Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    পঞ্চাশটি গল্প – প্রচেত গুপ্ত

    প্রচেত গুপ্ত এক পাতা গল্প833 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    মেয়েটা

    সুমিত্রা মেয়েটাকে প্রথম দেখতে পায় বারান্দায়। বারান্দা দিয়ে শান্তভাবে হেঁটে রান্নাঘরে ঢুকল। রাত তখন ক’টা? ঠিক ক’টা বলা কঠিন, দুটো থেকে আড়াইটের মধ্যে যে-কোনও একটা সময় হবে। প্রতিদিন এইসময়ে একটা মালগাড়ি যায়। অনেকক্ষণ ধরে যায়। ঘটাং ঘটাং ঘটাং….। একটানা, ভোঁতা একটা আওয়াজ। কোনও কোনওদিন মনে হয়, এই আওয়াজ কোনওদিনই শেষ হবে না। চলতেই থাকবে।

    তখনও মালগাড়ি যাচ্ছিল। তার মানে দুটোর পর কোনও একটা সময়। অবশ্য কোনও কোনও সময় লেটও হয়। রাতের গাড়ি কাকভোরে পাস করে।

    পাঁচিলের ঠিক ওপাশেই রেললাইন। প্রথম প্রথম ভয় করত। মনে হত গায়ের ওপর দিয়ে ট্রেন চলে যাচ্ছে। এখন আর হয় না। তিন মাসে অভ্যেস হয়ে গেছে। রেললাইনের কাছে বাড়ি হলে যেমন আওয়াজের অসুবিধে, তেমনি আবার সময় জানার সুবিধে। ঘড়ি লাগে না। গাড়ির আওয়াজই বলে দেয়, আটটা ছাব্বিশ, দশটা আঠাশ না একটা তেত্রিশ।

    সময়ের সমস্যা না থাকলেও এ বাড়িটায় বাথরুমের সমস্যা আছে। লম্বা বারান্দা পার হয়ে এসে উঠোনে নেমে বাঁদিকে কয়েক পা যেতে হয়। বারান্দা আর উঠোনের মাঝখানে গ্রিলের দরজা। তাতে সর্বক্ষণ তালা। সেই তালা খুলে যেতে হয়। দিনে চলে যায়, রাতের বেলা অসুবিধে। বারান্দার আলোটা জ্বালতে হবে। কিছুদিন হল, সেই আলো আবার ঠিকমতো জ্বলছে না। কোনও কোনও দিন জ্বলে, কোনও কোনও দিন সুইচ ধরে হাজার খটর খটর করলেও জ্বলে না। নিজের মর্জি মাফিক চলে। বাল্‌ব পালটেও লাভ হয়নি। মনে হয়, সুইচে গোলমাল। প্রদীপ বাড়িওয়ালাকে বলেছে। লাভ হয়নি কোনও। বাড়িওয়ালা লোকটা কিপটে। গত এক সপ্তাহ ধরে মুখেই শুধু ‘করছি করব’ বলছে।

    সুমিত্রা প্রদীপকে তাড়া দিলে সে ধমক লাগায়। বলে, ‘থামো তো। যখন সময় হবে করবে। সামান্য একটা আলোর জন্য এবার বলবার কী আছে? বাড়িওয়ালার সঙ্গে অত টিকটিক করলে দেবে দূর করে। এত কম টাকায় বাস জুটবে আর? সুন্দরবনে গিয়ে থাকতে হবে। তা ছাড়া আমি আর বাড়ির জন্য ছুটব না। অনেক হয়েছে।’

    সুমিত্রা গজগজ করে, ‘কী এমন কম টাকা? একটা তো মোটে ঘর। তার ওপর ইলেকট্রিক বিল আলাদা। তাও ঘর দুটো হলে কথা ছিল।’

    প্রদীপ বিরক্ত হয়। তার কাজকর্মের যা অবস্থা তাতে এই মুহূর্তে একটা ঘরের ভাড়া দিতেই প্রাণ বেরিয়ে যাচ্ছে। দু’দিন আগেও অবস্থাটা এরকম ছিল না। দিন দিন খারাপ হচ্ছে। এ মাসে পুরো মাইনে হয়নি। হবেও না। সুমিত্রাকে মিথ্যে বলেছে। বলছে, খেপে খেপে পাওয়া যাবে। এই অবস্থায় বাথরুম, আলো-ফালোর কথা শুনলে মাথা গরম হয়ে যায়। চোখ-মুখ কুঁচকে বলল, ‘ইস, দুটো ঘর। এইটুকু টাকায় অত ফুটানি চলে না। এমন ভান করছ যেন বিয়ের আগে রাজপ্রাসাদে ধাকতে। দাসী-বাঁদিরা সব সামনে আলো ধরে ধরে চলত।’

    ‘এর মধ্যে রাজপ্রাসাদের কী দেখলে? রাত-বিরেতে বাথরুমে যেতে হয় তাই বললাম।’

    ‘ঠিক আছে অনেক বলেছ। এবার চুপ করো। রোজ রোজ তোমার জন্য বাড়ি বদলাব নাকি? প্রতিটা জায়গায় তোমার একটা না একটা অসুবিধে লেগে আছে। একটু মানিয়ে চলতে শেখো সুমিত্রা।’

    ‘আমি তো বাড়ি ছাড়তে বলছি না। শুধু সুইচটা বদলাতে বললাম। এর মধ্যে মানামানির কী আছে?’

    ‘ঠিক আছে ঠিক আছে, অনেক হয়েছে। লেকচার বন্ধ করে এবার ভাত দাও। লেট হয়ে যাচ্ছে। এমনিতেই অফিসের অবস্থা খারাপ। উঠি উঠি করছে। শুনছি ছাঁটাই হবে। এরপর দেরি করলে আর রক্ষে নেই। অফিস উঠলে তোমার অবশ্য সুবিধে। ফুটপাতে গিয়ে থাকতে পারবে। ল্যাম্পপোস্টের তলায় জায়গা বেছো, অন্ধকার থাকবে না।’

    সুমিত্রার খারাপ লাগে। খুব দ্রুত মানুষটা কেমন যেন হয়ে গেল। চট করে ধৈর্য হারিয়ে ফেলছে। একটা কথা বললেই রেগে যাচ্ছে। কেন এমন হচ্ছে? টাকা-পয়সার টানাটানি তো অনেক সংসারেই আছে। তা ছাড়া অভাবটা তো আর তার একার নয়, সুমিত্রারও। তাকেও তো বইতে হচ্ছে।

    ‘এরকম করে বলছ কেন?’

    প্রদীপ প্রায় চিৎকার করে ওঠে। বলে, ‘কীরকম করে বলব? ছড়া কেটে? সুর করে? মাত্র ক’টা দিনের মধ্যে দু’-দুটো বাড়ি ছাড়তে হল। তোমার জন্যই হল। এইটা চলছে তিন নম্বর। এখানেও তুমি গোলমাল পাকাচ্ছ। এরপরও কীভাবে বলব? বলো। বলে দাও। এভাবে চলতে থাকলে, ফুটপাত ছাড়া গতি থাকবে ভেবেছ?’

    ঘটনা সত্য। আগের বাড়ি দুটো সুমিত্রার কারণেই ছাড়তে হয়েছে। প্রথমটা তো তিনটে স্টেশন আগে ছিল। কলকাতা যাতায়াতে প্রদীপের সুবিধে হত। সময় কষ্ট দুটোই কম হত। বাড়িটাও মন্দ ছিল না। দুটো ঘর। একটা আবার একটু বড়। শুধু জলের একটা সমস্যা ছিল। বাড়ির সামনে টাইমের কল। সকালেই ক’টা বালতি তুলে চৌবাচ্চা ভরে নিলে দিব্যি চলে যেত। দুটো মানুষের সংসারে কী আর এমন জল খরচ?

    তবু বাড়িটা ছাড়তে হল। শুধু ছাড়তে হল না, ছাড়তে হল এক মাসের মধ্যেই। অ্যাডভান্সের টাকাটাও নষ্ট হল।

    সেই সময় টাকাপয়সার অবস্থা এতটা খারাপ ছিল না। জল তোলা, কাচাকুচির জন্য একটা ঠিকে লোক রেখেছিল সুমিত্রা। রাধার মা। মোটাসোটা ভালমানুষ গোছের মহিলা। ফাঁক পেলেই টুক টুক করে পান সেজে মুখে পোরে।

    এইরকম একদিন পান সাজতে সাজতে বলল, ‘পাড়াটা ভাল না বউদি।’

    ‘ভাল না! কেন ভাল না কেন? বেশ শান্তই তো মনে হয়। ঝুট ঝামেলা নেই। চব্বিশ ঘণ্টা মাইক বাজে না, চাঁদার হুজ্জুতি নেই। আমার বাবা শান্ত জায়গাই পছন্দ।’

    রাধার মা আঙুলের ডগায় রাখা চুন জিবে দিয়ে বলে, ‘না ভাল না। ওপরে ওপরে ঠিক আছে। তলে তলে ভাল না।’

    ‘কী বলছ বুঝতে পারছি না রাধার মা। ঠিক করে বলো।’ সুমিত্রার খানিকটা কৌতূহল হয়।

    রাধার মা গলা নামিয়ে বলে, ‘কী বলব? এখানে পকেটে টাকার গোছা নিয়ে লোক ঘোরে। সব বাইরের লোক। পার করে দেওয়ার ব্যবস্থা ওদের।’

    সুমিত্রা ভয় পেয়ে বলে, ‘কী যা-তা বলছ। কীসের পার? কোথায় পার?’

    রাধার মা মুখ নামিয়ে হাসল। বলল, ‘অত কথা জেনে কাজ নাই। আপনের বয়স অল্প, দেখতে শুনতেও ভাল। আমার বলার কথা বলে রাখলাম।’

    সুমিত্রা কথাটা প্রদীপকে জানায়। প্রদীপ হেসে বলল, ‘আমার বউটাকে যে দেখতে সুন্দর আমি জানি। শুধু সুন্দর নয়, একটু বেশি সুন্দর। ফরসা রং, পান পাতার মতো মুখ। নাকটা টিকালো। এ আর নতুন খবর কী সুমিত্রা?’

    সুমিত্রা স্বামীর গায়ে চাপড় দিয়ে বলল, ‘আঃ, ইয়ারকি কোরো না। রাধার মা বলে গেল, তলে তলে খারাপ।’

    প্রদীপ এবার বিরক্ত হল। বলল, ‘তোমার অত তলে যাওয়ার দরকার কী? পাড়া খারাপ না পাড়া ভাল আমাদের কী? আমরা পাড়ায় থাকি না বাড়িতে থাকি?’

    সুমিত্রা চুপ করে যায়।

    সপ্তাহখানেকের মাথায় সুমিত্রা বুঝল, পিছনে লোক লেগেছে। সেই লোক প্রদীপ অফিসে বেরিয়ে গেলেই চলে আসে বাড়ির দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকে। সাইকেলে ঘণ্টি মারে। মোটরবাইকে বসে পা নাড়ে। মোবাইলে কথা বলে। সুমিত্রা বাড়ি থেকে দোকান-বাজারে বেরোলে পিছু নেয়।

    প্রদীপকে বললে সে এবারও হেসে উড়িয়ে দিল। বলল, ‘ও তোমার মনের ভুল। রাধার মা বলেছে। এখন মনের মধ্যে এসব কত কিছু হবে। মোটরবাইক, মোবাইল, পিছু নেওয়া… যত্তসব গল্প। অফিসে গোলমাল শুরু হয়েছে। এখন গল্প নিয়ে মাথা ঘামালে আমার চলবে না। একটা অন্য রোজগারের ধান্দা করতে হবে মনে হচ্ছে। সাইড ইনকাম।’

    সুমিত্রা প্রথমে বাড়ি থেকে বেরোনো কমিয়ে দিল। তারপর একেবারে বন্ধ করল। লাভ হল না। ক’দিনের মধ্যেই দুপুরে দরজায় টোকা পড়ল। এক দিন নয়, পরপর তিন দিন। সুমিত্রা আবার প্রদীপকে জানায়। প্রদীপ এবার রেগে গেল। বলল,‘কী শুনতে কী শুনেছ তার ঠিক নেই। দুপুরে কে দরজায় ধাক্কাবে? হয় ভুল শুনেছ, নয় ফিরিওলা। ইচ্ছে হলে খুলবে, না হলে খুলবে না। আমি তো অফিস কামাই করে তোমাকে পাহারা দিতে পারব না। সুমিত্রা, একটা জিনিস নিয়ে এত বাড়াবাড়ি কোরো না। আমার হাজারটা সমস্যা। কাজকর্ম নিয়ে পাগল হয়ে আছি। কেন বুঝতে চাইছ না?’

    মুখে একথা বললেও প্রদীপ একটা রবিবার ছুতোর মিস্ত্রি ডেকে সদরে আর একটা ছিটকিনি লাগাল। সুমিত্রার দিকে হেসে বললে, ‘ব্যস, এবার হল তো? আমার সুন্দরী বউকে আর কেউ চুরি করে নিয়ে যেতে পারবে না।’

    এরপর তিন দিন আর কিছু হল না। হল চতুর্থ দিন। কে যেন জানলায় ঢিল ছুড়ল। একটা নয়, পরপর অনেকগুলো। লোহার শিকে সেই ঢিল লেগে আওয়াজ হল। ঠং ঠং ঠং…।

    গোটা দুপুর রক্তশূন্য মুখে খাটে সোজা হয়ে বসে রইল সুমিত্রা। বিকেলে রাধার মাকে বলতে, সে মুখে আঁচল দিয়ে হাসে। সুমিত্রা রেগে বলে, ‘হাসছ কেন? তুমিও কি তোমার দাদাবাবুর মতো বলছ আমি ভুল শুনেছি?’

    রাধার মা চকিতে মুখ ঘুরিয়ে সুমিত্রার দিকে তাকায়। চোখে ঝিলিক মেরে বলে, ‘ভুল না ঠিক দরজা খুলে দেখলেই পারেন। অসুবিধে কী? দাদাবাবু তো থাকেন না।’

    প্রদীপ বাড়ি ফিরে দেখল, সুমিত্রা জিনিসপত্র অনেকটাই গুছিয়ে ফেলেছে। মরে গেলেও সে আর এখানে এক মুহূর্ত থাকবে না। রাধার মাকে টাকা হিসেব করে ছাড়িয়ে দিয়েছে বিকেলেই।

    প্রদীপ তার কাছ থেকে একটা দিন সময় নিল।

    তাড়াহুড়োর মধ্যে বাড়ি খুঁজলে যা ঘটার তাই ঘটল। ভাড়া বেশি পড়ল। তবে বাড়িটা ভাল। ঘর একটা হলে কী হবে, বড় বড় দুটো জানলা। সামনে এক চিলতে বারান্দাও আছে। বারান্দায় দাঁড়ালে দূরে একটা ঝিলের মতো দেখা যায়। বিকেলের পর সেখান থেকে হাওয়া আসে। সন্ধেবেলায় গা ধুয়ে সুমিত্রা কোনও কোনও দিন সেই বারান্দায় দাঁড়াত। তার ওপর বাড়িউলি মহিলাটি মুখে খিটখিটে হলেও, মনটা খারাপ নয়। সুমিত্রার খবর রাখত। মাঝেমধ্যে এসে দু’-একটা কথা বলে যেত। কতদিন বিয়ে, বাচ্চাকাচ্চা নেই কেন, একজন ভাল ডাক্তার চেনা আছে, একদিন যাবে কিনা— এইসব কথা।

    বৃদ্ধা বাড়িউলি একা মানুষ। স্বামী মারা গেছেন অল্প বয়েসে। নিজেও নিঃসন্তান। দূর সম্পর্কের এক বোনপোকে এনে মানুষ করেছেন। সে ছেলেটিও ভাল। দেখতে শুনতেও ভাল। শক্তপোক্ত চেহারা। তবে চোখ দুটো খারাপ। বাইরে নিয়ে গিয়ে অপারেশন করেও কাজ হয়নি। মোটা ঘষা কাচের চশমা পরে। কলেজে ঢুকেও চোখের কারণে পড়াশোনা শেষ করতে পারেনি বেচারি। সুমিত্রার সামনাসামনি হলে মুখ নামিয়ে সুন্দর হাসে। হেসে বলে, ‘দিদি, ভাল আছেন?’

    শিষ্টাচারের জন্য ভুলে যায়, ও মুখ তুললেও কিছু নয়। ভাল করে যে দেখতে পায় না তার এত লজ্জার কী আছে?

    ছেলেটাকে সুমিত্রার ভাল লাগে। সে প্রদীপকে বলে, ‘ভাগ্যিস ওই নোংরা পাড়াটা ছেড়ে চলে এসেছি। ভাড়াটা একটু বেশি পড়ছে ঠিকই, কিন্তু বাড়িটা ভাল। মানুষগুলোও ভাল। আহা, ছেলেটা চোখে ভাল দেখে না।’

    প্রদীপ চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে বলে, ‘পুরুষমানুষগুলো সব অন্ধ হলে সুন্দরী মহিলাদের কোনও অসুবিধে হত না।’

    ‘ছিঃ, এরকম বলতে নেই।’

    ‘আচ্ছা বলব না। তোমার পছন্দ হলেই হল। তবে মনে রেখো সুমিত্রা, আর কিন্তু আমি ছুটতে পারব না। বাড়ি বদলেরও একটা খরচ আছে। অ্যাডভান্স, সেলামি ছাড়াও ঠেলা, টেম্পো ভাড়া করতে হয়। তোমার স্বামীর যা অবস্থা তাতে মাসে মাসে সে এই খরচ সামলাতে পারবে না। আমি যেন বাড়ি বদলানোর কথা আর না শুনি।’

    শুনতে হল। শুধু শুনতে হল না, এই কথার দু’দিন পরেই আবার বাড়ি বদলাতে হল প্রদীপকে।

    দু’নম্বর বাড়ির সবথেকে ভাল ছিল বাথরুমটা। দেখলে চমকে যেতে হয়। অনেকটা জায়গা। সাধারণত ভাড়া বাড়ির বাথরুম এত বড় হয় না। চৌবাচ্চাটাও বড়। আগেরটার মতো জলের সমস্যা নেই। সুমিত্রার লোভ হয়। প্রদীপ অফিস চলে যাওয়ার পর ঘরের কাজ সেরে সুমিত্রা অনেকটা সময় ধরে স্নান করে। কোনও কোনও দিন রেডিয়ো নিয়েই বাথরুমে ঢোকে। ডিঙি দিয়ে উঁচু তাকে তুলে দেয়। গান চলে।

    সেদিনও রেডিয়ো নিয়ে ঢুকেছিল সুমিত্রা। কিন্তু চালাতে পারেনি। চালাতে গিয়ে দেখল, ব্যাটারি ফুরিয়ে গেছে। আওয়াজ হচ্ছে ঘ্যাঁস ঘ্যাঁস…। সস্তার রেডিয়োগুলোর এই দোষ। হুট করে ব্যাটারি ফুরোয়। খানিকটা বিরক্ত হয়ে চৌবাচ্চার দিকে সরে আসে সুমিত্রা আর তখনই দেখতে পায় সে।

    উলটোদিকের দেওয়ালে, উঁচুতে, সবসময় বন্ধ থাকা জানলার কোণে একটা ফুটো। ছোট্ট ফুটো। সেই ফুটোতে একটা চোখ। চোখ নয়, চশমা। ঘষা কাচের চশমা। সেই চশমা স্থির হয়ে তাকিয়ে আছে। আবছা, স্যাঁতসেঁতে অন্ধকারে দাঁড়িয়ে থাকা সুমিত্রার দিকে তাকিয়ে আছে।

    সন্ধেবেলা অফিস থেকে ফিরে ঘটনা শুনল প্রদীপ। ভুরু কুঁচকে জিজ্ঞেস করল, ‘তুমি কি ঠিক দেখছ সুমিত্রা? মনের ভুল নয় তো? আমার কিন্তু এখনও মনে হয় আগেরবারেও তোমার ভুল হয়েছিল। দরজায় কার না কার টোকা শুনেই আমরা পালিয়ে এলাম। এটাও সেরকম কিছু নয় তো। একটা প্রায় অন্ধ মানুষ…?’

    ‘আমি ঠিক দেখেছি। এই চশমা আমার ভুল হবে না।’

    ‘কই আমি তো বাথরুমে কোনও ফুটোটুটো দেখতে পেলাম না!’

    ‘নিশ্চয় বাইরে থেকে ঢেকে দেওয়ার ব্যবস্থা আছে।’ শাড়ির আঁচলটা পিঠে ফেলে মুখ নামিয়ে বলল সুমিত্রা।

    প্রদীপ উঠে দাঁড়িয়ে শান্ত গলায় বলল, ‘সরো সুমিত্রা। আমাকে যেতে দাও। ওপরে গিয়ে হারামজাদার চোখ উপড়ে দিয়ে আসছি।’

    সুমিত্রা স্বামীর হাত চেপে ধরল। ফ্যাকাশে মুখে ফিসফিস করে বলল, ‘কোনও লাভ নেই। যারা ওই চোখে দেখতে চায় তারা চোখ না থাকলেও দেখবে। তা ছাড়া প্রমাণ করা যাবে না। তোমার মতোই লোকে শুনলে হাসবে। বিশ্বাস করতে চাইবে না। তার থেকে চলো বাড়িটা ছেড়ে চলে যাই।’

    প্রদীপ প্রথমে অবাক হয়, তারপর রেগে ওঠে।

    ‘আবার বাড়ি ছেড়ে দেব! তুমি কি পাগল হয়ে গেলে? আর কতবার পালাব বলো তো সুমিত্রা? তোমার জন্য কি সারাজীবন পালিয়ে পালিয়ে বেড়াতে হবে?’

    সুমিত্রা নিচু গলায় বলে, ‘এটা আমার দোষ? একটা কদর্য মানুষ বাথরুম ফুটো করে… ছি ছি।’

    প্ৰদীপ হাত ছুড়ে বলে, ‘না তোমার দোষ নয়। তোমার দোষ হবে কেন? দোষ আমার। গরিবের ঘরে সুন্দর দেখতে মেয়ে বিয়ে করে আনা যে কত বড় দোষ আমি হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি। পৃথিবীর সব পুরুষমানুষ শুধু তোমার সঙ্গে ফস্টিনস্টি করে?’

    বকাঝকার পরেও প্রদীপ বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হল। কারণ না ছেড়ে তার কোনও উপায় ছিল না। গোটা একটা দিন সুমিত্রা বাথরুমে ঢোকেনি। সে জানিয়েছে, ওই বাথরুমে সে আর কখনওই ঢুকবে না।

    বারান্দার আলোটা আজ জ্বলেছে। বাথরুম থেকে ফিরে সুইচ নেবানোর ঠিক আগের মুহূর্তে সুমিত্রা মেয়েটাকে দেখতে পায়। পিছন থেকে দেখতে পায়। লম্বায় অনেকটা তার মতোই।

    সুমিত্রা বুঝতে পারল ভুল দেখেছে। এত রাতে একটা মেয়ে বাড়িতে কীভাবে ঢুকবে? ভাড়া বেশি হলেও এই তিন নম্বর বাড়ির দরজাটরজাগুলো শক্তপোক্ত। সদরে কাঠের পাল্লার পরও লোহার কোলাপসিবল আছে। বারান্দা থেকে উঠোনে নামার মাঝখানে গ্রিলের দরজায় তো সবসময় তালা। তা হলে? এ মেয়ে ঢুকবে কী করে? আর ঢুকলেও অমন শান্ত ভঙ্গিতে বারান্দা দিয়ে হেঁটে রান্নাঘরের দিকে যাবেই বা কেন? ভুল দেখেছে। নিশ্চয় ভুল দেখেছে। এ বাড়িতে চোর-ডাকাত, ভুতটুতের কোনও বদনাম নেই। তিন মাস তো কেটে গেল। কই এতদিন তো কোনও অসুবিধে হয়নি!

    পুরো এক গেলাস জল খেয়ে সুমিত্রা ঘরে এসে শুয়ে পড়ল। মালগাড়িটা কি যাওয়া শেষ করেছে? অনেকক্ষণ একটানা কোনও শব্দ হলে এটাই মুশকিল। থামলেও মনে হয় থামেনি। প্রদীপ হাত-পা ছড়িয়ে মরার মতো ঘুমোচ্ছে। বালিশটা সরে মাথাটা কাত হয়ে আছে। সুমিত্রা সাবধানে মাথার তলায় বালিশটা গুঁজে দিল। আহা রে, মানুষটার খুব ধকল যাচ্ছে। সংসারের চাপ, অফিসের চাপ সব মিলিয়ে দুশ্চিন্তা। আজকাল কোনও সময়েই মেজাজ ঠিক রাখতে পারে না। অফিসে খুব গোলমাল চলছে। এ মাসে পুরো মাইনে হয়নি। বলছে খেপে খেপে দেবে। প্রথমটার পর তাও তো দেয়নি। রাগারাগি কি আর এমনি করে? তবে একটা ভাল কথা, চাকরির পাশে কী যেন একটা কাজের চেষ্টা করছে। ছোটখাটো ব্যাবসামতো। যদিও তাতেও টাকা দরকার। কোন একটা বন্ধু কিছুটা দেবে বলেছে। বাকিটা নিয়ে চিন্তায় আছে। সন্ধেবেলাতেও বলছিল।

    ‘টাকার জন্য আটকে যাচ্ছে সুমিত্রা। ব্যাবসাটা শুরু করতে পারলে আর কোনও চিন্তা থাকবে না। এক বছরের মধ্যে দাঁড়িয়ে যাবে। তখন শালার চাকরির মুখে লাথি। শুধু টাকাটা যদি পাই…।’

    ‘কেন তোমার ওই বন্ধু না কে, সে দেবে না?’

    ‘আরে বাবা, আগে যেটুকু বলেছে সেটুকু দিক। বাকিটা দেখা যাবে। অ্যাই শোনো, বর্ধনকে একদিন ডাকব বলেছি। খাওয়াব। রোববার-টোববার দেখে দুপুরে ডাক’খন।’

    সুমিত্রা অবাক হয়ে বলে, ‘বর্ধন কে?’

    ‘সে তুমি চিনবে না। ওই লোকটার হাতেই অর্ডার। আমার ব্যাবসার ফিউচার। পরে ঘুস-টুস নেবে। তবে আগে থেকে একটু ইন্টিমেসি দেখিয়ে নিই। বলেছি, একদিন এসে আমার বউয়ের হাতের রান্না খেয়ে যান। ব্যাবসায় এসব আছে। খাওয়াতে হয়। বাইরে খাওয়ালেও চলত। কিন্তু তাতে ইন্টিমেসি থাকত না। সেই কারণে প্রথমবার বাড়িতে ডাকা। প্ল্যান কীরকম?’

    সুমিত্রা হেসে বলল, ‘প্ল্যান ভাল। তবে দেখো তোমার বউয়ের হাতে রান্না খেয়ে আবার না পালায়।’

    প্রদীপ খানিকটা অন্যমনস্কভাবে বলল, ‘না না, পালাতে দিলে চলবে না। অর্ডার চাই। পালাতে দিয়ো না সুমিত্রা।’

    সুমিত্রা হেসে বলল, ‘আমি পালাতে না দেওয়ার কে? আমি ওসব কী বুঝি। সংসারে দুটো সাশ্রয় হলেই হল।’

    সুমিত্রা ঠিকই করে রেখেছে, সেরকম হলে হাতের একটা বালা বিক্রি করে দেবে। প্রদীপকে এখন কিছু বলেনি। এত রাতে মনে হচ্ছে, বললে ভাল হত। মানুষটা কিছুটা চিন্তার হাত থেকে হয়তো রেহাই পেত।

    ঘুম আসতে আরও রাত হল সুমিত্রার। ঘুমিয়ে পড়ার ঠিক আগে আগে সে সিদ্ধান্ত নিল, প্রদীপকে কালকেই বালা বিক্রির কথাটা বলবে, কিন্তু মেয়েটার কথা বলবে না। মজা করেও বলবে না।

    ঠিক দু’দিন পর মেয়েটাকে দ্বিতীয়বার দেখা গেল। দু’দিন পরে মানে শুক্রবার। এবার আর রাতে নয়, দেখা গেল দুপুরবেলা। একটা সাতান্ন বেরিয়ে যাওয়ার পর।

    খেয়েদেয়ে একটু গড়িয়ে নেওয়া সুমিত্রার বিয়ের আগের স্বভাব। দুপুরবেলা এ বাড়িটা কেমন একটা ঝিম ধরে পড়ে থাকে। সুমিত্রার বেশ লাগে। চোখ বুজে আসে। আজও আসছিল, আর ঠিক তখনই শব্দটা হল।

    খসখস, খসখস…।

    শাড়ির শব্দ। মাড় ভাঙা শাড়ি পরে কেউ নড়াচড়া করলে যেমন শব্দ হয়, তেমন। সুমিত্রা খাটের ওপর সোজা হয়ে বসল। ভুল শুনছে?

    শব্দটা আবার এল। এবার আর শাড়ির শব্দ নয়, চুড়ির শব্দ। বেশি চুড়ি নয়, অল্প চুড়ির শব্দ। হাতে চুড়ি পরে কেউ কিছু করছে। কান পেতে শুনল সুমিত্রা। শব্দটা আসছে ভেজানো দরজার ওপাশ থেকে। এর মানে বারান্দায় কেউ আছে। কে আছে? কেউ কি আছে?

    পা টিপে টিপে উঠে গিয়ে দরজা ফাঁক করতেই মেয়েটাকে স্পষ্ট দেখতে পেল সুমিত্রা।

    শাড়ি পরে বসে আছে বারান্দায়। মেঝেতেই বসে আছে। সেই শাড়ির রং তুঁতে। মাথা নামিয়ে কিছু একটা করছে। চুল ঝুঁকে পড়েছে সামনে। হাতে ঘল্প ক’টা চুড়ি। ডান হাতে একটা সোনার বালার মতো। এত সব দেখা যাচ্ছে, কিন্তু মুখ দেখা গেল না। কারণ এবারও মেয়েটা উলটোদিকে ফিরে আছে।

    শরীরের সব শক্তি দিয়ে সুমিত্রা চিৎকার করে উঠল। কে? কে? একবার, দু’বার, তিনবার। কোনওবারই আওয়াজ বেরোল না। সামান্য আওয়াজও নয়।

    সুমিত্রাকে সম্পূর্ণ অবজ্ঞা করে মেয়েটা এবার উঠে দাঁড়ায়। শান্ত ভঙ্গিতে উঠে দাঁড়ায়। মাটির ওপর পড়ে যাওয়া আঁচলটা তুলে কাঁধের ওপর ফেলে। তারপর কোনও দিকে না তাকিয়ে ধীরপায়ে বারান্দা ছেড়ে নেমে যায় উঠোনে। বাঁদিকে বাঁক নিয়ে চোখের আড়ালে চলে গেল সুমিত্রার।

    যেন কিছুই হয়নি! যেন সে এ বাড়িই মেয়ে!

    সুমিত্রা যখন দরজা ধরে মেঝের ওপর বসে পড়েছে তখন সে ঘামছে। শুধুই ঘামছে।

    প্রদীপ ফিরে জামাকাপড় বদলাতে বদলাতে বলল, ‘বুঝলে সুমিত্র, বর্ধনকে ডেকে ফেলেছি। কালই আসতে বলেছি। আর দেরি করাটা ঠিক হবে না। জিনিসটা প্রায় পেকে এসেছে। এবার একটা ছোট্ট ঢিল দিলেই ব্যস, টুপ করে নীচে পড়বে।’ বলতে বলতে প্রদীপ ঢিল ছোড়ার অভিনয় করল। বাঁকাভাবে একটু হাসল। মানুষটাকে আজ খুশি খুশি লাগছে। খানিকটা যেন নিশ্চিন্ত। প্রদীপ খাটে বসে একটা সিগারেট ধরাল। তারপর আবার বলতে শুরু করল, ‘আমি তো ভেবেছিলাম, দুপুরে খাওয়াব। ব্যাটা বলল, না রাতে। তখন বুঝলাম, শুধু খাওয়া নয়, শালা একটু ইয়েও চায়। ইয়ে বোঝো তো? আরে ইয়ে গো।’ প্রদীপ দুটো হাত সামনে এনে বোতলের ইঙ্গিত করল। হেসে বলল, ‘বেশ, রাতে খাবি তো তাই খা শালা। ওর অর্ডার শিয়ার করতে পারলে বাকিটা কোনও অসুবিধে হবেই না। টাকা আপসে চলে আসবে। এ মাসের শেষ থেকেই কাজ শুরু করে দেব। কথা ফাইনাল হয়ে গেছে।’

    থেমে সিগারেটে লম্বা টান দিল প্রদীপ। তৃপ্তির টান। পা নাড়াতে নাড়াতে বলল, ‘খাবার বেশি কিছু করতে হবে না। মেনু ছোট রাখবে। মাংসের সঙ্গে কোনটা মানাবে বলো তো সুমিত্রা? ফ্রায়েড রাইস নাকি রুমালি রুটি? সে তুমি যেটা ভাল বোঝো। পারলে একটু চাটনি দিয়ো। কালই টম্যাটো এনে দেব। ঘরে চিনি কতটা আছে?’

    এতটা বলার পর প্রদীপ বুঝল, সুমিত্রা কিছু বলছে না। একমনে চুপ করে আলনার কাপড় গুছিয়ে যাচ্ছে। সে বউয়ের দিকে তাকাল। তাকিয়ে চমকে উঠল।

    ‘এ কী তোমার কী হয়েছে? মুখটা এরকম ফাকাশে কেন? জ্বরটর বাধালে নাকি?’

    সুমিত্রা মুখ নামিয়ে বলে, ‘কিছু হয়নি, কী আবার হবে? কাল রাতে ঘুম হয়নি বোধহয়।’

    প্রদীপ নিশ্চিন্ত হল। উঠে দাঁড়িয়ে বলল, ‘তাই বলো। দেখো বাপু এখন আবার জ্বর-ফর বাধিয়ে শুয়ে পোড়ো না। অন্তত কাল রাতের আগে তো নয়ই। একটা মানুষকে খেতে বলেছি। আর শোনো…।’

    ‘কী?’

    ‘না, থাক পরে বলব।’ স্ত্রীর দিকে অল্পক্ষণ তাকিয়ে থেকে মুখ ফিরিয়ে নিল প্রদীপ।

    সুমিত্রার একবার মনে হল, মেয়েটার কথাটা বলে ফেলে। পরক্ষণেই মনকে শক্ত করল। একটা মিথ্যে জিনিস নিয়ে প্রদীপকে বিরক্ত করাটা অন্যায় হবে। বিশেষ করে এই সময় তো একেবারেই নয়। মনে হচ্ছে, অনেকদিন পরে একটু ঘুরে দাঁড়ানোর আশা পেয়েছে মানুষটা। এখন এসব হাবিজাবি শুনলে রেগে যাবে, চেঁচাবে। ভাববে এবার এ বাড়িটারও দোষ দেখতে শুরু করেছে সে। বাড়ি বদলাতে চাইছে। প্রদীপ তো আগের ঘটনাগুলোও বিশ্বাস করেনি। এটা তো একেবারেই করবে না। করবার মতো নয়। সে হলেও করত না। আজকালকার দিনে ভূত কে বিশ্বাস করে? কেউ করে না। সে কি করে? করে না।

    রাতে সত্যি সত্যি জ্বর এল সুমিত্রার। খেতে বসে বুঝল। বেশি জ্বর নয়, শরীরে হালকা একটা গরম ভাব। রুটিগুলো নেড়ে-চেড়ে তুলে রাখল।

    প্রদীপ ভুরু কুঁচকে বলল, ‘কী হল, খাবে না?’

    ‘না, ইচ্ছে করছে না। গা-টা কেমন ম্যাজম্যাজ করছে। রাতে উপোস দিলে ঠিক হয়ে যাবে।’

    প্রদীপ বিরক্ত হল। মুখ নামিয়ে খেতে খেতে বলল, ‘কালই ওষুধ-টষুধ খেয়ে ফিট হয়ে যাও। বাড়িতে একজন গেস্ট আসবে আর তুমি জ্বর নিয়ে কাঁথামুড়ি দিয়ে শুয়ে থাকলে… আর শোনো।’ প্রদীপ মুখ তুলল।

    চলে যেতে গিয়েও সুমিত্রা থমকে দাঁড়ায়। মানুষটা যেন কেমন করে কথা বলছে আজ। গলার স্বর কঠিন। চোখগুলোও কঠিন।

    প্রদীপ বলল, ‘দয়া করে বর্ধনটার সামনে একটু ফিটফাট হয়ে থেকো।’

    ‘মানে?’

    ‘মানে আর কী? একটু সেজেগুজে থাকবে। একটা ভাল শাড়ি, একটু গয়না। মুখে পাউডার, লিপস্টিক দেবে। বোঝোই তো একটা লোক অর্ডার দেবে। বড় অর্ডার। ব্যাবসার শুরুতে এরকম একটা অর্ডার মানে অনেক। শুরুটা ঠিক হলে বাকিটা ভাবতে হয় না। কিন্তু অর্ডারটা যে দিচ্ছে লোকটা তো দেখবে কাকে দিচ্ছে। দেখবে না?’

    প্রদীপ উঠে পড়ল। বারান্দায় হাত ধুয়ে এসে খাটে বসল। একটা সিগারেট ধরাল। আড়চোখে সুমিত্রার দিকে তাকাল। বলল, ‘আসলে সকলেই চায় যাকে এত টাকার কাজ দিচ্ছে সেই লোকটা কেমন? ঘরটা দেখবে। ঘরের মানুষগুলোকে দেখবে। একটা ভরসা তো দিতে হবে। বোঝাতে তো হবে প্রদীপ লোকটা হেঁজিপেঁজি নয়। সুন্দর ঘর না থাক, সুন্দর বউ আছে। দরকার হলে তাকেই দেখাতে হবে। হবে না? তা ছাড়া…।’

    সুমিত্রা ঠান্ডা গলায় বলল, ‘তা ছাড়া কী?’

    প্রদীপ উঠে এসে বউয়ের সামনে দাঁড়াল। কাঁধে হাত রাখল, তারপর গলা নামিয়ে বলল, ‘এই প্রথম তোমার স্বামীর একটা চান্স এসেছে। ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ। এই সময় বর্ধনটা ফসকে না যায়। তুমি একটু লোকটাকে ম্যানেজ করতে পারবে না সুমিত্রা’

    প্রদীপের চোখ চকচক করছে। সুমিত্রা তার হাত কাঁধ থেকে সরিয়ে খুব নিচু গলায় বলল, ‘পারব। কী করতে হবে বলে দিয়ে।’

    প্রদীপ হাসল। ‘বলল, গুড। ভেরি গুড।’

    রাতে সুমিত্রার ঘুম ভাঙল জ্বরের দাপটে। গা পুড়ে যাচ্ছে। গলা শুকিয়ে যাচ্ছে। সে ধড়ফড় করে উঠে বসল বিছানায়। পাশেই হাত-পা ছড়িয়ে ঘুমোচ্ছে প্রদীপ। জানলা-দরজার ফাঁকফোকর দিয়ে আসা ছিটে-ফোঁটা আলো এসে পড়েছে ঘুমন্ত মুখে। সুমিত্রা বুঝতে পারছে শরীরটা খারাপ লাগছে। প্রদীপকে ডাকবে। ডেকে জ্বরের কথা বলবে? মনে হচ্ছে বলা উচিত।

    ‘অ্যাই শোনো, শুনছ?’

    প্রদীপের গায়ে হাত দিয়ে নাড়া দিল সুমিত্রা।

    প্রদীপ প্রথমে বিরক্তিতে বলল, ‘আঃ।’ তারপর উঠে বসল। নাক-মুখ কুঁচকে বলল, ‘কী হয়েছে?’

    সুমিত্রা ভেবেছিল স্বামীকে জ্বরের কথা বলবে। কিন্তু বলল অন্য কথা। গায়ে হাত রেখে বলল, ‘আমার ভয় করছে।’

    ‘ভয় করছে! রাতদুপুরে ঘুম ভাঙিয়ে কী পাগলামি করছ সুমিত্রা?’

    ‘একটা মেয়ে… জানো একটা মেয়ে এই বাড়িতে ঘোরে…।’

    প্রদীপ রাগে হিসহিস করে ওঠে, ‘কী? একটা মেয়ে বাড়ির মধ্যে ঘুরে বেড়ায়? ঢুকতে দাও কেন?’

    ‘আমি দিই না। সে নিজেই ঢোকে। দরজা-জানলা বন্ধ থাকে, তাও ঢোকে।’ সুমিত্রা যেন খানিকটা ঘোরের মধ্যে বলে।

    প্রদীপ ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসে। চাদর টেনে শুতে শুতে বলে, ‘ও তাই বলো। ভূত। এবার তুমি কী বলবে আমি জানি সুমিত্রা। তুমি বলবে, চলো বাড়িটা ছেড়ে চলে যাই। তাই তো? সুমিত্রা, আমার মনে হচ্ছে, তোমার মাথার কোনও সমস্যা হচ্ছে। কাল বর্ধনের ব্যাপারটা ভালয় ভালয় মিটে গেলে আমি তোমাকে কলকাতায় নিয়ে যাব। ডাক্তার দেখাব। তাও ভাল, এবার মেয়ে-ভুত দেখেছ। পুরুষ নয়। যাই হোক, প্লিজ আর বিরক্ত না করে আমায় ঘুমোতে দাও। তুমিও ঘুমোও।’

    সুমিত্রার ঘুম হল না। সারারাত গা পোড়া জ্বর ছিল। শেষরাতে নিজে থেকেই সেই জ্বর খানিকটা কমে এল। চারটে সাতান্নর গাড়িটা চলে যাওয়ার পর খাট থেকে সাবধানে নামল সুমিত্রা। আর শুয়ে থাকা যাবে না। অনেক কাজ। বাড়িতে অতিথি আসবে।

    পা টিপে গিয়ে দরজা খুলল সুমিত্রা।

    এই সময়টা আলো ফোটে, আবার ফোটেও না। সবকিছু একই সঙ্গে স্পষ্ট এবং অস্পষ্ট। আঁধার বুঝি শেষ কথা বলে যায় আলোর সঙ্গে। এক আশ্চর্য সময় এটা। সেই আশ্চর্য সময়ে আবার মেয়েটাকে দেখতে পেল সুমিত্রা। বসে আছে সে। বসে আছে বারান্দার শেষে। উঠোনে নামার সিঁড়ির ধাপে। সেই তুঁতে শাড়ি। সেই পিঠের ওপর আঁচল ফেলা।

    আগের দিনগুলোতে সুমিত্রার সাড়া পেয়ে এই মেয়ে হেঁটে চলে গেছে। সরে গেছে। মিলিয়ে গেছে চোখের আড়ালে। আজ গেল না। ঘুরে তাকাল।

    চমকে উঠল সুমিত্রা। এই মুখ তো তার চেনা! বহু, বহুদিনের চেনা! আয়নার সামনে দাঁড়ালেই সে দেখতে পায়। ফরসা রং, পান পাতার মতো মুখ। নাক টিকালো।

    জ্বরের দুবর্লতায় মাথা ঘুরে গেল সুমিত্রার। চোখ বোজার আগে তার মনে হল, মেয়েটা যেন তার দিকে চেয়ে হাসল। সামান্য হাসল।

    লাইনের ধারে মেয়েটার মৃতদেহ পাওয়া গেল সন্ধের ঠিক পরে পরে। গায়ে তুঁতে শাড়ি। হাতে অল্প ক’টা চুড়ি। মুখে পাউডার আর ঠোঁটে হালকা লিপস্টিক মেখে মরা মেয়েটা যেন হাসছে। সামান্য হাসছে।

    প্রদীপ বিকেলেই কলকাতায় চলে গেছে বর্ধনকে আনতে। তার বউয়ের আত্মহত্যার খবর সে এখনও জানে না।

    সাপ্তাহিক বর্তমান ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০০৬

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleধুলোবালির জীবন – প্রচেত গুপ্ত
    Next Article দেরি হয়ে গেছে – প্রচেত গুপ্ত

    Related Articles

    প্রচেত গুপ্ত

    দেরি হয়ে গেছে – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    ধুলোবালির জীবন – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    রুপোর খাঁচা – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    মাটির দেওয়াল – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    নুড়ি পাথরের দিনগুলি – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    নিষাদ – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }