Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    দশটি রহস্য উপন্যাস – প্রণব রায়

    প্রণব রায় এক পাতা গল্প1004 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    লাল নীল – ৪

    চার

    খোলা চিঠিখানা হতে নিয়ে নীলাদ্রি গুপ্ত হল—এ পায়চারি করছে, আর দেয়াল—ঘড়ির দিকে তাকাচ্ছে বারবার। ঠোঁটের কিনারে ওক কাঠের পাইপটা নিভে গেছে অনেকক্ষণ, দাঁতে কামড়াচ্ছে শুধু। বোঝা যাচ্ছে, ভেতরে ভেতরে অসীম চাঞ্চল্য।

    সকালের ডাকে এসেছে চিঠিখানা। কলকাতা থেকে, তারই নামে। প্রথমবার চিঠিখানা পড়ে চমকে উঠেই পাথর হয়ে গিয়েছিল নীলাদ্রি। দ্বিতীয়বার পড়তেই বুকের রক্ত আবার চঞ্চল হয়ে উঠেছিল। পায়চারি থামিয়ে নীলাদ্রি চিঠিখানা তৃতীয়বার পড়লে:

    শ্রীচরণেষু,

    আমি মরিনি, মরণের দোরগোড়া থেকে ফিরে

    এসেছি। নেহাত পরমায়ু ছিল বলেই বোধ হয়।

    আমায় চোখে দেখলেও তুমি প্রথমে বিশ্বাস করতে

    পারবে না জানি। বিশ্বাস আমি নিজেই করতে পারিনি

    যে, চিতায় শুয়েও বেঁচে উঠব। তবু বলছি, ব্যাপারটা

    অলৌকিক নয়। কেমন করে বেঁচে উঠলাম, সে অনেক

    কথা। চিঠিতে জানানো সম্ভব নয়, দেখা হলে জানাব।

    এখন আমি অনেকটা সুস্থ। কাল সন্ধের ট্রেনে

    ঝাউবনী পৌঁছুব। স্টেশনে গাড়িটা পাঠিও। ইতি—

    লালী

    এও কি সম্ভব? লালী বেঁচে উঠেছে—বেঁচে আছে। এ যদি অলৌকিক ঘটনা না হয় তো অলৌকিক কাকে বলে? কিন্তু এমন ঘটনা জগতে এই প্রথম নয়। ভাওয়ালের রাজকুমার মৃত বলে ঘোষিত হবার পর ঠিক এমনি অলৌকিক ভাবেই বেঁচে উঠেছিলেন। বাঁচিয়েছিল এক সন্ন্যাসী। গল্পকথা নয়, বাস্তব সত্য! কে বাঁচাল মরা লালীকে? জড়বাদীরা বলবে, প্রকৃতির খেয়াল। ধর্মবিশ্বাসীরা বলবে, ঈশ্বরের অনুগ্রহ। আর নীলাদ্রি? সে কি বলবে? সে বলবে নিয়তির খেলা!

    কিন্তু এ চিঠি যদি সত্যিই লালীর না হয়? যদি আর কারো লেখা হয়?

    নীলাদ্রি আবার তাকাল চিঠিখানার দিকে। দ্রুততর হল পায়চারি। না, এ হাতের লেখা নীলাদ্রির চেনা। হুবহু লালীর লেখা মনে হচ্ছে। এ কি জাল হতে পারে? যদিও বা হয়, নীলাদ্রির চোখের দৃষ্টি আর হাতের স্পর্শ ঠিক চিনে নেবে তার লালীকে।

    দেয়াল—ঘড়ির দিকে তাকাল নীলাদ্রি। প্রায় ঘণ্টাখানেক আগে সে মোটর পাঠিয়েছে স্টেশনে। আর, এই একঘণ্টা ধরে অসহ্য ক্লান্তিকর প্রতীক্ষায় ছটফট করছে নীলাদ্রি। প্রতি মিনিট গুনছে—প্রতি সেকেন্ড গুনছে।

    নিচের ড্রাইভে মোটরের আওয়াজ শোনা গেল। থামল পোর্টিকোতে এসে।

    কার্পেট—পাতা কাঠের সিঁড়িতে মৃদু পায়ের শব্দ।

    নীলাদ্রির স্নায়ু—শিরাগুলো টানটান হয়ে উঠল। হলঘরে সব ক’টা ঝাড়বাতি একে একে জ্বেলে দিলে। যেমন জ্বালিয়েছিল সেই পার্টির রাতে। তারপর কটা রঙের দুই চোখের তারায় সমস্ত চেতনা কেন্দ্রীভূত করে চেয়ে রইল দরজার দিকে।

    হ্যাঁ, যে এল সে লালীই বটে। একটু রোগা দেখাচ্ছে শুধু, আর আইভরির মতো পীতাভ সাদা রঙটা খানিক ময়লা হয়েছে মাত্র। আর কোনও তফাত নেই।

    কিন্তু লালীর পিছন পিছন যে লোকটি এসে সেলাম করে দাঁড়াল, তাকে দেখে নীলাদ্রির আরও চমক লাগল। সে আর কেউ নয়, হঠাৎ—ফেরারী জাফর আলি খানসামা।

    বেশ কিছুক্ষণ কথা বললে না কেউ। নীলাদ্রি চেয়ে রইল লালীর দিকে, আর ঘরের আশেপাশে তাকিয়ে হঠাৎ এক সময় লালীর আইভরি—গাল বেয়ে টসটস করে নেমে এল জল। তারপর আস্তে আস্তে বললে, এ জন্মে আবার এই ঘরে—এই সংসারে ফিরে আসব, তা কি ভেবেছিলাম? লোকে জানল আমি মরে গেছি, অসহ্য যন্ত্রণার মধ্যে আমারও মনে হল অন্ধকারের অতলে আমি ডুবে যাচ্ছি! কিন্তু আসলে কি হয়েছিল জানো?

    নীলাদ্রি এগিয়ে এল। লালীকে বুকে জড়িয়ে বললে, এখনও তোমাকে দুর্বল মনে হচ্ছে। ও—কথা থাক, পরে শুনব।

    .

    বলতে শুরু করল জাফর আলি। শুরু করল সেই একুশে জুলাইয়ের দুর্যোগ—রাত থেকে। শিলাই নদীর ধারে সেই শ্মশানঘাট থেকে।

    জাফর বললে, লালদিদির লাশ শোয়ানো হল কাঠের বিছনেয়। আগুন দেয়—দেয়, ঠিক তখুনি ডন সাহেব চিল্লিয়ে উঠল, বান আসছে। ব্যাস, দেখতে দেখতে শ্মশানঘাট ভোঁ—ভাঁ। শিলাইয়ের বান তো নয়, যেন সাক্ষাৎ যমদূত। জানের ভয় বড় ভয়, মিছে কথা বলব না হুজুর, আমারও মনটা চেয়েছিল পালাতে। কিন্তু পালাতে গিয়ে পা দু’খান আটকে গেল। চোখ গিয়ে পড়ল কাঠের বিছনেয় লালদিদির ওপর। কলজেটা কেমন মোচড় দিয়ে উঠল। ছোট্ট বয়েস থেকে ওই লালদিদি আমারই কোলে—পিঠে মানুষ, আর আজ এই নিশুতি শ্মশানঘাটে ওকে একা ফেলে যাব? অমন সোনার দেহ বানের জলে ভেসে যাবে! না, না, তা হবে না, ওর বাপের নিমক খেয়েছি যে!

    তিন কুড়ি উমর হলে কি হয়, শরীলে আমার তাকত আছে হুজুর। এক ঝটকায় লালদিদির লাশ তুলে নিলেম কাঁধে, তুলে নিয়েই ছুট! ডাইনী শিলাইয়ের বান তখন পিছনে তাড়া করেছে! ছুট—ছুট—ছুট! ঝিমঝিমে জ্যোচ্ছনায় জঙ্গলের মধ্যে অনেকটা দূর এগিয়ে তবে হাঁপ ছাড়লেম। কিন্তু কী তাজ্জব! লালদিদির গা’টা গরম—গরম ঠেকছে কেন? মরা মানষের গা কি গরম হয়? সাপে—কাটা লাশ যেমন ছ্যাঁকছেঁকে হয়, ঠিক তেমনতর!

    অথচ দাস ডাক্তার বলেছে, লালদিদি খতম! কেমন সন্দ হল। সাত—পাঁচ ভেবে লালদিদিকে কাঁধে ফেলে আবার ছুট। একদম সেই পাহাড়ি বস্তিতে বুড়ো নেপালি হেকিমের ডেরায়।

    চ্যাটাইয়ের ওপর লালদিদির লাশ রেখে, নেপালি বুড়ো মিটমিটে আলোয় অনেকক্ষণ ধরে দেখলে আর বিড় বিড় করে কি সব আওড়ালে। তারপর ঘাড় নেড়ে বললে, হবে। সারারাত ধরে বুড়ো লালদিদিকে কত কি জড়িবুটি খাওয়ালে, শোঁকালে, মাখালে। আমি ঠায় বসে রইলেম হুজুর। বুকের মধ্যে ‘কি হয়, কি হয়’ ভাব। পরদিন বেলা যখন দুপুর, তখন—ইয়া আল্লা—লালদিদি ঘোলা ঘোলা চোখ মেলে তাকাল।

    একটু থামল জাফর আলি। তারপর বললে, এবার তুমি বলো লালদিদি।

    চলে গেল জাফর। নীলাদ্রি স্থির হয়ে শুনছে। লালীকে প্রশ্ন করলে, কি হয়েছিল তোমার?

    সেই নেপালি বুড়ো বললে, আমাকে বিষ খাওয়ানো হয়েছিল। বিষটা পাহাড়ি সাপের বিষ জাতীয়। এই বিষে হৃদযন্ত্রের কাজ আস্তে আস্তে থেমে আসে, কিন্তু সেটা মৃত্যু নয়! আটচল্লিশ ঘন্টার মধ্যে বিষ কাটাতে পারলে হৃদযন্ত্রের কাজ আবার স্বাভাবিক হতে পারে। ভগবান বুদ্ধকে নমস্কার যে ঠিক সময়ে তিনি শিলাই নদীতে বান এনেছিলেন। সামান্য কিছু দেরি হলেই আমার দেহটার ছাই ঝাউবনীর বাতাসে—

    নীলাদ্রি কেমন যেন অসহিষ্ণু গলায় বলে উঠল, তারপর—তারপর কি হল বলো।

    লালী বললে, আমার পুরো চেতনা ফিরে আসতে—চোখের দৃষ্টি পরিষ্কার হতে আরও দুটো দিন গেল। তারপর নেপালি বুড়ো জাফরকে বললে, এইবার রুগিকে নিয়ে যেতে পারো।

    নীলাদ্রি ক্ষোভের সঙ্গে বললে, আশ্চর্য! এত কাণ্ড হয়ে গেল, অথচ আমাকে একটা খবরও দিলে না—বাড়িতেও ফিরে এলে না!

    লালী বললে, প্রথমে বাড়িতে ফিরে যেতেই মন চেয়েছিল, পরে ভেবে দেখলাম, মরবার পর এত শিগগির বাড়িতে না ফেরাই ভালো। কপার টাউন চমকে উঠবে—অনেক সন্দেহ, অনেক প্রশ্ন, অনেক কৌতূহলের মুখোমুখি দাঁড়াতে হবে তোমায়। সে এক বিশ্রী ব্যাপার হবে। তার চেয়ে বরং আমার মরার কথাটা লোকের মনে থিতিয়ে আসুক, আমিও সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠি, তখন ফেরা যাবে।

    তারপর?

    তারপর ঝাউবনীতে থাকা আর সম্ভব হল না। কখন কে জেনে ফেলবে কে জানে। তাছাড়া আরও চিকিৎসার দরকার—শরীর তখনো ভীষণ দুর্বল। মনে পড়ল অর্ধেন্দুকাকার কথা—বাবার অ্যাটর্নি বন্ধু। রাতের অন্ধকারে লুকিয়ে কলকাতায় চলে গেলাম—জাফরকে সঙ্গে নিয়ে। অর্ধেন্দুকাকা যতট আশ্চর্য হলেন, তার চেয়ে বেশি চিন্তিত হলেন আমার জন্যে। একটা ভালো নার্সিং হোমে আমাকে ভর্তি করিয়ে দিলেন। মাস দেড়েক সেখানে থাকার ফলে আমি অনেকটা সুস্থ ও স্বাভাবিক হয়ে উঠলাম। তখন আবার মন টানতে লাগল ঘরের দিকে। হাজার হলেও স্ত্রীলোকের মন তো! মরে গিয়েও নিজের হাতে—গড়া ঘর—সংসারের ওপর মায়া—মমতা যায় না। তাই যে ঝাউবনী একদিন চিরকালের মতো আমাকে বিদায় করে দিয়েছিল, সেইখানেই আবার ফিরে এলাম।

    লালীর চোখে জল এসে গেল। স্বামীর মুখের দিকে তাকিয়ে বললে, কিন্তু কেন এমন হল বলতে পারো? আমি তো কখনও কারো সুখের অন্তরায় হইনি—কারো ক্ষতি করিনি! তবে আমায় বাঁচতে দিতে কার এত অনিচ্ছা?

    পাইপের ধোঁয়ায় নীলাদ্রির মুখখানা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে না। কয়েক মুহূর্ত নিস্তব্ধ সে লালীকে বুকের কাছে টেনে নিলে। বললে, যা হবার হয়ে গেছে। তার জের টেনে আর লাভ কি লালী? এই ব্যাপার নিয়ে পুলিশকে ঘাঁটাঘাঁটি করতে দিলেই শত্রু ধরা পড়বে, এমন কথা জোর করে বলা যায় না। মাঝখান থেকে সারা কপার টাউন কানাকানি করবে—আমাদের পারিবারিক সম্ভ্রম নষ্ট হবে। তবে তুমি যদি চাও—

    না, থাক।—একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে লালী বললে, যা অজানা, তা অজানাই থাক।

    স্বামীর বাহুবেষ্টন থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে লালী যাবার জন্যে এগোল।

    নীলাদ্রি হঠাৎ ডাকলে, একটা কথা লালী—

    বলো।—লালী ফিরে তাকাল।

    কাকে সন্দেহ হয় তোমার?

    জ্যান্ত লালীর মুখে মরা হাসি দেখা দিল। নিষ্প্রাণ নির্জীব অদ্ভুত সে হাসি। একটু চুপ করে থেকে সে বললে, আমার ভাগ্যকে।

    তারপর চলে গেল।

    .

    অয়ন বললে, লালী গুপ্তার বেঁচে ওঠাকে তুমি কি বলতে চাও হীরা সিং? অলৌকিক ব্যাপার, না বিজ্ঞানের মারপ্যাঁচ?

    হীরা সিং মৃদু হেসে বললে, কোনোটাই না। আমি বলি মিসেস গুপ্তার মৃত্যুটাই একটা ধাপ্পা!

    অর্থাৎ?

    মিসেস গুপ্তাকে মারবার চেষ্টা হয়েছিল ঠিকই। কিন্তু বিষমেশানো শ্যাম্পেন তিনি এত কম খেয়েছিলেন যে মরলেন না—চেতনা হারালেন মাত্র। আততায়ী তবু সুযোগ নিতে ছাড়ল না। তার হাতের লোক ধীরাজ ডাক্তারকে দিয়ে হার্টফেলিওর ঘোষণা করে রাতারাতি লাশ জ্বালিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করল। কিন্তু আততায়ীর নিতান্ত দুর্ভাগ্য, শিলাই নদীর বান তার প্ল্যানটাই বানচাল করে দিল। মিসেস গুপ্তা ফিরে আসায় এটাই প্রমাণ হল যে তিনি মারা গেছেন বলে তাঁকে শ্মশানে নিয়ে যাওয়া হয়নি—তাঁকে মারবার উদ্দেশ্যেই নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তাই নয় কি?

    অয়ন ঘাড় নেড়ে বললে, আমারও ধারণা তাই। যাই হোক, মরতে মরতে লালী বেঁচে ওঠায় আমরাও বেঁচে গেলাম। খুনিকে খুঁজে বেড়ানোর আর দরকার কি? আমাদের ছুটি।

    না, অয়ন।—গম্ভীর হয়ে হীরা সিং বললে, আমাদের কাজ আরও বাড়ল।

    কি রকম?

    আমার পুলিশি অভিজ্ঞতায় কপার টাউনের বাতাসে ক্রাইমের গন্ধ আরও উগ্রভাবে পাচ্ছি।

    খুলে বলো।

    পাপ থেকেই পাপের জন্ম। একটা অপরাধ আরেকটা অপরাধকে টেনে আনে। খুনি হাল ছেড়ে বসে থাকবে ভেবো না। তোমাকে আরও সজাগ হতে হবে অয়ন, আরও সতর্ক।

    অনেক ভাবনার মেঘ এসে জড়ো হল অয়নের মুখে।

    হীরা সিং পুনরায় বললে, মিসেস গুপ্তা ফিরে আসার পর ডন রিভাসের ভাবগতিক লক্ষ করেছ?

    অয়ন বললে, নজর রেখেছি, তবে ভাবগতিক আগের মতোই—তফাত কিছু দেখিনি।

    কান্তা কালেলকর?

    হঠাৎ বেশি গম্ভীর হয়ে পড়েছে। কথাও কম বলে।

    আচ্ছা, লালী গুপ্তার ফিরে আসাটা নীলাদ্রি গুপ্ত কিভাবে নিয়েছেন?

    একজন ভালোমানুষ পত্নীপ্রেমিক স্বামীর পক্ষে যেভাবে নেওয়া উচিত। অয়ন বললে, গুপ্তসাহেব চাপা স্বভাবের মানুষ—বাইরে উচ্ছ্বাস দেখা যায় না। তবে লালী মারা যাবার পর তিনি সামাজিক মেলামেশা ছেড়েই দিয়েছিলেন, এখন সেটা আবার শুরু হয়েছে—ক্লাবেও তাঁকে আগের মতো দেখা যাচ্ছে।

    নিজের হাতঘড়ির দিকে তাকালে অয়ন। ন’টা বাজে। উঠে পড়ে বললে, চলি হীরা সিং, ক্লাবে যাব।

    .

    ‘বারে’ ঢুকে চারদিকে চোখ বুলিয়ে নিলে অয়ন।

    কোণের টেবিলে তাসের জুয়ার আসর জমেছে। কিন্তু সেরা জুয়াড়ি আজ নেই। তাহলে কি ডন রিভাস আজ ক্লাবে আসেনি? খুবই অস্বাভাববিক ব্যাপার। অয়ন ভালো করেই জানে যে, দিনান্তে একবার জুয়ার টেবিলে না বসলে ডনের ডিনার হজম হয় না। আর, এও জানে যে ক্লাব—হাউসের বার—রুম ছাড়া অন্য ঘরের প্রতি তার কোনো টান নেই। তবে আজ গরহাজির কেন? কোথায় গেল সে? কোথায় যেতে পারে? রাতের ছায়ায় গা ঢাকা দিয়ে কপার টাউন থেকে ভাগল নাকি? না, সে উপায় নেই, হীরা সিং কড়া পাহারা রেখেছে।

    অয়ন এবার হলের মাঝামাঝি তাকালে। সাহানী নামক হংস—দম্পতির সঙ্গে এক টেবিলে নীলাদ্রি বসেছে। মিঃ সাহানী বলছেন, কপার টাউনের লোকেরা নাকি কানাঘুষো করছে, কিন্তু মিসেস গুপ্তা বেঁচে ওঠায় আমরা যে কী খুশি হয়েছি নীল, বলে বোঝাতে পারব না। দেখা যাচ্ছে, আজকের এই ভেজালের যুগে মৃত্যুও ভেজাল!

    নিজের রসিকতায় সাহানী নিজেই হেসে উঠলেন। মিসেস সাহানী বললেন, থামো! লালী ভাগ্যবতী, নীলাদ্রির ভালোবাসার টানেই সে বেঁচে উঠেছে। আমি মরলে কি আর বেঁচে উঠতাম?

    হংসের প্রতি হংসী নিদারুণ কটাক্ষ হানলেন।

    বিব্রতভাবে মিঃ সাহানী বলে উঠলেন, কী মুশকিল! তুমি যে এখনও বেঁচে আছ, আমার ভালোবাসার টান কেমন করে প্রমাণ করব ডিয়ার?

    নীলাদ্রির ঠোঁটে সেই পেটেন্ট হাসিটি দেখা দিল। হুইস্কির পাত্রটা তুলে ধরে বললে, লালীর দীর্ঘ জীবন!

    তাদের টেবিলের পাশ কাটিয়ে অয়ন এগিয়ে যাচ্ছিল, নীলাদ্রি দেখতে পেয়ে ডাকলে, এই যে অয়ন!

    বলুন স্যার।—থেমে গেল অয়ন।

    লালীর বেঁচে ওঠা নিয়ে কপার টাউন নাকি কানাঘুষো করছে?

    তাই নাকি?

    সাহানীর দিকে একবার তাকিয়ে নীলাদ্রি অয়নকে বললে, যারা কানাকানি করছে, তাদের জানিয়ে দিও, আমার পারিবারিক ব্যাপার নিয়ে অপরের মাথা ঘামানো আমি পছন্দ করি না।

    সুযোগ পেলে জানিয়ে দেব।

    হ্যাঁ, আরেকটা খবর জানিয়ে দিও। লালী ফিরে আসায় এবার পুজোর সময় কপার টাউনের ওয়াকার্স আর অফিসারদের তিন মাসের মাইনে বাড়তি বোনাস হিসেবে দেওয়া হবে।

    গদগদ গলায় চিফ অ্যাকাউন্টেন্ট সাহানী বললেন, খুবই আনন্দের কথা!

    ওটা অবশ্য দেওয়া হবে আমার পার্সোন্যাল অ্যাকাউন্ট থেকে। নীলাদ্রি বললে।

    অবাক হবার ভঙ্গিতে অয়ন বললে, আপনার নিজের অ্যাকাউন্ট থেকে! কেন?

    গভীর স্বরে নীলাদ্রি বললে, লালীকে ফিরে পেয়ে আজ পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী লোক। আমি চাই, সকলেই আমার সুখের ভাগ নিক।

    ঈষৎ মাথা নুইয়ে সেখান অয়ন থেকে সরে গেল। একটা প্রশ্ন মাথায় ঘুরতে লাগল। তিন মাসের মাইনে একস্ট্রা বোনাস? টাকার অঙ্কটা কম হবে না, আর সেটা যাবে নীলাদ্রি গুপ্তের নিজের পকেট থেকে! হঠাৎ গুপ্তসাহেব এতটা দিলদরিয়া হয়ে পড়লেন কেন? স্ত্রীকে ফিরে পেয়ে সত্যিই কি তিনি সবাইকে তাঁর সুখের ভাগ দিতে চান? না, লালীর হঠাৎ মরা আর হঠাৎ বাঁচা নিয়ে কপার টাউনের আবহাওয়ায় যে সন্দেহের কানাকানি ছড়িয়ে পড়ছে, বকশিস দিয়ে সেটা বন্ধ করতে চান? যদি তাই হয়, নীলাদ্রি গুপ্তর মতো পদস্থ ব্যক্তির পক্ষে সেটাই তো স্বাভাবিক। কে চায় ঘরের কথা নিয়ে বাইরে আলোচনা হোক?

    তবু একটা ‘কিন্তু’ থেকে যায়। সে কিন্তুটা যে কি, অয়ন তা স্পষ্ট বুঝতে পারছেন না। লালীর সঙ্গে দেখা হলে হয়তো বুঝতে পারা যাবে।

    ভাবতে ভাবতে বার—কাউন্টারে গিয়ে দাঁড়াল অয়ন।

    হেল্লো বোস! কি দেব?—বার—ম্যানেজার জিজ্ঞেস করলে।

    অয়ন বললে, জিন অ্যান্ড লাইম। তোমার সবচেয়ে রেগুলার খদ্দের ডন রিভাসের খবর কি?

    ম্যানেজার বললে, ওর কথা আর বোলো না। অনেক টাকা বাকি ফেলেছে জন, ধারে ড্রিঙ্কস দেওয়া তাই বন্ধ করে দিয়েছি।

    তাই বুঝি আজকাল আর আসে না?

    ক’দিন আসেনি। আজ হঠাৎ একটু আগে এসেছিল, কান্তা কালেলকরের খোঁজ করে আবার চলে গেল।

    জিন—লাইমের দাম মিটিয়ে অয়ন আর দাঁড়াল না। কান্তার খোঁজ করছে ডন! তাহলে আগে কান্তা কোথায় দেখা যাক।

    বল—রুমে গিয়ে অয়ন উঁকি দিল। ভালো নাচিয়ে বলে কান্তার নাম আছে, নাচের পার্টনার হিসেবে তার চাহিদাও আছে। তাই নাচের মজলিশে রোজই তাকে দেখা যায়। কিন্তু ডান্স ফ্লোরে আজ সে নেই। ডনের মতো কান্তাও আজ ক্লাবে গরহাজির! সবার আগোচরে কোথাও না কোথাও দুজনের দেখা হয়েছে নিশ্চয়। কিন্তু কে জানে কোথায়!

    হতাশ হয়ে বারান্দায় বেরিয়ে এল অয়ন। বৃথাই আজ ক্লাবে আসা। কোনও নতুন সূত্র সংগ্রহ করা গেল না।

    শ্লথ পায়ে অন্যমনস্কের মতো হাঁটতে লাগল অয়ন। কিন্তু বারান্দার বাঁকের মুখে এসেই দাঁড়িয়ে পড়ল। হ্যাঁ, তার অনুমানে ভুল হয়নি। সবার আগোচরেই দুজনের দেখা হয়েছে, কিন্তু এত কাছে অয়ন আশা করেনি।

    বারান্দাটা বাঁক নিয়ে যেখানে শেষ হয়েছে, সেখানে ক্লাবের পুরোনো ভাঙা কিছু আসবাব জড়ো করা। এদিকটা একেবারে নির্জন। অল্প পাওয়ারের একটা আলো জ্বলছে। অয়ন দেখল, জড়ো—করা আসবাবের পাশে দাঁড়িয়ে কথা কইছে ডন আর কান্তা। পা টিপে টিপে ভাঙা আসবাবের আড়ালে গিয়ে দাঁড়াল সে।

    উত্তেজিত গলায় ডন বলছিল, টাকা—টাকা চাই আমার!

    কান্তা বললে, চুক্তি অনুসারে তোমার পাওনা তো মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে। আবার কি হিসেবে চাও?

    হিসেব—টিসেব বুঝি না। অনেক দেনা হয়েছে আমার, তাই টাকার দরকার।

    তোমার পাওনা ছাড়া আরও দু—দফা টাকা তোমাকে পাইয়ে দি!য়েছি। আর পারব না। এবার তুমি নিজে চাও গে।

    নিজেই চেয়েছিলাম, কিন্তু তোমার লোক দিতে রাজি হচ্ছে না।

    কান্তা বললে, রাজি হচ্ছে না তো আমি কি করব?

    ভালো চাও তো রাজি করাও তাকে।—ডন অসহিষ্ণু হয়ে উঠেছে।

    কান্তা তেতো গলায় বললে, কে ভেবেছিল ডাইনিটা মরেও বেঁচে উঠবে! আমাদের ব্যাড লাক—অগাধ টাকা হাতে এসেও এল না!

    কান্তাকে কথা শেষ করতে না দিয়েই ডন বলে উঠল, আমার কাজ আমি করেছি, ও জিনিস এই ডন রিভাস ছাড়া কেউ জোগাড় করতে পারত না। তোমাদের কাজ হাসিল হয়নি বলে আমি দায়ী নই। টাকা আমার চাই।

    অল্প আলোতেও বুঝতে পারা গেল, কান্তার ঝকঝকে চোখ দুটো আরও ঝকঝকে হয়ে উঠেছে। তবু নরম গলায় বললে, তুমি কি আমাদের ব্ল্যাকমেল করতে চাও ডন?

    সোজা রাস্তায় টাকা আদায় না হলে তাই করতে হবে। পুলিশের কাছে তোমার লোককে ফাঁসিয়ে দিতে এক মিনিটও লাগবে না।

    সাপের মতো হিসহিস করে উঠল কান্তা : তাহলে তুমিও কি বাঁচবে?

    হা হা করে হেসে উঠল ডন। সঙ্গে সঙ্গে তার মুখে হাত চাপা দিয়ে কান্তা বললে, চুপ।

    মুখ থেকে হাতখানা সরিয়ে ডন বললে, আমার ভাবনা তোমায় ভাবতে হবে না সুন্দরী! হংকং সাংহাই ফেরত ডন পুলিশের পরোয়া করে না। তোমার ডার্লিংকে কি করে বাঁচাবে, সেটা তুমি ভাবো। বেশি কিছু বলতে চাই না।

    ডন চলে যাচ্ছিল, অদ্ভুত রকম ঠান্ডা গলায় কান্তা বললে, শোনো ডন, কত টাকা চাই তোমার?

    আপাতত হাজার পাঁচেক।

    কাল সন্ধেবেলা পাবে।

    এই তো ভালো মেয়ের মতো কথা! কোথায় দেখা পাব তোমার? এখানে?

    না, না, ক্লাবে নয়। নিরিবিলি জায়গায়—ধরো, শিলাইয়ের ধারে।

    ও—কে! গুডনাইট কান্তা!

    ডন চলে গেল শিস দিতে দিতে। কয়েক সেকেন্ড চুপ করে দাঁড়িয়ে থেকে কান্তাও এগিয়ে গেল। বেশ খানিকটা দূরত্ব বজায় রেখে অয়ন তার পিছু নিলে।

    বল—রুমে গিয়ে ঢুকল কান্তা। অয়নও। সাহানী—দম্পতি আর নীলাদ্রি তখন বার ছেড়ে সেখানে এসে জুটেছে। ওয়ালজের তালে তালে শুরু হয়েছে নাচ—জোড়ায় জোড়ায়।

    কান্তাকে দেখে নীলাদ্রি এগিয়ে এল। বললে, এসো কান্তা, আমি নাচের পার্টনার খুঁজছি।

    মুখে মৃদু হাসি এনে সৌজন্যের সঙ্গে কান্তা বললে, আমার সৌভাগ্য।

    দুজনে ডান্স—ফ্লোরে চলে গেল। সেই দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে অয়ন হঠাৎ মিসেস সাহানীকে বললে, যদি কিছু মনে না করেন—আপনাকে পার্টনার পেতে পারি?

    হাসিমুখে হংসী বললেন, নিশ্চয়—যদি চল্লিশ পার—হওয়া পার্টনার তোমার পছন্দ হয়।

    অয়ন দূর থেকে লক্ষ করলে, নীলাদ্রির বুকের সন্নিকটে থেকে কান্তা কি যেন বলছে। নাচতে নাচতে সে চেষ্টা করতে লাগল নীলাদ্রি আর কান্তার কাছে কাছে থাকতে। কিন্তু যতবারই ওদের কাছাকাছি আসে, ততই ওরা সরে সরে যায়। খানিক পরে অয়ন দেখলে নীলাদ্রি—কান্তা নাচতে নাচতে বল—রুম থেকে বারান্দায় বেরিয়ে যাচ্ছে।

    নাচের শেষে নীলাদ্রি একা ফিরে এল। বললে, কান্তার শরীরটা হঠাৎ খারাপ লাগছে, তাই চলে গেল।

    .

    কোয়ার্টার্সে ফিরে অনেক রাত অবধি অয়নের ঘুম এল না। সিগারেটের পর সিগারেট পুড়ল। ভর্তি হয়ে গেল অ্যাশ—পট। তবু রহস্যের জট খুলল না।

    তার সমস্ত হিসেব গোলমাল হয়ে গেছে আজ। ভুল হয়ে গেছে অঙ্কে।

    ডন আর কান্তার সম্পর্ক নিয়ে এতদিন সে যা ভেবেছিল, আজ ক্লাবে গিয়ে বোঝা গেল যে, তার সবাটাই মিথ্যে। কান্তাকে ডন শাসিয়েছে, ‘টাকা না পেলে তোমার লোককে পুলিশের কাছে ফাঁসিয়ে দিতে আমার এক মিনিটও লাগবে না!’ এই কথা থেকে স্পষ্টই কি প্রমাণ হয়ে যায় না যে ডন রিভাস আর যাই হোক, কান্তার প্রণয়ী নয়? প্রণয়ী হলে সে কান্তাকেই ব্ল্যাকমেল করে টাকা আদায়ের চেষ্টা করতে না। আর, কান্তার সঙ্গে তার প্রণয়—সম্পর্ক যখন নেই, তখন খুনির দলের একজন হলেও খুনি সে নয়।

    ডন বারবার কান্তাকে বলেছে ‘তোমার লোক’। বলেছে, ‘আমার ভাবনা তোমায় ভাবতে হবে না, তোমার ডার্লিংকে কি করে বাঁচাবে তাই ভাবো!’ সুতরাং আরও একবার পরিষ্কার হয়ে গেল যে কান্তার প্রেমিকই লালী গুপ্তার খুনি। সে ধীরাজ ডাক্তার নয়, ডন রিভাস নয়, কোনো তৃতীয় ব্যক্তি।

    কিন্তু কে সে—লালী বেঁচে ওঠার যার স্বার্থে ঘা লাগল, অগাধ টাকা যার হাতে এসেও এল না?

    কে সেই নেপথ্য নায়ক তৃতীয় ব্যক্তি?

    হঠাৎ বিছানায় উঠে বসল অয়ন। মাথার গোড়ায় টেলিফোন। রিসিভার তুলে ডায়াল করলে হীরা সিংকে।

    হ্যালো, আমি অয়ন বলছি। যত তাড়াতাড়ি পারো কলকাতায় অর্ধেন্দুবাবুর সঙ্গে দেখা করতে হবে তোমায়—প্রবীণ অ্যাটর্নি অর্ধেন্দু রায়চৌধুরি, লালীর বাবার পুরোনো বন্ধু।…কেন? মনে হচ্ছে, রহস্যের ধোঁয়া কেটে গিয়ে এইবার একটা স্পষ্ট ক্লু দেখতে পাব! কাল সব বলব— এখন বড় ঘুম পাচ্ছে।

    রিসিভার রেখে, আলো নিভিয়ে, নিশ্চিন্তে শুয়ে পড়ল অয়ন।

    .

    ধলাই পাহাড়ের কোলে পাইনের জঙ্গল, ওপাশ দিয়ে পাহাড়ের পা ছুঁয়ে বয়ে চলেছে শিলাই।

    আকাশে সূর্যাস্ত হচ্ছে।

    পাইনের ঠান্ডা ছায়ায় ঝরা পাতার পুরু গদির ওপর বসেছে অয়ন আর লালী। আকাশের দিকে শূন্য দৃষ্টি মেলে চুপ করে বসে আছে লালী। নিজের ভেতরে নিজে ডুবে আছে যেন।

    অয়ন তার দিকে তাকিয়ে থেকে বললে, কপার টাউনে ফিরে আসার পর তুমি কেমন যেন বদলে গেছ লালী।

    চোখ ফিরিয়ে বললে, কপার টাউনে ফিরে আসার পর নয়, বলো মরে যাবার পর বদলে গেছি। আমার জীবনটাই যে বদলে গেছে অয়ন!

    কিন্তু আমি দেখছি, তুমি ছাড়া তোমার জীবনের কিছুই বদলায়নি। তোমার বাড়ি, তোমার ঐশ্বর্য, তোমার প্রতিদিনের সংসার—যাত্রা, তোমার স্বামীর যত্ন—ভালোবাসা আগেও যা ছিল, এখনও তাই। বদলে গেছ শুধু তুমি।

    নিরাসক্ত গলায় লালী বললে, কি করে বুঝলে? কই, আর কেউ তো একথা বলে না!

    একটু শান্ত হেসে অয়ন বললে, তোমাকে আমার মতো আর কেউ বোধ হয় জানে না। তাই তফাতটা কেউ টের পায়নি। একটা প্রশ্ন করব লালী? নিজেকে তুমি এমন করে গুটিয়ে নিয়েছ কেন? সেই একুশে জুলাইয়ের রাতটাকে তুমি কি এখনও ভুলতে পারোনি? তোমার মনে কি সেই ভয়ের ছায়া রয়েছে?

    কয়েক মুহূর্ত লালী জবাব দিলে না। তারপর আস্তে আস্তে বললে, তুমি ঠিকই ধরেছ অয়ন। একটা অজানা ভয় এখনও আমাকে ভয় দেখায়। আমার কেবলই মনে হয়, কি যেন বিপদ আমার পায়ে পায়ে ঘুরছে।

    কেন এমন মনে হয় লালী?

    কেন জানো? মরবার আগে আমি জীবনের সুন্দর দিকটাই শুধু দেখেছিলাম। এখান থেকে আমরা যেমন চাঁদের উজ্জ্বল পিঠটাই দেখি! কিন্তু বেঁচে ওঠার পর জীবনের যে চেহারা দেখতে পোলাম, তা বড় কুৎসিত—চাঁদের অপর পিঠের মতো অন্ধকার! এখানে মানুষ মানুষকে বিষ দেয়—মানুষই মানুষের শত্রু।

    অয়নের মুখখানা গম্ভীর হয়ে এল। জীবনের খারাপ দিকটাও জেনে রাখা ভালো। খারাপ অভিজ্ঞতা মানুষকে সাবধান হতে শেখায়।

    লালী বললে, কিন্তু সাবধান হতে শেখা মানেই তো মানুষকে অবিশ্বাস করতে শেখা! তাহলে সংসারে স্নেহ মায়া ভালোবাসা—সবই কি নকল? তাহলে কি বুঝব কেউ আমার আপন নয়—কেউ আমাকে চায় না!

    পুরোনো আইভরির মতো লালীর মুখের রঙ ফ্যাকাশে দেখাচ্ছে। ঠোঁট দু’খানা কাঁপছে থরথর করে।

    মমতায় ভরে উঠল অয়নের বুক। সেই লালী। মুর্শিদাবাদে তার কৈশোর—সঙ্গিনী, তার প্রথম যৌবনের মনোনীতা! লালীর একখানা হাত নিজের মুঠির মধ্যে নিয়ে অত্যন্ত সহজ ভাবে সে বললে, না লালী, সংসারে অন্তত একজন আছে যে তোমাকে চায়। আর কিছুই সে চায় না—শুধু চায় তুমি থাকো। কেননা, তুমি থাকলেই তার থাকার আনন্দ, তুমি না থাকলে তার সবটাই ফাঁকা!

    অয়নের মুখের দিকে চেয়ে লালীর দুই চোখ স্নিগ্ধ হয়ে এল। বললে, আমি জানি অয়ন, তোমার চেয়ে বড় বন্ধু আমার আর নেই। তাই তোমার কাছে যা বলি, সবার কাছে তা বলতে পারি না।

    তোমার এই ভয়ের কথা গুপ্তসাহেবকে বলেছ?

    বলেছি। নীল বলে, সেই একুশে জুলাইয়ের ভয়টা আমার মনের বাতিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। ওটাকে আমল দিতে নেই।

    ঠিকই বলেন।—অয়ন প্রসঙ্গ পাল্টালে : আচ্ছা, নীলাদ্রি গুপ্তকে তুমি তো পছন্দ করে বিয়ে করেছিলে?

    না, পছন্দ করেছিলেন আমার বাবা।

    জানাশোনা হল কি করে?

    পূর্ব বাংলার এক জমিদার ফ্যামিলির ছেলে ও। বাংলা ভাগ হবার পর কলকাতায় আসে। ছাত্র হিসেবে ব্রিলিয়ান্ট, জিওলজিতে অনার্স। বাবার কাছে এসেছিল জীবনে প্রতিষ্ঠালাভের চেষ্টায়। বাবা তখন কপার টাউনের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর, নীলকে নিজের পি. এ. করে নিলেন। কয়েক বছরের মধ্যেই ও ডিরেক্টর হয়ে গেল। বাবা তখন ওর সঙ্গে আমার বিয়ে দিলেন।

    একটা কথা খোলাখুলি জিজ্ঞেস করতে চাই লালী। বিয়ে করে তুমি সুখী হয়েছ তো?

    হয়েছিলাম বইকি! নীলাদ্রি রূপে—গুণে অসাধারণ, এমন স্বামী পেলে কোন মেয়ে না সুখী হয়? শুধু স্বামী—ভাগ্য নয়, বাবা মায়া যাবার আগে সতেরো লাখ টাকা আমার নামে রেখে গেলেন। তবু তোমার কথাটাই মনে পড়ে আয়ন—’বড় বেশি সুখ ভাল নয়!’ মাঝে মাঝে মনে হয়, যদি গরিব ঘরের মেয়ে হতাম, সাধারণ স্বামী নিয়ে সাধারণ জীবন কাটিয়েই হয়তো সত্যিকার সুখ পেতাম! আমার ভাগ্যকে কেউ হিংসে করত না!

    কে তোমায় হিংসে করে বলে মনে হয়?

    এক সেকেন্ড চুপ করে থেকে লালী বললে, কান্তা কালেলকর।

    অয়ন স্তব্ধ হয়ে গেছে। শিলাইয়ের ওপারে আকাশের পৃষ্ঠায় লাল পেন্সিলের রেখাগুলো কে যেন রবার দিয়ে ঘষে মুছে দিচ্ছে। অয়ন উঠে পড়ে বললে, চলো, ফেরা যাক।

    পাইন—জঙ্গলের রাস্তায় মোটর রেখে ড্রাইভার অপেক্ষা করছিল। গাড়ির কাছে এসে অয়ন বললে, তুমি যাও। আমার ফিরতে দেরি হবে।

    গাড়িতে উঠে বসল লালী। তার দিকে একটু ঝুঁকে অয়ন পুনরায় বললে, এই কথাটা মনে রেখো যে, তোমার বিপদ—আপদে একটা মানুষ সব সময় জেগে আছে। যখনই দরকার বুঝবে, আমাকে ডেকে পাঠিও।

    স্নিগ্ধ হেসে লালী ঘাড় নাড়লে। গাড়ি চলে গেল।

    অয়ন উল্টো দিকে পা চালালে। তার চোখ দুটো শিলাইয়ের দিকে।

    কান্তা বলেছিল ডন রিভাসকে ‘কাল সন্ধেবেলা টাকা পাবে।’ ক্লাবে নয়, শিলাইয়ের ধারে। সন্ধ্যা নেমেছে, ওদেরও আসার সময় হয়েছে।

    আশেপাশে সতর্ক চোখ রেখে অয়ন শিলাইয়ের ধার দিয়ে এগোতে লাগল। তার মাথার মধ্যে একটা নামই ঘুরছে—কান্তা! কান্তা। পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে ব্ল্যাকমেলার ডনের মুখ বন্ধ করতে আসছে কান্তা। হীরা সিংকে দিয়ে তাকে অনায়াসেই অ্যারেস্ট করানো যেত। কিন্তু না, অন্য রাস্তা ধরাই বুদ্ধিমানের কাজ। ব্ল্যাকমেলারের নীতির বালাই থাকে না। তবে যে—মুখ টাকা দিয়ে বন্ধ হয়, সে—মুখ আবার টাকা দিয়েই খোলা যায়? তাহলে কি রহস্যের চাবিকাঠি অয়নের হাতে চলে আসবে না? পুলিশকে না বলুক, অয়নকে ডন নিশ্চয়ই বলে দেবে খুনি কে। কান্তা চলে গেলে আজই ডনের সঙ্গে লুকিয়ে দেখা করতে হবে।

    ভাবতে ভাবতে অয়ন শিলাইয়ের তীরে একটা বড় পাথরখণ্ডের কাছে পৌঁছতেই থমকে দাঁড়িয়ে পড়ল। পাথরটার পাশে কে একজন চিৎ হয়ে শুয়ে পড়ে আছে। এমন বেয়াড়া সময় কে এখানে? ঝুপসি অন্ধকারে চেনা যায় না।

    পকেট থেকে টর্চ বার করে জ্বালতেই অয়ন দারুণ চমকে উঠল।

    নির্জন নদীর ধারে শুয়ে রয়েছে ডন রিভাস। হাতের শিথিল আঙুলের ফাঁকে একটা কর্ক—টিপড সিগারেট। দেহের কোথাও কোনও আঘাতে চিহ্ন নেই।

    তবু অয়নের বুঝতে দেরি হল না যে ডনও ধীরাজ ডাক্তারের সঙ্গী হয়েছে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleদেরি হয়ে গেছে – প্রচেত গুপ্ত
    Next Article মহাভারতের মহারণ্যে – প্রতিভা বসু
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }