Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    পঞ্চাশটি গল্প – প্রচেত গুপ্ত

    প্রচেত গুপ্ত এক পাতা গল্প833 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    কথা

    অর্কর বাঁ দিকের বুকের কাছটা কেঁপে উঠল। প্রথমে অল্প, তারপর মাঝারি ধরনের দু’বার ঝাঁকুনি দিয়ে থমকে দাঁড়াল। অর্ক বুকে হাত দিয়ে মুখ তুলে তাকাল। কেউ বুঝতে পারেনি তো? পারলে সর্বনাশ। তবে মনে হয় না পেরেছে। সারি সারি টেবিলে কাজ চলছে নিঃশব্দে।

    ছাব্বিশ বছরের তরতাজা যুবকের বুক কাঁপা ভাল লক্ষণ নয়। দুশ্চিন্তা হয়। হার্টের কিছু হল না তো? তবে অর্কর দুশ্চিন্তা হল না, তার হল বিরক্তি। বিরক্তিতে তার ভুরু দুটো কুঁচকে গেল। কারণ, এই কম্পন হার্টের নয়, কম্পন তার মোবাইল ফোনের। শার্টের পকেটে ফোন রাখা আছে ভাইব্রেট মোডে। ফোন এলে আওয়াজ হয় না, শুধু কাঁপে। এই সময় কেঁপে ওঠার অর্থ উৎসা তাকে ফোন করছে। এখন একবার করে থেমেছে, উত্তর না দিলে বারবার করতে থাকবে। এটাই তার স্বভাব। জবাব না পাওয়া পর্যন্ত ঘনঘন ফোন করে। মনে হয়, বড় ধরনের কোনও বিপদে পড়েছে।

    অথচ আজও অর্ক বেরোনোর সময় স্ত্রীকে পইপই করে বলে এসেছিল, ‘আমাকে ফোন করবে না, উৎসা।’

    উৎসা সোফায় পা গুটিয়ে বসে পত্রিকা পড়ছিল। সাজগোজের পত্রিকা। বিয়ের পর থেকে গত সাত মাস প্রতিদিন সকালেই সে অনেকটা সময় মনোযোগ দিয়ে সাজগোজের পত্রিকা পড়ে। এক-এক দিন এক-একটা বিষয়। কোনওদিন চুল, কোনওদিন হাত, কোনওদিন ঠোঁট। আজ পড়ছিল চোখের পাতা। চোখের পাতা কীভাবে দীর্ঘক্ষণ ভেজা ভেজা রাখা যায় তার পরামর্শ। যিনি পরামর্শ দিয়েছেন তিনি রসিকমানুষ। লেখার শুরুতেই বলেছেন, ‘মেয়েদের চোখ ভেজা রাখার সহজ ও শর্টকাট উপায় হল কান্না। কাঁদলে আপনার চোখ থাকবে গভীর, নরম আর মায়াময়। মনে রাখবেন, লজ্জা যেমন নারীর ভূষণ, কান্না তেমন নারী-চোখের অলংকার। এই সহজ কাজটাও যাঁরা পারবেন না তাঁদের জন্য বলি…।’

    স্বামীর কথা শুনে উৎসা পত্রিকা থেকে মুখ তুলে বলল, ‘কেন? ফোন করব না কেন?’

    অর্ক শার্টের বোতাম লাগাতে লাগাতে বলল, ‘আমাদের এখানে মোবাইল অ্যালাউড নয়। বাইরে জমা রেখে ঢুকতে হয়।’

    উৎসা ফিক করে হেসে বলল, ‘কেন, অ্যালাউড নয় কেন? এটা কি স্কুল?’

    রেগে যেতে গিয়েও অর্ক নিজেকে সামলায়। বিয়ের এত অল্প দিনের মধ্যে স্ত্রীর ওপর রেগে যাওয়া ঠিক নয়। তবে বেশি দিন পরেও সে উৎসার ওপর রাগতে পারবে না। কারণ, উৎসা শুধু সুন্দরী নয়, সে একজন নরম স্বভাবের মেয়ে। নরম স্বভাবের মেয়ের ওপর রাগ করা কঠিন। অর্ক শান্ত গলায় বলল, ‘না, স্কুল নয় উৎসা, ল্যাবরেটরি। আর সেই ল্যাবরেটরিতে আমাদের কাজ হল শব্দ নিয়ে। সাউন্ড। এই সময় বাইরের অন্য সাউন্ড ঠিক নয়। তোমাকে তো কথাটা বলেছি।’

    রাত্রিবাসের ওপর ড্রেসিংগাউন জড়িয়ে আছে উৎসা। ভারী সুন্দর গাউন। এই ধরনের সুন্দর পোশাকের মজা হল, এরা যেমন শরীর ঢাকতে পারে, তেমন দেখাতেও পারে। সরাসরি দেখায় না, ঠারেঠোরে বুঝিয়ে দেয়। উৎসার ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। তার মেদহীন পাতলা শরীরের সব ক’টা চড়াই-উতরাই বোঝা যাচ্ছে। অর্ক চোখ সরিয়ে নিল। এই শরীর তাকে যে কত বার বিপদে ফেলেছে। ইতিমধ্যেই তার তিন দিন লেট হয়ে গেছে। অফিসের গাড়ি এসে নীচে হর্ন বাজিয়েছে, তবু অর্ক জুতো টাই খুলেছে। স্বামীর আদরে উৎসা কখনও ‘না’ বলে না। তবে জুতো টাই পরে খাটে উঠতে দেবে না কিছুতেই।

    উৎসা একটা হাত তুলে আড়মোড়া ভাঙল। বলল, ‘কাল তো আমার ফোন ধরেছিলে, আজ কেন পারবে না?’

    ‘কাল আমি একটা অন্যায় কাজ করেছিলাম উৎসা। মোবাইলটাকে লুকিয়ে শার্টের পকেটে রেখেছিলাম। ভাইব্রেট মোড়ে। তুমি কল করতে বেরিয়ে বাথরুমে চলে যাই।’

    উৎসা হিরের মতো উজ্জ্বল দাঁতের সারি সাজিয়ে হাসল। বলল, ‘আজও তাই করবে। বাথরুমে চলে যাবে। তারপর আমরা দু’জনে গল্প করব। খুব ইন্টারেস্টিং হবে। আমি বেডরুমে তুমি বাথরুমে। বেডরুম টু বাথরুম কথা হবে।’

    উৎসার এই উচ্ছলতা চমৎকার। অর্কর কানে বাজে সারাক্ষণ। এমনকী রাতে ঘুমের মধ্যেও বাজে। তবু অর্ক গম্ভীর হওয়ার ভান করল। বলল, ‘অন্যায় কাজ রোজ করা যায় না।’

    উৎসা কয়েক মুহূর্ত চুপ করে থেকে আদুরে গলায় বলল, ‘আমার সঙ্গে গল্প করাটা তুমি অন্যায় কাজ বলছ?’

    অর্ক হাত ছড়িয়ে বলল, ‘উফ, গল্প করাটা অন্যায় বলিনি, ল্যাবরেটরিতে মোবাইল নিয়ে টোকাটাকে অনায় বলেছি। তা ছাড়া ওখানে যে-কোনও ধরনের সাউন্ড ওয়েভ চট করে ধরা পড়ে যায়। আমার মোবাইলের ভাইব্রেশনই বলো, তোমার কথাই বলো। ‘কথা ধরার মেশিন আছে আমাদের।’

    উৎসা তার বড় বড় ছেলেমানুষি চোখ দুটো আরও বড় করে বলল, ‘কথা ধরা! তোমরা কি ফোন ট্যাপ করো? বাপ রে!’

    অর্ক হেসে ফেলল। বলল, না, না, ফোন ট্যাপ করব কেন? আমাদের কাজটা তার থেকেও অনেক কমপ্লিকেটেড, জটিল। জট পাকানো কথার জট খুলি আমরা।’

    উৎসা কৌতুকভরা চোখে বলল, ‘ওমা! হাউ ফানি! সে আবার কী! কথা আবার জট পাকায় কী গো? কথা কি মাথার চুল, যে সাবান, শ্যাম্পু দিয়ে জট ছাড়াবে?’

    নীচ থেকে গাড়ির হর্ন ভেসে আসে। অফিসের গাড়ি একটা বিচ্ছিরি জিনিস। তার সময়ে চলতে হয়। অর্কর মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে অফিসের গাড়ি বাদ দিয়ে নিজের গাড়ি নিয়ে বেরোয়। সেটা সম্ভব নয়। বিয়ের পর থেকে ওই গাড়ি উৎসার। তার বাপের বাড়ি, শপিং মল, বান্ধবীদের সঙ্গে সিনেমা যাওয়া আছে।

    তবে প্রোগ্রাম আগে থেকে কিছু ঠিক থাকে না। উৎসার মতে হুটহাট বেরোনোয় আসল মজা। শপিংও তখন অ্যাডভেঞ্চারের মতো মনে হয়। অর্ক দ্রুত হাতে জুতোর ফিতে বাঁধতে বাঁধতে বলে, ‘জটের গল্প তোমাকে ফিরে এসে বুঝিয়ে বলব উৎসা। এখন চলি, গাড়ি ডাকছে। আজ আর ফোন কোরো না ডার্লিং। আমি কিন্তু ফোন নিয়ে ল্যাবে ঢুকছি না, এ বলে গেলাম।’

    কিছু মেয়ের সৌন্দর্য হয় নদীর মতো তরতরে। কিছু মেয়ের সৌন্দর্য দিঘির মতো শান্ত। উৎসার সৌন্দর্য হল সমুদ্রের সৌন্দর্য। সে শরীরে নানা ধরনের ঢেউ তুলতে জানে। এখনও তুলল। বুকে পেটে তরঙ্গ তুলে উঠে দাঁড়াল। স্বামীর দিকে তাকিয়ে মিটিমিটি হেসে বলল, ‘ফ্ল্যাটে একা থাকি। দুপুরে যদি দস্যু আসে? এসে আমাকে মুখ বেঁধে… হি হি। তা হলেও ফোন করব না?’

    অর্ক ভেবেছিল, সত্যি মোবাইলটা বাইরে জমা রেখে ল্যাবরেটরিতে ঢুকবে। কিন্তু শেষ মুহূর্তে উৎসার কল্পিত ‘দস্যু’র কথা মনে পড়ে গেল। ছেলেমানুষির মনে পড়া। তবু পড়ল। বিয়ের পর পর ছেলেমানুষি বেশ লাগে। সে ভাইব্রেট মোড চালু করে মোবাইল লুকোল বুক পকেটে। অ্যাপ্রন পরল। শুধু অ্যাপ্রন নয়, এখানে হাতে রবারের স্বচ্ছ গ্লাভস পরতে হয়। নাক, মুখ ঢাকতে হয় কাপড়ে। মাথায় টুপির মতো প্লাস্টিক কভার। হঠাৎ দেখলে মনে হবে অপারেশন থিয়েটারের সার্জেন। ঘটনা যদিও তা নয়। ঘরের টেবিলগুলোতে নানা ধরনের আধুনিক আর জটিল যন্ত্রপাতি সাজানো। ল্যাপটপ, সাউন্ড বক্স, হেড ফোন, সাউন্ড এডিটিং সিস্টেম থেকে শুরু করে অচেনা, অজানা অনেক কিছু। প্রথম দিন এসে অর্কর মতো ছেলেও ঘাবড়ে গিয়েছিল।

    শুধু যন্ত্র নয়, কাজও ঘাবড়ে দেওয়ার মতো। গত মাসে কোম্পানির নতুন রিসার্চ উইং-এ যখন তাকে বদলি করা হয়, অর্ক বেশ অবাকই হয়েছিল। প্রফেসর সোহম তালুকদার তাকে অ্যাসাইনমেন্ট বুঝিয়ে বললেন। অর্ক অবাক হয়ে বলল, ‘বলেন কী স্যর! এরকমও হয়!’

    প্রফেসর তালুকদার মৃদু হেসে বললেন, ‘আগে হত না। সমস্যাটা ছিল শুধু বিদেশের। এখন আমাদের এখানেও হচ্ছে।’

    সোহম তালুকদার শিক্ষিত মানুষ। বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে বহু বছর পড়ে এবং পড়িয়ে দেশে ফিরেছেন। শব্দের প্রকৃতি এবং রহস্য নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ আছে তাঁর। এখানে এসে উপদেষ্টা হিসেবে যোগ দিয়েছেন নামকরা কর্পোরেট হাউসে। তারাও মাথায় করে রেখেছে। তাঁর কথা মতো বিপুল খরচ করে ল্যাবরেটরি তৈরি করে দিয়েছে।

    অর্ক অবাক গলায় বলল, ‘এখানে কেন এই সমস্যা শুরু হল স্যার?’

    সোহম তালুকদার বললেন, ‘কেন হল এখনও ধরা যায়নি। ধরার চেষ্টা চলছে। সম্ভবত কথা বেড়ে যাওয়ার কারণে এই সমস্যা।’

    ‘কথা বেড়ে গেছে!’

    পক্ককেশের সৌম্যদর্শন সোহম অল্প হাসলেন। বললেন, ‘বাঃ, বাড়েনি? পথে, বাসে, ট্রামে, গাড়িতে, বাড়িতে দেখছি শুধু কথা আর কথা। হাতে হাতে মোবাইল। বিরামহীন, অন্তহীন কথা চলছে তো চলছেই। যদি গোনা যেত তা হলে হয়তো দেখতে সেকেন্ডে কথার সংখ্যা কয়েক কোটি ছাড়িয়ে যাচ্ছে। ক’বছর আগেও এই দৃশ্য দেখা যেত না। বাতাসের যে তরঙ্গগুলো দিয়ে কথারা যাতায়াত করছে তাদেরও তো একটা ক্ষমতা আছে। খুব সহজ ভাবেই ধরো না, একটা রাস্তায় যদি হঠাৎ গাড়ির সংখ্যা বেড়ে যায়, তখন তো ট্রাফিক জ্যাম হবেই। এখানেও তাই হচ্ছে। কথারা জট পাকিয়ে যাচ্ছে। আমরা এ প্রান্তে যা বলছি, সবটা অন্য প্রান্তে যাচ্ছে না। মাঝখানে জট পাকিয়ে থাকছে।’

    ‘জট পাকিয়ে থাকছে!’ অর্কর বিস্ময় বাড়তে থাকে।

    ‘থাকবে না? একটা ওয়েভ, আর একটার ঘাড়ে চেপে বসেছে। আমরা বাইরে থেকে বুঝতে পারছি না। যে শুনছে সে ভাবছে সবটাই শুনলাম, আবার উলটো দিকেও এক কাণ্ড। যে বলছে, সে-ও ভাবছে সবটা বলতে পেরেছি। মাঝপথের খবর কে রাখে? আমাদের চেষ্টা হবে মাঝপথের এই জটগুলো খুঁজে বের করা এবং সেগুলো খোলা।’

    অর্ক খানিকটা ঘোরের মধ্যে বলে, ‘এটা কি সম্ভব স্যর?’

    ‘জানি না, তবে চেষ্টা করতে হবে। প্রথম পর্যায় আমরা অ্যান্টেনা দিয়ে জট পাকানো শব্দ তরঙ্গগুলোকে ধরতে চেষ্টা করব। সেগুলো আলাদা করে আবার ছেড়ে দেওয়া যায় কি না, সেটা পরের চিন্তা। আগে তো জট ছাড়াই।’

    অর্ক নিজের মনেই বলল, ‘ইন্টারেস্টিং। হাইলি ইন্টারেস্টিং।’

    প্রফেসর তালুকদার বললেন, ‘পৃথিবীর অনেক দেশেই এটা নিয়ে কাজ চলছে। এখানে এটাই প্রথম। যেহেতু কাজটা অন্যের কথা নিয়ে, তাই সকলেই বিষয়টা গোপন রাখে। নেটে বা জার্নাল ঘাঁটলে পাবে না। আমরাও গোপন রাখব। বাইরে থেকে যন্ত্র আনিয়েছি, সফটওয়্যার আনিয়েছি। কথা ছাড়ানোর সফটওয়্যার। অর্ক, তোমার ফাইল খুলে দেখলাম, তুমি ফিজিক্সের স্টুডেন্ট ছিলে। রেজাল্টও খুব ভাল। আমার ইচ্ছে, তুমি ম্যানেজমেন্ট ছেড়ে এই কাজে শিফট করো।’

    অর্ক সোজা হয়ে বসে বলল, ‘অবশ্যই করব স্যার। এরকম একটা কাজে থাকব না? আমার স্যার ম্যানেজমেন্টের থেকে ফিজিক্সেই বেশি ইন্টারেস্ট। নেহাত কেরিয়ার…।’

    ভারী হেডফোনটা কানে ঠিক করে নিয়ে অর্ক টেবিলের ওপর ঝুঁকে পড়ল। ল্যাপটপে হাত দিয়ে প্রোগ্রাম চালু করল। পরদায় ভেসে উঠল ছায়ার মতো আবছা কালো একটা পিণ্ড। উলের বল যেন! উলগুলো একটা আর একটার ঘাড়ে চেপে, জড়িয়ে পেঁচিয়ে আছে। ছায়ার বলটা পরদায় অল্প অল্প কাঁপছে। ‘সাউন্ড’অপশনে গিয়ে দু’বার মাউস ক্লিক করতেই অর্কর হেডফোনে হট্টগোল শুরু হয়। হাজার কথা জড়িয়ে থাকার হট্টগোল। বাজারের মতো। কোনও কথাই আলাদা করে বোঝার উপায় নেই। সবাই নিজের মতো আলাদা হতে চাইছে, পারছে না। না পেরে জালে জড়িয়ে পড়া জন্তুর মতো ছটফট করছে।

    বুকের কাছে আবার কাঁপুনি। মুহূর্তের জন্য অর্ক ভেবেছিল পকেটে হাত দিয়ে ফোনের সুইচ বন্ধ করে দেবে। ‘দস্যু’র কথা মনে পড়ল। সত্যি তো ফ্ল্যাটে মেয়েটা একা থাকে। আজকাল খবরের কাগজে রোজই কিছু না কিছু বেরোচ্ছে। চুরি, ডাকাতি, মুখ বেঁধে ধর্ষণ। হেডফোন টেবিলের ওপর খুলে রেখে চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়াল অর্ক। পাশের টেবিলের রঞ্জন মুখ তুলে তাকাল। অর্ক বাঁ হাত তুলে কড়ে আঙুল দেখায়। বাথরুম। কাচের দরজা ঠেলে ল্যাবরেটরি থেকে বেরিয়ে সরে আসে করিডরের আড়ালে। পকেট থেকে মোবাইল বের করে নম্বর টেপে।

    ‘কী হয়েছে উৎসা?’

    ‘অনেক কিছু হয়েছে, তোমার জন্য মন কেমন হয়েছে।’

    উৎসার হাসি ও কথায় স্বস্তি পেল অর্ক। যাক বাবা, সব ঠিক আছে। তবু বানানো বিরক্ত গলায় সে বলল, ‘উফ তোমাকে এত করে বললাম না ফোন করবে না? তার পরেও…।’

    উৎসা বিরক্তি গ্রাহ্য করল না। হাসি হাসি গলায় বলল, ‘অ্যাই, আজ কী কী কথার জট ছাড়ালে গো?’

    অর্ক বুঝতে পারল উৎসার সঙ্গে কথা বলতে তার খারাপ লাগছে না, বরং ভালই লাগছে। সে গলা নামিয়ে বলল, ‘এগুলো গোপন বিষয়। একজনের কথা অন্য কাউকে বলা যায়? ছিঃ। আমাদের কাজের এথিক্স আছে, প্রফেসর রাগ করবেন।’

    ‘আমি কি অন্য কেউ?’ উৎসার গলায় অভিমান। মনে হচ্ছে এখুনি কেঁদে ফেলবে।

    অর্ক তাড়াতাড়ি বলল, ‘যা বাবাঃ, আমি কি সে কথা বলেছি? দেখো কাণ্ড! তুমি অন্য হতে যাবে কেন?’

    ‘যাও, কিচ্ছু বলতে হবে না, অন্যের কথা নয়, নিজের কথা নয়, কিচ্ছু নয়।’

    অর্ক আরও সরে আসে। কাচে ঢাকা বিশাল জানলার সামনে দাঁড়ায়। দশ তলা নীচে সেক্টর ফাইভের পিচের রাস্তা দুপুরের রোদে লিকলিকে চাবুকের মতো এঁকেবেঁকে পড়ে আছে। গাড়ি ছুটছে, মানুষ ছুটছে। এত ওপর থেকে শুধু দৃশ্য আছে, গতি আছে, শব্দ নেই। যেন সায়লেন্ট মুভি। স্ত্রীর হাসিতে স্বস্তি পেয়েছিল, অভিমানে গর্ব বোধ হল অর্কর— যতই হোক অভিমান তো তার ওপরই। সে হেসে ফিসফিস করে বলল, ‘ঠিক আছে বাবা বলছি বলছি। অমন দুমদাম রাগ করো কেন উৎসা? তুমি রাগলে সারাদিন কাজ করব কী করে বলো তো?’

    উৎসা গলা থেকে অভিমান সরিয়ে বলল, ‘ভুল করবে। শাস্তি হবে, বেশ হবে।’

    ‘সকাল থেকে এখন পর্যন্ত একটা জট খুলেছি। এমন কিছু নয়, সাধারণ কথা সব। ছেলে, মেয়ে, ধেড়ে বুড়ো সবার গলাই আছে। যেমন ধরো, আজ যেতে পারলাম না দাদা, অফিসে আটকে পড়েছি ভাই, বাজার করে ফিরবে গো, পলিটিকাল সায়েন্সের নোটস আনবি কিন্তু। আরও আছে। শেয়ার মার্কেটের বিড, মাল্টিপ্লেক্সের টিকিট বুকিং, নেতাদের হুমকি, লেট করার জন্য বসের ধ্যাতানি, রাজ্যের হাবিজাবি।’

    উৎসা নিচু গলায় বলল, ‘অ্যাই, প্রেমের কথা কিছু পেয়েছ?’

    অর্ক করিডরের দিকে তাকিয়ে, ডান হাত দিয়ে মোবাইল ঢাকল। হেসে বলল, ‘আজ নয়, কাল পেয়েছি। তবে কথা নয়, ওনলি আওয়াজ। চুমুর আওয়াজ। এইরকম…। এখন ছাড়লাম। আর নয়। বস আসছে এদিকে।’

    উৎসাকে কিছু বলতে না দিয়ে হাসতে হাসতে ফোনের সুইচ বন্ধ করল অর্ক। খুব মজা হয়েছে একটা। হাসতে হাসতেই ফিরে গেল সে নিজের টেবিলে। সত্যি কি প্রেমের কিছু পাওয়া যাবে না? পেলে বেশ হয়। ফিরে গিয়ে উৎসাকে জমিয়ে গল্প করা যাবে। বিয়ের পর সন্ধেবেলা বাইরে বেরোনো একেবারে বন্ধ করে দিয়েছে অর্ক। বন্ধুবান্ধব, ক্লাব, আড্ড—সব। এমনকী কামারডাঙায় বাবার ওখানেও যেতে ইচ্ছে করে না। যাব যাব করেও তিনটে রবিবার যাওয়া হয়নি। ছুটির দিন উৎসাকে ছাড়তে মন চায় না। কথাটা মাথায় আসতে লজ্জা পেল অর্ক। কাপড়ে ঢাকা লাজুক মুখে হেডফোনের ভলিউম বাড়িয়ে দেয় সে। একটা কিছু পেতে হবে। হাবিজাবি নয়, জমজমাট কিছু। পাওয়া কি যাবে?

    পাওয়া গেল একেবারে শেষ পর্যায়ে। সন্ধের মুখে মুখে। ল্যাপটপের পরদায় ভেসে বেড়ানো কালো বল তখন জট ছাড়িয়ে ফিকে হয়ে এসেছে। শুধু একটা-দুটো গিঁটে সমস্যা। সেই সমস্যা কাটতে হেডফোনে বেজে উঠল অর্কর। রিনরিনে নারীকণ্ঠ— ‘কখন আসবে? না, না, একটা নয়, দুটো… লাঞ্চের পর আমি ন্যাপ নিই জানো না?… দূর বোকা, ও তখন কোথায়?… ল্যাবরেটরিতে… হি হি… দস্যু একটা… ফাঁকা ফ্ল্যাটে এসে যদি আমার মুখ বেঁধেছ… হি হি…।’

    অর্কর বুক কেঁপে উঠল। এই গলা, এই হাসি তার চেনা!

    আনন্দবাজার পত্রিকা, রবিবাসরীয় ২ নভেম্বর ২০০৮

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleধুলোবালির জীবন – প্রচেত গুপ্ত
    Next Article দেরি হয়ে গেছে – প্রচেত গুপ্ত

    Related Articles

    প্রচেত গুপ্ত

    দেরি হয়ে গেছে – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    ধুলোবালির জীবন – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    রুপোর খাঁচা – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    মাটির দেওয়াল – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    নুড়ি পাথরের দিনগুলি – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    নিষাদ – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }