Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    দশটি রহস্য উপন্যাস – প্রণব রায়

    প্রণব রায় এক পাতা গল্প1004 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    শেষ মুহূর্তে – ২

    ২

    পরদিন কল্যাণ বোস বললে, না দত্ত, আমার তা মনে হয় না। মগনলাল করছিল অশ্বিনী লাহার কেসের তদন্ত, সে—ব্যাপারে রবসন বা পল্টুর কোনো যোগাযোগ নেই বলেই জানি। অতএব মগনলালকে অশ্বিনীর লোকই খুন করেছে—এটাই মনে হওয়া স্বাভাবিক।

    মনসিজ বললে, তাহলে রবসনের দলের মেয়ে মহুয়ার সঙ্গে মগনলালজী সে—রাতে বেরিয়েছিলেন কেন? কি কারণে?

    সেই কারণটাই আমাদের জানতে হবে।—কল্যাণ বললে, কিন্তু সেটা যথাসময়ে জানা যাবে। এখন অশ্বিনী লাহার কেস নিয়েই এগোতে হবে আমাদের।

    কয়েকটা নামের লিস্ট বার করলে কল্যাণ। সব ক’টা নামই পয়সাওয়ালা পদস্থ ব্যক্তির।

    মনসিজ প্রশ্ন করলে, এরা কারা?

    যারা শেয়ারের দালাল অশ্বিনীর কেসের সঙ্গে জড়িত। এই নাম ক’টা মগনলালই সংগ্রহ করেছিল।

    কল্যাণের টেবিলে ঝুঁকে পড়ে মনসিজ নামের তালিকা পড়লে :

    ১। মৃগাঙ্ক মজুমদার

    ২। রমনভাই দেশাই

    ৩। অবনীশ ভদ্র

    ৪। স্বরূপা ঘোষ

    ৫। নীলমাধব সামন্ত

    কল্যাণ ২নং আর ৫নং নামের পাশে লাল পেন্সিলের চিহ্ন দিয়ে বললে, এই দুজনকে আপাতত বাদ দেওয়া যেতে পারে। কেননা, এদের দু’জনেরই জোরালো অ্যালিবাই আছে। খুনের ঘটনায় কিছুদিন আগে থেকেই এরা বিদেশে রয়েছে। এখন বাকি তিনজনের সঙ্গে দেখা করে, তাদের জবানবন্দি নেওয়া দরকার। দেখো তো দত্ত, ফোন—গাইডে এদের টেলিফোন নম্বর পাও কিনা।

    পাওয়া গেল ফোন নম্বর। প্রথমে মৃগাঙ্ক মজুমদারের নম্বর ডায়াল করলে কল্যাণ।

    মিস্টার মজুমদার আছেন?

    টেলিফোনের ওপার থেকে পুরুষালি গলায় শোনা গেল : সাহেব এখন একজনের সঙ্গে কথা কইছেন।

    বোঝা গেল, বাড়ির বেয়ারা। কল্যাণ বললে, তাঁকে বলো গোয়েন্দা—ইন্সপেক্টর কল্যাণ বোস তাঁকে চাইছেন।

    বলছি। ধরুন।

    একটু পরে ভারি মোটা গলা শোনা গেল : মৃগাঙ্ক মজুমদার বলছি। বলুন ইন্সপেক্টর?

    কল্যাণ বললে, অশ্বিনী লাহার কেস সম্পর্কে আপনার সঙ্গে দেখা করতে চাই।

    ও। কিন্তু দুঃখিত, সকালে তো আমার ফুরসত হবে না! আমার অ্যাপয়েন্টমেন্ট আছে, এখুনি বেরোতে হবে।

    বেশ তো, অ্যাপয়েন্টমেন্ট সেরে একবার ডি.ডি. হেডকোয়ার্টার্সে আসুন না।

    কখন?—বিরক্তিটুকু মৃগাঙ্কের গলায় চাপা রইল না।

    অমায়িকভাবে কল্যাণ বললে, যখন আপনার সুবিধে।

    বেলা তিনটেয় যাব আমি।

    ধন্যবাদ মিস্টার মজুমদার।

    লাইন কেটে দিলে কল্যাণ।

    মনসিজ প্রশ্ন করলে, কি বুঝলেন স্যার? সত্যিই আসবে, না ব্লাফ?

    দেখাই যাক।—কল্যাণ এবার ডায়াল করলে অবনীশ ভদ্রকে।

    এবার মিহি মেয়েলি গলার সাড়া পাওয়া গেল : মিস্টার ভদ্র দারুণ ব্যস্ত। কে ফোন করছেন?

    কল্যাণ নিজের পরিচয় দিলেন।

    মেয়েলি কণ্ঠ বললে, কাইন্ডলি পরে রিং করবেন।

    লাইন কেটে দেবার আগেই কল্যাণ একটু কড়া গলায় বললে, পরে নয়, তাঁকে এখুনি চাই। ব্যাপারটা জরুরি।

    অ। আচ্ছা, দেখছি।

    মিনিট তিনেক বাদে। আবার মেয়েলি গলার সাড়া পাওয়া গেল : সরি ইন্সপেক্টর, মিস্টার ভদ্র এইমাত্র বেরিয়ে গেলেন।

    সশব্দে রিসিভার রেখে দিলে কল্যাণ। মনসিজ বললে, লোকটা শক্ত বাদাম মনে হচ্ছে!

    হুঁ, সহজে ভাঙা যাবে না। আচ্ছা!—কল্যাণ একটা সিগারেট ধরালে। তারপর নিঃশব্দে কয়েকটা টান দিয়ে আরেকটা নম্বর ডায়াল করলে।

    হ্যালো!—মিষ্টি সুরেলা নারীকণ্ঠ শোনা গেল।

    মিসেস স্বরূপা ঘোষ আছেন?

    বলছি। আপনি কে?

    কল্যাণ বোস, ডিটেকটিভ ইন্সপেক্টর।

    উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠল মিষ্টি সুরেলা গলা : কী আশ্চর্য! কল্যাণ! এতদিন পরে! একবার খোঁজও কি নিতে নেই?

    ভয়ানক অবাক হয়ে গেল কল্যাণ। একটু থতমত খেয়ে বললে, আপনি—মানে, আমরা কি পরস্পরের পরিচিত?

    উত্তরে চাপা হাসির সঙ্গে শোনা গেল, তাই তো মনে হয়। পুরুলিয়ার রূপাকে মনে আছে বোধ হয়?

    এক পলকে কল্যাণ তার কিশোরবেলায় ফিরে গেল। কিশোরবেলা থেকে প্রথম যৌবনকাল অবধি কতকগুলো টুকরো টুকরো ছবি সিনেমার টুকরো টুকরো শট—এর মতো তার স্মৃতির পর্দায় প্রতিফলিত হতে লাগল। পুরুলিয়ার রাঙামাটি. . . শ্যামলা রঙের এক প্রতিবেশী মেয়ে. . . পিঠ ভরা প্রচুর এলো চুল. . . কারণে অকারণে কেবলই হাসত. . .

    কল্যাণ বললে, নিশ্চয় মনে আছে। এবার চিনেছি।

    যাক, তবু ভাল!—স্বরূপার গলায় ঠাট্টা না অভিমান ঠিক বোঝা গেল না।

    শোন, তোমার সঙ্গে দেখা করা আমার বিশেষ দরকার। কবে সময় হবে?

    একটু খুশির সঙ্গে শোনা গেল : কবে আবার কি! যেদিন তোমার ইচ্ছে। আজই এসো না, আমি গাড়ি পাঠিয়ে দিচ্ছি।

    কল্যাণ বললে, আজ নয়, কাল। বিকেল পাঁচটায়! গাড়ি পাঠাতে হবে না, আমি নিজেই যাব’খন।

    আচ্ছা। পাঁচ তলার ফ্ল্যাট।

    রিসিভার রেখে কল্যাণ চুপ করে বসে রইল। পুরুলিয়ার সেই রূপাই তাহলে আজকের স্বরূপা ঘোষ! কিন্তু অশ্বিনী লাহার কেস সম্পর্কে তার নাম জড়িয়ে পড়েছে কেন? মগনলাল খুনের সঙ্গেও কি তার—

    ভাবতে গিয়েও কল্যাণ ভাবতে পারল না।

    মনসিজ জিজ্ঞেস করল, এখন আমাদের নেক্সট প্রোগ্রাম কি স্যার?

    মৃগাঙ্ক মজুমদারের জন্যে অপেক্ষা করা।

    .

    কাঁটায় কাঁটায় তিনটের সময় মৃগাঙ্ক কল্যাণের কামরায় পা দিল।

    সাধারণ ভদ্রতার সঙ্গে কল্যাণ তাকে বসতে অনুরোধ করলে। মৃগাঙ্ক মজুমদারের বয়স মনে হয় ষাটের কোঠায় পৌঁছেছে। পাতলা লম্বাটে চেহারা, চোখা নাক, মাথার দশ আনা চুল সাদা। ধূসর ট্রাউজারের ওপর গলাবন্ধ কালো প্রিন্সকোট, হাতে রুপো—বাঁধানো মলাক্কা বেতের লাঠি। পরিষ্কার করে কামানো মুখে আভিজাত্যের চেয়ে পোড়খাওয়া জীবনের ছাপই বেশি।

    মৃগাঙ্ক চেয়ারে বসেই নিজের পকেট—ওয়াচ দেখল। তারপর বললে, আমার অনুমান, আপনি অশ্বিনী লাহার কেস সম্পর্কে তদন্ত করছেন। তাই না ইন্সপেক্টর?

    কল্যাণ জবাব দেওয়ার আগেই মৃগাঙ্ক বলে যেতে লাগল, কিন্তু আমি এ বিষয়ে বিশেষ খবরাখবর দিতে পারব বলে মনে হচ্ছে না কেননা, অশ্বিনী লাহার টিপস নিয়ে আমি কিছু কিছু শেয়ার কেনাবেচা করতাম বটে, কিন্তু তার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ আমার আদপেই ছিল না।

    কথার মাঝে একটু ফাঁক পেয়ে কল্যাণ বললে, আমি কিন্তু অশ্বিনীর ব্যাপারে আপনাকে ডাকিনি মৃগাঙ্কবাবু।

    তবে?

    অশ্বিনীর কেসের তদন্ত যিনি করেছিলেন, সেই ইন্সপেক্টর মগনলাল খুন হয়েছেন। আমি সেই খুনের তদন্ত করছি।

    মৃগাঙ্ক মজুমদারের মুখ ছায়াচ্ছন্ন হয়ে উঠল। থেমে থেমে বলল, কিন্তু খুন—টুনের বিষয়—আমি—কিছুই তো—

    তার মুখের ওপর চোখ রেখে কল্যাণ প্রশ্ন করলে, ইন্সপেক্টর মগনলালকে আপনি চিনতেন। তাই না?

    মৃগাঙ্কের মুখের রং ফিকে হয়ে গেল। একটু থেমে বললে, হ্যাঁ, অশ্বিনী লাহা সম্পর্কে আমার কাছে তিনি বার দুই গিয়েছিলেন।

    গত সোমবার আপনার সঙ্গে মগনলালের দেখা হয়েছিল কি?

    কই, না!

    দেখা করার কথা ছিল?

    তাও না।

    সোমবার সন্ধ্যার পর আপনি কোথায় ছিলেন মৃগাঙ্কবাবু?

    বাড়িতে। ইচ্ছে হলে আমার চাকরকে এখুনি ফোন করে জানতে পারেন।

    কল্যাণ একটু হেসে বললে, কি দরকার? আপনার কথাই যথেষ্ট।—আচ্ছা মৃগাঙ্কবাবু, আপনি কি করেন, জানতে পারি?

    কিছুই এখন করি না। বছর দুই হল রিটায়ার করেছি।

    তবু, একটা কিছু তো করতেন।

    সিঙ্গাপুরে আমার চায়ের ব্যবসা ছিল। আর কিছু জানতে চান ইন্সপেক্টর?

    আপাতত না। আসুন, নমস্কার!

    লাঠিসমেত হাত দু’খানা তুলে বেরিয়ে গেল মৃগাঙ্ক মজুমদার। কল্যাণ নিজের ঘড়ি দেখলে। পৌনে চারটে। বললে, ছ’টা নাগাদ আমরা অবনীশ ভদ্রের ডেরায় হাজির হব দত্ত।

    অবনীশ ভদ্রের ঠিকানা নিউ আলিপুরে।

    প্রকাণ্ড একটা পাঁচতলা বাড়ির তৃতীয় তলায় অবনীশের ডেরা। কল্যাণ আর মনসিজ যখন পৌঁছল, তখন ছ’টা বেজে গেছে। দিনের আলো কালো হয়ে এসেছে। কল্যাণ দেখলে, তিনতলার ফ্ল্যাটে রাস্তার দিকে একটা বড় জানলা খোলা, ঘরে বাতি জ্বলছে।

    কল্যাণ তখনই সে—বাড়িতে ঢুকল না। উল্টো দিকে একখানা তিনতলা বাড়ি, একটা ব্যাঙ্কের শাখা—অফিস। অফিস তখন বন্ধ হয়ে গেছে। কল্যাণ তার সঙ্গীকে নিয়ে অফিস—বাড়িতে ঢুকে গেল, তারপর সিঁড়ি বেয়ে একেবারে ছাদে। অন্ধকার নেমেছে, কিন্তু ঘন হয়নি। আলিসার ধার থেকে নজর তীক্ষ্ন করে দু’জনে সামনের আলোকিত জানলার দিকে তাকাল। যে—ঘরটা নজরে পড়ল, সেটা বোঝা গেল ড্রাইংরুম। একটা সোফায় বসে মোটাসোটা খাটো এক ব্যক্তি কথা বলছে জানলার দিকে মুখ ফিরিয়ে। যার সঙ্গে কথা বলছে, সে লোকটা আর্ম—চেয়ারে বসে আছে জানলার দিকে পিছন করে। লোকটার ছোট—করে—চুল—ছাঁটা মাথা আর ঘাড়ে—গর্দানে বলিষ্ঠ পিঠের খানিকটা ছাড়া আর কিছু দেখা যায় না। দ্বিতীয় ব্যক্তির হাতের কাছে একটা গোল টেবিলে কয়েকটা বোতল, গ্লাস, বরফের পাত্র সাজানো। বোঝা গেল, গৃহস্বামী রসিক ব্যক্তি।

    কিন্তু ওদের মধ্যে গৃহস্বামীটি কে? কে অবনীশ ভদ্র? যেই হোক না, কল্যাণ জানলা থেকে নজর সরাল না। ঘাড়ে—গর্দানে লোকটার বোধ করি সিগারেট ধরানো দরকার, মোটা লোকটা নিজের লাইটার জ্বেলে উঠে এগিয়ে এল ধরিয়ে দিতে। কিন্তু জানলার কাছে এগিয়েই থেমে গেল, তারপর চলে গেল সুইচবোর্ডের কাছে। উজ্জ্বল সাদা আলোর বদলে মিটমিটে নীল আলোয় ভরে গেল ঘরটা।

    কল্যাণ বললে, লোকটা আমাদের লক্ষ করেছে। তাই ঘরটা আবছা করে দিলে।

    কল্যাণ আর দাঁড়াল না, মনসিজকে নিয়ে তৎক্ষণাৎ নিচে নেমে গেল। কিন্তু রাস্তায় এসে অবনীশ ভদ্রের বাড়িতে তখনই ঢুকল না। বাড়ির গা ঘেঁষে একটা সরু গলিমতো প্যাসেজ রয়েছে, সেইমুখে মনসিজকে পাহারায় রেখে কল্যাণ সদর ফটকে ঢুকে গেল। ভেতরে ঢুকতেই অটোমেটিক লিফট। সে সটান তিনতলায় উঠে সামনের দরজায় পুশ—বেল টিপল। বার তিনেক টেপার পর ধীরে—সুস্থে দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গে একটা বাজখাঁই গলার আওয়াজ শোনা গেল : কে মশায়? কোত্থেকে আগমন?

    করিডরে তখন বাতি জ্বলছে। কল্যাণ দেখলে সেই মোটাসোটা খাটো লোকটা। গোল মুখে পুরু ঠোঁট, থুতনিটা দু’ভাঁজ।

    কল্যাণ তার আইডেন্টিটি কার্ড দেখিয়ে বললে, ডিটেকটিভ হেড কোয়ার্টার্স থেকে আসছি।

    লোকটা বিন্দুমাত্র ঘাবড়াল না। তেমনি রুক্ষভাবে বললে, অ! টিকটিকি! তা এখানে কি মনে করে?

    ভেতরে চলুন, বলছি।

    ভেতরে? বেশ, চলে আসুন। কিন্তু চা—টা চাইবেন না মশায়। এ সময় আমি চা খাই নে।

    ঘরে ঢুকতে ঢুকতে কল্যাণ বললে, সে তো দেখতেই পাচ্ছি।

    তার সজাগ নজর প্রথমেই গিয়ে পড়ল সেন্টার টেবিলের ওপর।

    দুটো কাচের গ্লাস, বরফ রাখার গামলা, সোডার বোতল আর দামি বিলেতি হুইস্কি ব্ল্যাক অ্যান্ড হোয়াইটের আধা—ভর্তি একটা বোতল। সেন্টার টেবিলের সামনের আর্ম—চেয়ারটা কিন্তু খালি। নিচে মেঝের ওপর ইন্ডিয়া কিংস সিগারেটের একটা শূন্য বাক্স। তার মানে সেই জার্মান—ছাঁট মাথা, ঘাড়ে—গর্দানে লোকটা গা ঢাকা দিয়েছে! যুগল মৌমাছির একটি এই মধুচক্র থেকে হাওয়া!

    কল্যাণ মনে মনে আফশোস করে উঠল। আরেকটু আগে এলেই লোকটার সঙ্গে মোলাকাত হত। কিন্তু পালাবে কোথায়? বাড়ির পিছনের দরজা দিয়ে যদি পালায়, নিচে সার্জেন্ট দত্ত রয়েছে, নিশ্চয় আটকাবে।

    অবনীশ ভদ্র কার নাম?—কল্যাণ প্রশ্ন করলে।

    কেন? কি ব্যাপার?

    আগে বলুন, অবনীশ ভদ্র কোথায়?

    তেমনি রুক্ষভাবে জবাব এল, আপনার সামনে।

    শূন্য সোফাটার দিকে তাকিয়ে কল্যাণ জিজ্ঞেস করলে, ওখানে বসে যিনি ড্রিঙ্ক করছিলেন, তিনি কে?

    আমার মক্কেল।

    মক্কেল!— করা হয় কি? আপনার পেশা?

    মোটাসোটা লোকটা পকেট থেকে উইলসের প্যাকেট নিয়ে, ফস করে একটা ধরিয়ে বললে, আমি একজন অ্যাডভোকেট।

    বলে কি! ছিরি—ছাঁদ দেখে তো মনেহয় চিৎপুরে মাংসের দোকান আছে। বিতৃষ্ণা চেপে কল্যাণ বললে, আপনার মক্কেলটি কে? নাম কি?

    ধোঁয়া ছেড়ে অবনীশ ভদ্র নিতান্ত অভদ্র ভাবে বললে, নাম—টাম বলতে পারব না মশায়।

    কল্যাণের ভ্রু—দুটো কুঁচকে গেল। বললে, কারণ?

    অবনীশ বললে, কারণ আমার এখানে কোন কোন মক্কেল আসে প্রাইভেটে। তাদের পরিচয়, তাদের মামলার ব্যাপারে—সবই প্রাইভেট। সেক্ষেত্রে আমি তাদের নাম—ধাম ফাঁস করতে পারিনে। আমার পেশার বদনাম হয়ে যাবে যে মশায়!

    অবনীশ তার নিজের গ্লাসটা মুখে তুলে খালি করে ফেলল।

    কল্যাণ এবার পুরোদস্তুর পুলিশি মেজাজে বললে, পুলিশের সঙ্গে সহযোগিতা না করলে নিজের বিপদ আপনি নিজেই ডেকে আনবেন কিন্তু। বলুন, আপনার মক্কেলটি কে?

    অবনীশ খ্যাঁকশেয়ালের মতো খ্যা খ্যা করে খানিকটা হাসলে। হেসে বললে, আমার বিপদ নিয়ে আপনাকে মাথা ঘামাতে হবে না টিকটিকিবাবু। মনে রাখবেন, আমিও আইনের কারবার করি।

    তাহলে বলবেন না?

    আজ্ঞে না। ভরসন্ধেবেলা কেন ঝামেলা করছেন মশায়?

    দাঁতে দাঁত চেপে কল্যাণ নিজেকে সামলে নিলে। না, মাথা গরম করলে চলবে না। একটু থেমে আচমকা প্রশ্ন করলে, আচ্ছা অবনীশবাবু, অশ্বিনী লাহার সঙ্গে আপনার কদ্দিনের আলাপ?

    অবনীশ সোজা জবাব দিলে, একদিনেরও নয়।

    আপনি তার কাছ থেকে শেয়ার কিনতেন না?

    কিনতাম। তার অফিস থেকে টেলিফোনে খবর পেয়ে কিনতাম। চার চোখের মিলন হয়নি কখনও।

    ও। যাকগে, আমি একটা খুনের তদন্তে এসেছি।

    অবনীশের চর্বির আড়ালে প্রায়—ঢাকা গুলি গুলি চোখ দুটো চকচক করে উঠল। বললে, বুঝেছি, ইন্সপেক্টর মগনলাল—খুন তো? আমার কাছে কোনও সুবিধে হবে না মশায়, আমি ও ব্যাপারের কিসসু জানিনে। তার চেয়ে মাল—টাল খাওয়া অভ্যেস থাকে তো আসুন, এক পাত্তর খান, দুটো রসের কথা বলুন।

    খ্যাঁকশেয়ালের মতো খ্যা খ্যা করে আবার হাসতে লাগল অবনীশ।

    কল্যাণ বুঝলে, লোকটা অতিশয় ধড়িবাজ। বৃথা সময় নষ্ট না করে সে নিচে নেমে গেল।

    গলির মুখে মনসিজ দাঁড়িয়ে। একা। কল্যাণ বললে, এদিকে কেউ আসেনি?

    মনসিজ ঘাড় নেড়ে জানাল, না। কিছু না বলে কল্যাণ গলির মধ্যে দ্রুত ঢুকে গেল। তাকে অনুসরণ করলে মনসিজ। কিছদূর যেতেই দেখা গেল, গলিটা ব্লাইন্ড লেন নয়, এঁকেবেঁকে তার অন্য মুখটা আরেকটা বড় রাস্তায় গিয়ে পড়েছে। সুতরাং অবনীশ ভদ্রের মক্কেল কল্যাণকে বোকা বানিয়ে এই পথে সহজেই হাওয়া হয়েছে!

    .

    নিউ আলিপুর থেকে ট্যাক্সি নিয়ে হেডকোয়ার্টার্সের পথে।

    কল্যাণ একটা সিগারেট ধরিয়ে বললে, নাগালের মধ্যে এসেও সাসপেক্ট পালিয়ে গেল!

    মনিসজ বললে, লোকটা কে হতে পারে বলে মনে হয়?

    নাটের গুরু স্বয়ং অশ্বিনী লাহা হতে পারে। অথবা তার হাতের লোক।

    অশ্বিনী লাহার ফটো আছে অফিস—রেকর্ডে?

    না, তা নেই। তবে লোকটা দাগি নিশ্চয়, নইলে তার মক্কেলদের সঙ্গে দেখা করত না কেন?

    ট্যাক্সি গড়িয়াহাটায় এল। কল্যাণ বললে, একটু কফি খেয়ে যাই চলো।

    একটা মাদ্রাজি রেস্তোরাঁর সামনে গাড়ি দাঁড় করিয়ে দু’জনে নামল। কল্যাণ কিন্তু জানত না যে তার জন্যে আরেকটা বিস্ময় অপেক্ষা করছে।

    রেস্তোরাঁয় ঢুকতে গিয়ে সে হঠাৎ মনসিজের হাত ধরে থামালে। মনসিজ জিজ্ঞাসু চোখে ফিরে তাকাতেই সে ইশারায় ভেতরের একটা টেবিল দেখিয়ে দিলে।

    দেখা গেল, মাদ্রাজি রেস্তোরাঁর ভেতরে ছোট ছোট অনেক টেবিল। প্রত্যেকটা দু’জনের বসবার মতো। একদম কোণের দিকে একটা টেবিলে দু’কাপ কফি নিয়ে মুখোমুখি বসে আছে মীনা থাপা আর পল্টু চ্যাটার্জি! রবসনের দলের উঠতি মাস্তান পল্টু! দুজনে মশগুল হয়ে কথা বলছে।

    মনসিজের সঙ্গে কল্যাণ ফিরে গেল ট্যাক্সিতে। তার মনের মধ্যে একটা প্রশ্নই তখন ঘুরপাক খাচ্ছে, পল্টু চ্যাটার্জির মতো একটা লোফার গুন্ডা মীনা থাপার মতো একজন ভাল মেয়ের সঙ্গে এত ভাব জমিয়েছে কেন? কি মতলবে?

    কল্যাণ হঠাৎ ড্রাইভারকে বললে, সি.আই.টি. রোড।

    মগনলালের বাড়িতে এখন মীনার এক কাকা এসেছেন সদ্যপিতৃহীনা মীনার দেখাশুনোর জন্যে। পুরানো দাসী কাঞ্চী কাকাকে ডাকতে যাচ্ছিল, কল্যাণ নিষেধ করলে। জানালে, কাঞ্চীকেই তার দরকার, মীনা সম্পর্কে কিছু গোপন কথা জানবার আছে।

    মীনার সঙ্গে একটি ছোকরার ভাব—সাব হয়েছে, তুমি কি জানো?

    জী, জানি।

    কতদিন ভাব হয়েছে?

    তা মাস তিনেক হবে।

    মগনলালজী এ—কথা জানতেন?

    গোড়ার দিকে জানতেন না, খুন হবার দিন পনেরো আগে জানতে পেরেছিলেন। এই নিয়ে মেয়েতে—বাপেতে প্রায়ই ঝগড়াঝাটি অশান্তি হত। ছোকরাকে মীনা শাদি করতে চায়, বাবুজি কিছুতেই রাজী নয়। ছোকরা নাকি ভারি বদ।

    মগনলালজী ছোকরাকে গিরেফতার করে শায়েস্তা করে দিলেই তো পারতেন।

    তা পারতেন, কিন্তু পাছে জানাজানি হয়ে নিজের লেড়কির বদনাম হয়ে যায়, তাই বাবুজি ছোকরাকে একদিন ডেকে শুধু শাসিয়েছিলেন। ছোকরাও তাঁকে শাসিয়ে বলে গিয়েছিল, মীনাকে আমি শাদি করবই। কেউ বাধা দিলে তার লাশ ফেলে দেব।

    কিছুক্ষণ চুপ করে রইল কল্যাণ। তারপর বললে, আচ্ছা চলি। আমি এসেছি, মীনাকে বোলো না।

    * * *

    স্বরূপা ঘোষের ফ্ল্যাট ক্যামাক স্ট্রিটে।

    স্বরূপা অপেক্ষা করছিল। কল্যাণকে দেখে দু—হাত বাড়িয়ে অভ্যর্থনা করলে : এসো। কতকাল বাদে তোমায় দেখলাম বলো তো!

    ঘরে পা দিতে দিতে কল্যাণ বললে, তা অনেককাল বাদে। উনিশ বছর হল।

    একটা ডিভান দেখিয়ে স্বরূপা বললে, নিজের ঘর মনে করে বসো।

    কল্যাণ বসে চারদিকে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখতে লাগল। সুন্দর সাজানো ফ্ল্যাট। সুখ আরাম বিলাসে পরিপূর্ণ। স্বরূপার চেহারাও বদলেছে। পুরুলিয়ার সেই পাতলা ছিপছিপে মেয়েটি এখন জোয়ার—আসা নদী। কল্যাণ মনে মনে হিসেব করে দেখলে, তার নিজের বয়স এখন যদি বিয়াল্লিশ হয়, স্বরূপার ছত্রিশ হওয়া উচিত। তবু দেহ—তটে তার ভাঙন ধরেনি এতটুকু। আগের চেয়ে রঙটা ফর্সাও হয়েছে বেশ খানিকটা।

    কয়েক মুহূর্তের জন্যে কল্যাণ ভুলে গেল সে পুলিশ—অফিসার। একটু হেসে সে বললে, তোমায় দেখে মনে হচ্ছে জীবনটা ভারি সুখের।

    স্বরূপা হাসিমুখে বললে, তোমাকে দেখেও তো জীবনটা দুঃখের মনে হচ্ছে না। আগের চেয়ে আরও পুরুষালী, দেখতে আরও ভাল হয়েছ তুমি। বিয়ে করেছ তো?

    করেছি বইকি।

    বউ খুব সুন্দরী নিশ্চয়?

    হেসে ফেললে কল্যাণ। বললে, কি করে বলি? এখনো তো হিন্দি ফিল্ম থেকে তার ডাক পড়েনি! তা তোমার বিয়ের খবর বলো।

    একটু ক্ষীণ হেসে স্বরূপা বললে, বিয়ে আমার সইল না।

    মানে?

    মানে যত সহজে আমরা কাছে এসেছিলাম, তত সহজেই একদিন ছাড়াছাড়ি হয়ে গেল। ব্যস, দি এন্ড! যাক, কি খাবে বলো? পুলিশ—অফিসাররা তো শুনেছি একটু—আধটু ড্রিঙ্ক করে থাকে। একটু ড্রিঙ্কস দিই তোমাকে?

    তোমার এখানে সে ব্যবস্থাও আছে নাকি?—কল্যাণ বললে।

    স্বরূপা বললে, আমার স্বামী যে—সমাজে মেলামেশা করত, সেখানে মদ আধুনিক ফ্যাশান। সেই থেকে চা—কফির মতো এ জিনিসটাও আমার ঘরে থাকে।

    তোমারাও অভ্যাস আছে বোধ হয়?

    স্বরূপা বললে, আমিও তো ওই সমাজের।—তারপর গলা চড়িয়ে বেয়ারাকে ড্রিঙ্কস আনতে ফরমাস করলে।

    একটু পরেই পাশের অ্যাপার্টমেন্ট থেকে বেয়ারা একটা ট্রে এনে মাঝের টেবিলে রাখলে। ট্রেতে ব্ল্যাক অ্যান্ড হোয়াইট হুইস্কির একটা বোতল, দুটো সুদৃশ্য কাচের গ্লাস, স্টেইনলেস স্টিলের পাত্রে বরফকুচি, সোডা এবং ইন্ডিয়া কিংস সিগারেটের একটা সোনালি বাক্স। সেদিকে তাকিয়ে কল্যাণের গোয়েন্দা—মন সজাগ হয়ে উঠল। আশ্চর্য! ঠিক এই জিনিসই সে দেখে এসেছে গত সন্ধ্যায় অবনীশ ভদ্রের ফ্ল্যাটে! কিন্তু দেখলই বা, ওই ব্র্যান্ডের হুইস্কি একজন ছাড়া দুনিয়ায় আর কেউ খায় না? খেতে পারে, কিন্তু ব্ল্যাক অ্যান্ড হোয়াইট হুইস্কির সঙ্গে ইন্ডিয়া কিংস সিগারেটই খেতে হবে, এমন কোনো ধরাবাঁধা নিয়ম তো নেই!

    দুটো গেলাসে দুটো পেগ ঢালল স্বরূপা। সোডা মিশিয়ে বরফকুচি দিয়ে, একটা গ্লাস তুলে দিলে কল্যাণের হাতে। সাধারণ আদবকায়দা অনুযায়ী গ্লাসটা মুখে তোলার অগে কল্যাণ বললে, চিয়ার্স!

    এক চুমুক করে খাওয়ার পর স্বরূপা সিগারেটের বাক্স এগিয়ে দিলে কল্যণের দিকে। একটা তুলে নিয়ে কল্যাণ বললে, তুমি স্মোক করো না?

    বাক্সটা রেখে স্বরূপা বললে, না, ধোঁয়া লাগলে আমার ফ্যারাঞ্জাইটিস হয়।

    তাই নাকি?—স্বরূপার মুখের দিকে লক্ষ্য রেখে কল্যাণ বললে, তবে প্যাকেট অর্ধেক খালি কেন? কে খেয়েছে?

    এক মুহূর্তের জন্য স্বরূপার মুখের ওপর দিয়ে একটা ছায়া সরে গেল। তারপরই সহজভাবে বললে, আমার এক বন্ধু মাঝে মাঝে আসে। সে—ই খায়।

    সিগারেট ধরিয়ে কল্যাণ ধোঁয়া ছেড়ে বললে, ভারি শৌখিন লোক তো! যিনি ব্ল্যাক অ্যান্ড হোয়াইট হুইস্কি আর ইন্ডিয়া কিংস সিগারেট খান, তাঁর রুচির তারিফ করতে হয়! কে তিনি? আমার সঙ্গে একদিন আলাপ করিয়ে দাও না স্বরূপা।

    একটুখানি হাসি দেখা গেল স্বরূপার মুখে। বললে, বেশ তো, সুযোগ হলে দেব।

    কল্যাণ এবার প্রসঙ্গ পাল্টালে। বললে, এবার কাজের কথায় আসি। তুমি তো বড় বড় কোম্পানির শেয়ার কিনে থাক, সম্প্রতি কোনো কোম্পানির শেয়ার তুমি কিনেছ?

    ভারত টেক্সটাইল মিলের।

    কবে কিনেছ?

    গত মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে।

    কল্যাণের দৃষ্টি একটু তীক্ষ্ন হল স্বরূপার মুখের ওপর। বললে, কিন্তু গতমাসের প্রথম সপ্তাহে ওদের মিলে হঠাৎ আগুন লেগে যাওয়ায় ওদের শেয়ারের দর হু হু করে পড়তে থাকে। শেয়ার—হোল্ডাররা তাদের শেয়ার বেচে দেওয়ার জন্য পাগল হয়ে উঠেছিল। তুমি হঠাৎ কিনতে গেলে কেন?

    মুচকে হেসে স্বরূপা বললে, শেয়ারের কারবার হচ্ছে স্পেকুলেশন—ফাটকাবাজি।

    কল্যাণ বললে, তাই কি? না, তুমি গোপনে খবর পেয়েছিলে যে, ভারত টেক্সটাইল মিলে আগুন লাগাটা ইচ্ছাকৃত, তাতে মিলের বিশেষ ক্ষতি হয়নি? সুতরাং শেয়ারের দর সাময়িকভাবে পড়লেও দু’দিন বাদেই চড়চড় করে উঠে যাবে।

    স্বরূপার মুখের হাসি মিলিয়ে গেল। বললে, যদি গোপনে খবর পেয়েই কিনে থাকি, সেটা কি বেআইনি কাজ?

    এবার কল্যাণ মুখে হাসি নিয়ে বললে, তা তো বলিনি। আমি শুধু জানতে চাইছি খবরটা দিল কে?

    স্বরূাপ বললে, তুমি যখন এত জানো, তখন এ কথাও তোমার জানা।

    হুঁ। একটা খবর আমাকে বলবে? অশ্বিনী লাহা এখন কোথায়?

    সে নিজে ছাড়া কেউ জানে না।

    একটু চুপ করে থেকে কল্যাণ প্রশ্ন করলে, আচ্ছা, অশ্বিনী লাহার চেহারা কেমন?

    স্বরূপা বললে, বেশ সুন্দর চেহারা, ফর্সা লম্বা—যাকে বলে হ্যান্ডসাম। কিছু মনে কোরো না কল্যাণ, একটা কথা বলি। অশ্বিনী লাহার কেসটা ছেড়ে দাও। লোকটা অসাধারণ চতুর, ওর সঙ্গে তুমি পেরে উঠবে না।

    শান্ত গম্ভীর মুখে কল্যাণ বললে, তুমি কি আমাকে ওয়ার্নিং দিচ্ছ?

    বিশ্বাস করবে কিনা জানি না, আমি তোমার ভাল চাই, কল্যাণ। ধন্যবাদ স্বরূপা। আজ উঠি।

    সোফা ছেড়ে কল্যাণ ওঠবার আগে তার একখানা হাত ধরে স্বরূপা বললে, রাত তো বেশি হয়নি, আরো খানিকক্ষণ থাকো না। আরেকটা পেগ খাও।

    আমি বেশি খাই না।—অল্প হেসে কল্যাণ বললে, কিন্তু আরো থেকে লাভ কি রূপা? পুরুলিয়ার সে—আমিও আর আমি নই, সে—তুমিও আর তুমি নও!

    স্বরূপা কিছু না বলে নিজের গ্লাসে আরও খানিকটা হুইস্কি ঢেলে, এক চুমুকে প্রায় অর্ধেক খালি করে ফেললে। তারপর কেমন একটা বিষণ্ণ হাসি ঠোঁটে নিয়ে বললে, বহুদিন বাদে তোমার মুখে ‘রূপা’ ডাক শুনলাম! পুরুলিয়ার সেই জীবন থেকে আজ কতদূরে সরে এসেছি, তবু তোমার মুখে পুরানো ডাকটা যেন হাতছানি দিয়ে পিছনে ডাকল! জীবনটা ভারি অদ্ভুত, তারও চেয়ে অদ্ভুত মানুষের মন, তাই না? যাকগে, তোমাকে আর আটকাব না কল্যাণ। এসো।

    আস্তে আস্তে কল্যাণ উঠে চলে গেল।

    রাস্তায় এসে ট্রাম—বাস—ট্যাক্সির চেনা আওয়াজে তার মন থেকে অতীতের আচ্ছন্নতা কেটে গেল। একটা তীব্র সংশয় কাঁটা হয়ে বিঁধতে লাগল। অবনীশ ভদ্রের মক্কেল আর স্বরূপা ঘোষের শৌখিন বন্ধু কি একই ব্যক্তি?

    কে সে? সে কি অশ্বিনী লাহা?

    .

    ভাল লাগছিল হাঁটতে। ট্যাক্সির সন্ধান না করে কল্যাণ হেঁটেই চলল। নিজের ভাবনায় ডুবে গিয়ে।

    রাত বেশি হয়নি। রাতের কলকাতা রঙ্গিনী নটীর মতো সবে সেজেগুজে দাঁড়িয়েছে। শহরের বড় রাস্তা জনজোয়ারে ভাসছে। বড় রাস্তা ছেড়ে কল্যাণ তাই শর্টকাট গলি—রাস্তা ধরলে। এ—গলি থেকে ও—গলি, ও—গলি থেকে সে—গলি।

    মানুষের একটা ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় আছে। বিশেষত গোয়েন্দাদের সে—ইন্দ্রিয় বড় তীক্ষ্ন। সেই ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় অন্যমনস্ক কল্যাণের কানে কানে বললে, কেউ তার পিছু নিয়েছে, হুঁশিয়ার! কিন্তু না, পিছন ফিরে দেখলে চলবে না।

    সজাগ হয়ে উঠল কল্যাণের কান। হ্যাঁ, জনবিরল গলিতে একটা মৃদু পদশব্দ তাকে অনুসরণ করছে!

    সিগারেট ধরাতে গিয়ে দেশলাইটা হাত ফসকে পড়ে গেল। সেটা কুড়িয়ে নেওয়ার জন্য কল্যাণ থামলে। পিছনে পদশব্দও থেমে গেল। দেশলাই কুড়িয়ে, সিগারেট ধরিয়ে কল্যাণ আবার হাঁটতে লাগল। পিছনের পদশব্দও শুরু হল আবার।

    কল্যাণ এবার নিজের হাতখানা মুখের সামনে তুলে ঘড়ি দেখলে। তারপর হঠাৎ ব্যস্ত হয়ে হনহন করে ডান দিকের গলির মধ্যে ঢুকে পড়ল। গলিতে ঢুকেই একটা লাইট—বক্স। তারই আড়ালে কল্যাণ গা—ঢাকা দিলে।

    মিনিট খানেক পরেই গলির মুখে এসে দাঁড়াল এক ছায়ামূর্তি। পথের আলো তার পিছনে থাকায় মুখখানা দেখা যাচ্ছে না। লম্বাটে পাতলা শরীর, প্যান্ট—শার্ট পরা। লোকটা বারকয়েক এদিক—ওদিক চেয়ে দেখল। কোথায় গেল কল্যাণ বোস? নিমেষে হাওয়ায় মিশে গেল নাকি? ডাইনের গলি ধরে দ্রুত পা চালিয়ে দিলে লোকটা। লাইট—বক্সটা সে পার হওয়া মাত্র আড়াল থেকে বেরিয়ে এল কল্যাণ বোস, ঠান্ডা গম্ভীর গলায় বললে, দাঁড়াও!

    চমকে ফিরে তাকাল লোকটা। আর সঙ্গে সঙ্গে কল্যাণ হুকুম করলে, হাত তোলো!

    লোকটার হাত দু’খানা স্প্রিংয়ের মতো উঠে গেল। পথের আলো এখন তার মুখে পড়েছে। দারুণ অবাক হয়ে কল্যাণ দেখলে, পল্টু চ্যাটার্জি! আর, পল্টু দেখলে কল্যাণের হাতে রিভলভার! পল্টুর পকেটগুলো আর কোমর বাঁ—হাতে চাপড়ে দেখল কল্যাণ। না, কোনো অস্ত্র নেই।

    কড়া পুলিশি গলায় কল্যাণ নির্দেশ দিলে, আগে আগে চলো।

    পল্টু বাধ্য ছেলের মতো হুকুম তামিল করলে।

    .

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleদেরি হয়ে গেছে – প্রচেত গুপ্ত
    Next Article মহাভারতের মহারণ্যে – প্রতিভা বসু
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }