কে তুমি? – অনীশ দাস অপু
কে তুমি?
আজ হ্যালোইন।
এক দারুণ রাত।
আর হ্যালোইনের রাত আমার সবচেয়ে পছন্দের। এরকম রাত সত্যি দুর্লভ। আবহাওয়া আজ বেশ চনমনে, তবে তাতে একটা ঠাণ্ডা ভাবও রয়েছে। আকাশ ঝকঝকে পরিষ্কার।
কিছুক্ষণ পরে উদিত হবে পূর্ণিমার চাঁদ। আসলে তার আগমন বার্তার আভাস পাওয়াও যাচ্ছে। কালো মখমল আকাশ আলোকিত হয়ে উঠবে অমলধবল জোছনায়। মনোরম একটি পরিবেশ। পারফেক্ট।
আমি ফুটবল খেলোয়াড়ের পোশাক পরেছি। আমাকে মানিয়েছেও বেশ। আমি দেখতে অত্যন্ত সুদর্শন। আমি এক আমেরিকান তরুণ। ছয় ফুট তিন ইঞ্চি লম্বা, নীল চোখ, হলুদ চুল, চওড়া কাঁধ এবং আমাকে দেখলেই মনে হয় পাশের বাড়ির ছেলেটি। কিন্তু আসলে আমি তা নই!
.
মেয়েটিকে আমি প্রথম দেখি সার্ভিস বার-এ। ওখানে প্রায় নিয়মিতই যাওয়া হয় আমার। নম্র, ভদ্র। এরকম মেয়েই আমার পছন্দ। ডেটিং করার জন্য বা গার্লফ্রেণ্ড হওয়ার জন্য এ ধরনের মেয়েই পারফেক্ট। ওকে সেদিন দেখেছিলাম ওর বন্ধুদের সঙ্গে।
মেয়েটিকে আমি বেশ কয়েকদিন ধরেই অনুসরণ করছিলাম। একেবারে টিপিকাল টাইপের। চোখে চশমা পরে, বুকের মধ্যে বই চেপে লাইব্রেরিতে যায়। ও হলো সেই ধরনের মেয়ে যারা মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করে, ক্লাসে ফার্স্ট-সেকেণ্ড হয় এবং তার জন্য তার বাবা-মা গর্ব অনুভব করে। ঘরোয়া স্বভাবের মেয়েটির মধ্যে অদ্ভুত কী যেন একটা আকর্ষণ আছে। প্রথম দর্শনেই ভাল লাগার মত। পিঠ ভর্তি লম্বা, কুচকুচে কালো চুল। হালকা বাদামী রঙের চোখ। ওকে যখন সেদিন হ্যালোইনের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম, মানা করেনি। অবশ্য আমার মত চৌকস এবং কলেজসেরা খেলোয়াড়কে কোন মেয়ে প্রত্যাখ্যান করবে, ভাবাই যায় না।
মেয়েটি আমার আমন্ত্রণ রক্ষা করতে এল সেই বার-এ আঁটসাঁট একটি পোশাক পরে। ওর ফিগার এত চমৎকার আগে ঠাহর করিনি। আমি মুগ্ধ চোখে ওকে দেখছিলাম।
‘হাই,’ বললাম আমি।
‘হাই,’ একটু চমকে উঠল যেন ও।
‘দারুণ একটি ড্রেস পরেছ তুমি।’
‘তুমিও।’
‘চলো, একটু হাওয়া খেয়ে আসি,’ প্রস্তাব দিই আমি।
মেয়েটি একটু যেন অবাক হয়ে তাকায় আমার দিকে। মনে হলো লজ্জা পেয়েছে। নিচের দিকে তাকিয়ে রইল। ভাবছে। হয়তো উত্তেজনায় ওর বুক ধুকপুক করছে। করতেই পারে। কারণ কলেজের সবচেয়ে জনপ্রিয় ছাত্র আমি। বিরাট বড়লোকের ছেলে। দারুণ দামী একটি গাড়ি চালাই। তবু প্রথম পরিচয়ে সরাসরি বাইরে যাওয়ার আমন্ত্রণ ওর কাছে অস্বাভাবিক ঠেকতেও পারে। কারণ মেয়েটি সম্পর্কে যদ্দূর জানি সাধারণ মধ্যবিত্ত ঘরের মেয়ে, তথাকথিত হাইফাই সোসাইটির নয়।
মুখ তুলে চাইল ও। ‘হাওয়া খেতে চাইছ?’
‘হ্যাঁ,’ বললাম আমি। ‘এ বদ্ধ জায়গাটায় বন্ধ হয়ে আসছে দম।’
আমার দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকল মেয়েটি। আমি নিষ্পাপ হাসি ফোটালাম মুখে। মনে হলো ও একটু কেঁপে উঠল। তারপর সায় দেয়ার ভঙ্গিতে মাথা ঝাঁকাল। যেন ওকে সম্মোহন করা হয়েছে।
‘ইয়ে, তুমি কি একা এসেছ?’ জিজ্ঞেস করলাম আমি।
‘হুঁ,’ বলল ও। মেয়েটির গলার স্বর জলতরঙ্গের মত। ‘আর তুমি?’
‘আমিও।’ বললাম আমি। তারপর যোগ করলাম, ‘জানো, তোমার জন্যই অপেক্ষা করছিলাম। তোমাকে আমি ফলো করতাম। তুমি যেখানে যেতে সেখানে আমিও যেতাম।’
‘আচ্ছা?’ শ্বাস টানল মেয়েটি।
‘সত্যি বলছি।’
মেয়েটি আমার কথা শুনে রাগ তো করলই না বরং খুশির ঝিলিক দিল চেহারায়। ‘আমিও তোমাকে নজরদারি করতাম।’
‘তাই নাকি?’ এবার আমার অবাক হওয়ার পালা।
‘ঠিক তাই,’ বলল সে। ‘তবে…আমার মনে হয় তুমি ব্যাপারটা খেয়াল করনি। অবশ্য তোমাকে সবাই-ই লক্ষ করে।’
কাঁধ ঝাঁকিয়ে হাসলাম আমি। ওর পিঠে আলতো করে হাত রাখলাম।
বার-এর পেছনের দরজা দিয়ে দু’জনে বেরিয়ে এলাম আলগোছে। সতর্ক ছিলাম আমি। কেউ লক্ষ করেনি আমাদেরকে।
‘আমার গাড়িটি ওখানে আছে। গাড়ির কুলারে একটা সিক্স প্যাক রেখেছি,’ বললাম ওকে। দেখেছি মেয়েটি হাতে বিয়ারের একটি ক্যান নিয়ে বেরিয়েছে।
আমার দিকে তাকাল ও। চোখে দুষ্টুমি। ‘সে তো থাকবেই।’
‘সবসময় প্রস্তুত থাকা উচিত,’ বললাম আমি। ‘এটাই আমার নীতি।’
হেসে উঠল সে। ওর হাসিটা দারুণ আবেদনময়। আহ্, আজকে জমবে মজা। হ্যালোইন। পূর্ণিমার চাঁদ। আর সুন্দরী, সরল একটি মেয়ে যে জানে না আজ তার ভাগ্যে কী ঘটতে চলেছে।
আমার রক্ত গরম হতে শুরু করেছে। খুব সহজেই একটা জয় পেতে চলেছি যা কিনা কল্পনাই করিনি।
মেয়েটির কাঁধে হাত রাখলাম আমি। দু’জনে মিলে হেঁটে চললাম গাড়ির দিকে। আকাশে পূর্ণ চাঁদ। বাহ্, চমৎকার। হ্যালোইনের রাতে খুব কমই এরকম রুপোর থালার মত চাঁদের দর্শন মেলে। পারফেক্ট একটা পরিবেশ।
আমরা গাড়ির সামনে চলে এলাম।
‘চালাবে তুমি?’ জিজ্ঞেস করলাম ওকে।
‘শিওর,’ হাঁপিয়ে ওঠার শব্দ করল মেয়েটি।
এটাই স্বাভাবিক। আমার অডি স্পোর্টস কারটি কেউ চালানোর সুযোগ পেলে তা মিস করতে চায় না।
ড্রাইভারের দিকের দরজা খুলে দিলাম। মেয়েটি ভেতরে ঢুকল। আমি ঘুরে প্যাসেঞ্জার সিটে, ওর পাশে ধপ করে বসে পড়লাম। মেয়েটি চামড়ার আসনে হাত বুলিয়ে মন্তব্য করল, ‘ভারি সুন্দর।’
‘ধন্যবাদ, ইভানা রোমানফ,’ বললাম আমি। ‘তোমার নামটিও ভারি সুন্দর
‘তোমার পছন্দ হয়েছে বলে আমি খুশি,’ বলল ও। আমি একটু অবাকই হলাম। মনে হচ্ছে প্রথম শকটা সামলে নিয়ে মেয়েটি তার আত্মবিশ্বাস ফিরে পেতে চলেছে। চশমা চোখে, বুকে বই নিয়ে হাঁটা টিপিকাল মেয়েটির মত তাকে আর দেখাচ্ছে না। দারুণ আকর্ষণীয় লাগছে।
‘তুমি রাশিয়ান?’ জিজ্ঞেস করলাম আমি।
বাতাসে হাত নাড়ল সে। ‘আমার পূর্বপুরুষরা এসেছেন পূর্ব ইউরোপের কোথাও থেকে। ভিন্স রোমেরো। তোমার নামটিতে স্প্যানিশ বা ইটালিয়ান একটা গন্ধ আছে।’
হাসলাম আমি। ‘আমার পূর্বপুরুষরাও ইস্টার্ন ইউরোপিয়ান ছিলেন। তবে একটা জিনিস লক্ষ করেছ – আমাদের দু’জনের নামের পদবীতে কেমন মিল আছে? রোমেরো-রোমানফ।’
সায় দেয়ার ভঙ্গিতে মাথা ঝাঁকাল ও। ‘এবং আমাদের দু’জনেরই উচ্চারণে রয়েছে নিউ ইংল্যাণ্ডের টান।’ হাসল।
‘আরে এটা আমেরিকা না? সকল সুযোগ সুবিধার দেশ।’
মেয়েটির শরীর থেকে দারুণ একটা পারফিউমের গন্ধ আসছে। আমার দিকে সে একটু সরে বসল-নাকি আমি তার দিকে সরে বসেছি? জানি না।
‘তোমাকে আমার সবসময় মনে হয়েছে তুমি একটি লাজুক মেয়ে,’ বিড়বিড় করে বললাম আমি।
‘আমি একটু লাজুকই,’ বলল ও। ‘তবে তোমার কথা আমি অনেক শুনেছি। মেয়েরাই বলাবলি করত। তাই তোমাকে আমি লুকিয়ে লুকিয়ে দেখতাম।
ও কি আমাকে সুযোগ করে দিচ্ছে? দেখা যাক।
আমি হেসে গাড়ির সিটে হেলান দিলাম। ওর লম্বা, ঝলমলে সিল্কি চুলে হাত বুলালাম। এমন চকচক করছে যেন নীলচে একটা আভার বিচ্ছুরণ ঘটাচ্ছে।
‘আমি কোথায় যাচ্ছি?’ জিজ্ঞেস করল ও।
‘কী?’
‘তোমার গাড়িটা চালাতে আমার ভালই লাগছে। কিন্তু যাব কই?’
‘নির্জন কোন জায়গায়। যেখানে আমরা দু’জন একাকী হতে পারব।’ বললাম আমি।
খুব বেশি আগ বাড়িয়ে ফেললাম কি? মেয়েটি কি রাগ করবে?
‘বেশ। তুমি গাড়ি চালালে কোথায় যেতে?’ জানতে চাইল ও।
‘এমন কোথাও যেখানে কেউ আমাদেরকে বিরক্ত করবে না…’ বিড়বিড় করলাম আমি যেন গভীর চিন্তায় ডুবে আছি। তাকালাম ওর দিকে। ‘জায়গাটা চিনি আমি। সেমিট্রি।’
‘ওহ।’
‘শুনে কি গোস্বা করলে? মানে-’
‘আরে নাহ,’ বলল ও। ‘আমিও সেমিট্রি পছন্দ করি। ওখানে তো ইতিহাসের ছড়াছড়ি।’
‘সব মরা মানুষের ইতিহাস।’ আমার মুখ ফস্কে বেরিয়ে গেল কথাটা
ওর ঠোঁটে সেই মিষ্টি হাসিটি ফুটল আবার। ‘ইতিহাস,’ বলল ও একগুঁয়ে স্বরে। ‘সেমিট্রিগুলো ভরা থাকে নানান গল্পে আর ইতিহাসে।
‘তা তো বটেই।’
মেইন স্ট্রিট থেকে অনেক দূরে গোরস্তানের দিকে গাড়ি ছোটাল মেয়েটি। ইতিহাসের কথাটা ঠিকই বলেছে। ওই গোরস্তানে শুয়ে আছেন বিপ্লব যুদ্ধের যোদ্ধারা। গোরস্তানের ধারে অত্যন্ত প্রাচীন একটি গির্জাও আছে। ছোট গির্জা। রাতের বেলা বন্ধ থাকে। জায়গাটা গা ছমছমে। মানে গোরস্তানের কথা বলছি। একটা দেয়াল ঘেরা সেমিট্রি। দেয়ালটির উচ্চতা ফুট দুই হবে।
‘আমরা কি সেমিট্রিতে ঢুকব?’ জানতে চাইল আমার সঙ্গিনী।
‘মৃত মানুষরা পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ। কারণ তারা তোমাকে কখনো আঘাত করবে না।’ বললাম আমি। ‘তুমি না মাত্রই বললে তুমি সেমিট্রি পছন্দ কর-এগুলো অতীতের গল্প আর ইতিহাসে পরিপূর্ণ।’
‘সে তো দিনের বেলার কথা বলেছি,’ মাথা নাড়ল মেয়েটি। আমাকে ও লক্ষ করছে-তবে ঠিক আপত্তি জানাচ্ছে না।
‘রাতের বেলা কখনো গোরস্তানে আসনি?’ জানতে চাই আমি।
এসেছি দু’একবার।’ লাজুক গলায় বলল ও। একটু যেন শিউরে উঠল।
‘আমরা অন্য কোথাও যেতে পারি,’ বললাম আমি। ‘যদিও এখানকার নির্জনতা আর শান্তিটুকু আমি খুব উপভোগ করি।’
আমার দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসল সে। ‘ঠিক আছে। তুমি যেখানে নিয়ে যেতে চাও, যাব আমি তোমার সঙ্গে।’
‘তুমি গোরস্তানের বাসিন্দাদের সঙ্গে নিরাপদেই থাকবে, ‘ বলি আমি।
আমি গাড়ি থেকে একটা কম্বল এনে লাফ মেরে অনুচ্চ দেয়ালটি টপকালাম। তবে ওকে আগে দেয়াল বাইতে সাহায্য করলাম। হাতের পাঞ্জা জোড়া একত্রিত করতে ও আমার হাতের ওপর পা রেখে দেয়াল বেয়ে উঠে পড়ল। ওর ছিপছিপে দেহের ওজন.খুব বেশিও নয়।
বিশাল এবং প্রাচীন একটি ওক গাছের নিচে কম্বল বিছিয়ে নিলাম আমি। আমার সঙ্গে বসল ও। ভুলে বিয়ারের ক্যানটি নিয়ে আসেনি। আমি আইরিশ বিয়ারের একটি ক্যানের ছিপি খুলে ওকে দিলাম। বিয়ার পান করতে করতে আমাকে লক্ষ করছিল মেয়েটি।
ওর চাউনি সাপের মত শীতল, মণিতে হলুদ ফুটকি আমাকে উত্তেজিত করে তুলল। আমি আমার বিয়ারের ক্যানে একটা চুমুক দিয়ে আকাশের দিকে একবার তাকালাম। তারপর ওকে চুমু খেলাম। মেয়েটি একটু ইতস্তত করল। আমি ওর মুখটা চেপে ধরলাম হাত দিয়ে। ওর গায়ের উত্তাপ অনুভব করলাম এবং সেই সঙ্গে কম্পন।
আর তখন ওটা শুরু হয়ে গেল। রূপান্তর।
আমার ভেতরটা যেন ছিঁড়েখুঁড়ে যেতে চাইল। ইভানাকে আমি বাহুডোরে বন্দি রেখেছি, কিন্তু টের পাচ্ছি আমার শরীরের পেশীগুলো যেন ফেঁড়ে যাচ্ছে, রক্তে ধরে যাচ্ছে আগুন, আমার বুকের ভেতরে খিদেটা দারুণ চাগিয়ে উঠল। শীঘ্রি মেয়েটা চিৎকার করে উঠবে, দেখতে পাবে আমার কাঁধের প্যাড ছিটকে পড়ে গেছে, ফুটবল ব্রিচ টানটান হয়ে ছিঁড়ে যাচ্ছে, সে উপলব্ধি করবে তার সামনের মানুষটা একটা জানোয়ার। আলো থই থই চাঁদের দিকে তাকিয়ে আমার গলা চিরে বেরিয়ে এল সুতীব্র হুঙ্কার।
হ্যাঁ, আমার রূপান্তর ঘটছে…
আমেরিকান ছেলেটি বনে যাচ্ছে নেকড়ে মানবে।
আমাকে খুব সাবধানে চলাফেরা করতে হয়। আমি এখানে, আমেরিকায়, একটি আধুনিক জগতে বাস করি। আমার ইচ্ছা কলেজ ডিগ্রি অর্জনের পরে কর্পোরেট আইনের বুনো পৃথিবীতে প্রবেশ করব। আমি মেয়েদের সঙ্গে ডেট করি তবে সবাইকে ছিঁড়েখুঁড়ে ফেলি না। কিন্তু হ্যালোইনের সময় নিজেকে কিছুতেই নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারি না। এ মেয়েটিকে আমি সার্ভিস বার-এ দেখার পরেই টার্গেট করেছিলাম। এর মত লোভনীয় আর কাউকে মনে হয়নি।
আমি নিচের দিকে তাকাই। ওর চোখে আমি আতঙ্ক এবং ভয় খুঁজছিলাম। প্রাণভয়ে ভীত এক তরুণীকে দেখতে চাইছিলাম যে জানে আর কিছুক্ষণের মধ্যেই সে মারা যাবে।
কিন্তু কী আশ্চর্য! এ মেয়ের চোখে না আছে ভয় না অন্য কিছু। বরং সে আমার দিকে আমোদের দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। যেন ব্যাপারটা উপভোগ করছে।
তারপর ও হাসতে শুরু করল।
জানতাম না এ হাসি সবকিছু নষ্ট করে দেবে। হাসিটা বন্ধ করে দেবে আমার রূপান্তর।
‘তুমি বুঝতে পারছ না আমি কে? তুমি দেখতে পাচ্ছ না?’ খেঁকিয়ে উঠি আমি।
আমাকে অবাক করে দিয়ে মেয়েটি ধাক্কা মারল আমার বুকে কী অবিশ্বাস্য শক্তি তার গায়ে। আমি ছিটকে পড়ে গেলাম। মেয়েটির দিকে ক্রুদ্ধ দৃষ্টিতে তাকালাম। আশা করলাম আমার ক্রোধ হয়তো আবার আমার শরীরে রূপান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করে দেবে।
কিন্তু মেয়েটি এক লাফে আমার বুকের ওপর চড়ে বসল। তার হাসি এখন আর সুমধুর নয়, তীক্ষ্ণ এবং কর্কশ, রাতের নৈঃশব্দ্য বিচূর্ণ করে দিল। আমি বিস্মিত হয়ে দেখি মেয়েটি আমাকে মাটির সঙ্গে প্রায় গেঁথে ফেলেছে। নড়াচড়া করার শক্তিও নেই।
‘তুমি বুঝতে পারছ না আমি কে? তুমি দেখতে পাচ্ছ না?’
খলখল করে হাসল সে। ‘তুমি আজ কস্টিউম পরে এসেছ কিন্তু আমি পরিনি। তুমি ভেবেছিলে আমি বই পড়ুয়া নিতান্তই নিরীহ টাইপের একটা মেয়ে যে তোমার মত একটা হট ছেলেকে দেখলেই গলে যাবে। কী নির্বোধ তুমি!’
আমি মুখ খুললাম কথা বলার জন্য। কিন্তু গলা দিয়ে রা বেরুল না।
আকাশে তাকিয়ে দেখি ঝলমল করছে পূর্ণিমার চাঁদ। তখন সে আমার ওপর ঝুঁকে এল এবং আমাকে কামড় দিল।
আমার মাংসে দাঁত বসিয়ে দিয়ে চোঁ চোঁ করে পান করতে লাগল রক্ত।
ওই সুন্দর চাঁদের নিচে আমি ওর রক্ত চুষে খাওয়ার বীভৎস শব্দটা শুনতে পাচ্ছি। টের পাচ্ছি আমার শরীরের সমস্ত রক্ত নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে, নিঃশেষিত হচ্ছে আমার সাধের জীবন।
আজ হ্যালোইন।
কিন্তু এমন হ্যালোইন আমার জীবনে কোনদিন আসেনি।
এবং এটি মোটেও পারফেক্ট একটি হ্যালোইন হলো না…
