Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    দুচাকায় দুনিয়া – বিমল মুখার্জি

    বিমল মুখার্জি এক পাতা গল্প588 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    দুচাকায় দুনিয়া – ১৪

    ১৪

    স্পেনে রোদ খটখট করছে। সুন্দর দিন। এই দেশে আমার যাবার অনেক দিনের শখ। কোথা দিয়ে কেমন করে যাব স্থির করে উঠতে পারিনি। ইচ্ছা ছিল পিরেনিশ পাহাড় পার হয়ে স্পেনে যাব। কিন্তু পিরেনিশ পর্বতমালা বরফে ঢাকা। এক মানুষের বেশি উঁচু বরফ ঠেলে সাইকেল টানতে আর শখ নেই। ঠান্ডা ও বরফের প্রচণ্ড প্রকোপ সহ্য করেছি নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে আল্পসের উঁচু পাহাড়ি পথে। যথেষ্ট হয়েছে আর নয়।

    বার্সিলোনা শহরে আমরা দুই বন্ধু একটা বুল ফাইট দেখতে গেলাম। মস্ত বড় স্টেডিয়াম, প্রায় চল্লিশ হাজার ছেলে, মেয়ে, যুবক, যুবতী দেখতে গিয়েছে। তারা রক্তাক্ত অবস্থায় ষাঁড়কে রক্ত বমি করতে করতে মরতে দেখল এবং ভীষণ উল্লাসে ম্যাটাডরকে, যে লাল কাপড় ও তলোয়ার নিয়ে লড়তে নেমেছিল, সবাই তাকে হর্ষধ্বনি করে অভিবাদন জানাল।

    বুল ফাইট কী সাংঘাতিক রকম হৃদয়হীন খেলা তা না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না। স্বীকার করি অসীম সাহস ও ধৈর্য লাগে লড়াই করতে। একজন যুবক একখানা লাল কাপড়ের টুকরো ও একটা তলোয়ার নিয়ে রিঙের মাঝখানে দাঁড়িয়ে ষাঁড়ের জন্য অপেক্ষা করছিল! ষাঁড়কে রিঙের মধ্যে ঢুকিয়ে দেওয়া হল, ম্যাটাডর মাঝখান থেকে লাল কাপড়টা দেখিয়ে ষাঁড়কে খেপাচ্ছিল। লালের ওপর নজর পড়তেই, তীব্র বেগে ষাঁড় ছুটে গেল শিং খাড়া করে গুঁতিয়ে দেবার জন্য। ম্যাটাডর প্রায় শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অচল অটল। নিজের জায়গা থেকে অল্প পরিসরের মধ্যে ষাঁড়কে নাস্তানাবুদ করে তাকে ভীষণ উত্তেজিত করে তুলল। এই জাতীয় ষাঁড় তৈরি করা হয় আন্দলুসিয়া অঞ্চলে। তারা সহজেই ক্ষেপে যায় এবং মানুষের সঙ্গে লড়তে এগোয়।

    ষাঁড় যখন লাল কাপড়টা ছিঁড়তে অক্ষম হয়ে খুব হয়রান হয়, তখন ম্যাটাডর তলোয়ারটা তার কাঁধের ভেতর ঢুকিয়ে দেয়। এই রকমভাবে কয়েকটা তলোয়ার হতভাগ্য জানোয়ারের পিঠে ঠেলে দেওয়া হয়। অল্পক্ষণের মধ্যে তলোয়ার পিঠের হাড় ভেদ করে হার্ট পর্যন্ত পৌঁছয়। ফলে রক্তের ফোয়ারা বইতে লাগল। তরুণ- তরুণী যারা দেখছে তাদের উৎসাহ ও উত্তেজনা আরও বেড়ে গেল। তারা এই চরম দৃশ্য দেখে তৃপ্তি কেমন করে পায় জানি না। আমার খারাপ লাগছিল, অত্যন্ত নিষ্ঠুর মনে হচ্ছিল এই খেলা।

    ষাঁড়ের চেয়ে মানুষের বুদ্ধি বেশি একথা প্রমাণ দেওয়া যদি উদ্দেশ্য হয় তবে অন্য অনেক উপায়ে তা প্রমাণ করা যায়। একটা জানোয়ার যদি লাল কাপড় দেখলেই ক্ষেপে যায় এবং সেটাকে ছিঁড়ে ফেলতে না পারার জন্য যদি তার বুদ্ধিভ্রংশ হয়, তবে তাকে প্রাণ বলি দেবার ব্যবস্থা মানুষ কেন করল জানি না। ম্যাটাডর হতে খুব সাহস লাগে সন্দেহ নেই। আমি তার বেশি বাহাদুরি দিতে রাজি নই।

     

     

    টুলু ও আমি যেখানে বসে দেখছি আমার পাশেই এক ভদ্রলোক স্কেচ করছিলেন। একেকটি বিশেষ ঘটনা কাগজে ধরে ফেলবার অদ্ভুত ক্ষমতা দেখলাম। ইন্টারভ্যালের সময় ভদ্রলোক একটা সিগারেট খাবার জন্য থামলেন। আমি অবাক হয়ে দেখছি তাঁর কাজ। লোকটি আমার মুখের দিকে চেয়ে জিজ্ঞেস করলেন তাঁর কাজ কেমন লাগছে। আমি খুব প্রশংসা করলাম। তারপর হল আমাদের পরস্পরের পরিচয়।

    ভদ্রলোকের নাম গগ্যা শুনে আমি বললাম যে আমি একজন বিখ্যাত ফরাসি চিত্রকর জানি ওই নামে। হাসি মুখে তিনি তখন বললেন যে সেই গগ্যা তাঁর বাবা। তিনিও কলা চর্চা করেন তবে চিত্রে নয় পোর্সিলেনের নানা জিনিস তৈরি করে। তিনি যে স্কেচ করছেন সেটা এক বিখ্যাত পোর্সেলিন কোম্পানির অর্ডারে। কোপেনহাগেন শহরে যাবার পর বুল ফাইট সিরিজ পোর্সেলিনে তৈরি হবে।

    ছেলে তার বাবার গুণ পেয়েছে। এত সুন্দর স্কেচ করছিল বুল-ফাইটের যে সেগুলো সত্যিই দেখবার মতো।

    টুলু সেনকে ছেড়ে আমি সাইকেলে চড়লাম। কথা রইল যে সম্ভব হলে সে মাদ্রিদ শহরে ওয়াই এম সি এতে আবার দেখা করবে। কিন্তু তা আর হয়নি।

     

     

    সুন্দর রোদমাখা দিন। রাতটা ঠান্ডা। ছয়দিন পরে মাদ্রিদ পৌঁছলাম। সেদিন সন্ধ্যায় রেডিওতে একটা ইন্টারভিউ দেবার পর ডাক পড়ল। বড় সুন্দর ইতিহাস প্রসিদ্ধ শহর, দেখার ইচ্ছা তো ছিলই। তাছাড়া স্পেনের রাজা আলফনসো আমায় বলেছিলেন যে মাদ্রিদ না দেখলে আমার পৃথিবী ভ্রমণ অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। আমার আসার বিশেষ উদ্দেশ্য ছিল এল প্রাডো চিত্রশালা দেখার। পৃথিবীতে যে কটি শ্রেষ্ঠ চিত্রশালা আছে প্রাডো তাদের মধ্যে অন্যতম। গ্রেকো, গয়া এবং ভেলাস্কের শত শ্রেষ্ঠ কাজের সঙ্গে পরিচয় করতে হলে এখানে আসতেই হবে। অন্য চিত্রশালাতে স্প্যানিশ চিত্রকরদের এক আধখানা ছবি দেখা যায়। প্রাডোতে ডজন ডজন তিন জগদ্বিখ্যাত আর্টিস্টের ছবি দেখলাম। মনটা খুশিতে ভরে গেল। স্পেনে আসা আমার সার্থক হল।

    পরদিন ওয়াই এম সি এ হলে আমার ভ্রমণকাহিনী বলবার আমন্ত্রণ পেলাম। মাদ্রিদ ছেড়ে সারগোসার পথে আবার বার্সিলোনাতে ফিরে এলাম। সঙ্গে সঙ্গে জাহাজ পেলাম, মার্সেলস বন্দরে যাবার। বিকালে ওই শহরে পৌঁছলাম। সব পরিচিত মনে হচ্ছিল এবার।

    মার্সেলস ছেড়ে টুলুস-এর পথ ধরলাম। পাঁচদিন পর টুলুস শহরে পৌঁছে এক বিখ্যাত পেন্টারের বাড়ি (টুলুসলোট্রেক) দেখতে গেলাম। পথে গাড়ি কম। বেশ ঠান্ডা ঠান্ডা দিন, তাতে শীতের আমেজ আছে। টুলুস শহরটা পিরেনিশ পর্বতমালার ঠিক উত্তরে। খুব পরিষ্কার দিনে বরফ ঢাকা পাহাড় সব দক্ষিণে দেখা যায়। এ দিকটাকে গ্যাসকাইন বলে। চারদিক খুব পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন। একটা হোটেলে উঠলাম। রাত্রে সেখানে খুব নাচ হচ্ছিল। আমি তাতে যোগ দিলাম এবং যথেষ্ট আনন্দ পেলাম।

     

     

    টুলুসের পর আমার গন্তব্যস্থান বোর্দো। মাঝে আঙুরের খেত কত শত বর্গ মাইল জুড়ে বলতে পারব না। যতদূর দেখা যায় বড় বড় আঙুরের গাছ, ফল পেড়ে নিয়েছে এবং তা থেকে বোর্দো— লাল মদ তৈরি হয়েছে। দেশসুদ্ধ লোক দিনে দুবার খাবারের সঙ্গে দুই ছোট বোতল এই মদ খায়। দাম সস্তা লেমনেডের সঙ্গে সমান, দুই আনা।

    ফ্রান্সের এই দিকটাকে দদইন কান্ট্রি বলা হয়। যেমন শস্যশ্যামল তেমনই নানা রকম চাষবাসে ও ডেয়ারিজাত পণ্যে সমৃদ্ধ। বোর্দোর কাছেই দুটি বড় নদী একটার নাম গারোন, অন্যটি দদইন।

    আমি একরকম লাল মদ খেলাম যাতে অ্যালকোহল নেই বললেই চলে। বেশ মিষ্টি মিষ্টি, আঙুরের নির্যাস যাকে বলে। এই মদ অল্পদিন বাজারে বিক্রি হয় প্রতি বছর। ইউরোপের আঙুর-প্রধান সব দেশেই এই রকম আধা মদ পাওয়া যায়।

    বোর্দোয়ে দুদিন বিশ্রাম করে জামাকাপড় ভালো করে কেচে নিলাম।

    এবার উত্তরে টুরস যাচ্ছি। বেশ সমতল দেশ। রাস্তাও খুব ভালো। তবু এমন ঠান্ডা হাওয়া বইছিল যে আমার আটদিন লাগল পৌঁছতে। টুরসে একটা ইউথ হস্টেলে উঠলাম। হস্টেলটা ফ্রান্সের অন্যতম বড় নদী লয়ারের ধারেই। এখানে খাবার যেমন সস্তা, তেমনই সুস্বাদু।

     

     

    সন্ধ্যার সময় একটা কাসিনোতে গেলাম। একপাশে একা বসে এক গ্লাস নির্যাস খাচ্ছি, হঠাৎ একদল ছেলেমেয়ে হলের ভেতর এল এবং আমাকে দেখে খুব উল্লাস প্রকাশ করতে লাগল। কেউ কেউ তাদের গ্লাস আমার গ্লাসে ঠেকিয়ে টুর দু মন্ড বলতে লাগল। আমি যে একজন বিশ্ব ভ্রমণে বেরিয়েছি সেটা আমার সাইকেল ও সরঞ্জাম দেখে বুঝেছে, তাদের ইচ্ছা আমাকে উৎসাহ দেওয়া।

    ফরাসিরা খুব আমুদে হয়। দল বেঁধে রাস্তা দিয়ে চলবার সময় ছোট ছোট পিয়ানো একর্ডিয়ানের সঙ্গে গান গাইতে গাইতে যায়। কখনও এই সব দলের মধ্যে পড়েছি। কথা নেই বার্তা নেই আমাকে ঘিরে রাস্তার ওপর নাচতে আরম্ভ করেছে।

    পথে টুরস শহর পড়ল। অনেক কালের অস্তিত্ব এর। দুই হাজার বছর আগে রোমানরা রাজত্ব করেছে এই অঞ্চলে। আজও বড় বড় রোমান পয়ঃপ্রণালী শহরের মধ্যে জল সরবরাহ করে।

    এক ফরাসি পরিবারে থাকবার নিমন্ত্রণ ছিল। তাঁদের খুঁজে বের করলাম। এতদিনে কাজ চালানোর মতো ফরাসি ভাষা শিখে ফেলেছি। পরিবারের নাম রোজ। স্বামী-স্ত্রী এবং একটি ছেলে। স্বামীর সঙ্গে বোর্দোতে আলাপ হয়েছিল। রোজ ও তাঁর স্ত্রী আমাকে সাদর অভ্যর্থনা জানালেন। ছেলে আমার বয়সী। আমাকে দেখিয়ে ছেলেকে উৎসাহ দেওয়া বোধহয় নেমন্তন্ন করার উদ্দেশ্য ছিল। ছেলেটি ভালো।

     

     

    রাত্রে ঘটা করে এক মস্ত বড় ডিনারের বন্দোবস্ত হল। রোজের আত্মীয় এবং কয়েকজন বন্ধু নিমন্ত্রিত ছিলেন। মাদাম অদ্ভুত ভালো রাঁধিয়ে। এত লোকের রান্না একাই করলেন। খাবার টেবিলে আঠারোজন স্ত্রী-পুরুষের জন্য আঠারো বোতল দামি মদ রেখেছিলেন।

    একটি পরিবার রবীন্দ্রনাথের লেখা ইংরিজিতে পড়েছে। তাদের কী উচ্ছ্বসিত প্রশংসা ভারতবর্ষের। আমি গর্ব অনুভব করলাম এই কথা ভেবে যে আমি সেই দেশের প্রতিনিধি।

    এবার ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের দিকে যাচ্ছি। সমতল জায়গা, রাস্তা চওড়া এবং খুব ভালো, গাড়ি ঘোড়া অনেক বেড়ে গিয়েছে। পথে কোথাও কোথাও অনেক লোক লেগেছে রাস্তা ঠিক করতে। যারা রাস্তা সারাচ্ছে তাদের মোটর গাড়ি একপাশে রেখেছে। দুপুরবেলায় লাঞ্চ খেয়ে রাস্তার ধারে নালায় বসে কিংবা শুয়ে বিশ্রাম করছে শ্রমিক দল। এক ঘণ্টা পরে যে যার কাজে পুরোদমে মন দিল।

    সাতদিন পরে প্যারিসের কাছাকাছি পৌঁছলাম। জিনিসপত্রের, বিশেষ করে খাবারের দাম বাড়ছে যতই রাজধানীর দিকে এগোচ্ছি। মোটর গাড়ি এত জোরে চলে যে ভয় হয় ঢিমে-তেতালা চালের বাইসাইকেল কখন ছিটকে চলে যাবে। যা হোক খুব সাবধানে একপাশ দিয়ে চলেছি।

     

     

    আমার স্বপ্নের শহর প্যারিস আগত-প্রায়। পথের ধারে প্রথমে ভেলোড্রোম বা সাইকেল রেসের স্টেডিয়াম পেলাম। সন্ধ্যা হয়েছে। কাছেই লে ফ্লয়ের নামে একটা হোটেলে উঠলাম।

    আমার এক ফরাসি বন্ধু, জাঁ দ্য গিভ্রির বাড়িতে ওঠবার কথা। কিন্তু রাত্রে বাড়ি খুঁজে পাব না, এই আশঙ্কায় তাকে টেলিফোন করলাম। আধঘণ্টার মধ্যে জাঁ চলে এল। ঠিক হল কি দ্য অতোই রাস্তার ধারে পরদিন সকালে এক নির্দিষ্ট সময়ে আমার জন্য অপেক্ষা করবে।

    জাঁ চলে যাবার পর হোটেলের ওপারে ভেলোড্রোমে গেলাম সাইকেল রেস দেখতে। আমাদের দেশে সাইকেল ট্র্যাক নেই। এখানে ঢালু ট্র্যাক নিচে থেকে ওপরে উঠে গেছে। কাঠের পাটাতন দিয়ে মেঝে তৈরি হয়েছে। খুব চমৎকার রেস দেখলাম। মনে হচ্ছিল আমি ভালোভাবেই এদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে জিততে পারি।

    রাত্রে হোটেলে বিশ্রাম করে পরদিন জাঁর বাড়ির দিকে রওনা হলাম। জাঁ অবিবাহিত। মার সঙ্গে থাকে। সে আধুনিক চিত্রকর বলে নিজেকে। ঘোড়া আঁকা তার বিশেষত্ব। একদিন বললাম, চল লুভ্যর মিউজিয়ামে শ্রেষ্ঠ পেন্টিং সব দেখে আসি জাঁ উদাসীন, আগেকার লোকেরা আঁকতে জানত না, এই হচ্ছে তার মত। ইমপ্রেসনিস্ট স্কুলের অনেকের জীবনী পড়েছি, তাঁদের কাজের সঙ্গে এবার পরিচয় হবে। জাঁ এদের পেন্টিং আমাকে দেখাতে রাজি ছিল।

     

     

    দুজনে বেরিয়ে পড়লাম। আগেকার পুরনো বড় জগদ্বিখ্যাত আর্টিস্টদের কাজ পড়ে রইল, আমরা আরম্ভ করলাম সেজান, ভ্যান গগ, গঁগ্যা, দেগা ইত্যাদি দিয়ে। শেষ দিয়ে শুরু করলাম। জাঁ এদের কাজ এত ভালো জানত যে তার জ্ঞানের কিছুটা আমি ভাগ পেলাম। প্রত্যেকটি ছবির সামনে কতক্ষণ দাঁড়িয়ে আমাকে বোঝাল। ফলে আমার একটা বিশেষ লাভ হল— ইমপ্রেসনিস্ট আর্টিস্টদের চিনতে জাঁ খুব সাহায্য করেছিল।

    শেষকালে অনিচ্ছাসত্ত্বেও এবং আমার অনুরোধ রাখতে জাঁ রাজি হল অন্য সব -ছবি আমার সঙ্গে দেখতে। তার মতামতের সঙ্গে আমি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অমত হলাম যখন ওল্ড মাস্টারদের ছবি দেখলাম। জাঁ বলল যে লিওনার্ডো দ্য ভিঞ্চির মোনালিসার মধ্যে লোকে কী দেখে তার ঠিক নেই। সব রথী মহারথীর ছবির প্রতিই তার বক্র কটাক্ষ। তবু সে পেন্টিং বুঝতে এবং তারিফ করতে আমায় খুব সাহায্য করেছিল। সারাদিন কাটিয়ে বিকালে আবার আকাশের নিচে এসে দাঁড়ালাম। সামনে টুইলারি গার্ডেনসে অপূর্ব ফুলের সমাবেশ এই অসময়েও।

    দুজনে ফুটপাথের ওপর রেস্তোরাঁয় ঢুকে কফি ও কেক খেলাম।

     

     

    পরদিন গিমে মিউজিয়াম দেখতে গেলাম। এখানে আমি জাঁর গাইড হলাম। অনেক প্রাচ্যের জিনিসে ঠাসা এই মিউজিয়াম। তাদের মধ্যে অনেক জিনিসের সঙ্গে আমি পরিচিত। জাঁ পুরনো চিত্রকলার কোনও জিনিসের মূল্য দেয় না কিন্তু ভারতীয় পুরাতত্ত্বের নিদর্শন দেখে সে মুগ্ধ। ভারতীয় কলা এবং কারুকার্যের সৌন্দর্য তাকে আকৃষ্ট করল। আরও আকৃষ্ট করল ভারতীয় ভাস্কর্য। যারা ভাস্কর্য করেছে তাদের নাম জানতে চাইল। আমি বললাম, ওইখানেই ভারতবর্ষের বাহাদুরি। কে করেছে কেউ তাদের নাম জানে না। দেশ জুড়ে ভাস্কর্যের কাজ হাজার হাজার আছে যাদের শ্রেষ্ঠত্ব অনস্বীকার্য। অনেকের সঙ্গে মাইকেল এঞ্জেলো, প্র্যাক্সিটেলিশ ও মাইরোনের তুলনা করা চলে, কিন্তু আমাদের দেশে নামটা বড় ছিল না, তাই নাম নেই। যেন সৃষ্টির আনন্দে ভাস্কর কাজ করে গেছে। ভবিষ্যতে লোকেরা তার নাম জানবে কিনা তার কোনও ব্যবস্থা করেনি।

    জাঁ পাশ্চাত্য দেশের লোক হয়ে এই কথাটা ভাবতে পারে না। এখানে সবার লক্ষ্য নিজেকে প্রতিষ্ঠা করা এমনভাবে যে আগামী যুগের লোকেরাও তাকে স্মরণ করবে, বাহবা দেবে।

    আমি জাঁকে ইলোরার ভাস্কর্যের কথা বিশেষ করে বললাম। বললাম, ভারতবর্ষে গেলে অজন্তাও যেন সে অবশ্যই দেখে।

     

     

    বাড়ি ফিরে জাঁ বলল, আমাদের দেশে কী-কী দ্রষ্টব্য আছে তার লিস্ট তৈরি করতে। আমি বলেছিলাম আমি তার গাইড হব। সেকথা রাখতে পারিনি। আমার এক যুগ লেগে গেল ভারতবর্ষে ফিরতে। ইতিমধ্যে জাঁ আমাদের দেশ ঘুরে যা দেখার দেখে চলে গেল।

    ঠিক করলাম পরদিন সকালে প্রাতরাশ খেয়ে বাস্তিল দেখতে যাব। জেলখানা দেখে আমরা খানিকক্ষণ প্যারিসের রাস্তায় ঘুরতে ঘুরতে একটা ফুটপাথের ওপর রেস্তোরাঁয় কফি খেতে বসলাম। মাঝে মাঝে চা খেতে ইচ্ছা করত কিন্তু এদেশে তা দুষ্প্রাপ্য। যা পাওয়া যায় তার মধ্যে স্বাদ ও গন্ধ কিছুই থাকে না।

    জাঁ একটা সাইকেল জোগাড় করেছিল। পরদিন শহরের বাইরে আমরা দুজনে ভেরসাই প্রাসাদ ও বাগান দেখতে গেলাম। কয়েক ঘণ্টা প্রশস্ত ও সুন্দর বাগান ঘুরে প্যালেসের ভেতরে মিউজিয়াম দেখতে পেলাম।

    দেওয়ালে ঝুলছিল কয়েকখানি বহুমূল্য গোবেঁল্যা। কার্পেট যেমন মাটিতে পাতে গোরেঁল্যা তেমনই অতি সূক্ষ্ম কার্পেটের মতো, দেওয়ালে ঝোলায় ছবির বদলে, ভালো জাতের গোরেঁল্যার দাম অনেক লক্ষ টাকা হতে পারে। ইউরোপের বেশিরভাগ বড়লোকের বাড়িতে প্রায়ই দেখা যায়। এটা তাদের আর্থিক অবস্থার একটি পরিচয়।

     

     

    প্যারিস থেকে ভেরসাই প্রায় কুড়ি মাইল দূরে। ট্রামে যাতায়াত করা যায়। সকালে প্যারিস থেকে দলে দলে লোকেরা স্ত্রী পুত্র পরিবার নিয়ে এখানে বেড়াতে আসে। সঙ্গে থাকে দুপুরের খাবার। বাগানের ঘাসের ওপর শুয়ে বসে বিশ্রাম করে বড়রা। ছোটরা ছোটাছুটি ও নানারকম খেলায় ব্যস্ত। দুটো জিনিস লক্ষ করবার মতো। কেউ ফুল ছিঁড়ল না কিংবা যেখানে সেখানে কাগজের টুকরো বা দেশলাইয়ের কাঠি বা সিগারেটের ভগ্নাংশ ফেলল না। একটু পর পর তারের বাক্স আছে। সবাই ময়লা সেখানে ফেলছিল। তাই সমস্ত বাগান পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন সব সময়েই।

    রবিবার দেখে আমরা দুজন ফঁতেনব্লু বেড়াতে গেলাম। এখানে নেপোলিয়ানের মিউজিয়াম আছে। ফঁতেনব্লু প্যালেসের চারপাশে প্রশস্ত জমি ও উপবন আছে। বড় বড় ঘাস হয়েছে সেখানে। সবাই স্বাভাবিক অবস্থায় রয়েছে। বড় বড় গাছ আরও সুন্দর দেখায়।

    সন্ধ্যার আগে প্যারিস ফিরলাম। জাঁ বলল, ওর সঙ্গে একটা ক্যাবারে দেখতে যেতে। তার নাম ফোলি ব্যার্জার। ফরাসিরা দিনেরবেলায় খাটে আর সন্ধ্যা হলেই মদ পান করে এবং আর্থিক অবস্থানুসারে ছোট, বড় ক্যাবারে দেখতে যায়।

     

     

    ফোলি ব্যার্জার আমার ভালো লাগল। খুব আর্টিস্টিক এবং রুচিসম্মত প্রোগ্রাম ছিল। ফিনফিনে কাপড়-জামার বাহুল্য। মেয়েরা স্বল্পবসনা।

    নিমন্ত্রিত হয়ে আরও দুটো ক্যাবারে দেখেছি। একটার নাম মূলাঁ রুজ, অন্যটি বাল্‌ তাবারাঁ।

    সোমবার থেকে জাঁ কাজে ভীষণ ব্যস্ত থাকবে। আমি আবার ল্যুভর চিত্রশালা দেখতে গেলাম। আমার ভালো লাগত বলে পর পর আরও তিনদিন ছবি দেখে এবং আর্টিস্টদের জীবনী পড়ে কাটালাম।

    ফ্রান্সের যতখানি দেখলাম এবং যা শুনলাম তাতে মনে হয় সে শিক্ষায়, সভ্যতায় গ্রিসের উত্তরাধিকারী। স্থাপত্যে, ভাস্কর্যে, সাহিত্যে, বিজ্ঞানে সে এক মহা সম্মানের স্থান অধিকার করেছে ইউরোপের মধ্যে। আমার সব চেয়ে ভালো লাগে এই কারণে যে সেখানে বর্ণবৈষম্য কোথাও দেখিনি।

    বিরাট আইফেল টাওয়ারও দেখতে গেলাম। ওপর থেকে মনে হল সমস্ত প্যারিস শহর আমার পায়ের নিচে। শহরের বিশেষ বিশেষ দ্রষ্টব্য বাড়িগুলি স্পষ্ট দেখা গেল কিন্তু অনেক ছোট আকারে। লিফটে করে এক হাজার ফুটের চেয়ে বেশি উঁচুতে উঠেছি। এই বাড়িতে রেডিও ট্রান্সমিটিং সেন্টার আছে। একতলায় একটা বড় রেস্তোরাঁ আছে। খেতে খেতে সব শহরটা দেখা যায়।

    জাঁ-র সঙ্গে একদিন হুগো মিউজিয়াম দেখতে গেলাম। বিখ্যাত সব বইয়ের পাণ্ডুলিপি যত্ন করে রাখা রয়েছে এখানে। একটা সুন্দর প্রস্তরমূর্তি দেখলাম ভিক্টর হুগোর। রোঁদ্যার ভাস্কর্যের মিউজিয়াম দেখে মুগ্ধ হয়ে গেলাম।

    অপেরায় দি বাবার অব সেভিল শুনতে গেলাম। ভারি চমৎকার মিউজিক। মজারও বটে। অপেরা শেষ হবার পর হাঁটতে হাঁটতে প্লাস দ্য লা কনকর্ড থেকে এক বিস্তীর্ণ চওড়া রাস্তা সাঁ-জে-লিজে ধরে অন্য প্রান্তে আর্ক দ্য ত্রিয়ম্ফ পর্যন্ত দেখতে দেখতে গেলাম।

    এক ফুটপাথের ওপর রেস্তোরাঁতে বসে খেয়ে নিলাম। মোটর গাড়িগুলো প্রচণ্ড জোরে চলেছে, যেন সবাই প্রতিযোগিতা করছে। আর্কের নিচে নিত্যকালের জন্য একটা আগুন জ্বেলে রেখেছে, যারা যুদ্ধে মারা গেছে তাদের স্মরণার্থে। আর্ক দ্য ত্রিয়ম্ফের ওপর একদিন উঠেছিলাম। সেখানে একটা যুদ্ধ-বিষয়ক মিউজিয়াম আছে। চারদিকের দৃশ্য খুব সুন্দর।

    সোরবন ইউনিভার্সিটি থেকে জাঁ আমার জন্য এক নেমন্তন্ন এনেছে। দুদিন পরে ধড়াচূড়া পরে সাইকেল নিয়ে স্টুডেন্টস ইনস্টিটিউটে উপস্থিত হলাম। জাঁ তার সাইকেলে এসেছিল। সাইকেল দুটো দারোয়ানের হাতে দিয়ে ভেতরে গেলাম। জাঁ দো-ভাষীর কাজ করল। আমার ভ্রমণের পথ ও অভিজ্ঞতা বললাম। ফ্রেঞ্চ ফরেন লিজিয়নেয়ারদের সঙ্গে থেকেছি শুনে সবার খুব উৎসাহ।

    বক্তৃতা শেষ হলে প্রশ্নোত্তর আরম্ভ হল। অনেকে ইচ্ছা প্রকাশ করল আমাদের দেশে যাবার।

    জাঁ বন্দোবস্ত করেছিল আমার জন্য রেডিওতে একটা বক্তৃতার। সেখানে প্রোগ্রাম হল জাঁ ও আমার কথাবার্তা দিয়ে।

    বেশ কিছু টাকা পকেটে এল। একদিন জাঁ-কে ভালো করে একটা রেস্তোরাঁতে খাইয়ে দিলাম। রাস্তার ধারে ফুটপাথের ওপর রেস্তোরাঁ প্যারিসে সর্বত্র। এ দেশে এই প্ৰশস্ত নিয়ম চালু। টেবিল চেয়ার পাতা আছে। বসা মাত্র লোক এসে অর্ডার নিয়ে যাবে। একটি কফি কিংবা একপাত্র মদ সামনে রেখে সারাদিন কাটিয়ে দিলেও আপত্তি নেই। প্যারিসে এ যুগের সবচেয়ে বড় দ্রষ্টব্য কলোনিয়াল এগজিবিশন তখন শহরের বাইরে এক বিরাট ভূখণ্ড নিয়ে তৈরি হচ্ছিল। জায়গাটার নাম ভ্যাসেন, সেখানে পরে হ্রদ তৈরি হয়েছে।

    প্রদর্শনীর ভেতরে নানা দেশের থিয়েটার, নাচ দেখানো হচ্ছিল। তাদের মধ্যে বিশেষ উল্লেখযোগ্য হচ্ছে উদয়শঙ্করের নাচ।

    সেই সময় উদয়শঙ্কর আর এলিসের সঙ্গে আমার খুব ভালো বন্ধুত্ব হয়ে গিয়েছিল।

    কিছুকাল পরে আমি লন্ডনে থাকাকালীন উদয়ের দল কন্টিনেন্টে নাচ সেরে লন্ডনে এল এবং লন্ডনবাসীদের মুগ্ধ করল তাদের কৃতিত্ব দেখিয়ে। ডার্টিংটন হল থেকে নেমন্তন্ন এল এলমহাস্টের বাড়িতে থাকবার। উদয় ডার্টিংটন হলে নাচল। অমন নাচ কেউ কখনও আগে দেখেনি।

    একদিন সন্ধ্যায় ডার্টিংটন হলের প্রশস্ত মাঠে আমি আর উদয়শঙ্কর গল্প করছিলাম। উদয় বলল যে তার বিশ্রাম দরকার। গত তিন বছর ধরে প্রত্যহ ছয় থেকে আট ঘণ্টা ইউরোপের অপেরা হাউসে, থিয়েটারে নেচেছে এবং সঙ্গীদের নাচ শিখিয়েছে।

    বিশ্রাম নেওয়ার আরও প্রয়োজন, নতুন নতুন নাচ তৈরি করতে হবে। আমি যদি ওর সঙ্গে দূরে পাহাড়ের ওপর অস্ট্রিয়ায় যাই তাহলে ভালো হয়। আমি রাজি হলাম। এত বড় একজন আর্টিস্টের সান্নিধ্য পাব একান্ত নির্জনে, এই কথা ভেবে।

    আমার মতে উদয়শঙ্কর পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ নাচিয়ে কিন্তু তার চেয়ে সে অনেক অনেক বড় নৃত্যশিক্ষক। আমি ঠাট্টা করে বলতাম, তুমি গাধাকে ঘোড়া বানাতে পার। যার মধ্যে নাচবার কোনও ক্ষমতা নেই তাকেও স্বচ্ছন্দে নাচাতে পার। উদয় হেসে বলত এস, আমার দলে যোগ দাও, দেখো কেমন নাচিয়ে বানিয়ে ছাড়ি। তোমার উপযুক্ত কত নাচ আমার মাথার মধ্যে খেলছে।

    উদয় পরিষ্কার ফরাসি বলতে পারত।

    আমরা প্রথমে কয়েকদিন ভেনিসে কাটিয়ে বলজানো শহরে গেলাম।

    আমার কোনও কাজ নেই— খাওয়া এবং উদয়ের সঙ্গে গল্প করা ছাড়া। ‘কল্পনা’ ফিল্ম করার কথা এবং তার আনুষঙ্গিক সমস্ত ঘটনা, এই সময় উদয়ের চিন্তার অনেক অংশ জুড়ে ছিল।

    আরেকটা কাজ জুটেছিল আমাদের দুজনের। নিত্য নতুন পাহাড়ের ওপর চড়া, পাহাড়ি পথ ধরে। মেরানোর ওপর পৌঁছলাম। ক্লান্ত হয়ে একটা পাথরের ওপর দুজন বহুক্ষণ পাশাপাশি শুয়ে গল্প করলাম। তখন আকাশে একটি একটি করে অনেক তারা ফুটেছে। সে এক অপূর্ব দৃশ্য! পাহাড়ের চূড়ার কাছেই একটা হোটেল ছিল। আমরা সেখানে খাবারের জন্য গেলাম।

    উদয়শঙ্কর খুব লম্বা নয় কিন্তু স্টেজের ওপর তার দাঁড়াবার, চলবার ভঙ্গিমা দেখবার মতো। মনে হয় এক বিরাট পুরুষ, স্টেজ-জমানো আকৃতি যাকে বলে। অনেক গুণের মধ্যে সে একটি বিশেষ গুণের অধিকারী ছিল, সেটা হচ্ছে সময়-জ্ঞান। যখন শো আরম্ভ করবার কথা ঠিক সেই সময় সে শুরু করবেই। তাকে দেখবার বা শোনবার জন্য একজন লোকও না থাকে তাতে তার কিছু আসে যায় না। আমি কোনও ভারতীয়কে উদয়ের মতো এই দিকে এত সচেতন হতে দেখিনি।

    বলজানোতে পরিচিত জায়গায় ফিরেছি। আমাদের ছুটি ফুরোতে মাত্র পাঁচদিন বাকি। আমি রোজই তাগিদ দিতাম যে নতুন নাচ তৈরি করার কাজ একটুও এগোয়নি। আমি যেন উদয়ের গার্জেন হয়ে গিয়েছি। সন্ধ্যাবেলায় একটা পাহাড়ি নদীর কাঠের সেতুর ওপর আমরা বসে আছি। অল্প চাঁদের আলো উঠেছে। অস্ট্রিয়ান চাষী দিনের শেষে গরুর গাড়ি চালিয়ে বাড়ি চলে গেল। এমন সময় উদয় দাঁড়িয়ে বলল যে তিনটে প্লট তার মাথায় এসেছে। প্রথমে প্লটের গল্প বলল। তারপর যারা নাচবে তাদের বেশভূষা কীরকম হবে, কেমন মিউজিক হবে, আলোর ব্যবস্থার কথা বিশদভাবে বলে নাচতে শুরু করল। তখন দলের সঙ্গীদের পার্টও সঙ্গে সঙ্গে নেচে দেখাল। খুব সুন্দর হয়েছে বললাম।

    মনে রাখবার জন্য উদয় দ্বিতীয়বার নেচে দেখাল। গল্পের নাম দিল নিরাশ। নিরাশ পরে পৃথিবীর নানা জায়গায় নেচে দেখিয়েছে।

    পরদিন সন্ধ্যায় আরেকটি নাচের থিম সম্বন্ধে কিছু বলে উদয় নাচতে আরম্ভ করল। গল্পের নাম ‘ইন্দ্র’। তার একক নাচ— খুব সুন্দর। তৃতীয়টি চাষীর নাচ। এমনিভাবে তিনদিনে তিনটে নাচ তৈরি করতে পারল।

    আমি ও এলিস বোনার প্রায়ই প্রথম সারিতে বসে উদয়ের নাচ দেখতাম। একদিন এক সৌম্যদর্শন, লম্বা, বৃদ্ধ ভদ্রলোক নিজের পরিচয় দিলেন ডেনিশ আর্টিস্ট বলে। তিনি ভেবেছিলেন আমি বুঝি উদয়ের নাচের দলের একজন। তখন আমি আমার পরিচয় দিলাম পৃথিবী-পর্যটক বলে।

    ভদ্রলোকের নাম আক্সেল ইয়ার্ল। তিনি আমাকে ডেনমার্ক যাবার নেমন্তন্ন করলেন এবং তাঁর বাড়িতে থাকবার কথা বারবার বললেন। নরওয়ে, সুইডেন, ফিনল্যান্ড ঘুরেছি অথচ স্কান্ডিনেভিয়ান সভ্যতার উৎসস্থান ডেনমার্ক দেখিনি, এটা হতে পারে না। এলিসকেও নেমন্তন্ন করলেন।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleযজুর্বেদ সংহিতা (অনুবাদ: বিজনবিহারী গোস্বামী)
    Next Article আদিম সমাজ – লুইস হেনরি মর্গান
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Our Picks

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }