Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    দশটি রহস্য উপন্যাস – প্রণব রায়

    প্রণব রায় এক পাতা গল্প1004 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    কুয়াশার রাত – ৬

    ৬

    ন—নম্বর ফ্ল্যাট থেকে রমেন যখন বেরিয়ে এল, তখন দুপুর। পার্ক স্ট্রিট ধরে শিস দিতে দিতে চলল সে। খুশি হলে সে শিস দেয়।

    কাজ এখনো একটু বাকি আছে। অ্যাটর্নি সেন অ্যান্ড রায়ের অফিসে গিয়ে আজকের এই চমকপ্রদ খবরটা জানানো। ব্যাস, তা হলেই ছুটি।

    কিন্তু আরেকটা বিস্ময় অপেক্ষা করছিল রমেন বোসের জন্য। অ্যাটর্নির অফিসে পৌঁছতেই, সিনিয়র পার্টনার সেন প্রায় লাফিয়ে উঠলেন : কোথায় ছিলে হে বোস? সকাল থেকে পাঁচ—পাঁচবার ফোন করেছি তোমাকে।

    একটা চেয়ার টেনে নিয়ে রমেন বললে, কেন? কি ব্যাপার?

    আর ব্যাপার! মিস্টার দত্তগুপ্ত হাসপাতালে।

    হাসপাতালে মানে?

    ক’দিন থেকেই ভীষণ পেটের যন্ত্রণা হচ্ছিল, আজ সকালে অপারেশন হয়েছে।

    চেয়ারে সোজা হয়ে বসল রমেন, মাই গড! কাল যে কুন্তলের কেস—লাস্ট ডে। উপায়?

    সেন বললেন, উপায় আর কি! কোর্টের অনুমতি নিয়ে রেখেছি, দত্তগুপ্তের বদলে কাল কোর্টে তুমিই অ্যাপিয়ার করো।

    আমি!—রমেনকে হঠাৎ যেন বিছে কামড়াল। তারপর চেয়ারে হাত—পা এলিয়ে দিয়ে বললে, গুপ্তসাহেব এমনি করে জব্দ করল আমায়!

    সেন বললেন, কেস তো তোমার জানাই আছে। তবু সন্ধেবেলা কাগজপত্র নিয়ে দত্তগুপ্তের জুনিয়র যাবে তোমার বাড়িতে।

    গম্ভীর মুখে রমেন বললে, না গেলেই বাধিত হব। সন্ধের পর আমি একটু দাম্পত্য—কর্তব্য সারি।

    দাম্পত্য—কর্তব্য! সেনের চোখ বড় বড় হয়ে উঠল, বিয়ে করেছ নাকি হে?

    আজ্ঞে হ্যাঁ। লাভ ম্যারেজ।

    বটে! বটে! কার সঙ্গে?

    নির্বিকার ভাবে রমেন জবাব দিলে, স্কটল্যান্ডের ভাটিখানার সঙ্গে।

    অফিস—ঘর কেঁপে উঠল সেনের অট্টহাসিতে। রমেন একখানা স্লিপ টেনে নিয়ে খসখস করে একটা নাম লিখল। সেখানা সেনের হাতে দিয়ে বললে, কাল যেন এই নতুন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয় সেন—সাহেব। চলি।

    কিন্তু চলে যেতে গিয়েও ফিরে এল রমেন। ব্যস্ত হয়ে বললে, ভয়ানক ভুল হয়ে গেছে—র্যাশন কেনা হয়নি। গোটাকতক টাকা হবে?

    একখানা বড় নোট বের করে সেন বললেন, তা হবে। কিন্তু কাল কোর্টে ঠিক সময়ে দেখা হবে কি?

    নোটখানা পকেটে পুরে রমেন বললে, বাই স্কচ, সিওর ।

    রহমেন চলে গেলে মিঃ সেন ভুরু কুঁচসকে স্লিপথানার দিকে তাকালেন। নতুন সাক্ষীর নাম লেখা রয়েছে—

    সন্ধ্যামালতী দেবী

    ফ্রি স্কুল স্ট্রিট ম্যানসন

    ফ্ল্যাট—৯

    * * *

    ধীরে ধীরে সাক্ষীর ডকে উঠলেন নতুন সাক্ষী। সাদা শাড়ির কালো পাড় ঘিয়ে আছে তাঁর অত্যন্ত গৌরবর্ণ বিষণ্ণ মুখটিকে। টানা চোখ দুটি রক্তাভ, অল্প ফোলা।

    আসামির কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে ভূত—দেখার মতো চমকে উঠল কুন্তল। বিবর্ণ হয়ে গেল মুখ। চিৎকার করে বলতে গেল, ‘যাও তুমি, যাও,’ আওয়াজ বেরুল না গলা দিয়ে।

    কালো গাউন দুলিয়ে, সিংহের মতো রাজকীয় ভঙ্গিতে পাবলিক প্রসিকিউটর সুরেন ভাদুড়ি এগিয়ে গেলেন নতুন সাক্ষীর কাছে। শপথ গ্রহণের পর শুরু হল জেরা।

    আপনার নাম?

    অপূর্ব মধুর গলায় জবাব শোনা গেল, সন্ধ্যামালতী দেবী।

    কোথায় থাকেন?

    ফ্রি স্কুল স্ট্রিট ম্যানসনের ন—নম্বর ফ্ল্যাটে।

    ঘটনার রাতে কোথায় ছিলেন?

    আমার ঘরে।

    জেগে ছিলেন?

    ছিলাম।

    আচ্ছা, ঘটনার বিষয় কি জানেন বলুন তো?

    সন্ধ্যামালতী বলতে লাগলেন, তখন রাত বারোটা হবে। আমি অসুস্থ হয়ে শুয়েছিলাম ঘরে। হঠাৎ একটা আর্তচিৎকার শুনতে পাই, আর তারপরেই সিঁড়িতে জুতোর দ্রুত আওয়াজ। ভয়ানক একটা কিছু ঘটেছে আশঙ্কা করে আমি অসুস্থ অবস্থাতেও দরজা খুলে সিঁড়ির কাছে গিয়ে দাঁড়াই।

    তাহলে আসামিকে আপনি পালাতে দেখেছেন নিশ্চয়?

    মৃদু অথচ অতি স্পষ্ট গলায় সন্ধ্যামালতী বললেন, না! কুন্তল আমার ঘরেই ছিল। আমার জন্যে একটা কবিরাজী ওষুধ খলে মাড়ছিল তখন।

    সুরেন ভাদুড়ির মোট ভুরু জোড়া কুঁচকে সেকেন্ড ব্র্যাকেট হয়ে গেল। কড়া পণ্ডিত মশায়ের মতো কঠোর স্বরে তিনি ধমকে উঠলেন, কি বলছেন আপনি জানেন?

    সাক্ষীর ডক থেকে জবাব এল, জানি। যা সত্যি, তাই বলছি।

    তাহলে আপনি বলতে চান যে, আসামি খুন করেনি?

    স্থির শান্ত গলায় সন্ধ্যামালতী বললেন, না।

    এক মুহূর্তের জন্যে নিশ্চুপ হয়েই আদালত—ঘর আবার গুঞ্জনে ভরে উঠল। কৌতূহলী দর্শকদের দৃষ্টির সামনে সন্ধ্যামালতী মাথার কাপড় আরও একটু টেনে দিলেন! আর আসামির কাঠগড়া থেকে নিষ্পলক চোখে কুন্তল চেয়ে রইল তাঁর দিকে।

    কিন্তু এত সহজে দমবার পাত্র নন সুরেন ভাদুড়ি। বহু ক্রিমিন্যাল কেস করে করে তিনি মামলা—বিশারদ হয়েছেন। ছাঁটা গোঁফের নিচে কুটিল হাসি হেসে তিনি প্রশ্ন করলেন নতুন সাক্ষীকে, আচ্ছা, সে—রাতে আসামি কুন্তল কতক্ষণ ছিল আপনার ঘরে? প্রায় ঘণ্টাখানেক।

    তারপরে?

    স্টুডিওতে চলে যায়।

    আসামি কুন্তল যখন আপনার ঘরে ছিল, তখন তার গায়ে কি ছিল বলতে পারেন?

    সবুজ রঙের গরম কোট।

    আর টাই? কি রঙের ছিল মনে আছে?

    লাল রঙের।

    যেন বহুপ্রার্থিত কোনো হারানো জিনিস খুঁজে পেয়েছেন, এমনি মুখের ভাব নিয়ে ভাদুড়ি এজলাসের দিকে তাকিয়ে পুনরুল্লেখ করলেন, সবুজ কোট, লাল টাই! তারপর পাকা খেলোয়াড় যেমন কর্নার থেকে গোলে বল মারে, তেমনি করেই প্রশ্ন করলেন, আসামি কুন্তল যদি না—ই খুন করে থাকে, তবে এ—কথাটা পুলিশকে বা আদালতকে এতদিন জানাননি কেন আপনি?

    সন্ধ্যামালতীর মুখখানা আরও ফ্যাকাশে হয়ে উঠল। কোনো কথা বেরোল না তাঁর মুখ দিয়ে।

    বলুন, কি উদ্দেশ্যে কথাটা চেপে রেখেছিলেন?

    সন্ধ্যামালতী তবু নির্বাক।

    বিজয়ী সিংহের মতো গ্রীবাভঙ্গি করে ভাদুড়ি বললেন, ইওর অনার, সাক্ষীর কাছে আর কোনো প্রশ্ন আমার নেই। শুধু মাননীয় জুরিদের কাছে আমার শেষ কথা বলতে চাই।

    তারপর কালো গাউন দুলিয়ে তেমনি রাজকীয় ভঙ্গিতে জুরিদের বেঞ্চের দিকে এগোতে এগোতে বলতে লাগলেন, সাক্ষী সন্ধ্যামালতী দেবীর উক্তি কতখানি যথার্থ, তা আপনাদেরই বিচার করে দেখতে অনুরোধ করি। তাঁর সাক্ষ্য যেমন অসঙ্গতিপূর্ণ তেমনি অবিশ্বাস্য। আপনাদের স্মরণ থাকতে পারে, নিহতা শোভার প্রতিবেশী যমুনা লালা তাঁর সাক্ষ্যে বলেছেন যে, সবুজ কোট আর লাল টাই পরে আসামিকে তিনি চারতলা থেকে স্বচক্ষে নেমে যেতে দেখেছেন। অথচ সন্ধ্যামালতী বলছেন, ঠিক সেই সময় আসামি ওই একই পোশাক পরে দোতলায় তাঁর ঘরে বসে ‘খলে’ ওষুধ মাড়ছিলেন। একই পোশাকে একই ব্যক্তির একই সময়ে দু—জায়গায় উপস্থিতিটা ভৌতিক ব্যাপার বলে মনে হয় না কি? তাছাড়া, সন্ধ্যামালতী বলেছেন, ঘটনার প্রায় ঘন্টাখানেক পরে আসামি কুন্তল ওই বাড়ি থেকে চলে যায়। তাঁর এ—কথাও বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে হয় না। কেননা, হত্যাকাণ্ডের ঠিক আধ ঘন্টার মধ্যেই ওই ম্যানসনের সদরে কড়া পুলিশ—পাহারা মোতায়েন হয়ে যায়। সবুজ কোট, লাল টাই পরা কোনো লোককে তারা ঢুকতে বা বেরোতে দেখেনি। সন্ধ্যামালতী বলেছেন বটে, আসামি কুন্তল খুন করেনি, কিন্তু তাঁর এই উক্তির স্বপক্ষে কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণও দেখাতে পারেননি? তাছাড়া তিনি তাঁর এই সাক্ষ্য এতদিন কেন গোপন করেছিলেন, সে—বিষয়ে তাঁর অদ্ভুত নীরবতা সন্দেহজনক নয় কি? এক্ষেত্রে সন্ধ্যামালতীর সাক্ষ্য—বিবৃতি সত্য না মিথ্যা দিয়ে তৈরি, তা আপনারাই বুঝে দেখুন।

    এক সেকেন্ড থামলেন সুরেন ভাদুড়ি। জুরিরা মন্ত্রমুগ্ধের মত শুনছে তাঁর বক্তৃতা। মনে মনে খুশি হয়ে গুরুগম্ভীর আওয়াজে আবার তিনি শুরু করলেন, মাননীয় জুরিগণ, এই মামলার প্রথম দিকে আমি বলেছিলাম, পৃথিবীতে জঘন্যতম পাপ হচ্ছে নরহত্যা। আজও সেই কথাই বলছি। পূর্ববর্তী তিনজন সাক্ষীর সাক্ষ্য থেকে পরিষ্কার ভাবে বোঝা গেছে যে, ২৬শে মাঘ রাতে ফ্রি স্কুল স্ট্রিট ম্যানসনের নর্তকী শোভা ইম্যানুয়েলকে আসামি কুন্তল চ্যাটার্জিই খুন করে পালিয়েছিল। হত্যাকারী কুন্তল এবং নিহতা শোভা—দুজনেই গারাজনা জগতের লোক—সুতরাং দুজনের মধ্যে যোগাযোগ থাকাটা খুবই স্বাভাবিক। অথচ আসামি কুন্তল চ্যাটার্জি সমাজে একজন ভদ্র সৎ—চরিত্র যুবক, একজন কৃতী সঙ্গীতশিল্পী বলে সুখ্যাত। এই ধরনের মুখোশধারী শয়তানেরাই সমাজের পরম শত্রু। সমাজ, সভ্যতা ও সংস্কৃতির মুখ চেয়ে ওই খুনি আসামির কঠোর শাস্তি হওয়াই কি উচিত নয়? মাননীয় জুরিগণ, আজ ন্যায়ের তুলাদণ্ড হাতে আপনারা বিচারের আসনে বসেছেন। আপনাদের মহান দায়িত্ব স্মরণ করিয়ে দিয়ে আমি আমার বক্ত্যব শেষ করলাম।

    সার্কাসের খেলোয়াড় যেমন খেলা শেষে মাথা ঝুঁকিয়ে অভিবাদন জানায়, তেমনি করে এজলাসের সামনে মাথা ঝুঁকিয়ে পাবলিক প্রসিকিউটর সুরেন ভাদুড়ি নিজের আসনে বসলেন। তাঁর গুরুগম্ভীর স্বর গমগম করতে লাগল আদালতকক্ষে।

    জজসাহেব বললেন, এবার আসামি পক্ষের কাউন্সেল সাক্ষীদের জেরা করতে পারেন।

    কিন্তু জেরা করবে কে? দেখা গেল ডিফেন্স কাউন্সিলের আসন শূন্য। গুনগুন ধ্বনি উঠল দর্শক—মহলে।

    দত্তগুপ্তের জুনিয়র উৎকণ্ঠায় এদিক—ওদিক তাকাতে লাগল। কোথায় রমেন বোস? অ্যাটর্নি সেন প্রমাদ গুনলেন। রমেন বোস কি সত্যিই ডোবালে মামলাটা? কি ভুলই করেছেন তিনি গতকাল তার হাতে একশো টাকার নোটখানা দিয়ে! সাধে কি আর লোকে তাকে মাতাল বোস বলে!

    জজসাহেবে আবার বললেন একটু গলা চড়িয়ে, আসামিপক্ষ সমর্থনের জন্যে কেউ আছেন কি আদালতে?

    ইয়েস মি লর্ড!

    আদালত—ঘরের ও—প্রান্ত থেকে এটা সুপরিচত কণ্ঠের সাড়া ভেসে এল। উদগ্রীব হয়ে তাকালেন জজসাহেব, তাকালেন সুরেন ভাদুড়ি, জুনিয়র ব্যারিস্টার, অ্যাটর্নি, দর্শকমণ্ডলী সবাই। দেখা গেল, দর্শকের ভিড় ঠেলে এগিয়ে আসছে কালো গাউন পরা দীর্ঘাকার একটি অতি পরিচিত মূর্তি। রমেন বোস!

    এজলাসের সামনে এগিয়ে এসে স্মিত মুখে সহজ গলায় রমেন বোস বললে, আজকের এই বিচার—সভায় আমার আসার কথা নয়! কিন্তু সুযোগ্য ডিফেন্স কাউন্সেল মিস্টার দত্তগুপ্ত হঠাৎ গুরুতরভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ায় আমাকে আসতে হল। দুনিয়ায় অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই এবং ন্যায়ের পক্ষ সমর্থনের অধিকার সকলেরই আছে, ব্যারিস্টারের অধিকারের চেয়েও সর্ব মানুষের সেই অধিকার অনেক বড়। সেই বৃহত্তর অধিকার নিয়েই আমি আজ এখানে এসেছি।

    মি লর্ড, জেন্টলমেন অফ দি জুরি, দর্শকদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে আমি এতক্ষণ পাবলিক প্রসিকিউটর মহোদয়ের ওজস্বিনী বক্তৃতার তারিফ করছিলাম। আমার বিশ্বাস, আদালতের বদলে তিনি রঙ্গমঞ্চে যোগ দিলে, বোধ করি শিশির ভাদুড়ির সমতুল্য শিল্পী হতে পারতেন। কিন্তু ব্যারিস্টারের আসল কাজ হল সত্যকে খুঁজে বার করা! বহু প্রশ্ন, বহু জেরা, বহু তর্কেও আমার সহযোগী মিস্টার ভাদুড়ি সত্যকে খুঁজে পেয়েছেন বলে মনে হয় না। তাঁর সত্যানুসন্ধানে সাহায্য করবার জন্যেই আমি শুধু একটি সাক্ষীকেই জেরা করব। তিনি হলেন সন্ধ্যামালতী দেবী।

    ধীরে ধীরে সন্ধ্যামালতী আবার সাক্ষীর ডকে উঠলেন।

    স্মিত মুখে রমেন বোস এগিয় গেল তাঁর সামনে। ধীর নম্র স্বরে প্রশ্ন করল, আপনি তো বিবাহিতা?

    স্বাক্ষীর ডক থেকে জবাব এল, হ্যাঁ।

    স্বামী জীবিত?

    না।

    আপনার স্বামীর নাম?

    এক মুহূর্ত চুপ করে থেকে সন্ধ্যামালতী বললেন, হিন্দু স্ত্রীকে স্বামীর নাম মুখে আনতে নেই।

    একটা প্যাড আর পেন্সিল এগিয়ে দিয়ে রমেন বললে, তাহলে লিখে দিন।

    আমি লেখাপড়া জানি না।

    মৃদু হাসলে রমেন বোস। তারপর পেন্সিলটা প্যাডের ওপর ঠুকতে ঠুকতে প্রশ্ন করলে, অধ্যাপক কমলেশ চ্যাটার্জিকে আপনি চিনতেন?

    পাথর হয়ে গেলেন সন্ধ্যামালীত। আর, আসামির কাঠগড়া থেকে চিৎকার করে উঠল কুন্তল, না, না, চেনেন না—কোন দিনও চিনতেন না।

    আদালত—ঘরে চাঞ্চল্য দেখা গেল! জজসাহেব হাতুড়ি ঠুকলেন, অর্ডার, অর্ডার!

    রমেন বোস সন্ধ্যামালতীর একেবারে কাছে সরে গেল। কোমল অন্তরঙ্গ সুরে বলতে লাগল, আপনারই জবাবের ওপর একটা মানুষের মরা—বাঁচা নির্ভর করছে। চুপ করে থাকবেন না—কাল আমাকে যা বলেছিলেন, তা যদি সত্য হয়, তবে বলুন, কমলেশ চ্যাটার্জি আপনার কে?

    আমার স্বামী।—সন্ধ্যামালতীর অপূর্ব মধুর গলা কেঁপে গেল।

    কি ভাবে আপনাদের বিয়ে হয়?

    রেজিস্ট্রি করে।

    হিন্দু মতে নারায়ণ আর অগ্নিসাক্ষী করে হয়নি কেন?

    আমি থিয়েটারের অভিনেত্রী ছিলাম, তিনি ছিলেন সমাজের মানী ব্যক্তি। তাই গোপনে আমাদের বিয়ে হয়েছিল।

    শোনা যায়, কমলেশ চ্যাটার্জির আরেকটি স্ত্রী ছিলেন। কথাটা কি সত্য?

    সত্য। তিনিই হিন্দুমতে বিবাহিতা স্ত্রী।

    পেন্সিলটা চিবুকে ঠেকিয়ে রমেন বললে, কুন্তল তাহলে কার ছেলে? মানে, কোন স্ত্রীর গর্ভজাত? আপনার?

    সন্ধ্যামালতী বললেন, না। আমার স্বামীর প্রথমা স্ত্রীর সন্তান।

    আপনি তাহলে কুন্তলের বিমাতা? আপনার কোনো সন্তান আছে?

    একটি মাত্র ছেলে।

    কত বড়?

    কুন্তলের চেয়ে দু—বছরের ছোট।

    দেখতে কেমন?

    কুন্তলেরই মতো মাঝামাঝি লম্বা, দোহারা স্বাস্থ্যবান চেহারা। তফাত শুধু রঙ আর মুখের গড়নে।

    এজলাসের দিকে ফিরে রমেন বলে উঠল, মি লর্ড, সাক্ষীর এই কথাগুলিই বিচারাধীন হত্যারহস্যের চাবিকাঠি।

    তারপর সন্ধ্যামালতীকে আবার প্রশ্ন করলে, আচ্ছা, কুন্তলের সঙ্গে আপনার সম্পর্ক কেমন? সাধারণত সৎ মায়ের সঙ্গে সতীনের ছেলের সম্পর্ক যেমন হয়, তেমনি?

    সন্ধ্যামালীত একবার তাকালেন আসামির কাঠগড়ার দিকে। নিবিড় মমতায় স্নিগ্ধ হয়ে এল তাঁর মুখ। স্নেহসিক্ত কণ্ঠে তিনি বললেন, না। কুন্তল আমার আপন সন্তানেরও অধিক। আমার স্বামীর মৃত্যুর পর তার সেবা, তার সাহায্য না পেলে আমি বাঁচতাম না।

    কিন্তু কুন্তল যদি আপনার সন্তানের অধিক হয়, তবে তার এত বড় বিপদে এতদিন আপনি চুপ করে ছিলেন কেন? তদন্তের সময় কেন পুলিশকে বলেননি যে, খুনের সময় কুন্তল আপনারাই ঘরে ছিল?

    ছলছলিয়ে এল ঘন কালো টানা চোখ দুটি। নতমুখে সন্ধ্যামালতী বললেন, তখন ভাবিনি যে ওর ফাঁসি অবধি হতে পারে।

    আচ্ছা সে—রাতে কুন্তল কখন চলে গিয়েছিল আপনার ঠিক মনে আছে কি?

    আছে। খুনের প্রায় ঘণ্টাখানেক পরে।

    সদরে পুলিশ—পাহারা এড়িয়ে গেল কি করে।

    সদর দিয়ে সে যায়নি। হাঙ্গামার ভয়ে আমি তাকে ধাঙ্গড় আসা—যাওয়ার ঘোরানো সিঁড়ি দিয়ে নামিয়ে দিয়েছিলাম পাশের গলিতে।

    স্মিত মুখে রমেন বোস বললে, আদালতের তরফ থেকে আপনাকে অনেক ধন্যবাদ সন্ধ্যামালতী দেবী। আমার আর একটি মাত্র প্রশ্ন বাকি আছে। ঘটনার রাতে চিৎকার শুনে, আপনার ফ্ল্যাটের দরজা খুলে কাকে দেখতে পেয়েছিলেন সিঁড়িতে? দ্রুত পায়ে কে নেমে আসছিল চারতলা থেকে?

    সন্ধ্যামালতীর মুখ থেকে কে যেন শেষ রক্তবিন্দুটুকু পর্যন্ত শুষে নিলে। পাংশু হয়ে গেল পাতলা ঠোঁট দু’খানা। সাক্ষীর ডকের রেলিং ধরে নতমুখ দাঁড়িয়ে রইলেন আড়ষ্ট হয়ে। কোনো জবাব এল না তাঁর কাছ থেকে।

    ধীর—গম্ভীর গলায় রমেন বোস আবার জিজ্ঞেস করলে, বলুন, সে—রাতে কাকে দেখেছিলেন সিঁড়িতে?

    শ্বেতপাথরের মূর্তির মতো বোবা হয়ে রইলেন সন্ধ্যামালতী। সেই কঠিন বিবর্ণ মুখের দিকে তাকিয়ে রমেন বোসেরও মুখের চেহারা বদলে যেত লাগল। ব্যগ্র কণ্ঠে বললে, বলুন, জবাব দিন আমার প্রশ্নের। আপনার জবাবের ওপর এই মামলার বিচার নির্ভর করছে সন্ধ্যামালতী দেবী।

    শ্বেতপাথরের মূর্তি তবু মুখ খুলল না।

    হাল ছাড়লে না রমেন বোস, আবেগ—স্পন্দিত গলায় আবার বলতে লাগল, তাকিয়ে দেখুন ওই আসামির কাঠগড়ার দিকে। যে লোকটি ওখানে দাঁড়িয়ে আছে, একটু আগে তাকেই আপনি বলেছেন সন্তানের অধিক, যার সেবা আর সাহায্য না পেলে আপনি বাঁচতেন না। সেই ছেলেকে আজ আপনি বাঁচাবার চেষ্টা করবেন না? হলেনই বা বিমাতা, তবু তো আপনি মা! আমি মিনতি করছি সন্ধ্যামালতী দেবী, যা সত্য, তাকে আলোয় আসতে দিন। বলুন, ঘটনার রাতে সিঁড়ি দিয়ে কাকে নেমে আসতে দেখেছিলেন?

    সন্ধ্যামালতীর দুই চোখ তখন অশ্রুতে ভেসে গেছে। থরথর করে কাঁপছে তাঁর পাংশু দু’খানা ঠোঁট। সজল কম্পিত কণ্ঠে উচ্চচারণ করলেন, কুণাল।

    কে সে?

    আমার নিজের ছেলে।

    কি করে?

    জাহাজে কাজ করত।

    .

    খিদিরপুরে হংকং কাফে জাহাজি খালাসিদের একটা বিখ্যাত আড্ডা। ইতালি, স্পেন, চিন, জাপান, লিভারপুল, মোম্বাসা, আরও নানা দূর দেশ থেকে কত বাণিজ্য—জাহাজ এসে নোঙর ফেলে খিদিরপুর ডকে। দিন কয়েক—বড় জোর মাসখানেক থাকে, মাল খালাস করে, মাল বোঝাই করে, নতুন রং লাগায়।

    তারপর আবার একদিন জাহাজের ঠাণ্ডা ইঞ্জিন চলার উৎসাহে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আকাশে আকাশে ভোঁ বাজিয়ে, বৃহৎ চাকায় গঙ্গার গেরুয়া জল কাটতে কাটতে নীল সমুদ্রের ডাকে উতলা হয়ে রওনা দেয়। যাযাবর জাহাজ! ফেলে—আসা বন্দরের স্মৃতি তার মনেও থাকে না।

    জাহাজের যারা খালাসি মাল্লা, তারাও যাযাবর। জীবনের বারো আনা সময় তারা সাগর—পথিক, চার আনা সময় মাটির সঙ্গে সম্পর্ক। বন্দরের মাটিতে পা দিয়েই তাদের মনে হয়, এটা দু’দিনের বাসা।

    দু’দিনের হলেও এখানে তারা অনেকখানি স্বাধীন। জাহাজে কাপ্তেনের রাজত্ব, কড়া শাসন। সেই শাসনের শিকল থেকে সাময়িক মুক্তি দেয় বন্দরের মাটি। তাই বন্দর তাদের কাছে লোভনীয় রমণীয় মোহময়।

    হংকং কাফে জাহাজি মাল্লাদের একটা মধুচক্র বিশেষ। সুন্দর একটা বাগানের মধ্যে এই পানশালাটি। সন্ধে হলেই এই কাফে রূপসী বারনারীর মতো সেজেগুজে দেশ—বিদেশের খালাসিদের হাতছানি দেয়।

    পণ্যানারীদেরও আসা—যাওয়া আছে এখানে। রঙিন পানীয়ের সঙ্গে রং—করা রূপেরও দরদস্তুর চলে। তারপর একসময় টলটলায়মান তরুণ খালাসি সাহেবের বাহুলগ্না হয়ে তার মায়ের বয়সী ভাড়াটে প্রণয়িনী গালে রুজ আর ঠোঁটে লিপস্টিক মেখে, বাঁধানো দাঁতের হাসি হাসতে হাসতে বেরিয়ে যায়।

    হংকং কাফেতে রোজই ভিড়। ঝলমলে আলোয়, উচ্ছল নাচ—গানে, উদ্দাম হাসিতে সন্ধে থেকে প্রায় সারারাতই এই পানশালা জমজমাট। কে আসে, কে যায়, কে তার খোঁজ রাখে!

    তবু খোঁজ রাখতে হয় এক জাতের মানুষকে। তাদের নাম পুলিশ। মাঝে মাঝে হুস হুস করে একখানা জিপ জীবন গাড়ি এসে থামে, তারা নেমে গটগট করে হলঘরের মধ্যে চলে যায়, একে প্রশ্ন করে, ওকে জেরা করে। পানরত ভ্রমরকে জামার কলার ধরে টেনে নিয়ে যায়। পরদিন শোনা যায়, তারা ফেরারি আসামি।

    হংকং কাফে বড় বিচিত্র জায়গা।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleদেরি হয়ে গেছে – প্রচেত গুপ্ত
    Next Article মহাভারতের মহারণ্যে – প্রতিভা বসু
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }