Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    পঞ্চাশটি গল্প – প্রচেত গুপ্ত

    প্রচেত গুপ্ত এক পাতা গল্প833 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    পুঁইশাক

    আবার একই কাণ্ড! একই ভুল!

    এই নিয়ে দশ দিনের মধ্যে দু’বার ঘটল। ব্যাগে হাত ঢুকিয়ে মনে হল, ভেতরে এমন কিছু আছে যেটা থাকার কথা নয়। শুধু তাই নয়, এবারের ভুলটা যেন বেশি। প্রথমবার মনে হয়েছিল, জিনিসটা ঠান্ডা! আজ মনে হল, জিনিসটা ঠান্ডার সঙ্গে শক্তও। সাধারণ শক্ত নয়, লোহা পিতল যেমন শক্ত হয়, সেরকম শক্ত। বাজারের ব্যাগে লোহা কোথা থেকে আসবে?

    প্রথমবারের মতো ঝটকা দিয়ে আজও হাত সরিয়ে নিলেন প্রলয় সমাদ্দার। তাঁর ভুরু কুঁচকে গেল। তিনি সামনের মাঘে ছাপ্পান্ন শেষ করছেন। এই বয়সে একই ভুল বারবার হতে থাকলে দুশ্চিন্তায় ভুরু কুঁচকে যাওয়াটাই উচিত। আজ বাজারের ব্যাগে ভুল হচ্ছে, কাল ভুল হবে অফিসের কাজে। প্রাইভেট কোম্পানিতে ছোট পদের চাকরি। সামান্য ভুল হলে বড় ধরনের বিপদ হতে পারে। তার ওপর অফিসের অবস্থা ভাল নয়, নড়বড় করছে। গত এক বছর ধরে অর্ডার কমেছে। ম্যানেজমেন্টও খরচ কমাচ্ছে। এ বছর বোনাস দিয়েছে আদ্দেক। কিছুদিন আগে পর্যন্ত অসুখ-বিসুখ, মেয়ের বিয়ে, ফ্ল্যাটের জন্য লোন চাইলে পাওয়া যেত। এখন হাজারটা ফ্যাকড়া তুলে আটকাচ্ছে। প্রোডাকশনের নিশিকান্ত মাইতির বউয়ের ইউটেরাসে টিউমার। অপারেশন লাগবে। গত মাসে দশ হাজার টাকার লোনে অ্যাপ্লিকেশন জমা দিয়েছিল। এখনও এক পয়সা পায়নি। অ্যাকাউন্টস ম্যানেজার তিন ধরনের ব্লাড রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছে। ভাবটা এমন যে, অপারেশন হাসপাতালে হবে না, অপারেশন হবে অফিসের অ্যাকাউন্টস ডিপার্টমেন্টে। ম্যানেজার নিজে করবে। চাকরিতেও হাত পড়ছে। ইতিমধ্যে তিনজন পিয়নকে আর লাগবে না বলে বাদ দেওয়া হয়েছে। প্রাডাকশনে দু’জনের কনট্র্যাক্ট রিনিউ হয়নি। কানাঘুষোয় শোনা যাচ্ছে, এবার ক্লার্ক, অফিসারদের পালা। পরিস্থিতি কঠিন। সবাই কাটা হয়ে আছে। এই অবস্থায় সামান্য ভুলও মারাত্মক।

    ভুরু কেঁচকানো অবস্থাতেই প্রলয়বাবু ব্যাগের দিকে তাকালেন। না, কোনও গোলমাল নেই। রোজকার মতো রান্নাঘরের দোরগোড়ায় আধখানা মুখ খুলে কেতরে পড়ে আছে। নদোষ ভঙ্গিতে। একটু যেন লাজুক ভাব! সম্ভবত বহুদিন ভরা বাজার নিয়ে পিঠ সোজা করে দাড়াতে পারেনি বলে লজ্জা। এই ব্যাগের প্রতি অবশ্য কোনও মমতা নেই প্রলয়বাবুর। সিন্থেটিকের এই জিনিস তাঁর একেবারেই পছন্দ নয়। তার বিশ্বাস, বাজার করবার ব্যাগ হবে করে। কিছুদিন আগে পর্যন্ত তিনি সেরকম ব্যাগ নিয়ে বাজার যেতেন। বহুদিনের অভ্যেস ছিল। করবীদেবী হুট করে একদিন অভ্যেস বদলে দিলেন। বদলালেন বড় অদ্ভুত কারণে।

    ‘এ আবার কী! আজকাল কেউ চটের ব্যাগ হাতে ঝুলিয়ে বাজারে যায় নাকি? বিশ্রী। লাগে।

    প্রলয়বাবু অবাক হয়ে বলেন, ‘কেন যাবে না। অনেকেই যায়।’

    করবীদেবী চাপা ধমক দিয়ে বললেন, ‘যে যায় যাক, তুমি যাবে না। বস্তার মতো দেখায়। কাল থেকে তুমি অন্য ব্যাগ নেবে। বিকেলে কিনে আনব। আজকাল অল্প দামে সিন্থেটিকের জিনিস পাওয়া যায়, সুন্দর দেখতে।’

    প্রলয় সমাদ্দারের মনে হল, স্ত্রীকেও পালটা একটা ধমক দেওয়া উচিত। বলা দরকার— ‘না আমি এই ব্যাগ নিয়েই যাব। এত বছর ধরে যা করছি হঠাৎ পালটাব কেন? তা ছাড়া আমি কীসে বাজার করব চটের বস্তা না লোহার ট্রাঙ্কে, সে ব্যাপারে তুমি নাক গলানোর কে? আমি কি তোমার ব্যাপারে নাক গলাই?’

    প্রলয়বাবু ধমক দিতে পারলেন না। আজ থেকে দশ-পনেরো বছর আগে হলে হয়তো পারতেন, কিন্তু এখন পারেন না। ঘরে-বাইরে কোথাওই পারেন না। এটা তাঁর পক্ষে যেমন অসুবিধের হয়েছে, তেমন আবার সুবিধেরও হয়েছে। অসুবিধে হল, এর ফলে প্রায় কোনও সময়েই উচিত কথা বলা হয় না। আর সুবিধে হল, জীবনযাপনটা ক্রমশ ঝগড়া-ঝামেলাহীন, শান্তিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রলয়বাবু হিসেব করে দেখেছে, একটা বয়েসের পর জীবনে উচিত কথার কোনও দাম নেই, দাম আছে শান্তির। শান্তির জন্য তিনি নিজেই নিজের মেকানিজম তৈরি করে নিয়েছেন। ঘরে-বাইরে খানিকটা ধমকানি, দু-পাঁচটা অপমান, কিছুটা অবজ্ঞা চুপচাপ সহ্য করে নিলেই কাজ হচ্ছে। প্রথম প্রথম সমস্যা হত। এখন আর হয় না। প্র্যাকটিস হয়ে গেছে। প্র্যাকটিসে সব হয়। আজকাল ট্রামে বাসে কেউ পা মাড়িয়ে দিলে আর গায়ে লাগে না। অসহ্য গরম রাতে টানা লোডশেডিং চললেও ঘামে ভিজে ঘাপটি মেরে শুয়ে থাকেন। বাজারে ছোটখাটো ওজন ঠকানোর ঘটনায় চোখ ফিরিয়ে নেন। অল্প ক’টি পয়সার জন্য ঝামেলা ভাল লাগে না। সেদিন করবীদেবীকে ধমকাতে গিয়েও থমকে গেলেন। নরম গলায় বললেন, ‘কী হয়েছে বলো তো? তুমি হঠাৎ বাজারের ব্যাগের মতো সামান্য জিনিস নিয়ে পড়লে কেন?’

    করবীদেবী ঝাঁঝের সঙ্গে বললেন, ‘আমি পড়িনি, তোমার মেয়ে পড়ছে।’

    ‘মেয়ে! সুমি?’

    ‘সুমি ছাড়া তোমার আর ক’টা মেয়ে আছে। বোকার মতো কথা বলছ কেন? এত বয়স হল, বোকার মতো কথা বলার অভ্যেস ছাড়তে পারলে না? সেদিন সুমির শ্বশুরমশাই গাড়ি থেকে তোমায় দেখেছেন।’

    একমাত্র মেয়ের শ্বশুরমশাই মানুষটি অতিরিক্ত রকমের বড়লোক। তাঁর প্রসঙ্গ উঠলেই প্রায় সমাদ্দারের নার্ভাস লাগে। সেদিনও লাগল। কাঁপা গলায় বললেন, ‘সুমির শ্বশুরমশাই! আমাকে দেখেছেন?’

    করবীদেবী গলায় ঝাঁঝ বাড়িয়ে বললেন, ‘তোমাকে দেখবেন কেন? তুমি এমন কিছু রাজা-গজা নও যে, তোমায় দেখতে হবে। তোমার ব্যাগ দেখেছেন। দিলি না মুম্বইয়ের প্লেন ধরবেন বলে ভদ্রলোক এই রাস্তা দিয়ে এয়ারপোর্ট যাচ্ছিলেন। গাড়ি থেকে দেখলেন, হাতে ব্যাগ ঝুলিয়ে তুমি চলেছ। ফিরে এসে সুমির কাছে হাসাহাসি করেছেন।’

    ‘হাসাহাসি! হাসাহাসি কেন? বাজারে ব্যাগ নিয়ে যাব না তো কী নিয়ে যাব, করবী? প্রলয়বাবুর বিস্ময় বাড়ে।

    করবীদেবী কঠিন চোখে স্বামীর দিকে তাকিয়ে বললেন, উনি ব্যাগ বুঝতে পারেননি, বলেছেন, সুমি, তোমার বাবাকে দেখলাম সাতসকালে হাতে একটা ছোট বস্তা নিয়ে। চলেছেন। ফ্লাইটের সময় হয়ে গিয়েছিল বলে দাড়াতে পারিনি,নইলে গাড়ি থামিয়ে জিজ্ঞেস করতাম। ব্যাপার কী বলো তো? ছি ছি। সুমির তো লজ্জায় মাথা কাটা যাওয়ার অবস্থা। আমাকে ফোন করে কান্নাকাটি করল। বলল, মা, বাবা কি আজকাল সকালে বস্তা নিয়ে কাগজ কুড়োতে বেরোচ্ছে?

    প্রলয় সমাদ্দার ‘হা হা’ আওয়াজে বোকা ধরনের হাসলেন। বললেন, কথাটা সুমি ভুল বলেনি। জিনিসপত্রের দাম যেভাবে বাড়ছে তাতে কদিন পরে বস্তা নিয়ে কাগজ কুড়োতে বেরোলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। বেঁচে থাকতে হলে একটা সাইড বিজনেস লাগবে। সেদিক থেকে র‍্যাগ পিকার হওয়া সবথেকে ভাল। মূলধন লাগবে না।’

    করবীদেবী এবার গলা তুলে ধমকে উঠলেন, ‘চুপ করো। আমার সঙ্গে পচা ধরনের রসিকতা করবে না। মেয়ের একটা প্রেস্টিজ আছে। আগে ছিল না, বিয়ের পর হয়েছে। তোমার মতো দু’পয়সার কেরানির ঘরে তার বিয়ে হয়নি। তুমি সম্বন্ধ দেখলে অবশ্য তাই হত। মেয়ে নিজের পছন্দে বিয়ে করেছে বলে হয়নি। সুমির শ্বশুরবাড়ির টাকা পয়সা সম্পর্কে কি তোমার এখনও ধারণা হয়নি?’

    স্ত্রীর মকে দ্রুত হাসি মুছে প্রলয়বাবু বিড়বিড় করে বললেন, ‘অবশ্যই হয়েছে। সুমির বিয়ের দু’বছর হয়ে গেল এখনও ধাক্কা সামলাতে পারিনি। মাথার ওপর বিরাট ধার। রাতে ভাল করে ঘুম হয় না।’

    করবীদেবী মুখে ‘ফুঃ’ ধরনের তাচ্ছিল্যের আওয়াজ করে বললেন, ‘তোমার টাকা নেই তাই ঘুম হয় না। সেটা তো সুমির শ্বশুরবাড়ির অপরাধ নয়। তারা তো আর এসে তোমাকে ঘুমপাড়ানি গান শোনাতে পারবে না। যা-ই হোক, কাল থেকে তোমার ওই বস্তা বাতিল। সুমি বলে দিয়েছে, আর একদিনও যদি তার শ্বশুরবাড়ির কেউ তোমাকে ওই অবস্থায় দেখে, তা হলে সে সুইসাইড করবে।’

    প্রলয়বাবু বিনীত ভঙ্গিতে বলেন, ‘ব্যাগের বদলে আমি যদি বাজার বদল করি, করবী?’ বাজার বদল! মানে?’

    ‘মানে, এমন কোনও বাজারে গেলাম যে-দিকটায় এয়ারপোর্ট যাওয়ার পথ পড়ে না। ধরো স্টেশনের দিকে…। সুমির শ্বশুমশাই তো প্লেনে ছাড়া যাতায়াত করেন না।’

    করবীদেবী স্বামীর দিকে আগুন চোখে তাকালেন। প্রলয়বাবু বুঝলেন আর কথা বাড়ালে এবার বড় ধরনের অশান্তি আসবে। চোখ নামিয়ে তাড়াতাড়ি বললেন, ‘ঠিক আছে করবী, তুমি ব্যাগটা বদলেই দিয়ো।’

    ব্যাগ বদলেছে। তারপরে এই ঘটনা। এক দিন নয়, পরপর দু’দিন ঘটল। হাত ঢুকিয়ে মনে হল, ভেতরে এমন কিছু রয়েছে, যা বাজারের ব্যাগে থাকার কথা নয়, বিচ্ছিরি ধরনের মনের ভুল। ভুল কেন হচ্ছে?

    প্রথম ঘটনাটা ঘটে এক বুধবার। বাজার থেকে ফিরে রোজকার মতো আনাজপাতি বের করতে গিয়েছিলেন প্রলয়বাবু। করবীদেবী স্বামীর এই একটা একটা করে ঝিঙে পটল বের করা সহ্য করতে পারেন না। টানাটানির সংসারে বাজার করা আনাজপাতি এমন কিছু হিরে জহরত নয় যে, বের করে সাজাতে হবে। তা ছাড়া যত দিন যাচ্ছে, আইটেম, কোয়ান্টিটি দুটোই কমছে। তাই নিয়ে এত বাড়াবাড়ির কী আছে? এই কারণেই স্বামী বাজার নিয়ে ফেরার সময় করবীদেবী রান্নাঘরে আসেন না। খানিক পরে আসেন। সেই বুধবারও আসেননি। কুমড়োর ফালি বের করার সময়ে মুহূর্তের জন্য ব্যাগের ভেতরে অজানা জিনিসের স্পর্শ পেয়েছিলেন প্রলয়বাবু। একা একাই চমকে উঠেছিলেন। সাবধানে ব্যাগের মুখ বড় করে উঁকি দিলেন ভেতরে। না, অচেনা কিছু নেই। কুমড়োর ফালির পাশে পড়ে আছে ক’টা ঢেড়শ, ছোট একটা পেঁপে। সবই চেনা! বছরের পর বছর হাতে ধরে নেড়েচেড়ে দেখছেন। ভুল বুঝতে পেরে লজ্জা পেয়েছিলেন প্রলয়বাবু। কেন এমন হল? স্নান করতে করতে ঘটনা মনে পড়ল। ভুল হওয়ার পিছনে কারণ আছে। বছরখানেক আগে অফিসের নীতিশবাবু একটা গল্প বলেছিলেন। তার বেকার শ্যালকের গল্প। শান্তশিষ্ট, গোবেচারা টাইপ সেই ছেলে বসিরহাট না বনগাঁ কোথায় যেন থাকে। ছোকরা এক সকালে বাজার সেরে ফিরে ব্যাগ থেকে পেঁয়াজকলি টেনে বের করতে গিয়ে ঠান্ডা, তেলতেলে কিছু একটা ধরে ফেলে। বের করতে দেখা গেল ইঞ্চি তিন-চার লম্বা একটা সাপের বাচ্চা! পেঁয়াজকলির ডাঁটিতে জড়িয়ে আছে। বড় কিছু নয়, হেলে সাপ। শ্যালক বেচারি রান্নাঘরেই জ্ঞান হারায়। মনে আছে, গল্প বলে নীতিশবাবু খুব খানিকটা হেসেও ছিলেন। ভিতু শ্যালকের কাণ্ড নিয়ে হাসি। নিশ্চয় সেই গল্প এখনও মাথায় রয়ে গিয়েছে, আর তার থেকেই ভুল। মাথা খুব আশ্চর্য জিনিস। কোন পুরনো ঘটনা কখন উকি মেরে ফিরে তাসে, কেউ বলতে পারে না।

    কিন্তু সে তো বেশ কিছুদিন আগের ঘটনা। আজ আবার একই ভুল কেন হবে? প্রলয়বাবু মন শক্ত করে ব্যাগের মুখটা বড় করে খুলে ধরলেন। না, আজও অচেনা অজানা কিছু নেই। সাপ-ব্যাং, লোহা-পিতল কিছুই দেখা যাচ্ছে না। অন্ধকার থেকে উঁকিঝুঁকি মারছে চিমসে চেহারার পটল, ছোট সাইজের বেগুনটা। উচ্ছে দুটোও কুড়ুলি পাকিয়ে আছে। একবারে ডানদিকে গুটিসুটি মেরে, মাথা দুমড়ে মুচড়ে রয়েছে খানিকটা সজনে ডাটা। আগে এই ভঁটা ছিল জলভাত। এখন দামি জিনিস। কেনবার সময় ভাল করে দেখে নিতে হয় ঠিকমতো বেঁকছে কি না। প্রলয়বাবু আজও বেঁকাতে চেয়েছিলেন। আজও অনুমতি দেয়নি। ঠোট বেঁকিয়ে বলেছে, ‘নেবেন তো এই ক’টা, তার আবার সোজা বেঁকার কী আছে?

    প্রলয়বাবু ভেবেছিলেন, বেলা বাড়লে ব্যাগের ঘটনা মা থেকে মিলিয়ে যাবে। মেলাল না। আবছাভাবে রয়ে গেল। অস্বস্তির মতো। অস্বস্তি মানেই অশান্তি। প্রলয়বাবু বিরক্ত হলেন। তিনি অশান্তি পছন্দ করেন না।

    খাওয়ার সময়ে করবীদেবী পাতে লাউয়ের তরকারি দিতে দিতে বললেন, ‘সামনের রোববার সুমি আসছে। ক’টা দিন থাকবে। জামাই দিতে আসবে। আমি জামাইকে দুপুরে খেতে বলেছি। প্রথমে রাজি হচ্ছিল না, আমি জোর করেছি।’

    প্রলয়বাবু অন্যমনস্ক গলায় বললেন, ‘জোর করলে কেন?’

    করবীদেবী পরিবেশন বন্ধ করে বললেন, ‘মানে! ছেলেটাকে কতদিন খাওয়ানো হয়নি বলো তো?’

    প্রলয়বাবু মুখ নামিয়ে ভাতের গ্রাস মুখে তুললেন। না, লাউটা ঠকিয়েছে। সজনে ডাঁটাও খারাপ হবে।

    ‘আমি তা বলিনি, ওর হয়তো কাজ ছিল।’

    করবীদেবী বললেন, ‘কাজ ছিল তো কী হয়েছে? তা বলে নেমন্তন্ন করব না? সুমিই বা কী ভাববে? এখন কিছু বলবে না, পরে কথা শোনাবে।’

    প্রলয়বাবু বিড়বিড় করে বললেন, ‘তা হলে ঠিকই করেছ।’

    করবীদেবী মুখ ঝামটা দিয়ে বললেন, ‘তোমার কাছে ঠিক ভুলের সার্টিফিকেট চাইনি। ওইদিন ঠিকমতো বাজার করবে। সুমি বলেছে, ছেলে চিংড়ি মাছ ভালবাসে। তুমি গলদা নেবে। বড়টা পারবে না, সে মুরোদ তোমার নেই, মাঝারিটা আনবে।’

    অফিসে যাওয়ার পথে প্রলয়বাবু ট্রামেই হিসেব কষতে লাগলেন। গলদা চিংড়ির দাম এখন কত যাচ্ছে? কার কাছ থেকে ধার পাওয়া যায়? নীতিশবাবুকে একবার বলে দেখা যেতে পারে। নইলে অন্য চেষ্টা করতে হবে। হাতে ক’দিন সময় আছে।

    ধার চাওয়া হল না, নীতিশবাবু অফিসে আসেননি। এদিকে অফিসে জোর গুজগুজ ফুসফুস চলছে। ইউনিয়নের সঙ্গে বসে ম্যানেজমেন্ট নাকি গোপন লিস্ট বানাচ্ছে। ছাঁটাইয়ের লিস্ট। সেই লিস্টে ইউনিয়ন নিজের লোকদের বাঁচাবে। প্রলয়বাবু চিন্তিত হয়ে পড়লেন। লিস্টে তার নাম নেই তো? থাকলে কঠিন সমস্যা হবে। মাথার ওপর ধারের বোঝ। তার ওপর রয়েছে সুমি। বেচারি শত্রবাড়িতে কী বলবে? বুড়ো বয়সে বাবার চাকরি চলে গিয়েছে? চিন্তা বাড়তে থাকল। ইউনিয়নের নেতাদের সঙ্গে একবার দেখা করলে কেমন হয়? অনেকেই নাকি করেছে। এতদিন পলিটিক্সের ধারে কাছে যাননি। এখন মনে হচ্ছে, কাজটা বিরাট ভুল হয়েছে। সেরকম বুঝলে হাতে-পায়ে ধরতে হবে। ফাইল সরিয়ে উঠে পড়লেন প্রলয়বাবু। ওদের কী বলতে হবে? ভাই, দয়া করে আমাকেও আপনাদের সঙ্গে রাখবেন? কথা বলার সময় কি হাত কচলাতে হবে? কোনও সমস্যা নেই। হাত কচলানো যাবে।

    নেতারা কেউ দেখা করল না। দরজা বন্ধ করে ইমারজেন্সি মিটিং চলছে। মুখ বাড়িয়ে জানিয়ে দিল, দিন তিনেকের আগে সময় হবে না। মনে গভীর অশান্তি নিয়ে বাড়ি ফিরলেন প্রলয়বাবু।

    এদিকে নীতিশবাবু পরপর তিন দিন অফিসে এলেন না। তাঁর সম্পর্কে মারাত্মক খবর পাওয়া গিয়েছে। সেই খবর সত্যি না মিথ্যে, বোঝা যাচ্ছে না, তবে অফিসে সবাই জেনেছে। নীতিশবাবুর বনগাঁর এক শ্যালক নাকি পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে। ছোকরার বাজারের শগে রিভলভার পাওয়া গিয়েছে। পুঁইশাকের মধ্যে লুকিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। পুলিশ হাতেনাতে ধরেছে। তল্লাশির সময় তারা ব্যাগে হাত ঢুকিয়ে প্রথমে ঠান্ডা, শক্ত জিনিসের হেয়া পায়। এমনি শক্ত নয়, লোহা পিতলের মতো শক্ত। এর পরই অস্ত্রটা টেনে বের করে। তখনও নলের সঙ্গে নাকি ক’টা পুঁইশাকের ভেজা ভেজা পাতা ঝুলছিল। নীতিশবার শ্যালককে বাঁচাতে থানা পুলিশ করছেন।

    খবর শুনে অনেকক্ষণ ঝিম মেরে বসে রইলেন প্রলয়বাবু। সেই গোবেচারা টাইপ, ভিতু ছেলেটা না? সাপের বাচ্চা দেখে যে অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিল?

    রবিবার সকালে ধার করা টাকায় জামাইয়ের জন্য হাত খুলে বাজার করলেন প্রলয় সমাদ্দার। মাঝারি সাইজের গলদার সঙ্গে বড় ট্যাংরাও নিয়েছেন। সঙ্গে গাদাখানেক তরিতরকারি। যেমন করবীদেবী বলে দিয়েছিলেন। শুধু তার বাইরে দুম করে বেশ খানিকটা পুঁইশাক কিনে ফেলেছেন। কোনও দরকার ছিল না, তবু কিনেছেন। ঠিক করেছেন বাড়িতে ফিরে আগে গোপনে একবার ব্যাগে হাত ঢুকিয়ে দেখবেন। দেখবেন হাতে রিভলভারের ঠান্ডা, শক্ত ছোঁয়া লাগে কি না।

    দু’বার ভুল হয়েছে বলেই যে বারবার ভুল হবে, তার কী মানে আছে?

    আনন্দবাজার পত্রিকা, রবিবাসরীয়, ১০ জানুয়ারি, ২০১০

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleধুলোবালির জীবন – প্রচেত গুপ্ত
    Next Article দেরি হয়ে গেছে – প্রচেত গুপ্ত

    Related Articles

    প্রচেত গুপ্ত

    স্যার, আমি খুন করেছি – প্রচেত গুপ্ত

    May 15, 2026
    প্রচেত গুপ্ত

    দেরি হয়ে গেছে – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    ধুলোবালির জীবন – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    রুপোর খাঁচা – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    মাটির দেওয়াল – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    নুড়ি পাথরের দিনগুলি – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Our Picks

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }