Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    দশটি রহস্য উপন্যাস – প্রণব রায়

    প্রণব রায় এক পাতা গল্প1004 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    শঙ্খচূড় – ৮

    আট

    দিন গেল, রাত এল। আসে আর যায়।

    অরণ্যের রাত যেন যাদুকরী। সে ডাকে, সে টানে।

    আরতি—নৃত্যের পর জলসা বাড়িতে ফিরে সাজ বদলাতে যাচ্ছিল অলকাতিলকা। চমকে উঠল। যাদুকরী রাত শুধু ডাকে আর টানে না, সে বুঝি বাঁশি বাজিয়ে সাপও খেলায়! জঙ্গলে অনেক কেউটে, অনেক শঙ্খচূড়!

    কিন্তু এ তো সাপ—খেলানোর সুর নয়! রাতের বাঁশিতে জংলা সুর বাজে, এ কেমন কথা! এ সুর যে অলকাতিলকার বড় চেনা, তার রক্তে মিশে আছে এ সুর।

    এই অসময়ে কে বাজায়?

    সাজ পালটানো আর হল না দেবদাসীর। জানলার পাশে গিয়ে দাঁড়াল। এ যে সেই সুর, যে সুর শোনার অপেক্ষায় হর্তুকি গাছতলায় আট বছরের বালিকা—মন উৎসুক হয়ে থাকত। যে সুরে চকমকির ঘাটে ভরদুপুরের আকাশ ঝিমিয়ে আসে। এ সেই জংলা সুর! দূর থেকে ক্রমশ কাছে আসছে।

    কে বাজায়? যাদুকরী রাত, না আর কেউ?

    হাত বাড়িয়ে কালো ওড়নাখানা টেনে নিল অলকাতিলকা। তারপর গায়ে মাথায় জড়িয়ে, পা টিপে টিপে বেরিয়ে পড়ল ঘর থেকে। পায়ের নূপুর ভয়ে ভয়ে বাজতে লাগল ঝুম—ঝুম ঝুমুর—ঝুম ঝুম—ঝুম।

    ছুটে এল পরিচারিকা। বললে, কোথা যাও? সঙ্গে যাব?

    ঠোঁটে আঙুল দিয়ে, হাতের আংটি খুলে দিলে অলকাতিলকা।

    বাঁশি কাছে আসছে।

    ফটকের পাহারাদার আটকালো: রাজাবাহাদুরের হুকুম নেই একা ছেড়ে দিতে।

    বাঁশি আরো কাছে আসছে।

    অলকাতিলকার বুকের ভেতরটা কাঁপছে। পাহারাদারকে বললে, মন্দিরে মুক্তোর হার ফেলে এসেছি। এখুনি যাও, নিয়ে এসো।

    পাহারাদার আর দাঁড়াল না। লাঠি লণ্ঠন নিয়ে ঢালু পথে নেমে গেল। আর, ফটকে দাঁড়িয়ে সেদিকে অনিমেষে তাকিয়ে রইল অলকাতিলকা।

    ধীরে ধীরে সেই পাহাড়ি রাস্তার চড়াইয়ের দিক থেকে দেখা গেল বাবরি চুলে ঘেরা একটা মাথা, আর মুখের কাছে দু’হাতে ধরা একটা আড় বাঁশি। আবছায়া জ্যোৎস্নায় স্পষ্ট করে দেখা যায় না, তবু অলকাতিলকার চেতনা সজাগ হয়ে উঠল।

    মাথা থেকে বুক, বুক থেকে গোটা দেহটাই দেখা গেল এবার। চওড়া বুকের ছাতি, সরু কোমরে খাটো ধুতির কোঁচার দিকটা জড়িয়ে বাঁধা।

    চিনেছে। সুদাম!

    যেন হাওয়ার ওপর পা। ফেলে ছুটে গেল অলকাতিলকা। শঙ্কিত নূপুর চাপা আনন্দে বেজে উঠল ঝুম—ঝুম ঝুমুর—ঝুম!

    পথে, মাঝামাঝি দু’জনে দেখা।

    উৎকণ্ঠায় আলুথালু হয়ে অলকাতিলকা বললে, এখানে কেন এলি সুদাম?

    বাঁশিটা কোমরে গুঁজে সুদাম বললে, না এসে যে পারি নে তিলক। আজ সাতদিন তোকে দেখতে পাইনি।

    তাই বলে চার কোশ পথ ভেঙে এলি! শুধু আমায় দেখতে!

    মিষ্টি করে হাসল সুদাম: আর কাকে দেখতে?

    সুদামের হাতখানা ধরে ফেললে তিলক। বললে, একে রাত, তায় জঙ্গলের পথ—বুনো জানোয়ার আছে—না, না সুদাম, আমার মাথা খাস, বল আর আসবি নে?

    বলব। আগে বল, কাল থেকে তুই চকমকির ঘাটে যাবি?

    তিলকের গলাটা ধরে এল। বললে, চকমকির ঘাটে যাওয়া আমার বন্ধ, সুদাম। রাজাবাহাদুরের মানা।

    খানিক চুপ করে রইল সুদাম। তারপর আস্তে আস্তে বললে, আমি জানতাম, আমার কাছে তোর আসা একদিন বন্ধ হয়ে যাবে! গোপীনাথ তোকে কেড়ে নিয়েও ফিরিয়ে দিয়েছিল। রাজাহুজুর আর ফিরিয়ে দেবে না।

    চোখে জল এসে পড়েছিল, সামলে নিয়ে তিলক বললে, মনে কষ্ট করিসনে সুদাম। আমার জন্যে আর ঘুরে বেড়িয়ে কি হবে বল! তার চেয়ে তুই বিয়ে—থা কর, করে সুখী হ।

    হেসে উঠল সুদাম। বললে, সুখ কাকে বলে জানিস?

    কাকে?

    যখন দিনান্তে একটিবার তিলকের সঙ্গে সুদামের দেখা হয়। তুই ছাড়া আমার সুখ কোথায় রে?

    তিলক আর পারলে না। বড় সুখে, বড় আনন্দে সুদামের চওড়া বুকে মুখ গুঁজে ধরে—রাখা চোখের জল ছেড়ে দিলে।

    আর, ঠিক সেই সময় পাথরের রাস্তায় ঘোড়ার খুরের শব্দ শোনা গেল খটাখট খটাখট।

    চকিতে মুখ তুলে তাকাল তিলক। তারপরেই সুদামের হাত টেনে জঙ্গলের অন্ধকারে মিশিয়ে গেল।

    মুহূর্ত কয়েক বাদেই ঘোড়সওয়ারের মূর্তিটা ছুটে বেরিয়ে গেল তীরবেগে। আবছায়া অন্ধকারে লোহার রেকাব চকচক করছে।

    সুদামের মুঠিটা তখন শক্ত করে চেপে আছে তিলক।

    .

    আরো খানিক বাদে অলকাতিলকা যখন বসন্তবিহারে এল, পাহারাদার তখনও মন্দির থেকে ফেরেনি।

    পরিচারিকা বললে, রাজাবাহাদুর এসে ফিরে গেছে।

    .

    সেই রাতেই কন্দর্পকান্তির বৈঠকখানায় কেতু সর্দারের ডাক পড়ল। সেই চওড়া গালপাট্টা, চুমরানো গোঁফ আর রক্তবর্ণ একটি মাত্র চোখ।

    কন্দর্প বললে, তোকে একটা কাজ করতে হবে কেতু।

    নুলো হাতখানা কপালে ঠেকিয়ে কেতু বললে, আজ্ঞা করুন রাজাহুজুর।

    কাল থেকে রাতে জঙ্গলে গা—ঢাকা দিয়ে থাকবি, আর জলসা বাড়ির ওপর নজর রাখবি। কে আসে, কে যায়, খবর চাই আমার। বুঝলি?

    তা আর বুঝব না হুজুর? কিন্তু জঙ্গলে চিতে আছে যে!

    থাকলই বা। তুই তো চিতে—মারা কেতু। না হয় বাঁ—হাতের কবজিটাও যাবে। যাকগে, কবজির দাম পাবি।

    নুলো হাতখানা আরকবার কপালে ঠেকিয়ে, চিতার মতো দাঁত বের করলে কেতু।

    .

    পরদিন রাতে কন্দর্পকান্তির ঘোড়া বসন্তবিহারের ফটকে আবার থামল। দেবদাসী ঘরেই ছিল।

    কাল কোথায় বেরিয়েছিলে?

    সহজভাবেই জিজ্ঞেস করল কন্দর্প। কিন্তু অলকাতিলকা যেন এক মুহূর্তের জন্য কাঠ হয়ে গেল। শ্বেতপাথরের মেঝের দিকে চোখ রেখে থেমে থেমে বললে, মুক্তোর হারছড়াটা কাল কোথায় যে হারিয়ে ফেলেছি! পথে পড়ল কিনা—খুজতে গিয়েছিলাম।

    খুঁজে পেলে?

    না।

    হেসে উঠল কন্দর্পকান্তি। বললে, পাবে না আমি জানি। মুক্তোর মালা হচ্ছে যুবতীর মন, একবার হারালে আর পাওয়া যায় না! দুটোই দামি জিনিস কিনা। সামলে রাখতে হয়।

    অলকাতিলকা বোবা হয়ে গেল।

    কন্দর্প বললে, যাকগে, একছড়া গেছে, দশছড়া আসবে। মালার অভাব কি? পরবার লোকেরই অভাব।

    অলকাতিলকা চোখ তুললে। কন্দর্পকান্তিকে একবার দেখে নিয়ে বললে, রাজাবাহাদুরের এত বড় রাজ্যে সে—অভাব তো হবার কথা নয়!

    কন্দর্প বললে, কথা অবশ্য নয়, কিন্তু রাজা হলেই কি সব অভাব মেটে? আমার অভাব কোথায়, তুমি খোঁজ রাখো?

    কন্দর্প একটু কাছে এগিয়ে এলো। দু’পা সরে গিয়ে অলকাতিলকা বললে, আমি সামান্য মেয়ে, রাজা—রাজড়ার অভাব আমি কেমন করে জানব বলুন?

    রাজা—রাজড়াও তো মানুষ। মানুষ কি চায়, তুমি জানো না?

    জানি। সুখী হতে চায়।

    কন্দর্পের চোখে তৃষ্ণা আর গলায় আবেগ। বললে, আমিও চাই অলকাতিলকা। কিন্তু সুখী একা হওয়া যায় না, পাশে আরেকজনকে দরকার হয়।

    অলকাতিলকার কেমন ভয় ভয় করতে লাগল। মৃদু গলায় বললে, দেবগড়ের রাণি হবার যুগ্যি মেয়ে কি দেশে নেই? গোটা উড়িষ্যায় অনেক রূপসী মেয়ে আছে।

    তা আছে বটে। রূপসী অনেক, কিন্তু মনের মতো শুধু একটি। তুমি জানো সে কে। জানো না?

    অলকাতিলকা যেন পাথর।

    কন্দর্প আবার বললে, ধরো, আমি যদি তাকেই চাই, সে কি আমায় ফিরিয়ে দিতে পারে?

    অলকাতিলকা পাথর হয়েই দাঁড়িয়ে রইল। তার মুখ থেকে কে যেন সমস্ত রক্ত শুষে নিয়েছে।

    জবাবটা ভেবে রেখো।

    হাতের ছড়িটা ঘোরাতে ঘোরাতে বেরিয়ে গেল কন্দর্পকান্তি।

    .

    বাঁশি ডাকে আরো বেশি রাতে। যখন মানুষ ঘুমোয়, অরণ্য জাগে। আর, অরণ্যের সঙ্গে সঙ্গে জাগে অলকাতিলকার শঙ্কিত অথচ উৎসুক মন।

    ভাবে আর যাব না, কিন্তু না গিয়েও পারে না। বাঁশি শুধু ডাকে না, বশ করে। শুধু বশ করে না, অবশ করে। জংলা সুর যেন নেশার মতো। কানে গেলেই আবেশে রিমঝিম করে ওঠে সকল ইন্দ্রিয়, সমস্ত চেতনা। অবশ মন আস্তে আস্তে ফণা—তোলা নাগিনীর মতো দুলতে থাকে। নিজেকে আর সামলাতে পারে না অলকাতিলকা। কালো ওড়নাখানা গায়ে মাথায় জড়িয়ে পা টিপে টিপে ঘর থেকে বেরোয়!

    পদ্ম—কাটা মেঝের ওপর অগাধে ঘুমিয়ে থাকে পরিচারিকা। জলসাঘরের বারান্দায় নাক ডাকায় পাহারাদার। ফুলের বাগান পার হয়ে অলকাতিলকা চলে আসে ফটকে। ফটক পার হয়ে রাস্তায়। আলতো পায়ের ভয়তরাসী নূপুর বাজে ঝুম—ঝুম ঝুম—ঝুম।

    যেন ফিসফিস করে বলে, চুপ চুপ! এই বুঝি কে জাগল! এই বুঝি কে দেখল!

    কিন্তু কেউ জাগেও না, কেউ দেখেও না। দেখে শুধু জঙ্গলের মাথায় সপ্তর্ষি তারা। দেবদাসীর ভয় দেখে মিটিমিটি হাসে।

    অলকাতিলকা বলে, এই নিশুত রাত—তোর প্রাণে কি ভয়—ডর নেই সুদাম?

    হাসিমুখে সুদাম বলে, তোর আছে? থাকলে কি আমার কাছে আসতে পারতিস?

    রাগ দেখিয়ে তিলক বলে, যত নষ্টের গোড়া ওই মুখপোড়া বাঁশিটা! সাধ হয় ছোটবেলার মতো ওটাকে চিবিয়ে ভাঙি।

    তলদা বাঁশের বাঁশিটা এগিয়ে ধরে সুদাম বলে, নে না, সাধটা মিটিয়ে নে। বাঁশি ভাঙতে পারবি, আমার গান তো কাড়তে পারবিনে।

    খুব পারব।

    পারবি নে তিলক। যতদিন তুই থাকবি, ততদিন আমার গানও থাকবে।

    যদি একশো বছর থাকি?

    আমার গানও একশো বছর থাকবে।

    যদি দু’দিন থাকি?

    আমার গানের মেয়াদও দু’দিন। তুই—ই তো আমার গান রে?

    সুদামের বুকের কাছে আরো সরে এসে তিলক বললে, আমার কেন এত ভয় করে সুদাম?

    কিসের ভয়?

    আমাদের ওপর কার যেন কু—দৃষ্টি পড়েছে!

    সুদাম হেসে বললে, দূর! মিছে তোর ভয়।

    একটা নিশ্বাস ফেলে তিলক বললে, তা হবে। রাত ভারি হল সুদাম, এবার ঘরে যা।

    আগে তুই যা।

    না, আগে তুই যা।

    ঢালু পথে পা বাড়াল সুদাম। যেতে যেতে বাঁশিতে ফুঁ দিল। সেদিকে খানিক তাকিয়ে থেকে তিলক আস্তে আস্তে ফটকের দিকে এগোল।

    দু’জনের কেউই এতক্ষণ লক্ষ করেনি পাশের কালকাসুন্দা ঝোপের দিকে। নইলে দেখতে পেত কু—দৃষ্টি সত্যিই পড়েছে ওদের ওপর। ঝোপের আড়াল থেকে জ্বলজ্বলে একটা চোখ সব দেখছিল! সে চোখ চিতার নয়, চিতে—মারা কেতুর।

    .

    রোজ রাতে লুকিয়ে দেখা করে?

    আজ্ঞে।

    লোকটা কে? নতুন কেউ?

    কাট—গ্লাসের গেলাসটা তুলে নিল কন্দর্পকান্তি। কমলালেবু রঙের পানীয় টলটল করছে।

    কেতু সবিনয়ে নিবেদন করলে: আজ্ঞে না, ফুলে ভোমরায় ভাব থাকলে কি বদল হয়? ভোমরা সেই পুরানো!

    মানে সুদাম পোটো?

    ঠিক ধরেছেন হুজুর।

    হাতের ভরা পাত্রটাকে কন্দর্পকান্তি এক আছাড় মারলে মার্বেলের মেঝের ওপর। টুকরো টুকরো হয়ে গেল শৌখিন কাট—গ্লাসের গেলাস।

    কেতু বলে উঠল, আহা—হা! মুখে তুলতে গিয়ে ফসকে গেল হুজুর!

    চোপরাও!

    ধমকে উঠল কন্দর্পকান্তি। অস্থিরভাবে পায়চারি করতে করতে বললে, সুদাম পোটোর এমন আস্পর্ধা! প্রজা হয়ে রাজার ওপর টেক্কা দেয়!

    ভাঙা কাচের টুকরোগুলো কুড়োতে কুড়োতে কেতু দন্তুর প্রাণীর মতো হাসলে। বললে, মানুষের বুকের ভেতর একটা রাজ্যি আছে হুজুর, সেখেনে সে নিজেই রাজা!

    কথাটা কন্দর্প বোধ করি কান দিয়েই শুনল, মন দিয়ে বুঝল না। অন্যমনস্ক হয়ে ডাকল, কেতু!

    কাচের টুকরোগুলো একপাশে জড়ো করে রেখে কেতু উঠে দাঁড়াল।—আজ্ঞে করুন রাজাহুজুর!

    বয়স হলেও অন্ধকারে তোর একচোখ হায়েনার মতো জ্বলে, না রে?

    তা জ্বলে বইকি আজ্ঞে।

    শড়কিতে তোর বাঁ—হাতের টিপ এখনো পাকা, তাই না?

    ঘাড় নেড়ে কেতু বললে, সবই মা রক্তখাগীর দয়া!

    কাছে এগিয়ে এল কন্দর্পকান্তি। দাঁতে দাঁত চেপে চাপা গলায় বললে, তাহলে শোন। আজ রাতে এক শড়কিতে দুটোকেই—

    কন্দর্পের কথা শেষ হল না। নুলো হাতখানা কপাল ঠেকিয়ে কেতু বলে উঠল, মাপ করতে হল হুজুর। আমি চিতে—মারা কেতু, আমায় জোড়—বাঁধা পাখি মারতে আজ্ঞে করবেন না। ও বড় ছোট কাজ!

    ছোট কাজ!

    কয়েক মুহূর্ত কেতুর মুখের পানে স্থির চোখে তাকিয়ে রইল কন্দর্প। তারপর বললে, ও! সাধু হয়েছিস!

    এবার শব্দ করে হেসে উঠল কেতু। বললে, কি যে বলেন হুজুর! জীবনভর শয়তানের গোলামি করে আমি সাধু হব! আর না হুজুর, এবার ছুটি দিন।

    তা হবে না কেতু। জীবনভর যখন শয়তানের গোলামি করেছিস, তখন আজও করতে হবে। নইলে—

    দেয়ালে কোণে রাখা রাইফেলটা টেনে নিয়ে কথাটা শেষ করলে কন্দর্প, নইলে একেবারে ছুটি দিয়ে দেব।

    গুম খেয়ে গেল কেতু সর্দার। তারপর একটু হেসে বললে, না হুজুর, না! আমার জানের চেয়ে আপনার বন্দুকের একটা টোটার দাম বেশি। বাজে খরচ করবেন না!

    কাল রাতে আমার খবর চাই।

    যে আজ্ঞা রাজাহুজুর।

    .

    যেন ওত পেতে এগিয়ে এল একটা বুনো জানোয়ার। গুঁড়ি মেরে এসে দাঁড়াল কালকাসুন্দা ঝোপের আড়ালে।

    জানোয়ার নয়, মানুষ। কেতু সর্দার। হায়েনার মতো একটা মাত্র চোখ সত্যিই জ্বলছে। হাতের শক্ত মুঠোয় একটা শড়কি!

    ফাগুনে হাওয়ায় বাঁশির আওয়াজটা শুনেই এগিয়ে এসেছে কেতু। আকাশে একাদশীর চাঁদ। ছিটে—ছিটে জ্যোৎস্নায় জঙ্গলময় সলমাচুমকির কাজ করা।

    ওই যে দেবদাসী আসছে পা টিপে টিপে। পায়ের নূপুর যেন ভয়ে মরে যাচ্ছে, ঝুম—ঝুম, ঝুমুর—ঝুম, ঝুম—ঝুম!

    উলটো পথে সুদাম এল। বাঁশিটা গুঁজে রাখলে কোমরে। দু’জনে মুখোমুখি দাঁড়াল শিরীষগাছতলায়।

    সব দেখতে পাচ্ছে কেতু। সুদামের মুখ আর দেবদাসীর পিঠ। শুধু শুনতে পাচ্ছে না ওদের কথা। না পাক, চোখের নিশানা ঠিক হলেই হল!

    কত কথাই বলছে দু’জনে। সত্যি যেন জোড়—বাঁধা পাখি! হাওয়ায় ফুরফুর করে শিরীষ ফুলের থোকা ঝরে ঝরে পড়ছে ওদের গায়ে মাথায়। রাজাহুজুরের হুকুম এক শড়কিতে দুটোকে গেঁথে ফেলতে হবে। কিন্তু খুনের নেশা লাগছে না কেন কেতুর রক্তে? বয়েস হয়েছে বলে? না, লোহার পাতের মতো শক্ত বুকের ছাতির মধ্যে মানুষের মনটা এখনো একেবারে মরেনি বলে?

    গলা টিপে মারো সেই মনটাকে। রাজাহুজুরের হুকুম বরাবর সে তামিল করে এসেছে, আজও তামিল করতে হবে। অনেক নুন খেয়েছে, কেতু সর্দার বেইমান নয়।

    কিন্তু দুনিয়ার কার পাকা ধানে মই দিয়েছে ওই ছোঁড়া—ছুঁড়ি দুটো। কারো না। তবে? একজোড়া বাচ্চচা হরিণ—হরিণীকে মেরে লাভ কি?

    লাভ নেই বটে, কিন্তু লোকসান আছে। জান নিতে না পারলে জান দিতে হবে। রাজাহুজুরের হুকুম!

    কেতুর ইচ্ছে হল চেঁচিয়ে বলে, পালিয়ে যা রে তোরা, পালিয়ে যা! এমন রাজ্যে পালিয়ে যা, যেখেনে রাজা নেই, কেতু সর্দার নেই!

    বোকা ছেলেমেয়ে দুটো তবু নড়ে না। কথা কইছে, রঙ্গ করছে, হাসছে! ভয় নেই, ডর নেই, ওরা দু’জন ছাড়া গোটা দুনিয়ায় যেন আর কেউ নেই!

    মরুক তবে।

    সুদামের মুখোমুখি বলে কেতুর দিকে পিছন ফিরে দাঁড়িয়েছে দেবদাসী। ভালোই হয়েছে। এক সঙ্গেই দুজনকে গেঁথে ফেলা সহজ। শড়কিটা মেয়েটার পিঠ ফুঁড়ে ছেলেটার বুকে সোজা ঢুকে যাবে।

    বাঁ—হাতের মুঠো আরো শক্ত হল। আস্তে আস্তে শড়কি—ধরা হাতখানা উঁচিয়ে ধরলে কেতু। আর, ঠিক সেই সময় মিষ্টি হেসে মুখ ফেরাল দেবদাসী। ভরা একাদশীর চাঁদের আলো পড়ল তার মুখে।

    হাত কেঁপে গেল কেতু সর্দারের। কিন্তু শড়কি তখন সে ছেড়ে দিয়েছে। সাঁত করে একটা শব্দ হল শুধু, চকচকে ফলাটা সাপের জিভের মতো লকলক করে উঠেই শিরীষগাছের গুঁড়িতে গেঁথে গেল।

    ভয়ার্ত আওয়াজ করে নিমেষে অলকাতিলকাকে টেনে সরিয়ে নিলে সুদাম।

    ক্লান্ত পশুর মতো কেতু তখন হাঁপাচ্ছে।

    .

    অস্থির পায়ে ঘরময় করে বেড়াচ্ছে কন্দর্প কান্তি। মাথা হেঁট করে এসে দাঁড়াল কেতু।

    পারলাম না হুজুর।

    স্থির হয়ে গেল কন্দর্প। হাত দু’খানা পিছনে মুষ্টিবদ্ধ।

    পারলি না!

    আজ্ঞে না।

    কেন পারলি না?

    হাতের টিপ ফসকে গেল হুজুর।

    অত্যাচারী রাজবংশের রক্ত কন্দর্পের শিরায় শিরায় টগবগ করে উঠল। বললে, মিছে কথা! সাপের ছোবল ফসকায়, কেতু সর্দারের শড়কি ফসকায় না।

    মা রক্তখাগীর দিব্যি! জীবনে এই পেরথম ফসকাল।

    কর্কশ স্বরে কন্দর্প বললে, বাজে কথা রাখ! তৈরি হ।

    দেয়ালে ঠেসিয়ে রাখা রাইফেলটা নিতে যাচ্ছিল কন্দর্প, হঠাৎ থেমে বললে, নাঃ, একটা টোটা বাজে খরচ করে লাভ নেই।

    দেয়ালে ঝোলানো শংকর মাছের চাবুকটা টেনে নিলে সে।

    একটুও চমকাল না কেতু। অনুনয় করে বললে, ওটাও রেখে দিন হুজুর। তার চে’ আমার এই বাঁ—হাতের কব্জিটাও কেটে বাদ দিয়ে দিন, যাতে আর কখনো শড়কি ধরতে না হয়!

    উত্তরে সপাং করে একটা শব্দ হল শুধু। কেতুর কালো মুখের এপাশ থেকে ওপাশ অবধি আড়াআড়িভাবে রক্ত ঝুঁজিয়ে পড়তে লাগল।

    তিক্ত হাসিতে ঠোঁট দু’খানা বেঁকিয়ে কন্দর্প বললে, হাতের টিপ ফসকে গেছে! না, অলকাতিলকার চাঁদ—মুখ দেখ ভুলে গেছিস?

    রক্তাক্ত মুখে বীভৎস হেসে কেতু বললে, তা গেছি হুজুর। তার চাঁদ—মুখ দেখেই ভুলে গেছি। ভালো করে আগে দেখিনি, মুখখানা অনেকটা আমার ওলাউঠোয় মরা মেয়ে কুন্তীর মতন!

    তাজা রক্তের সঙ্গে দু’ফোঁটা চোখের জল এসে মিশল।

    ভুরু কুঁচকে কয়েক মুহূর্ত দাঁড়িয়ে রইল কন্দর্প। তারপর হাতের চাবুকটা আছড়ে ফেলে দিলে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleদেরি হয়ে গেছে – প্রচেত গুপ্ত
    Next Article মহাভারতের মহারণ্যে – প্রতিভা বসু
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }