Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    নতুন বিশ রহস্য – স্যার আর্থার কোনান ডয়েল

    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল এক পাতা গল্প287 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    অজানা প্রতিদ্বন্দ্বী – আর্থার কোনান ডয়েল

    অজানা প্রতিদ্বন্দ্বী

    টম ক্রিব ছিল ইংল্যান্ডের চ্যাম্পিয়ন বক্সার। বক্সিং থেকে প্রায় অবসর নিয়ে ও এখন একটা বার-কাম-রেস্টুরেন্ট চালায়। বক্সিং প্রেমীদের আড্ডা ছাড়াও ওখানে আসা যাওয়া করত সতীর্থ মুষ্টিযোদ্ধারা, বিশেষত যাদের আর্থিক অবস্থা খারাপ। ক্রিব ওদের দুটো সান্ত্বনাবাক্য না শুনিয়ে এবং না খাইয়ে কখনো ছাড়ত না।

    একদিন সকালে ক্রিবের নিরিবিলি বার-এ ছিল মাত্র দুজন। একজন ক্রিব, লম্বা চওড়া চেহারা, ওজন প্রায় একশো কুড়ি কিলো, চোখে মুখে চ্যাম্পিয়ন বক্সারের বিজয়ী হাবভাব। তা সত্ত্বেও ওকে দেখে মনে হয় হাসিখুশি, দিলদরিয়া এবং ঘরোয়া প্রকৃতির মানুষ। অন্যজন ক্রিবের থেকে অন্ততঃ পনেরো বছর ছোট, লম্বা, সুগঠিত চেহারা। ওর আশি কিলো ওজনের শরীরটা দেখলেই বোঝা যায় ও-ও একজন বক্সার। ওর নাম টম উইন্টার—যদিও ও নিজেকে টম স্প্রিং বলে পরিচয় দেয়। বেশ কয়েকটা লড়াই জিতে ওর একটু নামডাক হয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি পেইন্টার নামের এক বিখ্যাত বক্সারের কাছে হেরে গিয়ে ও আপাতত মনমরা।

    ক্রিব ওকে বোঝাচ্ছিল, ‘একটা হারকে এত সিরিয়াসলি নিচ্ছ কেন? আমি হারিনি? হারের পরে আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছি। মনটা শক্ত করো—তুমিও আমার মতো চ্যাম্পিয়ন হবে।’

    স্প্রিং বলল, ‘পেইন্টারের কাছে চল্লিশ রাউন্ড পরে হেরে গেলাম। ছো! আমি হব চ্যাম্পিয়ন? জানো আজ আমার পকেটে একটা পয়সাও নেই। কেউ আমাকে ব্যাক করছে না। হাতে কোনো লড়াইয়ের প্রস্তাব নেই।’

    ‘শোনো, আমি যতদিন আছি তোমার দু’মুঠো খাবার জুটেই যাবে। একটু অপেক্ষা করো। তোমার যা দক্ষতা, তোমাকে কেউ না কেউ ব্যাক করবেই। অন্য কিছুও পেয়ে যেতে পারো। এই তো, আজ সকালেই এক অভিজাত মহিলা তোমার খোঁজ করছিলেন।’

    বিস্মিত স্প্রিং বলল, ‘মহিলা! আমাকে চাইছিলেন! কী ব্যাপার বলো তো?’

    ‘বক্সিং-এর ব্যাপারেই মনে হয়। মহিলা বক্সিং সম্বন্ধে অনেক কিছুই জানেন। তোমার ওজন, উচ্চতা, দক্ষতা ইত্যাদি নিয়ে অনেক প্রশ্ন করেছিলেন। আমি কিন্তু তোমাকে দারুণ সার্টিফিকেট দিয়েছি।’

    একটু পরেই একজন ওয়েটার এসে বলল, ‘মিঃ ক্রিব! ওই মহিলার গাড়িটা আবার ফিরে এসেছে।’

    ক্রিব আর স্প্রিং দুজনেই জানলা দিয়ে উঁকি মেরে দেখল—দামি ও শক্তিশালী দুটো ঘোড়ায় টানা একটা দারুণ গাড়ি। কোচোয়ান, সহিস—সবই টপ ক্লাস। ক্রিব তড়িঘড়ি বাইরে গেল মহিলাকে অভ্যর্থনা করতে।

    দুই

    গ্রামের ছেলে স্প্রিং, বড় শহরের কাণ্ডকারখানা বোঝে না। স্বভাবতই একটু নার্ভাস। একটু পরেই ঘরে ঢুকলেন একজন মহিলা। দীর্ঘাঙ্গী, পাতলা কাপড়ে মুখ ঢাকা। তাঁর ঠিক পিছনেই ঢুকল ক্রিব। মহিলা হাতের দস্তানা খুলে ধীরে ধীরে মুখের কাপড়টা কপালে তুলে দিয়ে ক্রিবকে জিগ্যেস করলেন, ‘এই কী সেই লোক?’

    স্প্রিং খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে জারিপ করে ওর দেহসৌষ্ঠব দেখে মনে হল উনি সন্তুষ্ট হয়েছেন। আর স্প্রিং দেখছিল মহিলাকে—বছর ত্রিশেক বয়স, রানির মতো চেহারা, সুন্দর মুখশ্রী, ব্যক্তিত্বে, বংশমর্যাদার উদ্ধত প্রকাশ। মহিলার প্রতি মুগ্ধতার সঙ্গে কিন্তু স্প্রিং-এর মনে এল একটু বিতৃষ্ণার ভাব। একটা ঘোড়াকে বা মেশিনকে যেভাবে দ্যাখে একজন ক্রেতা, মহিলার স্প্রিং-এর প্রতি তাকানোও অনেকটা সেই রকম।

    মহিলা বললেন, ‘মিঃ ক্রিব, আপনি তো বলছিলেন ও ছ’ফুট লম্বা। সত্যিই কি তাই?’

    ‘হ্যাঁ ম্যাডাম। ছ’ফুটই! আমিও ছ’ফুট। দেখুন না—আমরা দুজনে পাশাপাশি দাঁড়িয়েছি।’

    ‘ছাতির মাপ?’

    ‘তেতাল্লিশ ইঞ্চি, ম্যাডাম।’

    ‘বেশ শক্তপোক্ত চেহারা। ভালো লড়তেও পারে আশা করি?’

    ‘ম্যাডাম, তিন সপ্তাহ আগের খেলার পত্রিকায় দেখবেন ও অজ্ঞান না হওয়া পর্যন্ত পেইন্টারের সঙ্গে কী লড়াইটাই না লড়েছিল। মার সহ্য করার ক্ষমতাও অসীম।’

    ‘কিন্তু ও তো ওই লড়াইয়ে হেরে গেছেল। যা হোক, আমি এখানে এসেছি আমার পরিচয় গোপন করে। তোমরা দুজনে কখনোই জানতে চাইবে না আমি কে। যদি এই প্রতিশ্রুতি না দাও তাইলে ব্যাপারটার এখানেই ইতি।’

    ‘তাই হবে, ম্যাডাম। প্রতিশ্রুতি দিলাম।’

    এবার মহিলা স্প্রিংকে জিগ্যেস করলেন, ‘তুমি নাকি যে-কোনো ওজনের বক্সারের সঙ্গে লড়তে রাজি?’

    ‘হ্যাঁ ম্যাডাম, দু’পেয়ে হলেই হল।’

    ‘লড়াইয়ের আগে শারীরিক প্রস্তুতি, ট্রেনিং ইত্যাদিতে তোমার কতদিন দরকার?’

    ‘তিন থেকে চার সপ্তাহ।’

    ‘ঠিক আছে। তোমার ট্রেনিং-এর খরচা এবং প্রতি সপ্তাহে দু’পাউন্ড করে ভাতা আমি দেব, আপাতত অগ্রিম হিসেবে পাঁচ পাউন্ড দিচ্ছি। তুমি পুরোপুরি ফিট হয়ে গেলে আমি লড়াইয়ের দিন ঠিক করব। জিতলে পুরস্কার পাবে পঞ্চাশ পাউন্ড। এই লড়াইয়ের ব্যাপারটা কিন্তু সম্পূর্ণভাবে গোপন রাখতে হবে। আর একটা কথা। লড়াইতে পরাজিত হলে কিন্তু তুমি একটা পেনিও পাবে না।’

    ‘আমার যা বর্তমান অবস্থা, আপনার কথাই শেষ কথা। সব শর্ত মেনে নিলাম। তবে দুটো প্রশ্ন আছে। লড়াইয়ের রিংটা তো বড় হবে? আর লড়াইটা হবে লন্ডন থেকে কত দূরে?’

    ‘হ্যাঁ, বড় রিং। আর জায়গাটা লন্ডনের একশো মাইলের মধ্যেই।’

    ক্রিব জিগ্যেস করল, ‘লড়াইয়ের সময় আমি কী ওর সহায়ক হতে পারি?’

    মহিলা কড়াগলায় জবাব দিলেন, ‘না! তুমি খালি ওকে প্রশিক্ষণ দিতে পরো।’ তারপর বিনাবাক্যব্যয়ে মহিলা ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন। একটু পরেই গাড়িটা চলে যাবার শব্দ শোনা গেল।

    ক্রিব বলল, ‘এ তো দেখছি মুরগির লড়াইয়ের বেহদ্দ। তবে হ্যাঁ, পঞ্চাশ পাউন্ডের ব্যাপারটা আছে। তোমার পক্ষে ভালোই।’

    তিন

    পরের দিন থেকেই শুরু হয়ে গেল ট্রেনিং—হ্যাম্পস্টেড হিথ-এ। কিন্তু লড়াইয়ের তারিখ, প্রতিপক্ষের নাম, লড়াইয়ের স্থান ইত্যাদি জানা না থাকায় ট্রেনিংটা ঠিক জমছিল না। অবিশ্যি ক্রিব বোঝানোর চেষ্টা করেছিল যে, একজন ধনী মহিলার খামখেয়ালিপনার মূল্যে এই লড়াই হলেও টাকার অঙ্কটা উড়িয়ে দেওয়ার মতো নয়। এইসব কথাবার্তার মধ্যে হয়তো নিরুৎসাহ কাটাতেই, স্প্রিং ট্রেনিং-এর সময় নিষিদ্ধ একটা কাজ করে ফেলল। পাইপ ধরিয়ে ধূমপান।

    ঠিক সেই সময়েই হঠাৎ এসে হাজির হলেন সেই মহিলা। ধোঁয়া বেরোনো পাইপ হাতে ওদের দুজনকে দেখে রাগে অগ্নিশর্মা হয়ে উঠলেন মহিলা। দৃষ্টিতে বিতৃষ্ণা। মাটিতে পা ঠুকে বললেন, ‘আচ্ছা, এই হচ্ছে ট্রেনিং!’

    দুজনের অবস্থা যেন ক্রুদ্ধ মালকিনের সামনে দুটো শিকারী কুকুর। ক্রিব লজ্জিতভাবে বলতে লাগল, ‘আমরা দুঃখিত ম্যাডাম। একবারও ভাবিনি যে—’

    —’যে আমি এখানে এসে পড়ব আমার অর্থের সদ্ব্যবহার হচ্ছে কিনা দেখতে।’ তারপর স্প্রিংয়ের দিকে তাকিয়ে হিসহিসে গলায় বললেন, ‘গাধা কোথাকার! তুমি তো হারবেই।’

    স্প্রিং কিন্তু এবার ফোঁস করে উঠল। বলল, ‘আজেবাজে কথা বলবেন না। আমারও মানসম্মান আছে। মানছি ট্রেনিং-এর সময় ধূমপান করা উচিত হয়নি। কিন্তু প্রতিপক্ষের নাম, স্থান, তারিখ ইত্যাদি না জেনে ঠিকভাবে ট্রেনিং নেওয়া কী সম্ভব?’

    ক্রিব বলল, ‘কথাটা ঠিক। প্রতিদ্বন্দ্বী কি পেশাদার কেউ? গ্যাসম্যান? বিল নীট? যা হোক, কথা দিচ্ছি লড়াইয়ের দিন ওকে একদম ফিট করে দেব।’

    ঘৃণাভারে হেসে মহিলা বললেন, ‘তোমাদের কী ধারণা—পেশাদার বক্সার ছাড়া আর কেউ লড়তে পারে না?’

    অবাক হয়ে ক্রিব বলল, ‘অ্যামেচার? শখের বক্সার? তার জন্যে তিন সপ্তাহের ট্রেনিং?’

    ‘আমি আর কিছুই বলব না। এটুকু বলছি যে, ট্রেনিং ঠিকমতো না করলে তোমাদের ছুড়ে ফেলে দিয়ে অন্য কাউকে খুঁজে নেব। যার সঙ্গে লড়াই হবে তাকে হারাতে গেলে ইংলন্ডের যে-কোনো বক্সারকে পুরো সময় ও শক্তি দিয়ে প্রস্তুত হতে হবে। ভালো কথা, এরপর কোনোদিন বেচাল দেখলে বা ট্রেনিং-এ ফাঁকি দিলে আর ওয়ার্নিং দেব না।’ তীব্র দৃষ্টিতে দুজনের দিকে তাকিয়ে চলে গেলেন মহিলা।

    কপালের ঘাম মুছে ক্রিব বলল, ‘আজ থেকে কিন্তু আমাদের সিরিয়াস হতে হবে।’

    স্প্রিং গম্ভীরভাবে বলল, ‘আজ থেকেই।’

    পরের পনেরো দিন মহিলা বিনা নোটিসে কয়েকবার এলেন, কিন্তু স্প্রিং-এর ট্রেনিং-এর বিষয়ে অভিযোগ করার কোনো সুযোগ পেলেন না। দিনে বত্রিশ মাইল দৌড়, আগুনতি স্কিপিং, গ্লাভস পরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বালির বস্তায় ঘুষি মারা—এই শরীর নিঙড়োনো ট্রেনিং-এর শেষে একদিন গুরু ক্রিব সগর্বে ঘোষণা করল যে, শিষ্য স্প্রিং-এর শরীরে আর এক আউন্সও বাড়তি চর্বি নেই এবং ও যে-কোনো মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত।

    প্র্যাকটিসের দিনগুলোয় একদিনই কেবল মহিলার সঙ্গে একজন এসেছিলেন। অল্পবয়সি এক অভিজাত শ্রেণির ভদ্রলোক, সুঠাম চেহারা। একটাই খুঁত—নাকটা থ্যাবড়া। তিনি চুপচাপ দেখছিলেন প্র্যাকটিসরত স্প্রিং-কে—তার উন্মুক্ত ঊর্ধ্বাঙ্গ যেন পাথরে খোদাই করা। মহিলা ভদ্রলোকটিকে জিগ্যেস করলেন, ‘কী মনে হয় তোমার? একে দিয়ে কাজ চলবে?’

    কাঁধ ঝাঁকিয়ে ভদ্রলোক বললেন, ‘দ্যাখো, আধুনিক ইংলন্ডে প্রাচীন ইটালির মনোবৃত্তি ঠিক খাপ খায় না। আমার কিন্তু ব্যাপারটা ভালো লাগছে না।’

    ‘ভালো তোমার লাগতেই হবে জর্জ। একটা শিক্ষা তো দেওয়া দরকার, না কি? আইনি পদ্ধতিতেও কোনো সুবিধা হবে না। তাই আমি ব্যাপারটা নিজের হাতে তুলে নিয়েছি। কোনো বাধাই মানব না।’

    ‘না, বাধা দেওয়ার কোনো প্রশ্ন নেই। তবে এই ব্যাপারে তোমার কোনো সহায়তাও আমি করতে পারব না। চলো, এবার ফেরা যাক। আমার আবার ওপেরার টিকিট কাটা আছে।’

    ওঁরা দুজনেই চলে গেলেন।

    চার

    এবার এল সেই দিন। ক্রিব মহিলাকে জানাল, ‘ম্যাডাম, আমার আর কিছু করণীয় নেই। স্প্রিং পুরোপুরি ফিট ও প্রস্তুত। আর কিন্তু এক সপ্তাহ দেরি করলেও ওর ফিটনেস কমে যাবে।’

    মহিলা সপ্রশংসভাবে স্প্রিংকে জরিপ করে বললেন, ‘আজ মঙ্গলবার। লড়াইটা হবে পরশু। মি. ক্রিব, আপনি বুধবার সকালে ওকে চেয়ারিং ক্রস স্টেশনে পৌঁছে দেবেন। ও ওখান থেকে টানব্রিজ ওয়েলস-এ চলে যাবে এবং উঠবে রয়াল ওক আর্মস হোটেলে। ও ওখানেই অপেক্ষা করবে যতক্ষণ পর্যন্ত বেগুনি রঙের ইউনিফর্ম পরা একজন কোচোয়ান ওর কাছে কোনো মৌখিক বা লিখিত নির্দেশ না নিয়ে আসে। ওই নির্দেশ অনুযায়ী তোমাকে কাজ করতে হবে।’

    ‘ম্যাডাম, আমি কি কোচ হিসেবে ওর সঙ্গে অন্তত টানব্রিজ ওয়েলস অবধি থাকতে পারি?’

    ‘অসম্ভব! তোমাকে অনেকেই চেনে। তুমি গেলে ব্যাপারটা চাউর হয়ে যাবে এবং আমার পরিকল্পনা যাবে ভেস্তে। আর স্প্রিং, তুমি কিন্তু বক্সিং-এর শর্টস বা জুতো নেবে না—তোমার পোশাক হবে একজন সাধারণ মেকানিক-এর মতো।’

    এই বিচিত্র শর্তাবলী শুনে বেশ রেগে গিয়ে ক্রিব বলল যে, আগে জানা থাকলে এই ধরনের কাজে ও হাত দিত না।

    কিন্তু শেষ পর্যন্ত মহিলার জেদই বজায় থাকল। উনি যা চেয়েছিলেন ঠিক তাই তাই করা হল এবং ঘড়ি ধরে। ট্রানব্রিজ ওয়েলস-এর পথে আসন্ন শরৎঋতুর মনোরম আবহাওয়ায় গ্রামাঞ্চলের দৃশ্য উপভোগ করতে করতে স্প্রিং একসময় পৌঁছে গেল নির্ধারিত হোটেলে। হোটেলে হালকা কিছু খাওয়ার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই এসে হাজির হল বেগুনি রঙের ইউনিফর্ম পরা একজন লোক। সে জিগ্যেস করল, ‘আপনিই কি মি. স্প্রিং? লণ্ডন থেকে আসছেন?’

    ‘হ্যাঁ, আমিই টম স্প্রিং।’

    ‘আমাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ঠিক একঘণ্টা পর আপনাকে আমার ফিটন গাড়িতে করে সঠিক গন্তব্যস্থানে পৌঁছে দেওয়ার। গাড়ি হোটেলের সামনে রাখা।’

    বক্সিং প্রতিযোগিতার সময় দর্শকের ভিড়, সমর্থকদের উল্লাস, প্রতিপক্ষকে দেখে উত্তেজনা—এসব কিছুই নেই এখানে। আছে শুধু একাকীত্ব ও অনিশ্চয়তা। হোটেলের সোফাতেই মনমরা স্প্রিং একটু ঘুমোনোর চেষ্টা করল, কিন্তু ঘুম এল না। মনে চাপা উত্তেজনা ও অস্থিরতা। ও উঠে ঘরের মধ্যে পায়চারি করতে লাগল। এমন সময় লালমুখো একটা লোক দরজার কোণা থেকে মুখ বাড়িয়ে জিগ্যেস করল, ‘আচ্ছা, আপনি কি টম স্প্রিং?’

    স্প্রিং সম্মতিসূচক উত্তর দিতেই লোকটা বলল, ‘আমার নাম কডেরী। আমিই এই হোটেলের মালিক। আমি স্যর বক্সিং ভীষণ ভালোবাসি। আশেপাশের কোনো ম্যাচ দেখতে ছাড়ি না। আপনার লড়াইও দেখেছি আমি। তা আপনি এখানে? আপনার শরীর দেখে তো মনে হচ্ছে আপনি ম্যাচের জন্যে একদম তৈরি।’

    ‘আরে না না। একদিনের জন্যে গ্রামাঞ্চলে বেড়াতে এসেছি।’

    ‘মি. স্প্রিং, আমার ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় কিন্তু বলছে অন্য কথা। চলুন না, আমার গাড়িতে করে আপনাকে এখানকার বিখ্যাত পার্কটা দেখিয়ে আনি।’

    এমন সময়ে একজন ওয়েটার এসে জানাল যে মি. স্প্রিং-এর জন্যে বাইরে একটা গাড়ি অপেক্ষা করছে। হোটেল মালিক চোখ কপালে তুলে বলল, ‘আপনার বুঝি এখানে চেনাজানা কেউ আছে?’

    ‘হ্যাঁ, চেনা একজনই আছে। গাড়ি পাঠিয়েছে। আমি বরং বিকেলে ফেরার পথে আপনার সঙ্গে চা খেয়ে যাব।’

    পাঁচ

    পূর্বপরিচিত সেই কোচোয়ানের ফিটন গাড়িতে বসতেই গাড়ি দ্রুতবেগে চলতে শুরু করল। আর হোটেল মালিক তড়িঘড়ি নিজের ঘোড়ার গাড়িটা বের করে ফিটনের পিছু পিছু চলতে লাগল।

    কয়েক মাইল যাওয়ার পর হাইরোড ছেড়ে গাড়ি ঢুকে পড়ল একটা সংকীর্ণ রাস্তায়। দু’ধারে সোনালি হয়ে যাওয়া বীচ গাছের সারি। দীর্ঘাঙ্গী এক মহিলা সেই রাস্তায় হাঁটছিলেন। গাড়ি তাঁর কাছে এসে থেমে গেল। স্প্রিংকে তীক্ষ্মদৃষ্টিতে দেখে উনি বললেন, ‘আশা করি তুমি সম্পূর্ণ ফিট। কেমন লাগছে?’

    ‘আমি ঠিক আছি ম্যাডাম।’

    মহিলা কোচোয়ানের পাশে বসে পথনির্দেশ দিতে থাকলেন। বেশ কয়েকটা নির্জন সংকীর্ণ রাস্তা ঘুরে গাড়ি এসে থামল একটা আবাদি জমিতে। চারদিকে অনেক ফার গাছ, নীচে ঝোপঝাড়। মহিলা স্প্রিংকে গাড়ি থেকে নামতে বলে নিজেও নামলেন। কোচোয়ানকে বললেন একটু দূরে অপেক্ষা করতে।

    ঝোপঝাড়ের মধ্য দিয়ে একটা পায়ে চলার পথ। সেটা দিয়ে বেশ খানিকটা গিয়ে দেখা গেল একটা সুন্দর ঢেউ খেলানো পার্ক। পার্কে প্রচুর ওক গাছ। আর পার্কের শেষপ্রান্তে একটা প্রাসাদের মতো সুন্দর বাড়ি। পার্কের দিক থেকে ঝোপঝাড়ের দিকে হেঁটে আসছে এক ব্যক্তি।

    মহিলা স্প্রিং-এর হাত ধরে লোকটিকে দেখিয়ে বললেন, ‘এ-ই হচ্ছে তোমার প্রতিদ্বন্দ্বী।’

    লোকটি ওদের দেখতে পাচ্ছে না, কিন্তু এরা দুজনেই ওকে দেখতে পাচ্ছে। লোকটি লম্বা, শক্তপোক্ত চেহারা, পরনে একটা নীল রঙের কোট, কোটের বোতামগুলো সোনালি। স্প্রিং বলল, ‘ম্যাডাম দেখে তো মনে হচ্ছে ইনি বড়লোক, অভিজাত ঘরের মানুষ। ইনি তো আমার কোনো ক্ষতি করেননি। এঁর সঙ্গে আমি কী করব?’

    ‘লড়বে! প্রচণ্ড মার মারবে!’

    ঘৃণায় মুখ ঘুরিয়ে নিয়ে বলল স্প্রিং, ‘আমি বক্সিং লড়তে এসেছি। কাউকে মারতে আসেনি।’

    ‘বুঝেছি। তুমি ওকে দেখে ভয় পেয়েছ। তাই কাপুরুষের মতো পালাতে চাইছ। তুমি জানো ও আমাদের দেশের যে-কোনো অ্যামেচার বক্সারকে হারিয়ে দিতে পারে? তাছাড়া পঞ্চাশ পাউন্ড রোজগারের সুযোগও ছেড়ে দিতে চাও তুমি?’

    এবার একটু স্বস্তি পেল স্প্রিং। টাকার ব্যাপারটা তো আছেই, তাছাড়া লোকটা যদি সত্যিই বক্সিং জানে, তাহলে লড়তে ক্ষতি কী? তবুও জিগ্যেস করল, ‘আপনি কী করে জানলেন যে ও ভালো বক্সার?’

    ‘আমি ওর স্ত্রী।’ বলেই মহিলা জঙ্গলের দিকে চলে গেলেন।

    লোকটা অনেকটা কাছে এসে গেছে। ওকে ভালো করে দেখতে পেয়ে স্প্রিং একটু ঘাবড়েই গেল। চওড়া বুক, মুখের ভাব কর্কশ, ওষ্ঠ দৃঢ়বদ্ধ—বয়স ত্রিশের মতো, ওজন অন্তত পঁচানব্বই কিলো। হাঁটাচলা অ্যাথলিটের মতো। লোকটা স্প্রিংকে হঠাৎ দেখতে পেয়ে অত্যন্ত রূঢ়ভাবে জিগ্যেস করল, ‘কী ব্যাপার? তুমি কে? আমার জমিতে এসে কী করছ?’

    মাথা গরম হয়ে গেল স্প্রিং-এর। ও বলল, ‘ভদ্রভাবে কথা বলুন।’

    হাতের চাবুকটা একবার হাওয়ায় ঘুরিয়ে নিয়ে লোকটা বলল, ‘বদমাস কোথাকার! তোমাকে আমি লাথি মেরে এখান থেকে বের করে দেব।’

    ‘আস্তে, আস্তে। দেখুন, আমার নাম হয়তো আপনি শুনে থাকবেন। আমি বক্সার টম স্প্রিং।’

    ‘দেখেই মনে হচ্ছিল ওই প্রজাতিরই জীব তুমি। তোমার মতো কয়েকটার সঙ্গে আগে লড়েছি। কেউই পাঁচ মিনিটও আমার সামনে দাঁড়াতে পারেনি। তুমি লড়বে আমার সঙ্গে?’

    ‘আপনি যদি আমাকে আঘাত করেন তবেই—’

    বলতে বলতেই স্প্রিং-এর কাঁধে সপাং করে পড়ল চাবুক। লোকটা বলল, ‘এবার লড়বে?’

    শুকনো ঠোঁট ভিজ দিয়ে কেটে স্প্রিং বলল, ‘আমি লড়তে এসেছি। চাবুকটা ফেলে দিন।’

    লোকটার আত্মবিশ্বাস, অসাধারণ শক্তিশালী শারীরিক গঠন, পেশীবহুল রোমশ বাহু—এসব দেখে লড়তে আর কোনো দ্বিধা রইল না স্প্রিং-এর মনে। লোকটার কথামতো দুজনে এল একটা খোলা জায়গায়। লোকটা কোটটা খুলে ঝোপের ওপর রেখে জামার হাত গুটিয়ে দাঁড়াল। স্প্রিং-ও খুলে ফেলল টুপি আর কোট। লোকটা ঠান্ডা গলায় স্প্রিং-কে জিগ্যেস করল, ‘বক্সিং লড়বে নাকি মারপিট করবে?’

    ‘বক্সিং লড়ব।’

    ‘বেশ। হাত তুলে দাঁড়াও। দ্যাখো কেমন লাগে।’

    দুজনে এখন মুখোমুখি। ঘন ভ্রুর নীচে লোকটার চোখ দুটো জ্বলজ্বল করছে, ঠোঁটে উদ্ধত হাসির রেশ। ওর দাঁড়ানোর ভঙ্গি দেখেই বোঝা যায় ও বক্সিং-এ মাস্টার। স্প্রিং একটা আলতো ঘুষি চালাতেই লোকটা হাতুড়ির মতো কয়েকবার স্প্রিং-এর ওপর হাত চালাল। বহুকষ্টে নিজেকে বাঁচাল স্প্রিং। ও আবার তেড়ে গেল, কিন্তু হাড় ও পেশীর মিলিত শক্তিতে ঘুষির যে ঘূর্ণিঝড় স্প্রিং-এর ওপর দিয়ে বয়ে গেল, তার অভিঘাতে ও পড়ে গেল মাটিতে এবং ওর ওপর লোকটা।

    দুজনেই আবার উঠে দাঁড়িয়ে মুখোমুখি হল। বোঝাই যাচ্ছিল লোকটার ওজন এবং শক্তি স্প্রিং-এর তুলনায় বেশি। ও আরও দুবার স্প্রিংকে ধরাশায়ী করল—একবার ঘুষির বর্ষণে এবং আর একবার ওকে প্রায় তুলে আছাড় মেরে। অন্য কেউ হলে এতক্ষণে রণে ভঙ্গ দিত। কিন্তু মার খাওয়া তো স্প্রিং-এর পেশার দৈনন্দিন রুটিন। দুবারই উঠে দাঁড়াল ও—আঘাতের স্থানে কালশিটে, মুখের কষ দিয়ে রক্ত গড়াচ্ছে।

    এতক্ষণে স্প্রিং ধরে ফেলেছে ওর প্রতিপক্ষের তেড়ে এসে মারার পদ্ধতিটা। লোকটা এবার তেড়ে আসতেই ও নিজের জায়গা থেকে না সরে বাঁ-হাতটা চালাল। মারের পেছনে শরীরের সব শক্তি। এত জোরে স্প্রিং মেরেছিল যে ও নিজেই প্রায় মাটিতে পড়ে যাচ্ছিল। আর ওর প্রতিদ্বন্দ্বী দুহাতে মুখ ঢেকে একটা গাছের গায়ে হেলান দিয়ে হাঁপাতে লাগল।

    স্প্রিং বলল, ‘এবার থামুন। নইলে কিন্তু বিপদ আছে।’

    লোকটা মুখের ভেতরের রক্ত থুতুর মতো ফেলে বলল, ‘চলে এসো।’

    লোকটা এবার হাত-পায়ের সঙ্গে মাথার বুদ্ধি দিয়ে লড়তে লাগল। দারুণ ডিফেন্স, আঘাত সহ্য করার অসীম ক্ষমতা, বিদ্যুতের বেনো ঘুষির উত্তরে পাল্টা ঘুষি—স্প্রিং ভাবল, লোকটা যদি ট্রেনিং নিয়ে নামত তাহলে ওকে হারানো অসম্ভব হত। কিন্তু ওর সেই ঘুষির প্রভাবে লোকটার ত্বরিতগতি ও মারের জোর দুটোই একটু কমে গেছিল। পেশাদার এবং ঠান্ডা মাথার স্প্রিং-এর উপযুর্পরি আক্রমণে লোকটা ক্রমশ ক্লান্ত হয়ে পড়ছিল। অবশেষে সম্পূর্ণ পরিশ্রান্ত হয়ে লোকটা দাঁড়াল—বড় বড় নিঃশ্বাস ফেলছে, মুখের যেটুকু অক্ষত তা পরিশ্রমে রক্তবর্ণ।

    স্প্রিং স্থিরভাবে দাঁড়িয়ে বলল, ‘এবার তো শেষ করুন। আপনার আর লড়ার ক্ষমতা নেই।’

    বোধহয় লোকটার পৌরুষে আঘাত লাগল। রাগে অন্ধ হয়ে বক্সিং-এর ব্যাকরণ ভুলে ও উন্মাদের মতো দু’হাতে এলোপাথাড়ি ঘুষি চালাতে চালাতে তেড়ে এল। স্প্রিং দ্রুত পাশে সরে গিয়ে শরীরের সমস্ত শক্তি একত্র করে একটা ঘুষি মারল। লোকটা হাত দুটো তুলে কাটা কলাগাছের মতো চিৎ হয়ে পড়ল মাটিতে, ক্ষতবিক্ষত মুখ আকাশের দিকে।

    স্প্রিং তাকিয়েছিল অচৈতন্য ও পরাজিত প্রতিদ্বন্দ্বীর দিকে। এমন সময় ওর বাহুতে পেল উষ্ণ নরম হাতের স্পর্শ। সেই মহিলা! তাঁর চোখ দুটো অস্বাভাবিক উজ্জ্বল। বললেন, ‘এই তো সুযোগ! মারো ওকে! মেরে ওর হাড়গোড় ভেঙে দাও। তোমাকে পঞ্চাশ নয়, পঁচাত্তর পাউন্ড দেব।’

    ঘৃণামিশ্রিত অবজ্ঞায় স্প্রিং বলল, ‘লড়াই শেষ ম্যাডাম। ওকে আমি এখন স্পর্শও করব না।’

    ‘ঠিক আছে—একশো পাউন্ড দেব। এবার তো রাজি?’

    স্প্রিং হাঁটা দিতেই মহিলা ভূপতিত লোকটিকে লাথি মারার চেষ্টা করলেন। স্প্রিং পিছন ফিরে মহিলাকে টেনে সরিয়ে এনে বলল, ‘পরাজিত আহত একজন মানুষকে আঘাত করতে আপনার লজ্জা করে না?’

    আহত লোকটা এবার মুখে গোঙানির মতো শব্দ করতে করতে প্রথমে উঠে বসল। তারপর টলমল করে কোনোক্রমে দাঁড়াল। কাঁধ ঝাঁকিয়ে ও স্প্রিংকে বলল, ‘একদম নিয়ম মেনে লড়াই হয়েছে। আমার কোনো অভিযোগ নেই। তুমিই জিতেছ।’ তারপরেই মহিলাকে দেখতে পেয়ে বলল, ‘তুমি? বুঝেছি ব্যাপারটা।’

    মহিলা ব্যঙ্গের সুরে বলল, ‘হ্যাঁ আমিই। এসব কিছু আমিই করিয়েছি। আরো কিছু করানোর ইচ্ছে ছিল। তবে তোমার মুখের যা অবস্থা হয়েছে বেশ কিছুকাল কোনো মহিলা তোমার দিকে ফিরেও তাকাবে না।’

    লোকটা রাগে অন্ধ হয়ে হাতের চাবুকটা দিয়ে মহিলাকে মারতে গেল। কিন্তু স্প্রিং একলাফে গিয়ে পড়ল দু’জনের মাঝে।

    লোকটা বলল, ‘মেরে যার নাকটা ভেঙে দিয়েছিলাম সেই জর্জের সঙ্গে বুঝি তোমার সম্পর্ক শেষ? এখন এই পেশাদার বক্সারটা কি তোমার বন্ধু? তোমাদের দুজনকে আমি কোর্টে তুলব—অনধিকার প্রবেশ এবং আমাকে মারার জন্য।’ বলেই লোকটা একটা হুইসল বাজাতে বাজাতে বাড়ির দিকে দৌড়ল।

    মহিলা পাংশুমুখে বললেন, ‘ও এক্ষুনি এই অঞ্চলের সমস্ত লোককে জড়ো করবে। আর এক মুহূর্ত সময় নষ্ট করা যাবে না। চলো, এক্ষুনি পালাতে হবে।’

    ফিটন গাড়ির দিকে দৌড়তে দৌড়তে ওরা দেখল বন্দুকধারী একজন গার্ড হুইসলের আওয়াজের দিকে দ্রুতপদে যাচ্ছে। খেতের দুজন শ্রমিক গাঁইতি হাতে ওদের লক্ষ্য করছে।

    মহিলা একলাফে ফিটনে উঠে স্প্রিং-এর হাতে ছুড়ে দিলেন পঞ্চাশ পাউন্ডের একটা নোট। কোচোয়ানকে বললেন, ‘জোরে চালাও জনসন।’

    ‘আমি কোথায় যাব ম্যাডাম?’ স্প্রিং জিগ্যেস করল।

    ‘তুমি গোল্লায় যাও।’ গাড়ি চলে গেল।

    ছয়

    স্প্রিং একা। একটু দূরে শোনা যাচ্ছে লোকজনের হইহল্লা, কুকুরের ডাক এবং মুহুর্মুহু হুইসলের আওয়াজ। ক্লান্ত, বিধ্বস্ত স্প্রিং-এর শরীরে ব্যথা এবং মনে অপমানের জ্বালা। খানিকটা দৌড়ে ঝোপের কাছ থেকে একটা কঞ্চি কুড়িয়ে নিয়ে ও রাস্তার ধারেই বসে পড়ল। কেউ আক্রমণ করলে তখন দেখা যাবে।

    কিন্তু শত্রু নয়—এক বন্ধুই এসে পড়ল। রয়াল ওক হোটেলের মালিক একটা ঘোড়ার গাড়ি চালাতে চালাতে চেঁচিয়ে বলল, ‘উঠে আসুন, মিঃ স্প্রিং। চারদিক থেকে মানুষ, কুকুর সব এদিকেই আসছে।’

    স্প্রিং গাড়িতে উঠে বসতেই জোরে গাড়ি চালিয়ে দিল লোকটা। আর মুখ খুলল পাক্কা দু’মাইল পরে। লাগামটা ঢিলে করে স্প্রিং-এর পিঠ চাপড়ে ও বলল, ‘অপূর্ব! অসাধারণ!’

    বিস্মিত স্প্রিং জিগ্যেস করল, ‘আপনি লড়াইটা দেখেছেন?’

    ‘প্রত্যেকটা রাউন্ড দেখেছি। দেখে চক্ষু সার্থক করলাম। লর্ড পড়ে গেলেন, লেডি ঝোপের আড়াল থেকে হাততালি দিলেন—সব দেখেছি। আপনাকে এ তল্লাটে দেখেই বুঝেছিলাম যে লড়াই একটা হবেই। তাই আপনাদের অনুসরণ করে এখানে আসি।’

    স্প্রিং জিগ্যেস করল, ‘আপনি ”লর্ড” বলতে কাকে বোঝাচ্ছিলেন?’

    ‘যার সঙ্গে আপনি লড়লেন, উনিই তো ফ্যালকন ব্রিজের লর্ড। খুবই গণ্যমান্য ব্যক্তি। আপনি জানতেন না? ভালোই হয়েছে না জেনে। জানলে অত জোরে মারতে পারতেন না এবং নির্ঘাত হারতেন। এই অঞ্চলে বক্সিং-এ ওঁর সঙ্গে মোকাবিলা করার মতো কেউ নেই। দু-তিনটে চোর-ডাকাতকে তো একা উনিই ঠান্ডা করে দেন। ওঁকে এদিকের সবাই যমের মতো ভয় পায়। তবে আপনি দারুণ লড়েছেন।’

    হোটেলে পৌঁছে স্নান খাওয়া সেরে স্প্রিং হোটেল মালিককে নিজের কাহিনিটি সবিস্তারে জানাল। সবটা শুনে হোটেল মালিক গত বছরের স্থানীয় খবরের কাগজের একটা কাটিং এসে স্প্রিংকে পড়তে দিল। খবরটির সারমর্ম এই রকমঃ

    ফ্যালকনব্রিজের লর্ড ও লেডির পারস্পরিক সম্পর্কে একটু চিড় ধরেছে বলে সম্প্রতি শোনা যাচ্ছে। লর্ড বাড়ির গভর্নেস-এর সঙ্গে বন্ধুত্ব পাতান বলে লেডিও জর্জ বলে এক সুপুরুষ ভদ্রলোকের সঙ্গে বন্ধুত্ব করেন। ব্যাপারটা জানতে পেরে লর্ড একদিন লেডির সামনেই জর্জকে এমনভাবে প্রহার করেন যে তার নাকমুখের চেহারা বদলে যায়। লর্ড চেয়েছিলেন যে, জর্জের দিকে যেন আর কোনো মহিলা ফিরেও না তাকায়। এই ঘটনার পরই লেডি লর্ডকে ছেড়ে লন্ডনে চলে যান সম্ভবত জর্জের শুশ্রূষার জন্যে। অনেকের আশঙ্কা—লর্ড এবং জর্জের মধ্যে হয়তো একটা দ্বন্দ্বযুদ্ধ (ডুয়েল) হতে পারে।

    হোটেল মালিক বলল, ‘ডুয়েলটা লেডি ফ্যালকন ব্রিজ আপনাকে দিয়ে লড়ালেন। আপনি এখন হাই সোসাইটির লোক মিঃ স্প্রিং।’

    কালশিটে পড়া ফোলা মুখের ওপর হাত বোলাতে বোলাতে স্প্রিং বলল, ‘আমার লো সোসাইটিই ভালো।’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া – ১
    Next Article আগামী রাত্রির উপাখ্যান
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }