Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    পঞ্চাশটি গল্প – প্রচেত গুপ্ত

    প্রচেত গুপ্ত এক পাতা গল্প833 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    গৃহত্যাগী

    গৃহত্যাগী

    দিব্যকান্তিবাবুর ইচ্ছে করছে পাশের ঘরে গিয়ে এখনই ছোকরার গালে একটা চড় লাগান। সাধারণ চড় নয়। ঠাঁটিয়ে চড়। ঠাঁটিয়ে চড়ের অনেক রকম গুণ আছে। সব থেকে বড় গুণ হল, ঠিকমতো মারতে পারলে ব্রেনে সরাসরি অ্যাকশন হয়। যে চড় খায়, সে দ্রুত বুঝতে পারে কেন মারা হল৷ আলাদা করে কারণ বলতে হয় না। দিব্যকান্তিবাবুর বিশ্বাস, এই ছোকরার বেলাতেও একই ঘটনা ঘটবে। চড় মারামাত্র সে চড়ের কারণ বুঝতে পারবে।

    কিন্তু এই ছোকরাকে চড় মারা যাবে না। কারণ ছোকরা এ বাড়ির জামাই। শুধু জামাই নয়, একমাত্র জামাই। কয়েক বছর আগে ঢাকঢোল পিটিয়ে এ বাড়ির মেয়ে তপস্যার (ডাক নাম তপু) সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছে। ‘ঢাকঢোল’ শুধু কথার কথা নয়, বৈদ্যবাটী থেকে সত্যি সত্যি ঢাকি আনিয়েছিলেন দিব্যকান্তি। বিষয়টি নিয়ে মেয়ের মায়ের সঙ্গে তাঁর টেনশনও হয়।

    ‘মেয়ের বিয়ে বলে মাথা খারাপ হয়ে গেল নাকি তোমার? মনে হচ্ছে সেটাই হয়েছে। চিন্তা কোরো না, অনেক সময় এরকম হয়। একমাত্র মেয়ের বিয়ে হলে, মেয়ের বাবার মাথা গরম হয়ে যায়। এই সময়টায় বেশি করে ঠান্ডা খাওয়া দরকার। আজ থেকেই শুরু করে দাও। দাঁড়াও নমিতার মাকে বেলের শরবত দিতে বলছি।’

    দিব্যকান্তিবাবু স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে মিটিমিটি হাসতে থাকেন। বলেন, ‘আমার মাথা খারাপ হয়েছে এমন খবর তোমায় কে দিল জয়া?’

    ‘কে আবার দেবে? আমি নিজেই বুঝতে পারছি। পাগল না হলে কেউ বিয়েবাড়িতে ঢাক বাজানোর কথা ভাবে? তুমিই বলো না, ভাবে কেউ?’

    দিব্যকান্তি বললেন, ‘কেন? ভাবে না কেন? অসুবিধে তো কিছু নেই। শাস্ত্রে বারণ আছে নাকি?’

    জয়াদেবী রাগী গলায় বললেন, ‘বাজে কথা বোলো না। বিয়েবাড়িতে মাইক বাজে, সানাই বাজে। রাতের দিকে বাসরে ছেলেমেয়েরা গানবাজনাও করে। তা বলে ঢাক! তপু যদি শোনে কী কাণ্ড করবে ভেবেছ একবার? বিয়ে ফেলে বাড়ি ছেড়ে পালাবে। আজকালকার দিনের ছেলেমেয়েদের চেনো না তো। মেয়েকে ডেকে কথাটা একবার বলে দেখো না।’

    ডাকতে হল না। তপু নিজেই ঘরে ঢুকল। ঢাকের কথা শুনে হাততালি দিয়ে লাফিয়ে উঠল ছেলেমানুষের মতো। ‘দারুণ হবে বাবা। ফ্যান্টাস্টিক! ইউনিক আইডিয়া। আমি তো ঠিক করেছিলাম, বিয়েতে কিছুতেই সানাই বাজাতে দেব না। সানাই শুনলেই আমার কান্না পায়। বুনির দিদির বিয়েতে কী বিচ্ছিরি কাণ্ডটাই হল। খেতে বসে খানিকটা ফ্যাঁচ ফ্যাঁচ করে কাঁদলাম। মেকআপ, টেকআপ থেবড়ে একাকার কাণ্ড। বিয়ের মত আনন্দের একটা দিনে কান্নাকাটির কোনও মানে আছে?’

    দিব্যকান্তি জয়াদেবীর দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলেন। বিজয়ীর হাসি। তারপর এগিয়ে এসে মেয়ের কাঁধে একটা হাত রাখলেন। স্নেহের গলায় বললেন, ‘না কাঁদবি না। হাসবি। হাসতে হাসতে বিয়ে করবি। তিনজন ঢাকি আসছে রে মা। তিনটে শিফটে বাজাবে। সকাল, বিকেল, সন্ধে। এদের মধ্যে একজনের নাম মহেশ্বর। শুনেছি মহেশ্বর একজন ওস্তাদ বাজিয়ে। সে নাকি এক কাঠিতে বাজায়। ঝড়ের মতো হাত চলে। কাঠি দেখা যায় না, শুধু বাজনা শোনা যায়। ভেবেছি, বর আসার সময় মহেশ্বরকেই বাজাতে বলব। তোর শ্বশুরবাড়ির লোকেদের তাক লেগে যাবে।’

    বিয়ের মুখে মুখে ‘বর’ এবং ‘শ্বশুরবাড়ি’ শুনলে যে-কোনও মেয়েই লজ্জা পায়। তপুও পেল। তার ফরসা গাল দুটো লাল হয়ে গেল। গাল লাল হল জয়াদেবীরও। তবে লজ্জায় নয়, রাগে। তিনি বললেন, ‘তিনজন! তিনজন মিলে বাড়িতে ঢুকে ঢাক পেটাবে? আমি নেই। আমি এই বিয়েতে নেই। তোমরা বাপ-মেয়েতে যা খুশি করো। ঢাক বাজাও, ধুনুচি নৃত্য করো, যা খুশি। কালই আমি সুটকেস গুছিয়ে দাদার ওখানে চলে যাব। বাবা-মা নেই বলে তোমরা ভেবো না বাপের বাড়িতে আমার কোনও যাওয়ার জায়গা নেই। তুমি আজই অফিসে গিয়ে পাটনার টিকিট কেটে দিতে বলবে।’

    মেয়ের বিয়ের আগে বাড়ির গিন্নিকে রাগানো একটা ঝুঁকির কাজ। এত বড় ঝুঁকি নেওয়া যায় না। দিব্যকান্তিবাবুও সেই ঝুঁকি নিতে পারলেন না। তিনি ঢাকির সংখ্যা তিন থেকে কমিয়ে একে নিয়ে এলেন। সেই লোককেও বাড়াবাড়ি কিছু করতে দেওয়া হয়নি। সে প্যান্ডেলের মুখে দাঁড়িয়ে হালকা কাঠি মেরেছে মাত্র। বলাই ছিল, আওয়াজ যেন দোতলা পর্যন্ত না যায়। সেখানে জয়াদেবী ছিলেন। তিনি ঢাকের প্রতিবাদে একতলায় নামেননি। দোতলাতেই অতিথিদের ‘আসুন, বসুন’ করেছেন।

    তবে আস্তে হলেও ঢাক তত বেজেছে। সেই ঢাক বাজানো জামাইকে চড় মারা যায়? যতই হাত নিশপিশ করুক, মারা যায় না।

    দিব্যকান্তি নিজেকে শান্ত করবার চেষ্টা করলেন। আড়চোখে তাকালেন পাশের ঘরে। ঘরে আলো জ্বলছে। ভেতর থেকে নানারকম আওয়াজ ভেসে আসছে। মানুষের কথা, গাড়ির শব্দ, এমনকী গানবাজনাও! দিব্যকান্তির ভুরু কুঁচকে গেল। টিভি চলছে? পরদার ফাঁক দিয়ে ইডিয়টটাকেও দেখা যাচ্ছে। সাদা পাজামা পাঞ্জাবি পরে বসে আছে চেয়ারে। পাঞ্জাবির রং হালকা গেরুয়া, কাপড় নরম। তবে পাজামা পাঞ্জাবির একটাও তার নিজের নয়। কী করে হবে? সে তো এসেছে একবস্ত্রে। দুটোই দিব্যকান্তিবাবুর। জয়া আলমারি থেকে বের করে দিয়েছে। পাজামা মাপে মোটামুটি হলেও, পাঞ্জাবিটা একটু ঢলঢল করছে। আরে! গাধাটা হাসছে না? হ্যাঁ, হাসছে। হাসির সঙ্গে পা-ও নাড়াচ্ছে। দিব্যকান্তিবাবুর এবার মনে হল, শ্বশুরমশাইয়ের পাজামা-পাঞ্জাবি পরে পা দুলিয়ে দুলিয়ে যে গাধা হাসতে পারে তাকে একটা না, একসঙ্গে দুটো চড় মারা উচিত। তিনি মুখ ঘুরিয়ে নিলেন।

    জয়াদেবী ঘরে ঢুকলেন। হাতে বই। বইয়ের মলাটে একটা ফুলকপি আর দুটো বড় গাজরের ছবি। ওপরে লেখা— ‘মাছ, মাংস, বিরিয়ানি।’ রান্নার বইগুলোতে অনেক সময়েই এই সমস্যা হয়। বিষয়ের সঙ্গে মলাটের কোনও মিল থাকে না। বিষয় একরকম, তো ছবি অন্যরকম। জয়াদেবীর কাছে ‘নিঃশব্দে নিরামিষ’ নামে একটা বই আছে। তার মলাটে ভাবুক ধরনের একটা বড় গলদা চিংড়ি বসে আছে শুঁড় বাগিয়ে।

    জয়াদেবী স্বামীর উলটোদিকের সোফায় বসে পড়লেন। মুখের সামনে রান্নার বই তুলে বললেন, ‘আজ রাতে চিকেন কোপ্তা করলে কেমন হয় বলো তো? এমনি কোপ্তা নয়, জিঞ্জার কোপ্তা। সঙ্গে গরম খিচুড়ি। ভুনি খিচুড়ি। জিঞ্জার কোপ্তা দেখছি করা খুবই সহজ। প্রথমে চিকেনটাকে বলের মতো করে কাটতে হবে। তারপর আদার রসে ডুবিয়ে রাখতে হবে আধ ঘণ্টা। তারপর…।’

    দিব্যকান্তিবাবু মুখ নামিয়ে নিলেন। এই আর এক বিপদ। বাড়িতে জামাই এলে, জয়াদেবী রান্নাঘরে যাবেন। রান্নার লোককে সরিয়ে নিজের হাতে রান্না করবেন। বেশি নয়, একটা-দুটো শৌখিন প্রিপারেশন। নিজের রান্না জামাইকে খাওয়াতে না পারলে তাঁর নাকি মন ভরে না। বিপদ হল, জয়াদেবীর রান্নার হাতে সমস্যা আছে। বিচ্ছিরি সমস্যা। নুন ঝালের মেজারমেন্টে গোলমাল হয়ে যায়। এমনকী সময় সম্পর্কেও তাঁর ধারণা দুর্বল। তেল কই এবং মাটনকোরমা যে আলাদা আলাদা সময় ধরে আগুন চায়, এই হিসেব আজও রপ্ত হয়নি। ফলে মাঝে মধ্যেই রান্না, হয় সামান্য কাঁচা থাকে, নয় পুড়ে যায়। জয়াদেবী অবশ্য এতে বিচলিত নন। বাড়িতে জামাই এলে তিনি বই খুলে বসে পড়েন। বিপদের কথা হল, সেই জিনিস শুধু একা জামাই নয়, দিব্যকান্তিবাবুকেও খেতে হয়। গত তিন দিন ধরেই হচ্ছে।

    ‘কী গো, বললে না প্রিপারেশনটা কেমন হবে?’

    খানিকটা গদগদ ভঙ্গিতেই জয়াদেবী স্বামীর কাছে জানতে চান।

    দিব্যকান্তিবাবু মুখ তোলেন। তাঁর মুখ থমথম করছে। কঠিন চোখে তাকান স্ত্রীর দিকে। বলেন, ‘ওই গাধাটা আর কতদিন এখানে থাকবে বলে তোমার মনে হচ্ছে?’

    ‘গাধা! গাধা কে? কার কথা বলছ তুমি? পলাশ?’ জয়াদেবী অবাক গলায় জানতে চান।

    ‘তা ছাড়া বাড়িতে এই মুহুর্তে আর ক’টা গাধা আছে বলে তোমার মনে হচ্ছে জয়া? ওটা তিনদিন ধরে শ্বশুরবাড়িতে বসে কী করছে?’

    জয়াদেবী ফিসফিস করে ওঠেন, ‘অ্যাই, আস্তে বলে। কী হচ্ছেটা কী? পলাশ শুনতে পাবে না?’

    পরদার ওপাশ থেকে হাসির আওয়াজ ভেসে এল। দিব্যকান্তিবাৰু একবার মুখ ঘুরিয়ে সে দিকে তাকালেন, তারপর দাঁত কিড়মিড় ধরনের আওয়াজ করে বললেন, ‘ওই ছেলে হাসছে কেন? হাসি-মশকরার মতো কোনও ঘটনা ঘটেছে কি? শ্বশুরবাড়িতে বসে খাওয়াদাওয়া, ঘুমের মধ্যে হাসির কিছু আছে বলে তো মনে হচ্ছে না।’

    জয়াদেবী মুখের সামনে থেকে বই সরালেন। এক গাল হাসলেন। ভাবটা এমন যে শ্বশুরবাড়িতে শুয়ে বসে খাওয়াটা একটা আনন্দের বিষয়।

    ‘ওমা, হাসবে না তো কী করবে? কাঁদবে? কী যে বলো তুমি!’

    এবার গলা আরও নিচু করলেন। বললেন, ‘জামাই তোমার হাসির সিনেমা দেখছে। কমেডি ছবি। বিকেলে বলল, মা, সিনেমা দেখব। আমি বললাম, দেখো না। অসুবিধে তো কিছু নেই। ডিভিডি চালিয়ে সিনেমা দেখো। জামাই বলল, কী সিনেমা দেখব মা? আমি বললাম, হাসির কোনও ছবি দেখো। আমি বরং তোমাকে ক’টা লুচি ভেজে দিই। গরম লুচি খেতে খেতে হাসির ছবি ভাল লাগবে। লুচি কী দিয়ে খাবে? আলু ভাজা না আলুর দম? জামাই বলল, না মা, আলু খাব না। আলুতে ফ্যাট হবে। মা, আপনি ক’টা পটল ভেজে দিন। বেশি করে তেল দিয়ে ডুমো ডুমো করে ভাজবেন। আমি পড়লাম মহা ফাঁপরে। বাড়িতে পটল নেই। নমিতার মাকে বললাম, ছি ছি, কী কাণ্ড, জামাইমানুষ মুখ ফুটে পটল খেতে চেয়েছে, তুই আগে বাজারে যা। ঠিক করেছি, আর কিছু না রাখি, ঘরে সব সময় পটল রাখব।’

    আর সহ্য করা যাচ্ছে না। তীক্ষ স্বরে স্ত্রীকে ধমকে উঠলেন দিব্যকান্তি, ‘স্টপ, স্টপ। চুপ করো। চুপ করো বলছি।’

    জয়াদেবী ঝুঁকে পড়ে বললেন, ‘ইস, পলাশ নিশ্চয় শুনতে পেল। বলছি না আস্তে বলো।’

    দিব্যকান্তি গলার ভল্যুম এক রেখে একই সঙ্গে নাক এবং মুখ দিয়ে ‘ফোঁস’ জাতীয় একটা শব্দ করতে গেলেন। রাগের শব্দ। শব্দ বের হল না। এতে রাগ আরও বেড়ে গেল।

    ‘শুনতে পেলে কী হবে? কিছুই হবে না। চলে যাবে ভেবেছ? যাবে না। অপমানিত হওয়ার জন্যে আলাদা মেটেরিয়াল লাগে। তোমার জামাই সেই মেটেরিয়াল নয় জয়া। গোড়া থেকেই আমার সন্দেহ ছিল, এখন আমি নিশ্চিত। সেন্ট পারসেন্ট শিয়োর। বুঝতে পারছি, এটি একটি নির্লজ্জ জিনিস। দুটো কানই কাটা। ভাবছি একবার ডেকে কানগুলো দেখতে চাইব। কেমন হবে বলো তো?

    ‘উফ, চুপ করবে? চুপ করবে তুমি? নিজের জামাই সম্পর্কে কী এসব ছাইভস্ম বলছ! তপু যদি শোনে?’ জয়াদেবী ভয়ে ভয়ে বললেন।

    ‘চুপ করব? কেন, চুপ করব কেন? একটা ধেড়ে ছেলে নিজের কাজকর্ম ফেলে, বাড়িঘর ফেলে, বউ ফেলে, বাবা-মাকে ফেলে শ্বশুরবাড়িতে বসে পা দোলাচ্ছে আর লুচি-পটলভাজা খেতে খেতে হাসির সিনেমা দেখছে, আর আমি চুপ করব? তাও যদি একটা প্রপার কারণ থাকত।’

    ইস, শুনতে পাচ্ছে নাকি? জয়াদেবী মুখ ঘুরিয়ে তাকালেন। এখন আর পলাশের মুখ দেখা যাচ্ছে না। মনে হয় চেয়ারে হেলান দিয়েছে। পরদার আড়াল থেকে এখন শুধু তার পা দুটো দেখা যাচ্ছে। দুটো পা সামনে ছড়ানো। নিশ্চিন্ত এবং আরাম করে বসলে যেমন হয়। পায়ে হাওয়াই চটি। চটি দুটো পায়ের তুলনায় বেশ ছোট। তবে জিনিস খুবই ভাল। সাধারণ হাওয়াই নয়। স্ট্র্যাপে পাতার কাজ করা। হঠাৎ দেখলে মনে হবে পাতার চটি। অবশ্য চটি জামাইয়ের নয়। চটি তার বউ তপুর। তপু বাপের বাড়িতে এলে পরে। এখন পলাশ পরছে। কী করবে বেচারি? সে তো আর সঙ্গে করে ঘরে পরার চটি নিয়ে আসেনি। রাগ করে গৃহত্যাগের সময় কেউ সঙ্গে হাওয়াই চটি নিয়ে বের হয় না।

    জয়াদেবী বিরক্ত ভঙ্গিতে স্বামীকে বললেন, ‘তুমি জানো না ছেলেটা কেন এখানে আছে? নাকি জেনেও না জানার ভান করছ?’

    দিব্যকান্তি দাঁতে দাঁত চেপে হিসহিসিয়ে উঠলেন,‘জানি, অবশ্যই জানি। আর জানি বলেই মাথায় আগুন জ্বলছে। ফাজলামো হচ্ছে? ন্যাকামি। তোমার জামাই কি ছেলেমানুষ? কচি খোকা সে?’

    জয়াদেবী কোলের ওপর রাখা রান্নার বইয়ের পাতা উলটোতে উলটোতে বললেন, ‘আহা, রাগ করছ কেন? দু’দিনের মধ্যে সব ঠিক হয়ে যাবে। স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়া। দুধে আমে মিশে যেতে কতক্ষণ?’

    ‘তিনদিন তো হয়েই গেল।’

    ‘দুদিন মানে কি আর দু’দিন? তোমার আবার সবটাতে বেশি বেশি। তবে তুমি যাই বলো, আমি ওকে সাপোর্ট করেছি। বলেছি, ঠিক করেছ বাবা। বেশ করেছ। স্ত্রীকে মাঝেমধ্যে শিক্ষা দিতে হয়। এমনিতেই তারা মাথায় উঠে বসে থাকে। মাঝেমধ্যে শিক্ষা না পেলে তখন আর শুধু বসে থাকবে না, উঠে দাঁড়িয়ে নাচতেও শুরু করে। তুমি তপুকে শিক্ষা দিয়ে ভাল কাজ করেছ।’

    দিব্যকান্তি নাকমুখ কুঁচকে বললেন, ‘আমি জানি, আমি জানি তুমি ওই গাধাটাকে সাপোর্ট করছ। ছি ছি, লোককে বলা যাচ্ছে না জামাই এসেছে। ওটাকে ঘরের বাইরে বেরোতে বারণ করে দেবে।’

    ‘কেন? বারণ করব কেন? পলাশ চোর-ডাকাত নাকি?’ জয়াদেবী মুখ তুলে বললেন।

    দিব্যকান্তিবাবু লম্বা শ্বাস নিয়ে বললেন, ‘এখন মনে হচ্ছে চোর-ডাকাত হলে ভাল হত। তারা আর যাই করুক বউয়ের সঙ্গে ঝগড়া করে শ্বশুরবাড়িতে এসে শেলটার নেয় না। প্রয়োজন হলে হাজতে যায়। বিয়ের পর পুরুষমানুষের নানারকম অধঃপতনের কথা আমার জানা আছে, কিন্তু এমন অধঃপতনের কথা শুনিনি কখনও।’

    জয়াদেবী হাতের বই মুড়ে সামনের টেবিলে রাখলেন। এক গাল হেসে বললেন, ‘ও মা, তা কী করবে? বউয়ের সঙ্গে ঝগড়া হলে বেচারি যাবে কোথায় বলো? আমরা, মেয়েরা না হয় বাক্সটাক্স গুছিয়ে বাবার কাছে, দাদার কাছে দু’দিন কাটিয়ে আসি। ওরা কী করবে? রাগ করে রাস্তায় রাস্তায় কতক্ষণ ঘুরবে? ঝগড়া করে তো আর হোটেলে গিয়ে ওঠা যায় না। পলাশ ঠিকই করেছে। আমাদের এখানে এসে উঠেছে। ক’দিন থাকুক। রাগ কমলে যাবেখন। তপুরও বোঝা উচিত জামাইয়ের পাশে তার শ্বশুরবাড়ি আছে। এখানে যত্ন কিছু কম পাবে না। শুধু ঝগড়া নয়, আমি শুনেছি, তোমার মেয়ে নাকি পলাশ বেচারিকে বাড়ি থেকে বিদায় করেছে।’

    ঝগড়ার ব্যাপারটা দিব্যকান্তি জানেন। আজ বিকেলে অফিস থেকে মেয়েকে মোবাইলে ধরেছিলেন তিনি।

    তপু, ‘ভাল আছিস?’

    তপস্যার গলায় উচ্ছ্বাস। বলল, ‘খুবই ভাল আছি বাবা। শাশুড়ি মোমো বানিয়েছেন, এখন বসে বসে স্যুপ দিয়ে সেই মোমো খাচ্ছি। অলরেডি গাদাখানেক খেয়ে ফেলেছি। আরও খাব। মনে হচ্ছে, আজ শাশুড়ি আর আমি দু’জনে মিলে মোমো খাওয়ায় রেকর্ড করব। তুমি কেমন আছ বাবা? হাঁটুর ব্যথা কমেছে?’

    বর ঝগড়া করে বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে এসেছে আর মেয়ে শাশুড়ির সঙ্গে বসে মোমো খাওয়ার রেকর্ড গড়ছে শুনলে কোনও বাবার পক্ষেই ভাল থাকা সহজ নয়। দিব্যকান্তিবাবু বিরক্ত গলায় বললেন, ‘না, হাটুর ব্যথা কমেনি।’

    ‘সে কী! সে দিন মাকে যে আমার শ্বশুরমশাই বলে দিলেন, দাদাকে ঠান্ডা-গরম ট্রিটমেন্ট দেবেন। ফার্স্ট সাতদিন প্রথমে ঠান্ডা, পরে গরম। নেক্সট সাতদিন আগে গরম পরে ঠান্ডা। বলেননি? মা নিশ্চয় শোনেনি। এই হয়েছে মুশকিল। মা এ বাড়ির কোনও ভাল পরামর্শ শুনতে চায় না। ভেরি ব্যাড। আমার শ্বশুরমশাইয়ের কী এসে যায় বলো তো বাবা? কিছু এসে যায় না। তিনি তো তোমাদের ভালর জন্যেই বলেছিলেন।’

    তপস্যার গলায় একই সঙ্গে শ্বশুরমশাইয়ের প্রতি গদগদ ভাব এবং মায়ের ওপর বিরক্তি ঝরে পড়ে।

    দিব্যকান্তিবাবু চুপ করে রইলেন। স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া তো বটেই, মায়ের সঙ্গেও গোলমাল! সেটাই স্বাভাবিক। পলাশকে জয়া শেলটার দিয়েছে, গোলমাল তো হবেই।

    ‘তপু, পলাশের ঘটনা কী? কী হয়েছে তোদের? ও এখানে এসে আছে। এসব কী ছেলেমানুষি তপু? ও বাড়ির লোকজন কী মনে করছেন। কোনও পুরুষমানুষ এই কাজ করে? করেছে কোনওদিন? স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া করে শ্বশুরবাড়িতে! ইউ শ্যুড টক উইথ পলাশ।’

    ও পাশে তপস্যাও চুপ করে রইল মিনিট খানেক। মনে হয় চামচ দিয়ে স্যুপ তুলে মুখে দিল। ‘সুড়ুৎ’ ধরনের একটা শব্দও পাওয়া গেল। তারপর গম্ভীর গলায় বলল, ‘বাবা, প্লিজ। প্লিজ বাবা, আর যার কথা বলো, তোমার জামাইয়ের সম্পর্কে কোনও কথা আমাকে বলবে না। আমি নিজেই ওকে বলেছি, যদি আমাকে তোমার না পোয়, ক’টা দিন অন্য কোথাও গিয়ে থাকো। ওর কোনও কথা আমি শুনতে চাই না। যাক, এখন আমি ফোন ছাড়লাম বাবা, একটু পরেই ননদের সঙ্গে শপিং-এ যাব। ওরা গাড়ি নিয়ে আসবে। ননদাই বলেছে, একেবারে রাতে খাইয়ে তবে ছাড়বে।’

    এরপর আর কিছু বলা চলে না। শ্বশুরবাড়ি নিয়ে মেয়ের হ্যাংলামো এই পর্যায়ে গেছে, দিব্যকান্তিবাবু জানতেন না। তিনি হতাশভাবে ফোন রেখে দেন।

    পলাশ পরদার আড়াল থেকে মুখ বের করল। জয়াদেবী ব্যস্ত হয়ে উঠে দাঁড়ান। বলেন, ‘কী হল বাবা, খিদে পেয়েছে?’

    পলাশ এক পা এগিয়ে এল। তবে পুরোটা এল না। তার শরীরের আদ্দেকটা রইল পরদার আড়ালে। সেই অবস্থাতেই বলল, ‘না খিদে পায়নি। এক কাপ চা হবে মা? লিকার চা। দেখবেন লিকার যেন হালকা হয়।’

    জয়াদেবী জামাইয়ের চায়ের ব্যবস্থা করতে রান্নাঘরের দিকে ছুটলেন। দিব্যকান্তিবাবু ভেবেছিলেন মুখ ফিরিয়ে নেবেন। যে জামাই প্রতি কথায় শাশুড়িকে ‘মা, মা’ করছে, সেই জামাইয়ের দিকে তাকিয়ে থাকা কঠিন একটা ব্যাপার। শরীরের মধ্যে জ্বালা জ্বালা করতে থাকে। মনে হয়, খুব শিগগিরই ফোসকা বের হবে। সেই ফোসকার সাইজ হবে বড় বড়। তাবে ভাবলেও মুখ ফেরালেন না দিব্যকান্তিবাবু। কারণ জামাইয়ের দিক থেকে অত সহজে মুখ ফেরানো যায় না। একটি মাত্র জামাই হলে তো কথাই নেই।

    পলাশ বলল, ‘বাবা, ভাল আছেন? অফিস থেকে কখন ফিরলেন বাবা? তপু তো প্রায়ই বলে, এই বয়েসে বাবা যা খাটেন তোমরা পারবে না। আমি তখন বিশ্বাস করিনি। এখন করছি। আপনি সত্যি একজন পরিশ্রমী মানুষ।’

    না, এই ছেলের অবস্থা খুবই খারাপ। শুধু ‘মা’ নয়, ‘বাবা’ও শুরু করেছে! এখন কী করা উচিত? ধমক দেওয়া? কীরকম ধমক? ঘর কাঁপিয়ে জোরে? নাকি দাঁত চিপে নিচু স্বরে? অনেক সময় জোরের থেকে নিচু গলার ধমক কাজ বেশি দেয়। তাদের স্কুলে হেডমাস্টারমশাই নিচু গলায় ধমক দিত। অন্য কেউ শুনতে পেত না। যে শুনতে পেত, তার প্যান্টে ইয়ে হয়ে যেত। তখন সবাই বুঝতে পারত, এই ছেলে হেডমাস্টারের ধমক খেয়েছে।

    দিব্যকান্তিবাবু ধমক দিলেন না। দিতে পারলেন না। জামাইকে যেমন চড় মারা যায় না, তেমন ধমক দেওয়াও যায় না। অনেক কষ্ট করে তিনি ঠোঁটে হাসি আনলেন। বললেন, ‘তুমি ভাল আছ পলাশ? আমাদের এখানে কোনও অসুবিধে হচ্ছে না তো?’

    পলাশ হাসল। লাজুক ধরনের জামাই হাসি। বলল, ‘হচ্ছে বাবা, অসুবিধে হচ্ছে। বেশ অসুবিধে হচ্ছে। ভেবেছিলাম কথাটা বলব না। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, বলাটা জরুরি।’

    দিব্যকান্তিবাবু ভুরু কুঁচকে বললেন, ‘অসুবিধে! অসুবিধে কীসের?’

    ‘ঘটনা কী হয়েছে জানেন বাবা, দু’দিন ধরেই দেখছি কাক ভোরে ঘুমটা যাচ্ছে ভেঙে। আমি ভাবলাম ব্যাপারটা কী! ভোরে তো কখনও আমার ঘুম ভাঙে না। আমি হলাম লেট রাইজার। ছোটখাটো নয়, বড় লেট রাইজার। দশটায় বেড টি নিই। তা হলে! তা হলে ঘটনাটা কী? তখনই দেখলাম পুব দিকের জানলায় পরদাটা ছোট। ভোর হতে না হতে সেই পরদার ফাঁক দিয়ে ঘরে আলো ঢুকছে। কড়া রোদ। ব্যস, তাতেই ঘুম যাচ্ছে ভেঙে। আমি আবার ঘর অন্ধকার না থাকলে ঘুমোতে পারি না। গাঢ় অন্ধকার। পিচ ডার্ক। অথচ এখানে রোদ এসে একেবারে ডাইরেক্ট মুখে পড়ছে।’

    একটু থেমে পলাশ সেই লাজুক হাসি হাসল। বলতে শুরু করল আবার।

    ‘প্রথম দিন পরদা টেনেটুনে রোদ আটকানোর চেষ্টা করলাম, হল না। দ্বিতীয় দিন খাট সরাতে চেষ্টা করলাম। খাট সরল কিন্তু রোদ সরল না। এই কারণেই অসুবিধে।’

    দিব্যকান্তিবাবু খুশি হলেন। একটু খুশি নয়, শ্বশুরবাড়িতে বেলা করে ঘুমোনোর শাস্তি হাড়ে হাড়ে টের পাক গাধাটা। আহা, সারারাত যদি এই ছেলের ঘরে রোদ ঢোকানো যেত তা হলে বেশ হত। তিনি খুশিভাব লুকিয়ে গলায় উদ্বেগ এনে বললেন, ‘ছি ছি। কী কাণ্ড বলো দেখি পলাশ। ইস আমি যদি আগে জানতাম। ঠিক আছে, আজই দেখছি। তুমি মোটেও চিন্তা কোরো না। সামান্য পরদার কারণে তুমি ঘুমোতে পারছ না, এটা হতে পারে না। আমি নিজে বিষয়টা দেখছি পলাশ।’

    জামাই লাজুক হাসি দিয়ে ঘরে ঢুকে যেতে খুশিভাব সরে মাথার আগুন জ্বলে উঠল দিব্যকান্তির। কত বড় আবদার! শ্বশুরমশাইকে বলছে পরদা টাঙান। কে জানে এ ছেলে যেভাবে এগোচ্ছে, তাতে আর ক’টা দিন থাকলে হয়তো বলবে, বাবা আপনিই বরং সকালের দিকটা পরদা সেজে জানলার সামনে দাড়িয়ে থাকুন। রোদ সরে গেলে চলে যাবেন। ইচ্ছে করছে, গাধাটার ঘাড় ধরে পুব দিকের ওই জানলাটা দিয়ে ছুড়ে ফেলে দিতে। সাততলার ফ্ল্যাট থেকে একতলায় পড়লে গাধাদের কী হয়? হাড়গোড় ভাঙে? ভাঙলে ক’টা ভাঙে? একে আর কতদিন সহ্য করতে হবে?

    বেশি দিন নয়। ঘটনা ঘটল পরদিনই।

    পলাশ বিছানা ছাড়ল বেলা করে। ততক্ষণে দিব্যকান্তিবাবু অফিসে রওনা দিয়েছেন। হালকা লিকার চা, কড়কড়ে দুটো টোস্টের সঙ্গে আস্ত একটা মর্তমান কলা, খান চার-পাঁচ পাকা পেঁপের টুকরো দিয়ে ব্রেকফাস্ট সারল পলাশ। কাল রাতেই শাশুড়িকে সে জানিয়ে রেখেছিল, ব্রেকফাস্টে ফলের কোয়ান্টিটি একটু বেশি রাখলে ভাল। খাবার খেয়ে বাথরুমে ঢুকে কুসুম কুসুম গরম জল দিয়ে ভাল করে স্নান সারতে সময় নিল প্রায় ঘণ্টাখানেক। সাবান মাখল, শ্যাম্পু করল। শেষে চুলটুল আঁচড়ে, জামা জুতো পরে হাসি হাসি মুখে জয়াদেবীকে বলল, ‘মা আজ তা হলে আসি? বাবার পাঞ্জাবিটা একটু বড় হলেও কী হবে পরে কিন্তু খুব আরাম। কাপড়টা ভাল।’

    জয়াদেবী আপ্লুত ধরনের গলায় বললেন, ‘ঠিক আছে বাবা, ঠিক আছে। তোমার জন্যে একটা পাঞ্জাবি কিনে তপুর হাত দিয়ে পাঠিয়ে দেবখন।’

    পলাশ হাসল। ঘাড় কাত করে অনুমতি নেওয়ার ঢঙে বলল, ‘তা হলে আসি মা?’

    দিব্যকান্তিবাবু সুখবরটা পেলেন অফিসে বসেই। খুশি হলেন। এতটাই খুশি হলেন যে, সন্ধে সাতটার জরুরি মিটিং বাতিল করে দ্রুত ফিরে এলেন বাড়িতে। ড্রাইভারকে বললেন, ‘ভজন, তুমি পাশে বসো। আজ আমি গাড়ি চালাব।’

    ড্রইংরুমেই বসে ছিলেন জয়াদেবী। ঘর অন্ধকার। দিব্যকান্তিবাবু আলো জ্বালিয়ে বললেন, ‘কী ব্যাপার, অন্ধকার করে বসে আছ কেন? চলো আজ দু’জনে কোথাও বাইরে খেয়ে আসি। বেশি কিছু নয়, স্যুপ আর মোমো। কেমন হবে?’।

    জয়াদেবী মুখ তুললেন। মুখ থমথম করছে।

    ‘কী হল শরীরটরির খারাপ নাকি?’ উদ্বিগ্ন গলায় বললেন, দিব্যকান্তিবাবু। ঝুঁকে স্ত্রীর কাঁধে হাতও রাখলেন। ঝটকা দিয়ে হাত সরিয়ে দিলেন জয়াদেবী। গম্ভীর গলায় বললেন, ‘তপু ফোন করেছিল।’

    ‘এই রে আবার ওদের ঝগড়া নাকি?’ দিব্যকান্তির গলায় আতঙ্ক।

    জয়াদেবী মুখ ঘুরিয়ে বললেন, ‘না, তা নয়। মেয়ে খুব রাগারাগি করল।’

    দিব্যকান্তিবাবু অবাক হয়ে বললেন, ‘রাগারাগি! কেন, রাগারাগি কেন? আমার হাঁটুর ব্যথা নিয়ে নিশ্চয়?’

    ‘না তোমার হাঁটুর ব্যথা নিয়ে নয়। বলল, মা, পলাশ আমার সঙ্গে ঝগড়া করে ওখানে গিয়ে কদিন ছিল বলে সে কি তোমাদের জামাই নয়? আমি বললাম, কেন কী হয়েছে? মেয়ে বলল, কী হয়েছে তুমি জানো না? ছিল মাত্র দুটো না তিনদিন। এই ক’টা দিন তাকে ঠিকমতো যত্ন করতে পারলে না? আমি বললাম, কী অসুবিধে হয়েছে? তপু বলল, কী অসুবিধে বাবাকে জিজ্ঞেস করো। মানুষটার যদি কোনও কাণ্ডজ্ঞান থাকে। ছি ছি, তোমাদের জামাই আমাকে এসে যখন সব কথা বলল, আমি তো লজ্জায় মরে যাই।’

    দিব্যকান্তিবাবু ধপ করে সোফায় বসে পড়লেন। এ সবের মানে কী? এই এত ঝগড়া, এখন বরের জন্যে মেয়ের প্রেম একেবারে উথলে উঠছে! কমপ্লেন পর্যন্ত করছে! গলার টাই আলগা করতে করতে তিনি বললেন, ‘মানে! যত্ন হয়নি মানে কী? লুচি, পটল, সিনেমা, পাঞ্জাবি কী পায়নি গাধাটা? তার পরেও কমপ্লেন! শুধু ওই ছেলেকে নয়, আমার এখন মনে হচ্ছে, তোমার মেয়ের গালেও ক’টা চড় দেওয়া উচিত।’

    জয়াদেবী ঝাঁঝিয়ে উঠলেন, ‘তুমি আমাকে বললেই পারতে। আমি ব্যবস্থা করতাম।’

    ‘কী বলিনি তোমায়? আমি এর মধ্যে কোথায়? আমার ওপর রাগ দেখাচ্ছ কেন?’

    জয়াদেবী রাগের চোটে উঠে দাঁড়ালেন। আবার বসলেন। বললেন, ‘আমার ব্যাপার? মেয়ে তো তোমার বিরুদ্ধে বলল। আমি তাকে সাপোর্ট করেছি। জামাই নাকি তোমাকে কাল রাতে বলছিল, পুবদিকের জানলাটায় তার অসুবিধে হচ্ছে। পরদা ছোট। পরদার ফাঁক দিয়ে ভোরবেলা আলো ঢুকছে, ঘুম ভেঙে যাচ্ছে বেচারির। শুনে তাকে তুমি বলেছিলে, এক্ষুনি দেখছি। কোনও চিন্তা নেই। বলোনি? বলোনি তুমি? আমার মেয়েজামাই মিথ্যে বলছে?’

    ‘বলেছি তো, মিথ্যে হবে কেন?’

    ‘তারপর? তারপর কোনও ব্যবস্থাই নিয়েছ? নাওনি। কিছুই করোনি। নিজে নাক ডেকে ঘুমোতে চলে গেছ। টেলিফোনে তপুর তো কেঁদে ফেলার মতো অবস্থা। বলল, বাড়িতে কি একটা এক্সট্রা বড় পরদাও নেই মা? নাকি জামাইয়ের ঘরে পরদা টাঙাতে বাবার লজ্জা করল? ছি ছি, ছেলেটার নাকি তিনদিন ভাল করে ঘুমই হয়নি এখানে। তপু বলছিল, চোখ দুটো একেবারে লাল করে বাড়ি ফিরেছে।’

    দিব্যকান্তিবাবু চুপ করে বসে আছেন। মাথা নিচু। হিসেব মতো স্ত্রীর বকুনিতে তাঁর রেগে যাওয়ার কথা। তা হয়নি। তিনি আনন্দিত হয়েছেন। ওই ছেলে এ বাড়িতে ঠিকমতো ঘুমোতে পারেনি, তাই আনন্দ। একটা শিক্ষা দেওয়া গেছে। এখন তাঁকে আরও একটা কাজ করতে হবে। এই মহিলাকেও একটু শিক্ষা দিতে হবে। কথাটা সত্যি, স্ত্রীকে মাঝেমধ্যে শিক্ষা দিলে মাথায় চড়ে নাচে। জয়াও মাথায় চড়ে নাচছে।

    দিব্যকান্তিবাবু সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললেন দ্রুত। তিনি জামাইয়ের পথই অনুসরণ করবেন। গৃহত্যাগী হবেন। পাটনায় গিয়ে শালার বাড়িতে আশ্রয় নেবেন দিন কয়েকের জন্যে। শ্বশুরশাশুড়ি বেঁচে না থাকলে কী হবে, ওখানে যত্নআত্তি একেবারে শ্বশুরবাড়ির মতোই। কাল রাতের ট্রেনেই রওনা হবেন। পরদিন ভোরে পৌঁছে গরম লুচি খেতে খেতে শালার ডিভিডিতে হাসির সিনেমা দেখবেন। কটা চার্লি চ্যাপলিনের ছবি নিয়ে গেলে কেমন হয়?

    সানন্দা, ১৫ মে ২০০৮

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleধুলোবালির জীবন – প্রচেত গুপ্ত
    Next Article দেরি হয়ে গেছে – প্রচেত গুপ্ত

    Related Articles

    প্রচেত গুপ্ত

    দেরি হয়ে গেছে – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    ধুলোবালির জীবন – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    রুপোর খাঁচা – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    মাটির দেওয়াল – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    নুড়ি পাথরের দিনগুলি – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    নিষাদ – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }