Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    পঞ্চাশটি গল্প – প্রচেত গুপ্ত

    প্রচেত গুপ্ত এক পাতা গল্প833 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    পোস্টম্যান

    আমি মুখ তুলে লোকটার দিকে তাকালাম। চেহারার মধ্যে আলাদা কিছু নেই। পাড়াগাঁ থেকে কাজ করতে আসা আর পাঁচটা মুটে মজুরের মতো সাধারণ। বরং একটু বেশি রোগভোগা আর চিমসে মার্কা। কাদা মাখা গেঞ্জিটা গায়ের কালো রঙের সঙ্গে মিশে আছে। হঠাৎ দেখলে মনে হবে, এখনই গর্ত থেকে উঠে এল।

    লোকটা কি কুঁজো? নাকি এমনি-ই কুঁজো হয়ে দাড়িয়ে আছে? গ্রামের গরিব মানুষগুলোর এই এক অসুখ। শহরে এসে কুঁজো হয়ে যায়।

    কানাইলাল বলল, ‘স্যার, এই সেই লোক।’

    আমি জানি এই সেই লোক, তবু না বোঝার ভান করে ভুরু কুঁচকে বললাম, ‘কে? কোন লোক?’

    কানাইলাল হাসি হাসি মুখে বলল, ‘ওই যে স্যার, ওদের সঙ্গে খবর দেয়া-নেয়া করে।’ আমি বললাম, ‘ও, হ্যাঁ এবার মনে পড়েছে।’

    কথাটা মিথ্যে। মনে পড়েছে অনেক আগেই। গতকাল দুপুরে কানাইলাল যখন আমার কাছে গল্প করে, তখন থেকেই এই লোকের কথা আমার মাথায় ঘুরছে। কিন্তু সেকথা বলা যাবে না। বললে উদ্ভট জিনিসে গুরুত্ব দেওয়া হবে যাবে। কথাটা ছড়িয়ে যাবে। সবাই ভাববে আমিও ভুতুড়ে কাণ্ডে বিশ্বাস করে বসেছি। নইলে এত আগ্রহ কীসের?

    বিশ্বাসের কোনও প্রশ্নই ওঠে না, কিন্তু আগ্রহ যে আমার একটা হয়েছে, তাতে কোনও সন্দেহ নেই। সামান্য একটা লেবার এরকম কথা বলে বেড়ালে আগ্রহ না হয়ে উপায় কী? অমি ঠিক করেছি, এই লোককে ডেকে জোর ধমক দেব। কাজের জায়গায় এসব জিনিস ঠিক নয়। ঘটনাটা শোনার পর থেকেই আমি চিন্তায় পড়েছি। কাল বাড়িতে ফিরে রত্নাকেও বললাম।

    ‘বলো কী!’ রত্না খাওয়া থামিয়ে দিল।

    ‘আমি কিছু বলছি না, কানাই বলছিল। কানাইলাল, আমাদের সাপ্লায়ার। লেবার সাপ্লাই করে।’

    ‘তুমি এই লোকটাকে দেখেছ?’

    আমি মাথার কাছে হাত ঘুরিয়ে বললাম, ‘এখনও দেখিনি, নিশ্চয়ই মাথায় ক্র্যাক আছে।’

    রত্না বলল, ‘পাগল?”

    আমি চোখ বড় করে বললাম, ‘তা ছাড়া কী? পাগল না হলে কেউ এরকম কথা বলে? আর একটা জিনিসও হতে পারে।’

    রত্না মুখের কাছে রুটি তুলে বলল, ‘সেটা কী?’

    আমি ভাত খেলেও রত্না রাতে রুটি খায়। ডায়েট করে। ও মোটা নয়, তবু সারাক্ষণ ভয় পায়, এই বুঝি পেটে চর্বি জমে গেল। খাওয়া কন্ট্রোলে রাখে। আমিও রুটির চেষ্টা করেছি, সহ্য হয়নি। গ্যাসের সমস্যায় রাতে ঘুম ভেঙে যায়। সপ্তাহ খানেকের মধ্যে আবার ভাতে ফিরেছি। আমি ভেতো বাঙালিই ভাল।

    ‘হাতে পারে লোকটা পাজি। ভূতপ্রেতের কথা ছড়িয়ে পয়সা কামানোর ধান্দা করছে। লোকটাকে দেখলে বুঝতে পারব।’

    রত্না চেয়ারটা টেনে আমার দিকে একটু সরে এল। ফিসফিস করে বলল, ‘ও বাবা, ওই লোককে তুমি দেখবে!’

    স্ত্রীর ভয় দেখে আমি হেসে ফেললাম। ভুরু তুলে বললাম, ‘ওমা দেখব না? হাতের কাছে এমন একটা মানুষ পেয়েছি, না দেখে ছেড়ে দেব? চাইলে তুমিও দেখতে পারো। ডাকব একদিন বাড়িতে?’

    ‘ওরে বাবাঃ। আমার দরকার নেই।’

    আমি আরও জোরে হেসে উঠলাম। তবে মনের ভেতর দুশ্চিন্তাটা চেপে বসল। লোকটা এসব বলছে কেন? পয়সাকড়ির বিষয়টা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। গরিব মানুষ রোজগারের জন্য কতরকম ফন্দি ফিকির বানায়। তবে এই লোকের ফন্দিটা একটু অন্যরকম। কানাইলালকে কাল জিজ্ঞেসও করেছি।

    ‘এসব রটিয়ে ওই লোক কি টাকাপয়সা কামাতে চায়?’

    কানাইলাল মাথা চুলকে বলল, ‘না, স্যার সেরকম তো শুনিনি।’

    ‘তা হলে!’ আমি খানিকটা অবাক হই।

    ‘মনে হয় মজা করে।’ কানাইলাল হাসল।

    ‘এটা একটা মজা করার মতো জিনিস? মৃত মানুষকে নিয়ে ঠাট্টা!’

    কানাইলাল একটু চুপ করে থেকে বলে, ‘দু’-একজন লেবার একটু ভয় পেয়েছে।’

    আমি চেয়ার ঠেলে সোজা হয়ে বসলাম। কানাইলালের দিকে তাকিয়ে বললাম, ‘সে আবার কী? ভয় পেয়েছে। এরকম একটা পাগলামির কথা শুনে ভয় পেয়েছে!’

    কানাই হাসল। বলল, ‘মুখ্যু সুখ্যু লেবার। একই সঙ্গে মজা পায়, আবার ভয়ও পায়। গরিব মানুষের কাছে ভয়টাও একটা মজার মতো।

    আমি নড়েচড়ে বসলাম। কাজের জায়গায় এটা তো ঠিক নয়। দু’-একটা হাসি মশকরা হতে পারে, কিন্তু সিরিয়াস জিনিস কেন হবে? আমি মাথা নেড়ে গম্ভীর গলায় বললাম, ‘না কানাই, এটা ঠিক নয়।’

    ‘ভয় পেলে কী করব? ছেলেমানুষ তো কেউ নয়। মশকো জওয়ান সব মজুর।’

    আমি বিরক্ত হলাম। বললাম, ‘কী আবার করবে, ডেকে ধমক দেবে। যে ভয় দেখাচ্ছে, তাকে ডেকে ধমক দেবে। শুধু তাই নয়, যারা ভয় পাচ্ছে তাদেরও বলতে হবে। এ একটা ভয় পাওয়ার মতো জায়গা হল? রাজারহাট তোমাদের গা ছমছমে পাড়াগাঁ নাকি যে, বাঁশবনে ভূত আসবে? এসব একদম বরদাস্ত করবে না কানাই। কোম্পানির বদনাম হয়ে যাবে। ঠিক আছে তোমাকে কিছু বলতে হবে না, কালই তোমার এই লোকটাকে আমার কাছে ধরে আনবে। যা বলার আমিই বলব।’

    কানাইলাল মাথা নামিয়ে বলল, ‘তাই করব স্যার। আপনার কাছে ধরে আনব।’

    আমাদের প্রজেক্ট চলছে রাজারহাটে। রাজারহাটে এখন যা হচ্ছে সম্ভবত তাকেই বলে কর্মযজ্ঞ। চারপাশে তৈরি হচ্ছে উঁচু উঁচু বাড়ি, ঝাঁ চকচকে রাস্তা, শপিং মল, বাস টার্মিনামে। তবে আমাদের দিকটা এখনও ফাঁকা ফাঁকা। মানুষের যাতায়াত বলতে শুধু মিস্ত্রি মজুর। মাটি, বালি, ইট বোঝাই লরি ধুলো উড়িয়ে হেলেদুলে ছুটছে মাঠের ভেতর দিয়ে। আমার কোম্পানির অফিস হবে বত্রিশ তলা। আই টি পার্ক। শুনেছি, বারোতলার পর পরোটা শুধু কাচ। দেয়াল, ছাদ, মেঝে সব কাচের। হলে একটা দেখার মতো জিনিস হবে। তবে এখন সবে জমি টিন দিয়ে ঘিরে মাটি কাটার কাজ শুরু হয়েছে। আমি হলাম সেই মাটি কাটার সুপারভাইজার। কাজ হিসেবে খুবই সামান্য। রত্না অবশ্য বলে বেড়ায় তার স্বামী আই টি সেক্টরে কাজ করছে। আমি রাগ করি। কঠিন রাগ নয়, হালকা রাগ। কথাটা একেবারে মিথ্যে তো নয়। কাজ যা-ই হোক, জায়গাটা তো…। কোম্পানি আমার জন্য ব্যবস্থা খারাপ করেনি। ইটের গাঁথনি আর অ্যাসবেস্টসের চাল দিয়ে সাইট অফিস বানিয়ে দিয়েছে। অফিসের জানলা দরজায় পরদা। কম্পিউটারও দিয়েছে। তাতে হিসেব থাকে। মাটি কাটার হিসেব। কতটা মাটি উঠল, কাজ করছে ক’টা মেশিন, ক’জন মজুর লেগেছে— এইসব।

    কানাইলাল হল আমাদের লেবার কন্ট্রাক্টর। অন্য মজুর নয়, শুধু মাটি কাটার মজুর সাপ্লাই করে। আশ্চর্যের বিষয় হল, এ বিষয়ে তার একটা কোম্পানিও আছে! নাম ‘সয়েল অ্যান্ড কয়েল।’ আমি একবার জিজ্ঞেস করেছিলাম, ‘এ আবার কীরকম নাম! সয়েল তো বুঝলাম, কয়েলটা কী?’ কানাইলাল লজ্জা লজ্জা গলায় বলল, ‘কোনও মানে নেই, এমনি দিয়েছি। সয়েলের সঙ্গে মিলিয়ে কয়েল। আজকাল জমি মাটির কারবারে সাহেবসুবো লোক আসে স্যার। একটা ইংলিশ নাম লাগে। নইলে ইজ্জত পাওয়া যায় না।’

    নাম যা-ই হোক। সস্তায় মজুর সাপ্লাইতে কানাইলাল ইতিমধ্যেই নাম করেছে। এই লাইনে সকলেই মোটামুটি জানে, ‘সয়েল অ্যান্ড কয়েল’ থেকে লোক নিলে ঝুট ঝামেলা নেই।

    শুধু এই ঝামেলাটা হল। একে কি ঝামেলা বলব?

    গতকাল দুপুরে টিফিনের পর সাইটে চক্কর মারলাম। এই সময়টা কাজে একটা ভাঁটা পড়ে। লেবাররা কোদাল ঝুড়ি ফেলে খানিকক্ষণ গা ছেড়ে দেয়। একবার নিজে না ঘুরে দেখলে মুশকিল। শুধু কাজের জায়গা নয়, যে পাশটায় মিস্ত্রি মজুরদের থাকবার ছাউনি হয়েছে সেদিকটাও যেতে হয়। আয়োজন ছোট নয়, প্রায় শ’খানেক লোকের রাতদিন থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা। অফিসে ফেরার সময় কানাইলালকে ডেকে নিলাম। হেড অফিসে রিপোর্ট পতে হবে। কতটা কাজ এগোল তাই নিয়ে রিপোর্ট। প্রতি সোমবার করে মাটি কাটার শপ নিয়ে আমি কলকাতায় হেড অফিসে যাই। এখান থেকে দূর কম নয়। বড় রাস্তাতে পৌঁছোতে মাঠ, জল, কাদা মাড়াতে হয়।

    কানাইলালের সঙ্গে কথা বলে সন্তুষ্ট হলাম। কাজ ভালই এগোচ্ছে।

    ‘তোমার লেবাররা এবার ভালই দেখছি কানাই। ফাঁকি টাকি মারে না। বর্ধমানে কাজটার সময় খুব ভুগিয়েছিল।’

    কানাইলাল গদগদ ভঙ্গিতে বলল, ‘ফাঁকিবাজগুলোকে সব তাড়িয়েছি স্যার। এই লট একেবারে এক্সপোর্ট কোয়ালিটি।’

    আমি টেবিলের কাগজপত্র গোছাতে গোছাতে বললাম, ‘ওরা বলে কী? পেমেন্টে খুশি তো।’

    কানাইলাল হেসে বলল, ‘খুশি না হয়ে উপায় আছে? আপনার এখানে তো পাওনা বাকি কিছু থাকে না। সব একেবারে কারেন্ট। এদিকে স্যার এখানে একটা মজার কাণ্ড হয়েছে।’

    ‘মজা!’ আমি মুখ তুললাম।

    কানাইলাল হাসিমুখেই রয়েছে। বলল, ‘হ্যাঁ স্যার, আমার এক লেবার অদ্ভুত কথা বলছে। ভুতের কথা।’

    ‘ভুতের কথা! সে আবার কী!’

    কানাইলাল ঘাড় ঘুরিয়ে একবার পিছনে দরজার দিকে তাকাল, তারপর গলা নামিয়ে বলল, ‘বলছে, সে নাকি মরা মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে।’

    আমি ফাইল হাতে থমকে দাঁড়ালাম। ঠিক শুনলাম তো। কানাইলাল বলছেটা কী!

    ‘কী! কী করতে পারে বললে?’

    কানাইলাল দাত বেবু করে হাসল। বলল, মরে যাওয়া মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে। কিছু খবর টবর দেওয়ার থাকলে পৌছে দেয় আবার নিয়েও আসে। এই যেমন এখানকার আত্মীয়স্বজন কেমন আছে। এদিককার খবরই বা কীরকম— এইসব। পোস্টম্যানের মতো।’

    কথা শেষ করে ‘খ্যাঁক খ্যাঁক’ আওয়াজ করে আসল কানাইলাল।

    আমি ধমক দিয়ে বললাম, ‘কী যা-তা বলছ? পাগল টাগল জোটালে নাকি?’

    কানাই চেয়ারে হাত রেখে বলল, ‘তাই হবে স্যার। পাগলই হবে। লোকটা এবারই প্রথম আমার এখানে কাজ করছে। মমিতি এনেছে ওকে।’

    ‘মতিমতিটা আবার কে?’

    ‘মিতিমতি মাঝেমধ্যে গ্রাম দেশ থেকে আমার জন্য লোক ধরে আনে। এই পাগলটা ওর শ্বশুরবাড়ির দিকে কোথায় থাকত। গত মাসে নিয়ে এল। বলল, ছেলেরা বড়োকে বাড়ি থেকে বিদায় করেছে। কাজ পেলে খায়, নইলে চেয়েচিন্তে চলে। কাজ না দিলে মরে যাবে। বললাম, থাকুক। মাটি কাটতে তো বিরাট পণ্ডিত লাগবে না। এখন শুনেছি, এই কাণ্ড। তাও দু’দিন আগে শুনলাম, বেটা নাকি কয়েকজনকে এই কথা বলেছে।’

    আমি আবার চেয়ারে বসে পড়লাম।

    ‘কী বলেছে?

    ‘বলেছে, তোমাদের যদি খবর টবর দেওয়ার থাকে বলোখন, অসুবিধে কিছু নাই। একজন নাকি তার শালাকে খবর পাঠিয়েছে। শালা গত বছর সাপের কামড়ে মরেছিল।’

    আমি বুঝতে পারছি, আমার চোখ স্থির। পাতা কি পড়ছে? মনে হয় না পড়ছে। বিড়বিড় করে বললাম, ‘কী খবর?’

    কানাইলাল ছোপ ধরা দাঁত বের করে বলল, ‘বাড়ি ঘরের খবর। চালা নাকি ভেঙে গিয়েছে। মরা শালার কাছ থেকে ঘর সারানোর পারমিশান নিয়েছে বেটা।’

    কথাটা বলে আবার খানিকটা হাসল কানাই। তারপর বলল, ‘এই হারামজাদার দেখাদেখি, আরও দু’-একটা খেপেছে। কে যেন তার বাপ কেমন আছে জানতে চায় শশধরের কাছে। সে বুড়ো মরেছে তেরো বচ্ছর হয়ে গেল।’

    ‘শশধর! শশধরটা কে?’

    ‘শশধর ওই লোকের নাম স্যার। গুপি নামের এক মজুর তো মারাত্মক কাণ্ড করেছে। ছেলের সঙ্গে কথা বলবে বলে একেবারে ঝুললাঝুলি। ছেলে কলেরা না আন্ত্রিকে মরেছিল সাত বছর বয়েসে। তাও বছর তিন-চার হয়ে গিয়েছে। বুঝুন কাণ্ড! তিন বছর আগের মরা ছেলের সঙ্গে কথা বলতে চাইছে! শশধর বলেছে, কথা বলাতে পারব না, আমি শুধু খবর দেয়া-নেয়া পারি। খবর থাকলে বলো।’

    আমি কী বলব বুঝতে পারছিলাম না। তবে এটা বুঝতে পারছিলাম, এই জিনিস বন্ধ করতে হবে। গাঁজাখুরি গল্প খুব তাড়াতাড়ি ছড়ায়। এটাও ছড়াবে।

    কানাইলাল বলল, ‘তবে শুধু মজা নয়, লেবারদের মধ্যে কেউ কেউ ভয়ও পাচ্ছে।’

    এরপরই আমি কানাইলালকে জানাই, ওই লোকের সঙ্গে আমি দেখা করব। নিজে ধমক দেব।

    কাল সারাদিন মনের ভেতরটা খচখচ করেছে। হেড অফিসে রিপোর্ট বলার সময় উলটোপালটাও হয়ে গেল। বাড়িতে ফিরে রত্নাকে গল্পটা করলাম।

    ‘বলো কী! লোকটা নিজেও ভূত নাকি?’

    ‘ভূত না হলেও শয়তান তো বটেই। টাকা পয়সা না চাইলে বুঝতে হবে অন্য কোনও ফন্দি আছে। এরপর হয়তো দেখব সাইটের ওখানে ভূত নামানোর পুজো টুজো বসিয়ে দিয়েছে। এর বাবা, ওর শ্বশুর, মরা কাকা-জ্যাঠারা সব সেখানে ভিড় করেছে।’

    রত্না বলল, ‘ওরকম করে বোলো না, আমার কিন্তু ভয় ভয় করছে।’

    আমি হেসে বললাম, ‘প্রথমে ভেবেছিলাম, কানাইয়ের হাতেই ব্যাপারটা পুরো ছেড়ে দেব। তারপর ভেবে দেখলাম, সেটা ঠিক হবে না। কড়া কোনও স্টেপ নেওয়া দরকার।’

    রত্না কাঁপা গলায় বলল, ‘কী স্টেপ নেবে? যাই করো বাপু সাবধানে করবে। এসব লোক তন্ত্র মন্ত্র জানতে পারে। শ্মশানে এরকম তান্ত্রিক থাকে শুনেছি। বইতেও পড়েছি। মরা মানুষের খুলির সঙ্গে কথা বলে।’

    আমি সামান্য হেসে বললাম, ‘আমার এটা শ্মশান নয় রত্না, প্রথমে ওয়ার্নিং দেব, তাতেও যাদ কাজ না দেয়, দূর করে দেব। আজকাল তাড়ানো খুব সহজ ব্যাপার। বড় বড় ইঞ্জিনিয়ার, ম্যানেজারকে আজকাল ফুৎকারে তাড়িয়ে দেওয়া যায়, একটা সামান্য মজুরকে তো তুড়ি দিলেই হবে।’

    কানাইলাল সেই লোককেই এখন এনেছে। কুঁজো হয়ে দাঁড়িয়ে আছে আমার সামনে।

    নাম জানি তবু জিজ্ঞেস করলাম, ‘তোমার নাম কী?’ একটা কিছু দিয়ে তো কথা শুরু করতে হবে।

    লোকটা চুপ করে রইল। কানাইলাল ধমক মেরে বলল, ‘কী রে নাম বল, চপ করে আছিস কেন? বল নাম।’

    ‘শশধর হুজুর।’ লোকটা জড়ানো গলায় বলল, মদ টদ খায় নাকি?

    কানাইলাল দাঁত খিঁচুনি দিয়ে বলল, ‘পষ্ট করে বল।’

    আমি হাত তুলে বললাম, ‘তুমি চুপ করো কানাই, ওকে বলতে দাও।’ তারপর সহজ গলায় বললাম, ‘শশধর, তুমি মাটি কাটো?’

    ‘হ্যাঁ হুজুর কাটি, তবে সবসময় পারি না।’

    খেয়াল করে দেখলাম লোকটার চোয়াড়ে মুখে খোঁচা খোঁচা কাঁচা-পাকা দাড়িও আছে। বয়স একেবারে কম নয়। চাউনির মধ্যে একটা ফ্যালফ্যালে ভাব। একেই কি ইংরিজেতে বলে ভেকেন্ট লুক?’

    ‘হুজুর বাঁ হাতের এইখানটা ভেঙেছিল, তারপর থেকে অনেকক্ষণ কোদাল ধরলে ব্যথা পাই।’

    শুধু পাগল নয়, লোকটা অকর্মণ্যও বটে। কানাই এটাকে জোটাল কেন কে জানে? এর সঙ্গে বেশি বকবক না করে সরাসরি আসল কথাতেই যাওয়া ভাল।

    ‘শশধর তোমার নামে যা শুনেছি সেটা কি সত্যি তুমি কি সত্যি মৃত মানুষদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারো?’

    শশধর চুপ করে রইল। ভেবেছিলাম, লোকটা লজ্জায় মাথা নামিয়ে ফেলবে। অন্যায় কাজ ধরা পড়ে যাওয়ার পর সাধারণত সবাই যা করে। এও সেরকম কিছু করল না। একই ভাবে আমার মুখের দিকে তাকিয়ে রইল। কানাইলাল ফিসফিস করে বলল, ‘কী রে বল? স্যার যা জিজ্ঞেস করছে জবাব দিবি তো।’

    আমি আবার হাত তুলে কানাইলালকে থামালাম। নরম গলায় বললাম, ‘কথাটা ঠিক?’

    শশধর এবারও মুখে উত্তর দিল না। শুধু একপাশে ঘাড় নাড়ল। লোকটা বলে কী! পারে! আমি ভেবেছিলাম, এসব জিজ্ঞেস করলেই পায়ের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়বে। কাজ যাতে না যায় তার জন্য কান্নাকাটি জুড়ে দেবে। এ তো উলটো কাও। আমি নড়েচড়ে বসলাম। মজা পাচ্ছি। একটু হেসে বললাম, ‘কীভাবে করো? নাম ধরে ডালে? মনে মনে? নাকি রাতের বেলায় ফাঁকা মাঠে হাঁক দাও?’

    শশধর আমার রসিকতা ধরতে পারল না। বিড়বিড় করে বলল, ‘আমি মাটিতে বলি, ওরা শুনতে পায়।’

    ‘মাটিতে বলো!’ একটু চমকালাম কি?

    ‘হ্যাঁ, যখন কাজ করি তখন বলি। বলতে বলতে একসময় সাড়া পাই। মাটি দিয়ে কাজ করি তো, তাই মাটি দিয়ে ডাকি।’

    লোকটা সত্যি উন্মাদ। আমি কানাইলালের মুখের দিকে তাকালাম। তার ভুরু কোঁচকানো। মুখে টেপা হাসি। ভাবটা এমন— দেখলেন তো স্যার, বলেছিলাম কি না? এখন কী করা উচিত। জোর এক ধমক দিয়ে ঘর থেকে বের করে দিই?’

    ঠান্ডা গলায় বললাম, ‘কীভাবে ডাকো? তোমার আশেপাশে যারা কাজ করে, তারা শুনতে পায়?’

    ‘না পায় না। আপনে ধরেন কাউরে কিছু জানাতে চান, আমারে নামটা আর খবরটা বললেন, আমি তারে ডেকে চুপিচুপি কথাটা বলে দিই।’

    ‘বলে দাও! ডেডম্যান, মানে মরা মানুষকে তুমি দেখতে পাও শশধর?’

    ‘না পাই না, বুঝতে পারি। এলে মাটিতে কাঁপুনি লাগে। জোরে নয়, অতি সামান্য কাঁপুনি। ওই কাঁপুনির মধ্যে গলাও শুনতে পাই।’

    কানাইলাল আর পারে না। ডান হাতটা তুলে বলে ‘চোপ, একদম চোপ হতভাগা। গল্প বানানোর জায়গা পাওনি। ইঃ কাঁপুনি লাগে! ফাজিলটার কানের গোড়ায় দেব এক ঘা।’

    আমি কানাইলালের ধমকে গুরুত্ব দিলাম না। বুঝতে পারছি, কথা বেশি হয়ে যাচ্ছে। বেশি কথা মানে মানসিক রোগগ্রস্ত এই মানুষটাকে আশকারা দেওয়া। সেটা ঠিক নয়। আমার উচিত এখনই এই লোকের সঙ্গে কথা বলা বন্ধ করা। একজন সামান্য মজুরের সঙ্গে ভূত বিষয়ক দীর্ঘ আলোচনা চলতে পারে না।

    কিন্তু থামতে পারছি না। এতক্ষণ যে ঘটনা শুধু আগ্রহ তৈরি করেছিল, মজা দিচ্ছিল, সেটাই ক্রমশ আমার ভেতরে কেমন যেন দাঁত নখ বের করে চেপে বসছে!

    ‘মরা মানুষের সঙ্গে কথা বলার ক্ষমতা তুমি কবে থেকে পেয়েছ শশধর? জন্ম থেকে?’

    কানাইয়ের ধমকে এই লোকের চোখের চেহারা বদলেছে। এতক্ষণ ফ্যালফ্যালে ছিল, এবার খানিকটা ভয়ের ভাব এসেছে। বুকের কাছে হাতদুটো জড়সড় রেখে বলল, ‘জানিনে হুজুর। আঞ্জু বুড়ির মেয়েকে অপর দিতে গিয়ে দেখলাম আমি কাজটা পারছি।’

    ‘আঞ্জু বুড়ি! সে আবার কে?’ আমি টেবিলের ওপর একটু ঝুঁকে পড়লাম।

    ‘আমাদের গাঁয়ের মানুষ। একদিন বিকেলে দেখি পথের ধারে বসে হাঁপায়। বুকটা হাপরের মতো ওঠে আর নামে। ওঠে আর নামে। আমি বললুম, কী হল গো বুড়িমা? বুড়ি চোখ উলটে বললে, মেয়েটাকে একটা খপর দে বাবা, বল আমি আসছি। আমি খপর দিলুম, বুড়ি ও মরল সন্ধের পরপর।’

    ‘খবর দিলে মানে? বাড়ি থেকে মেয়েকে ডেকে আনলে?’

    ‘ডেকে আনব কী হুজুর, বুড়ির তো বাড়ি ঘর কিছু নাই। একটা মাত্র মেয়ে ছিল, সেও পাঁচ বছর আগে বাচ্চা হতে গিয়ে শ্বশুরবাড়িতে মরেছে। মুক্তি না লক্ষ্মী—কী যেন নাম ছিল তার। পথের ধারে বসে ওই মরা মেয়েকেই, খপর দিলুম।’।

    লোকটা বানাচ্ছে। গল্প বানাচ্ছে। কিন্তু বানানোর ক্ষমতাটাও দারুণ। গল্পটা থেকে চট করে বেরোতে পারা যায় না। আমাকেই ধরে ফেলেছে, মিস্ত্রি মজুরদের ধাঁধায় ফেলতে কতক্ষণ?

    ‘কী খবর?’

    কানাইলাল এবার এগিয়ে এসে শশধরের কাঁধে হাত রাখল। চিবিয়ে চিবিয়ে বলল, ‘ব্যস অনেক হয়েছে, অনেক হয়েছে, ভূত, পেতনি, ব্ৰহ্মদত্তি সব শুনলাম। এবার কাজে যাও তো বাপু, স্যারেরও কাজ আছে, নাকি সারাদিন তোমার বকককানি শুনলে হবে? যা ভাগ।’

    মাঝপথে আটকাতে আমি বিরক্ত হলাম। কানাইলালকে ঝাঁঝালো গলায় বললাম, ‘আঃ কানাই, চুপ করো। আমার কথার মধ্যে বারবার ঢুকছ কেন?’ তারপর শশধরের দিকে তাকিয়ে উত্তেজিত গলায় বললাম, ‘মরা মেয়েকে কী খবর দিলে?’

    শশধর ভয় পেয়েছে। কানাইয়ের দিকে তাকিয়ে কাঁচুমাচু গলায় বলল, ‘আমি আসি হুজুর। আমায় ছেড়ে দেন।’

    আমি ভেতরে ভেতরে একটা অস্থিরতা অনুভব করছি। ঠান্ডা গলায় বললাম, ‘কথা শেষ করে যাও শশধর। বুড়ির মরা মেয়েকে কী খবর পাঠালে সেটা বলে যাও।’

    ‘কী আর বলব? বললুম, ঘরদোর ধোওয়া মোছা করো, জল তুলে রাখো, তোমার কাছে তোমার মায়ে যায়।’

    আমি বিড়বিড় করে বললাম, ‘ওই লক্ষ্মী না মুক্তি শুনতে পেল?’

    শশধর খানিকক্ষণ চুপ করে রইল। মেঝের দিকে তাকিয়ে বলল, ‘মাটিতে কাঁপন পেলাম হুজুর। তারপর থেকেই…।’

    আমার গা কি একটু শিউরে উঠল? না মনে হয়। কী করে হবে? কেনই বা হবে? আমি তো আর ভয় পাইনি। টেবিলে রাখা জলের গেলাস তুলে এক চুমুকে শেষ করলাম। যুক্তি বুদ্ধি দিয়ে অস্বস্তিটা ঝেড়ে ফেলতে চাইলাম। শুধু গল্প বলা নয়, এই লোকের অভিনয় ক্ষমতাও চমৎকার। কত স্মার্ট ভঙ্গিতে একটা অলৌকিক বিষয়কে সত্যি বলে চালানোর চেষ্টা করছে! এরকম একটা কড়কড়ে রোদের সকালে ভূতের গল্প ফাঁদা চাট্টিখানি কথা নয়। এই লোক সেটা খানিকটা হলেও পেরেছে। ধাপ্পাবাজদের মধ্যে এই গুণ অবশ্য প্রায় দেখা যায়। তারা অভিনয়ও ভাল করে। সমস্যা হল, কথা শুনে এই আধবুড়ো লোকটাকে সেরকম মনে হচ্ছে না। সম্ভবত এই কারণেই অস্বস্তি তৈরি হচ্ছে।

    একটা কাজ করলে কেমন হয়? বাড়াবাড়ি হয়ে যাবে? হোক। লোকটা কতখানি গোলমেলে সেটা বোঝা যাবে। জালিয়াত, পাগল— সবকিছুরই তো একটা মাত্রা আছে। এই লোকের সেই মাত্রাটা কতখানি? নিজের ইন্টারেস্টই জানা দরকার। একটা মজাও হবে। রত্নাকে বাড়িতে গিয়ে যখন বলব, ভয় পাবে। কিন্তু তার আগে কানাইলালকে ঘর থেকে বের করে দেওয়া দরকার। এ কথা ওর সামনে বলা যায় না।

    ‘কানাই গত সপ্তাহের রিপোর্টটা আছে নাকি?’

    ‘আমার ব্যাগে আছে স্যার। ব্যাগটা বাইরে।’

    ‘চট করে নিয়ে এসো দেখি। ততক্ষণে তোমার শশধরের সঙ্গে কথা শেষ করি।’

    কানাইলাল ইতস্তত করল। আমি ভুরু কুঁচকে তাকাই।

    ‘যাও, দেরি করছ কেন?’

    কানাইলাল আমার বিরক্তি বুঝতে পারে, খানিকটা যেন অবাক হয়ে ঘর ছাড়ল সে। মুহূর্ত কয়েক নিজের মনে কথাটা সাজিয়ে নিয়ে সরাসরি তাকালাম লোকটার দিকে।

    ‘আমার একটা কাজ করে দিতে পারবে?’

    মাথা নামিয়ে আছে শশধর। একা ঘরে তাকে যেন এবার একটু অন্যরকম লাগছে। সে কি বেলা বাড়ছে বলে? বেলা বাড়লে মানুষের কি চেহারা বদলায়?

    ‘চেষ্টা করব হুজুর।’

    আমি চেয়ারটা সামান্য পিছনে ঠেলে নিলাম। তারপর খানিকটা আপন মনেই বলতে থাকি—

    ‘মেয়েটার ভাল নাম মালবিকা। আমরা মালা ডাকতাম। কলেজের ফার্স্ট না সেকেন্ড ইয়ার চলছে, তা প্রায় তেইশ-চব্বিশ বছর আগের ঘটনা। বলা নেই কওয়া নেই, একদিন কলেজে গিয়ে শুনি মালা গলায় দড়ি দিয়েছে।’

    এতটা পর্যন্ত বলে চুপ করে গেলাম।

    ‘কী খপর বলব হুজুর।’

    ‘না না খবর কিছু বলতে হবে না… শুধু জিজ্ঞেস করবে, জিজ্ঞেস করবে কেন এরকম করেছিল সে… বলবে আমি জানতে চেয়েছি…। পারবে?’

    প্রশ্নটা শেষ করে ঠোঁটে ঠাট্টার হাসি এনে মুখ তুলে তাকাই। তাকিয়ে চমকে উঠি। কুঁজো মানুষটা একদৃষ্টিতে আমার দিকে চেয়ে আছে। চোখদুটো যেন মানুষের নয়। মাটির চোখ! মাটির দৃষ্টি! সেই দৃষ্টি তীব্র, তীক্ষ্ণ সুচের মতো আমার গভীর পর্যন্ত গেঁথে, কেটে দেখতে দেখতে চলেছে!

    রাতে খেতে বসে ভাত নিয়ে নাড়াচাড়া করে উঠে পড়লাম। রত্না বলল, ‘শরীর খারাপ।’ ‘খারাপ নয়, একটা অস্বস্তি হচ্ছে। কে জানে গ্যাসের প্রবলেমটা ফিরে এল হয়তো?’

    ‘ওষুধ খাবে?’

    ‘দেখি, রাতে দরকার হলে খাব।’

    বিয়ের পর থেকেই দেখছি রত্না খাবার সময় চিবোয় বেশি। প্রথম প্রথম ভাবতাম হজমের জন্য করে। পরে শুনলাম, শুধু তাই নয়, এতে নাকি দাঁতের সেটিং ভাল থাকে। চিবোতে চিবোতেই রত্না বলল, ‘সেই লোকটার সঙ্গে দেখা হয়েছে? ডেকেছিলে তাকে?’

    আমি চমকে ফিরে তাকালাম, রত্নার মনে আছে! |

    ‘কোন লোক?’

    রত্না হেসে বলল, ‘বাঃ ওই যে ভূতের সঙ্গে কথা বলতে পারে, তোমাদের মাটি কাটার লেবার? ডাকোনি তাকে?’

    আমি মুখ ফিরিয়ে গম্ভীর গলায় বললাম, ‘খেপেছ? কাজের জায়গায় পাগলামির সময় কোথায়? কোথা থেকে একটা চিটার ধরে এনেছে কানাই বেটা।’

    রত্না বলল, ‘ওরকমভাবে বলছ কেন? গরিব মানুষ, অভাবে যে কত কী করে তার ঠিক আছে? মরা মানুষের সঙ্গে কথা বলা তো সহজ কাজ, আমাদের কোন্নগর স্টেশনে একটা জোয়ান লোক মরা সেজে পড়ে থাকত। পাশে ছেলে, বড় ভিক্ষে করত। পোড়ানোর খরচ চাই।’

    আমি গজগজ করে উঠলাম, ‘ওসব ফাজলামি তোমার কোন্নগর স্টেশনে হতে পারে রত্না, আমার প্রজেক্টের ওখানে চলতে পারে না। হেড অফিসে যদি খবরটা পৌছোয় আমার অবস্থাটা কী হবে ভেবে দেখেছ? আই টি পার্কে ভূত! ছি ছি।’

    রত্না অবাক হয়ে আমার দিকে তাকাল, বলল, ‘আমার ওপর রেগে যাচ্ছ কেন? আমি কী করলাম?’

    নিজেকে দ্রুত সামলালাম। সত্যি তো, রেগে যাচ্ছি কেন? আর রাগ করলে নিজের ওপর করা উচিত। এই জালিয়াতটাকে হুট করে মালবিকার কথাটা বলা উচিত হয়নি। কোনও কিছুই বলা উচিত হয়নি। আর যদি বলতেই হয়, মরা লোকের কি অভাব ছিল? দাদু, মামা কাকা যে কারও কথা বলতে পারতাম। মালা কে? হু ইজ মালা? তাকে কতটুকু চিনতাম? কিছুই নয়। দু’পাঁচ দিন তার সঙ্গে ঘুরেছি মানে এই নয় এত বছর পরেও তার কথা মনে পড়বে। হঠাৎ মালবিকার কথা মানেই বা পড়ল কেন!

    খুব অল্প সময়ের জন্য হলেও ওই লোক কি আমাকে প্রভাবিত করেছে?

    ফ্ল্যাটের একফালি বারান্দায় এসে দ্রুত হাতে নম্বর টিপলাম। মোবাইলের ছোট্টো পরদায় ভেসে উঠল—সয়েল অ্যান্ড কয়েল।

    ‘হ্যালো কানাইলাল? ঘুমিয়ে পড়েছ?’

    স্কুটারটা গড়বড় করছিল। গ্যারেজে দেখিয়ে সাইটে আসতে খানিকটা দেরি হয়ে গেল। ঘরে ঢুকে কম্পিউটার চালু করলাম। কানাইলাল ঢুকল প্রায় আমার পিছু পিছু। মুখে হাসি।

    ‘ভূতটাকে তাড়িয়ে দিয়েছি স্যার।’

    আমি মুখ তুললাম, কানাই দাঁত বের করেই আছে। সেই অবস্থাতেই বলল, ‘আপনার অর্ডার মতো আজ ভোরেই পাওনা গা বুঝিয়ে দেশে ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছি। বললুম বাছা, ভূতগিরি এখানে চলবে না। মাটি কাটা ছেড়ে তুমি বরং কাঁধে ব্যাগ ঝুলিয়ে পোস্টম্যান হয়ে যাও। মরা মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে চিঠি দেওয়া নেওয়া করো। সামান্য কন্মে তোমায় মানাবে না।’

    কথা শেষ করে ‘হ্যা হ্যা’ করে হাসতে লাগল কানাইলাল।

    ‘মতি হারামজাদাকেও ধমকে দিয়েছি স্যার, বলেছি, ভবিষ্যতে এরকম পাগল ছাগল নিয়ে এলে তারও বিপদ আছে। সব সহ্য করব কিন্তু সয়েল এ্যান্ড কয়েলের বদনাম সহ্য করব না।’

    আমি মাউসে ক্লিক করে চোখের সামনে মাটির হিসেব খুললাম। নিচু গলায় বললাম, ‘শশধর কিছু বলল?’

    ‘বলবে আবার কী? চুপচাপ পোঁটলা পুঁটুলি গুছিয়ে নিল। ও হ্যাঁ, আপনাকে জানানোর জন্য শুধু একটা কথা বলেছে স্যার।’

    ‘কী বলেছে?’

    ‘স্যার, মালা না মালবিকা কী যেন নাম বলল, ইস নামটা ঠিক মনে পড়ছে না। যাই হোক, সেই মহিলা নাকি আপনাকে বলে পাঠিয়েছে…।’

    কথাটা শেষ করে কানাইলাল মুচকি হাসল। নিচু গলায় বলল, ‘ভূতটুও নাকি স্যার?’

    বাড়ি ফিরলাম তাড়শ জ্বর নিয়ে।

    প্রতিদিন রোববার, ৬ জুলাই ২০০৮

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleধুলোবালির জীবন – প্রচেত গুপ্ত
    Next Article দেরি হয়ে গেছে – প্রচেত গুপ্ত

    Related Articles

    প্রচেত গুপ্ত

    দেরি হয়ে গেছে – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    ধুলোবালির জীবন – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    রুপোর খাঁচা – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    মাটির দেওয়াল – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    নুড়ি পাথরের দিনগুলি – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    নিষাদ – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }