Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    দশটি রহস্য উপন্যাস – প্রণব রায়

    প্রণব রায় এক পাতা গল্প1004 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    কুয়াশার রাত – ৭

    ৭

    ফটক পেরিয়ে সিঁড়ির কয়েকটা ধাপ উঠলেই মস্তবড় হলঘর। একদিকে তার নাচের ছোট মঞ্চ আর অর্কেস্ট্রা দলের বসবার আসন, বাকি জায়গাটা জুড়ে ছোট ছোট বেতের গোল টেবিল আর চারখানা করে বেতের চেয়ার।

    হলঘরের একেবারে একটেরে বারান্দা ঘেঁষে একখানা চেয়ার দখল করে বসে আছে বৃজলাল। তার টেবিলে বাকি তিনখানা চেয়ার এখনও খালি। অন্যান্য টেবিল মধুপিয়াসীদের ভিড়ে ভরে উঠেছে। সমস্ত হলঘরটা তাদেরই হাসি গল্প কথাবার্তায় মৌচাকের মতো গুঞ্জরিত।

    এইমাত্র একটা নাচ হয়ে গেল, পিয়ানোতে এখন টুং টাং করে ‘ওভার দি ওয়েভস’ বাজছে। বৃজলালের কোনো দিকেই খেয়াল নেই। এমনকি তার নতুন বন্ধুরা—অ্যালফ্রেড আর ইসমাইল টেবিলের পাশ দিয়ে যেতে যেতে ‘হ্যালো বৃজলাল’ বলে সম্ভাষণ করা সত্ত্বেও কোনো জবাব দেয়নি সে। তাদের সম্ভাষণ হয়তো কানেই যায়নি তার।

    বৃজলাল এ অঞ্চলে হালে এসেছে। লোকে জানে ডকে কাজ করে সে। বাপ ভাই বউ বোন—কোনো বালাই নেই। স্রেফ একা মানুষ। বাজারের কাছে একখানা ঘর ভাড়া নিয়ে থাকে, আর দু’বেলা হোটেলে খায়। ঘরে তার প্রায়ই তালা ঝুলতে দেখা যায়। সারাদিন কোথায় কোথায় ঘোরে সেই জানে।

    সহজে মেশে না কারও সঙ্গে। বন্ধু তার খুবই কম, কিন্তু চেনে অনেকে। তার কারণ বৃজলালের চেহারাটা মন্দ নয়, অন্তত ভিড়ে মিশিয়ে যাবার মতো নয়। কিন্তু উগ্র একটা রুক্ষ্মতার ছাপ তার সর্বাঙ্গে। মুখখানায় অশিক্ষিত চোয়াড়ে ভাব, টানা চোখের কোলে অসংযত জীবনের কালো ইতিহাস। দেখতে মোটামুটি সুন্দর হলেও বৃজলালকে ভদ্র বলতে যেন বাধে।

    একপাত্র ‘জিন’ সামনে রেখে বৃজলাল বড় অন্যমনস্ক হয়ে বসে আছে আজ। ডান হাতের তর্জনী আর মধ্যমার ফাঁকে ধূমায়িত সিগারেট। অন্যদিন এত চুপচাপ সে থাকে না, ডক—শ্রমিক অ্যালফ্রেড আর ইসমাইলের সঙ্গে গল্প হাসাহাসি করে। কদাচিৎ বা দু’—একটি পণ্যানারীর আবির্ভাব হয় তার টেবিলে।

    আজ কিন্তু বৃজলাল নিজের মধ্যেই ডুবে আছে। একা একা বসে মাঝে মাঝে ‘জিনে’র গেলাসে মৃদু চুমুক দিচ্ছে আর কি যেন ভাবছে। ঠিক ভাবছে না নিজেরই জীবন—নাটকের গোড়ার দিকের দু’—একটা অঙ্গ নিজেই যেন দর্শক হয়ে নীরবে দেখছে।

    .

    ভাল করে যখন তার জ্ঞান হয়েছিল, সেই তখন থেকেই সংসারে মা ছাড়া আর কাউকে দেখেনি। মাঝে মাঝে বয়স্ক একটি ভদ্রলোক আসতেন, শ্যামবর্ণ, দীর্ঘ দেহ, চোখে মোটা ফ্রেমের চশমা, চেহারা সম্ভ্রান্ত। শুনেছিল তিনি নাকি খুব বিদ্বান।

    তিনি এলেই মা তাকে বলতেন, ও ঘরে গিয়ে খেল গে।

    একদিন সে জিজ্ঞেস করেছিল, ও কে মা?

    গম্ভীর হয়ে মা বলেছিলেন, তোমার বাবা।

    এ কথা শুনে সেদিন তার শিশু—মন খুশি হওয়ার বদলে আশ্চর্যই হয়েছিল। এ কেমনতর বাবা? তাকে দেখলে হাসে না, আদর করে না, কাছে ডেকে একটা লজেন্সও দেয় না! আর পাঁচজন ছেলের বাবাদের সঙ্গে তার বাবার কোথাও মিল নেই।

    স্কুলে ভর্তি হবার পর তার বাবা দেখা হলে শুধু একটি প্রশ্নই করতেন, পড়াশুনা কেমন হচ্ছে?

    এ ছাড়া আর কোনও কথা নয়। অথচ তার স্পষ্ট মনে আছে, স্কুলে তার বাড়ির অভিভাবক হিসেবে তার মায়ের নামই লেখানো ছিল। এর কারণটা ছোটবেলায় বুঝতে না পারলেও বড় হয়ে সে জানতে পেরেছিল। তার বাপ—মায়ের বিবাহিত সম্পর্কটা আর দশজন স্বামী—স্ত্রীর মতো খোলাখুলি ছিল না—ছিল ঢেকে রাখা। তাঁদের দাম্পত্য পরিচয়টা সমাজের সামনে কুণ্ঠিত হয়ে থাকত, তার মধ্যে কোথায় যেন অগৌরব লুকানো।

    তবু মনে পড়ে, বাড়িতে একদিন তার বাবা এসেছিলেন। সেদিন তার জন্মদিন। তাকে প্রণাম করতে বলে তার মা বাবাকে বলেছিলেন, আশীর্বাদ করো এ যেন ভাল হয়—যেন তোমারই আদর্শে মানুষ হয়ে ওঠে।

    সেদিন তার বাবা কি জবাব দিয়েছিলেন, তাও স্পষ্ট মনে আছে। অল্প একটু হেসে তিনি বলেছিলেন, ভাল—মন্দ হওয়ার বীজ মানুষ তার রক্তে নিয়ে জন্মায়। শুধু আশীর্বাদে তাকে বদলানো যায় না মালতী।

    তারপরে বাবা মানিব্যাগ খুলে কিছু টাকা মায়ের হাতে দিয়ে বললেন, ওকে ওর পছন্দমতো কিছু কিনে দিও।

    বৃজলালের আনন্দ হওয়ারই কথা। কিন্তু দুরন্ত একটা অভিমানে তার ছোট্ট বুক তোলপাড় হয়ে উঠল। কি জানি কেন তার মনে হল, এটা বাপের স্নেহ—উপহার নয়। এটা যেন বখশিস দেওয়া—চাকর—বাকরকে যেমন বখশিস দেয় মনিবরা!

    সেদিন টাকার বদলে বাবা যদি তাকে কাছে ডেকে একটু আদর করতেন, মাথায় যদি একটু হাত বুলিয়ে দিতেন, তবে হয়তো এ অভিমান তার হত না।

    বাপের সম্পর্কে তার মনে ক্ষোভ থাকলেও তার মা তাকে ভালবাসতেন। খুবই। তবু মাকে সে সব সময় পেত না। সপ্তাহে কয়েকটা দিন বিকেলের দিকে মা যে কোথায় চলে যেতেন তা সে জানত না। মা ফিরতেন রাত করে, তার আগেই দাসী নানুর মা তার পিঠ চুলকে চুলকে তাকে ঘুম পাড়িয়ে দিত। কখনও ঘুমের মধ্যেই সে অনুভব করতে মা তার গালে আলতোভাবে চুমু দিচ্ছেন।

    বৃজলালও তার মাকে অসম্ভব রকম ভালবাসত। বাপকে না পাওয়ার ক্ষুধা সে মায়ের মধ্যেই মিটিয়ে নিত। মা যখন তাকে বুকে জড়িয়ে মিষ্টি গলায় জিজ্ঞেস করতেন, খোকা তুই বড় হয়ে খুব ভাল হবিতো’? আমার মনে কষ্ট দিবি না?

    বালক বৃজলাল তখন মনে মনে ভীষ্মের প্রতিজ্ঞা করে বসত—যেমন করেই হোক ভাল সে হবেই। আর, সে কি যেমন—তেমন ভাল? পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে ভাল। মাকে সে কক্ষনো কষ্ট দেবে না, সবাই তার মাকে দেখে বলবে, ওই যে ‘ভাল’ বৃজলালের মা!

    মাকে তখন সে আরও—অনেক ভালবাসবে। আকাশের মতো অনেক!

    কিন্তু মা ছেলের সেই ভালবাসায় একদিন ভাঙন ধরল। বিশাল কোনও নদীর ওপর কংক্রিটের সেতুতে হঠাৎ একদা যেমন ফাটল ধরে। মিশনারি এক স্কুলে ভর্তির হয়েছিল বৃজলাল। নীলরঙের কলারওয়ালা সাদা পোশাক পরে গলায় নীল টাই ঝুলিয়ে রোজ সে স্কুলে যেত। ফাদার রেক্টরকে আজও তার মনে পড়ে। ভয়ানক রাসভারী চেহারা ছিল তাঁর, ভীষণ কড়া মানুষ। পোশাকে একটু ময়লা বা বুটজুতোয় সামান্য কাদা লেখে থাকলে ধমকে দিতেন। স্কুল বসার আগে প্রার্থনার সময় কেউ উসখুস করলে, শাস্তি স্বরূপ ছুটির পরে একঘণ্টা আটকে থাকতে হত।

    কিন্তু না, বৃজলাল কখনও আটকে থাকেনি। শুধু লেখাপড়ায় নয়, নিয়মানুবর্তিতা আর শান্ত ভদ্র ব্যবহারে সে জুনিয়রে ক্লাসে আদর্শ ছাত্র ছিল। অমন যে রাসভারী ফাদার রেক্টর, তিনিও বৃজলালের সঙ্গে হেসে কথা বলতেন।

    .

    জিনের গেলাসে একটা চুমুক দিলে বৃজলাল। জুনিয়র ক্লাসের সেই দিনগুলি কত মধুরভাবে কেটেছিল। কিন্তু তারপর? সেই দিনটা—সেই কালো কুৎসিত দিনটা একটা বিষাক্ত ক্ষতের চিহ্ন রেখে গেছে তার মনে। সে চিহ্ন এ জীবনে মুছবে না।

    বৃজলাল তখন সিনিয়র ক্লাসের ছাত্র। লম্বা—চওড়া জোয়ান ছেলে।

    একদিন তার সহপাযিঠী নীলকান্ত একখানা পত্রিকা এনেছিল। পত্রিকাখানা সিনেমা আর থিয়েটার সংক্রান্ত। অনেক রংবেরঙের ছবিতে ভরা। নীলকান্ত ছেলেটা ভদ্রলোকের এক কথার মতো বছর তিনেক ধরে একই ক্লাসে ছিল। পয়সাওয়ালা ঘরের ছেলে, সুতরাং স্কুলের মাইনেটা জমা পড়ত ঠিকই, কিন্তু পাঠ্যপুস্তকে রুচি ছিল না নীলকান্তর। সে ক্লাসের লাস্ট বেঞ্চে বসে বসে নিবিষ্ট চিত্তে যা পড়ত, তা হয় সিনেমা—থিয়েটারের পত্রিকা, নয় প্রায় নগ্ন নারীমূর্তির ছবিওয়ালা স্বাস্থ্যবিষয়ক আমেরিকান ম্যাগাজিন, কিংবা ওই ধরনের আর কিছু।

    নীলকান্তর নিজস্ব পাঠ্যপুস্তকগুলির প্রতি বৃজলালের কোনোদিনই কৌতূহল হয়নি। সে—অবকাশও তার ছিল না। নিজের পড়া নিয়েই সে ব্যস্ত থাকত। সেজন্য নীলকান্ত এবং লাস্ট বেঞ্চের অন্যান্য ছেলেদের কাছ থেকে ‘ভাল ছেলে’ ‘বিদ্যেসাগরের পকেট এডিশন’ ইত্যাদি দু—চারটে বাঁকা মন্তব্য মাঝে মাঝে তাকে শুনতে হয়েছে। বৃজলাল অবশ্য গ্রাহ্য করেনি।

    কিন্তু সেদিন টিফিনের ঘণ্টায় নীলকান্তর হাতের পত্রিকাখানা হঠাৎ চোখে পড়ে যেতেই একবার নেড়েচেড়ে দেখার ইচ্ছে হল বৃজলালের।

    চেয়ে নিল সে নীলকান্তর কাছ থেকে। সিনেমা—শিল্পীদের কতরকম ছবি। কত সাজে, কত ঢঙে। পাতার পর পাতা উলটে যায় বৃজলাল।

    হঠাৎ একটা পৃষ্ঠায় তার চোখ যায় আটকে। সমস্ত চেতনা দুই চোখের তারায় জড়ো করে সে চেয়ে থাকে একখানা ছবির দিকে। সুন্দরী একটি নারীর ফোটো; এ নারীটিকে সে চেনে, অথচ চেনেও না। টানা টানা আশ্চর্য ওই দুটি চোখ বৃজলালের আজন্ম চেনা, কিন্তু সে—চোখে এ কেমনতর দৃষ্টি? পাতলা দুটি অধরে এ হাসিই বা কেমন ধারা? মাথায় আধ—ঘোমটা কই? ঘাড়ের কাছে নুয়ে—পড়া এলো খোঁপায় ফুলের মালা জড়ানো!

    ছবির নীচে লেখা, বঙ্গ নাট্যাকাশের দীপ্তিময়ী তারা। আর, তার তলায় যে নাম লেখা, সেটা তার মায়ের নাম নয়। তবুও তার মায়েরই ছবি।

    তার মা থিয়েটারের অভিনেত্রী! না, না, এ অসম্ভব।

    বৃজলালের মুঠোয় জোর ছিল। পত্রিকাখানা তার শক্ত মুঠোর মধ্যে দুমড়ে মুচড়ে বিশ্রী হয়ে গিয়েছিল। নীলকান্ত চটে গিয়ে বললে, এঃ অমন সুন্দর সুন্দর ছবিগুলো কি করলি বল দেখি!

    উত্তরে বৃজলাল শুধু বলেছিল, বেশ করেছি।

    তারপরে দলা পাকানো পত্রিকাখানা ছুড়ে ফেলে দিয়েছিল জানলা গলিয়ে। তার মুখ—চোখের পানে তাকিয়ে নীলকান্ত একটি কথাও আর বলেনি।

    সেদিন বাড়ি ফিরে মাকেও সে কোনো কথা বলেনি। বারবার শুধু সেই ছবিখানার সঙ্গে মায়ের মুখখানা মিলিয়ে দেখেছিল। সেই মুখ কি এই মুখ?

    ঠিক বিশ্বাস করতে পারেনি বৃজলাল। বিশ্বাস করতে ইচ্ছে হয়নি। সন্দেহ মেটাবার জন্যে সে যা করেছিল, আজ পরিষ্কার মনে আছে তার।

    কখনও যা করেনি, সে একদিন তাই করল।

    মায়ের বাক্স থেকে কয়েকটা টাকা চুরি করল। আর, সেই টাকা নিয়ে সে গেল থিয়েটারে একা। টিকিটও কিনল একখানা, কিন্তু ঢুকল না।

    থিয়েটারের লবিতে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সে দেখতে লাগল অভিনেত অভিনেত্রীদের ফ্রেমে বাঁধানো ছবিগুলো। সব ছবির মাঝখানে সুন্দর একটা ফ্রেমে সাজানো রয়েছে সেই পত্রিকায় দেখা ছবি। লবির ভিড়টা সেইখানেই বেশি।

    ঢুকতে গিয়েও ঢুকতে পারে না বৃজলাল। কেমন ভয় ভয় করে। সে যা দেখতে চায় না, যদি থিয়েটারের ভেতরে গিয়ে তাই দেখতে পায়!

    প্রায় ঘণ্টাখানেক বাদে বৃজলাল ঢুকল থিয়েটার—হলে। টর্চের আলো ফেলে একজন লোক তার আসন দেখিয়ে দিল। জীবনে তার সেই প্রথম থিয়েটারে আসা। সেই প্রথম আর সেই শেষ।

    নিজের আসনে বসে বৃজলাল ভাল করে তাকাল স্টেজের দিকে। তার মা কোথায়? নেই তো’! একজন বৃদ্ধ, একটি যুবক আর একটি বউ কথা বলছে। তাদের কথা সে তেমন মন দিয়ে শোনেনি, শুধু রতনবাঈ নামটা বার কয়েক তার কানে এল। রতনবাঈকে নিয়েই এদের মধ্যে একটি অশান্তি দেখা দিয়েছে।

    হঠাৎ স্টেজের আলো নিভে গেল, আর অন্ধকারের মাঝেই স্টেজটা ঘুরতে লাগল। আবার যখন আলো জ্বলে উঠল, তখন চমৎকার মেয়ে—গলার গান শুরু হয়ে গেছে। বৃজলাল দেখলে, একটা সুসজ্জিত ঘরের মাঝখানে ফরাস পাতা, তার একদিকে একজন সারেঙ্গী, আর একজন তবলা বাজাচ্ছে। অন্যদিকে আগের দৃশ্যে দেখা সেই যুবকটি আর তার দু’—চারজন বন্ধু তাকিয়ায় ঠেস দিয়ে বসে। সামনে একটা বোতল আর গোটাকয়েক গেলাস। কিন্তু মাঝখানে ও কে? পরনে ঝলমলে পেশোয়াজ, পিঠে জরিজড়ানো দীর্ঘ বেণী, চোখে কাজল, ঠোঁটে রং—গানের তালে তালে ও কে নাচছে হাজার লোকের চোখের সামনে? ও কি রতনবাঈ, না তার মা?

    চোখ দুটো বড় বড় হয়ে উঠল বৃজলালের। দপদপ করতে লাগল কপালের দু’পাশের রগ। নিজের নিঃশ্বাসে নিজেরই ঠোঁট পুড়ে যেতে লাগল। স্প্রিংয়ের পুতুলের মতো দাঁড়িয়ে উঠল সে, চীৎকার করে ডাকতে গেল, মা! কিন্তু গলা দিয়ে আওয়াজ বেরোবার আগেই পেছনের আসনের এক দর্শক বলে উঠল, বসুন মশাই, বসুন।

    মুহূর্তে বৃজলাল নিজেকে সামলে নিল। তারপর ঝড়ের বেগে বেরিয়ে গেল প্রেক্ষাগৃহ থেকে। যেন সবাই জেনে ফেলেছে, সে থিয়েটারের অভিনেত্রীর ছেলে—যে অভিনেত্রী হাজার লোকের চোখের সামনে রং মেঘে বাঈজী সেজে দেহ দুলিয়ে নাচতে লজ্জা পায় না!

    সেদিন অনেক রাতে বাড়ি ফিরেছিল বৃজলাল। দশটার পর।

    মা জেগে বসেছিলেন। সেই মা! তেমনি সুন্দর শান্ত, টানা টানা চোখ দু’টিতে তেমনি মিষ্টি কোমল চাউনি, পরনে লাল পেড়ে সাদা শাড়ি। জন্ম থেকে যে মূর্তি দেখছে বৃজলাল।

    এক মুহূর্তের জন্য সমস্ত জ্বালা জুড়িয়ে গেল তার। কিন্তু পরক্ষণেই মনে পড়ে গেল থিয়েটারের সেই দৃশ্য। স্টেজের ওপর ঝলমলে পেশোয়াজ পরে জরিজড়ানো বেণী দুলিয়ে রাঙা ঠোঁটে বিশ্রী একরম হাসি ছড়িয়ে রতনবাঈয়ের সেই নাচ!

    আবার জ্বালা করে উঠল মনটা।

    তবু সে কোনো কথা বলেনি। কোনো প্রশ্ন করেনি মাকে। মা খেতে ডাকায় শুধু বলেছিল, খিদে নেই। তারপর শুয়ে পড়েছিল নিজের বিছানায়।

    মা একবার তার কপালে হাত দিয়ে দেখেছিলেন। আর কিছু বলেননি।

    শুয়ে পড়েছিল বটে, কিন্তু ঘুম আসেনি প্রায় সারারাত। তাদের বাড়ির কাছে—পিঠে একটা রাজবাড়ির দেউড়িতে প্রহরে প্রহরে ঘণ্টা বাজতো। সে—রাতে শুয়ে শুয়ে বৃজলাল শুনেছিল বারোটা একটা দু’টো বেজে যাচ্ছে। এমনি করে সাড়ে তিনটেও বেজে গেল। খোলা জানলা দিয়ে ঠাণ্ডা হাওয়া তার তপ্ত কপালে হাত বুলিয়ে দিল। জানলার একেবারে ধারেই যেন নেমে এল শেষরাতের ঝকঝকে বড় তারাটা। তারপর আর কিছু দেখেনি সে, আর কোনো শব্দও শোনেনি। ঘুমিয়ে পড়েছিল অগাধে।

    সেদিন রাত সাড়ে তিনটি অবধি জেগে জেগে কি সব ভেবেছিল, বৃজলাল আজও তা ভুলে যায়নি।

    বারবার একটা কথাই তার মনে চোরকাঁটার মতো খচখচ করছিল। তার মা থিয়েটারের নটী—বাঈজী সেজে রং মেখে দেহ দুলিয়ে হাজার লোকের চোখের সামনে নাচে। নীলকান্তর সঙ্গে তার বেশি মেলামেশা না থাকলেও তার মুখে সে শুনেছিল থিয়েটারের অভিনেত্রীরা ভাল হয় না, ভদ্র হয় না। ওই নীলকান্ত যখন শুনবে বৃজলালের মা ডায়মন্ড থিয়েটারের নাম—করা অভিনেত্রী, তখন কি ভাববে? কি বলবে সে বৃজলালকে?

    অন্ধকারের মধ্যেও বৃজলাল যেন স্পষ্ট দেখতে পেল, নীলকান্তর মুখে বাঁকা হাসি, চোখে ঘেন্নার দৃষ্টি, ভঙ্গিতে তাচ্ছিল্য।

    সেই বাঁকা হাসি, ঘৃণার দৃষ্টি ক্রমশ ছড়িয়ে পড়বে আরও বহুজনের মুখে চোখে। সবাই এড়িয়ে চলবে তাকে, বন্ধু বলতে লজ্জা পাবে। অবজ্ঞা করবে। সামনে হয়তো কিছু বলবে না, কিন্তু আড়ালে মুখ বেঁকিয়ে বলবে, নটীর ছেলে!

    আর্শ্চয, একটা রাতের মধ্যেই মানুষের পরিচয় আকাশ—পাতাল তফাত হয়ে যায়! কাল সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে তার কোনো ভদ্র পরিচয় থাকবে না। সে আর ভদ্রঘরের ছেলে নয়। একটা রাস্তার ছেলের সঙ্গে বৃজলালেরও আর কোনো তফাত নেই।

    অথচ তার এই লজ্জাকর ঘৃণ্য পরিচয়টা এতদিন লুকিয়ে রাখাটাই তার জীবনে আরও বেশি লজ্জার। কাল থেকে কি করে সে মুখ দেখাবে স্কুলে? কেমন করে উঁচু মাথায় দাঁড়াবে সে ফাদার রেক্টরের সামনে?

    আজ সে বুঝতে পারছে, কেন তার বাবা চুপিচুপি আসেন আর চুপিচুপি চলে যান। কেন থাকেন না তাদের সঙ্গে, কেন তাকে কাছে টেনে আদর করেন না। বাপ হয়েও ছেলেকে তিনি ঘৃণা করেন নিশ্চয়। সে যে নটীর ছেলে।

    বৃজলালের মনে হল, তবে আর কেন ভদ্র হওয়ার চেষ্টা—ভাল হওয়ার প্রয়াস? হাজার পালিশ করলেও গিলটি কখনো সোনা হয়? কি হবে লেখাপড়া শিখে ভাল হয়ে? একটা নটীর ছেলেকে দুনিয়ায় কে ভাল বলে ভদ্র বলে স্বীকার করবে? সারা গায়ে তার মায়ের দেওয়া কালির দাগ লেগেছে, সেই কালো পরিচয় নিয়েই তাকে জীবন কাটাতে হবে।

    না, অনর্থক সে আর ভদ্র হওয়ার চেষ্টা করবে না।

    সে রাতে নিজের ওপর সহসা কেমন যেন নিষ্ঠুর আর হিংস্র হয়ে উঠেছিল ষোলো বছরের কিশোর বৃজলাল।

    .

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleদেরি হয়ে গেছে – প্রচেত গুপ্ত
    Next Article মহাভারতের মহারণ্যে – প্রতিভা বসু
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }