Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    দশটি রহস্য উপন্যাস – প্রণব রায়

    প্রণব রায় এক পাতা গল্প1004 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    শঙ্খচূড় – ২

    দুই

    সকালে চা নিয়ে এলো গোকুলঠাকুর।

    জিজ্ঞেস করলাম, কাল রাতে বাঁশি বাজাচ্ছিল কে?

    গোকুল বললে, রাতে ঘুম হয়নি বুঝি?

    বললাম না। মেয়েছেলে কেউ এখানে থাকে নাকি? ঝুম—ঝুম করে নূপুর বাজছিল, অথচ কাউকে দেখা গেল না।

    গোকুলের মুখে উদ্বেগ দেখা গেল। বললে, রাতে ঘর থেকে বেরিয়েছিলেন নাকি?

    ঘাড় নাড়লাম।

    গোকুলও মাথা নেড়ে বললে, আর বেরোবেন না। চিতেয় ধরবে।

    বুঝলাম, গোকুল আমার প্রশ্নগুলো এড়িয়ে যেতে চাইছে। তাই সোজাসুজি প্রশ্ন করলাম, তুমি বলেছিলে এখানে রাধাদর্শন হবে। শুধু নূপুরই শুনলাম—কই, দর্শন হল না তো?

    কালো দাঁতে অমাবস্যার হাসি ছড়িয়ে গোকুল বললে, হবে বৈকি! সবে তো দুদিন এসেছেন। গোপীনাথের দয়া হলেই দর্শন হবে। তবে রাত—বিরেতে ঘর থেকে একা বেরোবেন না যেন।

    গোকুল কিচেনে ফিরে গেল। বলে গেল এবেলা মোচার কোপ্তা খাওয়াবে।

    খুবই আশার কথা। কিন্তু খেতে বসে এই মুহূর্তে গয়ায় চলে যাব কিনা ভাবতে লাগলাম। গোকুলের তৈরি মোচার কোপ্তা নিয়ে অনায়াসেই পিতৃপুরুষকে পিণ্ডদান করা যায়!

    দুপুরে আজ আর ঘুমের চেষ্টা করলাম না। খানিক বিশ্রাম নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম জায়গাটা ঘুরে—ফিরে দেখতে। বেলা তখনো আছে।

    ঢালু রাস্তা ধরে নামতে নামতে অনেকটা নিচে নেমে এলাম। পাহাড়ের মাঝামাঝি। রাস্তাটা এখানে দু’—ভাগ হয়েছে। বাঁয়ের রাস্তাটা খাঁজ—কাটা, একসার সিঁড়ির মতো জঙ্গলের মধ্যে নেমে গেছে। যেখানে এসে থেমেছে, সেখানে মস্তবড় একটা ফাঁকা চত্বর। সেই চত্বরে প্রাচীন এক পাথরের মন্দিরের ভগ্নাবশেষ, তারই সামনে নাট—মন্দিরের দু’—তিনটে নকশা—কাটা থাম ইতিহাসের রাজ—দরবারে নির্বাক শাস্ত্রির মতো এখনো দাঁড়িয়ে। ভাঙাচোরা মন্দিরের ভেতরে উঁকি দিয়ে দেখি, উঁচু বেদির ওপর মানুষপ্রমাণ শ্রীকৃষ্ণমূর্তি। কষ্টিপাথরে গড়া। পিলসুজে একটি প্রদীপ জ্বলছে, বিগ্রহের গলায় ফুলের মালা। পায়ের কাছে তুলসীপাতা। বোঝা গেল আজো নিয়মিত পূজা হয়।

    এই তাহলে গোপীনাথ!

    মন্দিরের দরজার সামনে বসলাম। দরজায় ক্ষয়—ধরা একটা বিরাট পাল্লা কাত হয়ে ঝুলছে, আরেকটা নেই। আমি আর্টের ছাত্র নই, তবু চোখে আমার পলক পড়ল না গোপীনাথের রূপ দেখে। কোন শতকে কোন শিল্পী এই মূর্তি গড়েছিল, ইতিহাস তার নাম মনে রেখেছে কিনা জানি না, আমি কিন্তু সেই অজ্ঞাত প্রতিভাকে নমস্কার জানালাম।

    একদিন এই মন্দির নিশ্চয় শত দীপে আলো হয়ে উঠত, অগুরু—ধূপের সুগন্ধে ভরে থাকত, ঝুলন পূর্ণিমা দোল পূর্ণিমায় কত উৎসব হত এর নাট—অঙ্গনে। আর, আজ এই মন্দির দিনে অতীতের শ্মশান, রাতে হয়তো পাহাড়ি ময়াল আর চিতাদের আশ্রয়।

    কালের চেয়ে দুরন্ত কালাপাহাড় আর কে আছে?

    ঝুম—ঝুম, ঝুম—ঝুম, ঝুমুর—ঝুম!

    চমকে উঠলাম। এবারে আওয়াজ অত মৃদু সন্ত্রস্ত নয়, অত দূরেও নয়। ধীরে ধীরে নূপুরধ্বনি আরো স্পষ্ট, আরো ছন্দময় হয়ে উঠল। কে যেন খুব কাছাকাছি চলে ফিরে বেড়াচ্ছে।

    না, চলে ফিরে নয়, কে যেন নাচছে! ধ্রুপদী অঙ্গের বিচিত্র ছন্দে, লয়ে, যতিতে। সঙ্গে বাজছে মৃদঙ্গের বোল, তারের ঝঙ্কার, মন্দিরার তাল।

    সে কি গোপীনাথের রাধা? না মন্দিরের পেছনে কোনো নর্তকী লুকিয়ে নাচছে?

    কিন্তু না, মন্দিরের পিছনে কেউ নেই। চত্বরের আশপাশে জঙ্গলের আড়ালেও কেউ নেই। এদিক ওদিক সেদিক খুঁজে আবার সেই শূন্য নাটমন্দিরে এসে দাঁড়ালাম।

    বেলা তখন পড়ন্ত। দিবা আর সন্ধ্যার সেই সন্ধিক্ষণে প্রাচীন ধ্বংসাবশেষের বুকে দাঁড়িয়ে সেই অপার্থিব নূপরধ্বনি শুনতে শুনতে সমস্ত চেতনা আবার যেন অবশ হয়ে আসতে লাগল।

    হঠাৎ পাহাড়ি রাস্তায় খটাখট খটাখট শব্দ হতে লাগল। কঠিন পাথরে ঘোড়ার খুরের শব্দ! এই জনহীন পাহাড়ে কোন ঘোড়সওয়ার যায়? ছুটে সিঁড়ি বেয়ে উঠে সেই দ্বিধাবিভক্ত রাস্তায় এসে দাঁড়ালাম। পড়ন্ত বেলার মরা আলোয় দেখলাম, হাওয়ায় শুকনো পাতা উড়ছে।

    কেউ নেই!

    তবে কি সবটাই আমার দিবাস্বপ্ন!

    হবেও বা।

    .

    বসন্তবিহারে যখন ফিরে এলাম, দেবগড় পাহাড়ের আড়ালে তখন সূর্যাস্ত হচ্ছে। জঙ্গলের ফাঁকে ফাঁকে বটের ঝুরির মতো নামছে অন্ধকার।

    গেট থেকে নজরে পড়ল দ্বিতীয় বাংলো থেকে একটি স্থূলকায় শিম্পাঞ্জি জাতীয় জীব বেরিয়ে আসছে। অস্পষ্ট অন্ধকারেও চিনলাম, রূপবান গোকুলঠাকুর ছাড়া কেউ নয়। কিন্তু সন্ধ্যার ঝোঁকে ওই যাত্রীহীন বাংলোয় গোকুল কেন?

    জিজ্ঞেস করলাম, ও—বাংলোটায় লোক এল নাকি?

    না হুজুর। ওটায় কেউ আসে না।

    তবে ওখানে কি করছিলে?

    গোকুল বললে, বাতি জ্বালতে গেছিলাম। কখন তিনি আসবেন, বলা তো যায় না।

    তিনি! তিনি কে?

    অত্যন্ত সম্ভ্রমের সঙ্গে গোকুল জবাব দিল, রাধা ঠাকরুণ।

    রাধা ঠাকরুণ! সে আবার কে?

    জোড়হাত কপালে ঠেকিয়ে গোকুল বললে, গোপীনাথ জীউর রাধা।

    তাজ্জব হয়ে গেলাম। বলে কি! শ্রীকৃষ্ণের রাধাও আমার মতো টুরিস্ট হয়ে বৃন্দাবন থেকে দেবগড়ের বসন্তবিহারে আসেন! নাকে কেমন একটু রহস্যের গন্ধ এসে ঠেকল। মনে পড়ল, প্রথম যেদিন এখানে আসি, আমার সঙ্গে ‘রাধা’ নেই দেখে গোকুল বীতশ্রদ্ধ হয়েছিল। প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা না থাকলেও আমার জানতে বাকি নেই যে, এই ধরনের টুরিস্ট লজে বা ডাক—বাংলোয় খানসামারা বকশিশের বিনিময়ে ‘রাধা’ সাপ্লাই করে থাকে। গোকুলঠাকুরও ‘রাধা’র স্টকিস্ট নাকি? আর, ওই দ্বিতীয় বাংলোতেই ওর স্টক থাকে বোধ হয়? তাই রাত দুপুরে বাঁশি বাজিয়ে আর নূপুরের আওয়াজ শুনিয়ে খদ্দেরকে চারে ফেলার চেষ্টা করে।

    বললাম, চলো না গোকুল, ও—বাংলোটা দেখে আসি।

    গোকুল একটু থতিয়ে গিয়ে বললে, কালই সকালে যিব!

    গলায় একটু জোর দিয়ে বললাম, না, এখনই যিব। রাধা ঠাকরুণ যখন আসে, তখন ওটা তো তীর্থস্থান।

    গম্ভীর হয়ে গেল গোকুল। চাবিটা আমার হাতে দিয়ে বললে, মু যিব না।

    তারপর কিচেনের দিকে এগিয়ে গেল।

    দরজায় গোকুল তালা দিয়ে এসেছে ভাবিনি। কিন্তু তালাটা লোকের চোখকে ফাঁকি দেওয়ার একটা ধাপ্পাবাজিও হতে পারে। কৌতূহল হল, দেখাই যাক না ভেতরে কি আছে।

    ঘর থেকে টর্চ নিয়ে দ্বিতীয় বাংলোতে গিয়ে উঠলাম। তালা খুলে কপাট দুটো ঠেলতেই ক্যাঁচ করে আওয়াজ হল। মনে হল, এ বাংলোটা বহুদিন ব্যবহৃত হয়নি। বাড়িটা প্রথম বাংলোর চেয়ে আকারে ছোট। মেরামতের ফলে এর সমুখটাই আধুনিক হয়েছে, ভেতরে প্রাচীনত্ব বিশেষ বদলায়নি।

    দু’খানা ঘর। একখানা অপেক্ষাকৃত বড়। সাদা—কালো পাথরের পদ্ম—কাটা মেঝে, লাল পাথরের দেয়ালে লতাপাতার নকশা। খিলানওয়ালা ছোট ছোট জানলাও আছে, কিন্তু জানালা না বলে তাকে গবাক্ষ বলাই ভালো। সবগুলোই বন্ধ ছিল, খুলে দিলাম। ঘরে পা দিতেই অবরুদ্ধ বাতাসে একটা ভ্যাপসা গন্ধ নাকে ঠেকল। আশ্চর্য, একটু বাদেই কিন্তু যে—গন্ধটা পাওয়া গেল, সেটা ভ্যাপসা নয়, অতিক্ষীণ মৃগমদসৌরভ! যেন কোনো বিলাসিনীর কেশের গন্ধ। অনেকদিন আগে শিকারের জন্যে নসিবপুরের রাজবাড়িতে অতিথি হয়েছিলাম। সেখানকার অন্দরমহলে দু’বেলা খেতে যাবার সময় ঠিক এই অপূর্ব কবিরাজি কেশ—তৈলের গন্ধ পেতাম।

    পরিচ্ছন্ন ঘর। শামাদানে একটা আধপোড়া মোমবাতি জ্বলছে। তারই আলোয় দেখলাম, ঘরের আরেক পাশে চৌকির ওপর একখানা থালায় একগাছি টাটকা—গাঁথা শিউলির মালা, দু’—খিলি সাজা পান আর এক গেলাস জল রয়েছে।

    অথচ গোকুল বললে, এ বাংলোয় কেউ আসে না! আসে নিশ্চয়, তবে প্রকাশ্যে নয়। নইলে কার জন্যে বাতি জ্বালা? কার জন্যেই বা পুষ্পমালা, তাম্বুল আর জল?

    দেখতে হবে কে সেই নেপথ্যচারিণী, যে অলক্ষ্যে এই বসন্তবিহারে বিহার করতে আসে? গোকুলেরই বা এত লুকোচুরির হেতু কি? আমি লম্পট না হতে পারি, কিন্তু ভীষ্মদেব তো নই!

    অপর ঘরে গেলাম। অপরিচ্ছন্ন, অন্ধকার। গোটা কয়েক চামচিকে ঝটপট করে উঠল। সেখান থেকে দালান, বারান্দা, স্নানের ঘর, রসুই—ঘর, উঠোন।

    কেউ কোথাও নেই! এখনো আসেনি। হয়তো রাত বাড়লে চুপিচুপি আসবে।

    সদরে তালা দিয়ে চলে এলাম। মতলব করলাম, চাবিটা গোকুল না চাইলে আজ আর দেব না।

    .

    আজ রাতের স্পেশাল ডিশ পুডিং।

    গোকুল জানালে, তার হাতের কাস্টার্ড পুডিং খেয়ে একবার সাহেব তাকে বিলেত নিয়ে যেতে চেয়েছিল। শুনে উৎফুল্ল হলাম। কিন্তু হায়, আমার কপালে পুডিং হয়ে দাঁড়াল প্রায় বেগুনের ভর্তা!

    গোকুলের ভাগ্য ভালো যে, সাহেবের সঙ্গে বিলেত যায়নি। গেলে সাহেব তাকে নির্ঘাত ইংলিশ চ্যানেলের জলে ফেলে দিত।

    যাই হোক, শুধু মুরগির শুক্তো দিয়েই ডিনার সমাপ্ত করা গেল। তারপর ঘরে নয়, বারান্দায় বেতের চেয়ারে সিগারেট ধরিয়ে বসলাম। বারান্দায় আবছায়া অন্ধকার। আজ আর ঘুম—পরিকে কাছে ঘেঁষতে দিচ্ছি না।

    গোকুল এসে শুধোলে, ঘরে শুতে যাবেন না?

    বললাম, ঘুম পেলে যাব। তুমি শুয়ে পড়োগে।

    গোকুল গেল না। আমতা আমতা করে বললে, সেপাকু জঙ্গল অছি পরা—চিতে অছি।

    হাতের টর্চ আর পাশে রাখা দোনলা বন্দুকটা দেখালাম। আমি শিকারি, অরণ্যবাসী কোন শ্বাপদ আমার কুশল জানতে এলে তার অভ্যর্থনার ব্যবস্থা করেই রাখি।

    আমার বাইরে থাকাটা তবু গোকুলের মনঃপূত হল না। বললে, কেতে কালিনাগ শঙ্কচূড় অছি!

    বললাম, আমিও সাপের ওঝা অছি।

    গোকুল এবার আস্তে আস্তে চলে গেল। মনে হল, ও আমাকে ভয় দেখিয়ে ঘরে পাঠাবার মতলবেই এসেছিল। আমি বাইরে থাকলে ওরই যেন বিশেষ অসুবিধা। এমন ধোয়া—মোছা উঁচু বারান্দায় সাপের আসার সম্ভাবনা যদিচ কম, তবুও পা দুটো চেয়ারে তুলেই বসলাম।

    বারান্দার যেখানটায় বসলাম, সেখান থেকে দ্বিতীয় বাংলোটা সোজা নজরে পড়ে। সেদিকে চোখের পাহারা রেখে চুপচাপ সিগারেট ফুঁকতে লাগলাম। দেখি, নেপথ্যচারিণী রাধা কখন দ্বিতীয় বাংলোয় রসকেলি করতে আসে! আর, দেখি শ্যামচাঁদটিই বা কে—গোকুলঠাকুর স্বয়ং, না আর কোনো রসিকজন? চাবিটা যদিচ আবার পকেটে, তবু ডুপ্লিকেট কি থাকতে পারে না?

    পেঙ্গুইন সিরিজের গোয়েন্দা যেন আমার কাঁধে ভর করল। সজাগ গোয়েন্দার মতো জেগে থাকতে থাকতে সিগারেটের প্যাকেট ফুরিয়ে এল। হাতঘড়ির রেডিয়াম—ডায়ালে ছোট কাঁটাটা দশটার ঘর থেকে একটার ঘরে এসে পৌঁছাল।

    কিন্তু কোথায় কে!

    ঝিমঝিমে চাঁদনি রাত। চারদিক নিশুতি। মাঝে মাঝে শুধু অরণ্য বিকারগ্রস্ত রোগীর মতো এলোমেলো কথা কয়ে উঠছে। কখনো শুকনো পাতার ফিসফিস মর্মরে, কখনো চিতা—হায়েনার ক্রুদ্ধ আস্ফালনে, কখনো বা রাতচরা পাখির কর্কশ কাতরানিতে প্রলাপ বকছে অরণ্য।

    বসে থাকতে থাকতে কখন যে চোখের পাতা জুড়ে এসেছিল, টের পাইনি। তন্দ্রা ছুটে গেল বাঁশির আওয়াজে। সেই অলৌকিক বাঁশি, আর সেই আশ্চর্য সুর! সোজা হয়ে চেয়ারে বসলাম। একটু বাদেই নূপুরধ্বনি শোনা গেল, ঝুম—ঝুম, ঝুম—ঝুম, ঝুমুর—ঝুম!

    চেয়ে দেখি, কৃষ্ণা চতুর্থীর ভাঙা চাঁদ পশ্চিমে হেলে পড়েছে। কিন্তু শেষ—রাতের আকাশে এ কী অদ্ভুত আলো! মার্কারি ল্যাম্পের আলো নয়, অথচ তেমনিধারা স্নিগ্ধ নীলচে দ্যুতি। সেই অপার্থিব ছটায় দেবগড় পাহাড়ে এক আশ্চর্য মায়া—জগৎ তৈরি হয়েছে।

    দ্বিতীয় বাংলোর দিকে তাকিয়ে চোখের দৃষ্টি আমার স্থির হয়ে গেল। পলক ফেলতে ভুলে গেলাম। অতি সন্তর্পণে পা ফেলে ফেলে বারান্দার সিঁড়ি বেয়ে একটি মেয়ে নেমে আসছে। আর ভীরু পায়ের নূপুর বাজছে ঝুমঝুম ঝুমর—ঝুম! মেয়েটি যুবতী। সুঠাম দেহ। পরনে গাঢ়—নীল শাড়ি, দেহের ঊর্ধ্বাংশ পাতলা কালো ওড়নায় ঢাকা। শুধু বেরিয়ে আছে মুখখানি আর মণিবন্ধ পর্যন্ত দুটি করতল। সেই অনৈসর্গিক নীলাভ আলোয় গৌরবর্ণ মুখখানি নীরক্ত পাণ্ডুর দেখাচ্ছে। কিন্তু চোখ মুখ নাক যেন তুলি দিয়ে আঁকা। বড় বড় দীর্ঘপল্লব চোখ দুটিতে সন্ত্রস্ত চাহনি। টিকালো নাকে সোনার বেসর। আঙুলের রত্নাঙ্গুরী আর মণিবন্ধের মণিময় কঙ্কণ ঝিলিক দিয়ে উঠছে।

    কে এই রূপসী যুবতী? কোথা থেকে এল, কোথায় যাচ্ছে? ওই যাদু—ভরা বাঁশি কি একেই ডাকছে? এই কি গোকুলঠাকুরের রাধা? রাধাই বটে! গোকুলের রুচি আছে বলতে হবে। এমন রাধার জন্যে সমরখন্দ বোখারা না হোক, সমগ্র উড়িষ্যা বিলিয়ে দেওয়া যায়।

    মেয়েটি আলগোছে পা ফেলে ফেলে এগিয়ে আসছে। বারান্দা থেকে বাংলোর হাতায়। আমি সমস্ত ইন্দ্রিয় দিয়ে দেখছি।

    কাছে আসছে মেয়েটি। আরো কাছে। আমার বারান্দার পাশ দিয়ে যাচ্ছে নিলাজ নূপুরকে শাসন করতে করতে।

    চকিতে হাতের টর্চ টিপে বললাম, কে?

    সাত ব্যাটারির হান্টিং টর্চের উজ্জ্বল আলোয় দিন হয়ে গেল বাংলোর হাতার একটা অংশ।

    কিন্তু কই সে রূপসী রাধা? তীব্র উজ্জ্বল আলোর ঝলকে যেন মোমের পুতুলের মতো নিমেষে গলে মিশিয়ে গেল সে! বাঁ হাতে চোখ দুটো মুছে দেখলাম। টর্চের রশ্মি সারা হাতায় ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখলাম।

    কোথাও নেই! মেয়েটি কোথাও নেই!

    বোকা বনে গেলাম। এক লহমার মধ্যে কোথায় চলে গেল সে? নাকি হাওয়ায় উবে গেল।

    কিন্তু টর্চ নিভিয়ে দিতেই আবার সেই ঝুম—ঝুম, ঝুম—ঝুম, ঝুমুর—ঝুম! চমকে তাকিয়ে দেখি, না, যায়নি, ফটকের দিকে ওই তো চলেছে চতুরা রাধা! আমি টর্চের বোতাম টিপবার সঙ্গে সঙ্গেই ও বোধহয় আলোর সীমানার বাইরে চকিতে গা—ঢাকা দিয়েছিল। অথবা পাঁচিলের অন্ধকার কোণে।

    আবার সেই অপার্থিব মৃদু নীলাভ আলোর ছটা! সেই আলোয় স্পষ্ট দেখলাম মেয়েটি চলে যাচ্ছে। সেই ঘন নীল শাড়ি, সেই কালো ওড়না, মেখলা—পরা সেই গুরু নিতম্বের মন্থর ছন্দ!

    পাহাড়ি পথ বেয়ে বাঁশি ক্রমশ এগিয়ে আসছে ফটকের কাছে, আর নিতম্বিনীও চলেছে ফটকের দিকে এগিয়ে ঝুম—ঝুম, ঝুমুর—ঝুম।

    পা টিপে টিপে অন্ধকারেই ওর অনুসরণ করলাম। বারান্দায় বন্দুকটা ফেলে যেতে ইচ্ছা হল না, তুলে নিলাম হাতে।

    ফটকের ফাঁক দিয়ে সোজা রাস্তাটা দেখা যায়। ঢালু হয়ে নেমে গেছে। দেখা গেল, আবছায়া অন্ধকারে একটি ছায়ামূর্তি উঠে আসছে। মাথার বাবরি চুলের গুচ্ছ আর সরু কোমর দেখে আন্দাজ করা যায় সে তরুণ।

    মেয়েটি একবার থমকে দাঁড়াল, তারপর ফটক পার হয়ে দ্রুত পায়ে এগিয়ে চলল। নিলাজ নূপুর লজ্জা—ভয় ভুলে এবার প্রগলভার মতো হেসে উঠল ঝুম—ঝুম, ঝুম—ঝুম!

    দেবগড়ে এসেছি শিকারের উদ্দেশ্যে, কিন্তু কে জানত এই জংলা পাহাড়ে এমন একটা গুপ্ত প্রণয়—নাট্যের দর্শকের ভূমিকা কপালে জুটবে! দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখতে লাগলাম।

    মেয়েটি প্রায় ছুটে চলেছে।

    বাঁশুরিয়া এগিয়ে চলেছে।

    মাত্র হাত কয়েক ব্যবধান, এমন সময় ঘোড়ার খুরের খটাখট খটাখট শব্দে পাহাড়ি রাস্তা গমগম করে উঠল।

    ছায়াবাজির মতো পলকে মিলিয়ে গেল দুটো ছায়ামূর্তি! জনহীন পাহাড়ি—পথের পাথরে পাথরে শুধু বাজতে লাগল ধাবমান অশ্বখুরের কঠিন শব্দ—খটাখট খটাখট খটাখট!

    আর, সেই সঙ্গে রঙ্গিনীর দিক থেকে শোনা গেল নারী—কণ্ঠের সেই ভয়ার্ত সকরুণ চিৎকার, সুদা—আ—আ—ম!

    নিথর রাত্রি শিউরে উঠল। কোথায় যেন ককিয়ে উঠল একটা কালপ্যাঁচা। শাখায় শাখায় হাহাকার তুলে অস্থির হয়ে উঠল ভয়াল অরণ্য। নির্জন পাহাড়ে সেই অলৌকিক পরিবেশের মধ্যে একা দাঁড়িয়ে আমার গায়ে কাঁটা দিল। সব যেন ওলোট—পালোট হয়ে গেল মাথার মধ্যে। ঝরর্ণার দিকে হাতের বন্দুকটা তুলে পাগলের মতো পরপর দুটো ফায়ার করলাম।

    ঢালু রাস্তায় নেমে যেতে লাগল ঘোড়ার খুরের আওয়াজ। ক্রমশ দূরে। আর তারই সঙ্গে পুরুষ—গলার বিশ্রী কর্কশ হাসি হা—হা—হা—হা!

    সেদিকে বন্দুকের মুখ ফিরিয়ে আবার ফায়ার করতে যাচ্ছিলাম, একখানা রোমশ শক্ত হাত আমার হাতখানা চেপে ধরল।

    হুজুর! হুজুর!

    সম্বিত ফিরে পেয়ে দেখি গোকুলঠাকুর। বন্দুকের আওয়াজে ছুটে এসেছে।

    ঘরে চলুন হুজুর। গোকুল বললে।

    রাত তখন শেষ। পুবদিক ফরসা হয়ে আসছে।

    বললাম, ওরা কারা এসেছিল? ওই বাঁশিওয়ালা, ঘোড়সওয়ার আর ওই নূপুর—পায়ে মেয়েটি—ওরা কারা?

    গোকুল সে—কথার জবাব দিলে না। শুধু বললে, রাতে আপনাকে বাইরে বেরোতে মানা করেছিলাম, কেন বেরোলেন? ঘরে চলুন।

    বললাম, আগে বলো ওরা কারা?

    গোকুল নির্বাক হয়ে গেল।

    আবার বললাম, এ বাড়ি এখন সরকারি বাংলো। সরকারি চাকরি করো তুমি। সত্যি কথা না বললে আমি রিপোর্ট করে দেব গোকুল, জানিয়ে দেব যে রাত হলে ওই বাংলোটায় মেয়েছেলে আমদানি হয়।

    গোকুল এবার কাঁদো—কাঁদো হয়ে বললে, মহাপ্রভুর দিব্যি, উনি মানুষ নন হুজুর, গোপীনাথের রাধা।

    কড়া গলায় বললাম, চালাকি পেয়েছ? গোপীনাথের রাধা এখানে আসবে কেন? তোমার হাতের রান্না খেতে?

    গোকুল বললে, চাবিটা সঙ্গে আছে? আসে কিনা দেখবেন আসুন।

    গোকুল আমাকে নিয়ে গেলে দ্বিতীয় বাংলোয়। সেখানে আরেকটা রোমাঞ্চকর বিস্ময় আমার জন্যে অপেক্ষা করছিল। দরজা খুলে বড় ঘরে ঢুকলাম। খোলা দরজা দিয়ে উষার আলো এসে পড়েছে। দেখলাম, গেলাসের জল অর্ধেক, পানের একটা খিলি নেই, শিউলিফুলের মালা জানলার ধারে পড়ে। আর—

    পদ্ম—কাটা মার্বেলের মেঝের ওপর আলতা—পরা পায়ের কয়েকটি ছাপ! যেন লক্ষ্মীর পায়ের আলপনা!

    গোকুল বললে, দেখুন, চাবি তো সারারাত আপনার কাছেই ছিল। দোর বন্ধ থাকলে মানুষ কি ঢুকতে পারে?

    বললাম, পারে বইকি। চাবির নকল থাকলেই ঢুকতে পারে?

    গলায় জোর দিয়ে গোকুল বললে, বিশ্বাস করুন হুজুর, চাবির নকল নেই। নিচের বস্তিতে আমার বেটা থাকে, আমি তার মাথায় হাত দিয়ে বলতে পারি।

    গোকুলের চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে এল। ছেলের নামে শপথ করে কোনো বাপই মিথ্যে বলতে পারে না। ওর মুখ দেখে বুঝলাম, গোকুলও মিথ্যে কথা বলছে না। কিন্তু ঘরের মেঝের দিকে তাকিয়ে বিস্ময়ে রোমাঞ্চে আমি হতবাক হয়ে গেলাম কিছুক্ষণ।

    তারপর জিজ্ঞেস করলাম, তাহলে ওই বাঁশিওয়ালা কে? ওই কি গোপীনাথ?

    না, ও সুদাম। সুবল পোটোর ছেলে।

    তবে রাধা কি গোপীনাথকে ছেড়ে সুদামের সঙ্গেই দেখা করতে আসে?

    তাই আসে হুজুর। রোজ আসে। যারা রাতে ঘুমিয়ে থাকে, তারা কিছু শুনতেও পায় না, দেখতেও পায় না। যাদের ঘুম হয় না, তারা ভয় পেয়ে পরদিনই বাংলো ছেড়ে পালিয়ে যায়।

    খুবই স্বাভাবিক। এই ভূতুড়ে জংলা পাহাড়ের মাথায় নিশুত রাতে রাধাদর্শনের শখ ক’জনের থাকে? জিজ্ঞেস করলাম, মাঝে মাঝে ‘সুদাম’ বলে কে কেঁদে ওঠে? রাধা?

    গোকুল বললে, সারাটা রাত জেগেছেন, আগে নেয়ে—খেয়ে জিরিয়ে নিন হুজুর। তারপর বলব ‘খন—গোড়া থেকে সব বলব।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleদেরি হয়ে গেছে – প্রচেত গুপ্ত
    Next Article মহাভারতের মহারণ্যে – প্রতিভা বসু
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }