমি বলছ, ভুল হয়েছে!…দাও ভাই, দাও, আমার নোটের ভাঙানি দাও…

    আপনি তো বড় মজার লোক মশায়!—টিকিট—বিক্রেতার বিস্ময়ের সীমা নেই: কোথায় নোট, তার ঠিক নেই, আর আপনাকে ভাঙানি দিতে হবে।…গোলমাল করবেন না—যান, শো এদিকে শেষ হয়ে এল!

    তাহলে পাওয়া যাবে না! পাঁচ—পাঁচটা ডলার তাহলে সত্যি—সত্যি মারা গেল!…ওঃ!

    পাঁচ ডলারের শোকে হল মার্ক—এর চোখ দিয়ে জল বেরিয়ে এল। আধাবয়সী লোকটা এতক্ষণ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছিল, মনটা তার ভিজে উঠেছিল বোধ করি। হল মার্ক—এর কাঁধে একখানা হাত রেখে, নরম গলায় সে বললে, আচ্ছা, আচ্ছা, নোট যদি তুমি সত্যিই খুইয়ে থাক, তবে সে—ক্ষতি, এসো আমরা ভাগাভাগি করে নিই। এই নাও—, পয়সার বাক্স থেকে এক ডলারের একখানা নোট নিয়ে সে হল মার্ক—এর হাতে গুঁজে দিল: কেমন খুশি তো?

    হল মার্ক—এর মুখে এবার হাসি দেখা দিল। পাঁচ ডলার থেকে কুড়ি সেন্ট বাদ দিলে যদিচ চার ডলারের বেশি বাকি থাকে, তবু এক ডলারেই সে খুশি। গদগদ কণ্ঠে ‘ধন্যবাদ, মিস্টার ধন্যবাদ’ বলতে বলতে সে তেমনি গড়াতে গড়াতে আবার নাচঘরের ভেতরে ঢুকে গেল।

    আধাবয়সী লোকটা তখন একটি চোখ ঈষৎ কুঞ্চিত করে, টিকিট—বিক্রেতার সুমুখে হাত পেতে বললে, Gee Jim, come on with the tips.

    টিকিট বিক্রেতা আস্তে আস্তে তার কোটের আস্তিনের ভেতর থেকে একখানা নোট বের করে সেই প্রসারিত হাতের ওপর রেখে দিলে। নোটখানা পাঁচ ডলারেরই বটে! হল মার্ক সেখানা দেখলে নিশ্চয়ই চিনতে পারত! আধাবয়সী লোকটা নোটখানা নিঃশব্দে ট্রাউজারের পকেটে পুরে ফেলল। টিকিট—বিক্রেতা শুধোল, আমার ভাগ?

    লোকটি তেমনি ঈষৎ—কুঞ্চিত চোখে তার পানে চেয়ে বললে, একাই দাও মারবার চেষ্টায় ছিলে, না?…এ নোট আমার। (তারপর আমার দিকে তাকিয়ে) এখানে দাঁড়িয়ে কেন? কি চাও?

    বললুম, বিশেষ কিছু না। পপ—এর ঘরখানা দেখিয়ে দিতে পার?

    পারি বইকি। কি দরকার?

    কাগজে দেখছিলুম, কার্নিভ্যালের জন্যে লোক চাই—

    ও, কাজের সন্ধানে এসেছ।—লোকটা একবার আমার আপাদমস্তকে চোখ বুলিয়ে নিল: জাতে কি? মেক্সিকান?

    আমার সরু নাক আর তামাটে রং দেখে আমার মেক্সিকান বলে ঠাওরানো কিছু বিচিত্র নয়। বললুম, না, ইন্ডিয়ায় আমার বাড়ি।

    ইন্ডিয়া! সে যে অনেক দূর! বাড়ি থেকে পালিয়ে এসেছ বুঝি?…দেখো, এই কার্নিভ্যাল বড় সুবিধের জায়গা নয়, টিঁকে থাকতে পারবে তো? আজ এখানে, কাল সেখানে—

    বললুম, ভবঘুরে—জীবন আমার নেশা।

    হুঁ। আচ্ছা, চল পপ—এর কাছে যাই।

    আট

    প্রকাণ্ড মাঠের একেবারে শেষপ্রান্তে ছোটখাটো একটা আলাদা তাঁবু। কার্নিভ্যালের কলরব থেকে দূরে বুড়ো পপ সেখানে একলা থাকে। আধাবয়সী লোকটা আমায় সঙ্গে নিয়ে ভেতরে ঢুকল। দেখি, টেবিলের সামনে ক্যাম্বিসের চেয়ারে বসে ছোটখাটো একটি মানুষ আরেকজনের সঙ্গে নিবিষ্ট মনে দাবা খেলছে। চওড়া কিনারাওয়ালা প্রকাণ্ড টুপির ছায়ায় তার মুখ চোখে পড়ে না, লম্বা পাইপের আগাটুকু শুধু দেখা যাচ্ছে। কাঁচা তামাকের কড়া গন্ধে ঘরটার যেন দম আটকে গেছে।

    আমরা যে ঘরে ঢুকেছি, তারা বোধ করি টের পায়নি। আধাবয়সী লোকটা এগিয়ে গিয়ে বললে, এই ছোকরাটি এসেছে—

    চওড়া টুপি এবার কপালের ওপর উঁচু হয়ে উঠল। ছোটখাটো সেই মানুষটির চেহারা এবার স্পষ্ট দেখতে পেলুম। বয়স হয়েছে বিস্তর, কপালের রেখায় রেখায় সুদীর্ঘ জীবন—যুদ্ধের ইতিহাস লেখা। ছোট করে ছাঁটা পাকা দাড়ি, ঠোঁটের দু’পাশ দিয়ে জমকালো একজোড়া গোঁফ চিনেদের বেণীর মতো ঝুলে পড়েছে—কাঁচা তামাকের ধোঁয়ায় তার অনেকখানি হয়ে গেছে কটা রঙের। লোকটির ছোটখাটো শরীরের সঙ্গে এই জমকালো গোঁফ জোড়াটি ঠিক ব্যালান্স রাখতে পারেনি। ঘন সাদা ভুরুতে চোখদুটো প্রায় আচ্ছন্ন। মুখে ওক—কাঠের বহু পুরাতন একটা লম্বা পাইপ।

    বুঝলুম, এই বুড়ো পপ।

    বুড়ো মুখে তুলে আধাবয়সী লোকটাকে শুধোলে, খবর কি জো? কাজ ঠিক চলছে তো?

    জো ঘাড় নেড়ে বললে, হ্যাঁ, ওল্ড পপ। এই ছেলেটি এসেছে—

    ও!—বুড়ো আমার দিকে তাকিয়ে তাড়াতাড়ি বলে উঠল: দাবা খেলায় ওস্তাদ বুঝি? তা বেশ, বেশ। বসো হে ছোকরা, বসো—এই দানটা শেষ হলেই তোমার সঙ্গে খেলব।—তারপর তার প্রতিদ্বন্দ্বীর উদ্দেশে: উঁহু, হল না, ঠিক চাল হয়নি। গজ ও ঘরে দিলে এদিকে কিস্তি পড়ে যাবে যে!

    বুড়ো আবার খেলায় ডুবে গেল। আচ্ছা খেয়ালি লোক তো! জো আরেকটু কাছে সরে গিয়ে বললে, একটা দরকারি কথা বলতে এসেছি, ওল্ড পপ, শুনতে পাচ্ছ?

    বুড়ো হঠাৎ চটে গিয়ে চেঁচিয়ে উঠল, আঃ জো, আমায় কি এক মিনিটও বিশ্রাম করতে দেবে না! কেবল দরকার আর দরকার!

    ধমক খেয়ে জো কিন্তু দমল না। বললে, এই ছোকরাটি দাবা খেলতে আসেনি। তবে এখানে কেন?

    এসেছে কাজের সন্ধানে। কাগজে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছিল, আমাদের ক্যার্নিভ্যালের জন্য লোক দরকার, তাই—

    জো, তুমি আমায় পাগল করবে দেখছি।—রাগে ঘনঘন পাইপে টান দিয়ে বুড়ো তামাকে ধোঁয়ায় ঘরটা অন্ধকার করে ফেললে: সকাল থেকে কমপক্ষে পঞ্চাশজন এসে চাকরির জন্যে আমার খেলা মাটি করে দিয়ে গেছে, আবার—লোক আমি রাখব না, যাও!—বুড়ো আবার দাবার ছকের ওপর ঝুঁকে পড়ল: আহা—হা ঘোড়া মারা পড়বে যে!

    জো একবার কাঁধ দুটো নেড়ে, আমার পানে তাকাল। তার মানে, হল না! তোমার বরাত খারাপ। …কথাটা নতুন নয়, ভাগ্যের সঙ্গে আমার বরাবরই আড়ি। কিন্তু চাকরিটা এত সহজে ফসকালে তো চলবে না। আমেরিকার ভিখিরিদের পকেটেও পাঁচ সেন্টের বেশি থাকে। কাজ একটা জোগাড় করতেই হবে, নইলে কাল থেকে প্রায়োপবেশন।

    জো—র ভরসা ছেড়ে দিলুম। বুড়োর সুমুখে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে বললুম, আঙ্কল পপ, আমায় তুমি চিনতে পারছ না?

    ঘন ভুরুর আড়াল থেকে বুড়ো আমার মুখের পানে চেয়ে রইল। চোখে তার তীক্ষ্ন সন্দেহ। খানিকক্ষণ পরে ঘাড় নেড়ে বললে, না বাপু, চিনতে পারছি না। কে তুমি?

    আমি? তোমার যে ছোট বোন ছিল—স্টেলা, আমি তারই ছেলে।

    বুড়ো ভয়ানক আশ্চর্য হয়ে বলে উঠল, আমার বোন! আমরা তিন ভাই শুধু। বোন—টোন কেউ নেই তো!

    বললুম, তোমার সহোদরা নয়, খুড়তুতো বোন, মনে পড়ছে না?

    উঁহু।—ঘাড় নেড়ে বুড়ো বললে, মনে পড়ছে না। তোমার মতলব ভালো নয় দেখছি।

    গম্ভীর হয়ে বললুম, তুমি সত্যিই বুড়ো হয়ে যাচ্ছ আঙ্কল পপ। নইলে তোমার অত আদরের বোন স্টেলা, তার কথা তোমার মনে নেই!

    বার্ধক্যের প্রতি কটাক্ষ করায় বুড়ো বোধ হয় মনে মনে অপ্রতিভ হয়ে উঠল। বললে, এবার মনে পড়ছে বটে। তবে, তার নাম তো স্টেলা নয়, ক্যাথরিন।

    আরেকটুকু হলেই নার্ভাস হয়ে পড়েছিলুম, এবার হাঁফ ছেড়ে বাঁচা গেল। যাক, নাম না মিলুক, বোন তো মিলেছে! বললুম, তুমি আদর করে ডাকতে ক্যাথরিন বলে।

    ও! তাই বলো। আমাদের ক্যাথরিন? ছোটবেলায় যার ঘাড়ে একটা ফোড়া অপারেশন করা হয়েছিল?

    অ্যাপেন্ডিসাইটিসও হতে পারে, কে জানে! তবু সায় দিয়ে বললুম, হ্যাঁ।

    লিপজিগের এক সার্জেন্টকে সে বিয়ে করেছিল, না?

    তোমার স্মরণশক্তি কী ধারালো, আঙ্কল পপ!

    বুড়োর চোখ থেকে সন্দেহের ছায়া গেল মিলিয়ে। নরম গলায় বললে, ক্যাথরিনের ছেলে তুমি! বটে, বটে! কি নাম তোমার?

    কবির দেওয়া নামই ব্যবহার করলুম। বললুম, জয়। আমায় তুমি খুব ছোটবেলায় দেখেছিলে কিনা, চিনতে পারোনি।

    ওঃ, কতদিনের কথা সে!—বুড়োর চোখে স্মৃতির স্বপ্ন ঘনিয়ে এল: আমি তখন তোমার চেয়েও ছোট, জয়, ক্যাথি আর আমি রোজ সকালে যেতুম ইস্কুলে, আর দুপুরবেলা মাঠে মাঠে প্রজাপতি ধরে বেড়াতুম।—বুড়ো খামোকা চটে উঠল: তুমি তো আচ্ছা লোক জো! ক্যাথির ছেলে এসেছে, আমায় এতক্ষণ বলোনি? জানো, ওর শরীরে রয়েছে আমার বংশের রক্ত—পবিত্র জার্মান রক্ত।

    বললুম, জো কি করে তা জানবে বলো?

    ব্যাপার দেখে জো অবাক হয়ে গিয়েছিল। আমায় বললে, তবে যে একটু আগে বললে, তুমি ইন্ডিয়ান!

    বিপদ বাধালে দেখছি! তাড়াতাড়ি বললুম, ইন্ডিয়ায় আমি বহুদিন কাটিয়েছি যে। বলি শোনো, ১৯০৮ সালে আমরা লিপজিগ থেকে মাদ্রিদ যাচ্ছিলুম। সেই সময় ভীষণ টাইফুনে আমাদের জাহাজ—ডুবি হল—খবরের কাগজে পড়েছিলে নিশ্চয়! (ঝড়টা কাল্পনিক হলেও বুড়ো ঘাড় নেড়ে সায় দিলে) জাহাজ ডুবির ফলে আমার বাপ—মা, আরো অনেক যাত্রী মারা পড়ল। দৈবাৎ বেঁচে গেছলুম আমি। তখন নিতান্ত শিশু! একটা পিপের মধ্যে আটকে গিয়ে সমুদ্রে ভাসতে ভাসতে চলেছি, এমন সময় আরেকটা জাহাজের একজন মাল্লা আমায় তুলে নেয়, তারপর নিয়ে যায় ইন্ডিয়ায়।

    আমার গল্প শুনে পপ আর জো দুজনেই বিস্ময়ে স্তব্ধ হয়ে গেছে। বলতে লাগলুম, বাপ—মা হারিয়ে আমি তখন একা, অসহায়! মানুষ হলুম ইন্ডিয়ার এক মিশনারি বোর্ডিং—এ। বড় হয়ে ভাবলুম, লিপজিগ—এ ফিরে যাই, কিন্তু সেখানে আমার কে—ই বা আছে! ছোটবেলায় মা’র মুখে আঙ্কল পপ—এর কথা শুনেছিলুম, কিন্তু কোথায় সে আছে, তাও জানতুম না। তারপর গ্রিনউইচ ভিলেজ—এর এই কার্নিভ্যালে কাজ খুঁজতে এসে দেখা!

    বুড়োর চোখ দুটো ছলছল করছিল, ভেজা গলায় বললে, তুমি আজ থেকে এইখানেই থাকো জয়। আমার কাছে।

    বেশ, তোমার কাছেই থাকব, আঙ্কল পপ।…আমায় দাবা খেলা শিখিয়ে দেবে? দাবা—খেলার ভারি ঝোঁক আমার।

    বুড়ো অত্যন্ত খুশি হয়ে উঠল। বললে, নিশ্চয় ডার্লিং! তোমায় আমি চ্যাম্পিয়ন খেলোয়াড় তৈরি করে দেব।

    সোডার বোতলের মতো পেটের মধ্যে হাসি ঘুলিয়ে উঠছিল। তাড়াতাড়ি বললুম, আচ্ছা, আমি এখন কার্নিভ্যাল থেকে বেড়িয়ে আসি, তারপর খেলা শিখব।

    .

    বাইরে এলে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে বাঁচলুম। যাক, ফাঁড়া কেটে গেছে। কিন্তু মনে মনে কোথায় যেন একটা কাঁটা বিঁধছিল। বুড়োর স্নেহপ্রবণতার সুযোগ নিয়ে এমন প্রতারণা নাই বা করলুম।

    আমার তো একটা হিল্লে হল, এইবার কবির খোঁজ নিতে হবে। এত বড় কার্নিভ্যালের জনতায় মিশে কোথায় সে ঘুরে বেড়াচ্ছে, কে জানে! পকেটে তার পাঁচ সেন্টও নেই জানি, তবু হয়তো কোনো নতুন বার্থা বা নতুন ক্লডেটকে সে এখন কবিতা শোনাচ্ছে!

    আমার সঙ্গে সঙ্গে জো বেরিয়ে এসেছিল। চলতে চলতে আমার কানের কাছে মুখ এনে বললে, দেখো, হল—মার্কা এর সেই নোটের কথা পপ—এর কানে না তোলাই ভালো। নোটখানা তাকে ফিরিয়ে দেব বলেই নিয়েছি।

    এখন আমি পপ—এর ভাগ্নে, সুতরাং. . . মনে মনে হেসে বললুম, কিছু ভেবো না, ও—সব আমার জানা।

    পপ—এর তাঁবু থেকে খানিকটা এগোতেই দুটি লোকের সঙ্গে দেখা। একজন বয়স্ক; হাত বাড়িয়ে বোধ করি গ্যাসের আলোয় সিগারেট ধরাতে পারে—এমনি ঢ্যাঙা। তার গলার সঙ্গে অনায়াসে রিজাফের তুলনা দেওয়া যায়। এর পাশে হল মার্ক—এর চেহারা মনে পড়ল। বিধাতার আঁকা দুখানি কার্টুন! বয়স্ক লোকটির সঙ্গে সতেরো—আঠারো বছরের একটি ছোকরা।

    জিরাফ—গলা লোকটি শুধোল, এই কার্নিভালের ম্যানেজার কে?

    জবাব দিলে জো। বললে, জো ক্র্যাবি।

    কোথায় সে?

    আপনার সামনে দাঁড়িয়ে।

    জিরাফ গলা লোকটি মিনিটখানেক চুপ করে রইল। তারপর হঠাৎ বোমার মত ফেটে উঠল : জোচ্চচুরির আর জায়গা পাও নি, ঠগ কোথাকার! ভাল মানুষদের এমনি করে ঠকিয়ে ব্যবসা চালাচ্ছ। কার্নিভ্যালের নামে ছেলে ধরা ফাঁদ পেতে রেখেছ!

    ব্যাপার কি?—অকস্মাৎ এই আক্রমণে জো হতভম্ব হয়ে পড়েছে।

    জিরাফ—গলা লোকটি তখন কথার তুবড়ি ফোটাচ্ছে : জানো, আমি আমি কে? উইলিয়াম ফ্র্যাঙ্ক মগ্যান—টোরোণ্টোর সবচেয়ে নামজাদা বাসিন্দা। জানো, আসছে বছর আমি শহরের শেরিফ হতে পারি? আর আমার ছেলেকে তোমরা ঠকাতে চাও!. . . কী দুঃসাহস তোমাদের। জানো—

    ভারতবর্ষের খেয়াল—গায়কদের মতই মিঃ মর্গ্যানের দম যেন অফুরন্ত। জো এবার বাধা দিলে। বিনীত ভঙ্গিতে মাথা নুইয়ে বললে, জানি বইকি, ভাবি শেরিফ মশায়! কিন্তু কি হয়েছে, অনুগ্রহ করে, এইবার খুলে বলুন।

    মিঃ মর্গ্যান অদ্ভুত মুখভঙ্গি করে বলে উঠল, চালাকি করছে কেন? এই কার্নিভ্যালে কাল আমার ছেলের একটা ওপেনের আংটি খোয়া গেছে, জানো না? ভালো চাও তো আংটিটা ফেরত দাও শিগগির—

    বাই জোভ! আমি কিচ্ছু জানি না। কে নিয়েছে?

    তোমাদের এক নাচওয়ালি মেয়ে। কি নামটা তার, জিমি?

    ছেলেটা উত্তর দিলে: লু নিসেন।

    জো ভয়ানক আশ্চর্য হয়ে বললে, লুনয়েছে! অসম্ভব! লু তেমন মেয়েই নয়। হয়তো ভিড়ের মধ্যে আংটিটা কেউ আঙুল থেকে খুলে নিয়েছে…আপনি মিছে আমাদের ওপর চটছেন মিস্টার মর্গ্যান!

    মিঃ মর্গ্যানের ঠোঁটে বাঁকা হাসি দেখা দিল। গলা একেবারে খাদে নামিয়ে বললে, তবে আদালতের রাস্তাই ধরতে হল। কিন্তু আমার জিনিস হজম করা কঠিন। আমি হচ্ছি উইলিয়াম ফ্র্যাঙ্ক মর্গ্যান—টোরোন্টোর সবচেয়ে নামজাদা বাসিন্দা।

    ছেলেকে নিয়ে উইলিয়াম ফ্র্যাঙ্ক মর্গ্যান চলে যাচ্ছিল। পেছন থেকে জো ডাকলে, শুনুন, শুনুন মিস্টার মর্গ্যান! আংটি যদি সত্যিই লু নিয়ে থাকে, তবে এখুনি আদায় করে দিচ্ছি।—যাও তো জয়, লু—কে ডেকে নিয়ে এসো তো। বোধ হয় এতক্ষণে তার শো শেষ হয়ে গেছে। ওই লাল রঙের তাঁবুটা লু—র। বলো গে, জো ডাকছে, এখুনি এসো।—তারপর কানের কাছে মুখে এনে: আংটিটাও নিয়ে আসতে বোলো।

    বুঝলুম, এবার পাঁচ ডলার নয়, জো এবার বড় গোছের টিপস মারবার চেষ্টায় ছিল। কিন্তু লু—হাওয়াই দ্বীপের সেই সুন্দরী মেয়েটি, সে—ও তাহলে—

    নয়

    বুড়ো পপ—এর আস্তানা থেকে প্রায় একশো গজ দূরে সেই লাল রঙের তাঁবু। ভেতর থেকে গানের আওয়াজ আসছিল। মেয়েলি গলার সুর। ঢুকব কি ঢুকব না, ভাবতে ভাবতে পর্দা ঠেলে ভেতরে পা বাড়ালুম।

    দেখি, উঁচু একটা প্যাকিং বাক্সের ওপর লু পা ঝুলিয়ে বসে—গান গাইছে সে—ই। শো এইমাত্র শেষ হয়েছে, এখনো সে নাচের পোশাক ছাড়েনি। পরনে সেই রূপালি সার্টিনের ফুলে—ওঠা খাটো ঘাঘরা, শরৎকালের মেঘস্তূপের মতো ধবধবে বুকে সাদা বিদ্যুৎ—রেখার মতো জরির কাজ করা সাদা সার্টিনেরই সরু একটা টুকরো বাঁধা। গলায় তেমনি দুলছে পলার মালা আর কানে কড়ির দুল। ঘন কালো রুখু চুলগুলি আরো এলোমেলো। তার দু’পাশে প্যাকিং বাক্সে ঠেস দিয়ে দাঁড়িয়ে সেই ম্যান্ডোলা—বাদকদেরই দুজন, তৃতীয় লোকটি মেঝের ওপর পা ছড়িয়ে বসে ম্যান্ডোলার তারে টুংটাং শব্দ তুলছে। লু’র একহাতে রঙিন একখানা রুমাল, আরেক হাতে সস্তা দামের জিন—এর একটা বোতল। পা দুলিয়ে দুলিয়ে লু গাইছিল:

    এসেছিল পরে’ ছেঁড়া ঢিলে ট্রাউজার,

    (চিনতে পারোনি? সে যে মস্ত প্রেমিক)

    জমকালো গোঁফজোড়া—যেন কাইজার,

    (কার্নিভ্যালের রাজা। ঠিক বটে, ঠিক!)

    গানের শেষ লাইনে পুরুষেরাও ধুয়ো ধরেছে। পর্দা ঠেলে ঘরে পা দিয়েছি, লু বোধ করি প্রথমে তা টের পায়নি। হঠাৎ গান গেল থেমে। আমার দিকে হাতের রুমালখানা নেড়ে লু বলে উঠল, এই যে কার্নিভ্যালের রাজা এসেছে— কার্নিভ্যালের রাজা!

    তারপর খিলখিল করে হাসি। একরাশ ঠুনকো কাচের বাসন ভেঙে পড়ল যেন। মাতালগুলোও সে হাসির কোরাসে যোগ দিলে। কাঠের মূর্তির মতো আড়ষ্ট হয়ে দাঁড়িয়ে রইলুম। বেশ বুঝতে পারছিলুম, শরীরের সমস্ত রক্ত উঠে আসছে আমার মুখে, কানদুটো অসহ্য তেতে উঠেছে।…এ কোথায় এসে পড়েছি আমি?

    লু হাসি থামিয়ে আমার পানে চেয়ে আবার বলে উঠল: এসো, এসো, কার্নিভ্যালের রাজা! তুমি নাকি মস্ত প্রেমিক? সত্যি? কিন্তু তোমার গোঁফ কই—কাইজারের মতো জমকালো সেই গোঁফ?

    মাতালগুলো আবার হাসির শব্দে তাঁবু কাঁপিয়ে তুললে। লু’র এই অপূর্ব রসিকতার সমঝদার শুধু ওরাই বটে! প্যাকিং বাক্স থেকে লু এবার নেমে আমার দিকে এগিয়ে এল। এল আমার বুকের কাছ ঘেঁষে। আমার শরীর একতাল সীসার মতো ভারি, পা দুটো যেন কে পেরেক দিয়ে মাটিতে এঁটে দিয়েছে। আমার ঠোঁটের কাছে জিন—এর বোতলটা তুলে ধরে মেয়েটা বললে, কোনটা চাও কার্নিভ্যালের রাজা? এই জিন, না—

    রুখু চুলের গুচ্ছ একবার দুলিয়ে সে তার মুখখানা আমার মুখের কাছে তুলে ধরলে।

    এক সেকেন্ডে কি যে হয়ে গেল, জানি না। চেয়ে দেখি, লু’র হাত থেকে বোতলটা মেঝেয় পড়ে টুকরো টুকরো হয়ে গেছে। তুষারের মতো ধবধবে, তুষারের মতো নরম ওর গালে টকটকে রাঙা পাঁচটা আঙুলের দাগ—হ্যাঁ, আমারই আঙুলের দাগ! আমারই কলঙ্ক ওর গালে রাঙা হয়ে ফুটে উঠেছে।

    লু প্রথমটায় হতচকিত হয়ে গেছল, পরমুহূর্তেই কিন্তু সে হেসে উঠল খিলখিল করে। নিশীথ—রাত্রে ট্রেনের হুইসল—এর মতো তীক্ষ্ন সেই হাসি। ব্যাপার দেখে মাতালগুলোর নেশা বোধ করি কেটে গেছল তৎক্ষণাৎ। কুৎসিত গালাগাল দিয়ে, জামার আস্তিন গুটোতে গুটোতে দুজন তেড়ে এল আমার দিকে।

    শুয়োরের বাচ্চচা—

    এক ঘুষিতে তোকে গ্রিনউইচ পার করে দেব—

    ঘুষিটা আমি আটকাবার আগেই লু মাতালটার হাত ধরে ফেললে। ওর চোখের দৃষ্টি কঠিন, সারা শরীর কঠিন। তীক্ষ্ন কণ্ঠে বলে উঠল, সরে যাও বলছি, জ্যাপ!…চলে যাও এক্ষুনি আমার তাঁবু ছেড়ে…

    ওদের আগেই আমি যাচ্ছিলুম বেরিয়ে। পর্দার বাইরে পা দিতেই কানে এল: শোনো, শোনো—

    ফিরতে হল। লু অত্যন্ত সহজ গলায় শুধোলে, চলে যাচ্ছ যে! এসেছিলে কেন?

    বললুম, জো তোমায় ডাকতে পাঠিয়েছে, তাই এসেছিলুম।

    কে? জো ডাকতে পাঠিয়েছে?…আঃ, জ্বালাতন।—লু বিরক্ত হয়ে উঠেছে: কি চায় সে?

    এক ভদ্রলোক এসে জোকে বলেছে, তার ছেলের একটা ওপেলের আংটি চুরি গেছে।

    তা আমি কি জানি? আমার সঙ্গে আংটির কি সম্পর্ক?…আমি যেতে পারব না, বলগে যাও—

    লু তার বাঁ হাতখানি পিঠের দিকে লুকিয়েছিল, কিন্তু আমার চোখ এড়ায়নি। বাঁ হাতের অনামিকায় সোনার একটা আংটি—ওপেল বসানো। লু’র মুখে কি হঠাৎ বিমর্ষ ছায়া নেমেছে?

    বললুম, তা হলে জো—কে বলি গে যাই, তুমি আসতে পারবে না।

    দাঁড়াও, দাঁড়াও।—তাঁবুর গায়ে হুকে ঝোলানো ডোরাকাটা ছিটের একটা আঙরাখা টেনে নিয়ে লু গায়ে চাপালে, তারপর বললে, চলো—

    .

    টোরোন্টোর সবচেয়ে নামজাদা বাসিন্দা মিঃ উইলিয়াম ফ্রাঙ্ক মর্গ্যান দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তখনো ল্যুইস গান চালাচ্ছে। আমাদের আসতে দেখে তাঁর মুখ হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেল! জিমি চুপি চুপি তার বাপকে বললে, এই যে সেই মেয়েটা।

    কিন্তু কাউকে কিছু বলবার অবকাশ না দিয়েই হাসিমুখে লু সটান ছেলেটার দিকে এগিয়ে গেল: হেল্পো জিমি! কখন এলে? আজকে তুমি আমার নাচ দেখলে না? আমি রাগ করেছি কিন্তু!—মিঃ মর্গ্যানের দিকে তাকিয়ে: তোমার ড্যাড বুঝি? হাউ ডু ইউ ডু?

    জিমি বাপের কাছ ঘেঁষে বোকার মতো দাঁড়িয়েছিল। মিঃ মর্গ্যানও এতক্ষণ চুপচাপ ছিল। এবার গর্জন করে উঠল, তুমি আমার ছেলের আংটি চুরি করেছ? জানো, আমি কেস—

    লু দু’পা পিছিয়ে এল। গভীর বিস্ময়ে চোখদুটো। বড় বড় করে বললে, কোন আংটি?—লু তার বাঁ হাতখানা সবার সামনে তুলে ধরলে। অনামিকায় দামি ওপেলের টুকরোটা রাতের আলোয় ঝিকমিক করছে: এই আংটির কথা বলছ?

    মিঃ মর্গ্যানের মুখে বাঁকা হাসি দেখা দিল। জোর দিকে কটাক্ষ করে বলে উঠল, এ ব্যবসা কতদিন ধরে চালাচ্ছ ম্যানেজার?

    জো গম্ভীর মুখে শুধোলে, এই আংটিটা তুমি চুরি করেছিলে লু?

    চু—রি!…চুরি করেছি!—লু’র গলা কেঁপে গেল: তোমার মনে নেই জিমি, কাল সন্ধেবেলা আমরা দুজন যখন কার্নিভ্যালের দোকানে বসে চকোলেট খাচ্ছিলুম, তুমি এই আংটিটা আমার আঙুলে পরিয়ে দিলে, তারপর আমার হাতখানা তুলে তোমার ঠোঁটে—এখন বলছ চুরি—

    লু’র বড় বড় চোখদুটি জলে ছাপিয়ে উঠল। আংটিটা আস্তে আস্তে খুলে সে জিমির সামনে ধরলে। জিমি বেচারি মুখ কাঁচমাচু করে কি যেন বলতে যাচ্ছিল, তার আগে জো বলে উঠল, ও! ছেলেবয়েসের সেন্টিমেন্টাল ব্যাপার!..নিন মিস্টার মর্গ্যান, আপনার আংটি ফেরত নিন, আংটির সঙ্গে আপনার চুরির চার্জও ফিরিয়ে নিয়ে যাবেন, কিন্তু নইলে…

    মিঃ মর্গ্যান লু’র ভিজে চোখদুটির পানে তাকিয়ে চুপ করে দাঁড়িয়েছিল। আংটিটা নিয়ে বলল, যাকগে, যা হবার হয়েছে। —চল জিমি!

    মিঃ মর্গ্যানের গলার স্বর আশ্চর্য রকম মোলায়েম হয়ে গেছে। যাবার সময় আরেকবার আত্মপরিচয় দিয়ে যেতেও ভুলে গেল দেখছি। লু’র গাল বেয়ে তখনো জল গড়িয়ে পড়ছে, জো তাকে বুকের কাছে টেনে নিয়ে মাথায় হাত বুলোতে বুলোতে বলতে লাগল, ছি ছি কেঁদো না। …কেন তুমি যার—তার সঙ্গে ভাব করতে যাও লু?

    লু এখনো খুকির মতো ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে উঠছে। কিন্তু টোরোন্টোর সবচেয়ে নামজাদা বাসিন্দার দীর্ঘ দেহ দূরে কার্নিভ্যালের জনতায় মিশে যাবার সঙ্গে সঙ্গেই পট—পরিবর্তন হয়ে গেল।

    জো লু’র কাঁধদুটো ধরে এক ঝাঁকানি দিয়ে তাকে দাঁড় করিয়ে দিল। তারপর ক্রুদ্ধ কণ্ঠে বলে উঠল, এখুনি হাতে হাতকড়া পড়েছিল, শয়তানি কোথাকার! ফের যদি এমন বেয়েক্কেলে কাজ করিস তো দূর করে দেব—

    লু একটা বিকৃত মুখভঙ্গি করে বলে উঠল, ইস! …সেলাম ফাদার আব্রাহাম! আংটিটা হাতছাড়া না হলে আধ—বখরা চাইত কে?

    জো রুখে উঠল, চুপ, চুপ কর শয়তানি…একি! গালে তোর দাগ কিসের?

    চেয়ে দেখি, আমারই কলঙ্ক এখনো লু’র গালে রাঙা রয়েছে। আমার সমস্ত শরীর আবার আড়ষ্ট হয়ে গেল। লু কিন্তু অত্যন্ত সহজভাবে জবাব দিলে, গালের নিচে হাত রেখে ঘুমিয়ে পড়েছিলুম, তাই আঙুলের দাগ রয়েছে।

    তারপর তাঁবুর দিকে পা চালিয়ে দিলে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleদেরি হয়ে গেছে – প্রচেত গুপ্ত
    Next Article মহাভারতের মহারণ্যে – প্রতিভা বসু
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }