Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    পঞ্চাশটি গল্প – প্রচেত গুপ্ত

    প্রচেত গুপ্ত এক পাতা গল্প833 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    গোলাপি জামা

    শান্তনুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে গিয়েছে। তবু সে তানিয়াকে একটা সুযোগ দিতে চায়। ওনলি ওয়ান চান্স। মানুষ রাগের মাথায় অনেক কিছু করে বসে, পরে নিজের ভুল বুঝতে পারে। হয়তো তানিয়াও বুঝতে পেরেছে। এখন সেই অনুতাপের কথা জানার জন্যেই সুযোগ করে দেওয়া। এতে যদিও সিদ্ধান্তের কোনও হেরফের হবে না। তাই মনটা খুব শক্ত করে রেখেছে সে! টেলিফোন তুলে তানিয়ার নম্বর টিপল শান্তনু।

    তানিয়া ঘুম জড়ানো বিরক্ত গলায় বলল, ‘এত ভোরে ঘুম ভাঙালি কেন? তুই জানিস না, আমি দেরি করে উঠি?’

    শান্তনু ছোট মতো একটা ধাক্কা খেল। কাল এত বড় একটা অন্যায় করেও বেলা পর্যন্ত ভোঁস ভোঁস করে কেউ ঘুমোতে পারে! এও হয়! অথচ কাল রাতে সে নিজে একফোঁটাও ঘুমোতে পারেনি। এই তানিয়ার অনুতাপের বহর? ছি ছি!

    শান্তনু নরম গলায় বলল, ‘সরি, আমি বুঝতে পারিনি।’

    তানিয়ার বিরক্তি যেন আরও বাড়ল। বলল, ‘এইটুকু না বুঝতে পারলে কী হবে? উফ, তুই কি চিরকাল একই রকম হাঁদা থাকবি শান্তনু? ফার্স্ট ইয়ার শেষ হয়ে সেকেন্ড ইয়ার হতে চলল, এইটুকু তো বুঝতে হবে!’

    শান্তনুর উপর ধাক্কা আরও জোরে এল! জ্ঞান দিচ্ছে! নিজে ভয়ংকর একটা কাণ্ড করে তাকে এখন জ্ঞান দিচ্ছে?

    তানিয়া ফোনের মধ্যে হাই তুলল। বলল, ‘চুপ করে আছিস কেন? কী বলবার তাড়াতাড়ি বলে ফেল। কাল অনেক রাত পর্যন্ত ‘রোমান হলিডে’ সিনেমাটা দেখলাম। ছবিটার কথা অনেক শুনেছি, দেখা হয়নি। হাসতে হাসতে পেটে ব্যথা হয়ে গিয়েছে। আজ ঠিক করেছি, একদম হাসব না। হাসিকে রেস্ট দেব। সিনেমাটা তুই দেখেছিস নাকি?’

    শান্তনু চমকে উঠল, সে ঠিক শুনছে তো? এই মেয়ে কাল রাতে সিনেমা দেখেছে? শুধু দেখেছে না, আবার বলেছে হাসতে হাসতে পেটে ব্যথা হয়ে গিয়েছে! নাঃ, এই মেয়ের উপর আর কোনও আশা নেই!

    সে গম্ভীর গলায় বলল, ‘না দেখিনি।’

    ‘চান্স পেলেই দেখে নিবি।’

    শান্তনু গম্ভীর গলায় বলল, ‘আচ্ছা দেখে নেব।’

    তানিয়া হেসে বলল, গুড। এবার কী বলবে চট করে বলে ফেলো দেখি।’

    তানিয়ার হাসি ওর কানে কাঁটার মতো বিধল। এইসময় হাসি৷ একটু চুপ করে থেকে বলল, ‘তানিয়া তোকে একটা প্রশ্ন করব?’

    ‘প্রশ্ন? সাতসকালে ঘুম ভাঙিয়ে প্রশ্ন করবি? এত ভোরে তো যাবতীয় প্রশ্ন শুরু হয় কাকদের! তুই তা হলে কাক হয়ে গেলি শান্তনু। অ্যাঁ, ভোর হতে না হতেই শুরু করে দিলি?’

    শান্তনুর মাথায় আগুন জ্বলে উঠল। সে কাক? আর কালকের ওই ঘটনার পর উনি বুঝি কোকিল হয়েছেন আর কুহু-কুহু করছেন! হাসি থামিয়ে তানিয়া তাড়া দিল, “অ্যাই, যা প্রশ্ন-টশ্ন করবি তাড়াতাড়ি কর, করে টেলিফোনটা ছাড় দেখি। আমি আর একবার ঘুমোনোর ট্রাই নেব। কলেজ ছুটি, তাও দুপুরে একবার বেরোতে হবে, অনেক কাজ আছে। তার আগে একটু ঘুমিয়ে চোখ ফুলিয়ে নেব। বিউটি স্লিপ।’

    শান্তনু বুঝতে পারছে, আর-একটা কথাও না বলে, তার রিসিভারটা নামিয়ে রাখা উচিত। ফোন করাটাই ভুল হয়েছিল। মারাত্মক ভুল। কিন্তু ফোন কেটে দেওয়ার সাহসও হচ্ছে না। একবার বিচ্ছিরি কাণ্ড হয়েছিল। মাঝখানে ফোন কেটে দেওয়ায় তানিয়া টানা সতেরো মিনিট চেঁচিয়েছিল। নিজেকে অনেক কষ্টে সামলে নিয়ে শান্তনু বলল, ‘তানিয়া, তুই কি মনে করিস না, কাল যে কাজটা তুই করেছিস, সেটা খুব অন্যায়?’

    ‘অন্যায়? কোন কাজটা অন্যায়?’ তানিয়ার গলায় অবাক সুর।

    ন্যাকামি হচ্ছে? কোন কাজ মনে পড়ছে না?

    শান্তনু গলা নামিয়ে বলল। ‘ওই জামার ব্যাপারটা। জামা নিয়ে তুই যা করলি…’ কথা মাঝপথে থামিয়ে দিয়ে তানিয়া ধমকে উঠল, ‘তুই ওটাকে অন্যায় বলছিস শান্তনু? ছি ছি।’

    ধমকানিতে শান্তনু থেমে গেল। থতমত খেয়ে বলল, ‘না, না, অন্যায় নয়। মানে ভুল আর কী। আমি জানি, রাগের মাথায় কাজটা তুই করে ফেলেছিস। সেটাই তোকে জিজ্ঞেস করছিলাম। কনফার্ম করছিলাম বলতে পারিস।’

    তানিয়া ওপাশ থেকে একেবারে তেড়েফুড়ে উঠল, ‘ভুল হয়েছে? ভুল হতে যাবে কেন? যা করেছি, বেশ করেছি। ঠিক কাজ করেছি। খুব ভাল কাজ করেছি।’

    এরপর আর ফোনের রিসিভার ধরে থাকার কাও মানে হয় না। ফোন কেটে দেওয়াই উচিত। যত খুশি রাগ করুক। মেয়েটাকে ভাল মতো বুঝিয়ে দেওয়া উচিত সেই দিন আর নেই। তার রাগ দেখে ঘাবড়ে যাওয়ার দিন লে গিয়েছে! আজ সকাল থেকেই চলে গিয়েছে। কিন্তু সে সুযোগ পাওয়া গেল না। তার আগেই তানিয়া ফোন নামিয়ে রাখল। শান্তুনু খুশি হল। যাক, ভালই হয়েছে। নিজের কাছে পরিষ্কার থাকা গেল। এমন নয় যে, সে সুযোগ দেয়নি। সুযোগ সে দিয়েছিল। তানিয়া যদি বলত, ‘সরি, কিছু মনে করিস না, কালকের জন্য আমি খুব দুঃখিত,’ তা হলেই বরং সমস্যা হত। মুখে যাই বলুক, কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়ে শান্তনুকে তখন দু’বার ভাবতে হত। সে ঝামেলা আর রইল না। আজ এই মুহূর্ত থেকে এই মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক শেষ। শান্তনু বালিশের পাশ থেকে ঘড়িটা বার করে দেখল। ছ’টা সাইত্রিশ। সব সময় গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা নোট করে রাখা উচিত। পরে অনেক সময় রেফারেন্সে লাগে। কালকের ঘটনার সময়ও শান্তনু ঘড়ি দেখে রেখেছিল। তখন ঠিক বিকেল চারটে এগারো মিনিট। তারপরই সিঁড়ি দিয়ে নেমে চারটে সতেরোর মেট্রো ধরতে চলে যায় তানিয়া।

    ২

    শান্তনু বসে আছে টেবিলে। সামনে কেমিস্ট্রি বই খোলা রয়েছে। একটা অক্ষরও মাথায় ঢুকছে না। ঢোকবার কথাও নয়। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, এবার সেটা জানাতে হবে। জানাতে হবে, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব। এই ধরনের কাজে কী ফল হয়, সেটা ওই মেয়ের দ্রুত টের পাওয়া দরকার। কিন্তু পদ্ধতিটা কী হবে? আচ্ছা, একটু বেলার দিকে আবার টেলিফোন করলে কেমন হয়? তারপর কড়া গলায় বলতে হবে, ‘অনেক হয়েছে তানিয়া, আর নয়। এনাফ ইজ এনাফ। তোমার মতো একটা মেয়ের সঙ্গে আমার কোনওরকম সম্পর্ক রাখা সম্ভব নয়। তুমি তোমার পথ দেখো, আমি আমার পথ দেখব। তোমার যদি পথ দেখতে ইচ্ছে না করে, তা হলে কুহু কুহু করে কোকিলের মতো ডেকে বেড়াও! কিন্তু দয়া করে আর আমাকে জ্বালাতন কোরো না।’

    কাজটা কি বুদ্ধিমানের মতো হবে? মনে হচ্ছে না। একটা ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে। তখনও যদি তানিয়া ঘুমিয়ে থাকে? দু’-দু’বার ঘুমিয়ে থাকলে তো কেলেঙ্কারি ব্যাপার হয়ে যাবে। এইসব ঝুঁকি নিয়ে বরং কাজ নেই। এর চেয়ে চিঠি লেখা নিরাপদ। কলেজে কাউকে দিয়ে এই চিঠি ধরিয়ে দিলেই হল। ছোট চিঠি বেশি ধানাই পানাই থাকবে না। থাকবে কেবল কাজের কথাটুকু। শান্তনু মনে মনে চিঠির খসড়া লিখতে শুরু করল,

    তানিয়া, কাল বিকেলে তুই যে কাজটা করলি, সেটা যে-কারও পক্ষে চরম অপমানজনক। ঘটনাটা একবার ভাল করে ভাবলেই বুঝতে পারবি, আমি কী বলতে চাইছি। আচ্ছা আমিই মনে করিয়ে দিচ্ছি। আগামী সপ্তাহে আমার জন্মদিন আর সেই উপলক্ষে তুই আমায় একটা জামা উপহার দিলি। আমি কফি হাউজে বসে সেই জামা খুলে দেখলাম জামার রং অতি জঘন্য। গোলাপি। আমি অবাক হয়ে বললাম, এইরকম একটা গোলাপি রঙের জামা তুই আমার জন্য কিনলি? তুই বললি, সে নাকি একটা মজার কাণ্ড। কবে সন্ধেবেলায় বাড়ি ফেরার সময় তুই দেখেছিস আকাশের রংটা গোলাপি হয়ে আছে। তোর ইচ্ছে করল যে, তুই রংটা হাত বাড়িয়ে একটু ছুঁবি। এরপরেই নাকি তুই অনেক খুঁজে পেতে জামাটা কিনেছিস। আমি বললাম, এই জামাটা তুই বদলে দে। এই রঙের জামা আমি পরব না। কেউই পরবে না। যদিও বা পরে, তা হলে ব্যাপারটা খুব হাস্যকর হবে। তুই গম্ভীর হয়ে বললি, তাই হবে। দে জামাটা দিয়ে দে। আমি বদলে দেব। এরপর আমরা হাবিজাবি গল্প করতে করতে মেট্রো স্টেশন পর্যন্ত গেলাম। মাঝপথে তুই রাস্তায় দাঁড়িয়ে ফুচকা খেলি। মুখে লঙ্কা পড়ায় তুই ‘উঃ আঃ’ করলি। এই পর্যন্ত ঘটনা ছিল স্বাভাবিক। কিন্তু তারপর? তারপর তুই যা কাণ্ড করলি, তা একবার ভেবে দেখ? মেট্রো স্টেশনের সিঁড়িতে বসে থাকা একটা ভবঘুরে টাইপের লোককে জামার প্যাকেটটা দিয়ে গটগট করে চলে গেলি। আমি নিশ্চিত, ওই লোকটা নিশ্চয় জামাটা দশ-বারো টাকায় বেচে রাতে নেশা করেছে। তুই একেই অতগুলো টাকা নষ্ট করলি এবং আমায় অপমান করলি। তবে অপমানের কায়দা মারাত্মক। গোলাপি এমন কিছু মারাত্মক রং নয় যে, তাকে খারাপ বলায় তুই আমার সঙ্গে অমন কঠিন ব্যবহার করলি। পরে আমার মনে হয়েছিল, তুই জেনে বুঝে জিনিসটা করেছিস। আসলে তুই আমায় অপমান করতে চেয়েছিলি। তবুও একটা সুযোগ আমি তোকে দিতে চাইলাম। আমার আশা ছিল, তুই নিজের ভুল বুঝে দুঃখ প্রকাশ করবি, সেই কারণে তোকে কাল ফোন করা। তুই বলতে পারিস, কেন আমি আগ বাড়িয়ে ফোন করলাম। আই ডোন্ট মাইন্ড। তা ছাড়া আমাদের টেলিফোন ক’দিন ধরে গোলমাল করছে, লাইন পাওয়া যাচ্ছে না। শুধু শোঁ শোঁ করছে। ভেবেছিলাম তুই চেষ্টা করছিস, পাচ্ছিস না।

    চিঠি এই পর্যন্ত ভেবে শান্তনু থেমে গেল। কেমন যেন লাগছে। একে তো অনেক বড় হয়ে যাচ্ছে, তার উপর মনে হচ্ছে না, এটা আদৌ সম্পর্ক শেষ করে দেওয়ার চিঠি! এ তো ভোরবেলায় ঘুম ভাঙানোর কৈফিয়তের মতো শোনাচ্ছে। কেমন যেন একটা ভয় ভয় ভাব। ভয়ের কী আছে? কিচ্ছু না।

    না, যাক চিঠি-ফিঠির মধ্যে না যাওয়াই ভাল। যার সঙ্গে সম্পর্ক শেষ, তাকে আবার চিঠি কীসের? তা ছাড়া, মেয়েটাকে জোরে একটা ধাক্কা দিতে হবে। চিঠি লিখে সে ধাক্কা দেওয়া যাবে বলে মনে হচ্ছে না। শান্তনু ভাবতে লাগল।

    ৩

    শান্তনু এখনও টেবিলে বসে আছে। সামনে আর কেমিস্ট্রি বই খোলা নেই। তার বদলে রয়েছে সাদা কাগজ। তানিয়াকে জোরে ধাক্কা দেওয়ার একটা জবরদস্ত উপায় পেয়েছে সে। শান্তনু ঠিক করেছে, তানিয়া তাকে যা যা উপহার দিয়েছে, সবকটা সে ফিরিয়ে দেবে। সেই উপহারের একটা তালিকা করার চেষ্টা চালাচ্ছে শান্তনু। এইবার মেয়ে বুঝতে পারবে, যে কাক কেবল কা কা করে না। ঠোকরাতেও জানে। কাজটা ছেলেমানুষের মতো হচ্ছে না তো? একটা ভিখারিকে গোলাপি জামা দিয়ে তানিয়া কী এমন বড় মানুষির কাজ করেছে শুনি? মনে মনে হাসল শান্তনু। প্রতিশোধের হাসি। তবে তালিকা তৈরি করতে গিয়ে দেখল যে, কাজটা মোটেও সোজা নয়। অনেক আইটেম মনে পড়ছে না। আর মনে পড়বেই বা কী করে? তানিয়ার হাতটা একটু বাড়াবাড়ি রকমের খোলা। নিষ্ঠুর মেয়েদের কি এরকমই হয়? উপহার দেওয়ার ব্যাপারে মেয়েটা কোনওকালেই কোনও নিয়মকানুন মানেনি দেখা যাচ্ছে। জন্মদিনা-টন্মদিনে দিলেও মনে আছে। গত বর্ষাতে একটা ফোল্ডিং ছাতা সঙ্গে একটা ক্যাসেট। শান্তনু অবাক হয়ে বলল, ‘ছাতার সঙ্গে ক্যাসেট দিলি কেন?’

    তানিয়া বলল, ‘হাঁদার মতো কথা বলিস না তো! বৃষ্টিতে বাইরে বেরোলে ছাতা নিবি আর বাড়িতে থাকলে রবীন্দ্রসংগীত শুনবি। দেখছিস না, রবীন্দ্রনাথের বর্ষার গান।’

    শান্তনু কাগজে প্রথম লিখল ছাতা। তার নীচে লিখল ক্যাসেট। ক্যাসেটের পাশে জিজ্ঞাসা চিহ্ন দিল। ছাতাটা আছে, কিন্তু ক্যাসেটটা কি আছে? থাকলে কোথায়? দিদি নিয়েছে না বড়মাসির কাছে আছে? মনে পড়ছে না। এরপর পেন। পেন তো অজস্র দিয়েছে। গুনে শেষ করা যায় না। দরকারও নেই। ড্রয়ারেই আছে। ধরিয়ে দিলেই ল্যাটা চুকে যাবে। সমস্যা একটাই। প্রায় সবকটারই কালি শেষ হয়ে গিয়েছে, নয় ফুরোনোর মুখে। এটাও মন্দ নয়। কালি ফুরোনো পেন ফেরত দিলে ধাক্কাটা আরও জোর হবে। বইগুলো সবই ফেরত দেওয়া যাবে। তবে সেখানেও একটা ঝামেলা রয়েছে। বাড়ির ভয়ে সেগুলো তানিয়া কেটে বন্ধুদের নাম লিখে রেখেছে শান্তনু। যেমন, প্রিয় শান্তনুকে বিশ্বনাথ, প্রাণের শান্তনুকে কৌশিক, শান্তনুকে খুব ভালবাসি দেবাঞ্জন, শুধু তোমাকে ভোম্বল। ছোড়দি একদিন বইগুলো উলটে- পালটে দেখে বলল, ‘তোদের কলেজের ছেলেরা তো ভারী ন্যাকা!’

    ছোড়দি না হয় ম্যানেজ হয়ে গিয়েছে। তা বলে তানিয়া? এই কাণ্ড দেখে সে কী মনে করবে? নিশ্চয় খুব ভিতু ভাববে। ভাবুক গে, যা খুশি ভাববে। যার সঙ্গে সম্পর্ক শেষ হয়ে গিয়েছে, তার সঙ্গে ভাবা নিয়ে কী যায় আসে? কিছুই আসে যায় না।

    তারপর আসছে খাবার-দাবার। ক্যান্টিনে চা-কফি, কোল্ড ড্রিঙ্ক, আলুর চপ তো আছেই। সঙ্গে ক্যাডবেরি, আইসক্রিম ও চাইনিজ। সত্যি মেয়েটার পয়সায় কম খাওয়া-দাওয়া করা হয়নি। কী করা যায়? এগুলো তো আর গুনে ফেরত দেওয়া যায় না। ফেরত যখন দেওয়া হচ্ছে তখন সব ফেরত দেওয়াই ভাল। কোনও ফাঁক রাখা চলবে না। আচ্ছা, মোটামুটি একটা হিসেব করে টাকা ধরে দিলে কেমন হয়? না বাবা, এখনই সেটার দরকার নেই। রেগে-মেগে একটা কেলেঙ্কারি করে বসতে পারে। একসঙ্গে এতটা সাহস না দেখালেও চলবে। এগুলো আপাতত তোলাই থাক। তালিকার একদম শেষে শান্তনু বড় বড় করে লিখল, বত্রিশটা চিঠি এবং সাতটি ফোটো। লিখে তলায় লাল কালির দাগ দিল। চিঠি আর ফোটো ফেরত হবে আর সেটা তানিয়ার কাছে রাম ধাক্কা, তাই লাল কালির দাগ। ব্যাগটা মনে হচ্ছে বেশ ভারী হবে। তবে তালিকা তৈরি করে মনটা বেশ হালকা হয়ে গিয়েছে। আজ দুপুরে তানিয়া কোথায় বেরোবে বলছিল যেন? তার আগেই ভারী ব্যাগ আর হালকা মন নিয়ে ওর বাড়িতে হাজির হতে হবে। বেল টিপতে তানিয়ার মা বেরিয়ে আসবেন। হেসে বলবেন, ‘আরে শান্তনু। ভিতরে এসো, কতদিন আসোনি। কী খাবে, শরবত না চা?’ শান্তনু তখন খুব ভদ্রভাবে বলবে, ‘না মাসিমা, আজ আর ভিতরে যাব না। হাতে একদম সময় নেই। আপনি বরং তানিয়াকে একটু ডেকে দিন। আমি এখানেই দাঁড়িয়ে আছি।’ তারপর তানিয়া এলে ব্যাগটা ধরিয়ে দিয়ে কি একটু হাসবে? হাসাই উচিত। এইসময় তার হাসি, তানিয়ার গায়ে জ্বালা ধরানোর কাজ করবে!

    ৪

    মানুষ যেমন ভাবে, সবটা তেমন হয় না। কিছুটা হয়, কিছুটা উলটো হয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে অনেকটাই উলটো হয়ে গেল। শান্তনু ডোরবেল বাজাতে তানিয়ার মা দরজা খুললেন ঠিকই, কিন্তু ভিতরে আসতে বললেন না। ভুরু কুঁচকে বললেন, ‘দুপুরে এতবার বেল দিচ্ছ কেন? দাঁড়াও তানিয়াকে খবর দিচ্ছি, ও তোমার জন্য অপেক্ষা করছে।’

    প্রথম চোটেই শান্তনু চমকে গেল। তানিয়া ওর জন্য অপেক্ষা করছে। ঠিক শুনছে তো? তানিয়া ওর জন্য অপেক্ষা করতে যাবে কেন? সে তো বলে আসেনি। হইহই করতে করতে বেরিয়ে এল তানিয়া। সেজেগুজে একেবারে রেডি। হেসে বলল, ‘দেরি করলি কেন? সকালে বললাম না, দুপুরে বেরোব?’

    শান্তনু ভেবে এসেছিল, হেসে সে তানিয়ার গায়ে জ্বালা ধরিয়ে দেবে! কিন্তু তানিয়ার হাসির চোটে শান্তনুর গায়ে জ্বালা ধরে গেল। বেরোব বললেই তাকে ছুটে বেরোতে হবে নাকি? সেদিন আর নেই। কাল পর্যন্ত ছিল, আজ থেকে নেই। হাতের ব্যাগটা আড়াল করতে করতে বলল, ‘তানিয়া তোর সঙ্গে একটা জরুরি কথা আছে।’

    তানিয়া চোখ পাকিয়ে বলল, ‘রাখ তোর কথা। ওসব কথা-টথা পরে হবে। আগে ছুটে গিয়ে ওই ট্যাক্সিটাকে ধর। ইস, দেরি হয়ে গেল। যা যা!’ তানিয়ার তাড়ার চোটে সত্যি ছুটে গেল শান্তনু। হাতের ভারী ব্যাগ নিয়ে ছুটতে বেশ অসুবিধে হচ্ছিল তার।

    সত্যি তানিয়ার অনেক কাজ ছিল। সারাদুপুর টো-টো করে ঘুরল। ব্রিটিশ কাউন্সিল থেকে বই বদলাল। মোবাইলে কার্ড ভরল। শ্রেয়া নামে এর এক বন্ধুর বাড়ি থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের নোট নিল। সালোয়ার কামিজের সঙ্গে ম্যাচিং একজোড়া দুল কিনল ফুটপাথ থেকে। ঘড়ির ব্যান্ড বদলাল। কলেজ স্ট্রিটে এসে ভাইয়ের ইতিহাসের বই কিনল। তারপর কফি হাউজে ঢুকে একগাল হেসে বলল, ‘নে, এবার কোল্ড কফি বল।’

    কোল্ড কফি অর্ডার দিয়ে শান্তনু বুঝল, গোলমাল হয়ে গিয়েছে। যে মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক নেই, তার সঙ্গে এতটা সময় কাটানো উচিত হয়নি। মনে হচ্ছে, তানিয়ার বাড়ি যাওয়ার পরিকল্পনাটা ভুল হল। আসলে তানিয়াই ঠিক বলে। ও একটা হাঁদা! তানিয়ার সামনে আরও বেশি হাঁদা হয়ে যায়। এই মেয়ের তাড়া আর ধমকানি তুচ্ছ করে ব্যাগটা ধরিয়ে দেওয়া উচিত ছিল। এখন দেব? এই কফি হাউজের মাঝখানে তানিয়ার চিঠি, পেন, বই ছাতা সব বের করে বসে? সে আর-এক বিপদ হবে। তার চেয়ে বরং একেবারে যাওয়ার সময় হাতে ব্যাগটা দিয়ে বলতে হবে, ‘টা টা।’ বাড়ি ফিরে গিয়ে এ কাঁদুক-হাসুক, যা খুশি করুক। কিছু বুঝতে দেওয়া যাবে না।

    শান্তনু কফির সঙ্গে দুটো প্রন কাটলেট ও বলল। তার যে খুব খেতে ইচ্ছে হচ্ছিল তা নয়। তবে বড় ধাক্কা খাওয়ার আগে পেট ভরে থাকাই ভাল।

    তারিয়ে তারিয়ে কাটলো খেতে খেতে তানিয়া বলল, ‘বুঝলি শান্তনু, আজ একটা জিনিস দেখতে পাব।’

    ‘কী জিনিস?’

    ‘উহুঁ, এখন বলব না। আগে নিজে দেখি, তারপর বলব,’ কথা শেষ করে তানিয়া মিটিমিটি হাসল।

    শান্তনুও হাসল। তবে মনে মনে। আজ তোমাকে আমি একটা জিনিস দেখাব বাছাধন। একেবারে জিনিসের মতো জিনিস। ব্যাগ ভরতি জিনিস। শান্তনু টেবিলের তলায় ব্যাগটা একটু সরিয়ে রাখল। ছাতা উঁচু হয়ে খোঁচা মারছে।

    মেট্রো স্টেশনের সামনে এসে পৌঁছোতে আজ একটু দেরিই হয়ে গেল। বিকেল গড়িয়ে গিয়েছে। নরম একটা আলো আকাশ থেকে পিছলে পিছলে পড়ছে। একটু খেয়াল করলে বোঝা যাবে, এ আলোর রং গোলাপি। হালকা গোলাপি।

    হঠাৎ দাঁড়িয়ে পড়ল তানিয়া। শান্তনুর হাত চেপে ধরে ফিসফিস করে বলল, ‘দেখ, কী সুন্দর লাগছে!’

    শান্তনু মন কঠিন করল। তানিয়া যতই হাত ধরুক, এই কঠিন মন নরম হবে না। আজ সারা দিনটা তাকে সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এতটা সময় একসঙ্গে ঘুরল, কই একবারও তো বলল না, কালকের কাজটা ভুল হয়েছে। আর সুযোগ নয়।

    উফ! তানিয়া কনুইয়ের কাছে একটা চিমটি কেটেছে। গলা আরও নামিয়ে বলল, ‘দেখ না? ওই তো, ওই যে!’

    আবার চিমটির ভয়ে শান্তনু বিরক্তি নিয়ে মুখ তুলে তাকাল। তুলেই চমকে উঠল।

    মেট্রো স্টেশনের সিঁড়িতে আজও বসে আছে সেই ভবঘুরে লোকটা। বসে আকাশের দিকে তাকিয়ে নিশ্চিন্ত মনে পা নাড়াচ্ছে। সেই এলোমেলো চুল। হালকা দাড়ি। তবে আজ লোকটার গায়ে একটা নতুন জামা। সেই জামার রং গোলাপি। লোকটা একটু পরে পরেই জামাটা টেনেটুনে ধুলো ঝেড়েঝড়ে নিচ্ছে। হঠাৎ দেখলে মনে হয়, একটা গোলাপি আলোর মধ্যে একটা গোলাপি মানুষ পরম আনন্দে বসে আছে।

    শান্তনু বিড়বিড় করে বলল, ‘খুব সুন্দর, না রে!’

    ‘অ্যাই হাঁদা, এমন হাঁ করে তাকিয়ে আছিস কেন? আমার ট্রেনের টাইম হয়ে গেল। যা বলবার তাড়াতাড়ি বল। ঠিক এক মিনিট টাইম দেব। ওনলি ওয়ান মিনিট।’

    তানিয়ার কথায় ঘোর কাটুল শান্তনুর। লজ্জা-লজ্জা মুখ করে সে বলল, ‘না, কিছু বলব না। তুই যা। কাল দেখা হবে।’

    রাতে হাতে বেশ ব্যথা হল শান্তনুর। হবেই তো। অত ভারী একটা ব্যাগ নিয়ে যাওয়া, আবার ফিরিয়ে নিয়ে আসা তো চাট্টিখানি কথা নয়!

    উনিশ কুড়ি, শরৎ ২০০৫

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleধুলোবালির জীবন – প্রচেত গুপ্ত
    Next Article দেরি হয়ে গেছে – প্রচেত গুপ্ত

    Related Articles

    প্রচেত গুপ্ত

    দেরি হয়ে গেছে – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    ধুলোবালির জীবন – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    রুপোর খাঁচা – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    মাটির দেওয়াল – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    নুড়ি পাথরের দিনগুলি – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    নিষাদ – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }