Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    পঞ্চাশটি গল্প – প্রচেত গুপ্ত

    প্রচেত গুপ্ত এক পাতা গল্প833 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    চাপা

    উদ্ভট চিন্তাটা প্রতীকের মাথায় এল বাড়ির একেবারে কাছে এসে।

    গাড়ির গতি কমাল প্রতীক। কী করবে এখন? গাড়ি থামাবে? ঘুরিয়ে নেবে? নাকি উদ্ভট চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে চলে যাবে? কী করতে হয় এই সময়?

    স্টিরিয়োতে চাপা গলায় গান চলছে। রনেন কিটিং-এর গান। ইউ সে বেস্ট হোয়েন ইউ সে নাথিং অ্যাটঅল… তুমি তখনই সবথেকে ভাল বলো, যখন কিছুই বলো না। এইসব প্রেমের গান কিঙ্কির কালেকশন। গাড়িতে সিডি রেখে দেয়। প্রতীককে চোখ পাকিয়ে বলে, ‘খবরদার বাপি, আমার সিডিগুলো সরাবে না।’ সুশ্রী মেয়ের ওপর রাগ করে। বলে, ‘ওসব আবার কী রাজ্যের হাবিজাবি।’ প্রতীক সিডি সরায় না। পনেরো বছরের মেয়ে নানাভাবে ভালবাসার কথা শুনতে চাইবে সেটাই স্বাভাবিক।

    আজ প্রতীকও শুনছিল। পার্ক স্ট্রিটের মুখটা পার হয়ে স্টিরিয়ো চালিয়ে দিল। বেশ লাগছে কিন্তু শুনতে। তুমি যখন কিছুই বলো না…। গান শুনতে শুনতেই মোবাইলে সুশ্রীকে ধরল।

    ‘আমি রওনা দিয়েছি।’

    সুশ্ৰী হাই তুলে বলল, ‘সে তো বুঝতেই পারছি। কোথা থেকে রওনা দিয়েছ?’

    ‘পার্ক স্ট্রিট থেকে।’

    ‘আজও গিলেছ নাকি?’

    প্রতীক হাসতে হাসতে বলল, ‘দু’পেগ, ওনলি টু। জাস্ট কম্পানি দিতে বসেছিলাম। তুমি তো জানো সুশ্রী, আমি যে ধরনের কাজ করি তাতে একটু-আধটু…।’

    সুশ্রী চাপা গলায় বলল, ‘থাক, একই এক্সকিউস রোজ শোনাতে হবে না। কতক্ষণ লাগবে?’

    ‘হাফ আন আওয়ারও নয়। বাইপাস হয়ে নিউটাউনের মধ্যে দিয়ে সাঁই সাঁই করে উড়ে চলে যাব।’

    ‘এই রাতে ফাঁকা রাস্তাটা দিয়ে আসবে? উলটোডাঙা দিয়ে ঘুরে এলে পারতে।’

    ‘রাস্তা কোথায় ডার্লিং। বললাম তো উড়ে যাব। ওহো, তোমায় তো বলাই হয়নি, আজ সকালে গ্যারাজে গিয়ে গাড়িতে দুটো ডানা লাগিয়ে নিয়েছি। উইংস। ওরা জিজ্ঞেস করল, কোনটা নেবেন? আমি বললাম, যেটায় সবথেকে তাড়াতাড়ি বাড়ি ফেরা যায় সেটা দাও। দাম একটু বেশি পড়ল।’

    সুশ্রী আবার হাই তুলল। জড়ানো গলায় বলল, ‘মাতলামি কোরো না, সাবধানে ড্রাইভ করো। তুমি কি ডিনার করেছ?’

    ‘না করিনি। ওরা খুব জোরাজুরি করছিল। আমি বললাম, নো, নেভার। স্ত্রী কন্যা ডিনার টেবিলে না থাকলে আমার ডাইজেশন প্রবলেম হয়। খাবার হজম হতে চায় না।’

    ‘আদিখ্যেতা কোরো না, অপেক্ষা করছি।’

    ‘কিঙ্কি কোথায়? শুয়ে পড়েছে?’

    ‘ওমা শোবে কেন? খেয়ে নিয়ে পড়তে বসেছে। নেক্সট উইকে ওর এক্মাম। ফোন রাখো, গাড়ি চালাতে চালাতে বকবক কোরো না। বরং আমি একটু ঘুমিয়ে নিই। তুমি এলে উঠব।’

    সুশ্রীর এই একটা মজা। দুম ধাড়াক্কা ঘুমিয়ে নিতে পারে। প্রতীক হেসে বলল, ‘ঠিক আছে, ঘুমিয়ে নাও। ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখো তুমিও আমার সঙ্গে উড়ছ। জাস্ট লাইক আ বার্ড।’

    ‘বয়ে গেছে।’

    নিউটাউনের রাস্তাটা ধরতেই অ্যাক্সিলেটরে চাপ দিল প্রতীক। আশি, নব্বই, একশো…। চারপাশ শুনশান, নিঝুম। মাঝে মাঝে উঁচু উঁচু লাইটপোস্ট থেকে উজ্জ্বল হলুদ আলো ঠিকরে এসে পড়েছে নীচে। আজ হঠাৎ-ই প্রতীকের মনে হল, ভারী চমৎকার তো! কালো অন্ধকার কেটে হলুদ পথ চলে গেছে রূপকথার গল্পের মতো। শেষে নিশ্চয় একটা সোনালি দুর্গ রয়েছে। দুর্গে ছলছল চোখের বন্দিনী রাজকন্যা। প্রতীক গাড়ির গতি আরও বাড়াল। সিগন্যালের ঝামেলা নেই। এই নতুন রাস্তার এটা একটা বড় সুবিধে। দু’পা এগোলে কলকাতার মতো চোখ পাকিয়ে কেউ থমকে দেয় না। মনের আনন্দে ছোটো। যত খুশি ছোটো। যতক্ষণ না হাঁপাচ্ছ ছুটতে থাকো। শুধু কোনও কোনও বাঁকে টিনের বোর্ড লাগানো— সাবধান! গোরু পারাপারের পথ, সাবধান! মানুষ পারাপারের পথ।

    প্রথম প্রথম নোটিশগুলো দেখে কিঙ্কি খুব হাসত।

    ‘দু’পাশে হাইরাইজ, আই টি পার্ক, শপিং মল হচ্ছে, সেখানে আবার গোরুর জন্য নোটিশ। হি হি। একটু পরে হয়তো দেখব, অ্যারো দিয়ে লেখা, ওই দিকে নৌকোর ঘাট, এই দিকে পালকি পাবেন। হি হি।’

    প্রতীক বলত, ‘তা নয়, এদিকটায় এখনও গ্রামটাম আছে। গ্রাম না থাকলেও মাঠ তো দেখতে পাচ্ছিস।’

    রাতে সে ঝামেলাও নেই। ‘সাবধান’ লেখা বোর্ডগুলো অন্ধকারে গা ঢাকা দিয়েছে। কোনও বাধা নেই। এত রাতে যে অল্প কয়েকটা গাড়ি ছুটছে তারা সকলেই ভ্রূক্ষেপহীন এবং দুঃসাহসী।

    প্রতীকও সাহসী হল। সে অ্যাক্সিলেটরে আরও চাপ দিল। এবার সত্যি মনে হচ্ছে, গাড়িতে ডানা লেগেছে। সে উড়েই চলছে। শরীরটাও যেন হালকা পলকা। মাথায় ঝিমঝিমে ভাব। অল্প নেশার এটাই মজা। অনেক কিছু বোঝা যায়, আবার অনেক কিছু বোঝা যায়ও না। নিজের মনেই হাসল প্রতীক। আধখোলা, আধবোজা চোখে স্টিয়ারিং-এ আঙুল রেখে তাল দিতে লাগল। রনেন কিটিং-এর সঙ্গে গলা মেলাল— ‘ইউ সে বেস্ট হোয়েন ইউ সে নাথিং অ্যাটঅল…।’

    নিউটাউনের বাধাহীন, মসৃণ পথ পেরিয়ে ফ্লাইওভারের মুখে এসে পড়তে মিনিট পনেরোও লাগল না প্রতীকের। এবার রাস্তা ছেড়ে ইউ টার্ন নিয়ে বাঁদিকের গলি। ঢুকলেই ছ’তলা ফ্ল্যাট। গলির মুখে এটিএম কাউন্টার। রাতে হীরকখণ্ডের মতো জ্বলজ্বল করে। আজও করছে। প্রতীকদের বাড়ি চেনার এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ পথনির্দেশ। কিঙ্কি মজা করে বলে, ‘গলির মুখেই দেখবে টাকার পাহাড়, পাশ কাটিয়ে চলে আসবে।’

    প্রতীকও পাশ কাটাতে গেল এবং ঠিক এই সময়ে উদ্ভট চিন্তাটা মাথায় বিদ্যুতের মতো ঝলসে উঠল।

    আসার পথে অ্যাক্সিডেন্ট করল না তো? কাউকে কি চাপা দিল? নিদেন পক্ষে ধাক্কা মারেনি তো? মনে হচ্ছে যেন এরকম কিছু একটা ঘটেছে। কী ঘটেছে?

    ব্রেক চেপে গাড়ি দাঁড় করাল প্রতীক। গান বন্ধ করল, গাড়ির ভেতর শুধু এসির ফিসফিসানি। বেশি ঠান্ডা লাগছে। ভুরু কুঁচকে গেল প্রতীকের। স্টিয়ারিং-এর ওপর রাখা দুটো হাতই ইঞ্জিনের কারণে মৃদু কাঁপছে।

    অসম্ভব কিছু নয়। গোটা পথটা সে যেভাবে গাড়ি চালিয়েছে তাতে এ ধরনের অ্যাক্সিডেন্ট ঘটানো অসম্ভব কিছু নয়। সারাক্ষণই সে ছিল অন্যমনস্ক। ফুরফুরে মেজাজে। মোবাইলে সুশ্রীর সঙ্গে হাসিঠাট্টা করল। গান শুনল। চালকের মধ্যে যে টানটান ভাবটা থাকা দরকার, তার বিন্দুমাত্র ছিল না। এখন মনে পড়ছে, সবসময় যে রাস্তার ওপর সমানতালে নজর রাখতে পেরেছে এমনটাও নয়। সে খেয়ালই ছিল না। অভ্যেসে ছুটছিল। ছুটতে ছুটতেই ধাক্কা মেরেছে হয়তো। মারার পরও খেয়াল হয়নি। অ্যাক্সিডেন্টের এটাই সমস্যা। অকস্মাৎ ঘটে যায় বলে বিপদ সঙ্গে সঙ্গে বোঝা যায় না। কিছু সময় লাগে। ততক্ষণে চারপাশের মানুষ হইচই করে ওঠে, ঝাঁপিয়ে পড়ে গাড়ির ওপর। কাচ ভেঙে, দরজা খুলে ড্রাইভারকে টেনে নামায়। কিল, চড়, লাথির মাঝখানে পেট্রলের ঢাকনা খুলে আগুন লাগিয়ে দেয়।

    প্রতীকের পথের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়ি টপকে সাইকেল রিকশ চলে গেল। লাস্ট ট্রেনের মতো সম্ভবত এটা এ পাড়ার শেষ রিকশ। চলে যাওয়া রিকশর দিকে তাকিয়ে প্রতীক ঠোঁট কামড়ায়। ঘাম হয়নি তবু পকেট হাতড়ে রুমাল বের করতে যায়। পারে না। রুমাল নিয়ে বেরোয়নি আজ।

    মন বলছে, চাপা দিয়েছে, অবশ্যই দিয়েছে। কিন্তু এটা সম্ভব কী করে? ঘটনার সময় একেবারেই কিছু বুঝতে পারবে না। ধাক্কা দিলে একটা আওয়াজ তো হবে। হবে না? কে জানে হয়তো হয়েছেও। গাড়ির কাচ তোলা। ভেতরে এসি চলছে, গানও বাজছে। মিষ্টি একটা গন্ধও ছিল। গাড়িতে গন্ধের ব্যবস্থা সুশ্রীর করা। ড্যাশ বোর্ডের ওপর সেন্টের শিশি রেখেছে। শিশি আর এডিকোলন ভেজানো ন্যাপকিন। ন্যাপকিন ব্যবহার হয় না, তবু রেখেছে। বাইরের আওয়াজ তো দুরের কথা ধুলো, বালি গন্ধ কিছুই ঢোকার উপায় নেই। নিশ্চয় তাই হয়েছে। মুখোমুখি না হয়ে ধাক্কাটা হয়তো লেগেছে পাশ থেকে। বড় কোনও ধাক্কা নয়, ছোট ধাক্কা। তারপরই মানুষটা হুমড়ি খেয়ে পড়ে। এই ধরনের অ্যাক্সিডেন্টে এটাই হয়। যে ধাক্কা খায় প্রথমে ব্যালান্স হারিয়ে রাস্তায় পড়ে যায়। লাগে না বিশেষ। ভাবে ধুলো ঝেড়ে উঠে পড়বে। আর তখনই গাড়ির চাকা চলে যায় শরীরের ওপর দিয়ে।

    এই মানুষটার কোথা দিয়ে চাকা গেছে? পা? পেট? মাথা নয় তো?

    পা থেকে পিঠ পর্যন্ত ঠান্ডা একটা স্রোত উঠে এল হামাগুড়ি দিয়ে। একটু কাঁপুনিও হল যেন। এসি বন্ধ করল প্রতীক। ডানপাশের জানলার কাচ নামাল। বাইরে গরম হাওয়ার ঝলক। গাড়ির স্টার্ট বন্ধ করল প্রতীক।

    নেশা কি বেশি হয়ে গেছে? প্রতীক মাথা ঝাঁকাল। দূর, আবোল তাবোল ভাবছে। একটা আস্ত মানুষকে চাপা দিয়ে চলে আসবে, অথচ বুঝতে পারবে না। এরকম কখনও হয়? একদিন-দু’দিন নয়, এগারো বছর গাড়ি চালাচ্ছে সে। তার আগে লাইসেন্স ছাড়াই। কলকাতার রাস্তায় কয়েক মাস ঘুরেছে। তখন অবশ্য পাশে ড্রাইভার থাকত। এতদিন গাড়ি চালালে চোখ, কানের পর একটা অন্য ইন্দ্রিয় তৈরি হয়। সেটা ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় নয়, ড্রাইভারের ইন্দ্রিয়। চলন্ত গাড়িতে সেই ইন্দ্রিয়ই সব নিয়ন্ত্রণ করে। ঘুমিয়ে পড়লেও হাতের স্টিয়ারিং কাঁপে না। বাঁকে, মোড়ে ভুল হয় না। নিজে থেকেই হর্নে হাত পড়ে। গতি বাড়ে-কমে, গিয়ার বদল হয়। সামনে কেউ পড়লে গাড়ি যেন নিজেই দেখতে পেয়ে পাশ কাটায়। দু’-একটা ছোটখাটো অ্যাক্সিডেন্ট ছাড়া প্রতীকের ড্রাইভার জীবন পুরোটাই নিষ্কলঙ্ক। তাও সেসব অ্যাক্সিডেন্ট মানুষের সঙ্গে ছিল না। একবার মেটাডোর মেরেছিল বি টি রোডে। দরজায় ঘসে দিয়েছিল। আর একবার পিছোতে গিয়ে ট্যাক্সিতে লেগে ব্যাক লাইট ভাঙল। সে বলা নেই কওয়া নেই একেবারে মানুষ চাপা দিয়ে ফেলবে! ফেলবে শুধু না, ফেলে বুঝতেও পারবে না। ভুল হচ্ছে না তো? মনের ভুল? তার এমন কিছু নেশা হয়নি যে সে এ ধরনের ভুল করবে। তা ছাড়া এমন নয় যে মদ খেয়ে সে কোনওদিন গাড়ি চালায়নি। বহুবারই চালিয়েছে। কখনওই বাড়াবাড়ি ধরনের নেশা সে করে না। গাড়ি চালালেও করে না, না চালালেও করে না।

    প্রতীক মনে মনে সাঁইতিরিশের নামতা আওড়াতে শুরু করল। কলেজ জীবনে প্রলয় বলত, মদ্যপানের পর সেন্সে আছিস কিনা বুঝতে নামতা মনে করবি। অড নাম্বারের টেবল। সাতাশ, সাঁইত্রিশ, সাতচল্লিশ।

    প্রতীক বিড়বিড় করছে। থার্টিসেভেন ওয়ান জা থার্টিসেভেন, থার্টিসেভেন টু জা সেভেনটি ফোর, থার্টিসেভেন থ্রি জা ওয়ান হান্ড্রেন্ড ওয়ান…।

    পাঁচ পর্যন্ত পৌঁছানোর আগেই লজ্জা পেল প্রতীক। ছি, ছি, মাঝরাতে রাস্তায় দাঁড়িয়ে এসব কী পাগলামি শুরু করছে। বাড়ি ফিরে ঘটনা বললে কিঙ্কি নিশ্চয় খুব একচোট হাসবে।

    প্রতীক নিজেও হাসল। হাত বাড়িয়ে গাড়ি চালু করে গিয়ারে হাত রাখল। আর তখনই মনে হল। যদি পাগলামি না হয়? ঘটনা যদি সত্যি হয়? নিশ্চয়ই সে কিছু একটা করেছে। না হলে, এ ধরনের চিন্তা তার মাথায় আসবে কেন? মানুষকে চাপা দেওয়া গান বা কবিতা নয় যে হুট করে মাথায় চলে আসবে। ঘটনা কিছু ঘটেছে বলেই তার এরকম মনে হচ্ছে। তার অজান্তেই ঘটেছে। ড্রাইভারের ইন্দ্রিয় তখন জানায়নি। এখন জানাল।

    প্রতীক গাড়ি ঘোরাল। বড় গাড়ি। ঘোরাতে সময় নেয়।

    নিউটাউনের রাজকীয় রাস্তাকে আরও উজ্জ্বল, আরও ঝলমলে লাগছে। হলুদ আলোর সঙ্গে কোথা থেকে যেন একটা ভাঙা চাঁদ এসে হাজির হয়েছে সামনে। এই ধরনের পথের ওপর আকাশ সর্বদাই অনেকটা নেমে আসে। এখনও এসেছে। কালো আকাশ। চাঁদ অবশ্য পথে আলো ফেলেনি। আলো ফেলেছে দু’পাশের বিস্তীর্ণ মাঠে। তাদের দেখাচ্ছে রক্তশূন্য, ফ্যাকাশে। অনেক দূরে দূরে আকাশছোঁয়া বাড়িগুলো দাঁড়িয়ে আছে ছায়ার মতো। সিকিখানা, আধখানা তৈরি হয়ে অপেক্ষা করছে।

    প্রতীক গাড়ি চালাচ্ছে একপাশ ধরে। প্রায় গড়িয়ে গড়িয়ে। কড়া হেডলাইট চকচকে রাস্তায় পড়ে পিছলে যাচ্ছে। আপ ডাউন দুটো পথেই সমান তালে চোখ রাখতে হলে গাড়ি এভাবেই চালাতে হবে। এতে যে সমস্যা হচ্ছে না এমন নয়, হচ্ছে। তবু চেষ্টা চালাচ্ছে প্রতীক। ফেরার সময়ও উলটোদিকটা আরও ভালো করে দেখতে হবে।

    ডানপাশে চিত হয়ে শুয়ে থাকা ওটা কী?

    প্রতীক তাড়াতাড়ি জানলা দিয়ে মুখ বের করে। গাড়ি সরিয়ে আনে। মানুষ একটা? না, মানুষ নয়, কংক্রিটের পাটাতন। হাত পা ছড়িয়ে পড়ে আছে গুটিসুটি মেরে।

    গোটা পথেই কিছু নেই! হুমড়ি খেয়ে, উপুড় হয়ে পড়ে নেই কেউ! ধারে এমন কোনও ঝোপঝাড় নেই যে গাড়ি চাপা দেহ গড়িয়ে সেখানে গিয়ে পড়বে। পাশের মাঠ পর্যন্ত। পৌঁছোতে হলেও বেশ খানিকটা জায়গা পার হতে হবে। ছিটকে অতদূর যাওয়া শক্ত। দেয়াল করে আছে বালি, স্টোনচিপসের ঢিপি, পিচের ড্রাম। কোথাও লোহার বিম, পাইপ পড়ে আছে ঝিম মেরে। কোথাও আবার খুঁটিতে মাপজোক আর সীমানার ফিতে বাঁধা। ফিতেগুলো ফরফর করে হাওয়ায় উড়ছে পতাকার মতো। পাশ দিয়ে তীক্ষ্ণ হুইস্‌লের শীৎকার তুলে দুটো গাড়ি ছুটে গেল। এয়ারপোর্ট থেকে শহরে ঢুকছে। নির্জন পথটুকু পেরিয়ে যেতে চাইছে পড়িমড়ি করে।

    প্রায় শেষের মুখে আসতে অন্ধকার অনেকটা কাটল। এদিকটায় ইতিমধ্যে অনেকগুলো বাড়ি চালু হয়ে গেছে। মানুষের বসবাস শুরু হয়েছে। দৈত্যের মতো দু’হাত ছড়িয়ে দাঁড়িয়ে আছে একটার পর একটা কাচের অফিস। আই টি পার্ক। নিয়ন আলোর শরীর জ্বলছে তাদের। এখানে দুর্ঘটনা কিছু ঘটলে চোখ এড়ানো অসম্ভব। প্রতীকের এবার অনেকটা নিশ্চিন্ত লাগছে। মনের অস্বস্তিটা যেন কমছে।

    হঠাৎই চুপিসারে একটা জিপ প্রতীকের গাড়ি টপকে সামনে এসে দাঁড়াল। গায়ে ডোরাকাটা পুলিশের টহলদারি জিপ। মাথায় গনগনে লাল আলো ঘুরছে। গাট্টাগোট্টা চেহারার যে ভদ্রলোক জিপ থেকে লাফ দিয়ে নামলেন তাঁকে ঠিক চেনা পুলিশের মতো লাগছে না। এত রাতেও টিপটিপ ইউনিফর্মে স্মার্ট। ডানদিকের কোমরে রিভলভারের খাপ। জুতোয় আওয়াজ হচ্ছে। ঝকঝকে রাস্তায় টহলদারির জন্য ঝকঝকে পুলিশ অফিসার!

    স্টার্ট বন্ধ করে জানলা দিয়ে মুখ বের করল প্রতীক। অফিসার মানুষটা বললেন, “এনি প্রবলেম স্যার?’

    পুলিশের মুখে ‘স্যার’ শুনে একটু থমকে গেল প্রতীক। এদের কি আলাদাভাবে ট্রেনিং দেওয়া? হতে পারে। এই এলাকাটা জুড়ে বিদেশি অফিস, বিদেশি লোকজন, বিদেশি গাড়ির যাতায়াত। এখানে পুলিশ যে আলাদা হবে তাতে আশ্চর্য হওয়ার কী আছে?

    প্রতীক ভুরু কুঁচকে বলল, ‘কেন বলুন তো?’

    অফিসার কাছে এসে জানলায় ঝুঁকে পড়েন। নরম গলায় বলেন, ‘স্যার, অনেকক্ষণ থেকেই আমরা লক্ষ করছি, আপনি আস্তে গাড়ি চালাচ্ছেন। গাড়িতে কি কোনও সমস্যা?’

    কী বলবে? এদের যদি বলা হয় যে, লাশ খুঁজতে বেরিয়েছে, তা হলে বিরাট গোলমাল পাকিয়ে যাবে। হয় মাতাল ভেবে ফাইন করবে, নয় পাগল ভেবে চড় লাগাবে। প্রতীক দ্রুত ভেবে নিল।

    ‘বড় কিছু নয়, সামান্য একটু…। অ্যাক্সিলেটরে কিছু হয়েছে হয়তো। তারে…’।

    ‘প্রবলেম হলে আমাদের বলতে পারেন, উই ক্যান হেল্‌প ইউ। আমাদের অ্যারেঞ্জমেন্ট আছে।’

    ‘না না ইটস ওকে। একটু এগিয়ে হয়তো গ্যারেজ পেয়ে যাব।’

    ‘ফাইন। আসলে রাস্তাটা তো ফাঁকা। তার ওপর এত রাত… যাক, শুভরাত্রি।’

    অফিসার সুন্দর করে হাসেন। নিশ্চয় এঁদের হাসির জন্য বলা আছে। এই রাস্তায় ধমকের বদলে হাসি।

    গাড়ির চাবিতে হাত রেখে প্রতীক এক মুহূর্ত থেমে বলল, ‘ধন্যবাদ। আচ্ছা একটা ইনফরমেশন দিতে পারেন?’

    অফিসার ভদ্রলোর বিনয়ের সঙ্গে জিজ্ঞেস করলেন, ‘কী স্যার?’

    ‘এই রাস্তার ওপর কোনও অ্যাক্সিডেন্টের খবর আছে?’

    ‘অ্যাক্সিডেন্ট! কখন বলুন তো?’ অফিসারের গলায় টেনশন।

    প্রতীক গলা স্বাভাবিক করে বলল, ‘বেশিক্ষণ নয়, এই ধরুন কুড়ি-পঁচিশ মিনিট বা আধ ঘণ্টা আগে?’

    পুলিশ অফিসার এবার নিশ্চিন্ত হলেন।

    ‘না স্যার, রাত আটটায় আমি ডিউটি নিয়েছি। তারপর থেকে কোনও ঘটনা নেই। কালকেও নেই। পরশু একটা হয়েছিল। তাও ভোররাতের দিকে। দুধের গাড়ি সাইকেলে ধাক্কা মারে। ফেটাল কিছু নয়। আপনি কি কিছু শুনেছেন? আপনার পরিচিত কেউ?’

    প্রতীক তাড়াতাড়ি বলল, ‘না না, আমার পরিচিত কিছু নয়। আসার সময় ওদিকের মুখটায় শুনলাম দু’-চারজন ছেলেছোকরা বলাবলি করছিল। কী জানি হয়তো পরশুর কথাই বলছিল। ইটস ওকে।’

    ‘তাই হবে। গুড নাইট স্যার।’

    কথা শেষ করে অফিসার ভদ্রলোক একটু সরে গেলেন। যার অর্থ ‘এবার আপনি চলে যান।’

    প্রতীক গাড়ি গড়াল। আর নয়, অনেক পাগলামি হয়েছে, এবার ফিরে যেতে হবে। দ্রুত ফিরে যেতে হবে। হাত উলটে ঘড়ি দেখল প্রতীক। বারোটা পার হয়ে গেছে। ছি ছি, কী বকামিই না হল এতক্ষণ। কত দেরি হয়ে গেল। প্রতীক ঠিক করল, সামনে প্রথম যে জায়গাটা পাবে সেখান থেকেই গাড়ি ঘোরাবে। ঘুরিয়ে সুশ্রীকে একটা ফোন করবে। নিশ্চয়ই বেচারি ঘুমিয়ে পড়েছে। তাই হবে। নইলে এতক্ষণ খুব টেনশন করত। মোবাইলে বারবার ডাক আসত।

    সামনেই জায়গা পাওয়া গেল, কিন্তু গাড়ি ঘোরানো হল না।

    স্টিয়ারিং বেঁকানোর আগের মুহূর্তে খচখচানিটা ফের মাথা নাড়া দিয়ে বসল। যেন সাপের মতো সেটা কুণ্ডলী পাকিয়ে শুয়ে ছিল এতক্ষণ, আবার ফণা তুলছে!

    চাপা দিয়েছে মানে এই রাস্তার ওপরই যে দিয়েছে এমন তো নয়। সে যাত্রা শুরু করেছিল সেই পার্ক স্ট্রিট থেকে। তারপর বাইপাস হয়ে সল্টলেকের অনেক পথ পার হয়েছে। ঘটনা কি সেখানে ঘটতে পারে না? গাড়ি চালিয়ে মানুষ মারার জন্য বাইপাস তো আদর্শ। তবে? এতটাই যখন এল, বাকিটুকু দেখে এলে ক্ষতি কী? ক্ষতি যেমন নেই, লাভও নেই। কিছুই পাওয়া যাবে না। যা হয়নি, যা হতে পারে না, তা পাওয়া যাবে কী করে? তবু মনের অস্বস্তিটা তো কাটবে। প্রতীকের এখন মনে হচ্ছে, পড়ে থাকা রক্তমাখা দেহের হদিশ পাওয়া থেকে মনের অস্বস্তি সরানো অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এটা সরাতেই হবে। হটাতেই হবে। নইলে সে সত্যি সত্যি পাগল হয়ে যাবে।

    পিছনের বাড়িঘর ও পথ ফেলে প্রতীক আবার গাড়ি ছোটাল।

    একই সঙ্গে তার রাগ হচ্ছে, আবার ভয়ও করছে। এটা কি কোনও অসুখ? হঠাৎ করে তাকে চেপে ধরল? নইলে এ কী করছে সে? কীসের পেছনে ছুটছে? সত্যি যদি যাওয়ার পথে কাউকে ধাক্কা মেরে, চাপা দিয়ে, থেঁতলে পিষে চলে গিয়ে থাকে তো গেছে। সমস্যা কোথায়? অ্যাক্সিডেন্ট করে অনেকেই তো পালায়। সে তো তাও করেনি। তার দোষ কোথায়? তাকে কেউ তাড়াও করেনি। তা হলে কেন এমন করছে সে? কেন যুক্তি বুদ্ধি দিয়ে মনকে শান্ত করতে পারছে না? আর যদি সত্যিই কাউকে পায়, তা হলেই বা কী করতে পারে সে। হাড় ভাঙা, রক্তাক্ত মানুষটাকে গাড়িতে তুলে হাসপাতালে নিয়ে যাবে? অসম্ভব। এতটা মনের জোর প্রতীকের নেই। ফিরে যাওয়াই ভাল ছিল। ঠিক ছিল। কিন্তু পারছে কই?’

    কখনও আলোয়, কখনও অন্ধকারে হেডলাইটের চোখ ধাঁধানো আলো ফেলে গাড়ি ছুটছে।

    পরমা আইল্যান্ডের কাছাকাছি পৌঁছে সত্যি সত্যি একজনকে দেখা গেল। পথের ওপর নয়, বাঁ দিকে মূল পথ থেকে বেশ খানিকটা সরে গিয়ে পড়ে আছে লোকটা। গায়ের পোশাক এলোমেলো। হঠাৎ দেখলে মনে হবে, পাশ ফিরে শুয়ে আছে। এরকমই হয়। মরা মানুষকে মনে হয় নিশ্চিন্তে ঘুমোচ্ছে।

    এদিকটায় বাইপাস চওড়া করার কাজ চলছে। খোয়া, বালি বিছানো। দ্রুত হাতে গাড়ি পাশ করল প্রতীক। দরজা খুলে নামল সর্তকভাবে। রাত বাড়ছে, বাইপাসের মতো ব্যস্ত পথেও গাড়ি কমে গেছে। যে গুটিকয়েক আছে, তারা ছুটছে দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে। মনে সাহস এনে কয়েক পা এগোল প্রতীক। এদিকটায় আলোর অভাব নেই। মাথার ওপর ঝলমলে বোর্ডিং-এ অর্ধনগ্ন নারী হাসছে। সেই আলো এসে পড়েছে পথের ধারে পড়ে থাকা লোকটার গায়ে।

    গাড়ি থেকে নামতে নামতেই প্রতীক ঠিক করে নিয়েছে কী করবে। কিছুই করবে না। দূর থেকে শুধু বোঝার চেষ্টা করলে আঘাতটা কতখানি। ঢাকা কোথা দিয়ে চলে গেছে? নাকি শুধুই ধাক্কা মেরেছিল? এই সময় যদি পুলিশ চলে আসে আবার? সেটাও ভেবে ফেলেছে। বাঁ হাতের কড়ে আঙুল তুলে বলবে, ‘বাথরুম।’

    কিছুই করতে হল না। দু’পা এগোতেই পড়ে থাকা মানুষটা নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে উঠে বসে। খোলা জামার পকেট হাতড়ে বিড়ি বের করে দেশলাই জ্বালায়।

    গাড়িতে উঠতেই প্রতীকের মোবাইল বেজে ওঠে।

    ‘কী হল! তুমি কোথায়?’ সুশ্রীর ঘুম ভাঙা উদ্বিগ্ন গলা।

    প্রতীক নিজেকে সামলে শুকনো গলায় বলল, ‘আসছি। আসছি ডার্লিং।’

    ‘আসছি মানে। কোথায় তুমি? কী হয়েছে তোমার?’ চাপা গলায় আর্তনাদ করে উঠল সুশ্রী।

    কাঁধ দিয়ে মোবাইল চেপে ক্লান্ত গলায় প্রতীক বলল, ‘রিল্যাক্স সুশ্রী। কিছুই হয়নি, টায়ার ফাটল। স্টেপনি বদলাতে গিয়ে দেখি সেটাও ড্যামেজ। আমি আসছি, প্লিজ আর একটু, একটুখানি।’

    আরও একটু এগোল প্রতীক।

    এত রাতেও পার্ক স্ট্রিট জেগে আছে। টলমল পায়ে পুরুষ হাঁটছে। মহিলাকে ইশারা দিয়ে চলে যাচ্ছে গাড়ি। ‘খদ্দের’-এর কাছ থেকে পয়সা তোলার জন্য ভুঁড়িওলা পুলিশ ওত পেতে আছে পানের দোকানে। প্রতীকের ধীরে চলা গাড়ি দেখে রেস্তোরাঁর সামনে দাঁড়ানো মেয়েটা বুকের কাপড় সরিয়ে হাসল।

    না, কোথাও কিছু নেই। অ্যাক্সিডেন্টের পর কলকাতা স্বাভাবিক হতে সময় নেয় না। পুলিশ জানে ‘বড়ি’ কীভাবে দ্রুত সরাতে হয়। তবু একটা চাপা টেনশন থেকে যায়। একটু জটলা, দুটো তৎপর ট্রাফিক সার্জেন্ট। সেসব কিছুই নেই।

    পেট্রোল পাম্পে ঢুকে তেল ভরল প্রতীক। ক্যাশে বসা আধা ঘুমোনো ছোকরা ক্রেডিট কার্ড টানতে ভুল করল বেশ কয়েকবার। গাড়িতে উঠে বিধ্বস্ত প্রতীক বুঝতে পারল, এতক্ষণে অস্বস্তিটা সত্যি সত্যি কেটেছে। নিজেকে শুধু পাগল নয়, জোকারের মতো লাগছে। উদ্ভট একটা চিন্তার জন্য কী কাণ্ডই না করল! পরক্ষণেই মনে হল, বেশ করেছে। সামান্য কাঁটাও গলায় ঢুকে বিরাট গোলমাল পাকায়। ভোলা না পর্যন্ত সব এলোমেলো করে ছাড়ে। এটাও সেরকম। মনের কাঁটা। সেই কাঁটা উপড়ে ফেলতে সে না হয় গাদাখানেক তেল আর সময়-ই খরচ করল।

    বোতাম টিপতেই আলগোছে উঠে এল কাচ। এসি চলল। স্টিরিয়ো কি চালাবে? তুমি তখনই সবথেকে ভাল বলো…। দ্রুত ফুরফুরে মেজাজে ফিরে এল প্রতীক। এবার সত্যিই উড়ে যেতে হবে। আরও জনহীন রাস্তা আরও সুন্দর। কাচের ঘরদোর, অফিসবাড়ি যেন উজ্জ্বল নক্ষত্রপুঞ্জ। আকাশে ওড়ার পথ এঁকেবেঁকে চলে গেছে তাদের মাঝখান দিয়ে।

    প্রতীক নিজের মনেই হাসল। টেম্পোরারি ইনস্যানিটি? কোথায় যেন পড়েছিল, বিচিত্র সব চিন্তা, উদ্ভট কল্পনা বারবার মনে আসাটা আসলে একটা মনের অসুখ। তারা মনকে তোলপাড় করে দেয়। না চাইলেও বারবার ফিরে আসে। অর্থহীন, অযৌক্তিক জানা সত্ত্বেও এড়ানো যায় না। ফেরানো যায় না। অসুখটার নাম কী? যা খুশি হোক। সাপ, ব্যাং, যা খুশি। সে তো এখন মুক্ত। তা হলেই হল। মনের অসুখ হোক, প্রাণের অসুখ হোক, মাথা একেবার ঝরঝরে। পালকের মতো ফুরফুরে লাগছে নিজেকে।

    প্রতীক আক্সিলেটারে চাপ বাড়াল।

    বাঁকের মুখে মাথায় আলো ঘুরিয়ে টহলদারি জিপ এখনও দাঁড়িয়ে আছে। প্রতীক হাত নাড়ে। ওদের দেখতে পাওয়ার কথা নয়। কাচ তোলা, তার ওপর অন্ধকার। তবু একটা সৌজন্যের ব্যাপার তো আছে।

    গান চালাল প্রতীক। সুশ্রীকে একটা ফোন করে দেবে? থাক, লিফটে ওঠার আগে একেবারে ফ্ল্যাটের বেল বাজিয়ে চমকে দেবে।

    হর্ন বাজাতে হল না প্রতীককে, গাড়ি দেখতে পেয়েই টুলে বসে থাকা ঘুমন্ত দারোয়ান ধড়ফড় করে উঠে এসে গেট খোলে। মাথার টুপি ঠিক করতে করতে সেলাম ঠোকে।

    পার্কিং-এ গাড়ি রেখে হাতে ব্যাগ নিয়ে নেমে এল প্রতীক। গাড়ি রাখার জায়গায় আলো পর্যাপ্ত। পরপর অনেক গাড়ি। নিরাপত্তার কারণেই করা। হঠাৎ দেখলে মনে হয় শোরুম। গাড়ি লক করল প্রতীক। মাথা তুলে তাকাল ওপরে। তার ফ্ল্যাটে আলো জ্বলছে। কিঙ্কির ঘরটা শুধু অন্ধকার। মেয়েটা ঘুমিয়ে পড়েছে নিশ্চয়। ভালই করেছে। কতক্ষণ জাগবে? কাল সকালে ঘটনাটা বলতে হবে। ব্রেকফাস্ট টেবিলের পক্ষে বাবার এই পাগলামি যথেষ্ট মজার হবে। গা ছমছমেও। তবে ভাগ্যিস টায়ার পাংচারের গল্পটা ঠিক সময় মাথায় এসেছিল। নইলে সুশ্রী খুব টেনশন করত। কে জানে হয়তো ট্যাক্সি নিয়ে বেরিয়ে পড়ত। অনেক সময় যে ঘটনা রাস্তায় চিন্তা বাড়ায়, বাড়িতে কফি খেতে খেতে সেটাই হয়ে যায় হাসির।

    ক্লান্ত প্রতীক নিজের মনেই আবার হেসে ফেলল। কয়েক পা এগিয়ে ঘাড় ঘোরাল গাড়ির দিকে। বহুদিনের অভ্যেস। ড্রাইভার ইন্দ্রিয় গাড়ির দিকে তাকিয়ে বোধহয় ‘শুভরাত্রি’ জানায়।

    আর তখনই দাগটা চোখে পড়ল প্রতীকের। তার গাড়ির চাকা থেকে চলে গেছে গেট পর্যন্ত। তারপর গেট পেরিয়ে আরও…

    আলোয় বুঝতে অসুবিধা হল না, দাগটা রক্তের।

    শারদীয়া বর্তমান, ২০০৮

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleধুলোবালির জীবন – প্রচেত গুপ্ত
    Next Article দেরি হয়ে গেছে – প্রচেত গুপ্ত

    Related Articles

    প্রচেত গুপ্ত

    দেরি হয়ে গেছে – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    ধুলোবালির জীবন – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    রুপোর খাঁচা – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    মাটির দেওয়াল – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    নুড়ি পাথরের দিনগুলি – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    নিষাদ – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }