Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    পঞ্চাশটি গল্প – প্রচেত গুপ্ত

    প্রচেত গুপ্ত এক পাতা গল্প833 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    দিঘি

    আবার দেখা দিল!

    দেখা দিল সেই একই জায়গায়! রাস্তার ঠিক ওপাশে, ফুটপাথ টপকে। সারি সারি দোকান বাজার, বাড়িঘর এক টানে সরিয়ে ফেলে টলটল করছে জল। সকালবেলার ঝকঝকে আকাশ তাতে ছায়া ফেলেছে। নীল ছায়া। মনে হচ্ছে নিজের একটা টুকরো ভেঙে নীচে ফেলে রেখেছে।

    জগন্নাথ প্রথমে চোখ কচলাল তারপর মাথা ঝাঁকাল। অনেকসময় মাথা ঝাঁকালে মিথ্যে দৃশ্য চোখের সামনে থেকে সরে যায়। এই জিনিস কিন্তু সরল না। উলটে আরও স্পষ্ট হল! পানকৌড়ি ধরনের কোনও একটা পাখি সেই ঝকঝকে নীল জলে টুপ করে ডুব দিল!

    মিথ্যে জলে, মিথ্যে পানকৌড়ি!

    সবটাই মুহূর্তখানেকের জন্য। যেন সিনেমার দৃশ্য। নিমেষে এসে পরদা থেকে সরে গেল নিমেষেই। আবার ফিরে এল সেই দোকানবাজার, বাড়িঘর। সেই এটিএম কাউন্টার! সেই ফুটপাথের গায়ে পার্ক করা ইনোভা গাড়ি।

    জগন্নাথের শিরদাঁড়া দিয়ে ঠান্ডা স্রোত বয়ে গেল। কাঁপা দুটো হাতে বারান্দার রেলিং চেপে ধরল সে। স্পর্শ না করেও বুঝতে পারল ভোরের এই আলগা শীতেও তার কপালে। ঘাম জমেছে।

    ঘাম হওয়া আশ্চর্যের নয়। বালিগঞ্জের মোড়ের কাছে যদি চোখের সামনে হঠাৎ একটা বড়সড় দিঘি দেখা দেয়, আর সেই দিঘির জলে যদি পানকৌড়ি ডুব মারে, তা হলে ঘেমে ওঠাটাই স্বাভাবিক। আরও বড় কিছু হলেও অবাক হওয়ার কিছু ছিল না।

    আজ প্রথম নয়, এই নিয়ে ঘটনাটা পরপর দু’দিন ঘটল। জগন্নাথ মাথা ঠান্ডা করে বোঝার চেষ্টা করে। একেই কি হ্যালুসিনেশন বলে? মায়া? নাকি অন্য কিছু?

    প্রথমদিন জিনিসটা দেখা দিয়েছিল রাতে। ঘড়ি দেখেনি জগন্নাথ। তবে এগারোটার কিছু পরেই হবে। রাতের খাওয়া শেষ করে সবে বেডরুমে এসে দাঁড়িয়েছিল জানলার সামনে। সাততলার ওপর ফ্ল্যাট। রাতের এই সময়টা দক্ষিণের জানলায় হু হু করে হাওয়া দেয়। স্কাইস্ক্যাপার, ফ্লাইওভার, শপিংমলে ধাক্কা খাওয়ার পরও সেই হাওয়ায় একটা বুনো এলোমেলো ভাব। শহুরে হাওয়া কোথা থেকে যে এই ভাবটা পায়! মনেই হয় না কলকাতায় আছি। বেশি কথা বলা প্রমোটার ছোকরা এক গাল হেসে বলেছিল, ‘ফ্ল্যাটটার দাম যেটুকু বেশি মনে হচ্ছে দাদাভাই, তা আসলে হাওয়ার জন্য।’

    জগন্নাথ অবাক হয়ে বলল, ‘হাওয়া!’

    প্রোমোটার মুচকি হেসে বলল, ‘অবাক হচ্ছেন দাদাভাই। অবাক হবেন না। কলকাতা শহরে এখন মাটির দাম নেই, দাম হল হাওয়ার। আগে ছিল জলের দর এখন হচ্ছে হাওয়ার দর।’

    ‘হাওয়ার দর! মানে? কী বলছ আবোল তাবোল?’

    বকবকানি ছোকরা আবার হেসেছিল। ভুরু নাচিয়ে লেকচারের কায়দায় বলল, ‘মানে খুব সোজা দাদাভাই। তিন-চারতলায় ফ্ল্যাট আর আজকাল কেউ নিচ্ছে না। কেন জানেন? কারণ ওসব ফ্ল্যাটে আজকাল আর আলো বাতাস ঢোকে না। আমার হাতে ওই জিনিস অনেক আছে। ইচ্ছে করলে দু’-পাঁচটা এখনই দেখিয়ে দিতে পারি। কিন্তু ও জিনিস আপনাদের পছন্দ হবে না। নীচের দিকে জায়গা নেই বলে কলকাতা বাড়ছে ওপরের দিকে। যত বাড়ছে দাদাভাই, নীচের আলো বাতাস তত আটকাচ্ছে। এই যুগ হল টাওয়ারের যুগ। আপনাকে যে সাততলাটা বেছেবুছে দেখাচ্ছি তা কি আর এমনি এমনি? কদিন পরে মনুমেন্টের ডগায় না উঠলে বাতাস কী জিনিস কলকাতার মানুষ ভুলে যাবে। চারপাশে ওনলি ভ্যাকুয়াম। সেইদিন এলও বলে।’

    ছোকরার বকবকানি পুরোটা মনে না ধরলেও, অনেকটা ধরেছিল। শুধু মনের ব্যাপার নয়, ঘটনা সত্যিও। বেডরুমের জানলাদুটো খুলে দিতেই রঞ্জনার চুল হাওয়ায় উড়তে লাগল। সম্ভবত সেদিনটা ছিল খানিকটা ঝোড়ো হাওয়ার। প্রোমোটার জানলার গ্রিলে হাত রেখে বীরদর্পে হেসে বলেছিল, ‘কী দিদিভাই, বলেছিলাম কি না হাওয়ায় উড়িয়ে দেবে? বলেছিলাম তো?’

    রঞ্জনা মাথার চুল, গায়ের আঁচল ঠিক করতে করতে গদগদ গলায় বলেছিল, ‘হ্যাঁ ভাই বলেছিলে। আমার খুব পছন্দ। হ্যাঁগো, তোমার কেমন লাগছে?’

    নতুন ফ্ল্যাটে আসার পর রঞ্জনার গোছগাছের বাতিক বেড়েছে। ঠাট্টা করলে বলে, ‘বাতিক বলছ কেন? নিজের বাড়ি সাজিয়ে গুছিয়ে রাখতে কার না ভাল লাগে?’

    ‘বাড়ি! সাড়ে আটশো স্কোয়ার ফুটের একটা পুচকে ফ্ল্যাটকে বাড়ি বলছ!’ জগন্নাথ কৌতুকে তাকায়।

    রঞ্জনা চোখ বড় করে বলে, ‘বাঃ বাড়ি নয়? নিজের বাড়ি তো বটেই। সাড়ে আটশোই হোক আর সাড়ে তিনশোই হোক। তোমার ওই সন্তোষপুরের তিনতলা বাড়িকে আমি কখনই নিজের ভাবিনি। বিয়ের এতগুলো বছর হয়ে গেল, এখনও এটা শ্বশুরবাড়িই। পরের। তা ছাড়া এটা কত সুন্দর। যে দেখছে সবাই বলছে। বলো, বলছে কি না? ছোড়দি সেদিন বলল, যেতেই ইচ্ছে করছে না রে, এমন হাওয়া বাতাসের ঘর।’

    গর্বিত হাসল রঞ্জন।

    হাওয়া বাতাসের ঘর কিনতে জগন্নাথকে অনেক দেনা করতে হয়েছে। একেবারে গলা পর্যন্ত। ব্যাঙ্ক লোনে কুলোয়নি। ব্যক্তিগত ভাবেও ধার নিতে হয়েছে। বন্ধুবান্ধব, অফিস কলিগ, আত্মীয়স্বজন যার কাছ থেকে যতটা পাওয়া গেছে। আপত্তি করেছিল জগন্নাথ। তার চাকরিতে এত বিলাসিতা মানায় না। রঞ্জনা শোনেনি। সমানে চাপ দিয়েছে।

    ‘বাড়ি তো দশবার কিছু না, একবারই কিনছ।’

    ‘তা বলে এত দাম দিয়ে।’

    ‘আহা, লোকেশনটা দেখবে না। তার ওপর ফ্ল্যাটের পজিশন? শুধু যে ওপরে তা তো নয়, তার ওপর আবার সাউথ ফেসিং।’

    জগন্নাথ বিরক্ত হয়ে বলেছিল, ‘অতটা দেনা ঘাড়ে নিয়ে সাউথ, নর্থ ফেস করার ইচ্ছে থাকবে ভেবেছ? ভাল করে ভাবো রঞ্জনা। হুট করে কাজটা করে ফেলার আগে দশবার ভাবা উচিত। এত লোন শোধ হবে তো? পারবে?’

    রঞ্জনা মুখ ঘুরিয়ে বলেছিল, ‘আমার ভাবা হয়ে গেছে। ওটাই নেব। আমার গলার হার আর দুটো চুড়ি বাঁধা দেব ঠিক করেছি।’

    সেদিন রাতে জগন্নাথ জানলার সামনে দাঁড়িয়ে মনে মনে দেনার হিসেবই কষছিল। মাসিক কিস্তির সঙ্গে সংসার খরচের যোগবিয়োগ! টানাটানি শুরু হয়ে গেছে। ছেলেমেয়ে হলে এই টানাটানিও আরও বাড়বে। দক্ষিণ খোলা জানলার হাওয়া চিন্তা কমাতে পারছিল না, বরং বাড়াচ্ছিল। ডাইনিং থেকে খুটখাট আওয়াজ আসছে। রঞ্জনা টেবিলে গোছাচ্ছে। সবসময়ের কাজের মেয়েটাকে ছাড়িয়ে দিয়েছে সে। টাকাপয়সার কারণেই ছাড়িয়েছে। মুখে অবশ্য সেকথা বলে না। বলে, ‘ফ্ল্যাটে সবসময়ের কাজের লোক চলে না। তা ছাড়া ওরা কাজের থেকে অকাজই করবে বেশি। যা নোংরা, মা গো।’

    চিন্তিত মনে সিগারেট ধরিয়ে বাইরে, নীচে তাকাল জগন্নাথ। অনেক নীচে। আর তখনই দিঘিটা দেখতে পেল সে! রাস্তার ওপাশে, অলস ভঙ্গিতে, অনেকটা জায়গা জুড়ে হাত পা ছড়িয়ে পড়ে আছে যেন। জলে রাতের আলো পড়েছে। রাতের অন্ধকার পড়েছে।

    ঠোঁটের সিগারেট হাতে নিয়ে ভুরু কোঁচকাল জগন্নাথ। জল! বালিগঞ্জে জল আসবে কোথা থেকে? তা ছাড়া ফুটপাথের ওদিকটায় তো সারি সারি দোকানবাজার, বাড়ি। এটিএম কাউন্টার। মোবাইল শপ। ফ্ল্যাট দেখতে আসার সময়েই রঞ্জনা খুশি হয়ে বলেছিল, ‘ইস কী সুবিধে বলো! রাস্তা টপকালেই হাতের কাছে সবকিছু। সন্তোষপুরের মতো কথায় কথায় রিকশা ধরতে হবে না।’

    জগন্নাথ জানলার গ্রিলে মাথা ঠেকিয়ে ভাল করে দেখতে চাইল। হ্যাঁ, ওই তো, জলই তো! যতদূর চোখ যায়। রাস্তার তীব্র তীক্ষ্ণ আলো পড়ে সেই জল কোথাও কোথাও চকচক করছে। ছুটে যাওয়া গাড়ির হেডলাইটে কেঁপে কেঁপে উঠছে!

    হাওয়ায় একটা জোলো, সোঁদা গন্ধ না?

    রঞ্জনার ঘরে-ঢাকা আওয়াজে সংবিৎ ফিরল জগন্নাথের।

    ‘দেখছ তো, তুমি ফ্ল্যাটটার কেমন প্রেমে পড়ে গেছ? জানলা থেকে নড়তেই চাইছ না।’

    জগন্নাথ মুখ না ফিরিয়েই বিড়বিড় করে বলেছিল, ‘না ঠিক তা নয়…।’

    রঞ্জনা দরজা আটকে দ্রুত হাতে পোশাক বদলাতে থাকে। এখানে আসার পর মনের মতো একটা রাত্রিবাস কিনেছে সে। এমনিতে গা দেখা যায় না, তবে খুলতে সোজা। আগেরটায় জগন্নাথ কতবার যে গিট পাকিয়ে ফেলেছিল।

    ‘আহা লজ্জার কী আছে? কেনার সময় কিন্তু কম গালাগালি দাওনি।’

    জগন্নাথ ফিসফিস করে বলল, ‘একবার এদিকে এসো রঞ্জনা।’

    ‘কী হয়েছে?’

    জগন্নাথ খানিকটা ভূতগ্রস্তের মতো গাঢ় গলায় বলে, ‘একটা জিনিস দেখে যাও।’

    পিছন ফিরে শাড়ি খোলে রঞ্জনা। অন্তর্বাসের জঞ্জাল থেকে মুক্ত হতে হতে বলে, ‘এত ওপর থেকে একটা কেন, সবটাই ভাল। তুমি সিগারেটটা ফেলো দেখি, ফ্ল্যাটে সিগারেটে খুব অসুবিধে হয়।’

    হাতের সিগারেট হাতেই পুড়ছিল জগন্নাথের। দিঘি তার জল, আলো, ছায়া নিয়ে সরে গেছে ততক্ষণে! আবার সেই ঘরবাড়ি। সেই ফুটপাথ দিয়ে হেঁটে যাওয়া দু’-একটা রাতের মানুষ। সেই এটিএম বুথ। সেই মোবাইল শপের ঝলমলে আলো।

    রাত্রিবাসের বুকের বোতাম না আটকেই রঞ্জনা জগন্নাথের পাশে এসে দাঁড়াল। দাঁড়াল ঘনিষ্ঠ হয়ে। স্বামীকে শরীরের স্পর্শ দিয়ে। এত ওপরে এই আরেক সুবিধে। আশেপাশে থেকে উঁকি মারার কেউ নেই। জগন্নাথ যদি তাকে এখন জড়িয়ে চুমুও খায় কেউ দেখতে পাবে না। সন্তোষপুরের বাড়িতে এটা অসম্ভব ছিল। চুমু তো দূরের কথা, দু’জনে মিলে একটু ঘনিষ্ঠ হয়ে বসার পর্যন্ত উপায় ছিল না।

    ‘কী দেখছ?’

    জগন্নাথ অন্যমনস্ক গলায় বলল, ‘জানো রঞ্জনা, এইমাত্র ওদিকটায়, ওপাশে…।’

    জগন্নাথ চুপ করতে রঞ্জনা ভুরু কুঁচকে বলল, ‘কী ওপাশে?’

    জগন্নাথ নিজেকে সামলাল। সে যা দেখেছে সেকথা রঞ্জনাকে বলতে গেলে একটা বিরাট হাসাহাসির কাণ্ড হবে। ঘটনা তো হাসাহাসিরই। রাস্তার পাশে বাড়িঘর গজাতে পারে, দোকানপাট বসতে পারে, একটা বড়সড় দিঘি তো তৈরি হতে পারে না।

    রঞ্জনা বলল, ‘কী হল, বললে কী দেখেছ?’

    জগন্নাথ সিগারেটের টুকরো জানলা গলিয়ে ফেলে দিল, তারপর হেসে জড়িয়ে ধরল স্ত্রীকে।

    ‘দেখি, একটা লোক রাস্তার ওপাশে, ফুটপাত ধরে দৌড় দিচ্ছে।’

    রঞ্জনা চোখ বড় করে বলল, ‘সে কী গো। মারামারি নাকি?’

    জগন্নাথ স্ত্রীর দিকে ঘন হয়ে এসে বলল, ‘মনে হয় না।’

    ‘মনে হয়, বাড়িতে বউ অপেক্ষা করছে। তোমার মতো এইরকম সুন্দর হয়ে।’

    রঞ্জনা হাত দিয়ে স্বামীর মুখ সরিয়ে লজ্জা লজ্জা হাসল। ঠোঁট বেঁকিয়ে বলল, ‘যাঃ যত ফাজলামি। নিজের ফ্ল্যাটে এসে খুব ফাজলামি বেড়েছে না?

    পরদিন থেকে আর মিথ্যে দিঘির কথা মনে রাখেনি জগন্নাথ। রাতে মানুষ কতরকম ভুল শোনে, ভুল দেখে সব কি মনে রাখা যায়? নাকি রাখতে হয়?

    মনে পড়ল আবার আজ সকালে। প্রায় দশদিন পেরিয়ে। আবার দিঘিটা দেখার পর।

    রঞ্জনা এখনও ওঠেনি। সন্তোষপুরে অনেক ভোরে বিছানা ছাড়ত। এখানে ঘুম ভাঙার পরও খানিকটা গড়িয়ে নেয়। বারান্দায় এসে দাঁড়িয়েছিল জগন্নাথ। একেবারে কাক ভোরে যাকে বলে। শহরের ঘুম ভাঙব ভাঙব করছে। রাস্তায় একটা দুটো করে লোকজন হাঁটছে। গাড়ি চলতে শুরু করেছে অল্প অল্প। বেশ লাগছে। অনেকটা ওপর থেকে লোকজন, পথঘাট দেখতে অন্যরকম লাগে। নিজেকে সবার থেকে আলাদা মনে হয়। ক’টা বছর কষ্ট করে যদি দেনার বোঝা হালকা করা যায়, তা হলে বলতে হবে রঞ্জনা সত্যি একটা সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মেয়েরা একই সঙ্গে অবুঝ আর সাহসী হয়। রঞ্জনা সাহস না করলে সে কিছুতেই এত খরচ করে ফ্ল্যাটটা নিত না।

    সাতপাঁচ ভাবতে ভাবতে জগন্নাথ মুখ তুলে তাকায় এবং আবার দিঘিটা দেখতে পায়। দিনের আলোয় জলরেখা স্পষ্ট! একটু একটু যেন ঢেউও আছে! একটা পানকৌড়ি পর্যন্ত!

    রঞ্জনা প্লেটে ভাত তুলতে তুলতে মুচকি হেসে বলল, ‘জল মানে? সুইমিংপুল?’

    কষ্ট করে হাসল জগন্নাথ।

    ‘ঠাট্টা করছ?’

    ‘বাঃ তুমি বালিগঞ্জের রাস্তায় আস্ত একটা দিঘি দেখতে পাচ্ছ আর আমি ঠাট্টা করতে পারব না?’

    জগন্নাথ বউয়ের কাছে স্মার্ট হতে চাইল।

    ‘দিঘি দেখতে পাচ্ছি তো বলিনি, বলেছি দিঘির মতো লাগছিল।’

    ‘মরীচিকা?’

    এখানে আসার পর খাওয়ার দাওয়ার ব্যবস্থা রঞ্জনা সবই কাচের প্লেটে করেছে। প্লেটগুলোও সুন্দর। পাশে হালকা নকশা। আগে ভাতেই মুসুরির ডাল ঢেলে দিত। এখন ডালের জন্যও আলাদা বাটি। সেই বাটি টেনে নিতে নিতে জগন্নাথ বলল, ‘মরীচিকা ঠিক নয়, এক ধরনের আলো ছায়ার মায়া বলতে পারো। কে জানে হয়তো এতটা ওপর থেকে কোনও কোনও সময় আলো এমনভাবে পড়ছে মনে হচ্ছে জলের মতো। চকচক করছে।’

    ‘আর বাড়িঘর, দোকানবাজারগুলো সব যাচ্ছে কোথায়? জলে ডুব মারছে?’

    মুখ টিপে হাসল রঞ্জনা। তারপর প্লেটে ভাত তুলে দিতে দিতে বলল, ‘ঠিক আছে আমি দেখব তো, আলো নিশ্চয় তোমার জন্য একা পড়বে না। আমার জন্যও পড়বে। আমাকেও দিঘি দেখাবে। ভালই হবে। ফ্ল্যাট থেকে খানিকটা নেচারল বিউটি পাওয়া গেল।’

    ‘তুমি কিন্তু আবার ঠাট্টা করছ রঞ্জনা।’

    ‘আচ্ছা, করব না, আসলে কী হয়েছে জানো, টাকাপয়সার চিন্তায় তোমার মাথা এলোমেলো হয়ে গেছে। সেই কারণে তুমি যা-তা দেখতে শুরু করেছ। এখন বালিগঞ্জে জল দেখছ, এরপর শ্যামবাজারে পাহাড় দেখাবে।’

    জগন্নাথ এবার লজ্জা পেল। না, দুম করে ঘটনাটা রঞ্জনাকে বলা উচিত হয়নি। সত্যি তো একটা ছেলেমানুষি কাণ্ড। চিন্তাভাবনার মধ্যে থাকলে কত কী যে হয়। জগন্নাথ খাওয়ায় মন দিল। অফিসে লেট হয়ে যাবে। সামনে একটা প্রোমোশনের চান্স আছে। হয়ে গেলে মাইনে বাড়বে। এখন মাইনে বাড়ার খুব প্রয়োজন। খেতে খেতেই মনকে শক্ত করল জগন্নাথ। যেন পণ করল, আর কিছুতেই উলটোপালটা দেখবে না।

    মজা হল, মানুষের অনেক কিছুর ওপর যেমন নিয়ন্ত্রণ থাকে তেমন আবার অনেক কিছুর ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকে না। বিশেষ করে নিজের ওপর। জগন্নাথেরবেলাতেও তাই ঘটল। সে আবার পথের ধারে ঘরবাড়ি মানুষ শূন্য করে দিঘিটা দেখতে পেল। এবার অনেক দ্রুত এবং পরপর।

    সাইক্রিয়াটিস্ট ভদ্রলোক গম্ভীর ধরনের মানুষ। ভারী গলায় বললেন, ‘আপনি কি বিশ্বাস করেন যে আপনি সত্যি সত্যি জিনিসটা দেখতে পাচ্ছেন?’

    ‘না, ডাক্তারবাবু আমি বিশ্বাস করি না।’

    জগন্নাথ ভেবেছিল, এই স্বীকারোক্তিতে ডাক্তার খুশি হবেন। হলেন না। ভদ্রলোকের মুখ আরও গম্ভীর হয়ে গেল। ‘হ্যালুসিনিশনের এটাই সমস্যা। গোড়াতে মিথ্যে বলেই বিশ্বাস হয়। পরে সেই বিশ্বাস বদলায়।’

    ‘কী হয়?’

    ডাক্তার এ প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর না দিয়ে বললেন, ‘ঝামেলা করে।’

    জগন্নাথ কঁদোকাঁদো বলল, ‘ডাক্তারবাবু, আমার কি মাথার গোলমাল হয়েছে?’

    সাইক্রিয়াটিস্ট ভদ্রলোক এতক্ষণ পরে সামান্য যেন হাসলেন।

    ‘মাথায় কখনও গোলমাল হয় না। গোলমাল থাকে। কারওটা ধরা যায়, কারওটা ধরা যায় না’

    ‘আমারটা কি ধরা গেছে?’

    ‘মনে হয় না। হ্যালুসিনেশনে আমরা সকলেই ভুগি। তবে আপনার মতো একটানা হয় না। তার ওপর একটা অন্যরকম। ইট কাঠ পাথর সরিয়ে একটা ওয়াটার বডি দেখতে পাচ্ছেন.. আচ্ছা, আপনার দেশ কোথায়? আপনি কি গ্রামে বড় হয়েছেন? অনেক সময় স্মৃতি ভিসুয়ালি ফিরে আসে।’

    জগন্নাথের খুব খারাপ লাগছে। বিষয়টা যে এত প্রকটভাবে দেখাবে সে ভাবতেও পারেনি। রঞ্জনাও খুব আপসেট হয়ে পড়েছে। যে হাওয়া-বাতাসের জানলাটার জন্য এত দাম দিয়ে ফ্ল্যাট কেনা সেটাই পাকাঁপাকি বন্ধ করে দিয়েছে। মজার কথা হল, সাততলার ওপর থেকে ছাড়া দিঘিটা কখনও দেখাও দেয়নি! অন্তত আজ পর্যন্ত তো নয়ই। রঞ্জনাই তাকে সাইক্রিয়াটিস্টের কাছে জোর করে পাঠাল। নিজেও আসতে চেয়েছিল। জগন্নাথই রাজি হয়নি। বলেছে, ‘আগে আমি যাই, সিরিয়াস কিছু হলে তুমি যেয়ো।’

    ডাক্তার বললেন, ‘কী হল বললেন না, দেশের বাড়িতে কোনও পুকুরটুকুর আছে?’

    জগন্নাথ গলা নামিয়ে বলল, ‘ডাক্তারবাবু, দেশের বাড়ি বলতে আমার আলাদা কিছু নেই। কলকাতাতেই আমার জন্ম। এখানেই লেখাপড়া, বড় হয়েছি।’

    ডাক্তার প্রেসক্রিপশনের প্যাড টেনে নিয়ে বললেন, ‘কোনওরকম টেনশন আছে?’

    জগন্নাথ একটু চিন্তা করল। ভাঙা গলায় বলল, ‘ফ্ল্যাটটা অনেক খরচ করে কিনেছি, অনেকটা লোন, তা ছাড়া…।’

    ‘তা ছাড়া কী?’ চশমার ওপর দিয়ে তাকালেন ডাক্তার।

    ‘তা ছাড়া অফিসে একটা প্রোমোশনের ব্যাপারও আছে।’

    ‘ও। এটাই তো আগে বলবেন। চিন্তা করবেন না। স্ট্রেস থেকে হ্যালুসিনেশন একটা কমন ব্যাপার। ওষুধ লিখে দিচ্ছি, আজ থেকেই শুরু করবেন। থ্রি উইকস পরে রিপোর্ট করবেন। আশা করি তার মধ্যে অনেকটা ঠিক হয়ে যাবেন।’

    জগন্নাথ একটু চুপ করে থেকে বলল, ‘এরকম কেন হচ্ছে ডাক্তারবাবু? আমার ভয় করছে। স্ত্রীও ভীষণ ঘাবড়ে গেছে।’

    গম্ভীর ডাক্তার আবার সামান্য হাসলেন।

    ‘এরকম কেন হচ্ছে সেটা বোঝালে জটিল হয়ে যাবে। আসলে এত চাপ, উদ্বেগ আপনার ভেতরে কোনও কেমিক্যাল রিঅ্যাকশন শুরু করেছে। তারা আপনার অবচেতনে একধরনের মুক্তির পথ খুঁজছে। খুব সম্ভবত দিঘিটা এক ধরনের সিম্বল। প্রতীক। আপনার উদ্বিগ্ন মনের খোলামেলা কোনও মুক্তির পথ। এটা জল না হয়ে জঙ্গলও হতে পারত। মাসখানেক কেটে গেলে মিসেসকে নিয়ে বাইরে থেকে কোথাও ঘুরে আসবেন।

    জগন্নাথ খানিকটা আশ্বস্ত হল

    ‘থ্যাঙ্কু ডাক্তারবাবু। শেষ একটা কথা জিজ্ঞেস করছি, আমি কি জানলাটা খুলব?’

    ‘অফকোর্স। আপনার দিঘি তো আপনার ফ্ল্যাটের জানলার বাইরে নেই, আছে আপনার মনের ভেতরে। আশা করি আমার ওষুধ মন থেকে তাকে দূর করবে।’

    তিন সপ্তাহ লাগল না, দু’সপ্তাহ যেতে না যেতে ওষুধ কাজ দিল। খুব ভালভাবেই দিল। রঞ্জনা দারুণ খুশি। জগন্নাথও। এর মধ্যে আবার দুটো কাণ্ড ঘটেছে। জগন্নাথের অকৃতদার বড়মামা মারা গেছেন। মৃত্যুর আগে ভাগনেকে তাঁর বারাসতের জমির একটা অংশ লিখে দিয়ে গেছেন। বিক্রি করলে হেসে খেলে এই ফ্ল্যাটের দাম অনেকটা উঠে আসবে। আর দু’নম্বর কাণ্ড হল, জগন্নাথের প্রমোশনটা হয়ে গেছে।

    রাতে রঞ্জনা দক্ষিণের জানলার সামনে দাঁড়িয়ে বলল, ‘দেখলে তুমি টেনশন করতে করতে কেমন অসুস্থ হয়ে পড়ছিলে। কই এসো তো, দেখো দিকি তোমার ওইসব পুকুর, দিঘি, সমুদ্র আর দেখতে পাও কিনা।’

    জগন্নাথ জানত দেখতে পাবে না। তবু সে এগিয়ে এল। তাকিয়ে দেখল, না, কিছুই নেই। সেই ঘরবাড়ি, দোকানের সারি। এত রাতেও আলোয় উজ্জ্বল।

    রঞ্জনা হেসে ফিসফিস করে বলল, ‘পাগল একটা।’

    জগন্নাথ বলল, ‘আসলে টাকা পয়সা নিয়ে চিন্তা করতে করতে…।’

    জগন্নাথ একেবারে ঠিক হয়ে গেছে। সে আর কখনওই তার হাওয়ায় ভেসে যাওয়া ফ্ল্যাটের ওপর থেকে টলটলে জলের মিথ্যে দিঘিটা দেখতে পায় না। তবে নতুন কাউকে ফ্ল্যাটের ঠিকানা দিতে গেলে মজা করে বলে—

    ‘ফ্লাইওভারটা পেরোলেই দেখবেন একটা দিঘি। খুব বড়। জল একেবারে টলমল করছে। এর উলটোদিকের ফ্ল্যাটের সাততলায়…।’

    ডাক্তারবাবু বা রঞ্জনা এই মজার কথা জানতে পারে না।

    নতুন গল্পপত্র, জানুয়ারি ২০০৯

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleধুলোবালির জীবন – প্রচেত গুপ্ত
    Next Article দেরি হয়ে গেছে – প্রচেত গুপ্ত

    Related Articles

    প্রচেত গুপ্ত

    দেরি হয়ে গেছে – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    ধুলোবালির জীবন – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    রুপোর খাঁচা – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    মাটির দেওয়াল – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    নুড়ি পাথরের দিনগুলি – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    নিষাদ – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }