Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    দশটি রহস্য উপন্যাস – প্রণব রায়

    প্রণব রায় এক পাতা গল্প1004 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    শঙ্খচূড় – ৬

    ছয়

    রাধাষ্টমী তিথিতে গোপীনাথের পাশে রাধা দাঁড়াল।

    মেলা বসল, রাজবংশের প্রথানুযায়ী প্রজাদের নতুন বস্ত্র আর চাল বিতরণ হল, কত ঘটাপটায় গমগম করতে লাগল মন্দির। দেবগড় রাজ্যের যত লোক ভেঙে এল গোপীনাথের রাধা দেখতে।

    দেখল সবাই। কিন্তু চিনল শুধু পুবপাড়ার লোকেরা। এ যে সেই নীলু পণ্ডিতের মেয়ে তিলকের মুখ বসানো গো! তবে কি তিলকই গোপীনাথের রাধা ছিল আর জন্মে?

    কথাটা মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ল গোটা রাজ্যে। আর সেই থেকে দেবদাসী অলকাতিলকার নাম হয়ে গেল গোপীনাথের রাধা।

    দেখল অলকাতিলকাও। প্রথমটায় অবাক হয়ে গেল। জিজ্ঞেস করলে, এ রাধা গড়েছে কে?

    মাধবদাস বললে, সুবল পোটোর ছেলে সুদাম।

    সুদাম! এক নিমেষে অষ্টাদশী অলকাতিলকা যেন সেই হর্তুকি গাছতলার বালিকা তিলক হয়ে গেল। সুদাম তারই মুখ গড়েছে! বেশ গড়েছে তো! খুশিতে উছলে উঠল বালিকা তিলক। কিন্তু পরক্ষণেই লজ্জায় মরে গেল আঠারো বছরের নবযৌবনা অলকা তিলকা। একি কাণ্ড করেছে সুদাম! লোকের কাছে অলকাতিলকা এখন মুখ দেখাবে কেমন করে? একবার পেলে হয় সেই বজ্জাত পোটোকে!

    বিকালে পালকি করে ঘরে ফেরার সময় কিংখাবের ঝালরের ফাঁকে চোখ রেখে বসে রইল দেবদাসী। মন্দিরের আশেপাশে যদি সেই বাবরি চুলে ঘেরা কালোকোলো মুখখানা নজরে পড়ে। এত লোক এসেছে, আর সে আসেনি?

    কিন্তু না, সুদাম আসেনি মন্দিরে।

    রাতে মাথার কাঁটা কাজলে ডুবিয়ে শুকনো কলা পাতায় অলকাতিলকা লিখল:

    দুপুরে চকমকির ঘাটে যেন দেখা হয়। কথা আছে।

    তিলক

    তারপর পরিচারিকাকে ডেকে বললে, কাল সুয্যি ওঠার আগে পুবপাড়ার উত্তরে পোটো—পাড়ায় যেতে হবে। সুদাম পোটোর হাতে এটা দিয়ে আসবি।

    ভাঁজ—করা চিঠির সঙ্গে একজোড়া কানপাশাও এল দূতীর হাতে।

    .

    মন্দির থেকে বসন্তবিহারে না গিয়ে পালকি চলল চকমকির ঘাটে। সকালে একদফা স্নান সেরেই বেরিয়েছিল অলকাতিলকা, তবু সঙ্গে নিয়েছিল গামছা আর শাড়ি।

    ঝাঁ ঝাঁ করছে ভরদুপুর। আকাশে ছেঁড়া ছেঁড়া মেঘ। নদীর ধারে এ সময় কেউ থাকে না, জলের ধার ঘেঁষে শুধু একটা বক এক—পা তুলে থির হয়ে দাঁড়িয়ে। আর জলে পা ডুবিয়ে চুপ করে বসে আছে সুদাম। আহা, কত ভালো মানুষটি! যেন আরেকটি বক—তপস্বী!

    রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে ঘাটের দিকে এগিয়ে গেল অলকাতিলকা। পায়ের নূপুর যেন মুখ ঝামটা দিয়ে উঠল, ঝম—ঝম, ঝমর—ঝম!

    ফিরে তাকাল সুদাম। মুখ ভরে গেল হাসিতে। বললে, ডেকেছিস কেন তিলক?

    নাকের পাটা ফুলিয়ে তিলক বললে, এ তুই কি করেছিস সুদাম!

    কি আবার করলাম?

    রাধার মুখ আমার মতো করে গড়লি কেন? ছি, ছি, আমার যে লজ্জা রাখার ঠাঁই নেই!

    হাসি মুখে সুদাম বললে, আমার যে আনন্দ রাখবার ঠাঁই নেই!

    আমায় লজ্জা দিয়ে তোর আনন্দ? মরি, মরি, কি আনন্দের ছিরি!

    হাত ঘুরিয়ে বলতে গিয়ে বাজুবন্ধের ঝুমকো দুলে উঠল। সুদাম দেখল তিলক বড়ই রাগ করেছে। আগের তিলক যেমন কথায় কথায় মান করত। বললে, রাগ করিসনি তিলক।

    রাগ করব না! লোকে কি ভাবছে বল তো?

    আমার দোষ নেই তিলক। রাধার মুখ ভাবতে গেলে তোরই মুখখানা আমার চোখে ভেসে ওঠে। ছোটবেলা থেকে শুধু তোকেই যে দেখেছি! আমি কি করব বল?

    সুদামের গলাটা কেমন অসহায়।

    তিলকের রাগটা নিভে এল। ধপ করে সুদামের পাশে বসে পড়ে বললে, আমাকে তুই এখনো ভুলতে পারিসনি?

    কই আর পারলাম! তোকে আমি জেগেও দেখি, ঘুমিয়ে ঘুমিয়েও দেখি। আমি পোটো, তাই পট আঁকতে গেলে, মূর্তি গড়তে গেলে আমার হাত বাগ মানে না। পটের মুখ, মূর্তির মুখ তোরই মতো অমন পানের গড়ন হয়ে যায়, চোখ দুটো অমন ঢলঢলে, জোড়া ভুরু অমন জোড়া ধনুকের মতো, ঠোঁট দু’খানা অমন আধখোলা ফুলকুঁড়ির মতো হয়ে যায়! রাধাই গড়তে বল, আর ললিতা—বিশাখাই গড়তে বল, আমি ওই একখানা মুখই গড়তে জানি।

    তিলক দেখলে তারই পানে চেয়ে সুদামের টানা টানা সরল চোখ দুটো আবেশে বিভোর হয়ে উঠেছে। সুদাম আর ছোটটি নেই, তখন একুশ বছরের যুবা। কালো শিমুল তুলোর আঁশের মতো ফুরফুরে দাড়ি দুই গালে, ঠোঁটের ওপর গোঁফের রেখা। তবু তার কথায় তিলক তেমন লজ্জা পেল না, বরং একটা মিষ্টি শিহরণ খেলে গেল তার অঙ্গে অঙ্গে। সে বুঝতে পারলে না সেটা কিসের অনুভূতি, কিন্তু বড় ভালো লাগল।

    কৌতুকের সুরে তিলক বললে, তোর বিদ্যের বালাই নিয়ে মরি! কাল মন্দিরে যাসনি কেন শুনি?

    সুদাম বললে, গোপীনাথের মুখ আর দেখব না বলে। সেকি রে! ঠাকুরের ওপর এত গোসা কেন তোর?

    সুদামের রাধাকে সে কেড়ে নিয়েছে কেন?

    কী বললি! আমি তোর রাধা! ওরে আমার সাধের কেষ্টঠাকুর রে!

    খিলখিল হাসিতে ফেটে পড়ল তিলক।

    সে—হাসি গায়ে মাখলে না সুদাম। উদাস গলায় বললে, তামাসা করছিস? কর গে যা!

    জলের দিকে মুখ ফিরিয়ে রইল।

    হাসি থামিয়ে তিলক ডাকলে, রাগ করতে হবে না। আয়, চান করি।

    জলে নামল দু’জনে। সেই ছোটবেলার মতো এ ওর গায়ে জল ছোড়াছুড়ি করলে খানিক। দু’জনের মাঝখানে এই ক’বছরের ব্যবধান যেন নেই।

    এক সময় তিলক জিজ্ঞেস করলে, সুদাম, তোর বাঁশি?

    নেই।

    নেই! গেল কোথা?

    চকমকি জানে।

    এ কেমনতর কথা! বল না কোথা?

    চকমকির জলে বাঁশি ফেলে দিয়েছি।

    কেন?

    কে আর শুনবে?

    সুদামের গলায় এমন একটা উদাস—করা বিষাদ প্রকাশ পেল যে তিলকের বুকটা হঠাৎ কেমন করে উঠল। তাড়াতাড়ি বললে, আমি শুনব সুদাম। তুই বাজাস।

    সুদাম একটু হেসে বললে, বাজাব। কিন্তু তুই শুনবি কেমন করে? তুই কোথা আর আমি কোথা!

    মুখের কথা হারিয়ে গেল তিলকের। তাই তো! কোথায় পোটো—পাড়ার সুদাম, আর কোথায় বা বসন্তবিহারের দেবদাসী! মাঝখানে যে অনেকগুলো বছরের তফাত!

    একটু ভেবে তিলক বললে, যেদিন আবার চান করতে আসব, সেদিন বাজাস।

    কবে আসবি?

    এই ধর কাল।

    তারপর?

    পরশু।

    তারপর?

    রোজ।

    সুদাম বললে, বাঁশিটা আবার চিবিয়ে ভেঙে দিবি না তো?

    ছেলেমানুষের মতো হেসে উঠল দু’জনে। হাসতে হাসতেই তিলক পালকিতে গিয়ে বসল।

    .

    সেদিন সন্ধ্যা—আরতির পর নাটমন্দিরে অলকাতিলকা যখন নাচ শুরু করলে, তার দৃষ্টি গোপীনাথের মুখ থেকে বারবার সরে রাধার মুখের ওপর পড়তে লাগল। আর, মনটা থেকে থেকে পালিয়ে যেতে লাগল চকমকি নদীর ঘাটে, যেখানে মেঘলা আকাশ, ভরা দুপুর, আর জলে পা ডুবিয়ে বাবরি—মাথা দীঘল—চোখ এক যুবা হাসি—মুখে বলছে, রাধাই বল আর ললিতা—বিশাখাই বল, আমি ওই একটা মুখই গড়তে জানি।

    কথাটা যতবার মনে পড়ছে, ততবারই সেই অজানা মিষ্টি শিহরণের ঢেউ খেলে যাচ্ছে তার ঢেউ—খেলানো অঙ্গে অঙ্গে। নাচতে আজ বড় ভালো লাগছে দেবদাসীর। কত ছন্দ, কত তাল, কত লাস্যের লীলা তার আজকের নাচে। পায়ের নূপুর যেন একঝাঁক ভোমরার মতো আনন্দে গুঞ্জন করছে।

    নাচের শেষে মাধবদাস একটু অবাক হয়ে বললে, এ নাচ তুমি কোথায় পেলে মা? আমি তো শেখাইনি!

    অলকাতিলকা ভয়ে ভয়ে বললে, তাল কেটেছে বুঝি? মুদ্রায় ভুল হয়েছে?

    মাধবদাস বললে, না, তা বলিনি। তবে মনে হচ্ছিল এ নাচ ঠাকুরের উদ্দেশে নয়, মানুষের জন্যে। হয়তো আমারই বোঝার ভুল।

    অপ্রতিভ হয়ে গেল অলকাতিলকা। প্রতিদিনের মতো সে তো গোপীনাথের উদ্দেশেই নেচেছে। তবে? কি হল আজ তার নাচে?

    মাধবদাস আবার বললে, একটা কথা মনে রেখো মা। দেবদাসী আর নটীর নৃত্যে তফাত কি জানো? সংযমের।

    .

    রাতে কন্দর্পকান্তি এল। বললে গোপীনাথের রাধাকে দেখলে?

    অলকাতিলকা ঘাড় নাড়লে। বুঝতে পারলে প্রশ্নের জের সহজে মিটবে না।

    কন্দর্প জিজ্ঞেস করলে, কেমন লাগল?

    আজকাল অনেক বুদ্ধি ধরে অলকাতিলকা। প্রশ্নটা এড়িয়ে যাবার জন্যে বললে, কেমন করে বলব? মন্দিরে অগুরু—ধূপের ধোঁয়ায় ভালো করে দেখতে পাইনি।

    কন্দর্পও ছাড়বার পাত্র নয়। বললে, তাহলে দর্পণের সামনে দাঁড়াও, ভালো করেই দেখতে পাবে।

    মুখে একটু তাচ্ছিল্যের হাসি নিয়ে তিলক বললে, রাজাবাহাদুর কি বেছে আর পোটো পেলেন না? ঠাকুর—দেবতার মুখ গড়তে যে মানুষের মুখ গড়ে, অমন পোটোকে রাধা গড়তে দিলেন কেন?

    কন্দর্প বললে, দিয়ে ভালোই করেছি দেখছি। লোকটার পছন্দের সঙ্গে আমার পছন্দের মিল আছে।

    অলকাতিলকা অপাঙ্গে তাকিয়ে বললে, সামান্য একজন প্রজার সঙ্গে রাজাবাহাদুরের পছন্দের মিল আছে, এ কথাটা শুনতে খারাপ।

    রূপের ভক্ত সবাই। সেখানে রাজা—প্রজা নেই।—কন্দর্প বললে, ওকে আমি তার পাওনার তিন—গুণ পুরস্কার দিয়েছি।

    পোটোর কপাল ভালো!

    কিন্তু লোকটা বোধ হয় পাগল।

    কিসে বুঝলেন?

    সমস্ত টাকা সে ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছে। বলেছে, ‘আমার রাধা আমি গোপীনাথকে দান করেছি, বেচিনি।’

    চুপ হয়ে গেল অলকাতিলকা।

    কন্দর্প হঠাৎ প্রশ্ন করলে, সুদাম পোটোকে তুমি চিনতে?

    চমকে উঠল অলকাতিলকা। অতর্কিতে তার মুখ দিয়ে বেরিয়ে এল, কই, না!

    কিন্তু অলকাতিলকা নিজেও বুঝতে পারলে না কেন এ লুকোচুরি। কন্দর্প বললে, আশ্চর্য, তোমাকে চোখে না দেখেও তোমার মুখ সে গড়ল কেমন করে!

    অলকাতিলকা হালকা গলায় বললে, পোটোরা কল্পনায় দেখে অমন কত কি গড়ে।

    কন্দর্পকান্তি উচ্চচকণ্ঠে হেসে বললে, তা হবে। কেউ কল্পনায় রূপ দেখেই সুখ পায়। সে যেন স্বপ্নে জল খেয়ে তেষ্টা মেটানো! একটু থেমে আবার বললে, আমার তেষ্টা কিন্তু সত্যিকার জল না পেলে মেটে না অলকাতিলকা!

    কন্দর্পকান্তির সতৃষ্ণ দৃষ্টি দেবদাসীকে যেন ছুঁয়ে গেল।

    .

    সেদিন অনেক রাত অবধি ঘুম এল না অলকাতিলকার।

    অন্ধকার ঘরে তার মনে হল শয্যার দু’পাশে দুটি পুরুষ এসে দাঁড়িয়েছে। একজন কন্দর্পকান্তি, আরেকজন সুদাম। একজনের দৃষ্টিতে রূপের মাদকতা, আরেকজনের দৃষ্টিতে রূপের বন্দনা। তারই জন্যে একজনের বুকজোড়া তৃষ্ণা, আরেকজনের বুকভরা তৃপ্তি।

    একি অদ্ভুত দ্বন্দ্বের মধ্যে পড়েছে সে!

    দু’জনেই হাত বাড়িয়ে তাকে ডাকছে। একজন বলছে, ‘এসো, আমি তোমাকে রানি করব!’ অন্যজন বলছে, ‘তুই আমার রাধা!’ কিন্তু অলকাতিলকা জানে কারো ডাকেই সাড়া দেওয়ার উপায় তার নেই। সে যে দেবদাসী—গোপীনাথের পায়ে নিবেদিতা। দেবতার পূজার ফুল কি মানুষের গলার মালা হতে পারে? মানুষের কাছে তার আকাঙ্ক্ষা করতেও নেই, মানুষের আকাঙক্ষা মেটাতেও নেই।

    দেবদাসীর এই জীবন!

    তবু কেন মনটা কাল থেকে ফিরে ফিরে তাকাচ্ছে পিছন পানে? ঘরপালানো ছেলের মতো ছুটে ছুটে যাচ্ছে কখনো সেই হর্তুকি গাছতলায়, কখনো চকমকি নদীর ধারে, কখনো বা পোটো—পাড়ার একটা আটচালার নিচে! যেখানে জংলা সুরে তলদা বাঁশের বাঁশি বাজত, যেখানে খেলনা—হাঁড়িতে ধুলোর ভাত রান্না হত, যেখানে ছিল কথায় কথায় কোঁদল আর কথায় কথায় ভাব!

    সত্যি, কি কুঁদলে ছিল সেদিনের তিলক! একদিনের কথা মনে পড়লে এখনো তার হাসি পায়। ছবিটা যেন আজও স্পষ্ট দেখতে পায়।

    হর্তুকিতলায় ঘরকন্না সাজিয়ে বসে আছে তিলক। সুদাম আর আসে না। ধুলোর ভাত আর বটফলের তরকারি কখন রান্না হয়ে গেছে! তবু দেখা নেই সুদামের। একা একা অতিষ্ঠ হয়ে তিলক ঘরে চলে যাবে কিনা ভাবছে, এমন সময় জঙ্গলের ওধার থেকে বাঁশির আওয়াজ শোনা যায়।

    সুদাম এসেই গেরেম্ভারি চালে বলে, ভাত বেড়ে দে বউ—ঝট করে দে।

    ইঃ, কি আমার কত্তা এল রে! তিন প’র বেলায় এসে বলে, ‘ঝট করে ভাত দে!’ ভাত দেব, না চুলোর পাঁশ দেব!

    সুদাম ঘাবড়ে গিয়ে বলে, রাগ করছিস কেন?

    নাকের মাকড়ি দুলিয়ে তিলক বলে, কাল যে বললি ‘জুলজুলিয়া পুক’ ধরে দিবি, এনেছিস?

    —তাই তো! গতকাল তিলককে সে সত্যিই বলেছিল জঙ্গল থেকে জোনাকি পোকা ধরে এনে দেবে। খেলাঘরে ঝাড়লন্ঠন করবে সে। কিন্তু—কিন্তু হয়ে বলে, ওই যাঃ! ভুলে গেছি।

    খেপে যায় তিলক। বলে, ভুলে গেছিস! মিথ্যুক কোথাকার! দিবি নে তাই বল। আচ্ছা, না দিবি তো আমিও ভাত দেব না, যা।

    পা দিয়ে ভাত তরকারি ছড়িয়ে দেয় তিলক। সুদামেরও মেজাজ কাঁহাতক ঠিক থাকে? বলে, অত তেজ দেখাসনি বউ!

    বেশ করব, দেখাব।

    দেখাবি?

    হ্যাঁ, দেখাব। টাট্টু ঘোড়ার মতো ঘাড় বেঁকিয়ে বললে তিলক।

    আর সহ্য হল না। চুলের ঝুঁটি ধরে দুম করে এক কিল বসিয়ে দিলে সুদাম। কিল খেয়ে কিল চুরি করার পাত্রী নয় তিলক। ঝাঁপিয়ে পড়ে খামচে দিল সুদামের মুখ। তারপর বেশ খানিকটা নিরাপদ দূরত্বে সরে গিয়ে ভেংচি কেটে বললে, সুদাম না বাদাম! অমন কত্তার মুখ আর দেখব না—দেখব না—দেখব না!

    বলেই ছুট।

    প্রতিশোধ নিয়েও তিলক কিন্তু ঘরে ফিরে অনেক কান্না কেঁদেছিল। পিঠের ব্যথায় নয়, সুদামকে আর দেখতে পাবে না বলে। কিন্তু অবাক কাণ্ড! রাত পোহাতেই সেই তলদা বাঁশের বংশীধর তার দোরগোড়ায় এসে হাজির। শুয়েছিল তিলক, চট করে চোখ বুজে ফেললে।

    সুদাম বললে, ভোর হয়ে গেল, এখনো শুয়ে! বাবা, কি ঘুম রে!

    তিলক বললে, ঘুমোইনি তো!

    তবে চোখ বুজে আছিস কেন?

    আমি যে কাল তিন সত্যি করেছি তোর মুখ আর দেখব না। এখন কি করি?

    বলতে বলতে ঠোঁট কেঁপে বোজা চোখের কোল দিয়ে জল গড়িয়ে এল তিলকের।

    হেসে উঠল সুদাম। বললে, তুই তো তিনবার বলেছিস দেখবি না, চারবার বল, ব্যস, তাহলেই পচে যাবে।

    তিলক যেন অকূলে কূল পেল। তৎক্ষণাৎ বলে ফেলল, তোর মুখ আর দেখব না।

    তারপর একগাল হেসে চোখ মেলে তাকাল।

    কিন্তু সেদিন কে জানত সেই শপথ একদা সত্যি হয়ে উঠবে! দেবদাসী হয়ে ইস্তক সুদামের মুখ সে সত্যিই দেখেনি। এক—আধটা বছর নয়, পাঁচ—পাঁচটা বছর। গোপীনাথের সেবা, মন্দিরে নাচ, আর বসন্তবিহারে নির্বাসনের মাঝে সে তো ভুলেই গিয়েছিল সুদামকে, আর সুদামের সঙ্গে সঙ্গে তার পূর্ব জীবনকে!

    কিন্তু সুদাম? সুদাম তাকে ভুলে যায়নি। তিলকের মুখখানা সে নিত্য দেখেছে। জেগে জেগে আর ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে। তার প্রমাণ সে এঁকে রেখেছে রাধার মুখে।

    আসলে ভোলেনি তিলকও। কিছুই ভোলেনি। তার মনের মধ্যেই এতদিন লুকিয়েছিল সুদাম। জঙ্গলে লুকোচুরি খেলতে খেলতে যেমন হঠাৎ হারিয়ে যেত। অথবা চকমকির জলে হঠাৎ ডুব দিয়ে যেমন তিলকের পা ধরে টানত। তা নইলে এতদিন বাদে চকমকির ঘাটে সুদামকে দেখে একটুও নতুন লাগল না কেন? বরং নতুন মনে হল নিজেকে। কন্দর্পকান্তির দৃষ্টি তাকে বলে দিয়েছে তার রূপ আছে,সে পুরুষকে ভোলাতে পারে। কিন্তু একুশ বছরের জোয়ান সুদামের আবেশভরা দীঘল চোখে চোখ রেখে বুঝতে পারল সে সুন্দর! সে পুরুষের প্রিয়া!

    আর, এই কথাটা বুঝতে পারার সঙ্গে সঙ্গে তিলকের মনে হয়েছে মেয়ে হয়ে জন্মানো তার সার্থক হল।

    কাল আবার চকমকির ঘাটে অপেক্ষা করবে সুদাম। তার জন্যে, শুধু তারই জন্যে। ভাবতে কী ভালো লাগছে!

    শয্যা ছেড়ে অলকাতিলকা জানলার ধারে গিয়ে দাঁড়াল। জঙ্গলের মাথায় সাতটি তারা জ্বলজ্বল করছে। ছোটবেলায় সুদাম বলত, ওরা সাত ভাই চাঁপা।

    রাত এখনো বাকি। সকাল হতে আর কত দেরি?

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleদেরি হয়ে গেছে – প্রচেত গুপ্ত
    Next Article মহাভারতের মহারণ্যে – প্রতিভা বসু
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }