Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    দশটি রহস্য উপন্যাস – প্রণব রায়

    প্রণব রায় এক পাতা গল্প1004 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    বহুরূপী – ৩

    ৩

    পার্ক স্ট্রিট থেকে চলুন ক্লাইভ রো। ইন্ডিয়া অ্যাসুরেন্সের প্রকাণ্ড সৌধ। তারই তিনতলায় জেনারেল ম্যানেজারের অফিস—ঘর। কথা হচ্ছিল সেইখানেই। ম্যানেজার মিঃ আয়ার বলছিলেন, হ্যাঁ, খবরের কাগজে দেখেছি জানকীনাথের মৃত্যুসংবাদ। বড় দুঃখিত হলাম খবরটা পড়ে। এখন বলুন, আপনাদের জন্যে কি করতে পারি?

    প্রৌঢ় লোকটি গলায কম্ফর্টার জড়িয়ে রুপো—বাঁধানো লাঠির ওপর দুই হাতের ভর দিয়ে বসেছিলেন। বার দুই কেশে তিনি বললেন, আগে পরিচয় করিয়ে দিই, ইনি জমিদার সাহেবের একমাত্র কন্যা অপর্ণা দেবী।

    আর আপনি?

    কাশি সামলে প্রৌঢ় লোকটি বললেন, আমি ভূজঙ্গধর হাজারিকা। জানকীনাথ চৌধুরির এস্টেটে তেইশ বচ্ছর ম্যানেজারি করছি।…. হ্যাঁ, বলছিলাম কি, এই অপর্ণা মায়ের নামেই বছর তিনেক আগে জমিদার সাহেব আপনাদের কোম্পানিতে পনেরো হাজার টাকার ইন্সিওর করে যান। অপর্ণা—মা সেই টাকাটার জন্যেই আপনার দ্বারস্থ হলেন।…

    মিঃ আয়ার বললেন, ও! আশা করি, মৃত জানকীনাথের ডেথ সার্টিফিকেটখানা এনেছেন?

    আজ্ঞে হ্যাঁ, এনেছি বইকি!

    কোটের বুক পকেট হাতড়ে ভুজঙ্গধর একটা লম্বা পুরু খাম বার করে মিঃ আয়ারের হাতে দিলেন। মিঃ আয়ার জিজ্ঞাসা করলেন, আর পলিসি?

    ভূজঙ্গধর বললেন, এতেই আছে, দেখুন।

    মিঃ আয়ার খামের ভেতরকার কাগজপত্রে মন দিলেন।

    ভূজঙ্গধর সামনের দিকে ঝুঁকে বলতে লাগলেন, গোড়ার কথাটা খুলে বলি আপনাকে মিঃ আয়ার। অল্প বয়সে বিধবা হওয়ায় অপর্ণা—মায়ের জীবনটাই নষ্ট হয়ে গেছে। জমিদার সাহেবের জামাই ছিলেন দেখতে যেমন রাজপুত্রের মতন, তেমনি কৃতী ছেলে। যাক সে—কথা, বলতে গেলে মায়ের আমার চোখের জল বাধা মানবে না।

    পাশের চেয়ারে অপর্ণা তার অশ্রুভারাক্রান্ত বিষণ্ণ চোখ দুটি অন্য দিকে ফিরিয়ে নিল।

    হ্যাঁ, কি বলছিলাম,—একটা নিঃশ্বাস ফেলে ভূজঙ্গধর আবার শুরু করলেন, জমিদার সাহেব ছিলেন অত্যন্ত খেয়ালি প্রকৃতির লোক। সারা জীবন শিকার আর আমোদ—প্রমোদের পেছনে বহু টাকা ব্যয় করে শেষ জীবনে ফতুর হয়ে পড়েছিলেন। মেয়ের ভবিষ্যতের ভাবনা আগে কখনও ভাবেননি; তাই শেষ জীবনে মেয়ের নামে এই টাকাটা তিনি ইন্সিওর করে যান। এখন এই টাকাটাই অপর্ণা—মায়ের একমাত্র সম্বল।

    তারপর গলা নামিয়ে ভূজঙ্গধর বললেন, বাকি সমস্ত সম্পত্তি দেনার দায়ে নিলাম হতে বসেছে কিনা। এখন ইন্সিওরেন্সের এই টাকাটা শিগগির না পেলে মাকে আমার পথে দাঁড়াতে হয়—অত বড় ঘরের মেয়ে—

    ভূজঙ্গধরের গলা ধরে এল। বার দুই কেশে গলা সাফ করে তিনি আবার বললেন, তাই আপনার শরণাপন্ন হয়েছি মিঃ আয়ার। এখন আপনি ছাড়া আর গতি কি!… কি বল মা?

    সমর্থনের জন্যে ভূজঙ্গধর একবার অপর্ণার দিকে তাকালেন।

    ম্লান বিষণ্ণ চোখ দুটি আয়ারের মুখের দিকে তুলে অপর্ণা ধীরে ধীবে বললে, আমার এ বিপদে আপনার সাহায্য আশা করতে পারি কি মিঃ আয়ার?

    সুন্দরী নারীর কালো চোখের দৃষ্টিবাণ ব্যর্থ হবার নয়। মাদ্রাজি যুবকের মর্মস্থলে বিদ্ধ হতে দেরি হল না। মিঃ আয়ার নরম গলায় বলে উঠলেন, নিশ্চয়ই পারেন। টাকাটা যাতে ঠিকমতো পান, সে—বিষয়ে আমি চেষ্টার ত্রুটি করব না।

    কবে নাগাদ আশা করতে পারা যায়?—ভূজঙ্গধর প্রশ্ন করলেন।

    নিয়ম অনুসারে অন্তত মাসখানেক লাগবার কথা।

    কালো চোখের সকরুণ মিনতি মিঃ আয়ারের মুখের পানে আবার তুলে ধরে অপর্ণা বললে, এক মাস!… অতদিন দেরি হলে আমাকে সত্যিই পথে দাঁড়াতে হবে মিঃ আয়ার। বিয়ের ছ’মাসের মধ্যেই স্বামী হারিয়েছি বলে শ্বশুরবাড়িতে আমার ঢোকবার অধিকার নেই। বাপের আশ্রয়ও ভেঙে গেল। এই টাকাটা শিগগির না পেলে এখন আমি কি করব—কোথায় গিয়ে দাঁড়াব বলতে পারেন?

    কালো চোখের শুক্তির ভেতর থেকে টল টল করে কয়েকটা তরল মুক্তো গড়িয়ে পড়ল।

    মিঃ আয়ারের গলা আরও নরম হয়ে গেল। বললেন, কি করব বলুন, আমি কোম্পানির চাকর। কেম্পানির আইন ভাঙতে তো পারি না!

    ঘাড় নাড়তে নাড়তে ভূজঙ্গধর বললেন, তা তো বটেই। তা তো বটেই! তবু বিধবা মেয়েটার মুখের দিকে তাকিয়ে আপনি যদি টাকাটা আরও শিগগির পাওয়ার বন্দোবস্ত করে দেন—মানে, আইন তো আপনাদের হাতেই—

    কম্পিত ঠোঁট নেড়ে অপর্ণা শুধু বললে, আপনার কাছে চিরকৃতজ্ঞ থাকব মিঃ আয়ার।

    আশ্বাস দিয়ে মিঃ আয়ার বললেন, আমি কথা দিচ্ছি, স্পেশাল কেস হিসেবে আপনার টাকাটা যত শিগগির পারি তোলবার ব্যবস্থা করে দোব। সপ্তাহ দুই পরে আপনি আমার একখানা চিঠি পাবেন মিঃ হাজারিকা।

    আবেগে ভূজঙ্গধর লাঠির ওপর ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে উঠলেন: আপনি মহৎ মিঃ আয়ার, সদাশয় ব্যক্তি! হ্যাঁ, চিঠি আসামে পাঠাবার দরকার নেই, কলকাতার ঠিকানাতেই পাঠাবেন। আচ্ছা, আজ আসি তাহলে— এসো মা—

    অপর্ণাকে সঙ্গে নিয়ে কম্ফর্টার—জড়ানো ভূজঙ্গধর লাঠিতে ভর দিয়ে কাশতে কাশতে বিদায় নিলেন।

    .

    সবে সন্ধে হয়েছে।

    ওয়েলেশলির কফি হাউসের দোতলার ফ্ল্যাটে বসে জোহরা অলস ভাবে কেশ—প্রসাধন করছে। পায়ের কাছে কুণ্ডলী পাকিয়ে পোষা কাবুলি বিড়ালটা পরম আদরে তার পায়ে মুখ ঘষছে। ঘরে আলো জ্বালা হয়নি। সুকোমল স্বপ্নের মতো পাতলা অন্ধকার ঘরটি ছেয়ে আছে। জানলার বাইরে আকাশে শুধু একটি তারা দেখা যাচ্ছে—সন্ধ্যাতারা।

    আজকাল প্রতি সন্ধ্যায় এই নিরালা অবসরে জোহরার কি যেন হয়! তার বুকের ভেতরটা কেমন ফাঁকা ফাঁকা লাগে, দুনিয়াটা শূন্য মনে হয়। কি যেন চেয়েছিল সে জীবনে, কি যেন পায়নি! সেই ব্যর্থতায় মনটা যেন মাঝে মাঝে ভেঙে পড়তে চায়।

    অথচ কিসের অভাব তার? কি দেয়নি তাকে লালজি? দিল্লির পাঁকের তলা থেকে কুড়িয়ে এনে তাকে বাদশাজাদির তখতে বসিয়েছে লাল। আরাম, স্বাচ্ছন্দ্য, অলঙ্কার সজ্জা, বিলাসের উপকরণ, কোনও কিছুরই অভাব নেই তার।

    তবু—তবু কেন বিলাসিনী নর্তকী জোহরার মনের ভিতরে এক কাঙালিনী ভিক্ষার অঞ্জলি পেতে বসে বসে কাঁদে? কি চায় সে? কিসের ক্ষুধা তার? কিসের তৃষ্ণা? সন্ধ্যার ওই একক তারার মতো নিজেকে তার মাঝে মাঝে কেন এত একা মনে হয়?

    কেন, সে তা জানে। নিজের মনের অগোচর কিছুই নেই। জোহরা জানে যে, সে ভালবেসেছে। আর এই ভালবাসাই তাকে করেছে রিক্ত।

    কিন্তু কাকে ভালবাসল জোহরা?

    বলবে না—দুনিয়ার কাউকে জোহরা বলবে না তার নাম শুধু বলতে পারে একজনকে, যদি সন্ধ্যার এই নিভৃত অবসরে সুকোমল স্বপ্নের মতো পাতলা অন্ধকারে ছাওয়া এই ঘরে এসে সে দাঁড়ায়।

    কে?

    দরজায় একটা ছায়া পড়তেই জোহরা চমকে উঠল।

    বন্দেগি বাঈজি!

    হাসিমুখে লালজি প্রবেশ করলে।

    এক মহূর্তের জন্যে জোহরার সারা দেহ—মন যেন অবশ হয়ে গেল। তারপর দাঁড়িয়ে উঠে বললে, এসো। এমন অসময়ে যে?

    একটু দরকার আছে বাঈজি।

    জোহরার মুখে ছায়া পড়ল: দরকার না হলে তুমি আসো না, তা জানি। দরকারের জন্যেই দিল্লির পথ থেকে আমাকে কুড়িয়ে এনেছিল। দরকার যেদিন মিটে যাবে, সেদিন আবার আমায় পথে ফেলে যেতে তোমার দেরি হবে না, তাও জানি। একবার পেছন ফিরে তাকাবারও সময় হবে না হয়তো।

    একটা কৌচে ধপ করে বসে পড়ে লালজি অবাক হয়ে বলল, কি ব্যাপার? থিয়েটারের পার্ট মুখস্থ করছ নাকি? স্টেজে চাকরি নেবে বুঝি?

    জোহরার চোখ দুটো দপ করে একবার জ্বলে উঠেই স্তিমিত হয়ে গেল।

    আমি তাচ্ছিল্য সইতে পারি, কিন্তু ঠাট্টা সইতে পারি না লাল।…

    লালজি বললে, ঠাট্টা আমি করিনি জোহরা, আজ ইন্ডিয়া অ্যাস্যুরেন্সের ম্যানেজারের ঘরে যে নিখুত অভিনয় তুমি করে এসেছ, তাতে তোমার নাট্যসম্রাজ্ঞী উপাধি পাওয়াই উচিত।

    বাঁকা চোখে চেয়ে জোহরা বললে, অভিনয়ে তুমিও কম যাও না লাল। তোমার আগাগোড়াই অভিনয়!

    হয়তো তাই। কিন্তু মাদ্রাজি ম্যানেজার আজ সারারাত সুন্দরী অপর্ণার স্বপ্ন দেখবে নিশ্চয়ই! সুতরাং আশা হয়, টাকাটা পাওয়া যাবে নির্ঘাৎ।

    জোহরা ধীরে ধীরে লালজির কাছে এসে বসল। বললে, একটা কথা জিজ্ঞাসা করব লাল?

    এত ভণিতা কেন?

    কথাটা তোমায় কোনোদিন জিজ্ঞাসা করিনি কি না!

    তাহলে আডও জিজ্ঞাসা না করলে পারতে। যাকগে, কি জানতে চাও, বলো।

    এত টাকা নিয়ে তুমি কি কর?

    লালজি এক মুহূর্ত জোহরার মুখের দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর বললে, খেলা করি। টাকা আমার খেলনা।

    সশব্দে হেসে উঠল লালজি।

    জোহরা স্তব্ধ হয়ে চেয়ে রইল। লালজিকে আজও সে বুঝতে পারে না—না পারে নিজেকে বোঝাতে।

    লালজি উঠে আলমারি থেকে একটি’জিনে’র বোতল আর একটা গেলাস বার করে আনল। তারপর জোহরাকে বলল, নিচে থেতে বয় ইয়াসিনকে একবার ডাক দাও তো জোহরা।

    একটু পরেই ইয়াসিন এসে দাঁড়াল। এই লোকটিকে আমরা দেখেছিলাম, কফি হাউসে জোহরার কানে কানে ‘সাত নম্বর কেবিন’ বলতে।

    লালজি বললে, তোমার একটা পুরনো লুঙ্গি, একটা ময়লা গেঞ্জি আর একটা তোয়ালে এখুনি চাই ইয়াসিন।… হ্যাঁ, এক প্যাকেট কাঁচি সিগারেট এনো।

    জী আচ্ছা।

    ইয়াসিন বেরিয়ে গেল।

    জোহরা প্রশ্ন করল, ওসব জিনিস দিয়ে কি হবে?

    লালজি জবাব দিলে, দুনিয়াদারির নাটকে নতুন ভূমিকায় নামতে হবে। আমি যে বহুরূপী!

    .

    আজ রাত দশটায় আমার সঙ্গে চলুন খিদিরপুরের কিং জর্জেস ডকের ফটকে। লক্ষ করুন, সবুজ—চেক লুঙ্গিপরা আধময়লা গেঞ্জি গায়ে, তৈলাক্ত চুলে পরিপাটি করে টেরি—কাটা যে মুসলমান জাহাজি মাল্লাটি এইমাত্র এল। ডান হাতের তর্জনি আর মধ্যমার ফাঁকে একটা সিগারেট চেপে ধরে ঘন ঘন টানছে আর শিস দিয়ে একটা গজলের সুর ভাঁজছে। ভেতরে যেতেই ফটকে মোতায়েন কনস্টেবল হেঁকে উঠল, কৌন হ্যায়?

    জড়িত কণ্ঠে জবাব এল, মহম্মদ রশিদ।

    কাঁহা যাতা?

    ইস্টিমারমে—এস, এস, স্যাভেজ গার্ল।

    কাঁহা গিয়া থা?

    লোকটা তার পাতলা নুর চুমরে একটু হাসল। তারপর বললে, থোড়া পিনে কো লিয়ে সিপাহিজি—ইয়ে চাঁদনি, ইয়ে আশকভ্যরি বাহার… মওজ উড়াও সিপাহিজি—জওয়ানি বীত যায়েগী!

    হা হা করে মহম্মদ রশিদ হেসে উঠল।

    কনস্টেবল আবার হেঁকে উঠল, এই হল্লা কর মৎ! চুপচাপসে চলা যাও।

    স—স—স!—মহম্মদ রশিদ নিজের ঠোঁটে আঙুল চেপে আওয়াজ করলে। তারপর টলতে টলতে ভেতরে ঢুকে গেল।

    ওকেই আমাদের অনুসরণ করতে হবে।

    ফাল্গুনের এই জ্যোৎস্না—রাত্রে কিছু তরল পদার্থের গুণে মহম্মদ রশিদের প্রাণে তখন বোধ করি জোয়ার এসেছে। হঠাৎ সে গলা ছেড়ে গান ধরলে:

    তু মেরা চাঁদ, ম্যায় তেরি চাঁদনি হো…

    গাইতে গাইতে লোকটা স্থiলিত পায়ে এগোতে লাগল, যেখানে একটা স্প্যানিস কার্গো—বোট এসে লেগেছে। জাহাজটা আসছে সিঙ্গাপুর থেকে। তারই সামনে দাঁড়িয়ে মহম্মদ রশিদ গানের নামে তারস্বরে চিৎকার করতে লাগল:

    নেহি দিলকা লাগানা কোই দিল্লাগী—কোই দিল্লাগী—

    একটু পরেই জাহাজের ওপর থেকে একটা চাপা শিসের আওয়াজ শোনা গেল। যেদিকটার কুলীরা মাথা খালাস করছিল, সেদিকে না গিয়ে মহম্মদ রশিদ অন্য দিকে একটা দড়ির সিঁড়ি বেয়ে আশ্চর্য ক্ষিপ্রতার সঙ্গে উঠে গেল। জাহাজের এদিকটায় আবছা অন্ধকারে গোল টুপি পরা একটি মুর্তি রেলিঙের ধারে দাঁড়িয়েছিল। মহম্মদ রশিদ চাপা গলায় ডাকলে, পিটার! মূর্তিটি এগিয়ে এল। একজন স্প্যানিস খালাসি। মহম্মদ রশিদ পরিষ্কার ইংরেজিতে জিজ্ঞাসা করলে, খবর কি? বেবি কোথায়? পিটার জবাব দিলে, বেবি তোমার জন্যে তৈরি হয়ে আছে। আগে টিকিট দাও।

    মহম্মদ রশিদ ট্যাঁক থেকে একটা আংটি বের করে দিলে। হীরের টুকরোটা ঝলসে উঠল। আংটিটা হাতে নিয়ে পিটার লুব্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলে উঠল আ!

    তারপর নিজের কোমর থেকে একটা চওড়া বেল্ট খুলে মহম্মদ রশিদের হাতে দিলে।

    রশিদ জিজ্ঞাসা করল, কতটা আছে?

    পাউন্ডখানেক হবে।

    বেলটটা লুঙ্গির ওপরে নিজের কোমরে আঁটতে আঁটতে রশিদ বললে, আরও বেশি আশা করেছিলাম।

    পিটার তার কাঁধ চাপড়ে বললে, বেটার লাক নেকস্ট টাইম।

    পুরনো খদ্দেরকে ভুলে যেও না পিটার। পরের বার কিছু স্প্যানিস মদ আমার চাই। তাই হিরের আংটিটা আগাম দিয়ে রাখলাম।

    ও. কে ডিয়ার।

    মহম্মদ রশিদ আবার দড়ির সিঁড়ি বেয়ে নেমে গেল। তারপর গলা ছেড়ে গান ধরে টলতে টলতে ফটকের রাস্তা ধরল।

    কনস্টেবল আবার তাকে রুখলে, ফির কাঁহা যাতা হায়?

    চোখের একটা ইসারা করে রশিদ বললে, সচ বাতাউ? তারপর কনস্টেবলের কানের কাছে মুখ এগিয়ে ফিস ফিস করে কি যেন বলল।

    ক্রুদ্ধ কনস্টেবল তাড়া দিয়ে উঠল হট!… দিল্লাগী মিলা হায়?

    তেরি কসম ইয়ার—নেশার ঝোঁকে মহম্মদ রশিদ হেসে গড়িয়ে পড়ল।

    কনস্টেবল আবার ধমকে উঠল, কেয়া হায় তেরে পাশ?

    কুছ নেহি ইয়ার। স্রিফ ইয়ে দিল—

    তারপর পুনরায় জড়িত কণ্ঠে চিৎকার করে গান ধরল:

    এক দিলকা টুকড়ে হাজার হুয়ে

    কোই ইঁহা গিরা, কোই উঁহা গিরা—

    নেশার টলমল রশিদকে দেখে কনস্টেবলের বোধকরি ধারণা হল, লোকটা বেহেড মাতাল ছাড়া সন্দেহজনক কিছু নয়। বিরক্ত হয়ে সে বললে, যা ভাগ!

    ‘আদাব মেরি রাজা’ বলে এক দীর্ঘ কুর্নিশ জানিয়ে রশিদ স্থলিত পায়ে ফটক থেকে বেরিয়ে গেল। প্রতি মুহূর্তেই মনে হচ্ছিল, লোকটা হোঁচট খেয়ে এখুনি পড়বে। কিন্তু আশ্চর্য, ডক এলাকা পার হয়ে বড় রাস্তায় পা দিতেই রশিদের চলন গেল বদলে। দ্রুতপায়ে এগিয়ে সে একটা বড় গাছের নিচে কালো রঙের একটা অপেক্ষমাণ মোটরে টপ করে উঠে পড়ল। চালাও মাহাঙ্গু,—খবরদার, হেড লাইট জ্বেলো না যেন।

    গাড়িটা অন্ধকারে সাঁ করে বেরিয়ে গেল।

    রাস্তার উলটো দিকে একখানা জিপ দাঁড়িয়ে ছিল। ভেতরে দুটি ছায়ামূর্তি। একজন অপরকে বললে, গাড়িখানার পেছু নাও গুপ্ত। এ লালজি ছাড়া কেউ নয়।

    .

    খিদিরপুর ব্রিজ পার হয়ে কালো রঙের গাড়িটা রেসকোর্সের পাশের রাস্তা ধরল।

    কানা মাহাঙ্গুর একটা চোখ রাত্রে বেড়ালের মতো জ্বলে। বার দু’য়েক মুখ বাড়িয়ে পেছন দিকে তাকিয়ে সে বললে, একটা জিপ পিছু নিয়েছে হুজুর। একটা গাড়ি খিদিরপুরে অনেকক্ষণ ধরে আমাদের থেকে তফাতে দাঁড়িয়েছিল। এ সেই গাড়িটাই মালুম হচ্ছে।

    পিছনের সিটে মহম্মদ রশিদ তখন লুঙ্গি আর গেঞ্জির বদলে ট্রাউজার আর হাফ শার্ট পরেছে। মুখে দাড়িরে চিহ্নও নেই। দাঁতে দাঁত চেপে বলে উঠল, বেকুফ! একথা আগে বলোনি কেন?

    মাহাঙ্গু জিজ্ঞাসা করলে, স্পিড দেব? তাতে কোনো লাভ হবে না। জিপটাকে এগিয়ে যেতে দাও।

    গাড়ি ততক্ষণে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের কাছে এসে পড়েছে। অকস্মাৎ মাহাঙ্গু প্রাণপণে ব্রেক কষল। প্রচণ্ড একটা আর্তনাদ করে কালো রঙের গাড়িখানা নিশ্চল হয়ে দাঁড়িয়ে গেল। আর ঠিক সেই মুহূর্তে পাশ দিয়ে জিপখানা বেরিয়ে গেল তীরের মতো।

    চোখের পলকে মাহাঙ্গু স্টিয়ারিং ঘুরিয়ে এক্সেলেটর চেপে ধরল। মেমোরিয়ালের পাশের রাস্তায় গাড়িখানা সবেগে উধাও হয়ে গেল।

    জিপের ড্রাইভার এজন্যে একেবারেই তৈরি ছিলেন না। অনেকটা দূর এগিয়ে গিয়ে তিনি যখন গাড়ি ঘোরালেন, তখন কালো রঙের গাড়িখানার চিহ্নমাত্রও দেখা যায় না।

    গাড়িটা একপাশে দাঁড় করিয়ে গুপ্ত বললেন, বেমালুম চোখে ধুলো দিয়ে সরে পড়ল হে বিশু! এখন আর কোথায় খুঁজে পাওয়া যাবে বলো?

    .

    অফিসার গুপ্ত খুঁজে না পেলেও কালো রঙের মাস্টার বুইক গাড়িখানাকে আরও আধ ঘণ্টা পরে আমরা কিন্তু খুঁজে পেলাম। বেলেঘাটা ছাড়িয়ে ট্যাংরায় এসে গাড়িখানা থামল একটা কাঠের ফটকের সামনে। ফটকের ভেতরে অনেকখানি জায়গা জুড়ে সারি সারি কাঠের বাড়ি। কাঁচা মেটে রাস্তার দু’পাশে দূরে দূরে একটা করে চিনে—লন্ঠন ঝোলানো। তাতে অন্ধকার আরও বেশি ঘন হয়েছে। কাঁচা চামড়ার অস্বস্তিকর গন্ধে পাড়াটার হাওয়া ভারী হয়ে আছে। লোকে এই পাড়াটাকে বলে, ‘চায়না টাউন’। চামড়ার কারবারি চিনাদলের আস্তানা এখানে।

    সমস্ত পাড়াটা যেন তন্দ্রায় ঝিমিয়ে আছে। শুধু ঝোলানো লন্ঠনগুলির নিচে ছোট ছোট কাঠের টুলের ওপর বসে জেগে আছে কয়েকটি চিনা। থ্যাবড়া, গোল মুখগুলি ভাললেশহীন। ছোট ছোট কুতকুতে চোখ নেশায় যেন ঢুলছে।

    কাঠের ফটক ঠেলে লালজি ভেতরে ঢুকল। দেখা গেল, প্রথম চিনাটির ঝিমানো চোখ দুটো হঠাৎ সজাগ হয়ে উঠেছে। লালজি তার পাশ দিয়ে যেতে যেতে চাপা গলায় বললে, বাজপাখি।

    প্রথম চিনাটি একবার ঘাড় নেড়ে শিস দিয়ে উঠল। তার আওয়াজ মিলিয়ে যেতে না যেতেই দ্বিতীয় চিনাটির মুখ দিয়ে অনুরূপ শিসের আওয়াজ বেরোল। তারপর তৃতীয়—চতুর্থ—

    অন্ধকার রাত্রিকে শিউরে দিয়ে শিসের আওয়াজ ক্রমশ দূরে চলে গেল।

    সেই গা—ছমছমে পথে লালজি এগিয়ে যেতে লাগল। থামল গিয়ে কাঁচামাটির রাস্তাটা যেখানে একটা প্রকাণ্ড বিলের ধারে শেষ হয়েছে। বাঁ—দিকে একটা কাঠের বাড়ির দরজায় বসে একজন চিনা বুড়ি। শনের মতো পাকা চুল। মুখের কোঁচকানো চামড়া যেন অতীতের শিলালিপি। পায়ের আওয়াজ পেয়েই খনখনে গলায় বুড়ি বলে উঠল, কে যায়?

    লন্ঠনের সামনে এগিয়ে গিয়ে লালজি বললে, তোমার বাজপাখি বুড়ি—মা।

    দন্তহীন মুখে বুড়ি একগাল হাসলে। বললে, বেশ, বেশ, ভাত তো? যাও ভেতরে ওয়াং আছে। যাবার সময় আমার দস্তুরিটা দিয়ে যেও।

    দেব বইকি বুড়ি—মা।—বলে লালজি দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকল। ভেতরে ছোট ছোট কাঠের খুপরির পাশ দিয়ে চোরা গলিপথ। সেই পথ দিয়ে গেলে হলের মতো একটা বড় ফাঁকা জায়গা, অনেকটা ঢাকা বারান্দার মতো। মাঝখানে একটা লম্বা কাঠের টেবিল, দু’পাশে সরু বেঞ্চি। ঘরের চাল থেকে বড় বড় দুটো চিনে—লন্ঠন ঝুলছে। টেবিলের দু’পাশে নানা জাতের সমাবেশ—চিনে, বাঙালি, ভাটিয়া, পাঞ্জাবি, মুসলমান। তবে অ্যাংলো ইন্ডিয়ানদের সংখ্যাই বেশি। বেঞ্চিতে যারা জায়গা পায়নি, তারা ভিড় করে দাঁড়িয়ে আছে।

    জুয়া চলছিল। তার সঙ্গে চোলাই মদ আর চণ্ডু। টেবিলের এক প্রান্তে একটা উচু কাঠের টুলের ওপর ঘোর তামাটে বর্ণের একজন চিনা বসে। হাতকাটা গেঞ্জির ফাঁকে তার দেহের যেটুকু অংশ দেখা যাচ্ছে, মনে হয় পাথরে কোঁদা। ছোট করে চুল ছাঁটা, মুখে একটা বার্মা চুরুট। লোকটার বয়স আন্দাজ করা কঠিন। তার সামনে টেবিলের ওপর স্তূপাকার নোট, টাকা আর খুচরো পয়সা। মাথা—বেঁকানো একটা লাঠির সাহায্যে মাঝে মাঝে সে লম্বা টেবিলের মাঝখান থেকে টাকা—পয়সা এনে সামনে জড়ো করছিল। তার মুখের চেহারা আর অত্যন্ত সজাগ লালচে চোখ দুটো দেখলে স্বতঃই মনে হয়, লোকটা শেয়ালের মতো ধূর্ত, সাপের মতো ক্রুর, আর শয়তানের মতোই নিষ্ঠুর।

    এই হল ওয়াং। জুয়ার আড্ডার মালিক বা ইংরেজিতে যাকে বলে ‘ডেন কিপার’।

    তারই কোলের ওপর কনুইয়ের ভর রেখে বছর ন’দশের একটি চিনা মেয়ে একমনে তাসের খেলা দেখছিল। শিশির—স্নিগ্ধ ফুলের মতো তাজা টুলটুলে মুখখানি। মাথায় একরাশ কালো চুলের স্তবক। চোখ দুটি কেমন যেন শান্ত বিষণ্ণ। তার পাশে টেবিলে ঠেস দিয়ে রাখা একটা ‘ক্রাচ’। ওয়াংয়ের বুকের কাছে এই মেয়েটিকে দেখলে মনে হয়, একটা রুক্ষ পাহাড়ের গায়ে যেন ছোট্ট একটি বনফুল! দু’জনকে দেখতে নিতান্তই বেমানান—তবু ওয়াংয়ের আড্ডার লোকেরা জানে যে, এই মেয়েটিকে ছাড়া ওয়াং কখনও জুয়ার টেবিলে বসে না।

    একটু দূরে দাঁড়িয়ে লালজি ঘরের আবহাওয়াটা লক্ষ করছিল। তাকে দেখতে পেয়ে মেয়েটা ওয়াংয়ের কোল ছেড়ে ক্রাচে ভর দিয়ে খট খট করে কাছে এসে দাঁড়াল। দেখা গেল, মেয়েটার ডান পায়ের হাঁটু থেকে নীচের অংশটা দড়ির মতো সরু লিকলিকে! এক মুখ হেসে ভাঙা ভাঙা ইংরেজিতে বলল, হেল—লো লাল, এতদিন আসোনি কেন? কোথায় ছিলে?

    সস্নেহে মেয়েটির গাল দুটি স্পর্শ করে লালজি বললে, আকাশে। তোমার জন্যে কি এনেছি বলো তো মিমি?

    সরল চোখদুটি মেলে মিমি শুধু তাকিয়ে রইল।

    লালজি বললে, আগে চোখ বন্ধ করো।

    চোখ বুজলেই লালজি পকেট থেকে টফি বার করে মেয়েটির হাত ভরে দিল।

    তুমি কত ভাল!—আনন্দে আর কৃতজ্ঞতায় লালজির হাতখানা ধরে মেয়েটি নিজের গালের ওপর একবার চেপে ধরল। ঠিক সেই সময় মোটা কর্কশ গলায় ডাক এল, মিমি!

    লালজি দেখলে, টেবিল ছেড়ে ওয়াং উঠে আসছে।

    তোমার শোবার সময় হয়েছে মিমি।

    মাথা ঝাঁকি দিয়ে মিমি বললে, না। আমি এখন লালজির সঙ্গে গল্প করব।

    রাত জাগলে অসুখ করবে পাজি মেয়ে!

    না, অসুখ করবে না!

    ভারি একগুঁয়ে মেয়ে! তারপর লালজির দিকে চেয়ে ওয়াং বললে, খবর কি?

    লালজির কাছ থেকে জবাব এল: বাজপাখি শিকার ধরে এনেছে।

    কি শিকার?

    কোকেন। প্রায় এক পাউন্ড।

    কোমর থেকে বেল্টটা খুলে লালজি ওয়াংয়ের হাতে দিল। ওয়াংয়ের মুখে একটিও রেখা পড়ল না। কোমর থেকে একখানা ছুরি বের করে নিঃশব্দে সে বেল্টের খানিকটা চিরে ফেলল। দেখা গেল, ভিতরটা সাদা পাউডারে ভর্তি।

    একটু জিভে ঠেকিয়ে দেখলে সে। তারপর লালজিকে জিজ্ঞাসা করল। টাকাটা আজই চাই?

    এখুনি।

    বেশ। ওয়াং কখনও ধারে কারবার করে না।

    টেবিলে ফিরে গিয়ে ওয়াং কতকগুলো নোট গুনে গুনে লালজির হাতে দিল। তারপর বললে, অল রাইট?

    লালজি হেসে বললে, আল রাইট ওয়াং। গুড নাইট!

    টেবিলে বসবে না?—ওয়াং প্রশ্ন করল। আজ বোর্ড খুব ভারী।

    লালজি এক মুহূর্ত ভাবলে। তারপর টেবিলের একপাশে বসে পড়ে বললে, আচ্ছা, তাস দাও। টাকাটা খানিকটা বাড়িয়ে নিয়েই যাই।

    লালজি জুয়ার টেবিলে বসাতে চারপাশে উৎসাহের লক্ষণ দেখা দিল। জনকয়েক অ্যাংলো ছোকরা বলে উঠল, উইশ ইউ লাক, লাল।

    কেউ কেউ বিদ্রূপের হাসি হেসে বললে, দেখাই যাক!

    খেলা শুরু হয়ে গেল। কিন্তু ভাগ্য কারো একচেটে নয়। গোড়া থেকেই লালজি হারতে শুরু করল।

    চারপাশে গুঞ্জন উঠল : এ তো জানা কথা! ওয়াংয়ের টেবিল থেকে কেউ কখনও জিতে ফিরে যেতে পারে না—তা সে যে—ই হোক।

    পরের বাজির তাস দেওয়া হল। লালজি দান তুলতে যাচ্ছিল, কিন্তু তার আগেই তার কানের গোড়ায় ফিস ফিস করে কে যেন বললে, বাবার তাসগুলো দাগি!

    মিমি যে কখন এসে লালজির কোলের ওপর ভর দিয়ে দাঁড়িয়েছে, কেউই তা লক্ষ করেনি।

    মোটা কর্কশ গলায় ওয়াং বললে, বাজি ধরো লাল—

    সোজা ওয়াংয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে লালজি ধীরে ধীরে বললে, ধরব। কিন্তু তার আগে এই পুরনো তাসের বদলে নতুন তাস আনো।

    ওয়াং যেন একটু চমকে উঠল: তোমার একথায়র মানে?

    তেমনি শান্ত গলায় লালজি বললে, তোমার কার্ডগুলো চিহ্ন দেওয়া। হয় নতুন কার্ড আনো, নাহয় তো আমার টাকা ফিরিয়ে দাও।

    টেবিলের চারপাশে প্রবল চাঞ্চল্য দেখা দিল। একদল লালজির পক্ষ নিয়ে, আর একদল ওয়াংয়ের পক্ষ নিয়ে শোরগোল শুরু করলে। উত্তেজিত অ্যাংলো ছোকরার দল চিৎকার করে উঠল : এমন জুয়াচুরির কারবার ক’দিন চালাচ্ছ ওয়াং? আমাদের অনেক টাকা খেয়ে তোমার পেট মোটা হয়েছে! এবার নতুন করে তাস আনাও, নয়তো এখুনি টাকা ফেবত দাও—

    ওয়াংয়ের লালচে চোখ দুটো একবার দপ করে জ্বলে উঠল, তারপর সোনা—বাঁধানো দাঁতগুলো বের করে নেকড়ের মতো নিঃশব্দে হাসল।

    সমস্ত ঘরখানা এক নিমেষে চুপ! ওয়াংয়ের এ—হাসির অর্থ সকলেই জানে। জানে যে, এই হাসির পর অন্তত বিশখানা চিনে ছুরি বিদ্যুতের মতো ঝলসে উঠতে পারে যে কোনো মুহূর্তে।

    চারপাশে একবার তাকিয়ে ওয়াং থেকে থেকে চিবিয়ে বলতে লাগল, এই ইদুরগুলোর কথা আমি ধরি না। কিন্তু তুমিও এদের দলে যোগ দাও লাল, তাহলে তোমাকেও—

    ওয়াংয়ের মুখের কথা শেষ হল না। ট্রাউজারের পকেট থেকে ছোট একটা অটোমেটিক পিস্তল বের করে, খেলনার মতো লুফতে লুফতে লালজি বললে, এটা সম্প্রতি কিনেছি, ভারি সুন্দর, না ওয়াং?

    ওয়াংয়ের দুই চোখ যেন জ্বলন্ত দু’টুকরো কয়লা।

    ঘরে সুঁচ পড়লে শব্দ শোনা যায়।

    পিস্তলটা আবার পকেটে পুরে সহজ গলায় লালজি বললে, কি করবে বলো ওয়াং? টাকা ফেরত দেবে, না নতুন তাস আনবে? আর বেশিক্ষণ বসতে পারব না।

    ওয়াংয়ের ইসারায় একজন চিনা এক প্যাকেট নতুন তাস নিয়ে এল।

    আবার শুরু হল খেলা। দেওয়া হল চারখানা করে কার্ড। রাগে উত্তেজনায় ওয়াং মোটা বাজি ধরলে। তারপর জিজ্ঞাসা করলে, লাল না কালো?

    টেবিলের ওপর আঙুলের টোকা মারতে মারতে লালজি বললে, লাল।

    ওয়াং বললো, শো।

    তাস তোলবার আগেই লালজির ডান হাতখানা ধরে নিজের গালের ওপর মিমি একবার চেপে ধরল।

    কর্কশ গলার ওয়াং আবার হেঁকে উঠল, শো।

    লালজি চারখানা তাস একে একে চিৎ করে দিল। চারখানা তাসই লাল রঙের!

    উচ্ছ্বাসে অ্যাংলো ছোকরার দল চিৎকার করে উঠল—যেন জিৎ তাদেরই।

    জ্বলন্ত চোখে মিমির দিকে চেয়ে ওয়াং ডাকলে, এদিকে এসো মিমি!

    লালজির পাশ থেকে মিমি কিন্তু নড়ল না।

    ওয়াং আবার গর্জন করে উঠল, এদিকে আয় বলছি, শয়তানের বাচ্চচা!

    ক্রাচে ভর দিয়ে মিমি সোজা হয়ে দাঁড়াল। দুই চোখে উপচে—পড়া ঘৃণা নিয়ে তাকাল বাপের দিকে। তারপর ‘আমার ঘুম পেয়েছে, আমি শুতে যাই’ বলে খট খট করে চলে গেল।

    ওয়াংয়ের সামনে হাত মেলে লালজি হেসে বললে, শুনেছি, ওয়াং কখনও ধার রাখে না। সুতরাং—

    চাপা রাগে ওয়াং পিচ করে মেঝের ওপর খানিকটা থুতু ফেললে। তারপর অনেকগুলো নোট লালজির হাতের ওপর ছুড়ে দিলে।

    নোটগুলো পকেটে পুরো লালজি দাঁড়িয়ে উঠে বললে, গুড নাইট ওয়াং। আবার দেখা হবে।

    ওয়াং পিচ করে আবার থুতু ফেলল। তারপরে চারপাশে একবার তাকিয়ে বলে উঠল, দেখো, দেখো, পেনটুলেন—পরা মেয়েটা টাকা জিতে নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে!

    ওয়াংয়ের দল হো হো করে হেসে উঠল। চুপ করে বসে রইল শুধু অ্যাংলো ছোকরার দল। লালজি একবার হাতঘড়ির দিকে তাকাল। বারোটা বাজতে সতেরো মিনিট।

    আরক্ত মুখে লালজি আবার টেবিলে বসে বললে, বেশ, আর একটা চান্স তোমায় দিচ্ছি ওয়াং। নাও, তাস দাও।

    চারখানা করে তাস দেওয়া হল। এবার লালজি বললে, লাল কালোর জোড়া।

    গুণে গুণে হাজার টাকার নোট টেবিলের ওপর রেখে ওয়াং চিবিয়ে চিবিয়ে বললে, আর একবার ভেবে বলো লাল। হারলে তোমার দু’হাজার বেরিয়ে যাবে। তখন কান্নাকাটি কোরো না যেন! আবার ভেবে বলো।

    শান্তগলায় জবাব এল : লালজি কখনও দু’বার ভাবে না ওয়াং। তুমিই বরং আবার শুনে রাখ—লাল—কালোর জোড়া।

    শো।

    তাস চারখানা লালজি উলটে দিল। সত্যিই লাল—কালোর জোড়া।

    তুমুল শোরগোল শুরু হয়ে গেল। আনন্দে অ্যাংলো ছোকবার দল মদের গেলাস ছুঁড়তে লাগল। হাজার টাকার তাড়াটা পকেটে ভরে লালজি ওয়াংয়ের দিকে তাকিয়ে বললে, আশা করি, এর পর তোমার আর কিছু বলবার নেই ওয়াং?

    সোনা—বাঁধানো দাঁত বের করে আর একবার নেকড়ের মতো শুধু হাসলে ওয়াং।

    গুড নাইট।

    লালজি দরজার দিকে এগোল। সঙ্গে সঙ্গে পাশের দু’জন চিনার সঙ্গে ওয়াংয়ের কি ইসারা হয়ে গেল, কে জানে! টেবিলের পাশ থেকে লোক দু’টো নিঃশব্দে সরে গেল।

    ঠিক সেই মুহূর্তে দরজার গোড়ায় ঘুরে দাঁড়াল লালজি। সেখান থেকেই বললে, একটা কথা জানিয়ে যাই ওয়াং। লালজির মাথার পেছন দিকেও দুটো চোখ আছে। অন্ধকারে সে—দুটো বাঘের চোখের মতোই জ্বলে।

    দরজার বাইরে চোরা গলিপথে লালজির মূর্তি অদৃশ্য হয়ে গেল।

    হঠাৎ সেই অন্ধকার চোরা গলিপথে কে যেন অত্যন্ত কোমল গলায় বলে উঠল, তুমি চলে যাচ্ছ?

    লালজি ভাল করে তাকিয়ে দেখল, ক্রাচে ভর দিয়ে মিমি দাঁড়িয়ে। মেয়েটা বিছানা ছেড়ে চুপি চুপি কখন উঠে এসেছে, কে জানে! সরল বিষণ্ণ দুটি চোখ মেলে বললে, আমার কথা তুমি ভুলে যাবে না লাল?

    নিচু হয়ে মিমির কপালে একটা চুম্বন দিয়ে লালজি বললে, তোমায় কখনও ভুলব না মিমি। এইবার শুতে যাও, লক্ষ্মী মেয়ে! তোমার বাবা জানতে পারলে রাগ করবে।

    মিমি চলে গেল। তার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে লালজি সদর দরজার দিকে পা বাড়িয়ে দিল।

    দরজার বাইরে সেই শাঁকচুন্নি বুড়ি বসে। একখানা নোট তার হাতে গুঁজে দিয়ে লালজি বললে, তোমার দস্তুরি বুড়ি—মা!

    দন্তহীন মুখে বুড়ি হাসলে : বেশ, বেশ, আবার এসো।

    চলতে চলতে লালজি হাতঘড়িটার দেখলে, বারোটা বাজতে সাত।

    .

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleদেরি হয়ে গেছে – প্রচেত গুপ্ত
    Next Article মহাভারতের মহারণ্যে – প্রতিভা বসু
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }