Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    দশটি রহস্য উপন্যাস – প্রণব রায়

    প্রণব রায় এক পাতা গল্প1004 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    শঙ্খচূড় – ৯

    নয়

    শড়কিটা দৈবাৎ শিরীষ গাছের গায়ে বিঁধেছিল, তাই রক্ষে! নইলে কী যে হত ভাবলেও অলকাতিলকার গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠে এখনো।

    সেদিন রাতে সে সুদামকে বলেছিল, চারদিকে শত্তুর! আমার গা ছুঁয়ে বল আর কখনো এমুখো হবি না?

    সুদাম অবশ্য তার গা ছোঁয়নি। তখনই চলে গিয়েছিল।

    শড়কি যদি তাকে তাগ করে, করুক। তিলকের গায়ে যেন ছোঁয়া না লাগে।

    সেই থেকে আজ দু’রাত সুদাম আর আসে না। তবু চোখে ঘুম নেই অলকাতিলকার। আধ—পাগল মানুষটার কখন যে কি খেয়াল হয় কে জানে!

    পুবের চাঁদ মাথার ওপর এল। আজও জানলায় দাঁড়িয়ে আছে অলকাতিলকা। কি জানি কখন বাঁশি ডাকে!

    কিন্তু বাঁশি তো নয়, ঘোড়ার খুরের শব্দ! থামল ফটকে। এত রাতে রাজাবাহাদুর আগে কখনো আসেনি। দেবদাসীর মনটা শামুকের মতো নিজেকে গুটিয়ে নিলে।

    কন্দর্পকান্তি ঘরে এল। রক্তাভ চোখ, মুখের নিশ্বাসে ঝাঁঝালো সুরভি।

    অলকাতিলকা আড়ষ্ট হয়ে গেল। বললে, এত রাতে আপনি!

    পায়ের ওপর পা তুলে বসলে কন্দর্পকান্তি। বললে, এত রাত কোথায়? দেখতে এলাম কেমন আছ, কোনো অসুবিধে হচ্ছে কিনা।

    সে—খবর নেওয়ার জন্যে তো রাজবাড়ির মাইনে—করা লোক আছে। রাজাবাহাদুর কষ্ট করেন কেন?

    হাসতে হাসতে কন্দর্প বললে, কথায় বলে, কষ্ট না করলে কেষ্ট পাওয়া যায় না। আমি কি বলি জানো? কষ্ট না করলে রাধা পাওয়া যায় না।

    ইঙ্গিতটা বুঝতে দেরি হল না। মুখে একটু হাসি টেনে অলকা—তিলকা বললে, রাজাবাহাদুরের কথাটা কি ঠিক হল? কেষ্টকে পাওয়া সহজ, কেষ্ট সকলের। কিন্তু রাধা যে শুধু একজনের।

    একটা চোখ ঈষৎ ছোট করে কন্দর্প ক্লান্তি বললে, তাই নাকি? সেই একজনটি কে?

    রাধা গোপীনাথের—সে তো সবাই জানে।

    কিন্তু তুমি কার রাধা? গোপীনাথ, না সুদাম পোটোর?

    বুকের ভেতরটা ধক করে উঠল অলকাতিলকার। ভয়টাকে সামলে নিতে কয়েক মুহূর্ত লাগল। তারপর বলে উঠল, ওকথা বলবেন না। আমি রাধা নই, গোপীনাথের কোটি দাসীর মধ্যে একটি দাসী।

    দাসী—জিভ আর তালুর সংযোগে আক্ষেপের শব্দ করলে কন্দর্প। বললে, এত রূপ কি দাসী হবার জন্যে বিধাতা দিয়েছেন? না, না, এত রূপ রানি হবার জন্যে।

    অলকাতিলকা আড়ষ্ট হয়েই রইল।

    কন্দর্প বললে, শোনো দেবদাসী, আমি অনেকদিন অপেক্ষা করেছি, আজ তোমার সঙ্গে বোঝাপড়া করতেই আমার আসা। তুমি আমার হবে কিনা বলো?

    এই আশঙ্কাই করেছিল অলকাতিলকা। রূপের চেয়ে বড় শত্রু নারীর আর আছে? নতমুখে নীরব রইল সে।

    কন্দর্প বলতে লাগল, আমি শিকারি মানুষ, মারতেই শিখেছিলাম, আদর করতে জানতাম না। ফুল, চাঁদ, স্ত্রীলোকের রূপ কখনো ভালো করে দেখিনি। তোমার দিকে তাকিয়ে জীবনের সেই দিকটা একদিন দেখতে পেলাম। আমার বাসনার আগুন তুমি জ্বালিয়েছ অলকাতিলকা, সে আগুন তোমাকেই নেভাতে হবে।

    লজ্জায় বিতৃষ্ণায় পিছন ফিরে দাঁড়াল অলকাতিলকা। বললে, এসব কথা শোনাও আমার পাপ। আমি দেবদাসী—গোপীনাথ আমার স্বামী।

    গোপীনাথ তো পাথরের। পাথরের স্বামী নিয়ে রক্তমাংসের মানুষ কখনো সুখী হয়? না সাধ মেটে? আমি তোমার কোনো সাধ অপূর্ণ রাখব না অলকাতিলকা। ভোগের পেয়ালা কানায় কানায় ভরে দেব। তুমি আমার হও।

    পিছন ফিরেই অলকাতিলকা বললে, আমায় মাপ করুন রাজাবাহাদুর। আমি গরিবের মেয়ে, ভোগ কি, আমি জানি নে। তাই ভোগে আমার রুচিও নেই।

    শ্লেষের বাঁকা হাসিতে ঠোঁট বেঁকে গেল কন্দর্পকান্তির। বললে, তাই বটে! গরিবের মেয়ে তুমি, রাজার অনুরাগে তোমার রুচি হবে কেন? তোমার রুচি হবে সুদাম পোটোর গুপ্ত প্রেমে!

    চকিতে ফিরে তাকাল অলকাতিলকা। মুখ তার সিঁদুরবরণ হয়ে উঠেই আবার সাদা হয়ে গেল।

    আসন ছেড়ে উঠে দাঁড়াল কন্দর্পকান্তি। রক্তাভ চোখে আহত পৌরুষের জ্বালা। ঈষৎ স্খলিত পায়ে এক—পা এক—পা করে এগিয়ে যেতে যেতে বলতে লাগল, এত গরব কিসের দেবদাসী? রূপের? কিন্তু আমি রাজা, আমার খাজনা আমি ইচ্ছে করলেই আদায় করতে পারি জানো?

    একটা সর্বগ্রাসী ভয় যেন হাঁ করে গিলতে এল অলকা তিলকাকে। সর্বাঙ্গ তার হিম হয়ে আসতে লাগল। ঘরের কোণে সরে গিয়ে কাতর গলায় সে বললে, জানি। শুনেছি এই জলসাবাড়িতে এক সময় রাতের পর রাত আমার মতো অনেক মেয়ের সর্বনাশ হয়েছে। চোখের জলের নদী বইয়েও তাহা রেহাই পায়নি। তবু বলছি, আমাকে দয়া করুন রাজাবাহাদুর, দয়া করুন।

    কাম—গদগদ জড়ানো গলায় কন্দর্প বললে, অত ভয় পাচ্ছ কেন? আমি শুধু আদর করব—ভালোবাসব।

    একই ইতিহাস সত্যিই আবার ফিরে আসে। তা নইলে বহুকাল বাদে সেই বিগত উচ্ছৃঙ্খল রাত্রিগুলোর প্রভাব এই বসন্তবিহারে আবার ফিরে আসবে কেন? শাক্ত পূর্বপুরুষদের ব্যভিচারী রক্ত এতদিনের নারী—উদাসীন কন্দর্পকান্তির রক্তে আজ আগুন ধরাল কেন?

    এক—পা এক—পা করে এগোচ্ছে কন্দর্প। রক্তাভ একজোড়া চোখ যেন লেহন করছে অলকাতিলকার ভয়ার্ত সুন্দর মুখ, থরথর কাঁপা পূর্ণ বিকশিত বুক, ক্ষীণ কটি, গুরু নিতম্ব—

    হাত বাড়িয়ে তার আঁচলের প্রান্তটা ধরে ফেললে কন্দর্প।

    অলকাতিলকা চিৎকার করে উঠতে গেল, কিন্তু তার আগেই খোলা জানলা পথে একখণ্ড পাথর কন্দর্পের মাথা ঘেঁষে সজোরে এসে লাগল দেয়ালজোড়া আরশির গায়ে।

    ঝনঝন শব্দে চুরমার হয়ে গেল আরশিখানা।

    পলকে নেশা কেটে গেল কন্দর্পের। জানলার ধারে ছুটে গিয়ে হাঁক দিলে, কে? কে ওখানে?

    একটা অস্পষ্ট খসখস শব্দ। সাঁ করে একটা ছায়ামূর্তি জঙ্গলের অন্ধকারে মিশে গেল।

    চাঁদ তখন পাহাড়ের আড়ালে। চিন্তিত মুখে জঙ্গলের পানে তাকিয়ে রইল কন্দর্প। তারপর অলকাতিলকার দিকে ফিরে জিজ্ঞেস করল, কে ছিল ওখানে? সুদাম?

    পালঙ্কের বাজুটা ধরে কোনোমতে দাঁড়িয়েছিল অলকাতিলকা। বললে, আর যেই হোক, সুদাম নয়।

    কথাটা বিশ্বাস হল কিনা কন্দর্পের মুখ দেখে বোঝা গেল না। একটু চুপ করে থেকে আপন মনে বললে, বন্দুকটা না এনে ভুল করেছি দেখছি। একটা শিকার হাতছাড়া হয়ে গেল!

    ঘর থেকে বেরিয়ে গেল কন্দর্প। একটু বাদেই ঘোড়ার খুরের আওয়াজ দূরে মিলিয়ে যেতে লাগল।

    .

    শঙ্কর মাছের চাবুকে বড় ধার! মুখের ওপর আড়াআড়িভাবে যে ঘা পড়েছিল, সেটা এখনো শুকোয়নি। তা না শুকোক, বুকের মধ্যে যে পুরনো ঘা—টা নতুন করে দগদগিয়ে উঠেছে, সেটাই কেতুকে কষ্ট দিচ্ছে বেশি।

    মা—মরা মেয়ে কুন্তী। দুনিয়ায় বাঁধন বলতে ছিল শুধু ওই। বড় যত্নে মানুষ করেছিল। মেয়ের পায়ে কাঁটা ফুটলে কেতুর বুকে ফুটত। কুন্তী একবার বায়না ধরেছিল চিতাবাঘের বাচ্চচা পুষবে। কেতু ঘুমন্ত বাঘিনীর বুক থেকে বাচ্চচা চুরি করে এনেছিল মেয়ের জন্যে। আরেকবার কুন্তী কাঁদতে কাঁদতে এসে বাপকে বলেছিল, গাঁয়ের মকর পরিদা তার ক্ষেত থেকে আখ তুলতে দেয়নি। পরদিনই রাতের অন্ধকারে সে শড়কি দিয়ে মকরের পেট এফোঁড়—ওফোঁড় করে দিয়েছিল। কেতুর চওড়া মিশকালো বুকখানার ভেতরটাও ছিল পাথরের মতো শক্ত। দুনিয়ায় কারো জন্যে একফোঁটাও দয়া—মায়া ছিল না। কিন্তু বুকের এক জায়গা ছিল তুলোর মতো নরম, রাজ্যের স্নেহ মায়া জড়ো করা ছিল সেখানে। সে কেবল একটা মানুষের জন্যেই। তার মেয়ে কুন্তীর জন্যে।

    আর, মেয়েটা হয়েও ছিল বড় ফুটফুটে। কে বলবে চাষার ঘরের মেয়ে! রুপোর অনেক গয়না গড়িয়ে দিয়েছিল কেতু। চুড়ো—বাঁধা চুলে ঘুন্টি, নাকে বেসর, কানে মাকড়ি, হাতে খাড়ু আর পায়ে ঝাঁঝর মল পরে কুন্তী যখন ঘুরে বেড়াত, কেতু ভারি আরাম পেত দেখে দেখে।

    কুন্তী যখন চোদ্দ বছরে পা দিল, কেতুর বড় সাধ হয়েছিল মেয়ের বিয়ে দেবে। খুঁজে—পেতে বরও ঠিক করেছিল পছন্দসই। কিন্তু সব ভেস্তে দিলে হতভাগী! কোত্থেকে যে ওলাউঠো নিয়ে এল! বুক চিরে রক্ত দিয়েছিল কেতু, মা রক্তখাগী তবু দয়া করলে না! বোধ হয় বাঘিনীর বুক থেকে একদিন বাচ্চচা চুরি করেছিল বলেই! একরাতে কাবার হয়ে গেল মেয়েটা! আর, কেতুর বুকের ভেতর যে নরম জায়গাটুকু ছিল, সেখানে প্রথমে একটা দগদগে ঘা হল, তারপর ক্রমে ক্রমে তাও শুকিয়ে নিরেট পাথর হয়ে গেল।

    কিন্তু যথার্থই কি ঘা শুকোল? না, চাপা রইল। এতদিন বুঝতে পারেনি কেতু।

    বারো বছর বাদে সেদিন রাতে জঙ্গলের ধারে শিরীষ গাছতলায় মরা কুন্তীর ঢলঢলে মুখখানা আবার দেখল কেতু। আগেও দেখেছে কয়েক ঝলক। কখনো পালকির কিংখাব—ঝালরের আড়ে, কখনো চকমকির ঘাটের পথে, কখনো বা জঙ্গলের আলো—আঁধারিতে। কিন্তু সে—দেখা তো বাপের চোখ দিয়ে দেখা নয়! সে—রাতের ভরা চাঁদের আলোয় কেতু পষ্ট দেখেছিল ঠিক যেন কুন্তীই হাসছে! হাতের টিপ তার কি করে ঠিক থাকবে? বাঘ কি নিজের বাচ্চচাকে থাবা দেয়?

    সেদিন থেকে কুন্তীর মুখখানা বারবার দেখতে পাচ্ছে কেতু। আর, অবাক কাণ্ড! মেয়ের মুখ ভাবতে গিয়ে ওই দেবদাসীর মুখখানাই তার মনে আসছে!

    আচ্ছা জ্বালায় পড়েছে কেতু!

    কিন্তু কেতু সর্দারের শড়কি থেকে বেঁচে গেছে বলে ওরা কি রাজাহুজুরের বিষ—নজর থেকেও বাঁচবে? বাঁচবে না, কিছুতেই না। তার চেয়ে ওরা দুটিতে পালিয়ে যাক এ রাজ্যি ছেড়ে। দুনিয়ার যেখানে হয় চলে গিয়ে সুখে থাক তোরা। কেবল এ রাজ্যে আর নয়। ভয় কি তোদের? কেতু সর্দার তো রয়েছে, আমি নিজে সঙ্গে করে দেবগড়ের এলাকা পার করে দেব। চলে যা তোরা, পালিয়ে যা!

    এই কথাই আজ মেয়েটাকে বলতে গিয়েছিল কেতু। গিয়েছিল অনেক রাতে জঙ্গলের অন্ধকারে লুকিয়ে—চুরিয়ে। যাতে রাজাহুজুর জানতে না পারে। কিন্তু চুপি চুপি জলসাবাড়ির জানলার কাছে যেতেই দেখল—

    শয়তানের বংশে শয়তানই জন্মায়। মনে হল রাজাহুজুর মাতাল হয়ে দেবদাসী নয়, যেন তার কুন্তীর ওপর অত্যেচার করতে যাচ্ছে! কেতুর মাথার মধ্যে ওলোট—পালোট হয়ে গেল। পাথরের একটা চাঁই কুড়িয়ে নিয়ে ধাঁ করে ছুড়ে দিলে।

    দামি আরশিখানা বাঁচল না বটে, কিন্তু ছুঁড়িটার ইজ্জৎ বাঁচল। সেটা তো আর কাচের মতো ঠুনকো নয়।

    মেয়েটাকে আজ কিছুই বলা হল না।

    না হোক, কেতু আবার যাবে। দেবগড়ের সীমানা ওদের পার করে না দেওয়া অবধি কেতুর সোয়াস্তি নেই।

    .

    মৃদঙ্গটা কোল থেকে নামিয়ে রাখল মাধবদাস। অন্যান্য যন্ত্রীদের যেতে বলে মন্দির একেবারে ফাঁকা করে দিলে, তারপর দেবদাসীকে কাছে ডাকলে।

    তোমার সঙ্গে কিছু কথা আছে মা।

    বলুন।—অলকাতিলকা পাশে বসল।

    মাধবদাস বললে, তোমার বাবা নীলকণ্ঠ পণ্ডিত যেদিন তোমাকে এই মন্দিরে প্রথম এনেছিল, সেদিনের কথা তোমার মনে পড়ে?

    পড়ে।

    সেদিন তোমাকে আমি বলেছিলাম, দেবদাসী হতে গেলে গোপীনাথকে একাগ্রভাবে দেহ—মন সমর্পণ করতে হয়। অন্য পুরুষের সঙ্গ করা, এমনকি স্বপ্ন দেখাও পাপ। মনে আছে?

    অলকাতিলকার মন শঙ্কাতুর হয়ে উঠল। মৃদু স্বরে বললে, মনে আছে। কিন্তু একথা কেন বলছেন গুরুদেব?

    স্বভাবগম্ভীর গলায় মাধবদাস বললে, দেবদাসীর সাধনা বড় কঠিন সাধনা মা। সেই সাধনায় তুমি কি উত্তীর্ণ হতে পেরেছ?

    অলকাতিলকার মুখ নত হয়ে এল। ভূমিতলে চোখ রেখে নিরুত্তর হয়ে রইল।

    মাধবদাস বললে, কিছুকাল থেকে লক্ষ করেছি তোমার মধ্যে কি একটা পরিবর্তন এসেছে। আজকাল মন্দিরে আসতে তোমার বিলম্ব হয়ে যায়, গোপীনাথের সামনে নাচতে নাচতে তুমি অন্যমনা হয়ে পড়, তোমার নাচের মুদ্রা ছন্দ পালটে যায়! এর কারণ কি?

    লজ্জিত পাণ্ডুর মুখে চুপ করে রইল অলকাতিলকা।

    কিছু গোপন কোরো না দেবদাসী। আমার প্রশ্নের জবাব দাও, বলো এর কারণ কি? মাধবদাসের গলায় আদেশের সুর।

    আস্তে আস্তে মুখ তুললে দেবদাসী। কাঁপা কাঁপা গলায় বললে, আপনি গুরু, আপনার কাছে আমার গোপন কিছু নেই। এর কারণ সুদাম।

    সুদাম! যে ওই রাধামূর্তি গড়েছে?

    ঘাড় নেড়ে অলকাতিলকা বললে, আমার ছোটবেলার সঙ্গী। এই মন্দিরে আসার পর থেকে দিনে দিনে আমি তাকে ভুলে গিয়েছিলাম। কিন্তু যেদিন এই রাধামূর্তি দেখলাম, সেদিন থেকে তার চিন্তা আমাকে পেয়ে বসেছে! তার বাঁশি যেন নিশির ডাক, কানে গেলেই মনকে আমি সামলাতে পারিনে। মন্দিরে যখন নাচি, হঠাৎ সব বাজনা ছাপিয়ে সেই বাঁশির সুর বেজে ওঠে, আমি নাচের খেই হারিয়ে ফেলি—ছন্দ পালটে যায়—গোপীনাথের বদলে দেখি সুদাম দাঁড়িয়ে হাসছে! এ আমার কী হল গুরুদেব, এ আমার কী হল!

    চোখের জলে ভেসে গেল অলকাতিলকার মুখ।

    মাধবদাসের মুখ কঠোর গাম্ভীর্যে থমথম করতে লাগল। শান্ত অথচ কঠিন গলায় বললে, তুমি গোপীনাথের পরিণীতা হয়ে অন্য পুরুষে আসক্ত! ছি, ছি দেবদাসী!

    অলকাতিলকার বুকের ভেতর তোলপাড় করে উঠল। মাধবদাসের পায়ে হাত রেখে বললে, না, না, না, সুদামের সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই গুরুদেব! আপনার পা ছুঁয়ে বলছি, এই দেহ গোপীনাথ ছাড়া আর কাউকে দিইনি।

    তবু তুমি ভ্রষ্টা! গোপীনাথকে দেহ দিয়েছ, কিন্তু মন? মনে মনে তুমি দ্বিচারিণী!

    মাধবদাসের নিষ্ঠুর কথাগুলো গমগম করে উঠল নাটমন্দিরে। আজন্মব্রহ্মচারী সেই বৈষ্ণব পুরোহিত বলতে লাগল, পবিত্রতা কি শুধু দেহের? আসল পবিত্রতা মনের। সেই মনকে তুমি কলঙ্কিত করলে দেবদাসী! দেবতাকে নিবেদন—করা ফুল দিয়ে মানুষের জন্যে মালা গাঁথলে!

    নাটমন্দিরে লুটিয়ে কাঁদতে লাগল অলকাতিলকা।

    অপরাধ করেছি গুরুদেব, মহা অপরাধ করেছি! সুদামের ভালোবাসা আমি ঠেলতে পারিনি—সামলাতে পারিনি নিজের মনকে! বলে দিন আমি কি করব?

    মাধবদাস বললে, গোপীনাথকে জিজ্ঞাসা করো। তিনিই বলে দেবেন।

    গুরুর পা ছেড়ে অলকাতিলকা গিয়ে আছড়ে পড়ল গোপীনাথের পায়ে। বললে, ঠাকুর, তুমি তো প্রেমের ঠাকুর! তুমিই বলো ভালোবাসা কি অপরাধ? তুমি বলো, আমি কি কলঙ্কিনী?

    পাথরের গোপীনাথ জবাব দেয় না। বড় মধুর হাসি হাসতে থাকে শুধু।

    অলকাতিলকাও ওঠে না। শুধু কাঁদে আর প্রশ্ন করে, ভালোবাসলে কি দোষ হয়?

    প্রহরের পর প্রহর কাটে। একে একে তারা নেভে, প্রদীপ নেভে। পুব আকাশ স্বচ্ছ হয়ে ওঠে।

    জবাব দেয় না গোপীনাথ। রাধাকে পাশে নিয়ে শুধু হাসে। আর, গোপীনাথের সেই হাসি—মাথা মুখের পানে তাকিয়ে থাকতে থাকতে মাধবদাসের মন থেকে সকল সংশয় আর সংস্কারের কুয়াশা কেটে গিয়ে, একটি নির্মল সত্য স্বচ্ছ হয়ে ফুটে উঠল।

    অলকাতিলকার হাত ধরে তুলে মাধবদাস স্নিগ্ধস্বরে বললে, ঠাকুরের নির্দেশ আমি পেয়েছি দেবদাসী। ভালোবাসা যদি খাঁটি হয়, তবে তা মানুষকে দিলেও ঠাকুরের কাছেই পৌঁছবে। তুমি যাও, দেবদাসীর জীবন ছেড়ে সুদামকে নিয়ে ঘর বাঁধো গে।

    অলকাতিলকা বিহ্বল হয়ে বললে, আমার অপরাধ হবে না?

    শান্ত সুন্দর হাসি হাসলে মাধবদাস। হেসে বললে, না, কোনো অপরাধ হবে না মা। আমি তোমাদের আশীর্বাদ করছি।

    * * *

    চিতা আর চিন্তা এক। দুটোই দগ্ধে দগ্ধে মারে।

    গোপীনাথের চিন্তা, সুদামের চিন্তা, রাজাবাহাদুরের চিন্তা। অত চিন্তার বোঝা অলকাতিলকা আর বইতে পারছিল না। ভেবে ভেবে এক—এক সময় হাঁপ ধরত, রাত—জাগা চোখের কোলে কালি পড়ত। তবু ভাবনার কুল—কিনারা দেখতে পেত না সে। দুটি মানুষ আর একটি দেবতা তার উনিশ বছরের জীবনে এসে দাঁড়িয়েছে, তিনজনেই বলছে, ‘অলকাতিলকা, তুমি আমার হও!’ কি করবে সে? একটা মন কি তিনজনকে ভাগ করে দেওয়া যায়?

    ভেবে ভেবে সারা হয়ে গিয়েছিল অলকাতিলকা।

    কত সহজে মীমাংসা করে দিলেন তার গুরু! বলে দিলেন, ‘ভালোবাসা যদি খাঁটি হয়, তা মানুষকে দিলেও ঠাকুরের কাছেই পৌঁছবে।’

    তবে আর কিসের লজ্জা, কিসের ভয়? সুদামের সঙ্গে ঘর বাঁধতেই বা অপরাধ কোথায়?

    মন্দির থেকে ফিরে যেন হাওয়ায় ভেসে বেড়াচ্ছে অলকাতিলকা। পালকের মতো হালকা হয়ে গেছে তার মন।

    কিন্তু এত সুখের ভাগ যে নেবে, সে কই? সে তো আর আসে না! অলকাতিলকা নিজেই যে মানা করেছে। চারদিকে শত্রু! কোথায় শড়কির ফলা সাপের জিভের মতো লকলক করছে কে জানে! তবু সুদামকেই আজ চাই। শত বিপদ মাথায় নিয়ে শত বাধা ডিঙিয়ে তাকে আসতেই হবে। তারই হাত ধরে অলকা তিলকা এই পাপের জলসাবাড়ি ছেড়ে চলে যাবে। যেখানে রাজা নেই, শড়কি নেই। যেখানে নির্ভয় সুখ আর নিশ্চিন্ত শান্তি!

    শুকনো কলাপাতায় কাজল দিয়ে পত্র লিখলে অলকাতিলকা। ‘আজ রাতে একবার আসিস। যেমন করেই হোক।’

    ডাকলে দাসীকে। যেতে হবে পোটো—পাড়ায়।

    এবার পত্রের সঙ্গে দাসীর হাতে গেল গলার হার। আঁচলে গেরো দিয়ে চলে গেল সে। আর, সারাটা দিন জেগে জেগে স্বপ্ন দেখতে লাগল অলকাতিলকা। কখন রাত আসবে, চাঁদ উঠবে, বাঁশি ডাকবে!

    .

    অবশেষে রাতও এল, চাঁদও উঠল পুবের আকাশে, বাঁশিও ডাকল পাহাড়ীয়া পথে।

    নিশি—পাওয়ার মতো ঘর থেকে বেরিয়ে এল অলকাতিলকা। নিশুতি রাতের কানে কানে আজ আর চুপি চুপি বেজে উঠল না ঝুম—ঝুম, ঝুমুর—ঝুম!

    শিরীষগাছতলায় দাঁড়িয়ে আছে সুদাম। কোমরে বাঁশিটা গোঁজা। বললে, তোর নূপুর আজ বাজে না কেন তিলক?

    তিলক বললে, খুলে রেখে এসেছি।

    খুলে রেখেছিস! কেন?

    সব বলব। কিন্তু এখেনে নয় সুদাম, জঙ্গল থেকে আবার যদি কেউ—চল রঙ্গিনীর ধারে গিয়ে বসি।

    সুদামের হাত ধরে ঝরনার দিকে উঠে গেল তিলক।

    পাহাড়ের এদিকটায় আর জঙ্গল নেই। বড় বড় পাথরের খণ্ড আর লম্বা লম্বা বুনো আগাছা। দু’জনে গিয়ে একটা পাথরের ওপর পাশাপাশি বসল। ঠিক পিছনেই রঙ্গিনী ঝরনা খলখলিয়ে হাসতে হাসতে লাফিয়ে পড়ছে প্রায় হাজার ফুট নিচে একটা বিশাল গহ্বরে। তারপর ফেনায় ফেনায় উপচে পড়ে খাঁড়ি বেয়ে চকমকির বুকে ঝাঁপ দিয়েছে।

    চতুর্দশীর চাঁদ উঠে এসেছে মাথার ওপর। ফিনিকফোটা জ্যোৎস্নায় চারদিক হাসছে।

    তিলক বললে, তুই আমাকে কতখানি ভালোবাসিস সুদাম?

    হেসে সুদাম বললে, কি করে বলি বল? আকাশ কত বড়, তা কি বলতে পারা যায়?

    বুনো ঘাসের শিস ছিঁড়তে ছিঁড়তে তিলক বললে, তুই আমাকে অনেক দিয়েছিস সুদাম, আমি তোকে কিছুই দিতে পারিনি। এ দুঃখু রাখার ঠাঁই ছিল না আমার। ওই জলসাবাড়ির সোনার পিঁজরায় দিনরাত আমি পাখা ঝটপটিয়ে মরেছি। আজ আমি বেরিয়ে এসেছি তোর হাত ধরে চলে যাব বলে। আর ফিরব না।

    তিলক! এ তুই কী বলছিস!

    .

    সুদাম যদি অবাক হয়ে তিলকের মুখের পানে তাকিয়ে না থাকত, তবে হয়তো দেখতে পেত বড় বড় পাথরের টুকরোর আড়াল দিয়ে একটা প্রাণী গুঁড়ি মেরে উঠছে।

    বুনো জানোয়ার নয়, মানুষ! জানোয়ারের চেয়ে সতর্ক একটা ছায়ামূর্তি!

    সুদাম বললে, তুই যে দেবদাসী!

    তিলক বললে, আমার দিকে চেয়ে দেখ, আমি আর দেবদাসী নই। তাই তো আজ সব ছেড়ে চলে আসতে পেরেছি।

    কালো ওড়নাখানা গা থেকে সরিয়ে ফেলল তিলক। লালপেড়ে মোটা শাড়ি পরনে, কোনো অলঙ্কার নেই, নূপুরও খুলে রেখে এসেছে। অনেক দিন পরে সুদাম দেখলে সেই হর্তুকিতলার তিলককে।

    তিলক আবার বললে, গুরুঠাকুর কাল কি বলেছেন জানিস? বলেছেন, সুদামকে নিয়ে তুমি ঘর বাঁধো গে, গোপীনাথ কোনো অপরাধ নেবে না।

    কোনো কথা বললে না সুদাম। টানা টানা দীঘল চোখ মেলে অনেক দূরে চেয়ে রইল।

    এত ভাবছিস কি। চল চলে যাই। তিলক বললে।

    যেন স্বপ্নের ঘোর কেটে গেল সুদামের। বললে, ঘর বাঁধার ভাবনা আমি যে কোনোদিন ভাবিনি তিলক! ভাবতে ভরসাও হয়নি। ফুল গাছে থাকলেই ভালো, তাকে ছিঁড়লে কি ভালোবাসা হয়?

    তিলক বললে, তুই না হয় সন্নেস, কিন্তু আমি যে মেয়ে। ঘর—সংসারের সাধ যে আমার চিরকালের।

    কিন্তু তুমি বামুনের মেয়ে, আর আমি জাতে কুমোর!

    লাজ—লজ্জা দ্বিধা—সঙ্কোচের বাঁধ ভেঙে গেল তিলকের। সুদামের গলাটা জড়িয়ে ধরে বললে, রাজার মেয়ে যদি গয়লার ছেলের জন্যে জাত খোয়াতে পারে, তবে আমিই বা পারব না কেন বল। ভালোবাসায় তোর জাত ধুয়ে গেছে রে!

    টসটস করে গলানো মুক্ত গড়িয়ে এল তিলকের গাল বেয়ে।

    .

    কালকাসুন্দা—ঝোপটা নড়ে উঠল। পাশ থেকে সন্তর্পণে বেরিয়ে এল আরেকটা ছায়ামূর্তি। মাথায় ঝাঁকড়া বাবরি, আবছা আঁধারে একটা মাত্র চোখ জ্বলছে।

    কেতু সর্দার!

    শিরীষ গাছতলাটা ফাঁকা! কোথায় গেল ওরা? আসেনি নাকি আজ? হতেই পারে না। একটু আগেও জংলা সুরে বাঁশি বাজছিল পাহাড়ি রাস্তায়!

    এদিক—ওদিক তাকাতে তাকাতে জঙ্গল থেকে বেরিয়ে এল কেতু। বাজপাখির মতো সজাগ দৃষ্টি মেলে দেখতে লাগল। ওই যে—পাহাড়ের একেবারে কিনারায় রঙ্গিনীর দিকে পিঠ করে বসে—ওরাই না?

    এই নিশি—রাতে ঘর ছেড়ে জঙ্গলে পা দেবে ওরা ছাড়া আর কারা? ভালোই হয়েছে, দু’জনকে একসঙ্গে পাওয়া গেছে। মেয়েটাকে বলবে কেতু, ‘তোর চাঁদ—মুখে রাহুর নজর পড়েছে মা, পালিয়ে চ’, আজই রাতে পালিয়ে চ’ সুদামের ঘরে। সকাল হলে পালকি করে তোদের পার করে দেব এ রাজ্যের এলাকা। কেতু সর্দার থাকতে ভয় কি?’

    রঙ্গিনীর দিকে এগোল কেতু। মেয়েটার কাছে গিয়ে বলবে, ‘শড়কি ধরা এ জন্মের মতো ছেড়ে দিলাম মা! আজ থেকে তুই আমার কুন্তী!’

    .

    সুদাম বললে, চ’ তাহলে চলেই যাই। অনেক দূরে গিয়ে ঘর বাঁধব। আমি পুতুল গড়ব, তুই বেচবি। কষ্ট করতে পারবি তো?

    তোকে পেলাম, আর আমার কষ্ট কি সুদাম?

    হঠাৎ শুকনো পাতা উড়িয়ে হু হু করে ছুটে এল খ্যাপা দমকা হাওয়া ঈশান কোণ থেকে। দেখতে দেখতে লাল হয়ে গেল রুপোলি আকাশ।

    ভুরু কুঁচকে তিলক বললে, চাঁদনি রাতে ঝোড়ো হাওয়া দিচ্ছে, এ কেমনতর কাণ্ড! এই বেলা চলে চল। খুব চুপিসারে যেতে হবে কিন্তু।

    কেন? মাধবঠাকুর তো যেতে বলেছে। তবে আমাদের আটকাবে কে?

    রাজাবাহাদুর। তার চর শড়কি নিয়ে কোথায় ওত পেতে আছে কে জানে? জঙ্গলের ভেতর গা—ঢাকা দিয়ে যাই চল।

    কিন্তু জঙ্গলে চিতা আছে, হাতি আছে, শাঁখচুড়ো সাপ আছে!

    ভয় কি? মরি তো দু’জনে একসঙ্গেই মরব!

    পারবি?

    খুব পারব।

    মাথার ওপর পাখসাট মেরে একটা রাতচরা পাখি বিশ্রী কক—কক শব্দে হেসে উঠল।

    হাত তিরিশেক তফাতে পাথরের আড়ালে ছায়ামূর্তি পাশে হাত বাড়াল। হাত পড়ল কালো চকচকে একটা বস্তুর ওপর।

    .

    লম্বা লম্বা বুনো আগাছা সরিয়ে পাথরের পাশ দিয়ে কেতু তখন হনহনিয়ে উঠে আসছে। পা চালিয়ে আর রে ছোঁড়া—ছুঁড়ি, পা চালিয়ে আয়! তুফান উঠবে!

    .

    তবে আয়, চলে আয়।

    তিলকের হাতখানা মুঠোর মধ্যে ধরে দাঁড়িয়ে উঠল সুদাম।

    আর ঠিক তখনই হাত পঞ্চাশেক তফাতে পাথরের আড়াল থেকে মুখ বাড়াল সেই কালো চকচকে বস্তুটা।

    এক ঝলক আগুনের সঙ্গে সঙ্গে দুম করে একটা বিকট শব্দ!

    দু’হাতে বুক চেপে টলে পড়ল সুদাম। যে পাথরটায় বসেছিল, তারই কিনারায়। দেহের অর্ধেকটা ঝুলে পড়ল খাদের দিকে।

    এক পলকের জন্যে বাকরোধ হয়ে গেল তিলকের। তারপরেই তার সমস্ত চেতনা, সমস্ত শক্তি দিয়ে একটা ভয়ার্ত চিৎকার দিয়ে উঠল, সুদাম!

    সেই মর্মান্তিক বিলাপ ঝোড়ো হাওয়ার কাতরানি ছাপিয়ে পাহাড়ে পাহাড়ে মাথা কুটে ককিয়ে কেঁদে উঠল, সুদা—আ—আম!

    ঝুঁকে পড়ে সুদামের রক্তমাখা দেহটা জড়িয়ে ধরল তিলক। পাগলের মতো তুলতে গেল টেনে। পারল না। চোখের নিমেষে সুদামের দেহের ভার তাকে সুদ্ধ টেনে নিয়ে গেল অতল পাতালে।

    ঝপাৎ করে একটা আওয়াজ ভেসে এল শুধু!

    খলখল করে রঙ্গিনী তেমনি হাসতে লাগল।

    .

    ছুটতে ছুটতে থমকে থেমে গেল কেতু। যেন প্রাণ নেই! যেন গুলিটা ওরই বুকে লেগেছে!

    কিন্তু সে একটা নিমেষ। তারপরেই পাহাড়ের ঢালু গা বেয়ে তরতর করে নামতে লাগল। পাথর ডিঙিয়ে, কাঁটাঝোপ মাড়িয়ে। কতবার হোঁচট খেল, কতবার পিছলে পড়ল।

    রঙ্গিনী ঝর্ণা রঙ্গ করে যে বিশাল গহ্বরে ঝাঁপ খেয়ে পড়ছে, তারই পাশে নেমে এল কেতু।

    কেউ নেই! জলের তলায় বাসর জাগতে গেছে দু’জনে!

    সুদাম আর তিলককে খেয়ে মা রক্তখাগীর মতো অট্টহাসিতে ফেটে পড়ছে রঙ্গিনী।

    বড় দেরি হয়ে গেল! সেই যদি এল, আরেকটু আগে এল না কেন কেতু? আর কেউ না জানুক, কেতু সর্দার জানতে পেরেছে এ কাজ কার। বাঘ—মারা বন্দুক দিয়ে তুমি জোড়—বাঁধা পাখি মারলে রাজাহুজুর! বিচার কি নেই?

    নুলো হাতখানা দিয়ে চোখ মুছে ফেললে কেতু। ভিজে চোখটা আগুনের ফুলকি হয়ে জ্বলতে লাগল।

    .

    সেই রাতেই ঝড় এল। ঈশান কোণ থেকে কালো ঘোড়ার মতো কেশর ফুলিয়ে ছুটে এল মেঘের কুণ্ডলী। দেখতে দেখতে কালো হয়ে গেল পরিষ্কার আকাশ। মাতালের মতো টলতে লাগল অরণ্য। আর কালো আকাশ চিরে দিগ—দিগন্ত কাঁপিয়ে কোথায় যেন পড়ল একটা বাজ।

    পরদিন সকালে মন্দিরের দরজা খুলেই হাহাকার করে বসে পড়ল মাধবদাস।

    মন্দিরের ভাঙা ছাদের নিচে গোপীনাথের রাধা আটফাটা হয়ে আছে! গোপীনাথ কিন্তু অক্ষত দেহে তেমনি মধুর হাসি হাসছে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleদেরি হয়ে গেছে – প্রচেত গুপ্ত
    Next Article মহাভারতের মহারণ্যে – প্রতিভা বসু
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }