Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    পঞ্চাশটি গল্প – প্রচেত গুপ্ত

    প্রচেত গুপ্ত এক পাতা গল্প833 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    চেয়ার

    হ্যাটট্রিক হল। পরপর তিন দিন। শেষ ঘটনাটা ঘটে শনিবার। শনিবার রাতে। এক-একজন বাড়িওলা ভাড়া আদায়ের জন্য ভাড়াটেকে এক-এক রকম থেরাপি দেয়। গালমন্দের থেরাপি, জল বন্ধের থেরাপি, গুন্ডা লেলানোর থেরাপি। অবনী ঘোষালের থেরাপি হল ‘বসে থাকা থেরাপি’। তিনি ভাড়াটের বাড়ি গিয়ে বসে থাকেন। ভাড়ার কথা কিছু বলেন না, কোনও কথাই বলেন না। শুধু চুপ করে বসে থাকেন। চা দিলে ভাল, না দিলে ক্ষতি নেই। কিছু মনে করেন না। তবে উনি কোন সময় যাবেন সেটা নির্ভর করে কতদিন ভাড়া বাকি আছে তার ওপর। দিন যত বেশি হয় রাত তত বাড়ে। এমনও হয়েছে অবনী ঘোষাল রাত দেড়টার সময় গিয়ে উপস্থিত হয়েছেন। ভাড়াটে দরজা খোলার পর লজ্জা লজ্জা মুখ করে বলেছেন, ‘এত রাতে এসে বিরক্ত করলাম। খারাপ লাগছে ভাই, খুবই খারাপ লাগছে। আপনারা ব্যস্ত হবেন না। ঘুমোতে যান। আমি বরং কিছুক্ষণ বসি। অসুবিধে নেই। শুধু পাখাটা দয়া করে একটু ছেড়ে দেবেন ভাই। কী গরমটাই না পড়েছে।’

    শনিবার সেই অবনী ঘোষাল এলেন। এলেন রাত ন’টার সামান্য পরে। গৌরী তখন রান্নাঘরে। দ্রুত হাতে রুটি বেলছে। মনের ভেতরে চাপা টেনশন। টেনশনের কারণে রুটির মাপে গোলমাল হয়ে যাচ্ছিল। গৌরীর এই এক অসুবিধে। রুটি বেলার সময় টেনশন হলে মাপে গোলমাল হয়। রুটি ছোট বড় হয়ে যায়। সেদিন গৌরীর টেনশন ছিল গ্যাস নিয়ে। যে-কোনও সময় গ্যাস ফুরিয়ে যেতে পারে। তিন দিন আগেই সিলিন্ডারের সময় পেরিয়ে গেছে। চাটুর তলায় আগুনের নীল শিখা দপ দপ করে সিগন্যাল দিচ্ছে। ‘ম্যাডাম, আমি চললাম, টা টা’ ধরনের সিগন্যাল। এই সিগন্যাল ফলস হতে পারে। হয়তো গৌরীর সঙ্গে মজা করছে। টানাটানির সংসারের সঙ্গে সবাই মজা করে। চাল, ডাল, তেল, গ্যাসের সিলিন্ডার— সবাই। গৌরী মনে মনে চাইছিল, এটাও মজা হোক। মজা হলে ভাল, নইলে বিপদ। এই মাসে নতুন গ্যাসের সিলিন্ডার আনার কোনও উপায় নেই। চাল, ডাল তাও ধার বাকিতে হয়, গ্যাস সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে এখনও ধার সিস্টেম চালু হয়নি। সেই কারণেই গৌরীর টেনশন। রুটিও হচ্ছিল ছোট-বড়। এমন সময় বাড়িওলা এলেন। তবে মানুষটা ঝামেলা পাকাননি একটুও। ভাড়া মাত্র দিন সাতেকের বকেয়া পড়েছে। সেই হিসেব কষে বারান্দার চেয়ারে মিনিট দশ বসলেন মাত্র। চা, জল কিছুই খেলেন না। তারপর ‘আচ্ছা, আজ চলি’ বলে উঠে পড়লেন।

    আর তখনই ঝুম্পার নজরে পড়ে।

    বারান্দায় কম পাওয়ারের হলুদ আলোতেই সে দেখতে পায়— অবনী ঘোষালের পাঞ্জাবি ছিঁড়েছে। ছিঁড়েছে কোমরের একটু ওপরে। তিন কি চার আঙুল ওপরে। ছেঁড়া খুব বড় নয়। মনে হচ্ছে কেউ নখ দিয়ে খাবলা মেরেছে। ছেঁড়া কাপড়ের চারপাশে বেরিয়ে এসেছে রোঁয়ার মতো সাদা সুতো। বারান্দার অল্প হাওয়ায় তারা উড়ছে। উড়ছে ফুরফুর করে। যেন ময়ূরের পেখম!

    ঝুম্পা দরজা লাগিয়ে তাড়াতাড়ি ছুটে যায় রান্নাঘরে। মাকে ঘটনা বলে। গৌরী রুটি বেলা থামিয়ে চোখ বড় করে, ‘বলিস কী, আবার।’

    ‘হ্যাঁ মা আবার, এবার বেশ অনেকটা, এই এতখানি। চেয়ারের খোঁচে লাগলে যেমন হয়। এবারও বোধহয় পেরেক বা কাঠের টুকরোয় লেগেছে।’

    গৌরী ভয়ে ভয়ে বলে, ‘দেখতে পায়নি তো?’

    ‘খেপেছ। ছিঁড়েছে তো পেছনে, দেখবে কী করে? বুড়োর পেছনে তো আর চোখ নেই। হি হি।’

    গৌরী চিন্তিত মুখে বলল, ‘হাসিসনি ঝুম্পা। এই নিয়ে দু’দিন হল। ওই চেয়ারে জামাকাপড় ছিঁড়ল।’

    ঝুম্পা ভুল ধরিয়ে বলল, ‘দু’দিন না মা, তিন দিন। পরপর তিন দিন হল। একেবারে হ্যাটট্রিক। একটা কাজ করব? চেয়ারটার গায়ে একটা কাগজ সেঁটে দেব? সেখানে লেখা থাকবে— সাবধান। সাবধান। সাবধান। এই চেয়ারে বিপদ আছে। জামাকাপড় ছিঁড়িলে কর্তৃপক্ষ দায়ী নহে। হি হি। লিখব মা?’

    আবার রুটিতে মন দিল গৌরী। কিন্তু মন পুরো বসছে না। বসবে কী করে। এ আবার কী অলুক্ষুনে কাণ্ড শুরু হয়েছে। রোজ রোজ মানুষের জামাকাপড় ছিঁড়ছে। ছি ছি। গৌরীর টেনশন বাড়ছে। সে মাথা ঠান্ডা করার চেষ্টা করল। নইলে সমস্যা। রুটির মাপে গোলমাল হলে শিবনাথ বিরক্ত হয়। গত মাসেই তো হল। ঝগড়াও হা এক প্রস্থ।

    ‘আবার তুমি ঝামেলা করেছ? এক-একটা রুটি এক-এক সাইজের। আগের তিনটে যেরকম ছিল, এটা তার থেকে বড়। একটু বড় নয়, বেশ বড়। ডবল না হোক, দেড়া তো বটেই। তুমি নিজেই দেখো।’

    গৌরী জানে, ঘটনা সত্যি। তার মাথার ঠিক নেই। কয়েকটা দিন ধরে পাগল পাগল অবস্থা। এই অবস্থা নিয়ে রুটির মাপে যে গোলমাল হবে তার আর আশ্চর্য কী? কদিন পরেই মেয়ের মাধ্যমিক। সামনের সপ্তাহে ফি জমা দেওয়ার তারিখ। তার ওপর টেস্ট পেপার, পেন, পেনসিল, ক্লিপ লাগানো লেখার বোর্ড কিনতে হবে। সব থেকে বড় কথা হল, মেয়ের কোচিং-এর টাকা। এক মাসের নয়, তিন মাসের টাকা। কোচিংওলারা মহা বদ। অ্যাডভান্স না দিলে লাস্ট মিনিটের সাজেশন দেয় না। কিছু টাকা দেওয়া আছে। পুরোটা যায়নি। ইতিহাস আর অঙ্কের সাজেশন আটকে রেখেছে। পুরো পেমেন্ট হলে তবে দেবে। ইতিহাস নিয়ে চিন্তা নেই, কিন্তু অঙ্কটা লাগবেই। মেয়ে অঙ্কে বিরাট গাধা হয়েছে। গরিব ঘরের ছেলেমেয়ে অঙ্কে গাধা হলে সমস্যা। একবার ফেল মারলে বারবার ফেল মারতে থাকে। সুতরাং যে-কোনওভাবে বাকি টাকা জোগাড় করে সাজেশন আনতে হবে। অথচ তখনও মেয়ের বাবার বেতন হয়নি। এই অবস্থায় রুটি ছোট-বড় হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়।

    স্বামীর বিরক্তি দেখে গৌরীর রাগ হয়। তবু সে নিজেকে শান্ত রাখে। ঠান্ডা গলায় বলে, ‘ও তোমার মনের ভুল। নাও হাত সরাও, তরকারি দিই। কুমড়ো কেমন হয়েছে? বাদাম দিয়েছি। কুমড়োতে বাদাম দিলে একটা চিংড়ি মাছের মতো গন্ধ হয়। গন্ধ হয়েছে কিনা। দেখো।’

    গৌরীর কথায় কান না দিয়ে শিবনাথ হাত বাড়িয়ে বাটিতে রাখা রুটির গোছা তুলে ধরে। বলে, ‘নাও দেখো, মনের ভুল কিনা নিজেই দেখো। তাকিয়ে দেখো এক-একটা এক-একরকম সাইজের।’

    ঝুম্পা সাধারণত খায় তার বাবার পাশে বসে। সেদিন বসেছিল উলটো দিকে। মায়ের কথামতো বাদামে চিংড়ি মাছের গন্ধ পাওয়ার চেষ্টা করছিল সে। পাচ্ছিল না। না পাওয়ারই কথা। এগারো দিন হতে চলল এ বাড়িতে মাছ-মাংস ঢুকছে না। প্রথম দু’দিন স্টকে ডিম ছিল, এখন সেই স্টকও ফুরিয়েছে। ঝুম্পা নিশ্চিত, আর ক’টা দিন এভাবে চললে মাছ- মাংসের স্বাদ, গন্ধ সবই সে ভুলে যাবে। মনে হয় সেই প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। চিংড়ি মাছ দিয়েই শুরু হয়েছে। গন্ধ ভুলে যাওয়ার বিষয়টা মাথায় আসতেই তার মজা লাগল। সে মুখ তুলে বলল, ‘বাবা, কম্পাস নিয়ে আসব? তুমি ব্যাসার্ধ মেপে মেপে দেখাবে রুটি ছোট-বড় হয়েছে কিনা!’

    গৌরী নিজের মনে গজগজ করতে করতে বলে, ‘মাসের শেষ হতে চলল, এখনও মাইনে হল না। ঘরে একটা ফুটো কড়ি পর্যন্ত নেই। ওদিকে মেয়ের পরীক্ষা আর উনি বসে বসে গজ-ফিতে দিয়ে রুটি মাপছেন!’

    শিবনাথ চুপ করে গিয়েছিল। না গিয়ে উপায় নেই। গৌরীর কথা মিথ্যে নয়। তখনও মাইনে হয়নি শিবনাথের। তার অফিসে বছরের মধ্যে অন্তত তিনবার এই ঘটনা ঘটে। ঠিক সময়ে বেতন হয় না। আসলে কোম্পানির অবস্থা খারাপ। পুরো খারাপ নয়। খানিকটা খারাপ। পুরো খারাপ হলে ল্যাটা চুকে যেত। কোনও কিছুই খানিকটা হওয়া ভাল নয়। গৌরীর বেশ মনে আছে, শিবনাথ চুপ করে গেলেও সেদিন অনেক রাত পর্যন্ত সে একাই ঝগড়া করেছে। মাঝেমধ্যে কেঁদেছেও।

    এই কারণেই গৌরী আপ্রাণ চেষ্টা করতে লাগল রুটিতে মন বসাতে। ঝুম্পার কথাটা ঠিক। বাড়িওলাকে নিয়ে জামাকাপড় ছেঁড়ার ঘটনা তিনবার হল। প্রথম আক্রমণ ছিল শাড়ি। উমার শাড়ি। গোলগাল ফরসা সুন্দর দেখতে মেয়ে উমা। বয়স কম। পাশের ফ্ল্যাট বাড়িতে থাকে। মাঝে মাঝে বিকেলে গৌরীর কাছে এসে শাশুড়ি-ননদের নিন্দে করে যায়। বৃহস্পতিবার এসেছিল জায়ের নামে বলতে। পরপর দু’কাপ চা খেল। উঠতে যাওয়ার সময় চেরা একটা আওয়াজ। কাপড় ছেঁড়ার আওয়াজ। গৌরী, উমা দু’জনেই সেই আওয়াজ শুনতে পেয়েছে। আওয়াজ সন্ধান করতে দেখা গেল, উমার হাঁটুর পিছনে চেয়ার কামড় বসিয়েছে। ডান পায়ার পাশ থেকে মুখ বের করা পেরেক দামি শাড়ি ফালা করে দিয়েছে। প্রায় এক বিঘতের মতো কাপড় ঝুলছে। উমা কেঁদে ফেলে। শাড়ি জায়ের। গৌরীর মনে হচ্ছিল, লজ্জায় মাটিতে মিশে যায়। সমস্যা হল, লজ্জায় অনেক কিছু হয়, কিন্তু মাটিতে মিশে যাওয়া যায় না।

    পরদিন চেয়ার আঁচড় বসাল বিশ্বনাথের জামায়। বিশ্বনাথ শিবনাথের কলিগ। শৌখিন মানুষ। বেতনে গোলমাল হলেও পরিপাটি করে চুল আঁচড়ায়। নিখুঁতভাবে দাড়ি কামায়। রঙিন জামা পরে। সেদিন তার জামা অবশ্য রঙিন ছিল না। ছিল সাদা জামা। সেই সাদা জামার বাঁ কাঁধে বেতের ধারালো মুখ বিঁধল। একটা নয়, একসঙ্গে তিনটে মুখ। তিনটে আঙুলের মতো। উমার শাড়ি ছেঁড়ার শব্দ হয়েছিল, বিশ্বনাথের বেলায় ঘটনা ঘটল নিঃশব্দে।

    রাতে খাওয়ার টেবিলে গৌরী বলল, ‘চেয়ারটা নিয়ে এবার একটা কিছু করো। ছি ছি। ভদ্রলোকের বাড়িতে এ কী কাণ্ড! রোজ রোজ মানুষের জামাকাপড় ছিঁড়ছে। ইস, মাগো, লজ্জায় মরে যাচ্ছি।’

    শিবনাথ বলল,‘ওটাকে ভেতরে ঢুকিয়ে দিলেই তো হয়। ঠিক আছে, কালই ঢুকিয়ে দেব।’

    গৌরী মুখ তুলে বলল, ‘তারপর? ভাঙা চেয়ার না হয় লুকোলে, কিন্তু বাইরের কেউ এলে বসবে কোথায়? আমাদের কি সোফা পাতা ড্রইংরুম আছে? সে মুরোদও তোমার নেই। নতুন চেয়ার কেনার ক্ষমতাই নেই, তো সোফা।’ কথা শেষ করে গৌরী ‘ফুঃ’ ধরনের একটা আওয়াজ করে।

    ‘এখানে মুরোদের কী আছে? বাইরেই যে বসতে হবে তার কী মানে? ভেতরে এসে বসবে।’

    গৌরী অবাক হয়। মানুষটা বলে কী? টাকাপয়সার চিন্তায় মাথাটা একেবারে গেল নাকি? ভেতরে বসবে মানে? ভেতর বলতে তো দেড়খানা মাত্র ঘর। বড়টায় তাদের দু’জনের শোওয়ার ব্যবস্থা। আর আদ্দেক যেটা, সেটা মেয়ের। সেও তো বড় হয়েছে। তারও তো একটা আলাদা জায়গা চাই। নাকি চাই না?

    গৌরী খাওয়া থামিয়ে শান্ত গলায় বলল, ‘ভেতরে বসবে কোথায়? আমার খাটে? আর আমি কী করব? অতিথিকে হারমোনিয়াম বাজিয়ে গান শোনাব? কোন গান শোনাব সেটাও বলে দাও।’

    ঝুম্পা ‘হি হি’ আওয়াজে হেসে ওঠে। শিবনাথ তাড়াতাড়ি বলল, ‘ঠিক আছে, ঠিক আছে। কাল রবিবার, দেখি কিছু একটা করা যাবে।’

    গৌরী অবাক গলায় বলল, ‘রবিবার তো কী হয়েছে? সকালে বাড়ি বসে চেয়ারকে সহবত শেখাবে নাকি? বাবা-বাছা করে বোঝাবে?’ ঝুম্পা এবার হাসতে গিয়ে বিষম খায়। শিবনাথ থালা সরিয়ে উঠে পড়ে। না, অপমানের একটা সীমা আছে। এরা কি জানে না, হুট বলতে একটা জিনিস কেনা অত সহজ নয়? টাকা লাগে। জানে না? নাকি জেনেও না জানার ভান করছে?

    পরদিন ঘুম থেকে উঠেই শিবনাথ চেয়ার নিয়ে পড়ল। সে প্রতিজ্ঞা করেছে, আজ একটা হেস্তনেস্ত করে তবে ছাড়বে। এই ঘটনার শেষ দেখবে সে। ওই চেয়ারের সামনে, পেছনে, ওপরে, নীচে যেখানে যত দাঁত-নখ আছে, একটা একটা করে উপড়ে ফেলে তবে থামবে। স্ত্রীর অপমান, মেয়ের হাসি অনেক হয়েছে। আর নয়। এনাফ ইজ এনাফ।

    ভাঙা চেয়ারের খোঁচ ওপড়ানোর জন্য শিবনাথ আয়োজন করল বিরাট। হাতুড়ি, সাঁড়াশি, স্ক্রুড্রাইভার, টর্চ। এই টর্চ সুইচ টিপলে জ্বলে না। থাবড়া দিয়ে জ্বালাতে হয়। তিন থাবড়ায় একবার জ্বলে। কাজে বসার আগে শিবনাথ মেয়ের কাছে সর্ষের তেল চাইল। খানিক পরে তেল ছাড়াই ফিরে এল ঝুম্পা। বলল, ‘মা জিজ্ঞেস করছে, চেয়ার সারাতে তেল কেন? তেল কি তুমি গায়ে মাখবে বাবা? চেয়ারের সঙ্গে কুস্তি লড়বে নাকি?’

    রসিকতা গায়ে মাখল না শিবনাথ। তবে সত্যি তাকে কুস্তিই লড়তে হল। উলটে, পালটে, সোজা করে বেঁকিয়ে অনেক কসরত চলল চেয়ারের সঙ্গে। অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই বুঝতে পারল, বিষয় অত সোজা নয়। হারামজাদা যেন চেয়ার নয়, আস্ত একটা শয়তান! তার সঙ্গে খেলছে। ভয়ংকর খেলা খেলছে! ছোট পেরেক, বেতের ধারালো মুখ, কাঠের মাথার খোঁচগুলো দেখতে দিচ্ছে না। হাতুড়ি তুললে গা ঢাকা দিচ্ছে পায়া হাতলের খাঁজে, মুখ লুকোচ্ছে বসার জায়গায় অথবা ব্যাক রেস্টের মাঝখানে। যে ক’টা দেখা যাচ্ছে তারাও সাঁড়াশি বাগালে ঝকঝকে দাঁত বের করে হেসে ফসকে পালাচ্ছে এদিক-ওদিক।

    ঘেমে একশা হল শিবনাথ। তবু হাল ছাড়ল না। ঘণ্টাখানেকের চেষ্টায় লাফিয়ে, ঝাঁপিয়ে, হামাগুড়ি দিয়ে খোঁচগুলো সব টেনে, হিঁচড়ে, ভেঙে, মুচড়ে চেয়ার থেকে আলাদা করে ফেলল। তারপর টর্চ জ্বেলে তন্নতন্ন করে তল্লাশি চালাল কাঠ, বেতের আনাচে-কানাচে, ফাঁকফোকরে। আর নেই তো? না নেই। ঘাম মুছে হাঁপ ছাড়ল শিবনাথ। হাত-পা ছড়িয়ে বসে পড়ল মেঝেতে। চেয়ারের দিকে তাকিয়ে আপনমনেই হাসল। বিজয়ের হাসি। যাক, আজ থেকে মেয়েটা নিশ্চিন্তে এই চেয়ারে বসে পড়তে পারবে। কোনও ভয় নেই। সন্ধের পর বারান্দায় হাওয়া দেয়। পরীক্ষার আগে টাটকা হাওয়া শরীরের পক্ষে একটা উপকারি জিনিস।

    শিবনাথ মেঝেতে ছড়িয়ে থাকা ওপড়ানো লোহার পেরেক, বেতের ধারালো মুখ, কাঠের টুকরো তুলতে লাগল একটা একটা করে। অতি যত্নে। ঝুম্পাকে দেখাতে হবে। আহা রে, মেয়েটা কতদিন তার গরিব বাবার কোনও কীর্তি দেখেনি।

    তীক্ষ্ণ চিৎকারে বারান্দায় প্রথমে ছুটে যায় গৌরী, পরে শিবনাথ। রাত কত? দশটা? এগারোটা? নাকি আরও বেশি? বারান্দায় এসে শিবনাথ দেখল, রক্তশূন্য ফ্যাকাশে মুখে দাঁড়িয়ে আছে তার কিশোরী কন্যা। আতঙ্কে চোখদুটো ঠেলে বেরিয়ে এসেছে তার। কাঁপছে। খুব সামান্য হলেও কাঁপছে সে। এক হাতে বই আর একটা হাত সালোয়ার-কামিজের ওড়নায়। ফিকে নীল সেই ওড়নার অন্য প্রান্ত আটকে আছে একটু দূরে। বেতের চেয়ারের হাতলে। শিবনাথের মনে হল, নিষ্প্রাণ চেয়ার যেন প্রাণ পেয়েছে। শয়তানের প্রাণ! কঠিন, নির্মমভাবে হাসছে। হাসতে হাসতে তীব্রভাবে ধরে রেখেছে ঝুম্পার ওড়না, ঝুম্পাকে, এমনকী তাদেরও!

    ঝুম্পা বাবা-মায়ের দিকে তাকিয়ে কাঁপা গলায় ফিসফিস করে ওঠে।

    ‘ছাড়ছে না, ছাড়ছে না।’

    আজকাল রবিবাসর, ১৩ মে ২০০৭

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleধুলোবালির জীবন – প্রচেত গুপ্ত
    Next Article দেরি হয়ে গেছে – প্রচেত গুপ্ত

    Related Articles

    প্রচেত গুপ্ত

    দেরি হয়ে গেছে – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    ধুলোবালির জীবন – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    রুপোর খাঁচা – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    মাটির দেওয়াল – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    নুড়ি পাথরের দিনগুলি – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    নিষাদ – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }