Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    পঞ্চাশটি গল্প – প্রচেত গুপ্ত

    প্রচেত গুপ্ত এক পাতা গল্প833 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    নিকুঞ্জবাবু

    দরজার আড়ালে কেউ হাসছে। কে হাসছে? নিকুঞ্জ পাঠকের মাথা বালিশে, দুটো পা টানটান করে সামনে মেলা। সেই পা তিনি নাড়াচ্ছেন। নাড়াতে নাড়াতে ভাবছেন, কীভাবে শুরু করবেন। কোথা থেকে শুরু করবেন। হাসির আওয়াজে পা নাড়ানো বন্ধ করলেন নিকুঞ্জবাবু। ভুরু কোঁচকালেন। মৃত্যুর বাড়িতে হাসে কে! এ আবার কেমন অসভ্যতা? একটা মানুষ মাত্র হাত কয়েক দূরে মরে পড়ে আছে, সেইসময় হাসাহাসি! ঠিক শুনছেন তো?

    হ্যাঁ, ঠিক শুনেছেন। দরজার ওপাশেই বারান্দা। নিকুঞ্জবাবুর শখের বারান্দা। সেই শখের বারান্দা থেকে হাসি ভেসে আসছে। জোরে হাসি নয়, চাপা গলায় হাসি। মুখে হাত রেখে হাসলে যেমন হয় সেরকম।

    আশ্চর্য। খুবই আশ্চর্য। বাড়ির কর্তার মৃত্যুর মতো একটা শোকাবহ ঘটনার পর হাসি!

    কে হাসছে? বাড়ির কোনও মেম্বার? নাকি বাইরের কেউ? হতে পারে, বাইরের লোকও হতে পারে। কিছুক্ষণ হল একটা-দুটো করে বাইরের লোকজন আসতে শুরু করেছে। গাড়ি, ট্যাক্সির হর্ন শোনা যাচ্ছে। সিঁড়িতে পায়ের আওয়াজ। ‘মরোমরো’ অবস্থার খবর পেলে আজকাল আর বাইরের লোক আসে না। তারা আসে ফাইনাল মারা যাওয়ার পর। ঠিকই করে। মরামরো সময় ছুটে আসার মানে ডাক্তার, অ্যাম্বুলেন্স, হাসপাতাল, অক্সিজেনের হাজারটা ফ্যাচাঙে জড়িয়ে পড়ে। মারা যাওয়ার পর পৌঁছেলে আর সে ঝামেলা থাকে না। একেবারে ঝাড়া হাত-পা।

    কাল রাতে যখন শ্বাস উঠল তখন ক’টা বাজে? নিকুঞ্জলালু সময় মনে করার চেষ্টা করলেন। খুব বেশি হলে একটা। প্রথমে চাপ, তারপর কষ্ট বুকটা ঢেউয়ের মতো একবার উঠছে, একবার নামছে। চোখ দুটো বেরিয়ে আসার জন্য ছটফট করছে। কপাল, গলা ঘামছে দরদরিয়ে। এসব এলাকায় রাত একটা মানে অনেক। সুরমাদেবীর চেঁচামেচিতে বাড়িসুদ্ধু সবাই উঠে পড়ল। দুই ছেলে, তাদের বউরা, বড় নাতনি, গোপালের মা— সবাই। একটা হট্টগোলের মতো অবস্থা। ঘরে ঘরে আলো জ্বালানো হল। কেউ হাতপাখা খুঁজছে। কেউ জল আনছে। কেউ ওষুধের বাক্স হাতড়ে ওধ খুঁজছে আর বাড়ির সবাইকে গাল দিচ্ছে— ‘এ বাড়িতে একটা জিনিস যদি ঠিক সময় পাওয়া যায়। এটা বাড়ি না অন্যকিছু?’

    একটা বেজে পনেরো-কড়ি নাগাদ সুরমাদেবী মখে আঁচল চাপা দিয়ে কাঁদতে শুরু করলেন।

    স্বপন রেগে গিয়ে বলল, ‘আঃ মা, কী আরম্ভ করেছ? রাতদুপুরে মরাকান্না শুরু কেন?’

    সুরমাদেবী কান্না থামিয়ে বড় ছেলেকে ধমক দেন।

    ‘তোর বাবা রাতে মরছে তাই রাতে মরাকান্না কাঁদছি। দিনে মরলে দিনে কাঁদতাম। তোর কী অসুবিধে?

    কথা শেষ করে সুরমাদেবী আবার মুখে আঁচল চাপা দিলেন। নিকুঞ্জবাবু বিয়ের পর থেকেই দেখছেন, তাঁর স্ত্রীর এই ক্ষমতা অদ্ভুত। কান্নাকাটির মধ্যেও সে ধমকাতে পারে। স্বপন অবাক হয়ে বলল, ‘মরছে! মরছে কোথায়! বাবার বুকে ব্যথা হচ্ছে, বুকে ব্যথা হলেই কি মানুষ মরে যায় নাকি? গ্যাসের ব্যথা হতে পারে।’

    অন্তরার ঘর থেকে বেরোতে দেরি হয়েছে। সে পরে ছিল নাইটি। নাইটি পরে শ্বশুরের ঘারে আসা যায় না। শ্বশুর মৃত্যুপথযাত্রী হলেও না, না হলেও নয়। সে হাউসকোট খুঁজে, গায়ে জড়িয়ে তবে এল।

    সুরমাদেবী তার দিকে তাকিয়ে কঠিন গলায় বললেন, ‘এতক্ষণ কী করছিলে? তখন থেকে ডাকছি। বাপ রে! বাড়িতে একটা মানুষ মরছে আর নাক ডেকে এত ঘুম!’

    অন্তরা কাটা গলায় জবাব দিল, ‘এত ঘুম কোথায়? এই তো সব সেরে সুরে বারোটার পর শুলাম। আপনি তো ভাল করেই জানেন মা, সবাইকে খাইয়ে, রান্নাঘর পরিষ্কার করে, বিছানা করে এই বাড়ির বউদের শুতে কত দেরি হয়। আপনি কি জানেন না? কুন্তলার তো আরও সময় লাগে। ওর ছেলে ছোট।’

    সুরমাদেবী চোখের জল মুছে বললেন, ‘স্বামী মারা যাচ্ছে, এখন আর বাড়ির বউদের কাজের ফিরিস্তি না-ই বা শুনলাম অন্তরা। একেবারে না হয় সব চুকেবুকে যাওয়ার পর শুনব। এখন যাও দেখি, একটা হাতপাখা নিয়ে এসো।’

    তপন জলের গ্লাস হাতে নিকুঞ্জবাবুর মাথার কাছে দাঁড়িয়ে ছিল। সে বলল, ‘হাতপাখা দিয়ে কী হবে মা? ঘরে তো ফুল স্পিডে ফ্যান চলছে।’

    সুরমাদেবী ছোট ছেলের কথায় আমল দিলেন না।

    কুন্তলা দরজার পাশ থেকে সরে এসে স্বামীকে বলল, ‘আঃ, মা যখন বলছে… এইসময় হাতপাখা লাগে। তুমি বরং ডাক্তার সরকারকে ফোন করো।’

    তপন বিরক্ত গলায় বলল, ‘তুমি জলের গ্লাসটা ধরে দাঁড়াও। গ্লাস হাতে ফোন করতে পারব না।’

    ডাক্তার সরকারকে ফোন করা হল দুই পর্যায়ে। ল্যান্ড এবং মোবাইলে। প্রথম পর্যায়ে ফোন বেজে গেল। দ্বিতীয় পর্যায়ে ঘুম ভাঙা, বিরক্ত গলায় ডাক্তারবাবু বললেন, হাসপাতালে নিয়ে যান।’

    হাসপাতাল শুনে সুরমাদেবীর কান্না বাড়ল। দুই পুত্রবধূ এসে শাশুড়ির গায়ে হাত রাখতে গেলে তিনি কান্না থামিয়ে সেই হাত সরিয়ে বললেন, ‘গায়ে হাত দাও কেন? আমি কি মুচ্ছা যাচ্ছি? সরো তো, মানুষ মরার সময় আদিখ্যেতা ভাল লাগে না। আদিখ্যেতা করতে হলে অন্য সময় করবে।’

    হাসপাতালে নিতে হল না। তার আগেই নিকুঞ্জ পাঠকের বুকের ওঠা-নামা বন্ধ হল। চোখ স্থির হল। তিনি মারা গেলেন।

    কিন্তু এখন হাসে কে? যে-ই হোক, নিকুঞ্জবাবুর মনে হচ্ছে, এই লোকের গালে এখনই একটা চড় লাগানোর দরকার। শোকের বাড়িতে হাসা বেরিয়ে যাবে। শুধু শোক তো নয়, একটা ভদ্রতা-সভ্যতাও আছে।

    গায়ের চাদর সরিয়ে খাটের ওপর উঠে বসলেন নিকুঞ্জবাবু। হাতে সময় অল্প। এতে কতটুকু দেখা হবে? কিছুই হবে না। দীর্ঘ পঁয়ষট্টি বছরের জীবনে কত মানুষ, কত ঘটনা। একটা পাক মারতে না মারতেই সময় ফুরিয়ে যাবে। সময় বাড়াবার জন্য নিকুঞ্জবাবু যে চেষ্টা করেননি এমন নয়। চেষ্টা করেছিলেন। ‘উনি’ কিছুতেই রাজি হলেন না।

    ‘স্যার, আর এক ঘণ্টা বাড়িয়ে দিন।’

    ‘উনি’ শান্ত গলায় বললেন, ‘এইটা বলবেন না নিকুঞ্জবাবু। একেই আউট অব টার্ন পারমিশান করে দিলাম, এখন যদি আরও আবদার করেন তা হলে মুশকিলে পড়ব।’

    নিকুঞ্জবাবু হাত কচলে বললেন, ‘অনুমতি দিলেন বলেই আর একটু সময়ের জন্য রিকোয়েস্ট করছি। নইলে কি ছাই সাহস পেতাম?’

    ‘উনি’ হেসে ফেললেন। সুন্দর, সৌম্য হাসি। বললেন, ‘আচ্ছা নিকুঞ্জবাবু, আপনি ঠিক কী দেখতে চাইছেন?’

    নিকুঞ্জবাবু গদগদ গলায় বললেন, ‘শুধু দেখতে নয়, শুনতেও চাইছি স্যার। আমার মৃত্যুর পর প্রিয়জন, পরিচিত মানুষ, আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব কে কী করে, কে কী বলে— আড়াল থেকে একবার দেখতে চাই।’

    ‘কী হবে দেখে?’

    নিকুঞ্জবাবু লাজুক গলায় বললেন, ‘মানুষের এটাই মজা স্যার? নিজের জন্য অন্যের হাসি, আহ্লাদ, আনন্দ দেখে যেমন সুখ হয়, তেমনি তাদের শোক, দুঃখ দেখেও ভাল লাগে। তৃপ্তি পায়। এত মানুষ আমার জন্য কাঁদছে, আহা রে উহু রে বলছে— এটা একটা বড় পাওনা স্যার। বলছে, মানুষটা কত ভাল ছিল, কত বড়মাপের ছিল। সমুদ্রের মতো মন, পর্বতের মতো হৃদয়। শুনতে ভাল লাগবে না স্যার? আপনিই বলুন না!’

    ‘উনি’ মুচকি হাসলেন। বললেন, ‘আমি ঠিক জানি না। হয়তো লাগবে। আচ্ছা নিকুঞ্জবাবু, আপনি নিজের জন্য কতখানি শোক, দুঃখ আশা করছেন?’

    নিকুঞ্জাবু উৎসাহী গলায় বললেন, ‘নিজের মুখে কী বলব স্যার? অনেকটাই করছি, বলতে পারেন পুরোটাই। এত বছর বেঁচে থেকে এত কিছু করলাম আর মরার পর একটু কান্নাকাটি এক্সপেক্ট করব না? শুত্ব তো আর একটা তিনতলা -চারতলা বাড়ি তৈরি নয়, স্ত্রী যেমনটি চেয়েছে, তেমনটি করে বানিয়েছি। তার শখ মেটাতে ধার করছি, পরিশ্রম করেছি। তারপর আমার দুই ছেলের কথাই ধরুন স্যার। স্বপন, তপন। মার্ভেলাস ছেলে। ছোটটা ব্যাবসা নিয়ে একটু গোলমালে আছে বটে কিন্তু সেটা বড় কিছু নয়। দু’জনকেই মানুষ করলাম, তাদের বিয়ে দিলাম। মেয়ে স্যার বর্ধমানে। জামাই কিঙ্কর অতি চমৎকার ছেলে। দারুণ রেজাল্ট। এই ছেলেকে আমিই খুঁজে বের করেছিলাম। সে এক গল্প স্যার। একদিন অফিস থেকে ফিরছি, হঠাৎ বাসে দেখি… যাক, সে গল্প আর একদিন হবে। নাতি, নাতনিগুলো আমার ভারী লক্ষ্মী পক্ষী। বড় ছেলের মেয়ে বুলি তো একটা সময় দাদু বলতে পাগল ছিল। খালি বায়না আর বায়না। এখন বড় হয়ে গেছে। সারাদিন কম্পিউটার ঘাঁটে। বিদেশে যাবে বলে বায়না ধরেছে। ছোট ছেলের পুত্রটি স্যার আমার বড় আদরের। এত আদরের যে নাম দিয়েছি আপু। আদর থেকে আদু। নিজের মুখে বলাটা ঠিক নয়, তবু আপনাকে বলছি, শুধু বাড়ির জন্য নয়, বাইরেও কাজকর্ম করেছি। খাতিরও পাই। পাড়ার তিন-তিনটে ক্লাবের প্রেসিডেন্ট আমি। এই বুড়ো বয়সেও প্রতি মাসে একবার করে পুরনো অফিসে যাই। সবার সঙ্গে দেখা করে আসি। চা না খাইয়ে বেটারা ছাড়তেই চায় না। আমাকে পেলে ওরা কত খুশি যে হয়…। ’

    ‘উনি’ যেন খানিকটা আপন মনেই বললেন, ‘সেই খুশিটা নিয়ে চলে যাওয়াটাই বুদ্ধির কাজ হত না কি নিকুঞ্জবাবু?’

    নিকুঞ্জবাবু হাত জোড় করে ফেললেন, ‘প্লিজ স্যার। একটিবারের জন্য।’

    ‘উনি’ মাথা নামিয়ে, জাবদা খাতায় ঘসঘস করে লিখতে লিখতে বললেন, ‘ঠিক আছে যান, যখন চাইছেন একবার ঘুরে দেখে আসুন। তবে মনে রাখবেন, আপনি কিন্তু নিজেকে দেখাতে পারবেন না। শরীরটা আপনার শোওয়ার ঘরে যেমন শুয়ে আছে, মরে আছে, তেমনিই থাকবে। আপনি ঘুরবেন ছায়ার মতো, বাতাসের সঙ্গে। সবই দেখবেন, শুনবেন, কিন্তু দেখা দিতে পারবেন না। বলতেও পারবেন না কিছু। যান, আড়ালে থেকে দেখা করে আসুন সবার সঙ্গে।’

    ‘তা হলে স্যার সময়টা কি আর একটু বাড়াবেন না?’

    ‘উনি’ মুখ তুলে তাকালেন। ঠোঁটের ফাঁকে হাসির রেখা ফুটিয়ে বললেন, ‘না। মনে হয় না আপনার লাগবে।’

    চোখ খুলে বিছানায় উঠে বসতেই নিকুঞ্জবাবু দেখতে পেলেন, ঘর প্রায় ফাঁকা। দু’-একজন এদিক সেদিক বসে দাঁড়িয়ে আছে। তারা বেশিরভাগই অচেনা বা আধ চেনা। বাড়ির লোকজন সব গেল কই? সুরমা? এ আবার কী? মৃত স্বামীকে ছেড়ে সে গেল কোথায়? ছেলেরা? তাদের বউ? নাতি নাতনি? নিশ্চয় হাতমুখ ধুয়ে ফ্রেশ হতে গেছে। সে তো যাবেই। আহা, বেচারিদের পুরো রাতটাই ধকল গেছে। রাতে মানুষ মরা ঠিক না।

    মৃতদেহের বালিশের পাশে কে যেন যত্ন করে চশমা, ঘড়ি রেখে দিয়েছে। নিকুঞ্জবাবু তুলে চোখে দিলেন। ঘড়ি পরলেন হাতে। সময়টা খেয়াল রাখতে হবে। ‘উনি’ রেগে না যান। চিরুনি পাওয়া যাবে? মাথার এই উলুঝুলু অবস্থায় ঘর ছেড়ে বেরোনোটা বিচ্ছিরি। যাক কী আর করা। মরা মানুষের চিরুনি খোঁজাটা ভাল দেখায় না। হাত বুলিয়ে চুল ঠিক করলেন, তারপর দরজা পেরিয়ে বারান্দায় এসে দাঁড়ালেন। সবার আগে শোকের বাড়িতে হাসির রহস্য ভেদ করা দরকার।

    কিন্তু বাইরে এসেই চমকে উঠলেন নিকুঞ্জবাবু।

    আরে! এ তো বড় নাতনি বুলি দাঁড়িয়ে! বুলির সঙ্গে শালার মেয়েটাও আছে। কী যেন নাম মেয়েটার? মনে পড়েছে, কাজল। ওরা এর মধ্যে জামশেদপুর থেকে চলে এল! ভেরি গুড

    নিকুঞ্জবাবু নাতনির দিকে সরে এলেন। দাঁড়ালেন ফুল ফুল গ্রিলের সঙ্গে মিশে।

    বুলি হাসি হাসি গলায় বলল, ‘অ্যাই কাজল, চল না, কাল দুপুরে ছবিটা দেখে আসি। খুব হাসির বই।’

    কাজল হাসতে হাসতে বলল, ‘একেবারে কালই? হ্যাঁরে কাল সময় পাব? বাড়িতে এত ঝামেলা।’

    বুলি চোখ কপালে তুলে বলল, ‘ওমা! ঝামেলা কোথায়? বাবা বলছে আজ সন্ধের মধ্যেই শ্মশানমশান হয়ে যাবে। তারপর ফ্রি। আর ঝামেলা হলেই তো ভাল। আমাদের দিকে কেউ খেয়ালই করবে না। টুক করে ছবি দেখে চলে আসব। কাঁদোকঁদো মুখে বাড়ি ঢুকলেই চলবে।’

    কাজল এবার হেসে ফেলল। চোখ নাচিয়ে বলল, ‘অ্যাই, ও যাবে?’

    বুলি চোখ পাকিয়ে বলল, ‘কে?’

    কাজল বলল, ‘ওই যে তোর ও।’

    বুলি হাসতে হাসতে বলল, ‘মার খাবি কাজল। ভাল হচ্ছে না কিন্তু। একটু আগে মোবাইলে ফোন করেছিল। আমি বললাম, আজ কথা বলব না। দাদু মারা গেছেন। পাজিটা কী বলল জানিস?’

    কাজল ঠোঁট টিপে হেসে বলল, ‘কী বলল?’

    ‘বলল, তাতে কী হয়েছে? দাদু মারা গেলে, প্রেম করা বারণ নাকি? হি হি।’

    নিকুঞ্জবাবু কী করবেন বুঝতে পারছেন না। তিনি সরে এলেন। পায়ে কোনও আওয়াজ নেই। পা টেপার কোনও দরকার ছিল না, তা তিনি পা টিপে টিপে বারান্দা দিয়ে হাঁটতে লাগলেন। ওদের কথা তিনি শুনেছেন জানতে পারলে মেয়েদুটো লজ্জা পাবে। আহা, ছেলেমানুষ। ওরা ওসব দুঃখ-দুঃখ কী বোঝো?

    বারান্দার শেষে বড় ছেলের ঘর। ঘরের সামনে পরদা। বড় বউমার টেস্ট ভাল। মনে আছে, স্বপনের সম্বন্ধ দেখার সময় গায়ের রঙের পাশাপাশি তিনি টেস্টের ব্যাপারটা খেয়াল রেখেছিলেন। রুচি ভাল হলে মানুষও ভাল হয়। ঘরের পরদা সুন্দর। সুন্দর পরদা সরিয়ে ভেতরে উঁকি দিলেন নিকুঞ্জুবাবু।

    ওয়ার্ডরোবের সামনে দাঁড়িয়ে অন্তরা কাপড়তাম গুছোচ্ছে। একপাশে সোফায় বসে আছে স্বপন। তার চোখমুখে রাত জাগার ক্লান্তি।

    ‘অমন মুখ গোমড়া করে বসে আছ কেন?’

    স্বপন মুখ তুলে বিরক্ত গলায় বলল, ‘কী করব? নৃত্য করব?’

    ‘আমাকে ধমকাচ্ছ কেন? বুড়া বয়সে বাবা মরেছে, তাতে ক্ষতিটা কী? বরং লাভই হয়েছে। এরও লাভ, আমাদেরও লাভ।’

    ‘লাভ!’

    স্বপন মুখ তুলল। অন্তরা বলল, ‘বাঃ লাভ নয়? এই যদি অসুখবিসুখ করে বিছানায় পড়ে থাকত ভাল হত? নিজে কষ্ট পেত, আমাদেরও জ্বালিয়ে মাত্র। জ্বালাতে তো শুরুই করেছিল। এটা খাব, ওটা খাব। বউমা কচু লতির শাক করো, তিলের নাড়ু বানাও।’

    ‘না বানালেই পারতে।’

    অন্তরা ঝাঁঝের সঙ্গে বলল, ‘ইঃ না বানালেই পারতে। বলা খুব সোজা। উনি ছেলের বউমা বলে রাঁধুনি নিয়ে এসেছেন না? অর্ডার মতো না খাবার পেলে বুড়ো ছাড়ত? মুখে আবার কত আদিখ্যেতা। আমার বড় বউমার রান্নার হাত আমি সোনা দিয়ে বাঁধিয়ে দেব। কচুর মাথা দেবে। আসল সোনা তো সব নিজের স্ত্রীর লকারে।’

    নিকুঞ্জবাবু পরদার আড়ালে এক পা সরে এলেন। এসব কী শুনছেন। ঠিক শুনছেন তো! স্বপনই বা চুপ করে আছে কেন? কিছু বলবে না? একটা ধমক তো দিতে পারে। বাবাকে ‘বুড়ো’ বলছে আর ছেলে চুপ করে শুনছে!

    স্বপন বলল। হাত নেড়ে বলল, ‘বাজে কথা ছাড়া তো। আমি রয়েছি নিজের জ্বালায়।’

    অন্তরা মুখ ফিরিয়ে বলল, ‘কী জ্বালা আবার?’

    ‘শুনলে না তপনটা কী বলল?’

    ‘কী বলল তোমার গুণধর ভাই?’

    ‘বলল, দাদা তুই বড়, শ্মশানমশান, শ্রাদ্ধশান্তি, লোক খাওয়ানো সব তুই সামলাবি। ও সবের হ্যাপার মধ্যে আমি নেই। তা ছাড়া এই মাসটা ব্যাবসায় টানাটানি চলছে।’

    ‘মানে?’

    ‘মানে আর কী, খরচাপাতি সব আমার।’

    অন্তরা মুখ ঝামটে বলল, ‘কেন, তোমার কেন? উনি কি বানের জলে ভেসে এসেছেন? বিয়ের পরপরই তোমাকে বলেছিলাম, তোমার এই ভাইটি একটি মিচকে। বলিনি? বলো তুমি? শুধু তোমার ভাই নয়, তোমার ভাইয়ের ফরসা বউটিও সুবিধের নয়। একা পেলেই শ্বশুরের সঙ্গে এত গুজুর গুজুর কীসের রে বাপু? শ্বশুর কি তোর একার?’

    স্বপন বলল, ‘কী আবার? নিশ্চয় বাবার কাছ থেকে ব্যাবসার টাকা ম্যানেজ করত। যাক, ওসব ছাড়ো, আমি দেখি কাজকর্ম কত শর্টে সারা যায়।’

    দীর্ঘশ্বাস ফেলে সরে এলেন নিকুঞ্জবাবু। সন্তানের সব কথা ধরতে নেই। শোকের মাথায় মানুষ উলটোপালটা কত কী বলে। পিতৃশোক বলে কথা। চাট্টিখানি ব্যাপার নয়।

    ছোট ছেলের ঘরে পরদা টানা নয়, ভেজানো। বিয়ে-থা হয়ে গেলে ছেলের ভেজানো দরজা ঠেলে ঢুকতে নেই। বাইরে থেকে হয় ডাকতে হয়, নয় গলাখাঁকারি দিতে হয়। আজ সেসব সমস্যা নেই। দরজার সঙ্গে মিশে ভেতরে সেঁধিয়ে পড়লেন নিকুঞ্জ পাঠক।

    টেবিলের সামনে বসে তপন অফিসের কাগজপত্র ঘাঁটছে। একটু দূরে খাটে বসে আছেন তার শাশুড়ি। পান চিবোচ্ছেন। নিকুঞ্জবাব বেয়ানকে দেখে খুশি হলেন। এই মহিলাকে তিনি পছন্দ করেন। মহিলা সরল সাদা মানুষ। কথায় কথায় বলতেন, ‘আমাকে কিছু বলবেন না দাদা, মেয়ের বিয়ে দিয়েছি। মেয়ে এখন আপনার। এই মেয়ের ভালমন্দ কিছুই আমি বুঝি না।’ এই মহিলা মৃত্যুসংবাদ পেয়ে সবার আগে ছুটে আসবে না তো কে আসবে? এমনটাই হওয়া উচিত। বিপদের সময় পাশে না দাঁড়ালে কীসের আত্মীয়? কীসের আপনজন?

    খাটের অন্যপাশে কুন্তলা তার চার বছরের ছেলে আদুকে ভাত খাওয়াচ্ছে। সিদ্ধ ভাত। ভাতের আড়ালে একটা ডিমও আছে। আদু ভাত খেতে চাইছে না। কুন্তলা ধমক দিয়ে খাওয়াচ্ছে।

    নিকুঞ্জবাবু খাটের পাশে চুপটি করে দাঁড়ালেন।

    শাশুড়ি-মহিলা তাঁর মেয়েকে বললেন, ‘তাড়াতাড়ি কর। হুট বলতে কে এসে যাবে।’

    তপন মুখ না ফিরিয়ে বলল, ‘এসে যাবে তো কী হয়েছে?’

    মহিলা চিবুক তুলে মুখের পিক সামলে বললেন, ‘মরার বাড়িতে রান্নাবান্না ভাল দেখায় না। তার ওপর তোমার বাবার দেহ এখনও রয়েছে।’

    তপন মুখ দিয়ে অবজ্ঞা ধরনের আওয়াজ তুলে বলল, ‘ওসব আমি মানি না। আমিও খাব।’

    মহিলা বললেন, ‘আমি মানামানির কথা বলছি না। দেখানোর কথা বলছি। তোমার খাওয়াটা ঠিক হবে না তপন। কেউ দেখলে…।’

    কুন্তলা তার মায়ের দিকে মুখ ফিরিয়ে কঠিন গলায় বলল, ‘কী হবে মা? বাবা মরেছে বলে ছেলে উপোস করে থাকবে? এটা কেমন কথা বলছ? সবাই তো লুকিয়ে এটা-সেটা মেরে দিচ্ছে। তুমি কি ভাবছ এ বাড়ির বড়বউ তার স্বামীকে না খাইয়ে রেখেছে? ভোরবেলা চা দিল, বিস্কুট দিল। একটা ডিম পর্যন্ত ঝট করে ভেজে দিয়েছে। গোপালের মা আমাকে খবর দিয়েছে। তা ছাড়া উনি তোমার জামাইয়ের জন্য বাড়তি কী করেছেন? কিছুই নয়। কতদিন ধরে আদুর বাবা হাজার চল্লিশ টাকা চাইছে। এমনি চায়নি, বিজনেসের জন্য চাইছে। বাবা একটা ফিক্সড ভাঙালেই হেসে খেলে হয়ে যেত। শ্বশুরমশাই কিছুতেই শুনলেন না। দিচ্ছি, দেব বলে কাটিয়ে দিলেন। এখন তো বিশ বাঁও জলে। তার জন্য আমরা কেন বুক চাপড়ে কাঁদব?

    নিকুঞ্জবাবু সরে দাঁড়ালেন। এখানে এক মিনিটও নয়। এই ঘর ছেড়ে বেরিয়ে পড়াটাই নিরাপদ। যত দ্রুত পালানো যায় তত মঙ্গল।

    কুন্তলার মা চাপা গলায় বলছেন, ‘গাধার মতো কথা বলিসনি। শ্বশুর গেছে তো কী হয়েছে, এখন তার শাশুড়িকে ম্যানেজে রাখতে হবে। টাকাপয়সা, বাড়িঘর ভাগাভাগির ব্যাপার আছে। যা ছেলেকে খাওয়ানো বন্ধ করে শাশুড়ির কাছে গিয়ে বস। গায়ে মাথায় হাত বোলা। এমনি বোলাবি না, সঙ্গে কাঁদবি।’

    কুন্তলা গজগজ করে বলল, ‘যাচ্ছি, কিন্তু কাঁদতে পারব না। তুমি তো জানো মা, টিভির সিরিয়ালগুলো ছাড়া চট করে আমার চোখে জল আসে না। তা ছাড়া মানুষটাকে কখনওই আমি পছন্দ করিনি। সারাদিন বাড়িতে বসে খালি ট্যাঁক ট্যাঁক আর ট্যাঁক ট্যাঁক। আলো নেভাও রে, কল বন্ধ করো রে, ছাদের দরজাটা খোলা কি না দেখে এসো রে, উফ হরিবল।’

    নিকুঞ্জবাবু বেরিয়ে পড়লেন। তিনি কি চিন্তিত? মুখ দেখে মনে হচ্ছে চিন্তিত। আবার নাও হতে পারে। জীবিত মানুষের মুখ দেখে যা মনে হয়, মৃত মানুষের বেলায় তা নাও হতে পারে।

    সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় দেখা হল মেয়ের সঙ্গে। ‘দেখা হল’ বলাটা ঠিক নয়। নিকুঞ্জবাবু ঝুমুরকে দেখতে পেলেও, ঝুমুর তাঁকে দেখতে পেল না। পাওয়ার কথাও নয়। ঝুমুরের পেছনে তার স্বামী, কিঙ্কর। মেয়ের হাতে রুমাল। জামাইয়ের হাতে ঢাউস সুটকেস। বধমান থেকে আসছে বলে সুটকেস! নিশ্চয় এখানে ক’টা দিন কাটিয়ে ফিরবে।

    নিকুঞ্জবাবু সিঁড়ির একপাশে সরে দাঁড়ালেন। ঝুমুরের মুখের দিকে তাকালেন। মেয়ের মুখ থমথমে এবং লালচে। আহা রে, নিশ্চয় খুব কান্নাকাটি করেছে। মেয়েটার এই এক দোষ। বড্ড নরম। বাবার একটা কিছু হল কি হল না কেঁদে ভাসাবে। এই তো গত বছর সামান্য ফ্লু নিয়ে কী কাণ্ড করল। সকালে খবর পেয়ে বিকেলের ট্রেনে চলে এসে কান্না জুড়ল। আর এ তো একেবারে মৃত্যু। কাঁদবে না?

    মেয়ের কান্নায় বাবারা দুঃখ পায়, আজ অন্যরকম হল। নিকবাবু খুশি হলেন। তিনি মেয়ে-জামাইয়ের পিছু নিলেন।

    ঝুমুর কোনও দিকে না তাকিয়ে চটি ফটফটিয়ে তাঁর মায়ের ঘরে এসে থামল। নিকুঞ্জবাবুও ঢুকে পড়লেন বন্ধ জানলা গলে। সুরমাদেবী আধশোয়া অবস্থায় খাটে শুয়ে আছেন। চোখ বোজা। মাথার কাছে গোপালের মা হাতপাখা নিয়ে বাতাস করছে। দু’পাশে অন্তরা আর কুন্তলা দুজনেই দাঁড়িয়ে। হাতে গ্লাস। দু’জনেই তাদের শাশুড়ির জন্য শরবত এনেছে। সম্ভবত সুরমাদেবী এখনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি, কোনটা তিনি খাবেন।

    ঝুমুরের পায়ের আওয়াজে সুরমাদেবী চোখ খুললেন।

    ‘এসেছিস?’

    ঝুমুর ঝুঁকিয়ে উঠল, ‘মা আমি এত পরে খবর পেলাম কেন?’

    সুরমাদেবী বিরক্ত গলায় বললেন, ‘এতে আগে পরের কী আছে? মানুষটা না মরলে মরার খবর দেব কী করে? তা ছাড়া স্বপন তো সকালেই ফোন করেছে।’

    ‘ওটা সকাল হল? সাতটাটা কি সকাল? আমাদের আদ্দেক কাজ হয়ে যায়। তোমাদের বাড়ির মতো সবাই পড়ে পড়ে ঘুমোয় না।’

    কথা শেষ করে বউদের দিকে আড়চোখে তাকাল ঝুমুর। অন্তরা চিমটিটা ধরে নিল। নিচু গলায় বলল, ‘পড়ে পড়ে ঘুমোনোর কী আছে দিদি? গোটা রাতই তো আমরা জেগেছি।’

    সুরমাদেবী মুখে আঁচল দিয়ে বললেন, ‘এটা কোনও কথা নয়, বড় বউমা। বাড়ির কর্তা মারা যাচ্ছে, বাড়িসুদ্ধ সবাই জাগবে না তো কী করবে? নাক ডেকে ঘুমোবে? সত্যি তো তোমাদের ঝুমুরকে আরও আগে খবর দেওয়া উচিত ছিল।’

    কুন্তলা জায়ের পক্ষ নিল। রিনরিনে গলায় বলল, ‘সাতটা এমন কিছু দেরি নয়। বর্ধমান থেকে তো দশ মিনিট অন্তর অন্তর ট্রেন। সেরকম হলে কিঙ্করদার গাড়ি ছিল, এরকম একটা বিপদের দিনে তেল খরচ নিয়ে ভাবলে চলে না।’

    কিঙ্কর বোকাসোকা মানুষ। চট করে সবটা ধরতে পারে না। সে সবসময়ই বউয়ের কথা অনুযায়ী চলতে চেষ্টা করে। কখন রাগবে, কখন খুশি হবে পারলে সেটাও জেনে নেয়। অপমান গায়ে লাগতে কিঞ্চিৎ বেশি সময় নিল। সে তার বউয়ের দিকে তাকাল। ঝুমুর গলা তুলল, ‘ভাবতে তো হবেই। এখন থেকে সব খরচাপাতি নিয়েই ভাবতে হবে। নিজের বাড়ির টাকাপয়সা নিয়ে যেমন ভাবতে হবে, এ বাড়ির টাকাপয়সা নিয়েও ভাবতে হবে। বাবার সম্পত্তি শুধু ছেলের নয়, মেয়েরও।’

    সুরমাদেবী বললে, ‘উফ ঝুমুর। এখনও তোর বাবা পাশের ঘরে শুয়ে আছে, এসব কী শুরু করলি?’

    বাবার মৃত্যুশোকে এতক্ষণ পর্যন্ত যে মন খুলে কাঁদবার সময় পায়নি সেই ঝুমুর এবার ফুঁপিয়ে উঠল। কাঁদতে কাঁদতে বলল, ‘শুরু আমি করেছি, না তোমার ছেলে আর তাদের বউরা শুরু করেছে মা? আমাকে বাবার মৃত্যুর খবর কেন দেরি করে দেওয়া হল আমি জানি না ভেবেছ? প্রমাণ করতে চাইছে, ঝুমুর কুণ্ডু এ বাড়ির কেউ নয়। এটা সহজ হবে না। এই বলে রাখলাম, পাই পয়সা সব বুঝে তারপর এ বাড়ি ছাড়ব।’ কথা শেষ করে ঝুমুর তার স্বামীর দিকে ফিরে বলল, ‘হাঁদার মতো দাড়িয়ে আছ কেন? চলো, ঘরে চলো। কী জানি এরা বোধহয় আমার ঘরে এতক্ষণে তালা মেরে দিয়েছে। মেরে দিলে ক্ষতি নেই, উকিল ডেকে তালা ভাঙাব।’

    দেয়াল বেয়ে নিকুঞ্জবাবু একতলায় এসে দাঁড়ালেন। মনটা বিষয়। খুবই বিষণ্ণ। এসব কী শুরু হয়েছে বাড়িতে! কী শুরু হয়েছে! এই তাঁর ছেলে-মেয়ে! এই তার সংসার!

    ভাবতে ভাবতে পাক দিয়ে বাড়ির পেছনে এলেন। বাগানে এসে দাঁড়ালেন। এদিকটা ভাড়াটেদের। ভাড়াটে বলতে দুটি মাত্র মানুষ। অল্পবয়সি স্বামী-স্ত্রী। চাকরি-বাকরি ছাড়া সারাদিন গান-বাজনা আর লেখাপড়া নিয়ে থাকে। এমনি গান-বাজনা নয়, গম্ভীর গান-বাজনা। ওয়েস্টার্ন ক্লাসিকস্। বেটোফেন, মোৎসার্ট, চাওকোভাস্কি। অনেক ঝাড়াই-বাছাই, ইন্টারভিউয়ের পর এদের একতলার পেছনের দুটো ঘর দিয়েছিলেন নিকুঞ্জবাবু। বাড়িতে লেখাপড়া, গান-বাজনার একটা পরিবেশ থাকা দরকার। সে নিজের ঘরেই হোক বা ভাড়াটের ঘরেই হোক। বাড়ি তো একটাই। ছেলে-মেয়ে দু’জনেই চমৎকার। এলেই ডেকে, ঘরে বসিয়ে খাতির যত্ন করেছে।

    ‘এটা কী বাজছে হে?’

    ‘ফিফথ সিম্ফনি মেসোমশাই।’

    ‘ফিফথ সিম্ফনি! সেটা আবার কী!’

    ‘এটা খুব বিখ্যাত একটা সুর। ভেতরে আসুন না মেসোমশাই। এক কাপ চা খেতে খেতে বাজনা শুনে যান।’

    নিকুঞ্জবাবু ভেতরে গেছেন। সোফায় বসে বাজনা শুনতে শুনতে চা-বিস্কুট খেয়েছেন। চোখ বুজে মাথা নেড়েছেন। ‘বিখ্যাত’ সুর তাঁকে যতটা না আপ্লুত করেছে, তার থেকেও বেশি আপ্লুত করেছে, ভাড়াটেদের আচরণ। দশ-বারো দিন ভাড়া দিতে দেরি হলে গা করেননি কখনও। এই তো এ মাসের ভাড়া এখনও দেয়নি, তিনি কি তাড়া দিয়েছেন? দেননি। দেবেনই বা কেন? চমংকার মানুষের থেকে কি ভাড়া বড় হল?

    মৃত্যুর খবর পেয়ে এরা কী করছে? আজ কি গান-বাজনা শুনছে? দুঃখের বাজনা? বেহালা বা বাঁশি?

    না, বাজনা শুনছে না। বাগানের ঝোপঝাড় আগাছার ওপর দিয়ে ভেসে নিকুঞ্জবাবু এসে দাঁড়ালেন ভাড়াটেদের ড্রইংরুমের জানলায়। এই তো স্বামী-স্ত্রী দু’জনেই বসে। হাতে বই। মুখ থমথমে। থমথমে হওয়ারই কথা। মাথার ওপর পছন্দের মানুষটা মরে পড়ে আছে, ওদের মুখ থমথমে হবে না তো কী হবে?

    মেয়েটি বলল, ‘খারাপ লাগছে।’

    স্বামী মুখের সামনে থেকে বই সরিয়ে বলল, ‘আমারও লাগছে বিপাশা।’

    নিকুঞ্জবাবু সরে এলেন। তাঁর চোখদুটো আনন্দে চকচক করে উঠল। বিপাশা কাঁদোকাঁদো মুখে বলল, ‘অনেক ভাগ্য করে এমন একজন বাড়িঅলা পেয়েছিলাম।’

    ছেলেটি বলল, ‘আমি ভাগ্যে বিশ্বাস করি না, কিন্তু এঁকে পেয়ে মনে হচ্ছিল, ভাগ্যই আসল।’

    নিকুঞ্জবাবু মুগ্ধ। ইচ্ছে করছে, ঘরে ঢুকে পড়তে। তারপর সোফায় বসে হাসতে হাসতে বলবেন, ‘এক কাপ চা খাওয়াও দেখি। আর ওই যে কী ফোনি আছে তোমাদের, বাজনাটা বাজাও। শুনতে শুনতে চা খাই।’

    কিন্তু সে উপায় নেই। ‘উনি’ এক চক্কর ঘুরে দেখার অনুমতি দিয়েছেন। দেখা দেওয়ার অনুমতি দেননি। তাও আরও সরে এলেন নিকুঞ্জবাবু। একেবারে দরজার পাশে। নিজের জন্য অন্যের মায়া, শোক, প্রশংসা শোনার মধ্যে এত আনন্দ!

    বিপাশা বলল, ‘ভাগ্য বলে ভাগ্য। এমন বোকাহাঁদা বাড়িওলা কার কপালে জোটে বলো?’

    ছেলেটি হাসল। পায়ের ওপর পা তুলে বলল, ‘বোকা বলে বোকা? একেবারে গ্রেট বোকা। সেইজন্যই তো খারাপ লাগছে। বাজনা শুনিয়ে আর চা খাইয়ে হাঁদাটাকে তুমি যেভাবে ম্যানেজ করে রেখেছিলে বিপাশা, ভাড়া দিতে দেরি হলেও টুঁ-শব্দটা করত না। এমন গাধা তুমি কোথায় পাবে?’

    বিপাশা খিলখিল করে হেসে উঠল।

    ‘অ্যাই আস্তে। শুনতে পাবে।’

    ‘কে?’

    ‘গাধা বাড়িওলার গাধা ভূত।’

    এবার দুজনেই মুখে হাত চাপা দিয়ে হাসতে লাগল।

    নিকুঞ্জবাবু ছাদে। বেলা হল, রোদ কড়া হচ্ছে। নিকুঞ্জবাবু পকেট থেকে রুমাল বের করে ঘাম মুছলেন। পাঁচিল টপকে তাকালেন নীচে। অনেক মানুষ। কাচের গাড়ি এসে গেছে। দুই ছেলে সেই গাড়ি ফুল মালা দিয়ে সাজাচ্ছে চোখের জল মুছতে মুছতে। আহা রে! ঝুমুর আর পুত্রবধূদের অবস্থা আরও খারাপ। নতুন ধুতি পাঞ্জাবিতে মৃতদেহ সাজাতে সাজাতে কেঁদে ভাসাচ্ছে। চদন পরাচ্ছে বিপাশা। ভারী যত্ন করে পরাচ্ছে। নিকুঞ্জবাবু অবাক হলেন, এই মেয়ের এত গুণ!

    সুরমা ইতিমধ্যে বার কয়েক ফিট গেছে। কাজল, আর বুলি তাকে সামলাচ্ছে। নিকুঞ্জবাবু স্ত্রী ফিট যাওয়ার ঘটনায় চিন্তিত। এটা ঠিক নয়। শোকের জন্য নিজেকে অসুস্থ করা মোটে বুদ্ধিমানের কাজ নয়। সুরমাটা কোনওদিনই নিজের দিকে খেয়াল রাখে না।

    নিকুঞ্জবাবু হাত উলটে ঘড়ি দেখলেন। সময় ফুরিয়ে এসেছে। এবার যাওয়ার পালা। দেরি করলে ‘উনি’ রাগ করবেন। দেরি করার দরকারও নেই। দেখাশোনা সবই হয়ে গেছে। খানিক আগে পুরনো অফিসেও ঢুঁ মেরেছিলেন তিনি। একেবারে লিফটে চেপে সোজা অ্যাকাউন্টসে। কত বছর যে এই ডিপার্টমেন্টে কাটিয়েছেন। টেবিল, চেয়ার, ফাইল সব জায়গাতেই মায়া পড়ে আছে।

    সুদীপ্ত নিজের টেবিল থেকে চিৎকার করে বলল, ‘খবর পেয়েছ অম্বরীশ, পাঠকদা গেছেন।’

    উলটোদিকের টেবিলে বসে অম্বরীশ ফাইল ঘাঁটছিল। মুখ তুলে বলল, ‘কোথায় গেলেন?’ সুদীপ্ত হাত তুলে আকাশ দেখাল। অম্বরীশ হেসে উঠল।

    অম্বরীশ বলল, ‘যাক নিজে বাঁচলেন, আমাদেরও বাঁচালেন। সপ্তাহে সপ্তাহে এসে আর জ্বালাবেন না। রিটায়ার্ড লোকগুলোর এই হয়েছে সমস্যা। ভাবে তাদের মতো অন্যদেরও বুঝি কাজকর্ম নেই।’

    সুদীপ্ত হাসতে হাসতে বলল, ‘বাপু হে, কাউকে পাঠিয়ে তাড়াতাড়ি একটা মালা ঘুষ দিয়ে এসো। ভূত হয়েও যেন আর এদিক মুখো না হয়।’

    নিকুঞ্জবাবু পাঁচিলের ধার থেকে সরে এলেন। এগিয়ে গেলেন সিঁড়ির দিকে। ঠিক তখনই হালকা পায়ের আওয়াজ তুলে ছাদে উঠে এল আদু। চার বছরের ছোট্ট আদু। নিকুঞ্জবাবুর আদরের নাতি।

    নিকুঞ্জবাবু থমকে দাঁড়ালেন। মুখোমুখি দাঁড়িয়ে পড়ল আদুও। চোখ দুটো বড় বড় করে বলল, ‘দাদু, তুমি! তুমি এখানে!’

    নিকুঞ্জবাবু চমকে উঠলেন। আদু তাঁকে দেখতে পাচ্ছে! কী করে পাচ্ছে! ‘উনি’ তো সেই ক্ষমতা দেননি। বরং বারবার বলে দিয়েছেন, ‘মনে রাখবেন নিকুঞ্জবাবু, আপনি দেখবেন, কিন্তু আপনাকে কেউ দেখতে পাবে না। আপনি চাইলেও পাবে না। মরা মানুষকে জ্যান্ত দেখা গেলে সে এক কালোরি কাণ্ড হবে। নিয়মকানুন সব উলটেপালটে যাবে।’

    তা হলে কী হল! ছোট্ট আদুর বেলায় নিয়ম কি উলটেপালটে গেল?

    আদু দু’-পা এসে নিকুঞ্জবাবুর ডান হাতটা ধরল। সেই নরম আঙুল! সেই গরম গরম ছোঁয়া : নিকুঞ্জবাবুর শরীর কেঁপে উঠল। মৃত শরীরে প্রাণের কাঁপন!

    ‘ছাদে কী করছ দাদু?’

    নিকুঞ্জবাবু নিচু হয়ে নাতির মুখের কাছে মুখ নিয়ে হেসে বললেন, ‘কিছু নয় রে বেটা। চলে যাওয়ার আগে বাড়িটা একবার ঘুরে নিচ্ছি।’

    আপু আবদারের ঢঙে বলল, ‘না, তুমি যাবে না।’

    ‘ছি সোনা, অমন বলতে নেই।’

    ‘যাবে না, যাবে না, যাবে না।’

    নিকুঞ্জবাবু হাসার চেষ্টা করলেন। বললেন, ‘নীচে সবাই অপেক্ষা করছে। গাড়ি এসেছে, ফুল এসেছে।’

    ‘করুক, তোমাকে আমি ছাড়ছি না। এসো তুমি আর আমি ঘুড়ি ওড়াই। তুমি কিন্তু লাটাই ধরবে, এই বলে রাখলাম।’

    দাঁত চেপে নিজেকে সামলালেন নিকুঞ্জবাবু। তিনি কি এইটুকু শোনার জন্যই অপেক্ষা করছিলেন?

    ‘ও কথা বললে কি হয় বাবা? সময় হলে তো যেতেই হবে। তা ছাড়া দেরি করলে উনি যে রাগ করবেন দাদুভাই।’

    ছোট্ট আদু তার চোখের ছোট্ট জল মুছে বলল, ‘উনি কে দাদু?’।

    নিকঞ্জবাবু নাতির মাথায় হাত রাখলেন। প্রশ্ন এড়িয়ে মুচকি হেসে বললেন, ‘ভাল থেকো বাবা। দুষ্টমি কোরো না। মা’র কথা শুনবে, কেমন?

    আদু ঘাড় কাত করল। বলল, ‘আবার আসবে তো?’

    নিজের মৃত্যুতে মানুষ কখনও কাঁদে? কখনও কাঁদে না। নিকুঞ্জবাবুর চোখে তা হলে কীসের জল?

    ‘আসব সোনা, নিশ্চয় আসব।’

    নিকুঞ্জবাবু চলে যাচ্ছেন। তাঁর ভাল লাগছে না। মনে হচ্ছে, আর একটু থেকে যাই। আর একটুখানি।

    শববাহী গাড়ি স্টার্ট নিল।

    পুঃ গল্পটি লেখার পর প্রকাশের আগেই শুনি গল্পের সঙ্গে নাকি সিনেমার কাহিনির কিছু মিল পাওয়া যাচ্ছে। সিনেমাটি আমি দেখিনি। গভীর আগ্রহে সেই গল্পটি তখন শুনি। না, মিল নেই। বাইরের চেহারা দেখে কিছু বিভ্রম হয়েছে মাত্র। আসলে এই গল্পের সঙ্গে যে কাহিনির মিল আছে, সেটি হল,..।

    শারদীয় আজকাল, ১৪১৫

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleধুলোবালির জীবন – প্রচেত গুপ্ত
    Next Article দেরি হয়ে গেছে – প্রচেত গুপ্ত

    Related Articles

    প্রচেত গুপ্ত

    দেরি হয়ে গেছে – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    ধুলোবালির জীবন – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    রুপোর খাঁচা – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    মাটির দেওয়াল – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    নুড়ি পাথরের দিনগুলি – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    নিষাদ – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }