Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    নতুন বিশ রহস্য – স্যার আর্থার কোনান ডয়েল

    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল এক পাতা গল্প287 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    রহস্যময় সিন্দুক – আর্থার কোনান ডয়েল

    রহস্যময় সিন্দুক

    ‘আচ্ছা, অ্যালারডাইস, ওটাকে দেখে কী মনে হয় তোমার?’ প্রশ্ন করলাম আমাদের জাহাজের সেকেন্ড অফিসারকে। আমরা দুজনে জাহাজের পেছনদিকে পাটাতনের ওপর দাঁড়িয়ে। ঝড় থেমে গেলেও সমুদ্রের ঢেউ তখনো উত্তাল। জাহাজের গায়ে ঝোলানো আমাদের নৌকো দুটোও ঢেউয়ের ধাক্কা খাচ্ছে।

    দু-পা ফাঁক করে দাঁড়িয়ে চোখে দূরবিন লাগিয়ে অ্যালারডাইস দেখছিল সেই হতভাগ্য অজানা বস্তুটাকে। ঢেউয়ের সঙ্গে ওঠানামা করছিল সেটা। প্রায় ডুবন্ত জিনিসটার সবুজ রঙের একটা অংশ দেখতে পাচ্ছিলাম।

    হ্যাঁ, ওটা একটা দু-মাস্তুলের জাহাজ, যদিও প্রধান মাস্তুলটা মাঝখান থেকে ভেঙে পড়েছে। আহত শঙ্খচিলের মতো জলে ভাসছে মাস্তুলটার ধ্বংসাবশেষ। অন্য মাস্তুলটা ঠিক থাকলেও, জাহাজের পালগুলো ছিন্নভিন্ন হয়ে পতাকার মতো উড়ছে। এমন বিধ্বস্ত জাহাজ আমি আগে কখনো দেখিনি।

    অবশ্য এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই, কেন-না গত তিনদিনে কয়েকবারই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল যে, ভেবেছিলাম এজীবনে ডাঙার মুখ আর কখনোই দেখতে পাব না। আমাদের জাহাজ ‘মেরি সিনক্লেয়ার’ খুব মজবুত, তাই বিশেষ কোনো ক্ষতি হয়নি। ঝড় থামার পর বুঝতে পারলাম, সবাই আমাদের মতো ভাগ্যবান নয়। নির্মেঘ আকাশের নীচে নীল জলের ওপর ওই জাহাজটা টলমল করে কাঁপতে কাঁপতে যেন জানাচ্ছিল তার সদ্য-সমাপ্ত ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা।

    আমাদের জাহাজের সকলে ডেক-এ জমায়েত হয়েছিল বিধ্বস্ত জাহাজটাকে দেখতে। অ্যাটলান্টিকের যে অংশ দিয়ে আমাদের যাত্রাপথ, সেটা ঠিক বাণিজ্য-পথের মধ্যে পড়ে না। তাই গত দশদিন নিঃসঙ্গ নির্জন সমুদ্রে পাড়ি দেওয়ার পরে আমরা সকলেই একটা অন্য জাহাজ দেখে কৌতূহলী হব, এটাই স্বাভাবিক।

    অ্যালারডাইস এবার মন্তব্য করল, ‘মনে হচ্ছে জাহাজটা পরিত্যক্ত— ওটায় কেউ নেই।’

    সত্যিই জাহাজটায় জনপ্রাণীর কোনো চিহ্ন নেই, এমনকী, আমাদের সম্মিলিত কণ্ঠের চিৎকারেরও কোনো উত্তর এল না। মনে হয় জাহাজটার ডুবে যাওয়ার আশংকায় মাঝি-মাল্লারা সবাই জাহাজ ছেড়ে পালিয়ে গেছে।

    সেকেন্ড অফিসার হিসেব করে আবার বলল, ‘যে-কোনো মুহূর্তে জাহাজটা ডুবে যাবে। রেলিং অবধি জল উঠে গেছে।’

    সে আরও বলল, ‘জাহাজের পতাকাটা ব্রাজিলের। তবে নীচের দিকটা ওপরে। তার মানে জাহাজটা বিপদের সংকেত দেওয়ার চেষ্টা করেছিল।’

    ওর হাত থেকে দূরবিনটা নিয়ে আমি যতদূর চোখ যায় দেখলাম। অ্যাটলান্টিকের গভীর নীল জলরাশি। ঢেউয়ের ফেনা। জনপ্রাণীহীন। আমি বললাম, ‘হয়তো জাহাজে জীবিত মানুষ এখনো আছে।’

    অ্যালারডাইস বলল, ‘হয়তো মালপত্রও আছে—সেগুলো উদ্ধার করা যেতে পারে।’

    ‘তাহলে চলো, জাহাজটার কাছে যাওয়া যাক।’

    দুই জাহাজের মধ্যে যখন একশো গজের মতো তফাত, তখন অ্যালারডাইসকে বললাম, একটা নৌকো আর চারজন লোককে নিয়ে ওই জাহাজে উঠতে।

    ঠিক তক্ষুনি জাহাজের ডেক-এ এল আমাদের ফার্স্ট অফিসার আর্মস্ট্রং। তাই ওকে আমাদের জাহাজের ভার দিয়ে আমিও নৌকোয় উঠে পড়লাম। ওই পরিত্যক্ত জাহাজে কী আছে তা জানার জন্য আমার কৌতূহলও কম ছিল না।

    ওইটুকু দূরত্ব, কিন্তু পৌঁছোতে সময় লাগল অনেকটাই, উত্তাল ঢেউয়ে আমাদের নৌকোটা এত ওঠানামা করছিল যে মাঝে মাঝে দুটো জাহাজই দৃষ্টির বাইরে চলে যাচ্ছিল। নৌকো ঢেউয়ের ওপরে উঠলে অস্তগামী সূর্যের উষ্ণতার ছোঁয়া, আর নীচে নামলে শীতল অন্ধকার। বোঝার চেষ্টা করছিলাম কোন দিক থেকে জাহাজটায় সহজে ওঠা যেতে পারে। চোখে পড়ল জাহাজটার নাম—’নোসা সেহনোরা দা ভিত্তোরিয়া’।

    আমাদের নৌকো আর ওই জাহাজটা সম উচ্চতায় আসতেই চোখের পলকে আমরা সবাই লাফ দিয়ে উঠে পড়লাম পরিত্যক্ত জাহাজের ডেক-এ। আমাদের জাহাজের মিস্ত্রিও সঙ্গে এসেছিল। ও আমাদের নৌকোটা জাহাজের গায়ে একটা হুকের সাহায্যে বেঁধে দিল।

    প্রথম চিন্তা হল আমাদের নিরাপত্তা। জাহাজটা যদি হঠাৎ ডুবে যায়? আমাদের দুজন নাবিক নৌকোটাকে শক্ত করে ধরে রইল যাতে দরকার হলেই নৌকোয় উঠে আমরা আত্মরক্ষা করতে পারি। আর মিস্ত্রি দেখতে গেল জাহাজের ভেতরে কতটা জল ঢুকেছে, জল বাড়ছে কিনা ইত্যাদি ইত্যাদি। আমি, সেকেন্ড অফিসার আর অন্য এক নাবিক মিলে খুব তাড়াতাড়ি জাহাজ ও মালপত্রগুলোর ওপর চোখ বোলালাম।

    ডেক-ভর্তি ধ্বংসাবশেষ, মরা মুরগিসহ মুরগির খাঁচা জলে ভাসছে। একটা মাত্র নৌকো আছে জাহাজে; অর্থাৎ সকলে জাহাজ ছেড়ে চলে গেছে। ক্যাপ্টেনের কেবিনের একটা দেওয়াল জলের ধাক্কায় বিধ্বস্ত। টেবিলটা তিনি যেভাবে ছেড়ে গেছেন ঠিক সেই অবস্থাতেই পড়ে আছে। স্প্যানিশ কিংবা পোর্তুগিজ ভাষায় লেখা কাগজপত্র, রেজিস্টার ইত্যাদি। আর ঘরের চতুর্দিকে ছড়ানো সিগারেটের ছাই।

    জাহাজের লগ-বুকটা কিন্তু খুঁজে পেলাম না। ওটা পেলে জাহাজটার যাত্রাপথ, দৈনিক অগ্রগতির হিসেব ইত্যাদি জানা যেত। অ্যালারডাইস অবশ্য বলল যে, দক্ষিণ আমেরিকার জাহাজ লগ-বুকের ধার ধারে না কিংবা হয়তো ক্যাপ্টেনই ওটা নিয়ে চলে গেছেন। আমি ঠিক করলাম, কাগজ-পত্রগুলো নিয়ে যাব।

    ইতিমধ্যে মিস্ত্রি এসে একটা সুখবর দিল—জাহাজে প্রচুর জল ঢুকলেও বেশ কিছু মালপত্র ভাসমান বলে, জাহাজটা হঠাৎ ডুবে যাবে না। হয়তো আদৌ ডুববেই না, সমুদ্রের বুকে টলমল করে ভাসতে থাকবে আর অন্য জাহাজের দুর্ঘটনার কারণ হবে।

    আমি অ্যালারডাইসকে বললাম, ‘বিপদের যখন এখনই কোনো আশংকা নেই, তুমি বরং নীচে গিয়ে দ্যাখো মালপত্র কিছু উদ্ধার করা যায় কিনা। আমি একটু কাগজপত্রগুলো দেখি।’

    কাগজপত্র দেখে জানা গেল, ‘নোসা সেহনোরা দা ভিত্তোরিয়া’ মাসখানেক আগে বাহিয়া বন্দর ছাড়ে। ক্যাপ্টেনের নাম টেকসেইরা। নাবিকের সংখ্যার উল্লেখ নেই কোথাও। জাহাজটা যাচ্ছিল লন্ডনে। তবে কাগজ অনুযায়ী মালপত্র যা নিয়ে যাচ্ছিল, সেগুলো উদ্ধার করা বা তার থেকে কিছু মুনাফা লাভের সম্ভাবনা কম। কাঠ, আদা, বাদাম ইত্যাদি।

    কাঠ মানে বিশাল বিশাল গুঁড়ি। ওগুলোর জন্যেই জাহাজটা ডোবেনি। তবে কাঠের এই গুঁড়িগুলো তো নিয়ে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। আর ছিল কিছু শৌখিন জিনিস—মেয়েদের টুপি, ফিতে, রংচঙে পাখির মূর্তি ইত্যাদি। এছাড়া রয়েছে, একশো বাক্স সংরক্ষিত ফল।

    এরপর আমার বিশেষ করে নজর পড়ল ইংরেজিতে লেখা একটা নোটিসঃ

    ‘স্যান্টারেম সংগ্রহের অপূর্ব ও মূল্যবান শিল্পবস্তুগুলি যা লন্ডনের প্রন্টফুট ও নিউম্যান কোম্পানিকে পাঠানো হচ্ছে, সেগুলি নিরাপদ স্থানে রাখার অনুরোধ করা হচ্ছে। বিশেষত, লেইরা-র ডন র‌্যামিরেজের সিন্দুকটি যেন সবাইয়ের ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকে।’

    ডন র‌্যামিরেজের সিন্দুক! অপূর্ব ও মূল্যবান শিল্পবস্তু! এই তো দামি জিনিস পাওয়ার সম্ভাবনা! কাগজটা হাতে নিয়ে আমি উঠে দাঁড়াতেই দেখি অ্যালারডাইস এসে হাজির, ও বলল, ‘স্যর, এই জাহাজের ব্যাপার-স্যাপার ঠিক স্বাভাবিক লাগছে না।’ ওর পোড়-খাওয়া মুখে যেন একটা সন্ত্রস্ত ভাব।

    ‘কেন, কী ব্যাপার?’

    ‘খুন, স্যর, খুন! একটা লোক মরে পড়ে আছে, তার মাথা ফেটে চৌচির। আসুন, আমার সঙ্গে আসুন।’

    জাহাজে ডেক-এর নীচে কোনো ঘর নেই। ডেক-এই ক্যাপ্টেনের ঘর, রান্না, খাবার ঘর, নাবিকদের থাকার ঘর। রান্নার জায়গায় বাসনপত্র ছত্রাকার হয়ে পড়ে আছে। এরই সংলগ্ন একটা ঘরে শোওয়ার জন্যে, দুটো বাংক আর একদিকে খালি অংশে পালের কাপড়, পতাকা ইত্যাদি পড়ে আছে। মোটা কাপড় দিয়ে ঢাকা বেশ কিছু প্যাকেট দেয়ালে দড়ি দিয়ে লটকানো।

    আর এক প্রান্তে রাখা বিশাল একটা সিন্দুক, লাল-সাদা ডোরা কাটা। অবশ্য বহুকাল ধরে ধুলোময়লা লেগে লাল ও সাদা রং দুটোই ম্লান হয়ে গেছে। মেপে দেখা গেল, সিন্দুকটা চার ফুট তিন ইঞ্চি লম্বা, তিন ফুট দু-ইঞ্চি উঁচু আর প্রস্থে তিন ফুট। জাহাজে সচরাচর যেরকম সিন্দুক থাকে, তার থেকে অনেকটাই বড়।

    তবে এই ভাঁড়ার ঘরে ঢুকে সিন্দুকে চোখ পড়ার আগেই দেখতে পেলাম, মেঝের ওপর একটা লোকের দেহ। লোকটার চেহারা ছোটখাটো, গায়ের রং তামাটে, গালে কোঁকড়ানো দাড়ি। সিন্দুকের থেকে অনেকটা দূরে পড়ে আছে লোকটা, পা-দুটো সিন্দুকের দিকে। পালের সাদা কাপড়ের ওপর যেখানে ওর মাথা, সেই অংশটুকু লাল, আর লাল রঙের সরু কয়েকটা ফিতে যেন ওর ঘাড় পেঁচিয়ে মেঝের দিকে চলে গেছে। কিন্তু কোনো ক্ষতের চিহ্ন চোখে পড়ল না। লোকটা যেন ঘুমন্ত শিশুর মতো শান্ত।

    একটু ঝুঁকে দেখতেই বুঝতে পারলাম লোকটা কীভাবে আঘাত পেয়েছিল আর বুঝতে পেরে আমি ওখান থেকে তক্ষুনি দৃষ্টি সরিয়ে নিলাম। আতঙ্কে আমার মুখ থেকে অস্ফুট আর্তনাদ বেরিয়ে এল। সম্ভবত পেছন থেকে কেউ লোকটার মাথায় কসাইদের কুঠার চালিয়েছে। আঘাতের তীব্রতায় ওর মাথা ফেটে গিয়ে ঘিলু বেরিয়ে এসেছে। ওর মুখে শান্তি, কেন-না মৃত্যু হয়েছিল চোখের পলকে। আর আততায়ীকে দেখার কোনো সুযোগ পায়নি সে।

    অ্যালারডাইস মৃদুস্বরে জিগ্যেস করল, ‘ক্যাপ্টেন, কী মনে হয়—দুর্ঘটনা, না খুন?’

    ‘লোকটাকে খুন করা হয়েছে। ওপর থেকে খুব ভারী আর ধারালো কোনো অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু লোকটা কে আর কারাই বা ওকে মারল?’

    ‘স্যর, লোকটার আঙুলগুলো দেখলেই বোঝা যাচ্ছে যে, ও ছিল একজন সাধারণ নাবিক।’

    লোকটার পকেট থেকে বেরোল এক সেট তাস, একটা গুলতি আর এক দলা ব্রাজিলীয় তামাক। আর হাতে ধরা ছিল স্প্রিং-দেওয়া ব্লেডওয়ালা ইস্পাতের ধারালো একটা বড় ছুরি। বোঝাই গেল যে, ওই ছুরি দিয়ে হত্যা করা হয়নি তাকে।

    সেকেন্ড অফিসার বলল, ‘স্যর, মনে হয় লোকটা বিপদের আশঙ্কায় ছুরি হাতে প্রস্তুত ছিল, তবে শেষ রক্ষা হয়নি। যাই হোক, এখন আর করার কিছু নেই। দেয়ালে ঝোলানো ওই প্যাকেটগুলো কীসের বলুন তো? মনে হয়, যেন মূর্তি অস্ত্রশস্ত্র, শিল্পবস্তু ইত্যাদি—তাই না?’

    আমি বললাম, ‘ঠিক বলেছ। জাহাজের মালপত্রের মধ্যে কেবল এই জিনিসগুলো থেকেই কিছু টাকা কামানো যাবে বোধহয়। আমাদের জাহাজে খবর দাও দ্বিতীয় নৌকোটাও এখানে পাঠাতে আর ওতেই রাখো এই মালপত্রগুলো।’

    এবার আমার নজর গেল ডোরাকাটা সিন্দুকটার দিকে। বাইরে থেকে আসা দিনের আলোয় ওটা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখলাম। সিন্দুকটার ওপর কোনো অভিজাত বংশের প্রতীকচিহ্ন আর স্প্যানিশ ভাষায় কিছু কথা খোদাই করা আছে। কথাগুলোর অর্থ-‘ভেরাকুয়াস প্রদেশের শাসক ও ক্যাপ্টেন-জেনারেল ডন র‌্যামিরেজ ডি লেইরা-র ধনদৌলতের সিন্দুক।’ আর এক কোনায় খোদাই করে লেখা—’১৬০৬ খ্রিস্টাব্দ।’ সিন্দুকের ওপর সাঁটা আছে ইংরেজিতে লেখা একটা কাগজ—’সনির্বন্ধ অনুরোধ করা হচ্ছে, যে-কোনো কারণেই যেন এই বাক্সটি না খোলা হয়।’

    একই সতর্কবার্তা আরেকটি লেবেলে স্প্যানিশ ভাষায় লেখা। তালাটা অত্যন্ত জটিল ধরনের আর খুব ভারী। সেটার ওপরেও লাতিন ভাষায় কী সব লেখা ছিল, মানে বুঝলাম না।

    ইতিমধ্যে ফার্স্ট অফিসার আর্মস্ট্রং দ্বিতীয় নৌকোটা নিয়ে এসে গেছে। আমরা প্যাকেটগুলো নামিয়ে ওই নৌকোয় রাখতে শুরু করলাম। নৌকোটা ভরে যেতেই আর্মস্ট্রং ওটা নিয়ে চলে গেল আমাদের জাহাজের দিকে। তখন আমরা চারজন মিলে ধরাধরি করে সিন্দুকটা রাখলাম আমাদের নৌকোয়। সিন্দুকটা এত ভারী যে, সেটাকে নৌকায় মেপে মেপে সঠিক জায়গায় রাখতে হল। একটু এদিক-ওদিক হলেই নৌকো উল্টে যাবার সম্ভাবনা। মৃতদেহটা ওই জাহাজেই পড়ে রইল।

    অ্যালারডাইসের মতে, জাহাজ ছেড়ে পালানোর সময় লোকটা হয়তো লুঠপাট শুরু করেছিল, এবং খুব সম্ভবত ক্যাপ্টেন ছোট একটা কুঠার জাতীয় কোনো ধারালো অস্ত্র দিয়ে ওকে আঘাত করেছিল। ব্যাখ্যাটা হয়তো যুক্তিসংগত, কিন্তু আমার মন তাতে সায় দিচ্ছিল না। তবে সমুদ্রের রহস্যের তো কোনো শেষ নেই। ওই নাবিকটার মৃত্যুও রহস্যের তালিকায় আর একটা সংযোজন হয়ে থেকে যাবে।

    মোটা দড়ির সাহায্যে সিন্দুকটা নৌকো থেকে আমাদের জাহাজে তুলল চারজন নাবিক। কেবিনে টেবিল আর লকারের মাঝের জায়গাটুকুতে ওটাকে কোনোক্রমে রাখা হল। রাতে খাওয়াদাওয়ার পর সবাই মিলে আজকের ঘটনা নিয়ে আলোচনা করছিলাম। আমাদের মধ্যে আর্মস্ট্রং-ও ছিল। লম্বা, রোগা চেহারার লোক, জাহাজের ফার্স্ট অফিসার, নাবিক হিসেবে খুবই ভালো। কিন্তু লোকটার দুটো দোষ—অদূরদর্শিতা আর অর্থলিপ্সা। ধনদৌলতে ভরা সিন্দুক এবং উদ্ধার করা প্যাকেটগুলো দেখে ও খুবই উত্তেজিত। ভাগ-বাঁটোয়ারা করলে কে কত পাবে, এই নিয়ে ও কথা বলতে শুরু করেছে। লোভে ওর চোখ দুটো চকচক করছিল।

    আর্মস্ট্রং বলল, ‘ক্যাপ্টেন বার্কলে, কাগজে লেখা আছে যে জিনিসগুলো তুলনাহীন ও মহার্ঘ। তাই এগুলোর দাম কী হতে পারে তা কল্পনাও করা যায় না। বড় বড় সংগ্রাহকদের কাছে এক হাজার পাউন্ড কিছুই নয়। মনে হয়, যাত্রাশেষে আমাদের ভালোই আমদানি হবে।’

    আমি বললাম, ‘এটা দক্ষিণ আমেরিকার সাধারণ শিল্পবস্তু বলেই তো মনে হচ্ছে আমার।’

    ‘স্যর, আমি চোদ্দোবার দক্ষিণ আমেরিকা গেছি, কিন্তু এমন সিন্দুক কখনো দেখিনি। শুধু সিন্দুকটারই দাম হবে অনেক। তাছাড়া ওটা যা ভারী, ওর মধ্যে নিশ্চয়ই ধনরত্ন আছে। চলুন না, ওটা খুলে দেখি।’

    আর্মস্ট্রং উবু হয়ে বসে ঘাড় বাঁকিয়ে নাকটা তালার ওপর প্রায় ঠেকিয়ে সিন্দুকটা নিরীক্ষণ করতে করতে বলল, ‘এটা ওক কাঠে তৈরি, একটা বাটালি কিংবা শক্ত ব্লেডওয়ালা ছুরি পেলে তালাটা ভাঙা যেত, সিন্দুকের ক্ষতি না করেই।’

    আমি বললাম, ‘ওই মৃত লোকটাও হয়তো হাতে ছুরি নিয়ে সিন্দুকটা খোলার চেষ্টা করেছিল।’

    ‘তা তো জানি না ক্যাপ্টেন, তবে আমি অবশ্যই সিন্দুকটা খুলতে পারব। অ্যালারডাইস, স্ক্রু-ড্রাইভারটা দাও তো! আর হ্যাঁ, আলোটা দেখাও। দু-ঝটকায় তালাটা ভেঙে ফেলব।’

    লোভে, কৌতূহলে আর্মস্ট্রং-এর চোখ দুটো অস্বাভাবিক উজ্জ্বল। আমি বললাম, ‘একটু দাঁড়াও। এত তাড়াহুড়োর কী আছে? লেবেলে লেখা সতর্কবার্তা তুমি পড়েছ? তার কোনো মানে আছে কি না জানি না। কিন্তু আমার মন বলছে ওটা উপেক্ষা করা ঠিক হবে না। সিন্দুকটা এখানেই খোলো আর যাত্রাশেষে মালিকের অফিসেই খোলো, ভেতরের জিনিসপত্র তো পালিয়ে যাচ্ছে না!’

    আর্মস্ট্রং বেশ হতাশ হল। পাতলা ঠোঁট দুটো অবজ্ঞায় বেঁকিয়ে বলল, ‘স্যর আপনি নিশ্চয়ই কুসংস্কারে বিশ্বাস করেন। আসলে আমরা যদি ভেতরের জিনিসগুলো না দেখি, আর সিন্দুকটা যদি আমাদের হাতের বাইরে চলে যায়, তাহলে আমরা কি আর ওগুলোর মালিকানা প্রমাণ করতে পারব? তাছাড়া…’

    ‘ব্যস, আর্মস্ট্রং। আর কোনো কথা শুনতে চাই না। আজ রাতে সিন্দুক খোলা হবে না। এই আমার শেষ কথা।’

    অ্যালারডাইস বলল, ‘লেবেলটা দেখেই বোঝা যাচ্ছে, ইউরোপীয়ানরা সিন্দুকটা কখনো খুলে থাকবে। তাছাড়া, গত দুশো বছরে অনেকেই হয়তো ওটা খুলেছে। আর একটা কথা। সিন্দুক বলেই যে ওর মধ্যে রত্নভাণ্ডার আছে তার কোনো মানে নেই।’

    আর্মস্ট্রং স্ক্রু-ড্রাইভারটা টেবিলের ওপর ছুঁড়ে দিয়ে কাঁধ ঝাঁকিয়ে বলল, ‘ঠিক আছে ক্যাপ্টেন, আপনি যা বলছেন তাই হবে।’

    বাকি সন্ধেটা আমরা যখন বিভিন্ন বিষয়ে গল্প-গুজবে মত্ত, তখনো কিন্তু আর্মস্ট্রং-এর দৃষ্টি বার বার যাচ্ছিল সিন্দুকের দিকে—চাহনিতে একই রকম লোভ আর কৌতূহল।

    এবার গল্পের সেই অংশে এসে গেছি, যার কথা ভাবলে আজও আমি ভয়ে শিউরে উঠি। আমাদের জাহাজে বড় কেবিনের চারদিকে অফিসারদের থাকার ঘর। আমার ঘরটা অবশ্য একটু দূরে, একটা প্যাসেজ পেরিয়ে যেতে হয়। আমার ঘরের বাইরে রাত পাহারা সাধারণত তিনজন অফিসার পালাক্রমে দেয়। মাঝরাতে আজ পাহারার ভার ছিল আর্মস্ট্রং-এর ওপর। ভোর চারটের সময় ওর পাহারা শেষ হবে। তখন থেকে সকাল পর্যন্ত পাহারা দেবে অ্যালারডাইস।

    আমার ঘুম খুব গভীর, কেউ ঠেলে না ওঠালে অনেক সময় আমার ঘুম ভাঙে না। কিন্তু ওইদিন শেষরাতে, সাড়ে চারটে নাগাদ আমার ঘুম হঠাৎ ভেঙে গেল। সম্পূর্ণ সজাগ হয়ে আমি বার্থের ওপর উঠে বসলাম। উত্তেজনায় টান টান। একটা আওয়াজ শুনতে পেলাম—যেন সশব্দে কিছু পড়ে গেছে আর তার পরেই একটা মানুষের আর্ত চিৎকার। হঠাৎ আবার চারদিক নিস্তব্ধ হয়ে গেল।

    কোনো কাল্পনিক আওয়াজ নয়, আমার ঘরের কাছাকাছি কোনো জায়গা থেকেই এসেছে। একলাফে বার্থ থেকে উঠে জামাটা গলিয়ে কেবিনের দিকে গেলাম।

    প্রথমে অস্বাভাবিক কিছু চোখে পড়ল না। ভোরের আবছা আলোয় দেখতে পেলাম লাল-কাপড়ে-ঢাকা টেবিলটা, ছ’টা রিভলভিং চেয়ার, আখরোট-কাঠের লকারগুলো; আর হ্যাঁ, সবশেষে ওই বিশাল ডোরাকাটা সিন্দুকটা।

    ভাবছিলাম ডেক-এ গিয়ে অ্যালারডাইসকে জিগ্যেস করব ও কোনো আওয়াজ শুনতে পেয়েছে কি না। তখনই হঠাৎ চোখ পড়ল টেবিলের নীচে, দেখি কী যেন একটা বেরিয়ে আছে। একটা লোকের পা, আর পায়ে একপাটি লম্বা, জাহাজি জুতো। ঝুঁকে দেখলাম, লোকটা উপুড় হয়ে পড়ে আছে, হাত দুটো ছড়ানো, দেহটা যেন মোচড়ানো। বলা বাহুল্য, লোকটা আমাদের জাহাজের ফার্স্ট অফিসার আর্মস্ট্রং।

    এক নজরেই বোঝা গেল ওর দেহ প্রাণহীন। হাঁপাতে হাঁপাতে এক দৌড়ে গেলাম ডেক-এ এবং কেবিনে ফিরে এলাম অ্যালারডাইসকে সঙ্গে নিয়ে।

    দুজনে মিলে হতভাগ্য ফার্স্ট অফিসারের দেহটা টেবিলের তলা থেকে বের করলাম। ওর রক্তাক্ত মাথাটা দেখে আমরা দুজনে দৃষ্টি বিনিময় করলাম। ‘ঠিক সেই স্প্যানিশ নাবিকটার মতো’, বললাম আমি।

    ‘ঠিক তাই। ঈশ্বর আমাদের রক্ষা করুন। ওই শয়তানি সিন্দুকটা! দেখুন, আর্মস্ট্রং-এর হাতটা দেখুন!’

    আর্মস্ট্রং-এর ডান-হাতে ধরা কালকের সেই স্ক্রু-ড্রাইভারটা, অ্যালারডাইস বলল, ‘স্যর, ও সিন্দুকটা নিয়ে উঠে পড়ে লেগেছিল। ও জানত, আপনি ঘুমোচ্ছেন আর আমি ডেক-এ। এই সুযোগে সিন্দুকটার তালা খোলার চেষ্টা করেছিল। তারপর একটা কিছু হয়েছিল আর ও চেঁচিয়ে উঠেছিল। আপনি সেই আওয়াজই শুনেছিলেন।’

    ফিসফিস করে বললাম, ‘কী হয়েছিল, অ্যালারডাইস?’

    ও আমার হাত ধরে ওর নিজের কেবিনে নিয়ে গেল। বলল, ‘এখানে নিশ্চিন্তে কথা বলা যেতে পারে। বলা তো যায় না, ওখানে আমাদের কথা কে শুনে ফেলবে! ক্যাপ্টেন বার্কলে, সিন্দুকটাতে কী আছে বলে আপনার মনে হয়?’

    ‘আমার বিন্দুমাত্র ধারণা নেই।’

    ‘স্যর, সমস্ত তথ্য আমার সিদ্ধান্তের সঙ্গে মিলে যাচ্ছে। সিন্দুকটার আকার দেখুন। খোদাই করা কারুকাজ ও ধাতুর নকশার আড়ালে অনেক ছিদ্র থাকতে পারে। ওটার ওজন দেখুন—বহন করতে লেগেছিল চারজন জোয়ান মানুষ। সবশেষে, যে দুজন মানুষ ওটা খোলার চেষ্টা করেছিল, দুজনেই নৃশংসভাবে খুন হয়। অর্থাৎ, স্যর, এর মানে একটাই…’

    ‘অর্থাৎ ওটার মধ্যে একটা মানুষ আছে?’

    ‘ঠিক তাই। আমার ধারণা সিন্দুকের ভেতর এমন একজন বেপরোয়া সশস্ত্র লোক লুকিয়ে আছে যে ধরা পড়ার আগে আমৃত্যু লড়ে যাওয়ার ক্ষমতা রাখে।’

    ‘কিন্তু তার খাবারদাবার? জল-টল?’

    ‘স্যর, এত বড় সিন্দুকে কিছু রসদ তো রাখা যেতেই পারে। আর জাহাজের নাবিকদের সঙ্গে দোস্তি করে পানীয়ের একটা কিছু ব্যবস্থা করে থাকবে।’

    একটু পরে অ্যালারডাইস আবার কথা বলল, ‘স্যর, আমার মনে হয় লোকটা বিপজ্জনক টাইপের এক গুন্ডা। দড়ি দিয়ে সিন্দুকটা বেঁধে সমুদ্রে নামিয়ে আমাদের জাহাজের সঙ্গে ওটা খানিকক্ষণ টেনে নিয়ে গেলে কেমন হয়? তারপর ওটা ধীরেসুস্থে খুলে দেখা যেতে পারে। কিংবা সিন্দুকটা জাহাজের ডেকে নিয়ে গিয়ে ওটা যদি অনেকটা ওপরে কিছুর সঙ্গে বেঁধে ঝুলিয়ে দিই, তাহলে লোকটা খাবার জল-টল পাবে না। অথবা, সিন্দুকটাকে ভালোভাবে যদি পালিশ করে ওটার ছিদ্রগুলো বন্ধ করে দেওয়া যায়? তাহলে লোকটা আর শ্বাসপ্রশ্বাস নিতে পারবে না।’

    একটু রেগে গিয়ে বললাম, ‘কী যা-তা বকে যাচ্ছ? জাহাজে আমরা এতজন মানুষ, একটা লোকের ভয়ে কুঁকড়ে থাকব? ভেতরে সত্যিই যদি কেউ থাকে, তাকে আমি লড়াই করে বের করব।’ ঘরের থেকে আমার রিভলভারটা নিয়ে এলাম। বললাম, ‘ঠিক আছে অ্যালারডাইস। এবার তুমি তালাটা খোলো, আমি দিচ্ছি পাহারা।’

    ঈশ্বরের দোহাই স্যর, ভালো করে ভেবে দেখুন কী করছেন! দুটো লোক ঠিক এই কাজ করতে গিয়ে মারা গেছে, কার্পেটের ওপর লেগে থাকা একজনের রক্ত এখনো শুকোয়নি।’

    ‘তারই তো প্রতিশোধ নিতে হবে!’

    ‘তাহলে স্যর, জাহাজের মিস্ত্রিকে অন্তত ডাকি। ওর চেহারা গাট্টাগোট্টা। তিনজন একসঙ্গে থাকলে একটু ভরসা হয়।’

    অ্যালারডাইস মিস্ত্রিকে ডাকতে চলে গেল। আমি ভীতু স্বভাবের নই, তবু এমন ভাবে দাঁড়ালাম যাতে টেবিলটা থাকে আমার আর সিন্দুকের মাঝখানে। সকালের আলোয় সিন্দুকের লাল-সাদা ডোরাগুলো আর খোদাই করা কাজ সবই স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। কত যত্ন করেই না বানানো হয়েছিল এই সিন্দুকটা! একটু পরেই ওরা দুজনে চলে এল, মিস্ত্রির হাতে একটা হাতুড়ি।

    অ্যালারডাইস স্ক্রু-ড্রাইভারটা হাতে নিয়ে চোয়াল শক্ত করে যেন নিজের সব সাহসটুকু একত্র করল। তারপর বলল, ‘আপনারা দুজনে লক্ষ রাখুন, আমি সিন্দুকটা খুলছি। লোকটা যদি উঠে দাঁড়ায়, তাহলে ওর মাথায় কিন্তু হাতুড়ির ঘা মারতে হবে আর লোকটা যদি হাত ওঠায়, ওকে সঙ্গে সঙ্গে গুলি করবেন স্যর।’

    সিন্দুকের সামনে হাঁটু গেড়ে বসে অ্যালারডাইস স্ক্রু-ড্রাইভারটার ব্লেড সিন্দুকের ডালার নীচে ঢুকিয়ে চাপ দিতেই একটা শব্দ করে তালাটা খুলে গেল। ‘সাবধান’—বলে চেঁচিয়ে ও ডালাটা ওপরের দিকে তুলে দিল।

    ডালাটা আস্তে আস্তে ওপরদিকে উঠতে লাগল। আমরা তিনজনই লাফ মেরে পেছিয়ে এলাম—আমার হাতে রিভলভার, মিস্ত্রির হাতে হাতুড়ি। যখন কিছুই হল না বা ঘটল না, আমরা এগিয়ে গিয়ে সিন্দুকের ভেতর উঁকি দিলাম। সিন্দুক খালি! কেউ নেই, কিছু নেই!

    অবশ্য একদম খালি নয়, কারণ সিন্দুকের এক কোনায় ছিল একটা হলদে রঙের মোমবাতির বাতিদান, তার গায়ে কারুকাজ করা। বাতিদানটা সিন্দুকের মতোই পুরোনো। হলুদ রঙের জেল্লা আর কারুকাজ দেখে মনে হয় বাতিদানটা মূল্যবান। সিন্দুকের ভেতর ধুলোর পুরু আস্তরণ।

    অ্যালারডাইস হতভম্ভ। বলল, ‘তাজ্জব ব্যাপার! তাহলে সিন্দুকটা এত ভারী কেন?’

    ‘সিন্দুকের চারপাশ আর ডালাটা দ্যাখো না। পাঁচ ইঞ্চি পুরু! আর ওই লোহার স্প্রিং-টা?’ আমি বললাম।

    ‘স্প্রিং-টা তো ডালাটাকে ধরে রাখার জন্যে, যাতে ওটা নেমে না আসে! কিন্তু স্যর, ভেতরে জার্মান ভাষায় কী যেন লেখা!’

    আমি ওটা পড়ে বললাম, ‘১৬০৬ সালে অগসবুর্গের যোহান রথস্টাইন এই সিন্দুকটা তৈরি করেছিল।’

    ‘দারুণ বানিয়েছিল কিন্তু জিনিসটা! কিন্তু ক্যাপ্টেন, এত কিছু ঘটে গেল, কিন্তু কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া গেল না। তবে এই মোমবাতিদানটা সোনার মতো দেখতে। এত ঝামেলার পর যা হোক একটা কিছু তো পাওয়া যাবে।’

    এর পরে যেটা ঘটল, সেটার একমাত্র ব্যাখ্যা হল, আমার মধ্যে কোনো ঐশ্বরিক শক্তির অকস্মাৎ উদ্ভব। হয়তো মধ্যযুগের কোনো কাহিনির কথা আমার হঠাৎ মনে পড়ে গিয়ে থাকবে, কিংবা তালাটার ওপর মরচের দাগ ছাড়াও কোনো লাল দাগ হয় তো আমার চোখে পড়েছিল, অ্যালারডাইস বাতিদানটা নেবে বলে যেই ঝুঁকল, আমি মুহূর্তের মধ্যে ওর কলার ধরে ওকে সোজা দাঁড় করিয়ে দিলাম। এমন বিদ্যুৎগতিতে আমি কাজটা করেছিলাম যে, আজও মনে হয় ব্যাপারটা অতিলৌকিক।

    আমি বললাম, ‘কোনো শয়তানি কাণ্ড-কারখানা আছে। ঘরের কোণা থেকে ওই মাথা-ব্যাঁকানো ছড়িটা আমাকে দাও।’

    সাধারণ ছড়ি, হাঁটার সময় ব্যবহার করা হয়, শুধু মাথার দিকটা বাঁকা। আমি ছড়িটা সিন্দুকের ভেতরে রাখা মোমবাতিদানের ওপর নিয়ে গিয়ে একটা টান দিলাম। বিদ্যুৎচমকের মতো এক সারি চকচকে ইস্পাতের ফলার মতো দাঁত সিন্দুকের ওপর থেকে বেরিয়ে এল, যেন একটা হিংস্র বন্যজন্তু আমাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে কামড়াতে এল। তারপরেই সিন্দুকের ডালাটা সশব্দে আপনা আপনিই বন্ধ হয়ে গেল। তাকে রাখা বাসনপত্র, গেলাস ইত্যাদি সেই অভিঘাতে ঝনঝন করে উঠল। ভীত ঘোড়ার মতো অ্যালারডাইস টেবিলের এক কোনায় বসে কাঁপতে লাগল।

    একটু পরে ওর গলা থেকে আওয়াজ বেরোল, ‘ক্যাপ্টেন বার্কলে, আজ আপনি আমার প্রাণরক্ষা করেছেন!’

    এই হচ্ছে তাহলে ডোরাকাটা সিন্দুকের রহস্য। ডন র‌্যামিরেজ ডি লেইরা, এই সিন্দুকে লুকিয়ে রাখত তার অসদুপায়ে অর্জিত ধনসম্পদ। চোর যত ধূর্তই হোক না কেন, সোনালি মোমবাতিদানটাকে কোনো মূল্যবান বস্তু ভেবে যদি ওটায় হাত দেয়, স্প্রিং দেওয়া ইস্পাতের ফলাগুলো তৎক্ষণাৎ বেরিয়ে এসে তার মাথায় ঢুকে যাবে আর সেই মারণ-অভিঘাতে সে ছিটকে গিয়ে পড়বে দূরে। সঙ্গে সঙ্গে ডালাটাও যাবে বন্ধ হয়ে।

    কী অসাধারণ কারিগরি নৈপুণ্য অগসবুর্গের মিস্ত্রির! ভাবছিলাম কত মানুষই না প্রাণ দিয়েছে এই সিন্দুক খুলতে গিয়ে।

    সিন্দুকের ইতিহাস ভাবতে ভাবতেই আমার পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললাম। জাহাজের মিস্ত্রিকে বললাম, ‘তিনজন লোক এনে সবাই মিলে, ধরাধরি করে সিন্দুকটা ডেক-এ নিয়ে এসো।’

    অ্যালারডাইস জিগ্যেস করল, ‘ওটা সমুদ্রে ফেলে দেবেন নাকি স্যর?’

    ‘হ্যাঁ, অ্যালারডাইস। আমি সাধারণত কুসংস্কারে বিশ্বাস করি না, কিন্তু এমন কিছু কিছু জিনিস আছে যা আমাদের মতো পোড়-খাওয়া নাবিকদের পক্ষেও সহ্য করা কঠিন।’

    ‘ক্যাপ্টেন বার্কলে, এখন মনে হয়েছে ওই অশুভ জিনিসটার প্রভাবেই দু-মাস্তুলওয়ালা জাহাজটার ওই দশা হয়েছিল, চলুন স্যর যা করার তাড়াতাড়ি করে ফেললেই ভালো।’

    তিনজন লোকের জন্যে অপেক্ষা না করে মিস্ত্রি, অ্যালারডাইস আর আমি সিন্দুকটাকে ডেক-এ নিয়ে গিয়ে ঠেলাঠেলি করে জাহাজের পাঁচিলের বাইরে ফেলে দিলাম। সাদা ফেনা ফোয়ারার মতো উঠল আর সিন্দুকটা ডুবে গেল অথৈ জলে। সমুদ্রের তলদেশে কোথাও পড়ে রইল ডোরাকাটা সিন্দুক।

    কোনোদিন যদি সমুদ্রের জল শুকিয়ে শুকনো ডাঙা বেরিয়ে পড়ে আর ওই সিন্দুকটাকে দেখতে পেয়ে কোনো মানুষ যদি ওর ভেতরে কী আছে তা জানার চেষ্টা করে, তাহলে সেই মানুষের জন্য শোক প্রকাশ করা ছাড়া আমার আর কিছু করার নেই।

    ‘The Striped Chest’ গল্প অবলম্বনে

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া – ১
    Next Article আগামী রাত্রির উপাখ্যান
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }